Powered By Blogger

Monday, December 22, 2025

দয়াল ছাড় দেন, কিন্তু ছেড়ে দেন না।

আজ বিশ্বজুড়ে আমরা প্রায় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১০কোটি সৎসঙ্গী। আমাদের মধ্যে কয়েক ধরণের সৎসঙ্গী দেখা যায়। এই কয়েক ধরনের সৎসঙ্গীর মধ্যে নিজেকে খুঁজে বেড়ায় মন আর বলে, 'ফিরে চল মন নিজে নিকেতন'।

এক,
সৎসঙ্গ প্ল্যাটফর্মকে কেউ রাজনীতির আখড়া, কেউ বা ক্লাব বানিয়ে নিয়েছে। দাদাগিরি আর ক্ষমতা দখলই তাদের এক ও একমাত্র লক্ষ্য। ছলে বলে কৌশলে এরা সৎসঙ্গীদের মগজ ধোলাই করে। কেউ শ্রীশ্রীঠাকুর এক ও একমাত্র আরাধ্য ও অনুসরণীয় আর বাকী সব গৌণ এই কপট প্রেমে সাধারণ সৎসঙ্গীদের বিভ্রান্ত ক'রে কৌশলে আচার্য বিরোধীতা করে। কেউ কেউ বা ঋত্ত্বিক সম্পর্কে শ্রীশ্রীঠাকুরের উক্তি তুলে ধ'রে 'ঋত্ত্বিক এই, ঋত্ত্বিক ঐ' ব'লে ঋত্ত্বিককে শ্রীশ্রীঠাকুরের পরেই আসনে বসাতে সচেষ্ট।
 
দ্বিতীয়,
আমার গায়ে আঁচ না লাগে ফুরিয়ে যাবে মামলা দর্শনে বিশ্বাসী। তারা শুধু দেখে যায়, ভালো বা মন্দ কারও পক্ষে নেই। তারা শুধু নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। আর বসে বসে তামাশা দ্যাখে যেন কোনও নাচনে ওয়ালি কোঠাতে বসে আফিমের নেশার মত আমেজে মজা নিচ্ছে।
 
তৃতীয়,
শ্রীশ্রীঠাকুরের "বিচারের ভার আপন হাতে নিতে যেও না। পরমপিতার ওপর ন্যস্ত কর। নতুবা পরমপিতা উভয়ের মধ্যে তারতম্যানুসারে ভাগ ক'রে দেবেন।" ---- অন্তর্নিহিত অর্থ না বুঝে এই বাণীর একদল বোকা অন্ধ ভক্ত, আর একদল কৌশলী ভক্ত এই বাণীকে ঢাল ক'রে 'আমার গায়ে আঁচ না লাগে ফুরিয়ে যাবে মামলা' মানসিকতায় পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যায়।
চার,
এক ধরণের সৎসঙ্গী আছে যারা ধর্মেও আছে আবার জিরাফেও আছে গল্পের প্রবাদের মত মানসিকতার। অর্থাৎ দিনের বেলায় সাধুর মত ধর্মে থাকে ও রাতের বেলায় অন্ধকারে চোরের মত জিরাফ দেখতে যায়। একই ভাবে বলা যেতে পারে, গাছেরও খাবো, তলারও কুড়োবো। একই সঙ্গে ভগবানেও আছি আবার শয়তানেও আছি মানসিকতার।
 
পাঁচ,
প্রহ্লাদ মার্কা কিছু সৎসঙ্গী আছে যাদের আগুনে, জলে, জঙ্গলে, পাহাড় থেকে, হাতির পায়ের তলায় যেখানেই ফেলে দাও কিছুতেই তাদের ইষ্ট প্রতিষ্ঠায় ধ্যান ভঙ্গ হয় না, অচ্যুত, অস্খলিত তাদের ধ্যান, ইষ্টের প্রতি নিষ্ঠা, অনুরাগ।
 
ছয়,
এই ধরণের সৎসঙ্গীদের কাছে শ্রীশ্রীঠাকুর শুধু আয়ের উপকরণ, চোখ খোলা বা বন্ধ রাখলেই শুধু গান্ধীর ছবি এদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে, নাচে; এ ছাড়া অন্য কিছু এরা দেখতে পায় না। সব জায়গাতে এরা শুধুমাত্র শ্রীশ্রীঠাকুরকে ভাঙ্গায় নিজেদের স্বার্থে, নিজেকে ভাঙ্গাবার ক্ষমতা এদের নেই।

সাত,
এরা আত্মপ্রতিষ্ঠায় মত্ত। নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার লোভে এরা ঠাকুরের কাছে আসে। আত্মপ্রতিষ্টার লোভে যা ইচ্ছা তাই-ই করে, যতদূর যাওয়ার দরকার হয় ততদূর এরা যায়।

আট,
এরা প্রথম রিপুর চাহিদা পূরণে সদা ব্যস্ত।
 
নয়,
যতক্ষণ যেখানে স্বার্থ পুষ্ট ও পূরণ হচ্ছে ততক্ষণ সেখানে আছে। স্বার্থপূরণের সুযোগ নেই সেও নেই।
দশ, কিছু আসে শুধু প্রশ্ন আর প্রশ্ন, প্রশ্ন আর প্রশ্ন; আর কথার স্রোতে ভাসা মানুষ।
 
এগারো,
কিছু আসে জানার তৃষ্ণা নিয়ে, নীরবে নিভৃতে থাকে তারা।
 
বারো,
এরা কালাপাহাড়ের মত সময়ের দাবীর অপেক্ষায় অপেক্ষারত।
এরা সবাই বিশ্বের সর্বাধিক উন্নত উচ্চ-রেজোলিউশন ক্যামেরা এবং স্মার্ট বিশ্লেষণ সহ উন্নত বৈশিষ্ট্য সহ বিস্তৃত নজরদারি পণ্যগুলির জন্য পরিচিত Hikvision ক্যামেরার চেয়েও শক্তিশালী অভূতপূর্ব ক্যামেরা যার চেয়ে শক্তিশালী ক্যামেরা ভবিষ্যতে আর কোনোদিন হবে না; সেই ক্যামেরার চোখের, ক্যামেরার সেই দৃষ্টির আওতায় রয়েছে এক থেকে বারো (১-১২) সমস্ত সৎসঙ্গীরা।
 
সাবধান বন্ধু, সেই চোখ পরমপিতার দয়াল ও ভয়াল চোখ। ধর্মের মূর্ত রূপ পুরুষোত্তম পরমপিতার সেই চোখ একটাই কথা বলে, "তুমি যা করছো বা ক'রে রেখেছো ভগবান তাই-ই গ্রাহ্য করবেন আর সেগুলির ফলও পাবে ঠিক তেমনি। যা ইচ্ছা তাই করবে তুমি তা' করলে রে চলবে না, ভালো ছাড়া মন্দ করলে পরিস্থিতি ছাড়বে না।" এর সমর্থনে বিজ্ঞানও তাই-ই বলে, "Every action has opposite & equal reaction."
তথাপি এতকিছুর মাঝেও শ্রীশ্রীআচার্যদেবের নেতৃত্বে পরমপিতার সৎসঙ্গের রথ সবাইকে নিয়ে সয়ে বয়ে এগিয়ে চলেছে। এগিয়ে চলেছে শ্রীশ্রীআচার্যদেবের নীরব সার্চ লাইটের মত দৃষ্টির প্রসারতায়, নিপুণ নিখুঁত দক্ষতায়, অসীম আকাশের মত বিশাল উদারতায়, দিগন্ত বিস্তৃত পারবিহীন মহাসমুদ্রের গভীরতার মত ভালোবাসায় বিভিন্ন মানসিকতা, বিভিন্ন বোধ, বিভিন্ন চরিত্রের সৎসঙ্গীদের নিয়ে 'বিবিধের মাঝে মিলন মহান' তত্ত্বকে সামনে রেখে। আমাদের প্রতিমুহুর্তে শয়নে স্বপনে জাগরণে অবগাহনে ভোজনে প্রতিক্ষণে ক্ষণে মনে রাখতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে পরমদয়াল শ্রীশ্রীঠাকুর রেত শরীরে শ্রীশ্রীআচার্যদেবের মধ্যে দিয়ে সব দেখছেন।
 
আর, পরমদয়াল শ্রীশ্রীঠাকুর 'তিনি ছাড় দেন, কিন্তু ছেড়ে দেন না।' সেই ছাড়ের সুযোগে যে পরমদয়ালের কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রায়শ্চিত্তের মধ্যে দিয়ে নিজেকে সংশোধন ক'রে নিয়ে এই বিবিধের মাঝে যে মহান মিলন সেই মহান মিলনের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারবে, সে টিকে থাকবে নতুবা মহাকালের নিয়মে 'কিন্তু ছেড়ে দেন না'-র নির্ম্মম কষাঘাতে অমোঘ বিধানের ঝরা পাতার মতো দিন শেষে সময়ের ঝড়ে ঝ'রে পড়ে যাবে।
 
আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে পেয়েও তাঁর জ্ঞানের আলোতে আমাদের অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে মুক্ত করতে পারলাম না এবং শ্রীশ্রীঅশোকদাদার উক্তি "অজ্ঞানতার কুহেলিকায় আচ্ছন্ন চেতনা নিয়ে মানুষ জন্মগ্রহণ করে"--এই জন্মানো বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে পারলাম না ভয়ঙ্কর বর্বরতার আগুনে ঝলসে যাওয়া, পুড়ে খাক হ'য়ে যাওয়া সময়ের হাত থেকে। এমনই শ্রীশ্রীঠাকুরের সোনার সৎসঙ্গী আমরা। সৎসঙ্গী সাবধান।
অলমতি বিস্তারেন।

No comments:

Post a Comment