Powered By Blogger

Tuesday, August 18, 2026

প্রবন্ধঃ ভারতে সম্ভব?

অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়ে যারা মিথ্যে রীল বানিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের সতর্ক করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়। কিন্তু এই সতর্কতা শুধু অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়ে রীল বানানোর মধ্যেই সীমিত? দেশজুড়ে কি হচ্ছে? প্রকাশ্যে মাঠে-ময়দানে, রাস্তাঘাটে এবং রীল, ভিডিও বানানোর মধ্যে দিয়ে দেশের ছোটো থেকে বড় কিশোরকিশোরী, তরুণতরুণী, যুবকযুবতী থেকে শুরু ক'রে প্রৌঢ়প্রৌঢ়া থেকে বার্ধ্যকের দরজায় পৌঁছে যাওয়া মানুষ পর্যন্ত কি বলছে, কি করছে!? এ আমরা কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি? জানুক না জানুক, বুঝুক আর না বুঝুক গোয়েবলস জীবন্ত হ'য়ে উঠেছে ভারতের ধর্ম, রাজনীতি, শিক্ষা ইত্যাদি সবক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সমাজ জীবনে। গোয়েবলসীয় কায়দায় সীমাহীন মিথ্যে কথা বলা, অসত্য পরিবেশন করা ও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হ'য়ে চলেছে। কথাবার্তার মধ্যে দিয়ে, ভাষা উচ্চারণ ও আচরণের মধ্যে দিয়ে অশ্লীলতা ও যৌনতার খুল্লমখুল্লা ছড়াছড়ি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়াকে আশ্রয় ক''রে সমাজের গভীরে। এ এক ধ্বংসের অশনি সংকেত!

এইসবের বিরুদ্ধে সত্যের প্রচার, সতর্কীকরণ ও কড়া সরকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা দল মত নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের জন্য মঙ্গল। মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর পোষ্ট বন্ধ হ'ক, নতুবা ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম বন্ধ হ'ক ভারতে চিরতরে যদি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর পোষ্ট, নোংরা অশ্লীল নীল ছবির মত রীল পোষ্ট বন্ধ না করা যায়। সমাজ, সভ্যতা আজ ধ্বংসের কিনারায়। তবুও ভারতের মত ঐতিহ্যশালী দেশ একসময়ে সব বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী দেশের মানুষের ঘুম ভাঙছে না। ইয়ং জেনারেশনের যে মেরুদন্ড ভেঙে চুরমার হ'য়ে যাচ্ছে যা' প্রতিনিয়তই দেখতে পাচ্ছি দেশজুড়ে ঘটে চলা নানা অশ্লীল, অশালীন ঘটনায় তবুও ভারত আজও পিপুফিশু মানসিকতার আমেজে ডুবে আছে। যে যা ইচ্ছা করছে ভারতে। সবার বাক স্বাধীনতা আছে।

আর, মনে হচ্ছে সেই স্বাধীনতার দাবীতে উর্ধ্বে বাহু তুলে লম্ফঝম্প মেরে সবাই যা ইচ্ছা তাই করার, বলার, পোষ্ট করার আইনি লাইসেন্স পেয়ে গেছে। কারণ আমরা স্বাধীন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা আমাদের আছে। আগেও দেখেছি বহুবার দেশের অভ্যন্তরে ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে স্বাধীনতার উচ্ছৃঙ্খলতা কা'কে বলে, এবারও ভিডিওতে দেখলাম পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ও মুখ্যমন্ত্রী্র মাকে নিয়ে এক স্কুল ছাত্রের মুখে এবং দিল্লীর যন্তর মন্তরেও দেখলাম দেশের প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর মাকে নিয়ে এক অল্প বয়সী ছাত্রীর মুখে কানে গরম সীসা ঢেলে দেওয়ার মত অশ্লীল যৌন গালাগালি করতে, আর দেখলাম অন্য একটি রিলে এক অল্প বয়সী ছাত্রীর মুখে শুনলাম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে পিরিয়ডস ও প্রেগন্যান্ট সংক্রান্ত অশ্লীল কথা বলতে। অবাক হ'য়ে যায়, এরা দেশের ভবিষ্যৎ এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পিতামাতা!!!!!

পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বললেন,
"অবাধে ভালো করতে পারাই
স্বাধীনতা কয়,
উচ্ছৃঙ্খলের প্রশ্রয় পাওয়া
স্বরাজ কিন্তু নয়।"
"অবাধে ভাল করতে পারে
সেই তো স্বাধীন,
উচ্ছৃঙ্খলায় মরণ আনে
তাই তো পরাধীন।"

আবার, আইনের শাসনে অনুচ্ছেদ ১৯(১)(এ): মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সম্পর্কে বলছে, ভারতের প্রতিটি নাগরিকের নিজের মত, বিশ্বাস ও ভাবনার কথা লেখার মাধ্যমে, বলার মাধ্যমে, ছবি এঁকে বা অন্য কোনো উপায়ে প্রকাশ করার পূর্ণ অধিকার আছে। আর, ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(২) বলছে, মত প্রকাশে স্বাধীনতা সম্পর্কে একটা যুক্তিসঙ্গত নিষেধাজ্ঞা বা সীমা থাকতে হবে।

ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(২)-এ এই নিষেধাজ্ঞা বা সীমা থাকার কথা বলছে কারণ এই মত প্রকাশের স্বাধীনতা যদি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা রক্ষা করার জন্য থ্রেট হ'য়ে দাঁড়ায়, দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, দেশের জনশৃঙ্খলা যদি নষ্ট করে, বিদেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে যদি এই স্বাধীন মতপ্রকাশের ফলে সুসম্পর্ক নষ্ট হয়, স্বাধীন মতপ্রকাশ যদি শালীনতা নষ্ট করে, সদাচার নষ্ট করে, কারও মানহানি করে, কোনও অপরাধ সংগঠিত করার জন্য উসকানি হ'য়ে থাকে এবং আদালতের অবমাননা হ'য়ে থাকে তাহ'লে তাকে আটকাবার জন্য, রোধ করার জন্য স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে আইনের অনুচ্ছেদ ১৯(২) ধারা রাখা হয়েছে এবং এই ধারার মাধ্যমে একটা মত প্রকাশের একটা যুক্তিসঙ্গত নিষেধাজ্ঞা বা সীমা টানা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই ধারা কি আমাদের দেশে লাগু আছে? আমাদের দেশে তো নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ, শিক্ষাবিদ, ধার্মিক ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে যে যা ইচ্ছা প্রকাশ্যে বলছে, মুখে কোনও লাগাম নেই। নেতানেত্রী, বিধায়ক, সাংসদ, মন্ত্রী, শিক্ষাবিদ, কবি, সাহিত্যিক, অভিনেতা সবাই প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে লাগামছাড়া অশ্লীল ও ভয় দেখানো এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক কথা বলছে, ভাষণ ও বিবৃতি দিচ্ছে। মনে হচ্ছে ভারতবর্ষে যেমন ইচ্ছা তেমন শারীরিক ও মানসিক উলঙ্গ হ'য়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করা যায়।

এটা তো আমরা সবাই প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি ধর্ম, রাজনীতি, শিক্ষা ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে শালীনতা, মানহানি রক্ষা হচ্ছে কিনা ও শৃঙ্খলা, শান্তি, নিরাপত্তা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(২)-এ নিষেধাজ্ঞা বা সীমা থাকার কথা কঠোরভাবে মানা হচ্ছে কিনা এবং সেটা দেশের আম জনতা সবাই দেখতে পাচ্ছে। এ সমস্তই মানসিক ব্যাধি। রীল, ইউ টিউব, ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম, টুইটার, হোয়াটস আপ ইত্যাদির মধ্যে এইসমস্ত বিষাক্ত সংক্রামক মানসিক ব্যাধি ছড়িয়ে দেশের আনাচে কানাচে প্রত্যন্ত প্রদেশে।

যাই হ'ক, এসব সরকারী সিদ্ধান্তের ব্যাপার। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগে আমার পার্শ্ববর্তী বৃহৎ শক্তিশালী দেশ চীনের মূল ভূখণ্ডে কেন টুইটার বর্তমানে এক্স), ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রা্‌ম, ইউ টিউব, গুগুল, হোয়াটসঅ্যাপ সব সম্পূর্ণ বন্ধ এবং নিষিদ্ধ? ২০০৯ সাল থেকে ফেসবুক, টুইটার, ইউ টিউব এবং ২০১০ সাল থেকে চীনে গুগলের সার্চ ইঞ্জিন পুরোপুরি বন্ধ এবং ২০১৪ সাল থেকে গুগুলের সব রকম সেবা যেমন জি মেইল এবং ইনস্টাগ্রাম চীনে ব্লক করা আছে। ২০১৭ সালে হোয়াটস আপ বন্ধ ক'রে দেওয়া হয়। চীন সরকারের কঠোর ইন্টারনেট সেন্সরশিপ ব্যবস্থা বা 'গ্রেট ফায়ারওয়ালের' মাধ্যমে বিদেশি সামাজিক মাধ্যমগুলো ব্লক করা হয়েছে। সরকারের তথ্য প্রবাহের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং স্থানীয় প্রযুক্তি শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের বদলে চীনে নিজস্ব অ্যাপ যেমন উইচ্যাট (WeChat) এবং ওয়েবো (Weibo) ব্যবহার করা হয়।

সাধারণ উপায়ে চীনের ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এই অ্যাপগুলো চালানো যায় না। তবে পর্যটক বা প্রবাসীরা দেশটিতে ভিপিএন (VPN), আন্তর্জাতিক রোমিং অথবা বিশেষ ট্রাভেল ই-সিম (eSIM) ব্যবহার করে এই নিষিদ্ধ সেবাগুলো সচল করতে পারেন।
চীন সরকারের কঠোর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং দেশীয় ব্যবসাকে সুরক্ষা দেওয়ার নীতির কারণে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিস্তারিতভাবে যদি আলোচনা করলে দেখা যাবে মূল কারণগুলি হ'লো,

১) ২০০৯ সালে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের বড় দাঙ্গার পর টুইটার ও ফেসবুক ব্লক করা হয়। বিক্ষোভকারীরা টুইটার ও ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছিল।

২) চীন সরকার তাদের দেশের ইন্টারনেটে যেকোনো রাজনৈতিক সংবেদনশীল বিষয় বা সরকারের সমালোচনা মুছে দিতে চায়। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম চীনের এই সেন্সরশিপ নীতি মানতে রাজি হয়নি। ২০১৪ সালে সালে হংকংয়ের 'ছাতা আন্দোলন' (Umbrella Movement)-এর বিক্ষোভের ছবি ছড়ানো আটকাতে ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করা হয়। ২০১৭ সালে হোয়াটস আপের এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন (End-to-End Encryption) ফিচারের কারণে চীন সরকার হোয়াটস আপ সম্পূর্ণ ব্লক করে দেয়।

৩) চীন বিশ্বাস করে তাদের সাইবার জগতের ওপর বাইরের কোনো দেশের বা কোম্পানির হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। এটা তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়।

চীন সরকারের নিয়ম হলো সব ব্যবহারকারীর তথ্য বা ডেটা চীনের ভেতরের সার্ভারে রাখতে হবে। ফেসবুক ও মেটা (Meta) চীনের এই সংরক্ষণের শর্ত মানেনি।

মার্কিন কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকা অ্যাপগুলোর মাধ্যমে চীনের নাগরিকদের তথ্য আমেরিকার কাছে চলে যেতে পারে, এই ধরণের বিদেশী নজরদারী চীনের নিরাপত্তা আশঙ্কার বড় কারণ।
এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা জারী করার কারণে বিদেশি অ্যাপ চীনে বন্ধ থাকায় চীনের নিজস্ব প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বড় হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম না থাকায় উইচ্যাট (WeChat), ওয়েবো (Weibo) এবং ডুইন (Douyin - যা বিশ্বজুড়ে টিকটক নামে পরিচিত) সম্পূর্ণ চীনা বাজার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে চীনের অর্থনৈতিক সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে।

চীন ছাড়াও বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি দেশে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেমন, উত্তর কোরিয়া, ইরাণ, রাশিয়া, মিয়ানমার, তুর্ক্মেনিস্তান এবং নেপালে সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময়ে সাম্প্রতিক সময়ে নেপাল সরকার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (টুইটার) এবং ইউটিউবসহ প্রায় ২৬টি প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে।

এছাড়া আনন্দের বিষয় যে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং ব্রাজিলের মতো বেশ কিছু গণতান্ত্রিক দেশে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ছাড়া শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অনুর্ধ্ব ১৫ বা ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চীন বা অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং ব্রাজিল দেশগুলির মতো ভারতে এই সম্পূর্ণরকমে নিষিদ্ধ বা ব্লক করার পদক্ষেপ গ্রহণ কি সম্ভব?

এসব দেখে ভাবি, ভারতে মতপ্রকশের ক্ষেত্রে আইনের অনুচ্ছেদ ১৯(২) ধারা যে রাখা হয়েছে তা' প্রকাশ্যে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গোয়েবলসীয় কায়দায় সীমাহীন মিথ্যে কথা বলা, অসত্য পরিবেশন করা ও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং কথাবার্তার মধ্যে দিয়ে, ভাষা উচ্চারণ ও আচরণের মধ্যে দিয়ে অশ্লীলতা ও যৌনতার খুল্লমখুল্লা প্রচারের মধ্যে দিয়ে যে ভারতীয় সংবিধানের আইনের অনুচ্ছেদ ১৯(২) ধারা লঙ্ঘন হচ্ছে সেই লঙ্ঘনের জন্য কোনওরকম আইনি কুটকচালি ঘোরপ্যাঁচ ছাড়া এই ধারা কঠোরভাবে লাগু হচ্ছে কি বা লাগু সম্ভব?

আর, অন্তত ১৫ বা ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষার জন্য অ্যাকাউন্ট খোলার বয়সের ওপর কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ আইন করে নিষিদ্ধ করা কি সম্ভব???
প্রকাশ বিশ্বাস।
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া। 
( লেখা ৯ই আগষ্ট'২০২৬ রবিবার)


ভাবনাঃ মানবধর্ম ও মানবতা।

মানবধর্ম ও মানবতা নিয়ে সবসময় বালখিল্যের মতন চীৎকার চেঁচামেচি হ'য়ে চলেছে মিছিলে মিটিং ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মে। কে কতবড় মানবধর্ম পালনকারী ও মানবতাবাদী তার প্রতিযোগীতা চলেছে গলা ফাটিয়ে, নীল মূত্রপাত ঘটিয়ে মিছিলে, মিটিঙে, লেখায়, বক্তৃতায়।

মানবধর্ম ও মানবতা শিশুর হাতের রঙ্গীন খেলনা নয়। কোনও রকম 'খেলা হবে, খেলা হবে' ব'লে বটতলার উন্মাদ মানসিক রোগীর উল্লাস নয়।
যারা মানবধর্ম পালন করে, মানবতা যাদের হৃদয়ে উজ্জীবিত তারা মানবধর্ম পালন ও মানবতা নিয়ে বিজ্ঞাপন করে না, সরব হয় না। যারা মানবধর্ম পালন করে, মানবতা যাদের হৃদয়ে উজ্জীবিত তারা নীরবে তা' করে, ডান হাত দিয়ে দান করলে বাঁ হাত না জানার মত মানবতা প্রকাশ তার নিভৃত অন্তরের ব্যাপার। সর্বক্ষণ তার ভাবনার মধ্যে থাকে। মানবধর্ম ও মানবতা পোশাকে নয় চরিত্রে প্রকাশের ব্যাপার। মানবধর্ম ও মানবতা নিয়ে মিছিল মিটিং, তর্কবিতর্ক করার অর্থ কপটতা ও ভন্ডামি। যেমন ফাঁকা কলসীর আওয়াজ বেশী, ভরা কলসীর আওয়াজ নেই। প্রবি।
( লেখা ১০ই আগষ্ট'২০২৬ সোমবার)।

ভাবনাঃ সংখ্যাতত্ত্ব ঈশ্বরের পরিচয় নয়।

সংখ্যায় বেশী বা সংখ্যায় কম এই তত্ত্ব ঈশ্বরের পরিচয় নয় ও এই তত্ত্ব দিয়ে তাঁকে প্রকাশ করা যায় না। পৃথিবীতে কোন ভাষায় কে বেশী কথা বললো আর কোন সম্প্রদায়ের লোক সংখ্যা বেশী অতএব সেখানেই স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তা অর্থাৎ ঈশ্বর, আল্লা বা গড যে নামেই তাঁকে ডাকি না কেন তিনি বিরাজমান বা যুগের প্রয়োজনে তিনি নেমে আসবেন সেই বেশী ভাষায় কথা বলা বা সংখ্যায় বেশী লোক যে সম্প্রদায়ের মধ্যে সেই সম্প্রদায়ের মানুষ মায়ের গর্ভে আর যেখানে যে সম্প্রদায়ের লোকসংখ্যা কম সেখানে সেই সম্প্রদায়ের মানুষ মায়ের গর্ভে তিনি নেমে আসেন না এই সংখ্যা তত্ত্ব দিয়ে তাঁর আসা, না-আসাকে বিচার করা যায় না। বিচার করা যায় না কোথায় তিনি আসবেন, না-আসবেন সেটা তাঁর মর্জি মাফিক ব্যাপার। আর এই ধরণের কথা যারা বলে সেটা তাদের অর্বাচিনের মত কথা বা চিন্তা ভাবনা।

সংখ্যা দিয়ে ঈশ্বরের নেমে আসার মাপকাঠি বিচার হয় না। সংখ্যা মানদণ্ড নয়। মানদণ্ড হ'লো কোথায় ও কোন জমিতে নেমে আসবেন সেইটা স্রষ্টার একান্ত নিজের ব্যাপার। তিনি যেখানে নেমে আসার উপযুক্ত পরিবেশ আর ফার্টাইল জমি পাবেন ও উন্নত বীজ পাবেন সেইখানেই তিনি নেমে আসবেন। ধর্মপ্রাণ, সদাচারী, সৎ, সরল, ভালোবাসাময় মানুষ তাঁর নেমে আসার আধার। আবার যেখানে সেখানে অশ্রাব্য কুশ্রাব্য গালাগালি করা, কানে গরম সীসা ঢেলে দেওয়ার মত অশ্লীল ভাষায় কথা বলতে অভ্যস্ত সাবলীল, উচ্ছৃঙ্খল, শালীনতাহীন, অসদাচারী নারীর গর্ভে বিশ্বব্রহ্মান্ডের স্রষ্টা মানবদেহে নেমে আসেন না। সেখানে সাপ, ব্যাঙ, ছুঁচো,, ইঁদুর মানসিকতার আত্মা নেমে আসে। আর, এই মানসিকতার মানুষের মধ্যে সব ধর্মের মধ্যে ধর্মীয় পোশাকটাই আজ মুখ্য হইয়ে দাঁড়িয়েছে আর গৌণ হ'য়ে গেছে চরিত্রের প্রকাশ।

আর, সৃষ্টিকর্তার নেমে আসার জন্য তেমন জমি চাই ও বীজ চাই অর্থাৎ পুরুষ-নারী চাই, মা চাই, বাপ চাই। আগামীতে তাঁর নেমে আসার জন্য হয়তো আর মাটি আর বীজ পাবে না স্রষ্টা। কারণ আগামী ঘোর কলি যুগ। ধ্বংসের যুগ। তার ইঙ্গিত দেশে-বিদেশে বিশ্বজুড়ে বিষবর্ষী আন্দোলনের এইসব Mental identity বিহীন বন্ধ্যা বীজ আর জমি।
প্রকাশ বিশ্বাস।
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া। 
( লেখা ১১ই আগষ্ট'২০২৬ মঙ্গলবার)


প্রবন্ধঃ নেতাজীকে অপমান এবং প্রতিবাদ আন্দোলন ও অনশন।

সম্প্রতি নেতাজীকে অপমান, অসম্মান করা ও এই অপমান, অসম্মান করার বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিবাদ, আন্দোলন নিয়ে বাংলার আকাশে আবার ঝড়ের কালো মেঘ জমা হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অনশন ইস্যু। নেতাজীকে অপমান, অসম্মান করার জন্য কেউ কেউ অনশনে বসার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছে। কিছুদিন আগে দেখেছি দিল্লীর যন্তর মন্তরে সোনম ওয়াংচুর অনশন। তারও আগে লাদাখের পরিবেশ ও পরিস্থিতি নিয়ে সোনম ওয়াংচুর অনেকবার অনশন দেখেছি। এছাড়াও ভারতে নানা ঐতিহাসিক ও উল্লেখযোগ্য অনশনও আমরা দেখেছি। কথায় কথায় দেশের নেতা, মহাপুরুষ য় মনিষীদের অপমান অসম্মান করা, প্রতিবাদে প্রতিবাদ আন্দোলন ও অনশন ফোবিয়ায় আক্রান্ত আমার ভারত।

ভারতে অনশন আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বরা হলেনঃ
১) মহাত্মা গান্ধী:
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এবং বিভিন্ন সামাজিক দাবিতে গান্ধীজি একাধিকবার আমরণ অনশন করেছিলেন।
২) যতীন দাস:
লাহোর জেলে বন্দী অবস্থায় রাজনৈতিক বন্দীদের অধিকারের দাবিতে ৬৩ দিন অনশন করে ঐতিহাসিক শহীদ হন।
৩) পোট্টি শ্রীরামুলু:
অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য গঠনের দাবিতে ১৯৫২ সালে ৫২ দিন অনশন করে প্রাণত্যাগ করেন।
৪) ইরম শর্মিলা:
মণিপুরে আফস্পা (AFSPA) আইনের বাতিলের দাবিতে দীর্ঘ ১৬ বছর অনশন চালিয়েছিলেন।
৫) আন্না হাজারে:
২০১১ সালে জন লোকপাল বিলের দাবিতে দিল্লিতে বড় ধরনের অনশন আন্দোলন গড়ে তোলেন।

এসব ইতিহাস অনশনকারী ও আন্দোলনকারীদের জানা।

এর আগেও বলেছি আবারও বলছি, যারা অনশন করেন, অনশনকে হাতিয়ার ক'রে দাবী আদায়ের আন্দোলন করেন তাদের মানসিকতাকে সম্মান ও স্যালুট জানিয়েই বলছি, তাদের ডিমোটিভেট করছি না, কোনোরকম অসম্মান করছি না, অপ্রিয় সত্যটা শুধু তুলে ধরছি।
হয়তো যারা অনশন করেন বা তাদের সমর্থনকারী ও গুণগ্রাহীদের ভালো লাগবে না এই অপ্রিয় সত্য কথা। কিন্তু সত্য সত্যই আর তা' অপ্রিয়, এটা সকলেই জানে। হয়তো তর্কের খাতিরে উদারতার ভঙ্গিতে যুক্তির পর যুক্তি খাড়া করবে তারা অনশনকারীদের লড়াইকে সমর্থন জানানোর জন্য ও আমার বিরুদ্ধতা করার জন্য। আর, অনশনকারীকে সেই সমর্থনও গোড়া কেটে আগায় জল দেবার মত। যেমন, অনশন দাবী পূরণের এক কৌশল বা পদ্ধতি, তাও গোড়া কেটে আগায় জল দেবার মত। অনশন ক'রে সমস্যার সমাধান হয় না। সাময়িক হয়তো তার প্রভাব পড়ে, চিরস্থায়ী হয় না। হয়তো অনশনকারীর আত্মত্যাগকে নিয়ে নেপোয় মারে দইয়েরা এসে প্ল্যাটফর্ম হাইজ্যাক ক'রে নেবে, রাজনীতি যুক্ত হ'য়ে যাবে। অনশনকারীরা প্রায় সময়ই দেখা যায় তারা বলেন, তারা যে উদ্দেশ্যে অনশন করেন সেই উদ্দেশ্যের প্রতি প্রেম, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা থেকেই অনশন করেন তাদের কোনও সংগঠন নেই, তারা কোনও দলের না। অথচ সংগঠন না থাকলেও তারা কারও না কারও সাহায্যে এই অনশনে বসার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, শরীর-মন স্থির করেছেন, সময়, স্থান ঠিক করেছেন আর এটাই সংগঠনের প্রথম ধাপ এবং তারপর অনশনের মধ্যে দিয়ে হয় জমায়েত আর তা' ধীরে ধীরে সংগঠনে রূপ নেয়।

আর, অবশেষে দিনের শেষে আসল মুখের আবির্ভাব হয়।
এছাড়া, অনশনকারী বলছেন অনশনকারীর সঙ্গে অসংখ্য নেতাজীপ্রেমী দাদা, ভাই ও বোনেরা আছে। হ্যাঁ আছে, দেশ জুড়ে অসংখ্য নেতাজী প্রেমী আছে, তাদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ আছে। কিন্তু এই অসংখ্য নেতাজী প্রেমীদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ পাড়ে দাঁড়িয়ে জলে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিকে সাহস ও পরামর্শ দেওয়ার মত। জলে ঝাঁপ দিয়ে বাঁচাবার মত নয়। আর, আশীর্বাদ গাছের ঝড়া ফুল বা আকাশের বুক থেকে ঝ'রে পড়া বৃষ্টির ফোঁটা নয়। আশীর্বাদ মানে অনুশাসনবাদ। যে অনুশাসন মানলে কাজে সফল হওয়া যায়, ফল লাভ হয়, মানুষের ও সমাজের মঙ্গল হয়, তাই-ই আশীর্বাদ। অনুশাসন না মেনে শুধু মাথায় হাত ছুঁইয়ে দিলে কিংবা আমার মত বালখিল্য লোকের 'আপনার লড়াইয়ে আমার সমর্থন ও আশীর্বাদ রইলো’ বলা এই কথা শুধু কথার কথা, আর সেই আশীর্বাদ প্রাণহীন। আশীর্বাদ রাস্তার বটতলার কোনও ঠুনকো খেলনা নয়। প্রচন্ড গরম, আকাশে কালো মেঘ করেছে কিন্ত বৃষ্টির ছিটেফোঁটা নেই; যদি সেই মেঘ থেকে বৃষ্টি না ঝ’রে দিন শেষে আরও প্রচন্ড গুমোট ছেড়ে দিয়ে মেঘ উড়ে যায় দূরে আরও দূরে আর অবশেষে মেঘের কোলে কোথায় হারিয়ে যায় তবে সেই কালো মেঘের কি মূল্য, কি প্রয়োজন,? অনশনও ঠিক তেমনি। যারা অনশবকারীকে আশীর্বাদ করছে, সমর্থন করছে তারা যদি সত্যি সত্যিই নেতাজীর অপমানের বদলা চায়, প্রতিকার চায় তাহ'লে তারা সবাই একইসঙ্গে অনশনকারীর সঙ্গে মঞ্চ ভাগ ক'রে নিক, একসঙ্গে সবাই অনশনে বসুক। আমার এ কথায় অনশনকারী বলতে পারেন বা তার গুণগ্রাহীরা বলতে পারে অপমানের বদলা চাই না, বদল চাই। কিন্তু দিন শেষে গিরগিটির রঙ বদলের চেয়েও দ্রুত রঙ বদলে অন্তসারশূন্য 'বদলা নয়, বদল চাই' পরিণত হয় 'বদল নয়, বদলা চাই'-এ । এটাই বাস্তব সমাজ কাঠামো, এর উল্টোটা ইউটোপিয়া। যার খপ্পরে প’ড়ে "পড়ি গেল কাড়াকাড়ি, আগে কেবা প্রাণ করিবেক দান তারি লাগি তাড়াতাড়ি" প্রতিযোগিতা লেগে যায়। ফলে অনশনের উদ্দেশ্য গৌণ হ'য়ে যায় ও আন্দোলন ডিরেইল হ'য়ে পড়ে এবং পাওয়া গোল্লায় যায়।

এক অনশনকারী তাঁর অনশনের আগে বলছেন, আজ তাঁর সামনে এক অনিশ্চয়তার অন্ধকার, কঠিন এক লড়াই, তিনি জানেন না সামনে কী অপেক্ষা করছে, জানেন না কে পাশে থাকবেন, কে বাড়িয়ে দেবেন সাহায্যের হাত। এই অনশন তাঁর সম্পূর্ণ এক নতুন অধ্যায়।

স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে কেন অনশনকারী এই কথা বলছেন? এ তো ভাবাবেগের কথা। যেখানে আবেগের চোটে ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বেগে বইছে। এসব ভাবনা তো নেগেটিভ ভাবনা, যার ফলে মানুষ নিজের অজান্তে ভেতরে ভেতরে দুর্বল হ’য়ে পড়ে। অনশনকারী তো জেনেশুনে এই ‘অনশন’ বিষ অমৃত ভেবেই পান করেছেন। তাই না? তাহ’লে কে পাশে থাকলো আর না-থাকলো, কে বাড়িয়ে দিল হাত আর কে দিল না তা জানার কি দরকার? সম্পূর্ণ এক নতুন অধ্যায় তো অনশনকারী নিজে বেছে নিয়েছেন, তাই নয় কি? নাকি কেউ পিছনে জোর ক’রে বা মগজ ধোলাই ক’রে অনশনকারীকে সামনে এগিয়ে দিয়েছে? অনশনকারী এই নতুন অধ্যায়ে আসার আগে এই অনশন বিষয়ে স্টাডি করেননি নাকি ভাবের আবেগে নেতাজী ব’লে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন পরিবার পরিজন থাকা সত্ত্বেও? অনশনকারীর পরিবার যখন আছে, অনশনকারী পরিবার যখন করেছেন তখন পরিবারের প্রতি তো তাঁর দায়বদ্ধতা আছে নাকি? ছেলেমেয়ের প্রতি, স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি, বাবা-মায়ের প্রতি বা পরিবারের অন্যান্যদের প্রতি পারিবারিক অভিভাবক বা অভিভাবিকা হিসেবে একটা দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে অনশনকারীর। তাই না? এর দায় দায়িত্বের পরেও ক্ষুদ্র গন্ডী থেকে বেড়িয়ে এসে সমাজের বৃহত্তর ক্ষেত্রে এসেছেন অনশনকারী আত্মত্যাগের মাধ্যমে নেতাজীর সম্মান রক্ষা করতে। তাহ’লে এসব কথা এখন অনশনকারী ভাবছেন কেন? এতে তো মন মুষড়ে পড়বে, ছেলে মেয়ে, স্বামীস্ত্রী, বাবা-মা, পরিবার, অনিশ্চয়তার অন্ধকার, অজানা ভবিষ্যৎ, একাকীত্ব বোধ, নতুন অধ্যায়ের পথে অজানা, অচেনার ভয় ইত্যাদি ভাবনা অনশনকারীকে গ্রাস করবে, অনশনকারী মানসিক দুর্বল হ’য়ে পড়বেন, শরীর আর সাপোর্ট করবে না।

তাই, অনশনের সময় যত এগিয়ে আসবে বা অনশনের দিনগুলিতে আর এসব ভাবা উচিত নয় অনশনকারীর। এর থেকে প্রতিবাদের জন্য অন্য রাস্তা বেছে নিতে পারতেন অনশুনকারী। আরও অনেক রাস্তা আছে প্রতিবাদের। অনশন একটা গিমিক, একটা প্রচার কৌশল, এর প্রভাব অস্থায়ী। অনশন ক’রে কারও চরিত্র বা মানসিকতা পাল্টানো যায় না। অনশন ক’রে সাংস্কৃতিক আন্দোলন বা বিপ্লব সংগঠিত হয়না। কাউকে অপমান, অসম্মান, অশ্রদ্ধা, নিন্দা, গালিগালাজ, কুৎসা, কলঙ্ক লেপন করার শিক্ষা, রুচি, মানসিকতার পরিবর্তন কারও অনশন করা না-করার ওপর নির্ভর করে না। তারা এইসব অনশনকে গিমিক ভাবে আর এই গিমিককে বিন্দুমাত্র পাত্তা দেয় না। সেটাই তাদের বৈশিষ্ট্য। এই সমস্ত অশিক্ষা ও কুশিক্ষাগুলির পরিবর্তন বা সুশিক্ষা সব একেবারে শৈশব অবস্থা থেকে সঠিক ও নিখুঁত পারিবারিক শিক্ষা, সামাজিক শিক্ষা, স্কুল শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা, রাজনৈতিক শিক্ষা ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে। নির্ভর করে প্রথম ও প্রধান বায়োলজিক্যাল মেক আপ-এর ওপর।

আচ্ছা অনশনকারী কি মনে করেন, অনশনকারী অনশনে বসলেই নেতাজীর প্রতি অসম্মান বন্ধ হ’য়ে যাবে? আর কেউ কোনওদিনও নেতাজিকে অপমান অসম্মান, গালিগালাজ করবে না? মানুষের মানসিকতা বদল হ’য়ে যাবে, শুভবুদ্ধির উদয় হবে? দেশজুড়ে সম্মান, শ্রদ্ধা, প্রেম ভালোবাসা, প্রশংসার ঝড় ব’য়ে যাবে? মানবতার জন্ম হবে ও মানবিকতার প্রকাশ ঘটবে?

আর শুধু নেতাজীর প্রতি অসম্মান নিয়ে কেন অনশন ও আন্দোলন? নেতাজীর প্রতি এখন এই প্রথম অপমান, অসম্মান হয়েছে? এর আগে কোনওদিনও হয়নি? স্বাধীনতার সময়ে ও তার পর থেকে নেতাজীর প্রতি অসম্মান, অপমান হয়নি? বাংলায় বাংলার আর কোনও বরেণ্য নেতার প্রতি, মহাপুরুষের প্রতি অপমান, অসম্মান হয়নি? হচ্ছে না প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত? কে বা কারা করেছে? কে বা কারা করছে? নেতাজীকে যারা অপমান, অসম্মান করেছে ও করছে তারা বাংলার মনিষীদের অপমান অসম্মান করেনি, করছে না? বর্তমানে দেশজুড়ে বাংলা তথা ভারতের নেতানেত্রীদের, মহাপুরুষদের অপমান, অসম্মান, কুৎসা, নিন্দা, অশ্লীল গালাগালি, বদনাম, কলঙ্ক লেপন করা হচ্ছে না? এটা কি বাংলার কৃষ্টি সংস্কৃতি? ভারতের কৃষ্টি, সংস্ক্ররতি? এই অপসংস্কৃতিকে সামগ্রিকভাবে কেন দেখা হয় না, ভাবা হয় না? কেন এই অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে দল মত নির্ব্বিশেষে সামগ্রিকভাবে আন্দোলন সংগঠিত হয় না? কোথায় অসুবিধা? কোথায় ফাঁক?
যাই হ’ক, শুধু বলি, অনশন করলে যা হবার তাই হয়। শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হয়, পেশী ক্ষয় হতে শুরু করে, রক্তচাপ কমে যায় এবং তীব্র দুর্বলতা, মাথা ঘোরানো ও অঙ্গহানি বা অর্গান ফেইলিওর হতে পারে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে, ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়, এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হয়।

তাই, কথায় কথায় অনশন করার মধ্যে দিয়ে শুধু সাময়িক দাবী আদায় হয় বা প্রতিশ্রুতি আদায় হয়, কোনও শুভবুদ্ধির উদয় হয় না, মানবতার জন্ম হয় না ও মানবিকতার প্রকাশ ঘটে না, যার দ্বারা সমাজে চিরস্থায়ী কোনও কিছুর সমাধান হয় না এবং শুধু রাজনৈতিক লাভ ও নিজের ভাবমূর্তির জন্য ব্যবহার হয়, এই ধরণের একটা গিমিক, একটা প্রচার কৌশল যার প্রভাব অস্থায়ী, তেমন কিছু পথের প্রতি আমি আকৃষ্ট ন’ই। এতে অনশনের গুরুত্বটাই জোলো হ'য়ে যায়, যেটা আমরা সোনম ওয়াংচুর ক্ষেত্রে দেখেছি। অনশন যেন একটা গুরুত্বহীন সস্তা ব্যাপার, হাতের ময়লা।

মৃত্যুকে হাতিয়ার ক’রে কোনও কিছু অর্জনে আমার অনীহা, কারণ আমি কারও জীবন ফিরিয়ে দিতে পারি না, ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। আমি নিজে যেমন বাঁচতে চাই, তেমনি একইভাবে অন্যকেও বাঁচাতে চাই।

পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বললেন,
“মরো না, মেরো না, পারো তো মৃত্যুকে অবলুপ্ত করো।“
প্রকাশ বিশ্বাস।
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া।
( লেখা ১২ই আগষ্ট'২৬ বুধবার)


 


Monday, August 17, 2026

ভাবনাঃ স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় পতাকা।

আগামী ১৫ই আগষ্ট'২০২৬ রবিবার ভারতের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস।
ভারত ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট প্রথম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছিল। সেই প্রথম দিনটিকে ১ নম্বর ধরলে, ২০২৬ সালের ১৫ই আগস্ট হবে দেশের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন। ১৯৪৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভারত স্বাধীন দেশ হিসেবে ৭৯ বছর পূর্ণ করছে।

এই বছরের মূল ভাবনা বা থিম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে "১৫০ ইয়ার্স অফ বন্দে মাতরম" এবং "যুবশক্তি ফর বিকশিত ভারত ২০৪৭"।

এই ভাবনা যদি সত্যি সত্যিই পূরণ করতে হয় তাহ'লে দেশ জুড়ে প্রতিটি বাড়ি, অফিস, ক্লাব, স্কুল কলেজ সহ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্ম প্রতিষ্ঠানে ১৫ই আগষ্ট জাতীয় পতাকা উত্তোলন বাধ্যতা মূলক করা হ'ক। সব জায়গায় দেশপ্রেমের ও দেশ নায়কদের উদ্দেশ্যে গান বাজুক।

আর, রাস্তার যেখানে সেখানে, নর্দমা ও প্রস্রাব পায়খানার সামনে দেশনায়কদের ছবি রেখে জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হ'ক। এর জন্য কড়া নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হ'ক। জাতীয় পতাকা দিয়ে চেইন তৈরী হওয়ার পরিবর্তে অন্য কিছু দিয়ে চেইন তৈরী হ'ক। আর যদি তৈরি করে তাহলে জাতীয় পতাকা দিয়ে তৈরি চেইন যাতে অনুষ্ঠান শেষে রাস্তায়, নর্দমায় না পড়ে থাকে সেদিকে উদ্যোক্তাদের ও প্রশাসনের সতর্ক ও কড়া নজর থাকুক। ১৪০ কোটি দেশবাসীর প্রাণে স্বাধীনতার স্মেল ও দেশের স্বাধীনতার জন্য উৎসর্গিত শহিদদের উদ্দেশ্যে প্রাণ সঞ্চার কিভাবে ও কি কি ভাবে করা যেতে পারে তার জন্য কেন্দ ও রাজ্য সরকার প্রাজ্ঞ শিক্ষিতদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরী করুক।

স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে এই আমার স্বাধীন ভাবনা। প্রবি।
( লেখা ১৪ই আগষ্ট'২০২৬)


.

 


প্রবন্ধঃ শত্রুতার ডিম ফুটে চলা স্বাধীনতার ৮০ বছর।

আজ ১৫ই আগস্ট' ২০২৬ বৃহস্পতিবার ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস। এই স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র ক'রে ও দেশনায়কদের নিয়ে নানা বিতর্ক ও অশ্লীল কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি হ'য়ে চলেছে আজও ৮০বছর ধ'রে। গতকাল ১৪ই আগস্ট ছিল পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস। এই স্বাধীনতা সম্পর্কে কংগ্রেসের বক্তব্য ছিল, এই স্বাধীনতার অর্থ "নতুন ভোরের সূচনা", আর, মুসলিম লীগের কাছে তা ছিল "নতুন দেশের জন্ম", এবং ডানপন্থী ও চরম বামপন্থীদের কাছে তা ছিল যথাক্রমে "দেশভাগের ট্র্যাজেডি" এবং "বুর্জোয়াদের আপস"।

এই নিয়ে আজও ৮০ বছর পরেও চলেছে আমার দেশের অভ্যন্তরে সব দলেদের একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই ও হিন্দু-মুসলমানের লড়াই এবং হিন্দু-হিন্দুর লড়াই।

কেউ বলছে মুসলমানদের যখন আলাদা দেশ হ'লো, মুসলমানেরা যখন তাদের জাতের বা তাদের ধর্ম সম্প্রদায়ের জন্য একটা আলাদা দেশ দাবী ক'রে লড়াই ক'রে আলাদা ভূখন্ড আদায় ক'রে নিল তখন কেন হিন্দুরা হিন্দুদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা ভূখন্ড করলো না? কেন ভারতবর্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য এই ভারত হিন্দুরাষ্ট্র হ'লো না, কেন হিন্দুদের নিজস্ব স্বাধীন দেশ হ'লো না? তাদের যুক্তি, অখন্ড ভারতবর্ষ ভাগের মধ্যে দিয়ে স্বাধীন মুসলমানদের জন্য যে আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হ'লো, মুসলমানদের কাছে এই স্বাধীনতার অর্থ ছিল, "একটি নতুন মুসলিম রাষ্ট্র—পাকিস্তান অর্জন"। ঠিক তেমনি এই ভারত ভাগের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতার অর্থ একটি নতুন হিন্দু রাষ্ট্র------হিন্দুস্তান অর্জন কেন হ'লো না সেটাও হিন্দুদের প্রশ্ন। যদিও এর তীব্র বিরোধীতা করেছে ও ক'রে চলেছে ভারতের হিন্দুরা।

আবার কেউ বলছে, দেশভাগের মধ্যে দিয়ে ভারত যদি 'হিন্দুস্তান রাষ্ট্র' না হ'য়ে থাকে তাহ'লে তাকে সংবিধান রচনার ২৬ বছর পরে কেন সংবিধান পরিবর্তন ক'রে 'ধর্ম নিরপেক্ষতার' তকমা জুড়ে দেয়া হ'লো? কেন ও কিসের উদ্দেশ্যে এটা করা হ'লো? কেউ কেউ বলছে, সংবিধান রচয়িতা ড আম্বেদকর এই ''ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র' কথার কেন তীব্র বিরোধী ছিলেন। কেন তিনি ১৯৪৮ সালের ১৫ই নভেম্বর গণপরিষদের বিতর্কে অধ্যাপক কে. টি. শাহের "ভারতকে "Secular, Federal, Socialist Union of States" হিসেবে ঘোষণা করা হোক" এই প্রস্তাব খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ড. আম্বেদকর কেন দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন?

এইভাবে নানা ভাবনার আলোয় আলোকিত ভারতের কিশোর থেকে বৃদ্ধ সব মানুষ আজ মনের দিক থেকে সম্পূর্ণ আশ্রয়হীন। বিশেষত দেশের ইয়ং জেনারেশন অর্থাৎ দেশের তরুণতরুণী, যুবকযুবতী, যাদের আজ বালখিল্য আধুনিকতার মোড়কে বেঁধে ফেলা হয়েছে জেন জি নামে তাদের সামনে আজ কোনও নির্দিষ্ট উপযুক্ত 'আদর্শ' নেই। নানারকম কপট ছদ্ম আদর্শ, নেতা, শিক্ষক, ধর্মগুরুদের ও তাদের ছদ্ম দর্শন, ছদ্ম নীতি ও আন্দোলন, ছদ্ম শিক্ষা ও কথন শুনে শুনে আজ নানারকম রঙে রাঙিয়ে গিয়ে একেবারে Mental identity হ'য়ে পড়েছে ও পড়ছে ক্রমশ। আর জড়িয়ে পড়ছে নানারকম জটিলতায় আর চরম এলোমেলো হ'য়ে যাচ্ছে জীবন।

যাই হ'ক, ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে আজ এটাই সত্য যে, কংগ্রেসের "নতুন ভোরের সূচনা", মুসলিম লীগের "নতুন দেশের জন্ম", এবং ডানপন্থী ও চরম বামপন্থীদের কাছে "দেশভাগের ট্র্যাজেডি" এবং "বুর্জোয়াদের আপস" ইত্যাদি যে যাই বলুক না কেন, আসল সত্য হ'লো বিশাল দেশ ভারতকে টুকরো টুকরো করাই ছিল বৃটিশের আসল এক ও একমাত্র উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। সঙ্গে তৎকালীন বিশ্বের অন্যান্য বৃটিশের মিত্র শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোরও তাই ইচ্ছা ছিল। যাতে ভবিষ্যতে কোনোদিন তাদের সমকক্ষ হ'তে না পারে ও তাদের কাছে চ্যালেঞ্জ হ'য়ে দাঁড়াতে না পারে। এ কথা বোঝার ক্ষমতা মেন্টাল আইডেন্টিটিহীন তরুণতরুণী, যুবকযুবতীদের নেই।

তাই, সেইসময়ে অর্থাৎ ১৯৪৭-এ ভারতবর্ষ ভারত ও পাকিস্তান নামে দু'টুকরো হ'লেও বৃটিশদের দূরদর্শী পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৭১-এ হয়েছে তিন টুকরো। জন্ম হয়েছে ভারত, পকিস্তান ও বাংলাদেশ আজ ভারতের ঘরে ও ভারতের বাইরে চলেছে ভারতকে ভয়ঙ্করভাবে আরও টুকরো করার ঘৃণ্য, বিষাক্ত ষড়যন্ত্র। এছাড়া আমরা দেখতে পেয়েছি ও পাচ্ছি ভারত থেকে একসময়ে আলাদা হওয়া পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বর্তমান ভয়ংকর নারকীয় আভ্যন্তরীণ অবস্থা। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ তিন দেশের অভ্যন্তরে চলছে বীভৎস শত্রুতার ও ভাঙ্গনের খেলা। এ খেলার খেলোয়াড় সব তিন দেশের হৃষ্টপুষ্ট নাগরিক আর কোচ ও রেফারি বৃহৎ কোনও শক্তিধর রাষ্ট্র।

পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ভারতের তৎকালীন পূর্ববঙ্গ বর্তমানে বাংলাদেশের পাবনা জেলার হিয়াইতপুর গ্রামে থাকতেন। ১৮৮৮ সালে তাঁর সেখানে জন্ম। তখন তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত দেশের হিন্দু মুসলিম সমস্ত দেশনেতাদের উদ্দেশ্যে বারবার ভারত ভাগ না করার কাতর আবেদন করেছিলেন এবং পাঞ্জাব ও বাংলাদেশ যাতে ভাগ না হয় তার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তখন তাঁর কথা কোনও দেশনেতা শোনেননি। তখন দ্রষ্টাপুরুষ ব্যথাতুর শ্রীশ্রীঠাকুর ভবিষ্যৎ ভয়ংকর ভারতের করুণ নির্ম্মম নারকীয় অবস্থা আগাম দেখতে পেয়ে বলেছিলেন,

"Dividing compromise is the hatch of animosity." যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায়, "দেশ ভাগ ক'রে সমস্যার সমাধান করার অর্থ 'তা' দিয়ে দিয়ে শত্রুতার ডিম ফোটানো।"

আজ স্বাধীনতার ৮০বছর ধ'রে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের বলে যাওয়া নির্ম্মম সত্য 'শত্রুতার ডিম' তিন দেশের অভ্যন্তরে অনবরত ফুটে চলেছে। এই ডিম ফোটার ট্রাডিশান হয়তো ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে।

যাই হ'ক, সবাই সবার মনের কথা বলুক, এটা প্রত্যেকের বাক স্বাধীনতা। আর তা' আগামীতে ধ্বংস ডেকে আনুক কিংবা সৃষ্টির উল্লাস সৃষ্টি করুক। সবাই সবার মনের কথা ভাল মন্দ যা ইচ্ছা তাই বলবে, এ তো ভালো কথা কিন্তু কেউ কারও মনের মত হবে না। আসলে সবার মনের মত হওয়ার চেষ্টা করাটাই ভুল। কারণ, কেউ মানুক না-মানুক এখন বর্তমান সময় ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে ঘোর কলি যুগ। তাই এখন মনের জগতে সবাই অস্থির ও নেগেটিভ। তাই কেউ কারও মনের মত হ'তে পারবে না। আমিও হ'তে পারবো না, কেউ আমারও মনের মত হবে না।

তাই, আমি নিজেকে নিজে বলি, তুমি একমাত্র ঈশ্বরের আর কারও না, আর তাই তুমি ঈশ্বরের মনের মত হওয়ার চেষ্টা করো, তা'হ'লে হয়তো সবার মন জয় করলেও করতে পারবে, না করতে পারলেও কোনও দুঃখ নেই। আর এর ফলে পৃথিবী একদিন হয়তো হ'লেও সুন্দর হ'তে পারে।
প্রকাশ বিশ্বাস,
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া।


ঈশ্বরের শহর ও উঁচু জীবন শৈলী।

প্রকাশ বিশ্বাস।
ঈশ্বরের একটা শহর আছে, যাবে নাকি?
যদি চাও যেতে, তবে এসো তুমি চ'লে,
বাকীটা বুঝে নেবো আমি।
হাত ধরাধরি ক'রে চলে যাবো সেই শহরে
প্রিয়পরমের ডাকে তুমি আর আমি।

তুমি বলতে পারো, যেমন বলেছে শক্তি
"যেতে পারি, তবে কেন যাবো?" দিয়ে যুক্তি।
আমি বলি কি, চোখে ঠুলি পড়িয়ে, কানে তুলো জড়িয়ে
অনেক তো দেখলে, শুনলে অনেক,
পা ফাঁক ক'রে, মাথা শূন্যে তুলে,
হাওয়াই ধোঁয়ার রিং ছেড়ে মাথা টলিয়ে, কথা জড়িয়ে
উর্ধ্বে মুষ্ঠিবদ্ধ হাত ছুঁড়ে আল-বাল বকলে তো অনেক।
কিন্তু সত্যি ক'রে বলো তো বুঝলে কি কিছু?
দিন গেল ঢ'লে, ষঢ় রিপুদের কোলে কোলে
ভেসে ভেসে বেড়ালে না ভেবে আগুপিছু।
বৃত্তি-প্রবৃত্তির টানে, ষঢ় রিপুরা নিয়ে গেল
কুত্তার মত হিঁচড়ে টেনে, শেষের ভয়ংকর সেদিনে;
মরণের কোলে জড়িয়ে রইলে পড়ে
রইলো না জীবনের অবশিষ্ট আর কিছু।
নিজের দোষে সমস্যার হাজারও জালে জড়িয়ে
নিজে জর্জরিত তুমি কাটাচ্ছো সমাধানহীন রাত
আর যাচ্ছো অন্যের সমস্যা সমাধানে বেহায়া তুমি।
শৈশব থেকে কৈশোর পার হ'য়ে যৌবনে দাঁড়িয়ে
আর প্রৌঢ়ত্ব ও বার্ধ্যকের কিনারায় হাত নাড়িয়ে
জীবন হারিয়ে হতাশা আর অবসাদকে ক'রে সাথী
অবশেষে দিন শেষে আজ বলছো, একাকী আমি।

তাই বলি,
কেউ যাবে নাকি মেঘের ওপারে ঈশ্বরের ঘরে?
যদি চাও যেতে রাখো হাত আমার হাতে
পড়ে থাক পিছনে সঞ্চিত যত পাপ আর
যদি থাকে পূণ্য যা কিছু, চলো যাই চলে যাই
ঈশ্বরের শহরে জীবন খুঁজে পাবে সেথায়
যেথা আছে জীবন শৈলী উঁচু।

Thursday, April 23, 2026

বিচিত্রাঃ ২৬০

সৎসঙ্গী বন্ধু!চলে যাবার আগে ব'লে যাই একটা কথা।
যদি থাকে তোমার ক্ষমতা তবে তোমার ও তোমার আশেপাশের অসহায় গরীব ছোট্ট শিশুর প্রতি রেখো মমতা। 
শিশুরা লিটল অনুকূল! বাড়িয়ে তোমার হাত দিও সাথ,
দিও তাদের কুল।

প্রতিটি শিশুর মধ্যে তোমার দয়াল ঠাকুর বর্তমান। 
তাদের নিষ্পাপ সরল মুখের দিকে চেয়ে দেখো 
দেখতে পাবে সেথায় তোমার দয়ালকে। 
এসো বাকী জীবন তাদের নিয়ে আনন্দ করি।

তোমার বাড়ির ও আশেপাশের শিশুদের ভালোবেসো। 
তাদের ভালোবাসলে ঈশ্বর তোমায় ভালবাসবেন। 
শিশুর শৈশব চলে গেলে তুমি ঈশ্বরকে ভালোবাসার সুযোগ হারাবে।

শিশুর শৈশব চলে গেলে তা আর ফিরে পাবে না। 
শিশুরা ঈশ্বরের দূত। তাদের মধ্যে ঈশ্বর বর্তমান। 
তাদের ভালোবাসলে ঈশ্বরকে ভালোবাসা হয়।
( লেখা ২৪শে এপ্রিল'২০২৩)

নাম করো। কোন নাম? 
পুরুষোত্তম যখন যে নাম দিয়ে যান সেই নাম! 
পূর্বের নামের উপর দাঁড়িয়ে যুগোপযোগী পরিপুরণকারী
নূতন নাম!!
( লেখা ২৪শে এপ্রিল'২০১৯)

আস্তিক-ই নাস্তিক;
বাস্তবে
নাস্তিক-ই আস্তিক।
( লেখা ২৪শে এপ্রিল'২০১৭)













































Wednesday, April 22, 2026

বিচিত্রাঃ ২৫৯

আমাকে একজন যুবক জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা, কমিউনিস্ট প্রধান দেশ চীন, কিউবা, লাওস, ভিয়েতনাম এবং উত্তর কোরিয়ায় যে যা খুশী বলবে, যে যা খুশী লিখবে, যা খুশী করবে এমন বাক স্বাধীনতা, এমন গণতন্ত্র আছে? আমি বললাম, আমি জানি না। সে বিস্ময়ে আমার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলো তারপর হতাশ য়ে চলে গেল। সে আমাকে সবজান্তা ভেবেছিল।  তাই অনেক আশা নিয়ে এসে জিজ্ঞেস করেছিল। চোখে মুখে উৎসাহ ছিল। কোনও ভয় ছিল না। কিন্তু যখন আমি তাকে বললাম, আমি জানি না, তুমি কমিউনিস্টদের জিজ্ঞেস করতে পারো। তখন সে কেন জানি না কেমন জানি একটা ফ্যাকাশে বিস্ফারিত চোখমুখে নীরবে উঠে দ্রুত চলে গেল।

আপনারা আমার ফেসবুক বন্ধুরা কেউ এর উত্তরটা বলতে পারবেন? প্রবি।

Monday, April 6, 2026

প্রবন্ধঃ কি বিচিত্র এই পৃথিবী! পৃথিবীর মানুষ!!

কখনো জিন্দাবাদ, কখনো বা মুর্দাবাদ! বালখিল্য দেশ আর বালখিল্য সব দেশের জ্ঞানী, গুণী, পন্ডিতের দল।কখন যে কে কি বলছে, কেন বলছে, কাদের বলছে, কাদের পক্ষে বলছে, জনগণ না ব্যবসায়ী কাদের হ'য়ে বলছে সব ঘেঁটে ঘঁ হ'য়ে যাচ্ছে শালা! বন বন ক'রে ঘুরছে মাথা। তেলা মাথায় তেল দিচ্ছে না শুকনো মাথায় তেল দিচ্ছে এরা তা' বুঝতেই হিমশিম খাচ্ছে মানুষ।

ছোটোবেলায় সরিষার তেল খেয়ে খেয়ে, গায়ে মাথায় মেখে বড় হয়েছি। পূর্বপুরুষ সর্ষের তেল খেয়ে এসেছে। শরীর তাগড়া হয়েছে, চামড়া মসৃণ হয়েছে, চুল হয়েছিল মজবুত। আজ যেমনভাবে প্রচার করা হচ্ছে তেমন কোনোদিন হার্ট, লিভার খারাপ হ'তে শুনিনি, শুনিনি হাঁটুর ব্যথা।

তারপর বড় হ'য়ে হঠাৎ শুনলাম ডাক্তাররা বলছেন, সরিষার তেল হার্টের পক্ষে, পেটের পক্ষে ক্ষতিকর। বাতের পরম বন্ধু। তাই আর সরিষার তেল খাওয়া নিরাপদ নয়। তাই চালু হ'লো সাদা তেল। সূর্যমুখী তেল, রাইস বান তেল অর্থাৎ চালের তুষ থেকে তেল, বাদাম তেল, জলপাই তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি নানা রকমের তেলে তেলে তেলাপিয়ার বংশবৃদ্ধির মত ভরে গেল বাজার।

ছোটোবেলায় ডালডা দিয়ে বানানো ম' ম' সুগন্ধে ভরা বাতাসে সুস্বাদু গরম গরম লুচি খেয়েছি, কখনো বা ঘিয়ে ভাজা লুচি খেয়েছি, সর্ষের তেল দিয়ে ভাজা ডগা সহ লম্বা লম্বা বেগুন ভাজা দিয়ে লুচি খেয়েছি, সর্ষের তেল দিয়ে জম্পেশ ক'রে কষানো আর ঘি দিয়ে তৈরী মাংস দিয়ে, আলুর দম দিয়ে গরম ফুলকো ময়দার লুচি খেয়েছি।
তারপর শুনলাম ডালডা আর ঘি খেলে অবধারিত স্ট্রোক, লিভার ড্যামেজ। তাই সেটাও হ'লো খাওয়া বন্ধ। বাজার থেকে উধাও হ'লো বিখ্যাত সুস্বাদু ডালডা, ঘি-এর বাজার হ'লো মন্দা।

মাখন খেতাম পাউরুটিতে লাগিয়ে, কি তার স্বাদ! পরে শুনলাম মাখন খেলে শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই মাখনের পরিবর্তে বাজারে এলো মার্জারিন। তাই পাউরুটিতে লাগিয়ে খেয়েছি কিন্তু স্বাদহীন।
একটা সময় সস্তায় পাম তেলেও বাজার চেয়ে গেছিল। সরকারীভাবে রেশনেও পাল তেল সরবরাহ হ'তো। তারপর তাও বন্ধ হয়ে গেল। কেন বন্ধ হ'য়ে গেল গরীবের ঘরের ঘি পাম তেল? কেন বন্ধ হ'য়ে গেল ডালডা, ঘিয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত পাম তেল?

তাই মানুষের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা ক'রে বুদ্ধিমান মানুষ বিকল্প হিসেবে বাজারে নিয়ে এলো ১০০% স্বাস্থ্যকর উদ্ভিজ তেল। তেলাপিয়ার বংশবৃদ্ধির মত বাজার ছেয়ে ফেলল নানারকম উদ্ভিজ তেল যাকে আমরা চলতি কথায় বলি সাদা তেল। সূর্যমুখী তেল, রাইস বান তেল অর্থাৎ চালের তুষ থেকে তেল, বাদাম তেল, জলপাই তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি নানা রকমের তেলে ভরে গেল বাজার।

এই উদ্ভিজ তেল অর্থাৎ সাদা তেল দিয়ে রান্না ক'রে খাও তরিতরকারি।মাছ, মাংস, ডিম রান্না করো সাদা তেল দিয়ে, লুচি, পরোটা, বেগুন ভাজা, আলু ভাজা, চপ, বেগুনি ইত্যাদি সব খাও সাদা তেলে। সাদা তেল জিন্দাবাদ। সর্ষের তেল, ঘি, ডালডা, মাখন মুর্দাবাদ।

এইভাবে বেশ কিছুদিন গেল। অনেক বছর ধ'রে চললো সাদা তেলের বাজার। তারপর আবার বহুদিন পর একদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় শুনলাম ডাক্তাররা বলছেন, বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা ক'রে জেনেছেন সর্ষের তেল শরীরের পক্ষে উত্তম তেল, হার্টের পক্ষে উপকারী, স্বাস্থ্যকর। আবার চালু হ'লো ঘরে ঘরে সর্ষের তেলের ব্যবহার। শুরু হ'লো সর্ষের তেলের জয়ধ্বনি। ততদিনে মানুষ অভ্যস্থ হ'য়ে গেছে উদ্ভিজ তেলে অর্থাৎ সাদা তেলে। তবুও আবার মানুষ খাওয়া শুরু করলো সর্ষের তেল ডাক্তারের আশ্বাস বাণী শুনে।

কিন্তু আজ আবার শুনছি উল্টো কথা। কি বলছেন সব জ্ঞানী, পন্ডিতরা? তাঁরা বলছেন, "অতিরিক্ত সরিষার তেল খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতির কারণ। ইউরোপের সব দেশ, USA, কানাডায় নিষিদ্ধ হয়েছে সর্ষের তেল। ভিডিওতে বলা হচ্ছে যেহেতু ক্যানাডা, ইউ এস এ নিষিদ্ধ করেছে তাই ওরাই একমাত্র জ্ঞানী পন্ডিত দেশ আর আমরা বালখিল্য ঋষির দেশ। তাই খাওয়া বন্ধ করো সর্ষের তেল।
তাহ'লে কোনটা ঠিক? কারা ঠিক? আগে যারা বলেছিল সর্ষের তেল শরীরের জন্য ভালো, উপকারী তাঁরা ঠিক নাকি যারা পরে বললো সর্ষের তেল শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর, তাঁরা ঠিক? এর কিছুদিন পরে সর্ষের তেল সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের দৌলতে তার সুনাম ফিরে পেলেও আবার তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ইউরোপের সব দেশ, USA, কানাডা। এখন সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? কোথায় যাবো আমরা?

সাধারণ মানুষ বলছে, শালা বাঁচবোই তো গড় আয়ু অনুযায়ী ৬৪ বছর। জানি না এখন গড় আয়ু বেড়েছে নাকি আরও কমেছে। জানার ইচ্ছাও নেই। আর কলিযুগে মানুষের আয়ু নাকি নির্ধারিত হয়েছে ১০০বছর। কে নির্ধারণ করেছে জানি না, জানার ইচ্ছাও নেই। শুধু এটুকু বুঝি সব শালা আধা জ্ঞানী পোঙ্গা পন্ডিতের দল। জ্ঞানী পন্ডিতদের আজ এক কথা, কাল আর এক কথা শুনতে শুনতে চার অক্ষর মানুষ শালা puzzled হ'য়ে যাচ্ছে, সবাই আজ confused.
শালা চারপাশের ভেজাল মেশানো মারাত্মক বিষ খেতে খেতে সেটাই মানুষ হজম ক'রে নিয়ে গড় আয়ু ৬৪ বছর পার ক'রে দিচ্ছে এমনকি অনেকেই ৮০ বছর এমনকি ৯০ পার ক'রে দিব্যি বেঁচে আছে এই জ্ঞানী পন্ডিতদের দ্বারা কখনো স্বীকৃত ও ঘোষিত অমৃত আবার কখনো বা স্বীকৃত ও ঘোষিত বিষাক্ত তেল খেয়ে। আর অতীতে সর্ষের তেল খেয়ে টানটান মেদহীন চকচকে শরীরে, বিনা চশমায়, বিনা কানের মেশিনে গটগট ক'রে হেঁটে চলে ফিরে বেড়াতো ৯০ উত্তীর্ণ প্রায় সবাই।

এখন প্রশ্ন জাগে মনে তাহ'লে আর কি প্রয়োজন এত বিষ খোঁজার? তাঁর থেকে বরং খুঁজুন না সমস্ত খাদ্যদ্রব্য, প্রসাধনী দ্রব্য ইত্যাদি সবেতেই রমরম ক'রে চলা ভেজাল কারবারীদের। সেদিকে নজর দেওয়ার কেউ নেই, নজর দেবার দরকার নেই। শুধু গোড়া কেটে আগায় জল ঢেলে গাছ বাঁচাবার মত বাজার জুড়ে কৃত্রিম বিষাক্ত নকল জিনিস প্রস্তুত কারবারীদের ছেড়ে বা তাদের বাঁচাবার জন্য প্রকৃতির দেওয়া দান অরিজিনাল জিনিসে কত বিষ লুকিয়ে আছে তাই খুঁজতেই ব্যস্ত বুদ্ধিমান মানুষ মানুষকে সাবধান করতে, সতর্ক করতে, বাঁচাতে!!!! তাদের কাছে প্রশ্ন, সর্ষের তেল কি উদ্ভিজ তেল নয়?

গোড়া কেটে আগায় বালতি বালতি জল ঢাললে গাছ বাঁচবে? ঠিক তেমনি ভেজাল তেলে, খাদ্যদ্রব্যে মারণ বিষ না খুঁজে প্রকৃতির দেওয়া জিনিসে কতটা বিষ আছে সেটা খুঁজলে ভেজাল বিষাক্ত তেলে, খাদ্যদ্রব্যের মারণ বিষে তৈরী খাবার খেয়ে মারণ রোগে আক্রান্ত মানুষ বাঁচবে????

কি বিচিত্র এই পৃথিবী! পথিবীর মানুষ!!
এই জন্যেই নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের (D.L. Roy) লেখা 'চন্দ্রগুপ্ত' নাটকের  
বলেছিলেন গ্রীক বীর আলেকজান্ডার, '
"সত্য সেলুকাশ কি বিচিত্র এই দেশ!!!!!"
( লেখা ৬ই এপ্রিল'২০২৫)।


Friday, April 3, 2026

বিচিত্রাঃ ২৫৮

চার অক্ষর বাঙালি সবেতেই মজা খুঁজে পায়।!!!!! 
এই জন্যেই শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছিলেন, আমার সৎসঙ্গের আন্দোলন বাংলা থেকে উঠবে না। বাংলার বাইরে থেকে উঠবে। 
অভিশপ্ত বাংলা ও বাঙালি সৎসঙ্গী।
( লেখা ১লা এপ্রিল' ২০২৫)




আমার ঠাকুরও আছে সাথে আছে বৃত্তি-প্রবৃত্তি। 
বৃত্তি-প্রবৃত্তির ইশারায় উঠি, বসি আর চলি 
আর প্রতিমুহূর্তে বলছি ঠাকুর আমার সাথী!!

ঠাকুরও আছে বৃত্তি-প্রবৃত্তিও আছে 
সাথে আছে স্বাধীনতা।
যার যেমন লাগে ভালো,
যার প্রতি যার অধীনতা।

বিচিত্রাঃ ২৫৭

আবার বুদ্ধিজীবীদের হবে মিছিল! 
বিবেকের বন্ধ দরজার খুলে যাবে খিল! 
চিল চীৎকারে ভেসে যাবে শহর, 
ভেসে যাবে যত অজ্ঞতার ফসিল!
( লেখা ৩রা এপ্রিল'২০১৮)

মিলনের আকুলতা যার নেই সে ঈশ্বরপ্রেমী, 
মানবপ্রেমী বা দেশপ্রেমী হ'ক আর যাই হ'ক 
তার কাছে থেকো না, সে শয়তানের প্রতিভু।

















কবিতাঃ ভারসাম্য

কবিতা মানেই প্রেম?
প্রেম মানেই কি নারী?
কবিতা মানেই প্রতিবাদ?
বাদ মানেই ষাঁড়াষাঁড়ি?

কবিতা মানেই প্রেম?
আর প্রেম মানেই কি নারী?
কবি আনাড়ির নারী প্রেম 
এত কোথায় রাখি!!

কবিতা মানেই কি নারী?
আর নারী মানেই শরীরী?
কবি আনাড়ির নারী শরীরী
উপত্যকায় বিচরণ অকারণ!
কেমনে ভারসাম্য রাখি!?
( লেখা ২০শে জুন'২০১৭)




Wednesday, April 1, 2026

কবিতাঃ ডুবে যাও, মিশে যাও।

ধনী হও আর গরিব হও,
ক্ষমতাবান কিম্বা ক্ষমতাহীন;
কর্মফল ভোগ তোমাকে করতেই হবে
আর তা এখানেই এই পৃথিবীতেই
এই জন্মেই; তা এখন হ'ক
আর পরেই হ'ক বা মৃত্যুর আগেই।
এ সত্য, সত্য, সত্য; 
জেনো এ সত্য তিন।

তাই, চলে এসো, ছুটে এসো
এসো হরি নামে মাতাল হ'য়ে।
রাম নামে, কৃষ্ণ নামে পাগল হ'য়ে এসো
এসো এসো রাধাস্বামী রাধাস্বামী ব'লে।
ডুবে যাও, মিশে যাও নাম সাগরে।
( লেখা ১০ই ডিসেম্বর'২০২০)

কবিতাঃ আমি কার?

আমি কার?
আমি প্রভুর, প্রভু আমার প্রাণ।
আমি না হিন্দু, না মুসলিম, না জৈন, না বৌদ্ধ,
না কোনও সম্প্রদায়ের, না আমি খৃষ্টান।
আমি শক্তির তনয়, পরমপিতার সন্তান।
আমি শ্রীশ্রীরাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ, যীশু, মহম্মদ, মহাপ্রভু,
রামকৃষ্ণ ও শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের সন্তান।
আমি সমস্ত অস্তিত্বের সঙ্গী, অস্তিত্বের অস্তিত্ব
পরম অস্তিত্বের সঙ্গী, আমি সৎসঙ্গী।
আমার ভিতর ও বাহিরে অন্তরে অন্তরে
আছো প্রভু তুমি আমার সমস্ত হৃদয় জুড়ে।
( লেখা ১০ই ডিসেম্বর'২০১৭/১৮)

কবিতাঃ আমার প্রিয় গুরুভাইবোন।

দয়াল যার নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে
বিপদ কি তার কাছে আসে?
দয়াল যার দিনে রাতে প্রতি কথাতে
রোগ, শোক, গ্রহদোষ, বুদ্ধি বিপর্যয়,
দরিদ্রতা কি তাঁর জীবনে থাকে?
জীবন জুড়ে যার সকাল সন্ধ্যে রাত
থাকে শুধু ঠাকুর আর ঠাকুর,
শয়তান থাকে তার জীবন থেকে
শত হাত দূর। তাই এসো বন্ধু,
ঠাকুর নিয়ে থাকি শুধু সবাই মেতে
সৎসঙ্গ, দীক্ষা আর ইষ্টভৃতি মহাযজ্ঞে।
( লেখা ১৬ই মার্চ'২০২৬)

কবিতাঃ ডর কিস বাত কি?

ভয় কি তোর? আমি আছি তো তোর সাথে।
যত দুর্যোগ, যত আপদ বিপদ আসুক তোর মাথে।
ডর কিস বাত কি? ম্যাঁয় হুঁ না।
তেরে সাথ সাথ, তেরে দিল মে
হাম হ্যাঁয় না। ডরো মত।

ভয় কি তোর? আসবে নোতুন ভোর।
আজ কিংবা কাল, কাল কিংবা পরশু
একদিন না একদিন আসবেই আসবে
নোতুন সকাল, যদি আমি থাকি মাথায় তোর।
ডর কিস বাত কি? ডরো মত! ম্যাঁয় হুঁ না।
ম্যাঁয় তেরে সিনে মে হুঁ, প্রাণ স্বরূপ হুঁ।
হাম হ্যাঁয় না! ডরো মত।

ভয় কি তোর? তুই নাম পেয়েছিস।
তুই থাক নামময় হ'য়ে শয়নে স্বপনে
জাগরণে ভোজনে। আর, দিনের শুরুতেই
যেখানেই থাক, যেমনই থাক
ইষ্টভৃতি করবি তুই সযতনে।
কেটে যাবে সব তাফাল,
তাফালিং যাবে সব ভেগে, আমারে যে ডাকে
শয়তান পারবে না তাকে ছুঁতে,
আসবে তার জীবনে সুন্দর মনোময় এক সকাল।
ডর কিস বাত? ম্যাঁয় হুঁ না।
ডরো মত, মেরে তরফ দেখ
আউর জোরসে বোল, হাঁ দয়াল! তুম হ্যাঁয় না।

ভয় কি তোর? এই পৃথিবী কার?
তুই কার? কার ঘরে আছিস তুই?
এই পৃথিবী আমার! যে ঘরে আছিস তুই
সে ঘর আমার! তুই আমার, আমার!
ডরো মৎ! ম্যাঁয় হুঁ না!
একবার বিশোয়াসকে সাথ জোরসে বোল,
রাধাস্বামী দয়াল! তুমি আমার, তুমি আমার।

ভয় কি তোর? কিসের ভয়?
কেটে যাবে সব দুর্যোগ, হবে জয় দুর্জয়।
একবার শুধু বল চোখের জলে সব ভাসিয়ে
থাকবো না গো আর কোনোদিন তোমায় ভুলে ঘোর আঁধারে।
ডরো মাত্! ম্যাঁয় হুঁ না।
( লেখা ১৬ই মার্চ'২০২৬)।


কবিতাঃ কেটে যাবে ভয়াল রাত।

অলোক! জ্বালাও আলোক!!
নামের আগুনে উদ্ভাসিত হ'ক তোমার অন্তরলোক!
আর, নাম আগুনের তেজে জ্বলে পুড়ে খাক হ'য়ে যাক
রোগজীবাণু, প্রতি কোষে কোষে অনু পরমাণুতে
অনুভূত হ'ক দয়ালের দয়ার ঝলক।

অলোক! জ্বালাও ইষ্টের আলোক, আর
তুলে ধরো দয়ালের আলোকবর্তিকা!
ডরো মত, Move forward, ইষ্টের প্রদপ হাতে
অজ্ঞানতার ঘোর অন্ধকার ভেদ ক'রে ঘরে ঘরে
পৌঁছে দাও দয়াল প্রভুর দয়ার বার্তা।
অলোক! ডরো মাত্, প্রভু হ্যাঁয় না তুমারে সাথ।
বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে নাম আগুনে
জ্বালাও ভূ-লোক, অলোক, জ্বালাও আলোক
আর বুক ফাটিয়ে বলো, দিগন্ত কাঁপিয়ে বলো
দয়ালের দয়ার কথা, কেটে যাবে নিশ্চিত ভয়াল রাত।
অলোক, দয়াল প্রভু আমার, হ্যাঁয় না তুমারে সাথ।

অলোক! রেখে হাতে হাত নেবো শপথ দেখাবো বাঁচার পথ
আর্ত, অর্থার্থী,জ্ঞানী ও জিজ্ঞাসুদের, আর বলবো হেঁকে
নয় রেখেঢেকে বুক ফাটিয়ে, ঐ দেখা যায় দয়ালের রথ!
বাঁচতে যদি চাও, বাড়তে যদি চাও চারপাশের ঘোর
কন্টক ও দুর্যোগময় অন্ধকার গহীন নরক পরিবেশে,
পেতে চাও যদি দয়ালের অন্তহীন দয়ার পরশ
তবে এসো, ছুটে এসো, চলে এসো,
বুক ফাটো ফাটো ক'রে এসো
চলো উঠে পড়ি, চড়ে পড়ি দয়ালের ঐ বাঁচা-বাড়ার রথে
যেথা ইচ্ছা যায় যাক দয়াল রথ নরকে কিংবা স্বর্গে।।
( লেখা ১৮ই মার্চ'২০২৬)

কবিতাঃ নামের আলো জ্বালাও।

জীবন একটা যুদ্ধক্ষেত্র। এই যুদ্ধক্ষেত্রে তুমি একা।
এই যুদ্ধে তোমার নেই কোনও সাথী, চারপাশ ফাঁকা।
তোমার নিজের সঙ্গে তোমার যুদ্ধ, নেই কোনও প্রতিপক্ষ;
তুমিই তোমার পক্ষ, তোমার তুমিই বিপক্ষ।
যুদ্ধ তোমার ভুলের বিরুদ্ধে, তোমার অজ্ঞানতার বিরুদ্ধে,
তোমার যুদ্ধ তোমার কুসংস্কারের বিরুদ্ধে, ভয়, দুর্বলতার বিরুদ্ধে।
এই যুদ্ধে নেই কোনও হারজিৎ, নেই কোনও অভিযোগ,
আছে শুধু শয়তানকে খতম করার দক্ষযজ্ঞ।

বন্ধু, খোলো চোখ, তেসরা তিলে মন নিবদ্ধ করো।
দেখো, তমসার পার অচ্ছেদ্যবর্ণ মহান পুরুষ ইষ্টপ্রতীকে আবির্ভুত।
ওঠো, জাগো, নাম রথে বসো চড়ে,
নামের নিশান উড়িয়ে দিয়ে নামের বিষাণ বাজাও জোরে।
এই জীবন যুদ্ধে জিততে তোমাকে হবেই,
পিছন ফিরে দেখতে যেও না তোমার সাথে এই যুদ্ধে
কে আছে আর কে নেই।
বন্ধু, যুদ্ধটা তোমার, তোমার একার,
যুদ্ধে নেই সাথে তোমার পিতামাতা,
নেই স্ত্রী, পুত্রকন্যা, ভাই বোন আত্মীয়স্বজন, পুত্রবধু, জামাতা।
আছে শুধু পুরুষোত্তম পরমপ্রেময় প্রভু পরমপিতা।
সময় নষ্ট ক’রো না, সময় নষ্ট ক'রো না বন্ধু,
নাম বাণে খতম ক’রে দাও
তোমার হতাশা, অবসাদ, অবিশ্বাস আর ভয়ংকর
মারণ রোগের জীবাণু, দিয়ে শেষ রক্তবিন্দু।

শোনো! শোনো বন্ধু! ঐ ধ্বনি শোনো,
মহাসিন্ধুর ওপার থেকে ঐ ধ্বনি ভেসে আসছে,
'মাভৈ! আমি আছি তো, আমি আছি তোর সঙ্গে, তোর পাশে।
ভয় কি তোর? তুই নাম পেয়েছিস, তোর আর কিসের চিন্তা?
তুই যে নাম পেয়েছিস, আমিই তো ঐ ‘রাধাস্বামী’ নাম,
যে নামে জীব, জগত, জীবন কারণের ধাম।
আমিই তো নামস্বরূপ তোর মধ্যে আছি।
ঐ নামের আলো জ্বালাও তোমার অন্ধকার বুকে।
যতবার নাম করবি ততবার আমি জীবন্ত হ’য়ে উঠবো তোর মধ্যে,
আর জীবন্ত হ’য়ে, আলো হ’য়ে, আলোর তেজে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে
শেষ ক’রে দেবো তোর শরীরের সব রোগজীবাণু,
তা’ সে যত ভয়ংকর হ’ক না কেন।
আমার তেজে সব ধ্বংস হ’য়ে যায়।
কেউ আমার তেজের সামনে দাঁড়াতে পারে না,
রোগজীবাণু সাথে হতাশা, অবসাদ সরে গিয়ে
অন্ধকার ভেদ ক’রে জ্বলে ওঠে 
আমার নামের তেজে বিচ্ছুরিত আলো।
সেই আলোয় উদ্ভাসিত হবে নোতুন ভোর, আর
নোতুন ভোরের আলোয় আলোকিত হবে তোর জীবন।
আর, তখন নোতুন জীবন নিয়ে ছুটে যাবি দিক থেকে দিগন্তে
সবাইকে বলবি, বুক ফাটো ফাটো ক'রে বলবি,
"মরো না, মেরো না, পার তো মৃত্যুকে অবলুপ্ত করো।''

Tuesday, March 31, 2026

কবিতাঃ কি করি!?

যেদিকে যাই চেয়ে দেখি তাই
স্বপনে গেল যা ব'লে আমায়।
কে যে গেল বলে আর কেনই বা গেল চলে
খোঁচা দিয়ে চোখে কিছু না ব'লে মুখে
রাতের আঁধারে ভরিয়ে সোহাগে আদরে
দেখিয়ে দিল দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি
যেন 'ঠ' সাজে সব পুরুষ নারী আনাড়ি
সে সাজে যেন আমি নিজেকে না সাজায়।
অবাক আমি! অবাক করলে তুমি!!
এখন কি করি!? নিজেকে কি বোঝায়!?
( লেখা ১লা এপ্রিল'২০২৪)

বিচিত্রাঃ ২৫৬

করোনা আক্রমণে দেশ যখন বিব্রত, দেশের সরকার ও প্রশাসন যখন দেশ জুড়ে করোনা মোকাবিলায় তাদের গৃহীত ব্যবস্থার কারণে তীব্র সমালোচিত ও নিন্দিত হচ্ছে অন্য মতবাদে বিশ্বাসী ভক্তদের কাছে তখন তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাস্য:আপনাদের মতবাদে, আপনাদের আদর্শে বিশ্বাসী ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত মহান মানুষের দ্বারা গৃহীত ও প্রয়োগিত ব্যবস্থা ত্রুটিমুক্ত ও মানবতাপূর্ণ!?
উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।

এখনও কি সৎসঙ্গীদের ঘুম ভেঙে সবরকম আলসেমী ঝেড়ে জেগে ওঠার সময় হয়নি!?
এখনও কি সৎসঙ্গীরা স্বচ্ছ দৃষ্টির অধিকারী হ'য়ে ত্রিনয়নকে জাগিয়ে তুলবে না!?
এখনও কি সৎসঙ্গীরা আংটি, পাথর, তাবিজ, মাদুলি, লাল সুতো-নীল সুতো-কালো সুতো, তুকতাক-ঝাড়ফুঁক ইত্যাদি নির্ভর সৎসঙ্গী হবে!?

হে সৎসঙ্গী ভাইবোন! মহাশক্তি ঘুমায় তোর হৃদয়ে তুই কেন রে মরার মত! রাধা নামে ধ্বনি দিয়ে শক্তিটাকে জাগিয়ে দে তোর!!

হে সৎসঙ্গী! মহাশক্তি ঘুমায় তোর হৃদয়ে তুই কেন রে মরার মত!? রাধা নামের ধ্বনি দিয়ে শক্তিটাকে জাগিয়ে দে তোর!
কারণ,
সৎসঙ্গী জাগলে দেশ জাগবে, দেশ জাগলে বিশ্ব বাঁচবে! আগামী পৃথিবী ডুবে যাবে ঘোর ঘুটঘুটে অন্ধকারে! সেদিন যারা থাকবে তাদের জন্য ভয়ঙ্কর হ'য়ে উঠবে সেদিনের অন্ধকার পৃথিবী! আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে মেনে নিতে হবে এই কঠিন নির্মম ধ্রুবসত্য!

করোনার আক্রমণে বিশ্বের তাবড় তাবড় দেশের শক্তিমান নেতা আজ অসহায়! কিন্তু আগামীতে যে দিন আসছে সেদিন কোনও শক্তিমান দেশের শক্তিমান নেতার বাপের ক্ষমতা হবে না, কোনও বাদের বাহাদুরী-ই খাটবে না বিশ্বকে বাঁচায়! বাঁচায় মানবজাতিকে! ইষ্টহীন যমের দালালের হাতে চলে যাবে গোটা বিশ্বের নেতৃত্ব! আর সেদিন মনুষ্যত্বের মূল বুনিয়াদটাই যাবে ধ্বংস হ'য়ে!
(লেখা ৩১শে মার্চ'২০২০)

উপলব্ধিই জ্ঞানের শেষ কথা। ঠাকুর ধরার সার্থকতা এইখানেই। নতুবা সবটাই কথার স্রোতে ভাসা। দিনের শেষে প্রাপ্তি O.
(লেখা ৩১শে মার্চ'২০২৪)।








Monday, March 30, 2026

বিচিত্রা" ২৫৫

শুধু ভুল ধরালেই বন্ধুদায়িত্ব শেষ হয় না;
ঠিকটা দেখিয়ে দিয়ে ভুলকে বলতে হবে ভুল এবার যা।
( লেখা ৩০শে মার্চ'২০১৮)

নেগেটিভ কথা, নেগেটিভ চিন্তা-ভাবনা, আলোচনা, লেখা 
সর্বোপরি নেগেটিভ সংগ শরীর ও মনকে বিষাক্ত ক'রে তোলে। সাবধান! এই সমস্ত বিষাক্ত ছোয়াছে রোগ থেকে নিজেকে দূরে রাখো।

ভাবছি বাঙালি কয় প্রকার?
১) হিন্দু বাঙালি, ২) মুসলিম বাঙালি, ৩) খ্রিস্টান বাঙালি ইত্যাদি নানা ধর্মের (?) বাঙালি। আবার ১) ঘটি বাঙালি ও ২) বাঙাল বাঙালি। নতুন প্রজাতির এক বাঙালির সন্ধান পাওয়া গেছে যা সুপ্তভাবে ফল্গুধারার মত ব'য়ে চলেছে বাঙালির মননে ও চিন্তনে! তা হ'লো বহিরাগত বাঙালি!

শয়তান ভগবানের চেয়েও দেখতে সুন্দর আর শয়তানের হাসি ভগবানের চেয়েও মিষ্টি আর কথা তার বড়ই মধুর মেয়েলী! সেই অলীক মোহিনি মায়ায় ফেসে জীবন ধ্বংস ক'রো না। সাবধান!
(লেখা ৩০শে মার্চ'২০২১)

যেমন চলছে চলুক; স্রোত যেদিকে বইছে বইতে দাও। স্রোতের বিপরীতে যেও না। গেলেই বই পড়ে বই হ'য়ে যাওয়া লোকেরাই তোমার বিরুদ্ধে যাবে।

আমি স্রোতের বিরুদ্ধে সাঁতার কাটবো নাকি স্রোতের অনুকূলে 
গা ভাসিয়ে দেবো? নাকি নিরাপদ দূরত্বে নিরপেক্ষ সেজে দাঁড়িয়ে থাকবো?

আমরা সৎসঙ্গীরা ঠাকুরের বাণীকে হাতিয়ার ক'রে নিয়ে 'আমার গায়ে আঁচ না লাগে ফুরিয়ে যাবে মামলা' মানসিকতায় চালাকির আশ্রয় নিয়েছি।

নিজেও কিছু করিনি অন্যকেও করতে দিইনি। বিচারের ভার আপন হাতে তুলে নিও না ব'লে ঘাই মেরে বিন্দাস গাছেরও খেয়েছি তলারও কুড়িয়েছি।

শ্রীশ্রীঠাকুরের দয়াল রূপ দেখে অনেকেই তাঁকে Taken for granted ক'রে নিয়েছে। তাঁর ভয়াল রূপ যে কি ভয়ংকর তা' তারা জানে না।
 লেখা ৩০শে মার্চ'২০২৪)


 

Thursday, March 26, 2026

উপলব্ধি।

 


বিচিত্রাঃ ২৫৪

 "৩০ শতাংশ মুসলিম ইচ্ছে করলে ভারতে চারটে পাকিস্তান বানাতে পারে।"

বুধবার নানুরের মিছিল থেকে হুমকি দিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ আলম!
তৃণমূলের মুসলিম ভাইবোন বন্ধুরা কি বলেন?

"৩০ শতাংশ মুসলিম ইচ্ছে করলে ভারতে চারটে পাকিস্তান বানাতে পারে।"
বুধবার নানুরের মিছিল থেকে হুমকি দিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ আলম!
শেখ আলমের মত লোকেরা কি সত্যি সত্যিই দলের সম্পদ নাকি মারণ বিষ!?

"৩০ শতাংশ মুসলিম ইচ্ছে করলে ভারতে চারটে পাকিস্তান বানাতে পারে।"
বুধবার নানুরের মিছিল থেকে হুমকি দিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ আলম!
এরাই কি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের মূল পান্ডা নয়?
তৃণমূলের মুসলিম ভাইবোন বন্ধুরা কি বলেন?

"৩০ শতাংশ মুসলিম ইচ্ছে করলে ভারতে চারটে পাকিস্তান বানাতে পারে।"
বুধবার নানুরের মিছিল থেকে হুমকি দিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ আলম!
পাকিস্তান কেন!? আরও একটা বাংলাদেশ কেন নয়!?

৩০ শতাংশ মুসলিম ইচ্ছে করলে ভারতে চারটে পাকিস্তান বানাতে পারে।"
বুধবার নানুরের মিছিল থেকে হুমকি দিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ আলম!
তৃণমূলের স্লোগান জয় বাংলা!
তাহ'লে পাকিস্তান কেন!?

"৩০ শতাংশ মুসলিম ইচ্ছে করলে ভারতে চারটে পাকিস্তান বানাতে পারে।"
বুধবার নানুরের মিছিল থেকে হুমকি দিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ আলম!
এই ধরণের বক্তব্য মুসলমানদের জন্য কি মংগলজনক!?

"৩০ শতাংশ মুসলিম ইচ্ছে করলে ভারতে চারটে পাকিস্তান বানাতে পারে।"
বুধবার নানুরের মিছিল থেকে হুমকি দিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ আলম!
বাংলার কম্যুনিস্ট পার্টি কি বলে?

"৩০ শতাংশ মুসলিম ইচ্ছে করলে ভারতে চারটে পাকিস্তান বানাতে পারে।"
বুধবার নানুরের মিছিল থেকে হুমকি দিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ আলম!
জাতীয় কংগ্রেস কি বলেন?

"৩০ শতাংশ মুসলিম ইচ্ছে করলে ভারতে চারটে পাকিস্তান বানাতে পারে।"
বুধবার নানুরের মিছিল থেকে হুমকি দিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ আলম!
তৃণমূলের অন্য মুসলিম নেতারা কি শেখ আলমকে সমর্থন করেন?

"৩০ শতাংশ মুসলিম ইচ্ছে করলে ভারতে চারটে পাকিস্তান বানাতে পারে।"
বুধবার নানুরের মিছিল থেকে হুমকি দিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ আলম!
বাংলার বুদ্ধিজীবীরা কি বলেন!?

 "৩০ শতাংশ মুসলিম ইচ্ছে করলে ভারতে চারটে পাকিস্তান বানাতে পারে।"
বুধবার নানুরের মিছিল থেকে হুমকি দিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ আলম!
শেখ আলম কি ভারতীয় নাকি ভারত ভাগের পাকিস্তানি চর!?

"৩০ শতাংশ মুসলিম ইচ্ছে করলে ভারতে চারটে পাকিস্তান বানাতে পারে।"
বুধবার নানুরের মিছিল থেকে হুমকি দিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ আলম!
রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার কি বলেন!?
( লেখা ২৬শে মার্চ'২০২১)

























বিচিত্রাঃ ২৫৩

গরীবদের জন্য প্রাণ কাঁদা মানুষদের কাছে জিজ্ঞাস্য: 
সাহায্য সত্যি সত্যি প্রান্তিক গরিব মানুষদের কাছে পৌঁছবে? 
মাঝখানে বাঁ হাতের মাদারী খেল হবে না তো? 
সরকার গ্যারান্টি দিতে পারবে? 
মাদারী খেল খেলা খেলোয়াড়দের মায়ের ভোগের খাদ্য ক'রে পাঠাতে পারবে তো?

ইষ্টভৃতি ও নামধ্যান পরায়ণ সক্রিয় সৎসঙ্গীদের করোনা ভাইরাসের আক্রমণে কোনও ভয় নেই! সৎসঙ্গী ভাইবোন নিশ্চিন্ত থাকো। গ্যারান্টি। সময় প্রমাণ করবে।

ইষ্টভৃতি ও নামধ্যান পরায়ণ সক্রিয় সৎসঙ্গীদের করোনা ভাইরাসের আক্রমণে কোনও ভয় নেই! সৎসঙ্গী ভাইবোন নিশ্চিন্ত থাকো। গ্যারান্টি। সময় প্রমাণ করবে।

হে ঈশ্বর! কেন হয় না এমন সবসময়!?
মৃত্যুভয়-ই কি মানুষকে মানবতাবাদী ক'রে তোলার একমাত্র সমাধান!? মৃত্যুভয়-ই কি সরকার, প্রশাসন ও নাগরিককে সদাচারী ও শৃঙ্খলিত ক'রে তোলে!?

হে ঈশ্বর! এমন কেন হয়না সবসময়!?
মৃত্যুভয়-ই কি অহংকারী, ক্ষমতাধর, ধনী ইত্যাদি সমস্যা ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের জন্য বিধি ও বিধাতার কাছে আত্মসমর্পণের এক ও একমাত্র বিধান!?

হে ঈশ্বর! কেন হয় না এমন সবসময়!?
শয়তানের শয়তানী কখন বন্ধ হয়!?
মৃত্যুভয়!?
মৃত্যুভয়-ই কি শয়তানের শয়তানী বুদ্ধি ও ক্রিয়াকলাপ বন্ধের এক ও একমাত্র খতমের হাতিয়ার!?

হে ঈশ্বর! কেন হয় না এমন সবসময়!?
মৃত্যুভয়! মৃত্যুভয়! মৃত্যুভয়!
মানবজাতির মাথার উপর মৃত্যুভয়ের মেঘ করোনার মত সবসময় ভেসে বেড়ানো-ই কি সুখ-শান্তির একমাত্র উপায়!

হে ঈশ্বর! কেন হয় না এমন সবসময়!?
মৃত্যুভয়ের মহামারী কি অহংকারী ধনীদের মানব দরদী ক'রে তোলে!? দয়ার গুফার জানালা-দরজা খুলে যায়!? বাঁধ ভাঙা বন্যার মত দানের বন্যা ব'য়ে যায়!?

পৃথিবী জুড়ে কোটি কোটি সৎসঙ্গীদের কাছে আবেদন:
আসুন সবাই এই করোনা মহাসঙ্কটের সময় দয়ালের কাছে প্রার্থনা করি:
হে দয়াল! তুমি ছাড়া কেউ নেই আমাদের বাঁচায়! তুমি ভয়াল হ'য়ে করোনার ভয়ঙ্কর থাবা থেকে আমাদের সবাইকে বাঁচাও! তোমার রুদ্ররোষের কাছে করোনা জ্বলে পুড়ে খাক হ'য়ে যাক দয়াল!
( লেখা ২৬শে মার্চ' ২০২০)


Saturday, March 21, 2026

উপলব্ধিঃ না বোঝার ফল।

দই তো কপালে জোটেনি তাই দইয়ের সাধ ঘোলে মিটিয়ে আনন্দ নিতে চেয়েছি।

"মন্দিরের আশেপাশে কুৎসিত লোকের আনাগোনা বেশি সাবধানে থেকো তা থেকে।"

সাবধান থাকিনি। মন্দিরের আশেপাশের সবাইকে সুন্দর মনের ভেবেছি আর ঠকে গেছি ভয়ংকর ভাবে।

"ছোটোকে বড় করো, বড়কে আরো বড় করো, দেখবে কবে কবে তুমি নিজের অজান্তে বড় হ'য়ে গেছো।"

ছোটোকে হাতে ধ'রে বড় করেছি, বড়কে করেছি আরও বড়; কিন্তু দিনশেষে নিজে ছোটো হয়ে গেছি। ছোটো বড় হ'য়ে এবং বড় আরও বড় হ'য়ে মেরী বিল্লি মুঝে ম্যাও ক'রে মাথার ওপর চড়ে ব'সে আমাকে লাথি মেরে পিছনে ঠেলে দিয়েছে আর পাতালে ঢুকিয়ে দিতে চেয়েছে প্রতিমুহুর্তে।

"মানুষ আপন টাকা পর যত পারিস মানুষ ধর।"

মানুষকে আপন ক'রে নিতে টাকা ফেলে মানুষের পিছনে ছুটেছি, কিন্তু মানুষ মেওয়া খেয়ে ছিবড়ে ক'রে ফেলে দিয়ে চলে গিয়েছে একলা ক'রে দিয়ে।

এরকম অনেক বাণী আছে যার সঠিক অর্থ বুঝিনি।
( লেখা ২২শে মার্চ'২০২৫)।

বিচিত্রাঃ ২৫২

তুমি আছো সব আছে। তুমি নেই কিচছু নেই। 
ব্রহ্ম সত্য জগত সত্য। ব্রহ্ম নেই জগৎ নেই। 
অর্থাৎ তুমি সত্য জগত সত্য। তুমি নেই জগত নেই।

পিতামাতা ছাড়া সন্তান অসম্ভব। 
ঠিক তেমনি ইশ্বর ছাড়া সৃষ্টি অসম্ভব। 
পিতামাতার অস্তিত্ব বাস্তব, 
তেমনি ইশ্বরের অস্তিত্বও বাস্তব।

শ্রীশ্রীঅবিনদাদা সূর্যকে বগলদাবা ক'রে কর্মসমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছেন। সৎসঙ্গী তোমরাও সূর্যকে বগলদাবা ক'রে তাঁর সঙ্গে ঝাঁপ দাও।
(লেখা ২২শে মার্চ'২০২৪)।













বিচিত্রাঃ ২৫১

কারো সাহায্য ছাড়া কিছু করা কঠিন, 
শারিরিক-মানসিক কষ্টের, যন্ত্রণার 
এ কথা সত্য কিন্তু কোনও কিছুই অসম্ভব নয়।

ইষ্টকাজে কাউকে বাধা দিয়ে 
আটকে রাখা যায় কিছুদিন 
কিন্তু চিরদিন নয়। 
কিন্তু চিরদিনের জন্য ইষ্টের কাছে 
তুমি হ'য়ে গেলে অপরাধী।
( লেখা ২১শে মার্চ'২০২১)

দয়াল তোমায় আমি ভালোবাসি। 
এ জীবন দিলাম তোমায়।
তুমি যা বলবে তাই করবো আমি।
( লেখা ২১শে মার্চ'২০২৪)























বিচিত্রাঃ ২৫০

সৎসঙ্গীদের প্রতি: (১)
ভয় কি তোর ভাইরাসে করোনার!
করোনা নামক দৈত্যটিকে নাম আগুনে জ্বালিয়ে মার, পুড়িয়ে মার।

সৎসঙ্গীদের প্রতি: (২)
মহাশক্তি ঘুমায় তোর হৃদয়ে তুই কেনরে ভয়ে মরিস! 
করোনা নামক মৃত্যুদূতে নাম আগুনে পুড়িয়ে মারিস।

সৎসঙ্গীদের প্রতি:(৩)
রাস্বা নামে জয়গুরু ব'লে দে না ঝাঁপ!
করোনার মরণ দুয়ারে পড়বে ঝাঁপ!!

সৎসঙ্গীদের প্রতি: (৪)
যে যা বলে বলুক, যে যা করে করুক!
তার সাথে বুকের মাঝে আছে যে নাম, 
মহানাম সেই নামের তাপে করোনা পুড়ে মরুক!!

সৎসঙ্গীদের প্রতি: (৫)
করোনার ঔষধ সদাচার আর মহৌষধ তাঁর বীজনাম! 
নামামৃতে করো করোনা ভাইরাসকে খানখান!

সৎসঙ্গীদের প্রতি:(৬)
নাম করো, নাম করো, নাম করো ভাই!
নাম আগুনে করোনা ভাইরাস হবে পুড়ে ছাই!!

সৎসঙ্গীদের প্রতি: (৭)
দিয়েছিলে কথা হ'য়োনা কথার খেলাপি;
করোনা ভীতি শুধু নয়, 
নাম থেরাপিতে কাটবে মহাভীতি, যমভীতি! 
নিঃশ্বাসে-প্রশ্বাসে করো নাম, গাও নাম, করো নাম আবৃত্তি!

সৎসঙ্গীদের প্রতি:(৮)
করোনা-য় ক'রো না ভয়, হ'য়ো না আত্মঘাতী!
দয়ালের নাম অমৃত করো পান কাটবে অকাল যমভীতি!!

সৎসঙ্গীদের প্রতি: (৯)
করোনা নিয়ে ক'রো না হেলাফেলা, ক'রো না অবহেলা; 
করোনার চ্যালেঞ্জ জেনো মন্ত্র 'ক'রো না' আর 
বীজনাম মহানাম নহেলে পে দহেলা!

সৎসঙ্গীদের প্রতি: (১০)
চীন থেকে এলো ভারতে মৃত্যুদূত করোনা আর 
চীনের প্রতি ভারতের আছে করুণা! 
কারণ পরম করুণাময় পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দেশ ভারত! 
তাই তাঁর কাছে আসুন প্রার্থনা করি তাঁর সৎনামে বাঁচুক জগৎ!
( লেখা ২১শে মার্চ'২০২০)

সৎসঙ্গীদের প্রতি:(১১)
সৎসঙ্গীদের করোনা থেকে নেই কোনও ভয় নিশ্চয়ই। 
কপটতা ক'রে ত্যাগ অকপট হৃদয়ে করো নাম জপ; 
মাথার উপর আছেন দয়াল, আছে দয়ালের হস্ত অভয়!

সৎসঙ্গীদের প্রতি:(১২)
নিষ্ঠা সহ অকপট হৃদয়ে 
প্রত্যহ অতি প্রত্যুষে করো ইষ্টভৃতি 
আর জপ নাম অবিরাম!
করোনার ভয় থেকে পাবে মুক্তি,
পাবে নিশ্চিত আরাম!!
( লেখা ২২শে মার্চ'২০২০)











Tuesday, March 17, 2026

বিচিত্রা" ২৪৯

টি ভি খুললেই চ্যানেলে চ্যানেলে বিশেষজ্ঞের দল!
বসে পড়ে দল বেঁধে করতে কোলাহল!!

কে আগে কত বলিবে কথা বিশেষজ্ঞ মাঝে চলে তার প্রতিযোগিতা!
বোকা বাক্সে বুঁদ হ'য়ে বসে জনতা, দেখে কার কত ক্ষমতা!!

সব বিষয়ে পারদর্শী টিভি মাঝে বিশেষজ্ঞের দল!
সর্ব ঘটে কাঁটালি কলা করে কোলাহল!!

কাউকে কিছু বলতে যেও না, সবাই স্বাধীন।
নিজের দিকে চেয়ে দেখো প্রকাশ তুমি কতটা পরাধীন!?

বৃত্তির অধীন তুমি পড়াচ্ছো মানবতার পাঠ!
জীবন জুড়ে চলছে বিকিকিনি, বসেছে রিপুর হাট!!

যদি সত্যি সত্যিই অনুভব ক'রে থাকো ঈশ্বরের অস্তিত্ব
আর, ঈশ্বরের সাথে কপট ভক্তের বেঈমানি ও অকৃত্জ্ঞতা
দেখে ভেঙে যায় হৃদয় তোমার তবুও ঐ হৃদয় নিয়ে 
জোয়াল টেনে চলো আমৃত্যু তাঁর মিশন রথের,
নিয়ে অকপট হৃদয়।
( লেখা ১৭ই মার্চ' ২০১৮)

ঠাকুরকে তোমার ইচ্ছাপূরণের যন্ত্র মনে করিও না! 
নচেৎ দুর্দশার অন্ত থাকবে না।

ঠাকুরের ইচ্ছাপূরণের যন্ত্র তুমি হও,
তোমার ইচ্ছা পূরণ হবে।

তোমার ইচ্ছাটা তোমার জন্য মঙ্গল কি অমঙ্গল তুমি জানো না, 
ঠাকুর জানেন তাই ঠাকুরের ইচ্ছাপূরণে যত্নবান হও 
তোমার ইচ্ছা পূরণ হবেই হবে।

মনে রেখো তোমার ইচ্ছাপূরণের জন্য তিনি এই ধরণীতে আসেননি; 
তাঁর ইচ্ছাপূরণের সাথী হও তোমার বৈধ ইচ্ছা পূরণ হবেই।

ঠাকুরও আছে আবার হাতে আংটি আছে, মাদুলি আছে, আছে লাল-নীল-কালো সুতো;
কোমরে পাথর আছে, আছে শেকড়-কাঠির জঙ্গল! কে করবে মঙ্গল!?

ঠাকুর ধরেই ভেবেছো তুমি যা ভুল করছো বা ভুল ক'রে রেখেছো 
তা' থেকে মুক্তি পাবে?

আগে সঁপে দাও তাঁর চরণে স্বার্থহীন, ধান্দাহীন অকপট জীবন
তারপর দেখো কি হয়!
( লেখা ১৭ই মার্চ' ২০১৯)

হে ঈশ্বর! তোমায় নিয়ে খিল্লি আজ ঔদ্ধত্বের শেষ সীমায়! 
তোমার সৃষ্টি মানুষ ধ্বংস করার আগে তুমি নিজে শেষ ক'রে দাও তোমার সৃষ্টি।

হে ঈশ্বর! অবিশ্বাসী নাস্তিককে তুমি ক্ষমা করো, ভালোবাসো জানি 
কিন্তু ভন্ড কপট বিশ্বাসী ভক্তকে কি ক্ষমা করো? ভালোবাসো?

বাংলার রাজনীতিতে শিক্ষিত মানুষ আসুক। 
শিক্ষিত মানে শিক্ষিত, লেখাপড়াজানাওয়ালা মানুষ নয়।

বাংলা জাগলে ভারত জাগবে, ভারত জাগলে বিশ্ব জাগবে 
তাই বাংলার মসনদে শিক্ষিত ভদ্র সংস্কৃতি মনস্ক মানুষ আসুক।

বাংলা আছে "বাংলা আজ যা ভাবে কাল ভাবে তা গোটা ভারত" সেই বাংলাতেই! 
গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হ'য়ে আছে এই যা। ভাঙ্গার প্রহর গুনছি।

বাহ!!! নতুন পার্টির জন্ম!
'ভূমি পুত্র অধিকার পার্টি''!
স্বাগতম নতুন পার্টি!! স্বাগতম!!!

বাংলার রাজনীতিতে বাবা-মাকে দেবতা জ্ঞানে পুজো করেন 
এমন মানুষরা আসুন ও নির্বাচিত হ'ক।

বাংলার রাজনীতিতে ভারতবর্ষের কৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধাশীল 
এমন মানুষ আসুক ও নির্বাচিত হ'ক।

'সব মানুষের কল্যান হ'ক, সবাই সুখে থাক' 
এমন পবিত্র মানসিকতায় সমৃদ্ধ মানুষ 
বাংলার রাজনীতির ময়দানে আসুক ও নির্বাচিত হ'ক।
( লেখা ১৭ই মার্চ' ২০২১)