Powered By Blogger

Monday, February 2, 2026

গানঃ প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র।

প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল হরি ওম।
প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল নারায়ণ।
প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল হরি ওম।
প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল নারায়ণ।

অনুকুল প্রভু অবতারি
অকুল দরিয়ার কান্ডারী
প্রেম ডোরে মন, চরণে রাখি
প্রেমী অনুকূল স্বামীর।
এসো রে, গাও রে, অনুকূল কে প্যারে
এসো রে, গাও রে, মেরে সৎসঙ্গী প্যারে
এসো রে, নাচো রে, আনন্দ করো রে।
গাও রে, নাচো রে, আনন্দ করো রে।

প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল হরি ওম।
প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল নারায়ণ।
প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল হরি ওম।
প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল নারায়ণ।

হে মোর অনুকূল প্যারী
রাঙা চরণ তোমারি
বুকে ধ'রে নাম জপি অবিরাম
দয়াল রাধা স্বামী।
এসো রে, গাও রে, অনুকূল কে প্যারে
এসো রে, গাও রে, মেরে সৎসঙ্গী প্যারে
এসো রে, নাচো রে, আনন্দ করো রে।
গাও রে, নাচো রে, আনন্দ করো রে।

প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল হরি ওম।
প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল নারায়ণ।
প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল হরি ওম।
প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল নারায়ণ।

( লেখা ১৩ই জানুয়ারী'২০২৬)
( 'হরি সুন্দর নন্দ মুকুন্দ' গানের সুরে)

Sunday, February 1, 2026

শয়তানের ভয়ংকর বিষাক্ত ছোবল বনাম দয়ালের অজচ্ছল দয়া।

ডায়মন্ড হারবার রোডে অন্ধকার ফাঁকা রাস্তায় রাত ১২টায় আচমকা প্রচন্ড দ্রুতগতিতে ওভারলোডেড ট্রাকের পিছন থেকে পাশ দিয়ে যাবার সময় সংঘর্ষে ক্ষতবিক্ষত XL6 গাড়ির অবস্থা ছবিতে দৃশ্যমান। গাড়ীতে আরোহী ছিল শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দীক্ষিত ১ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। 
শ্রীশিবাশীষ চ্যাটার্জী ও শ্রীমতি প্রজ্ঞা চ্যাটার্জী ( সাইকো-স্পিরিচুয়াল হিলার) এবং শ্রীমতি সোনাই ঢালি ( শ্রীশ্রীঠাকুরের সক্রিয় একনিষ্ঠ কর্মী)। 
অন্ধকার রাতে শয়তানের ভয়ংকর অতর্কিত ছোবলে গাড়ি ধ্বংস হ'লেও দয়াল ঠাকুরের অপার দয়ায় গাড়ির তিনজন আরোহীর শরীরে বিন্দুমাত্র আঁচড় লাগেনি, ওভারলোডেড ট্রাকের ধাক্কায় অলৌকিক রহস্যজনকভাবে রাস্তার পাশে খাদে গড়িয়ে পড়ে যায়নি আরোহী সহ গাড়ি। ঘটনার সময়কাল ২রা ডিসেম্বর'২০২৩, রাত ১২.৩০মিঃ। দয়ালের দয়ায় তাঁরা পুরোপুরি সুরক্ষিত ছিল। আর, এই ঘটনার দু-মাস পরে সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত গাড়ির বর্তমান রূপও ছবিতে দৃশ্যমান। পাশাপাশি দু'টো গাড়ির ছবি দেওয়া হয়েছে। শ্রীশ্রীঠাকুরের দয়ায় গাড়ি আবার স্বমহিমায় অবতীর্ণ। আজও রহস্যময় ঘটনা ঘটে যার কোনও ব্যাখ্যা নেই।

এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল দয়াল ঠাকুর শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের প্রিয় কোটেশান, " There are many things in heaven and earth, Horatio, than are dreamt of in your philosophy." (যার ভাবার্থ হ'লো স্বর্গ ও পৃথিবীর মাঝখানে আরও বহু জিনিস আছে, হোরাশিও, যা তোমার দর্শনের পাল্লার বাইরে ও স্বপ্নের অতীত।")

শ্রীশ্রীঠাকুর মাঝেমাঝেই নাট্যকার, সাহিত্যিক শেক্সপিয়ারের 'হ্যামলেট' নাটকের এই সংলাপ আপনমনে আউড়াতেন।

গাড়ির ধংসাত্মক রুপ ও দয়ালের দয়ায় পুনরায় ফিরে পাওয়া গাড়ির নোতুন রূপের সঙ্গে দয়াল ঠাকুরের অপার দয়ায় পুনরায় নোতুন জীবন ফিরে পাওয়া, শ্রীশ্রীঠাকুরের আশীর্বাদ প্রাপ্ত তিন সৎসঙ্গীর ছবি ( শ্রী শিবাশীষ চ্যাটার্জী ও প্রজ্ঞা চ্যাটার্জী; সোনাই ঢালি) সব এখানে সংযুক্ত করা হ'লো।


বাল্মিকি রামায়ণ ও বালখিল্য রামায়ণ।

সীতা নাকি জনক কন্যা নন, রাবণ কন্যা। নিজের ভাইয়ের বৌ রম্ভার সঙ্গে বলপূর্বক মিলনের ফসল সীতা। আবার পূর্বজন্মে সীতা নাকি বেদবতী নামক ঋষিকন্যা ছিলেন। রাবণ তাঁকে ধর্ষণ করতে চাইলে সীতা যজ্ঞের আগুনে প্রাণত্যাগ করেন এবং অভিশাপ দেন রাবণকে পরের জন্মে তাঁর কন্যা হ'য়ে জন্মগ্রহণ করবেন এবং মৃত্যুর কারণ হবেন। পরের জন্মে সীতা জন্ম নিলে স্বামীর প্রাণ সংশয়ের কারণে মাতা মন্দোদরী ভয়ে সমুদ্রে সীতাকে ভাসিয়ে দেন এবং ধরিত্রী মাকে দান করেন। জনক রাজা সীতাকে পান এবং পালন করেন। বিভিন্ন রামায়ণে সীতাকে বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়।
বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টির সৃষ্টিকর্তা পুরুষোত্তম পরমপিতা শ্রীশ্রীরামচন্দ্রের ঘরণী মা লক্ষ্মী সীতার এমন অদ্ভুত অদ্ভুত কাহিনী হিন্দুধর্মের ধর্মগ্রন্থে।
এইজন্যেই বোধহয় আজ হিন্দু ধর্মের এই করুণ অবস্থা। তাই বলা হয় বাল্মিকি রামায়ণ বাদে বাকীগুলি বালখিল্য রামায়ণ। 
( লেখা ২রা ফেব্রুয়ারী'২০২৫)।



Friday, January 30, 2026

বিচিত্রাঃ ২৩৬

ঈশ্বর তুমি থাকো আমার মনে, হৃদয়ে, আমার প্রাণে;
ঈশ্বর তুমি থাকো আমার শয়নে-স্বপনে-জাগরণে।
ঈশ্বর তুমি আমায় রাখো তোমার নয়নে নয়নে;
ঈশ্বর তুমি আমায় রাখো তোমার রাতুল চরণে।-

জয় নিতাই! জয় নিতাই! বলছো হাজারবার!!
নিমাইয়ের নামে ধ্বনি দিচ্ছ কতবার!?
নিতাই যদি হয় মহাপ্রভু প্রভু তবে কি নিমাই!?
নিতাইয়ের নামে নিমাইয়ের পরিচিতি নাকি
নিমাইয়ের নামে নিতাই!?
জয় নিমাই! জয় নিমাই! আগে বলো সবাই।-
(৩১শে জানুয়ারী'২০১৯)




ইষ্ট তোমার আয়ের উপকরণ!
আর অন্যের সুখ শান্তি করছো অপহরণ!!
এর পরেও বলছো তুমি ধ'রে আছো ইষ্টের চরণ!?
ধার তুমি ধারো না তাঁর চলন!
তাই বৃত্তি স্বার্থে বুঁদ হ'য়ে শেষে
মরণকেই করছো তুমি বরণ!!

ঠাকুর মানো আর কাউকে মানো না;
চরণ জানো তাঁর চলন জানো না।
তাঁর চরণ পূজায় মগ্ন হ'য়ে করো
তাঁর সাথে অন্তহীন ছলনা!
তাই ঠাকুর ছাড়া ঠাকুর আত্মজও মানো না!!

তুমি না গুরুভাই, ইষ্টের পূজারী! 
তবে কেন বাধা দাও ইষ্টকাজে হ'য়ে আনাড়ি!? 
ইষ্ট ছেড়ে অনিষ্টের সাথে করলে ভাব, 
জেনো ইষ্টের সাথে হয় আড়ি!

ইষ্ট তোমার আছেন চেয়ে তোমার মুখের পানে, 
অহরহ বলছে কানে কানে- শুনতে কি তুমি পাও?
বৃত্তি স্বার্থের ধান্দায় কেন মগ্ন হ'য়ে ধাও?







মানুষকে আমরা করছি বিভ্রান্ত?
নাকি কেন্দ্র বিরোধিতার বীজ ক'রে বপন
নিজেরাই নিজেদের করছো সর্বস্বান্ত!?

বুঝলে গুরুভাই!
বাবাইদাদা যার সাথী
হাজার বল তার হাতির!!
ঠাকুর মাথায় নিয়ে সে জ্বালবে, 
জ্বলবে যেন ঝাড়বাতি!!
( লেখা ২রা ফেব্রুয়ারী'২০১৮)

চারিদিকে উড়ছে হাজারো ফানুস, মিথ্যের ফানুস
আকাশে বাতাসে উড়ছে, ওড়াচ্ছে মানুষ!

তুমি আছো আমি নেই আর আমি আছি তুমি নেই
মাঝে মাঝে ভাবি যদি এমন হয় কখনও! ভেসে যাবো
কোন সুদূরে কুল হীন মহাসাগরে হারিয়ে জীবনের খেই!!
( লেখা ২রা ফেব্রুয়ারী'২০১৯)।








































Wednesday, January 28, 2026

প্রসংগঃ গ্রহদোষ ও শ্রীশ্রীঠাকুর। ( পরবর্তী পর্ব ৩)

এমনিভাবেই আস্তে আস্তে পথে যেতে যেতে পরতে পরতে মনের কথা খুলে বলতে লাগলো। একমনে কথাগুলি শুনতে শুনতে পথ চলছিলাম। একটু আগে যে মানুষটার মধ্যে কথা বলার ইচ্ছে, আগ্রহ, উৎসাহ, শক্তি কিছুই ছিল না, যেন জ্যান্ত একটা শব পথ দিয়ে চলছিল। সেই মানুষটা ঠিক-বেঠিক, যৌক্তিক-অযৌক্তিক অনেক কথার স্রোতে নিজেকে উজাড় ক'রে দিতে লাগলো। সব মন দিয়ে ধৈর্য সহকারে শুনলাম। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কথাও ফুটে উঠলো কথার মাঝে। আক্ষেপ ঝ'রে পড়লো সত্তোরোর্ধ বয়স হওয়া সত্ত্বেও আজও বাধ্যর্ক্য ভাতা না-পাওয়ায়। বাধর্ক্য ভাতা নাকি সরকার দেয় না, দেয় নেতার হাতা, হাতার চামচা, চামচার বেলচা। বেলচাকে খুশী করতে না পারলে নাকি বাধর্ক্য ভাতার ফর্ম টেবিলের তলা দিয়ে ময়লার ঝুড়িতে চলে যাবে। এই বয়সে চারবার ফর্ম ফিল আপ করেছে তবুও হয়নি। বেলচা, চামচা, হাতা ছাড়িয়ে নেতার কাছে পৌঁছনোর চেয়ে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছে যাওয়া নাকি অনেক সহজ। আর এ বাস্তব, এ নির্ম্মম অপ্রিয় সত্য। যারা বোকা, হাবা, চালাকি করতে পারে না, সরল, বেকুব, লজ্জাশীল, মুখচোরা তা' সে যে দল করুক আর না করুক ক্ষমতাসীন নেতা বা নেতার হাতা, চামচা, বেলচাদের খুশী করতে না পারলে তোমার ভাগ্যের বা লক্ষীর ভাঁড়ার শূন্য, ফাঁকা থেকেই যাবে আমৃত্যু। কেউ এগিয়ে এসে তোমাকে সাহায্য করবে না। কিন্তু তোমার থেকে সাহায্য নেবে চুটিয়ে নিংড়ে নির্লজ্জভাবে। কিন্তু তোমার সাহায্য নিয়ে পাড়ে উঠে এসেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে বিরোধিতা যে করেছে, চরম শত্রুতা যে করেছে, যে ধাক্কা মেরে ফেলে দিতে চেয়েছে নীচে তার দিকে। আমে দুধে মিলে যাবে তুমি আঁটি হ'য়ে পড়ে থাকবে যেখানে ছিলে সেখানেই কিংবা তার মনের মত না চললে লাথি মেরে ফেলে দেবে আরও নীচে, জড়িয়ে সমস্যার গভীরে বেড়াজালে।

সমস্ত গ্রহের বিগ্রহ হ'লো বৃহস্পতি। কারণ বৃহস্পতি হ'লো সবচেয়ে বড় ও বিশাল গ্রহ। আর বৃহস্পতিকে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে তুলনা করা হয়। তাই বলা হয়, যস্য কেন্দ্রে বৃহস্পতি কিং কুর্বন্তি গ্রহা। যার কেন্দ্রে বৃহস্পতি তাঁকে কি করতে পারে গ্রহেরা? সহজ সরল উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে, এলাকার দাদার যে আস্থাভাজন তার কি করতে পারে গলির ছুটকো মস্তান। 

ঠিক তেমনি সমস্ত জীব জগতের সৃষ্টিকর্তা হ'লো নবরূপে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র। তাই ঠাকুর যার জীবনে মনে প্রাণে শয়নে, স্বপনে, জাগরণে, অবগাহনে, ভোজনে সর্ব্বক্ষণে ভোর শুর হওয়া থেকে শুরু পরদিন ভোর হওয়া পর্যন্ত তার আবার কিসের গ্রহদোষ? গ্রহদোষ বলে কিছু নেই ও কিছু হয় না। সৎসঙ্গীদের এত দুর্বল হ'লে চলে না, হ'তে নেই। গ্রহদোষ মানে গ্রহণ দোষ। আপনি ভালো কিছু গ্রহণ করলে সেটা গ্রহগুণ আর খারাপ কিছু গ্রহণ করলে গ্রহদোষ। গ্রহদোষ কাটাবার জন্য সৎসঙ্গ দেওয়া মানে ঠাকুরকে আপনার নিজের জন্য ভাঙ্গানো। ঠাকুরকে নিজের জন্য ভাঙ্গাবেন না। ঠাকুরের জন্য নিজেকে ভাঙ্গান। সৎসঙ্গ দেবেন ঠাকুরকে মানুষের জীবনে জীবনে ঢুকিয়ে দেবার জন্য। 

তাই, গ্রহদোষ বলে আজেবাজে জিনিসে কুসংস্কারাচ্ছন্ন হ'য়ে পড়া অন্তত সৎসঙ্গীদের মানায় না। সৎসঙ্গীদের এমন দুর্বল মানসিকতার জন্য ঠাকুর ব্যথা পান। তাই, কোন গ্রহদোষ ব'লে কিছু নেই। যদি কিছু থেকে থাকে তা হ'লো আপনার দোষ। আপনার দোষকে চিহ্নিত করুন এবং সেই দোষকে জীবন থেকে বের ক'রে দিন।

পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, "তুমি ঠিক ঠিক জেনো যে, তুমি তোমার, তোমার পরিবারের, 
দশের এবং দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য দায়ী।"
জয়গুরু।
( লেখা ২৮শে জানুয়ারী'২০২৫)।

প্রসংগঃ গ্রহদোষ ও শ্রীশ্রীঠাকুর। (পর্ব ২)

পরবর্তী অংশ।

আমার মুখে সৎসঙ্গে না আসার কারণ বাড়ির সমস্যা কিনা বা গুরুভাইদের সমস্যা কিনা এই প্রশ্ন শুনে পথ চলতি দেখা হওয়া গুরুভাই একটু ইতস্তত ক'রে বললো,
'বাড়ির সমস্যা যে নেই তা নয়, তাছাড়া গুরুভাইবোনেদের মধ্যে পারস্পরিক বিদ্ধ্বেষ সব মিলিয়ে আর সৎসঙ্গে যেতে ইচ্ছে করে না।'

আমি জিজ্ঞেস করলাম, দু'টো সমস্যাই গুরুতর তাহ'লে, তাই তো?

না, ঠিক তা নয়, ব'লে একটু থেমে কি ভেবে যেন বললেন, তবে আবার ঠিক তাই। আসলে কি জানেন মানে ইদানীং সব যেন এলোমেল হ'য়ে যাচ্ছে। যাই-ই ভাবছি, যাই-ই করছি সব কেমন যেন দিনের শেষে এসে দেখছি ভুল হ'য়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন গ্রহদোষে গোটা পরিবার---- বলেই শামুকের মতো আবার গুটিয়ে নিলো নিজেকে নিজের মধ্যে।

পথ চলতে চলতে ভাবলাম, একটা মানুষ পেঁয়াজের খোসা খোলার মতো নিজেকে খুলছে আবার থেমে যাচ্ছে। আবার কখনো যেটাকে বেঠিক বলছে সেটাকেই আবার সঠিক বলছে। এই যে দ্বৈত সত্ত্বার প্রকাশ এই চাক্কি পিষিং এন্ড পুষিং-এর মত দ্বৈত সত্ত্বার মধ্যে পিষ্ট হচ্ছে। বুঝলাম কোনোটারই প্রকাশ সঠিকভাবে হবে না। একে একে ধৈর্য সহকারে সময় নিয়ে শুনতে হবে, তাকে স্পেস দিতে হবে যাতে খুলে বলে সবটা। সহজে মানুষ নিজেকে খুলতে চায় না। কিন্তু একটু ডাক্তারের পালস মাপার মত বিশ্বস্ততার সঙ্গে ঠিক জায়গায় মসৃণ মোলায়েম চাপ দিলে অনন্ত জলরাশীর মতো খুলে যায় বন্ধ মুখ।

তাই তাকে আশ্বস্ত ক'রে বললাম, আপনার মনের অবস্থা ও আপনি যা বলতে চাইছেন তা' বুঝতে পারছি। আপনার বলার মধ্যে অস্বাভাবিকতা বা কোনও ভুল নেই। আপনি যদি খুলে বলেন নিশ্চয়ই আমি শুনবো তবে তার আগে বলুন, আপনি সৎসঙ্গে কেন আসেন না? আগে তো আসতেন।

উত্তরে তিনি বিরক্ত হ'য়ে বললেন,
'ভালো লাগে না। সৎসঙ্গে যেতে আকর্ষণ বোধ করি না। যুক্তি, গভীরতা ও চিন্তাশীলতার অভাব মাত্রাহীন।'

কথাগুলি বিরক্তির সঙ্গে দ্রুত বলেই চুপ করে গেলেন। চুপ ক'রে হাঁটতে লাগলাম। একটু ধাতস্থ হওয়ার সুযোগ দিলাম তাকে।
ক্রমশঃ
( লেখা ২৮শে জানুয়ারী'২০২৫)।


প্রসংগঃ গ্রহদোষ ও শ্রীশ্রীঠাকুর। ( পর্ব ১)

একজন সৎসঙ্গী গুরুভাই গ্রহদোষে কষ্ট পাচ্ছে। পথে দেখা হ'লো, জিজ্ঞেস করলাম, কেমন আছেন?

ম্লান হেসে বললো, 'অ্যাই আছি আর কি, চলে যাচ্ছে।'

শরীরী ভাষা, বলার ধরণ ব'লে দিল ভালো নেই। এ অবস্থায় কথা বাড়িয়ে আর উনাকে বিব্রত করতে মন চাইলো না। পাশাপাশি হেঁটে চললাম। তারপর কিছুক্ষণ যেতেই উনি নিজের থেকেই নীরবতা ভঙ্গ ক'রে বললেন, 'আপনি কেমন আছেন?'

আমি হেসে বললাম, ঠাকুরের দয়ায় ভালো আছি।

তারপরেই বললেন, আপনাদের এখন আর সৎসঙ্গ হয় না।
আমি বললাম, হয় বৈকি। '

ওহো, ব'লে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, 'না, মানে আমি জানতে পারি না তো, তাই জিজ্ঞেস করলাম।'

আপনি তো আর আসেন না। তাই জানতে পারেন না। চোখে চোখ রেখে বললাম, কেন আসেন না? আগে তো আসতেন। তারপর কি হ'লো আর আসেন না কেন? বাড়ির সমস্যা? গুরুভাইদের নিয়ে সমস্যা? 
নাকি অন্য কোনও সমস্যা?
ক্রমশঃ
( লেখা ২৮শে জানুয়ারী'২০২৫)।