Powered By Blogger

Wednesday, April 1, 2026

কবিতাঃ ডুবে যাও, মিশে যাও।

ধনী হও আর গরিব হও,
ক্ষমতাবান কিম্বা ক্ষমতাহীন;
কর্মফল ভোগ তোমাকে করতেই হবে
আর তা এখানেই এই পৃথিবীতেই
এই জন্মেই; তা এখন হ'ক
আর পরেই হ'ক বা মৃত্যুর আগেই।
এ সত্য, সত্য, সত্য; 
জেনো এ সত্য তিন।

তাই, চলে এসো, ছুটে এসো
এসো হরি নামে মাতাল হ'য়ে।
রাম নামে, কৃষ্ণ নামে পাগল হ'য়ে এসো
এসো এসো রাধাস্বামী রাধাস্বামী ব'লে।
ডুবে যাও, মিশে যাও নাম সাগরে।
( লেখা ১০ই ডিসেম্বর'২০২০)

কবিতাঃ আমি কার?

আমি কার?
আমি প্রভুর, প্রভু আমার প্রাণ।
আমি না হিন্দু, না মুসলিম, না জৈন, না বৌদ্ধ,
না কোনও সম্প্রদায়ের, না আমি খৃষ্টান।
আমি শক্তির তনয়, পরমপিতার সন্তান।
আমি শ্রীশ্রীরাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ, যীশু, মহম্মদ, মহাপ্রভু,
রামকৃষ্ণ ও শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের সন্তান।
আমি সমস্ত অস্তিত্বের সঙ্গী, অস্তিত্বের অস্তিত্ব
পরম অস্তিত্বের সঙ্গী, আমি সৎসঙ্গী।
আমার ভিতর ও বাহিরে অন্তরে অন্তরে
আছো প্রভু তুমি আমার সমস্ত হৃদয় জুড়ে।
( লেখা ১০ই ডিসেম্বর'২০১৭/১৮)

কবিতাঃ আমার প্রিয় গুরুভাইবোন।

দয়াল যার নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে
বিপদ কি তার কাছে আসে?
দয়াল যার দিনে রাতে প্রতি কথাতে
রোগ, শোক, গ্রহদোষ, বুদ্ধি বিপর্যয়,
দরিদ্রতা কি তাঁর জীবনে থাকে?
জীবন জুড়ে যার সকাল সন্ধ্যে রাত
থাকে শুধু ঠাকুর আর ঠাকুর,
শয়তান থাকে তার জীবন থেকে
শত হাত দূর। তাই এসো বন্ধু,
ঠাকুর নিয়ে থাকি শুধু সবাই মেতে
সৎসঙ্গ, দীক্ষা আর ইষ্টভৃতি মহাযজ্ঞে।
( লেখা ১৬ই মার্চ'২০২৬)

কবিতাঃ ডর কিস বাত কি?

ভয় কি তোর? আমি আছি তো তোর সাথে।
যত দুর্যোগ, যত আপদ বিপদ আসুক তোর মাথে।
ডর কিস বাত কি? ম্যাঁয় হুঁ না।
তেরে সাথ সাথ, তেরে দিল মে
হাম হ্যাঁয় না। ডরো মত।

ভয় কি তোর? আসবে নোতুন ভোর।
আজ কিংবা কাল, কাল কিংবা পরশু
একদিন না একদিন আসবেই আসবে
নোতুন সকাল, যদি আমি থাকি মাথায় তোর।
ডর কিস বাত কি? ডরো মত! ম্যাঁয় হুঁ না।
ম্যাঁয় তেরে সিনে মে হুঁ, প্রাণ স্বরূপ হুঁ।
হাম হ্যাঁয় না! ডরো মত।

ভয় কি তোর? তুই নাম পেয়েছিস।
তুই থাক নামময় হ'য়ে শয়নে স্বপনে
জাগরণে ভোজনে। আর, দিনের শুরুতেই
যেখানেই থাক, যেমনই থাক
ইষ্টভৃতি করবি তুই সযতনে।
কেটে যাবে সব তাফাল,
তাফালিং যাবে সব ভেগে, আমারে যে ডাকে
শয়তান পারবে না তাকে ছুঁতে,
আসবে তার জীবনে সুন্দর মনোময় এক সকাল।
ডর কিস বাত? ম্যাঁয় হুঁ না।
ডরো মত, মেরে তরফ দেখ
আউর জোরসে বোল, হাঁ দয়াল! তুম হ্যাঁয় না।

ভয় কি তোর? এই পৃথিবী কার?
তুই কার? কার ঘরে আছিস তুই?
এই পৃথিবী আমার! যে ঘরে আছিস তুই
সে ঘর আমার! তুই আমার, আমার!
ডরো মৎ! ম্যাঁয় হুঁ না!
একবার বিশোয়াসকে সাথ জোরসে বোল,
রাধাস্বামী দয়াল! তুমি আমার, তুমি আমার।

ভয় কি তোর? কিসের ভয়?
কেটে যাবে সব দুর্যোগ, হবে জয় দুর্জয়।
একবার শুধু বল চোখের জলে সব ভাসিয়ে
থাকবো না গো আর কোনোদিন তোমায় ভুলে ঘোর আঁধারে।
ডরো মাত্! ম্যাঁয় হুঁ না।
( লেখা ১৬ই মার্চ'২০২৬)।


কবিতাঃ কেটে যাবে ভয়াল রাত।

অলোক! জ্বালাও আলোক!!
নামের আগুনে উদ্ভাসিত হ'ক তোমার অন্তরলোক!
আর, নাম আগুনের তেজে জ্বলে পুড়ে খাক হ'য়ে যাক
রোগজীবাণু, প্রতি কোষে কোষে অনু পরমাণুতে
অনুভূত হ'ক দয়ালের দয়ার ঝলক।

অলোক! জ্বালাও ইষ্টের আলোক, আর
তুলে ধরো দয়ালের আলোকবর্তিকা!
ডরো মত, Move forward, ইষ্টের প্রদপ হাতে
অজ্ঞানতার ঘোর অন্ধকার ভেদ ক'রে ঘরে ঘরে
পৌঁছে দাও দয়াল প্রভুর দয়ার বার্তা।
অলোক! ডরো মাত্, প্রভু হ্যাঁয় না তুমারে সাথ।
বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে নাম আগুনে
জ্বালাও ভূ-লোক, অলোক, জ্বালাও আলোক
আর বুক ফাটিয়ে বলো, দিগন্ত কাঁপিয়ে বলো
দয়ালের দয়ার কথা, কেটে যাবে নিশ্চিত ভয়াল রাত।
অলোক, দয়াল প্রভু আমার, হ্যাঁয় না তুমারে সাথ।

অলোক! রেখে হাতে হাত নেবো শপথ দেখাবো বাঁচার পথ
আর্ত, অর্থার্থী,জ্ঞানী ও জিজ্ঞাসুদের, আর বলবো হেঁকে
নয় রেখেঢেকে বুক ফাটিয়ে, ঐ দেখা যায় দয়ালের রথ!
বাঁচতে যদি চাও, বাড়তে যদি চাও চারপাশের ঘোর
কন্টক ও দুর্যোগময় অন্ধকার গহীন নরক পরিবেশে,
পেতে চাও যদি দয়ালের অন্তহীন দয়ার পরশ
তবে এসো, ছুটে এসো, চলে এসো,
বুক ফাটো ফাটো ক'রে এসো
চলো উঠে পড়ি, চড়ে পড়ি দয়ালের ঐ বাঁচা-বাড়ার রথে
যেথা ইচ্ছা যায় যাক দয়াল রথ নরকে কিংবা স্বর্গে।।
( লেখা ১৮ই মার্চ'২০২৬)

কবিতাঃ নামের আলো জ্বালাও।

জীবন একটা যুদ্ধক্ষেত্র। এই যুদ্ধক্ষেত্রে তুমি একা।
এই যুদ্ধে তোমার নেই কোনও সাথী, চারপাশ ফাঁকা।
তোমার নিজের সঙ্গে তোমার যুদ্ধ, নেই কোনও প্রতিপক্ষ;
তুমিই তোমার পক্ষ, তোমার তুমিই বিপক্ষ।
যুদ্ধ তোমার ভুলের বিরুদ্ধে, তোমার অজ্ঞানতার বিরুদ্ধে,
তোমার যুদ্ধ তোমার কুসংস্কারের বিরুদ্ধে, ভয়, দুর্বলতার বিরুদ্ধে।
এই যুদ্ধে নেই কোনও হারজিৎ, নেই কোনও অভিযোগ,
আছে শুধু শয়তানকে খতম করার দক্ষযজ্ঞ।

বন্ধু, খোলো চোখ, তেসরা তিলে মন নিবদ্ধ করো।
দেখো, তমসার পার অচ্ছেদ্যবর্ণ মহান পুরুষ ইষ্টপ্রতীকে আবির্ভুত।
ওঠো, জাগো, নাম রথে বসো চড়ে,
নামের নিশান উড়িয়ে দিয়ে নামের বিষাণ বাজাও জোরে।
এই জীবন যুদ্ধে জিততে তোমাকে হবেই,
পিছন ফিরে দেখতে যেও না তোমার সাথে এই যুদ্ধে
কে আছে আর কে নেই।
বন্ধু, যুদ্ধটা তোমার, তোমার একার,
যুদ্ধে নেই সাথে তোমার পিতামাতা,
নেই স্ত্রী, পুত্রকন্যা, ভাই বোন আত্মীয়স্বজন, পুত্রবধু, জামাতা।
আছে শুধু পুরুষোত্তম পরমপ্রেময় প্রভু পরমপিতা।
সময় নষ্ট ক’রো না, সময় নষ্ট ক'রো না বন্ধু,
নাম বাণে খতম ক’রে দাও
তোমার হতাশা, অবসাদ, অবিশ্বাস আর ভয়ংকর
মারণ রোগের জীবাণু, দিয়ে শেষ রক্তবিন্দু।

শোনো! শোনো বন্ধু! ঐ ধ্বনি শোনো,
মহাসিন্ধুর ওপার থেকে ঐ ধ্বনি ভেসে আসছে,
'মাভৈ! আমি আছি তো, আমি আছি তোর সঙ্গে, তোর পাশে।
ভয় কি তোর? তুই নাম পেয়েছিস, তোর আর কিসের চিন্তা?
তুই যে নাম পেয়েছিস, আমিই তো ঐ ‘রাধাস্বামী’ নাম,
যে নামে জীব, জগত, জীবন কারণের ধাম।
আমিই তো নামস্বরূপ তোর মধ্যে আছি।
ঐ নামের আলো জ্বালাও তোমার অন্ধকার বুকে।
যতবার নাম করবি ততবার আমি জীবন্ত হ’য়ে উঠবো তোর মধ্যে,
আর জীবন্ত হ’য়ে, আলো হ’য়ে, আলোর তেজে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে
শেষ ক’রে দেবো তোর শরীরের সব রোগজীবাণু,
তা’ সে যত ভয়ংকর হ’ক না কেন।
আমার তেজে সব ধ্বংস হ’য়ে যায়।
কেউ আমার তেজের সামনে দাঁড়াতে পারে না,
রোগজীবাণু সাথে হতাশা, অবসাদ সরে গিয়ে
অন্ধকার ভেদ ক’রে জ্বলে ওঠে 
আমার নামের তেজে বিচ্ছুরিত আলো।
সেই আলোয় উদ্ভাসিত হবে নোতুন ভোর, আর
নোতুন ভোরের আলোয় আলোকিত হবে তোর জীবন।
আর, তখন নোতুন জীবন নিয়ে ছুটে যাবি দিক থেকে দিগন্তে
সবাইকে বলবি, বুক ফাটো ফাটো ক'রে বলবি,
"মরো না, মেরো না, পার তো মৃত্যুকে অবলুপ্ত করো।''

Tuesday, March 31, 2026

কবিতাঃ কি করি!?

যেদিকে যাই চেয়ে দেখি তাই
স্বপনে গেল যা ব'লে আমায়।
কে যে গেল বলে আর কেনই বা গেল চলে
খোঁচা দিয়ে চোখে কিছু না ব'লে মুখে
রাতের আঁধারে ভরিয়ে সোহাগে আদরে
দেখিয়ে দিল দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি
যেন 'ঠ' সাজে সব পুরুষ নারী আনাড়ি
সে সাজে যেন আমি নিজেকে না সাজায়।
অবাক আমি! অবাক করলে তুমি!!
এখন কি করি!? নিজেকে কি বোঝায়!?
( লেখা ১লা এপ্রিল'২০২৪)