Powered By Blogger

Tuesday, February 17, 2026

বিচিত্রাঃ ২৪১

কেউ নেই পাশে তুমি আছো সাথে 
এই মোর শক্তি।
তোমার সেবার দিও অধিকার,
দিও মোরে ভক্তি।

তোমার কাজের মাঝে আসে বাধা, 
আসে শত বিপত্তি!
কি যে করি বুঝিতে না পারি! 
তোমার প্রতি রাখিতে গভীর বিশ্বাস 
দিও প্রভু মোরে শক্তি।

ঘরে অশান্তি, বাইরে অশান্তি, 
অশান্তি বোকা বাক্সের বুকে! 
অশান্তির কালো ছায়া পড়েছে আজ 
প্রতি জীবনে মরণে ঢুকে!!

দিয়েছো যে মহান দায়িত্ব
পায় যেন তা' স্থায়িত্ব।
পারি যেন রাখিতে প্রভু তব মান
ইষ্টপ্রতিষ্ঠার তরে ঘেরে যত বাধা মোরে
হয় যেন তা' খানখান।
( লেখা ১৭ই ফেব্রুয়ারী'২০১৮)
















জিজ্ঞাস্যঃ প্রিয় বন্ধু,

PF, DA ইত্যাদি নিয়ে মাঝে মাঝেই লেখা চোখে পড়ে। লেখাগুলি পড়তে পড়তে Pension সংক্রান্ত একটা বিষয় মনে এলো। রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের পেনশন ছাড়া সারা ভারতে কলে-কারখানায় বা ছোটোবড় অনেক বেসরকারী কর্মস্থলে কাজ করা কর্মচারীদেরও পেনশন আছে। কিন্তু তাদের পেনশন অত্যন্ত সামান্য। আর রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারী, ব্যাংক কর্মীদের পেনশন চোখ ধাঁধানো। নতুন চাকরীতে জয়েন্ট করলে যে মাহিনা পাওয়া যায় সরকারী কর্মচারীদের পেনশনও প্রায় তাই শুধু নয় কখনও কখনও তার চেয়েও অনেক গুণ বেশী। সরকারী কর্মচারীদের ডি.এ বাড়লে পেনশনভোগীদেরও সেই অনুযায়ী পেনশন বাড়ে। কিন্তু সারা ভারতের বেসরকারী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পেনশন যেন বিধবার খুদ কুঁড়ো!? কেন? বেসরকারী পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে পেনশনের পরিমাণ কি বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী বাড়ানো যায় না? ভারতবর্ষে বেসরকারী ক্ষেত্রে সম্মিলিত পেনশনারদের সরকারী কোষাগারে জমা টাকার পরিমাণ কত কোটি এই তথ্য কি জানা যেতে পারে? সেই সম্মিলিত টাকা কোথায় খাটানো হয়? সেই খাটানো টাকার আয়ের পরিমাণের সম্পূর্ণটাই কি বেসরকারী পেনশনরদের ক্ষেত্রেই খরচ হয়? বেসরকারী পেনশনারদের ক্ষেত্রে সরকারী পেনশনারদের নীতি কি প্রযোজ্য? এই ব্যাপারে কি বিস্তারিত আলোচনার মধ্যে দিয়ে আলোকপাত করা যেতে পারে? কেউ কি এই বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে পারেন? অপেক্ষায় রইলাম।
( লেখা ১৭ই ফেব্রুয়ারী'২০১৭)

Sunday, February 15, 2026

বিচিত্রাঃ ২৪০

একটাই তো জীবন,
একবারই তো সফর; 
আর
কত রাখবি পুষে তোর বুকে
বন্ধু হিংসা দিনভর!?

এই পৃথিবীতে আগে এসেছিলাম কিনা জানি না, 
আবার আসবো কিনা তাও জানি না, 
শুধু জানি এ জীবনে এসে করলাম 
শুধু ভুল আর ভুল, ভুল আর ভুল!
( লেখা ১৫ই ফেব্রুয়ারী'২০১৮)

আসন্ন লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে ক্ষমতা দখলের জন্য
দেশের নেতানেত্রীদের হুঙ্কার-পাল্টা হুঙ্কারে দেশ ছিল তটস্থ!
কাশ্মীরের পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার ঘটনায় দেশের নেতৃবৃন্দ
সমস্বরে কেন বদলার জন্যে গর্জে উঠে দেশকে করছে না আস্বস্ত!?

মোদীজি, শোকে বিহ্বল হওয়া নয় রাষ্ট্রধর্ম, 
শোকবার্তায় কাজ শেষ নয়!
ইমরানের বাউন্সারের বিশাল ছক্কা মারার 
এই তো মোক্ষম সময়!

হে ভারত! আর কবে প্রমান হবে, হাম কিসিসে কম নেহি!?
হে জওয়ান! হোক ভয়ংকর মহাপ্রলয়,
বন্ধ হ'ক কথার তানাশাহী!

মোদীজি! 
যে হিংস্র তাকে অহিংসার নামতা পড়ালে কি সে বুঝবে!? 
আর, অহিংসার নামাবলী জড়িয়ে আমেরিকা কি বলবে, 
চীন কি বলবে তা খুঁজবে!?

ঘরে বাঘ আর বাইরে বেরোলেই ছাগ!?
শালা হাগতে হবে না ঘরে
বাইরে গিয়ে হাগ!
ভাগ! শালা ভাগ!!

মোদীজি! সামঞ্জস্যবাদ হ'ক রাষ্ট্রধর্ম!
যার পেট খারাপ তার জন্যে যে পথ্য
সেই পথ্য যার পেট ভালো তাকে দেওয়া নয় সঠিক কর্ম!

'মুখে মারিতং জগৎ' ভারত
জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লভে!
(লেখা ১৫ই ফেব্রুয়ারী'২০১৯)

সত্যকে যাদের ভালো লাগে না 
তারা মিথ্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়। 
সত্য ফ্যাকাশে মিথ্যে রঙিন ঝলমলে! 
তাই নিশ্চিত ক্ষয়!!
(লেখা ১৫ই ফেব্রুয়ারী'২০২০)

ইষ্টভৃতি গ্রহণ মানে জীবন্ত ঈশ্বরের দ্বারা
তোমার জন্মজন্মান্তরের পাপ গ্রহণ।
কোনও মানুষের পক্ষে কোনও মানুষের
পাপ গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
(লেখা ১৫ই ফেব্রুয়ারী'২০২৫)


































Saturday, February 14, 2026

বিচিত্রাঃ ২৩৯

ঈশ্বর-ভগবান মানি আর মানি না ব'লে 
যারা করছে চিল চিৎকার!
মানা-না মানা ব্যক্তিগত অনুভূতি-গভীর জ্ঞান! 
চিৎকার মূর্খামি-অহংকার!!

'মা-বাবাকে ভালোবাসি! মা-বাবাই আমার ভগবান!' 
ব'লে মারছো হাঁকডাক!
ভালোবাসা ও ভগবান এত সহজ-সস্তা-ঠুনকো নাকি 
যে পেটাচ্ছো ঢাক!?

যে যে-ভাষা বোঝে তাকে সেই ভাষায় জবাব দেওয়ায় রাষ্ট্রধর্ম।
(১৪ই ফেব্রুয়ারী'২০১৯)

স্থির জলে ঢিল পড়লে যেমন বুদবুদ ওঠে
ঠিক তেমনি দয়ালের কাছে এলে পরে চাপা পড়া 
'আমি-আমি, আমার-আমার' জেগে ওঠে, দুর্গন্ধ ছড়ায়। 
নিজেকে, নিজের স্বভাবকে চেনা যায়, জানা যায়! 
তখন নিজেকে শুধরে নেবার সুযোগ আসে। 
সেই সুযোগ হারালে বৃথা হ'য়ে যায় ইহকাল-পরকাল!!

মনের পিছনে ছুটো না বন্ধু, 
মন তোমায় পাগল কুকুরে পরিণত করবে। 
পাগল যদি হ'তে হয় পাগল হও ঈশ্বর প্রেমে! 
শরীর-মন-আত্মা শুদ্ধ হবে!!

'আমি-আমি, আমার-আমার' ব'লে পাগল হ'লে 
কেউ তোমার কেন্দ্রও নয়, কেন্দ্রও তোমার নয়! 
দিন শেষে ঘেয়ো কুকুরের মত পথে পথে ঘুরে মরতে হয়!!

হিংসা ক'রো না বন্ধু! 
হিংসার আগুনে আর যাই-ই পুরুক না পুরুক 
অন্তর তোমার পুড়ে খাক হ'য়ে যাচ্ছে! 
পোড়া অন্তরে সব পোড়া লাগবে।

সত্যকে অস্বীকার ক'রে মিথ্যাকে আশ্রয় ক'রে 
নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে যেও না! 
শেষের দিনে মিথ্যের পাহাড়ের মাঝে 
দেখবে তুমি একা!!
 (১৪ই ফেব্রুয়ারী'২০২০)












Friday, February 13, 2026

প্রবন্ধঃ আশা ও গভীর বিশ্বাস (২য় পর্ব)।

১ম পর্বে আমি শিল্প ধর্মঘট নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আপনারা যারা পড়ছেন এই আর্টিকেল তাদের অনুরোধ করবো এই আর্টিকেলের ১ম পর্ব পড়ার জন্য। তাহ'লে আপনা্দের লিঙ্কটা ধরতে সুবিধা হবে।
এবার ভর্তুকির প্রসঙ্গে বলি।
ভর্তুকি তুলে দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা ও বিরোধীতা করেছিল দেশের বিরোধী দল বাম্ফ্রন্ট। সেই বিষয়ে জনগণকে আগাম সতর্ক করেছিল ব'লে দাবী করা হয়েছে ফেসবুকে একজনের একটা আর্টিকেলে, যে আর্টিকেলের বক্তব্য বিষয় নিয়ে আমার এই লেখা। ভর্তুকি তুলে দিলে জনগণের ওপর ভয়ংকর আর্থিক চাপ নেমে আসবে ব'লে সাবধান ক'রে দিয়েছিল বামপন্থীরা আর বাস্তবে সত্যি সত্যিই তার প্রতিফলন ঘটেছে ব'লে দাবী করছে তারা।

এখন আমার জিজ্ঞাস্যঃ
ভর্তুকি দিয়ে কি সত্যি সত্যিই দেশ চালানো যায়? ভর্তুকি কি কোনও দেশকে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে শক্তিশালী করতে পারে? ভর্তুকি কতদিন দেওয়া যেতে পারে? কি করলে ভর্তুকি চিরকালের জন্য তুলে দেওয়া যায় এবং ভর্তুকির প্রয়োজন না পড়ে তা' ভেবে দেখার কি এখনও সময় আসেনি? দেশ স্বাধীন হয়েছে ৭৮বছর, কোনোদিনই কি দেশ ও দেশের কোনও রাজনৈতিক দল ভাববে না? শুধু 'ধর তক্তা মার পেরেক' মনোভাব নিয়ে ও রাজনৈতিক দর্শনে দল, সরকার ও দেশ চালাবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। যারা নেতা হবে, যারা দেশ পরিচালনা করবে, দেশ চালানোর জ্ঞান দেবে তারা কি ভাববে না এই বিষয়ে? লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচের থেকে কম দামে গ্যাস বা অন্যান্য কিছু জনগণকে সরবরাহ করা হ'লে তা' কতদিন সরকারের পক্ষে বহনযোগ্য? দেশের অগ্রগতির পক্ষে কতটা পজিটিভ পদক্ষেপ? ভর্তুকি তুলে দিয়ে জনসাধারণের ওপর দামের বোঝা বাড়িয়ে দেওয়া কেন হচ্ছে এই ধরণের কথা বলে জনগণকে এখনও কেন সত্যের আলোর মুখোমুখি হওয়া থেকে মিথ্যের অন্ধকারে রাখা হচ্ছে? ভর্তুকি কি কোনও দেশের সার্বিক উন্নতির চাবিকাঠি হ'তে পারে? ভর্তুকি যদি দিতেই হয় তবে তাহ'লে জনগনকে জানিয়ে দেওয়া হ'ক এই ভর্তুকির ফলে দেশের কতটা লাভ বা ক্ষতি হচ্ছে।

আর, ভর্তুকি যদি দিতেই হয় পুরোপুরি দিক। বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন রকম ব্যবস্থা কেন? কোথাও কোথাও কোনও কোনও রাজ্যে জনগণের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে বিদ্যুৎ, জল ইত্যাদি নানারকম ফ্রি ব্যবস্থা আছে। আবার নানারকম ভাতাও আছে বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে। বাম্ফ্রন্ট আমলে প্রথম ভাতা চালু হয়। বেকার ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা, বন্ধ কল কারখানা এবং বন্ধ চা বাগান শ্রমিকদের আর্থিক অনুদান ইত্যাদি। এখন তা' নানারকম ডালপালা মেলে বিরাট মহীরুহে পরিণত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে বেকারদের ভাতা দেওয়ার ও বন্ধ শ্রমিকদের আর্থিক অনুদান দেওয়ার পরিবর্তে বেকার ভাতা যাতে দিতে না হয়, কলকারখানা যাতে বন্ধ না হয় তার জন্য কেন মূল সমস্যার সমাধানে যত্নশীল হয়নি তৎকালীন ৩৪ বছরের সরকার?

যাই হ'ক, চটজলদি সস্তা পদক্ষেপ চিরকালীন সমস্যা সমাধান করতে পারে না। গোড়া কেটে আগায় জল ঢালার মানসিকতা দেশের শাসকদের মগজকে ডাস্টবিনে পরিণত করে। ফলে নিজের খোঁড়া গর্তে নিজেরই সলিল সমাধি হয়। আর, অন্তিমে ভয়ঙ্কর ফল ভোগ করবে দেশের ১৪০কোটি জনগণ সস্তার তিন অবস্থার ফর্মূলায়।
কিন্তু এর থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য কোনও সদর্থক উদ্যোগ ও মানসিকতা নেই। সততার সঙ্গে অতীতের ভুল স্বীকারের অকপট মানসিকতা ও দীর্ঘমেয়াদী বলিষ্ঠ স্বচ্ছ ও স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা প্রয়োজন। নতুবা দিন শেষে হাতির বাতকর্ম হওয়ার ঘোষণার মতন পরিণতি হবে।

আমার আশা ও গভীর বিশ্বাস নোতুন প্রজন্ম শুধু পথেঘাটে, মাঠে-ময়দানে মিছিলে মিটিঙে উদ্দন্ড গলাবাজি আর পর দোষ অন্বেষন ক'রে বৃথা সময় নষ্ট করবে না। কারণ ন্যাড়া বেলতলায় একবারই যায়। মানুষকে বোকা বানিয়ে সাময়িক সামান্য লাভ হ'লেও হ'তে পারে কিন্তু আখেরে নিঃশব্দ গভীর ভয়ঙ্কর পতন অবশ্যম্ভাবী। সাম্প্রতিক বাংলাদেশের বর্তমান ১২ই ফেব্রুয়ারি'২০২৬-এর নির্বাচন জ্বলন্ত প্রমাণ। বাংলাদেশের প্রধান উপাদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইনে অবৈধ ও অগণতান্ত্রিকভাবে পিছনের দরজা দিয়ে বিদেশী শক্তির মদতে ক্ষমতার লোভে সিংহাসনে বসার মাত্র ১৯ মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁর মিথ্যে রঙ্গীন কথার ফানুস ফেটে গেল। জনগণই যে শেষ কথা আবার প্রমাণ হ'লো।
প্রকাশ বিশ্বাস।
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া।
ক্রমশ ( পরবর্তী ৩য় পর্বে)।


প্রবন্ধঃ আশা ও গভীর বিশ্বাস (১ম পর্ব)।

শিল্প ধর্মঘট, ভর্তুকি, জাতপাত, ভাতের অধিকার, কাজের অধিকার, শিল্প, শ্রম কোড, শিক্ষা ও SIR ইত্যাদি নিয়ে একটা লেখা পড়লাম ফেসবুকে। মনে পড়ে গেল আমার যৌবনের কথা। মনে পড়ে গেল পশ্চিমবঙ্গের ৭০দশকের আন্দোলন ও পরবর্তী দীর্ঘ সময়ের বামপন্থী শাসনের কথা। মনে পড়ে গেল ভয়ংকর ভয়াবহ নকশাল আন্দোলনের দিনগুলির কথা।

এর সঙ্গে পড়লাম যিনি লিখেছেন, তিনি দুঃখপ্রকাশ করেছেন যখন শিল্প ধর্মঘটের পক্ষে মিছিল চলছিল তখন শিল্প ধর্মঘটের মিছিল ও শ্লোগানের বিরুদ্ধে পথচারীদের ব্যঙ্গ হাসি ও টিপ্পনি করা দেখে। ভালো লাগলো লেখাটা পড়ে। লেখাটা পড়তে পড়তে কয়েকটি কথা মনে হ'লো অতীত ও বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আর ভাবলাম পথচারীদের ব্যঙ্গ হাসি ও টিপ্পনির পিছনে কি কারণ আছে? কেন আজ এত অনীহা, অবিশ্বাস, বিরক্তি, রাগ? সবটাই অকারণ, অযৌক্তিক? একদিন ৭০ দশকের যে আন্দোলন, যে সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে, যে রক্তপাত ও লক্ষ লক্ষ মেধার আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসি শাসনের অবসানের পর গভীর বিশ্বাস, গভীর ভালোবাসা, স্বপ্ন, আশা, ভরসা নিয়ে বামফ্রন্টের শাসনের সূত্রপাত হয়েছিল আজ সেই বাম দলের আন্দোলনের ওপর, মিছিল, মিটিং, শ্লোগানের ওপর কেন এত ব্যঙ্গ, বিদ্রুপ, টিপ্পনি, অবিশ্বাস, অভক্তি? বামপন্থীরা কি ভেবে দেখবে না এত কষ্ট, এত পরিশ্রম, এত আত্মত্যাগ, এত রক্তপাতের মধ্যে দিয়ে অর্জিত ক্ষমতা কেন ধ'রে রাখতে পারলাম না?
আসুন ভেবে দেখি একে একে কেন মানুষ ৭০দশকের স্মৃতি আর মনে রাখতে চায় না।
১) শিল্প ধর্মঘট প্রসঙ্গঃ
আসলে ১৯৭৭সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর গত ৩৪বছর বাম্ফ্রন্ট্রের শাসনে পশ্চিমবঙ্গের কলে কারখানায় শিল্প ধর্মঘট শব্দটা এত ব্যবহার ও প্রয়োগ হয়েছে, প্রয়োগ হয়েছে পথেঘাটে, মাঠেময়দানে যে, শব্দটা সম্পর্কেই মানুষের রুচি হারিয়ে গেছে, শব্দটার মধ্যে আর প্রাণ নেই, মৃতবৎ একটা একঘেয়ে বিরক্তিকর ঘড়ঘড় শব্দ। শুনলেই মানুষের মনের মধ্যে শুরু হ'য়ে যায় শিল্প ধর্মঘট নামক যন্ত্রদানবের ভয়ঙ্কর ঘড়ঘড় এক শব্দ যেটা থেকে ভেসে আসে শিল্প ধ্বংসের গা শিউড়ে ওঠা 'ঘচাং ফু' কর্কষ ধ্বনি, চোখের সামনে ভেসে ওঠে পশ্চিমবঙ্গে ৭৭-এর কংগ্রেসি অপশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন লড়াইয়ে যুক্ত না থাকা নেপোয় মারে দই চরিত্রের অযোগ্য, অদক্ষ, অপদার্থ, অশিক্ষিত, ধান্দাবাজ নেতৃত্বের পরিচালনায় কলে কারখানায় শিল্প ধর্মঘট নামক এক বুল্ডোজারের শিল্প ধ্বংসের একের পর এক ছবি।


শিল্প ধর্মঘট বাম্ফ্রন্টের ৩৪বছরের আমলে হয়নি? পশ্চিমবঙ্গের ছোটো বড় কলে কারখানায় কথায় কথায় ছিল শিল্প ধর্মঘটের হুংকার। তার ইতিহাসটা কি? সেটা নিয়ে, তার মেরিটস-ডিমেরিটস নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করবে না বর্তমান প্রজন্ম? বাম্ফ্রন্ট্রের যারা প্রবীণ তাঁরা তো জানেন ৩৪বছরের শাসনে প্রতিটি ছোটো বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে শিল্প ধর্মঘটের ইতিহাস, তাদের সেই সময়ের প্রতিটি কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্বদের জীবন ও চরিত্র।

কিন্তু বর্তমান নোতুন প্রজন্ম? তারা হয়তো জানে বা সবাই জানে না। জানলেও চোখ উল্টে থাকে। শিল্প ধর্মঘটের মিছিলের সঙ্গে যুক্ত নোতুন প্রজন্ম যারা, তারা বাংলার বুকে ১৯৭৭সালে বাম্ফ্রন্ট পশ্চিমবাংলায় ক্ষমতায় আসার পর পরবর্তী ৩৪বছরের রাজত্বে অতীতের এই শিল্প ধর্মঘটের ইতিহাস নাই জানতে পারে কিন্তু প্রবীণ নেতারা অনেকেই আজও আছেন। তাঁরা তাদের বিগত শিল্প ধর্মঘটের ফলে কলে কারখানায় ঘটা ঘটনা থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি বর্তমান প্রজন্মকে জানিয়ে যান। জানিয়ে যান কেন পশ্চিমবঙ্গের বড় বড় শিল্প বন্ধ হ'য়ে গেল। জানি্যে যান সেই সমস্ত শিল্পের জমির ওপর পরবর্তী সময়ে কি হয়েছে ও হচ্ছে। যদিও শিল্প ধর্মঘটের সঙ্গে যুক্ত প্রজন্ম ইচ্ছে করলেই জানতে পারবে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জেলায় ছোটো বড় বন্ধ কারখানাগুলির জমির অবস্থা কি। ইচ্ছে করলেই জানতে পারবে ৩৪বছরে পশ্চিমবঙ্গে প্রতিটি জেলায় কোথায় কোথায় শিল্প ধর্মঘটের ফলে শিল্পের কি অবস্থা হয়েছিল ও উন্নতি বা অবনতি কতটা হয়েছিল।

আর, সত্যের ওপর, সততার ওপর, মনুষ্যত্বের ওপর যদি বর্তমান প্রজন্ম দাঁড়ায় আর আগামী পথ চলা ভুল স্বীকারোক্তি ও প্রায়শ্চিত্তের ভিত্তিতে যদি হয় তবে নিশ্চয়ই ভবিষ্যৎ সুন্দর ও মজবুত হবে।

এ আমার চিরদিনের আশা ও গভীর বিশ্বাস। যে আশা ও গভীর বিশ্বাস আমার যৌবনের দিনগুলিতে ছিল পথেঘাটে, মাঠেময়দানে মিছিলে, মিটিঙে, শ্লোগানে, গণনাট্য মঞ্চে, পথ নাটকে। এই আশা ও গভীর বিশ্বাস আজও সমানভাবে আছে।
প্রকাশ বিশ্বাস।
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া।
ক্রমশ (পরবর্তী অংশ ২য় পর্বে)।


Monday, February 9, 2026

বিচিত্রাঃ ২৩৯

ভালো কাজ আর মন্দ কাজ; 
কোন কাজের পৃষ্ঠপোষকতা বেশী হয়?
মন্দ কাজ তো মন্দ লোকে করে 
তবে ভালো কাজ সমর্থনে কেন 
ভালো লোকে পায় ভয়?

ভালো কাজের পিছনে হিংসা, নিন্দা, 
সমালোচনা, কটুক্তি শোনা যায় 
ভালো লোকের মুখে!
আর
মন্দ কাজের পৃষ্ঠপোষকতা
বেড়ে চলে মহাসুখে!
(১০ই ফেব্রুয়ারী'২০১৮)

ভাঙার জন্য ছেনি হাতুড়ি নিয়ে রাত থাকতে 
উৎসাহ নিয়ে উঠে পড়ি;
কিন্তু গড়ার জন্য সিমেন্ট সাথে কর্ণিক
কেউ ধরি না। 
আর যারা কর্ণিক ধরি তারাও ভাঙার কাজেই 
কর্ণিককে কাজে লাগাই।
(১০ই ফেব্রুয়ারী'২০২২)