Powered By Blogger

Monday, August 17, 2026

ভাবনাঃ স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় পতাকা।

আগামী ১৫ই আগষ্ট'২০২৬ রবিবার ভারতের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস।
ভারত ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট প্রথম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছিল। সেই প্রথম দিনটিকে ১ নম্বর ধরলে, ২০২৬ সালের ১৫ই আগস্ট হবে দেশের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন। ১৯৪৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভারত স্বাধীন দেশ হিসেবে ৭৯ বছর পূর্ণ করছে।

এই বছরের মূল ভাবনা বা থিম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে "১৫০ ইয়ার্স অফ বন্দে মাতরম" এবং "যুবশক্তি ফর বিকশিত ভারত ২০৪৭"।

এই ভাবনা যদি সত্যি সত্যিই পূরণ করতে হয় তাহ'লে দেশ জুড়ে প্রতিটি বাড়ি, অফিস, ক্লাব, স্কুল কলেজ সহ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্ম প্রতিষ্ঠানে ১৫ই আগষ্ট জাতীয় পতাকা উত্তোলন বাধ্যতা মূলক করা হ'ক। সব জায়গায় দেশপ্রেমের ও দেশ নায়কদের উদ্দেশ্যে গান বাজুক।

আর, রাস্তার যেখানে সেখানে, নর্দমা ও প্রস্রাব পায়খানার সামনে দেশনায়কদের ছবি রেখে জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হ'ক। এর জন্য কড়া নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হ'ক। জাতীয় পতাকা দিয়ে চেইন তৈরী হওয়ার পরিবর্তে অন্য কিছু দিয়ে চেইন তৈরী হ'ক। আর যদি তৈরি করে তাহলে জাতীয় পতাকা দিয়ে তৈরি চেইন যাতে অনুষ্ঠান শেষে রাস্তায়, নর্দমায় না পড়ে থাকে সেদিকে উদ্যোক্তাদের ও প্রশাসনের সতর্ক ও কড়া নজর থাকুক। ১৪০ কোটি দেশবাসীর প্রাণে স্বাধীনতার স্মেল ও দেশের স্বাধীনতার জন্য উৎসর্গিত শহিদদের উদ্দেশ্যে প্রাণ সঞ্চার কিভাবে ও কি কি ভাবে করা যেতে পারে তার জন্য কেন্দ ও রাজ্য সরকার প্রাজ্ঞ শিক্ষিতদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরী করুক।

স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে এই আমার স্বাধীন ভাবনা। প্রবি।
( লেখা ১৪ই আগষ্ট'২০২৬)


.

 


প্রবন্ধঃ শত্রুতার ডিম ফুটে চলা স্বাধীনতার ৮০ বছর।

আজ ১৫ই আগস্ট' ২০২৬ বৃহস্পতিবার ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস। এই স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র ক'রে ও দেশনায়কদের নিয়ে নানা বিতর্ক ও অশ্লীল কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি হ'য়ে চলেছে আজও ৮০বছর ধ'রে। গতকাল ১৪ই আগস্ট ছিল পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস। এই স্বাধীনতা সম্পর্কে কংগ্রেসের বক্তব্য ছিল, এই স্বাধীনতার অর্থ "নতুন ভোরের সূচনা", আর, মুসলিম লীগের কাছে তা ছিল "নতুন দেশের জন্ম", এবং ডানপন্থী ও চরম বামপন্থীদের কাছে তা ছিল যথাক্রমে "দেশভাগের ট্র্যাজেডি" এবং "বুর্জোয়াদের আপস"।

এই নিয়ে আজও ৮০ বছর পরেও চলেছে আমার দেশের অভ্যন্তরে সব দলেদের একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই ও হিন্দু-মুসলমানের লড়াই এবং হিন্দু-হিন্দুর লড়াই।

কেউ বলছে মুসলমানদের যখন আলাদা দেশ হ'লো, মুসলমানেরা যখন তাদের জাতের বা তাদের ধর্ম সম্প্রদায়ের জন্য একটা আলাদা দেশ দাবী ক'রে লড়াই ক'রে আলাদা ভূখন্ড আদায় ক'রে নিল তখন কেন হিন্দুরা হিন্দুদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা ভূখন্ড করলো না? কেন ভারতবর্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য এই ভারত হিন্দুরাষ্ট্র হ'লো না, কেন হিন্দুদের নিজস্ব স্বাধীন দেশ হ'লো না? তাদের যুক্তি, অখন্ড ভারতবর্ষ ভাগের মধ্যে দিয়ে স্বাধীন মুসলমানদের জন্য যে আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হ'লো, মুসলমানদের কাছে এই স্বাধীনতার অর্থ ছিল, "একটি নতুন মুসলিম রাষ্ট্র—পাকিস্তান অর্জন"। ঠিক তেমনি এই ভারত ভাগের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতার অর্থ একটি নতুন হিন্দু রাষ্ট্র------হিন্দুস্তান অর্জন কেন হ'লো না সেটাও হিন্দুদের প্রশ্ন। যদিও এর তীব্র বিরোধীতা করেছে ও ক'রে চলেছে ভারতের হিন্দুরা।

আবার কেউ বলছে, দেশভাগের মধ্যে দিয়ে ভারত যদি 'হিন্দুস্তান রাষ্ট্র' না হ'য়ে থাকে তাহ'লে তাকে সংবিধান রচনার ২৬ বছর পরে কেন সংবিধান পরিবর্তন ক'রে 'ধর্ম নিরপেক্ষতার' তকমা জুড়ে দেয়া হ'লো? কেন ও কিসের উদ্দেশ্যে এটা করা হ'লো? কেউ কেউ বলছে, সংবিধান রচয়িতা ড আম্বেদকর এই ''ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র' কথার কেন তীব্র বিরোধী ছিলেন। কেন তিনি ১৯৪৮ সালের ১৫ই নভেম্বর গণপরিষদের বিতর্কে অধ্যাপক কে. টি. শাহের "ভারতকে "Secular, Federal, Socialist Union of States" হিসেবে ঘোষণা করা হোক" এই প্রস্তাব খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ড. আম্বেদকর কেন দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন?

এইভাবে নানা ভাবনার আলোয় আলোকিত ভারতের কিশোর থেকে বৃদ্ধ সব মানুষ আজ মনের দিক থেকে সম্পূর্ণ আশ্রয়হীন। বিশেষত দেশের ইয়ং জেনারেশন অর্থাৎ দেশের তরুণতরুণী, যুবকযুবতী, যাদের আজ বালখিল্য আধুনিকতার মোড়কে বেঁধে ফেলা হয়েছে জেন জি নামে তাদের সামনে আজ কোনও নির্দিষ্ট উপযুক্ত 'আদর্শ' নেই। নানারকম কপট ছদ্ম আদর্শ, নেতা, শিক্ষক, ধর্মগুরুদের ও তাদের ছদ্ম দর্শন, ছদ্ম নীতি ও আন্দোলন, ছদ্ম শিক্ষা ও কথন শুনে শুনে আজ নানারকম রঙে রাঙিয়ে গিয়ে একেবারে Mental identity হ'য়ে পড়েছে ও পড়ছে ক্রমশ। আর জড়িয়ে পড়ছে নানারকম জটিলতায় আর চরম এলোমেলো হ'য়ে যাচ্ছে জীবন।

যাই হ'ক, ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে আজ এটাই সত্য যে, কংগ্রেসের "নতুন ভোরের সূচনা", মুসলিম লীগের "নতুন দেশের জন্ম", এবং ডানপন্থী ও চরম বামপন্থীদের কাছে "দেশভাগের ট্র্যাজেডি" এবং "বুর্জোয়াদের আপস" ইত্যাদি যে যাই বলুক না কেন, আসল সত্য হ'লো বিশাল দেশ ভারতকে টুকরো টুকরো করাই ছিল বৃটিশের আসল এক ও একমাত্র উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। সঙ্গে তৎকালীন বিশ্বের অন্যান্য বৃটিশের মিত্র শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোরও তাই ইচ্ছা ছিল। যাতে ভবিষ্যতে কোনোদিন তাদের সমকক্ষ হ'তে না পারে ও তাদের কাছে চ্যালেঞ্জ হ'য়ে দাঁড়াতে না পারে। এ কথা বোঝার ক্ষমতা মেন্টাল আইডেন্টিটিহীন তরুণতরুণী, যুবকযুবতীদের নেই।

তাই, সেইসময়ে অর্থাৎ ১৯৪৭-এ ভারতবর্ষ ভারত ও পাকিস্তান নামে দু'টুকরো হ'লেও বৃটিশদের দূরদর্শী পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৭১-এ হয়েছে তিন টুকরো। জন্ম হয়েছে ভারত, পকিস্তান ও বাংলাদেশ আজ ভারতের ঘরে ও ভারতের বাইরে চলেছে ভারতকে ভয়ঙ্করভাবে আরও টুকরো করার ঘৃণ্য, বিষাক্ত ষড়যন্ত্র। এছাড়া আমরা দেখতে পেয়েছি ও পাচ্ছি ভারত থেকে একসময়ে আলাদা হওয়া পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বর্তমান ভয়ংকর নারকীয় আভ্যন্তরীণ অবস্থা। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ তিন দেশের অভ্যন্তরে চলছে বীভৎস শত্রুতার ও ভাঙ্গনের খেলা। এ খেলার খেলোয়াড় সব তিন দেশের হৃষ্টপুষ্ট নাগরিক আর কোচ ও রেফারি বৃহৎ কোনও শক্তিধর রাষ্ট্র।

পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ভারতের তৎকালীন পূর্ববঙ্গ বর্তমানে বাংলাদেশের পাবনা জেলার হিয়াইতপুর গ্রামে থাকতেন। ১৮৮৮ সালে তাঁর সেখানে জন্ম। তখন তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত দেশের হিন্দু মুসলিম সমস্ত দেশনেতাদের উদ্দেশ্যে বারবার ভারত ভাগ না করার কাতর আবেদন করেছিলেন এবং পাঞ্জাব ও বাংলাদেশ যাতে ভাগ না হয় তার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তখন তাঁর কথা কোনও দেশনেতা শোনেননি। তখন দ্রষ্টাপুরুষ ব্যথাতুর শ্রীশ্রীঠাকুর ভবিষ্যৎ ভয়ংকর ভারতের করুণ নির্ম্মম নারকীয় অবস্থা আগাম দেখতে পেয়ে বলেছিলেন,

"Dividing compromise is the hatch of animosity." যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায়, "দেশ ভাগ ক'রে সমস্যার সমাধান করার অর্থ 'তা' দিয়ে দিয়ে শত্রুতার ডিম ফোটানো।"

আজ স্বাধীনতার ৮০বছর ধ'রে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের বলে যাওয়া নির্ম্মম সত্য 'শত্রুতার ডিম' তিন দেশের অভ্যন্তরে অনবরত ফুটে চলেছে। এই ডিম ফোটার ট্রাডিশান হয়তো ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে।

যাই হ'ক, সবাই সবার মনের কথা বলুক, এটা প্রত্যেকের বাক স্বাধীনতা। আর তা' আগামীতে ধ্বংস ডেকে আনুক কিংবা সৃষ্টির উল্লাস সৃষ্টি করুক। সবাই সবার মনের কথা ভাল মন্দ যা ইচ্ছা তাই বলবে, এ তো ভালো কথা কিন্তু কেউ কারও মনের মত হবে না। আসলে সবার মনের মত হওয়ার চেষ্টা করাটাই ভুল। কারণ, কেউ মানুক না-মানুক এখন বর্তমান সময় ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে ঘোর কলি যুগ। তাই এখন মনের জগতে সবাই অস্থির ও নেগেটিভ। তাই কেউ কারও মনের মত হ'তে পারবে না। আমিও হ'তে পারবো না, কেউ আমারও মনের মত হবে না।

তাই, আমি নিজেকে নিজে বলি, তুমি একমাত্র ঈশ্বরের আর কারও না, আর তাই তুমি ঈশ্বরের মনের মত হওয়ার চেষ্টা করো, তা'হ'লে হয়তো সবার মন জয় করলেও করতে পারবে, না করতে পারলেও কোনও দুঃখ নেই। আর এর ফলে পৃথিবী একদিন হয়তো হ'লেও সুন্দর হ'তে পারে।
প্রকাশ বিশ্বাস,
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া।


ঈশ্বরের শহর ও উঁচু জীবন শৈলী।

প্রকাশ বিশ্বাস।
ঈশ্বরের একটা শহর আছে, যাবে নাকি?
যদি চাও যেতে, তবে এসো তুমি চ'লে,
বাকীটা বুঝে নেবো আমি।
হাত ধরাধরি ক'রে চলে যাবো সেই শহরে
প্রিয়পরমের ডাকে তুমি আর আমি।

তুমি বলতে পারো, যেমন বলেছে শক্তি
"যেতে পারি, তবে কেন যাবো?" দিয়ে যুক্তি।
আমি বলি কি, চোখে ঠুলি পড়িয়ে, কানে তুলো জড়িয়ে
অনেক তো দেখলে, শুনলে অনেক,
পা ফাঁক ক'রে, মাথা শূন্যে তুলে,
হাওয়াই ধোঁয়ার রিং ছেড়ে মাথা টলিয়ে, কথা জড়িয়ে
উর্ধ্বে মুষ্ঠিবদ্ধ হাত ছুঁড়ে আল-বাল বকলে তো অনেক।
কিন্তু সত্যি ক'রে বলো তো বুঝলে কি কিছু?
দিন গেল ঢ'লে, ষঢ় রিপুদের কোলে কোলে
ভেসে ভেসে বেড়ালে না ভেবে আগুপিছু।
বৃত্তি-প্রবৃত্তির টানে, ষঢ় রিপুরা নিয়ে গেল
কুত্তার মত হিঁচড়ে টেনে, শেষের ভয়ংকর সেদিনে;
মরণের কোলে জড়িয়ে রইলে পড়ে
রইলো না জীবনের অবশিষ্ট আর কিছু।
নিজের দোষে সমস্যার হাজারও জালে জড়িয়ে
নিজে জর্জরিত তুমি কাটাচ্ছো সমাধানহীন রাত
আর যাচ্ছো অন্যের সমস্যা সমাধানে বেহায়া তুমি।
শৈশব থেকে কৈশোর পার হ'য়ে যৌবনে দাঁড়িয়ে
আর প্রৌঢ়ত্ব ও বার্ধ্যকের কিনারায় হাত নাড়িয়ে
জীবন হারিয়ে হতাশা আর অবসাদকে ক'রে সাথী
অবশেষে দিন শেষে আজ বলছো, একাকী আমি।

তাই বলি,
কেউ যাবে নাকি মেঘের ওপারে ঈশ্বরের ঘরে?
যদি চাও যেতে রাখো হাত আমার হাতে
পড়ে থাক পিছনে সঞ্চিত যত পাপ আর
যদি থাকে পূণ্য যা কিছু, চলো যাই চলে যাই
ঈশ্বরের শহরে জীবন খুঁজে পাবে সেথায়
যেথা আছে জীবন শৈলী উঁচু।

Thursday, April 23, 2026

বিচিত্রাঃ ২৬০

সৎসঙ্গী বন্ধু!চলে যাবার আগে ব'লে যাই একটা কথা।
যদি থাকে তোমার ক্ষমতা তবে তোমার ও তোমার আশেপাশের অসহায় গরীব ছোট্ট শিশুর প্রতি রেখো মমতা। 
শিশুরা লিটল অনুকূল! বাড়িয়ে তোমার হাত দিও সাথ,
দিও তাদের কুল।

প্রতিটি শিশুর মধ্যে তোমার দয়াল ঠাকুর বর্তমান। 
তাদের নিষ্পাপ সরল মুখের দিকে চেয়ে দেখো 
দেখতে পাবে সেথায় তোমার দয়ালকে। 
এসো বাকী জীবন তাদের নিয়ে আনন্দ করি।

তোমার বাড়ির ও আশেপাশের শিশুদের ভালোবেসো। 
তাদের ভালোবাসলে ঈশ্বর তোমায় ভালবাসবেন। 
শিশুর শৈশব চলে গেলে তুমি ঈশ্বরকে ভালোবাসার সুযোগ হারাবে।

শিশুর শৈশব চলে গেলে তা আর ফিরে পাবে না। 
শিশুরা ঈশ্বরের দূত। তাদের মধ্যে ঈশ্বর বর্তমান। 
তাদের ভালোবাসলে ঈশ্বরকে ভালোবাসা হয়।
( লেখা ২৪শে এপ্রিল'২০২৩)

নাম করো। কোন নাম? 
পুরুষোত্তম যখন যে নাম দিয়ে যান সেই নাম! 
পূর্বের নামের উপর দাঁড়িয়ে যুগোপযোগী পরিপুরণকারী
নূতন নাম!!
( লেখা ২৪শে এপ্রিল'২০১৯)

আস্তিক-ই নাস্তিক;
বাস্তবে
নাস্তিক-ই আস্তিক।
( লেখা ২৪শে এপ্রিল'২০১৭)













































Wednesday, April 22, 2026

বিচিত্রাঃ ২৫৯

আমাকে একজন যুবক জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা, কমিউনিস্ট প্রধান দেশ চীন, কিউবা, লাওস, ভিয়েতনাম এবং উত্তর কোরিয়ায় যে যা খুশী বলবে, যে যা খুশী লিখবে, যা খুশী করবে এমন বাক স্বাধীনতা, এমন গণতন্ত্র আছে? আমি বললাম, আমি জানি না। সে বিস্ময়ে আমার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলো তারপর হতাশ য়ে চলে গেল। সে আমাকে সবজান্তা ভেবেছিল।  তাই অনেক আশা নিয়ে এসে জিজ্ঞেস করেছিল। চোখে মুখে উৎসাহ ছিল। কোনও ভয় ছিল না। কিন্তু যখন আমি তাকে বললাম, আমি জানি না, তুমি কমিউনিস্টদের জিজ্ঞেস করতে পারো। তখন সে কেন জানি না কেমন জানি একটা ফ্যাকাশে বিস্ফারিত চোখমুখে নীরবে উঠে দ্রুত চলে গেল।

আপনারা আমার ফেসবুক বন্ধুরা কেউ এর উত্তরটা বলতে পারবেন? প্রবি।

Monday, April 6, 2026

প্রবন্ধঃ কি বিচিত্র এই পৃথিবী! পৃথিবীর মানুষ!!

কখনো জিন্দাবাদ, কখনো বা মুর্দাবাদ! বালখিল্য দেশ আর বালখিল্য সব দেশের জ্ঞানী, গুণী, পন্ডিতের দল।কখন যে কে কি বলছে, কেন বলছে, কাদের বলছে, কাদের পক্ষে বলছে, জনগণ না ব্যবসায়ী কাদের হ'য়ে বলছে সব ঘেঁটে ঘঁ হ'য়ে যাচ্ছে শালা! বন বন ক'রে ঘুরছে মাথা। তেলা মাথায় তেল দিচ্ছে না শুকনো মাথায় তেল দিচ্ছে এরা তা' বুঝতেই হিমশিম খাচ্ছে মানুষ।

ছোটোবেলায় সরিষার তেল খেয়ে খেয়ে, গায়ে মাথায় মেখে বড় হয়েছি। পূর্বপুরুষ সর্ষের তেল খেয়ে এসেছে। শরীর তাগড়া হয়েছে, চামড়া মসৃণ হয়েছে, চুল হয়েছিল মজবুত। আজ যেমনভাবে প্রচার করা হচ্ছে তেমন কোনোদিন হার্ট, লিভার খারাপ হ'তে শুনিনি, শুনিনি হাঁটুর ব্যথা।

তারপর বড় হ'য়ে হঠাৎ শুনলাম ডাক্তাররা বলছেন, সরিষার তেল হার্টের পক্ষে, পেটের পক্ষে ক্ষতিকর। বাতের পরম বন্ধু। তাই আর সরিষার তেল খাওয়া নিরাপদ নয়। তাই চালু হ'লো সাদা তেল। সূর্যমুখী তেল, রাইস বান তেল অর্থাৎ চালের তুষ থেকে তেল, বাদাম তেল, জলপাই তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি নানা রকমের তেলে তেলে তেলাপিয়ার বংশবৃদ্ধির মত ভরে গেল বাজার।

ছোটোবেলায় ডালডা দিয়ে বানানো ম' ম' সুগন্ধে ভরা বাতাসে সুস্বাদু গরম গরম লুচি খেয়েছি, কখনো বা ঘিয়ে ভাজা লুচি খেয়েছি, সর্ষের তেল দিয়ে ভাজা ডগা সহ লম্বা লম্বা বেগুন ভাজা দিয়ে লুচি খেয়েছি, সর্ষের তেল দিয়ে জম্পেশ ক'রে কষানো আর ঘি দিয়ে তৈরী মাংস দিয়ে, আলুর দম দিয়ে গরম ফুলকো ময়দার লুচি খেয়েছি।
তারপর শুনলাম ডালডা আর ঘি খেলে অবধারিত স্ট্রোক, লিভার ড্যামেজ। তাই সেটাও হ'লো খাওয়া বন্ধ। বাজার থেকে উধাও হ'লো বিখ্যাত সুস্বাদু ডালডা, ঘি-এর বাজার হ'লো মন্দা।

মাখন খেতাম পাউরুটিতে লাগিয়ে, কি তার স্বাদ! পরে শুনলাম মাখন খেলে শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই মাখনের পরিবর্তে বাজারে এলো মার্জারিন। তাই পাউরুটিতে লাগিয়ে খেয়েছি কিন্তু স্বাদহীন।
একটা সময় সস্তায় পাম তেলেও বাজার চেয়ে গেছিল। সরকারীভাবে রেশনেও পাল তেল সরবরাহ হ'তো। তারপর তাও বন্ধ হয়ে গেল। কেন বন্ধ হ'য়ে গেল গরীবের ঘরের ঘি পাম তেল? কেন বন্ধ হ'য়ে গেল ডালডা, ঘিয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত পাম তেল?

তাই মানুষের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা ক'রে বুদ্ধিমান মানুষ বিকল্প হিসেবে বাজারে নিয়ে এলো ১০০% স্বাস্থ্যকর উদ্ভিজ তেল। তেলাপিয়ার বংশবৃদ্ধির মত বাজার ছেয়ে ফেলল নানারকম উদ্ভিজ তেল যাকে আমরা চলতি কথায় বলি সাদা তেল। সূর্যমুখী তেল, রাইস বান তেল অর্থাৎ চালের তুষ থেকে তেল, বাদাম তেল, জলপাই তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি নানা রকমের তেলে ভরে গেল বাজার।

এই উদ্ভিজ তেল অর্থাৎ সাদা তেল দিয়ে রান্না ক'রে খাও তরিতরকারি।মাছ, মাংস, ডিম রান্না করো সাদা তেল দিয়ে, লুচি, পরোটা, বেগুন ভাজা, আলু ভাজা, চপ, বেগুনি ইত্যাদি সব খাও সাদা তেলে। সাদা তেল জিন্দাবাদ। সর্ষের তেল, ঘি, ডালডা, মাখন মুর্দাবাদ।

এইভাবে বেশ কিছুদিন গেল। অনেক বছর ধ'রে চললো সাদা তেলের বাজার। তারপর আবার বহুদিন পর একদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় শুনলাম ডাক্তাররা বলছেন, বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা ক'রে জেনেছেন সর্ষের তেল শরীরের পক্ষে উত্তম তেল, হার্টের পক্ষে উপকারী, স্বাস্থ্যকর। আবার চালু হ'লো ঘরে ঘরে সর্ষের তেলের ব্যবহার। শুরু হ'লো সর্ষের তেলের জয়ধ্বনি। ততদিনে মানুষ অভ্যস্থ হ'য়ে গেছে উদ্ভিজ তেলে অর্থাৎ সাদা তেলে। তবুও আবার মানুষ খাওয়া শুরু করলো সর্ষের তেল ডাক্তারের আশ্বাস বাণী শুনে।

কিন্তু আজ আবার শুনছি উল্টো কথা। কি বলছেন সব জ্ঞানী, পন্ডিতরা? তাঁরা বলছেন, "অতিরিক্ত সরিষার তেল খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতির কারণ। ইউরোপের সব দেশ, USA, কানাডায় নিষিদ্ধ হয়েছে সর্ষের তেল। ভিডিওতে বলা হচ্ছে যেহেতু ক্যানাডা, ইউ এস এ নিষিদ্ধ করেছে তাই ওরাই একমাত্র জ্ঞানী পন্ডিত দেশ আর আমরা বালখিল্য ঋষির দেশ। তাই খাওয়া বন্ধ করো সর্ষের তেল।
তাহ'লে কোনটা ঠিক? কারা ঠিক? আগে যারা বলেছিল সর্ষের তেল শরীরের জন্য ভালো, উপকারী তাঁরা ঠিক নাকি যারা পরে বললো সর্ষের তেল শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর, তাঁরা ঠিক? এর কিছুদিন পরে সর্ষের তেল সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের দৌলতে তার সুনাম ফিরে পেলেও আবার তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ইউরোপের সব দেশ, USA, কানাডা। এখন সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? কোথায় যাবো আমরা?

সাধারণ মানুষ বলছে, শালা বাঁচবোই তো গড় আয়ু অনুযায়ী ৬৪ বছর। জানি না এখন গড় আয়ু বেড়েছে নাকি আরও কমেছে। জানার ইচ্ছাও নেই। আর কলিযুগে মানুষের আয়ু নাকি নির্ধারিত হয়েছে ১০০বছর। কে নির্ধারণ করেছে জানি না, জানার ইচ্ছাও নেই। শুধু এটুকু বুঝি সব শালা আধা জ্ঞানী পোঙ্গা পন্ডিতের দল। জ্ঞানী পন্ডিতদের আজ এক কথা, কাল আর এক কথা শুনতে শুনতে চার অক্ষর মানুষ শালা puzzled হ'য়ে যাচ্ছে, সবাই আজ confused.
শালা চারপাশের ভেজাল মেশানো মারাত্মক বিষ খেতে খেতে সেটাই মানুষ হজম ক'রে নিয়ে গড় আয়ু ৬৪ বছর পার ক'রে দিচ্ছে এমনকি অনেকেই ৮০ বছর এমনকি ৯০ পার ক'রে দিব্যি বেঁচে আছে এই জ্ঞানী পন্ডিতদের দ্বারা কখনো স্বীকৃত ও ঘোষিত অমৃত আবার কখনো বা স্বীকৃত ও ঘোষিত বিষাক্ত তেল খেয়ে। আর অতীতে সর্ষের তেল খেয়ে টানটান মেদহীন চকচকে শরীরে, বিনা চশমায়, বিনা কানের মেশিনে গটগট ক'রে হেঁটে চলে ফিরে বেড়াতো ৯০ উত্তীর্ণ প্রায় সবাই।

এখন প্রশ্ন জাগে মনে তাহ'লে আর কি প্রয়োজন এত বিষ খোঁজার? তাঁর থেকে বরং খুঁজুন না সমস্ত খাদ্যদ্রব্য, প্রসাধনী দ্রব্য ইত্যাদি সবেতেই রমরম ক'রে চলা ভেজাল কারবারীদের। সেদিকে নজর দেওয়ার কেউ নেই, নজর দেবার দরকার নেই। শুধু গোড়া কেটে আগায় জল ঢেলে গাছ বাঁচাবার মত বাজার জুড়ে কৃত্রিম বিষাক্ত নকল জিনিস প্রস্তুত কারবারীদের ছেড়ে বা তাদের বাঁচাবার জন্য প্রকৃতির দেওয়া দান অরিজিনাল জিনিসে কত বিষ লুকিয়ে আছে তাই খুঁজতেই ব্যস্ত বুদ্ধিমান মানুষ মানুষকে সাবধান করতে, সতর্ক করতে, বাঁচাতে!!!! তাদের কাছে প্রশ্ন, সর্ষের তেল কি উদ্ভিজ তেল নয়?

গোড়া কেটে আগায় বালতি বালতি জল ঢাললে গাছ বাঁচবে? ঠিক তেমনি ভেজাল তেলে, খাদ্যদ্রব্যে মারণ বিষ না খুঁজে প্রকৃতির দেওয়া জিনিসে কতটা বিষ আছে সেটা খুঁজলে ভেজাল বিষাক্ত তেলে, খাদ্যদ্রব্যের মারণ বিষে তৈরী খাবার খেয়ে মারণ রোগে আক্রান্ত মানুষ বাঁচবে????

কি বিচিত্র এই পৃথিবী! পথিবীর মানুষ!!
এই জন্যেই নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের (D.L. Roy) লেখা 'চন্দ্রগুপ্ত' নাটকের  
বলেছিলেন গ্রীক বীর আলেকজান্ডার, '
"সত্য সেলুকাশ কি বিচিত্র এই দেশ!!!!!"
( লেখা ৬ই এপ্রিল'২০২৫)।


Friday, April 3, 2026

বিচিত্রাঃ ২৫৮

চার অক্ষর বাঙালি সবেতেই মজা খুঁজে পায়।!!!!! 
এই জন্যেই শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছিলেন, আমার সৎসঙ্গের আন্দোলন বাংলা থেকে উঠবে না। বাংলার বাইরে থেকে উঠবে। 
অভিশপ্ত বাংলা ও বাঙালি সৎসঙ্গী।
( লেখা ১লা এপ্রিল' ২০২৫)




আমার ঠাকুরও আছে সাথে আছে বৃত্তি-প্রবৃত্তি। 
বৃত্তি-প্রবৃত্তির ইশারায় উঠি, বসি আর চলি 
আর প্রতিমুহূর্তে বলছি ঠাকুর আমার সাথী!!

ঠাকুরও আছে বৃত্তি-প্রবৃত্তিও আছে 
সাথে আছে স্বাধীনতা।
যার যেমন লাগে ভালো,
যার প্রতি যার অধীনতা।