Powered By Blogger

Thursday, February 26, 2026

বিচিত্রাঃ ২৪৩

বন্ধ হ'ক ঈশ্বরের চরণ বন্দনা;
শুরু হ'ক পালন তাঁর জীবন চলনা!

বন্ধ হ'ক ঈশ্বরের চরণ বন্দনা;
শুরু হ'ক পালন তাঁর জীবন চলনা!

ঘরে ঘরে হ'ক শুরু দয়ালের
চলন পূজা;
বন্ধ হ'ক চরণ পূজে মুক্তির স্বর্গ খোঁজা।

ঘরে ঘরে হ'ক শুরু দয়ালের চলন পূজা;
বন্ধ হ'ক চরণ পূজে মুক্তির স্বর্গ খোঁজা।
( লেখা ২৭শে ফেব্রুয়ারী'২০২১)

শ্রীশ্রীঠাকুর ও 'সৎসঙ্গ' বিরোধীরা সক্রিয়। 
বিরোধীদের মধ্যে কোটি গুণ সক্রিয় ও ক্ষতিকর 
ঘর শ্ত্রু দূর্যোধনেরা।

ঠাকুরকে মাথায় নিয়ে চলা মানে ঠাকুরের মতো হওয়া। 
ঠাকুরের মতো হও। নতুবা সব ফাঁকিবাজি ও ঠগবাজি চলন। 
প্রাপ্তি সীমাহীন যন্ত্রণা।
( লেখা ২৭শে ফেব্রুয়ারী'২০২৪)

দিনের প্রার্থনা। ১
হে দয়াল, তোমার উজ্জ্বল আলো প্রবেশ করুক সবার অন্তরে, 
সবার ঘরে, ধুয়ে যাক সব মলিনতা, ঘুচে যাক সব অন্ধকার।
( লেখা ২৭শে ফেব্রুয়ারী'২০২৫)






Tuesday, February 24, 2026

বিচিত্রাঃ ২৪২

দয়াল তোমার আছেন চেয়ে তোমার মুখপানে,
তুমি বন্ধু আছো মেতে রিপুর মত্ত টানে; 
বৃত্তি সুখের উল্লাসে প্রাণ তোমার 
উঠছে মেতে গানে।
( ২৫শে ফেব্রুয়ারী'২০১৮)

হে প্রিয়, 
শয়তানকে তোমাকে ও তোমার প্রিয়জনদের 
ছোবল মারার সুযোগ দিও না। 
দয়ালকে ঘরে প্রতিষ্ঠা করো। 
প্রিয়জন তোমার মুখ চেয়ে রয়েছে।

চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়। ঠিক কথা। 
কিন্তু দয়াল যদি থাকে ঘরে প্রাণে প্রাণে 
তাহ'লে চিরদিন সুখে শান্তিতে ভরে যায় ঘর,
এ হক কথা।

হে আমার গুরুভাইবোন,
তোমার ছোট্ট সন্তানকে দয়ালের কোল থেকে সরিয়ে দিও না, 
তোমার চারপাশ ভয়ংকর। সন্তানকে বাঁচতে দাও। 

দয়াল যদি থাকে তোমার অন্তরে 
শয়নে-স্বপনে-জাগরণে ও ভোজনে 
তাহ'লে শয়তানের বাপের ক্ষমতা নেই 
তোমায় স্পর্শ করে, তুমি থাকবে তাঁর নয়নে।

গ্রহদোষ মানে গ্রহণদোষ। 
গ্রহগুণ মানে গ্রহগুণ।
তুমি ভালো মন্দ যা গ্রহণ করবে  
তুমি জীবনে তাই পাবে। 
ভালো গ্রহণে ভালো, মন্দ গ্রহণে মন্দ,
মন্দ গ্রহণে যতই কাঁদো দয়ালের কিছুই করার থাকে না।
তুমি পাবেই মন্দ।

শনি-রাহু-কেতু ব'লে যদি খারাপ কিছু থাকে 
তাহ'লে তা' হ'লো তোমার বদ স্বভাব, তোমার চরিত্র। 
দয়ালের পরশে নিজেকে পালটাও।

যারা ঠাকুরকে ব্যাথা দিচ্ছে, কষ্ট দিচ্ছে তারা সাবধান। 
তাদের অন্তর, তাদের জীবন ব্যাথা আর কষ্টে ভরে যাবে, 
ধ্বংস অনিবার্য, শেষের সেদিন ভয়ঙ্কর।

শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ কি বলেছিলেন, 'ব্রহ্ম সত্য জগত মিথ্যা?' শ্রীশ্রীঠাকুরের এক ভক্তের মুখে ভিডিওতে শুনলাম এই কথা।

শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের আর এক ভক্তের মুখে শুনলাম, শ্রীশ্রীঠাকুর নাকি বলেছিলেন, তিনি বাউল রূপে আবার আসবেন? সত্যি?

শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণের এক ভক্ত বললেন, ঠাকুরকে এক শব্দে বলতে বলা হয়েছিল তাঁর জীবন দর্শন। তিনি বলেছিলেন, ব্রহ্ম সত্য জগত মিথ্যা।
এ কথা সত্যি!?
( ২৫শে ফেব্রুয়ারী'২০২৪)

অনৈতিক জীবন নৈতিকতার পাঠ শেখায় ছাত্র- জনতাকে!!!!!
ছাত্র-জনতা কি বেকুব!?
( ২৫শে ফেব্রুয়ারী'২০২৫)













































Tuesday, February 17, 2026

বিচিত্রাঃ ২৪১

কেউ নেই পাশে তুমি আছো সাথে 
এই মোর শক্তি।
তোমার সেবার দিও অধিকার,
দিও মোরে ভক্তি।

তোমার কাজের মাঝে আসে বাধা, 
আসে শত বিপত্তি!
কি যে করি বুঝিতে না পারি! 
তোমার প্রতি রাখিতে গভীর বিশ্বাস 
দিও প্রভু মোরে শক্তি।

ঘরে অশান্তি, বাইরে অশান্তি, 
অশান্তি বোকা বাক্সের বুকে! 
অশান্তির কালো ছায়া পড়েছে আজ 
প্রতি জীবনে মরণে ঢুকে!!

দিয়েছো যে মহান দায়িত্ব
পায় যেন তা' স্থায়িত্ব।
পারি যেন রাখিতে প্রভু তব মান
ইষ্টপ্রতিষ্ঠার তরে ঘেরে যত বাধা মোরে
হয় যেন তা' খানখান।
( লেখা ১৭ই ফেব্রুয়ারী'২০১৮)
















জিজ্ঞাস্যঃ প্রিয় বন্ধু,

PF, DA ইত্যাদি নিয়ে মাঝে মাঝেই লেখা চোখে পড়ে। লেখাগুলি পড়তে পড়তে Pension সংক্রান্ত একটা বিষয় মনে এলো। রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের পেনশন ছাড়া সারা ভারতে কলে-কারখানায় বা ছোটোবড় অনেক বেসরকারী কর্মস্থলে কাজ করা কর্মচারীদেরও পেনশন আছে। কিন্তু তাদের পেনশন অত্যন্ত সামান্য। আর রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারী, ব্যাংক কর্মীদের পেনশন চোখ ধাঁধানো। নতুন চাকরীতে জয়েন্ট করলে যে মাহিনা পাওয়া যায় সরকারী কর্মচারীদের পেনশনও প্রায় তাই শুধু নয় কখনও কখনও তার চেয়েও অনেক গুণ বেশী। সরকারী কর্মচারীদের ডি.এ বাড়লে পেনশনভোগীদেরও সেই অনুযায়ী পেনশন বাড়ে। কিন্তু সারা ভারতের বেসরকারী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পেনশন যেন বিধবার খুদ কুঁড়ো!? কেন? বেসরকারী পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে পেনশনের পরিমাণ কি বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী বাড়ানো যায় না? ভারতবর্ষে বেসরকারী ক্ষেত্রে সম্মিলিত পেনশনারদের সরকারী কোষাগারে জমা টাকার পরিমাণ কত কোটি এই তথ্য কি জানা যেতে পারে? সেই সম্মিলিত টাকা কোথায় খাটানো হয়? সেই খাটানো টাকার আয়ের পরিমাণের সম্পূর্ণটাই কি বেসরকারী পেনশনরদের ক্ষেত্রেই খরচ হয়? বেসরকারী পেনশনারদের ক্ষেত্রে সরকারী পেনশনারদের নীতি কি প্রযোজ্য? এই ব্যাপারে কি বিস্তারিত আলোচনার মধ্যে দিয়ে আলোকপাত করা যেতে পারে? কেউ কি এই বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে পারেন? অপেক্ষায় রইলাম।
( লেখা ১৭ই ফেব্রুয়ারী'২০১৭)

Sunday, February 15, 2026

বিচিত্রাঃ ২৪০

একটাই তো জীবন,
একবারই তো সফর; 
আর
কত রাখবি পুষে তোর বুকে
বন্ধু হিংসা দিনভর!?

এই পৃথিবীতে আগে এসেছিলাম কিনা জানি না, 
আবার আসবো কিনা তাও জানি না, 
শুধু জানি এ জীবনে এসে করলাম 
শুধু ভুল আর ভুল, ভুল আর ভুল!
( লেখা ১৫ই ফেব্রুয়ারী'২০১৮)

আসন্ন লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে ক্ষমতা দখলের জন্য
দেশের নেতানেত্রীদের হুঙ্কার-পাল্টা হুঙ্কারে দেশ ছিল তটস্থ!
কাশ্মীরের পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার ঘটনায় দেশের নেতৃবৃন্দ
সমস্বরে কেন বদলার জন্যে গর্জে উঠে দেশকে করছে না আস্বস্ত!?

মোদীজি, শোকে বিহ্বল হওয়া নয় রাষ্ট্রধর্ম, 
শোকবার্তায় কাজ শেষ নয়!
ইমরানের বাউন্সারের বিশাল ছক্কা মারার 
এই তো মোক্ষম সময়!

হে ভারত! আর কবে প্রমান হবে, হাম কিসিসে কম নেহি!?
হে জওয়ান! হোক ভয়ংকর মহাপ্রলয়,
বন্ধ হ'ক কথার তানাশাহী!

মোদীজি! 
যে হিংস্র তাকে অহিংসার নামতা পড়ালে কি সে বুঝবে!? 
আর, অহিংসার নামাবলী জড়িয়ে আমেরিকা কি বলবে, 
চীন কি বলবে তা খুঁজবে!?

ঘরে বাঘ আর বাইরে বেরোলেই ছাগ!?
শালা হাগতে হবে না ঘরে
বাইরে গিয়ে হাগ!
ভাগ! শালা ভাগ!!

মোদীজি! সামঞ্জস্যবাদ হ'ক রাষ্ট্রধর্ম!
যার পেট খারাপ তার জন্যে যে পথ্য
সেই পথ্য যার পেট ভালো তাকে দেওয়া নয় সঠিক কর্ম!

'মুখে মারিতং জগৎ' ভারত
জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লভে!
(লেখা ১৫ই ফেব্রুয়ারী'২০১৯)

সত্যকে যাদের ভালো লাগে না 
তারা মিথ্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়। 
সত্য ফ্যাকাশে মিথ্যে রঙিন ঝলমলে! 
তাই নিশ্চিত ক্ষয়!!
(লেখা ১৫ই ফেব্রুয়ারী'২০২০)

ইষ্টভৃতি গ্রহণ মানে জীবন্ত ঈশ্বরের দ্বারা
তোমার জন্মজন্মান্তরের পাপ গ্রহণ।
কোনও মানুষের পক্ষে কোনও মানুষের
পাপ গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
(লেখা ১৫ই ফেব্রুয়ারী'২০২৫)


































Saturday, February 14, 2026

বিচিত্রাঃ ২৩৯

ঈশ্বর-ভগবান মানি আর মানি না ব'লে 
যারা করছে চিল চিৎকার!
মানা-না মানা ব্যক্তিগত অনুভূতি-গভীর জ্ঞান! 
চিৎকার মূর্খামি-অহংকার!!

'মা-বাবাকে ভালোবাসি! মা-বাবাই আমার ভগবান!' 
ব'লে মারছো হাঁকডাক!
ভালোবাসা ও ভগবান এত সহজ-সস্তা-ঠুনকো নাকি 
যে পেটাচ্ছো ঢাক!?

যে যে-ভাষা বোঝে তাকে সেই ভাষায় জবাব দেওয়ায় রাষ্ট্রধর্ম।
(১৪ই ফেব্রুয়ারী'২০১৯)

স্থির জলে ঢিল পড়লে যেমন বুদবুদ ওঠে
ঠিক তেমনি দয়ালের কাছে এলে পরে চাপা পড়া 
'আমি-আমি, আমার-আমার' জেগে ওঠে, দুর্গন্ধ ছড়ায়। 
নিজেকে, নিজের স্বভাবকে চেনা যায়, জানা যায়! 
তখন নিজেকে শুধরে নেবার সুযোগ আসে। 
সেই সুযোগ হারালে বৃথা হ'য়ে যায় ইহকাল-পরকাল!!

মনের পিছনে ছুটো না বন্ধু, 
মন তোমায় পাগল কুকুরে পরিণত করবে। 
পাগল যদি হ'তে হয় পাগল হও ঈশ্বর প্রেমে! 
শরীর-মন-আত্মা শুদ্ধ হবে!!

'আমি-আমি, আমার-আমার' ব'লে পাগল হ'লে 
কেউ তোমার কেন্দ্রও নয়, কেন্দ্রও তোমার নয়! 
দিন শেষে ঘেয়ো কুকুরের মত পথে পথে ঘুরে মরতে হয়!!

হিংসা ক'রো না বন্ধু! 
হিংসার আগুনে আর যাই-ই পুরুক না পুরুক 
অন্তর তোমার পুড়ে খাক হ'য়ে যাচ্ছে! 
পোড়া অন্তরে সব পোড়া লাগবে।

সত্যকে অস্বীকার ক'রে মিথ্যাকে আশ্রয় ক'রে 
নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে যেও না! 
শেষের দিনে মিথ্যের পাহাড়ের মাঝে 
দেখবে তুমি একা!!
 (১৪ই ফেব্রুয়ারী'২০২০)












Friday, February 13, 2026

প্রবন্ধঃ আশা ও গভীর বিশ্বাস (২য় পর্ব)।

১ম পর্বে আমি শিল্প ধর্মঘট নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আপনারা যারা পড়ছেন এই আর্টিকেল তাদের অনুরোধ করবো এই আর্টিকেলের ১ম পর্ব পড়ার জন্য। তাহ'লে আপনা্দের লিঙ্কটা ধরতে সুবিধা হবে।
এবার ভর্তুকির প্রসঙ্গে বলি।
ভর্তুকি তুলে দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা ও বিরোধীতা করেছিল দেশের বিরোধী দল বাম্ফ্রন্ট। সেই বিষয়ে জনগণকে আগাম সতর্ক করেছিল ব'লে দাবী করা হয়েছে ফেসবুকে একজনের একটা আর্টিকেলে, যে আর্টিকেলের বক্তব্য বিষয় নিয়ে আমার এই লেখা। ভর্তুকি তুলে দিলে জনগণের ওপর ভয়ংকর আর্থিক চাপ নেমে আসবে ব'লে সাবধান ক'রে দিয়েছিল বামপন্থীরা আর বাস্তবে সত্যি সত্যিই তার প্রতিফলন ঘটেছে ব'লে দাবী করছে তারা।

এখন আমার জিজ্ঞাস্যঃ
ভর্তুকি দিয়ে কি সত্যি সত্যিই দেশ চালানো যায়? ভর্তুকি কি কোনও দেশকে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে শক্তিশালী করতে পারে? ভর্তুকি কতদিন দেওয়া যেতে পারে? কি করলে ভর্তুকি চিরকালের জন্য তুলে দেওয়া যায় এবং ভর্তুকির প্রয়োজন না পড়ে তা' ভেবে দেখার কি এখনও সময় আসেনি? দেশ স্বাধীন হয়েছে ৭৮বছর, কোনোদিনই কি দেশ ও দেশের কোনও রাজনৈতিক দল ভাববে না? শুধু 'ধর তক্তা মার পেরেক' মনোভাব নিয়ে ও রাজনৈতিক দর্শনে দল, সরকার ও দেশ চালাবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। যারা নেতা হবে, যারা দেশ পরিচালনা করবে, দেশ চালানোর জ্ঞান দেবে তারা কি ভাববে না এই বিষয়ে? লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচের থেকে কম দামে গ্যাস বা অন্যান্য কিছু জনগণকে সরবরাহ করা হ'লে তা' কতদিন সরকারের পক্ষে বহনযোগ্য? দেশের অগ্রগতির পক্ষে কতটা পজিটিভ পদক্ষেপ? ভর্তুকি তুলে দিয়ে জনসাধারণের ওপর দামের বোঝা বাড়িয়ে দেওয়া কেন হচ্ছে এই ধরণের কথা বলে জনগণকে এখনও কেন সত্যের আলোর মুখোমুখি হওয়া থেকে মিথ্যের অন্ধকারে রাখা হচ্ছে? ভর্তুকি কি কোনও দেশের সার্বিক উন্নতির চাবিকাঠি হ'তে পারে? ভর্তুকি যদি দিতেই হয় তবে তাহ'লে জনগনকে জানিয়ে দেওয়া হ'ক এই ভর্তুকির ফলে দেশের কতটা লাভ বা ক্ষতি হচ্ছে।

আর, ভর্তুকি যদি দিতেই হয় পুরোপুরি দিক। বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন রকম ব্যবস্থা কেন? কোথাও কোথাও কোনও কোনও রাজ্যে জনগণের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে বিদ্যুৎ, জল ইত্যাদি নানারকম ফ্রি ব্যবস্থা আছে। আবার নানারকম ভাতাও আছে বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে। বাম্ফ্রন্ট আমলে প্রথম ভাতা চালু হয়। বেকার ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা, বন্ধ কল কারখানা এবং বন্ধ চা বাগান শ্রমিকদের আর্থিক অনুদান ইত্যাদি। এখন তা' নানারকম ডালপালা মেলে বিরাট মহীরুহে পরিণত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে বেকারদের ভাতা দেওয়ার ও বন্ধ শ্রমিকদের আর্থিক অনুদান দেওয়ার পরিবর্তে বেকার ভাতা যাতে দিতে না হয়, কলকারখানা যাতে বন্ধ না হয় তার জন্য কেন মূল সমস্যার সমাধানে যত্নশীল হয়নি তৎকালীন ৩৪ বছরের সরকার?

যাই হ'ক, চটজলদি সস্তা পদক্ষেপ চিরকালীন সমস্যা সমাধান করতে পারে না। গোড়া কেটে আগায় জল ঢালার মানসিকতা দেশের শাসকদের মগজকে ডাস্টবিনে পরিণত করে। ফলে নিজের খোঁড়া গর্তে নিজেরই সলিল সমাধি হয়। আর, অন্তিমে ভয়ঙ্কর ফল ভোগ করবে দেশের ১৪০কোটি জনগণ সস্তার তিন অবস্থার ফর্মূলায়।
কিন্তু এর থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য কোনও সদর্থক উদ্যোগ ও মানসিকতা নেই। সততার সঙ্গে অতীতের ভুল স্বীকারের অকপট মানসিকতা ও দীর্ঘমেয়াদী বলিষ্ঠ স্বচ্ছ ও স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা প্রয়োজন। নতুবা দিন শেষে হাতির বাতকর্ম হওয়ার ঘোষণার মতন পরিণতি হবে।

আমার আশা ও গভীর বিশ্বাস নোতুন প্রজন্ম শুধু পথেঘাটে, মাঠে-ময়দানে মিছিলে মিটিঙে উদ্দন্ড গলাবাজি আর পর দোষ অন্বেষন ক'রে বৃথা সময় নষ্ট করবে না। কারণ ন্যাড়া বেলতলায় একবারই যায়। মানুষকে বোকা বানিয়ে সাময়িক সামান্য লাভ হ'লেও হ'তে পারে কিন্তু আখেরে নিঃশব্দ গভীর ভয়ঙ্কর পতন অবশ্যম্ভাবী। সাম্প্রতিক বাংলাদেশের বর্তমান ১২ই ফেব্রুয়ারি'২০২৬-এর নির্বাচন জ্বলন্ত প্রমাণ। বাংলাদেশের প্রধান উপাদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইনে অবৈধ ও অগণতান্ত্রিকভাবে পিছনের দরজা দিয়ে বিদেশী শক্তির মদতে ক্ষমতার লোভে সিংহাসনে বসার মাত্র ১৯ মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁর মিথ্যে রঙ্গীন কথার ফানুস ফেটে গেল। জনগণই যে শেষ কথা আবার প্রমাণ হ'লো।
প্রকাশ বিশ্বাস।
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া।
ক্রমশ ( পরবর্তী ৩য় পর্বে)।