Powered By Blogger

Tuesday, August 18, 2026

প্রবন্ধঃ ভারতে সম্ভব?

অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়ে যারা মিথ্যে রীল বানিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের সতর্ক করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়। কিন্তু এই সতর্কতা শুধু অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়ে রীল বানানোর মধ্যেই সীমিত? দেশজুড়ে কি হচ্ছে? প্রকাশ্যে মাঠে-ময়দানে, রাস্তাঘাটে এবং রীল, ভিডিও বানানোর মধ্যে দিয়ে দেশের ছোটো থেকে বড় কিশোরকিশোরী, তরুণতরুণী, যুবকযুবতী থেকে শুরু ক'রে প্রৌঢ়প্রৌঢ়া থেকে বার্ধ্যকের দরজায় পৌঁছে যাওয়া মানুষ পর্যন্ত কি বলছে, কি করছে!? এ আমরা কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি? জানুক না জানুক, বুঝুক আর না বুঝুক গোয়েবলস জীবন্ত হ'য়ে উঠেছে ভারতের ধর্ম, রাজনীতি, শিক্ষা ইত্যাদি সবক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সমাজ জীবনে। গোয়েবলসীয় কায়দায় সীমাহীন মিথ্যে কথা বলা, অসত্য পরিবেশন করা ও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হ'য়ে চলেছে। কথাবার্তার মধ্যে দিয়ে, ভাষা উচ্চারণ ও আচরণের মধ্যে দিয়ে অশ্লীলতা ও যৌনতার খুল্লমখুল্লা ছড়াছড়ি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়াকে আশ্রয় ক''রে সমাজের গভীরে। এ এক ধ্বংসের অশনি সংকেত!

এইসবের বিরুদ্ধে সত্যের প্রচার, সতর্কীকরণ ও কড়া সরকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা দল মত নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের জন্য মঙ্গল। মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর পোষ্ট বন্ধ হ'ক, নতুবা ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম বন্ধ হ'ক ভারতে চিরতরে যদি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর পোষ্ট, নোংরা অশ্লীল নীল ছবির মত রীল পোষ্ট বন্ধ না করা যায়। সমাজ, সভ্যতা আজ ধ্বংসের কিনারায়। তবুও ভারতের মত ঐতিহ্যশালী দেশ একসময়ে সব বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী দেশের মানুষের ঘুম ভাঙছে না। ইয়ং জেনারেশনের যে মেরুদন্ড ভেঙে চুরমার হ'য়ে যাচ্ছে যা' প্রতিনিয়তই দেখতে পাচ্ছি দেশজুড়ে ঘটে চলা নানা অশ্লীল, অশালীন ঘটনায় তবুও ভারত আজও পিপুফিশু মানসিকতার আমেজে ডুবে আছে। যে যা ইচ্ছা করছে ভারতে। সবার বাক স্বাধীনতা আছে।

আর, মনে হচ্ছে সেই স্বাধীনতার দাবীতে উর্ধ্বে বাহু তুলে লম্ফঝম্প মেরে সবাই যা ইচ্ছা তাই করার, বলার, পোষ্ট করার আইনি লাইসেন্স পেয়ে গেছে। কারণ আমরা স্বাধীন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা আমাদের আছে। আগেও দেখেছি বহুবার দেশের অভ্যন্তরে ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে স্বাধীনতার উচ্ছৃঙ্খলতা কা'কে বলে, এবারও ভিডিওতে দেখলাম পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ও মুখ্যমন্ত্রী্র মাকে নিয়ে এক স্কুল ছাত্রের মুখে এবং দিল্লীর যন্তর মন্তরেও দেখলাম দেশের প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর মাকে নিয়ে এক অল্প বয়সী ছাত্রীর মুখে কানে গরম সীসা ঢেলে দেওয়ার মত অশ্লীল যৌন গালাগালি করতে, আর দেখলাম অন্য একটি রিলে এক অল্প বয়সী ছাত্রীর মুখে শুনলাম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে পিরিয়ডস ও প্রেগন্যান্ট সংক্রান্ত অশ্লীল কথা বলতে। অবাক হ'য়ে যায়, এরা দেশের ভবিষ্যৎ এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পিতামাতা!!!!!

পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বললেন,
"অবাধে ভালো করতে পারাই
স্বাধীনতা কয়,
উচ্ছৃঙ্খলের প্রশ্রয় পাওয়া
স্বরাজ কিন্তু নয়।"
"অবাধে ভাল করতে পারে
সেই তো স্বাধীন,
উচ্ছৃঙ্খলায় মরণ আনে
তাই তো পরাধীন।"

আবার, আইনের শাসনে অনুচ্ছেদ ১৯(১)(এ): মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সম্পর্কে বলছে, ভারতের প্রতিটি নাগরিকের নিজের মত, বিশ্বাস ও ভাবনার কথা লেখার মাধ্যমে, বলার মাধ্যমে, ছবি এঁকে বা অন্য কোনো উপায়ে প্রকাশ করার পূর্ণ অধিকার আছে। আর, ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(২) বলছে, মত প্রকাশে স্বাধীনতা সম্পর্কে একটা যুক্তিসঙ্গত নিষেধাজ্ঞা বা সীমা থাকতে হবে।

ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(২)-এ এই নিষেধাজ্ঞা বা সীমা থাকার কথা বলছে কারণ এই মত প্রকাশের স্বাধীনতা যদি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা রক্ষা করার জন্য থ্রেট হ'য়ে দাঁড়ায়, দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, দেশের জনশৃঙ্খলা যদি নষ্ট করে, বিদেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে যদি এই স্বাধীন মতপ্রকাশের ফলে সুসম্পর্ক নষ্ট হয়, স্বাধীন মতপ্রকাশ যদি শালীনতা নষ্ট করে, সদাচার নষ্ট করে, কারও মানহানি করে, কোনও অপরাধ সংগঠিত করার জন্য উসকানি হ'য়ে থাকে এবং আদালতের অবমাননা হ'য়ে থাকে তাহ'লে তাকে আটকাবার জন্য, রোধ করার জন্য স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে আইনের অনুচ্ছেদ ১৯(২) ধারা রাখা হয়েছে এবং এই ধারার মাধ্যমে একটা মত প্রকাশের একটা যুক্তিসঙ্গত নিষেধাজ্ঞা বা সীমা টানা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই ধারা কি আমাদের দেশে লাগু আছে? আমাদের দেশে তো নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ, শিক্ষাবিদ, ধার্মিক ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে যে যা ইচ্ছা প্রকাশ্যে বলছে, মুখে কোনও লাগাম নেই। নেতানেত্রী, বিধায়ক, সাংসদ, মন্ত্রী, শিক্ষাবিদ, কবি, সাহিত্যিক, অভিনেতা সবাই প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে লাগামছাড়া অশ্লীল ও ভয় দেখানো এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক কথা বলছে, ভাষণ ও বিবৃতি দিচ্ছে। মনে হচ্ছে ভারতবর্ষে যেমন ইচ্ছা তেমন শারীরিক ও মানসিক উলঙ্গ হ'য়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করা যায়।

এটা তো আমরা সবাই প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি ধর্ম, রাজনীতি, শিক্ষা ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে শালীনতা, মানহানি রক্ষা হচ্ছে কিনা ও শৃঙ্খলা, শান্তি, নিরাপত্তা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(২)-এ নিষেধাজ্ঞা বা সীমা থাকার কথা কঠোরভাবে মানা হচ্ছে কিনা এবং সেটা দেশের আম জনতা সবাই দেখতে পাচ্ছে। এ সমস্তই মানসিক ব্যাধি। রীল, ইউ টিউব, ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম, টুইটার, হোয়াটস আপ ইত্যাদির মধ্যে এইসমস্ত বিষাক্ত সংক্রামক মানসিক ব্যাধি ছড়িয়ে দেশের আনাচে কানাচে প্রত্যন্ত প্রদেশে।

যাই হ'ক, এসব সরকারী সিদ্ধান্তের ব্যাপার। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগে আমার পার্শ্ববর্তী বৃহৎ শক্তিশালী দেশ চীনের মূল ভূখণ্ডে কেন টুইটার বর্তমানে এক্স), ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রা্‌ম, ইউ টিউব, গুগুল, হোয়াটসঅ্যাপ সব সম্পূর্ণ বন্ধ এবং নিষিদ্ধ? ২০০৯ সাল থেকে ফেসবুক, টুইটার, ইউ টিউব এবং ২০১০ সাল থেকে চীনে গুগলের সার্চ ইঞ্জিন পুরোপুরি বন্ধ এবং ২০১৪ সাল থেকে গুগুলের সব রকম সেবা যেমন জি মেইল এবং ইনস্টাগ্রাম চীনে ব্লক করা আছে। ২০১৭ সালে হোয়াটস আপ বন্ধ ক'রে দেওয়া হয়। চীন সরকারের কঠোর ইন্টারনেট সেন্সরশিপ ব্যবস্থা বা 'গ্রেট ফায়ারওয়ালের' মাধ্যমে বিদেশি সামাজিক মাধ্যমগুলো ব্লক করা হয়েছে। সরকারের তথ্য প্রবাহের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং স্থানীয় প্রযুক্তি শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের বদলে চীনে নিজস্ব অ্যাপ যেমন উইচ্যাট (WeChat) এবং ওয়েবো (Weibo) ব্যবহার করা হয়।

সাধারণ উপায়ে চীনের ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এই অ্যাপগুলো চালানো যায় না। তবে পর্যটক বা প্রবাসীরা দেশটিতে ভিপিএন (VPN), আন্তর্জাতিক রোমিং অথবা বিশেষ ট্রাভেল ই-সিম (eSIM) ব্যবহার করে এই নিষিদ্ধ সেবাগুলো সচল করতে পারেন।
চীন সরকারের কঠোর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং দেশীয় ব্যবসাকে সুরক্ষা দেওয়ার নীতির কারণে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিস্তারিতভাবে যদি আলোচনা করলে দেখা যাবে মূল কারণগুলি হ'লো,

১) ২০০৯ সালে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের বড় দাঙ্গার পর টুইটার ও ফেসবুক ব্লক করা হয়। বিক্ষোভকারীরা টুইটার ও ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছিল।

২) চীন সরকার তাদের দেশের ইন্টারনেটে যেকোনো রাজনৈতিক সংবেদনশীল বিষয় বা সরকারের সমালোচনা মুছে দিতে চায়। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম চীনের এই সেন্সরশিপ নীতি মানতে রাজি হয়নি। ২০১৪ সালে সালে হংকংয়ের 'ছাতা আন্দোলন' (Umbrella Movement)-এর বিক্ষোভের ছবি ছড়ানো আটকাতে ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করা হয়। ২০১৭ সালে হোয়াটস আপের এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন (End-to-End Encryption) ফিচারের কারণে চীন সরকার হোয়াটস আপ সম্পূর্ণ ব্লক করে দেয়।

৩) চীন বিশ্বাস করে তাদের সাইবার জগতের ওপর বাইরের কোনো দেশের বা কোম্পানির হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। এটা তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়।

চীন সরকারের নিয়ম হলো সব ব্যবহারকারীর তথ্য বা ডেটা চীনের ভেতরের সার্ভারে রাখতে হবে। ফেসবুক ও মেটা (Meta) চীনের এই সংরক্ষণের শর্ত মানেনি।

মার্কিন কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকা অ্যাপগুলোর মাধ্যমে চীনের নাগরিকদের তথ্য আমেরিকার কাছে চলে যেতে পারে, এই ধরণের বিদেশী নজরদারী চীনের নিরাপত্তা আশঙ্কার বড় কারণ।
এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা জারী করার কারণে বিদেশি অ্যাপ চীনে বন্ধ থাকায় চীনের নিজস্ব প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বড় হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম না থাকায় উইচ্যাট (WeChat), ওয়েবো (Weibo) এবং ডুইন (Douyin - যা বিশ্বজুড়ে টিকটক নামে পরিচিত) সম্পূর্ণ চীনা বাজার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে চীনের অর্থনৈতিক সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে।

চীন ছাড়াও বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি দেশে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেমন, উত্তর কোরিয়া, ইরাণ, রাশিয়া, মিয়ানমার, তুর্ক্মেনিস্তান এবং নেপালে সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময়ে সাম্প্রতিক সময়ে নেপাল সরকার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (টুইটার) এবং ইউটিউবসহ প্রায় ২৬টি প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে।

এছাড়া আনন্দের বিষয় যে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং ব্রাজিলের মতো বেশ কিছু গণতান্ত্রিক দেশে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ছাড়া শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অনুর্ধ্ব ১৫ বা ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চীন বা অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং ব্রাজিল দেশগুলির মতো ভারতে এই সম্পূর্ণরকমে নিষিদ্ধ বা ব্লক করার পদক্ষেপ গ্রহণ কি সম্ভব?

এসব দেখে ভাবি, ভারতে মতপ্রকশের ক্ষেত্রে আইনের অনুচ্ছেদ ১৯(২) ধারা যে রাখা হয়েছে তা' প্রকাশ্যে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গোয়েবলসীয় কায়দায় সীমাহীন মিথ্যে কথা বলা, অসত্য পরিবেশন করা ও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং কথাবার্তার মধ্যে দিয়ে, ভাষা উচ্চারণ ও আচরণের মধ্যে দিয়ে অশ্লীলতা ও যৌনতার খুল্লমখুল্লা প্রচারের মধ্যে দিয়ে যে ভারতীয় সংবিধানের আইনের অনুচ্ছেদ ১৯(২) ধারা লঙ্ঘন হচ্ছে সেই লঙ্ঘনের জন্য কোনওরকম আইনি কুটকচালি ঘোরপ্যাঁচ ছাড়া এই ধারা কঠোরভাবে লাগু হচ্ছে কি বা লাগু সম্ভব?

আর, অন্তত ১৫ বা ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষার জন্য অ্যাকাউন্ট খোলার বয়সের ওপর কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ আইন করে নিষিদ্ধ করা কি সম্ভব???
প্রকাশ বিশ্বাস।
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া। 
( লেখা ৯ই আগষ্ট'২০২৬ রবিবার)


ভাবনাঃ মানবধর্ম ও মানবতা।

মানবধর্ম ও মানবতা নিয়ে সবসময় বালখিল্যের মতন চীৎকার চেঁচামেচি হ'য়ে চলেছে মিছিলে মিটিং ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মে। কে কতবড় মানবধর্ম পালনকারী ও মানবতাবাদী তার প্রতিযোগীতা চলেছে গলা ফাটিয়ে, নীল মূত্রপাত ঘটিয়ে মিছিলে, মিটিঙে, লেখায়, বক্তৃতায়।

মানবধর্ম ও মানবতা শিশুর হাতের রঙ্গীন খেলনা নয়। কোনও রকম 'খেলা হবে, খেলা হবে' ব'লে বটতলার উন্মাদ মানসিক রোগীর উল্লাস নয়।
যারা মানবধর্ম পালন করে, মানবতা যাদের হৃদয়ে উজ্জীবিত তারা মানবধর্ম পালন ও মানবতা নিয়ে বিজ্ঞাপন করে না, সরব হয় না। যারা মানবধর্ম পালন করে, মানবতা যাদের হৃদয়ে উজ্জীবিত তারা নীরবে তা' করে, ডান হাত দিয়ে দান করলে বাঁ হাত না জানার মত মানবতা প্রকাশ তার নিভৃত অন্তরের ব্যাপার। সর্বক্ষণ তার ভাবনার মধ্যে থাকে। মানবধর্ম ও মানবতা পোশাকে নয় চরিত্রে প্রকাশের ব্যাপার। মানবধর্ম ও মানবতা নিয়ে মিছিল মিটিং, তর্কবিতর্ক করার অর্থ কপটতা ও ভন্ডামি। যেমন ফাঁকা কলসীর আওয়াজ বেশী, ভরা কলসীর আওয়াজ নেই। প্রবি।
( লেখা ১০ই আগষ্ট'২০২৬ সোমবার)।

ভাবনাঃ সংখ্যাতত্ত্ব ঈশ্বরের পরিচয় নয়।

সংখ্যায় বেশী বা সংখ্যায় কম এই তত্ত্ব ঈশ্বরের পরিচয় নয় ও এই তত্ত্ব দিয়ে তাঁকে প্রকাশ করা যায় না। পৃথিবীতে কোন ভাষায় কে বেশী কথা বললো আর কোন সম্প্রদায়ের লোক সংখ্যা বেশী অতএব সেখানেই স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তা অর্থাৎ ঈশ্বর, আল্লা বা গড যে নামেই তাঁকে ডাকি না কেন তিনি বিরাজমান বা যুগের প্রয়োজনে তিনি নেমে আসবেন সেই বেশী ভাষায় কথা বলা বা সংখ্যায় বেশী লোক যে সম্প্রদায়ের মধ্যে সেই সম্প্রদায়ের মানুষ মায়ের গর্ভে আর যেখানে যে সম্প্রদায়ের লোকসংখ্যা কম সেখানে সেই সম্প্রদায়ের মানুষ মায়ের গর্ভে তিনি নেমে আসেন না এই সংখ্যা তত্ত্ব দিয়ে তাঁর আসা, না-আসাকে বিচার করা যায় না। বিচার করা যায় না কোথায় তিনি আসবেন, না-আসবেন সেটা তাঁর মর্জি মাফিক ব্যাপার। আর এই ধরণের কথা যারা বলে সেটা তাদের অর্বাচিনের মত কথা বা চিন্তা ভাবনা।

সংখ্যা দিয়ে ঈশ্বরের নেমে আসার মাপকাঠি বিচার হয় না। সংখ্যা মানদণ্ড নয়। মানদণ্ড হ'লো কোথায় ও কোন জমিতে নেমে আসবেন সেইটা স্রষ্টার একান্ত নিজের ব্যাপার। তিনি যেখানে নেমে আসার উপযুক্ত পরিবেশ আর ফার্টাইল জমি পাবেন ও উন্নত বীজ পাবেন সেইখানেই তিনি নেমে আসবেন। ধর্মপ্রাণ, সদাচারী, সৎ, সরল, ভালোবাসাময় মানুষ তাঁর নেমে আসার আধার। আবার যেখানে সেখানে অশ্রাব্য কুশ্রাব্য গালাগালি করা, কানে গরম সীসা ঢেলে দেওয়ার মত অশ্লীল ভাষায় কথা বলতে অভ্যস্ত সাবলীল, উচ্ছৃঙ্খল, শালীনতাহীন, অসদাচারী নারীর গর্ভে বিশ্বব্রহ্মান্ডের স্রষ্টা মানবদেহে নেমে আসেন না। সেখানে সাপ, ব্যাঙ, ছুঁচো,, ইঁদুর মানসিকতার আত্মা নেমে আসে। আর, এই মানসিকতার মানুষের মধ্যে সব ধর্মের মধ্যে ধর্মীয় পোশাকটাই আজ মুখ্য হইয়ে দাঁড়িয়েছে আর গৌণ হ'য়ে গেছে চরিত্রের প্রকাশ।

আর, সৃষ্টিকর্তার নেমে আসার জন্য তেমন জমি চাই ও বীজ চাই অর্থাৎ পুরুষ-নারী চাই, মা চাই, বাপ চাই। আগামীতে তাঁর নেমে আসার জন্য হয়তো আর মাটি আর বীজ পাবে না স্রষ্টা। কারণ আগামী ঘোর কলি যুগ। ধ্বংসের যুগ। তার ইঙ্গিত দেশে-বিদেশে বিশ্বজুড়ে বিষবর্ষী আন্দোলনের এইসব Mental identity বিহীন বন্ধ্যা বীজ আর জমি।
প্রকাশ বিশ্বাস।
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া। 
( লেখা ১১ই আগষ্ট'২০২৬ মঙ্গলবার)


প্রবন্ধঃ নেতাজীকে অপমান এবং প্রতিবাদ আন্দোলন ও অনশন।

সম্প্রতি নেতাজীকে অপমান, অসম্মান করা ও এই অপমান, অসম্মান করার বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিবাদ, আন্দোলন নিয়ে বাংলার আকাশে আবার ঝড়ের কালো মেঘ জমা হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অনশন ইস্যু। নেতাজীকে অপমান, অসম্মান করার জন্য কেউ কেউ অনশনে বসার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছে। কিছুদিন আগে দেখেছি দিল্লীর যন্তর মন্তরে সোনম ওয়াংচুর অনশন। তারও আগে লাদাখের পরিবেশ ও পরিস্থিতি নিয়ে সোনম ওয়াংচুর অনেকবার অনশন দেখেছি। এছাড়াও ভারতে নানা ঐতিহাসিক ও উল্লেখযোগ্য অনশনও আমরা দেখেছি। কথায় কথায় দেশের নেতা, মহাপুরুষ য় মনিষীদের অপমান অসম্মান করা, প্রতিবাদে প্রতিবাদ আন্দোলন ও অনশন ফোবিয়ায় আক্রান্ত আমার ভারত।

ভারতে অনশন আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বরা হলেনঃ
১) মহাত্মা গান্ধী:
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এবং বিভিন্ন সামাজিক দাবিতে গান্ধীজি একাধিকবার আমরণ অনশন করেছিলেন।
২) যতীন দাস:
লাহোর জেলে বন্দী অবস্থায় রাজনৈতিক বন্দীদের অধিকারের দাবিতে ৬৩ দিন অনশন করে ঐতিহাসিক শহীদ হন।
৩) পোট্টি শ্রীরামুলু:
অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য গঠনের দাবিতে ১৯৫২ সালে ৫২ দিন অনশন করে প্রাণত্যাগ করেন।
৪) ইরম শর্মিলা:
মণিপুরে আফস্পা (AFSPA) আইনের বাতিলের দাবিতে দীর্ঘ ১৬ বছর অনশন চালিয়েছিলেন।
৫) আন্না হাজারে:
২০১১ সালে জন লোকপাল বিলের দাবিতে দিল্লিতে বড় ধরনের অনশন আন্দোলন গড়ে তোলেন।

এসব ইতিহাস অনশনকারী ও আন্দোলনকারীদের জানা।

এর আগেও বলেছি আবারও বলছি, যারা অনশন করেন, অনশনকে হাতিয়ার ক'রে দাবী আদায়ের আন্দোলন করেন তাদের মানসিকতাকে সম্মান ও স্যালুট জানিয়েই বলছি, তাদের ডিমোটিভেট করছি না, কোনোরকম অসম্মান করছি না, অপ্রিয় সত্যটা শুধু তুলে ধরছি।
হয়তো যারা অনশন করেন বা তাদের সমর্থনকারী ও গুণগ্রাহীদের ভালো লাগবে না এই অপ্রিয় সত্য কথা। কিন্তু সত্য সত্যই আর তা' অপ্রিয়, এটা সকলেই জানে। হয়তো তর্কের খাতিরে উদারতার ভঙ্গিতে যুক্তির পর যুক্তি খাড়া করবে তারা অনশনকারীদের লড়াইকে সমর্থন জানানোর জন্য ও আমার বিরুদ্ধতা করার জন্য। আর, অনশনকারীকে সেই সমর্থনও গোড়া কেটে আগায় জল দেবার মত। যেমন, অনশন দাবী পূরণের এক কৌশল বা পদ্ধতি, তাও গোড়া কেটে আগায় জল দেবার মত। অনশন ক'রে সমস্যার সমাধান হয় না। সাময়িক হয়তো তার প্রভাব পড়ে, চিরস্থায়ী হয় না। হয়তো অনশনকারীর আত্মত্যাগকে নিয়ে নেপোয় মারে দইয়েরা এসে প্ল্যাটফর্ম হাইজ্যাক ক'রে নেবে, রাজনীতি যুক্ত হ'য়ে যাবে। অনশনকারীরা প্রায় সময়ই দেখা যায় তারা বলেন, তারা যে উদ্দেশ্যে অনশন করেন সেই উদ্দেশ্যের প্রতি প্রেম, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা থেকেই অনশন করেন তাদের কোনও সংগঠন নেই, তারা কোনও দলের না। অথচ সংগঠন না থাকলেও তারা কারও না কারও সাহায্যে এই অনশনে বসার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, শরীর-মন স্থির করেছেন, সময়, স্থান ঠিক করেছেন আর এটাই সংগঠনের প্রথম ধাপ এবং তারপর অনশনের মধ্যে দিয়ে হয় জমায়েত আর তা' ধীরে ধীরে সংগঠনে রূপ নেয়।

আর, অবশেষে দিনের শেষে আসল মুখের আবির্ভাব হয়।
এছাড়া, অনশনকারী বলছেন অনশনকারীর সঙ্গে অসংখ্য নেতাজীপ্রেমী দাদা, ভাই ও বোনেরা আছে। হ্যাঁ আছে, দেশ জুড়ে অসংখ্য নেতাজী প্রেমী আছে, তাদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ আছে। কিন্তু এই অসংখ্য নেতাজী প্রেমীদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ পাড়ে দাঁড়িয়ে জলে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিকে সাহস ও পরামর্শ দেওয়ার মত। জলে ঝাঁপ দিয়ে বাঁচাবার মত নয়। আর, আশীর্বাদ গাছের ঝড়া ফুল বা আকাশের বুক থেকে ঝ'রে পড়া বৃষ্টির ফোঁটা নয়। আশীর্বাদ মানে অনুশাসনবাদ। যে অনুশাসন মানলে কাজে সফল হওয়া যায়, ফল লাভ হয়, মানুষের ও সমাজের মঙ্গল হয়, তাই-ই আশীর্বাদ। অনুশাসন না মেনে শুধু মাথায় হাত ছুঁইয়ে দিলে কিংবা আমার মত বালখিল্য লোকের 'আপনার লড়াইয়ে আমার সমর্থন ও আশীর্বাদ রইলো’ বলা এই কথা শুধু কথার কথা, আর সেই আশীর্বাদ প্রাণহীন। আশীর্বাদ রাস্তার বটতলার কোনও ঠুনকো খেলনা নয়। প্রচন্ড গরম, আকাশে কালো মেঘ করেছে কিন্ত বৃষ্টির ছিটেফোঁটা নেই; যদি সেই মেঘ থেকে বৃষ্টি না ঝ’রে দিন শেষে আরও প্রচন্ড গুমোট ছেড়ে দিয়ে মেঘ উড়ে যায় দূরে আরও দূরে আর অবশেষে মেঘের কোলে কোথায় হারিয়ে যায় তবে সেই কালো মেঘের কি মূল্য, কি প্রয়োজন,? অনশনও ঠিক তেমনি। যারা অনশবকারীকে আশীর্বাদ করছে, সমর্থন করছে তারা যদি সত্যি সত্যিই নেতাজীর অপমানের বদলা চায়, প্রতিকার চায় তাহ'লে তারা সবাই একইসঙ্গে অনশনকারীর সঙ্গে মঞ্চ ভাগ ক'রে নিক, একসঙ্গে সবাই অনশনে বসুক। আমার এ কথায় অনশনকারী বলতে পারেন বা তার গুণগ্রাহীরা বলতে পারে অপমানের বদলা চাই না, বদল চাই। কিন্তু দিন শেষে গিরগিটির রঙ বদলের চেয়েও দ্রুত রঙ বদলে অন্তসারশূন্য 'বদলা নয়, বদল চাই' পরিণত হয় 'বদল নয়, বদলা চাই'-এ । এটাই বাস্তব সমাজ কাঠামো, এর উল্টোটা ইউটোপিয়া। যার খপ্পরে প’ড়ে "পড়ি গেল কাড়াকাড়ি, আগে কেবা প্রাণ করিবেক দান তারি লাগি তাড়াতাড়ি" প্রতিযোগিতা লেগে যায়। ফলে অনশনের উদ্দেশ্য গৌণ হ'য়ে যায় ও আন্দোলন ডিরেইল হ'য়ে পড়ে এবং পাওয়া গোল্লায় যায়।

এক অনশনকারী তাঁর অনশনের আগে বলছেন, আজ তাঁর সামনে এক অনিশ্চয়তার অন্ধকার, কঠিন এক লড়াই, তিনি জানেন না সামনে কী অপেক্ষা করছে, জানেন না কে পাশে থাকবেন, কে বাড়িয়ে দেবেন সাহায্যের হাত। এই অনশন তাঁর সম্পূর্ণ এক নতুন অধ্যায়।

স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে কেন অনশনকারী এই কথা বলছেন? এ তো ভাবাবেগের কথা। যেখানে আবেগের চোটে ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বেগে বইছে। এসব ভাবনা তো নেগেটিভ ভাবনা, যার ফলে মানুষ নিজের অজান্তে ভেতরে ভেতরে দুর্বল হ’য়ে পড়ে। অনশনকারী তো জেনেশুনে এই ‘অনশন’ বিষ অমৃত ভেবেই পান করেছেন। তাই না? তাহ’লে কে পাশে থাকলো আর না-থাকলো, কে বাড়িয়ে দিল হাত আর কে দিল না তা জানার কি দরকার? সম্পূর্ণ এক নতুন অধ্যায় তো অনশনকারী নিজে বেছে নিয়েছেন, তাই নয় কি? নাকি কেউ পিছনে জোর ক’রে বা মগজ ধোলাই ক’রে অনশনকারীকে সামনে এগিয়ে দিয়েছে? অনশনকারী এই নতুন অধ্যায়ে আসার আগে এই অনশন বিষয়ে স্টাডি করেননি নাকি ভাবের আবেগে নেতাজী ব’লে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন পরিবার পরিজন থাকা সত্ত্বেও? অনশনকারীর পরিবার যখন আছে, অনশনকারী পরিবার যখন করেছেন তখন পরিবারের প্রতি তো তাঁর দায়বদ্ধতা আছে নাকি? ছেলেমেয়ের প্রতি, স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি, বাবা-মায়ের প্রতি বা পরিবারের অন্যান্যদের প্রতি পারিবারিক অভিভাবক বা অভিভাবিকা হিসেবে একটা দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে অনশনকারীর। তাই না? এর দায় দায়িত্বের পরেও ক্ষুদ্র গন্ডী থেকে বেড়িয়ে এসে সমাজের বৃহত্তর ক্ষেত্রে এসেছেন অনশনকারী আত্মত্যাগের মাধ্যমে নেতাজীর সম্মান রক্ষা করতে। তাহ’লে এসব কথা এখন অনশনকারী ভাবছেন কেন? এতে তো মন মুষড়ে পড়বে, ছেলে মেয়ে, স্বামীস্ত্রী, বাবা-মা, পরিবার, অনিশ্চয়তার অন্ধকার, অজানা ভবিষ্যৎ, একাকীত্ব বোধ, নতুন অধ্যায়ের পথে অজানা, অচেনার ভয় ইত্যাদি ভাবনা অনশনকারীকে গ্রাস করবে, অনশনকারী মানসিক দুর্বল হ’য়ে পড়বেন, শরীর আর সাপোর্ট করবে না।

তাই, অনশনের সময় যত এগিয়ে আসবে বা অনশনের দিনগুলিতে আর এসব ভাবা উচিত নয় অনশনকারীর। এর থেকে প্রতিবাদের জন্য অন্য রাস্তা বেছে নিতে পারতেন অনশুনকারী। আরও অনেক রাস্তা আছে প্রতিবাদের। অনশন একটা গিমিক, একটা প্রচার কৌশল, এর প্রভাব অস্থায়ী। অনশন ক’রে কারও চরিত্র বা মানসিকতা পাল্টানো যায় না। অনশন ক’রে সাংস্কৃতিক আন্দোলন বা বিপ্লব সংগঠিত হয়না। কাউকে অপমান, অসম্মান, অশ্রদ্ধা, নিন্দা, গালিগালাজ, কুৎসা, কলঙ্ক লেপন করার শিক্ষা, রুচি, মানসিকতার পরিবর্তন কারও অনশন করা না-করার ওপর নির্ভর করে না। তারা এইসব অনশনকে গিমিক ভাবে আর এই গিমিককে বিন্দুমাত্র পাত্তা দেয় না। সেটাই তাদের বৈশিষ্ট্য। এই সমস্ত অশিক্ষা ও কুশিক্ষাগুলির পরিবর্তন বা সুশিক্ষা সব একেবারে শৈশব অবস্থা থেকে সঠিক ও নিখুঁত পারিবারিক শিক্ষা, সামাজিক শিক্ষা, স্কুল শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা, রাজনৈতিক শিক্ষা ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে। নির্ভর করে প্রথম ও প্রধান বায়োলজিক্যাল মেক আপ-এর ওপর।

আচ্ছা অনশনকারী কি মনে করেন, অনশনকারী অনশনে বসলেই নেতাজীর প্রতি অসম্মান বন্ধ হ’য়ে যাবে? আর কেউ কোনওদিনও নেতাজিকে অপমান অসম্মান, গালিগালাজ করবে না? মানুষের মানসিকতা বদল হ’য়ে যাবে, শুভবুদ্ধির উদয় হবে? দেশজুড়ে সম্মান, শ্রদ্ধা, প্রেম ভালোবাসা, প্রশংসার ঝড় ব’য়ে যাবে? মানবতার জন্ম হবে ও মানবিকতার প্রকাশ ঘটবে?

আর শুধু নেতাজীর প্রতি অসম্মান নিয়ে কেন অনশন ও আন্দোলন? নেতাজীর প্রতি এখন এই প্রথম অপমান, অসম্মান হয়েছে? এর আগে কোনওদিনও হয়নি? স্বাধীনতার সময়ে ও তার পর থেকে নেতাজীর প্রতি অসম্মান, অপমান হয়নি? বাংলায় বাংলার আর কোনও বরেণ্য নেতার প্রতি, মহাপুরুষের প্রতি অপমান, অসম্মান হয়নি? হচ্ছে না প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত? কে বা কারা করেছে? কে বা কারা করছে? নেতাজীকে যারা অপমান, অসম্মান করেছে ও করছে তারা বাংলার মনিষীদের অপমান অসম্মান করেনি, করছে না? বর্তমানে দেশজুড়ে বাংলা তথা ভারতের নেতানেত্রীদের, মহাপুরুষদের অপমান, অসম্মান, কুৎসা, নিন্দা, অশ্লীল গালাগালি, বদনাম, কলঙ্ক লেপন করা হচ্ছে না? এটা কি বাংলার কৃষ্টি সংস্কৃতি? ভারতের কৃষ্টি, সংস্ক্ররতি? এই অপসংস্কৃতিকে সামগ্রিকভাবে কেন দেখা হয় না, ভাবা হয় না? কেন এই অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে দল মত নির্ব্বিশেষে সামগ্রিকভাবে আন্দোলন সংগঠিত হয় না? কোথায় অসুবিধা? কোথায় ফাঁক?
যাই হ’ক, শুধু বলি, অনশন করলে যা হবার তাই হয়। শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হয়, পেশী ক্ষয় হতে শুরু করে, রক্তচাপ কমে যায় এবং তীব্র দুর্বলতা, মাথা ঘোরানো ও অঙ্গহানি বা অর্গান ফেইলিওর হতে পারে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে, ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়, এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হয়।

তাই, কথায় কথায় অনশন করার মধ্যে দিয়ে শুধু সাময়িক দাবী আদায় হয় বা প্রতিশ্রুতি আদায় হয়, কোনও শুভবুদ্ধির উদয় হয় না, মানবতার জন্ম হয় না ও মানবিকতার প্রকাশ ঘটে না, যার দ্বারা সমাজে চিরস্থায়ী কোনও কিছুর সমাধান হয় না এবং শুধু রাজনৈতিক লাভ ও নিজের ভাবমূর্তির জন্য ব্যবহার হয়, এই ধরণের একটা গিমিক, একটা প্রচার কৌশল যার প্রভাব অস্থায়ী, তেমন কিছু পথের প্রতি আমি আকৃষ্ট ন’ই। এতে অনশনের গুরুত্বটাই জোলো হ'য়ে যায়, যেটা আমরা সোনম ওয়াংচুর ক্ষেত্রে দেখেছি। অনশন যেন একটা গুরুত্বহীন সস্তা ব্যাপার, হাতের ময়লা।

মৃত্যুকে হাতিয়ার ক’রে কোনও কিছু অর্জনে আমার অনীহা, কারণ আমি কারও জীবন ফিরিয়ে দিতে পারি না, ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। আমি নিজে যেমন বাঁচতে চাই, তেমনি একইভাবে অন্যকেও বাঁচাতে চাই।

পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বললেন,
“মরো না, মেরো না, পারো তো মৃত্যুকে অবলুপ্ত করো।“
প্রকাশ বিশ্বাস।
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া।
( লেখা ১২ই আগষ্ট'২৬ বুধবার)


 


Monday, August 17, 2026

ভাবনাঃ স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় পতাকা।

আগামী ১৫ই আগষ্ট'২০২৬ রবিবার ভারতের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস।
ভারত ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট প্রথম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছিল। সেই প্রথম দিনটিকে ১ নম্বর ধরলে, ২০২৬ সালের ১৫ই আগস্ট হবে দেশের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন। ১৯৪৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভারত স্বাধীন দেশ হিসেবে ৭৯ বছর পূর্ণ করছে।

এই বছরের মূল ভাবনা বা থিম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে "১৫০ ইয়ার্স অফ বন্দে মাতরম" এবং "যুবশক্তি ফর বিকশিত ভারত ২০৪৭"।

এই ভাবনা যদি সত্যি সত্যিই পূরণ করতে হয় তাহ'লে দেশ জুড়ে প্রতিটি বাড়ি, অফিস, ক্লাব, স্কুল কলেজ সহ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্ম প্রতিষ্ঠানে ১৫ই আগষ্ট জাতীয় পতাকা উত্তোলন বাধ্যতা মূলক করা হ'ক। সব জায়গায় দেশপ্রেমের ও দেশ নায়কদের উদ্দেশ্যে গান বাজুক।

আর, রাস্তার যেখানে সেখানে, নর্দমা ও প্রস্রাব পায়খানার সামনে দেশনায়কদের ছবি রেখে জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হ'ক। এর জন্য কড়া নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হ'ক। জাতীয় পতাকা দিয়ে চেইন তৈরী হওয়ার পরিবর্তে অন্য কিছু দিয়ে চেইন তৈরী হ'ক। আর যদি তৈরি করে তাহলে জাতীয় পতাকা দিয়ে তৈরি চেইন যাতে অনুষ্ঠান শেষে রাস্তায়, নর্দমায় না পড়ে থাকে সেদিকে উদ্যোক্তাদের ও প্রশাসনের সতর্ক ও কড়া নজর থাকুক। ১৪০ কোটি দেশবাসীর প্রাণে স্বাধীনতার স্মেল ও দেশের স্বাধীনতার জন্য উৎসর্গিত শহিদদের উদ্দেশ্যে প্রাণ সঞ্চার কিভাবে ও কি কি ভাবে করা যেতে পারে তার জন্য কেন্দ ও রাজ্য সরকার প্রাজ্ঞ শিক্ষিতদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরী করুক।

স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে এই আমার স্বাধীন ভাবনা। প্রবি।
( লেখা ১৪ই আগষ্ট'২০২৬)


.

 


প্রবন্ধঃ শত্রুতার ডিম ফুটে চলা স্বাধীনতার ৮০ বছর।

আজ ১৫ই আগস্ট' ২০২৬ বৃহস্পতিবার ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস। এই স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র ক'রে ও দেশনায়কদের নিয়ে নানা বিতর্ক ও অশ্লীল কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি হ'য়ে চলেছে আজও ৮০বছর ধ'রে। গতকাল ১৪ই আগস্ট ছিল পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস। এই স্বাধীনতা সম্পর্কে কংগ্রেসের বক্তব্য ছিল, এই স্বাধীনতার অর্থ "নতুন ভোরের সূচনা", আর, মুসলিম লীগের কাছে তা ছিল "নতুন দেশের জন্ম", এবং ডানপন্থী ও চরম বামপন্থীদের কাছে তা ছিল যথাক্রমে "দেশভাগের ট্র্যাজেডি" এবং "বুর্জোয়াদের আপস"।

এই নিয়ে আজও ৮০ বছর পরেও চলেছে আমার দেশের অভ্যন্তরে সব দলেদের একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই ও হিন্দু-মুসলমানের লড়াই এবং হিন্দু-হিন্দুর লড়াই।

কেউ বলছে মুসলমানদের যখন আলাদা দেশ হ'লো, মুসলমানেরা যখন তাদের জাতের বা তাদের ধর্ম সম্প্রদায়ের জন্য একটা আলাদা দেশ দাবী ক'রে লড়াই ক'রে আলাদা ভূখন্ড আদায় ক'রে নিল তখন কেন হিন্দুরা হিন্দুদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা ভূখন্ড করলো না? কেন ভারতবর্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য এই ভারত হিন্দুরাষ্ট্র হ'লো না, কেন হিন্দুদের নিজস্ব স্বাধীন দেশ হ'লো না? তাদের যুক্তি, অখন্ড ভারতবর্ষ ভাগের মধ্যে দিয়ে স্বাধীন মুসলমানদের জন্য যে আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হ'লো, মুসলমানদের কাছে এই স্বাধীনতার অর্থ ছিল, "একটি নতুন মুসলিম রাষ্ট্র—পাকিস্তান অর্জন"। ঠিক তেমনি এই ভারত ভাগের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতার অর্থ একটি নতুন হিন্দু রাষ্ট্র------হিন্দুস্তান অর্জন কেন হ'লো না সেটাও হিন্দুদের প্রশ্ন। যদিও এর তীব্র বিরোধীতা করেছে ও ক'রে চলেছে ভারতের হিন্দুরা।

আবার কেউ বলছে, দেশভাগের মধ্যে দিয়ে ভারত যদি 'হিন্দুস্তান রাষ্ট্র' না হ'য়ে থাকে তাহ'লে তাকে সংবিধান রচনার ২৬ বছর পরে কেন সংবিধান পরিবর্তন ক'রে 'ধর্ম নিরপেক্ষতার' তকমা জুড়ে দেয়া হ'লো? কেন ও কিসের উদ্দেশ্যে এটা করা হ'লো? কেউ কেউ বলছে, সংবিধান রচয়িতা ড আম্বেদকর এই ''ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র' কথার কেন তীব্র বিরোধী ছিলেন। কেন তিনি ১৯৪৮ সালের ১৫ই নভেম্বর গণপরিষদের বিতর্কে অধ্যাপক কে. টি. শাহের "ভারতকে "Secular, Federal, Socialist Union of States" হিসেবে ঘোষণা করা হোক" এই প্রস্তাব খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ড. আম্বেদকর কেন দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন?

এইভাবে নানা ভাবনার আলোয় আলোকিত ভারতের কিশোর থেকে বৃদ্ধ সব মানুষ আজ মনের দিক থেকে সম্পূর্ণ আশ্রয়হীন। বিশেষত দেশের ইয়ং জেনারেশন অর্থাৎ দেশের তরুণতরুণী, যুবকযুবতী, যাদের আজ বালখিল্য আধুনিকতার মোড়কে বেঁধে ফেলা হয়েছে জেন জি নামে তাদের সামনে আজ কোনও নির্দিষ্ট উপযুক্ত 'আদর্শ' নেই। নানারকম কপট ছদ্ম আদর্শ, নেতা, শিক্ষক, ধর্মগুরুদের ও তাদের ছদ্ম দর্শন, ছদ্ম নীতি ও আন্দোলন, ছদ্ম শিক্ষা ও কথন শুনে শুনে আজ নানারকম রঙে রাঙিয়ে গিয়ে একেবারে Mental identity হ'য়ে পড়েছে ও পড়ছে ক্রমশ। আর জড়িয়ে পড়ছে নানারকম জটিলতায় আর চরম এলোমেলো হ'য়ে যাচ্ছে জীবন।

যাই হ'ক, ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে আজ এটাই সত্য যে, কংগ্রেসের "নতুন ভোরের সূচনা", মুসলিম লীগের "নতুন দেশের জন্ম", এবং ডানপন্থী ও চরম বামপন্থীদের কাছে "দেশভাগের ট্র্যাজেডি" এবং "বুর্জোয়াদের আপস" ইত্যাদি যে যাই বলুক না কেন, আসল সত্য হ'লো বিশাল দেশ ভারতকে টুকরো টুকরো করাই ছিল বৃটিশের আসল এক ও একমাত্র উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। সঙ্গে তৎকালীন বিশ্বের অন্যান্য বৃটিশের মিত্র শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোরও তাই ইচ্ছা ছিল। যাতে ভবিষ্যতে কোনোদিন তাদের সমকক্ষ হ'তে না পারে ও তাদের কাছে চ্যালেঞ্জ হ'য়ে দাঁড়াতে না পারে। এ কথা বোঝার ক্ষমতা মেন্টাল আইডেন্টিটিহীন তরুণতরুণী, যুবকযুবতীদের নেই।

তাই, সেইসময়ে অর্থাৎ ১৯৪৭-এ ভারতবর্ষ ভারত ও পাকিস্তান নামে দু'টুকরো হ'লেও বৃটিশদের দূরদর্শী পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৭১-এ হয়েছে তিন টুকরো। জন্ম হয়েছে ভারত, পকিস্তান ও বাংলাদেশ আজ ভারতের ঘরে ও ভারতের বাইরে চলেছে ভারতকে ভয়ঙ্করভাবে আরও টুকরো করার ঘৃণ্য, বিষাক্ত ষড়যন্ত্র। এছাড়া আমরা দেখতে পেয়েছি ও পাচ্ছি ভারত থেকে একসময়ে আলাদা হওয়া পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বর্তমান ভয়ংকর নারকীয় আভ্যন্তরীণ অবস্থা। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ তিন দেশের অভ্যন্তরে চলছে বীভৎস শত্রুতার ও ভাঙ্গনের খেলা। এ খেলার খেলোয়াড় সব তিন দেশের হৃষ্টপুষ্ট নাগরিক আর কোচ ও রেফারি বৃহৎ কোনও শক্তিধর রাষ্ট্র।

পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ভারতের তৎকালীন পূর্ববঙ্গ বর্তমানে বাংলাদেশের পাবনা জেলার হিয়াইতপুর গ্রামে থাকতেন। ১৮৮৮ সালে তাঁর সেখানে জন্ম। তখন তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত দেশের হিন্দু মুসলিম সমস্ত দেশনেতাদের উদ্দেশ্যে বারবার ভারত ভাগ না করার কাতর আবেদন করেছিলেন এবং পাঞ্জাব ও বাংলাদেশ যাতে ভাগ না হয় তার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তখন তাঁর কথা কোনও দেশনেতা শোনেননি। তখন দ্রষ্টাপুরুষ ব্যথাতুর শ্রীশ্রীঠাকুর ভবিষ্যৎ ভয়ংকর ভারতের করুণ নির্ম্মম নারকীয় অবস্থা আগাম দেখতে পেয়ে বলেছিলেন,

"Dividing compromise is the hatch of animosity." যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায়, "দেশ ভাগ ক'রে সমস্যার সমাধান করার অর্থ 'তা' দিয়ে দিয়ে শত্রুতার ডিম ফোটানো।"

আজ স্বাধীনতার ৮০বছর ধ'রে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের বলে যাওয়া নির্ম্মম সত্য 'শত্রুতার ডিম' তিন দেশের অভ্যন্তরে অনবরত ফুটে চলেছে। এই ডিম ফোটার ট্রাডিশান হয়তো ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে।

যাই হ'ক, সবাই সবার মনের কথা বলুক, এটা প্রত্যেকের বাক স্বাধীনতা। আর তা' আগামীতে ধ্বংস ডেকে আনুক কিংবা সৃষ্টির উল্লাস সৃষ্টি করুক। সবাই সবার মনের কথা ভাল মন্দ যা ইচ্ছা তাই বলবে, এ তো ভালো কথা কিন্তু কেউ কারও মনের মত হবে না। আসলে সবার মনের মত হওয়ার চেষ্টা করাটাই ভুল। কারণ, কেউ মানুক না-মানুক এখন বর্তমান সময় ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে ঘোর কলি যুগ। তাই এখন মনের জগতে সবাই অস্থির ও নেগেটিভ। তাই কেউ কারও মনের মত হ'তে পারবে না। আমিও হ'তে পারবো না, কেউ আমারও মনের মত হবে না।

তাই, আমি নিজেকে নিজে বলি, তুমি একমাত্র ঈশ্বরের আর কারও না, আর তাই তুমি ঈশ্বরের মনের মত হওয়ার চেষ্টা করো, তা'হ'লে হয়তো সবার মন জয় করলেও করতে পারবে, না করতে পারলেও কোনও দুঃখ নেই। আর এর ফলে পৃথিবী একদিন হয়তো হ'লেও সুন্দর হ'তে পারে।
প্রকাশ বিশ্বাস,
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া।


ঈশ্বরের শহর ও উঁচু জীবন শৈলী।

প্রকাশ বিশ্বাস।
ঈশ্বরের একটা শহর আছে, যাবে নাকি?
যদি চাও যেতে, তবে এসো তুমি চ'লে,
বাকীটা বুঝে নেবো আমি।
হাত ধরাধরি ক'রে চলে যাবো সেই শহরে
প্রিয়পরমের ডাকে তুমি আর আমি।

তুমি বলতে পারো, যেমন বলেছে শক্তি
"যেতে পারি, তবে কেন যাবো?" দিয়ে যুক্তি।
আমি বলি কি, চোখে ঠুলি পড়িয়ে, কানে তুলো জড়িয়ে
অনেক তো দেখলে, শুনলে অনেক,
পা ফাঁক ক'রে, মাথা শূন্যে তুলে,
হাওয়াই ধোঁয়ার রিং ছেড়ে মাথা টলিয়ে, কথা জড়িয়ে
উর্ধ্বে মুষ্ঠিবদ্ধ হাত ছুঁড়ে আল-বাল বকলে তো অনেক।
কিন্তু সত্যি ক'রে বলো তো বুঝলে কি কিছু?
দিন গেল ঢ'লে, ষঢ় রিপুদের কোলে কোলে
ভেসে ভেসে বেড়ালে না ভেবে আগুপিছু।
বৃত্তি-প্রবৃত্তির টানে, ষঢ় রিপুরা নিয়ে গেল
কুত্তার মত হিঁচড়ে টেনে, শেষের ভয়ংকর সেদিনে;
মরণের কোলে জড়িয়ে রইলে পড়ে
রইলো না জীবনের অবশিষ্ট আর কিছু।
নিজের দোষে সমস্যার হাজারও জালে জড়িয়ে
নিজে জর্জরিত তুমি কাটাচ্ছো সমাধানহীন রাত
আর যাচ্ছো অন্যের সমস্যা সমাধানে বেহায়া তুমি।
শৈশব থেকে কৈশোর পার হ'য়ে যৌবনে দাঁড়িয়ে
আর প্রৌঢ়ত্ব ও বার্ধ্যকের কিনারায় হাত নাড়িয়ে
জীবন হারিয়ে হতাশা আর অবসাদকে ক'রে সাথী
অবশেষে দিন শেষে আজ বলছো, একাকী আমি।

তাই বলি,
কেউ যাবে নাকি মেঘের ওপারে ঈশ্বরের ঘরে?
যদি চাও যেতে রাখো হাত আমার হাতে
পড়ে থাক পিছনে সঞ্চিত যত পাপ আর
যদি থাকে পূণ্য যা কিছু, চলো যাই চলে যাই
ঈশ্বরের শহরে জীবন খুঁজে পাবে সেথায়
যেথা আছে জীবন শৈলী উঁচু।