তাই, শরীরে-মনে-আত্মায় এই ধরণের জড় অর্থাৎ প্রাণহীন, নিষ্ক্রিয়, মূর্খ, অজ্ঞান, অচেতন যে, তার পক্ষে শ্রীশ্রীঠাকুরকে বোঝা কখনই সম্ভব নয় ও তাঁর elixir of life অর্থাৎ জীবনের অমৃত ইষ্টভৃতি, সেই ইষ্টভৃতির অন্তর্নিহত অর্থ বোঝা, অনুভব করা সম্ভব নয়। পুঁথিগত বিদ্যা দিয়ে আর রিপু তাড়িত বৃত্তি প্রবৃত্তিতে আপাদমস্তক জড়িয়ে থাকা জীবাত্মার পক্ষে তা সে শ্রীশ্রীঠাকুরের দীক্ষিত হ'য়ে ইষ্টভৃতি পরায়ণ সৎসঙ্গী হ'ক আর অদিক্ষিতই হ'ক ইষ্টভৃতির অর্থ তার বা তাদের পক্ষে কোনওদিনই বোঝা সম্ভব নয়। এটা সাধনার ব্যাপার। এ নিয়ে তর্ক বিবাদ চলে না। বিনা সাধনায় কেউ কোনোদিন কোথাও কোনও ক্ষেত্রে সফল হ'তে পারেনি। এটা বিজ্ঞান, ফলিত বিজ্ঞান। তবে আবেগ ভালো, আবেগে ভেসে যাওয়া ভালো নয়। আবেগের জন্ম হয়, আবেগ কন্ট্রোলে থাকে, নিখুঁত পরিমিত ভাবে যখন যেখানে প্রয়োজন হয় সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেগ ঝ'রে পড়ে কখন? যখন আবেগহীন মানুষ ও আবেগ তাড়িত মানুষ নিখুঁতের শরণাপন্ন হয় ও সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পন করে। তখন ভিত্তিহীন যুক্তিহীন বকোয়াস বন্ধ হ'য়ে যায়। সর্ব্বশ্রেষ্ঠ আদর্শে নিবেদিত প্রাণ ও বায়োলজিক্যালি নিখুঁত মানুষের জিভ কন্ট্রোলে থাকে। কারণ কর্মের মধ্যে দিয়ে, পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যখন অজানাকে অনুভব করে, উপলব্ধি হয় তখন অভিজ্ঞতা হয়, হয় তার জ্ঞান অর্থাৎ জানাটা তার সম্পূর্ণ হয় নিকটে আসে তখন সে জানে বাক্-ই ব্রহ্ম। তখন সে আর অকারণ বকবক করে না, বাক্য ব্যয় করে না। নতুবা সবটাই তার বৃথা, বৃথা তার জন্ম আর তার বকোয়াস।
আজ আমার এ সমস্তই বিশ্বের সর্ব্বশ্রেষ্ঠ আশ্চর্য পুরুষ জীবন্ত ঈশ্বর শ্রীশ্রীঠাকুরের দয়াতে জানা, অনুভব ও উপলব্ধি করা। তাঁর শ্রীরাতুল চরণে জানাই আমার শত শত কোটি প্রণাম।
( লেখা ২৮শে ডিসেম্বর'২০২৪)।

No comments:
Post a Comment