Powered By Blogger

Thursday, December 5, 2024

কবিতা/গানঃ আমি তোমার কাছেই ফিরে আসলাম।

হে দয়াল! 
আমি তোমার কাছেই ফিরে আসলাম
তোমায় আবার ভালোবাসলাম
তুমি কি রাখবে মোরে
চরণে, হাতটি ধ'রে?

হে দয়াল! জীবনের যত ভুল ধ্বংস ক্ষয় হ'ক;
হ'ক না সে বহুদূর
চেতনা ফিরে পাক জীবন মধু হ'ক
এই-ই চাওয়া বন্ধুর।
চরণে তুমি কি রাখবে মোরে আমার হাতটি ধ'রে?

হে দয়াল! আমি তোমার কাছে ফিরে এলাম
তোমায় আবার ভালোবাসলাম
তুমি রেখো তোমার ক'রে আমারে
চরণে হাতটি ধ'রে।-

হে দয়াল! 
তুমি দিলে যে বারতা আমি গেয়ে গেয়ে যায়
হৃদয়ের অন্ধকারে আলো হ'য়ে যায়
জীবনের যত দুখ যত কিছু কালো তার
সব সরে সরে যায়।
দু'জনার দুটি মন চিরতরে একাকার
হ'ক শুধু বলে যাই
তুমি কি রাখবে মোরে
চরণে হাতটি ধ'রে?

হে দয়াল! 
আমি তোমার কাছেই ফিরে এলাম
তোমায় আবার ভালোবাসলাম
তুমি রেখো আমারে তোমার ক'রে
চরণে চলনে ধ'রে।
আমি তোমার কাছেই ফিরে আসলাম
তোমায় আবার ভালোবাসলাম!
( লেখা ৬ই ডিসেম্বর'২০২০)

( 'আমি তোমার কাছেই ফিরে আসবো' গানের সুরে)

কবতাঃ মঘুরেন সমাপয়েৎ

শ্রীশ্রীঠাকুর রাতুল চরণে তোমার
জানাই কোটি কোটি প্রণাম!
প্রার্থনা জানাই তব চরণে
যেন করি জপ অবিরাম তব বীজনাম।
ঠাকুর তোমার কাছে চাই না কিছু,
চাই না অর্থ-মান-যশ, চাই না বাড়ি গাড়ি,
চাই না সোনা রুপা হীরে মোতিয়া;
করি প্রার্থনা খতম হ'ক মম মন অহঙ্কারী।
চাই শুধু অধিকার প্রভু তোমার সেবা করিবার;
আর চাই শয়নে স্বপনে জাগরণে
অবগাহনে ভোজনে প্রতি ক্ষণে ক্ষণে
দিবানিশি তোমার কথা বলার আশীর্বাদ।
প্রভু চারিদিকে অবিশ্বাস আর ভন্ডামি মাঝে
চাই শুধু ছোট্ট হ'লেও একটা শান্তির নীড়,
তোমায় পেতে একাকী এড়িয়ে নেতিবাচকের ভিড়
ক'রে নিতে তোমারে প্রভু জীবন সাথীয়া!
আর, প্রভু চাই মধুরেন সমাপয়েৎ,
নিশ্চিত আরামদায়ক বিদায় তোমারে লভিয়া! 

কবিতাঃ অজাতশত্রু শুদ্ধাত্মা!

নামেতে অজাতশত্রু সাথে শুদ্ধাত্মা
অন্যদিকে অশ্রদ্ধা অসম্মানের
বিষাক্ত বিষে হৃদয় ভরা এক জীবাত্মা!
কিমাশ্চর্যম!!
কি মজা, কি মজা 
সবাই দ্যাখ না তোরা।
নিজেই হয় নিজের যম
ঘোর কলির পাপাত্মা।
একদিকেতে অজাতশত্রু শুদ্ধাত্মা!
অন্যদিকে বিষাক্ত বিষে হৃদয় ভরা পাপাত্মা!!

নিজের ঢাক নিজেই পেটায়
দেখবি যদি আয় না তোরা ওরে
কে কোথায় আছিস সব
দেখে যা তোরা কলির শত্রুহীনা
শুদ্ধ আত্মার কলির প্রেমীরে
দেখে মনে হয় যেন জ্যান্ত শব!!

নিন্দা কুৎসা যার জিভের ডগায়
হিস হিস শব্দে সদা তুলছে ফণা
অজাতশত্রু শুদ্ধাত্মা ক্রমশ বাড়ায় শত্রু
আর, হচ্ছে আত্মা অশুদ্ধ ষোলোআনা।
(লেখা ৫ই ডিসেম্বর'২০১৮)

বিচিত্রা ৫৬

যদি ঈশ্বরকেই বাসলে ভালো
তবে কপটতা কেন তব সাথী!
যদি নিজেকেই বাসলে ভালো 
তবে কেন করো হাতাহাতি!!
( লেখা ৫ই ডিসেম্বর'২০১৭)

নারী আজ তুমি পুরুষের হাতের পুতুল?
দেশের শাসন ব্যবস্থায় আছো তোমরা 
তবুও তোমরা নীরব! 
সংখ্যায় কি তোমরা অপ্রতুল?

নাবালক যখন সাবালকের বাপের বাপ হ'য়ে
হ'য়ে যায় সবার ঠাকুর্দা  
তখন তাকে যে বা যারা দিয়ে নাবালক আখ্যা 
কঠোর সাজা থেকে দেয় রেহাই  
তারা কি আইনের বড়দা?!
( লেখা ৫ই ডিসেম্বর'২০১৯)

শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র বললেন,
"হেগে মরার চেয়ে হেঁটে মরা ভালো।"
আর আমরা তার অনুগামীরা চাইছি উল্টো। 
আমরা (ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে) চাইছি, 
ভালোবেসেই চাইছি, 
কষ্ট ক'রে হেঁটে হেঁটে মরার চেয়ে 
বিছানায় হেগে মরা ভালো"
( লেখা ৫ই ডিসেম্বর'২০২১)



































Wednesday, December 4, 2024

অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধিঃ "মৃত্যুর মুখোমুখি ও নোতুন জীবন। (২)

প্রতিদিনের মত শ্রীশ্রীআচার্যদেবের আশীর্বাদপূত Vasudhaiva Kutumbakam Foundation থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য গাড়িতে উঠেছে চারজন। শিথিলতা, স্ট্রেস রিলিফ বা সুস্থতার জন্য সামগ্রিক পদ্ধতির সন্ধান ও সেবা দেওয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দীক্ষিত দু'জন সেবাদানকারী আর সঙ্গে ছিলেন দু'জন পেশেন্ট। তাদের একজন ছিলেন গুরুবোন, খুবই কাছের বন্ধু কাম পেশেন্ট।
প্রসঙ্গত ব'লে রাখি,
শ্রীশ্রীআচার্যদেবের আশীর্বাদপূত Vasudhaiva Kutumbakam Foundation. তাঁর নির্দেশে ও আশীর্বাদে গড়ে উঠেছে কলকাতার বুকে এই ফাউন্ডেশন। এর অনেকগুলি ইউনিট আছে। তার মধ্যে Anuttara Samyak Sambodhi (অনুত্তরা সাম্যক সম্বোধি) একটা উইং, আর একটা আছে শিশুদের Little Buddha International Preschool, Thakurpukur.
এখানে শ্রীশ্রীঠাকুরের দয়া ও শ্রীশ্রীআচার্যদেবের আশীর্বাদকে মাথায় নিয়ে শ্রীশ্রীঠাকুরের সামনে নিত্যদিনের ক্ষতবিক্ষত বিধ্বস্ত মানুষের শরীর, মন এবং আত্মাকে পোষণ দেওয়ার জন্য healing therapy-র (নিরাময় থেরাপি) মাধ্যমে রূপান্তরকারী শক্তিতে পরিণত করা হয়। শিথিলতা, স্ট্রেস রিলিফ বা সুস্থতার জন্য কোনওরকম মেডিসিন ছাড়াই Supreme power-এর দয়া ও আশীর্বাদকে মূল্ধন ক'রে healing therapy-র সাহায্য নেওয়া হয়।যাই হ'ক, প্রতিদিনের মত সমস্ত কাজ শেষে ইন্সটিটিউট থেকে রাত প্রায় এগারোটায় যখন এরা হিলিং থেরাপি শেষে বেরিয়ে গাড়িতে সবাই ওঠে তখন গাড়িতে ছিল মোট চারজন। উপরে উল্লেখিত ৩জন ছাড়া আরও একজন পেশেন্ট ছিলেন যাকে তারা গাড়িতে ক'রে বাড়ি ফেরার পথে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।
রাত হ'য়ে যাওয়ার কারণে এই দু'জন সেবাদানকারী দম্পতি ঐ গুরুবোন ও অন্য আর একজন পেশেন্টকে তাদের বাড়িতে ড্রপ ক'রে দিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে মনস্থ করেছিল। সাথে আরও একজন পেশেন্ট ও তার ছোট্ট মেয়ের যাবার কথা ছিল। সেই মা'টি বাইরে ওয়েটিং রুমে বসে ল্যান্ডলেডি ও অন্যান্যরা মিলে গুরুবোনের কাছে শ্রীশ্রীঠাকুরের নানারকম দয়ার কথা শুনছিল। যেহেতু তখনও হিলিং থেরাপির মাধ্যমে সেবাকার্য চলছিল হিলিং রুমে তাই রাত হ'য়ে যাওয়ায় এবং সঙ্গে ছোট্ট মেয়ে থাকায় সে আর অপেক্ষা না ক'রে চলে যায়।
কথাপ্রসঙ্গে ব'লে রাখা ভালো, ঐ মানসিক বিধ্বস্ত মা'টিকে এনেছিল ঐ গুরুবোন, যাকে দেখে হিলিং থেরাপি শেষে ইমিডিয়েট Supreme power-এর শরণাপন্ন হ'তে পরামর্শ দিয়েছিল হিলিং থেরাপি দম্পতির পুরুষ চিকিৎসক শ্রীশিবাশীষ চ্যাটার্জী। এই কথা বলার কারণ ও অলৌকিকত্ব পরে বর্ণনা করবো। পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে অবিশ্বাস্য রহস্য; যা আমার বা যে কারও দর্শনের পাল্লার বাইরে ও স্বপ্নের অতীত। এর জন্য পাঠককে আমার সঙ্গে একটু কষ্ট ক'রে থাকতে হবে শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবন্ত উপস্থিতিকে উপলব্ধি করার জন্য।
রাত তখন ১১টা ৩০মি। রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। গাড়ি ছুটে চলেছে। সঙ্গে চলেছে শ্রীশ্রীঠাকুর ও শ্রীশ্রীআচার্যদেবকে নিয়ে নানা ইষ্টপ্রসঙ্গ। সঙ্গে চলছিল গুরুবোন সীমা ভট্টাচার্য মায়ের লেখা ও ঐ গুরুবোন সোনাই ঢালির পাঠ করা "আমাদের একটা ঠাকুর বাড়ি আছে" রেকর্ডিং। সবাই শুনছিল মন দিয়ে আর গাড়ি ছুটে চলেছিল অন্ধকারের বুক ভেদ ক'রে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে। যখন নির্দিষ্ট জায়গায় ঐ পেশেন্টকে তার বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে ঐ দুই চিকিৎসক দম্পতি ও গুরুবোন গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে চলছিল বাড়ির উদ্দেশ্যে তখন রাত ১২টা পার হ'য়ে গেছে। আর তখনি ঘটলো অলৌকিক ভয়ংকর দুর্ঘটনা।
ক্রমশ।
বিঃদ্রঃ ভিডিও ফুটেজ যদি পাই তবে তা' দিয়ে চেষ্টা করবো পরবর্তী লেখায় দূর্ঘটনার মুহূর্ত দেখাবার।
( লেখা ৫ই ডিসেম্বর'২০২৩)

কবিতা/গানঃ দেওঘরের সীমানায়

দেওঘরের সীমানায়
দেওঘরের সীমানায় ঠাকুরবাড়ির আঙিনায়
মাতাল প্রেমের হাওয়া কোন দরিয়ায় নিয়ে যায়
দেওঘরের সীমানায়।

ও মোর মন হারিয়ে যায়,
মোর মন হারিয়ে যায়
বন্ধুরে তোর পাখনা উড়িয়ে দিয়ে আয়রে
উড়িয়ে দিয়ে আয়।

দয়াল প্রভুর চরণ তলে
এসো সবাই পরান ভুলে
মিলেমিশে সবাই থাকি হাসি হাসি নাচি নাচি
বাঁচি-বাড়ি গেয়ে যাই
ঠাকুরবাড়ির আঙিনায়।

প্রভুর আগুন রূপের ঝর্ণায় ভাসে পরান বন্যায়
প্রাণ মাতানো হাসির ছোঁয়ায় হৃদয় মাঝে ঝড় বয়।
ঠাকুরবাড়ির আঙিনায়।

চোখ যেন নয় হীরে তা চোখেরও অন্তরে
চোখের তারায় মমতা রাশি রাশি ঝরে পড়ে।
নয়নে নয়ন মেলে পরানে ঝড় তোলে
নয়নে নয়ন মেলে পরানে ঝড় তোলে।

ও মন দিন চলিয়া যায় রে, দিন চলিয়া যায়
বন্ধুরে তোর পাখনা উড়িয়ে দিয়ে আয়রে
উড়িয়ে দিয়ে আয়, উড়িয়ে দিয়ে আয়।

দয়াল আমার তোমারি জীবন মাঝে কান্ডারী
দয়াল আমার তোমারি জীবন মাঝে কান্ডারী
মিলেমিশে সবাই থাকি হাসি হাসি নাচি নাচি
বাঁচি-বাড়ি গেয়ে যাই।

দেওঘরের সীমানায়
দেওঘরের সীমানায় ঠাকুরবাড়ির আঙিনায়
মাতাল প্রেমের হাওয়া কোন দরিয়ায় নিয়ে যায়
দেওঘরের সীমানায়।
( লেখা ৪ই ডিসেম্বর'২০১৯)
( সুর/ফাগুনের মোহনায়/সুরোজিত)









উপলব্ধিঃ চেনা-অচেনা!

অনেককে বলতে দেখি, 'আজকাল মানুষ চেনা কঠিন! কে যে ঠিক আর কে বেঠিক তা বোঝা দায়!'
আমি বলি, ভুল কথা। কোনও কঠিনই নয়। একটু চেষ্টা করলে সহজেই মানুষ চেনা যায়। এর জন্য প্রথমে অন্যকে চিনতে যাওয়ার আগে নিজেকে নিজের কাছে চিনতে হয়। নিজের স্বরূপ যদি নিজে চিনতে পারি তাহলে অন্যকে চেনা সহজ হ'য়ে যায়। নিজের চরিত্রের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে অন্যকে চিনতে না পারার রসদ! নিজের জটিল চরিত্র দিয়ে অন্যকে বিচার করি, নিজের খিচুড়ি জীবন আর অনুভূতি-উপলব্ধিহীন সীমিত বোধবুদ্ধি দিয়ে আকাশকে বিচার ও বিশ্লেষণ করি।

আর এছাড়া ঠাকুরের কাছ থেকে যা জেনেছি বা শিখেছি তা হ'লো, মানুষ চেনার সহজ উপায় হ'লো মন আর মুখ এক কিনা। মুখে যা বলছে কাজে তা করছে কিনা, ব্যবহারে কিম্বা চরিত্রে তা ফুটে উঠছে কিনা। এছাড়া আরও অনেক কিছু আছে যা অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে রপ্ত করতে হয়। প্রথম ও প্রধান কথা, কথা আর করায় মিল আছে কিনা তা দেখা। যেমন ঠাকুর বললেন, "মুখেতে আছে ব্যবহারে নাই সেই শিক্ষার মুখে ছাই।"

তাই বলি, একটু চেষ্টা করলেই তা পারা যায়। মনে রাখতে হবে, লড়াইটা আসলে নিজের সঙ্গে নিজের! মানুষকে চিনতে হ'লে নিজেকে স্বচ্ছ রাখতে হয়, সাদা-কালো রাখতে হয় নতুবা কালার্ড মানুষকে চেনা দায়, কঠিন-মহাকঠিন। কথায় বলে,
আসল ছেড়ে নকলেতে কেন মনটা মজাও!?
নকল ছেড়ে আসলেতে মনটা মজাও!!!!!!

তাহ'লেই দুধ কা দুধ,
পানি কা পানি হ'য়ে যাবে! জয়গুরু।
( লেখা ৪ই ডিসেম্বর'২০১৯)