Powered By Blogger

Sunday, May 7, 2023

প্রবি সমাচার ৭

আলো নেই তাই অন্ধকার! অন্ধকার ব'লে কিছু নেই। আলো জ্বালাও অন্ধকার দূর হ'য়ে যাবে।

ভগবান নেই তাই শয়তান! শয়তান ব'লে কিছু নেই। ভগবানকে জীবনের মূল কেন্দ্রে বসাও শয়তান পালিয়ে যাবে।

জীবনে মাথার ওপর বিগ্রহ নেই তাই গ্রহের দাপট! গ্রহদোষ ব'লে কিছু নেই। বিগ্রহ অর্থাৎ বিশেষ গ্রহ বৃহস্পতিকে জীবনে গ্রহণ করো। বৃহস্পতি অর্থাৎ ঈশ্বর, স্বয়ং জীবন্ত ঈশ্বর! জীবন্ত ঈশ্বর হ'লেন পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীরামচন্দ্র, শ্রীশ্রীকৃষ্ণ, শ্রীশ্রীবুদ্ধ, শ্রীশ্রীযীশু,  শ্রীশ্রীমোহাম্মদ, শ্রীশ্রীমহাপ্রভু, শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ও সর্ব্বশেষ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র। তাঁদের জীবনে গ্রহণ করলে গ্রহদোষ কেটে যাবে।

গ্রহদোষ মানে ঠাকুর বললেন গ্রহণ দোষ। জীবনে খারাপ যা কিছু গ্রহণ করলে জীবন ধ্বংস হয় তাই গ্রহণ দোষ অর্থাৎ গ্রহদোষ। আর বিগ্রহ অর্থাৎ বিশেষ গ্রহ অর্থাৎ জীবন্ত ঈশ্বরকে জীবনে গ্রহণ করলে জীবন সুন্দর হয়, মিষ্টি হয়, ব্যালান্সড হয়। তাই বিগ্রহ অর্থাৎ গ্রহের গ্রহ বিশেষ গ্রহ সর্ব্বশেষ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে জীবনে গ্রহণ করো, মাথার ওপর বসাও গ্রহদোষ কেটে যাবে। জীবন হ'য়ে উঠবে আলোময়, রুপময়, রসময়, মধুময়!!!!
(লেখা ৮ই মে' ২০২১)

প্রবন্ধঃ করোনা মহামারী ও আচার্য্য পরম্পরা। ৩

পরবর্তী অংশঃ

এবারের সময় হ'লো উত্তরণের সময়! কলিযুগ শেষে সত্যযুগে প্রবেশের সন্ধিক্ষণ! এইসময় দয়াল এসেছিলেন তাঁর পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে আর ক'রে চলেছেন তাঁর ব্লুপ্রিন্ট অনুযায়ী! ক'রে চলেছেন রেত শরীরের মধ্যে দিয়ে! আর তাই তিনি সাবধান ক'রে দিয়ে গেছিলেন আমাদের, "তুমি যা করছো বা ক'রে রেখেছো ভগবান তাই-ই গ্রাহ্য করবেন আর সেগুলির ফলও পাবে ঠিক তেমনি।" আবার বললেন, " যা ইচ্ছা তাই করবে তুমি তা করলে রে চলবে না ভালো ছাড়া মন্দ করলে পরিস্থিতি ছাড়বে না।"


শ্রীশ্রীবড়দার প্রয়াণের পর সৎসঙ্গের সেই ব্যাটন আজ আচার্য্যদেব শ্রীশ্রীদাদার হাতে! শ্রীশ্রীদাদা প্রতিনিয়ত আকুলভাবে সবাইকে এক 
হ'য়ে চলতে আহবান করছেন! আহ্বান করছেন শ্রীশ্রীঠাকুরের স্বপ্ন, ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে এক হ'য়ে চলতে।

কিন্তু আমরা কি সেই আহ্বান শুনতে পাচ্ছি? শুনতে পেলেও মেনে চলছি? আমরা সৎসঙ্গীরা কি বিভিন্ন কেন্দ্র মন্দিরে আচার্য্যের নির্দেশ মত চলছি? মূল কেন্দ্রের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগের মাধ্যমে কেন্দ্র, মন্দির পরিচালনা করছি? আমরা কি কেন্দ্রে কেন্দ্রে, মন্দিরে মন্দিরে ঠাকুরকে সামনে রেখে ব্যবসার উপকরণ সাজিয়ে বসেছি? আত্মপ্রতিষ্ঠা, ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি, অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে সৎসঙ্গী সেজে বসেছি?

কথাগুলি বললাম এইজন্য যে করোনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কেন্দ্রে কেন্দ্রে (ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে) দুর্গতদের পাশে দাঁড়াবার, পরোপকারের রমরমা উপস্থিতি! ঢাকঢোল পিটিয়ে চলছে দুর্গত সেবা! এমনকি শুনতে পাচ্ছি ইষ্টভৃতি কালেকশনের নানা ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেষ্টা চলছে ঠাকুরবাড়ির নাম দিয়ে! চলছে দুর্গতদের সাহায্য করার জন্য অর্থ সংগ্রহ!

এখন প্রশ্ন, এইসমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ কি মূল কেন্দ্র 'সৎসঙ্গ' দেওঘর অনুমোদিত? আচার্য্য নির্দেশিত? করোনার কারণে দুর্গতদের মধ্যে চাল, ডাল, আলু ইত্যাদি বিতরণের জন্য অর্থ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত কি দেওঘর 'সৎসঙ্গ' অনুমোদিত?

সাধারণ সৎসঙ্গী হিসেবে মনে প্রশ্নগুলি এইজন্য এলো শ্রীশ্রীবড়দাকে না মানার পেছনে যে কায়েমী স্বার্থ, মৌরসি পাট্টা, ক্ষমতা দখলের রাজনীতি ছিল সেই একই ট্র্যাডিশন এখনও চলেছে কিনা!? এই যে বড়দাকে না মানার মূল কারণকে লুকিয়ে অন্য কারণ হিসেবে আচার্য্য প্রথার উত্থাপন এবং সেই প্রথার বিরোধিতার সমর্থনে বেছে বেছে ঠাকুরের বাণীকে সাধারণের সম্মুখে তুলে ধরার যে নোংরা চেষ্টা সেই চেষ্টার ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে বর্তমান আচার্য্যের সময়েও তা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল করোনা। আজ যদি এই আচার্য্য পরম্পরা না থাকতো তাহ'লে যে কি হ'তো তা ভাবলেও ব্যথায় বুকটা ভরে ওঠে। আচার্য্য থাকতেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে মন্দিরে মন্দিরে 'আমি, আমি, আমি প্রধান, আমি প্রধান'-এর পাগলামো দেখে দেখে মনে হ'লো শ্রীশ্রীঠাকুর এবারে কেন 'ঔরসজাত ও কৃষ্টিজাত সন্তান' হিসেবে প্রধান ভক্তকে নিয়ে এলেন এবং কেন পিতাপুত্রের লীলার মধ্যে দিয়ে সৎসঙ্গকে প্রচন্ড বাধাবিপত্তির মধ্যে দিয়ে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন আর কেনই বা আচার্য্য পরম্পরার সৃষ্টি ক'রেছেন!!!!! সৎসঙ্গকে রক্ষা করা ও তাঁর মিশন প্রতিষ্ঠার জন্য এবার দয়ালকে রেত শরীরে লীলা করতেই হবে! নতুবা সব ধ্বংস ক'রে দেবে ঘোর কলির ভক্তরূপী শয়তানরা!!!

আর যারা সেই ঠাকুরের দেহ রাখার সাথে সাথে শুরু ক'রে দিয়েছিল আচার্য্য বিরোধিতার ধুয়ো তুলে শ্রীশ্রীবড়দা-কে না-মানার ষড়যন্ত্র, যারা শ্রীশ্রীবড়দা-র কঠিন কঠোর ব্যক্তিত্বের সামনে অসহায় বোধ করতো, অসহায় বোধ করতো ইচ্ছেমতো চলবার সুযোগ না পাওয়ার জন্য তারা শ্রীশ্রীবড়দা-কে আচার্য্য ব'লে মেনে নেননি এবং আজ পর্যন্ত আচার্য্য পরম্পরার তীব্র বিরোধিতা ক'রে চলেছে! ক'রে চলেছে ঠাকুরের নানা বাণীর সাহায্যে! এইজন্যই বলতে চাই যদি বিরোধীদের এই কথা সত্য হয় যে শ্রী শ্রী ঠাকুরই আচার্য্য, একমাত্র শ্রীশ্রীঠাকুর ছাড়া আর কেউ আচার্য্য নয় তাহ'লে ঠাকুরই একমাত্র রাজা ও প্রজা, একমাত্র ঋত্বিক, যাজক, অধ্বর্জ্যু ইত্যাদি তাহ'লে ব্যাপারটা কেমন হবে? তা হ'লে কেন এত ঋত্বিক!? কেন এত যাজক!? কেন অধ্বর্যু-এর প্রচলন!? তিনিই যদি শিষ্য হ'ন তাহ'লে কেন এত তাঁর শিষ্য!?

যাই হ'ক এই প্রসঙ্গে ঠাকুর কি বলেছেন দেখা যাক।
"পুরুষোত্তমই রাজা-প্রজা জীবন-যশের খেই,
জন্মগত গুরু-আচার্য্য ঋত্বিক-অধ্বর্যুও সেই;
যাজক-পূজক-শিষ্য তিনি গরীব-ধনী একই জন,
হৃদয়-জোড়া সৃষ্টিছাড়া সৎ-অসৎ-এর বিশ্রয়ণ।"
শ্রীশ্রীবড়দা বিরোধীরা, আচার্য্য প্রথার বিরোধীরা এর উত্তর দিয়ে সাধারণ সৎসঙ্গীদের ভ্রম দূর করার সৎ সাহস, পবিত্র দায়িত্ব নেবেন কি! অপেক্ষায় রইলাম।

আর সর্বশেষ, আজকের অতি উৎসাহী কিছু ইয়ং জেনারেশন ঠাকুর প্রতিষ্ঠার নামে নানারকম নিজেদের মনগড়ন পদক্ষেপ গ্রহণ ক'রে চলেছে দিকে দিকে! বিরোধীদের বিরোধিতার জন্য প্রতিবাদ প্রতিরোধের নিজেদের ইচ্ছেমত নকল বুন্দিগড় গড়ে তুলছে, দেওঘর থেকে সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে এইরকম বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অনলাইন সৎসঙ্গ হচ্ছে, ঠাকুরবাড়ির অনুমতি, পরামর্শ ছাড়াই ফোরাম গঠনের বালখিল্য লাফঝাঁপ দিচ্ছে!!!!!! সেই একই গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়লের প্রতিচ্ছবি বাংলার বুকে দিকে দিকে!!!!!!

তাই আজ এই অস্থির সময়ে একান্তে বসে ভাবি, আজ যদি এই আচার্য পরম্পরা না থাকতো, মাথার উপর অভিভাবক না থাকতো, ভবিষ্যৎ আশ্রয় (শ্রীশ্রীবাবাইদাদা, শ্রীশ্রীঅবিনদাদা) সামনে না থাকতো তা হ'লে কি হ'তো!?!? চোখের সামনে মাথার উপর আচার্যদেব শ্রীশ্রীদাদা আছেন, আছেন শ্রীশ্রীবাবাইদাদা, আছেন শ্রীশ্রীঅবিনদাদা তথাপি 'গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল'-দের বাড়বাড়ন্ত, যেমন ইচ্ছে তেমন চলন দেখে এবং বর্তমান করোনা মহামারীর পরিপ্রেক্ষিতে সৎসঙ্গীদের দ্বারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্র নির্দেশ ও অনুমতি ছাড়া যার যার ইচ্ছেমতো দুঃস্থ ও গরীবদের এবং সরকারি ক্ষেত্রে দান ও সাহায্যের ভুমিকা পালনে তৎসহ 'সৎসঙ্গ দেওঘর' কেন্দ্র বিজ্ঞপ্তি ব্যতিরেকে অনলাইন ইষ্টভৃতি সংগ্রহের চক্রান্ত থেকে বোঝা গেল, অনুভব হ'লো, উপলব্ধি হ'লো আচার্য্য পরম্পরার গুরুত্ব!! কেন আচার্য্যের প্রয়োজন! কেন ঠাকুর এবার রেত শরীরের মধ্যে দিয়ে পিতাপুত্রের লীলা ক'রে চলেছেন!!!!
আসুন কোনোদিন না হওয়ার থেকে দেরীতে হ'লেও সাধারণ সৎসঙ্গীদের চোখ খুলুক, চেতনা জাগ্রত হ'ক, আচার্য পরম্পরার মাহাত্ম্য উপলব্ধি হ'ক! আসুন আচার্য পরম্পরার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হ'ই! মাথায় রাখি রেত শরীরে সুপ্ত থেকে তিনি আমাদের সামনে নিরন্তর জ্যান্ত রূপে অবস্থান করছেন! সেই রূপ পরম পূজ্যপাদ আচার্যদেব শ্রীশ্রীদাদার সাবধান বাণী "তোর খেয়াতে মাঝিই যে নেই শেষের সেদিন ভয়ঙ্কর" যেন আমরা না ভুলে যাই সৎসঙ্গীরা! সাবধান!! জয়গুরু।
( লেখা ৭ই মে' ২০২০)

প্রবন্ধঃ করোনা মহামারী ও আচার্য্য পরম্পরা। ২

পরবর্তী অংশঃ

 সত্যিই কাল আমার জন্য কি অপেক্ষা করছে আমি জানি না। রাজার ছেলে রামকে যদি ১৪ বছর বনবাসে কাটাতে হয়, পরমপিতা শ্রীরাম যার স্বামী তাঁকে যদি বনবাসে কাটাতে হয়, রাবণের হাতে নিগৃহীত, অপমানিত, লাঞ্ছিত হ'তে হয়, অগ্নিকুণ্ডে প্রবেশ করেও যার কপালের লিখন পুড়ে খাক হয় না, যে নারীর পাঁচ পাঁচটা শক্তিমান মহাবীর স্বামী, যার বন্ধু স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ সেই নারী দ্রৌপদীকেও অপমানিত হ'তে হয় দুঃশাসনের মত লম্পটের হাতে আর পুত্রকে হারাতে হয়, আর মহারাজা হরিশচন্দ্রকে জীবন সায়াহ্নে শ্মশানের ডোম হ'য়ে কাটাতে হয়েছিল সেখানে আমার আপনার ভাগ্যে কি লেখা আছে তা আমরা জানবো কি ক'রে!?


গান শুনতে শুনতে খালি মনে হচ্ছিলো ঠাকুরের কথা,
"দয়া করা হিসাবে দান অহংকারের পরিপোষক। দান কর, কিন্তু দীন হ'য়ে প্রত্যাশা না রেখে। তোমার অন্তরে দয়ার দরজা খুলে যাক। যিনি কাতরভাবে তোমার দান গ্রহণ করেন, গুরুরূপে তিনি তোমার হৃদয়ে দয়াভাবের উদ্বোধন করেন;, অতএব কৃতজ্ঞ হও। যাকে দান ক'রবে, তার দুঃখ অনুভব ক'রে সহানুভূতি প্রকাশ কর, সাহস দাও, সান্তনা দাও; পরে যা'সাধ্য, যত্ন-সহকারে দাও;, প্রেমের অধিকারী হবে------দান সিদ্ধ হবে। দান ক'রে প্রকাশ যত না কর ততই ভাল, অহংকার থেকে রক্ষা পাবে।"

এগুলি কার কথা!? ঠাকুরের!? আমার প্রিয়পরমের!? আমার দয়ালের!? বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের মালিক সৃষ্টিকর্তা আমার গুরু পরমপিতা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের!? এই কথাগুলি যদি তাঁর হয় তাহ'লে আজকের এই করোনা মহামারীর সময়ে অন্যদের কথা বলতে চাই না, যারা সাহায্যের ঝোলা নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে আমাদের সৎসঙ্গী গুরুভাইবোনেরা তাদের কি দয়ালের এই কথাগুলি জানা আছে!? হয়তো আমার এই কথায় গুরুভাইবোনরা আমায় ভুল বুঝতে পারে কিন্তু একটু মনের কথায় সায় না দিয়ে বিবেকের কথা কান পেতে যদি শুনি তাহ'লে সত্যানুসরণে বলা ঠাকুরের কথাগুলির অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে পারব!
এখন নিজেকে, নিজের বিবেককে যদি ঠাকুরের বলাগুলির উপর প্রশ্ন করা যায়:
১) আমি কি দান করার নামে দুর্গত মানুষকে দয়া করছি?
২) আমি দান করার সময়ে দীন হ'য়ে দান করেছি?
৩) দান করার সময়ে আমার কোনও প্রত্যাশা ছিল?
৪) দান করার সময়ে আমার অন্তরে কি দয়ার দরজা খুলেছিল?
৫) দান করার সময়ে কখনো কি মনে হয়েছে যিনি আমার দান গ্রহণ করছেন তিনি সেই মুহূর্তের জন্য আমার গুরু?
৬) আমার মধ্যে দয়া ভাব জাগিয়ে দিল যে দুর্গত ব্যক্তি তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ?
৭) যাকে দান করেছি তার দুঃখ অনুভব করেছি? দুঃখ অনুভব ক'রে সহানুভূতি প্রকাশ করেছি? তাকে সাহস দিয়েছি? সান্তনা দিয়েছি? যখন তাকে দান করেছি আমার সাধ্য অনুযায়ী তাকে দিয়েছি? সেই দান যত্ন সহকারে করেছি? আর দান করার পর তা প্রকাশ করিনি তো?
৮) আর সর্বশেষ প্রশ্ন, সত্যি সত্যিই কি আমার মধ্যে দান করার সময়ে দয়ার ভাব জেগেছিল? নাকি সবটাই নাটক? সবটাই গিভ এন্ড টেক পলিসি?
ঠাকুরের বাণী এবং পরবর্তী এসব প্রশ্ন মনে আসার পরে মনে হ'লো এসব কথা রাজনৈতিক দল, নেতা বা ক্ষমতাদখলকারীর জন্য প্রযোজ্য নয়! ওরা এসবের ধার ধারে না। কিন্তু সৎসঙ্গীদের জন্য? সৎসঙ্গীদের জন্য কি প্রযোজ্য নয়?
এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্থির মন আরও কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল আমাকে!
১) করোনার জন্য সাহায্যের সময় এটা কি আমার মনে ছিল যে
আমার নিজের ইচ্ছে ব'লে কিছু নেই, ঠাকুরের ইছেই আমার
ইচ্ছে?
২) মনে ছিল "ইচ্ছেমতো ভজলি গুরু, হ'তে মানুষ
হ'লি গরু" ঠাকুরের এই বাণী?
৩) করোনার আক্রমণেই হ'ক আর যেই কারণেই হ'ক বিধ্বস্ত মানুষের
পাশে কি নিজের ইচ্ছেমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবো নাকি
ঠাকুরের ইচ্ছেমতো!?
৪) আচার্য্য নির্দেশ মানবো নাকি নিজের নির্দেশে চলবো!?
৫) ঠাকুর কি প্রচার পছন্দ করতেন? ঠাকুর কি তাঁর বি-শা-ল কর্মযজ্ঞ
কোনদিনই প্রচার করেছিলেন?
যেমন তিনি সেই দেশ ভাগের আগে (১৯৪৭ সাল) চলে আসার সময় সেই সময়ের বাজার মূল্য হিসেবে কোটি টাকার সম্পত্তি অবহেলায় অবলীলায় ছেড়ে দিয়ে চলে এসেছিলেন সেই বি-শা-ল সম্পত্তি ও তার সামাজিক কর্মকান্ড সম্পর্কে কোনও প্রচার ছিল? ছিল না! কেন!? কেন প্রচার ছিল না!? কেন নীরবে এতবড় কর্মকান্ড গড়ে গেল অথচ কাকপক্ষী পর্যন্ত টের পেল না!? কেন দেশের সেইসময়-এর তাবড় তাবড় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ টের পেল না দেশের অখ্যাত অনুন্নত গ্রাম্য পরিবেশে গড়ে ওঠা বি-শা-ল সাম্রাজ্য, গান্ধীজির স্বপ্নের ভারত!?!? কোনোদিনও সেই সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত সৎসঙ্গীরা কি ভেবে দেখেছে এমন কথা!?
৬) আচার্য্য থাকা সত্ত্বেও আমাদের ইচ্ছেটা যেহেতু আমাদেরই তাই আমাদের ইচ্ছের ডানা মেলে আমরা উড়বোই!?
৭) কেন্দ্র (সৎসঙ্গ, দেওঘর) অনুমতি ব্যতিরেকে মানুষের মধ্যে
সৎসঙ্গীদের ত্রাণ বন্টন কেন্দ্রকে অমান্য করা নয়!? ইচ্ছেমতো
গুরু ভজা নয়!?
৮) আমি সৎসঙ্গী নিজের ইচ্ছেমতো পরিচালিত হবো ও পরিচালনা
করবো নাকি কেন্দ্রের নির্দেশ মতো চলবো ও সবাইকে চালিত
করবো!?

ঠিক এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে করোনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আচার্য্য পরম্পরার প্রয়োজনীয়তা ও উপযোগিতা!

পুরোনো সৎসঙ্গীরা জানে ঠাকুরের মহাপ্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গে কি ভয়ঙ্কর ঝড় উঠেছিল সৎসঙ্গ জগতে। ক্ষমতাদখলের নির্লজ্জ্ব উল্লাসে ফেটে পড়েছিল সৎসঙ্গী নামধারী একদল প্রতিষ্ঠিত ধান্দাবাজ মানুষ। চতুর্দিক থেকে ঠাকুরের প্রাণপ্রিয় 'এ আমার সৎসঙ্গ' (ঠাকুর সবসময় আবেগভরে বলতেন)-কে টুকরো টুকরো ক'রে দিতে কোমর বেঁধে উঠেপড়ে লেগেছিলেন সেইসময়ের নামীদামী প্রতিষ্ঠিত সৎসঙ্গীরা! চতুর্দিক থেকে ধেয়ে আসছিল সাধারণ সৎসঙ্গীদের বিভ্রান্ত করার মেসেজ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত ঋত্বিকদের মাধ্যমে তাদের যজমানদের কাছে ঠাকুর সৃষ্ট ফিলান্থথ্রফি অফিসে ইষ্টভৃতি না পাঠিয়ে তাদের ব'লে দেওয়া জায়গায় পাঠাতে। ঠাকুরের আসনে নাকি 'আচার্য্য' নাম নিয়ে ব'সে পড়ছেন ঠাকুরের আত্মজ, প্রাণাধিক, চোখের মণি, ঠাকুরের প্রথম সন্তান সৎসঙ্গ জগতের সৎসঙ্গীদের প্রাণের বড়ভাই শ্রীশ্রীবড়দা! শ্রীশ্রীবড়দা-র হাত থেকে সৎসঙ্গের ব্যাটন ছিনিয়ে নেবার জন্য শুরু হ'য়ে গেছিল ভয়ানক গোষ্ঠীদ্বন্ধ! শ্রীশ্রীবড়দা-র বিরুদ্ধে শুরু হ'য়ে গিয়েছিল ক্ষমতাদখলের জন্য লিফলেট বিলির মাধ্যমে কুৎসার ঘৃণ্য পদক্ষেপ! তামাম সৎসঙ্গীরা বিভ্রান্ত হ'তে লাগলো! সত্যি-মিথ্যে বোঝার উপায় নেই, নেই সাধারণ সৎসঙ্গীদের সেই ক্ষমতা। কিছুদিন প্রচার হ'তে লাগলো ঠাকুর নাকি শ্রীশ্রীবড়দা-র এইসব নোংরামি দেখে আবার ধরাধামে অবতীর্ণ হ'য়েছেন তাঁর পূর্ব নির্ধারিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী! আর তা ছাপার অক্ষরে বেরিয়েও গেল বাজারে মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য! আম সৎসঙ্গীদের মাঝে বিশ্বাসযোগ্য ক'রে তোলার জন্য কলম ধরলেন তৎকালীন বিহার হাইকোর্টের কোনও প্রধান বিচারপতি! আচার্য্য প্রথার বিরোধিতায় ঠাকুরের গ্রন্থ ঘেঁটে ঘেঁটে বের করা হ'তে লাগলো ঠাকুরের বাণী, ছড়া, আলোচনা আর তা ছাপিয়ে ছাপিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হ'তে লাগলো প্রতিষ্ঠিত ঋত্বিকদের মাধ্যমে যজমানদের কাছে! যাজকদের মাধ্যমে! রাতারাতি পাঞ্জা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হ'য়ে গেল যাকেতাকে! যেন মরণপণ এক লড়াই! লড়াই শুরু হ'য়ে গেল সৎসঙ্গ জগতে সৎসংগীদাদা-মায়েদের গোষ্ঠী গঠনের মাধ্যমে! শুরু হ'য়ে গেল পাল্টা প্যারালালভাবে শ্রীশ্রীবড়দা বিরোধিতায় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রয়াস! অস্তিত্বের খুঁটি গাঁড়তে ও মজবুত করতে শুরু হ'য়ে গেল প্রার্থনার দ্বিজাতিকরণ!!!!! সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ প্রার্থনা নিয়ে, আচার্য্য প্রথা নিয়ে, ঠাকুরের স্বপ্ন পূরণের ব্যর্থতার তীব্র হাওয়া তুলে ও আরো অনেক রকম মনগড়া বিষয় নিয়ে শুরু হ'য়ে গেল শ্রীশ্রীবড়দা-র বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অভিযান! ধীরে ধীরে কায়েমীস্বার্থ রক্ষাকারীদের সম্মিলিত শক্তি একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়লো ঠাকুর সৃষ্ট 'সৎসঙ্গ' প্রতিষ্ঠানের উপর! প্রবল ধাক্কায় নড়ে উঠলো সৎসঙ্গীকুল! কুল রাখি না মান রাখি, নাকি কুলমান দু'টিই রাখি বা বিরুদ্ধ শক্তির সাহারা হ'য়ে উঠি এইরকম টালমাটাল অবস্থায় সৎসঙ্গীরা দিকভ্রান্ত! এই কঠিন সময়ে, যখন চতুর্দিকে ভয়ঙ্কর ঝড় ঝঞ্ঝার ঘোর অন্ধকার ঘনিয়ে উঠেছে 'সৎসঙ্গ'-এর আকাশে তখন দেখা গেল ধ্যানস্থ ঋষির মত গভীর ধ্যানে মগ্ন, ধীরস্থিরভাবে বিকারহীন অটল হ'য়ে বসে আছেন শ্রীশ্রীবড়দা ঠাকুরকে বুকে নিয়ে। মনে পড়ে গেল হনুমানের বুক চিরে প্রভু রামকে দেখানোর গল্প! সেদিনের যারা সাক্ষী আজও বেঁচে আছেন তাঁরা জানেন সেদিনের শত লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, অপমান, অপবাদ, নিন্দা, গালাগালি, গভীর চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র, মামলা মোকদ্দমা, আশ্রমের উপর আক্রমণ, মৃত্যু ইত্যাদি নানা অসহনীয় তীব্র যন্ত্রণাদায়ক বিরোধিতার মাঝে অটল স্তম্ভের মত, বি-শা-ল ছাতার মত ঠাকুরের প্রাণপ্রিয় সৎসঙ্গ ও সৎসঙ্গীদের বুক দিয়ে আগলে রেখেছিলেন শ্রীশ্রীবড়দা!!!!!! তখন মনে পড়ে গেছিল ঠাকুরের ইষ্টভৃতি-র তাৎপর্য!

ঠাকুর বললেন, "ইষ্টভৃতি, স্বস্তয়নী করার দরুন যার ভেতর যে energy (শক্তি) মজুত হয়েছে, বিপদের সময় তাই-ই তাদের ত্রাণ আনবে।"
এই প্রসঙ্গে প্রায় তিনি জেমস-এর কথা বলতেন। জেমস তার সিলেক্টেড এসেস গ্রন্থে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে এই দান সম্পর্কে বলেছেন, "যখন সবকিছুর অস্তিত্ব টলায়মান হ'য়ে উঠবে, এবং শক্তিহীন নির্জ্জীব লোকগুলি ঝড়ের আগে তুষের মত উড়ে যাবে, তখন সে একটা স্তম্ভের মত নিজের শক্তিতে অটল হ'য়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।"
এই কথা প্রমাণ করে পাহাড় প্রমাণ সমস্যা, বাধা যখন ঠাকুরের অনুপস্থিতিতে শ্রীশ্রীবড়দার পথরোধ ক'রে দাঁড়ালো, যখন সৎসঙ্গ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব টলে উঠলো তখন ঠাকুরের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান 'সৎসঙ্গ' ও তাঁর সোনার সৎসঙ্গীদের রক্ষা করার জন্য শ্রীশ্রীবড়দা স্তম্ভের মত নিজের শক্তিতে অটল হ'য়ে বুক টান টান ক'রে দাঁড়িয়ে রইলেন ক্ষমতা দখল ও কায়েমীস্বার্থ রক্ষাকারীদের সামনে! তুষের মত উড়ে যেতে লাগলো যত ধান্দাবাজ নির্জ্জীব তথাকথিত প্রতিষ্ঠিত সৎসঙ্গীবৃন্দ! বড়দার বিরোধিতা, লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, নিন্দা, সমালোচনা, গালাগালি আর কুৎসার প্রচন্ড ঝড় মুখ বুজে নীরবে সহ্য করতে লাগলেন বড়দা এই গভীর বিশ্বাসে যে ঠাকুর বলেছেন ঝড় ঝঞ্ঝা যতই আসুক মনে জোর রাখতে হবে এই ভেবে যে মাথায় যখন দয়াল ঠাকুর আছেন তখন আমাদের আর ভাবনা নেই!

ঠাকুরের বাণী: ঝড় ঝঞ্ঝা যতই আসুক মনেতে রাখিস জোর
মাথায় আছেন দয়াল ঠাকুর ভাবনা কি বা তোর।

আর তা ক্রমে ক্রমে সত্য হ'য়ে উঠলো! মেঘ কেটে আবার সূর্য উদয় হ'লো। শ্রীশ্রীবড়দার নেতৃত্বে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়তে লাগলো সারা বিশ্বজুড়ে ঠাকুরের নাম, দিকে দিকে ভারতের সমস্ত রাজ্য ছুঁয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গড়ে উঠতে লাগলো পরমদয়ালের মন্দির, লক্ষ লক্ষ লোক ছুটে আসতে লাগলো দূর দূরান্ত থেকে ঠাকুরের চরণে! বিরোধিতার ঝড়কে উপেক্ষা, তাচ্ছিল্য ক'রে এগিয়ে যেতে লাগলো নিজের লক্ষ্যে পরমপিতার রথ শ্রীশ্রীবড়দার বলিষ্ঠ, কোমল-কঠোর নেতৃত্বে! ঠাকুরের বলা নিখুঁত ইষ্টভৃতি ও স্বস্তয়নী করার ফলে যে সীমাহীন energy স্টোর হয় তার জলজ্যান্ত নিদর্শন বা উদাহরণ শ্রীশ্রী বড়দা! আজ সেই বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ব্যাটন যোগ্য ও দক্ষ হাতে ধরা রয়েছে! সৎসঙ্গ ও সৎসঙ্গী কুল আজ নিশ্চিন্ত! সেদিন দয়ালের মহাপ্রয়াণের পর সুযোগসন্ধানী সৎসঙ্গী যে যেমন ইচ্ছা চলতে চেয়েছিল, চেয়েছিল যেখানে যেখানে কেন্দ্র মন্দির আছে সেখানে সেখানে মৌরসি পাট্টা জমিয়ে বসতে! 'আমি, আমি আর আমি প্রধান, আমি প্রধান' রোগ ঘিরে ধরেছিল কেন্দ্র, মন্দিরে! বড়দার দক্ষ ও বলিষ্ঠ হাত রুখে দিয়েছিল সেই 'আমাদের ইচ্ছেটা আমাদেরই, আমাদের ইচ্ছের ডানা মেলে আমরা উড়বোই' এই উচ্শৃঙ্খল, বিশৃঙ্খল মানসিকতা। সেই যে কেমন ক'রে দয়ালকে, দয়ালের প্রতিষ্ঠানকে, মিশনকে, স্বপ্নকে, ইচ্ছাকে রক্ষা করতে হয়, পূরণ করতে হয়, এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তা হাতে কলমে নিজে আচরণ ক'রে করিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন সেই ক্রুশিয়াল পিরিয়ডে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর প্রচন্ড পরিশ্রমে দিনরাত একাকার ক'রে! কে বুঝবে সেই ব্যাথা, কষ্ট, যন্ত্রণা!? বোঝে সে, প্রাণ বোঝে যার! সেদিন বড়দা না থাকলে কি হ'তো আজ ভাবলেও শিউড়ে ওঠে অন্তরাত্মা! তাই এবার এই ঘোর কলিযুগে শ্রীশ্রীঠাকুরের পরম ভক্ত সেই মহাবীর, মহাশক্তিশালী হনুমানকে নিজের ঔরসজাত ও কৃষ্টিজাত সন্তান ক'রে নিয়ে এসেছিলেন ঠাকুর, নিয়ে এসেছিলেন যুগে যুগে তাঁর পরমভক্ত অর্জুন, নিত্যানন্দ, বিবেকানন্দ ইত্যাদিকে তাঁর প্রথম সন্তান রূপে! কারণ তিনি জানতেন তাঁর অবর্তমানে কি হবে তাঁর সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানের, তাঁর দর্শন, তাঁর মিশনের! তিনি যতবার এর আগে এসেছিলেন তাঁর মহা প্রয়াণের পর তাঁর সাধের সংগঠন ভেঙে টুকরো টুকরো হ'য়ে গেছে আর এবারের সময় হ'লো ঘোর কলিযুগের সময়!
ক্রমশঃ
( লেখা ৭ই মে' ২০২০)


প্রবন্ধঃ করোনা মহামারী ও আচার্য্য পরম্পরা। ১

করোনার আক্রমণে গোটা পৃথিবীতে মানুষের ব্যবহারিক জীবনে বিরাট পরিবর্তন এসেছে আর সেই পরিবর্তন আমাদের সৎসঙ্গীদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। করোনার প্রভাবে মানুষের পৃথিবীতে আজ মানুষ যে মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে আর মানুষ আপন টাকা যে পর....... এই লোকসেবার ছবি আজ যেদিকে তাকাই সেদিকেই সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আর সেই ছবি প্রকাশের গতির যে তীব্রতা বিভিন্ন মিডিয়ায় সেই তীব্রতা করোনার অগ্রগতির তীব্রতাকেও হার মানিয়ে দিয়েছে! সেই যে গান "একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না, ও বন্ধু------" সেই সহানুভূতি প্রদর্শনের ঢেউ দেশের দ্বীপপাল থেকে পঙ্গপাল আর জমিদার থেকে জমাদার সবার মধ্যে সংক্রমিত হয়েছে!

এরই পরিপ্রেক্ষিতে মনে হ'লো মহামারী (করোনা) বা বিপর্যয় ও আচার্য্য পরম্পরার সম্পর্কের কথা! এই নিয়ে ঘনিষ্ঠ সৎসঙ্গীদের সঙ্গে যখন আলোচনা করলাম, তখন তারা হাসতে হাসতে পরস্পর পরস্পরকে কনুইয়ের গুঁতো দিয়ে ফুৎকারে আমার কথাকে উড়িয়ে দিয়ে বললো, যত্তসব পাগলের প্রলাপ!!!!!

কিছুক্ষণ চুপ ক'রে গেলাম, তারপরে ভাবলাম দেখা যাক এই পাগলের প্রলাপ নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক। দেখা যাক সত্যি সত্যিই পাগলের প্রলাপ কিনা। আসুন একটু দেখে নিই এই করোনার কারণে বিভিন্ন কেন্দ্র-মন্দিরে লোকসেবার্থে সৎসঙ্গীদের গৃহীত পদক্ষেপের সঙ্গে আচার্য্য উপস্থিতি ও আচার্য পরম্পরার কি সম্পর্ক!!!!!!!!!!

করোনা মহামারীর প্রকোপ যে এতটা ভয়ঙ্কর হবে কোনও দেশের প্রধান, রাজ্যের প্রধান থেকে শুরু ক'রে দেশের আমজনতা আরো সহজ ক'রে বললে ভালো হয় দেশের দ্বীপপাল থেকে পঙ্গপাল, জমিদার থেকে জমাদার কেউ কল্পনা করতে পারেনি! এটা বললে অত্যুক্তি হবে না যে কল্পনা করার শক্তিই নেই, নেই বায়োলজিক্যালি ভাবেই!! এই কল্পনা শক্তি হারিয়ে গেছে সব ক্ষেত্রেই বহু বহু বছর আগেই যেদিন থেকে জন্মবিজ্ঞান আর্য্যকৃষ্টি বহির্ভূত প্রকৃতির নিয়ম উল্লঙ্ঘনীয় মিলন ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল!

এই করোনার ভয়ঙ্কর থাবা যে এত দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে তার আগাম কল্পনা করতে না পারার কারণে সারা পৃথিবীতে বিজ্ঞানে উন্নত, অতি উন্নত দেশগুলি করোনার ভয়ঙ্কর আক্রমণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার! আমরা আলোচনার গভীরে যাওয়ার আগে এক নজরে দেখে নিই বিশ্বে মোট কত করোনায় আক্রান্ত, কত সুস্থ আর কত লোক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে! আর দেখে নিই ভারতের ছবিটাই বা কি! তারপরে দেখবো এই করোনার কারণে সৎসঙ্গীদের দুর্গতদের জন্য সেবাকার্য্যে অংশগ্রহণ কতটা ত্রুটিমুক্ত!

আর্টিকেল প্রকাশের (৭ইমে' ২০২০) তারিখ পর্যন্ত সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী গোটা বিশ্বে আক্রান্ত: ৩৬ লক্ষ ৮২ হাজার ৯৬৮ জন।
সুস্থ: ১২ লক্ষ ০৭ হাজার ৫৪৮ জন।
মৃত্যু: ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৯০৬ জন।
ভারত: জনসংখ্যা ১৩৫কোটি ২৬ লক্ষ।
আক্রান্ত: ৩৭, ৩৩৬ জন,
সুস্থ: ৯, ৯৫১জন,
মৃত্যু: ১,২১৮ জন।

চীন দ্রুত নিজেকে এই ভয়াবহ মহামারীর হাত থেকে সামলে নিয়েছে ও নিচ্ছে। এই করোনা ভাইরাস নিয়ে চীনের সম্পর্কে অনেক কিছুই শোনা যায় সেগুলি এখানে আলোচ্যের বিষয় নয়। আলোচ্য এই, করোনা মহামারী যখন উন্নত অতি উন্নত দেশগুলির উপর তার ভয়াবহ থাবা বসিয়ে শেষ ক'রে দিচ্ছে তখন ভারতের মত উন্নয়নশীল দেশে এর প্রভাব কতটা ও তার কার্যকারিতা কি তাই নিয়ে। আলোচ্য বিষয়, এর মোকাবিলায় প্রশাসন ও জনগণের ভূমিকা।

ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে করোনা মোকাবিলায় প্রথম বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেওয়া হয় ২০২০ সালের ২২শে মার্চ ১৪ ঘন্টা জনতা কারফিউ পালনের মধ্যে দিয়ে। পরে ২৪শে মার্চ দেশজুড়ে ২১দিনের লক ডাউন ঘোষণা করেন। আর বর্তমানে লক ডাউন ১৭মে পর্যন্ত এক্সটেন্ড করা হয়েছে। ভারতে প্রথম করোনা ধরা পরে ২০২০ সালের ৩০শে জানুয়ারি। এই ৩০শে জানুয়ারী থেকে ২৪শে মার্চ পর্যন্ত সামান্য দীর্ঘ সময় নষ্ট কতটা ভয়াবহ হ'তে পারে তা দেখিয়ে দিল করোনা নামক এক ছোট্ট পোকা!

দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে যখন যে পদক্ষেপ নিয়েছেন সেটারই সমালোচনা ব্যঙ্গ বিদ্রুপ হয়েছে ভারতে বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের পবিত্র মাটিতে। তদ্রুপ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়েও তাই হয়েছে! আবার যখন এই ভয়ঙ্কর মৃত্যুর তাণ্ডবলীলা চলছে দেশে দেশে আর তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়তে চলেছে ভারতের মাটিতে আর সরকার, সরকারি প্রশাসন, জনগণ যখন ভীত সন্ত্রস্ত তখনও রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতির পাশার দান চেলে গেছে খোদ দেশের রাজধানী দিল্লিতে ও পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে করোনা মহামারীকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে! গণ্ডিস্বার্থ কাকে বলে, গন্ডিস্বার্থী নেতা কেমন, লোকপূরণ স্বভাবহারা নেতা কিরকম নেতা, মানুষকে সইতে না পারার মানসিকতা কেমন এই সমস্ত কিছু করোনার এক ঝটকায় আমাদের কাছে উন্মোচিত হ'য়ে গেল!!!

এইসমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রী দেশকে, দেশের জনগণকে, সভ্যতাকে, দেশ ও জনগণের মঙ্গলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই ভয়ঙ্কর মৃত্যুর হাতছানির সময়ে নতুনভাবে প্রমাণ করলো শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণী কতটা জীবন্ত ও এইসময়ে প্রাসঙ্গিক!
শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছিলেন,
"ইষ্ট নাই নেতা যেই, যমের দালাল কিন্তু সেই!
গন্ডীস্বার্থী হবে যে নকল নেতা জানিস সে।
লোকপূরণ উপেক্ষি যে গন্ডীস্বার্থী ধরে,
শিষ্ট নেতা নয়কো সে-জন নকল হ'য়েই মরে।
মানুষকে যে সইতে নারে যে-জন তাদের বয় না,
লাখ মোড়লি ঝাঁকুক না সে নেতা তা'রে কয় না।"

কি অদ্ভুত এই বাণীর অন্তর্নিহিত অর্থ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দিল্লীর শাহীনবাগ ও নিজামুদ্দিন, কলকাতার রাজারহাট, মহারাষ্ট্র রেলওয়ে স্টেশন ইত্যাদির বর্তমান ঘটনা প্রমাণ করলো!

আর এই কঠিন সময়েও রাষ্ট্রের শাসনদন্ড যাদের হাতে তাদেরও দেখলাম কতটা দুর্বল, কতটা অসহায়, কতটা কিংকর্তব্যবিমূঢ়!!!!
দেশের স্বাধীনতার ৭৩ বছর পরেও দেশের শাসনব্যবস্থা ল্যাংড়া হ'য়েই রইলো!! দুর্বল হাতে দেশের শাসনদন্ড ধরিয়ে দিয়ে সেই যে ব্রিটিশ যাবার সময় দু'টুকরো ক'রে ল্যাংড়া ক'রে দিয়ে গেল ভারতকে আজও এত বছর পরেও ভাঙা পা জোড়া লাগলো না, ল্যাংড়া আর সোজা হ'য়ে দাঁড়ালো না, হাঁটা তো দূরের কথা!!! উল্টে আমরা কি দেখতে পেয়েছি এতবছর বা কি দেখছি!? শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীতে তার নিদর্শন আমরা খুঁজে পাবো।
শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন,
"রাষ্ট্রশাসনদন্ড দেশের চললে শিথিল পায়,
শিষ্ট দলি' অজ্ঞ বেকুব লোকশাসনে ধায়।"

এ তো গেল দেশের স্টিয়ারিং যাদের হাতে ছিল তাদের কথা। কিন্তু এই করোনা মহামারীর ভয়াবহতার সময়ে দুর্গত মানুষদের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাদের কর্মীবৃন্দ, বিভিন্ন ক্লাব, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগেও যারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল তাদের সাহায্যের বহর দেখে মনে হয়েছিল সত্যি সত্যি বুঝি সত্য যুগ ফিরে এলো!!!! করোনা এসে আমাদের ঘুম ভাঙিয়ে জাগিয়ে দিয়ে এক ক'রে দিয়ে গেল এই বোধে, "মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য...."। কিন্তু তার মধ্যে যেটা খারাপ লাগতো তা হ'লো এই সাহায্যের সময় ফটো তোলার হিড়িক দেখে! দিকে দিকে গরিব মানুষ আর প্রশাসনের হাতে সামান্য সাহায্য তুলে দিচ্ছে এইসমস্ত সাহায্যকারী দল আর সেই সাহায্যে একসঙ্গে ১০টা হাত ছুঁয়ে দিয়ে যাচ্ছে গরীব অসহায় মানুষগুলোর হাতে ধরিয়ে দেওয়া সামগ্রী আর প্রশাসনের হাতে ধরিয়ে দেওয়া চেকেতে আর তা ফটো হ'য়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন মিডিয়ায়!!!!!!! চতুর্দিকে দয়ার বান ডেকেছে! প্রত্যেকেই নেবে পড়েছে সাহায্যের ঝোলা নিয়ে! খুব আনন্দ হচ্ছিল এইভেবে যাক দুর্গত মানুষদের জন্য প্রাণ কাঁদে কিছু মানুষের! যাক দুটো খেয়ে বাঁচুক দুর্দশাগ্রস্থ মানুষ! আবার মনে হ'লো যখন করোনা মুক্ত হ'য়ে যাবে পৃথিবী তখন তো আর এই সাহায্য থাকবে না, অদৃশ্য হ'য়ে যাবে এই হাত! যেমন হঠাৎ এসেছিল মা লক্ষী হ'য়ে আবার হঠাৎ উধাও হ'য়ে যাবে, গায়েব হ'য়ে যাবে ঐ হাত! তখন কি হবে!? মন বললো, যাক যা হবার হবে। এখন তো দুটো খেয়ে বাঁচুক! এখনও মরতো তখনও মরবে। না খেয়ে মরার চেয়ে দুটো খেয়ে মরুক হাভাতের দল! বরং করোনা মায়ের পুজোর প্রচলন হ'ক! গরিবের কাছে, দুর্গত মানুষের কাছে করোনা 'জাগ্রত মা করোনা দেবী' হ'য়ে আবির্ভুত হ'ক প্রতিবছর এইদিনগুলিতে! নতুন এক জাগ্রত দেবতার প্রচলন হ'ক গরিব মানুষ, দিন আনা দিন খাওয়া দুর্গত মানুষের কাছে! আর শুরু হ'য়ে যাক ব্যবসার উপকরণ হিসেবে ধান্দাবাজ ধার্মিক আর ব্যবসায়ীদের কাছে আর এক দেবতা মা করোনার পুজো!

আর এই ঘোর কলিযুগে দয়ার বান ডাকা মৃত্যু ভয় দেখানো ছাড়া সম্ভব নয়! ভয়ে ভক্তি এই ঘোর কলিযুগে দয়ার বন্ধ দরজা খুলে যাবার চাবিকাঠি! দানের মাধ্যমে যদি ঈশ্বরের দয়া পাওয়া যায়, পাপ মুক্ত হওয়া যায়, করোনার হাত থেকে বাঁচা যায়! ব্যতিক্রম অবশ্য অবশ্যই আছে। আর মুষ্টিমেয় তাদের জন্য আজও সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে আর পশ্চিমদিকে অস্ত যায়! আর তাছাড়া এর থেকে আরো বোঝা যায় আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্ব শুরু হ'য়ে গেলো! যেন, কারো সর্বনাশ আর কারো পৌষ মাস-এর কাউন্ট ডাউন শুরু হ'য়ে গেছে!

আর ভাবলাম কোথায় গেল এই কঠিন সময়ে সাম্যবাদী, সমাজ কো বদল ডালো, গরিবের মসিহা কমিউনিষ্টরা!? হা কমিউনিস্ট! যখন সবচেয়ে বেশি তোমাদের দরকার গরীবদের তখন কোথায় তোমরা!? কোথায় পাড়ি জমিয়েছো পরিযায়ী পাখির মতন এই সময়ে!!!!?
যাই হ'ক এসব দানের ছবি দেখতে দেখতে মনের মধ্যে কে যেন অশ্রুসজল কণ্ঠে গুনগুন ক'রে গেয়ে উঠলো:

"চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়
আজিকে যে রাজাধিরাজ কা'ল সে ভিক্ষা চায়।
অবতার শ্রীরামচন্দ্র যে জানকীর পতি
তারও হলো বনবাস রাবণ করে দুর্গতি।
আগুনেও পুড়িল না ললাটের লেখা হায়।।
স্বামী পঞ্চ পাণ্ডব, সখা কৃষ্ণ ভগবান
দুঃশাসন করে তবু দ্রৌপদীর অপমান,
পুত্র তার হলো হত যদুপতি যার সহায়।।
মহারাজ হরিশচন্দ্র, রাজ্য দান ক'রে শেষ
শ্মশান-রক্ষী হয়ে লভিল চণ্ডাল-বেশ
বিষ্ণু-বুকে চরণ-চিহ্ন, ললাট-লেখা কে খণ্ডায়।।"

ক্রমশঃ
(লেখা ৭ই মে' ২০২০)


প্রবন্ধঃ এরা কি সৎসঙ্গী!?

মাঝে মাঝেই কিছু মানুষকে দেখি ফেসবুকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের পরিবার নিয়ে অশ্লীল নোংরা কথা লিখে নিজেদেরকে ইষ্টপ্রাণ ঠাকুরপ্রেমী হিসেবে তুলে ধরে! সেই মানুষদের মধ্যে যখন মায়েদের দেখি সমান তালে পাল্লা দিয়ে ঘোঁৎ ঘোঁৎ ক'রে ছুটে চলেছে, কে আগে কত নোংরা কথা বলতে পারে তার প্রতিযোগিতায় প্রাণপাত করছে তখন হতাশায় বুকটা ভরে যায়! এরা 'সুসন্তানে দেশ ভরে দাও মা! সুসন্তানে দেশ ভরে দাও!'-এর হবে কারিগর!? ঠাকুরের ফটো সামনে রেখে 'একমেবাদ্বিতীয়ম'-এর ধ্বজা তুলে এরা ইষ্টপ্রাণতার এমন ছড়ি ঘোরায়, ঠাকুর প্রেমের এমন বন্যা ছোটায়, ঠাকুর ভক্তির এমন ঢাকঢোল পেটায় যার আঘাতে আজ দেশ, সমাজ, মানুষ ক্ষতবিক্ষত, যার তোড়ে আজ সভ্যতা-ভব্যতা, শিক্ষা-শালীনতা, কৃষ্টি-সংস্কৃতি সব ধ্বংস হ'য়ে চলেছে, যার তীব্রতায় শব্দদূষণের মাত্রা এমন ছাড়িয়েছে যে দীক্ষিত-অদিক্ষিতদের জীবন আজ ওষ্ঠাগত! এরা নাকি সৎসঙ্গী! এরা নাকি ঠাকুরের শিষ্য! এরা নাকি ইষ্টস্বার্থ রক্ষার চৌকিদার! ইষ্টস্বার্থ প্রতিষ্ঠার এরাই নাকি একমাত্র দক্ষ ও যোগ্য কারিগর! এদের দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় কি? এরা অপমান, অশ্রদ্ধা, লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, নিন্দা, সমালোচনা, কুৎসা করার দক্ষ কারিগর ও কটু কথা বলার ও লেখার যোগ্য বাগ্মী ও লেখক! এরা যখন ঠাকুর পরিবারের বিরুদ্ধে কলম দিয়ে নীলমূত্র ত্যাগ করে তখন এদের কলমের নীল মূত্রপাতের তীব্র কটু দুর্গন্ধে ফেসবুকের হাওয়া তীব্র বিষাক্ত হ'য়ে ওঠে! এরা যখন ঠাকুর আত্মজদের বিরুদ্ধে কথার কামান দাগে তখন মনে পড়ে যায় কারও মুখের নোংরা ভাষার উল্লেখ করতে গিয়ে বিহারী হিন্দুস্থানী ভাইদের মুখের ব্যবহৃত বহু পরিচিত একটা কথা, টাট্টি কা মাফিক বাত!!!!! মানে মুখ দিয়ে যে কথা বের হচ্ছে সেগুলি টাট্টি কা মাফিক অর্থাৎ গুয়ের মত দুর্গন্ধযুক্ত!!! মুখ দিয়ে যেন অনবরত আমাশা যুক্ত ফেনাওয়ালা কালো কালো টাট্টি বেরিয়ে আসছে! মুখ দিয়ে যেন এদের অনবরত সাপ, ব্যাঙ, ইঁদুর, ছুঁচো ইত্যাদি বেরোচ্ছে! এদের এমন করুণ ভয়াবহ অবস্থা কেন!? কেন এরা পরম প্রেমময়ের দরবারে এমন হায়েনার মত নিম্ন ঘৃণ্য চরিত্রের? কেন এদের জীবনে এত হিংসা, এত জ্বালা!? কেন এরা ঘুম থেকে উঠেই চুল্লুখোরদের মত ঘুম ঘেকে উঠেই ঠাকুর আত্মজদের নিয়ে গালাগালির অভিধান খুলে বসে!? এদের কেউ বারণ করে না এমনভাবে নিজেদের রাস্তার ঘেও কুকুরের মত নিচে না নাবাতে!? এদের পিতামাতা, স্বামীস্ত্রী, পুত্রকন্যা এদের এহেন ভাগার তুল্য আচরণের জন্য লজ্জা বোধ করে না!? এদের যারা পথপ্রদর্শক অর্থাৎ যাদের দেখানো পথ অনুসরণ ক'রে এরা এরকম বীভৎস নরকের কিটে পরিণত হয়েছে সেই পথপ্রদর্শকদের পরিণতি কি? তাঁরা কেমন আছে!? তাঁদের শারীরিক-মানসিক অবস্থা কি!? এরা খ্যাপা পাগলা কুত্তার মত ঘেউ ঘেউ ক'রে বেড়াচ্ছে ফেসবুকের আঙিনায় আবার লাথি খেয়ে কেঁউ কেঁউ করতে করতে ঢুকে পড়ছে সাপের, ছুঁচোর গর্তে! এরা ঠাকুরবাড়ির বিরুদ্ধে ঠাকুর আত্মজদের সম্পর্কে বংশ পরম্পরায় এমনই বিষ ঢালতে থাকে যে এরা কোনোদিনই উদ্ধার পাবে না! সাগর রাজার বংশে ভগীরথ জন্ম নিয়েছিল, জন্ম নিয়েছিল অভিশপ্ত বংশে কিন্তু এদের বংশে কোনদিনই হয়তো ভগীরত জন্মাবে না! এদের পাপের ঘড়া এতটাই পূর্ণ হ'য়ে গেছে যে এরা শিশুপালের পাপকেও ছাড়িয়ে গেছে! এরা এমনই আর এতটাই দুর্ভাগা যে এরা কোনোদিনই ভেবে দেখে না এরা ঠাকুর পরিবারকে, ঠাকুরের আত্মজদের অপমান, লাঞ্ছনা করতে করতে, গালাগালি দিতে দিতে শারীরিক-মানসিক এমনকি আত্মিক ভাবে এতটাই গভীর ভাবে প্রভাবিত হয়েছে যে এদের স্পার্ম-ওভাম নেগেটিভলি এফেক্টেড হ'য়ে গেছে, বায়োলজিক্যাল ডিফেক্ট হ'য়ে গেছে! নষ্ট বীজে নষ্ট চারাগাছ জন্মাবার মত এদের পরবর্তী প্রজন্মও নষ্ট হ'য়েই জন্মাবে! এই ব্যাপারে এদের, এদের অভিভাবকদের না আছে হুঁশ, না আছে চেতনা!

এরা কি সৎসঙ্গী!? কৈ এদের বিরুদ্ধে, এদের অভিভাবকদের বিরুদ্ধে 'সৎসঙ্গ' থেকে, সৎসঙ্গ ঠাকুরবাড়ি থেকে তো কোনও উচ্চবাচ্য নেই!!!!!!!!! ঠাকুর পরিবারের কোনও সদস্য তো আজ পর্যন্ত কোনোদিনই কোনো প্রতিবাদ করেনি এদের বিরুদ্ধে! এদের অভিভাবকদের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করেনি! বলেনি কোনোদিনই কোনও কটু কথা! আজ মূল কেন্দ্র 'সৎসঙ্গ' অনুসারী কোটি কোটি শিষ্য (কয়েক বছরে যা ১০কোটি ছাড়িয়ে যাবে আচার্যদেব শ্রীশ্রীদাদার ইচ্ছায়, নেতৃত্বে) কোনোদিনই শোনেনি ঠাকুর বাড়ির কারও মুখে এদের বিরুদ্ধে বা এদের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনও অপ্রীতিকর কথা, মন্তব্য, আলোচনা! কেন!? কেন তাঁরা বলেনি, বলেনা!? অথচ এরা সংখ্যায় নগন্য হ'লেও হাতির বিরুদ্ধে ব্যাঙের লাফালাফির মত কিংবা হাতি চলে বাজারমে, কুত্তা ভোঁকে হাজার-এর মত গ্যাও গ্যাও আর ঘেউ ঘেউ ক'রে চলেছে!!!!!!! এরা কি সৎসঙ্গী!? ঠাকুর এমন অসভ্য, অভদ্র, কুৎসিত চরিত্রের অধিকারী সৎসঙ্গী চেয়েছিলেন নাকি!? তাই ঠাকুরের উপর বিচারের ভার ছেড়ে দিয়ে শুধু তাঁর বাণীটিই স্মরণ করতে পারি। ঠাকুর বললেন,
"জেনে রেখো ---
বিচারের দিন যখনই আসুক না কেন,
অন্যের প্রতি তোমার প্রত্যেকটি
অসাবধান বাক্যের
জবাবদিহি ক'রতে হবে,
তোমার বাক্যই তোমাকে
বিমোচিত বা বিমর্দ্দিত ক'রবে।"
শ্রী শ্রী ঠাকুর
সদ্ বিধায়না/ ২য় খন্ড /৩৮।


তাই আসুন আমরা সবাই মিলেমিশে শেষের সেদিন ভয়ঙ্কর-এর কথা চিন্তা ক'রে আচার্যদেবের নেতৃত্বে মহামিলনের ক্ষেত্র রচনা করি।
(লেখা ৭ই মে'২০১৯)

প্রবি সমাচার ৬

যে যাই বলে বলুক, যে যাই করে করুক, যে যাই শোনে শুনুক, যে যাই বোঝে বুঝুক, যে যাই খোঁজে খুঁজুক, যে যাই দেখে দেখুক, যে যাই পড়ে পড়ুক, যে যেমন চলে চলুক আমি করোনাকে ভয় করবো না। আমি ভয় করবো না ভয় করবো না।
যার যাকে লাগে ভালো সে তারে ভালোবাসুক, যার যাকে লাগে ভালো সে তারে ডাকুক, যার যাকে লাগে ভালো সে তার-ই সাথে মিশুক, যার যাকে লাগে ভালো সে তার-ই সাথে থাকুক, যার যাকে লাগে ভালো সে তারে খুঁজুক, যার যাকে লাগে ভালো সে তার-ই কথা শুনুক, যার যাকে লাগে ভালো সে তারে দেখুক, যার যাকে লাগে ভালো সে তার-ই পথে চলুক, যার যাকে লাগে ভালো সে তারে-ই পুজুক গো।
আমার লাগে ভালো তমসার পার অচ্ছেদ্য বর্ণ মহান পুরুষ ইষ্টপ্রতীকে আবির্ভুত একমেবাদ্বিতীয়ম পূর্বাপুরক বর্তমান পুরুষোত্তম রক্তমাংসসংকুল উদ্ভাসিত জীবন্ত ঈশ্বর পরমপিতা সদগুরু পরমকারণিক সৃষ্টিকর্তা বিশ্বব্রহ্মান্ডের মালিক পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র!!!!!! আমি তাঁরে পুজিগো। তাঁরে আমি বাসি ভালো, তাঁরে আমি ডাকি গো।
যার যাকে লাগে ভালো সে তাঁকে স্মরণ করুক, শরণ নিক।
আমার লাগে ভালো যারে তাঁর আমি করি স্মরণ, আমি তাঁর নিয়েছি শরণ।
"মৎস্য-কূর্ম্ম-কোল-নৃসিংহ-বামন-শরীরম
রাম-কৃষ্ণ-বুদ্ধ-যীশু-মোহাম্মদ-রুপায়িতম
চৈতন্য-রামকৃষ্ণানুকূলং পূর্ব্বতনীপূরণম
শাশ্বতাং বর্ত্তমানম" 
আমি শরণম! আমি শরণম!! আমি শরণম!!!
তাই আমি করোনাকে করি নাকো ভয়।
(লেখা ৭ই মে'২০২১)

কবিতা? যারা গেছো চলে।

সবাই গেছো চ'লে কেউ নেই বাকী আজ অবশেষে।
জীবন খুঁজে পাবার তরে এসেছিলে যারা
তারা সব গেছো চলে ফিরে মরণ নদীর কূলে
জীবন নদী পায়ে দ'লে।
যারা তোমরা সবাই গেছো চ'লে
দয়ালকে একা রেখে অনাদরে ফেলে
দল বেঁধে নেচে নেচে হেঁসে হেঁসে
কানে কানে মরণের ঢেউ তুলে
তারা তোমরা যদি পারো যতটুকু পারো
ক'রো দয়ালের যা আছে অসম্পূর্ণ কাজ
প্রায়শ্চিত্ত রূপে, রেখো দয়ালের লাজ
জীবন সূর্য পাটে যাবার আগে।
আর যদি না পারো ফিরে এসো করি ত্বরা
জীবন নদীর কুলে তাঁর দরবারে
শেষ নিঃস্বাস ফেলার আগে তাঁর চরণতলে
শেষের সেদিন ভয়ংকর একথা স্মরণ ক'রে।
অশ্রুপাতে ভিজিয়ে তাঁর রাতুল চরণ
নাশিও লক্ষ্য করি তাঁর অসহনীয় বুকে
তোমার দেওয়া বিষ ব্যাথা; দেখো তোমার
নিজ ব্যথা জ্বালা যন্ত্রণা যা আছে সব যাবে ঘুচে।
কারণ তিনি দয়াল, আমার তোমার পরমবাপ!
(লেখা ৭ই মে' ২০২২)