Powered By Blogger

Wednesday, January 28, 2026

প্রসংগঃ গ্রহদোষ ও শ্রীশ্রীঠাকুর। ( পরবর্তী পর্ব ৩)

এমনিভাবেই আস্তে আস্তে পথে যেতে যেতে পরতে পরতে মনের কথা খুলে বলতে লাগলো। একমনে কথাগুলি শুনতে শুনতে পথ চলছিলাম। একটু আগে যে মানুষটার মধ্যে কথা বলার ইচ্ছে, আগ্রহ, উৎসাহ, শক্তি কিছুই ছিল না, যেন জ্যান্ত একটা শব পথ দিয়ে চলছিল। সেই মানুষটা ঠিক-বেঠিক, যৌক্তিক-অযৌক্তিক অনেক কথার স্রোতে নিজেকে উজাড় ক'রে দিতে লাগলো। সব মন দিয়ে ধৈর্য সহকারে শুনলাম। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কথাও ফুটে উঠলো কথার মাঝে। আক্ষেপ ঝ'রে পড়লো সত্তোরোর্ধ বয়স হওয়া সত্ত্বেও আজও বাধ্যর্ক্য ভাতা না-পাওয়ায়। বাধর্ক্য ভাতা নাকি সরকার দেয় না, দেয় নেতার হাতা, হাতার চামচা, চামচার বেলচা। বেলচাকে খুশী করতে না পারলে নাকি বাধর্ক্য ভাতার ফর্ম টেবিলের তলা দিয়ে ময়লার ঝুড়িতে চলে যাবে। এই বয়সে চারবার ফর্ম ফিল আপ করেছে তবুও হয়নি। বেলচা, চামচা, হাতা ছাড়িয়ে নেতার কাছে পৌঁছনোর চেয়ে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছে যাওয়া নাকি অনেক সহজ। আর এ বাস্তব, এ নির্ম্মম অপ্রিয় সত্য। যারা বোকা, হাবা, চালাকি করতে পারে না, সরল, বেকুব, লজ্জাশীল, মুখচোরা তা' সে যে দল করুক আর না করুক ক্ষমতাসীন নেতা বা নেতার হাতা, চামচা, বেলচাদের খুশী করতে না পারলে তোমার ভাগ্যের বা লক্ষীর ভাঁড়ার শূন্য, ফাঁকা থেকেই যাবে আমৃত্যু। কেউ এগিয়ে এসে তোমাকে সাহায্য করবে না। কিন্তু তোমার থেকে সাহায্য নেবে চুটিয়ে নিংড়ে নির্লজ্জভাবে। কিন্তু তোমার সাহায্য নিয়ে পাড়ে উঠে এসেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে বিরোধিতা যে করেছে, চরম শত্রুতা যে করেছে, যে ধাক্কা মেরে ফেলে দিতে চেয়েছে নীচে তার দিকে। আমে দুধে মিলে যাবে তুমি আঁটি হ'য়ে পড়ে থাকবে যেখানে ছিলে সেখানেই কিংবা তার মনের মত না চললে লাথি মেরে ফেলে দেবে আরও নীচে, জড়িয়ে সমস্যার গভীরে বেড়াজালে।

সমস্ত গ্রহের বিগ্রহ হ'লো বৃহস্পতি। কারণ বৃহস্পতি হ'লো সবচেয়ে বড় ও বিশাল গ্রহ। আর বৃহস্পতিকে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে তুলনা করা হয়। তাই বলা হয়, যস্য কেন্দ্রে বৃহস্পতি কিং কুর্বন্তি গ্রহা। যার কেন্দ্রে বৃহস্পতি তাঁকে কি করতে পারে গ্রহেরা? সহজ সরল উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে, এলাকার দাদার যে আস্থাভাজন তার কি করতে পারে গলির ছুটকো মস্তান। 

ঠিক তেমনি সমস্ত জীব জগতের সৃষ্টিকর্তা হ'লো নবরূপে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র। তাই ঠাকুর যার জীবনে মনে প্রাণে শয়নে, স্বপনে, জাগরণে, অবগাহনে, ভোজনে সর্ব্বক্ষণে ভোর শুর হওয়া থেকে শুরু পরদিন ভোর হওয়া পর্যন্ত তার আবার কিসের গ্রহদোষ? গ্রহদোষ বলে কিছু নেই ও কিছু হয় না। সৎসঙ্গীদের এত দুর্বল হ'লে চলে না, হ'তে নেই। গ্রহদোষ মানে গ্রহণ দোষ। আপনি ভালো কিছু গ্রহণ করলে সেটা গ্রহগুণ আর খারাপ কিছু গ্রহণ করলে গ্রহদোষ। গ্রহদোষ কাটাবার জন্য সৎসঙ্গ দেওয়া মানে ঠাকুরকে আপনার নিজের জন্য ভাঙ্গানো। ঠাকুরকে নিজের জন্য ভাঙ্গাবেন না। ঠাকুরের জন্য নিজেকে ভাঙ্গান। সৎসঙ্গ দেবেন ঠাকুরকে মানুষের জীবনে জীবনে ঢুকিয়ে দেবার জন্য। 

তাই, গ্রহদোষ বলে আজেবাজে জিনিসে কুসংস্কারাচ্ছন্ন হ'য়ে পড়া অন্তত সৎসঙ্গীদের মানায় না। সৎসঙ্গীদের এমন দুর্বল মানসিকতার জন্য ঠাকুর ব্যথা পান। তাই, কোন গ্রহদোষ ব'লে কিছু নেই। যদি কিছু থেকে থাকে তা হ'লো আপনার দোষ। আপনার দোষকে চিহ্নিত করুন এবং সেই দোষকে জীবন থেকে বের ক'রে দিন।

পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, "তুমি ঠিক ঠিক জেনো যে, তুমি তোমার, তোমার পরিবারের, 
দশের এবং দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য দায়ী।"
জয়গুরু।
( লেখা ২৮শে জানুয়ারী'২০২৫)।

No comments:

Post a Comment