বাংলাদেশের আপনি একজন নামকরা হিন্দু বাঙ্গালী সাহিত্যিক। আপনার সঙ্গে কোনও একটা বিষয়ে আলোচনায় জানতে চেয়ে একটা প্রশ্ন করেছিলাম। তার উত্তরে আপনি আমাকে রেগে গিয়ে প্রতিক্রিয়ায় ব্যাঙ্গাত্মক হাসির রিয়াক্ট দিলেন এবং কমেন্ট বক্সেও হা হা হা ক'রে হেসে উঠলেন এবং আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে প্রসঙ্গ পাল্টে একেবারে অপ্রাসঙ্গিকভাবে হঠাৎ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে অকারণ 'যত্তসব বুজরুকের বুজরুকি' ব'লে আক্রমণ ক'রে বসলেন।
আপনার নামটা আপনার সম্মান রক্ষার্থে এখানে উল্লেখ করলাম না।
ভাবছিলাম কি এমন কমেন্ট করলাম যার জন্য এমন আক্রমণ? আরও ভাবলাম আপনার কাছে আপনার প্রোফাইলে পোষ্ট করা বিশ্বের পুরুষরচিত সমস্ত ধর্মগ্রন্থে নারীদের অন্ধকারে রাখবার বিধিব্যবস্থা ঈশ্বরের আদেশ হিসেবে প্রচার সম্পর্কে বাংলাদেশের কোনও প্রতিষ্ঠিত লেখিকার করা বক্তব্যের রেফারেন্স জানতে চাওয়া আমার অপরাধ ছিল? তাও আবার সাধারণ মানুষ নন, আপনি সাহিত্যিক মানুষ। আমি একজন সাহিত্যিকের কাছে জানতে চেয়েছিলাম। অনেক বই আপনার বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে ও হচ্ছে। আপনার মতো বিজ্ঞ জনের কাছে এমন ব্যবহার আশাতীত।
শুধু ভাবলাম আপনি একজন হিন্দু বাঙালি হ'য়ে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সম্পর্কে অবলীলায় অবহেলায় যে কটূক্তি করলেন তা আপনি বাংলাদেশে বসে পুরুষোত্তম পরমপিতা হজরত মোহাম্মদ সম্পর্কে ক'রতে পারবেন? ক'রে দেখান। তবে বুঝবো আপনার দম আছে। পারবেন না এটা একশোভাগ নিশ্চিত। আর যদি পারার মতিভ্রমও হয় সেটাও হবে অন্যায়, অধর্ম ও সত্তাঘাতী।
হিন্দুধর্ম, হিন্দু দেবদেবী, হিন্দু প্রফেটদের নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করা যায় তা হিন্দুধর্মের মানুষদের দ্বারা হ'ক বা অন্য যে কোনও ধর্মের মানুষদের দ্বারাই হ'ক। তা অনেকবার প্রমাণিত। ধর্মপ্রাণ হিন্দুরা কিচ্ছু করতে পারেনি। এটা হিন্দুদের দূর্বলতা বা সীমাহীন সংযম যা হ'ক একটা কিছু বলা যেতে পারে।
আর, হিন্দু বাঙালি প্রফেট মহাপ্রভু, রামকৃষ্ণ ও শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রদের নিয়ে হিন্দু বাঙালিরা তা ওপার বাংলা, এ পার বাংলা যে বাংলায় হ'ক বাঙালিরা তাদের বিরুদ্ধে কুৎসা, নিন্দা, সমালোচনায় চটকে একেবারে পিছন ফালাফালা ক'রে দেয়। আর, অবাঙালীরা তাই দেখে, শুনে অবাক হ;য়ে ভাবে আর হাসে!
যাই হ'ক এটা বুঝলাম যে একজুন সাহিত্যিক হ'য়েও আপনার শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবন ও প্রজ্ঞা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র তিল সমান ধারণা নেই। এমনি এমনি তাঁকে The greatest phenomenon of the world বলা হয় না। এমনি এমনি তাঁর জীবনের ওপর, তাঁর ব'লে যাওয়া বিষয়ের ওপর গবেষণা ক'রে বহু ভক্ত মানুষ পি এইচ ডি ডিগ্রি লাভ করেনি? যা এখনও তীব্র গতিতে চলছে। এমনি এমনি তাঁর জীবনের ওপর আমেরিকান ভক্তের লেখা বই আমেরিকার বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা 'হার্পার এন্ড ব্রাদার্স পাবলিকেশন্স' থেকে প্রকাশ হয় নি? আপনার বা আপনাদের মতো সমালোচকদের একটা বই সেখান থেকে প্রকাশ ক'রে দেখান। এর নিশ্চয়ই কিছু ভিত্তি আছে। সেই ভিত্তিটা সম্পর্কেই আপনার কোনও ধারণা নেই।
এ প্রসঙ্গে বলি, প্রাচ্যের জ্ঞানীদের প্রসঙ্গে একবার শ্রীশ্রীঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, জ্ঞানীরা কিভাবে বুঝলেন যে যীশুই জগতের ত্রাতা। উত্তর দিয়েছিলেন শ্রীশ্রীঠাকুর, " প্রকৃত জ্ঞানী যাঁরা তাঁরা পুরুষোত্তমকে দেখেই চিনতে পারেন। তাঁকে দেখেই তাঁরা ভাবেন-- 'দেখে যেমন মনে হয় চিনি উহারে'।" সমঝদারকে লিয়ে ঠাকুরজী কা ইয়ে ইশারা কাফি হ্যাঁয়।
যখন আপনি ব্যঙ্গ হাসি হাসলেন আর 'যত্তসব বুজরুকি' তকমা সেঁটে দিলেন ঠাকুরের গায়ে তখন জানতে ইচ্ছে করে নিজে একজন লেখক সাহিত্যিক হ'য়ে কোন মাপকাঠিতে The greatest phenomenon of the world SriSriThakur Anukul Chandra-কে এমন তকমা দিলেন!? আবার বলছি, মাপকাঠিটা কি?
সাহিত্যিক লেখক বন্ধুকে কয়েকটি প্রশ্নঃ
১) ২০বছর বয়সে কিছুই না জেনে অনুকূলের প্রতি আকৃষ্ট হ'য়েছিলেন আপনি। কেন এবং কি দেখে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন? আর কি জেনেই বা তাঁর প্রতি আকর্ষণ ক'মে গেল আর বিতৃষ্ণা জন্মালো?
২) কেন আপনার লেখক সত্ত্বা দিয়ে তাঁকে জানার চেষ্টা করলেন না?
৩) মৃত মানুষকে নাড়াচাড়া করাবার কাহিনী লোক্মুখে শুনেছিলেন ২০বছর বয়সে। কোনো মৃত মানুষকে নাড়াচাড়া নয় ডাক্তারি পরিভাষায় মৃত ব'লে ঘোষিত অথচ মৃত নয় এমন মানুষকে জীবন দান করার কথা বলেছিলেন শ্রীশ্রীঠাকুর আর আপনি বুঝেছেন উল্টো।
আপনাকে প্রশ্নঃ এর জন্যে কে দায়ী? শ্রীশ্রীঠাকুর? নাকি আপনার অজ্ঞতা? আর আপনি কি শ্রীশ্রীঠাকুরের কোন মৃত (?) মানুষকে নিয়ে নাড়াচাড়া ও তাকে জীবন দান এবং এর পিছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা পদ্ধতিই বা কি তা জানার চেষ্টা করেছিলেন?
৪) বর্তমান বিজ্ঞানের অগ্রগতির ভাষায় যাকে মৃত ব'লে ঘোষণা করা হচ্ছে, পুড়িয়ে বা কবর দিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিজ্ঞানের পরিভাষায় সেই মৃত মানুষদের মধ্যে যারা প্রকৃত মৃত নয় অথচ মৃত (?) বলা হচ্ছে তাদের দেহে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার বিশেষ জ্ঞানের সাহায্যে তৈরী প্রোজেক্টের সম্বন্ধে কিছু জানতেন বা জানেন বা সেই মেশিনের নাম কি জানেন?
৫) জ্ঞানের তৃষ্ণা নিয়ে জানার ইচ্ছা হয়েছিল আপনার মৃত মানুষের দেহে প্রাণ সঞ্চার সম্পর্কিত মূল বিষয়ের আদ্যপান্ত ২০বছর বয়সের উড়ুক্কু মেজাজে? নাকি এরতরফা সব বোগাস, বুঝ্রুকি ব'লে উড়িয়ে দিয়েছিলেন না জেনে, না বুঝে, না দেখেই? আর তকমা সেঁটে দিয়েছিলেন "নো ঈশ্বর, নো ভগবান, নো অনুকূলের বুজরুকি" ব'লে ?
৬) আপনি কি জানেন আজ থেকে ১০০বছরের অধিক সময় আগে যে মৃত (?) মানুষের দেহে প্রাণ সঞ্চার বিষয় নিয়ে ঠাকুর গবেষণা শুরু করেছিলেন এবং বহুদূর এগিয়েও ছিলেন শুধুমাত্র সহযোগী বিজ্ঞানী মানুষ আর টাকার অভাবে সম্পূর্ণ ক'রে যেতে পারেননি সেই বিষয় নিয়ে এখন বিশ্বের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন? আজ যদি আবিস্কার হ'য়ে যেত তাঁর দেওয়া মৃত (?) মানুষের দেহে প্রাণ সঞ্চার মেশিনের নাম 'ভাইব্রোমিটার' যন্ত্র তাহ'লে গোটা বিশ্ব আজ তাঁর পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়তো। কারণ তাঁর আরও বিজ্ঞানের নানাদিক নিয়ে ব'লে যাওয়া অত্যাশ্চর্য বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে। তা কি আপনি জানেন? দুর্ভাগ্য মানবজাতির।
৭) আপনার প্রশ্ন, আপনি জানতে চেয়েছেন জীবিত মানুষের জন্য অনুকূল কি বুজরুকি দেখাতে পারেন?
এই প্রশ্নের উত্তর পরবর্তী লেখায় দিচ্ছি। আশা করি ধৈর্য্য ধ'রে পড়বেন।
ইতি,
শ্রী প্রকাশ বিশ্বাস
ভারত, পশ্চিমবাংলা।
ক্রমশঃ
( লেখা ৭ই জানুয়ারী'২০২৩)

No comments:
Post a Comment