আমার মুখে সৎসঙ্গে না আসার কারণ বাড়ির সমস্যা কিনা বা গুরুভাইদের সমস্যা কিনা এই প্রশ্ন শুনে পথ চলতি দেখা হওয়া গুরুভাই একটু ইতস্তত ক'রে বললো,
'বাড়ির সমস্যা যে নেই তা নয়, তাছাড়া গুরুভাইবোনেদের মধ্যে পারস্পরিক বিদ্ধ্বেষ সব মিলিয়ে আর সৎসঙ্গে যেতে ইচ্ছে করে না।'
আমি জিজ্ঞেস করলাম, দু'টো সমস্যাই গুরুতর তাহ'লে, তাই তো?
না, ঠিক তা নয়, ব'লে একটু থেমে কি ভেবে যেন বললেন, তবে আবার ঠিক তাই। আসলে কি জানেন মানে ইদানীং সব যেন এলোমেল হ'য়ে যাচ্ছে। যাই-ই ভাবছি, যাই-ই করছি সব কেমন যেন দিনের শেষে এসে দেখছি ভুল হ'য়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন গ্রহদোষে গোটা পরিবার---- বলেই শামুকের মতো আবার গুটিয়ে নিলো নিজেকে নিজের মধ্যে।
পথ চলতে চলতে ভাবলাম, একটা মানুষ পেঁয়াজের খোসা খোলার মতো নিজেকে খুলছে আবার থেমে যাচ্ছে। আবার কখনো যেটাকে বেঠিক বলছে সেটাকেই আবার সঠিক বলছে। এই যে দ্বৈত সত্ত্বার প্রকাশ এই চাক্কি পিষিং এন্ড পুষিং-এর মত দ্বৈত সত্ত্বার মধ্যে পিষ্ট হচ্ছে। বুঝলাম কোনোটারই প্রকাশ সঠিকভাবে হবে না। একে একে ধৈর্য সহকারে সময় নিয়ে শুনতে হবে, তাকে স্পেস দিতে হবে যাতে খুলে বলে সবটা। সহজে মানুষ নিজেকে খুলতে চায় না। কিন্তু একটু ডাক্তারের পালস মাপার মত বিশ্বস্ততার সঙ্গে ঠিক জায়গায় মসৃণ মোলায়েম চাপ দিলে অনন্ত জলরাশীর মতো খুলে যায় বন্ধ মুখ।
তাই তাকে আশ্বস্ত ক'রে বললাম, আপনার মনের অবস্থা ও আপনি যা বলতে চাইছেন তা' বুঝতে পারছি। আপনার বলার মধ্যে অস্বাভাবিকতা বা কোনও ভুল নেই। আপনি যদি খুলে বলেন নিশ্চয়ই আমি শুনবো তবে তার আগে বলুন, আপনি সৎসঙ্গে কেন আসেন না? আগে তো আসতেন।
উত্তরে তিনি বিরক্ত হ'য়ে বললেন,
'ভালো লাগে না। সৎসঙ্গে যেতে আকর্ষণ বোধ করি না। যুক্তি, গভীরতা ও চিন্তাশীলতার অভাব মাত্রাহীন।'
কথাগুলি বিরক্তির সঙ্গে দ্রুত বলেই চুপ করে গেলেন। চুপ ক'রে হাঁটতে লাগলাম। একটু ধাতস্থ হওয়ার সুযোগ দিলাম তাকে।
ক্রমশঃ
( লেখা ২৮শে জানুয়ারী'২০২৫)।

No comments:
Post a Comment