Powered By Blogger

Friday, January 16, 2026

প্রবন্ধঃ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিচ্ছিন্ন করুন।

বিচ্ছিন্ন শব্দের অর্থ হল পৃথক, বিভক্ত, খন্ডিত, সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন, যোগাযোগ বিহীন।
আর বিচ্ছিন্নতাবাদ হ'লো একটি দর্শন, যা ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত, পারিবারিক, সাংসারিক, সামাজিক, ভোগৌলিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি ঘরে-বাইরে, দেশে-বিদেশে সমস্ত রকম সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হ'তে চাওয়াকে সমর্থন করে। আর, বর্তমানে বিচ্ছিন্নতাবাদ প্রচলিতভাবে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গনের বিচ্ছিন্নতাকে বোঝায়। অন্যান্য দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সম্পর্ক এড়ানোর পক্ষে সমর্থন করে।

আর বিচ্ছিন্নতাবাদী অর্থ হ'লো এমন একজন যিনি বা যারা একটি প্রতিষ্ঠিত গোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়াকে সমর্থন করেন। বিচ্ছিন্নতাবাদী সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা, জাতিগত বিচ্ছিন্নতা, ধর্মীয় বিচ্ছিন্নতা, আঞ্চলিক, সরকারী বা লিঙ্গ বিচ্ছিন্নতা ইত্যাদির পক্ষে ওকালতি করে।
বিচ্ছিন্নতাবাদীরা স্বায়ত্তশাসন চায়। এই চাওয়া কি পরিবারে, কি শিক্ষা, কি ক্রীড়া, কি ধর্ম, রাজনীতি, কি ব্যবসা, কি প্রশাসন ইত্যাদি সমাজের, দেশের সর্ব্বস্তুরে এরা বিচ্ছিন্নতার জিগির তুলে ভাঙনের মধ্যে দিয়ে নিজেদের শাসন ক্ষমতা কায়েম করতে চায় বা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, স্বাধীন হতে চায় এবং নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে চায়। পরে আবার এদেরই বিচ্ছিন্নতার বিষে নিজেদের মধ্যে ভাঙ্গন ধ'রে ও নিজেরাই আবার বিচ্ছিন্ন হ'য়ে যায়।
আসুন দেখে নিই কিভাবে কোথায় কোথায় বিচ্ছিন্নতার মনোভাবের জন্ম হয়ঃ
১) পরিবারে, সরকারে, অফিসে, কলে-কারখানায়, ব্যবসা বাণিজ্যে, সমস্ত রকম প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন ব্যক্তির মাধ্যমে অযোগ্য ও অদক্ষ পরিচালনার দ্বারা মানুষকে সেখানে বিচ্ছিন্ন ক'রে রাখা হয় এবং সাধারণ মানুষের ওপর দমন পীড়ন ক'রে মানুষকে সেখানে বিচ্ছিন্ন ক'রে রাখা হয়। মানুষ নিজেকে সেই পরিবার, সরকার, অফিস-কাছারি, কল-কারখানা, প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে করে, কখনোই সেই সব কোনও কিছুর প্রতি একাত্ম বোধ করে না। ফলে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্নতার মনোভাবের জন্ম হয়, জন্ম নেয় ভাঙনের স্বভাব।
২) ক্ষমতা দখলের লোভ, আত্মপ্রতিষ্ঠা এবং ঈর্ষা থেকে বিচ্ছিন্নতার মনোভাবের জন্ম হয়।
৩) জাতি, ভাষা, সংস্কৃতি বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি সংখ্যাগুরুদের অবমাননা করা থেকে অর্থাৎ সংখ্যাগুরু দ্বারা সংখ্যালঘুদের প্রতি অবজ্ঞার সঙ্গে আচরণ করা, তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকা, অপছন্দ করা, অসম্মান, অপমান করা ও অনুভূতি না থাকা ইত্যাদি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মানসিকতার জন্ম হয়।
৪) বাইরের শক্তির দ্বারা ঘরের, দেশের, প্রতিষ্ঠানের ইত্যাদির অভ্যন্তরীণ শক্তিকে দূর্বল করা বা ধ্বংস করার জন্য বিপুল আর্থিক মদতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্ম দেওয়া হয়।
বিচ্ছিন্নতার ঘৃণ্য মনোভাবকে ও এই মনোভাবের সৃষ্টিকারীদের এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘরে-বাইরে আপনার জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করুন। 'লোহে লোহেকো কাটতা হ্যায়'-এর মতন, ধর্ম্ম প্রতিষ্ঠার জন্য অধর্ম করার মতন, বিষে বিষে বিষ ক্ষয় তত্ত্বের মতন পরিবারে, সমাজে, দেশে প্রতিটি ব্যষ্টির সঙ্গে প্রতিটি ব্যষ্টিকে সংহত, একত্রিত, সংযুক্ত রাখার জন্য বিচ্ছিন্নতাবাদীকে চিহ্নিত করুন ও সমষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন করুন।
বর্তমান নানারকম জটিল সমস্যা জর্জরিত পৃথিবীতে মানুষ জান্তে-অজান্তে নিজেকে বিচ্ছিন্ন ক'রে ফেলছে ব্যষ্টি-সমষ্টি, সংসার-সমাজ সব কিছু থেকে। পরিণতিতে বোধবুদ্ধিহীন এক তাল মাংস পিন্ড হ'য়ে যন্ত্র স্বরূপ বেঁচে আছে সাধারণ সীমাহীন ভাঙাচোরা মানুষ পরিবারে, সমাজে, দেশে। ফলে মানবতা ও মনুষ্যত্ব বোধের বিলোপ ঘটেছে। দূর্বল হচ্ছে পরিবার, দূর্বল হচ্ছে সমাজ, দূর্বল হচ্ছে দেশ। বিচ্ছিন্নতার মানসিকতা একটা ঘোর ব্যাধি।

19 শতকের জার্মান বুদ্ধিজীবী কার্ল মার্কসও (1818-1883) অনুরূপভাবে শ্রমিকরা শ্রম দিয়ে যে পণ্যগুলি তৈরি করে কলে কারখানায় সেই পণ্যগুলির স্রষ্টা শ্রমিক হওয়া সত্ত্বেও শ্রমিকরা মালিক নয়, মালিক অন্যজন, শ্রমিকেরা সেই উৎপাদিত পণ্যের মালিকানা থেকে বিচ্ছিন্ন, এরূপ মতবাদের সৃষ্টি করেন। এই ব্যবস্থাকে কার্ল মার্ক্স শ্রমের বিচ্ছিন্নতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই মতবাদের প্রভাবে কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের প্রতি ও কারখানার প্রতি শ্রমিকের কোনও সেন্টিমেন্ট থাকে না। জীবনের উপার্জনের পুরোটা সময় সেই উৎপাদিত পণ্য ও উৎপাদিত স্থানের সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও, জীবন যৌবন ব্যয় করা বা উৎসর্গ করা সত্ত্বেও সেই পণ্যের ও স্থানের প্রতি অফিসে, কলে- কারখানায় বিচ্ছিন্নতা বোধের শিক্ষা লাভের কারণে নিজের অজান্তেই শরীরে-মনে ও আত্মায় বিচ্ছিন্নতার ব্যধিতে আক্রান্ত হ'য়ে এক বিচ্ছিন্ন মানসিকতার অধিকারী হয়ে গেছে সেই শ্রমিক কর্মচারী মানুষ।

তাই মানুষ ঘরে-বাইরে, পরিবারে-সমাজে কোনও কিছুর সঙ্গেই আর নিজেকে যুক্ত করতে বা রাখতে পারে না, ব্যর্থ হয়। এই যে বিচ্ছিন্নতার শিক্ষা এই শিক্ষায় শিক্ষিত ক'রে তোলার জন্য যেমন সমস্ত ক্ষেত্রের মালিকানায় থাকা বা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি দায়ী ঠিক তেমনি দায়ী সেই সমস্ত ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মার্ক্সীয় তত্ত্বে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী শ্রমিক-কর্মচারী ও সদস্যরা। পরিবারে, সরকারে, অফিসে, কলে-কারখানায়, প্রতিষ্ঠানে, সংগঠনে মাথা ভালো হ'লেও বিচ্ছিন্নতার ব্যাধিতে আক্রান্ত শরীরের বাকী অংশরা বেয়াড়াপনা করতে ছাড়ে না।
এই বিচ্ছিন্নতার শিক্ষা দেশ-বিদেশ, অফিস, কল-কারখানা, দোকানপাট, হাট-বাজার ইত্যাদির গন্ডি ছাড়িয়ে একেবারে ঘরের অন্দরমহলে ঢুকে পড়েছে। ঢুকে পড়েছে মানুষের বায়োলজিল্যাল মেক আপে, জৈবী সংস্থিতিতে।

তাই, বাইরের শক্তি যখন কোনও পরিবারের বা দেশের স্বার্ব্বভৌমত্ব ধ্বংস করতে চায় তখন পরিবারের বা দেশের আভ্যন্তরীণ বিচ্ছিনতাবাদী শক্তিকে কাজে লাগিয়েই তারা তাই করতে চায়। যা আমরা দেখেছি আমাদের ভারতবর্ষের উপর যতবার বহির্শত্রুর দ্বারা আক্রমণ হয়েছে ততবার আভ্যন্তরীর বিচ্ছিন্নতা্র মানসিক ভয়ংকর ব্যাধিতে আক্রান্ত শত্রু শক্তিকে কাজে লাগিয়েই তাই হয়েছে। মীরজাফর, জয়চাঁদ, জগত শেঠ, ঘষেটি বেগম, জুডাস ইত্যাদি সবার ক্ষেত্রেই ছিল এই এক বিচ্ছিন্ন করার, ভেঙে ফেলার মানসিকতা। আমাদের সুন্দর দেশ ভারতবর্ষকেও ভেঙে টুকরো টুকরো ক'রে দিল দেশের ভিতরে ও বাইরে মনেপ্রাণে লালন পালন করা বিচ্ছিন্নতার মানসিকতাকে মূলধন করেই ব্রিটিশ শক্তি ও দেশের আভ্যন্তরীণ বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি। আজও সেই ট্রাডিশান সমানে চলেছে। আজও বাইরের বৃহৎ শক্তি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশের অভ্যন্তরে জৈবী সংস্থিতিতে সংক্রামিত Biologically affected বিচ্ছিন্নতার মানসিকতার অধিকারী মানুষের সাহায্যে আমাদের দেশকে অস্থির করতে, দূর্বল করতে, ভেঙে আরও টুকরো টুকরো ক'রে দিতে। আর, আমরা চিন্তাভাবনায়, IQ- তে প্যারালাইজড জনগণ বলির পাঁঠার মত নিশ্চিন্তে কাঁঠাল পাতা চিবিয়ে যাচ্ছি। আর এই নিশ্চিন্তে কাঁঠাল পাতা চিবাতেও চিবাতেও আমরা নিজের সংসারকে, নিজের পরিবারকে, নিজের ঘরকেও ভেঙে টুকরো টুকরো ক'রে দিচ্ছি।

এই যে মানুষে-মানুষে, পরিবারে, সমাজে, দেশে ভাগ ক'রে টুকরো টুকরো করার মানসিকতা এই মানসিকতা বায়োলজিক্যাল মেক আপের অর্থাৎ জৈবী সংস্থিতির মধ্যে বিদ্যমান। আর, তার প্রভাবও ভয়ংকর। জৈবী সংস্থিতির মধ্যে যে ভাঙনের, বিচ্ছিন্নতার বীজ বিদ্যমান সে কোনওদিনই সমষ্টির পুজারী হ'তে পারে না, সবাইকে, সবকিছুকে সংহত, একত্রিত, সংযুক্ত ক'রে রাখার ক্ষমতা তার নেই । তার দ্বারা যে ভাঙন সৃষ্ট হয় সেই ভাঙন আরও আরও ভাঙন, বিচ্ছিন্নতাকে আমন্ত্রণ ক'রে আনে শ্ত্রুতার ডিম ফুটিয়ে ফুটিয়ে। The greatest phenomenon of the world, The greatest wonder in the world, Seer of truth, the best fulfiller SriSriThakur Anukulchandra দেশ ভাগের সময় দেশনেতাদের সাবধান ক'রে দিয়ে বলেছিলেন, "Dividing compromise is hatch of the animosity. যার অর্থ, ভাগ ক'রে সমাধান করার অর্থ তা' দিয়ে দিয়ে শত্রুতার ডিম ফোটানো। দেশনেতাদের অদূরদর্শিতার ফলস্বরূপ এই শত্রুতা আজ স্বাধীনতার ৭৮ বছর ধ'রে দেখতে পাচ্ছি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আর সম্প্রতি বাংলাদেশও যুক্ত হয়েছে এর সঙ্গে। যেটা চেয়েছিল বৃটিশ শক্তি যাওয়ার আগে। আর, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অন্ধকারের শক্তি চাইছে ভারতের মানুষের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার পয়েজন ইঞ্জেক্ট ক'রে ক'রে ভারতকে আরও টুকরো টুকরো ক'রে দূর্বল ক'রে দিতে।


শ্রীশ্রীঠাকুর আরো বলেছিলেন, "সংহতিতে যে ভাঙন ধরায় সে ছেদক।" এই এক কথার মধ্যে দিয়ে আমার ভিডিওর দর্শক-শ্রোতা বন্ধুরা সহজেই বুঝে নিতে পারি কে বা কারা ছেদক।
এই সংহতি না আসার কারণ সম্পর্কেও শ্রীশ্রীঠাকুর ব'লে গেছেন,
"consolidation ( সংহতি) যে হয় না তার দু'টো কারণ আছে। প্রথম কারণ হচ্ছে Complex (বৃত্তির)এর nurture (পোষণ) এর জন্য আদর্শকে utilise (ব্যবহার) করে, আমি আদর্শের এ বুদ্ধি থাকে না; আর দ্বিতীয়ত mutual interest ( পারস্পরিক স্বার্থ) না দেখে পরস্পরকে ঠকিয়ে স্বার্থসিদ্ধি করতে চায়। সবাইকে নিয়ে চলতে গেলে অনেক সইতে হয়, ধৈর্য্যের পরীক্ষা চলে। পরস্পরের প্রতি প্রীতিপূর্ণ এই সওয়া-বওয়া ছাড়া কিন্তু সংহতি আসে না। এই জন্য কয়েকটা মানুষ যদি ঠিক ঠিকভাবে Consolidated(সংহত) হ'য়ে ওঠে তবে আর ভাবতে হয় না। যতগুলি আসে, সেই আওতায় ফেলে ঠিক ক'রে নেওয়া যায়। এক আদর্শে অনুরতি-সম্পন্ন হ'লে তারা সংহত না হ'য়ে পারে না, প্রত্যেকে প্রত্যেককে মানিয়ে নিয়ে চলে।

এই ছিল ঠাকুরের বিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধে সংহত, একত্রিত, সংযুক্ত থাকার ভাবনা। শ্রীশ্রীঠাকুরের এই ভাবনা শুরু হয়েছে ভারতের পবিত্র মাটিতে। ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হ'য়ে চলেছে ভারতের বুকে এই ভাবনা। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যগুলিতে চোখ মেলে তাকালে সীমাহীন বিরোধিতা ও অস্থিরতার মাঝেও কেন্দ্র-রাজ্য ও রাজ্য-রাজ্যের মধ্যে mutual interest (পারস্পরিক স্বার্থ) দেখার মানসিকতার মধ্যে আমরা একত্রিত থাকার আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কয়েকটা মানুষ নীরবে, নিভৃতে ঠিক ঠিকভাবে Consolidated (সংহত) হ'য়ে উঠছে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে শ্রীশ্রীঠাকুরের ব'লে যাওয়া পথের ওপর দাঁড়িয়ে। একদিন তাঁরা ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রের শীর্ষে অবস্থান করবে। সেদিন দূরে হলেও বেশী দূরে নয়।

এই যে এক আদর্শে অনুরতি-সম্পন্ন থাকার কথা বলেছেন ঠাকুর সেই এক আদর্শ হ'লো সর্ব্বশ্রেষ্ঠ জীবন্ত আদর্শ শ্রীশ্রীরামচন্দ্র, শ্রীশ্রীকৃষ্ণ, শ্রীশ্রীবুদ্ধ, শ্রীশ্রীযীশু, শ্রীশ্রীহজরত মহম্মদ, শ্রীশ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ ও সর্ব্বশেষ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র। এই এক ও অদ্বিতীয় জীবন্ত আদর্শে যদি ভারতের প্রতিটি মানুষ অনুরতি সম্পন্ন হয় তাহ'লে ভারত হবে ম্যাগ্নেটিক পুল, চৌম্বক টান। তখন ইউরোপও এসে গুচ্ছ হ'য়ে ভারতের সাথে যোগসূত্র রচনা করবে। তারপর হবে আরও একটা গুচ্ছ। এভাবে Whole world, সমগ্র পৃথিবী একায়িত হবে। তাই-ই হবে একায়িত পৃথিবী, United World. পুরুষোত্তম পরমপিতা সেই এক ও অদ্বিতীয় জীবন্ত ঈশ্বর রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ, যীশু, মহম্মদ, মহাপ্রভু, রামকৃষ্ণ-এর নোতুন রূপ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের এই একায়িত পৃথিবী, United world-এর স্বপ্ন একদিন পূরণ হবেই।
আজ এই পর্যন্ত। নমস্কার, জয়গুরু।
( লেখা ১৬ই জানুয়ারী'২০২৫)

Tuesday, January 13, 2026

বিচিত্রাঃ ২৩২

বিবেকানন্দের জন্মদিন পালনে কলকাতার রাস্তায় রক্তপাত! 
ঠাকুর! তুমি কি শুনতে পাও বিবেকানন্দের আর্তনাদ!?

অন্যের দিকে তুললে একটা 
রেখো মনে নিজের দিকে থাকে আঙ্গুল চার।
দিচ্ছও লম্ফ, মারছো ঝম্প
বালখিল্যের লাঙ্গুল নাড়িয়ে বারবার
ভাইগুরু তুমি নাকি আমার!!!

মাহরুবা দিলরুবা আল্লার জান! 
এসেছো ধরায় সময় না হারায় 
জেনো উপাধি তোমার সম্মানী খান!!
খান! রেখো এ জীবনে আল্লার মান!!!

ঈশ্বর মানে পরমকারণ, উৎসমুখ।
তুমি ঈশ্বর মানো না, মানে তুমি 
পরমকারন উৎসমুখকে মানো না।
ঈশ্বর হলেন পরমপুরুষ, পুরুষোত্তম
অর্থাৎ উত্তম পুরুষ। 
ঈশ্বর মানো না, মানে তুমি পরমপুরুষকে,
পুরুষোত্তমকে অর্থাৎ উত্তম পুরুষকে মানো না।
আর, যে মানে না সে বেইমান, অকৃতজ্ঞ। 

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে চার বিচারপতির সাংবাদিক বৈঠক যেন নতুন নতুন রোগের মত ভারতে নতুন নতুন সমস্যার নাটক!

নিশ্বাসের নেই বিশ্বাস,
বিশ্বাস হারিয়েছে তার শ্বাস; তাহ'লে আছি কেন
আমি আজও বেঁচে?
ভেবে ভেবে কাঁদছে আকাশ বাতাস!!
( লেখা ১৩ই জানুয়ারী'২০১৮)

দু'নৌকায় পা রেখে যেমন চলা যায় না
ঠিক তেমনি শয়তানের গালে চুমু আবার 
ভগবানের গালেও চুমু খেয়ে বাঁচা যায় না, 
শেষ রক্ষা হয় না।

আর যাই-ই হ'ক টাকা-পয়সার লোভে 
আর নামের মোহে ইষ্টের কাজ হয় না 
আর নিজের অস্তিত্বকেও টিকিয়ে রাখা যায় না।

বেইমানি আর গদ্দারী ক'রে ইষ্টস্থানে ব'সে
ভক্ত সাজা যেমন যায় না, 
ঠিক তেমনি দয়াল বেঈমান আর গদ্দারের 
গান-বক্তৃতাও শোনেন না।
( লেখা ১৩ই জানুয়ারী'২০২০)

বিবেকানন্দকে নিয়ে মাতামাতি করতে ইয়ং জেনারেশনের লজ্জা লাগে না; লজ্জা লাগে রামকৃষ্ণকে নিয়ে ভাবতে, শ্রদ্ধা জানাতে!?

বিবেকানন্দের পরিচয়ে রামকৃষ্ণের পরিচয় নাকি রামকৃষ্ণের পরিচয়ে বিবেকানন্দের পরিচয়!? রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও যুবসমাজ কি বলেন?

রামকৃষ্ণকে নিয়ে কেন সরকারী স্তরে, রাজনীতির অঙ্গনে বিবেকানন্দপ্রেমী সরকারী প্রশাসন, নেতানেত্রী ও যুবসমাজ এমন মাতামাতি করে না!?

আজকে একজন মহাপুরুষকে দেখলাম যিনি কর্মজীবনে ক্ষমতার দম্ভে ছিলেন অন্ধ পাগল আর আজ বিবেকানন্দের আদর্শের বুলি আউড়াচ্ছেন!
( লেখা ১৩ই জানুয়ারী'২০২১)





















Sunday, January 11, 2026

বিচিত্রাঃ ২৩১

শুরু করি কিন্তু হয় না শেষ!
কেন জানি না বারবার
থেকে যায় অবশেষ!!
( লেখা ১১ই জানুয়ারী'২০১৮)

কেউ নেই
তোমার পাশে, চারপাশে! ঈশ্বরও নেই!!
আছে শুধু বিধি আর তার বিধান!!! সাবধান।

ঈশ্বরের উপর ছেড়ে দাও বিচারের ভার।
বিচারে উপহার-প্রহার স্থির হ'য়ে আছে 
ইষ্টপ্রতিষ্ঠা ও আত্মপ্রতিষ্ঠাকারী,
সত্য-মিথ্যার জন্য।

দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী দেশের কোনও রাজ্যে আসতে পারবে না!? কেন!? কি বলেন রাজ্যের নেতা ও বিদগ্ধজন!?
( লেখা ১১ই জানুয়ারী'২০২০)

O Dayal! My request to youis to reflect your character in my character; I don't want anything else in my life.

শরীরের সমস্ত রোগের উৎস নেতিবাচক মানসিকতা (Negative mentality)। এর ফলেই শরীরে secretion (নিঃসরণ) হয় ভয়ংকর অ্যাসিডের। সাবধান।
( লেখা ১১ই জানুয়ারী'২০২৪)

সত্যিই কি বাঙ্গালীরা বাংলা ভাষার রাজ্য পশ্চিমবাংলায় থাকে? স্কুল কলেজ সরকারী দপ্তর কোর্ট সব জায়গায় হিন্দি ও ইংরেজীর রব-রবা!
( লেখা ১১ই জানুয়ারী'২০২৫)
























Wednesday, January 7, 2026

খোলা চিঠীঃ বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক বন্ধুকে খোলা চিঠি। (১)

উত্তরটা লিখতে দেরী হ'লো। কথায় আছে, কোনোদিন না হওয়ার চেয়ে দেরীতে হওয়াও ভালো। তাই এই চিঠির অবতারণা।

বাংলাদেশের আপনি একজন নামকরা হিন্দু বাঙ্গালী সাহিত্যিক। আপনার সঙ্গে কোনও একটা বিষয়ে আলোচনায় জানতে চেয়ে একটা প্রশ্ন করেছিলাম। তার উত্তরে আপনি আমাকে রেগে গিয়ে প্রতিক্রিয়ায় ব্যাঙ্গাত্মক হাসির রিয়াক্ট দিলেন এবং কমেন্ট বক্সেও হা হা হা ক'রে হেসে উঠলেন এবং আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে প্রসঙ্গ পাল্টে একেবারে অপ্রাসঙ্গিকভাবে হঠাৎ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে অকারণ 'যত্তসব বুজরুকের বুজরুকি' ব'লে আক্রমণ ক'রে বসলেন।

আপনার নামটা আপনার সম্মান রক্ষার্থে এখানে উল্লেখ করলাম না।

ভাবছিলাম কি এমন কমেন্ট করলাম যার জন্য এমন আক্রমণ? আরও ভাবলাম আপনার কাছে আপনার প্রোফাইলে পোষ্ট করা বিশ্বের পুরুষরচিত সমস্ত ধর্মগ্রন্থে নারীদের অন্ধকারে রাখবার বিধিব্যবস্থা ঈশ্বরের আদেশ হিসেবে প্রচার সম্পর্কে বাংলাদেশের কোনও প্রতিষ্ঠিত লেখিকার করা বক্তব্যের রেফারেন্স জানতে চাওয়া আমার অপরাধ ছিল? তাও আবার সাধারণ মানুষ নন, আপনি সাহিত্যিক মানুষ। আমি একজন সাহিত্যিকের কাছে জানতে চেয়েছিলাম। অনেক বই আপনার বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে ও হচ্ছে। আপনার মতো বিজ্ঞ জনের কাছে এমন ব্যবহার আশাতীত।
শুধু ভাবলাম আপনি একজন হিন্দু বাঙালি হ'য়ে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সম্পর্কে অবলীলায় অবহেলায় যে কটূক্তি করলেন তা আপনি বাংলাদেশে বসে পুরুষোত্তম পরমপিতা হজরত মোহাম্মদ সম্পর্কে ক'রতে পারবেন? ক'রে দেখান। তবে বুঝবো আপনার দম আছে। পারবেন না এটা একশোভাগ নিশ্চিত। আর যদি পারার মতিভ্রমও হয় সেটাও হবে অন্যায়, অধর্ম ও সত্তাঘাতী।

হিন্দুধর্ম, হিন্দু দেবদেবী, হিন্দু প্রফেটদের নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করা যায় তা হিন্দুধর্মের মানুষদের দ্বারা হ'ক বা অন্য যে কোনও ধর্মের মানুষদের দ্বারাই হ'ক। তা অনেকবার প্রমাণিত। ধর্মপ্রাণ হিন্দুরা কিচ্ছু করতে পারেনি। এটা হিন্দুদের দূর্বলতা বা সীমাহীন সংযম যা হ'ক একটা কিছু বলা যেতে পারে।

আর, হিন্দু বাঙালি প্রফেট মহাপ্রভু, রামকৃষ্ণ ও শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রদের নিয়ে হিন্দু বাঙালিরা তা ওপার বাংলা, এ পার বাংলা যে বাংলায় হ'ক বাঙালিরা তাদের বিরুদ্ধে কুৎসা, নিন্দা, সমালোচনায় চটকে একেবারে পিছন ফালাফালা ক'রে দেয়। আর, অবাঙালীরা তাই দেখে, শুনে অবাক হ;য়ে ভাবে আর হাসে!

যাই হ'ক এটা বুঝলাম যে একজুন সাহিত্যিক হ'য়েও আপনার শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবন ও প্রজ্ঞা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র তিল সমান ধারণা নেই। এমনি এমনি তাঁকে The greatest phenomenon of the world বলা হয় না। এমনি এমনি তাঁর জীবনের ওপর, তাঁর ব'লে যাওয়া বিষয়ের ওপর গবেষণা ক'রে বহু ভক্ত মানুষ পি এইচ ডি ডিগ্রি লাভ করেনি? যা এখনও তীব্র গতিতে চলছে। এমনি এমনি তাঁর জীবনের ওপর আমেরিকান ভক্তের লেখা বই আমেরিকার বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা 'হার্পার এন্ড ব্রাদার্স পাবলিকেশন্স' থেকে প্রকাশ হয় নি? আপনার বা আপনাদের মতো সমালোচকদের একটা বই সেখান থেকে প্রকাশ ক'রে দেখান। এর নিশ্চয়ই কিছু ভিত্তি আছে। সেই ভিত্তিটা সম্পর্কেই আপনার কোনও ধারণা নেই।

এ প্রসঙ্গে বলি, প্রাচ্যের জ্ঞানীদের প্রসঙ্গে একবার শ্রীশ্রীঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, জ্ঞানীরা কিভাবে বুঝলেন যে যীশুই জগতের ত্রাতা। উত্তর দিয়েছিলেন শ্রীশ্রীঠাকুর, " প্রকৃত জ্ঞানী যাঁরা তাঁরা পুরুষোত্তমকে দেখেই চিনতে পারেন। তাঁকে দেখেই তাঁরা ভাবেন-- 'দেখে যেমন মনে হয় চিনি উহারে'।" সমঝদারকে লিয়ে ঠাকুরজী কা ইয়ে ইশারা কাফি হ্যাঁয়।

যখন আপনি ব্যঙ্গ হাসি হাসলেন আর 'যত্তসব বুজরুকি' তকমা সেঁটে দিলেন ঠাকুরের গায়ে তখন জানতে ইচ্ছে করে নিজে একজন লেখক সাহিত্যিক হ'য়ে কোন মাপকাঠিতে The greatest phenomenon of the world SriSriThakur Anukul Chandra-কে এমন তকমা দিলেন!? আবার বলছি, মাপকাঠিটা কি?

সাহিত্যিক লেখক বন্ধুকে কয়েকটি প্রশ্নঃ
১) ২০বছর বয়সে কিছুই না জেনে অনুকূলের প্রতি আকৃষ্ট হ'য়েছিলেন আপনি। কেন এবং কি দেখে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন? আর কি জেনেই বা তাঁর প্রতি আকর্ষণ ক'মে গেল আর বিতৃষ্ণা জন্মালো?

২) কেন আপনার লেখক সত্ত্বা দিয়ে তাঁকে জানার চেষ্টা করলেন না?

৩) মৃত মানুষকে নাড়াচাড়া করাবার কাহিনী লোক্মুখে শুনেছিলেন ২০বছর বয়সে। কোনো মৃত মানুষকে নাড়াচাড়া নয় ডাক্তারি পরিভাষায় মৃত ব'লে ঘোষিত অথচ মৃত নয় এমন মানুষকে জীবন দান করার কথা বলেছিলেন শ্রীশ্রীঠাকুর আর আপনি বুঝেছেন উল্টো।

আপনাকে প্রশ্নঃ এর জন্যে কে দায়ী? শ্রীশ্রীঠাকুর? নাকি আপনার অজ্ঞতা? আর আপনি কি শ্রীশ্রীঠাকুরের কোন মৃত (?) মানুষকে নিয়ে নাড়াচাড়া ও তাকে জীবন দান এবং এর পিছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা পদ্ধতিই বা কি তা জানার চেষ্টা করেছিলেন?

৪) বর্তমান বিজ্ঞানের অগ্রগতির ভাষায় যাকে মৃত ব'লে ঘোষণা করা হচ্ছে, পুড়িয়ে বা কবর দিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিজ্ঞানের পরিভাষায় সেই মৃত মানুষদের মধ্যে যারা প্রকৃত মৃত নয় অথচ মৃত (?) বলা হচ্ছে তাদের দেহে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার বিশেষ জ্ঞানের সাহায্যে তৈরী প্রোজেক্টের সম্বন্ধে কিছু জানতেন বা জানেন বা সেই মেশিনের নাম কি জানেন?

৫) জ্ঞানের তৃষ্ণা নিয়ে জানার ইচ্ছা হয়েছিল আপনার মৃত মানুষের দেহে প্রাণ সঞ্চার সম্পর্কিত মূল বিষয়ের আদ্যপান্ত ২০বছর বয়সের উড়ুক্কু মেজাজে? নাকি এরতরফা সব বোগাস, বুঝ্রুকি ব'লে উড়িয়ে দিয়েছিলেন না জেনে, না বুঝে, না দেখেই? আর তকমা সেঁটে দিয়েছিলেন "নো ঈশ্বর, নো ভগবান, নো অনুকূলের বুজরুকি" ব'লে ?

৬) আপনি কি জানেন আজ থেকে ১০০বছরের অধিক সময় আগে যে মৃত (?) মানুষের দেহে প্রাণ সঞ্চার বিষয় নিয়ে ঠাকুর গবেষণা শুরু করেছিলেন এবং বহুদূর এগিয়েও ছিলেন শুধুমাত্র সহযোগী বিজ্ঞানী মানুষ আর টাকার অভাবে সম্পূর্ণ ক'রে যেতে পারেননি সেই বিষয় নিয়ে এখন বিশ্বের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন? আজ যদি আবিস্কার হ'য়ে যেত তাঁর দেওয়া মৃত (?) মানুষের দেহে প্রাণ সঞ্চার মেশিনের নাম 'ভাইব্রোমিটার' যন্ত্র তাহ'লে গোটা বিশ্ব আজ তাঁর পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়তো। কারণ তাঁর আরও বিজ্ঞানের নানাদিক নিয়ে ব'লে যাওয়া অত্যাশ্চর্য বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে। তা কি আপনি জানেন? দুর্ভাগ্য মানবজাতির।

৭) আপনার প্রশ্ন, আপনি জানতে চেয়েছেন জীবিত মানুষের জন্য অনুকূল কি বুজরুকি দেখাতে পারেন?
এই প্রশ্নের উত্তর পরবর্তী লেখায় দিচ্ছি। আশা করি ধৈর্য্য ধ'রে পড়বেন।
ইতি,
শ্রী প্রকাশ বিশ্বাস
ভারত, পশ্চিমবাংলা।
ক্রমশঃ
( লেখা ৭ই জানুয়ারী'২০২৩)

ঈশ্বর বারবার আসার বার্তা দিয়েছেন।

"রাম-কৃষ্ণ-বুদ্ধ-যীশু-মোহাম্মদ-রূপায়িতম্
চৈতন্য-রামকৃষ্ণানুলূলং পূর্ব্বতনীপূরণম
শাশ্বত্বং বর্ত্তমানম্।"


"যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত|
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজম্যহম্ ||
পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুস্কৃতাম্ |
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে ||"
(গীতা-৪/৭-৮)

"I shall come again and receive you to myself, so that where I am you may be also."
-Christ (John 14:3)

"এই মতো হবে মোর দুই অবতার
নাচিবো কীর্তনানন্দে তোমা সবাকার
আমায় কহিলাম এই কথা
কভু না হইবে উহার অন্যথা।"---শ্রীশ্রীমহাপ্রভু।

"এখন পূর্ণজ্ঞান দিলাম না। আমি আবার আসবো।"
--শ্রীশ্রীঠাকুর-রামকৃষ্ণ।

"ঠাকুর রামকৃষ্ণ এসেছিলেন, সব ক্লোজ ক'রে রেখে ছিলেন। আমি এলাম সব ডিসক্লোজ ক'রে দিলাম।"----শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র।

Tuesday, January 6, 2026

বিচিত্রাঃ ২৩০

যার জীবনে যত ভুল কম,
তার জীবনে তত সুখ বেশী। 
যার জীবনে ঠাকুর প্রধান
বাকি সব গৌণ তার জীবনে নেই কোনও ভুল,
তত নির্মল হাসি।।

জীবনে ঠাকুর প্রধান বাকী সব গৌণ, মানে কি?
ঠাকুর প্রধান মানে তাঁর চলন প্রধান।
আর, তাঁর চলন যদি আমার চলন না-হয়
বাকী সব হয় জীবনে প্রধান,
তাহ'লে জীবনে জেনো সবটাই ফাঁকি।
( লেখা ৬ই জানুয়ারী'২০১৮)

 

Monday, January 5, 2026

বিচিত্রাঃ ২২৯

সত্যের সামনে বসে মিথ্যের আরাধনা করো!
সৎ কে সামনে রেখে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে 
অসৎকে আবাহন করো!!
 
যা ইচ্ছা তাই করতে পারো কারণ তুমি স্বাধীন!
শেষের সেদিন কিন্তু ভয়ঙ্কর যদি মিথ্যের হও অধীন!!

মৌরসি পাট্টা গেড়ে বসেছো 
ঠাকুরকে বানিয়ে ব্যবসার উপকরণ!
দয়াল আমার ভয়াল হ'লে নিশ্চিত মরণ!!
সাধু সাবধান!!!

অন্যায়কে করেছো সাথী? 
কেউ তোমায় দেবে না বাধা, 
কেউ করবে না বারণ! 
দয়াল আমার ফেলবে শুধু চোখের জল, 
শয়তানের শয়তানী কারণ!!
( লেখা ৫ই জানুয়ারী'২০২০)











Sunday, January 4, 2026

শ্রীশ্রীঅবিনদাদার ২৫তম জন্মদিন।

আজ ৫ই জানুয়ারী'২৫ শ্রীশ্রীঅবিনদাদার ২৫তম জন্মদিন। আজ তাঁর শ্রীচরণে শতকোটি প্রণাম জানাই। পরমপিতার শ্রীচরণে প্রার্থনা করি শ্রীশ্রীঅবিনদাদা যেন সুস্থ, সবল থেকে দীর্ঘ জীবন আজকের মত লক্ষ লক্ষ তরুণ যুবকদের প্রাণে শ্রীশ্রীঠাকুরের আলোয় ঝড় তোলেন ও তাদের বিপথগামী হওয়া থেকে ও হওয়ার পথ থেকে রক্ষা করেন ও শ্রীশ্রীঠাকুরের বাঁচা-বাড়ার পথে চালিত করেন। আজ হাজার হাজার তরুণ তরুণী, যুবক যুবতী তাঁর ২৫তম জন্মদিন পালনে দেওঘরে উপস্থিত, লক্ষ নরনারী তাঁর সঙ্গ লাভে উদগ্রীব।

আসুন আজকের এই পূণ্যদিনে বিশ্বের সমস্ত সৎসঙ্গী যে যেখানে আছি তাঁকে স্মরণ করি ও শ্রদ্ধা, প্রণাম জানাই। আজকে আমি শ্রীশ্রীঅবিনদাদা সম্পর্কে শ্রীশ্রীদাদার কথা স্মরণ ক'রে আমার ভিডিও শুরু করছি। শ্রীশ্রীদাদা একদিন বলেছিলেন, "অবিন আজ তোকে একটা কথা ব'লে যাই। একদিন গোটা ভারতবর্ষের মানুষ ঠাকুর ঠাকুর করবে। সেদিন হয়তো আমি থাকবো না। আমি দেখে যেতে পারবো না। তোর বাবাও হয়তো দেখে যেতে পারবে না। কিন্তু তুই যখন আমার বয়সে আসবি তখন তুই দেখে যেতে পারবি, সমস্ত ভারতের মানুষ ঠাকুর, ঠাকুর করছে।"

আজ আমরা তার নমুনা বা ঝলক দেখতে পাচ্ছি। আজ শ্রীশ্রীঅবিনদাদার ২৫তম জন্মদিন। এই অল্প বয়সেই তিনি কত লোকের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। সমস্ত রাজ্যের সমস্ত সম্প্রদায়ের ছোটোবড়, কিশোর কিশোরী, তরুণতরুণী, যুবক যুবতী, প্রৌঢ় প্রৌঢ়া, বৃদ্ধ বৃদ্ধা কত আর্ত, অর্থার্থী, কত জিজ্ঞাসু, কত জ্ঞানী, পন্ডিত, বিদগ্ধ মানুষ তাঁর কাছে ছুটে আসেন, তাঁর একটু দর্শন লাভের জন্য, তাঁর মুখের একটু কথা শোনার জন্য। আজ দেওঘরের বুকে তাই হ'য়ে চলেছে। কেন ছুটে আসেন তাঁরা? কিসের টানে? কিসের তাগিদে? কেউ তো তাঁদের ডাকেন না। বরং ঠাকুর বাড়ি থেকে বারবার নিষেধ করা হয় স্থান সংকুলানের অভাবে্র কারণে। তবুও তাঁরা ছুটে আসেন, মাঠে ঘাটে, রাস্তায় থাকেন এই শীতে কত কষ্ট সহ্য ক'রে। আর্ত অর্থাৎ পীড়িত, দুঃখিত, কাতর, বিপন্ন ভর্য়াত মানুষ ছুটে আসেন 'মাভৈঃ' ভয় করো না, নির্ভয় হও। ঠাকুর আছেন, তাঁর নাম পেয়েছেন, ভয় কি? ডরো মাত, ডর কিস বাত কি? ঠাকুরজী হ্যাঁয় না! দয়াল প্রভুজী হ্যাঁয় না! ছুটে ছুটে আসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ শুধু ঐ অপূর্ব আলোময়, রূপময়, রসময়, মধুময়, লাবণ্যেভরা সদা হাস্যময় মিষ্টি মুখের ঐ বরাভয় কথা শোনার জন্য। 'মাভৈঃ' ভয় করো না, নির্ভয় হও। ঠাকুর আছেন, তাঁর নাম পেয়েছেন, ভয় কি? ডরো মাত, ডর কিস বাত কি? ঠাকুরজী হ্যাঁয় না! দয়াল প্রভুজী হ্যাঁয় না!

যে দেখেছে, সেই জানে ; যে বুঝেছে সেই বোঝে, বোঝে যার প্রাণ। আজ দয়াল ধাম দেওঘর লক্ষ লক্ষ লোকে পরিপূর্ণ।

শ্রীশ্রীদাদার কথা এর আগে আমি বলেছি আপনারা শুনেছেন। এবার বলি শ্রীশ্রীঅবিনদাদার কথা। শ্রীশ্রীঅবিনদাদা একদিন বললেন, .কি করবো ,কতটুকু করতে পারবো জানি না | তবে আমি বেঁচে থাকতে থাকতে অর্ধেক পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়ে যেতে চাই |

শ্রীশ্রীদাদা আর শ্রীশ্রীঅবিনদাদার কথাকে আসুন একটু বিশ্লেষণ ক'রে দেখি এই দুইজনের কথার রসায়ন কি হ'তে পারে। আবার বলি, শ্রীশ্রীঅবিনদাদার পিতামহ শ্রীশ্রীদাদা (শ্রীঅশোক চক্রবর্তী) বললেন, "অবিন আজ তোকে একটা কথা ব'লে যাই। একদিন গোটা ভারতবর্ষের মানুষ ঠাকুর ঠাকুর করবে। সেদিন হয়তো আমি থাকবো না। আমি দেখে যেতে পারবো না। তোর বাবাও হয়তো দেখে যেতে পারবে না। কিন্তু তুই যখন আমার বয়সে আসবি তখন তুই দেখে যেতে পারবি, সমস্ত ভারতের মানুষ ঠাকুর, ঠাকুর করছে।" আর শ্রীশ্রীঅবিনদাদা বললেন, "কি করবো ,কতটুকু করতে পারবো জানি না | তবে আমি বেঁচে থাকতে থাকতে অর্ধেক পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়ে যেতে চাই |" শ্রীশ্রীদাদার কথা অনুযায়ী আমরা আজ দেখতে পাচ্ছি ভারতবর্ষের প্রতিটি রাজ্যে আজ সৎসঙ্গের ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে, সমস্ত রাজ্যের সমস্ত সম্প্রদায়ের হিন্দু, মুসলমান, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন ইত্যাদি সমস্ত ধর্মের নয়, শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, সমস্ত ধর্ম কথাটা ভুল, ধর্ম কখনও বহু হয় না, ধর্ম এক, বরং মত, সমস্ত মত, তাই সমস্ত মতের মানুষ আজ শ্রীশ্রীঠাকুরের দীক্ষিত। এর থেকে আমরা ভারতের একটা আংশিক ছবি দেখতে পাই শ্রীশ্রীদাদার কথার সমর্থনে। আর আজ থেকে ৬০ বছর পর যখন অবিনদাদার ৮৫ বছর বয়স হবে সেদিন আমরা পুরো ছবিটা দেখতে পাবো।

আর, শ্রীশ্রীঅবিনদাদা বলেছিলেন, "কি করবো ,কতটুকু করতে পারবো জানি না | তবে আমি বেঁচে থাকতে থাকতে অর্ধেক পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়ে যেতে চাই |" এর সমর্থনে বর্তমানে আমরা ভারত ছাড়া, বাংলাদেশ, নেপাল, বার্মা বর্তমানে মায়ানমার, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও আমেরিকাতেও সৎসঙ্গের পাঁচ হাজারেরও বেশি শাখা রয়েছে। আজ থেকে ৬০বছর পরে আমরা শ্রীশ্রীঅবিনদাদার কথার পুরো ছবিটা দেখতে পাবো। সেদিন আমি ও আমার মত বহু সৎসঙ্গীরা থাকবো না সেই দৃশ্য দেখার জন্য। হয়তো বা আবার নোতুন দেহ নিয়ে আসবো সেই দৃশ্য দেখবার জন্য। সৎসঙ্গ যে মূলত একটা আন্দোলন সেই সৎসঙ্গ আন্দোলনে হয়তো বা সক্রিয় ভূমিকা পালন করবো। পালন করবো স্মৃতিবাহী চেতনা নিয়ে।

তাই আসুন এই জন্মে যতদিন বেঁচে আছি স্মৃতিবাহী চেতনাকে স্ট্রং ক'রে তুলি তাঁর নামধ্যানের মধ্যে দিয়ে।

এখন আরও একটা প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই মনে ভেসে আসে। এই যে শ্রীশ্রীঅবিনদাদা বললেন, "আমি বেঁচে থাকতে থাকতে অর্ধেক পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়ে যেতে চাই।" এটা কিভাবে সম্ভব হবে? কিভাবে তিনি অর্ধেক পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়ে যাবেন? শ্রীশ্রীঠাকুর যেমন তাঁর সময়ের অনেক অনেক আগে এসেছিলেন। তাই তাঁর কথা বুঝতে মানুষের দেরী হচ্ছে। ঠিক তেমনি শ্রীশ্রীঅবিনদাদার পরিকল্পনাও তাই। যা তাঁর অনুগামী এবং অদীক্ষিত যুব সমাজের পক্ষেও বোঝা মুশকিল।
( লেখা ৫ই জানুয়ারী'২০২৫)

বিচিত্রাঃ ২২৮

ধর্ম প্রতিষ্ঠার নামে বন্ধু করছো তুমি কিন্তু অধর্ম!
জেনে বুঝে যদি ক'রে থাকো তা' তাহ'লে থাক সেকথা; 
অন্যথায় বোঝো ধর্মের মর্ম।

আমার হৃদ মাঝারে আছো তুমি 
বলছি হেঁকে জোর গলায়!
বিবেক বলে,
হৃদ মাঝারে রেখেছো কবে?
আর হাসে 'তোমায় ছেড়ে দেবো না' বলায়!!

ভন্ডামির শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
"তোমায় হৃদমাঝারে রাখবো ছেড়ে দেবো না"
ব'লে কবে থেকে গলা ফাটিয়ে নেচে কুঁদে চ্যাঁচাচ্ছো!
দিন যায় চলে জীবন সূর্য পড়ছে ঢলে পলে পলে
কবে আর রাখবে? খেয়াল রাখছো!?
আরে আগে তো হৃদয়ে রাখো
তবে না ছেড়ে দেওয়া আর না-দেওয়ার 
প্রশ্ন উঠবে।
( লেখা ৪ই জানুয়ারী'২০১৮)


সাবধান!
শয়তানের হাসি ভগবানের চেয়েও মিষ্টি!
ভগবানের হাসি ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি!!

তোমার অন্তরে সত্য-মিথ্যা কি লুকিয়ে আছে 
তা তুমি জানো আর কে জানে?
কেউ জানুক না জানুক ঈশ্বর জানে! সাবধান!!

পাপ ঢেকে রেখে অজ্ঞ লোককে, 
নতুনকে উল্টোপাল্টা ভুল বোঝানো যায় 
কিন্তু পাপ সময়মত পচেগলে বেরিয়ে আসে! 
সাবধান! সময় কারও বান্দা নয়!
( লেখা ৪ই জানুয়ারী'২০২০)

Immerse yourself in the NAME R.S
Stay away from negative waves.
May God bless you.

পাহাড় দয়ালের কাছে যদি না আসে 
তবে দয়াল পাহাড়ের কাছে যায়। 
তবুও পাহাড় চিনতে পারে না দয়ালকে। 
কেন?
কারণ, সে পাহাড়, এই সূক্ষ্ম অহংকারে।
( লেখা ৪ই জানুয়ারী'২০২৪)





প্রসংগঃ স্কুলে গীতা পাঠ।

আজ এতদিন পর অবশেষে গীতা স্কুলের পাঠ্যক্রমে যুক্ত হ’ল। একেবারে কোনদিন না হওয়ার চেয়ে দেরীতে হওয়াও ভালো। এর পাশাপাশি উঠে গেল নানা বিতর্কও। বিতর্ক দানা বাঁধাতে বিবেকানন্দকেও টেনে আনা হবে ও হচ্ছেও। বিবেকানন্দের বলা ‘গীতা পড়ার চেয়ে ফুটবল খেলা ভালো’ এই ক্ষেত্রে বিরোধীদের মোক্ষম অস্ত্র। স্বামীজীর এই কথা অনেককেই বলতে শুনি। বিশেষ করে বামপন্থীদের যখনই ধর্ম্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হ’তে দেখা যায় তখনই যেন এই বাণীটা তারা ধর্ম্মের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসাবে পেয়ে যায় এবং প্রয়োগ করে। এখন প্রশ্ন স্বামীজী কি গীতার বিরুদ্ধে ছিলেন। আর ফুটবল খেলার কথা কেন বলেছেন? আমাদের দেখতে হবে কোন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে স্বামীজী এই কথা বলেছেন। আসলে দেখা গেছে তথাকথিত ধর্ম্মীয় পন্ডিতরা গীতাকে উত্তাল সংসার সমুদ্রে জীবনতরীকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেবার শ্রেষ্ঠ মার্গ হিসাবে যতটা না দেখেছেন তার থেকে বেশী পবিত্র এক ধর্ম্ম পুস্তক রূপে গীতাকে কুলঙ্গিতে সযত্নে তুলে রাখা শ্রেয় মনে করেছেন। আর তাঁরা যদি কেউ গীতা পড়েও থাকেন তাহলেও তাঁরা বই পড়ে বই হয়ে গেছেন, বই-এর মূল এসেন্সকে মজ্জাগত করেননি। যদি বই-এর মূল এসেন্সকে মজ্জাগত করতে পারতেন তাহলে ভারতের সমাজ ব্যবস্থা, ধর্ম্মীয় বাতাবরণ ও যুবসমাজের আজ এই হাল হতো না। ফলে বিবেকানন্দেরও এই ধরণের মন্তব্য করার কোনো প্রয়োজন হ’ত না, যে মন্তব্য আজ সুযোগ সন্ধানী রাজনীতিকদের, আধাজ্ঞানী পোঙ্গা পন্ডিতদের অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর বই-এর মূল এসেন্সকে মজ্জাগত না করে শুধু বই পড়ে বই হওয়ার চেয়ে ফুটবল খেলে শরীর-মন তরতাজা রাখা, শক্তসমর্থ করা অনেক অনেক ভালো।

এছাড়া অনেকে যুক্তি দেখায় যে গীতা কঠিন এক বিষয় যা কিনা বোঝা খুব কঠিন। এক্ষেত্রে একে কুযুক্তি ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। কারণ যখন প্রথম স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ শেখা শুরু করেছিলাম সেদিন কি স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ শেখা,বোঝা সহজ হয়েছিল এবং এর কার্যকারিতা বুঝতে পেরেছিলাম? শৈশবে যখন হাঁটা শেখা শুরু হয়েছিল তখন কেউ তার আঙ্গুল বা হাত বাড়িয়ে দিয়ে হাঁটা শিখিয়েছিল যা পরবর্তীতে দৌড়নোতে পরিণত হয়। তাই কোনও জিনিস কঠিন না, যদি শেখার, জানার ও বোঝার ইচ্ছে থাকে ও শেখাবার, জানাবার ও বোঝাবার প্রকৃত প্রাজ্ঞ মানুষ থাকেন। মানুষের জীবনের অভিধানে অসম্ভব বলে কোনও কথা নেই। তবে এই উদ্যোগ নিতে দেরি হলেও লক্ষ্য রাখতে হবে গীতা শিক্ষা যেন এক একজনকে মস্ত বড় একটি ‘বই’-এ পরিণত না করে, পোঙ্গা পন্ডিত না বানায়।
হরিয়ানা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আন্তরিক স্যালুট জানাই।
( লেখা ৪ই জানুয়ারী'২০১৫)।


উপলব্ধিঃ নাম মাহাত্ম্য।

সমস্ত সমস্যার সমাধান একমাত্র এ যুগের যুগাবতারের দেওয়া বীজনাম।
নামময় হ'য়ে থাকো আর নামের নামিকে কাজ করতে দাও। তাঁকে অবিশ্বাস ক'রো না।

ভয় পেও না। নাম করো। শুধু নাম করো। কি হ'লো আর না হ'লো, কি পেলে আর না পেলে তা' দেখতে যেও না। অনুরাগের সঙ্গে নাম করো আর বিন্দাস থাকো। সব তাঁর ওপর ছেড়ে দাও। দ্যাখো ম্যাজিক।

নাম থেকেই সব সৃষ্টি। নামের ভয়ংকর তীব্রতায় পৃথিবী ভেঙে টুকরো টুকরো হ'য়ে যেতে পারে! এসো নাম করি। শয়তান ছিন্নভিন্ন হ'য়ে যাবে।
যে নামময় থাকে তাকে লক্ষণ রেখা ঘিরে রাখে। রাবণের বাপ তাকে ছুঁতে পারে না।
তোমার সামনে পিছনে, উপরে নীচে, ডাইনে বাঁয়ে সর্বত্র শয়তান বিরাজমান। নাম রসে ডুবে যাও আর শয়তানের পরিণতি ঠাকুরের ওপর ছেড়ে দাও।

নাম করো। আরাম ক'রে মনে মনে নাম করো। মুহূর্তে বিপদের কালো মেঘ কেটে যাবে। তুমি বিপদমুক্ত হবেই হবে, নিশ্চয়ই হবে। আর এই নিয়ে, কারও সঙ্গে তর্ক করতে যেও না, সবাইকে সবার বুঝ নিয়ে থাকতে দাও। তুমি নামময় হ'য়ে থাকো।

তিনি আছেন আর আপনি আছেন ব্যস আর কি চাই? সবসময় বিন্দাস থাকুন। ফুর্তিতে থাকুন। আনন্দে থাকুন।

আপনি ঠাকুর ধরেছেন মানে আপনার একজন আছে যাকে আপনার মনের সব কথা বলতে পারবেন, তাঁর সঙ্গে কথা বলুন। নিভৃতে মনের সব কথা খুলে বলুন তাঁকে।

আপনার বিপদের দিনে, সমস্যার দিনে কেউ নেই মানে আপনি কোনোদিন কারও জন্য ছিলেন না। ঠিক আছে। কিন্তু ঠাকুর আছে আপনার, ভয় কি?

আপনার বিপদের দিনে, সমস্যার দিনে কেউ নেই মানে আপনি কোনোদিন কারও জন্য ছিলেন না, এই ভেবে হতাশায় দুঃখে ভেঙে পড়বেন না। পরমপিতার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। যার ক্ষতি করেছেন তার বিপদের দিনে অনুতপ্ত হৃদয়ে তার পাশে দাঁড়ান। সুসময় ফিরে আসবেই আসবে। সব ঠিক হ'য়ে যাবে। ঠাকুর আছে আপনার, ভয় কি?

আপনি ঠাকুরকে গ্রহণ করেছেন জীবনে, তারপর তাঁকে ছেড়ে দিয়েছেন, তাঁর জন্য কিছু করেননি, করেন না। কিন্তু ঠাকুর আপনাকে ছাড়েননি এক মুহূর্তের জন্যও। তা' আপনি জানেন না। আপনি তাঁর অনেক ছোটো বড় দয়া পেয়েছেন কিন্তু তা' তলিয়ে দেখেননি, স্বীকার করেননি। খালি পেতে চেয়েছেন কিন্তু বিনিময়ে কোনোদিন তাঁকে কিছু দেননি, তাঁর জন্য কিছু করেননি। নোতুন ক'রে শুরু করুন। নাম করুন। পাগলের মত নাম করুন।

আপনি ঠাকুরকে দু'হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরুন আর শয়নে স্বপনে জাগরণে স্নানে ভোজনে সবসময় নাম করুন। শুধু নাম আর নাম, নাম আর নাম। তাঁর প্রতিষ্ঠায় জীবন বিছিয়ে দিন। তারপর দেখুন সব সমস্যার গিঁট খুলে যাচ্ছে একের পর এক ম্যাজিকের মতো।
( লেখা ৪ই জানুয়ারি'২০২৫)

Thursday, January 1, 2026

প্রসংগঃ দাদা অসুস্থ!?

দাদা অসুস্থ হ'লেও কোনো ভয় নেই।

দাদা তুমি নিশ্চিন্ত থাকো। ঈশ্বর পরমপিতা তোমার সহায়; তোমার সংগেই আছেন। আর আছে কোটি কোটি সৎসঙ্গী। তোমার জন্য তারা সবাই শ্রীশ্রীঠাকুরের রাতুল চরণে জানাচ্ছে প্রার্থনা।
দাদা সৌরভ গাংগুলি হটাৎ অসুস্থ! উডল্যান্ডে ভর্তি। যা জানা গেলো, জিম করতে গিয়ে তিনি এই সমস্যার মুখে পড়েন। জিম করার সময় হটাৎ ব্ল্যাক আউট। এখন অবস্থা স্থিতিশীল। খবরে জানা গেল ডাক্তার বলেছেন, মাইল্ড হার্ট অ্যাটাক। এখন কোনও বিপদ নেই। অথচ খবরে বলছে, এখন আর্টারিতে একটা স্টেন্ট বসেছে, পরে আরও দুটো বসবে। আরও দুটো ব্লকেজ আছে। দাদা নাকি ট্রিপল ভেসেল ডিজিজে ভুগছেন। প্রয়োজনে দিল্লি নিয়ে চিকিৎসা হ'তে পারে। দাদা এখন সবার সংগে কথা বলেছেন। রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন ক্ষেত্রের দিকপালদের সংগে কথা বলেছেন। দাদা সংকট মুক্ত।

যাইহোক যা জানা গেল না তা হ'লো এমন হ'লো কেন? যদিও দাদার বাবার হার্ট ডিজিজের স্ট্রং হিস্ট্রি আছে। কিন্তু দাদা ছিলেন ফিটনেস আইকন। প্রচন্ড শরীর সচেতন! অথচ হঠাৎ হার্টে তিনটে ব্লকেজ! আর্টারিতে সংগে সংগে একটা স্টেন্ট বসে গেল! আরও দুটো আগামীতে বসবে! বাইপাস সার্জারী যদিও এইমুহুর্তে হবে না অথচ কথাটা উঠে গেল! ডাক্তাররা বলছেন ৫০ পেরোনো ব্যাক্তিদের নিয়মিত চেক আপে থাকতে হবে। আম জনতার নিয়মিত চেক আপ আম জনতাকে নিয়ে মস্করা ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু দাদা কি নিয়মিত শরীর চেক আপ করাতেন না!? দাদার বুকে হৃদয় রোগ ধীরেধীরে থাবা বসাচ্ছে তা কি তিনি বুঝতে পারেননি!? তাহ'লে আম জনতা কি ক'রে বুঝবে!!!

পরমপিতার চরণে প্রার্থনা জানাই দাদা সৌরভ তাড়াতাড়ি সম্পুর্ণরুপে বিপদমুক্ত হ'য়ে একেবারে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন এবং কর্মক্ষেত্রে যোগ দিন পুরোনো রুপে।
( লেখা ২রা জানুয়ারি'২০২১)