Powered By Blogger

Monday, March 2, 2026

আমিও কি--------?

কিসের রাজা? কিসের নীতি?
কিসের সাজসজ্জা? কিসের রীতি?
শুরু থেকে শেষ শুধু উন্নতির নামে দুর্নীতি!
কিসের নেতা? কিসের নেত্রী?
ছদ্ম চরিত্রের সব অন্যায় অসতের ধাত্রী!
কিসের উন্নতি? কিসের পরিবর্তন?
কিসের সভ্যতা? কিসের উদবর্দ্ধন?
চারিদিকে শুধু ভয়! ভয়! আর ভয়!
কিসের সংস্কৃতি? কিসের আন্দোলন?
কিসের সততা? কিসের উত্তোলন?
শরীরে-মনে-চরিত্রে হচ্ছে ক্ষয় অবক্ষয়!
কিসের সকাল? উঠবে কিসের নূতন সূর্য?
কিসের সমাজ? কিসের ব্যবস্থা? কে সেই পুজ্য?
চারিদিকে শুধু ক্ষমতার আস্ফালন!
কিসের কবিতা? কিসের নাটক?
কিসের সাহিত্য? কিসের পাঠক?
শুধু তাত্ত্বিক আমেজে ডুবে থাকা
ফেউদের রাতভর ঘেউ ঘেউ আর ব্যর্থ প্রক্ষালন!
আমিও কি সেই একজন!?
( লেখা ৩রা মার্চ'২০২১)

বিচিত্রাঃ ২৪৫

বন্ধু! ভুলে যেও না তোমার অউকাত।
অউকাত ভুলে দিয়ে লম্ফ মারছো ঝম্প;
কাল কবলের জাঁতাকলে 
হবেই হবে কুপোকাৎ।

গুরুজনে শ্রদ্ধা করে না যে জন করে না সম্মান তাঁরে;
অশ্রদ্ধার বিষ বাষ্পে মরে সে
আর
মারে বংশ উজার ক'রে।

বুকের মধ্যে অশ্রদ্ধার করছো চাষ, 
অনবরত হিংসার ফুল ফোটাচ্ছো মনে! 
হুল ফুটিয়ে ঢালছো তীব্র বিষ আর 
দিচ্ছো জয়ধ্বনি গুরুর নামে?

শব্দ নিয়ে করছো জাগলিং, 
দেখাচ্ছো প্রেম পীরিতের খেলা! 
কবিতায় তুলছো প্রেমের তুফান 
কিন্তু জীবন তোমার বলছে অন্য কথা শেষবেলা!!
( লেখা ৩রা মার্চ'২০১৮)

দিনের প্রার্থনা ৫
নেগেটিভ শক্তিকে প্রতিহত করার অসীম শক্তি দাও দয়াল,
নেগেটিভ শক্তি যেন আমাকে পরাস্ত করতে না পারে।
( লেখা ৩রা মার্চ'২০২৫)














 






















Sunday, March 1, 2026

বিচিত্রাঃ ২৪৪

 Think positive, do positive, be positive & have positive. 

Do not spread negative thinking.
( লেখা ২৮শে ফেব্রুয়ারী'২০২০)

দিনের প্রার্থনা ২
হে দয়াল, 
যারা বোকা সরল ঠকে যায় প্রতিমুহুর্তে বিশ্বাস ক'রে 
তাদের তুমি রক্ষা ক'রো, তাদের তুমি আশ্রয় দিও। 
( লেখা ২৮শে ফেব্রুয়ারী'২০২৫)।

এ কিসের ইঙ্গিত!?
পরিবারের সবাই মিলে দয়ালের দরবারে শয়তানি!!!!

দয়ালের দরবারে বসে দয়ালের সঙ্গে চালাকি!?
সেদিন আর দূর নয়, নিয়তির ভয়ংকর হাসি সাথে 
থাকতে হবে একাকি! সাবধান।

এতবড় মানুষ গিরগিটি!?
যা দেখে ভয় পায় স্বয়ং গিরগিটি!?

ভালোবাসাকে দুর্বল মনে করো?
মনে করো, যে ভালোবাসে সেটা তার দায়?
তোমার অহঙ্কার আর ঔদ্ধত্বের সীমা নাই! হায়!!


দয়ালের দরবারে বসে যারা বেঈমানি, নেমকহারামি, অকৃতজ্ঞতার চাষ করে তাদের রক্তের দোষ না থাকলে সম্ভব নয়। 
জৈবী সংস্থিতিতে ত্রুটি।

এখনও সময় আছে বাঁচতে যদি চাও, 
পরিবার বাঁচাতে যদি চাও 
তবে দয়ালের দরবারে কপটতা ও মিথ্যার আশ্রয় ত্যাগ করো।
য়ার, দয়ালের কাছে ক্ষমা চাও।

কাকে করবো বিশ্বাস? কার প্রতি রাখবো আস্থা? 
কোথায় নেবো নিশ্বাস? কার উপর ভরসা?
( লেখা ১লা মার্চ'২০২১)

শয়তান অত্যাচারীর প্রধান পৃষ্টপোষক সাধারণ জনগণ। 
তাই Vox populi vox dei কথাটা ভুল। 
কারণ, জনগণের বাণী ঈশ্বরের বাণী হ'তে পারে না।

গুরুর জয় নিশ্চিত হ'ক এই শপথ নিয়েই 
আমরা যেন একে অপরকে 'জয়গুরু' বলি সৎসঙ্গীরা; 
নতুবা নয়।
( লেখা ১লা মার্চ'২০২৪)

দিনের প্রার্থনা ৩
ভাঙাচোরা সৎসঙ্গীদের তুমি ক্ষমা ক'রো, 
দয়া ক'রো দয়াল। তুমি ছাড়া এই পৃথিবী ভয়াল!
( লেখা ১লা মার্চ'২০২৫)


































কবিতাঃ জীবন যদি হত এমন--------

উফ! দুর্দান্ত!!!!!! আরামে চোখ বুঝে এলো!! 
আর মন বলল, জীবন যদি হত এমন রঙ্গিন !!!!!!! 
বিবেক বলল, জীবন এমনই রঙ্গিন, শুধু খুঁজে নিতে হয়। 
জীবন বলল, আনন্দধারা বহিছে ভুবনে! 
গাছে গাছে, পাতায় পাতায়, বনে বনে!! 
হৃদয় বলল, হৃদয় মাঝে মেলে দিয়ে আমায়, 
আঁচল ভরে তুলে নিতে হয় সে আনন্দধারা!!!!!! 
বিলিয়ে দিতে হয় জনে জনে প্রাণে প্রাণে!!!!
আমি বললাম, ছবি তো নয়, রঙিন স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা 
আমার শুধু সে আমার দেশ!! 
জলে স্থলে অন্তরিক্ষে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সে বেশ!!! 
আমার আমি বলল, ফিরে এসো, ওগো ধরা দাও! 
আমার সেই নানা রঙের দিনগুলি!!! 
মুছে দিয়ে যত ক্লেশ উড়িয়ে হাওয়া ফাল্গুনী!!!!!!!
( লেখা ১লা মার্চ'২০১৪)




Saturday, February 28, 2026

বিচিত্রঃ ২৪৪

Think positive, do positive, be positive & have positive. 
Do not spread negative thinking.
( লেখা ২৮শে ফেব্রুয়ারী'২০২০)

দিনের প্রার্থনা ২
হে দয়াল, 
যারা বোকা সরল ঠকে যায় প্রতিমুহুর্তে বিশ্বাস ক'রে 
তাদের তুমি রক্ষা ক'রো, তাদের তুমি আশ্রয় দিও। 
( লেখা ২৮শে ফেব্রুয়ারী'২০২৫)

Thursday, February 26, 2026

বিচিত্রাঃ ২৪৩

বন্ধ হ'ক ঈশ্বরের চরণ বন্দনা;
শুরু হ'ক পালন তাঁর জীবন চলনা!

বন্ধ হ'ক ঈশ্বরের চরণ বন্দনা;
শুরু হ'ক পালন তাঁর জীবন চলনা!

ঘরে ঘরে হ'ক শুরু দয়ালের
চলন পূজা;
বন্ধ হ'ক চরণ পূজে মুক্তির স্বর্গ খোঁজা।

ঘরে ঘরে হ'ক শুরু দয়ালের চলন পূজা;
বন্ধ হ'ক চরণ পূজে মুক্তির স্বর্গ খোঁজা।
( লেখা ২৭শে ফেব্রুয়ারী'২০২১)

শ্রীশ্রীঠাকুর ও 'সৎসঙ্গ' বিরোধীরা সক্রিয়। 
বিরোধীদের মধ্যে কোটি গুণ সক্রিয় ও ক্ষতিকর 
ঘর শ্ত্রু দূর্যোধনেরা।

ঠাকুরকে মাথায় নিয়ে চলা মানে ঠাকুরের মতো হওয়া। 
ঠাকুরের মতো হও। নতুবা সব ফাঁকিবাজি ও ঠগবাজি চলন। 
প্রাপ্তি সীমাহীন যন্ত্রণা।
( লেখা ২৭শে ফেব্রুয়ারী'২০২৪)

দিনের প্রার্থনা। ১
হে দয়াল, তোমার উজ্জ্বল আলো প্রবেশ করুক সবার অন্তরে, 
সবার ঘরে, ধুয়ে যাক সব মলিনতা, ঘুচে যাক সব অন্ধকার।
( লেখা ২৭শে ফেব্রুয়ারী'২০২৫)






Tuesday, February 24, 2026

বিচিত্রাঃ ২৪২

দয়াল তোমার আছেন চেয়ে তোমার মুখপানে,
তুমি বন্ধু আছো মেতে রিপুর মত্ত টানে; 
বৃত্তি সুখের উল্লাসে প্রাণ তোমার 
উঠছে মেতে গানে।
( ২৫শে ফেব্রুয়ারী'২০১৮)

হে প্রিয়, 
শয়তানকে তোমাকে ও তোমার প্রিয়জনদের 
ছোবল মারার সুযোগ দিও না। 
দয়ালকে ঘরে প্রতিষ্ঠা করো। 
প্রিয়জন তোমার মুখ চেয়ে রয়েছে।

চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়। ঠিক কথা। 
কিন্তু দয়াল যদি থাকে ঘরে প্রাণে প্রাণে 
তাহ'লে চিরদিন সুখে শান্তিতে ভরে যায় ঘর,
এ হক কথা।

হে আমার গুরুভাইবোন,
তোমার ছোট্ট সন্তানকে দয়ালের কোল থেকে সরিয়ে দিও না, 
তোমার চারপাশ ভয়ংকর। সন্তানকে বাঁচতে দাও। 

দয়াল যদি থাকে তোমার অন্তরে 
শয়নে-স্বপনে-জাগরণে ও ভোজনে 
তাহ'লে শয়তানের বাপের ক্ষমতা নেই 
তোমায় স্পর্শ করে, তুমি থাকবে তাঁর নয়নে।

গ্রহদোষ মানে গ্রহণদোষ। 
গ্রহগুণ মানে গ্রহগুণ।
তুমি ভালো মন্দ যা গ্রহণ করবে  
তুমি জীবনে তাই পাবে। 
ভালো গ্রহণে ভালো, মন্দ গ্রহণে মন্দ,
মন্দ গ্রহণে যতই কাঁদো দয়ালের কিছুই করার থাকে না।
তুমি পাবেই মন্দ।

শনি-রাহু-কেতু ব'লে যদি খারাপ কিছু থাকে 
তাহ'লে তা' হ'লো তোমার বদ স্বভাব, তোমার চরিত্র। 
দয়ালের পরশে নিজেকে পালটাও।

যারা ঠাকুরকে ব্যাথা দিচ্ছে, কষ্ট দিচ্ছে তারা সাবধান। 
তাদের অন্তর, তাদের জীবন ব্যাথা আর কষ্টে ভরে যাবে, 
ধ্বংস অনিবার্য, শেষের সেদিন ভয়ঙ্কর।

শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ কি বলেছিলেন, 'ব্রহ্ম সত্য জগত মিথ্যা?' শ্রীশ্রীঠাকুরের এক ভক্তের মুখে ভিডিওতে শুনলাম এই কথা।

শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের আর এক ভক্তের মুখে শুনলাম, শ্রীশ্রীঠাকুর নাকি বলেছিলেন, তিনি বাউল রূপে আবার আসবেন? সত্যি?

শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণের এক ভক্ত বললেন, ঠাকুরকে এক শব্দে বলতে বলা হয়েছিল তাঁর জীবন দর্শন। তিনি বলেছিলেন, ব্রহ্ম সত্য জগত মিথ্যা।
এ কথা সত্যি!?
( ২৫শে ফেব্রুয়ারী'২০২৪)

অনৈতিক জীবন নৈতিকতার পাঠ শেখায় ছাত্র- জনতাকে!!!!!
ছাত্র-জনতা কি বেকুব!?
( ২৫শে ফেব্রুয়ারী'২০২৫)













































Tuesday, February 17, 2026

বিচিত্রাঃ ২৪১

কেউ নেই পাশে তুমি আছো সাথে 
এই মোর শক্তি।
তোমার সেবার দিও অধিকার,
দিও মোরে ভক্তি।

তোমার কাজের মাঝে আসে বাধা, 
আসে শত বিপত্তি!
কি যে করি বুঝিতে না পারি! 
তোমার প্রতি রাখিতে গভীর বিশ্বাস 
দিও প্রভু মোরে শক্তি।

ঘরে অশান্তি, বাইরে অশান্তি, 
অশান্তি বোকা বাক্সের বুকে! 
অশান্তির কালো ছায়া পড়েছে আজ 
প্রতি জীবনে মরণে ঢুকে!!

দিয়েছো যে মহান দায়িত্ব
পায় যেন তা' স্থায়িত্ব।
পারি যেন রাখিতে প্রভু তব মান
ইষ্টপ্রতিষ্ঠার তরে ঘেরে যত বাধা মোরে
হয় যেন তা' খানখান।
( লেখা ১৭ই ফেব্রুয়ারী'২০১৮)
















জিজ্ঞাস্যঃ প্রিয় বন্ধু,

PF, DA ইত্যাদি নিয়ে মাঝে মাঝেই লেখা চোখে পড়ে। লেখাগুলি পড়তে পড়তে Pension সংক্রান্ত একটা বিষয় মনে এলো। রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের পেনশন ছাড়া সারা ভারতে কলে-কারখানায় বা ছোটোবড় অনেক বেসরকারী কর্মস্থলে কাজ করা কর্মচারীদেরও পেনশন আছে। কিন্তু তাদের পেনশন অত্যন্ত সামান্য। আর রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারী, ব্যাংক কর্মীদের পেনশন চোখ ধাঁধানো। নতুন চাকরীতে জয়েন্ট করলে যে মাহিনা পাওয়া যায় সরকারী কর্মচারীদের পেনশনও প্রায় তাই শুধু নয় কখনও কখনও তার চেয়েও অনেক গুণ বেশী। সরকারী কর্মচারীদের ডি.এ বাড়লে পেনশনভোগীদেরও সেই অনুযায়ী পেনশন বাড়ে। কিন্তু সারা ভারতের বেসরকারী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পেনশন যেন বিধবার খুদ কুঁড়ো!? কেন? বেসরকারী পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে পেনশনের পরিমাণ কি বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী বাড়ানো যায় না? ভারতবর্ষে বেসরকারী ক্ষেত্রে সম্মিলিত পেনশনারদের সরকারী কোষাগারে জমা টাকার পরিমাণ কত কোটি এই তথ্য কি জানা যেতে পারে? সেই সম্মিলিত টাকা কোথায় খাটানো হয়? সেই খাটানো টাকার আয়ের পরিমাণের সম্পূর্ণটাই কি বেসরকারী পেনশনরদের ক্ষেত্রেই খরচ হয়? বেসরকারী পেনশনারদের ক্ষেত্রে সরকারী পেনশনারদের নীতি কি প্রযোজ্য? এই ব্যাপারে কি বিস্তারিত আলোচনার মধ্যে দিয়ে আলোকপাত করা যেতে পারে? কেউ কি এই বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে পারেন? অপেক্ষায় রইলাম।
( লেখা ১৭ই ফেব্রুয়ারী'২০১৭)

Sunday, February 15, 2026

বিচিত্রাঃ ২৪০

একটাই তো জীবন,
একবারই তো সফর; 
আর
কত রাখবি পুষে তোর বুকে
বন্ধু হিংসা দিনভর!?

এই পৃথিবীতে আগে এসেছিলাম কিনা জানি না, 
আবার আসবো কিনা তাও জানি না, 
শুধু জানি এ জীবনে এসে করলাম 
শুধু ভুল আর ভুল, ভুল আর ভুল!
( লেখা ১৫ই ফেব্রুয়ারী'২০১৮)

আসন্ন লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে ক্ষমতা দখলের জন্য
দেশের নেতানেত্রীদের হুঙ্কার-পাল্টা হুঙ্কারে দেশ ছিল তটস্থ!
কাশ্মীরের পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার ঘটনায় দেশের নেতৃবৃন্দ
সমস্বরে কেন বদলার জন্যে গর্জে উঠে দেশকে করছে না আস্বস্ত!?

মোদীজি, শোকে বিহ্বল হওয়া নয় রাষ্ট্রধর্ম, 
শোকবার্তায় কাজ শেষ নয়!
ইমরানের বাউন্সারের বিশাল ছক্কা মারার 
এই তো মোক্ষম সময়!

হে ভারত! আর কবে প্রমান হবে, হাম কিসিসে কম নেহি!?
হে জওয়ান! হোক ভয়ংকর মহাপ্রলয়,
বন্ধ হ'ক কথার তানাশাহী!

মোদীজি! 
যে হিংস্র তাকে অহিংসার নামতা পড়ালে কি সে বুঝবে!? 
আর, অহিংসার নামাবলী জড়িয়ে আমেরিকা কি বলবে, 
চীন কি বলবে তা খুঁজবে!?

ঘরে বাঘ আর বাইরে বেরোলেই ছাগ!?
শালা হাগতে হবে না ঘরে
বাইরে গিয়ে হাগ!
ভাগ! শালা ভাগ!!

মোদীজি! সামঞ্জস্যবাদ হ'ক রাষ্ট্রধর্ম!
যার পেট খারাপ তার জন্যে যে পথ্য
সেই পথ্য যার পেট ভালো তাকে দেওয়া নয় সঠিক কর্ম!

'মুখে মারিতং জগৎ' ভারত
জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লভে!
(লেখা ১৫ই ফেব্রুয়ারী'২০১৯)

সত্যকে যাদের ভালো লাগে না 
তারা মিথ্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়। 
সত্য ফ্যাকাশে মিথ্যে রঙিন ঝলমলে! 
তাই নিশ্চিত ক্ষয়!!
(লেখা ১৫ই ফেব্রুয়ারী'২০২০)

ইষ্টভৃতি গ্রহণ মানে জীবন্ত ঈশ্বরের দ্বারা
তোমার জন্মজন্মান্তরের পাপ গ্রহণ।
কোনও মানুষের পক্ষে কোনও মানুষের
পাপ গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
(লেখা ১৫ই ফেব্রুয়ারী'২০২৫)


































Saturday, February 14, 2026

বিচিত্রাঃ ২৩৯

ঈশ্বর-ভগবান মানি আর মানি না ব'লে 
যারা করছে চিল চিৎকার!
মানা-না মানা ব্যক্তিগত অনুভূতি-গভীর জ্ঞান! 
চিৎকার মূর্খামি-অহংকার!!

'মা-বাবাকে ভালোবাসি! মা-বাবাই আমার ভগবান!' 
ব'লে মারছো হাঁকডাক!
ভালোবাসা ও ভগবান এত সহজ-সস্তা-ঠুনকো নাকি 
যে পেটাচ্ছো ঢাক!?

যে যে-ভাষা বোঝে তাকে সেই ভাষায় জবাব দেওয়ায় রাষ্ট্রধর্ম।
(১৪ই ফেব্রুয়ারী'২০১৯)

স্থির জলে ঢিল পড়লে যেমন বুদবুদ ওঠে
ঠিক তেমনি দয়ালের কাছে এলে পরে চাপা পড়া 
'আমি-আমি, আমার-আমার' জেগে ওঠে, দুর্গন্ধ ছড়ায়। 
নিজেকে, নিজের স্বভাবকে চেনা যায়, জানা যায়! 
তখন নিজেকে শুধরে নেবার সুযোগ আসে। 
সেই সুযোগ হারালে বৃথা হ'য়ে যায় ইহকাল-পরকাল!!

মনের পিছনে ছুটো না বন্ধু, 
মন তোমায় পাগল কুকুরে পরিণত করবে। 
পাগল যদি হ'তে হয় পাগল হও ঈশ্বর প্রেমে! 
শরীর-মন-আত্মা শুদ্ধ হবে!!

'আমি-আমি, আমার-আমার' ব'লে পাগল হ'লে 
কেউ তোমার কেন্দ্রও নয়, কেন্দ্রও তোমার নয়! 
দিন শেষে ঘেয়ো কুকুরের মত পথে পথে ঘুরে মরতে হয়!!

হিংসা ক'রো না বন্ধু! 
হিংসার আগুনে আর যাই-ই পুরুক না পুরুক 
অন্তর তোমার পুড়ে খাক হ'য়ে যাচ্ছে! 
পোড়া অন্তরে সব পোড়া লাগবে।

সত্যকে অস্বীকার ক'রে মিথ্যাকে আশ্রয় ক'রে 
নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে যেও না! 
শেষের দিনে মিথ্যের পাহাড়ের মাঝে 
দেখবে তুমি একা!!
 (১৪ই ফেব্রুয়ারী'২০২০)












Friday, February 13, 2026

প্রবন্ধঃ আশা ও গভীর বিশ্বাস (২য় পর্ব)।

১ম পর্বে আমি শিল্প ধর্মঘট নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আপনারা যারা পড়ছেন এই আর্টিকেল তাদের অনুরোধ করবো এই আর্টিকেলের ১ম পর্ব পড়ার জন্য। তাহ'লে আপনা্দের লিঙ্কটা ধরতে সুবিধা হবে।
এবার ভর্তুকির প্রসঙ্গে বলি।
ভর্তুকি তুলে দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা ও বিরোধীতা করেছিল দেশের বিরোধী দল বাম্ফ্রন্ট। সেই বিষয়ে জনগণকে আগাম সতর্ক করেছিল ব'লে দাবী করা হয়েছে ফেসবুকে একজনের একটা আর্টিকেলে, যে আর্টিকেলের বক্তব্য বিষয় নিয়ে আমার এই লেখা। ভর্তুকি তুলে দিলে জনগণের ওপর ভয়ংকর আর্থিক চাপ নেমে আসবে ব'লে সাবধান ক'রে দিয়েছিল বামপন্থীরা আর বাস্তবে সত্যি সত্যিই তার প্রতিফলন ঘটেছে ব'লে দাবী করছে তারা।

এখন আমার জিজ্ঞাস্যঃ
ভর্তুকি দিয়ে কি সত্যি সত্যিই দেশ চালানো যায়? ভর্তুকি কি কোনও দেশকে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে শক্তিশালী করতে পারে? ভর্তুকি কতদিন দেওয়া যেতে পারে? কি করলে ভর্তুকি চিরকালের জন্য তুলে দেওয়া যায় এবং ভর্তুকির প্রয়োজন না পড়ে তা' ভেবে দেখার কি এখনও সময় আসেনি? দেশ স্বাধীন হয়েছে ৭৮বছর, কোনোদিনই কি দেশ ও দেশের কোনও রাজনৈতিক দল ভাববে না? শুধু 'ধর তক্তা মার পেরেক' মনোভাব নিয়ে ও রাজনৈতিক দর্শনে দল, সরকার ও দেশ চালাবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। যারা নেতা হবে, যারা দেশ পরিচালনা করবে, দেশ চালানোর জ্ঞান দেবে তারা কি ভাববে না এই বিষয়ে? লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচের থেকে কম দামে গ্যাস বা অন্যান্য কিছু জনগণকে সরবরাহ করা হ'লে তা' কতদিন সরকারের পক্ষে বহনযোগ্য? দেশের অগ্রগতির পক্ষে কতটা পজিটিভ পদক্ষেপ? ভর্তুকি তুলে দিয়ে জনসাধারণের ওপর দামের বোঝা বাড়িয়ে দেওয়া কেন হচ্ছে এই ধরণের কথা বলে জনগণকে এখনও কেন সত্যের আলোর মুখোমুখি হওয়া থেকে মিথ্যের অন্ধকারে রাখা হচ্ছে? ভর্তুকি কি কোনও দেশের সার্বিক উন্নতির চাবিকাঠি হ'তে পারে? ভর্তুকি যদি দিতেই হয় তবে তাহ'লে জনগনকে জানিয়ে দেওয়া হ'ক এই ভর্তুকির ফলে দেশের কতটা লাভ বা ক্ষতি হচ্ছে।

আর, ভর্তুকি যদি দিতেই হয় পুরোপুরি দিক। বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন রকম ব্যবস্থা কেন? কোথাও কোথাও কোনও কোনও রাজ্যে জনগণের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে বিদ্যুৎ, জল ইত্যাদি নানারকম ফ্রি ব্যবস্থা আছে। আবার নানারকম ভাতাও আছে বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে। বাম্ফ্রন্ট আমলে প্রথম ভাতা চালু হয়। বেকার ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা, বন্ধ কল কারখানা এবং বন্ধ চা বাগান শ্রমিকদের আর্থিক অনুদান ইত্যাদি। এখন তা' নানারকম ডালপালা মেলে বিরাট মহীরুহে পরিণত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে বেকারদের ভাতা দেওয়ার ও বন্ধ শ্রমিকদের আর্থিক অনুদান দেওয়ার পরিবর্তে বেকার ভাতা যাতে দিতে না হয়, কলকারখানা যাতে বন্ধ না হয় তার জন্য কেন মূল সমস্যার সমাধানে যত্নশীল হয়নি তৎকালীন ৩৪ বছরের সরকার?

যাই হ'ক, চটজলদি সস্তা পদক্ষেপ চিরকালীন সমস্যা সমাধান করতে পারে না। গোড়া কেটে আগায় জল ঢালার মানসিকতা দেশের শাসকদের মগজকে ডাস্টবিনে পরিণত করে। ফলে নিজের খোঁড়া গর্তে নিজেরই সলিল সমাধি হয়। আর, অন্তিমে ভয়ঙ্কর ফল ভোগ করবে দেশের ১৪০কোটি জনগণ সস্তার তিন অবস্থার ফর্মূলায়।
কিন্তু এর থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য কোনও সদর্থক উদ্যোগ ও মানসিকতা নেই। সততার সঙ্গে অতীতের ভুল স্বীকারের অকপট মানসিকতা ও দীর্ঘমেয়াদী বলিষ্ঠ স্বচ্ছ ও স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা প্রয়োজন। নতুবা দিন শেষে হাতির বাতকর্ম হওয়ার ঘোষণার মতন পরিণতি হবে।

আমার আশা ও গভীর বিশ্বাস নোতুন প্রজন্ম শুধু পথেঘাটে, মাঠে-ময়দানে মিছিলে মিটিঙে উদ্দন্ড গলাবাজি আর পর দোষ অন্বেষন ক'রে বৃথা সময় নষ্ট করবে না। কারণ ন্যাড়া বেলতলায় একবারই যায়। মানুষকে বোকা বানিয়ে সাময়িক সামান্য লাভ হ'লেও হ'তে পারে কিন্তু আখেরে নিঃশব্দ গভীর ভয়ঙ্কর পতন অবশ্যম্ভাবী। সাম্প্রতিক বাংলাদেশের বর্তমান ১২ই ফেব্রুয়ারি'২০২৬-এর নির্বাচন জ্বলন্ত প্রমাণ। বাংলাদেশের প্রধান উপাদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইনে অবৈধ ও অগণতান্ত্রিকভাবে পিছনের দরজা দিয়ে বিদেশী শক্তির মদতে ক্ষমতার লোভে সিংহাসনে বসার মাত্র ১৯ মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁর মিথ্যে রঙ্গীন কথার ফানুস ফেটে গেল। জনগণই যে শেষ কথা আবার প্রমাণ হ'লো।
প্রকাশ বিশ্বাস।
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া।
ক্রমশ ( পরবর্তী ৩য় পর্বে)।


প্রবন্ধঃ আশা ও গভীর বিশ্বাস (১ম পর্ব)।

শিল্প ধর্মঘট, ভর্তুকি, জাতপাত, ভাতের অধিকার, কাজের অধিকার, শিল্প, শ্রম কোড, শিক্ষা ও SIR ইত্যাদি নিয়ে একটা লেখা পড়লাম ফেসবুকে। মনে পড়ে গেল আমার যৌবনের কথা। মনে পড়ে গেল পশ্চিমবঙ্গের ৭০দশকের আন্দোলন ও পরবর্তী দীর্ঘ সময়ের বামপন্থী শাসনের কথা। মনে পড়ে গেল ভয়ংকর ভয়াবহ নকশাল আন্দোলনের দিনগুলির কথা।

এর সঙ্গে পড়লাম যিনি লিখেছেন, তিনি দুঃখপ্রকাশ করেছেন যখন শিল্প ধর্মঘটের পক্ষে মিছিল চলছিল তখন শিল্প ধর্মঘটের মিছিল ও শ্লোগানের বিরুদ্ধে পথচারীদের ব্যঙ্গ হাসি ও টিপ্পনি করা দেখে। ভালো লাগলো লেখাটা পড়ে। লেখাটা পড়তে পড়তে কয়েকটি কথা মনে হ'লো অতীত ও বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আর ভাবলাম পথচারীদের ব্যঙ্গ হাসি ও টিপ্পনির পিছনে কি কারণ আছে? কেন আজ এত অনীহা, অবিশ্বাস, বিরক্তি, রাগ? সবটাই অকারণ, অযৌক্তিক? একদিন ৭০ দশকের যে আন্দোলন, যে সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে, যে রক্তপাত ও লক্ষ লক্ষ মেধার আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসি শাসনের অবসানের পর গভীর বিশ্বাস, গভীর ভালোবাসা, স্বপ্ন, আশা, ভরসা নিয়ে বামফ্রন্টের শাসনের সূত্রপাত হয়েছিল আজ সেই বাম দলের আন্দোলনের ওপর, মিছিল, মিটিং, শ্লোগানের ওপর কেন এত ব্যঙ্গ, বিদ্রুপ, টিপ্পনি, অবিশ্বাস, অভক্তি? বামপন্থীরা কি ভেবে দেখবে না এত কষ্ট, এত পরিশ্রম, এত আত্মত্যাগ, এত রক্তপাতের মধ্যে দিয়ে অর্জিত ক্ষমতা কেন ধ'রে রাখতে পারলাম না?
আসুন ভেবে দেখি একে একে কেন মানুষ ৭০দশকের স্মৃতি আর মনে রাখতে চায় না।
১) শিল্প ধর্মঘট প্রসঙ্গঃ
আসলে ১৯৭৭সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর গত ৩৪বছর বাম্ফ্রন্ট্রের শাসনে পশ্চিমবঙ্গের কলে কারখানায় শিল্প ধর্মঘট শব্দটা এত ব্যবহার ও প্রয়োগ হয়েছে, প্রয়োগ হয়েছে পথেঘাটে, মাঠেময়দানে যে, শব্দটা সম্পর্কেই মানুষের রুচি হারিয়ে গেছে, শব্দটার মধ্যে আর প্রাণ নেই, মৃতবৎ একটা একঘেয়ে বিরক্তিকর ঘড়ঘড় শব্দ। শুনলেই মানুষের মনের মধ্যে শুরু হ'য়ে যায় শিল্প ধর্মঘট নামক যন্ত্রদানবের ভয়ঙ্কর ঘড়ঘড় এক শব্দ যেটা থেকে ভেসে আসে শিল্প ধ্বংসের গা শিউড়ে ওঠা 'ঘচাং ফু' কর্কষ ধ্বনি, চোখের সামনে ভেসে ওঠে পশ্চিমবঙ্গে ৭৭-এর কংগ্রেসি অপশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন লড়াইয়ে যুক্ত না থাকা নেপোয় মারে দই চরিত্রের অযোগ্য, অদক্ষ, অপদার্থ, অশিক্ষিত, ধান্দাবাজ নেতৃত্বের পরিচালনায় কলে কারখানায় শিল্প ধর্মঘট নামক এক বুল্ডোজারের শিল্প ধ্বংসের একের পর এক ছবি।


শিল্প ধর্মঘট বাম্ফ্রন্টের ৩৪বছরের আমলে হয়নি? পশ্চিমবঙ্গের ছোটো বড় কলে কারখানায় কথায় কথায় ছিল শিল্প ধর্মঘটের হুংকার। তার ইতিহাসটা কি? সেটা নিয়ে, তার মেরিটস-ডিমেরিটস নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করবে না বর্তমান প্রজন্ম? বাম্ফ্রন্ট্রের যারা প্রবীণ তাঁরা তো জানেন ৩৪বছরের শাসনে প্রতিটি ছোটো বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে শিল্প ধর্মঘটের ইতিহাস, তাদের সেই সময়ের প্রতিটি কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্বদের জীবন ও চরিত্র।

কিন্তু বর্তমান নোতুন প্রজন্ম? তারা হয়তো জানে বা সবাই জানে না। জানলেও চোখ উল্টে থাকে। শিল্প ধর্মঘটের মিছিলের সঙ্গে যুক্ত নোতুন প্রজন্ম যারা, তারা বাংলার বুকে ১৯৭৭সালে বাম্ফ্রন্ট পশ্চিমবাংলায় ক্ষমতায় আসার পর পরবর্তী ৩৪বছরের রাজত্বে অতীতের এই শিল্প ধর্মঘটের ইতিহাস নাই জানতে পারে কিন্তু প্রবীণ নেতারা অনেকেই আজও আছেন। তাঁরা তাদের বিগত শিল্প ধর্মঘটের ফলে কলে কারখানায় ঘটা ঘটনা থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি বর্তমান প্রজন্মকে জানিয়ে যান। জানিয়ে যান কেন পশ্চিমবঙ্গের বড় বড় শিল্প বন্ধ হ'য়ে গেল। জানি্যে যান সেই সমস্ত শিল্পের জমির ওপর পরবর্তী সময়ে কি হয়েছে ও হচ্ছে। যদিও শিল্প ধর্মঘটের সঙ্গে যুক্ত প্রজন্ম ইচ্ছে করলেই জানতে পারবে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জেলায় ছোটো বড় বন্ধ কারখানাগুলির জমির অবস্থা কি। ইচ্ছে করলেই জানতে পারবে ৩৪বছরে পশ্চিমবঙ্গে প্রতিটি জেলায় কোথায় কোথায় শিল্প ধর্মঘটের ফলে শিল্পের কি অবস্থা হয়েছিল ও উন্নতি বা অবনতি কতটা হয়েছিল।

আর, সত্যের ওপর, সততার ওপর, মনুষ্যত্বের ওপর যদি বর্তমান প্রজন্ম দাঁড়ায় আর আগামী পথ চলা ভুল স্বীকারোক্তি ও প্রায়শ্চিত্তের ভিত্তিতে যদি হয় তবে নিশ্চয়ই ভবিষ্যৎ সুন্দর ও মজবুত হবে।

এ আমার চিরদিনের আশা ও গভীর বিশ্বাস। যে আশা ও গভীর বিশ্বাস আমার যৌবনের দিনগুলিতে ছিল পথেঘাটে, মাঠেময়দানে মিছিলে, মিটিঙে, শ্লোগানে, গণনাট্য মঞ্চে, পথ নাটকে। এই আশা ও গভীর বিশ্বাস আজও সমানভাবে আছে।
প্রকাশ বিশ্বাস।
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া।
ক্রমশ (পরবর্তী অংশ ২য় পর্বে)।


Monday, February 9, 2026

বিচিত্রাঃ ২৩৯

ভালো কাজ আর মন্দ কাজ; 
কোন কাজের পৃষ্ঠপোষকতা বেশী হয়?
মন্দ কাজ তো মন্দ লোকে করে 
তবে ভালো কাজ সমর্থনে কেন 
ভালো লোকে পায় ভয়?

ভালো কাজের পিছনে হিংসা, নিন্দা, 
সমালোচনা, কটুক্তি শোনা যায় 
ভালো লোকের মুখে!
আর
মন্দ কাজের পৃষ্ঠপোষকতা
বেড়ে চলে মহাসুখে!
(১০ই ফেব্রুয়ারী'২০১৮)

ভাঙার জন্য ছেনি হাতুড়ি নিয়ে রাত থাকতে 
উৎসাহ নিয়ে উঠে পড়ি;
কিন্তু গড়ার জন্য সিমেন্ট সাথে কর্ণিক
কেউ ধরি না। 
আর যারা কর্ণিক ধরি তারাও ভাঙার কাজেই 
কর্ণিককে কাজে লাগাই।
(১০ই ফেব্রুয়ারী'২০২২)



শ্রীশ্রীঅবিনদাদার উদ্দেশ্যে।

ক্ষমা করো প্রভু, ক্ষমা করো মোরে--
আমি জীবাত্মা,
মোর আত্মায় নাই মহাশক্তি।
তোমারে বুঝিতে পারি হেন মহান প্রাণের
আমি নহি অধিকারী,
আমি জীবাত্মা।
( লেখা ৯ই ফেব্রুয়ারি'২০২৪)



বিচিত্রাঃ ২৩৮

জানলাম অনেক, দেখলাম অনেক, 
বুঝলাম অনেক কিন্তু করলাম না! 
সময় হারিয়ে গেলো, স্রোতে ভাসিয়ে নিলো,
তাই অন্ধকার ঘুচলো না!!

চলন ধরিতে দিয়ো গো আমারে 
দিয়ো না, দিয়ো না ভুলায়ে;
জনম জনম সুখ দুঃখ দিয়ে 
তোমারে বক্ষে ধরিব জড়ায়ে।

অতল ভূতল অজ্ঞতার ভার
বহিয়া বহিয়া ফিরি কত আর.....
তব চলনের ফুলে গেঁথে নেবো হার
দিয়ো না আমারে ফিরায়ে।।.
( লেখা ৯ই ফেব্রুয়ারী'২০১৮)

কি যে লিখি, কি যে বলি, ভাবি কি
আর করি কি কিছু বুঝি না!
মনের ঘরে ঢুকে নিয়ে গেল সব লুটে
কে সে? তাই জানি না!
( লেখা ৯ই ফেব্রুয়ারী'২০১৯)










Friday, February 6, 2026

বিচিত্রাঃ২৩৭

আপনি কোন বাঙালি? 
হিন্দু ? মুসলিম? নাকি খ্রীষ্টান বাঙালি? 
ঘটি বাঙালি নাকি বাঙাল বাঙালি? 
বাঙালি সব হারিয়ে শুধুই কাঙালি!

বাঙালির মহানতা কিসে? 
বেইমানী আর অকৃতজ্ঞতার বিষে।

এমন কেউ কি আছেন প্রথিতযশা বাঙালি, 
যার সাথে কাঙালি বাঙালি করেনি ছেনালি! 
বলতে পারেন?

যেদিকেই যাই শুধু দেখি তাই,
যাকে বলে মন্দ কাজের সায়! অবাক! বন্ধু অবাক!!
ভালো কাজের পৃষ্ঠপোষক নাই!!!

বাঙালি করে শালা খালি আংলি মুরোদ নেই রক্তে, 
জল মেশানো তাতে! পরনির্ভরশীল জাত, 
খায় মাছভাত; চায় থাকতে দুধেভাতে!!

ভালো কাজ করেছো কি মরেছো বন্ধু! 
ধরেছো সাপের ল্যাজ!
অবাক হ'য়ে দেখবে শালা
কপালে ঘাম বিন্দু বিন্দু
ঢোঁড়া সাপেরও কি ত্যাজ!!

অকারণ লেগে যায় ফোন
দিনে রাতে যার তার সাথে।
অতি প্রগতিই দুর্গতি
আর লোকে ভাবে দুর্মতি! 
কি যে করি আসে না কিছু মাথে।
 
কে তুমি? 
যে স্বর্গ ও পৃথিবীকে ভীত ক'রে তুলছো?
শয়তান কিলবিস?
জেনো হবেই হবে তুমি ফিনিশ
আজ নয়তো কাল;
মনে রেখো এসেছে মহাকাল
তোমারে বধিবে ব'লে,
আর দু'দিনের তরে তুমি শ্বাস নিচ্ছো।
( লেখা ৭ই জানুয়ারী'২০১৮)























Monday, February 2, 2026

গানঃ প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র।

প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল হরি ওম।
প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল নারায়ণ।
প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল হরি ওম।
প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল নারায়ণ।

অনুকুল প্রভু অবতারি
অকুল দরিয়ার কান্ডারী
প্রেম ডোরে মন, চরণে রাখি
প্রেমী অনুকূল স্বামীর।
এসো রে, গাও রে, অনুকূল কে প্যারে
এসো রে, গাও রে, মেরে সৎসঙ্গী প্যারে
এসো রে, নাচো রে, আনন্দ করো রে।
গাও রে, নাচো রে, আনন্দ করো রে।

প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল হরি ওম।
প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল নারায়ণ।
প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল হরি ওম।
প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল নারায়ণ।

হে মোর অনুকূল প্যারী
রাঙা চরণ তোমারি
বুকে ধ'রে নাম জপি অবিরাম
দয়াল রাধা স্বামী।
এসো রে, গাও রে, অনুকূল কে প্যারে
এসো রে, গাও রে, মেরে সৎসঙ্গী প্যারে
এসো রে, নাচো রে, আনন্দ করো রে।
গাও রে, নাচো রে, আনন্দ করো রে।

প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল হরি ওম।
প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল নারায়ণ।
প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল হরি ওম।
প্রভু সুন্দর অনুকূল চন্দ্র
প্রভু অনুকূল নারায়ণ।

( লেখা ১৩ই জানুয়ারী'২০২৬)
( 'হরি সুন্দর নন্দ মুকুন্দ' গানের সুরে)

Sunday, February 1, 2026

শয়তানের ভয়ংকর বিষাক্ত ছোবল বনাম দয়ালের অজচ্ছল দয়া।

ডায়মন্ড হারবার রোডে অন্ধকার ফাঁকা রাস্তায় রাত ১২টায় আচমকা প্রচন্ড দ্রুতগতিতে ওভারলোডেড ট্রাকের পিছন থেকে পাশ দিয়ে যাবার সময় সংঘর্ষে ক্ষতবিক্ষত XL6 গাড়ির অবস্থা ছবিতে দৃশ্যমান। গাড়ীতে আরোহী ছিল শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দীক্ষিত ১ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। 
শ্রীশিবাশীষ চ্যাটার্জী ও শ্রীমতি প্রজ্ঞা চ্যাটার্জী ( সাইকো-স্পিরিচুয়াল হিলার) এবং শ্রীমতি সোনাই ঢালি ( শ্রীশ্রীঠাকুরের সক্রিয় একনিষ্ঠ কর্মী)। 
অন্ধকার রাতে শয়তানের ভয়ংকর অতর্কিত ছোবলে গাড়ি ধ্বংস হ'লেও দয়াল ঠাকুরের অপার দয়ায় গাড়ির তিনজন আরোহীর শরীরে বিন্দুমাত্র আঁচড় লাগেনি, ওভারলোডেড ট্রাকের ধাক্কায় অলৌকিক রহস্যজনকভাবে রাস্তার পাশে খাদে গড়িয়ে পড়ে যায়নি আরোহী সহ গাড়ি। ঘটনার সময়কাল ২রা ডিসেম্বর'২০২৩, রাত ১২.৩০মিঃ। দয়ালের দয়ায় তাঁরা পুরোপুরি সুরক্ষিত ছিল। আর, এই ঘটনার দু-মাস পরে সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত গাড়ির বর্তমান রূপও ছবিতে দৃশ্যমান। পাশাপাশি দু'টো গাড়ির ছবি দেওয়া হয়েছে। শ্রীশ্রীঠাকুরের দয়ায় গাড়ি আবার স্বমহিমায় অবতীর্ণ। আজও রহস্যময় ঘটনা ঘটে যার কোনও ব্যাখ্যা নেই।

এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল দয়াল ঠাকুর শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের প্রিয় কোটেশান, " There are many things in heaven and earth, Horatio, than are dreamt of in your philosophy." (যার ভাবার্থ হ'লো স্বর্গ ও পৃথিবীর মাঝখানে আরও বহু জিনিস আছে, হোরাশিও, যা তোমার দর্শনের পাল্লার বাইরে ও স্বপ্নের অতীত।")

শ্রীশ্রীঠাকুর মাঝেমাঝেই নাট্যকার, সাহিত্যিক শেক্সপিয়ারের 'হ্যামলেট' নাটকের এই সংলাপ আপনমনে আউড়াতেন।

গাড়ির ধংসাত্মক রুপ ও দয়ালের দয়ায় পুনরায় ফিরে পাওয়া গাড়ির নোতুন রূপের সঙ্গে দয়াল ঠাকুরের অপার দয়ায় পুনরায় নোতুন জীবন ফিরে পাওয়া, শ্রীশ্রীঠাকুরের আশীর্বাদ প্রাপ্ত তিন সৎসঙ্গীর ছবি ( শ্রী শিবাশীষ চ্যাটার্জী ও প্রজ্ঞা চ্যাটার্জী; সোনাই ঢালি) সব এখানে সংযুক্ত করা হ'লো।


বাল্মিকি রামায়ণ ও বালখিল্য রামায়ণ।

সীতা নাকি জনক কন্যা নন, রাবণ কন্যা। নিজের ভাইয়ের বৌ রম্ভার সঙ্গে বলপূর্বক মিলনের ফসল সীতা। আবার পূর্বজন্মে সীতা নাকি বেদবতী নামক ঋষিকন্যা ছিলেন। রাবণ তাঁকে ধর্ষণ করতে চাইলে সীতা যজ্ঞের আগুনে প্রাণত্যাগ করেন এবং অভিশাপ দেন রাবণকে পরের জন্মে তাঁর কন্যা হ'য়ে জন্মগ্রহণ করবেন এবং মৃত্যুর কারণ হবেন। পরের জন্মে সীতা জন্ম নিলে স্বামীর প্রাণ সংশয়ের কারণে মাতা মন্দোদরী ভয়ে সমুদ্রে সীতাকে ভাসিয়ে দেন এবং ধরিত্রী মাকে দান করেন। জনক রাজা সীতাকে পান এবং পালন করেন। বিভিন্ন রামায়ণে সীতাকে বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়।
বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টির সৃষ্টিকর্তা পুরুষোত্তম পরমপিতা শ্রীশ্রীরামচন্দ্রের ঘরণী মা লক্ষ্মী সীতার এমন অদ্ভুত অদ্ভুত কাহিনী হিন্দুধর্মের ধর্মগ্রন্থে।
এইজন্যেই বোধহয় আজ হিন্দু ধর্মের এই করুণ অবস্থা। তাই বলা হয় বাল্মিকি রামায়ণ বাদে বাকীগুলি বালখিল্য রামায়ণ। 
( লেখা ২রা ফেব্রুয়ারী'২০২৫)।



Friday, January 30, 2026

বিচিত্রাঃ ২৩৬

ঈশ্বর তুমি থাকো আমার মনে, হৃদয়ে, আমার প্রাণে;
ঈশ্বর তুমি থাকো আমার শয়নে-স্বপনে-জাগরণে।
ঈশ্বর তুমি আমায় রাখো তোমার নয়নে নয়নে;
ঈশ্বর তুমি আমায় রাখো তোমার রাতুল চরণে।-

জয় নিতাই! জয় নিতাই! বলছো হাজারবার!!
নিমাইয়ের নামে ধ্বনি দিচ্ছ কতবার!?
নিতাই যদি হয় মহাপ্রভু প্রভু তবে কি নিমাই!?
নিতাইয়ের নামে নিমাইয়ের পরিচিতি নাকি
নিমাইয়ের নামে নিতাই!?
জয় নিমাই! জয় নিমাই! আগে বলো সবাই।-
(৩১শে জানুয়ারী'২০১৯)




ইষ্ট তোমার আয়ের উপকরণ!
আর অন্যের সুখ শান্তি করছো অপহরণ!!
এর পরেও বলছো তুমি ধ'রে আছো ইষ্টের চরণ!?
ধার তুমি ধারো না তাঁর চলন!
তাই বৃত্তি স্বার্থে বুঁদ হ'য়ে শেষে
মরণকেই করছো তুমি বরণ!!

ঠাকুর মানো আর কাউকে মানো না;
চরণ জানো তাঁর চলন জানো না।
তাঁর চরণ পূজায় মগ্ন হ'য়ে করো
তাঁর সাথে অন্তহীন ছলনা!
তাই ঠাকুর ছাড়া ঠাকুর আত্মজও মানো না!!

তুমি না গুরুভাই, ইষ্টের পূজারী! 
তবে কেন বাধা দাও ইষ্টকাজে হ'য়ে আনাড়ি!? 
ইষ্ট ছেড়ে অনিষ্টের সাথে করলে ভাব, 
জেনো ইষ্টের সাথে হয় আড়ি!

ইষ্ট তোমার আছেন চেয়ে তোমার মুখের পানে, 
অহরহ বলছে কানে কানে- শুনতে কি তুমি পাও?
বৃত্তি স্বার্থের ধান্দায় কেন মগ্ন হ'য়ে ধাও?







মানুষকে আমরা করছি বিভ্রান্ত?
নাকি কেন্দ্র বিরোধিতার বীজ ক'রে বপন
নিজেরাই নিজেদের করছো সর্বস্বান্ত!?

বুঝলে গুরুভাই!
বাবাইদাদা যার সাথী
হাজার বল তার হাতির!!
ঠাকুর মাথায় নিয়ে সে জ্বালবে, 
জ্বলবে যেন ঝাড়বাতি!!
( লেখা ২রা ফেব্রুয়ারী'২০১৮)

চারিদিকে উড়ছে হাজারো ফানুস, মিথ্যের ফানুস
আকাশে বাতাসে উড়ছে, ওড়াচ্ছে মানুষ!

তুমি আছো আমি নেই আর আমি আছি তুমি নেই
মাঝে মাঝে ভাবি যদি এমন হয় কখনও! ভেসে যাবো
কোন সুদূরে কুল হীন মহাসাগরে হারিয়ে জীবনের খেই!!
( লেখা ২রা ফেব্রুয়ারী'২০১৯)।








































Wednesday, January 28, 2026

প্রসংগঃ গ্রহদোষ ও শ্রীশ্রীঠাকুর। ( পরবর্তী পর্ব ৩)

এমনিভাবেই আস্তে আস্তে পথে যেতে যেতে পরতে পরতে মনের কথা খুলে বলতে লাগলো। একমনে কথাগুলি শুনতে শুনতে পথ চলছিলাম। একটু আগে যে মানুষটার মধ্যে কথা বলার ইচ্ছে, আগ্রহ, উৎসাহ, শক্তি কিছুই ছিল না, যেন জ্যান্ত একটা শব পথ দিয়ে চলছিল। সেই মানুষটা ঠিক-বেঠিক, যৌক্তিক-অযৌক্তিক অনেক কথার স্রোতে নিজেকে উজাড় ক'রে দিতে লাগলো। সব মন দিয়ে ধৈর্য সহকারে শুনলাম। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কথাও ফুটে উঠলো কথার মাঝে। আক্ষেপ ঝ'রে পড়লো সত্তোরোর্ধ বয়স হওয়া সত্ত্বেও আজও বাধ্যর্ক্য ভাতা না-পাওয়ায়। বাধর্ক্য ভাতা নাকি সরকার দেয় না, দেয় নেতার হাতা, হাতার চামচা, চামচার বেলচা। বেলচাকে খুশী করতে না পারলে নাকি বাধর্ক্য ভাতার ফর্ম টেবিলের তলা দিয়ে ময়লার ঝুড়িতে চলে যাবে। এই বয়সে চারবার ফর্ম ফিল আপ করেছে তবুও হয়নি। বেলচা, চামচা, হাতা ছাড়িয়ে নেতার কাছে পৌঁছনোর চেয়ে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছে যাওয়া নাকি অনেক সহজ। আর এ বাস্তব, এ নির্ম্মম অপ্রিয় সত্য। যারা বোকা, হাবা, চালাকি করতে পারে না, সরল, বেকুব, লজ্জাশীল, মুখচোরা তা' সে যে দল করুক আর না করুক ক্ষমতাসীন নেতা বা নেতার হাতা, চামচা, বেলচাদের খুশী করতে না পারলে তোমার ভাগ্যের বা লক্ষীর ভাঁড়ার শূন্য, ফাঁকা থেকেই যাবে আমৃত্যু। কেউ এগিয়ে এসে তোমাকে সাহায্য করবে না। কিন্তু তোমার থেকে সাহায্য নেবে চুটিয়ে নিংড়ে নির্লজ্জভাবে। কিন্তু তোমার সাহায্য নিয়ে পাড়ে উঠে এসেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে বিরোধিতা যে করেছে, চরম শত্রুতা যে করেছে, যে ধাক্কা মেরে ফেলে দিতে চেয়েছে নীচে তার দিকে। আমে দুধে মিলে যাবে তুমি আঁটি হ'য়ে পড়ে থাকবে যেখানে ছিলে সেখানেই কিংবা তার মনের মত না চললে লাথি মেরে ফেলে দেবে আরও নীচে, জড়িয়ে সমস্যার গভীরে বেড়াজালে।

সমস্ত গ্রহের বিগ্রহ হ'লো বৃহস্পতি। কারণ বৃহস্পতি হ'লো সবচেয়ে বড় ও বিশাল গ্রহ। আর বৃহস্পতিকে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে তুলনা করা হয়। তাই বলা হয়, যস্য কেন্দ্রে বৃহস্পতি কিং কুর্বন্তি গ্রহা। যার কেন্দ্রে বৃহস্পতি তাঁকে কি করতে পারে গ্রহেরা? সহজ সরল উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে, এলাকার দাদার যে আস্থাভাজন তার কি করতে পারে গলির ছুটকো মস্তান। 

ঠিক তেমনি সমস্ত জীব জগতের সৃষ্টিকর্তা হ'লো নবরূপে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র। তাই ঠাকুর যার জীবনে মনে প্রাণে শয়নে, স্বপনে, জাগরণে, অবগাহনে, ভোজনে সর্ব্বক্ষণে ভোর শুর হওয়া থেকে শুরু পরদিন ভোর হওয়া পর্যন্ত তার আবার কিসের গ্রহদোষ? গ্রহদোষ বলে কিছু নেই ও কিছু হয় না। সৎসঙ্গীদের এত দুর্বল হ'লে চলে না, হ'তে নেই। গ্রহদোষ মানে গ্রহণ দোষ। আপনি ভালো কিছু গ্রহণ করলে সেটা গ্রহগুণ আর খারাপ কিছু গ্রহণ করলে গ্রহদোষ। গ্রহদোষ কাটাবার জন্য সৎসঙ্গ দেওয়া মানে ঠাকুরকে আপনার নিজের জন্য ভাঙ্গানো। ঠাকুরকে নিজের জন্য ভাঙ্গাবেন না। ঠাকুরের জন্য নিজেকে ভাঙ্গান। সৎসঙ্গ দেবেন ঠাকুরকে মানুষের জীবনে জীবনে ঢুকিয়ে দেবার জন্য। 

তাই, গ্রহদোষ বলে আজেবাজে জিনিসে কুসংস্কারাচ্ছন্ন হ'য়ে পড়া অন্তত সৎসঙ্গীদের মানায় না। সৎসঙ্গীদের এমন দুর্বল মানসিকতার জন্য ঠাকুর ব্যথা পান। তাই, কোন গ্রহদোষ ব'লে কিছু নেই। যদি কিছু থেকে থাকে তা হ'লো আপনার দোষ। আপনার দোষকে চিহ্নিত করুন এবং সেই দোষকে জীবন থেকে বের ক'রে দিন।

পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, "তুমি ঠিক ঠিক জেনো যে, তুমি তোমার, তোমার পরিবারের, 
দশের এবং দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য দায়ী।"
জয়গুরু।
( লেখা ২৮শে জানুয়ারী'২০২৫)।

প্রসংগঃ গ্রহদোষ ও শ্রীশ্রীঠাকুর। (পর্ব ২)

পরবর্তী অংশ।

আমার মুখে সৎসঙ্গে না আসার কারণ বাড়ির সমস্যা কিনা বা গুরুভাইদের সমস্যা কিনা এই প্রশ্ন শুনে পথ চলতি দেখা হওয়া গুরুভাই একটু ইতস্তত ক'রে বললো,
'বাড়ির সমস্যা যে নেই তা নয়, তাছাড়া গুরুভাইবোনেদের মধ্যে পারস্পরিক বিদ্ধ্বেষ সব মিলিয়ে আর সৎসঙ্গে যেতে ইচ্ছে করে না।'

আমি জিজ্ঞেস করলাম, দু'টো সমস্যাই গুরুতর তাহ'লে, তাই তো?

না, ঠিক তা নয়, ব'লে একটু থেমে কি ভেবে যেন বললেন, তবে আবার ঠিক তাই। আসলে কি জানেন মানে ইদানীং সব যেন এলোমেল হ'য়ে যাচ্ছে। যাই-ই ভাবছি, যাই-ই করছি সব কেমন যেন দিনের শেষে এসে দেখছি ভুল হ'য়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন গ্রহদোষে গোটা পরিবার---- বলেই শামুকের মতো আবার গুটিয়ে নিলো নিজেকে নিজের মধ্যে।

পথ চলতে চলতে ভাবলাম, একটা মানুষ পেঁয়াজের খোসা খোলার মতো নিজেকে খুলছে আবার থেমে যাচ্ছে। আবার কখনো যেটাকে বেঠিক বলছে সেটাকেই আবার সঠিক বলছে। এই যে দ্বৈত সত্ত্বার প্রকাশ এই চাক্কি পিষিং এন্ড পুষিং-এর মত দ্বৈত সত্ত্বার মধ্যে পিষ্ট হচ্ছে। বুঝলাম কোনোটারই প্রকাশ সঠিকভাবে হবে না। একে একে ধৈর্য সহকারে সময় নিয়ে শুনতে হবে, তাকে স্পেস দিতে হবে যাতে খুলে বলে সবটা। সহজে মানুষ নিজেকে খুলতে চায় না। কিন্তু একটু ডাক্তারের পালস মাপার মত বিশ্বস্ততার সঙ্গে ঠিক জায়গায় মসৃণ মোলায়েম চাপ দিলে অনন্ত জলরাশীর মতো খুলে যায় বন্ধ মুখ।

তাই তাকে আশ্বস্ত ক'রে বললাম, আপনার মনের অবস্থা ও আপনি যা বলতে চাইছেন তা' বুঝতে পারছি। আপনার বলার মধ্যে অস্বাভাবিকতা বা কোনও ভুল নেই। আপনি যদি খুলে বলেন নিশ্চয়ই আমি শুনবো তবে তার আগে বলুন, আপনি সৎসঙ্গে কেন আসেন না? আগে তো আসতেন।

উত্তরে তিনি বিরক্ত হ'য়ে বললেন,
'ভালো লাগে না। সৎসঙ্গে যেতে আকর্ষণ বোধ করি না। যুক্তি, গভীরতা ও চিন্তাশীলতার অভাব মাত্রাহীন।'

কথাগুলি বিরক্তির সঙ্গে দ্রুত বলেই চুপ করে গেলেন। চুপ ক'রে হাঁটতে লাগলাম। একটু ধাতস্থ হওয়ার সুযোগ দিলাম তাকে।
ক্রমশঃ
( লেখা ২৮শে জানুয়ারী'২০২৫)।


প্রসংগঃ গ্রহদোষ ও শ্রীশ্রীঠাকুর। ( পর্ব ১)

একজন সৎসঙ্গী গুরুভাই গ্রহদোষে কষ্ট পাচ্ছে। পথে দেখা হ'লো, জিজ্ঞেস করলাম, কেমন আছেন?

ম্লান হেসে বললো, 'অ্যাই আছি আর কি, চলে যাচ্ছে।'

শরীরী ভাষা, বলার ধরণ ব'লে দিল ভালো নেই। এ অবস্থায় কথা বাড়িয়ে আর উনাকে বিব্রত করতে মন চাইলো না। পাশাপাশি হেঁটে চললাম। তারপর কিছুক্ষণ যেতেই উনি নিজের থেকেই নীরবতা ভঙ্গ ক'রে বললেন, 'আপনি কেমন আছেন?'

আমি হেসে বললাম, ঠাকুরের দয়ায় ভালো আছি।

তারপরেই বললেন, আপনাদের এখন আর সৎসঙ্গ হয় না।
আমি বললাম, হয় বৈকি। '

ওহো, ব'লে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, 'না, মানে আমি জানতে পারি না তো, তাই জিজ্ঞেস করলাম।'

আপনি তো আর আসেন না। তাই জানতে পারেন না। চোখে চোখ রেখে বললাম, কেন আসেন না? আগে তো আসতেন। তারপর কি হ'লো আর আসেন না কেন? বাড়ির সমস্যা? গুরুভাইদের নিয়ে সমস্যা? 
নাকি অন্য কোনও সমস্যা?
ক্রমশঃ
( লেখা ২৮শে জানুয়ারী'২০২৫)।


Thursday, January 22, 2026

২০২৬ নববর্ষে আহ্বান

 

 

বিচিত্রাঃ ২৩৫

 


ঈশ্বর সাজার ব্যবসা জব্বর ব্যবসা
কামানোর দুনিয়ায় খাসা তামাসা;
কে দেখবি আয়রে ছুটে
ধর্ম মেলায় নিবি লুটে ঈশ্বরের হাজার বাসা!!

আমি এক যাযাবর যেদিক যাই সেদিকেই দেখি 
চারিদিকে চার অক্ষর! ভূতের রাজা দিল বর, 
'খাও গগন হ'য়ে মগন বানিয়ে মুর্গা সবাইকে দিনভর।'

রাজনীতির ফাঁদে ঈশ্বর আমার কাঁদে। 
বলে, নাস্তিকের প্রতি আমার নেই কোনও অভিযোগ, 
নেই কোনও খেদ। আস্তিক আমায় নিয়ে করে
যত ভেদাভেদ!






( লেখা ২২শে জানুয়ারী'২০১৮)


সবচেয়ে বেশী পাপ করলে মানুষ জন্ম হয়?
তাই কি মানুষ বলে, দিন গত পাপ ক্ষয়!?
( লেখা ২২শে জানুয়ারী'২০২০)

আমি আছি, আমি আছি, ভাবতেই ভালোবাসায় মন ভরে যায়, 
যেই ভাবি আজ সবখানে আমি আছি। আমি আছি, আমি আছি।

অপ্রিয় সত্য (১)
কাঁকড়ার বৈশিষ্ট্য যদি কোনও জাতের বৈশিষ্ট্য হয় 
তাহ'লে সে জাতের দ্বারা একায়িত ভারত রচনা 
কোনোদিনই সম্ভব নয়।
( লেখা ২২শে জানুয়ারী'২০২৫)










Wednesday, January 21, 2026

বিচিত্রাঃ ২৩৪

জন্মগত বৈশিষ্ট্য বানায় মুনি শ্রেষ্ঠ বশিষ্ঠ!
বিশিষ্টতাহীন জীবন আনে চরম অনিষ্ট!!

বৈশিষ্ট্যের ওপর দাঁড়িয়ে সফলতাকে করো জীবনে আবাহন;
বিশিষ্টতা লাভে বৈশিষ্ট্যপালী আপুরয়মানকে
করো জীবনে গ্রহণ।

পুরুষোত্তম তিনি বৈশিষ্ট্যপালী আপুরয়মান যিনি।
ঈশ্বর তিনি, পুরুষোত্তম ব'লে যাকে জানি।
তাই, বন্দে পুরুষোত্তমম!.

তমসার পার হ'তে কে ডাকে আমারে!
বলে, ওরে আয় আয় ছুটে আয়রে!
জীবন মাঝে আঁধার রাতে লাগেই যদি ভয়
আমার পানে চেয়ে চেয়ে তুই দেখরে।

তমসার পার অচ্ছেদ্যবর্ণ মহান পুরুষ হন আবির্ভূত ইষ্টপ্রতিকে;
তাঁকে আর তাঁর কথা ছেড়ে যাকেই ধরো আর যাই করো
নেই মুক্তি ক্ষণিকের!

বৈশিষ্ট্য কি জানিই না তাই বৈশিষ্ট্য মানি না
ফলে বৈশিষ্ট্যের অনুশীলন করি না;
অথচ পেতে চায় জীবনে প্রতিষ্ঠা!!
বৈশিষ্ট্যপালী আপূরয়মানই যে জীবন্ত ঈশ্বর
তার খবর রাখি না, তাই নেই তাঁর প্রতি
ভালোবাসা, নেই কোনও নিষ্ঠা।

জীবন্ত ঈশ্বরকে ক'রে অবহেলা
মূর্তি পূজায় বুঁদ হ'য়ে তুমি
বৈশিষ্ট্যকে মারছো উদোম ঠেলা!
ভাবছো থাকবে সুখে, দুধে ভাতে;
নরকপানে ভাসিয়ে জীবন ভেলা।
( লেখা ২১শে জানুয়ারী'২০১৮)

সৎ পথে না থাকার দায় কার বা কাদের?
যারা অসৎ তাদের একার নাকি যারা অসৎ পথে
চলতে বাধ্য করান বা সাহায্য করেন, তাদের?

কেউ বলে সুখে থাকতে করলে সুমিরণ
হবে না গো মন উচাটন!
কেউ বা বলে ভুগতে হবে কর্মফল জনম জনম!!
কি করি ভেবে পায় না আমার মন!!
( লেখা ২১শে জানুয়ারী'২০১৯)

কেউ বলে গেলে গয়া কাশী থাকবে হাসিহাসি
পুরাবে মনের কামনা গো!
কেউ বা বলে ঘরের মধ্যে ঘর তুলে দয়ালধাম
হ'লে পরে সব পাওয়া হয় গো!
( লেখা ২১শে জানুয়ারী'২০২০)।
































Monday, January 19, 2026

বিচিত্রাঃ ২৩৩

আমার আমির মাঝে পাই না খুঁজে আমার আমিকে 
এ কেমনতর আমি? এ আমি মোমের আমি! 
জীবন্মৃত এক মমি!! লাগলে তাপ তবেই না হবে গ'লে তুমি!!

তাপ নেই, ভাপ নেই, নেই উত্তাপ;
বোধ নেই, শোধ নেই, নেই কোনও আলাপ।
জীবন মাঝে আছে শুধু
বুক ভরা বিলাপ!!
( লেখা ১৯শে জানুয়ারী'২০১৮)

একলহমায় চোখের পলকে কর্মীদের পিছনে ফেলে নেতানেত্রী হওয়া আজ আর কঠিন নয়। কিভাবে?
যে কোনও পেশায় উপরের সারির হ'লেই সম্ভব
( লেখা ১৯শে জানুয়ারী'২০২১)





প্রবন্ধঃ শকুনের শাপে গরু মরে না।

বিরাট কোহলির অধিনায়কত্ব ছাড়া নিয়ে প্রাক্তন অনেক বড় বড় তারকা নানা মন্তব্য করছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিশানা ক'রে। আজ বিরাটের দুঃখে বুকের বরফ গ'লে একেবারে ঝরণা হ'য়ে যাচ্ছে আর তা ঝ'রে পড়ছে কপোল বেয়ে অশ্রু হ'য়ে! কোথায় ছিল সেদিন এই সমস্ত তারকা ক্রিকেটাররা!? যেদিন বোর্ড সভাপতি জগমোহন ডালমিয়ার যুগ শেষে শুরু হ'য়েছিল নতুন যুগ ভারতীয় ক্রিকেটে আর সেদিনের পর থেকে ক্রিকেট ক্যারিয়ার চলাকালীন সৌরভের উপর প্রতি মুহুর্তে নেবে এসেছিল যে খাঁড়া, মাথার ওপর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল মানসিক যন্ত্রণার ভয়ংকর যন্ত্র তখন কোথায় ছিল আজকের এই সমস্ত তারকা খচিত প্রাক্তন ক্রিকেট ব্যক্তিত্বরা!? আজ যদি বিরাট কোহলির পক্ষে দাঁড়িয়ে বিবৃতির মাধ্যমে তাঁরা মানুষ হ'য়ে উঠে মানবিকতার পরিচয় দিতে পারেন সেদিন ভারতীয় বিদেশী কোচ গ্রেগ চ্যাপেল ও প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট উইকেট রক্ষক কিরণ মোরের যৌথ তীব্র সাঁড়াশি আক্রমণের হাত থেকে সৌরভকে বাঁচাতে, তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে রক্ষা করতে কি অসুবিধা ছিল তাঁদের!? কি অসুবিধা ছিল সেদিন তাঁদের মানুষ ও মানবিক হ'য়ে ওঠার পিছনে!? তাহ'লে কি তাঁরা আজ যদি মানুষ ও মানবিক হন তাহ'লে সেদিন কি তাঁরা অমানুষ ও অমানবিক ছিলেন!? যাক দেরীতে হ'লেও বোধ জেগেছে ও চোখ খুলেছে তাঁদের!!!!! তবে সত্যিই কি তাই!? নাকি সেই অমানুষের ও অমানবিকতার ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে!? যেহেতু সেদিনের ভারতীয় ক্রিকেট দলের সর্বাধিনায়কের মত আজকের ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সর্বাধিনায়ক সেই এক ও অদ্বিতীয় বিতর্কিত ভারতীয় ক্রিকেট ব্যক্তিত্বের নামও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়!?

তবে তাই-ই চলুক, কথায় আছে শকুনের শাপে গরু মরে না।
( লেখা ১৯শে জানুয়ারী' ২০২২)

Friday, January 16, 2026

প্রবন্ধঃ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিচ্ছিন্ন করুন।

বিচ্ছিন্ন শব্দের অর্থ হল পৃথক, বিভক্ত, খন্ডিত, সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন, যোগাযোগ বিহীন।
আর বিচ্ছিন্নতাবাদ হ'লো একটি দর্শন, যা ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত, পারিবারিক, সাংসারিক, সামাজিক, ভোগৌলিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি ঘরে-বাইরে, দেশে-বিদেশে সমস্ত রকম সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হ'তে চাওয়াকে সমর্থন করে। আর, বর্তমানে বিচ্ছিন্নতাবাদ প্রচলিতভাবে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গনের বিচ্ছিন্নতাকে বোঝায়। অন্যান্য দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সম্পর্ক এড়ানোর পক্ষে সমর্থন করে।

আর বিচ্ছিন্নতাবাদী অর্থ হ'লো এমন একজন যিনি বা যারা একটি প্রতিষ্ঠিত গোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়াকে সমর্থন করেন। বিচ্ছিন্নতাবাদী সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা, জাতিগত বিচ্ছিন্নতা, ধর্মীয় বিচ্ছিন্নতা, আঞ্চলিক, সরকারী বা লিঙ্গ বিচ্ছিন্নতা ইত্যাদির পক্ষে ওকালতি করে।
বিচ্ছিন্নতাবাদীরা স্বায়ত্তশাসন চায়। এই চাওয়া কি পরিবারে, কি শিক্ষা, কি ক্রীড়া, কি ধর্ম, রাজনীতি, কি ব্যবসা, কি প্রশাসন ইত্যাদি সমাজের, দেশের সর্ব্বস্তুরে এরা বিচ্ছিন্নতার জিগির তুলে ভাঙনের মধ্যে দিয়ে নিজেদের শাসন ক্ষমতা কায়েম করতে চায় বা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, স্বাধীন হতে চায় এবং নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে চায়। পরে আবার এদেরই বিচ্ছিন্নতার বিষে নিজেদের মধ্যে ভাঙ্গন ধ'রে ও নিজেরাই আবার বিচ্ছিন্ন হ'য়ে যায়।
আসুন দেখে নিই কিভাবে কোথায় কোথায় বিচ্ছিন্নতার মনোভাবের জন্ম হয়ঃ
১) পরিবারে, সরকারে, অফিসে, কলে-কারখানায়, ব্যবসা বাণিজ্যে, সমস্ত রকম প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন ব্যক্তির মাধ্যমে অযোগ্য ও অদক্ষ পরিচালনার দ্বারা মানুষকে সেখানে বিচ্ছিন্ন ক'রে রাখা হয় এবং সাধারণ মানুষের ওপর দমন পীড়ন ক'রে মানুষকে সেখানে বিচ্ছিন্ন ক'রে রাখা হয়। মানুষ নিজেকে সেই পরিবার, সরকার, অফিস-কাছারি, কল-কারখানা, প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে করে, কখনোই সেই সব কোনও কিছুর প্রতি একাত্ম বোধ করে না। ফলে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্নতার মনোভাবের জন্ম হয়, জন্ম নেয় ভাঙনের স্বভাব।
২) ক্ষমতা দখলের লোভ, আত্মপ্রতিষ্ঠা এবং ঈর্ষা থেকে বিচ্ছিন্নতার মনোভাবের জন্ম হয়।
৩) জাতি, ভাষা, সংস্কৃতি বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি সংখ্যাগুরুদের অবমাননা করা থেকে অর্থাৎ সংখ্যাগুরু দ্বারা সংখ্যালঘুদের প্রতি অবজ্ঞার সঙ্গে আচরণ করা, তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকা, অপছন্দ করা, অসম্মান, অপমান করা ও অনুভূতি না থাকা ইত্যাদি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মানসিকতার জন্ম হয়।
৪) বাইরের শক্তির দ্বারা ঘরের, দেশের, প্রতিষ্ঠানের ইত্যাদির অভ্যন্তরীণ শক্তিকে দূর্বল করা বা ধ্বংস করার জন্য বিপুল আর্থিক মদতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্ম দেওয়া হয়।
বিচ্ছিন্নতার ঘৃণ্য মনোভাবকে ও এই মনোভাবের সৃষ্টিকারীদের এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘরে-বাইরে আপনার জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করুন। 'লোহে লোহেকো কাটতা হ্যায়'-এর মতন, ধর্ম্ম প্রতিষ্ঠার জন্য অধর্ম করার মতন, বিষে বিষে বিষ ক্ষয় তত্ত্বের মতন পরিবারে, সমাজে, দেশে প্রতিটি ব্যষ্টির সঙ্গে প্রতিটি ব্যষ্টিকে সংহত, একত্রিত, সংযুক্ত রাখার জন্য বিচ্ছিন্নতাবাদীকে চিহ্নিত করুন ও সমষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন করুন।
বর্তমান নানারকম জটিল সমস্যা জর্জরিত পৃথিবীতে মানুষ জান্তে-অজান্তে নিজেকে বিচ্ছিন্ন ক'রে ফেলছে ব্যষ্টি-সমষ্টি, সংসার-সমাজ সব কিছু থেকে। পরিণতিতে বোধবুদ্ধিহীন এক তাল মাংস পিন্ড হ'য়ে যন্ত্র স্বরূপ বেঁচে আছে সাধারণ সীমাহীন ভাঙাচোরা মানুষ পরিবারে, সমাজে, দেশে। ফলে মানবতা ও মনুষ্যত্ব বোধের বিলোপ ঘটেছে। দূর্বল হচ্ছে পরিবার, দূর্বল হচ্ছে সমাজ, দূর্বল হচ্ছে দেশ। বিচ্ছিন্নতার মানসিকতা একটা ঘোর ব্যাধি।

19 শতকের জার্মান বুদ্ধিজীবী কার্ল মার্কসও (1818-1883) অনুরূপভাবে শ্রমিকরা শ্রম দিয়ে যে পণ্যগুলি তৈরি করে কলে কারখানায় সেই পণ্যগুলির স্রষ্টা শ্রমিক হওয়া সত্ত্বেও শ্রমিকরা মালিক নয়, মালিক অন্যজন, শ্রমিকেরা সেই উৎপাদিত পণ্যের মালিকানা থেকে বিচ্ছিন্ন, এরূপ মতবাদের সৃষ্টি করেন। এই ব্যবস্থাকে কার্ল মার্ক্স শ্রমের বিচ্ছিন্নতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই মতবাদের প্রভাবে কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের প্রতি ও কারখানার প্রতি শ্রমিকের কোনও সেন্টিমেন্ট থাকে না। জীবনের উপার্জনের পুরোটা সময় সেই উৎপাদিত পণ্য ও উৎপাদিত স্থানের সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও, জীবন যৌবন ব্যয় করা বা উৎসর্গ করা সত্ত্বেও সেই পণ্যের ও স্থানের প্রতি অফিসে, কলে- কারখানায় বিচ্ছিন্নতা বোধের শিক্ষা লাভের কারণে নিজের অজান্তেই শরীরে-মনে ও আত্মায় বিচ্ছিন্নতার ব্যধিতে আক্রান্ত হ'য়ে এক বিচ্ছিন্ন মানসিকতার অধিকারী হয়ে গেছে সেই শ্রমিক কর্মচারী মানুষ।

তাই মানুষ ঘরে-বাইরে, পরিবারে-সমাজে কোনও কিছুর সঙ্গেই আর নিজেকে যুক্ত করতে বা রাখতে পারে না, ব্যর্থ হয়। এই যে বিচ্ছিন্নতার শিক্ষা এই শিক্ষায় শিক্ষিত ক'রে তোলার জন্য যেমন সমস্ত ক্ষেত্রের মালিকানায় থাকা বা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি দায়ী ঠিক তেমনি দায়ী সেই সমস্ত ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মার্ক্সীয় তত্ত্বে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী শ্রমিক-কর্মচারী ও সদস্যরা। পরিবারে, সরকারে, অফিসে, কলে-কারখানায়, প্রতিষ্ঠানে, সংগঠনে মাথা ভালো হ'লেও বিচ্ছিন্নতার ব্যাধিতে আক্রান্ত শরীরের বাকী অংশরা বেয়াড়াপনা করতে ছাড়ে না।
এই বিচ্ছিন্নতার শিক্ষা দেশ-বিদেশ, অফিস, কল-কারখানা, দোকানপাট, হাট-বাজার ইত্যাদির গন্ডি ছাড়িয়ে একেবারে ঘরের অন্দরমহলে ঢুকে পড়েছে। ঢুকে পড়েছে মানুষের বায়োলজিল্যাল মেক আপে, জৈবী সংস্থিতিতে।

তাই, বাইরের শক্তি যখন কোনও পরিবারের বা দেশের স্বার্ব্বভৌমত্ব ধ্বংস করতে চায় তখন পরিবারের বা দেশের আভ্যন্তরীণ বিচ্ছিনতাবাদী শক্তিকে কাজে লাগিয়েই তারা তাই করতে চায়। যা আমরা দেখেছি আমাদের ভারতবর্ষের উপর যতবার বহির্শত্রুর দ্বারা আক্রমণ হয়েছে ততবার আভ্যন্তরীর বিচ্ছিন্নতা্র মানসিক ভয়ংকর ব্যাধিতে আক্রান্ত শত্রু শক্তিকে কাজে লাগিয়েই তাই হয়েছে। মীরজাফর, জয়চাঁদ, জগত শেঠ, ঘষেটি বেগম, জুডাস ইত্যাদি সবার ক্ষেত্রেই ছিল এই এক বিচ্ছিন্ন করার, ভেঙে ফেলার মানসিকতা। আমাদের সুন্দর দেশ ভারতবর্ষকেও ভেঙে টুকরো টুকরো ক'রে দিল দেশের ভিতরে ও বাইরে মনেপ্রাণে লালন পালন করা বিচ্ছিন্নতার মানসিকতাকে মূলধন করেই ব্রিটিশ শক্তি ও দেশের আভ্যন্তরীণ বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি। আজও সেই ট্রাডিশান সমানে চলেছে। আজও বাইরের বৃহৎ শক্তি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশের অভ্যন্তরে জৈবী সংস্থিতিতে সংক্রামিত Biologically affected বিচ্ছিন্নতার মানসিকতার অধিকারী মানুষের সাহায্যে আমাদের দেশকে অস্থির করতে, দূর্বল করতে, ভেঙে আরও টুকরো টুকরো ক'রে দিতে। আর, আমরা চিন্তাভাবনায়, IQ- তে প্যারালাইজড জনগণ বলির পাঁঠার মত নিশ্চিন্তে কাঁঠাল পাতা চিবিয়ে যাচ্ছি। আর এই নিশ্চিন্তে কাঁঠাল পাতা চিবাতেও চিবাতেও আমরা নিজের সংসারকে, নিজের পরিবারকে, নিজের ঘরকেও ভেঙে টুকরো টুকরো ক'রে দিচ্ছি।

এই যে মানুষে-মানুষে, পরিবারে, সমাজে, দেশে ভাগ ক'রে টুকরো টুকরো করার মানসিকতা এই মানসিকতা বায়োলজিক্যাল মেক আপের অর্থাৎ জৈবী সংস্থিতির মধ্যে বিদ্যমান। আর, তার প্রভাবও ভয়ংকর। জৈবী সংস্থিতির মধ্যে যে ভাঙনের, বিচ্ছিন্নতার বীজ বিদ্যমান সে কোনওদিনই সমষ্টির পুজারী হ'তে পারে না, সবাইকে, সবকিছুকে সংহত, একত্রিত, সংযুক্ত ক'রে রাখার ক্ষমতা তার নেই । তার দ্বারা যে ভাঙন সৃষ্ট হয় সেই ভাঙন আরও আরও ভাঙন, বিচ্ছিন্নতাকে আমন্ত্রণ ক'রে আনে শ্ত্রুতার ডিম ফুটিয়ে ফুটিয়ে। The greatest phenomenon of the world, The greatest wonder in the world, Seer of truth, the best fulfiller SriSriThakur Anukulchandra দেশ ভাগের সময় দেশনেতাদের সাবধান ক'রে দিয়ে বলেছিলেন, "Dividing compromise is hatch of the animosity. যার অর্থ, ভাগ ক'রে সমাধান করার অর্থ তা' দিয়ে দিয়ে শত্রুতার ডিম ফোটানো। দেশনেতাদের অদূরদর্শিতার ফলস্বরূপ এই শত্রুতা আজ স্বাধীনতার ৭৮ বছর ধ'রে দেখতে পাচ্ছি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আর সম্প্রতি বাংলাদেশও যুক্ত হয়েছে এর সঙ্গে। যেটা চেয়েছিল বৃটিশ শক্তি যাওয়ার আগে। আর, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অন্ধকারের শক্তি চাইছে ভারতের মানুষের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার পয়েজন ইঞ্জেক্ট ক'রে ক'রে ভারতকে আরও টুকরো টুকরো ক'রে দূর্বল ক'রে দিতে।


শ্রীশ্রীঠাকুর আরো বলেছিলেন, "সংহতিতে যে ভাঙন ধরায় সে ছেদক।" এই এক কথার মধ্যে দিয়ে আমার ভিডিওর দর্শক-শ্রোতা বন্ধুরা সহজেই বুঝে নিতে পারি কে বা কারা ছেদক।
এই সংহতি না আসার কারণ সম্পর্কেও শ্রীশ্রীঠাকুর ব'লে গেছেন,
"consolidation ( সংহতি) যে হয় না তার দু'টো কারণ আছে। প্রথম কারণ হচ্ছে Complex (বৃত্তির)এর nurture (পোষণ) এর জন্য আদর্শকে utilise (ব্যবহার) করে, আমি আদর্শের এ বুদ্ধি থাকে না; আর দ্বিতীয়ত mutual interest ( পারস্পরিক স্বার্থ) না দেখে পরস্পরকে ঠকিয়ে স্বার্থসিদ্ধি করতে চায়। সবাইকে নিয়ে চলতে গেলে অনেক সইতে হয়, ধৈর্য্যের পরীক্ষা চলে। পরস্পরের প্রতি প্রীতিপূর্ণ এই সওয়া-বওয়া ছাড়া কিন্তু সংহতি আসে না। এই জন্য কয়েকটা মানুষ যদি ঠিক ঠিকভাবে Consolidated(সংহত) হ'য়ে ওঠে তবে আর ভাবতে হয় না। যতগুলি আসে, সেই আওতায় ফেলে ঠিক ক'রে নেওয়া যায়। এক আদর্শে অনুরতি-সম্পন্ন হ'লে তারা সংহত না হ'য়ে পারে না, প্রত্যেকে প্রত্যেককে মানিয়ে নিয়ে চলে।

এই ছিল ঠাকুরের বিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধে সংহত, একত্রিত, সংযুক্ত থাকার ভাবনা। শ্রীশ্রীঠাকুরের এই ভাবনা শুরু হয়েছে ভারতের পবিত্র মাটিতে। ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হ'য়ে চলেছে ভারতের বুকে এই ভাবনা। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যগুলিতে চোখ মেলে তাকালে সীমাহীন বিরোধিতা ও অস্থিরতার মাঝেও কেন্দ্র-রাজ্য ও রাজ্য-রাজ্যের মধ্যে mutual interest (পারস্পরিক স্বার্থ) দেখার মানসিকতার মধ্যে আমরা একত্রিত থাকার আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কয়েকটা মানুষ নীরবে, নিভৃতে ঠিক ঠিকভাবে Consolidated (সংহত) হ'য়ে উঠছে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে শ্রীশ্রীঠাকুরের ব'লে যাওয়া পথের ওপর দাঁড়িয়ে। একদিন তাঁরা ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রের শীর্ষে অবস্থান করবে। সেদিন দূরে হলেও বেশী দূরে নয়।

এই যে এক আদর্শে অনুরতি-সম্পন্ন থাকার কথা বলেছেন ঠাকুর সেই এক আদর্শ হ'লো সর্ব্বশ্রেষ্ঠ জীবন্ত আদর্শ শ্রীশ্রীরামচন্দ্র, শ্রীশ্রীকৃষ্ণ, শ্রীশ্রীবুদ্ধ, শ্রীশ্রীযীশু, শ্রীশ্রীহজরত মহম্মদ, শ্রীশ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ ও সর্ব্বশেষ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র। এই এক ও অদ্বিতীয় জীবন্ত আদর্শে যদি ভারতের প্রতিটি মানুষ অনুরতি সম্পন্ন হয় তাহ'লে ভারত হবে ম্যাগ্নেটিক পুল, চৌম্বক টান। তখন ইউরোপও এসে গুচ্ছ হ'য়ে ভারতের সাথে যোগসূত্র রচনা করবে। তারপর হবে আরও একটা গুচ্ছ। এভাবে Whole world, সমগ্র পৃথিবী একায়িত হবে। তাই-ই হবে একায়িত পৃথিবী, United World. পুরুষোত্তম পরমপিতা সেই এক ও অদ্বিতীয় জীবন্ত ঈশ্বর রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ, যীশু, মহম্মদ, মহাপ্রভু, রামকৃষ্ণ-এর নোতুন রূপ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের এই একায়িত পৃথিবী, United world-এর স্বপ্ন একদিন পূরণ হবেই।
আজ এই পর্যন্ত। নমস্কার, জয়গুরু।
( লেখা ১৬ই জানুয়ারী'২০২৫)

Tuesday, January 13, 2026

বিচিত্রাঃ ২৩২

বিবেকানন্দের জন্মদিন পালনে কলকাতার রাস্তায় রক্তপাত! 
ঠাকুর! তুমি কি শুনতে পাও বিবেকানন্দের আর্তনাদ!?

অন্যের দিকে তুললে একটা 
রেখো মনে নিজের দিকে থাকে আঙ্গুল চার।
দিচ্ছও লম্ফ, মারছো ঝম্প
বালখিল্যের লাঙ্গুল নাড়িয়ে বারবার
ভাইগুরু তুমি নাকি আমার!!!

মাহরুবা দিলরুবা আল্লার জান! 
এসেছো ধরায় সময় না হারায় 
জেনো উপাধি তোমার সম্মানী খান!!
খান! রেখো এ জীবনে আল্লার মান!!!

ঈশ্বর মানে পরমকারণ, উৎসমুখ।
তুমি ঈশ্বর মানো না, মানে তুমি 
পরমকারন উৎসমুখকে মানো না।
ঈশ্বর হলেন পরমপুরুষ, পুরুষোত্তম
অর্থাৎ উত্তম পুরুষ। 
ঈশ্বর মানো না, মানে তুমি পরমপুরুষকে,
পুরুষোত্তমকে অর্থাৎ উত্তম পুরুষকে মানো না।
আর, যে মানে না সে বেইমান, অকৃতজ্ঞ। 

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে চার বিচারপতির সাংবাদিক বৈঠক যেন নতুন নতুন রোগের মত ভারতে নতুন নতুন সমস্যার নাটক!

নিশ্বাসের নেই বিশ্বাস,
বিশ্বাস হারিয়েছে তার শ্বাস; তাহ'লে আছি কেন
আমি আজও বেঁচে?
ভেবে ভেবে কাঁদছে আকাশ বাতাস!!
( লেখা ১৩ই জানুয়ারী'২০১৮)

দু'নৌকায় পা রেখে যেমন চলা যায় না
ঠিক তেমনি শয়তানের গালে চুমু আবার 
ভগবানের গালেও চুমু খেয়ে বাঁচা যায় না, 
শেষ রক্ষা হয় না।

আর যাই-ই হ'ক টাকা-পয়সার লোভে 
আর নামের মোহে ইষ্টের কাজ হয় না 
আর নিজের অস্তিত্বকেও টিকিয়ে রাখা যায় না।

বেইমানি আর গদ্দারী ক'রে ইষ্টস্থানে ব'সে
ভক্ত সাজা যেমন যায় না, 
ঠিক তেমনি দয়াল বেঈমান আর গদ্দারের 
গান-বক্তৃতাও শোনেন না।
( লেখা ১৩ই জানুয়ারী'২০২০)

বিবেকানন্দকে নিয়ে মাতামাতি করতে ইয়ং জেনারেশনের লজ্জা লাগে না; লজ্জা লাগে রামকৃষ্ণকে নিয়ে ভাবতে, শ্রদ্ধা জানাতে!?

বিবেকানন্দের পরিচয়ে রামকৃষ্ণের পরিচয় নাকি রামকৃষ্ণের পরিচয়ে বিবেকানন্দের পরিচয়!? রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও যুবসমাজ কি বলেন?

রামকৃষ্ণকে নিয়ে কেন সরকারী স্তরে, রাজনীতির অঙ্গনে বিবেকানন্দপ্রেমী সরকারী প্রশাসন, নেতানেত্রী ও যুবসমাজ এমন মাতামাতি করে না!?

আজকে একজন মহাপুরুষকে দেখলাম যিনি কর্মজীবনে ক্ষমতার দম্ভে ছিলেন অন্ধ পাগল আর আজ বিবেকানন্দের আদর্শের বুলি আউড়াচ্ছেন!
( লেখা ১৩ই জানুয়ারী'২০২১)





















Sunday, January 11, 2026

বিচিত্রাঃ ২৩১

শুরু করি কিন্তু হয় না শেষ!
কেন জানি না বারবার
থেকে যায় অবশেষ!!
( লেখা ১১ই জানুয়ারী'২০১৮)

কেউ নেই
তোমার পাশে, চারপাশে! ঈশ্বরও নেই!!
আছে শুধু বিধি আর তার বিধান!!! সাবধান।

ঈশ্বরের উপর ছেড়ে দাও বিচারের ভার।
বিচারে উপহার-প্রহার স্থির হ'য়ে আছে 
ইষ্টপ্রতিষ্ঠা ও আত্মপ্রতিষ্ঠাকারী,
সত্য-মিথ্যার জন্য।

দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী দেশের কোনও রাজ্যে আসতে পারবে না!? কেন!? কি বলেন রাজ্যের নেতা ও বিদগ্ধজন!?
( লেখা ১১ই জানুয়ারী'২০২০)

O Dayal! My request to youis to reflect your character in my character; I don't want anything else in my life.

শরীরের সমস্ত রোগের উৎস নেতিবাচক মানসিকতা (Negative mentality)। এর ফলেই শরীরে secretion (নিঃসরণ) হয় ভয়ংকর অ্যাসিডের। সাবধান।
( লেখা ১১ই জানুয়ারী'২০২৪)

সত্যিই কি বাঙ্গালীরা বাংলা ভাষার রাজ্য পশ্চিমবাংলায় থাকে? স্কুল কলেজ সরকারী দপ্তর কোর্ট সব জায়গায় হিন্দি ও ইংরেজীর রব-রবা!
( লেখা ১১ই জানুয়ারী'২০২৫)