এবার ভর্তুকির প্রসঙ্গে বলি।
ভর্তুকি তুলে দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা ও বিরোধীতা করেছিল দেশের বিরোধী দল বাম্ফ্রন্ট। সেই বিষয়ে জনগণকে আগাম সতর্ক করেছিল ব'লে দাবী করা হয়েছে ফেসবুকে একজনের একটা আর্টিকেলে, যে আর্টিকেলের বক্তব্য বিষয় নিয়ে আমার এই লেখা। ভর্তুকি তুলে দিলে জনগণের ওপর ভয়ংকর আর্থিক চাপ নেমে আসবে ব'লে সাবধান ক'রে দিয়েছিল বামপন্থীরা আর বাস্তবে সত্যি সত্যিই তার প্রতিফলন ঘটেছে ব'লে দাবী করছে তারা।
এখন আমার জিজ্ঞাস্যঃ
ভর্তুকি দিয়ে কি সত্যি সত্যিই দেশ চালানো যায়? ভর্তুকি কি কোনও দেশকে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে শক্তিশালী করতে পারে? ভর্তুকি কতদিন দেওয়া যেতে পারে? কি করলে ভর্তুকি চিরকালের জন্য তুলে দেওয়া যায় এবং ভর্তুকির প্রয়োজন না পড়ে তা' ভেবে দেখার কি এখনও সময় আসেনি? দেশ স্বাধীন হয়েছে ৭৮বছর, কোনোদিনই কি দেশ ও দেশের কোনও রাজনৈতিক দল ভাববে না? শুধু 'ধর তক্তা মার পেরেক' মনোভাব নিয়ে ও রাজনৈতিক দর্শনে দল, সরকার ও দেশ চালাবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। যারা নেতা হবে, যারা দেশ পরিচালনা করবে, দেশ চালানোর জ্ঞান দেবে তারা কি ভাববে না এই বিষয়ে? লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচের থেকে কম দামে গ্যাস বা অন্যান্য কিছু জনগণকে সরবরাহ করা হ'লে তা' কতদিন সরকারের পক্ষে বহনযোগ্য? দেশের অগ্রগতির পক্ষে কতটা পজিটিভ পদক্ষেপ? ভর্তুকি তুলে দিয়ে জনসাধারণের ওপর দামের বোঝা বাড়িয়ে দেওয়া কেন হচ্ছে এই ধরণের কথা বলে জনগণকে এখনও কেন সত্যের আলোর মুখোমুখি হওয়া থেকে মিথ্যের অন্ধকারে রাখা হচ্ছে? ভর্তুকি কি কোনও দেশের সার্বিক উন্নতির চাবিকাঠি হ'তে পারে? ভর্তুকি যদি দিতেই হয় তবে তাহ'লে জনগনকে জানিয়ে দেওয়া হ'ক এই ভর্তুকির ফলে দেশের কতটা লাভ বা ক্ষতি হচ্ছে।
আর, ভর্তুকি যদি দিতেই হয় পুরোপুরি দিক। বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন রকম ব্যবস্থা কেন? কোথাও কোথাও কোনও কোনও রাজ্যে জনগণের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে বিদ্যুৎ, জল ইত্যাদি নানারকম ফ্রি ব্যবস্থা আছে। আবার নানারকম ভাতাও আছে বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে। বাম্ফ্রন্ট আমলে প্রথম ভাতা চালু হয়। বেকার ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা, বন্ধ কল কারখানা এবং বন্ধ চা বাগান শ্রমিকদের আর্থিক অনুদান ইত্যাদি। এখন তা' নানারকম ডালপালা মেলে বিরাট মহীরুহে পরিণত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে বেকারদের ভাতা দেওয়ার ও বন্ধ শ্রমিকদের আর্থিক অনুদান দেওয়ার পরিবর্তে বেকার ভাতা যাতে দিতে না হয়, কলকারখানা যাতে বন্ধ না হয় তার জন্য কেন মূল সমস্যার সমাধানে যত্নশীল হয়নি তৎকালীন ৩৪ বছরের সরকার?
যাই হ'ক, চটজলদি সস্তা পদক্ষেপ চিরকালীন সমস্যা সমাধান করতে পারে না। গোড়া কেটে আগায় জল ঢালার মানসিকতা দেশের শাসকদের মগজকে ডাস্টবিনে পরিণত করে। ফলে নিজের খোঁড়া গর্তে নিজেরই সলিল সমাধি হয়। আর, অন্তিমে ভয়ঙ্কর ফল ভোগ করবে দেশের ১৪০কোটি জনগণ সস্তার তিন অবস্থার ফর্মূলায়।
কিন্তু এর থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য কোনও সদর্থক উদ্যোগ ও মানসিকতা নেই। সততার সঙ্গে অতীতের ভুল স্বীকারের অকপট মানসিকতা ও দীর্ঘমেয়াদী বলিষ্ঠ স্বচ্ছ ও স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা প্রয়োজন। নতুবা দিন শেষে হাতির বাতকর্ম হওয়ার ঘোষণার মতন পরিণতি হবে।
আমার আশা ও গভীর বিশ্বাস নোতুন প্রজন্ম শুধু পথেঘাটে, মাঠে-ময়দানে মিছিলে মিটিঙে উদ্দন্ড গলাবাজি আর পর দোষ অন্বেষন ক'রে বৃথা সময় নষ্ট করবে না। কারণ ন্যাড়া বেলতলায় একবারই যায়। মানুষকে বোকা বানিয়ে সাময়িক সামান্য লাভ হ'লেও হ'তে পারে কিন্তু আখেরে নিঃশব্দ গভীর ভয়ঙ্কর পতন অবশ্যম্ভাবী। সাম্প্রতিক বাংলাদেশের বর্তমান ১২ই ফেব্রুয়ারি'২০২৬-এর নির্বাচন জ্বলন্ত প্রমাণ। বাংলাদেশের প্রধান উপাদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইনে অবৈধ ও অগণতান্ত্রিকভাবে পিছনের দরজা দিয়ে বিদেশী শক্তির মদতে ক্ষমতার লোভে সিংহাসনে বসার মাত্র ১৯ মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁর মিথ্যে রঙ্গীন কথার ফানুস ফেটে গেল। জনগণই যে শেষ কথা আবার প্রমাণ হ'লো।
প্রকাশ বিশ্বাস।
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া।
ক্রমশ ( পরবর্তী ৩য় পর্বে)।

No comments:
Post a Comment