শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের পুনরায় আসা নিয়ে একটা বিতর্কিত লেখা পড়লাম। সেখানে লেখক লিখেছেন তিনি এর স্বপক্ষে অনেক কষ্ট ক'রে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেছেন সেগুলির প্রকাশে নাকি অনেক ঝামেলা ও গন্ডগোল হয়েছে সেইজন্য যে সব তথ্য সংগ্রহ করেছেন সেগুলির পুনরায় প্রকাশে নিষেধ আছে! এর উত্তরে যেটা প্রথমে মনে হ'লো তা হ'লো এর কোনও অথেনটিসিটি আছে তো? নাকি কারও মনগড়া কথা তথ্য ব'লে চালানো হচ্ছে? লেখকের কি মনে হয় এমন সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লেখকের যদি চোখে পড়ে থাকে আর কারও চোখে পড়লো না!? সবাইকে কি লেখক মূর্খ ও ঠাকুরবাড়ির অন্ন খাওয়া দালাল ভাবেন? লেখক কি মনে করেন প্রায় সারা বিশ্বে প্রায় ১০কোটিতে পৌঁছে যাওয়া মূল কেন্দ্র দ্বারা দীক্ষিত অনুসরণকারীদের মধ্যে কেউ নেই স্বাধীনচেতা ইষ্টপ্রাণ!? লেখক কতদিনের দীক্ষিত তা আমি জানি না তবে আমার জন্ম থেকে আজ এই বয়স পর্যন্ত যা দেখে এসেছি নিজের চোখে, যা শুনেছি নিজের কানে, যা বুঝেছি নিজের, সম্পূর্ণ নিজের বোধবুদ্ধি দিয়ে তা কিন্তু কারও চেয়ে কম নয় বরং বেশিই বলতে পারি; যদিও এই বেশি বলার জন্য লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। আর যদিও এই 'বেশি' শব্দ প্রয়োগ সজ্ঞানে জেনেবুঝেই করেছি।
এবার আসি অন্য কথায়। লেখক কষ্ট ক'রে ঠাকুরের পুনরায় আসার স্বপক্ষে যা সংগ্রহ করেছেন তা যদি অথেন্টিক হ'য়ে থাকে তাহলে তা মানুষের মঙ্গলের জন্য, সৎসঙ্গীদের চোখ খোলার জন্য দুধকে দুধ আর জল কে জল ব'লে জানার, চেনার ও বোঝার জন্য কেন সর্বসমক্ষে বলতে পারা যাবে না, তুলে ধরা যাবে না!? কার ভয়!? কিসের ভয়!? কার নিষেধ!? কিসের নিষেধ!? কেন লুকোচুপি!? কেন এই গোপনীয়তা!? কেন খোলামেলা কথা হবে না!? ঠাকুরকে অবিকৃতভাবে তুলে ধরতে কেন গোপনীয়তার আশ্রয় নিতে হবে!? কেন মানুষের কাছে বলতে দ্বিধা হবে!? মুখে কালি পড়বে!? সত্য তুলে ধরতে যদি মুখে কালি পড়ে পড়ুক!!! যদি মাথায় বাজ পড়ে পড়ুক! আমি প্রস্তুত সেই বাজ মাথায় নিতে! কিসের লজ্জা!? কিসের ভয়!? কেন ভয় পাবো!? মনে রাখতে হবে আমিও পরমপিতার সন্তান! সত্য কথা বলতে, প্রচার করতে, বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে কেন মুখে কালি পড়বে!? কেন ঘৃণা হবে!? কেন লজ্জা হবে!? কেন ভয় হবে!? তাহলে কি কোনও দুর্বলতা লুকিয়ে রয়েছে!? রয়েছে কোনও পাপবোধ!? ঠাকুর যদি আমার জীবন জুড়ে থাকে, আমার ভিতরে থাকে তাহলে সবসময় আমার মুখ দিয়ে, আমার চিন্তাভাবনায়, চলায় বলায় শয়নে-স্বপনে-জাগরণে ঠাকুর ঠাকুর বেরোবে! লেখক নিশ্চয়ই সত্যানুসরণে বলা ঠাকুরের কথা পড়েছেন?
শ্রীশ্রী ঠাকুর বললেন,
"যে কর্ম্ম মানুষের কাছে ব'লতে মুখে কালিমা পড়ে, তা'ক'রতে যেও না। গোপন যেখানে ঘৃণা-লজ্জা-ভয়ে সেইখানেই দুর্বলতা, সেইখানেই পাপ।"
এবার আসি শ্রীশ্রীঠাকুরের আবার আসা প্রসঙ্গে।
আমি সোজাসুজি লেখকের কাছে জানতে চাই এবং লেখককে সমর্থন ক'রে যারা 'জয়গুরু আর লাইক দিয়ে এবং দারুণ লিখেছেন, অনেক কিছু জানতে পারলাম, সত্য চাপা থাকে না' ইত্যাদি ইত্যাদি নানারকম হালকা, চলতি, ভিত্তিহীন, মুখরোচক মন্তব্য ক'রে লেখকের লেখাকে দায়সারা গোছের সম্মান, ভালোবাসা জানায় তাদের কাছে জানতে চাই---------- আর ফেসবুকে এটা ট্রেন্ড যাই-ই লেখ না কেন জয়গুরু আর লাইকের বাইরে জানার জন্যে, শেখার জন্যে, চর্চা করার ও বোধের ঘরকে মজবুত করার জন্যে দীক্ষিতদের মধ্যে কোনও ইচ্ছা বা আগ্রহ নেই। তবে যারা শ্রীশ্রীঠাকুর বিরোধী অদিক্ষিত মানুষ এবং দীক্ষিত সৎসঙ্গী(?) অথচ শ্রীশ্রীবড়দা ও তাঁর পরিবার বিরোধী জন্মবিকৃত মানুষ আছে এইসমস্ত উভয় দিকের মানুষ সকলের প্রবল ইচ্ছা বা আগ্রহ ঝ'রে পড়ে শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীবড়দা, শ্রীশ্রীদাদা, শ্রীশ্রীবাবাইদাদা ও শ্রীশ্রীঅবিনদাদাকে অকথ্য-কুকথ্য, অশ্লীল-কুশ্লীল ভাষায় মন্তব্য করতে, গালিগালাজ, নিন্দা, অপমান-অশ্রদ্ধা, সমালোচনা করতে! এমনকি এরা এতটাই নরকের কীট যে এরা ঠাকুর পরিবারের মায়েদের বিরুদ্ধেও নোংরা কথার কামান দাগে আর এই ট্রেন্ড এতটাই বিষাক্ত ও ভয়াবহ যে এদের মধ্যে দাদাদের সঙ্গে সঙ্গে মায়েরাও আছে!!------------ ঠাকুর নিজের মুখে কোথায় বলেছেন, "আমি শীগ্রই আবার আসছি!?" কোন বইয়ে!? ঠাকুর কোন কোন জায়গায়, কোন কোন বাণীতে, কোন কোন গ্রন্থে আবার শীঘ্রই আসবেন বলেছেন তার রেফারেন্স সহ তুলে ধরলে খুশি হব, জানতে পারবো আর সেইমত লেখকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। লেখক তার লেখার সমর্থনে লিখেছেন নেটের সাহায্যে 'ভৃগু কুষ্টির বিবরণ' ও 'ভৃগু সংহিতা ও শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র' দেখে নিতে! আমি কারও গণনা বা কোনও কুষ্টি নিয়ে বিচারের জন্য টেবিল টক করতে বসিনি বা বসতে চাই না। আমার সে সব বকোয়াস ইচ্ছাও বিন্দুমাত্র নেই! আমি সোজাসাপ্টা জানতে চাই শ্রীশ্রীঠাকুরের মুখনিঃসৃত কথা তাঁর আবার নিজের আসা সম্পর্কে! ঈশ্বর শ্রীকৃষ্ণ নিজের মুখে বলে গেছেন 'যখনই ধর্মের গ্লানি ও অধর্মের উত্থান হয় এবং সাধুদের পরিত্রাণ ও শয়তানকে বিনাশের দরকার হবে তখনই তিনি আসবেন! প্রভু যীশু বলে গেছেন, আমি আসবো! আবার আসবো! মহাপ্রভু নিজের মুখে বলেছিলেন আবার আসার কথা যা চৈতন্যচরিতামৃত-এ আছে! ঠাকুর রামকৃষ্ণ নিজের মুখে বলেছিলেন "আমি খুব শীঘ্রই আসছি! আমি যাবো আর আসবো! ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক কথা অনেকরকমভাবে ইঙ্গিত দিয়ে গেছিলেন যা তাঁর কথামৃতে আছে; শ্রীশ্রীঠাকুরের ঠিক তেমন ইঙ্গিত কোথায় কোন বইয়ে, কোন বাণীতে, কোন কথোপকথনে লিপিবদ্ধ আছে, সে কথা লেখক জানান আমাদের! যে শ্রদ্ধেয় প্রফুল্লদা ঠাকুর রামকৃষ্ণের পরম ভক্ত সেই রামকৃষ্ণের আসার ইঙ্গিত পেয়ে পাগলের মত খুঁজতে খুঁজতে তাঁকে নতুন রূপে শ্রীশ্রীঠাকুরের মধ্যে আবার পেয়েছিলেন, তিনি ইচ্ছা করলে যে কোনও মঠে মহারাজ হ'য়ে বসতে পারতেন কিন্তু রামকৃষ্ণ পাগল প্রফুল্লদা তা করেননি! পাগলের মত ঠাকুর রামকৃষ্ণের কথার মত খুঁজতে খুঁজতে প্রফুল্লদা তাঁর গুরু ঠাকুর রামকৃষ্ণকে আবার এইজন্মেতেই পেয়েছিলেন শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মধ্যে! সেই প্রফুল্লদা যিনি দীর্ঘ ৩০বছর ঠাকুরের পরম দায়িত্ব পালন করেছিলেন, ঠাকুরের দেহ রাখার পর ৩৭বছর বেঁচে ছিলেন সেই প্রফুল্লদা ঠাকুরের আসার খবর কি পেয়েছিলেন!? তাঁর অনুলিখিত ২২খণ্ডের 'আলোচনা প্রসঙ্গে'-এর কোথাও কি এমন ইঙ্গিত আছে!? দেখাতে পারবেন লেখক!?
যাই হ'ক, শেষ কথা বলি, ঐ মানুষগুলির নাম আমি মুখে আনতে চাই না,
যারা নিজেদের সৎসঙ্গী পরিচয় দিয়ে শ্রীশ্রীবড়দা ও তাঁর পরিবারবর্গ সম্পর্কে অত্যন্ত নোংরা ভাষায় কথা বলেন আমার জানা নেই তাদের সঙ্গে সৎসঙ্গীরা কথা বলেন কি ভাবে!? কি ভাবে মূল কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত সৎসঙ্গীরা এইসমস্ত বিকৃতদের তাদের পেজে এলাও করেন নোংরা মন্তব্য করার!? এডমিনরা কি ঘুমিয়ে থাকেন!? তাহলে পেজ খোলার দরকার কি!? অবাক লাগে শ্রীশ্রীবড়দা ও তাঁর পরিবারবর্গ সম্পর্কে অত্যন্ত কদর্য ভাষায় কুৎসা রটনাকারী এইসমস্ত বায়োলজিক্যালি ডিফেক্ট মানুষগুলো সম্পর্কে শ্রদ্ধেয় বিবেকদার পরবর্তী শ্রদ্ধেয় দাদাদের ও শ্রদ্ধেয় কাজলদার কোনও শাসন, অনুশাসন আছে কি নেই!? তাহলে কি ধরে নেব মহাভারতের পরম জ্ঞানী ও মহাবীর ভীষ্ম-রা যুগে যুগে ফিরে আসেন পুরুষোত্তমের সঙ্গে সঙ্গে!?!?!?!?
আর যদি দয়াল শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আবার নেবে আসেন তাহলে অসুবিধে কোথায়!? কেউ বলেছে অসুবিধা বা আপত্তির কথা!? এই পুনরায় আসার প্রসঙ্গের সঙ্গে ঠাকুর পরিবারের কুৎসা করার সম্পর্ক কোথায়!? তিনি আবার আসবেন কি আসবেন না তা কি আমার আপনার বা কোনও লেখকের চাওয়া না চাওয়ার উপর নির্ভর করে!? তিনি যদি আবার নাবার প্রযোজন মনে করেন তাহলে কারও বাবার ক্ষমতা আছে তা লুকিয়ে রাখার? নাকি বাধা দেবার? আর তিনি আবার আসবেন কিনা তার থেকে তিনি যা যা আমাদের করতে বলে গেছেন তা করা ও সেদিকে নজর দেওয়ায় কি ইষ্টপ্রাণতার লক্ষণ নয়!? সৎসঙ্গী পাঠকেরা সত্যি করে ভেবে বলুন তো ঠাকুর দেহ রাখার পর দীর্ঘ ৫০ বছর যাবৎ এই বড়দা বিরোধীরা ঠাকুরের কাজ কি করেছেন আর শ্রীশ্রীবড়দা ও তাঁর পরিবারবর্গের গুষ্টির কি তুষ্টি ক'রেছেন ও ক'রে চলেছেন!? এরা শ্রদ্ধেয় বিবেকদা ও শ্রদ্ধেয় কাজলদাদার ইষ্টপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টের স্বার্থ প্রতিষ্ঠার সৈনিক!?!?!?!? যদি তাই-ই হয় তাহ'লে ঠিক আছে, তাই-ই হ'ক।
কারণ বিচারের ভার আপন হাতে নিতে ঠাকুর বারণ করেছেন।
আজ এই পর্যন্ত। জয়গুরু।
( লেখা ২৩শে জুন'২০২০)
Monday, December 16, 2024
বিচিত্রা ৬৫
ভাঙতে-ভাঙাতে আনন্দ-মহানন্দ!
কারণ উলঙ্গ বৃত্তি-প্রবৃত্তির সেথা
প্রশ্রয়-মহাশ্রয়!!
আজ বাংলার বুকে যা হচ্ছে বা চলছে
তার দায় কে নেবে? নেতা-নেত্রী-বুদ্ধিজীবীরা?
নাকি আম জনতা?
বাংলা বা বাংলাদেশ কার?
মানুষের? বাঙালীর?
হিন্দু বাঙালি-মুসলিম বাঙালির?
নাকি ধর্মান্ধ-ধর্ম ব্যবসায়ীর?
কারণ উলঙ্গ বৃত্তি-প্রবৃত্তির সেথা
প্রশ্রয়-মহাশ্রয়!!
আজ বাংলার বুকে যা হচ্ছে বা চলছে
তার দায় কে নেবে? নেতা-নেত্রী-বুদ্ধিজীবীরা?
নাকি আম জনতা?
বাংলা বা বাংলাদেশ কার?
মানুষের? বাঙালীর?
হিন্দু বাঙালি-মুসলিম বাঙালির?
নাকি ধর্মান্ধ-ধর্ম ব্যবসায়ীর?
বাংলাদেশ কার? বাঙালির?
মুসলমানের? হিন্দুর?
নাকি সব সম্প্রদায়ের?
নাকি শরণার্থীর?
শরণার্থীর পরিচয় কি?
বাংলাদেশ কি ফিরিয়ে নেবে শরণার্থীদের?
জলে নামবো না, সাঁতার কাটবো না
কিন্তু পারে দাঁড়িয়ে বলবো
উঁহু হুঁ! হচ্ছে না! হচ্ছে না!
ভুল! ভুল!! সব ভুল!!
আসলে আমিই শালা একটা
চার অক্ষর ফুল।
দে মা! লন্ডভন্ড ক'রে লুটেপুটে খায়!
পরে হবে নিয়ম মত শান্তির নামে
মিছিল-মিটিং-এ হায়! হায়!!
দাও বিদায়।
আসলে আমরা কেউ শান্তি চাইনি, চাই না!
চাই সুখের নামে অসুখ! গভীর অসুখ!!
সেটাই কি সত্যি না?
( লেখা ১৬ই ডিসেম্বর’১৯)
বেইমান আর নেমকহারাম কি হওয়া যায়?
নাকি বেঈমানি আর নেমকহারামি
রক্ত বাহিত মারণ রোগের জীবাণু!?
বেইমান-নেমকহারাম কি জন্মভ্রস্ট?
স্বাধীনতার ৭৪বছর পরও কি দেশ
বিদেশী শক্তির হাতের পুতুল হ'য়ে থাকবে!?
দেশীয় চাটুকারদের দ্বারা পুতুল নাচ নাচাবে!?
দেশ, দেশের জনগণ কবে হবে সাবালক!?
৭৪ বছর পরও দেশ, দেশের জনগণ নাবালক!?
জিম, পিৎজা, ম্যাসাজ পার্লার ইত্যাদিতে
সজ্জিত কৃষক আন্দোলন!?
কম্যুনিস্টরা কি এমন আন্দোলন দেখেছেন!?
নয়া ভারত! নয়া আন্দোলন!
আধুনিক কৃষক পিৎজা খায় আবার
জিমে গিয়ে ক্যালোরি জ্বালায়!!
চাষ করার জন্য ম্যাসাজ পার্লারে
ক্লান্ত শরীর ম্যাসাজ করায়!!! ওয়াও!!!
আধুনিক ভারতের আধুনিক আন্দোলন!?
জিম, পিৎজা, ম্যাসাজ পার্লারে পরিবেষ্টিত মেলায়
কৃষকদের আন্দোলনের নতুন যুগের সূচনা!?
নতুন যুগের আবাহন!?
জিম, পিৎজা, ম্যাসাজ পার্লারে সজ্জিত
মেলার মাঝে কৃষক আন্দোলন!
কম্যুনিস্টরা কি বলেন? কৃষকরা কি ধনী?
কৃষকরা কি আধুনিক যুগের ফলন?
( লেখা ১৬ই ডিসেম্বর’২০)
মুসলমানের? হিন্দুর?
নাকি সব সম্প্রদায়ের?
নাকি শরণার্থীর?
শরণার্থীর পরিচয় কি?
বাংলাদেশ কি ফিরিয়ে নেবে শরণার্থীদের?
জলে নামবো না, সাঁতার কাটবো না
কিন্তু পারে দাঁড়িয়ে বলবো
উঁহু হুঁ! হচ্ছে না! হচ্ছে না!
ভুল! ভুল!! সব ভুল!!
আসলে আমিই শালা একটা
চার অক্ষর ফুল।
দে মা! লন্ডভন্ড ক'রে লুটেপুটে খায়!
পরে হবে নিয়ম মত শান্তির নামে
মিছিল-মিটিং-এ হায়! হায়!!
দাও বিদায়।
আসলে আমরা কেউ শান্তি চাইনি, চাই না!
চাই সুখের নামে অসুখ! গভীর অসুখ!!
সেটাই কি সত্যি না?
( লেখা ১৬ই ডিসেম্বর’১৯)
বেইমান আর নেমকহারাম কি হওয়া যায়?
নাকি বেঈমানি আর নেমকহারামি
রক্ত বাহিত মারণ রোগের জীবাণু!?
বেইমান-নেমকহারাম কি জন্মভ্রস্ট?
স্বাধীনতার ৭৪বছর পরও কি দেশ
বিদেশী শক্তির হাতের পুতুল হ'য়ে থাকবে!?
দেশীয় চাটুকারদের দ্বারা পুতুল নাচ নাচাবে!?
দেশ, দেশের জনগণ কবে হবে সাবালক!?
৭৪ বছর পরও দেশ, দেশের জনগণ নাবালক!?
জিম, পিৎজা, ম্যাসাজ পার্লার ইত্যাদিতে
সজ্জিত কৃষক আন্দোলন!?
কম্যুনিস্টরা কি এমন আন্দোলন দেখেছেন!?
নয়া ভারত! নয়া আন্দোলন!
আধুনিক কৃষক পিৎজা খায় আবার
জিমে গিয়ে ক্যালোরি জ্বালায়!!
চাষ করার জন্য ম্যাসাজ পার্লারে
ক্লান্ত শরীর ম্যাসাজ করায়!!! ওয়াও!!!
আধুনিক ভারতের আধুনিক আন্দোলন!?
জিম, পিৎজা, ম্যাসাজ পার্লারে পরিবেষ্টিত মেলায়
কৃষকদের আন্দোলনের নতুন যুগের সূচনা!?
নতুন যুগের আবাহন!?
জিম, পিৎজা, ম্যাসাজ পার্লারে সজ্জিত
মেলার মাঝে কৃষক আন্দোলন!
কম্যুনিস্টরা কি বলেন? কৃষকরা কি ধনী?
কৃষকরা কি আধুনিক যুগের ফলন?
( লেখা ১৬ই ডিসেম্বর’২০)
কবিতাঃ বিবেকের ডাকে-----
তোমার কাছে যখন এসেছিলাম
তোমায় দেখেছিলাম প্রথম যেদিন
কেমনতর ছিল সে প্রেম-স্বপ্ন-ভালোবাসা?
ভেবেছিলাম তোমায় ভালোবাসি;
আর ভালোবেসে ভেবেছিলাম
আর ভালোবেসে ভেবেছিলাম
প্রয়োজনে হাসিহাসি পরবো ফাঁসি।
তোমায় দেখেছিলাম প্রথম যেদিন
ভেবেছিলাম স্বপ্নে ডুবে আছি!
আর স্বপন মাঝে যখন দিলাম ডুব
আর স্বপন মাঝে যখন দিলাম ডুব
দেখি শয়নে-জাগরণে সবসময়ে স্বপ্নে আছি!
এখন স্বপ্ন আমার হারিয়ে গেছে,
হারিয়ে গেছে আমার স্বপ্নে দেখা মুখ!
ভালোবাসা আমার শুকিয়ে গেছে, শুকিয়ে গেছে সুখ!
দুঃখ সেথায় তুলেছে ফণা মারবে বলে ছোবল,
দুঃখ সেথায় তুলেছে ফণা মারবে বলে ছোবল,
কণ্ঠধ্বনি ঐ শোনা যায়
'হরিবোল, হরিবোল! বলো হরি হরিবোল।'
হরিবোল নামে পরাণ শুখায় চিত্তে জাগে ভয়!
ভালোবাসা পালায় ছুটে ভয়রে করতে নারে জয়।
শ্মশান ছবি ভেসে ওঠে পরপারের যায় ডাক শোনা!
প্রদীপ যেন নিবু নিবু আর মন বলে, শুরু হ'লো দিন গোনা!
'হরিবোল, হরিবোল! বলো হরি হরিবোল।'
হরিবোল নামে পরাণ শুখায় চিত্তে জাগে ভয়!
ভালোবাসা পালায় ছুটে ভয়রে করতে নারে জয়।
শ্মশান ছবি ভেসে ওঠে পরপারের যায় ডাক শোনা!
প্রদীপ যেন নিবু নিবু আর মন বলে, শুরু হ'লো দিন গোনা!
কেমনতর ছিল সে প্রেম-স্বপ্ন-ভালোবাসা?
মনরে শুধাই আমি, ছিল কি তা সত্যি খাসা?
ছিল কি তা খাঁটি সোনা? ছিল কি তাঁর প্রতি ভরসা?
শুনেছি মহাশক্তি নাকি ঘুমিয়ে থাকে বুকের গভীরে নীরবে!?
তাঁর প্রতি নিবিড় ভালোবাসায় তা নাকি জেগে ওঠে সরবে।
তমসার পার হ'তে কে যেন বলে,
বিবেকের ডাকে দাও সাড়া, করো না মনের অনুসরণ
ছিল কি তা খাঁটি সোনা? ছিল কি তাঁর প্রতি ভরসা?
শুনেছি মহাশক্তি নাকি ঘুমিয়ে থাকে বুকের গভীরে নীরবে!?
তাঁর প্রতি নিবিড় ভালোবাসায় তা নাকি জেগে ওঠে সরবে।
তমসার পার হ'তে কে যেন বলে,
বিবেকের ডাকে দাও সাড়া, করো না মনের অনুসরণ
অন্তর হ'ক শুদ্ধ আর শুদ্ধ চিত্তে করো তাঁকে বরণ।
( লেখা ১৬ই ডিসেম্বর'২০১৮)
Sunday, December 15, 2024
বিচিত্রা ৬৪
বন্ধু, গুরুভাই আমার!
তুমি মানুষকে দিও না আঘাত
মানুষকে তুমি বেসো ভালো;
কপট চাতুরী যদি না রাখো হৃদয়ে
নিশ্চিত সেথায় পড়বে তাঁর আলো।
আদর্শহীন জীবন বৃত্তি-প্রবৃত্তির দাস।
আদর্শহীন জীবন ডেকে আনে মরণ।
তুমি মানুষকে দিও না আঘাত
মানুষকে তুমি বেসো ভালো;
কপট চাতুরী যদি না রাখো হৃদয়ে
নিশ্চিত সেথায় পড়বে তাঁর আলো।
কেউ কেউ বলে,
'ঠাকুরকে অবিকৃতভাবে গ্রহণ করতে হবে।'
'ঠাকুরকে অবিকৃতভাবে গ্রহণ করতে হবে।'
এটার আবার কি মানে? কারা মানে?
বড়দার প্রতি অশ্রদ্ধা আর বিকৃতি
যার চরিত্রে আর জ্ঞানে!!
যারা বলে,
ঠাকুর আমার জ্ঞান, ঠাকুর আমার ধ্যান,
ঠাকুর আমার ধরকন,
বড়দা-ফরদা, আচার্য-ফাচার্য
মানি না আমি ভাই
নিশ্চিত জেনো বন্ধু,
অতি ভক্তি চোরের লক্ষ্মণ;
তাই, সাবধান থেকো ভাই।
( লেখা ১৫ই ডিসেম্বর'২০১৭)
আদর্শহীন জীবন ডেকে আনে মরণ।
( লেখা ১৫ই ডিসেম্বর'২০১৮)
তোমায় লাথি মারবো, গালাগালি করবো,
তোমায় লাথি মারবো, গালাগালি করবো,
করবো কুৎসা;
টেনে নীচে নামাবো, বাধা দেবো,
করবো নিন্দা চর্চা;
তবুও যদি তুমি আমায় মানো
তাহলে ঠিক আছে;
নইলে তুমি অহংকারী জেনো!
( লেখা ১৫ই ডিসেম্বর'২০১৯)
বিশ্বাস তাকেই করা যায় যে আমাকে
প্রশ্নশূন্য চাহিদাহীন ভালোবাসে।
( লেখা ১৫ই ডিসেম্বর'২০২০)
( লেখা ১৫ই ডিসেম্বর'২০২০)
Saturday, December 14, 2024
কবিতাঃ চুরি
তোমায় যদি বাসলাম ভালো
তবে তোমার কেন হ'লাম না!?
তোমার প্রেমে মাতাল হ'লাম
তোমার প্রেমে মাতাল হ'লাম
তবু তোমায় মনে ধরলো না!!
তোমার রঙে দেহে রঙিন হ'লাম
তোমার রঙে দেহে রঙিন হ'লাম
কিন্ত মন রাঙালাম না,
তোমার রসে আমায় দিলাম ভিজিয়ে
তোমার রসে আমায় দিলাম ভিজিয়ে
জীবন রসাল হ'লো না!
এমনি ভাবেই জীবন গেল
এমনি ভাবেই জীবন গেল
ভরলো না আমার আনন্দেতে ঘর
পরকে করলাম আপন আর
পরকে করলাম আপন আর
আপনকে করলাম পর!
এমন কেন হ'লো জীবন?
এমন কেন হ'লো জীবন?
মনে মনে ভাবি
ভাবের ঘরে ডুব দিয়ে করেছি
ভাবের ঘরে ডুব দিয়ে করেছি
ভাবের ঘরেই চুরি!
( লেখা ১৫ই ডিসেম্বর'২০১৮)
( লেখা ১৫ই ডিসেম্বর'২০১৮)
জিজ্ঞাস্য ২ঃ সত্যানুসরণ গ্রন্থ ও অনুবাদ।
একটা পোষ্ট চোখে পড়লো। হিন্দি সত্যানুসরণ গ্রন্থ থেকে কিছু অংশ বাংলায় অনুবাদ ক'রে পোষ্ট করেছে ঠাকুরের কোনও দীক্ষিত। অদ্ভুত অনুবাদ! প'ড়ে ভাবলাম এরকম অদ্ভুত ভাবে সত্যানুসরণ গ্রন্থে কোথায় আছে!? পড়ে বুঝলাম, সত্যানুসরণ গ্রন্থ ঠাকুর বাংলায় লিখেছিলেন। সৎসঙ্গ জগতের বিশিষ্ট গুণী পন্ডিত সাধক ব্যক্তিত্বের সহযোগিতায় সত্যানুসরণ গ্রন্থ বাংলা থেকে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ হয়েছে।তাই, যখন সত্যানুসরণ গ্রন্থে বাংলায় ঠাকুরের মূল বাণী দেওয়া আছে তখন এরকম বিকৃত বাংলা অনুবাদের মানে কি? সত্যানুসরণ গ্রন্থ যখন মূল বাংলা থেকে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ হয়েছে তখন বাংলায় আবার অনুবাদ করার কি দরকার!?
কমেন্ট দেখেই বোঝা যায় সবাই নাম কা ওয়াস্তে দীক্ষিত, সত্যানুসরণ গ্রন্থ যে কেউ পড়ে না এটাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ। শুধু জয়গুরু ছাড়া আর কিছু নেই। সব জায়গায় সব পোষ্টে শুধু জয়গুরু, জয়গুরু আর জয়গুরু।
( লেখা ১৫ই ডিসেম্বর'২০)
কমেন্ট দেখেই বোঝা যায় সবাই নাম কা ওয়াস্তে দীক্ষিত, সত্যানুসরণ গ্রন্থ যে কেউ পড়ে না এটাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ। শুধু জয়গুরু ছাড়া আর কিছু নেই। সব জায়গায় সব পোষ্টে শুধু জয়গুরু, জয়গুরু আর জয়গুরু।
( লেখা ১৫ই ডিসেম্বর'২০)
প্রবন্ধঃ শিল্পীদের কি জাত নেই?
একজন শিল্পী আর একজন শিল্পীকে ফোনে বলছেন আমাদের যেখানে ডাকবে সেইখানেই যাব। আমাদের কোনও ছুঁতমার্গ নেই; নেই কোনও বাছবিচার। আমরা শিল্পী। আমরা গান গায়। গান গেয়ে মানুষকে আনন্দ দিই, উৎসাহ উদ্দীপনা জাগিয়ে দিই। শরীরে, মনে ও প্রাণে ঝড় তুলি। তাই আমাদের কোনও বাছবিচার নেই।
এই শিল্পী একজন সৎসঙ্গী। এই শিল্পী বলছেন আমরা প্রফেশনাল। আমরা কোনও দলাদলিতে নেই। যে দলই ডাকবে তা সে কেন্দ্রমুখী হ'ক বা কেন্দ্র বিরোধী হ'ক আমরা সেখানে যাব। দয়ালকে গান শুনিয়ে আসবো। আমরা গান গেয়ে পারিশ্রমিক পাই অতএব দলাদলি, ঠিকবেঠিক, সত্যমিথ্যা নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় বা আগ্রহ নেই। কারণ গানের বিনিময়ে আমরা টাকা পাই। যে টাকা দেবে সেখানেই আমরা যাব।
সৎসঙ্গ জগতেও এই একই মানসিকতা এই সমস্ত সৎসঙ্গী শিল্পীর! তার বা তাদের বক্তব্য, ঠাকুরের ফটো যেখানে থাকবে ডাকলে সেইখানেই যাবো আর অবশ্যই পারিশ্রমিকের বিনিময়ে। অনুষ্ঠান শেষে পারিশ্রমিকের সঙ্গে সম্পর্ক আমার বা আমাদের! সৎসঙ্গ হ'ক আর অসৎসঙ্গ হ'ক মোদ্দা কথা ফেলোকড়ি মাখো তেল। সৎসঙ্গ বা ঠাকুর বা সৎসঙ্গ এখন আয়ের উপকরণ।
সত্যিই কি শিল্পীর কোনও জাত নেই!?
তাহ'লে সত্যিই কি শিল্পীর জাত আছে? নাকি তারা, এই ধরণের মানসিকতাসম্পন্ন শিল্পী বা শিল্পীরা বেজাত? বজ্জাৎ!?
( লেখা ১৫ই ডিসেম্বর'২০)
এই শিল্পী একজন সৎসঙ্গী। এই শিল্পী বলছেন আমরা প্রফেশনাল। আমরা কোনও দলাদলিতে নেই। যে দলই ডাকবে তা সে কেন্দ্রমুখী হ'ক বা কেন্দ্র বিরোধী হ'ক আমরা সেখানে যাব। দয়ালকে গান শুনিয়ে আসবো। আমরা গান গেয়ে পারিশ্রমিক পাই অতএব দলাদলি, ঠিকবেঠিক, সত্যমিথ্যা নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় বা আগ্রহ নেই। কারণ গানের বিনিময়ে আমরা টাকা পাই। যে টাকা দেবে সেখানেই আমরা যাব।
সৎসঙ্গ জগতেও এই একই মানসিকতা এই সমস্ত সৎসঙ্গী শিল্পীর! তার বা তাদের বক্তব্য, ঠাকুরের ফটো যেখানে থাকবে ডাকলে সেইখানেই যাবো আর অবশ্যই পারিশ্রমিকের বিনিময়ে। অনুষ্ঠান শেষে পারিশ্রমিকের সঙ্গে সম্পর্ক আমার বা আমাদের! সৎসঙ্গ হ'ক আর অসৎসঙ্গ হ'ক মোদ্দা কথা ফেলোকড়ি মাখো তেল। সৎসঙ্গ বা ঠাকুর বা সৎসঙ্গ এখন আয়ের উপকরণ।
সত্যিই কি শিল্পীর কোনও জাত নেই!?
শিল্পীরা কি দেহজীবীর মত শিল্পজীবী? টাকা ছুঁড়ে দিলেই শিল্প বেঁচে দেবে? বিশেষ ক'রে সে যদি সৎসঙ্গী হয়? সৎসঙ্গে ঠাকুরের একটা আদর্শ আছে, মিশন আছে; সেই আদর্শ, সেই মিশনের কোনও মূল্য নেই সৎসঙ্গী শিল্পীর? সৎসঙ্গের একটা পথনির্দেশ আছে, আচার্য পরম্পরা আছে সেই নির্দেশ, সেই পরম্পরার কোনও মূল্য নেই সেই শিল্পীর কাছে? ঠাকুরকে নিয়ে কেমনভাবে চলবো, আচার্য আশীর্বাদ, বাবাইদাদার আশীর্বাদ ও নির্দেশকে জলাঞ্জলি দেবো টাকার লোভে? এই আমি সৎসঙ্গী? এই আমি শিল্পী? যারা ঠাকুর ও ঠাকুরের স্বার্থ প্রতিষ্ঠার কাজে সৎসঙ্গ বিরোধী, আচার্য বিরোধী, বাবাইদাদা বিরোধী কাজে যুক্ত, যারা সৎসঙ্গের পতাকার তলায় থেকে আত্মপ্রতিষ্ঠা ও অর্থ রোজগারের জন্য ঠাকুরকে উপকরণ বানিয়ে সৎসঙ্গের কবর খোঁড়ার কাজে প্রতিনিয়ত ব্যস্ত তারা কি সৎসঙ্গী? আর সেখানে সেইস্থানে, সেই সঙ্গে, সেই মানসিকতায় যারা শিল্পীর অজুহাতে গান শোনাবার বাহানায় অর্থ রোজগার করে তারা কি প্রকৃত অর্থে সৎসঙ্গী? তারা কি প্রকৃত শিল্পী?
তাহ'লে সত্যিই কি শিল্পীর জাত আছে? নাকি তারা, এই ধরণের মানসিকতাসম্পন্ন শিল্পী বা শিল্পীরা বেজাত? বজ্জাৎ!?
( লেখা ১৫ই ডিসেম্বর'২০)
Subscribe to:
Posts (Atom)
