Powered By Blogger

Tuesday, April 23, 2024

কবিতা/গানঃ বসে আছি পথ চেয়ে

বসে আছি পথ চেয়ে
আগুনের গান গেয়ে
যত ভাবি বন্ধু পাব
সঙ্গ মেলে না, সঙ্গ মেলে না

চেতনার বক্ষতলে জ্ঞানেরও আলো জ্বলে
জ্ঞানেরও আলো বিনা চেতনা জাগে না।
যত ভাবি বন্ধু পাব
সঙ্গ মেলে না, সঙ্গ মেলে না

প্রভু তুমি আছো সাথে
ভুলে থাকি বেদনাকে
মনে মনে ভাবি শুধু তোমারি কথা
পাওয়া না পাওয়ার মাঝে
আশারও সুর বাজে
সুশোভিত বাঁচার মর্ম কথা।
তুমি ওগো তুমি মোরে
বেঁধেছ যে মায়া ডোরে
সে বাঁধনে দু’নয়নে ঘুম আসেনা।।

Monday, April 22, 2024

প্রবন্ধঃ পুজনীয় শ্রীশ্রীঅবিনদাদা সৎসঙ্গ মহাসমুদ্রের সুনামী।

আমার 'একাডেমিক মিট ও শ্রীশ্রীঅবিনদাদা' রচনায় আমার এক শ্রদ্ধেয় গুরুভাই ও পরম বন্ধু মানুষ তপন কর্মকারদা তার একটা অপূর্ব উপলব্ধির কথা আমাকে জানালেন। একে তো তিনি শিল্পী মানুষ, রঙ নিয়েই তার যত কারবার তার ওপরে পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুরের একনিষ্ঠ ভক্ত মানুষ। পরমপ্রেমময়ের সাদা আলোর রঙে রাঙিয়ে থাকা মানুষ রঙের VIBGYOR সুনামিতে ভাসতে ভাসতে ঠিক টের পায় কোথায় কখন সুনামি উঠছে। তাই তিনি আমাকে আমার লেখা প্রতিবেদনে বললেন, "পুজনীয় অবিন দাদা সৎসঙ্গ মহাসমুদ্রের সুনামী।"
আর, ঠিক এই কারণেই কম্পিউটারে আবার আমার আঙ্গুল সচল হ'লো।
সত্যিই তপনদা সুনামি বটেই!!!!! এ আপনার দারুণ উপলব্ধি। কিন্তু এ সুনামি উঠছে ও আগামীতে ভয়ংকর হ'য়ে উঠবে বাংলার বাইরে থেকে। আর, এ সুনামিতে ভেসে যাবে বাংলা। ভাসতে ভাসতে শুধু হাবুডুবু খেতে খেতে চেয়ে দেখবে এই সুনামির ভয়ংকর সৌন্দর্য বাংলা ও বাংলার ইষ্টপ্রাণ সৎসঙ্গীরা।
কেন বললাম এই কথা? কেন এই কথা লিখি? এই নিয়ে অনেকে আমাকে প্রশ্ন করেন। কেউ কেউ বিরক্তও হন। পাল্টা নানা প্রশ্ন করেন। 'বাংলা জাগলে ভারত জাগবে, ভারত জাগলে বিশ্ব জাগবে'--এই কথা লিখে ও আমাকে কথার খোঁচা মেরে ফেসবুকে বাংলা ও ভারত জাগার কথার বিপ্লব ঘটিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন। আমরা বাঙ্গালিরা যে সব ঠান্ডা ঘরে বসে কম্পিউটারে, চায়ের দোকানে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে (ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। আর ব্যতিক্রম ব্যতিক্রম) কথার স্রোতে ভাসা মানুষ এই কথা বর্তমান সৎসঙ্গের সুনামি 'শ্রীশ্রীঅবিনদাদা' অনেক আগেই তাঁর যৌবনের শুরুতেই আমাদের বিরাশী সিক্কার এক থাপ্পর কষিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলেন স্বরচিত গানের কলির মধ্যে দিয়ে। তিনি বলেছিলেন, "দয়াল, তুমি বল জীবন দিতে আর আমরা ভাসি কথার স্রোতে।" সেই কথার স্রোতে ভাসা বাগ্মীপ্রবর বাঙালি বাংলার মাটিতে কথার স্রোতে ভাসার প্রমাণ রেখে চলেছে মন্দিরে মন্দিরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে কোন্দলের দামামা বাজিয়ে। ফল্গুনদীর মতো ব'য়ে চলেছে ভালোমানুষির আবরণে তলে তলে কথার স্রোতে ভাসা শয়তানি স্রোত।
এই যে ডি পি ওয়ার্কসের মধ্যে দিয়ে তাঁর অভূতপূর্ব আত্মপ্রকাশ অর্থাৎ প্রভু যীশুর বলা 'আমার হারনো ভেড়াগুলিকে ফিরিয়ে দাও,' শ্রীশ্রীঠাকুরের বারবার করুণ আর্তি 'আমায় মানুষ ভিক্ষা দাও' যেন ফিরে এলো শ্রীশ্রীঅবিনদাদার ডি পি ওয়ার্কসের মধ্যে দিয়ে! পুরনো সৎসঙ্গী যারা নিজের বা সৎসঙ্গীদের কারণে সৎসঙ্গ থেকে, ঠাকুর থেকে বিচ্যুত হ'য়েছিল তাদের সকলের প্রতি মমত্ববোধে সকলকে ফিরিয়ে এনে মূল স্রোতে অন্তর্ভুক্ত করার এই যে নিদ্রাহীন, বিশ্রামহীন, নিরলস অমানুষিক প্রয়াস, পরিশ্রম, নিষ্ঠা এ যেন সেই দয়ালের করুণ আর্তনাদ 'আমায় মানুষ ভিক্ষা দাও' -এর প্রতিধ্বনি। শ্রীশ্রীঅবিনদাদার এই যে অতিমানবীয় শারীরিক, মানসিক পরিশ্রম, কষ্ট তা আমরা দেখতে পেয়েছিলাম শ্রীশ্রীআচার্যদেবের ১০০দিনের দীক্ষা পরিক্রমায়। কি অমানুষিক অভূতপূর্ব পরিশ্রম করেছিলেন তিনি সারা ভারত জুড়ে ১০০দিনের পরিক্রমায়! দিনরাত একাকার হ'য়ে গিয়েছিল সেই ১০০দিন! আজ পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে তো কাল মহারাষ্ট্রের মাটিতে, কাল মহারাষ্ট্রের মাটিতে পরশু আসাম। আজ পূর্বে তো কাল উত্তরে, কাল উত্তরে পরশু পশ্চিমে! অবাক করা কান্ড সংগঠিত হয়েছিল সেদিন। মাঝখানে একদিনের জন্য দেওঘরে এসে পরদিনই বেরিয়ে পড়েছিলেন দীক্ষা পরিক্রমা কাজে। সেদিন শ্রীশ্রীআচার্যদেবের মায়ের যেমন কষ্ট হয়েছিল ছেলের এই অমানুষিক পরিশ্রম দেখে ঠিক তেমনি শ্রীশ্রীঅবিনদাদার এই D P Works-এর জন্য অমানুষিক পরিশ্রম চোখের সামনে দেখে শ্রীশ্রীঅবিনদাদার মা বলেছিলেন, আপনারা তাড়াতাড়ি অবিনের এই দীক্ষা পত্রের কাজটা শেষ ক'রে ফেলুন সবাই মিলে হাতে হাত লাগিয়ে। রাতের রাতের পর এই কাজের জন্য ওর চোখে ঘুম নেই দেখে আমার খুব কষ্ট হয়। আপনারাই পারেন ওকে এই কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে।
সৎসঙ্গীদের আজ সময় এসেছে তা অনুভব করার ও কেন তাঁরা এই অতিমানবীয় কর্মযজ্ঞে সামিল হয়েছিলেন ও হয়েছেন উপলব্ধি করার। নতুবা সৎসঙ্গীদের ঠাকুরের দীক্ষা নেওয়া, ঠাকুর ধরা, সৎসঙ্গ ও ইষ্টভৃতি করা বৃথা ও ব্যর্থ।
জীব, জগত ও জীবন কারণের এমন কোনও দিক নেই যা তিনি ব'লে যাননি। সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান, আইন, কমার্স ইত্যাদি ইত্যাদি সমস্ত কিছু সম্পর্কে তিনি বলে গেছেন, দিয়ে গেছেন সমস্ত কিছুর সমস্যার সমাধান। আজ শুধু তা ইমপ্লিমেন্টেশনের সময়।
শ্রীশ্রীঠাকুর বিজ্ঞানের ওপর যা যা এককথায় ব'লে গেছেন তা অভাবনীয় ও অভূতপূর্ব! বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তিনি এত কিছু ব'লে গেছেন যা কল্পনার অতীত। কত আগে কত সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম অকল্পনীয় অভাবনীয় বিষয়ের ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন ঠাকুর যা তিনি বিশ্বের বিজ্ঞানীদের জানিয়ে যেতে পারলেন না শুধু মানুষের অভাবে। বিজ্ঞান সম্পর্কে তাঁর ভাবনা যে বিশ্বের বিজ্ঞানীদের কাছে নিয়ে যাবে, পৌঁছে দেবে সেই সমস্ত অজানা বিষয়ের ইঙ্গিত সেই মানুষ তিনি সারাজীবন মানুষের কাছে ভিক্ষা চেয়েও পাননি। আজ ভাবলে চোখে জল আসে এইভেবে যে তিনি মানুষকে চেয়েছিলেন দিতে তাঁর সুষ্ঠ ভাবে বাঁচার ও বেড়ে ওঠার পথের বিজ্ঞান ভিত্তিক পথের সন্ধান কিন্তু তা দিয়ে যেতে পারেননি বিজ্ঞান ভিত্তিক আবিস্কারের মাধ্যমে। শুধু পুস্তকাকারে সেই সমস্ত বিজ্ঞানের clue গুলি দেওয়া আছে। তিনি বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে clue গুলি দিয়েছিলেন কিন্তু সময়ের অভাবে তিনি সেই clue গুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা ক'রে যেতে পারেননি। তিনি বলেছিলেন, এই সমস্ত clue গুলির যদি বিশদে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেন তাহ'লে volume after volume গ্রন্থ হ'য়ে যেত। কিন্তু তিনি তা ইচ্ছা থাকলেও বিশদে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ক'রে যেতে পারেননি শুধুমাত্র বিজ্ঞান মনস্ক মানুষের অভাবে, মানুষের অসহযোগীতা ও শত্রুতার কারণে এবং সাংগঠনিক অজস্র নানাকাজে ব্যতিব্যস্ত থাকার জন্য। তিনি বিজ্ঞানের ওপর দেখা তাঁর একটা স্বপ্নও পূরণ ক'রে যেতে পারেননি। কত আগে তিনি তাঁর তৈরী বিশ্ববিজ্ঞান গবেষণাগারে এটমের ওপর পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়েছিলেন এবং বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন যা বিশ্বের কাছে অধরাই থেকে গেল। যা পরবর্তীতে আবিস্কার হ'য়ে গেল কিন্তু তার স্বীকৃতি তিনি পেলেন না। মহাশূন্যে যে অফুরন্ত বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছে তাও তিনি তার দিয়ে ঘুড়ি ওড়াবার মধ্যে দিয়ে পরীক্ষা ক'রে প্রমাণ করেছিলেন। এবং বলেছিলেন মহাকাশের Central point-এর কথা; যেখানে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে চিরকালীন বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের কথা। মৃত মানুষের দেহে প্রাণ সঞ্চারের কথা সবাই জানে। সেই যন্ত্রের নাম তিনিই দিয়েছিলেন ভাইব্রোমিটার। সেই ভাইব্রোমিটার প্রকল্প বাস্তবায়ন তিনি জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারেননি বিজ্ঞান মনস্ক মানুষের অভাবে, অর্থের অভাবে, সহযোগীতার অভাবে। আজও যা পড়ে রয়েছে অরক্ষিত ও অবহেলিত অবস্থায় অযত্নে শ্রীশ্রীকাজলদাদার বাড়ির মুখোমুখি অঙ্গনে।
একবার কোনও একটা আবিস্কারের জন্য রাশিয়ার পাঁচজন বিজ্ঞানীর নাম পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছিল সেইসময়। তখন তিনি দুঃখ ক'রে বলেছিলেন এই পাঁচজন বিজ্ঞানীকে যদি পেতাম তাহ'লে আমি দুনিয়াকে দেখিয়ে দিয়ে যেতাম। কিন্তু তা হয়নি। তার পরিবর্তে মানুষের কাছে পেয়েছিলেন কুৎসা, নিন্দা, গালাগালি, সমালোচনা, অশ্রদ্ধা, অপমান, উপেক্ষা, অবজ্ঞা ইত্যাদি। পেয়েছিলেন বাংলা থেকে বিতারণের টিকিট। আর শ্রীশ্রীঠাকুরকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন আমেরিকায় তাঁর আমেরিকান ভক্ত আমেরিকার বিশ্ববিখ্যাত হার্পার এন্ড ব্রাদার্স পাবলিশিং কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ভারতের প্রেসিডেন্ট ডঃ রাধাকৃষ্ণনের বন্ধু ইউজিন এক্সম্যান। বলেছিলেন, "আপনার মত লোক আমাদের আমেরিকাতে খুব দরকার। আপনি অনুমতি দান করুন। সব দায়িত্ব আমার।"
উত্তরে শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছিলেন, আমি তো আপনার সাথে সাথেই আছি। আপনি আমায় মাথায় ক'রে নিয়ে চলুন। আপনার মধ্যে দিয়ে আমি দেশ হ'তে দেশান্তরে ঘুরবো।
ইচ্ছে হ'লে সেদিন চলে যেতেই পারতেন ঠাকুর আর অন্য সব বিদেশ পাড়ি দেওয়া ধর্মাত্মাদের মতন। কিন্তু যাননি। ইউজিন এক্সম্যানের আমন্ত্রণের উত্তরে ঠাকুর সেদিন যা বলেছিলেন তার মর্মার্থ সহজেই অনুমেয়।
এরকম বিজ্ঞানের ওপর কত কত অজানা বিষয়ের যে তিনি আলোকপাত ক'রে গেছেন তার সীমা পরিসীমা নেই। উদাহরণ দিতে গেলে আর্টিকেল অনেক বড় হ'য়ে যাবে।
গড পার্টিকেলস (ঈশ্বর কণা) খুঁজছিল বিশ্বের বিজ্ঞানীরা কিন্তু সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে কবেই বলে গেছেন তিনি। সৃজন প্রগতি সম্পর্কে তিনি বাংলা ও ইংরেজীতে দীর্ঘ বাণী দিয়ে গেছেন। সেইসময় বিজ্ঞানী নারলিকার সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে যা ব'লে গেছেন সে সম্পর্কে ঠাকুরকে জানানো হ'লে দেখা গেল ঠাকুরের বিজ্ঞান বিভূতির ৬১ নং বাণীতে বহু আগেই সেই বিষয় সম্পর্কে ঠাকুর ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন। শুধু তাই নয় ঐ বাণীতে আরও এমন এমন বিষয়ের ইঙ্গিত দেওয়া আছে যা এখনো বিজ্ঞান বের ক'রতে পারেনি। আমি সামান্য একজন মানুষ এই বিষয়ে যা পড়েছিলাম বহু আগে তা স্মৃতি থেকে বের ক'রে এনে লিখলাম পাঠকের জন্য। বিজ্ঞান সম্পর্কে কত কি দুরূহ বিষয় যে বলা আছে ঐ 'বিজ্ঞান বিভূতি' বইয়ে এবং অন্যান্য গ্রন্থে তা কি বোঝা সাধারণ মানুষের কাজ না সম্ভব!? ঠাকুরের বিজ্ঞানের ওপর বলা ঐ 'বিজ্ঞান বিভূতি' বইটি গবেষণা সাপেক্ষ।
তাই শ্রীশ্রীঠাকুরের পঞ্চম পুরুষ ইয়ং জেনারেশন থেকে শুরু ক'রে সত্তরোর্ধ ইষ্টপ্রাণ নারীপুরুষের Heart throb ( হৃদস্পন্দন) শ্রীশ্রীঅবিনদাদার যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বে শুরু হয়েছে সেই অভূতপূর্ব, অত্যাশ্চর্য, অকল্পনীয়, অভাবনীয় গ্রন্থ 'বিজ্ঞান বিভূতি'-র ওপর গবেষণার কাজ। সেইজন্যই অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৮ই জুলাই'২৩ শনিবার সর্বভারতীয় একাডেমিক মিট। যেখানে হাজির হয়েছিল সারা ভারতবর্ষের হাজারের উর্ধ্বে শিক্ষা ও শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ইষ্টপ্রাণ ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, প্রফেসর, গবেষকের দল! সেইখানে শ্রীশ্রীঅবিনদাদা বিজ্ঞান গবেষণার ওপর তাঁর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। অতি সংক্ষিপ্ত ভাষণে বুঝিয়ে দেন তাঁর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এই একবছর ধ'রে চলবে সেই কাজ। আবার মিলিত হবে সামনের বছর পরবর্তী একাডেমিক মিট-এ।
সেদিন স্বচক্ষে দেখলাম, বোধ ও বুদ্ধি দিয়ে জানলাম ও বুঝলাম কেন পুজনীয় শ্রীশ্রীঅবিনদাদা সৎসঙ্গ মহাসমুদ্রের সুনামী।------প্রবি। ( লেখা ১৩ই জুলাই, ২০২৩)

প্রবন্ধঃ কেউ সুখী নয়।

কেন কেউ সুখী নয়? সুখের চাবিকাঠি কি? অর্থ, মান, যশ, ক্ষমতা, খ্যাতি, প্রতাপ, প্রতিষ্ঠা, প্রভাব, প্রতিপত্তি ইত্যাদি? আচ্ছা এই সমস্ত কিছু কম বা বেশি যাদেরই আছে তারা কি সুখী? রাজনীতি, ধর্ম্ম, সাহিত্য, বিজ্ঞান, কৃষি, শিল্প, আইন, চিকিৎসা, শিক্ষা, গল্প, উপন্যাস, গান, নাটক, সিনেমা, অভিনয়, আঁকা ইত্যাদি ইত্যাদি সবক্ষেত্রের অবস্থানকারী প্রতিষ্ঠিত মানুষেরা কি সুখী? শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে কি সুখী?
যারা গরীব, যারা নিম্নবিত্ত, যারা দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী এমনকি মধ্যবিত্তও, যারা জীবনে ব্যর্থ অসফল, যারা অক্ষম, যারা সরকারী, বেসরকারি, সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক, পারিবারিক ইত্যাদি সবরকম সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত, অবহেলিত, পদদলিত, লাঞ্ছিত, অত্যাচারিত, অপমানিত, বিতাড়িত এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার অপব্যবহার দ্বারা দলিত পীড়িত তারা প্রতিদিনের জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত, বিধ্বস্ত, ক্ষতবিক্ষত তাই তারা সুখী না হ'তেই পারে। সুখ, শান্তি, আনন্দ তাদের কাছে অলীক স্বপ্ন মাত্র। সুখ, শান্তি, আনন্দ তাদের কাছে বিলাসিতা। তবুও তারা তথাকথিত ঝাঁ চকচকে, লোক দেখানো, নকল, কৃত্রিম, কপট, মিথ্যে অভিনয় সমৃদ্ধ সুখের পরিবর্তে অশিক্ষা, কুশিক্ষা, কুসংস্কারের পাহাড় প্রমাণ জঞ্জালের স্তুপের মধ্যে তাদের মতো ক'রে অলৌকিকতায় ভরা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে অসুখের মাঝেও সুখী, তাদের মতো ক'রে অশান্তি ও নিরানন্দের মাঝে শান্তি ও আনন্দ খুঁজে নেয়, নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তারাও সুখী নয়। এই সুখী না থাকার তবুও একটা পিছনের ইতিহাস আছে, যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে।
কিন্ত যারা উচ্চবিত্ত, বিত্তশালী তারা কি সুখী? যারা জীবনে অর্থ, মান, যশ, ক্ষমতা, প্রতাপ, প্রভাব, প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, যারা প্রতিপত্তিতে সমাজের উচ্চবর্গের মানুষ তারা কি সুখী? আর যারা ধর্মাত্মা, ঈশ্বর আরাধনায় মগ্ন তারা কি সুখী?
শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন, সুখী হওয়া তো দূরের কথা। সেই অর্থে কেউই সুখী নয়। সুখ ও দুঃখ দু'টোই ভাব। একটাকে তাড়ালে আর একটা এসে পড়ে। ভাবের যখন অভাব ঘটে তখন সুখ শান্তি দু'টোই নষ্ট হয়। সুখ সুখ ভাবকে জীবন থেকে তাড়িয়ে দিলে অসুখ এসে পড়ে আর তা শরীরে ও মনে বাসা বাঁধে ও ঘূণ পোকার মতো তা বৃদ্ধি পায়। আর ঘূণ পোকার যা কাজ ভিতর থেকে কাঠকে কুরে কুরে খাওয়া ও ঝরঝরে ক'রে ফেলা। ঠিক তেমনি সবসময় কারণ-অকারণ, যৌক্তিক-অযৌক্তিক, সত্য-মিথ্যা ও ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তিলকে তাল বানিয়ে দুঃখ দুঃখ ভাব মনে বাসা বাঁধার জায়গা পেলে শরীরকে ঘূণপোকার মতো ভিতর থেকে ঝাঁঝরা ক'রে দেয়। সবসময় দুঃখের কথা বলা মানুষকে আবার মানুষ পছন্দ করে না। এমনিতেই অন্যের দুঃখ, কষ্ট, সমস্যার কথা শোনবার ইচ্ছা ও সময় দু'টোর একটাও নেই মানুষের। হয় নিজেই সমস্যার বেড়াজালে মাথার ঘায়ে কুকুরের পাগলের মতো অবস্থা; নতুবা অর্থ, মান, যশ, প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতা, খ্যাতি, প্রতাপ, প্রভাব, প্রতিপত্তি ইত্যাদির অহংকারে মত্ত তাই গরীবের, সাধারণ মানুষের জন্য সময় ও ইচ্ছা কোনওটাই নেই, নেই কারণ সেটা স্ট্যাটাস সিম্বল এলাও করে না।
এদের জন্য শেষের সেদিন ভয়ংকর। কর্মফল কাউকেই ছাড়ে না। অন্যকে শরীরে মনে কষ্ট দিয়ে, যন্ত্রণা দিয়ে, অপমান, লাঞ্ছনা, অত্যাচার, অপদস্ত ক'রে, অন্যকে ঠকিয়ে, প্রবঞ্চনা ক'রে, অন্যের প্রাপ্য হক মেরে দিয়ে, অন্যের সম্পত্তি লুট ক'রে, অসৎ পথে, অন্যায় পথে অর্থ রোজগার ক'রে, অন্যকে ষড়যন্ত্র ক'রে নানা কেসে ফাঁসিয়ে দিয়ে, অন্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে, অন্যের মান, সম্মান নষ্ট ক'রে, ইজ্জত লুটে নিয়ে বহাল তবিয়তে তুমি আরাম সুখ শান্তি মস্তি ভোগ ক'রে এ পৃথিবী থেকে হাসতে হাসতে বিদায় নেবে সে আশা দুরাশা, সে স্বপ্ন অলীক, সে গুড়ে বালি। আর সেই অসৎ অন্যায় পথের রোজগার, যে রোজগারে অন্যের কষ্ট যন্ত্রণাবিদ্ধ দীর্ঘশ্বাস, বঞ্ছনার অভিশাপ লেগে আছে তাও থাকবে না অবশেষে। কথায় আছে, উৎপাতের ধন চিৎপাতে যায়। আর কর্মফল ভুগতেই হবে। কড়ায় গন্ডায় সুদে আসলে হিসাব দিয়ে যেতে হবে সবাইকে তা সে ধনী দরিদ্র, পন্ডিত লেন্ডিত, আস্তিক নাস্তিক, ধার্মিক অধার্মিক সে যেই-ই হ'ক না কেন আর যতবড় যোগী, ধ্যানী, গোঁসাই, গোবিন্দ, সাধু, সন্ন্যাসী ও যত ছোটো বড়, নামকরা প্রতিষ্ঠিত, ভক্ত সৎসঙ্গী হও না কেন। কথায় আছে, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।
তাই The greatest phenomenon of the world SriSri Thakur Anukul Chandra বলেছিলেন, "তুমি যা করছো বা ক'রে রেখেছো ভগবান তাই-ই গ্রাহ্য করবেন আর সেগুলির ফলও পাবে ঠিক তেমনি। যা ইচ্ছা তাই করবে তুমি তা করলে রে চলবে না, ভালো ছাড়া মন্দ করলে পরিস্থিতি ছাড়বে না।"
শ্রীশ্রীঠাকুরও সুখী ছিলেন না। শ্রীশ্রীঠাকুর সুখী ছিলেন না শারীরিক ও মানসিকভাবে; তার কারণ আমরাই। আমাদের জন্যই তিনি সুখী ছিলেন না। আমাদের প্রতিমুহূর্তের ভুল চলনার ফলে আগত ভয়ংকর বিপদের জন্য তিনি অস্থির হ'য়ে থাকতেন সবসময়। আমাদের কষ্ট যন্ত্রণার কথা ভেবে, ভবিষ্যত নিশ্চিত বিপদের কথা ভেবে তিনি ঘুমোতে পারতেন না। সবসময় দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় কাটতো তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত। তাঁর নিজের কোনও কারণের জন্য তিনি অসুখী ছিলেন না। তিনি জীবনে সুখ পাননি। তিনি বলতেন, আমি যদি জানতাম জগতে মানুষের এই সীমাহীন কষ্ট, যন্ত্রণা, দুঃখ দুর্দশার হাত থেকে নিরাময়যোগ্য সমাধান এমনকি অকাল মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনও সমাধান নেই তাহ'লে যত না কষ্ট আমার তার থেকে হাজার গুণ কষ্ট যন্ত্রণা আমার যে, মানুষের এই কষ্ট, যন্ত্রণা ও অকাল মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় আমার জানা থাকা সত্ত্বেও আমি রক্ষা করতে পারছি না। এ কষ্ট আমি কোথায় রাখবো, কাকে বলবো তা আমার জানা নেই। আমি আপনাদের যতটা দ্রুততার সঙ্গে এর থেকে উদ্ধার পাবার জন্য তৎপর হ'তে বলেছিলাম আপনারা ততটাই শিথিলতার সঙ্গে আমার কথা অমান্য করলেন।"
তিনি কষ্ট পেয়েছেন আজীবন আমাদের জন্য। আমাদের সৎসঙ্গীদের তিনি সোনার সৎসঙ্গী ব'লে মনে করতেন আর বলতেনও তাই। কিন্তু আমরা সোনার সৎসঙ্গী তো দূরের কথা সব গেরুয়াধারী ভন্ড সন্ন্যাসীর মতো সাদা রঙের সাজা সৎসঙ্গী। চলন আপাদমস্তক রিপুতাড়িত প্রবৃত্তিমুখী।
আর, শ্রীশ্রীঠাকুরের মতো এই একই কষ্ট পেয়েছেন ও পাচ্ছেন পূর্বের ও বর্তমানের শ্রীশ্রীআচার্যদেব।
আমরা সুখী ন'ই তাঁর কারণ আমরাই। আমাদের ভন্ডামী, কপট চলনের জন্যই আমরা তা সে দীক্ষিত অদীক্ষিত সে যেই হ'ক, যত বড় ভক্ত হ'ক আর যত বড় প্রতিষ্ঠিত মানুষ হ'ক না কেন পৃথিবীতে কেউ সুখী ন'ই। এ সত্য হ'লেও এ কথা ভন্ড ও কপট ব্যক্তিদের কাছে অপ্রিয়। অপ্রিয় সৎসঙ্গীদের কাছেও।
তাই পরমপিতা কাউকেও ভালো রাখতে পারেন না, আমরা কেউ সুখী হ'তে পারি না যদি না আমরা অকপট, সৎ, প্রকৃত ও ভালো মনের, ভালো হৃদয়ের সৎসঙ্গী না হ'ই, ঠাকুর ঠিক যেমনটি চান তেমনটি না হ'ই ও আমার পরিবার ও চারপাশ ভালো না হয়, ভালো না থাকে।
যৌবন চলে যাবে হয়তো রক্তের জোরে কিন্তু বার্ধ্যক্য বলছে, আমি আসছি, খুব শিগগিরই আসছি, বার্ধ্যক্যের দিনগুলি আর শেষের সেদিন তোমাদের প্রত্যেকের ভয়ংকর।
প্রকাশ বিশ্বাস।
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া।
#প্রকাশবিশ্বাস।
( লেখা ১৫ই অক্টোবর, ২০২৩ )

প্রবন্ধঃ ভালো লাগা ও হতাশা, অবসাদে ডুবে যাওয়া।

যত পড়ি তত ভালো লাগে। তত শিহরণ জাগে শরীরে-মনে-প্রাণে। কেমন একটা ঘোর লাগা ভাবের মধ্যে ডুবে যাই যেন আমি। পরমুহুর্তে ডুবে যাই ঘোর হতাশায়, অবসাদে।

প্রথমবার ঠাকুরকে দেখে শ্রদ্ধেয় শীর্ষেন্দুদার যা মনে হয়েছিল,
"দীক্ষা গ্রহণ মানেই তো মাথা নোয়ানো, নিজের স্বাধীন ব্যক্তি-সত্তাকে বিসর্জন দেওয়া এবং খানিকটা ছোটো হয়ে যাওয়া। যদি অন্যের হাত ধরেই আমাকে চলতে হয় তবে আর আমার ছোটো হয়ে যাওয়া রইল কোথায়? এই সব ছেলেমানুষি দ্বিধাদ্বন্ধ তখন প্রবল"।

শ্রীশ্রীঠাকুরের সঙ্গে প্রথমবার দেখা হওয়া প্রসঙ্গে যে কথা শ্রদ্ধেয় শীর্ষেন্দুদার মনে হয়েছিল সেই প্রসঙ্গে মনে একটা প্রশ্ন জাগে,
শ্রীশ্রীঠাকুরের দেহত্যাগের পরে সেই মনে হওয়া কথা অর্থাৎ মাথা নোয়ানো, স্বাধীন ব্যক্তি-সত্তাকে বিসর্জন দেওয়া, ছোটো হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সেই ছেলেমানুষি দ্বিধাদ্বন্ধ কি পুনরায় ফিরে এসেছিল?
পথের দিশা/Pather Disha-এর টাইম লাইনে বিখ্যাত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে প্রকাশিত পোষ্টে আমার উপরে লিখিত কমেন্টের উত্তরে আমাকে একজন জানিয়েছেন যে শ্রদ্ধেয় শীর্ষেন্দুদা কিছুদিন আগে দেওঘরে গিয়েছিলেন ও শ্রীশ্রীদাদার সাথে দেখা করেছিলেন এবং বর্তমান আচার্দেবের সঙ্গে প্রীতিমুখর আলোচনা করেছিলেন। এর সমর্থনে কয়েকজন ফোনও করেছেন আমায়।

যাই হ'ক এই কথার সত্যতা থাকতে পারে আমি অস্বীকার করছি না। আর শ্রীশ্রীঠাকুরের দীক্ষিত ও সঙ্গ করা অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিই পরবর্তী সময়ে ঠাকুরবাড়ি এসেছেন, পূর্ববর্তী আচার্যদেব শ্রীশ্রীবড়দা ও শ্রীশ্রীদাদার সঙ্গে দেখা করেছেন, প্রীতিমুখর আলোচনা করেছেন এবং এখনও অনেকে আসেন। তাঁদের নাম এখানে উল্লেখ করতে চাই না, ইচ্ছাও নেই। তাঁদের ঠাকুরবাড়ি আসা ও আচার্যদেবের সঙ্গে দেখা করা ও প্রীতিমুখর আলোচনা করা সম্পর্কে আমার জানা থাকলেও জানার জন্য বিন্দুমাত্র আগ্রহ আমার কোনওদিন ছিল না ও বর্তমানেও নেই।

শ্রীশ্রীঠাকুরের একজন সাধারণ অখ্যাত অপরিচিত সাধারণ দীক্ষিত হিসেবে সেই ১৯৬৯ সালে শ্রীশ্রীঠাকুরের দেহত্যাগের পরবর্তী সময় থেকে আজ পর্যন্ত আমার একটাই শুধু আগ্রহ শ্রীশ্রীঠাকুরের সময়ের প্রীতিমুখর আলোচনার পরিবেশের যে অবনমন হয়েছিল তাঁর চলে যাওয়ার পর থেকে এবং তার যে ট্র্যাডিশান, বিষাক্ত বাতাস আজও বহে চলেছে আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ ক'রে তা কি বন্ধ হয়েছে বা বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে বা হচ্ছে এবং পুনরায় প্রীতিমুখর আলোচনা ও সম্পর্কের পরিবেশ রচিত হয়েছে সেই সমস্ত বিতর্কিত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গদের পুনরায় আগমনের ফলে? তাঁদের বিতর্কিত অবস্থান গ্রহণ ও বক্তব্য প্রকাশ্য পরিবেশনের কারণে সৎসঙ্গ সমাজ যে খন্ড খন্ড হ'য়ে শ্রীশ্রীঠাকুরের বুক দিয়ে রক্ত ক্ষরণ হয়েছে ও হ'য়ে চলেছে তা কি তাঁদের ও তাঁদের দ্বারা ব্রেণ ওয়াশ হওয়া সৎসঙ্গীদের এবং মূল কেন্দ্রের সৎসঙ্গীদের উপলব্ধি হয়েছে? বা তাঁদের নিজেদের জীবনের, চরিত্রের, চলন বলনের, আচার আচরণের, কথাবার্তার, চিন্তাভাবনার পরিবর্তন ক'রে শ্রীশ্রীঠাকুরের ক্ষতবিক্ষত বুকের যে ক্ষরণ হ'য়ে চলেছে তা কি বন্ধ করার বিন্দুমাত্র চেষ্টা হয়েছে বা হচ্ছে? তাঁরা কি তাঁদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত বা এই জীবন থেকে চলে যাবার আগে প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ শ্রীশ্রীঠাকুরের রক্ত ক্ষরণ বন্ধের কোনও বিন্দুমাত্র দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন?

শ্রীশ্রীঠাকুরের দীক্ষিত প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরা তো সবাই সমাজে স্ব স্ব মহিমায় মহিমান্বিত ও প্রতিষ্ঠিত তাঁরা তো শ্রীশ্রীঠাকুরের অজচ্ছল দয়ায় প্লাবিত হয়েছে তার প্রতিদান স্বরূপ কি ফিরিয়ে দিয়েছেন তাঁদের এক ও অদ্বিতীয় ইষ্ট, গুরু, আচার্য শ্রীশ্রীঠাকুরকে? তাঁরা তো শ্রীশ্রীঠাকুরের বীজমন্ত্র বহনকারী, শ্রীশ্রীঠাকুর মিশন, জীবন দর্শন প্রচারকারী মহান আত্মা তাঁরা শ্রীশ্রীঠাকুরের বীজমন্ত্র বহন ক'রে, শ্রীশ্রীঠাকুরের মিশন, জীবন দর্শন প্রচার ক'রে কি বপন করেছেন ও এখনও ক'রে চলেছেন? বিষবৃক্ষ নাকি অমৃতবৃক্ষ??? কোনটা? এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য আমি আজও বেঁচে আছি সেই ১৯৬৯ সালে শ্রীশ্রীঠাকুরের দেহ রাখার পর থেকে আজ এই ২০২৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫৪ বছর ধ'রে একজন সাধারণ, অতি সাধারণ, অখ্যাত, অপরিচিত নগন্য দীক্ষিত হিসেবে।

সেই ৫ বছর বয়সে নাম পাওয়া ও ১২ বছর বয়সে দীক্ষা নেওয়ার পর থেকে শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রবীণ খ্যাত কর্মী, ঋত্বিক যাদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে আজ পর্যন্ত দীর্ঘ ৭০বছরে তাঁদের ( নাম উল্লেখ করতে চাই না) প্রত্যেককেই ১৯৬৯ সালের পর থেকে ঘটা ঘটনার মূল কারণ সহজ সরল্ভাবে জানতে চেয়েছি একজন সাধারণ অতি সাধারণ অখ্যাত দীক্ষিত হিসেবে কিন্তু পাইনি। তাঁদের যাদের সঙ্গেই কথা বলেছি দীর্ঘ ৫৪বছর ধ'রে তাঁদের প্রত্যেকের শ্রীশ্রীঠাকুর সম্পর্কে, শ্রীশ্রীঠাকুরের বীজমন্ত্র, শ্রীশ্রীঠাকুরের মিশন ও জীবন দর্শন সম্পর্কে সুক্ষ্ণাতিসুক্ষ্ণ জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি সমৃদ্ধ কথা, বক্তৃতা আমাকে মুগ্ধ করতো, বিস্মিত করতো, পুলকিত ক'রে তুলতো, শিহরণ জাগাতো মনে-প্রাণে-হৃদয়ে আর তাই তাঁদের প্রতি গভীর আকুলতা, বিশ্বাস, ভরসা ও নির্ভরতা ছিল অসীম এই ৫৪বছর ধ'রে বুকের ভেতর পুষে রাখা আমার নিজের কাছে সমাধানহীন এই প্রশ্নের নিখুঁত অকপট উত্তর পাওয়ার। কিন্তু সুক্ষ্ণাতিসুক্ষ্ণ জ্ঞান, বোধ, অভিজ্ঞতা, উপলব্ধির অধিকারী এইসমস্ত মহান দীক্ষিত ভক্তদের কাছে এই সহজ সরল প্রশ্নের কোনও উত্তর পাইনি। যা পেয়েছি তা আমার বোধ, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির সঙ্গে মেলেনি। হ'তে পারে আমার শ্রীশ্রীঠাকুর সম্পর্কে, শ্রীশ্রীঠাকুরের বীজমন্ত্র, মিশন ও জীবন দর্শন সম্পর্কে জ্ঞান, বোধ, অভিজ্ঞতা, উপলব্ধি সীমিত। হ'তেই পারে। কিন্তু উত্তরে লজিক থাকতে হবে।

আমার কথা আমি জানালাম। আমার কোনও ইগো, গোঁড়ামি নেই, যা আছে তা শ্রীশ্রীঠাকুরের বলা ইষ্টপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টের স্বার্থপ্রতিষ্ঠার জন্য। এছাড়া আর কিছুই নেই। সেই স্কুল জীবন থেকে আজ পর্যন্ত আমার বক্তব্যের যে উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছি সেই বক্তব্য পাঠক গ্রহণ করতে পারেন আবার বর্জনও করতে পারেন। গ্রহণ ও বর্জন পাঠকের ব্যক্তিগত। জয়গুরু।
প্রকাশ বিশ্বাস।
উত্তরপাড়া, ভদ্রকালী।
#প্রকাশবিশ্বাস
( লেখা ৩রা নভেম্বর, ২০২৩ )

Sunday, April 21, 2024

উপলব্ধিঃ এটা কোন ঠাকুর?

এটা কোন ঠাকুর? বাবা তারকনাথের চরণে সেবা লাগে মহাদেব-এর মত বাবা অনুকূলের চরণে সেবা লাগে অনুকূলদেব!? মা মনসা, মা শিতলার মত বাবা অনুকূলার পূজো!? ঠাকুর অনুকূল কি এত সস্তা হ'য়ে গেছে যে একটা থালার ওপর ঠাকুরের ফটো বসিয়ে বাবা তারকনাথের মত, মা মনসা, মা শীতলার মত দরজায় দরজায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ভক্তি দেখাতে হবে!? এই শিক্ষা কে দিয়েছে পরমপিতাকে, বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের মালিক পুরুষোত্তম দিন দুনিয়ার মালিক দয়ালকে বটতলার বালখিল্য ঋষি বানিয়ে রাস্তার সস্তা ভগবান সাজিয়ে ভক্তি দেখাবার!? কে সেই মহাপন্ডিত মহাজ্ঞানী মহাপুরুষ যিনি ভক্তির বালখিল্য পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে অল্প বয়সী ছেলেদের কাছে সৃষ্টিকর্তাকে টেকেন ফর গ্রান্টেড করার আস্পর্ধা ধৃষ্টতা দেখান!? কে সেই মহাতাপস যিনি এই অল্প বয়সী ছেলেদের কাছে The greatest phenomenon of the world (বিশ্বের বিস্ময় সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময়) শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে রাস্তার সস্তা ঠাকুর বাবাজী দাদাজী মাতাজী ইত্যাদি ভুমিকায় নাবিয়ে এনেছেন!? শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে বটতলার ঠাকুর বানিয়ে রাস্তায় নাবিয়ে আনার সীমাহীন আস্পর্ধা দেখিয়েছেন কার বা কাদের নির্দেশে, কাদের শিক্ষায় এইসমস্ত বালখিল্য ভক্ত নামধারী আহাম্মকেরা ঠাকুরকে নিয়ে ছেলেখেলা করছে!? এইসমস্ত অল্পবয়সী ছেলেরা কার বা কাদের শিক্ষায় এমন শিক্ষিত হ'য়ে উঠছে!? বিকেন্দ্রিকের দল যে যেমন ইচ্ছা ঠাকুরকে নিয়ে ভক্তির কচলাকচলির প্রতিযোগিতা শুরু ক'রে দিয়েছে!!!! এরকম অন্য আর একটা ছবিতে দেখলাম ভক্তির ফোয়ারা ছুটিয়ে ঠাকুরের ফটো মাথায় নিয়ে ভক্তিরসে টইটম্বুর হ'য়ে এমনই শোভাযাত্রা করছেন ভক্তমন্ডলী যে মায়েরা ম্যাক্সি পড়ে শোভাযাত্রার একবারে প্রথমে ভক্তির ফোয়ারায় ভাসতে ভাসতে চলেছেন!!!!!! কেউ কোথাও নেই ধরিয়ে দেবার, শিখিয়ে দেবার, বুঝিয়ে দেবার, বোধের ঘরে ধাক্কা মারার যে পরমপিতা পুরুষোত্তমের শোভাযাত্রার একটা মহিমা আছে, মর্যাদা আছে, আছে একটা ঐতিহ্য, আছে একটা ইজ্জত!!!!! শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীর এরা জ্বলন্ত উদাহরণ! শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, "ইচ্ছেমতো ভজলি গুরু হ'তে মানুষ হ'লি গরু।"
( ২১শে এপ্রিল। ২০২১ )

উপলব্ধিঃ চলে যেতে

চলে যেতে হয় সকলকেই একদিন। একদিন আগে আর একদিন পরে। আজ নয়তো কাল, কাল নয়তো পরশু। আজ তুমি চ'লে গেলে কাল হয়তো আমার যাবার দিন কিম্বা অন্য কোনও একদিন। যেতে কিন্তু হবেই। সব পিছনে ফেলে একেবারে খালি হাতে উলঙ্গ শরীরে। কিন্তু কি রেখে গেলাম!? কি রেখে যাবো? ঐ যে ছোট্ট শিশু যে আমাকে আজ সকালেই গলা জড়িয়ে ধ'রে আঙুল তুলে আধো আধো স্বরে ব'লে গেল, 'দাদু! এক্তু বচো, আমি একুনি আচচি।' এসে যদি আর না দেখে আমাকে!? আমার যে অনেক কিছু বলার ছিল তাকে! সে বুঝুক আর না বুঝুক হাতে কলমে ক'রে করিয়ে যে অনেক কিছু শেখাবার ছিল তাকে! কিন্তু আমি যদি চলে যাই, সুযোগ না পাই আর দাদুভাইকে শেখাতে বা বলতে তা হ'লে? যদি না পাই সময় বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে অবাস্তবের রঙ তুলির ক্যানভাস সরিয়ে বাস্তবের কঠিন রঙ চটা ফ্যাকাসে ছবি তুলে ধ'রে তাকে দেখাতে ? তখন কি হবে!? হে দয়াল! হে পরমপিতা!! হে আমার জীবন সর্বস্ব ঠাকুর!!! আমি যাবার আগে তোমাকে ঘিরে আমার সব ইচ্ছা তুমি পুরণ ক'রে দিও। এই আমার চাওয়া।
( ২১শে এপ্রিল, ২০২১ )

কবিতাঃ ইশ্বরের ভক্ত হও।

যদি পছন্দই না হয় তবে দূরে সরে যাও।
ঝগড়া ক'রো না আর 
ঝগড়া ক'রে অন্যকে আঘাত ক'রো না,
নিজে ম'রো না। জীবন দু'দিনের!
তুমি কিছু করলেও কাল সূর্য উঠবে 
না করলেও উঠবে।
সূর্য ওঠা তোমার করা, না করার ওপর নির্ভর করে না; 
তাই যাবার আগে দাগ রেখে যাও।
আস্তিকের অহংকারঃ
সে ঈশ্বরের পূজারী।
তাই, সে ঈশ্বরের মূর্ত রূপ মানে না। 
তুমি আস্তিক হ'য়ো না;
জীবন্ত ঈশ্বরের সেবক হও।
ধার্মিকের অহংকারঃ
সে ঈশ্বরের প্রতিনিধি।
তাই,
সে ঈশ্বরের সিংহাসনেই বসে পড়ে!
তুমি ধার্মিক হ'য়ো না;
ঈশ্বরের ভক্ত হও।
( ২১শে এপ্রিল, ২০১৮)