Powered By Blogger

Saturday, March 23, 2024

শ্রীশ্রীঅবিনদাদার বিরুদ্ধে মায়েদের অপমানজনক ও অশ্রদ্ধাপূর্ণ প্রশ্ন ও তার উত্তর।

নমস্কার আজ আমি মায়েদের কিছু বিতর্কিত অশ্রদ্ধাপূর্ণ, অপমানজনক প্রশ্ন নিয়ে এসেছি। শ্রীশ্রীঅবিনদাদার বিরুদ্ধে তাঁর অনুষ্ঠান নিয়ে যে পরিকল্পিত ষড়যন্তমূলক প্রচারের চক্রান্ত হয়েছিল তার বিরুদ্ধে আমার আগের ভিডিও গুলিতে বিশদে বিশ্লেষণ করা সত্ত্বেও নানা প্রশ্ন করেছেন মায়েরা; সঙ্গে তারা শ্রীশ্রীঅবিনদাদার পরিবার নিয়ে ও সৎসঙ্গ প্রতিষ্ঠান নিয়েও তীব্র কটু সমালোচনা অপমানজনক নানা প্রশ্ন রেখেছেন; আমি সেইসব প্রশ্নগুলিকে জড়ো ক'রে আপনাদের সামনে কয়েকটা তুলে ধরছি, তুলে ধরছি মায়েদের নাম উল্লেখ না করে। সঙ্গে তাদের প্রশ্নের জবাব আমি এখানে এই ভিডিওতে তুলে ধরলাম আপনারা যারা শুনছেন তারাই বিচার করুন প্রশ্নগুলির ধরণ ও ওজন।


১) সাউন্ড বক্স নিয়ে মায়েরা আবার প্রশ্ন তুলেছেন, বলেছেন সাউন্ড বক্স পা রাখার জায়গা নয়।


উত্তরঃ এর উত্তর আমি সবিস্তারে দিয়েছি আমি আমার আগের ভিডিওতে, তবুও যখন সেই প্রশ্ন উঠে এসেছে আমি মায়েদের জিজ্ঞেস করছি কেন পা রাখার জায়গা নয় সেটা তো বলুন? শুধু হাওয়ায় কথা উড়িয়ে দিলে তো হবে না। কেন, কি কারণে কথাটা বললেন সেটা তো যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে বলুন। মনের মধ্যে ভাবটা লুকিয়ে রেখে আর্ধেক কথা ব'লে নিজে বিভ্রান্ত হবেন না ও অন্যকেও করবেন না। সাউন্ড বক্সে পা রাখা যদি জায়গা না হ'য়ে থাকে তাহ'লে মঞ্চটাও পা রাখার জায়গা নয়। সাউন্ড বক্সকে এর আগে আপনারা বিশ্বকর্মা বলেছেন। সবটাই ধরিত্রি মাতা, আবার এই জগতটাই বিশ্বকর্মা, জগত যদি মিথ্যা হয় তাহ'লে বিশ্বকর্মাও মিথ্যা, আর বিশ্বকর্মা মিথ্যা হলে তাহ'লে জগতটাই মিথ্যা। আর যদি উল্টো হয়, বিশ্বকর্মা যদি সত্য হয় তাহ'লে তাঁর সৃষ্টি এই জগত, এই ব্রহ্মান্ড, ব্রহ্মান্ডের পর ব্রহ্মান্ড, হাজারো ব্রহ্মান্ড সব সত্য। তাহ'লে এই জগতের কোথাও পা রাখা যাবে না, পা টা মাথায় ক'রে নিয়ে ভেসে ভেসে চলতে হবে। ভগবানের মন্দিরে যখন ঢুকবো তখন মন্দিরের বাইরে জুতো খুলে যেমন আমরা মন্দিরে ঢুকি তেমনি পা দু'টো খুলে বগলে কিংবা মাথায় নিয়ে শূন্যে ভেসে ভেসে ঠাকুর মন্দিরে ঢুকবো ও প্রণাম করতে হবে। এইসব পা রাখা, না-রাখা নিয়ে ছুৎমার্গ অতি ভক্তি, ভুল ভক্তি, চোরুয়া ভক্তি, ভন্ডা ভক্তির নমুনা। এখানে ভক্তি নেই, ধর্ম নেই, ঈশ্বর নেই, নেই কোনও আধ্যাত্মিকতা বা বিজ্ঞান। এসবের ভিড়ে হারিয়ে যায় প্রকৃত ভক্তি, পুজো ইত্যাদি। কুসংস্কার ঘিরে ধরেছে মানুষকে। সংস্কার ভালো কুসংস্কার ভালো নয়,অস্তিত্ব ধ্বংসের কারণ কুসংস্কার।




প্রশ্নঃ অনুকুলচন্দ্রের ফ্যামিলি বিজনেস চালাচ্ছে। আমরা কষ্ট ক'রে রোজগার ক'রে খায় আর উনারা বিনা কস্টে রাজসুখ ভোগ করছেন এটা কেমন? একজন বলেছেন, আমার বাবা ১৯৬৯ সালে অনুকূল ঠাকুরের উপস্থিতিতে দীক্ষা নিয়েছেন তাই ব'লে উনার 5th Generation ঠাকুর হবে না। জয়গুরু।



উত্তরঃ এর উত্তরে প্রথমে বলি, আপনি ও আপনারাও ব্যবসা করুন না কেউ তো বাধা দেয়নি, দিয়েছে কি? নাকি ব্যবসা করার অধিকার নেই? সমাজে সবারই ব্যবসা করার অধিকার আছে। আপনিও ব্যবসা শুরু ক'রে দেখুন না কেউ আপনাকে সাহায্য করেন নাকি। বিশ্ব জুড়ে বি-শা-ল সৎসঙ্গ প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দিন, ওসব ছেঁড়া কাথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখে লাভ নেই; 'সৎসঙ্গ'-এর মতো অকল্পনীয় অভুতপূর্ব প্রতিষ্ঠান শূন্য থেকে গড়ে তোলা এবং মধ্য বয়সে এসে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অদূরদর্শিতা ও দেশভাগ ও শাসক শ্রেণীর আগ্রাসনের কারণে সেই বিশাল প্রতিষ্ঠানে মানব কল্যানে গড়ে ওঠা সব হারিয়ে ফেলা এবং জন্মভূমি মাতৃভূমি হারিয়ে, ভিটে মাটি হারিয়ে আবার অন্য জায়গায়, অন্য পরিবেশে শূন্য থেকে সৃষ্টি করা ও বিশ্বজুড়ে বি-শা-ল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং সেই প্রতিষ্ঠানের শাখা প্রশাখা সারা দেশের অলিতেগলিতে ছড়িয়ে দিয়ে তারপর দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের অন্যান্য প্রায় সব দেশে ছড়িয়ে দেওয়া জন্মজন্মান্তর হাজার বার জন্মালেও সাধারণ মানুষের কথা ছেড়ে দিন কোনও মহাত্মার দ্বারাও সম্ভব নয়। এরকম অকল্পনীয় অভুতপূর্ব অত্যাশর্য্য কর্মকান্ড ঈশ্বর ছাড়া কারও পক্ষে সম্ভব নয় আর সেই প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করা ও তাকে ক্রম বৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়া শ্রীশ্রীবড়দা, শ্রীশ্রীঅশোকদাদা, শ্রীশ্রীবাবাইদাদা ও হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ ইয়ং জেনারেশনের আইকং শ্রীশ্রীঅবিনদাদার মতো ঈশ্বরকোটি পুরুষের কাজ। এসব আপনি বা আপনারা জানেন না তার কারণ নিজের ব্যর্থ জীবন নিয়ে কোনও কিছু তলিয়ে না দেখেই, না জেনে অন্যের মুখে ঝাল খেয়ে ঝালে মুখ জ্বলে গেছে আর সেই ঝাল ঠাকুর, ঠাকুর পরিবার ও সৎসঙ্গ প্রতিষ্ঠানের উপর মেটাচ্ছেন। বুকভর্তি অকারণ জ্বালা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এর জন্যে আপনি দায়ী না। আপনার পিতামাতা দায়ী। আপনার পিতামাতা ঠাকুরের দীক্ষা ১৯৬৯ সালে নিয়েছেন বলেছেন, কিন্তু এই ৫৫ বছরে আপনাকে আপনার বাবা-মা শ্রীশ্রীঠাকুর সম্পর্কে, সৎসঙ্গ সম্পর্কে ছোটোবেলা থেকে কিছুই শেখাতে পারেনি, জানাতে পারেনি এটা আপনার বাবামায়ের ব্যর্থতা। আপনার দোষ নয়। তারা নিজেরা বয়স হ'লে যে কোনও একজনের কাছে দীক্ষা নিতে হয় এই বস্তাপচা ধারণা থেকে দীক্ষা নিয়েছিলেন, কিন্তু কেন দীক্ষা নিলাম, কি হবে দীক্ষা নিয়ে, যারা দীক্ষা নেয়নি তারা আমার থেকে কি খারাপ বা ভালো আছে আর আমিই বা দীক্ষা নিয়ে কি ভালো বা খারাপ আছি তা তলিয়ে দেখেনি আর তাই আপনাকে দীক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও দীক্ষার মাহাত্ম্য কি বোঝাতে পারেনি, বোঝাতে পারেনি অনুকূল ঠাকুরের দীক্ষা কেন নেব। তাই আপনার আজ এই মানসিক দৈন্য অবস্থা। যার নামে প্রকাশ্যে নিন্দা, কুৎসা, সমালোচনা করলেন আবার নিজের অজান্তে তাঁর নামেই 'জয়গুরু' বলছেন। কেন? আপনার তো 'জয়গুরু' বলার অধিকার নেই। আপনি তো তাঁর দীক্ষা নেননি। আপনি আপনার বাবা-মায়ের গুরুর বিরুদ্ধাচরণ ক'রে তাকে পরাজিত করার খেলায় নেমেছেন আর মুখে বলছেন 'জয়গুরু'? এটা তো খিল্লি। এই খিল্লি করা জয়গুরু ডাক তো মঞ্চে, টিভির গানের অনুষ্ঠান গুলিতে শুনতে পাই। জয়গুরু আজ এঞ্জয় গুরু হ'য়ে খিল্লি হ'য়ে দাঁড়িয়েছে টিভি বা মঞ্চের অনুষ্ঠানগুলিতে। জয়গুরুর উত্তরে খিল্লি ক'রে এঞ্জয় গুরু বলার প্রবণতা চালু হয়েছে বর্তমানে পথঘাটে। আজকের এই খিল্লি ভবিষ্যতের তীব্র অনুশোচনার কারণ হ'য়ে দাঁড়াবে যা আপনারা না পারবেন গিলতে, না পারবেন উগলাতে। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের জন্য আজ সারা বিশ্বে সৎসঙ্গী গুরুভাইবোনেদের শুধু নয় সমস্ত গুরুর শিষ্যদের মধ্যে চালু হয়েছে 'জয়গুরু' যা ব'লে সবাই আনন্দ পায়, শান্তি পায়। আপনি তাদের সবাইকে অপমান করেছেন।


যাক আপনি ঠাকুর ফ্যামিলি ব্যবসা করছেন বললেন তা আপনি এরকম ঠাকুর ফ্যামিলির মতো ব্যবসা করা ছেড়ে দিন অন্তত একটা টিকটিকি লজেন্স আর গুড়কাঠি বিক্রির একটি গুমটি খুলুন না, খুলে দেখুন না, এবং তাকে চালিয়ে দেখুন তারপর বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সর্ববৃহৎ মানব সেবায় নিয়োজিত, মানুষ তৈরীর কারখানা 'সৎসঙ্গ' প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বলুন। বিশাল মহাসাগরের জলরাশির মাঝে আপনি ও আপনারা এক একটি সামান্য যা সর্বোচ্চ শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রতেও ধরা পড়বে না তেমনই এক একটি ক্ষুদ্র বুদবুদ মাত্র, যা ভেসে ওঠার আগেই মহাসমুদ্রের বুকে মিলিয়ে যায়। কার দৌড় কতটুকু সবাই জানে। মোল্লা বা পুরুহিতের দৌড় মসজিদ বা মন্দিরের চৌকাঠ পর্যন্ত। আপনাদেরও তাই।

১৯৬৯ সালে ঠাকুরের উপস্থিতিতে আপনার বাবা-মা দীক্ষা নিয়েছেন তাই বলেই তাঁর ৫ম জেনারেশন ঠাকুর হবে না কথাটা কেমন অর্থহীন বকোয়াস লাগলো। আপনার বাবা-মার দীক্ষা নেওয়ার সংগে ৫ম জেনারেশনের ঠাকুর হওয়া না-হওয়ার যোগসূত্রটা কোথায় বুঝতে পারলাম না। তাঁর মানে আপনার বাবা-মা শ্রীশ্রীঠাকুরের যদি দীক্ষা না নিতেন তাহ'লে কি ৫ম জেনারেশন ঠাকুর হ'য়ে যেতেন? কি বলেন আপনি? আর আপনাকে কে বললো, শ্রীশ্রীঠাকুরের ৫ম জেনারেশন ঠাকুর হ'য়ে গেছে? মনে মনে আপনি যা ইচ্ছা ভেবে নেবেন আর তা চাপিয়ে দেবেন ঠাকুর পরিবারের ওপর? কোটি কোটি শিষ্য কি সব বালখিল্য শিষ্য? কোটি কোটি শিষ্যের মাথাব্যথা নেই আর আপনি দীক্ষিত না হ'য়ে আপনার এত মাথাব্যাথা? আর কে ঠাকুর হ'লো কি ঠাকুর-হ'লো না তা'তে আপনার কি? আপনি কি ঠাকুরের শিষ্য? আপনি কষ্ট ক'রে রোজগার ক'রে খান বলেছেন তা' আপনি কি ইষ্টভৃতি করেন? আপনি তো দীক্ষিত না। তাহ'লে ইষ্টভৃতি নিয়ে বলবার আপনার কি অধিকার আছে? আমার রোজগারের টাকায় আমি মদ খাব কি গাঁজা টানবো বা বেশ্যাবাড়ি যাবো সেখানে ফুর্তিতে আমার রোজগারের টাকা ওড়াবো কি আমার সব টাকা, জমিজমা শ্রীশ্রীঠাকুরের চরণে ঠাকুর বাড়িতে ইষ্টভৃতি স্বরূপ দিয়ে দেবো সেটা কি আপনার বা আপনাদের কাছে কৈফিয়ত দেব নাকি পারমিশন নেবো? আপনার রোজগারের টাকা আপনি যা ইচ্ছা করুন কেউ আপনাকে বাধা দেবে না। কারও অধিকার আছে কি আপনার রোজগারের টাকা আপনি কি করবেন আর কি করবেন না তা নিয়ে বলবার? ঠিক তেমনি তিনারা রাজভোগ খাবেন নাকি রাজসুখ ভোগ করবেন, কি করবেন না সেটা আপনি কি ঠিক ক'রে দেবেন? আপনাকে কৈফিয়ত দেবে ঠাকুরবাড়ি ও সৎসঙ্গ প্রতিষ্ঠান? আপনাকে কৈফিয়ৎ দেবে নাকি, আপনার থেকে পারমিশন নেবে কোটি কোটি সৎসঙ্গী? আপনার সংসারের ব্যাপারে বাইরের লোক নাক গলালে আপনি মেনে নেবেন? এটা কি অনধিকার চর্চা নয়? আপনি কষ্ট করেন আর উনারা বিনা কষ্টে খান? আপনি আপনার ছোট্ট পরিবার নিয়ে কষ্ট ক'রে খাচ্ছেন, হিমসিম খাচ্ছেন আর বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার কেন্দ্র মন্দির আর কোটি কোটি শিষ্য নিয়ে বি-শা-ল সৎসঙ্গ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা আপনার ক্ষুদ্র মাথা দিয়ে বোধগম্য হওয়ার সাবজেক্ট নয়। যাই হ'ক, আপনি আপনার ধারণা নিয়ে থাকুন আর অহেতুক অনধিকার চর্চা বন্ধ করুন, ভালো থাকবেন, শান্তিতে থাকবেন।




প্রশ্নঃ ঝুমা দেবঃ অনুকূল ঠাকুরের শিষ্যরা কি পরিবার নিয়ে ভালো আছেন, অন্যরা নন? রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম এরা সারা ভারত জুড়ে সেবা করছেন। অবিনদা মাত্র ২৪বছর বয়স, উনি দীক্ষা আর ঠাকুর সম্পর্কে আলোচনা করেন, গরীব পথ শিশুদের শিক্ষা দেন? এদের জামা কাপড় কিনে দেন? খাবার দেন?বৃদ্ধাশ্রমে ডোনেট করেন? বা সৎসঙ্গের কোনও ওল্ডেজ হোম আছে? শুধু দীক্ষায় দেশ চলে না, ঠাকুরের বাণী লীলা শুনে সমাজ চলে না। আমি নিজে অনাথাশ্রমে ফ্রি অফ কস্টে এডুকেশন দিই, ডোনেট করি। আমার কাছে ঐগুলি ঠাকুর থেকে বেশী, ইষ্টভৃতি থেকে বড়ো। অবিনদার মা কোনোদিন অসুস্থ মায়ের সেবা করেছেন? নিজে রাণী সেজে থাকেন। জয়গুরু। অনুকূলঠাকুরের জন্য, বাবাইদাদা বা অবিনদাদার জন্য নয়।

উত্তরঃ অন্যেরা ভালো আছেন কি নেই সেটা বলবো কি ক'রে? গরীব বড়লোক, ছোটোবড় যাকেই বলি, ভালো আছেন? ভালো আছো? খুব কষ্টে মুখে একটা কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে সবাই বলে ভালো আছি। কষ্টে, দুঃখে জর্জরিত হ'লে আর ঘনিষ্ঠ না হ'লে বিরক্তির সঙ্গে মুখ বেঁকিয়ে একটা নিম হাসি ঠোঁটে লাগিয়ে 'এই আছি' ব'লে তাড়াতাড়ি সরে পড়ে। বুঝি সে ভালো নেই। তবুও এটাই ভালো লাগে। সবসময় কষ্টের মধ্যেও হাসি মুখে থাকা। পজিটিভ থাকা। অন্ধকারেও আলোর সন্ধান করে। বুঝতে পারি তখন তার অন্তরে ভালো না থাকা ব্যপারটা। বাড়ির খেয়ে বনের মোষ তাড়াবার মতন চেষ্টা করি তার সঙ্গে গল্প করার অছিলায় ভালো থাকার, আনন্দে থাকার তুকটা তাকে জানিয়ে দিতে। ফলে তারা ভালো থাকার, আনন্দে থাকার পথ পায়। আর যদি ভালো থাকার, আনন্দে থাকার পথ পেয়েও, তুক জানতে পেরেও, চাবিকাঠি হাতে পেয়েও ভালো থাকতে না পারেন, আনন্দে থাকতে না পারেন সেটা তার ব্যক্তিগত সমস্যা, আমার নয়। এই যেমন আমি আপনাদের প্রশ্নের ও আপনার প্রশ্নটাকে উড়িয়ে না দিয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভিডিওর মাধ্যমে আপনার ও আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি, আর এই উত্তরের মধ্যে দিয়ে আপনি বা আরও যারা শুনছেন ভিডিওতে আমার বক্তব্য তারা যদি এই বক্তব্যের মধ্যে সমস্যা সমাধানের Clue খুঁজে না পান, চাবি পাওয়া সত্ত্বেও সমস্যার বন্ধ তালা খুলতে না পারেন তাহ'লে সেটা আপনার বা আপনাদের সমস্যা, আমার নয়। এই যে আপনাকে ভিডিওর মাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে বলছি একে যাজন বলে, এই যাজনকে বলে বাড়ির খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো। এই মোষ তাড়াবার ব্রত নিয়েছিলাম ঠাকুরের যেদিন দীক্ষা নিয়েছিলাম সেদিন থেকে। আর এই মোষ তাড়ানোও নিজের স্বার্থে। এই মোষ তাড়ানোর মধ্যে দিয়ে একজন মানুষও যদি বন্য জীবন ছেড়ে ঘরে ফেরার, ভালো থাকার, আনন্দে থাকার সত্যিকারের পথ খুঁজে পায় সে্ইটাও আমার আনন্দে থাকার, সুখে থাকার পথ ও মোক্ষম ওষুধ। একদিন বর্তমান শ্রীশ্রীআচার্যদেব আমায় বলেছিলেন বাড়ির খেয়ে বনের মোষ তাড়াচ্ছেন কেন? চুপ ক'রে মাথা নীচু ক'রে নিয়েছিলাম। আর মনে মনে ভেবেছিলাম কেন তিনি বললেন? তিনি অন্তর্যামী, তিনি সব জানেন। বাড়ির খেয়ে বনের মোষ যারা তাড়িয়ে বেড়ায় তারা বনের মোষ তাড়াবার সময় বনের কাঁটাঝোপে, গাছের ডালপালায় ও মোষের গুঁতো খেয়ে ক্ষতবিক্ষত হ'য়ে বনের মোষটিকে যখন ঘর্মাক্ত ক্ষতবিক্ষত শরীরে বাড়ির উঠোনে এনে বেঁধে রাখে তখন পাড়ার দামোদর ঘোষ নেপোয় মারে দইয়ের মতন মোষের বাট ভর্তি দুধ দুইয়ে নিয়ে চলে যায়, আর ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকে মোষ তাড়ানো ক্ষতবিক্ষত মানুষটা। ফলে সেই অবস্থায় মোষ তাড়ানো ক্ষতবিক্ষত মানুষটা মানসিক যন্ত্রনায় বিধ্বস্ত হয়, সেই ভয়ংকর বিধ্বস্ত অবস্থা থেকেও রক্ষা করেন ঠাকুর আচার্যদেবের মাধ্যমে আর আচার্যদেব তাঁকে আবার আনন্দের জগতে হাতে ধ'রে পথ দেখিয়ে ঘরে ফিরিয়ে দেয়। যাক আচার্যদেবের সেই মোষ তাড়ানোর কথা আজ থাক। তার প্রেক্ষাপট অন্য কোনওদিন তুলে ধরবো। আজ নয়। এখন শুধু বলি, এতক্ষণ যা বলয়াম এই হ'লো আপনার প্রশ্ন অনুকূল ঠাকুরের শিষ্যরা কি পরিবার নিয়ে ভালো আছেন, অন্যরা নন?- এর উত্তর। হ্যাঁ, আবারও বলছি সৎসঙ্গীরা পরিবার নিয়ে ভালো আছে, আনন্দে আছে। যে বা যারা নেই তারা আপনার মত মানুষ। যারা ঠাকুরকে পেয়েও আপনার মত এরকম কটু অপমানজনক প্রশ্ন করার মত মানসিকতার অধিকারী তারা ভালো নেই। নিশ্চয়ই নেই।

আর আপনি আলোর মধ্যে অন্ধকার আর জোর ক'রে চুলকিয়ে পজিটিভের মধ্যেও নেগেটিভ আর সু-এর মধ্যে কু খুঁজে নিয়েছেন। কে কোথায় সেবা করছেন, কি সেবা করছেন, সেবার নামে আত্মপ্রতিষ্ঠা করছেন নাকি অর্থ রোজগার করছেন আর কোথায় কে কি করছেন সেটা সৎসঙ্গ দেখে না, সে নিজে কি করছে সেদিকেই সৎসঙ্গ সবসময় তাকিয়ে থাকে। আর আপনার মতো তা ঢাক পিটিয়ে প্রচারও করে না। মনে রাখবেন এটা ঈশ্বরের দরবার, এখানে লোকদেখানো প্রচার হয় না। এখানে ইশ্বরের দরবারে ডান হাত দিয়ে সাহায্য করলে বাঁ হাত জানতে পারে না। যদি জানতে হয় শ্রীশ্রীঠাকুরের কাছে আসুন, সৎসঙ্গে আসুন, সংগ করুন, দেখুন, শুনুন, পড়ুন, জানুন, বুঝুন শ্রীশ্রীঠাকুর ও তাঁর সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান 'সৎসঙ্গ' ১৩৬ বছর ধ'রে কোথায় কোথায়, কা'কে কা'কে কি কি সাহায্য করেছে তার ইতিহাস পেয়ে যাবেন, তারপর কু বা সু যা ইচ্ছা হয় বলুন, মন্তব্য করুন। মানা, না-মানা আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু দূর থেকে আর অন্যের মুখে ঝাল খেয়ে খেয়ে মুখ পুড়িয়ে কটু মন্তব্য করবেন না।


আর, শ্রীশ্রীঅবিনদাদা কি করছেন আর না করছেন সেটা সত্যি সত্যিই যদি জানতে চান তাহ'লে দূর থেকে তিক্ত সমালোচনার ঘোলা দৃষ্টিতে কি দেখা সম্ভব? ভালো চোখেও মানুষ যখন দূরের জিনিস দেখতে পায় না তখন আপনার চালসে দৃষ্টিতে আপনি দূর থেকে সব স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন? ভালো মানসিক দৃষ্টির মানুষেরা যেখানে মাঝে মাঝে নড়ে যাচ্ছে, বুঝে উঠতে পারছে না কি হচ্ছে আর আপনি নোংরা মনের চালসে দৃষ্টি নিয়ে সব দেখতে পাচ্ছেন এটাই আপনার বাহাদুরি। এর জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ ও স্যালুট জানাই।

কারও সম্পর্কে বা কোনও কিছু সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে তার সম্পর্কে বা সেই বিষয় সম্পর্কে আগে পুঙ্খানুপুঙ্খ জানতে হয় তা সে ভালো বা মন্দ যে লোকই হ'ক না কেন। তবে প্রমাণ হয় আপনি কেমন মানুষ। আপনার দ্বারা সমাজের কতটা ভালো হ'তে পারে সেটা আপনার সুস্থ মনোভাবের ওপর নির্ভর করে। বৃদ্ধাশ্রমের কথা বলেছেন আপনি। বলেছেন ডোনেটের কথা। বলেছেন সৎসঙ্গের কোনও বৃদ্ধাশ্রম আছে কিনা। সৎসঙ্গের যারা প্রকৃত সৎসঙ্গী তাদের ঘরের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্য বৃদ্ধাশ্রম দরকার হয় না। সৎসঙ্গীরা সেই শিক্ষা পায়নি দয়াল ঠাকুর শ্রীশ্রীঅনুকূলচন্দ্রের কাছ থেকে। প্রকৃত সৎসঙ্গীরা বাবা-মায়ের সাথেই একসঙ্গে মিলেমিশে সুখেদুঃখে আনন্দে দিন কাটায়। বৃদ্ধাশ্রম কনসেপ্ট, যৌথ ফ্যামিলি ভেঙে বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে একলা সুখ ভোগ করার পয়মাল অর্থাৎ ধ্বংসকারী, নাশকারী দর্শন ঠাকুরের দর্শনে নেই। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের সোনার সৎসঙ্গীরা বাবা-মাকে নিয়ে মিলেমিশে থাকার শ্রীশ্রীঠাকুরের শিক্ষায় শিক্ষিত হ'য়ে উঠেছে ও উঠছে। একদিন বৃদ্ধাশ্রম উঠে যাবে আবার ফিরে আসবে যৌথভাবে থাকার শিক্ষা। আর, আলাদা আলাদাভাবে থেকেও যৌথভাবে মিলেমিশে থাকা যায় সেই শিক্ষাও শ্রীশ্রীঠাকুর দিয়ে গেছেন। আসল কথা মানুষের মতন মানুষ হ'য়ে ওঠো। আপনার ঘোরালো জন্ডিস দৃষ্টি দিয়ে এই শিক্ষার গভীরতা আপনার মতন ভাঙাচোরা পাউডার হ'য়ে যাওয়া মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়।

আর, সৎসঙ্গ কোথায় কোথায় ডোনেট করে সেটা যারা জানার জানে, ঢাক পিটিয়ে সৎসঙ্গ সেটা প্রচার করে না। সেটা "সৎসঙ্গ'-এর দর্শন নয়। শ্রীশ্রীঠাকুর কখনও প্রচার পছন্দ করতেন না। তাঁর দর্শন, ডান হাত দিয়ে সাহায্য করার সময় যেন বাঁ হাত পর্যন্ত জানতে না পারে। আপনারা শ্রীশ্রীঠাকুর, ঠাকুর পরিবার ও সৎসঙ্গ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জানেন না। অথচ অনেক বড় বড় কথা বলেছেন। আর তাই আপনারা শ্রীশ্রীঠাকুর ও তাঁর দর্শন, তাঁর পরিবার, তাঁর সৎসঙ্গ তাঁর পরিবার সম্পর্কে কটু কথা বলতে পেরেছেন। শ্রীশ্রীঠাকুর নীরবে তাঁর সারা জীবনে কি কি করেছেন, তাঁর সৎসঙ্গ কি কি ক'রে চলেছে সেটা কুয়োর ব্যাঙের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। সংকীর্ণ মনোভাবাপন্ন মানুষের পক্ষে তাঁর নোংরা ক্ষীণ দৃষ্টি দিয়ে বিশালতাকে দেখা যায় না। আপনি নিজের ঢাক নিজে পিটিয়েছেন। আপনি যদি ভালো কাজই ক'রে থাকেন, সমাজ সেবা করেই থাকেন তাহ'লে তা ভালো বড় অন্তর দিয়েই করেছেন কিন্তু সেই ভালো বড় অন্তর দিয়ে করা কাজের জন্য ঢাক পেটানোর কি আছে, প্রচারের কি দরকার আছে? আপনার কাজই তো আপনার ভালো মনের, ভালো অন্তরের, ভালো ব্যবহারের পরিচয় , তাই নাকি? বিন্দুমাত্র না জেনে অন্যের কাজের নিন্দা ক'রে, কটু প্রচার ক'রে কি বড় হওয়া যায় নাকি ভালো কাজ করা যায়? আপনি যাদের হ'য়ে কাজ করছেন তাদের দু'মুঠো খেতে দিচ্ছেন ঠিক কথা সঙ্গে তাদের ফ্রি অফ কস্ট-এ জীবন বিষিয়ে তুলে তাদের বিষাক্ত ক'রে ছেড়ে দিচ্ছেন সমাজে। ছেড়ে দিচ্ছেন শরীরে-মনে-আত্মায় বিষাক্ত ক'রে; এই আপনার এডুকেশন? আপনার ফ্রি অফ কস্টে বিষাক্ত এডুকেশন পাওয়া বিষে জর্জরিত মানুষগুলোই একদিন বাঁচতে সৎসঙ্গ-এর পতাকার তলায় শ্রীশ্রীঠাকুরের চরণে আশ্রয় নেবে এইটাই সতসংগ-এর সার্থকতা আর আপনার ব্যর্থতা। আপনি এদের ছোট্ট বয়স থেকেই হিংসা, নিন্দা, কুৎসা, অপমান, অশ্রদ্ধা, সমালোচনা করার শিক্ষা দিয়ে, ডোনেট করার কথা সাড়ম্বরে প্রচার ক'রে এদের মেরুদন্ড ভেঙে দিয়ে বড় ক'রে তুলছেন। আপনার বিষাক্ত শিক্ষা শেষে এদের মধ্যে থেকেই একদিন কেউ কেউ শ্রীশ্রীঠাকুরের দীক্ষা নিয়ে, শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীতে নিজেকে রাঙিয়ে নিয়ে, দু'হাতে আগ্রহ ভরে শ্রীশ্রীঠাকুরের উদ্দেশ্যে ইষ্টভৃতি ক'রে আপনার দ্বারা নষ্ট হ'য়ে যাওয়া জীবনে নোতুন ক'রে বাঁচার পথ খুঁজে পাবে। এরকম হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ আছে যারা এরকম তথাকথিত সমাজ কো বদল ডালো হুঙ্কারে সমাজসেবী মসীহাদের দ্বারা ক্ষতবিক্ষত হ'য়ে সৎসঙ্গের ছত্রছায়ায় শ্রীশ্রীআচার্যদেবের আশীর্বাদে ও শ্রীশ্রীঅবিন্দাদার সাহচর্যে জীবনে আবার নোতুন ক'রে বাঁচার পথ খুঁজে পেয়ে ফিরে এসেছে ভুল পথ, ধ্বংসের পথ ছেড়ে। আপনি সেইসব সমাজ কো বদল ডালো সমাজসেবী মসীহাদের সমুদ্রে সামান্য ছোট্ট একটা বুদবুদ মাত্র। আপনার শেষের সেদিনে দেখবেন এরা আপনার পাশে নেই কারণ দু'টো খেতে দিয়ে আর ভুল শিক্ষা দিয়ে এদের ভবিষ্যৎ জীবন আপনি নষ্ট ক'রে দিয়েছেন, তাই এদের শেষের সেদিনে এরা আপনাকে কা্ঠগড়ায় দাঁড় করাবে এটা মনে রাখবেন। সেই মা মরা মাসীর শয়তানী আদরে বড় হ'য়ে শয়তান বাঁদর হওয়া ছেলেটা এবং ছেলেটার হাতে মাসীর পরিণতির গল্পটা মনে আছে তো? গল্পটা হ'লো।

এবার আসি শ্রীশ্রীঅবিনদাদার মায়ের কথায়। আপনি একজন নারী হ'য়ে, মা হ'য়ে শ্রীশ্রীঅবিনদাদার মায়ের নামে কটুক্তি করেছেন আপনার মন্তব্যে। শ্রীশ্রীঅবিনদাদার মতো যে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ইয়ং জেনারেশনের আইকন, হাজার হাজার বিপথে চালিত, এই বিষাক্ত অন্ধকার অলীক মায়া আর ভুল শিক্ষার চাদরে ঢাকা সমাজের অন্ধকার গলিত দুর্গন্ধময় ভুলভুলাইয়ার গলির ঘুলঘুলিতে ঘুরপাক খাওয়া বিধ্বস্ত ক্ষতবিক্ষত কত যুবক যুবতী আজ তাঁর টানে ছুটে এসেছে, আসছে পিছনের অন্ধকারের জালকে ছিন্নভিন্ন ক'রে, কত প্রাণ পেয়েছে জীবনে আরাম তাকে দর্শন ক'রে, তাঁর স্পষ্ট অপ্রিয় মিষ্ট ভাষণে কত ভুলের, কত ভুল শিক্ষার জাল থেকে পেয়েছে মুক্তি তা যার নির্মল চোখ আছে, আছে পবিত্র, সৎ অন্তর সেই পারবে দেখতে, বুঝতে। শ্রীশ্রীঅবিনদাদা হলেন সেই সুন্দর অনুপম সন্তান অর্থাৎ নিরুপম, তুলনা বা উপমাহীন, অতুলনীয়, সর্বোৎকৃষ্ট সন্তান। যে সন্তান বিশ্ব জুড়ে ঘরে ঘরে প্রতিটি মা-ই চায়। এরকম নিরুপম, তুলনা বা উপমাহীন, অতুলনীয়, সর্বোৎকৃষ্ট একটা সন্তানের যে জন্ম দিতে পারবে সেই মা-ই সেই দেশের রাণীর আসনে বসার যোগ্যতা অর্জন করবে। ঈশ্বর যতবার এসেছেন এই মাটির বুকে নেমে মানুষ মায়ের গর্ভে ততবার সেই মা ধন্য হ'য়ে আছে জগতের বুকে আজও। সেই জীবন্ত ঈশ্বরের মায়েদের কাছে অশ্রুসজল চোখে কান্নায় ভরা একটাই ছিল আবেদন, সুসন্তানে দেশ ভরে দাও মা, সুসন্তানে দেশ ভরে দাও। আবার তাঁর সঙ্গে এবং পরে ইশ্বরকোটি পুরুষ যারা নেমে আসেন ইষ্টপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠার জন্য যে মায়েদের গর্ভে সেই মায়েদের জন্য আজ পৃথিবী ধন্য, আজও সূর্য তাদেরই জন্য পূর্ব দিকে ওঠে পশ্চিমদিকে অস্ত যায়। আপনাদের মানসিকতা দেখে মনে হয় মনুষ্যত্বের মূল ভিত্তিই একদিন হয়তো লুপ্ত হ'য়ে যাবে। যে ভয় শ্রীশ্রীঠাকুর স্বয়ং পেয়েছেন। আপনি শ্রীশ্রীঅবিনদাদার মাকে কটাক্ষ ক'রেছেন, সেটা আপনার শিক্ষা, সেটা আপনার রুচী। কিন্তু এরকম একটা সন্তান আপনি/ আপনারা জন্ম দিতে পারবেন? এরকম অপূর্ব দেবতাতুল্য সন্তানের মা কোন নারী হ'তে চায় না তা আমার জানা নেই। আপনি যে অনাথ শিশুদের ফ্রি অফ কস্টে শিক্ষা দেন, তাদের জন্য ডোনেট করেন তাদের মধ্যে একজনকেও এরকম গড়ে তুলতে পারবেন যার জন্য এরকম পাগল হবে আগামী প্রজন্মের যুবসমাজ? এরকম সুন্দর অনুপম সন্তান, অতুলনীয়, সর্বোৎকৃষ্ট সন্তান ঘরে ঘরে নেমে আসার জন্য আমাদের মাথার ওপর স্পিরিট রূপে ঘুরছে কিন্তু নামার মতো সেই জমি পাচ্ছে না। এরোপ্লেন কি মাঠেঘাটে, বাড়ির ছাদে, জঙ্গলে নামে? নামে না। নামার জন্য, ল্যান্ড করার জন্য এয়ারপোর্ট চাই। আবার যেখানে যত বড় বড় উন্নত এয়ারপোর্ট সেখানে তত বড় বড় প্লেন ল্যান্ড করে। তাই শ্রীশ্রীঅবিনদাদার মায়ের অপমান ক'রে নিজেকে ঢাক পিটিয়ে পুতুল রাণি সাজার ব্যর্থ ছেলেখেলা করা যেতে পারে কিন্তু মানুষের মাঝে প্রকৃত রাণী হওয়া যায় না। যে রাণি হওয়ার সে রাণী হওয়ার ও সুসন্তানের জননী হওয়ার যোগ্যতা ও গুণাবলী নিয়েই মায়ের গর্ভে জন্ম নেয়।

হঠাৎ ইষ্বরকোটি সন্তানের মা হওয়া যায় না। শ্রীশ্রীঅবিনদাদা হ'লেন সেই ঈশ্বরকোটী পুরুষ আর তাঁর মা হ'লেন বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ সৎসঙ্গী ইয়ং জেনারেশনের মা।
আর অনুকূল ঠাকুরের জন্য জয়গুরু জানিয়েছেন আর বলেছেন বাবাইদা, অবিনদার জন্য জয়গুরু বলেননি। শ্রীশ্রীঠাকুরের জন্য জয়গুরু জানিয়েছেন এর অর্থটা বোঝা গেল না। আমরা সৎসঙ্গীরা পরস্পরের সঙ্গে দেখা হ'লে একে অপরকে জয়গুরু বলি অর্থাৎ গুরুর জয়ধ্বনি দিই, গুরুর জয় হ'ক বলি। আমরা সৎসঙ্গীরা শ্রীশ্রীঠাকুরকে জয়গুরু বলি না। আর আপনাকে কে বলেছে বাবাইদাদা ও অবিনদাদাকে জয়গুরু বলতে? বলেছে কেউ? বলেনি। আর, যেখানে আপনি আপনার মন্তব্যের প্রতিটি লাইনে শ্রীশ্রীঠাকুরকে, তাঁর দর্শন, তাঁর কর্মধারা, তাঁর পরিবারের সদস্যদের, তাঁর 'সৎসঙ্গ' প্রতিষ্ঠানের তীব্র সমালোচনা করেছেন, অপমান অশ্রদ্ধায় ভরিয়ে গুষ্টির তুষ্টি করেছেন, করেছেন শব্দের দ্বারা বলাৎকার সেখানে আবার শেষে শ্রীশ্রীঠাকুরকেই জয়গুরু বলছেন? অবাক মায়েরা, অবাক করলেন আপনি আপনারা। কমেন্ট পড়েই বুঝি অস্থির চিত্তের আপনি, আপনারা। আজ এই পর্যন্ত।
নমস্কার।







Thursday, March 21, 2024

জয়েন্ট ফ্যামিলি।

আগেকার দিনের একান্নবর্তী পরিবারের ( Joint family) কথা আজ ভীষণভাবে মনে পড়ে। কি সুন্দর ছিল সেই দিনগুলি। নিজের মায়ের চেয়ে কাকিমা, জেঠিমারা সোনামা, ভালোমা, বড়মা, রাঙামা, ছোটোমা রুপে ছিল বড় কাছের, বড় আপনার জন! নিজের বাবার চেয়ে ছিল কাকা, জ্যাঠারা বড়বাবা, মেজবাবা, ফুলবাবা, ছোটোবাবা রুপে ছিল আত্মার আত্মীয় পরমাত্মীয়! কখনই মনে হ'তো না, বুঝতে পারতাম না কে বেশী আর কে কম আপন! মনে পড়ে ১৯৭৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের দিনটার কথা, যেদিন বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছিলেন চিরদিনের মত পরমধামে। সেদিন দেখেছিলাম আমার জ্যাঠতুতো দাদাদের ভুমিকা। দেখেছিলাম বাবার পা ধরে দাদাদের 'ছোটোবাবা ছোটোবাবা' ব'লে কান্না, বুক ফাটা আর্তনাদ! সেই যে ১৯৪৭ সালে , দেশভাগের যন্ত্রণা নিয়ে বাবা চলে এসেছিলেন এই বাংলায়, সেদিন বাবার হাত ধ'রে এই বাংলায় চলে এসেছিল আমার জ্যাঠতুতো দাদারা। আমার বাবা জ্যাঠারা ছিল পাঁচ ভাই। বাবা ছিলেন সবার ছোটো। সব কথা এখন আর মনে পড়ে না। শুধু এটুকুই মনে আছে কি কঠিন পরিশ্রমে বাবা নিজের ছয় সন্তান সহ টলমল পরিবারেরকে মাথায় নিয়ে সমস্ত দাদাদের কিভাবে সক্রিয়ভাবে পাশে থেকে একে একে বসিয়ে দিয়েছিল ঘর। আর তারই পরিণামে দেখেছিলাম বাবার অন্তিম যাত্রায় তাঁদের বুকফাটা কান্না। সেদিন পরিণত যুবক আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছিলাম সেই করুন দৃশ্য। ভুলে গেছিলাম আমরা ভাইয়েরা বাবার মৃত্যু শোক!!!!!! এইছিল একান্নবর্তী পরিবারের মিলেমিশে থাকার হৃদয় নিংড়ানো আনন্দের ছবি। আজ আর সেই দিন নেই, নেই সেই ছবি। আছে শুধু বুকভরা হিংসা আর হাহাকার! হাহাকার আর হিংসা!!----প্রবি।
( লেখা ২২শী মার্চ'২০২২)

প্রবন্ধঃ ভয় কি!?

গোটা বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসে আতঙ্কগ্রস্থ, শুরু হয়েছে মৃত্যুর মিছিল তখন সেই মৃত্যুভয় হানা দিয়েছে ভারতের বুকে! আর তখনই দেরিতে হ'লেও তৎপরতার সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়েছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রশাসন। জনগণ পুরোমাত্রায় সচেতন না হ'লেও ধীরে ধীরে বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমস্ত রকমের সদাচার পালনের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের নির্দেশাবলী কঠোরভাবে পালন করা আমাদের বাঁচা-বাড়ার স্বার্থে অবশ্য পালনীয়। আর এর সঙ্গে সঙ্গে সৎসঙ্গীদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে দয়ালের অভয় বাণী। আসুন আমরা তাঁর অভয় বাণী স্মরণ করি অবনত মস্তকে! ভরসা রাখি তাঁর মুখনিঃসৃত অমিয় বাণীর উপর।

"ভয় কি? বলেছি তো! এমন একজন আছেন যিনি, সর্বদাই সন্নিকটে আছেন। তিনি সবসময় আপনাকে রক্ষা করবেন। তাঁকেই বিশ্বাস করুন। তাঁর উপর সর্বস্ব দিয়ে নির্ভর করুন; ভয় নাই।"--শ্রীশ্রীঠাকুর।
তাই সৎসঙ্গী গুরুভাইবোনদের কাছে আন্তরিক অনুরোধ আসুন অন্ততঃ এই ঘোর সংকটে অকপট হৃদয়ে অমলিন মনে দয়ালের উপর তন-মন-ধন সর্বস্ব দিয়ে নির্ভর করি আর বলি, হে দয়াল! তুমি আমাদের এই ভয়ঙ্কর মারণ রোগের হাত থেকে বাঁচাও! বাঁচাও আমায়, আমার পরিবার, আমার স্বজন-পরিজন, আমার পারিপার্শ্বিক সহ বিশ্ব জুড়ে সমস্ত আক্রান্ত মানুষদের! আমাদের সমস্ত অপরাধ, কপটতা, নিচতা, হিংসা যা কিছু জীবন বিধ্বংসী সমস্ত পাপ তুমি ক্ষমা ক'রে দাও। দাও ক্ষমা ক'রে তোমার চলন বিরোধী আমাদের বিকৃত চলনকে।

হে আমার সৎসঙ্গী ভাইবোন! তিনি আছেন! সবসময় আমার আপনার চারপাশে আছেন! হ্যাঁ! আছেন! তোমার আমার দেখার চোখ নেই, নেই অনুভূতি, নেই প্রগাঢ় বিশ্বাস, নির্ভরতা আর আত্মত্যাগ! কিন্তু তিনি আপনাকে আমাকে আগলে রেখেছেন, রেখেছেন পিতামাতার মত কোলের শিশু ক'রে আগলে আগলে! কিন্তু আমাদের সেই বিশ্বাস নেই, নেই বিশ্বাস, নির্ভরতা আর আত্মত্যাগের মত সেই জৈবি সংস্থিতি! নেই, আমাদের কিছুই নেই! না থাকুক! তবুও তিনি আছেন! আছেন আমার-আপনার চারপাশে! তাই এই ঘোর দুর্দিনে আসুন একটু, মাত্র একটু অমল ধবল বিশ্বাস নিয়ে তাঁর রাতুল চরণে জানাই, হে প্রভু! হে দয়াল! লও মোর/মোদের অকপট, অমলিন কোটি কোটি প্রণাম! তুমি আমাদের বাঁচাও! বাঁচাও তোমার সৃষ্টিকে!!
( লেখা ২২শে নার্চ'২০২০)

কবিতাঃ সীম-অসীম!

সীমার মাঝে তুমি অসীম
আর অসীমের বুকে খোঁজো সীম!
সীমার মাঝে হয়ে অসীম
বুকের মাঝে তুলছো ঝড় রাতদিন!
আর বলছো আমায়-----
অসীমের মাঝে থাকো তুমি
হ’য়ে চিরদিন সসীম!
যদিও জানি এ অসম্ভব----
দুর্বার অসীমের আকর্ষণ ঠেকিয়ে
সীমার কাছে থাকা অধীন।
সীমার মাঝে তুমি হ’য়ে আছো অসীম
আর বলছো আমায়------
সীমার মাঝে অসীমের গভীরতা কি মাপা যায়?
সীমা লঙ্ঘনে আপত্তি তোমার আর
তাই প্রশ্ন তোলও মার্জিত-অমার্জিতের।
কিন্তু,
গভীরতায় হাবুডুবু না খেলে গভীরতার
মান থাকে কি? সে তো একাকি!
একা বোকা নয় কি?
সীমার মাঝে ক’রে অবস্থান
গভীরতার বুকে ঢেউ তোলা আর
সোনার পাথর বাটি সমান।
তুমি অসীম, তুমি অনন্ত, তুমি সোনা!
সীমা লঙ্ঘনে তুমি ক’রো না আমায় মানা।
সীমার আগল ভেঙে অসীমের বুকে
তুলবো আমি ঝড়;
আর গভীরতার বুকে
সাঁতরে আমি তুলবো বিশাল ঢেউ
ধ্বনি তুলে বমবম হরহর!!!!!!
তবে নিরালা-নিবেশের পাঁচিল তুলে
অশ্লীল হব’ আমি
ঝড় আর ঢেউকে ক’রে সাথী।
এসো তুমি হে প্রিয়ে!
এসো হে অসীম!
এসো ভেঙে দিয়ে রেখা
সীমার মাঝে তুমি একাকি।
(লেখা ১৭ই মার্চ'২০১৭)

Wednesday, March 20, 2024

প্রবন্ধঃ ইষ্টভৃতি ও ইষ্টভৃতি মন্ত্র সম্পর্কে কিছু কথা।

ইষ্টভৃতি মন্ত্র পরিবর্তন নিয়ে একশ্রেণীর সাজা সৎসঙ্গী শ্রীশ্রীঠাকুরের দেহাবসানের পর থেকেই শ্রীশ্রীবড়দার বিরুদ্ধে রণং দেহী মূর্তি নিয়ে বিষোদ্গার ক'রে চলেছে। বিষোদ্গার ক'রে চলেছে, কানে কানে বিষ ঢেলে চলেছে ৫৫বছর ধ'রে প্রকাশ্য জনসভায়, কাগজে ছাপিয়ে, ফেসবুকে, ভিডিওর মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরা শ্রীশ্রীঠাকুরের শেষ সময়ে শ্রীশ্রীঠাকুরের সামনে দিয়ে শ্রীশ্রীঠাকুরের ফটো মাথায় নিয়ে বন্দে পুরুষোত্তমম ধ্বনি দিয়ে নাচতে নাচতে ভক্তির পরাকাস্টা দেখিয়ে দেহরূপে অবস্থানরত শ্রীশ্রীঠাকুরকে ত্যাগ ক'রে চলে গেছিলেন মহানন্দে। এরা কারা? পরবর্তী সময়ে পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দার সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে শ্রীশ্রীবড়দাকে ত্যাগ ক'রে শ্রীশ্রীঠাকুর প্রতিষ্ঠিত 'সৎসঙ্গ' প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে গেছিলেন যারা তাঁরা পরবর্তী সময়ে বিরোধীতার কারণ হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি জনসমক্ষে ক্লিন রাখতে, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে শ্রীশ্রীবড়দার গায়ে কলঙ্ক লেপন ক'রে শ্রীশ্রীবড়দাকে কলঙ্কিত করতে এদের বিবেকে বাঁধেনি, ভয় হয়নি দয়ালের ভয়াল রূপের। মাঝে মাঝে মনে হয়, শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবদ্দশায় ঠাকুরের শেষ সময়ে ঠাকুরের চোখের সামনে ঠাকুরের সামনে দাঁড়িয়ে, জীবন্ত রক্ত মাংসের ঠাকুরকে ত্যাগ ক'রে ঠাকুরের ফটো মাথায় নিয়ে সমস্বরে উল্লাসে আনন্দে বন্দে পুরুষোত্তমম ধ্বনি তুলে আশ্রম চত্বরে ও চতুর্দিকে দোর্দন্ড প্রতাপ, দাপট আর ঔদ্ধত্বের তীব্র আস্ফালন দেখিয়ে চলে গেছিলেন যারা, তারা নিজেদের সঠিক প্রমাণ করতে মানুষের দৃষ্টি, তামাম সৎসঙ্গীদের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতে শ্রীশ্রীবড়দার মাথার ওপর তাদের শ্রীশ্রীঠাকুর বিরোধী নোংরা, দুর্গন্ধময়, ঘৃণ্য কাজের দায় চাপিয়ে দিলেন। চাপিয়ে দিলেন শ্রীশ্রীঠাকুর থাকাকালীন সমস্ত পরিবর্তনকে হাতিয়ার ক'রে শ্রীশ্রীঠাকুরের অনুপস্থিতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে। শ্রীশ্রীঠাকুর যদি আরও কয়েক বছর আমাদের মাঝে শরীরী রূপে থাকতেন তাহ'লে শ্রীশ্রীঠাকুরের অশরীরী রূপের সুযোগে যে প্রার্থনা, ইষ্টভৃতি, বাণী পরিবর্তন ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন তুলে শ্রীশ্রীঠাকুরের আদরের প্রথম সন্তান বড়খোকা, কোটি কোটি সৎসঙ্গীদের চোখের মণি সবার বড়ভাই শ্রীশ্রীবড়দার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জনসমক্ষে শ্রীশ্রীবড়দাকে কোণঠাসা করতে, দুর্বল করতে, মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে দিতে, সৎসঙ্গীদের চোখে শ্রীশ্রীবড়দাকে মিথ্যে অপবাদে কলঙ্কিত ক'রে শ্রীশ্রীবড়দার সঙ্গে থাকা কিছু সুযোগসন্ধানী সৎসঙ্গীদের সাহায্যে সৎসঙ্গের দখল নিতে ও সৎসঙ্গীদের ওপর প্রভাব কায়েম করতে, আত্মপ্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতা দখলের জন্য যে নোংরা খেলা খেলেছিলেন তা পারতেন না। আর সেই নোংরা খেলা আজও তাদের উত্তরসূরীরা সেই দুরভিসন্ধিমূলক অর্থাৎ খারাপ মতলব, অসৎ উদ্দেশ্য আছে এমন কাজের ট্রাডিশান সমানে ব'য়ে চলেছে। তখন ভাবি শ্রীশ্রীঠাকুর কি অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র ও ঠুঁটো জগন্নাথ হ'য়ে বসে ছিলেন ও আছেন?

শ্রীশ্রীঠাকুর যখন দেহরূপে ছিলেন তখনও তিনি সব দেখেছিলেন কে ঠিক আর কে বেঠিক আর আজও সুক্ষ্মদেহে, লিঙ্গশরীরে তিনি ৫৫ বছর ধ'রে দেখছেন। আমরা যেন ভুলে না যায় তাঁর ভয়াল রূপকে। আমরা শ্রীশ্রীঠাকুরের পূর্ব রূপ শ্রীশ্রীবুদ্ধের শান্ত রূপ, শ্রীশ্রীযীশু, শ্রীশ্রীমহাপ্রভু ও শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণের চরম প্রেম-ভালোবাসার বাৎসল্য রূপ দেখে যেন না ভাবি তিনি শুধু দয়াল, দয়াময়। প্রেম-ভালোবাসার মূর্ত রূপ প্রেমিক পুরুষ শ্রীশ্রীরামচন্দ্রের, শ্রীশ্রীকৃষ্ণের ও শ্রীশ্রীহজরত মহম্মদের অধর্ম, অন্যায় ও দুস্কৃতি দমনে ভয়ংকর ভয়াল রূপও যেন আমরা ভুলে না যায়। সময় সবসে বড়া বলবান। আমরা দেখেছি শ্রীকৃষ্ণের শিশুপালের ১০০টা অপরাধ ক্ষমা করতে, কিন্তু ১০১-এর বেলায় দেখেছি ভয়ংকর রূপ। আমরা দেখেছি মহাভারতের যুদ্ধ শুরুর ঠিক পূর্বমুহুর্তে যুদ্ধ ঠেকাতে, ধ্বংসের হাত থেকে কৌরব পক্ষকে রক্ষা করতে দুর্যোধনের কাছে পাঁচ ভাইয়ের জন্য শুধু পাঁচটি গ্রাম ভিক্ষা চেয়েছিলেন। কিন্তু ঘর শত্রু দুর্যোধন দেননি এবং অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের ও দুর্যোধনের শেষ অবস্থা আমরা দেখেছি, আমরা দেখেছি তাবড় তাবড় প্রাজ্ঞ অর্থাৎ পন্ডিত, জ্ঞানী, বিজ্ঞ মহাযোদ্ধাদের শেষ পরিণতি।
আবার বলি, সময় সবসে বড়া বলবান সে তার শক্তি বা ক্ষমতা সময় মতো দেখিয়ে দেবে এবং Time is the great healer, অর্থাৎ সময় মহান নিরাময়কারী।

যাই হ'ক এবার আসি ইষ্টভৃতি ও ইষ্টভৃতি মন্ত্র পরিবর্তন সম্পর্কে।

ইষ্টভৃতি মানে কি? কথাপ্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন- ইষ্টভৃতি হ'লো practical materialised condensed form of psycho - physical ascetic devotion (শারীর-মানস তপস্যাপরায়ণ ভক্তির কার্য্যকরী বাস্তব সংক্ষিপ্ত রূপ )।

শরীর ও মনকে স্থির ক'রে একজায়গায় এনে লক্ষ্যবস্তুকে অর্জনের জন্য শৃঙ্খলিত ভাবে অতিশয় আসক্ত বা অনুরক্ত হ'য়ে, একনিষ্ঠভাবে বাস্তব সেবার মাধ্যমে ইষ্টদেবতার প্রতি যে বিশেষ অনুরাগ বা প্রেমপূর্ণ যে প্রচেষ্টা, সেই প্রচেষ্টাই হ'লো পরম গতি, পরম অবলম্বন ভক্তি। এই প্রচেষ্টার ফলে শরীরে মনে যে তাপ সঞ্চারিত হয় সেই তাপ সঞ্চারিত ভক্তিকে তপস্যাপরায়ন ভক্তি বলে। আর তপস্যাপরায়ণ ভক্তির মধ্যে যে মূল বাস্তব সেবার কথা বলা আছে, তাই ইষ্টভৃতি।
এই যে ইষ্টভৃতির কথা বললাম,

এখানে ইষ্টভৃতি করার মধ্যে আছে শরীর-মনকে স্থির করা ও একবিন্দুতে আনার কথা, আছে লক্ষ্যবস্তু অর্জনের কথা, আছে একনিষ্ঠতার কথা, আছে বাস্তব সেবার কথা, আছে বিশেষ প্রেমের কথা, আছে তাপ সঞ্চারণের কথা ও ভক্তির কথা। এখানে পরিষ্কার ক'রে শ্রীশ্রীঠাকুর psycho - physical ascetic devotion-এর যে কথা বলেছেন সেই devotion বা ভক্তির মধ্যে তিনি practical materialised condensed form অর্থাৎ কার্যকরী বাস্তব সংক্ষিপ্ত রূপের কথা অর্থাৎ বাস্তব সেবার কথা বলেছেন। সেই ্বাস্তব সেবা হ'লো আমার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাঁচার জন্য প্রতিদিন যা যা লাগে তাই তাই-ই আমার জীবন্ত ইষ্টদেবতার জন্যও লাগে। আমার জীবন্ত ইষ্টদেবতা আমার পরিবারের প্রধান, আমার ও আমার পরিবারের সবার অভিভাবক। তাই তাঁকে দিনের শুরুতে তাঁর যথেচ্ছ ভরণপোষণের জন্য অর্থাৎ তাঁর ইচ্ছামত, ইচ্ছানুসারে ব্যয় করার জন্য তাঁকে যে ভোজ্যের অনুকল্প রূপ অর্ঘ্য দান করা হয়, সেই অর্ঘ্যকে ইষ্টভৃতি বলে। এই ইষ্টভৃতির অর্ঘ্য তিনি কি করবেন আর না-করবেন সেখানে কৈফিয়ত চাওয়া চলবে না, সেটা তাঁর ইচ্ছাধীন। এই ইষ্টভৃতির অর্ঘ্যাঞ্জলী আমার স্বতঃস্বেচ্ছ অর্ঘ্যাঞ্জলী, এই ইষ্টভৃতি আমার অনুরাগ-উদ্দীপী অর্ঘ্যাঞ্জলী, এই ইষ্টভৃতি আমার আগ্রহ-উচ্ছল, অপ্রত্যাশী অর্ঘ্যাঞ্জলী যা আমার ইষ্টদেবতা শ্রীশ্রীঠাকুরকে আনন্দিত করে।

আর ইষ্টভৃতি শুধু ইষ্টদেবতাকেই সমর্পণ করা হয়; অর্থাৎ সমস্ত স্বত্ব ত্যাগ করে দান করা হয়, উৎসর্গ করা হয়। এই অর্ঘ্য তখন তাঁর, একান্তই তাঁর। তিনি যা ভালো বুঝবেন তিনি তাই করবেন এই অর্ঘ্য দিয়ে। তিনি এই ভক্তিপূর্ণ অর্ঘ্য তিনি নিজের ভোগের জন্য ব্যবহার করবেন কি অন্যকে দিয়ে দেবেন, বিলিয়ে দেবেন, নিজের কাছে রাখবেন কি অন্যের কাছে রাখবেন বা অন্যকে দেখভাল করার দায়িত্ব দেবেন বা এই অর্ঘ্য সমুদ্রে ফেলে দেবেন সেখানে সেটা তাঁর একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার; সেখানে আমার অর্থাৎ যিনি ইষ্টভৃতি করছেন তার কোনও হাত নেই। আর যদি আমার ইষ্টদেবতা এই অর্ঘ্য কি করছেন এই প্রশ্ন কিঞ্চিৎ সামান্য আঁশের মতোও মনে উদয় হয় তাহ'লে তিনি এই ইষ্টভৃতি গ্রহণ করেন না। ইষ্টভৃতি মানে শুধু ইষ্টকেই ভরণ করা অর্থাৎ প্রতিপালন করা, এখানে এই ভরণ করা বা প্রতিপালনের সময় তাঁর সৃষ্টির অন্য কেউ বা এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের অন্য কোনও কিছু সামনে থাকবে না বা আসবে না। যদি মনের মধ্যে আসে তাহ'লে সেই অর্ঘ্য তিনি গ্রহণ করেন না, উচ্ছিষ্ট হ'য়ে যায়। এই ম্যান টূ ম্যান কন্টাক্টের মতো অর্থাৎ ভক্ত আর ভগবানের মাঝে, সৃষ্টিকর্তা আর তাঁর ইন্ডিভিজুয়াল সৃষ্টির সঙ্গে ইষ্টভৃতির সময় সংযোগ স্থাপনের মাঝখানে তিনি কোনও কিছুকেই এলাও করেন না। ঐ যে তাঁর বাণী আছে, " You are for the Lord, Not for others"-- অর্থাৎ "তুমি একমাত্র ইষ্টের জন্য আর কারও জন্য নও" এই বাণী ইষ্টভৃতি করার সময়ে স্মরণ করার জন্য বাণী।

আর, ইষ্টভৃতি করার পরে তুমি পারিপার্শ্বিকের চিন্তা ক'রো। কিন্তু ইষ্টিভৃতি করার আগে এমনকি ইষ্টভৃতি করার সময়ও যেন পারিপার্শ্বিকের চিন্তা আমার মনে না আসে। তা সে আমার পিতা হ'ক, মাতা হ'ক, ভ্রাতা হ'ক, ভগ্নী হ'ক বা আমার চারপাশের সে যেই হ'ক বা যাই-ই হ'ক কেউই ইষ্টভৃতি সমর্পণের সময় আমার মনোজগতে তো দূরের কথা, আমার চারপাশে যেন ঠাঁই না পায়। ইষ্টভৃতি করার সময় আদি নেই, অন্ত নেই শুধু তুমি আর আমি, পিতা নেই, মাতা নেই শুধু তুমি আর আমি, ভাই নেই, বোন নেই, স্বামী নেই, স্ত্রী নেই, পুত্র নেই, কন্যা নেই, বন্ধু, বান্ধব, আত্মীয়স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশী কেউ নেই, কিচ্ছু নেই শুধু তুমি আর আমি, আমি আর তুমি। আর এরকম শারীমানস তপস্যাপরায়ণ ভক্তির কার্যকরী বাস্তব সংক্ষিপ্ত রূপ ইষ্টভৃতি করার পরে পারিপার্শ্বকের জন্য চিন্তা ক'রো। তাই তিনি ঐ ইংরেজী বাণীর পরবর্তী লাইনে বললেন, "You are for the Lord, And so for others." অর্থাৎ তুমি ইষ্টের জন্য বলেই তুমি সবার জন্য। তাই তিনি ইষ্টভৃতি করার পর ভ্রাতৃভোজ্য ও ভূতভোজ্য দেওয়ার কথাও বলেছেন। আর এই যে ভ্রাতৃভোজ্য ও ভূতভোজ্য এবং ইষ্টভৃতি সেটাও ইষ্টপ্রীতিকে লক্ষ্য করেই অর্থাৎ আমার জীবন্ত ইষ্টদেবতাকে প্রীত করার জন্যই করা। আর এই সবটা মিলেই হয় ইষ্টভৃতি। কারণ তাঁর বাস্তব সেবা করার পর তাঁর সৃষ্টির অন্য সব কিছুর জন্যও বাস্তব সেবার প্রয়োজন। কিন্তু কখনোই একই সঙ্গে নয়। আগে তিনি, এক ও একমাত্র তিনি অর্থাৎ আগে সৃষ্টিকর্তা তারপরে তাঁর সৃষ্টি।

তাই শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, ইষ্টভৃতি ঠিক-ঠিক ভাবে করতে গেলে তা' অর্থ ভাবনা-সহ জপও আনে, সঙ্গে-সঙ্গে আনে ইষ্টস্বার্থ প্রতিষ্ঠামূলক মনন সমন্বিত ধ্যান। ইষ্টের ভরণ-পূরণ করতে গেলে কায়মনোবাক্যেই তা' করতে হয়। শরীরটা মানুষের বড় জীবন্ত বাস্তব জিনিস, কোন ব্যাপারে আগ্ৰহ-সহকারে শরীরটাকে নিয়োজিত করলে মন, বাক্যও তার পিছু-পিছু ছোটে। একটা মানুষ রোজ ভোরে উঠে যদি শুদ্ধাচারে ভক্তিভরে ইষ্টভৃতি করে, তাহ'লে তার ভিতর-দিয়ে এতখানি extra - energy (অতিরিক্ত শক্তি) stored (সঞ্চিত) হয় যে, তার উপর দাঁড়িয়ে সে-সব বিপদ-আপদকে easily overcome (সহজে অতিক্রম) করতে পারে। অন্য মানুষ যেখানে ভেঙ্গে পড়ে, সেখানে সে অটল হ'য়ে দাঁড়িয়ে থাকে।

জেমসও তাঁর সিলেক্টেড আর্টিকেলস-এ বলেছেন, "He will stand like a tower when everything rocks around him and when his softer fellow-mortals are winnowed like chaff in the blast." অর্থাৎ যখন সবকিছুর অস্তিত্ব টলায়মান হ’য়ে উঠবে, এবং শক্তিহীন নির্জীব লোকগুলি ঝড় আসার আগেই তুষের মত উড়ে যাবে, তখন সে অর্থাৎ যে ইষ্টভৃতি করে সে একটা স্তম্ভের মতো নিজের শক্তিতে অটল হ’য়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।

শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেনঃ ইষ্টভৃতি ধর্ম্মের অর্থাৎ জীবন-বৃদ্ধির একটা corner stone ( প্রধান ভিত্তি-প্রস্তর)। ইষ্টভৃতি হিসাবে নিত্য ভোজ্য বা নৈবেদ্য উৎসর্গ করাই বিধি, তবে তা রাখা এবং ঐ জিনিষই মাসান্তে ইষ্টস্থানে পৌঁছে দেবার বাস্তব অসুবিধা আছে। তাই ভোজ্যের অনুকল্পে পয়সা রাখা চলে।

এই ইষ্টভৃতি করার সময় আমাদের মনে রাখতে হবে, Tempting attitude (প্রলুব্ধ করার মনোভাব) অর্থাৎ কোনও কিছু পাওয়ার মনোভাব নিয়ে ইষ্টভৃতি করলে সেই ইষ্টভৃতি কিন্তু তিনি গ্রহণ করেন না। সেটা তাঁর কাছে অপমানজনক, অশ্রদ্ধাপূর্ণ ইষ্টভৃতি।

শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, Tempting attitude (প্রলুব্ধ করার মনোভাব) থাকলে সবই নিষ্ফল হ'য়ে যায়। বাইবেলে আছে- Do not tempt Lord thy God (তোমার প্রভু ঈশ্বরকে প্রলুব্ধ ক'রো না)। ঠাকুর! রোজ আমি ইষ্টভৃতি করি, আমি তোমার অনুগত, তুমি আমার রোগটা সারিয়ে দাও। রোগ যদি সারে, তাহ'লে বুঝব তোমার দয়া আছে আমার উপর। ইষ্টভৃতির মাহাত্ম্য আছে। রোগ সেরে গেলে বেশী ক'রে ইষ্টভৃতি করব'--- এমনতর সর্ত্তকন্টকিত অবদানে Supreme Being (পরমপিতা) টলেন না, Satan (শয়তান) টলতে পারে। ঐ সর্ত্ত ও প্রত্যাশাই তাঁর দয়া পাওয়ার পথে barrier (বাদা) সৃষ্টি করে। ভগবান ভালবাসেন সকলকে equitably (যথোপযুক্তভাবে), কিন্তু আমরা প্রত্যাশাহীন হ'য়ে তাঁকে যতখানি ভালোবাসি, ততখানি আমাদের তাঁকে পাওয়া মানে স্ববৈশিষ্ট্য-অনুযায়ী তাঁর রকমে রূপান্তরিত হওয়া। ঐ চরিত্র যেখানে মজুত হয়, সেখানে জীবনীয় লওয়াজিমার অভাব হয় না।

এই ইষ্টভৃতি দয়াল প্রভুর চরণে সমর্পণ করার সময় আমরা যে মন্ত্র উচ্চারণ করি সেই মন্ত্র নিয়ে এখন আলোচনা করা যাক।
ইষ্টভৃতির পুরোনো মন্ত্র ১৯৩৮ সাল অক্টোবর মাসে চালু হয়। সেই মন্ত্র হ'লো,
"ইষ্টভৃতির্ময়াদেব কৃতা প্রীত্যে তব প্রভো! ইষ্টভ্রাতৃ-ভূতযজ্ঞেস্তৃপ্যন্তু পারিপার্শ্বিকাঃ।"
অর্থাৎ, "হে দেব, হে প্রভু, তোমারই প্রীতি-পোষণার্থ আমি ইষ্টভৃতি নিবেদন করিলাম। ভ্রাতৃভোজ্য-ভূতভোজ্য রূপ যজ্ঞ দ্বারা পারিপার্শ্বিক তৃপ্ত হউক।"

ইষ্টভৃতি নোতুন মন্ত্র ১৯৬৪ সাল ২৭শে মে চালু হয়। জওহরলাল নেহরুর মৃত্যুদিন।
ইষ্টভৃতির সেই নোতুন মন্ত্রঃ
"জীব জগত জীবন কারণ করুণাময় স্বামী তোমার দয়ায় লভেছি জনম সকলি পেয়েছি আমি। আজি এ প্রভাতে কর্মারম্ভে তোমারি ভোগের লাগি ইষ্টভৃতির অর্ঘ্য দিতেছি শ্রীচরণে কৃপা মাগি।"

দু'টো মন্ত্রের মধ্যে তফাৎ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। ১৯৩৮ সালের অক্টোবর মাসে চালু হওয়া প্রথম মন্ত্রের মধ্যে আমরা দেখতে পাই ইষ্টকে অর্ঘ্য সমর্পণ করার সময় শুধু ইষ্টকে অর্ঘ্য সমর্পণ করছি না, একই সঙ্গে তাঁর সৃষ্টির উদ্দেশ্যেও অর্ঘ্য দিচ্ছি। অর্থাৎ তাঁর ভরণপোষণের সময় তাঁর বাণী "You are for the Lord, Not for others" বাণী খাটছে না। ইষ্টভৃতি সম্পর্কে শ্রীশ্রীঠাকুর যে psycho - physical ascetic devotion-এর কথা বলেছেন সেই devotion বা ভক্তির মধ্যে 'একভক্তি বিশিষ্যতে' ভক্তির কথা আছে। ভক্তি এক ছাড়া দুই হয় না। তিনি বলছেন ঈশ্বর কখনও এক ছাড়া দুই হয় না।

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র practical materialised condensed form অর্থাৎ কার্যকরী বাস্তব সংক্ষিপ্ত রূপের কথা অর্থাৎ বাস্তব যে সেবার কথা বলেছেন সেই সেবার মধ্যে psycho - physical ascetic devotion-এর (ভক্তির কথা) বলেছেন। ইষ্টভৃতির মাধ্যমে সেই ভক্তি প্রদর্শনের সময় যে মন্ত্র উচ্চারণ করা হয় তা যেন এক ও একমাত্র ইষ্টকেই উদ্দেশ্য ক'রে করা হয়।

কিন্তু আমরা যখন ইষ্টভৃতির পুরোনো মন্ত্র যা ১৯৩৮সালে প্রথম চালু হয়েছিল তা ইষ্টভৃতির সময় উচ্চারণ করি তখন ইষ্টের সঙ্গে সঙ্গে ভ্রাতৃভোজ্য-ভূতভোজ্য নিবেদনের মাধ্যমে পারিপার্শ্বিকও এসে পড়ে। যা ইষ্ট ও পারিপার্শ্বিক একাকার হ'য়ে যায়, খিচুড়ি পাকিয়ে যায়। সেই সময়ের ইষ্টভৃতির মন্ত্রে আমরা বলি,
"ইষ্টভৃতির্ময়াদেব কৃতা প্রীত্যে তব প্রভো! ইষ্টভ্রাতৃ-ভূতযজ্ঞেস্তৃপ্যন্তু পারিপার্শ্বিকাঃ।"
অর্থাৎ, "হে দেব, হে প্রভু, তোমারই প্রীতি-পোষণার্থ আমি ইষ্টভৃতি নিবেদন করিলাম। ভ্রাতৃভোজ্য-ভূতভোজ্য রূপ যজ্ঞ দ্বারা পারিপার্শ্বিক তৃপ্ত হউক।"

এখানে ইষ্টকে ইষ্টভৃতি উৎসর্গের সময় একভক্তি বিশিষ্যতে (এক = only ভক্তিঃ = in devotional service বিশিষ্যতে = is special) একভক্তি ভাব বাধা পেল। তাই ইষ্টভৃতি করার সময় ইষ্টভৃতি যাতে শুধু ইষ্টকেই সমর্পণ করা যায় সেই কারণেই একটা ইষ্টভৃতি মন্ত্রের কথা শ্রীশ্রীঠাকুর শ্রীশ্রীবড়দাকে বলেছিলেন। শ্রীশ্রীবড়দা বহুদিন ধ'রে শয়নে-স্বপনে-জাগরণে ও ভোজনে এই বিষয়ে ধ্যানস্থ থাকার ফলে গদ্যাকারে তিনি একটা ইষ্টভৃতি মন্ত্রের খসড়া তৈরী করেন এবং শ্রীশ্রীদাদা তা ছড়ার আকারে রূপ দেন। এবং সেই তৈরী করা নূতন মন্ত্র শ্রীশ্রীঠাকুরকে শ্রীশ্রীবড়দা দেখান। সেদিনটা ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহুরুর মৃত্যুদিন। ইষ্টভৃতি নোতুন মন্ত্র ১৯৬৪ সাল ২৭শে মে শ্রীশ্রীঠাকুরকে দেখানো হ'লে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর কারণে গভীর শোকাহত শ্রীশ্রীঠাকুর সেই মন্ত্র দেখে ও পড়ে আনন্দে লাফিয়ে ওঠেন ও মুহুর্তে সমস্ত শোক তাঁর চলে যায়। সেই ইষ্টভৃতির মন্ত্র তিনি অনুমোদন করেন।

ইষ্টভৃতির সেই নোতুন মন্ত্রঃ
জীবনং করুণাসিন্ধো! জগতস্ত্বং জগৎপথে। ভবতঃ কৃপয়া লব্ধং জীবনং সফলং মম।। প্রাগেব সর্ব্বকার্য্যেভ্য স্তবৈব ভোগ-তৃপ্তয়ে। ইষ্টভৃতি কৃতাস্মাভি কৃপয়া গৃহ্যতাং প্রভো।"

"জীব-জগত-জীবন -কারণ করুণাময় স্বামী। তোমার দয়ায় লভেছি জনম, সকলি পেয়েছি আমি। আজি এ প্রভাতে কর্মারম্ভে তোমারি ভোগের লাগি ইষ্টভৃতির অর্ঘ্য দিতেছি-শ্রীচরণে কৃপা মাগি।"
এই মন্ত্রে আমরা কি দেখতে পাই? এই মন্ত্রে আমরা দেখতে পাই ইষ্টভৃতি মন্ত্র পাঠ করার সময় এই মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে একমাত্র ইষ্টকেই ইষ্টভৃতি উৎসর্গ করা হচ্ছে। এই অর্ঘ্য সমর্পণের সময় কেউ আমার সামনে নেই। আমার সামনে শুধু আমার ইষ্ট, আর ইষ্ট, ইষ্ট আর ইষ্ট। এছাড়া আর দ্বিতীয় কেউ নেই। ইষ্টকে অর্ঘ্য সমর্পণের সময় কোনও ভ্রাতৃভোজ্য ও ভূতভোজ্য নিবেদন নয়। এই নিকুম্ভিলা রূপ ইষ্টভৃতি মহাযজ্ঞ শেষ হওয়ার পর তাঁর সৃষ্টিকে তুমি যা হ'ক নিবেদন ক'রো। কিন্তু কখনোই ইষ্টকে ভোজ্য বা ভোজ্যের অনুকল্প অর্ঘ্য সমর্পণের সময় নয়। এ সম্পর্কে শ্রীশ্রীঠাকুরের পরিষ্কার বলা আছে, "কেউ যদি ভ্রাতৃভোজ্য ও ভূতভোজ্য রোজ না রাখে এবং মাসের শেষে নিবেদিত ইষ্টার্ঘ্য পুরোপুরি ইষ্টস্থানে পাঠিয়ে আলাদা ক'রে ঐটে দেয়, অর্থাৎ ভ্রাতৃভোজ্য ও ভূতভোজ্য দেয়, তাহ'লেও চলতে পারে।"
তাই ইষ্টভৃতি মন্ত্র পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়েছিল। আর হয়েছিল শ্রীশ্রীঠাকুরের নির্দেশেই।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই নোতুন ইষ্টভৃতি মন্ত্র চালু হয়েছিল ১৯৬৪ সালে ২৭শে মে অর্থাৎ ঠাকুরের দেহ রাখার সাড়ে ৪ বছর আগে। ১৯৩৮ সালে চালু হওয়া ইষ্টভৃতির মন্ত্র সবাই সমস্ত সৎসঙ্গীরাই করতেন। আবার ১৯৬৪ সালে যখন নোতুন মন্ত্র চালু হ'লো তখন তো শ্রীশ্রীঠাকুর স্বয়ং ছিলেন এবং তিনি সেই মন্ত্র অনুমোদন করেছিলেন। তাহ'লে কি সেই মন্ত্র স্বয়ং শ্রীশ্রীঠাকুর ইষ্টভৃতি করার সময় করতেন না? শ্রীশ্রীঠাকুরের দ্বিতীয় সন্তান শ্রদ্ধেয় পূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবিবেকদাদা ও তাঁর পরিবার নোতুন মন্ত্রে ইষ্টভৃতি করতেন না? শ্রীশ্রীঠাকুরের কনিষ্ঠ সন্তান শ্রদ্ধেয় পূজ্যপাদ শ্রীশ্রীকাজলদাদা, শ্রীশ্রীছোটোমা এবং শ্রীশ্রীকাজলদাদার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা নোতুন ইষ্টভৃতি মন্ত্রোচ্চারণে ইষ্টভৃতি করতেন না? শ্রীশ্রীঠাকুর থাকতেই যে নোতুন ইষ্টভৃতি মন্ত্রের উদ্ভব হয়েছিল তাহ'লে কি তখন শ্রীশ্রীবিবেকদাদা ও শ্রীশ্রীকাজলদাদা সহ তাদের পরিবারের সবাই শ্রীশ্রীঠাকুরের নির্দেশ ও অনুমোদিত নোতুন ইষ্টভৃতি মন্ত্র অস্বীকার করেছিলেন ও অস্বীকার ও অমান্য ক'রে পুরোনো ইষ্টভৃতি মন্ত্রেই ইষ্টভৃতি করতেন? আর শ্রীশ্রীবড়দা ও তাঁর পরিবার নোতুন মন্ত্রে ইষ্টভৃতি করতেন? তৎকালীন শ্রীশ্রীঠাকুরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বিশিষ্ট ভক্তমন্ডলী যারা আজও বেঁচে আছেন তাঁরা সেইসময় সেই নোতুন ইষ্টভৃতি মন্ত্র উচ্চারণ ক'রে ইষ্টভৃতি করতেন? নাকি শ্রীশ্রীঠাকুরের নির্দেশ অমান্য ক'রে পুরোনো ইষ্টভৃতি মন্ত্রেই ইষ্টভৃতি করতেন? এ সম্পর্কে পুরোনো ইষ্টপ্রাণ বিশিষ্ট সৎসঙ্গীরা সবার সুবিধার্থে কিছু বলবেন? তামাম সৎসঙ্গীরা কোন মন্ত্রে ইষ্টভৃতি করতেন তখন? তখন তো শ্রীশ্রীঠাকুর দেহরূপে সুস্থাবস্থায় বিদ্যমান। আমি যতটুকু জানি, আমার দীক্ষা হয়েছিল ১৯৬৬সালে ১২ বছর বয়সে। আমার যিনি ঋত্বিক ছিলেন তাঁর নাম ছিল শ্রী হরপ্রসন্ন মজুমদার। আমার পিতা-মাতা ও আমার বড়দার ঋত্বিক ছিলেন শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রথম ৬জন যতি ঋত্বিকের একজন শ্রদ্ধেয় যতি ঋত্বিক শ্রীনরেন্দ্রনাথ মিত্র। আমার আত্মীয়স্বজনদের অনেকেই ছিলেন শ্রীনরেন্দ্রনাথ মিত্রের যজমান। সেইসময় আমাকে যখন দীক্ষা দিয়েছিলেন আমার ঋত্ত্বিক শ্রীহরপ্রসন্ন মজুমদার তখন তিনি আমাকে যে ইষ্টভৃতি মন্ত্র পাঠ করিয়েছিলেন তা হ'লো আমার দীক্ষার দু'বছর আগে ১৯৬৪ সালে প্রবর্তিত নোতুন ইষ্টভৃতি মন্ত্র। কিন্তু আমার পিতামাতা ও বড়দা ১৯৬৪ সালের নোতুন মন্ত্র প্রবর্তিত হওয়ার বহু আগেই দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। তখন তাঁরা পুরোনো ইষ্টভৃতি মন্ত্রে ইষ্টভৃতি করতেন। পরে নোতুন মন্ত্রে ইষ্টভৃতি করেন। এবং বহু আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত জনেরা পুরোনো ইষ্টভৃতি মন্ত্রে ইষ্টভৃতি করার পর নোতুন মন্ত্রে ইষ্টভৃতি শুরু করেন।

যাই হ'ক। এর থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার হয় সেইসময় অর্থাৎ ১৯৬৪ সালে তামাম সৎসঙ্গী শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবদ্দশায় নোতুন ইষ্টভৃতি মন্ত্রে ইষ্টভৃতি করতেন। যত গন্ডগোলের সূত্রপাত হয় শ্রীশ্রীঠাকুরের দেহাবসানের পরে। এতে মুখ্য ভুমিকা নিয়েছিলেন সেইসময়ের ইষ্টপ্রাণ বিশিষ্ট ভক্তমন্ডলী। শুরু হয় শ্রীশ্রীবড়দার কঠোর, দৃঢ়, মজবুত, বলিষ্ঠ, পাহাড় সমান উচ্চতায় অবতীর্ণ পাথুড়ে ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সংঘাত। শুরু হয় ইষ্টপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে আত্মপ্রতিষ্ঠা ও Vested interest- এর লড়াই। ক্ষমতা দখল, কায়েমী স্বার্থ রক্ষা ও মৌরসী পাট্টা বজায় রাখা, সঙ্গে ব্যক্তি স্বার্থে ঘা লাগার লড়াই। শ্রীশ্রীবড়দার কঠোর বলিষ্ঠ আপোষরফাহীণ ভয়ংকর ব্যক্তিত্বের কাছে হার মেনে ব্যর্থ হ'য়ে শেষে শ্রীশ্রীবড়দার বিরুদ্ধে শ্রীশ্রীঠাকুরের অবর্তমানে প্রার্থনা, ইষ্টভৃতি মন্ত্র, বাণী বদল, ফটো রাখা ইত্যাদির ইস্যুকে হাতিয়ার ক'রে নেয়। তামাম সৎসঙ্গীদের বিভ্রান্ত করার জন্য শ্রীশ্রীঠাকুরের সৃষ্টি মূল 'সৎসঙ্গ' প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিকৃত ও অবিকৃত ইষ্টপ্রচারের পতকা উড়িয়ে নেমে পড়ে ময়দানে, যে লজ্জাস্কর, দুঃখজনক, ট্রাডিশান আজও ৫৫বছর ধ'রে চলছে।

আর একটা কথা, বিরোধীরা পুরোনো ইষ্টভৃতি মন্ত্রে যে ইষ্টভৃতি করেন সেখানে দ্বিতীয় লাইনে আছে , "-----ইষ্টভ্রাতৃ-ভূতযজ্ঞেস্তৃপ্যন্তু পারিপার্শ্বিকাঃ।" অর্থাৎ ভ্রাতৃভোজ্য-ভূতভোজ্য রূপ যজ্ঞ দ্বারা পারিপার্শ্বিক তৃপ্ত হউক।"

আমার জিজ্ঞাস্য, যেভাবে শ্রীশ্রীঠাকুর দেহ রাখার পর থেকে আজ পর্যন্ত ৫৫ বছর ধ'রে ঠাকুর পরিবারের বিরুদ্ধে প্রার্থনা, ইষ্টভৃতি মন্ত্র, শ্রীশ্রীঠাকুরের পাশে অন্যান্যদের ফটো রাখা, বাণী পরিবর্তন ইত্যাদি মিথ্যা অভিযোগে একের পর এক আক্রমণ হ'য়ে চলেছে, কুৎসা, নিন্দা, কটু সমালোচনা, অপমান, অশ্রদ্ধা প্রদর্শন হ'য়ে চলেছে প্রকাশ্যে উৎসবে ও মিডিয়ায় একের পর এক ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে তখন ঐ পুরোনো ইষ্টভৃতি মন্ত্র "ইষ্টভ্রাতৃ-ভূতযজ্ঞেস্তৃপ্যন্তু পারিপার্শ্বিকাঃ" অর্থাৎ ভ্রাতৃভোজ্য-ভূতভোজ্য রূপ যজ্ঞ দ্বারা পারিপার্শ্বিক তৃপ্ত হউক" উচ্চারণে পারিপার্শ্বিক তৃপ্ত হচ্ছে তো? কথাটা একবার ভেবে দেখবার জন্য অনুরোধ রইলো পুরোনো ইষ্টভৃতি মন্ত্র উচ্চারণে ইষ্টভৃতি করা বিরোধীদের।

আর একটা কথা, বিরোধীরা একভক্তি বিশিষ্যতের কথা তুলে শ্রীশ্রীঠাকুরের পাশে শ্রীশ্রীবড়মা, শ্রীশ্রীবড়দা ও শ্রীশ্রীআচার্যদেবের ফটো রাখার তীব্র নিন্দা ক'রে বিরোধীতা করেন এবং তাঁরা মন্দিরে শ্রীশ্রীঠাকুরের মূর্তি ছাড়া আর কোনও ফটো রাখেন না। তাঁরা এক ও অদ্বিতীয়ের নাকি আরাধনা করেন আর তা ঢাক পিটিয়ে মঞ্চে, ফেসবুকে, ইউটিউবে ভিডিওর মাধ্যমে প্রচার ক'রে প্রমাণ করেন তারাই একমাত্র অবিকৃত ভাবে শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রচার করেন আর শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত 'সৎসঙ্গ' প্রতিষ্ঠান শ্রীশ্রীবড়দার নেতৃত্বে বিকৃত ভাবে শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রচার করেন। যদি তাই হয়, তাহ'লে ইষ্টভৃতি মন্ত্রের সময় তাদের একভক্তি বিশিষ্যতে ফিলসপি কোথায় থাকে? তখন বিরোধীরা ইষ্টভৃতি পুরোনো মন্ত্রোচ্চারণের সময় যখন ইষ্টের সঙ্গে সঙ্গে একই মন্ত্রের মধ্যে দিয়ে ভাতৃভোজ্য ও ভূতভোজ্য নিবেদন করেন তখন ইষ্টের সঙ্গে যোগসূত্র নষ্ট হয় না? তখন একভক্তি বিশিষ্যতে আঘাত পায় না? কোথায় থাকে তখন এক ও অদ্বিতীয়ের আরাধনা? ইষ্টদেবতাকে ভোজ্যের অনুকল্প রূপ অর্ঘ্য দেওয়ার সময় ইষ্টের সঙ্গে একই আসনে ভ্রাতৃগণ ও ভূতগণ সব একাকার হ'য়ে খিচুড়ি হ'য়ে বসে পড়েন একই লাইনে ভোজ্য নেওয়ার জন্য? তখন কোথায় থাকে তাঁর কেউ শরীক নয়, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তিনিই আচার্য, তিনিই ইষ্ট, তিনিই গুরু, তিনিই পুরুষোত্তম এই বোধ? এক ও অদ্বিতীয় ইষ্টদেবতাকে ভোজ্য সমর্পণের সময় গোয়াল ঘর বানাতে তখন চৈতন্য জাগ্রত হয় না মহাপন্ডিত, মহাজ্ঞানী, মহাত্মা ইষ্টপ্রাণ বিশিষ্ট ভক্তপ্রবরদের?

নমস্কার। আজ এই পর্যন্ত। পরবর্তী ভিডিওতে যারা আমাকে আমার ভিডিওতে প্রশ্ন করেছেন তাদের সেই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব নিয়ে আসবো। জয়গুরু।

Tuesday, March 19, 2024

প্রবন্ধঃ করোনা ও ক'রোনা (৩)

করোনা ভাইরাসে যখন গোটা বিশ্বের পায়ের তলার মাটি নড়ে গিয়ে সারা বিশ্বজুড়ে প্রানের বুকে ভয়াবহ ভূমিকম্পের আকার ধারণ করেছে তখন নড়ে বসেছে বিশ্বের সমস্ত প্রথম সারির এলিট সম্প্রদায় আর চড়ে বসেছে প্রশাসন। এই মরণকালে হরির নামের মালা জপার মত এখন চতুর্দিকে কাগজে, টিভিতে, রেডিওতে, ফোনে, নেটে, পথে পথে, মাঠে- ঘাটে, কলে-কারখানায়, অফিসে-কাছাড়িতে, দোকানে-বাজারে, স্কুল-কলেজে শুধু সদাচার, সদাচার আর সদাচারের ঢাক পিটিয়ে চলেছে বিশ্ব জুড়ে সচেতন প্রশাসক থেকে শুরু ক'রে আম জনতা। কেন!!!!!!!!


মৃত্যুভয়! একটাই ভয় মানুষকে, ট্যারাব্যাকা ঘেতো মানুষকে সিধে করে তা হ'লো মৃত্যুভয়!! আর তখন ত্রাহি ত্রাহি রবে ভয়ে দিগ্বিদিক হ'য়ে উচ্শৃঙ্খল আচরণে লম্প দিয়ে ঝম্প মারে বাঁচাবার তাগিদে। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র মানুষকে ধর্মের প্রকৃত স্বরূপ বাঁচা-বাড়ার পথ দেখাতে বিভিন্ন বাণীর মধ্যে দিয়ে হাতে কলমে ক'রে করিয়ে সচেতন করার প্রয়াস ক'রে গেছেন দীর্ঘ ৮২বছর দেহ রাখার শেষ দিন পর্যন্ত। তিনি তাঁর বাণীতে এই ভয়ঙ্কর মারণরোগের হাত থেকে বাঁচতে 'ক'রো না' সম্পর্কে অর্থাৎ ভুল করা থেকে বিরত থাকতে বলেছিলেন,


রোগগ্ৰস্ত যখন তুমি
জন-সংসর্গ হইতে যতদূর সম্ভব দূরে থাকিও,-
নজর রাখিও, তোমা হইতে কেহ সংক্রামিত না হয়;
যাঁহারা তোমার সেবা-শুশ্রূষায় নিরত আছেন
তাঁহারা যেন শুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন না হইয়া
জন-সংসর্গে না যান;
আর, শোওয়া, বসা, আলাপ ইত্যাদিতেও
খুব সাবধান থাকিও,-
যেন ইহাতে তোমার রোগ
অন্যে সংক্রামিত না হয়-
তোমার এই রোগগ্রস্ত অবস্থা
কাটিয়া গেলেই
পুনরায় আক্রান্ত হইবার ভয়
কমই থাকিবে;
তাই বলিয়া রোগত্রস্ত হইয়া থাকিও না ! ২৩৮(চলার সাথী)।
শ্রীশ্রীঠাকুর রোগগ্রস্ত অবস্থায় রোগত্রস্ত না হওয়ার জন্যও আবেদন জানিয়ে রেখেছেন।
ক্রমশঃ।
(লেখা ২০শে মার্চ'২০২০)

প্রবন্ধঃ করোনা ও ক'রোনা (২)

করোনা আতঙ্কে এখন সারা বিশ্ব আতঙ্কগ্রস্ত। এই রোগের প্রতিষেধক এখনও নেই যা এই মারণাস্ত্রকে খতম করতে পারে। জমিদার থেকে জমাদার সবাই তটস্থ। সবাই চায় বাঁচতে। ঠেলার নাম বাবাজী-মাইজী। ঠেকায় পড়লে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খায়! যেমন দেশ ও বিশ্ব জুড়ে শত্রু-মিত্র এই মারণ রোগের হাত থেকে বাঁচবার তাগিদে এক সুরে কথা বলছে, পরামর্শ দিচ্ছে যা কিনা সম্পূর্ণ সদাচার নির্ভর। আর দ্রষ্টাপুরুষ রক্তমাংসের জীবন্ত নারায়ণ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বহু পূর্বেই বিশদ আকারে বলে গেছেন। যা কিনা কেউ গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করেনি, মনে করেনি দেশের বুদ্ধিজীবী, সমাজসেবী, সমাজ সংস্কারক, ধর্ম ও দেশনেতারা তাঁকে মানবজাতির বাঁচা-বাড়ার স্বার্থে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে আবির্ভুত পরমাত্মা পুরুষোত্তম হিসেবে মেনে নিতে! পুরুষোত্তম পরমাত্মা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র যে ভবিষ্যৎ ভয়ঙ্কর পৃথিবীর কথা বলে গেছেন তার কাছে এই করোনা ভাইরাস নস্য মাত্র; সামান্য এক মারণাস্ত্র!


যাই হ'ক এই ভয়াবহ মারণাস্ত্র থেকে বাঁচার প্রতিষেধক হিসেবে প্রশাসন থেকে যা বলা হচ্ছে তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যাক বহু পূর্বেই শ্রীশ্রীঠাকুর এই সম্পর্কে আরো কি কি বলেছিলেন। কি কি সদাচার মেনে চলতে বলেছিলেন আর কি কি করতে না বলেছিলেন অর্থাৎ অসদাচারী জীবন যাপন থেকে দূরে থাকতে বলেছিলেন।
শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন,
রোগ হ'লে তুই থাকিস স'রে কিছুতেই তা' ছড়াবি না,
ছোঁয়াছুঁয়িতে নাকাল হ'বি সাবধান ওটা চারাবি না।১৬
নাকে-মুখে আঙ্গুল দিয়ে অমনি তাহা ধুতেই হয়,
নইলে কুটিল রোগের হাতে নষ্ট মানুষ হয়ই হয়।১৭
দাঁড়িয়ে হাগা, প্রস্রাব করা দুই-ই মস্ত কু-অভ্যাস,
স্নায়ু শিথিল কৈলব্য আসে থাকেই হ'য়ে ব্যাধির দাস।১৮
পরের গামছা কাপড় পরা বিছানা-বালিশে শোওয়া,
ব্যাধির বিপাক দুর্দ্দশাকে কুড়িয়ে দেহে নেওয়া।
বিছানার চাদর বালিশের ওয়াড় নিত্য-ব্যবহারী কাপড়-জামা
জলে ধুয়ে রৌদ্র-তপ্ত না করলে ঘটে ঢের হাঙ্গামা।২৩
ক্রমশঃ। ( লেখা ২০শে মার্চ'২০২০)