আমরা সাধারণ মানুষ যারা বৃত্তি-প্রবৃত্তির বৃত্তে ঘুরে মরি, রিপু তাড়িত জীবনের অধিকারী হ'য়ে এই ছোট্ট অল্প দিনের জন্য আসা জীবনে সমস্যা জর্জরিত হ'য়ে শরীরে-মনে-আত্মায় ক্ষতবিক্ষত হ'য়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করি তারা আমরা জীবকোটি মানুষ। অর্থাৎ জীবত্মায় শুরু জীবাত্মায় শেষ। বৃত্তি-প্রবৃত্তির আঠায় লেপ্টে থাকে আমাদের ছোট্ট মন ও হৃদয় তা আমরা ব্যবহারিক জীবনে যে যত বড় ও সফল আর ছোটো ও অসফল হ'ই না কেন। ফলে আমরা জ্ঞানের আলোক প্রাপ্ত হওয়া থেকে বঞ্ছিত হ'ই। আর তাই জীবাত্মার অর্থাৎ জীবের আত্মা থেকে মহান আত্মা অর্থাৎ মহাত্মায় উত্তরণ ঘটে না।
পরিশেষে পরমাত্মায় বিলীন হয় না জীবাত্মা থেকে উদ্ভুত মহাত্মারও। জীবের আত্মায় অর্থাৎ রিপুতাড়িত বৃত্তির বৃত্তে ঘুরপাক খেয়ে অন্তিম লাভ করে জীব। এমনকি মহাত্মারও জীবন সুক্ষ্ম ইগোর কারণে জীবন্ত রক্তমাংসের পরমাত্মায় আত্মসমপর্ণ করতে পারে না। তাই ঈশ্বরকোটি পুরুষ হওয়া থেকে বঞ্চিত হয় কোনও কোনও জীবন উচ্চমার্গের আধ্যাত্মিক জীবনের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও।
আর, জীব যখন বৃত্তি-প্রবৃত্তিকে ভেদ ক'রে ষড়রিপুকে জয় ক'রে তার জীবনের গতিকে ঊর্ধ্বপানে এগিয়ে নিয়ে যায়, বৃত্তিভেদী টানে বৃত্তি-প্রবৃত্তির অধীশ্বর হ'য়ে প্রকৃত বাঁচা-বাড়ার লক্ষ্যে মহান গতির দিকে ধাবিত হয় ইষ্টকে বা প্রেষ্ঠকে লক্ষ্য ক'রে তখন অবশেষে জীবাত্মা মহাত্মায় পরিণত হয়।
এই যে বৃত্তি-প্রবৃত্তির অধীশ্বর হ'য়ে রিপুকে কন্ট্রোল ক'রে করায়ত্ত করে, তা হয় একমাত্র আদর্শের প্রতি অটুট টানের ফলে। এই আদর্শ আমার হ'তে হবে সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ অর্থাৎ আমার জীবন্ত ইষ্ট বা প্রেষ্ঠ। এই জীবন্ত ইষ্ট বা প্রেষ্ঠের প্রতি অচ্যুত অস্খলিত অটুট টানের ফলে খেয়াল মাফিক উচ্ছৃঙ্খল উদভ্রান্তের মতো ছুটে চলা বৃত্তি-প্রবৃত্তির সুন্দর সমাহার ঘটে। বৃত্তি-প্রবৃত্তির অধীশ্বর হয় সে। ষড়্ররিপু তার প্রভু হয় না, ষড়রিপুর প্রভু হয় সে। তার কথায় ষড়রিপু ওঠে বসে। বৃত্তি-প্রবৃত্তির লাগাম থাকে তাঁর হাতে। তাঁর আত্মা জীবাত্মার স্তর পেরিয়ে মহাত্মায় উত্তীর্ণ হ'য়ে পরমাত্মায় মিলিয়ে যায়।
আর, তখন তাকেই বলে ঈশ্বরকোটি পুরুষ। আর এ এক জন্মের ব্যাপার নয়। বহু জন্ম সাধনার ফলে ও ব্রহ্মে অর্থাৎ বৃদ্ধিতে বিচরণের ফলে ঈশ্বরকোটি পুরুষরূপে জন্মলাভ করে। যে কেউ ঈশ্বরকোটি পুরুষ হ'তে পারে না। আবার ঈশ্বরকোটি পুরুষ নেবে আসার জন্যেও সেইরূপ আধার চাই। আর এই ঈশ্বরকোটি জনমই শ্রেষ্ঠ জনম।
ঈশ্বরকোটি মানুষ কর্মফল ভোগ করে না। আর জীবকোটি মানুষকে কর্মফল ভোগ করতেই হয় জন্মজন্মান্তর।
এবার দেখি শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন।
শ্রীশ্রীঠাকুর-----ঈশ্বর অনুগামী পুরুষ যারা তারা ঈশ্বরকোটি ৷ তাঁরা সব কাজের মধ্যে ঈশ্বরকে নিয়ে চলেন ৷ আর , কাম , ক্রোধ , লোভ , মদ , মোহ , মাৎসর্য্য , ইত্যাদির অনুবর্তী হয়ে যারা চলে তারা জীবকোটি মানুষ ৷
"বৃত্তি-আঠায় লেপটে থাকে
ছোট্ট হৃদয়খান,
জীবকোটি তুই তা'রেই জানিস
অজানাতেই স্থান।"
আবার,
"প্রেষ্ঠনেশার অটূট টানে
বৃত্তি-সমাহার,
ঈশ্বরকোটি তাঁকেই জানিস্
শ্রেষ্ঠ জনম তাঁ'র।"---শ্রীশ্রীঠাকুর।
শ্রীশ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ বললেন — "অবতার বা অবতারের অংশ, এদের বলে ঈশ্বরকোটি আর সাধারণ লোকদের বলে জীব বা জীবকোটি। যারা জীবকোটি তারা সাধনা করে ঈশ্বরলাভ করতে পারে; তারা সমাধিস্থ হয়ে আর ফেরে না।
আর, “যারা ঈশ্বরকোটি — তারা যেমন রাজার বেটা; সাততলার চাবি তাদের হাতে। তারা সাততলায় উঠে যায়, আবার ইচ্ছামতো নেমে আসতে পারে।
জীবকোটি যেমন ছোট কর্মচারী, সাততলা বাড়ির খানিকটা যেতে পারে ওই পর্যন্ত।” যারা জীবকোটি, তারা মনে করলেই মুক্ত হতে পারে না I জীবেরা কামিনীকাঞ্চনে বদ্ধ I ঘরের জানালা স্ক্রু দিয়ে আটা, বেরুবে কেমন করে?"
চেষ্টা করলাম ঈশ্বরকোটি ও জীবকোটি পুরুষ ব্যাখ্যা করার।
আসুন আমরা সেই সাধনায় ব্রতী হ'ই। জয়গুরু।
প্রবি।
উত্তরপাড়া, ভদ্রকালী,
হুগলী।
( ঈশ্বর ও ঈশ্বরকোটি পুরুষ হ'লেন শ্রীশ্রীঠাকুর ও শ্রীশ্রীআচার্যদেব বাবাইদাদা। )
Friday, June 9, 2023
চিঠিঃ সৎসঙ্গের ইয়ং জেনারেশনের প্রতি খোলা চিঠি।
শ্রীশ্রীঅবিনদাদা কি ঢোল কোম্পানীর মলম? নাকি মলম বেচেন?
পূজনীয় শ্রীশ্রীঅবিনদাদার নামে তৈরী একটা পেজে অবিনদাদার উদ্দেশ্যে এক মায়ের তাঁর স্বামীর অ্যালার্জি নিরাময়ের কাতর প্রার্থনা জানিয়ে একটা পোষ্ট দেখলাম। তিনি লিখছেন, পুজনীয় অবিনদাদা আমার স্বামীর অ্যালার্জি ভালো ক'রে দাও। বুঝলাম অ্যালার্জির সমস্যা তীব্র। বোঝার চেষ্টা করলাম কঠিন সমস্যাটা ও মানসিক কষ্টের অবস্থাটা। আর সেইভাবেই চেষ্টা করলাম সর্বাঙ্গীণ আলোচনা করার।
প্রথমতঃ পোষ্ট পড়ে বুঝলাম অজ্ঞতা, ভারসাম্যহীন ভক্তি মানুষকে কোথায় নিয়ে যায়। মাঝ নদীতে নৌকা ডুবলে যেমন মানুষ খড়কুটো ধ'রে বাঁচতে চায় ঠিক তেমনি সমস্যা জর্জরিত মানুষ সামনে যা পায় তাই ধ'রে নিস্তার পেতে চায়। এদের কাছে কারও কোনও গুরুত্ব নেই। যখন যাকে সামনে পায়, নোতুন কিছু দেখে তা'তেই ঢলে পড়ে, নির্ভর করে, বিশ্বাস করে। এই ঢলে পড়া, নির্ভরতা, বিশ্বাস সাময়িক, ঠুনকো। তারপর কিছুদিন গেলেই আবার নোতুনের চমকে চমকিত হয় এরা। তা' সোনাই হ'ক আর সোনার মতো চকচকে ইমিটেশনই হ'ক যাই-ই হ'ক। কোথাও এরা স্থির নয়। সবেতেই ফোকটে আর চটজলদি পাওয়ার প্রলোভন। এদের জীবনে মূল ব'লে কিছু নেই, মূলের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই, এরা পরগাছার মতো শুধু অন্যের রস শুষে খায়। শয়তানের কোলেই হ'ক আর ভগবানের কোলে ব'সেই হ'ক এরা রস শুষে খায়। যেনতেনপ্রকারেন নিজেরটা পেলেই হ'লো।
এইরকমের বহু পোষ্ট দেখি ফেসবুকে ও পেজগুলিতে।
তা' নিজের প্রোফাইলেই হ'ক আর অন্য কোনও পেজেই হ'ক। নিজের প্রোফাইল ছাড়া অবিনদা নামাঙ্কিত অন্য কোনও পেজে যখন দেখি এইধরণের পোষ্ট তখন ভাবি ঐ পেজের অ্যাডমিন যারা তাদের ভুমিকা কি? কেন তারা নীরব? তারা কি দায়িত্ব নিয়েই নিয়েছে এই পেজের মাধ্যমে অবিনদাকে প্রেম, ভক্তি, ভালোবাসা ও মুশকিল আসানকারী হিসেবে দেখাবার অছিলায় সৎসঙ্গ বিরোধীদের কাছে অবিনদার ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করার রসদ তুলে দেবে ব'লে? সাধারণ ভাঙাচোরা মানুষ তাদের মূর্খতার কারণে না বুঝে এমন ধরণের পোষ্ট করতেই পারে শ্রীশ্রীআচার্যদেব ও শ্রীশ্রীঅবিনদাকে বিপদতারণ দেবতা মনে ক'রে। কিন্তু পেজের অ্যাডমিনরা কেন তাদের দায়িত্ব পালন করে না? কেন তারা অবিনদার নামে এত পেজ খুলে বসে আছে? ভক্তির হাউই বাজির ফোয়ারা ছোটাতে? তারা যখন অবিনদাদার প্রতি ভক্তির তুফান তুলে ভালোবাসার নাউ ভাসিয়েছে তো সেই নাউয়ে ডুবন্ত মানুষকে তুলে নিক! তাদের রেস্কিউ করুক, পরিচর্যা করুক, গাইড করুক, সঠিক পথ দেখাক! তাই নয় কি? নাকি চুলকানি রোগের মতো একটা পেজ খুলে বসে ভালোবাসা চুলকাতে বসে গেলাম।?
যাই হ'ক হয় অ্যাডমিনরা দায়িত্ব সচেতন হ'ক আর না হয় পেজ বন্ধ ক'রে দিক। অহেতুক অবিনদাকে নিয়ে বিরোধীদের কুৎসা করার সুযোগ ক'রে দেবেন না যদি অবিবদাদাকে আপনারা ইয়ং জেনারেশন ভালোবাসেন।
এবার আসি পোষ্টের ব্যাখ্যায়।
একেই বলে বিচ্যুতি ও ব্যভিচারী ভক্তি। আবেগ ভালো আবেগে ভেসে যাওয়া ভালো না। শ্রীশ্রীঅবিনদাদা স্বপ্নে পাওয়া কোনও ঢোল কোম্পানির মলম বেচেন নাকি যে তিনি মলম দিয়ে রোগ সারিয়ে দেবেন? নাকি তাঁর উপর ভর হয় যে তিনি ঝাড়ফুঁক ক'রে, গায়ে হাতের ঝালর বুলিয়ে রোগ সারিয়ে দেবেন? শ্রীশ্রীঅবিনদাদা বলেছেন নাকি ঠাকুরকে বাদ দিয়ে তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে? নাকি আচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদা আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছেন বা দিচ্ছেন ঠাকুর থেকে ঠাকুর বংশধর বড়ো হ'য়ে উঠুক সৎসঙ্গীদের কাছে? এইভাবেই আমরা তাঁদের বিরক্তির কারণ হ'য়ে উঠি। তাঁরা মুখ বুঝে এইসব বালখিল্য ভক্তদের ভালোবাসার যন্ত্রণা সহ্য করেন, সহ্য করেন কুৎসাকারীদের গালাগালি। এইসমস্ত ব্যভিচারী ভক্তির ফলে সুযোগসন্ধানী বিরোধীরা ফোকটে পেয়ে যাওয়া মেঘ না চাইতেই জলের মতো পেয়ে যায় ঠাকুরবাড়ির কুৎসা করার মালমশালা। এইরকম বালখিল্য ভক্তকুলের ব্যভিচারী ভালোবাসার জন্যেই ঠাকুর পরিবারের বিরুদ্ধে কুৎসা করার সুযোগ পেয়ে এসেছে বিরোধীরা।
এটা আমরা যেন মাথায় রাখি, ভুলে না যায় যে দীক্ষাটা আমরা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের নিয়েছি, শ্রীশ্রীঅবিনদাদার নিইনি। শ্রীশ্রীআচার্যদেব বা শ্রীশ্রীঅবিনদাদা আমাদের ইষ্ট বা গুরু নন। একশ্রেণীর সৎসঙ্গীদের আচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদা ও শ্রীশ্রীঅবিনদাদার উদ্দেশ্যে এসব প্রকাশ্যে প্রার্থনার প্রচার যেমন সৎসঙ্গীদের মধ্যে ভুল বার্তা পৌঁছায় ঠিক তেমনি সৎসঙ্গীদের ঠাকুর থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। না বুঝে, না জেনে, না মেনে ঠাকুরবাড়ি না গিয়ে, আচার্য সঙ্গ না ক'রে, মন্দিরের সঙ্গে কিংবা ইষ্টপ্রাণ ও আচার্য কেন্দ্রিক গুরুভাইবোনেদের সঙ্গে সঙ্গ না করার ও যোগাযোগ না রাখার ফলে আমরা নিজেরা তো ঠাকুর থেকে দূরে সরে গেছি আর একশ্রেণীর সৎসঙ্গীদের ঠাকুরের ও ঠাকুরবাড়ির পক্ষ থেকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তাদের অপছন্দের এরকম প্রার্থনা প্রকাশ্যে ক'রে চলেছি। ফলে অন্যান্য গুরুভাইবোনেরা ভুল শিক্ষায় শিক্ষিত হ'য়ে ঠাকুর থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন এবং ঠাকুরের দয়া থেকে যারা এমন ভুল বিকৃত প্রার্থনা করছেন এবং যারা সরে যাচ্ছেন তারা সবাই বঞ্চিত হচ্ছেন।
আর এই নিজেদের দোষের কারণে ঠাকুরের দয়া থেকে যখন বঞ্চিত হচ্ছেন তখন ঠাকুরের ওপর সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ছে আর অবিশ্বাসের জন্ম হচ্ছে।
আপনি আপনার সমস্যা নিয়ে কিম্বা যার হয়েছে তাকে নিয়ে বরং যথাশীঘ্র সম্ভব ঠাকুরবাড়ি যান। ঠাকুরবাড়ি গিয়ে আচার্যদেবের কাছে সমস্যা নিবেদন করুন। আচার্যদেব যা যা ব'লে দেবেন তা মন দিয়ে শুনুন আর অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করুন ঠাকুরের প্রতি গভীর বিশ্বাস আর নির্ভরতা নিয়ে। শ্রীশ্রীঅবিনদাদার দর্শন ও প্রণাম করুন। তাঁর সঙ্গে কথা বলুন। আচার্যদেবের অনুপস্থিতিতে তাঁর কাছে আপনার সমস্যা নিবেদন করুন। পথ পাবেন, পথ পাবেন, নিশ্চিত পথ পাবেন।
আর অ্যালার্জি রোগের ক্ষেত্রে যেটা করণীয় সেটা করুন।
করণীয় যা তা হ'লো সকালে প্রতিদিন ইষ্টভৃতি নিষ্ঠার সঙ্গে ঠাকুরকে নিবেদন করুন, তারপর তা যথাস্থানে পাঠিয়ে দিন মাসান্তে। প্রতিদিন ঠাকুরকে ভক্তি ভ'রে ফুল জল নিবেদন করুন তারপর সেই জল আলাদা গ্লাসে ঢেলে ভক্তিভরে পান করুন। পেলে প্রতিদিন থানকুনি পাতা খান। দু'বেলা প্রার্থনা করুন। না পারলে অন্তত শুক্রবার করুন। সবসময় খুব খুব নাম করুন। সব কাজের মধ্যে নামময় হ'য়ে থাকুন। সাত্ত্বিক নিরামিষ রান্না খান। ধুলোবালি, ওষুধ, রাসায়নিক যুক্ত প্রসাধন সামগ্রী এবং যে সব বস্তু ব্যবহারে এলার্জি হয় সেগুলি ডিটেক্ট করুন এবং সেসব থেকে দূরে থাকুন। পরিস্কার পরিছন্ন থাকুন। পাতলা জামাকাপড় পড়ুন। খাবারের মধ্যে ভিটামিন সি ও ভিটামিন-ই আছে যেসব খাবারে সেসব খাবার খান। দই খান। আমিষ খাবারে চিঙি মাছ, বেগুন, ইলিশ মাছ ইত্যাদি খাবার বর্জন করুন।
সর্বোপরি আবার বলি, আগে ডাক্তার দেখান। ডাক্তারের নির্দেশ মেনে চলুন। নিষ্ঠার সঙ্গে ইষ্টভৃতি করুন। নাম করুন, খুব নাম করুন, নামের তীব্রতা বাড়ান। নামের আগুনের তীব্রতায় শরীরের সমস্ত জার্ম জ্বলেপুড়ে শেষ হ'য়ে যাক। ঠাকুরবাড়ি আসুন, ঠাকুর পরিবারের বংশধরদের দর্শন করুন, আলাপ করুন। ঠাকুরবাড়ির পরিবারের কারও গায়ে প্রাণ গেলেও আঁচড় পড়তে দেবেন না। এ পাপ, মহাপাপ। গ্যারান্টি চিরকালীন নিরাময় হ'য়ে যাবেন।
আশা করি ইয়ং জেনারেশন আমার অভিপ্রায় বুঝবেন।
জয়গুরু।
প্রবি।
উত্তরপাড়া, ভদ্রকালী,
হুগলী।
( ১৯শে মে'২০২৩ )
পূজনীয় শ্রীশ্রীঅবিনদাদার নামে তৈরী একটা পেজে অবিনদাদার উদ্দেশ্যে এক মায়ের তাঁর স্বামীর অ্যালার্জি নিরাময়ের কাতর প্রার্থনা জানিয়ে একটা পোষ্ট দেখলাম। তিনি লিখছেন, পুজনীয় অবিনদাদা আমার স্বামীর অ্যালার্জি ভালো ক'রে দাও। বুঝলাম অ্যালার্জির সমস্যা তীব্র। বোঝার চেষ্টা করলাম কঠিন সমস্যাটা ও মানসিক কষ্টের অবস্থাটা। আর সেইভাবেই চেষ্টা করলাম সর্বাঙ্গীণ আলোচনা করার।
প্রথমতঃ পোষ্ট পড়ে বুঝলাম অজ্ঞতা, ভারসাম্যহীন ভক্তি মানুষকে কোথায় নিয়ে যায়। মাঝ নদীতে নৌকা ডুবলে যেমন মানুষ খড়কুটো ধ'রে বাঁচতে চায় ঠিক তেমনি সমস্যা জর্জরিত মানুষ সামনে যা পায় তাই ধ'রে নিস্তার পেতে চায়। এদের কাছে কারও কোনও গুরুত্ব নেই। যখন যাকে সামনে পায়, নোতুন কিছু দেখে তা'তেই ঢলে পড়ে, নির্ভর করে, বিশ্বাস করে। এই ঢলে পড়া, নির্ভরতা, বিশ্বাস সাময়িক, ঠুনকো। তারপর কিছুদিন গেলেই আবার নোতুনের চমকে চমকিত হয় এরা। তা' সোনাই হ'ক আর সোনার মতো চকচকে ইমিটেশনই হ'ক যাই-ই হ'ক। কোথাও এরা স্থির নয়। সবেতেই ফোকটে আর চটজলদি পাওয়ার প্রলোভন। এদের জীবনে মূল ব'লে কিছু নেই, মূলের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই, এরা পরগাছার মতো শুধু অন্যের রস শুষে খায়। শয়তানের কোলেই হ'ক আর ভগবানের কোলে ব'সেই হ'ক এরা রস শুষে খায়। যেনতেনপ্রকারেন নিজেরটা পেলেই হ'লো।
এইরকমের বহু পোষ্ট দেখি ফেসবুকে ও পেজগুলিতে।
তা' নিজের প্রোফাইলেই হ'ক আর অন্য কোনও পেজেই হ'ক। নিজের প্রোফাইল ছাড়া অবিনদা নামাঙ্কিত অন্য কোনও পেজে যখন দেখি এইধরণের পোষ্ট তখন ভাবি ঐ পেজের অ্যাডমিন যারা তাদের ভুমিকা কি? কেন তারা নীরব? তারা কি দায়িত্ব নিয়েই নিয়েছে এই পেজের মাধ্যমে অবিনদাকে প্রেম, ভক্তি, ভালোবাসা ও মুশকিল আসানকারী হিসেবে দেখাবার অছিলায় সৎসঙ্গ বিরোধীদের কাছে অবিনদার ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করার রসদ তুলে দেবে ব'লে? সাধারণ ভাঙাচোরা মানুষ তাদের মূর্খতার কারণে না বুঝে এমন ধরণের পোষ্ট করতেই পারে শ্রীশ্রীআচার্যদেব ও শ্রীশ্রীঅবিনদাকে বিপদতারণ দেবতা মনে ক'রে। কিন্তু পেজের অ্যাডমিনরা কেন তাদের দায়িত্ব পালন করে না? কেন তারা অবিনদার নামে এত পেজ খুলে বসে আছে? ভক্তির হাউই বাজির ফোয়ারা ছোটাতে? তারা যখন অবিনদাদার প্রতি ভক্তির তুফান তুলে ভালোবাসার নাউ ভাসিয়েছে তো সেই নাউয়ে ডুবন্ত মানুষকে তুলে নিক! তাদের রেস্কিউ করুক, পরিচর্যা করুক, গাইড করুক, সঠিক পথ দেখাক! তাই নয় কি? নাকি চুলকানি রোগের মতো একটা পেজ খুলে বসে ভালোবাসা চুলকাতে বসে গেলাম।?
যাই হ'ক হয় অ্যাডমিনরা দায়িত্ব সচেতন হ'ক আর না হয় পেজ বন্ধ ক'রে দিক। অহেতুক অবিনদাকে নিয়ে বিরোধীদের কুৎসা করার সুযোগ ক'রে দেবেন না যদি অবিবদাদাকে আপনারা ইয়ং জেনারেশন ভালোবাসেন।
এবার আসি পোষ্টের ব্যাখ্যায়।
একেই বলে বিচ্যুতি ও ব্যভিচারী ভক্তি। আবেগ ভালো আবেগে ভেসে যাওয়া ভালো না। শ্রীশ্রীঅবিনদাদা স্বপ্নে পাওয়া কোনও ঢোল কোম্পানির মলম বেচেন নাকি যে তিনি মলম দিয়ে রোগ সারিয়ে দেবেন? নাকি তাঁর উপর ভর হয় যে তিনি ঝাড়ফুঁক ক'রে, গায়ে হাতের ঝালর বুলিয়ে রোগ সারিয়ে দেবেন? শ্রীশ্রীঅবিনদাদা বলেছেন নাকি ঠাকুরকে বাদ দিয়ে তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে? নাকি আচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদা আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছেন বা দিচ্ছেন ঠাকুর থেকে ঠাকুর বংশধর বড়ো হ'য়ে উঠুক সৎসঙ্গীদের কাছে? এইভাবেই আমরা তাঁদের বিরক্তির কারণ হ'য়ে উঠি। তাঁরা মুখ বুঝে এইসব বালখিল্য ভক্তদের ভালোবাসার যন্ত্রণা সহ্য করেন, সহ্য করেন কুৎসাকারীদের গালাগালি। এইসমস্ত ব্যভিচারী ভক্তির ফলে সুযোগসন্ধানী বিরোধীরা ফোকটে পেয়ে যাওয়া মেঘ না চাইতেই জলের মতো পেয়ে যায় ঠাকুরবাড়ির কুৎসা করার মালমশালা। এইরকম বালখিল্য ভক্তকুলের ব্যভিচারী ভালোবাসার জন্যেই ঠাকুর পরিবারের বিরুদ্ধে কুৎসা করার সুযোগ পেয়ে এসেছে বিরোধীরা।
এটা আমরা যেন মাথায় রাখি, ভুলে না যায় যে দীক্ষাটা আমরা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের নিয়েছি, শ্রীশ্রীঅবিনদাদার নিইনি। শ্রীশ্রীআচার্যদেব বা শ্রীশ্রীঅবিনদাদা আমাদের ইষ্ট বা গুরু নন। একশ্রেণীর সৎসঙ্গীদের আচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদা ও শ্রীশ্রীঅবিনদাদার উদ্দেশ্যে এসব প্রকাশ্যে প্রার্থনার প্রচার যেমন সৎসঙ্গীদের মধ্যে ভুল বার্তা পৌঁছায় ঠিক তেমনি সৎসঙ্গীদের ঠাকুর থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। না বুঝে, না জেনে, না মেনে ঠাকুরবাড়ি না গিয়ে, আচার্য সঙ্গ না ক'রে, মন্দিরের সঙ্গে কিংবা ইষ্টপ্রাণ ও আচার্য কেন্দ্রিক গুরুভাইবোনেদের সঙ্গে সঙ্গ না করার ও যোগাযোগ না রাখার ফলে আমরা নিজেরা তো ঠাকুর থেকে দূরে সরে গেছি আর একশ্রেণীর সৎসঙ্গীদের ঠাকুরের ও ঠাকুরবাড়ির পক্ষ থেকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তাদের অপছন্দের এরকম প্রার্থনা প্রকাশ্যে ক'রে চলেছি। ফলে অন্যান্য গুরুভাইবোনেরা ভুল শিক্ষায় শিক্ষিত হ'য়ে ঠাকুর থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন এবং ঠাকুরের দয়া থেকে যারা এমন ভুল বিকৃত প্রার্থনা করছেন এবং যারা সরে যাচ্ছেন তারা সবাই বঞ্চিত হচ্ছেন।
আর এই নিজেদের দোষের কারণে ঠাকুরের দয়া থেকে যখন বঞ্চিত হচ্ছেন তখন ঠাকুরের ওপর সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ছে আর অবিশ্বাসের জন্ম হচ্ছে।
আপনি আপনার সমস্যা নিয়ে কিম্বা যার হয়েছে তাকে নিয়ে বরং যথাশীঘ্র সম্ভব ঠাকুরবাড়ি যান। ঠাকুরবাড়ি গিয়ে আচার্যদেবের কাছে সমস্যা নিবেদন করুন। আচার্যদেব যা যা ব'লে দেবেন তা মন দিয়ে শুনুন আর অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করুন ঠাকুরের প্রতি গভীর বিশ্বাস আর নির্ভরতা নিয়ে। শ্রীশ্রীঅবিনদাদার দর্শন ও প্রণাম করুন। তাঁর সঙ্গে কথা বলুন। আচার্যদেবের অনুপস্থিতিতে তাঁর কাছে আপনার সমস্যা নিবেদন করুন। পথ পাবেন, পথ পাবেন, নিশ্চিত পথ পাবেন।
আর অ্যালার্জি রোগের ক্ষেত্রে যেটা করণীয় সেটা করুন।
করণীয় যা তা হ'লো সকালে প্রতিদিন ইষ্টভৃতি নিষ্ঠার সঙ্গে ঠাকুরকে নিবেদন করুন, তারপর তা যথাস্থানে পাঠিয়ে দিন মাসান্তে। প্রতিদিন ঠাকুরকে ভক্তি ভ'রে ফুল জল নিবেদন করুন তারপর সেই জল আলাদা গ্লাসে ঢেলে ভক্তিভরে পান করুন। পেলে প্রতিদিন থানকুনি পাতা খান। দু'বেলা প্রার্থনা করুন। না পারলে অন্তত শুক্রবার করুন। সবসময় খুব খুব নাম করুন। সব কাজের মধ্যে নামময় হ'য়ে থাকুন। সাত্ত্বিক নিরামিষ রান্না খান। ধুলোবালি, ওষুধ, রাসায়নিক যুক্ত প্রসাধন সামগ্রী এবং যে সব বস্তু ব্যবহারে এলার্জি হয় সেগুলি ডিটেক্ট করুন এবং সেসব থেকে দূরে থাকুন। পরিস্কার পরিছন্ন থাকুন। পাতলা জামাকাপড় পড়ুন। খাবারের মধ্যে ভিটামিন সি ও ভিটামিন-ই আছে যেসব খাবারে সেসব খাবার খান। দই খান। আমিষ খাবারে চিঙি মাছ, বেগুন, ইলিশ মাছ ইত্যাদি খাবার বর্জন করুন।
সর্বোপরি আবার বলি, আগে ডাক্তার দেখান। ডাক্তারের নির্দেশ মেনে চলুন। নিষ্ঠার সঙ্গে ইষ্টভৃতি করুন। নাম করুন, খুব নাম করুন, নামের তীব্রতা বাড়ান। নামের আগুনের তীব্রতায় শরীরের সমস্ত জার্ম জ্বলেপুড়ে শেষ হ'য়ে যাক। ঠাকুরবাড়ি আসুন, ঠাকুর পরিবারের বংশধরদের দর্শন করুন, আলাপ করুন। ঠাকুরবাড়ির পরিবারের কারও গায়ে প্রাণ গেলেও আঁচড় পড়তে দেবেন না। এ পাপ, মহাপাপ। গ্যারান্টি চিরকালীন নিরাময় হ'য়ে যাবেন।
আশা করি ইয়ং জেনারেশন আমার অভিপ্রায় বুঝবেন।
জয়গুরু।
প্রবি।
উত্তরপাড়া, ভদ্রকালী,
হুগলী।
( ১৯শে মে'২০২৩ )
উপলব্ধিঃ আমার বাবাইদাদা।
এরকম শান্ত সুন্দর পবিত্র স্থিতপ্রজ্ঞ সুপুরুষের সামনে মাথা নত না হ'য়ে উপায় আছে? কত দোর্দন্ডপ্রতাপ উগ্র বদরাগী অশান্ত মেজাজি মানুষকেও দেখেছি রাগ প্রশমিত হ'য়ে শান্ত হ'য়ে যেতে এই মানুষটার সামনে! এই মানুষটার শান্ত স্বচ্ছ গভীর ভালোবাসাময় চখা আঁখির দিকে তাকালে মনে হয় প্রচন্ড একটা শক্তি যেন ব্লটিং পেপারের মতো শুষে নিচ্ছে আমার যত দুঃখ-কষ্ট, ব্যাথা, জ্বালা-যন্ত্রণা! এ কোনও ভাবের আবেগে ভেসে যাওয়া কথা নয়।
আমি জানি, আবেগ ভালো, আবেগে ভেসে যাওয়া ভালো নয়। এরকম অতি উন্নত জীবনের অধিকারী মানুষকে সামনা সামনি দেখা, সংস্পর্শে আসা, সঙ্গ লাভ করা বহু বহু জন্মের সুকৃতির ফল! ঈশ্বরকোটি মানুষ কাকে বলে তা আজ জেনেছি, দেখেছি, সঙ্গ লাভ করেছি, কথা বলেছি অনেক অনেকবার। আমার এ ক্ষুদ্র অতিক্ষুদ্র, সাধারণ অতি সাধারণ জন্ম সার্থক বিশ্বের ৮০০কোটি মানুষের কোলাহলের ভিড়ে এমন দিব্যকান্তি অপূর্ব সুন্দর স্থিতপ্রজ্ঞ ঈশ্বরকোটি মানুষের সঙ্গ লাভ করতে পেরে। এর জন্যে আমি আমার পিতামাতার চরণে জানাই আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম। তাঁরা আমাকে হাতে ধ'রে সেই ছোট্টবেলায় যদি এখানে না বসিয়ে দিয়ে যেতেন হয়তো আমিও হাজারো লক্ষ কোটি অভাগার মতো দিকভ্রষ্ট হ'য়ে এমন সঙ্গলাভে বঞ্চিত হ'তাম।
তাই আবার যদি আসি কোনওদিন এ ধরাধামে হে দয়াল তবে এমন পিতামাতার কোল যেন পায়। কারণ আবার তোমার কাছেই যেন আসতে পারি এমন বাবা-মা আমার চাই।
আমার প্রিয়বন্ধুরা! তোমরা একবার এসে দেখে যাও নিজের চোখে এমন সুন্দর মানুষকে পৃথিবী থেকে চলে যাবার আগে।
হে ঈশ্বরকোটি পুরুষ আচার্যদেব আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম গ্রহণ ক'রো। আশীর্বাদ প্রার্থনা করি যেন তোমার মতো ঠাকুরকে ভালোবেসে ঠাকুরের মানুষ হ'য়ে উঠতে পারি।
( ১৬ই মে'২০২৩ )
আমার প্রিয়বন্ধুরা! তোমরা একবার এসে দেখে যাও নিজের চোখে এমন সুন্দর মানুষকে পৃথিবী থেকে চলে যাবার আগে।
হে ঈশ্বরকোটি পুরুষ আচার্যদেব আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম গ্রহণ ক'রো। আশীর্বাদ প্রার্থনা করি যেন তোমার মতো ঠাকুরকে ভালোবেসে ঠাকুরের মানুষ হ'য়ে উঠতে পারি।
( ১৬ই মে'২০২৩ )
কবিতাঃ ফোটাবো ভালোবাসার ফুল।
হে দয়াল!
ভালোবেসে ফতুর হ'য়ে যেতে বলেছো তুমি!
আমি তাই হয়েছি কিনা জানি না।
আমি ভালোবেসেছি তোমারে;
তাই ভালোবেসেছি গরীব-ধনী,
সুখী-দুখী, শত্রু-মিত্র সবারে।
প্রতিদানে তুমি বলেছো না চাইতে কিছু।
বলেছো কোনকিছুরই কাঙ্গাল না হ'তে।
আমি চাইনি কিছুই দয়াল!
হ'ইনি জাগতিক কোনও কিছুরই কাঙাল।
শুধু চেয়েছি তোমারই মনের মতো হতে।
চেয়েছি শয়নে স্বপনে জাগরণে
তোমারই বাণীর মূর্ত রূপ হ'তে দিনে রাতে।
হে দয়াল! তুমি বলেছো আমাদের
ভালোবাসো! ভালোবাসো!! ভালোবাসো!!!
ভালোবেসে যাও, যে আছে আলোআঁধারে
ভালোবেসে যাও তাদের সবারে।
হে দয়াল! তুমি বলেছো ভালোবেসে যা পাও
তাতেই ভরপুর হ'য়ে ওঠো, প্লাবিত হ'য়ে ওঠো,
হ'য়ে ওঠো অঢেল।
যখনি ভাবি এ কথা তখনি বুকে বিঁধে শেল।
আমি তোমারে ভালোবেসেছি দয়াল!
কিন্তু আমি তোমারে ভালোবেসে
ভরপুর হ'য়ে উঠিনি, প্লাবিত হ'তে পারিনি
মানুষের মাঝে। আর আজ আমি
তোমারে ভালোবেসে শূন্য, রিক্ত;
হয়েছি ফকির দয়াল! পারিনি হ'তে অঢেল।
কি পেয়েছি কি পাইনি হিসাব করতে গিয়ে
দেখেছি সব ভুল! ভুল!! ভুল!!!
আমি ভালোবাসিনি তোমারে।
হ'ইনি তোমার মনের মতো।
তোমার বই পড়ে হয়েছি অবশেষে বই।
ভাবি একাকী বাণীর নির্যাস চরিত্রে কই!?
নিজেরে নিজে করেছি প্রশ্ন বেলাশেষে
ভুলের বালুচরে বসে অবশেষে!
চরিত্র গঠনই যে মহাযাজন
হৃদ্ মাঝারে শূন্য যে তোমার আসন!
এ-কি হায়! কোথায় আমার ভালোবাসা!?
কোথায় আমার মাঝে দয়াল তুমি!?
আমি শূন্য! আমি শূন্য!!
আজ আমি এক মহাশূন্য!!!
আমি ভালোবেসেছি দয়াল তোমায়।
কিন্তু কোনও এক মহাভুল আমারে
করেছে নিঃস্ব, রিক্ত, শূন্য!
তাই আজ আমার এই তোমার কাছে
রইলো আমার কঠিন কঠোর প্রতিজ্ঞা,
ভীষ্মের প্রতিজ্ঞাকে করিলাম অস্ত্র।
গভীর শূন্যতার মাঝে শূন্যতাকে বুকে নিয়ে
আমি হবো ভরপুর, প্লাবিত হ'য়ে যাবো,
অঢেল হ'য়ে উঠবো আমি তোমার সৃষ্টির মাঝে
আর তোমার ভালোবাসার সমুদ্রে ডুব দিয়ে
প্রাণে প্রাণে ফোটাবো ভালোবাসার ফুল।
( লেখা ১৫ই মে'২০২৩ )
ভালোবেসে ফতুর হ'য়ে যেতে বলেছো তুমি!
আমি তাই হয়েছি কিনা জানি না।
আমি ভালোবেসেছি তোমারে;
তাই ভালোবেসেছি গরীব-ধনী,
সুখী-দুখী, শত্রু-মিত্র সবারে।
প্রতিদানে তুমি বলেছো না চাইতে কিছু।
বলেছো কোনকিছুরই কাঙ্গাল না হ'তে।
আমি চাইনি কিছুই দয়াল!
হ'ইনি জাগতিক কোনও কিছুরই কাঙাল।
শুধু চেয়েছি তোমারই মনের মতো হতে।
চেয়েছি শয়নে স্বপনে জাগরণে
তোমারই বাণীর মূর্ত রূপ হ'তে দিনে রাতে।
হে দয়াল! তুমি বলেছো আমাদের
ভালোবাসো! ভালোবাসো!! ভালোবাসো!!!
ভালোবেসে যাও, যে আছে আলোআঁধারে
ভালোবেসে যাও তাদের সবারে।
হে দয়াল! তুমি বলেছো ভালোবেসে যা পাও
তাতেই ভরপুর হ'য়ে ওঠো, প্লাবিত হ'য়ে ওঠো,
হ'য়ে ওঠো অঢেল।
যখনি ভাবি এ কথা তখনি বুকে বিঁধে শেল।
আমি তোমারে ভালোবেসেছি দয়াল!
কিন্তু আমি তোমারে ভালোবেসে
ভরপুর হ'য়ে উঠিনি, প্লাবিত হ'তে পারিনি
মানুষের মাঝে। আর আজ আমি
তোমারে ভালোবেসে শূন্য, রিক্ত;
হয়েছি ফকির দয়াল! পারিনি হ'তে অঢেল।
কি পেয়েছি কি পাইনি হিসাব করতে গিয়ে
দেখেছি সব ভুল! ভুল!! ভুল!!!
আমি ভালোবাসিনি তোমারে।
হ'ইনি তোমার মনের মতো।
তোমার বই পড়ে হয়েছি অবশেষে বই।
ভাবি একাকী বাণীর নির্যাস চরিত্রে কই!?
নিজেরে নিজে করেছি প্রশ্ন বেলাশেষে
ভুলের বালুচরে বসে অবশেষে!
চরিত্র গঠনই যে মহাযাজন
হৃদ্ মাঝারে শূন্য যে তোমার আসন!
এ-কি হায়! কোথায় আমার ভালোবাসা!?
কোথায় আমার মাঝে দয়াল তুমি!?
আমি শূন্য! আমি শূন্য!!
আজ আমি এক মহাশূন্য!!!
আমি ভালোবেসেছি দয়াল তোমায়।
কিন্তু কোনও এক মহাভুল আমারে
করেছে নিঃস্ব, রিক্ত, শূন্য!
তাই আজ আমার এই তোমার কাছে
রইলো আমার কঠিন কঠোর প্রতিজ্ঞা,
ভীষ্মের প্রতিজ্ঞাকে করিলাম অস্ত্র।
গভীর শূন্যতার মাঝে শূন্যতাকে বুকে নিয়ে
আমি হবো ভরপুর, প্লাবিত হ'য়ে যাবো,
অঢেল হ'য়ে উঠবো আমি তোমার সৃষ্টির মাঝে
আর তোমার ভালোবাসার সমুদ্রে ডুব দিয়ে
প্রাণে প্রাণে ফোটাবো ভালোবাসার ফুল।
( লেখা ১৫ই মে'২০২৩ )
প্রবন্ধঃ জ্ঞান ও সংগীত চর্চা।
জ্ঞানের ও সঙ্গীতচর্চার শেষ হচ্ছে ঈশ্বরের অস্তিত্বের অনুসন্ধান ও ঈশ্বর লাভ। জ্ঞানের উচ্চমার্গে পৌঁছে মানুষের মনে একটা অহঙ্কার জন্মায়। সে অহঙ্কার স্থুল হ;ক আর সুক্ষ্মই হ'ক। পৃথিবী জুড়ে ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব জ্ঞানী পুরুষই এই অহঙ্কারের শিকার। আর সঙ্গীত ঈশ্বরের কাছে পৌঁছনোর সবচেয়ে সহজ উপায় ও মাধ্যম। কথিত আছে তানসেন সংগীত মূর্চ্ছনায় ঈশ্বরকে বাধ্য করেছিলেন বৃষ্টি নাবিয়ে আনতে। ঈশ্বরের ক্ষিধে সবার থাকে না, ইচ্ছে করলেই ঈশ্বরের চর্চা করা যায় না, ঈশ্বরকোটি পুরুষ ছাড়া ঈশ্বরের ক্ষিধে, ঈশ্বরের চর্চা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। আর এ এক জন্মের ব্যাপার নয়। জন্মজন্মান্তরের চর্চার ব্যাপার। যা বায়োলজিক্যাল মেক আপের মধ্যে থাকে। তবে চেষ্টা করলে অনেক কিছুই হয়, হাঙরেরও দাঁত দেখতে পাওয়া যায়। তবে জন্মবিজ্ঞান আলাদা বিষয়। যারা সংগীতচর্চার মধ্যে দিয়েও ঈশ্বরের সন্ধান পায় না, ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব করতে না পারে তাদের সংগীত চর্চা বৃথা। তাদের সংগীত কেউ মনে রাখে না।
আর, প্রবাদ আছে, Knowledge rules the world. কোন নলেজ? যে জ্ঞান অহঙ্কারের জন্ম দেয়, ইগোকে স্ট্রং করে, বিনয়ের সঙ্গে শ্রেষ্ঠের পায়ে মাথা নত করতে দেয় না, শিশুর সারল্য নিয়ে মানুষের মাঝে মিশে যেতে দেয় না, ছোটোকে বড় আর বড়কে আরও বড় করতে শিক্ষা দেয় না ইত্যাদি সেই জ্ঞান জ্ঞান নয়, বাচক জ্ঞান মাত্র। বাচক জ্ঞান বিশ্বকে রুল করে না। রুল করা মানে বাহুবলে দুর্বল মানুষকে, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা দেশকে দাবিয়ে রাখা নয়। যা অর্থবলে বলীয়ান হ'য়ে, বিশেষ জ্ঞানকে ধ্বংসের কাজে প্রয়োগ ক'রে শক্তি অর্জনের মাধ্যমে আমেরিকা সহ অন্যান্য শক্তিশালী দেশগুলি দুর্বল দেশের অসহায় মানুষগুলোর ওপর ক'রে থাকে। কিন্তু তাদের কেউ মনে রাখে না। মুছে যায় মানুষের ইতিহাস থেকে। কিন্তু হাজার হাজার বছর ধ'রে মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে ঈশ্বর সন্ধানী প্রেমী মানুষ।
( লেখা ১০ই মে, ২০২৩ )
আর, প্রবাদ আছে, Knowledge rules the world. কোন নলেজ? যে জ্ঞান অহঙ্কারের জন্ম দেয়, ইগোকে স্ট্রং করে, বিনয়ের সঙ্গে শ্রেষ্ঠের পায়ে মাথা নত করতে দেয় না, শিশুর সারল্য নিয়ে মানুষের মাঝে মিশে যেতে দেয় না, ছোটোকে বড় আর বড়কে আরও বড় করতে শিক্ষা দেয় না ইত্যাদি সেই জ্ঞান জ্ঞান নয়, বাচক জ্ঞান মাত্র। বাচক জ্ঞান বিশ্বকে রুল করে না। রুল করা মানে বাহুবলে দুর্বল মানুষকে, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা দেশকে দাবিয়ে রাখা নয়। যা অর্থবলে বলীয়ান হ'য়ে, বিশেষ জ্ঞানকে ধ্বংসের কাজে প্রয়োগ ক'রে শক্তি অর্জনের মাধ্যমে আমেরিকা সহ অন্যান্য শক্তিশালী দেশগুলি দুর্বল দেশের অসহায় মানুষগুলোর ওপর ক'রে থাকে। কিন্তু তাদের কেউ মনে রাখে না। মুছে যায় মানুষের ইতিহাস থেকে। কিন্তু হাজার হাজার বছর ধ'রে মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে ঈশ্বর সন্ধানী প্রেমী মানুষ।
( লেখা ১০ই মে, ২০২৩ )
কবিতাঃ সৎসঙ্গী বন্ধু! রাখো মান দয়ালের!
চলে যাবার আগে ব'লে যেতে চাই একটা কথা।
যদি থাকে তোমার ক্ষমতা
যদি থাকে তোমার ক্ষমতা
তবে তোমার ও তোমার আশেপাশের
অসহায় গরীব ছোট্ট শিশুর প্রতি রেখো মমতা।
শিশুরা লিটল অনুকূল! বাড়িয়ে তোমার হাত দিও সাথ,
দিও তাদের কুল।
শিশুর শৈশব চলে গেলে তা আর ফিরে পাবে না।
শিশুর শৈশব চলে গেলে তা আর ফিরে পাবে না।
শিশুরা ঈশ্বরের দূত। তাদের মধ্যে ঈশ্বর বর্তমান।
তাদের ভালোবাসলে ঈশ্বরকে ভালোবাসা হয়।
নইলে ঈশ্বর হবে ম্লান, ঈশ্বরকে পাওয়া আর হবে না।
তোমার বাড়ির ও আশেপাশের শিশুদের ভালোবেসো।
তোমার বাড়ির ও আশেপাশের শিশুদের ভালোবেসো।
তাদের ভালোবাসলে ঈশ্বর তোমায় ভালবাসবে।
শিশুর শৈশব চলে গেলে তুমি এ জীবনে
ঈশ্বরকে ভালোবাসার সুযোগ হারাবে।
প্রতিটি শিশুর মধ্যে তোমার দয়াল ঠাকুর বর্তমান।
প্রতিটি শিশুর মধ্যে তোমার দয়াল ঠাকুর বর্তমান।
তাদের নিষ্পাপ সরল মুখের দিকে চেয়ে দেখো
দেখতে পাবে সেথায় তোমার দয়ালকে
আর সেখানেই খুঁজে পাবে প্রাণ।
এসো বাকী জীবন তাদের নিয়ে আনন্দ করি।
সহায় অসহায় গরীব ধনী শিশুদের মধ্যে কোনও বিভাজন হয় না। শিশু শিশুই। তাদের ভালোবেসে, খাইয়ে, তাদের দিয়ে যে মজা,
সহায় অসহায় গরীব ধনী শিশুদের মধ্যে কোনও বিভাজন হয় না। শিশু শিশুই। তাদের ভালোবেসে, খাইয়ে, তাদের দিয়ে যে মজা,
যে তৃপ্তি, যে আনন্দ সে ভালোবাসা, সে মজা, সে তৃপ্তি, সে আনন্দ
বৃথা ও সময় অন্য কোথাও খোঁজা।
শিশুদের বাদ দিয়ে স্বয়ং জীবন্ত ঈশ্বরকে ভালোবেসে,
খাইয়েও নেই সে মজা।
শিশুরা সব লিটল ঈশ্বর! লিটল অনুকূল!
যে শিশুদের ভালোবাসে সে জীবন্ত ঈশ্বর অনুকূলকে ভালোবাসে।
সে থাকে বিন্দাস যতই আসুক জীবনে সময় প্রতিকূল।
যে শিশুদের ভালোবাসে না সে জীবন্ত ঈশ্বর রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ, যীশু, মহম্মদ, মহাপ্রভু, রামকৃষ্ণ ও ঠাকুর অনুকূলকে ভালোবাসে না।
আর যে জীবন্ত ঈশ্বরকে ভালোবাসে না সে শিশুদের ভালোবাসে না, ভালবাসতে পারে না।
তা সে যতই বহিঃরঙ্গে জীবন্ত ঈশ্বর প্রেমিক বা শিশু প্রেমিক হ'ক।
সে ঈশ্বর বা শিশু প্রেম ভন্ডামি, লোকদেখানো স্বার্থসিদ্ধির চালাকি। যে জীবন্ত ঈশ্বরকে ভালোবাসে, জীবন্ত ঈশ্বরে সমর্পিত যার প্রাণ
সে শিশুদের ভালোবাসবেই বাসবে; ভালো না বেসে পারে না।
শিশু অন্ত তাদের প্রাণ।
শিশুদের মধ্যেই তারা তাঁদের আরাধ্য জীবন্ত ঈশ্বরকে অনুভব করে। জীবন্ত ঈশ্বরের প্রতি শর্তহীন তীব্র অটুট, অচ্যুত, অস্খলিত ভালোবাসা তাদের এমন শিশু প্রেমিক ক'রে তোলে।
প্রকৃত জীবন্ত ঈশ্বর প্রেমিক প্রকৃত শিশু প্রেমিক
তথা মানব প্রেমিক হ'য়ে ওঠে।
তখন তাদের প্রাণ প্রেমময়ের স্পর্শে প্রেমময় প্রাণময় হ'য়ে ওঠে। অনেকে আছে মানুষে অরুচি পশু পাখি প্রেমে মাহির!
অন্তরে নেই প্রেম ভালোবাসা ঝলমলে বাহির!
সৎসঙ্গী বন্ধু! তুমি তেমন হয়ো না।
তুমি যে ঠাকুরের সোনার সৎসঙ্গী!
হে সৎসঙ্গী! ঠাকুর সৎসঙ্গীদের সোনার সৎসঙ্গী বলতেন।
তুমি রেখো তাঁর মান।
( লেখা ২৫শে এপ্রিল'২৩ )
( লেখা ২৫শে এপ্রিল'২৩ )
কবিতাঃ তুমি আমার-------
তুমি আমার প্রাণে তবে কেন শান্তি নেই মনে!?
তুমি আমার ঘরে তবে আমায় ভয় কেন ঘেরে!?
তুমি আমার সখা তবে আনন্দ কেন দেয় ধোঁকা!?
তুমি আমার সব তবে কেন মনে হয় আমি শব!?
তুমি আমার প্রাণ তবে করে কেন প্রাণ আনচান!?
তুমি আমার সব জানো তবে আমার ভরসা নেই কেন!?
তুমি আমার থাকো মাথায় তবে কেন বলি তুমি কোথায়!?
তুমি আমার আছো শরীরে তবে কেন খুঁজে মরি মন্দিরে!?
তুমি আমার চিন্তায় তবে মরি কেন আমি দুশ্চিন্তায়!?
তুমি আমার সদাই অধরে তবে কেন মন যেতে চায় কন্দরে!?
তুমি আমার বিশ্বাস তবে কেন হানা দেয় মনে অবিশ্বাস!?
তুমি আমার নিঃশ্বাসে-প্রশ্বাসে তবে কেন একাকী অবশেষে!?
কেন দয়াল!? কেন!?!? কেন!?!?!?
( লেখা ২৪শে এপ্রিল'২৩ )
তুমি আমার ঘরে তবে আমায় ভয় কেন ঘেরে!?
তুমি আমার সখা তবে আনন্দ কেন দেয় ধোঁকা!?
তুমি আমার সব তবে কেন মনে হয় আমি শব!?
তুমি আমার প্রাণ তবে করে কেন প্রাণ আনচান!?
তুমি আমার সব জানো তবে আমার ভরসা নেই কেন!?
তুমি আমার থাকো মাথায় তবে কেন বলি তুমি কোথায়!?
তুমি আমার আছো শরীরে তবে কেন খুঁজে মরি মন্দিরে!?
তুমি আমার চিন্তায় তবে মরি কেন আমি দুশ্চিন্তায়!?
তুমি আমার সদাই অধরে তবে কেন মন যেতে চায় কন্দরে!?
তুমি আমার বিশ্বাস তবে কেন হানা দেয় মনে অবিশ্বাস!?
তুমি আমার নিঃশ্বাসে-প্রশ্বাসে তবে কেন একাকী অবশেষে!?
কেন দয়াল!? কেন!?!? কেন!?!?!?
( লেখা ২৪শে এপ্রিল'২৩ )
Subscribe to:
Posts (Atom)
