Powered By Blogger

Friday, May 12, 2023

প্রবন্ধঃ সমাজ কো বদল ডালো! (২)

গুরুভাই একটু চুপ ক'রে রইলো! মনে হ'লো কি বলবে তা যেন একটু গুছিয়ে নিতে চাইলো। এলোমেলো হ'য়ে যাচ্ছিলো কথাগুলি। উত্তেজনায় আর রাগে ক্ষোভে দুঃখে মিলেমিশে একাকার হ'য়ে যাচ্ছিল সব। কিন্তু 'কেন এমন হ'লো' প্রশ্নের উত্তরে এলোমেলো কথাগুলি পরপর সাজালে যা দাঁড়ায় তা হ'লো অনিয়ন্ত্রিত অপরিকল্পিত সমাজ ব্যবস্থায় কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ! তা পৌষ মাস কাদের হ'লো আর কাদেরই বা সর্বনাশ হ'লো তা বুঝতে একটু অপেক্ষা করতে হ'লো।

ব্যাপারটা হ'লো, আজ মা-ও নেই, নেই ছোটবেলার সেই দিনগুলিও আর! ছোটবেলায় মায়ের বকা মনে পড়ে যায়! মা বলতো, "সারাদিন টো টো ক'রে ঘুরে বেড়ানো ছাড়া আর কোন কাজ নেই? পড়াশুনা নেই?" আর এখন ছেলে বলে, "এই টোটো ক'রে এলাম, বাবা তুমিও টোটো ক'রে একটু ঘুরে এসো! বাইরে ঠান্ডা বাতাস বইছে! ভালো লাগবে!" সেই টোটো-ই হ'লো গুরুভাইয়ের সর্বনাশের অন্যতম প্রধান কারণ! অন্যতম কেন বললাম সেটাও পরে বলছি। এখন পশ্চিমবঙ্গে নতুন পরিবহন যান-এর নাম 'টোটো'। বড় রাস্তা জিটি রোডে, পাড়ায় পাড়ায়, এলাকার ছোটো রাস্তা, অলিতে-গলিতে সর্বত্র টোটোর জয় জয়কার! সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টো টো ক'রে ঘুরে বেড়াচ্ছে টোটো! একদিন যেখানে রিকশাস্ট্যান্ড ছিল তা আজ টোটো স্ট্যান্ড! প্রায় সব রিক্সাচালকই আজ টোটো চালক! যদিও কিছু রিকশাচালক আজও রিকশা চালায় কারণ তাদের না আছে কেনার সামর্থ্য, না আছে সুযোগ, সাহায্য, সহযোগিতা! এছাড়া এলাকায় এলাকায় পড়াশুনাজানা-নাজানা আজ সমস্ত বেকার যুবক, কল-কারখানা বন্ধের শ্রমিক সবাই আজ নেবে পড়েছে টোটো নিয়ে টো টো ক'রে রোজগারের জন্য। এখন টো টো ক'রে ঘুরে বেড়ানোর মানে গিয়েছে বদলে, টো টো শব্দের মান গিয়েছে বেড়ে কিন্তু অন্যদিকে যে অন্যের জীবন ধারণের মান নেবে গিয়ে তলানিতে ঠেকেছে সেদিকে কারও হুঁশ নেই, নেই ভ্রূক্ষেপ! আর থাকার কথাও না। এখন ঘোর কলি! কলি যুগের প্রমাণ কি? দুনিয়া ভাঁড় মে যায়, আমার গায়ে আচঁ না লাগে ফুরিয়ে যাবে মামলা----এই হ'লো কলি যুগের নিদর্শন!


এই কলি যুগের ছোবল খেয়েছে আমার গুরুভাই! অটোর পর টোটোর সীমাহীন বাড়বাড়ন্ত রিকশা চালকদের জীবনে নিয়ে এসেছে দুঃখের কালো মেঘ! এমনিতেই দুঃখ ছিল, ছিল কষ্ট কিন্তু তার মধ্যেও রিকশা চালকদের ছিল বাড়বাড়ন্ত! আর সেই বাড়বাড়ন্তের সময় তাদের অনেকের মেজাজও ছিল জমিদারী! কিন্তু আজ রিকশাচালকের সংখ্যা কমে গেছে কিন্তু যারা আছে তাদের অবস্থা নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যাবার মত! এই কঠিন পরিস্থিতিতে সাইকেল রিকশা সারাবার দোকানদারদের অবস্থা তথৈবচ! বড় বড় দোকানগুলো আজ কেমন জানি জৌলুস হারিয়ে বিবর্ণ হ'য়ে ঝোড়ো কাকের মত দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার ধারে! আর ছোট দোকানগুলো যারা শুধুই রিকশা, সাইকেল সারাতো তারা পথ চেয়ে বসে থাকে কখন একটা রিক্সা বা সাইকেল আসবে! সাইকেল এলেও রিকশা আর আসে না! দোকানে বসে থাকে দোকানদার আর মিস্ত্রি! যেন দিনগত পাপক্ষয়!

সেই সাইকেল-রিকশার দোকানে দোকানে অল্পবিস্তর যন্ত্রাংশ সাপ্লাই দিত আমার গুরুভাই! কিন্তু টোটোর দাপটে আজ রিক্সা গিয়েছে প্রায় উঠে! ক'দিন পর কলকাতার টানারিকশার মত অবস্থা হবে সাইকেলরিক্সার! যেমন একদিনের এশিয়ার বিখ্যাত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মোটরগাড়ি তৈরীর কারখানা হিন্দমোটরের আম্বাসাডার গাড়ি আজ বিলুপ্ত! কারখানা পুরোপুরি বন্ধ! কোনও সম্ভাবনাই নেই আর খোলার! সব সেট আপ আজ ধ্বংস! কলকাতার রাস্তায় পুরোনো কিছু গাড়ি আজও চলছে। যতদিন সেইগাড়িগুলির আয়ু আছে ততদিনই চোখে পড়বে তারপর ইতিহাসের পাতায় চলে যাবে সেই গাড়ি আর গাড়ির কারখানা 'হিন্দমোটর'!!!!!! রয়ে যাবে হয়তো হিন্দমোটর স্টেশনের নাম! তাও কালের নিয়মে নতুন প্রজন্মের হাত ধ'রে হয়তো স্টেশনের নাম পাল্টে হ'য়ে যাবে নতুন নাম!


যাই হ'ক, যা বলছিলাম সেই কথায় আসি। আমার গুরুভাই যে দোকানগুলিতে সাপ্লাই দিত সাইকেল, রিকশার যন্ত্রাংশ সেই দোকানগুলোর প্রায় অনেক দোকান আজ অতীত হ'য়ে গেছে আর যে ক'টা দোকান আছে সেগুলো অতীতের স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে আছে আগামী সুন্দর ভবিষ্যতের আশায়! কথায় আছে, আশায় মরে চাষা। কোন চাষা? ছোট চাষা! অন্যের জমিতে চাষ ক'রে খায়, দিন গুজরান করে যে চাষা সেই চাষা! আর আমি বলি, দিন গুজরানী চাষা, শ্মশান তোর বাসা! তা আমার গুরুভাই সেই 'দিন গুজরান ক'রে খায়' চাষার এক চাষা! টোটোর এক টোটকায় সব ধরাশায়ী! দোকানগুলোতে আর তেমন রিকশা বিক্রি হয়না, হয়না আর সারাইয়ের কাজ! টিমটিম ক'রে জ্বলতে থাকা আলো অন্যকে কি আলো দেখাবে!? যার নিজের দোকানেই লালবাতি জ্বলে গেছে সে আমার গুরুভাইয়ের মত ছোট চাষাকে কি অর্ডার দেবে!? নিজের অস্তিত্ব যেখানে বিপন্ন সেখানে অন্যের অস্তিত্বকে রক্ষা করার কথা বলা আর "আপনি শুতে ঠাঁই পায় না, শংকরাকে ডাকে" প্রবাদ একই! এই অবস্থায় আমার গুরুভাইয়ের যন্ত্রাংশ সাপ্লাইয়ের কাজ এখন বন্ধ! ২৫ জন দোকানদারের মধ্যে এখন ২ জন দোকানদার টিকে আছে আর টিকে আছে নুন আনতে পান্তা ফুরোনো অবস্থায়! সেই অবস্থায় যন্ত্রাংশ সাপ্লাই দিলে পেমেন্টের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ২/৩ মাস! তাও আবার অর্ডার পেলে তবে পয়সা আনতে যায় নতুবা ঢাকের দায়ে মনসা বিক্রি করতে হবে! ১০০টাকা খরচা ক'রে ১০টাকা আনতে যাবার মত!! এই অবস্থা যেখানে সেখানে মনে পড়ে যায় আবার বারবার সেই প্রবাদ! কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ! আমার গুরুভাইয়ের এখন সর্বনাশের পর্ব চলছে! এরকম উন্নয়ন কি আমরা চেয়েছিলাম!? এরকম সমাজ ব্যবস্থা কি আমরা চাই!? এরকম 'সমাজ কো বদল ডালো'-র আন্দোলন আমরা চেয়েছিলাম নাকি!? এ কি ধরণের গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা!? এ কি রকম সরকার বদলের নির্বাচন!? এক এক সরকার আসবে আর নতুন নতুন উন্নয়নের সমীকরণ আসবে ধ্বংসের আড়ালে!? কোথায় যাবে আম আদমী!? অবশ্য আম আদমির সংজ্ঞা এখন বদলে গেছে রাজনীতিবিদদের কাছে! আম আদমিকে তারা আর গরীব গুর্ব ভাবে না! তাদের ধারণা সবাই দু'মুঠো ভালো মন্দ খেয়েই বেঁচে থাকে! তাই হে আমার গুরুভাই! তুমি তো আম আদমি! তোমার কথা ভাবার সময় সরকার আর তার পরিচালক ও রাজনীতিবিদদের নেই! তাদের মতে তোমার ভরসা এখন শুধুই তুমি!


অনেকক্ষন দুঃখের কথা বলার পর গুরুভাই আমায় বললো, আচ্ছা দাদা, কি করা যায় বলুন তো? আর যে পারি না। আমি বললাম, আচ্ছা, রিকশার ব্যবসা নাহয় টোটোর জন্য মার খেয়েছে সাইকেল তো বাজারে চলছে রমরমিয়ে! তাহ'লে সাইকেল পার্টসের সাপ্লাই তো করতেই পারেন! তা কেন করছেন না!? গুরুভাই ম্লান হেসে বললো, দাদা পড়েছো মোগলের হাতে খানা খেতে হবে একসাথে! আমার/আমাদের অবস্থা তাই!
কি অবস্থা!? প্রশ্ন করলাম আমি।
ক্রমশ:
( ১০ই মে' ২০১৯ )

প্রবন্ধঃ সমাজ কো বদল ডালো!! (১)

আজ এক চরম সত্যের মুখোমুখি হ'লাম! হ'লাম মুখোমুখি নির্ম্মম কষ্টের! আজ এক গুরুভাই এসেছিল আমার বাড়ি। প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ আসেই। তাদের সঙ্গে হয় নানা আলোচনা। সেই আলোচনায় থাকে ধর্ম, রাজনীতি, খেলা, সিনেমা, সাহিত্য ও দেশের ও বিশ্বের নানা বর্তমান পরিস্থিতি ও ঘটনা। সেই আলোচনা শেষে উপসংহার শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবন দর্শনে এসে নোঙ্গর ফেলে।

যাই হ'ক গুরুভাইয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছিলো বাইরের প্রচন্ড দাবদাহ নিয়ে। আগুনের হলকা যেন বইয়ে চলেছে বাইরে। এই অবস্থায় কোথাও আর যেতে ইচ্ছে করেনি তার। তাছাড়া এখন আর বেরিয়েও লাভ নেই। সারাদিন ঘুরে বেড়িয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে আসতে হয়! আর বয়সও ৫০ হ'য়ে গেছে, আর আগের মত পরিশ্রম করতেও পারে না। সারাদিন সাইকেল নিয়ে ছুটে বেড়িয়ে ক্লান্ত শ্রান্ত হ'য়ে যখন বাড়ি ফেরে তখন মনে পড়ে কয়েক বছর আগের কথা। সেদিনের অমানুষিক পরিশ্রমের কথা মনে পড়লে আজ অবাক হ'য়ে যায় গুরুভাই! গুরুভাই সামান্য অর্ডার সাপ্লাইয়ের কাজ করে। সাইকেলের দোকানে দোকানে সাইকেল, রিক্সার অল্পবিস্তর পার্টস সাপ্লাই দেয়। দেয় বললে এখন ভুল হবে, বরং বলা উচিত দিত। কেন এমন কথা বললাম? তাহ'লে কি এখন অর্ডার সাপ্লাইয়ের কাজ করে না?

তাহ'লে একটু বিশদে আলোচনা করা যেতে পারে। গুরুভাইকে জিজ্ঞেস করায় কথায় কথায় সে যা বললো তা নিম্নরূপ।

একটা সময় ছিল যখন সকাল বেলা বেড়িয়ে পড়তো সকালের টিফিন খেয়ে তারপর সারাদিন সাইকেলে উত্তরপাড়া, বালি, বেলুড়, লিলুয়া আবার উল্টোদিকে হিন্দমোটর, কোন্নগর, রিষড়া, শ্রীরামপুর ইত্যাদি কোথায় না কোথায় চলে যেত অর্ডার নেওয়ার জন্যে! কখনো কখনো আরো দূরে ট্রেনে ক'রে চলে যেত সিউড়ির মতো বিভিন্ন স্থানে অর্ডারের জন্যে। তারপর সেই অর্ডার নিয়ে চলে যেত মার্কেটে অর্ডার মত মাল আনতে। দু'হাতে ব্যাগ ভর্তি ক'রে, কাঁধে ক'রে নিয়ে আসতো সেই অর্ডার মাফিক সাইকেল, রিকশার বিভিন্ন ছোটবড় পার্টস। সে একটা দিন গেছে। অমানুষিক পরিশ্রম করেছে হাসিমুখে আনন্দ ভরা হৃদয় নিয়ে! তখন দোকানদাররা ভালোবেসে গুরুভাইকে বলতো, আপনি দু'হাতে ব্যাগে ক'রে যতটা পারবেন মাল দিয়ে যান! সেদিনের কথা বলতে বলতে আনন্দে চোখে জল এসে গেল গুরুভাইয়ের! বলতে লাগলো, "বুঝলেন দাদা, পুজোর সময় সপ্তমীর দিন পর্যন্ত কাজ করেছি! তারপর পুজো শেষ হ'তেই আবার বেরিয়ে পড়েছি বাইরে, নেবে পড়েছি রাস্তায় সাইকেল নিয়ে। দৌড়ে বেড়িয়েছি এ মাথা থেকে ও মাথা! রোদ, জল, ঝড়, বৃষ্টি কোনোকিছুই গায়ে লাগতো না, পরিশ্রমকে পরিশ্রম ব'লে মনে হতো না। শুধু মনে হ'তো একটু কষ্ট ক'রে সাইকেলে কিংবা ঘাড়ে কাঁধে ক'রে দোকানে মালটা পৌঁছে দিতে পারলেই হাতে সঙ্গে সঙ্গে পরিশ্রমের ফসল! ২৫টা দোকানে প্রতিনিয়ত মাল সাপ্লাই দিতাম দাদা। টাকা মার যাবার কোনও সম্ভাবনা ছিল না। এত বিশ্বাস ছিল! আজ না হয় কাল পেমেন্ট ছিল নিশ্চিত! আর তার পরেই আবার অর্ডার! অমানুষিক দিনরাত পরিশ্রম ক'রে দু'পয়সা রোজগার করতাম দাদা! কষ্ট হ'তো না যখন দেখতাম আমার এই পরিশ্রমে ঘরে আনন্দ ভরপুর! চিন্তা ছিল না খাওয়া পড়ার! কিন্তু এখন? কি যে হ'য়ে গেল দাদা! সেই "রামও নেই, সেই রাজ্যও নেই"-এর মত সেই সোনালী দিনগুলিও নেই আর সেই পরিশ্রম ক'রে রোজগারও নেই! দু'নম্বরী ক'রে, লোকের মাথায় টাক মেরে, বাঁ হাতি রোজগার ক'রে, দিনকে রাত আর রাতকে দিন বানিয়ে কামিয়ে, মানুষকে ঠকিয়ে, দাদাগিরি আর মস্তানী ক'রে, চিটিংবাজি ক'রে, নোংরা রাজনীতি ক'রে, নেতাগিরি ক'রে, সারদা-নারদা ক'রে, চিট ফান্ড ক'রে তো কামাইনি দাদা! সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘেমেনেয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অমানুষিক পরিশ্রম ক'রে একটু হাসি-আনন্দ এনে দিতাম ঘরে দাদা আজ আর সেই সুযোগ টুকুও নেই দাদা!!!!! পরিশ্রম করবো তারও সুযোগ নেই। যে কাজ ক'রে এসেছি এত বছর সেই কাজ ছেড়ে নতুন ক'রে আর কি কাজ করবো এই বয়সে দাদা! এই বয়সে নতুন ক'রে কিছু করা আর সম্ভব নয়! আর সম্ভব হ'লেও কে দেখাবে নতুন কাজ! কেউ নেই!"

আমি বললাম, কেন এমন হ'লো!? গুরুভাই দীর্ঘশ্বাস ফেলে যা বললো তা শুনে ভাবলাম, এ তো সেই প্রবাদের বাস্তব প্রতিফলন! "কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ!" কেন এমন হয়!? কেন কোনও নতুন পরিকল্পনা নেওয়ার সময় দূরদৃষ্টি দিয়ে চতুরতার সঙ্গে চার আল দেখে সবার সুবিধা-অসুবিধা দেখে নেয় না!? কেন যারা সমাজকে নেতৃত্ব দেবে, সমাজ কো বদল ডালো ব'লে মসিহা হ'য়ে ডাক দেবে তারা কেন আগাপাসতালা ভেবে দেখবে না!?

একটু সময় থেমে গুরুভাই আমার 'কেন এমন হ'লো' প্রশ্নের উত্তরে বলল,
ক্রমশঃ।
( লেখা ১০ই মে' ২০১৯)

প্রবি সমাচার ১১

(জানি এতবড় লেখা পড়ার সময় ও আগ্রহ নেই কারও তবুও লিখলাম এইভেবে যদি একজনও প'ড়ে উপলব্ধি প্রাপ্ত হয় ও উপকৃত হয়।)

আমি কি শয়তান!? কিম্বা শয়তানের ছায়া, শয়তানের প্রতিনিধি!?
কথাটা মাথার মধ্যে হঠাৎ হুস ক'রে ভেসে উঠে ঘুরপাক খেতে লাগলো। শুয়েছিলাম চুপ ক'রে। অনেক কথা ভেসে আসছিল মনের আঙিনায়। করোনার ভয়াবহতা চারপাশের পরিবেশকে যেভাবে গ্রাস করেছে, মনের উপর যে ভয়ংকর প্রভাব পড়েছে কোনও ভালো কথা, কোনও নীতিকথা, ঈশ্বরের অভয় বাণী কোনও কিছুতেই আর কাজ হবার নয়। কেন এমন হয়? কেন এমন হ'লো? কে দায়ী? আমি কি দায়ী? আমি কি দায়ী নই? মনের মাঝে এমন অনেক প্রশ্ন একসঙ্গে জড়ো হ'য়ে হইমলে পড়লো। উঠে বসলাম বিছানার ওপর। ভাবলাম, চারপাশে যা হচ্ছে সত্যিই কি আমিও তার জন্যে দায়ী ন'ই। 

এই যে ভোট হ'লো। আমিও তো ভোট দিয়েছি। এইসময় ভোট হওয়াটা কি ঠিক ছিল? এইসময় পাঁচ রাজ্যে কি রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে কিছুদিন রাজ্য চালানো যেত না? তারপর প্রায় নিয়ন্ত্রণে আসা করোনাকে জব্দ ক'রে আবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে নির্বাচন করা যেত না? যেত; হয়তো যেত না। সেটা নির্ভর করে আমাদের দেশের অভিভাবকদের দেশের ও দশের স্বার্থে দূরদৃষ্টির ওপর। আমি শুধু দেশের কর্ণধারদের গৃহীত কর্মকান্ডের অংশীদার।

আচ্ছা এই যে চারদিকে করোনার ভয়াবহতার মাঝে করোনার মানুষের জীবন নিয়ে, ওষুধ নিয়ে, অক্সিজেন নিয়ে যে কালোবাজারি চলছে, নয়ছয় চলছে দেশের এই কঠিন ভয়াবহ সময়ে তখন এদের বিরুদ্ধে কোনও কঠিন নির্ম্মম ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হয় না যা দেখে শিউড়ে উঠবে মানুষের জীবন নিয়ে, অসহায়ত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলা অর্থলোলুপের দল!? সাধারণ মানুষ, গরীব মানুষ, অসহায় মানুষ, দু'মুঠো দিন আনে দিন খাওয়া মানুষ, নুন আনতে পান্তা ফুরোনো মানুষ কার কাছে যাবে? কে বাঁচাবে তাদের? এই শ্রেণীর হ'য়ে এই শ্রেণীরই মধ্যে থেকে উঠে আসা প্রতিনিধি যারা তারাই যখন এদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা, বেইমানী, নমকহারামী করে তখন কাদের কাছে যাবে মানুষ? যখন দেশের লেখাপড়াজানা ইয়ং জেনারেশন তাদের শিক্ষাকে, তাদের জ্ঞানকে এদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কাজে লাগিয়ে এদের অজ্ঞানতাকে মই বানিয়ে উপরে উঠে আসে অর্থের প্রাসাদ বানায় তখন কাকে বিশ্বাস করবে মানুষ? প্রতিটি দলের প্রতিটি জনপ্রতিনিধি কি অস্বীকার করতে পারে এই অভিযোগ? ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। তারা চিরকালীন ভীষ্ম। মহাভারতের ভীষ্মরা আমাদের কাছে তার জ্বলন্ত উদাহরণ! পৌরসভা থেকে শুরু ক'রে বিধানসভা, লোকসভা প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনপ্রতিনিধিদের প্রতিনিধি হবার ও প্রতিনিধি হ'য়ে ক্ষমতা দখল করার প্রতিযোগিতা, মারামারি শুধু কৌন বনেগা ক্রোড়পতি হবার তীব্র বাসনা ছাড়া আর কিছুই নয়। অসহায় সাধারণ গরীব দূর্বল মানুষ যে তিমিরে সেই তিমিরে।

তাহ'লে এদের জন্য, আমাদের জন্য কি কেউ নেই? আগে যদি নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যেত আর এখন যদি পান্তা ভাতে নুন ছিটিয়ে দেওয়া হয় তাহ'লে সেটাই কি জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা কৃত উন্নতি? একবারও কি আমরা ভেবে দেখবো না আগে নুন আনতে পান্তাভাত কেন ফুরিয়ে যেত? আর কেনই বা এখন পান্তাভাতে নুন ছেটানো? অর্থাৎ নুন আনতে পান্তাভাত ফুরিয়ে যাবার অর্থ হ'লো জল মেশানো ভাত পরিমাণে এতটাই অল্প যে খাওয়ার স্থানের এক হাত দূর থেকে নুন আনতে না আনতেই জল মেশানো ভাত শেষ হ'য়ে যেত! নুন আনার সেই মুহূর্তের অবসরও পেত না অভুক্ত মানুষ! আর এখন উন্নতিটা কি হয়েছে? উন্নতি হয়েছে পান্তাভাতের পরিমাণ যেমন ছিল তেমনই আছে শুধু সেই হ্যান্ড টু মাউথ পান্তাভাতে সামান্য নুন ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে! আর তাতেই উন্নয়ন উন্নয়ন ব'লে চিল চিৎকার ক'রে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে দিচ্ছে সেই হ্যান্ড টু মাউথ পান্তাভাতের দল! যেমন শহরে ঠিক ঢোকার মুখে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বিরাট তোরণ নির্মান আর আলোকসজ্জায় সাজানো অঞ্চল দেখে আমরা ভেবে নিলাম শহরের এই প্রবেশ দ্বার থেকে একেবারে আনাচে কানাচে শেষ পর্যন্ত গোটা শহরটাই বুঝি এমন ঐ দু'হাত অঞ্চলের মতো ঝাঁ চকচকে! একেই কি উন্নয়ন বলে? এতেই আমজনতার তৃপ্তি!!!!!

তাহ'লে আমাদের জন্য কেউ নেই? অন্ন নেই, বস্ত্র নেই, নেই বাসস্থান!? রোগ, অসুখ বিসুখ হ'লে নেই হাসপাতাল, নেই চিকিৎসা ব্যবস্থা, চিকিৎসা কেন্দ্র থাকলেও নেই সুচিকিৎসা ও চিকিৎসাজনিত সুব্যবস্থা, আর সুচিকিৎসা ও চিকিৎসাজনিত সুব্যবস্থা থাকলেও তা আমার জন্য নয়। তাহ'লে আমার জন্য কে আছে?
শুনেছি যার কেউ নেই তার নাকি ঈশ্বর আছে। সেই ঈশ্বর যখন আমার জন্য যখন মাভৈ! ব'লে নেবে এলেন মানুষের রূপ ধ'রে তখন ঈশ্বর পুজারীরা এবং ঈশ্বর বিরোধীরা ঈশ্বরকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে রেখে দিলেন। দূরে সরিয়ে রেখে ঈশ্বরকে ব্যবসার উপকরণ বানিয়ে কুক্ষিগত ক'রে রাখলেন ঈশ্বর বিশ্বাসী ধর্ম ব্যবসায়ীরা। ধূপ, ধুনো, প্রদীপ, সিন্দুর, চন্দন, ফুল বেলপাতা, তাবিজ, মাদুলি, লোহালক্কড়, শেকড়বাকড়, লালনীলহলুদকালো নানা রঙের সুতো, নানা দেবদেবীর মূর্তি, ইটপাথর গাছপালা, বাবাজী মাতাজী ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের ডুবিয়ে রেখে মোহগ্রস্থ ক'রে রেখে নানা কঠিন কঠিন রঙবেরঙের তত্ত্ব কথার ফুলঝুড়িতে ভুলিয়ে রেখে মৌরসি পাট্টা জমিয়ে বসলেন চর্ব্য চোষ্য লেহ্য যোগে ঈশ্বর পুজারী ধর্ম্ম ব্যবসায়ীরা। এইসমস্ত ধর্ম্ম ব্যবসায়ীরা নিজেরাই ঈশ্বরের প্রতিনিধি সেজে স্বয়ং ঈশ্বরের আসনে বসে পড়েছে আর ঈশ্বর বিশ্বাসী ধর্মীয় মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ক'রে চলেছেন। ঈশ্বর স্বয়ং মানুষের রূপে মানুষের মাঝে মানুষ মায়ের কোলে আসার পরেও ঈশ্বরের পূজারীরা তাঁকে মানুষ থেকে দূরে সরিয়ে রেখে পৃথক পৃথক ধর্ম্মের নামে বহু দল সৃষ্টি ক'রে মানুষকে বিভ্রান্ত ক'রে রেখেছেন। ক'রে রেখেছেন পরস্পরকে পরস্পরের শত্রু। কিছুতেই ঈশ্বর যে বারবার এসেছেন আমাদের মত অসহায় মানুষদের জন্য সেই কথা কিছুতেই যাতে বিশ্বাস না করে ধর্ম্মপ্রাণ ঈশ্বর বিশ্বাসী মানুষ তার চেষ্টা ক'রে চলেছেন তারা। কারণ তারা জানে সাধারণ মানুষ অসহায় মানুষ দূর্ব্বল ভীরু অজ্ঞ। আর সেটাই তাদের মূলধন।

আর ঈশ্বর বিরোধীরা? গরীব অসহায় সাধারণ মানুষের তথাকথিত কল্যাণকামী ঈশ্বর বিরোধীরা? তারা কি করলেন বা ক'রে চলেছেন গরীব দুখী মানুষের জন্য?

মানবদরদী কল্যানকামী মানুষের বাঁচাবাড়ার পিয়াসী সমাজ কো বদল ডালো তত্ত্বের রূপকার ঈশ্বর বিরোধীরা নানা তত্ত্বকথার জাল বুনে মানুষকে শোষন মুক্তির পথ দেখিয়ে চলেছেন। যে শোষন করেছে বা করছে আর যারা এর বিরুদ্ধে লড়েছে বা ল'ড়ে চলেছে তারা সকলেই রিপু তাড়িত বৃত্তি-প্রবৃত্তির অধিকারী। রিপুগুলিই তাদের উভয়পক্ষের সকলের অভিভাবক। রিপুগুলি বৃত্তি-প্রবৃত্তির বৃত্তের মধ্যে উভয়পক্ষের সকলকে পিষে চলেছে। আর এই পিষে চলা ব্যক্তিরা একপক্ষ যেমন অসহায় মানুষকে মারার দীক্ষা নিয়েছে ঠিক তেমনি অন্যপক্ষ মানুষকে বাঁচাবার নামে ছদ্মবেশে মেরে চলেছে সাধারণ অসহায় বিধ্বস্ত ভাঙাচোরা মানুষকে তাদের ভাঙাচোরা জীবনের সুযোগ নিয়ে।

তাই কান্নাবিধ্বস্ত ক্ষতবিক্ষত শরীরে-মনে প্রশ্ন জাগে তাহ'লে আমার কেউ নেই এই দুনিয়ায়?

ঠিক সেইসময় অন্তরের অন্তস্থল থেকে কে যেন ব'লে উঠলো-----
সেই যে কবে থেকে মানুষুকে তমসার পার অচ্ছেদ্যবর্ণ মহান পুরুষ ইষ্টপ্রতীকে আবির্ভূত পরমপিতা বারবার যুগে যুগে তার সন্তানদের ঘুম ভেঙে জেগে ওঠার কথা ব'লে চলেছেন, ব'লে চলেছেন আচার্য পরম্পরার মধ্যে দিয়ে ভবিষ্যৎ ভয়ংকর বিপদ থেকে, মহাপ্রলয় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য "জাগার লগন এলো তোরা জাগনা ওরে" ব'লে, ব'লে চলেছেন নিরন্তর চেতনাবাহী স্মৃতি যুক্ত জীবন বৃদ্ধির কথা, সাবধান ক'রে চলেছেন মনুষ্যত্বের ভিত লুপ্ত হ'য়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা কিন্তু কেউই তাঁর অর্থাৎ জীবন্ত ঈশ্বরের কথা শুনছে না! কারোরই শোনার সময় নেই! সবাই দৌড়চ্ছে এক অলীক মায়ার মোহন বাঁশির পিছনে! তাই নিজের ও দশের ক্ষতির জন্য, নিজের ও দশের দুর্দশার জন্য নিজেই দায়ী।

এর থেকে নির্ম্মম যন্ত্রণা আর কি হ'তে পারে!?
অবশেষে মনে হ'লো হ্যাঁ! আমিও শয়তান! আমিও শয়তানের ছায়া!! শয়তানের প্রতিনিধি!!
(লেখা ১২ই মে' ২০২১)

প্রবি সমাচার ১০

সময় চলে যাচ্ছে বন্ধু! জীবন সূর্য পাটে যেতে বসেছে। কে জানে কখন কে যম দেবতার আতিথেয়তা গ্রহণ করবে। ঐ যে কি একটা গান আছে "কে জানে ক ঘন্টা পাবিরে জীবনটা........." তাই এই বেলা কিছু ক'রে যাও বন্ধু। কে বলতে পারে কাল তুমি আর আসবে কিনা এই ফেসবুকে! ঐ যে কথায় আছে না কে যেন ব'লে গেছে চোখ খুললে সকাল আর না খুললে পরকাল! গ্যারান্টি দিয়ে কি বলতে পারো কেউ কাল তোমার জন্য কি অপেক্ষা করছে? সকাল না পরকাল? নিশ্চয়তা কই? দুঃখের বিষয় ঠাকুর ধরেও জীবনের কোনও গ্যারান্টি নেই! নেই কোনও নিশ্চয়তা যে জোর গলায় বলবে, না আমি কাল থাকবো। ঠাকুর ধরেছে কিন্তু তেমন ভাবে কেউ নামধ্যান করেই না। ঠিক ঠিক নাম ধ্যান করলে রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে না। দীর্ঘায়ু হয়-ই হয়। ঠাকুর ধরলাম কিন্তু ঠাকুরকে ভালবাসতে পারলাম না। ঠাকুরের বুকের ব্যথা অনুধাবন করতে পারলাম না। আর তাই ঠাকুরকে ধরাও হ'লো না। ঠাকুর বললেন, ওরে ধর, ধর, ধর। আমি বললাম, ধরেছি তো! তোমায় ধরেছি তো! পাঁচ বছর বয়সে নাম পেয়েছি আর ১২ বছর বয়সে দীক্ষা নিয়েছি। তাহ'লে আবার কেন বলছো, ওরে ধর! ধর!! ধর!!! তাহ'লে কি ধরা হয়নি!? মনের ভিতর থেকে কে যেন ব'লে উঠলো, যদি ধরবেই তো এত দুঃখ, কষ্ট কেন? এত ব্যর্থতা কেন? কেন এত স্বল্পায়ু!? কেন এত রোগ শোক!? কেন এত গ্রহের দোষে ভুগছো!? ঠাকুর ধরলে আবার কারো বুদ্ধি বিপর্যয় হয় নাকি!? সারা জীবনে কেন এত বুদ্ধি বিপর্যয় হচ্ছে? আর তার কারণে সমস্যার মধ্যে ডুবে যাচ্ছো সবাই। যদি সত্যি সত্যিই ঠাকুর ধ'রে থাকো তাহ'লে শুধু অর্থ দারিদ্রতা নয় সবরকম দারিদ্রতা যেমন জ্ঞানের দারিদ্রতা, বুদ্ধির দারিদ্রতা, চরিত্রের দারিদ্রতা, প্রেম-ভালোবাসার দারিদ্রতা ইত্যাদি জীবনের সব দিকের দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পাবে।
তাই সবাই এসো! বুক ফাটো ফাটো ক'রে এসো!! সরল মনে এসো। মনের যত নোংরা, কালিমা সব ত্যাগ ক'রে নির্মল হ'য়ে এসো। ঘোমন্ড ব'লে কিছু রেখো না। কপটতা ত্যাগ ক'রে নির্মল উদার মনে বলি, রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও যাও গো এবার যাবার আগে! বলি, দাও হে দয়াল! শক্তি দাও! এমন শক্তি দাও যাবার আগে একটা দাগ রেখে যায়।
(লেখা ১২ই মে'২০২১)
All reaction

কবিতাঃ তিনি বরাভয়!

বড় একা লাগে এই আঁধারে
মানুষের মাঝে মানুষের বন বাদাড়ে!
রাত ঢুকে যায় গভীর নিস্তব্ধতার পেটে
গভীর থেকে গভীর অন্ধকারের গভীরে!
একাকী মন কাঁদে অনুক্ষণ
তুমি ছাড়া আর কেউ নেই এই মন মাঝারে!
ওগো প্রিয় তুমি থেকো সাথে এই ঘোর আঁধারে।
যাকেই ভেবেছি, যাক, বন্ধু পেয়েছি!
দিয়েছি বুকে যাকেই ঠাঁই
প্রয়োজনের দিনে দিয়েছে হাত ছেড়ে
মেরেছে বুকে কঠিন এক ঘায়।
লম্বা চওড়া ভাষণ ছুঁড়ে দিনকে করেছে রাত!
সঙ্কটের দিনে বন্ধু বাড়িয়ে দেয়নি তার হাত।
তবুও বিবেক বলে, ওরে শোন শোন
ওরে আমার পাগল মন
হৃদমাঝারে রাখিস তাঁরে
বাঁধিস তাঁরে প্রেমডোরে
তাঁর চলনবলন নিজের ক’রে
চলিস অনুক্ষণ, ওরে আমার অবুঝ মন!
তিনিই তোর পরম ভরসা,
তিনিই পরম আশ্রয়
তিনিই তোর পরম বন্ধু
করবি সিন্ধু জয়!
শেষের দিনে কেউ থাকুক আর না থাকুক
বাধা বিঘ্ন কাটিয়ে দিয়ে শান্তি স্বস্তি সাথে নিয়ে
তিনিই আনবেন তোর জয়!
তিনি বরাভয়।
(লেখা ১২ই মে' ২০১৮)

Thursday, May 11, 2023

কবিতাঃ করো ক্ষমা, দিও সাথ।

হে দয়াল! প্রতিমুহূর্তে হ'য়ে যাচ্ছে হাজারো ভুল!
কি করি, বুঝিতে না পারি, শ্যাম রাখি না কুল!?
জাল ফেলে মাছ ধরে জেলে ডাঙায় মাছ ছটফটায়
ভুলের জালে জড়িয়ে ছেলেমেয়ে তেমনি দয়াল
দেখি সকালেই বিকেলের ফুল হ'য়ে হাঁপায়!
দেখে দেখে আমার চারপাশে সব হ'য়ে গেছি শব
মাছের মতো আমিও তেমনি আজ পড়ে আছি নিথর
ভুলের জালের সুতোর প্যাঁচে বন্দী আমি আজ
টেনে চলেছি নিতে শ্বাস বুকের মাঝে যেন হাপর।
জানি তুমি দয়াময় সদা হাস্যময় আছো আমার পাশে
স্বাদ জাগে প্রাণে দেখিতে তোমারে বুক কাঁপে যখন ত্রাসে।
আমার প্রিয়জনে তুমি দাও শক্তি দাও বাড়িয়ে তোমার হাত
তুমি যে প্রভু মোদের পরমপিতা মোদের ভুল করো ক্ষমা
জড়ায়ে প্যাঁচায়ে রাখো মোদেরে প্রভু ত্যাজিও না কভু
তুমি না রাখিলে কে রাখিবে বলো অবুঝ প্রাণেরে দিও সাথ।
( লেখা ২৩শে এপ্রিল' ২০২৩ )

কিছু কথা।

দয়াল আর তোমার মাঝে দয়ালের তৈরী
'সৎসঙ্গ' শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্যের দুরন্ত প্রতীক!
বিশৃঙ্খলা আর কুৎসিতের আলিঙ্গনে 
ক'রো না তাকে অতীত।

'সৎসঙ্গ' বিশ্বে মানুষের সর্বশ্রেষ্ট প্রতিষ্ঠান!
অমানুষের ভিড়ে ক'রো না তাকে খানখান।

'সৎসঙ্গ' শ্রীশ্রীঠাকুরের চোখ, শ্রীশ্রীবড়দা 
সেই চোখের মণি! মণিতে আছে জেনো
ঠাকুর জ্ঞানের খনি! মণির মাঝে যে দৃষ্টি
জেনো আচার্য পরম্পরার কৃষ্টি!!

'সৎসঙ্গ' শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রাণ! শ্রীশ্রীবড়দা
সেই প্রাণের প্রাণভোমরা!! 
তা যতনে রক্ষা করে আচার্য পরম্পরা!!!
তাঁরি ছত্রছায়ায় বাচি-বাড়ি সৎসঙ্গীরা।

কেন্দ্র মাঝে অন্য কেন্দ্র চালায় কোদাল! 
এ কেমনতর কৃষ্টি!?
ঠাকুর কি চেয়েছিলেন
এই অনাসৃষ্টি!!??

কেন্দ্র হ'য়ে কেন্দ্র মাঝে বিভেদ ঘটাও? 
সৃষ্টি কর গোষ্টি!?
ভাগ করো আর মজা লোটো
এই তোমাদের ঠাকুর প্রীতি!?

বিশ্বে 'সৎসঙ্গ' দেওঘর দ্বারা পরিচালিত 
কোনও "...কেন্দ্র" অন্য কোনও কেন্দ্রে গিয়ে 
কি কোদাল চালায়? 
তা কি বিধিসম্মত ও শৃঙ্খলিত?

সম্পর্ক যখন অকারণ সমস্যার 
ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হয় 
তখন দয়ালের বুকের ব্যথা 
অশ্রু হ'য়ে বৃষ্টি রূপে ঝ'রে পড়ে!

সাবধান!
জীবনে হতাশা, অবসাদ আর অবিশ্বাস 
ব'লে কিছু রেখো না। 'রা - - -' ব'লে ডাকো 
একবার বিশ্বাস বুকে নিয়ে আর দাও ঝাপ 
দেখো কি হয়!

প্রভুর কাছে কিছু চেও না ।
তোমার কি প্রয়োজন তা সব প্রভু জানে।
এইটা ওইটা চেয়ে সময় নষ্ট করার চেয়ে 
নিরন্তর নাম করো আর দেখো পদে পদে কি হয়!

পরমপিতা তোমায় তোমার প্রয়োজনীয় 
সবকিছু দেবে ব'লে বসে আছে 
তুমি অবিশ্বাসের কারণে নিতে পারছো না;
বঞ্চিত হচ্ছো আর সময় নষ্ট হচ্ছে।
বিশ্বাস করো, বিশ্বাস করো, বিশ্বাস করো।

বাড়ির পরিবেশ এমন ক'রে রাখো
ঢুকলেই মনে হবে এক পজিটিভ শক্তি 
ব'য়ে যাচ্ছে বাডির ওপর দিয়ে।
সবাই মিলে তাকে আহবান করো
দেখবে চারিদিকে প্রভুর উপস্থিতি 
অনুভব করতে পারবে।

এসো কথাগুলি মনে রাখি।