Powered By Blogger

Monday, December 5, 2022

আমার দয়াল ঠাকুর ও আমার আচার্যদেব। (১)

এই যে আমি প্রায় বিপদ সীমার শেষ প্রান্ত থেকে ফিরে এলাম এই ফিরে আসা কি ক'রে সম্ভব হ'লো!? কে ফিরিয়ে আনলো? ডাক্তার? ওষুধ? ঠাকুর না আচার্যদেব? এর উত্তর দেওয়ার আগে দেখে নিই বিপদটা কি ছিল আমার?

আমার অন্যান্য বিপদের কথা এখানে আলোচনা ক'রে লেখাকে দীর্ঘ করতে চাই না। শুধু রোগ নিয়ে যে বিপদের মুখোমুখি হয়েছিলাম সেই রোগ সংক্রান্ত বিপদ্গুলির কথায় শুধু বলবো এখানে এই প্রবন্ধে।
তার আগে ব'লে রাখি জাগতিক জীবনে আমার শ্রীবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সেই ছোটো থেকে আজ পর্যন্ত কোনও সুখই আমাকে রাঙাতে পারেনি। জীবন জুড়ে ছোটোকে বড় আর বড়কে আরো বড় করার ঠাকুর দর্শনে বিশ্বাসী আমি শুধু বাড়ির খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মতো অন্যের মই হ'য়েই বেঁচে আছি আজ পর্যন্ত।
সালটা সম্ভবত ২০১৫ হবে। বর্তমান শ্রীশ্রীআচার্যদেব তখন দর্শন দিতেন শ্রীশ্রীবড়দার বাড়ি যাওয়ার পথে ঠাকুর বাংলো থেকে বেরিয়েই পাশে যে গেট সেই গেটের ভিতরের বিশাল যে ফাঁকা জায়গা সেইখানে নির্দিষ্ট বসার জায়গায় এবং আচার্যদেব শ্রীশ্রীদাদার নির্দেশেই তাঁকে নিবেদন করার পরিবর্তে বর্তমান আচার্যদেবকে সব নিবেদন করা হত সেই সময়।
সেইসময় কোনও একদিন সকালে শ্রীশ্রীআচার্যদেবকে আমার স্ত্রী আমার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রসঙ্গে বলেছিল, "আমি অন্যের মই হয়েই কাটিয়ে দিয়েছি আমার রাজনৈতিক সারাটা জীবন। মই হিসেবে সবাই ব্যবহার করে আর কাজ মিটে গেলে কেউ খোঁজ রাখে না।" এ কথার উত্তরে সেদিন আচার্যদেব রাজনীতির সঙ্গে আর যুক্ত না থাকার কথা আমায় বলেছিলেন। বলেছিলেন পুরো সময়টায় ঠাকুরের কাজে যুক্ত থাকতে। আর হাসতে হাসতে বলেছিলেন, "রঙ করেন কেন? রঙ করবেন না। সাদা চুল আর দাঁড়ি দেখে আপনাকে কেউ আর ডাকবে না নতুবা আপনার মুক্তি নেই।" চারপাশে একটা হাসির রোল উঠেছিল।
অনেকদিন পর বেশ ভালো লাগছিল, নিজেকে হালকা বোধ হচ্ছিলো সেই মুহুর্ত থেকে। মুহূর্তে যেন একটা বিরাট অসহ্য চাপ নেবে গেল মাথা থেকে। যে চাপ কোনও ডাক্তার, কোনও ওষুধ, কোনও জাগতিক সুখ এতদিন নাবাতে পারেনি। একটা পাহাড় হ'য়ে চেপে বসেছিল মাথার ওপর। সেদিন বেশ ফুরফুরে পাখির পালকের মতো হালকা বোধ হচ্ছিলো শরীরটা সেই মধুময় আলোময় রূপময় সকালে। অনুভব করলাম একটা দিব্য জ্যোতি যেন সেই দেবোপম শরীর থেকে বিচ্ছুরিত হ'য়ে আমাকে স্নান করিয়ে দিচ্ছে! আমি তৃপ্ত হলাম, শান্ত হলাম। তখন আমি তাঁকে হাত জোড় ক'রে প্রণাম ক'রে বললাম, 'আজ্ঞে তাই হবে। আর আজ থেকে নিজের মই নিজে হলাম।'
তখন তিনি শ্রদ্ধেয় শান্তিদাকে ডেকে কিছু নির্দেশ দিয়ে দিলেন আমার জন্য। প্রণাম ক'রে উঠে এলাম সেখান থেকে। সেই থেকে শ্রদ্ধেয় শান্তিদার সঙ্গে অন্তরঙ্গতা।
প্রথমে স্ত্রীর উপর বিরক্ত হ'লেও পরে বুঝেছিলাম আচার্যদেবকে বলা আমার সম্পর্কে স্ত্রীর সেই কথার আল্টিমেট উপকারিতা। সেই শুরু হ'লো মানসিক নিরাময় প্রক্রিয়া! আমি ধীরেধীরে সম্পূর্ণ রূপে মসৃণ ভাবে রাজনীতি থেকে মুক্ত ক'রে নিলাম নিজেকে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে কোনও জটিলতার সৃষ্টি হ'লো না, সৃষ্টি হ'লো না কোনও টানাপোড়েন, হ'লো না কারও সঙ্গে কোনও বিরোধ, মনোমালিন্য। এখনও পুরোনো সবার সঙ্গে সুন্দর মসৃণ সম্পর্ক আমার!
এখানে অলৌকিক রহস্য কোথায় জানি না। তবে দীর্ঘদিন পরে নিজেকে স্বাভাবিক ও হালকা বোধ হ'লো। এটাকে কি বলবো? মানসিক চিকিৎসা? জানি না। তবে তিনি যে বাকসিদ্ধ পুরুষ এবং তাঁর সাক্ষাৎ দর্শন, সঙ্গলাভ, পরামর্শ, উপদেশ, নির্দেশ গ্রহণ ও পালন সমস্যা সমাধানের ও মুক্তির উপায় তা বাস্তবভাবে অনুভূত হ'ওয়া শুরু হ'লো।
কিন্তু একটা জিনিস বুঝলাম পরবর্তী সময়ে, অন্যের মই হওয়া যত সহজ ও সম্ভব নিজের মই নিজে হওয়া ততটাই কঠিন ও অসম্ভব। কখনো কখনো মনে হয় অবাস্তবও!! এখানে দয়ালের দয়া, আচার্যদেবের প্রত্যক্ষ আশীর্বাদ, পরামর্শ ছাড়া নিজের মই নিজে হওয়া এবং সমস্ত রকম কঠিন ভয়ংকর সমস্যা, রোগ এমনকি নিশ্চিত মৃত্যু থেকে মুক্ত হওয়া একপ্রকার অসম্ভব। দয়ালের উপর বকলমা দিয়ে নিজের মই নিজে কি ক'রে হ'তে হয় আর বকলমাই বা কি ক'রে দিতে হয় তার আচার আচরণ স্বয়ং আচার্যদেব শিখিয়ে দেন। তাই তিনি আমার ও আমাদের আচার্যদেব।
ক্রমশঃ
( রচনা ২৭শে নভেম্বর)

Sunday, December 4, 2022

আমার প্রিয়জন!

চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায়। আলোর পরে যেমন অন্ধকার আসে ঠিক তেমনি আবার অন্ধকারের পরে আলো আসে। আর যদি দয়াল থাকে আমার জীবনে, দয়ালে থাকে আমার সমর্পিত জীবন তাহ'লে অন্ধকার রূপী বিপদ তা সে যতই ঘন বা বড় হ'ক না কেন দয়ালের দয়ায় তার ওজন এক মণ থেকে কমে এক কেজি হ'য়ে যায়। ছোট্ট হ'য়ে যায় সেই বড় বিপদ। বোঝায় যাবে না বিপদের ভয়ঙ্কর উপস্থিতি দয়ালের দয়ায়। ভালো দিন, সুদিন সূর্যের আলোর মতো, পূর্ণিমার চাঁদের স্নিগ্ধ আলোর মতোন ভাসিয়ে দেবে আমার জীবন, আমার ঘর। দয়াল আছে আর আমি আছি। এই দুইয়ের মাঝে কেউ নেই, কিচ্ছু নেই। বিশ্বাস! বিশ্বাস!! আর বিশ্বাস!!! গভীর বিশ্বাস!!!! -----প্রবি।
( লেখা ৪ই ডিসেম্বর'২০২২)
 

আহ্বানঃ হে আমার প্রিয়জন,

(একটু কষ্ট ক'রে পড়ার অনুরোধ রইলো বাবা-মায়েদের কাছে)

একমুহুর্ত আর সময় নষ্ট ক'রো না। ভবিষ্যত সময় ভয়ঙ্কর! সমাজের সমস্ত নেতৃবৃন্দ, সমাজের এলিট সম্প্রদায়, সমাজের তথাকথিত শিক্ষিত ও অর্থবলে বলীয়ান মানুষ নিজেদের ভবিষ্যত ও সন্তানদের ভবিষ্যত গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত। নিজেদের দায় ছাড়া সমাজের প্রতি, সমাজের সাধারণ মানুষের প্রতি কোনও দায়, কারও প্রতি কোনও দায় তাদের কারও নেই। ভাঁড় মে যায় সমাজ, সভ্যতা, দেশ, দেশের আর্থিক ব্যবস্থা, শিক্ষা-শিল্প-ক্রীড়া ব্যবস্থা, আইন ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি সব ব্যবস্থা। নিজের আখের গুছিয়ে নাও এই দর্শনে এরা বিশ্বাসী সবাই।

এ অবস্থায় তুমি অসহায়, তোমার সন্তান ভবিষ্যত কঠিন ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে। তুমিও বাঁচবে না, তোমার সন্তানকেও চারপাশের নোংরা পরিবেশ থেকে বাঁচাতে পারবে না। ভবিষ্যত চারপাশের অস্থির পরিবেশে পাগল হ'য়ে যাবে তোমার শিশু। ভবিষ্যতে মৌমাছির মতো মৌ মানুষ হওয়ার পরিবর্তে গু'য়ে মাছির মতো গু'য়ে মানুষ হ'য়ে ঘরে ফিরে আসবে। সমাজের সমস্ত নোংরা ঘরে নিয়ে আসবে। সাবধান! ঘুমিয়ে থেকো না, উদাসীন থেকো না। তুমি ভালোমতোই জানো তোমার চারপাশে পরিবেশ, পরিস্থিতি কি। যদি বিয়ে ক'রে না থাকো তবে তোমার যদি ইচ্ছা হয় তবে তোমার জীবন নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করো কিছু বলার নেই। আর যদি সংসার জীবনে প্রবেশ ক'রে থাকো, স্বামী, স্ত্রী, পুত্র থেকে থাকে আর পুত্র কন্যার ভবিষ্যতের জন্য একটুও কান্না থেকে থাকে তোমার বুকের মধ্যে তবে থমকে একটু দাঁড়াও। সব ভুলে যাও। নিজেকে পাল্টাও। সন্তানের জন্য, স্ত্রীর জন্য, স্বামীর জন্য সর্বোপরি তোমার ভবিষ্যত নিশ্চিন্ত জীবনের জন্য এক ও একমাত্র ভরসা, আশ্রয়স্থল ঠাকুরের দিকে মুখ ফেরাও। ফুল বেলপাতা ধুপ ধুনো দিয়ে চরণপুজা ভুলে যাও। নিজের ও তোমার সংসারে তোমার স্ত্রী, তোমার শিশু সন্তান প্রিয়জনের জীবনে ঠাকুরকে অভিভাবকের আসনে বসাও। তাঁর চরণপুজার পরিবর্তে তাঁর চলনপুজা করো ও তোমার শিশু সন্তানকে এখন থেকেই চলনপুজায় অভ্যস্ত করাও। জীবনে আদর্শ ধরিয়ে দাও। রক্তমাংস সংকুল জীবন্ত ঈশ্বর সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। তাঁর চরণে সন্তানকে বসাও। শ্রীশ্রীঠাকুর বলেন, "সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ যার উন্নতি হয় অবাধ তার।" আচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদার কথা স্মরণ করো আর চোখের জলে নিজেকে ভাসিয়ে সন্তানকে বলো, "আমারও অনেক ভুল হয়, তোরও ভুল হয় বাবা। সংসারে ঐ একমাত্র নির্ভুল মানুষ ঠাকুর। আমি তোর অভিভাবক নই। আমারও অভিভাবক, তোরও অভিভাবক দু'জনের অভিভাবক ঐ ঠাকুর।"

শোনো আমার প্রিয়জন, শোনো সন্তানের বাবা-মা!
ঠাকুরকে, ঠাকুরের বিধানকে জীবনে প্রধান ক'রে নাও। আর কিচ্ছু করতে হবে না। শুধু সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই পারলে অতি প্রত্যুষে প্রথমে নিজে কিছু খাওয়ার আগেই ইষ্টভৃতি করো অর্থাৎ তোমার ইষ্ট অর্থাৎ মঙ্গলকে ভরণ করো অর্থাৎ তাঁকে খেতে দাও। তুমি যা পারো তাই তাঁকে দাও। সন্তানকে পাশে বসিয়ে নিজের হাতে ইষ্টভৃতি করাও। উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে মনে মনে শুধু নাম করো ও সন্তানকে নাম করা শেখাও যে নাম পেয়েছো দীক্ষার সময়। নাম করার ও করাবার অভ্যাস করো ও করাও। ভুলে গেলে মনে পড়লেই করো। 'স্বতঃ অনুজ্ঞা' পাঠ করো ও করাও। স্বতঃ অনুজ্ঞা জানো তো? দীক্ষা নেবার সময় দীক্ষার কাগজে লেখা আছে 'স্বতঃ অনুজ্ঞা'। না জানলে দীক্ষিত কারো কাছ থেকে লেখা কাগজ চেয়ে নিও। আর না পেলে আমাকে ব'লো আমি লিখে দেবো কমেন্টের ঘরে। নিজে প্রতিদিন ভালোবেসে আগ্রহ সহকারে ইষ্টভৃতি করার আগে এবং যখনি সময় পাবে তখন অর্থ বুঝে 'স্বতঃ অনুজ্ঞা' পাঠ করলে, আবৃত্তি করলে দেখবে নিজের অজান্তে একদিন নিজের ভিতরে একটা শক্তি অনুভব করবে আর চরিত্র গড়ে যাবে।
বিশেষ ক'রে ছোটোবেলা থেকে শিশু যদি পাঠ করে 'স্বতঃ অনুজ্ঞা' তাহ'লে আর চিন্তা নেই শিশুর ভবিষ্যত জীবন, ভবিষ্যত চরিত্র গঠন নিয়ে। এক্কেবারে মোক্ষম জীবন তৈরী হ'য়ে যাবে তোমার ও তোমার সন্তানের। সমাজের কোনও শক্তি নেই তোমাকে, তোমার সন্তানকে বিপথে, ভুল পথে চালিত করে। এখন মোবাইলের যুগ, নেটের যুগ। কিছু পারো আর না পারো সকাল হ'লেই ঘরে নেটে চালিয়ে দাও ভোরের প্রার্থনা। আবার বিকেল বেলা চালিয়ে দাও বিকেলের প্রার্থনা। ছুটির দিনে অবশ্য অবশ্যই বাজুক ঠাকুরের প্রার্থনা, ঠাকুরের সুন্দর সুন্দর নোতুন নোতুন গান। বাজুক শ্রীশ্রীদাদার লেখা, আচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদার লেখা, শ্রীশ্রীঅবিনদাদার লেখা ও ঠাকুরবাড়ির শ্রদ্ধেয় অন্যান্য দাদাদের লেখা দুর্দান্ত দুর্দান্ত সব গান। সময় পেলেই অবসর সময়ে অন্য কিছু মোবাইলে না দেখে সবাই মিলে চা টিফিন খেতে খেতে আচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদার ভাষণগুলি শোনো। মন দিয়ে একটু ধৈর্য নিয়ে একটু কষ্ট ক'রে শোনো। নির্ঘাত ফল পাবে; গ্যারান্টি। পৃথিবীর কোথাও গেলে ঘরে বসে এমন বিপাক পথে হাত ধ'রে জীবনে চলার কায়দা ফোকটে পাবে না। তাই উদাসীন থেকো না, অবজ্ঞা অবহেলা ক'রো না শিশুর জীবন নিয়ে। তোমরা বাবা-মা ছাড়া এমন আপন, এমন বিশ্বাসযোগ্য, নির্ভরযোগ্য আশ্রয় শিশুর আর কেউ নেই এই বিশ্ব দুনিয়ায়।

আর, সময় পেলেই একটু ঠাকুরের কাছে বসো; ঠাকুরের সঙ্গে কথা বলো কারণ ঠাকুর যে তোমার ঘরের অভিভাবক। যখনি যা খাবে তাঁকে নিবেদন ক'রে খাও। যেখানেই যাবে তাঁকে ব'লে যাও। যেখানেই সবাই মিলে ঘুরতে যাবে তাঁকে সঙ্গে ক'রে নিয়ে যাও কারণ তাঁরও বেড়াতে যেতে ইচ্ছা করে তোমাদের সঙ্গে। কি ক'রে নিয়ে যাবে? মনে মনে মাথায় ক'রে নিয়ে যাবে তাঁর দেওয়া বীজনাম। জেনে রাখো, নাম আর নামী অভেদ। ব্যস্ দেখবে শয়তানের বাবার ক্ষমতা হবে না তোমাকে, তোমার পরিবারকে স্পর্শ করার, মুখ তুলে তাকাবার। তাঁকে তোমাদের সকলের মাঝে জীবন্ত রাখো।

হে আমার প্রিয়জন। দেখবে তাঁর দয়ায় অর্থ, মান, যশ ইত্যাদি সব না চাইতেই পাবে। ভুতের মতো কে যেন তোমাকে যুগিয়ে দেবে সব তোমার প্রয়োজনের সময়ে। বিশ্বাস করো আমার কথা। সন্তানের ভবিষ্যত উন্নত সুন্দর নিষ্কণ্টক বিপদমুক্ত জীবন দেখে তোমার চোখ জলে ভরে যাবে। শেষ বয়সে উপলব্ধি হবে দয়ালের উপস্থিতি। 

Saturday, November 26, 2022

কবিতাঃ মূর্ত ক'রে তোলো--------

বাড়ির খেয়ে তাড়াচ্ছো মোষ
আর কুৎসা, গালাগালিতে হ'চ্ছো ক্ষতবিক্ষত!
অন্যদিকে তাড়িয়ে আনা বাঁধা মোষের দুধ
দুয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে ঘোষের পো সতত!!
করবে টা কি? ভাবছো ব'সে, করবে টা কি?
আমি বলি,
গালাগালি, কুৎসা করবার কাজ যার
তিনি করবেন, ক'রে যাবেন, এই-ই তার নেশা।
সৃষ্টির বুকে প্রত্যেকের অবস্থান আছে নির্দিষ্ট
যেমন সেফটি ট্যাঙ্কের পোকা।
তাই বলি, তোমার কাজ মালির,
নয় বাবু সাজা! বাগান করবে ব'লে এসেছ তুমি
বাগান তৈরিতে তুমি রাজা!
বাবু সাজতে চায় যে সে সাজুকগে বাবু
বাবুর গালাগালিতে হ'য়ো না তুমি কখনো কাবু।
তোমার কাজ বাগান তৈরীর
পাথুরে জমিতে ফুল ফোটানো
রং বেরঙের ফুল ফুটবে সেথায়
হাসি-আনন্দে ভরপুর পরিবেশ চোখ জুড়ানো!
কলুর বলদের মত তুমি চলেছো টেনে
বাঁচা-বাড়ার ঘানি!
কিন্তু নিন্দা আর অকারণ অপবাদে বিধ্বস্ত তুমি
জানি বন্ধু, মান পায় না মানি!
করবেটা কি? ভাবছো বসে, করবেটা কি?
আমি বলি, করবার তুমি কে?
তুমি করো তোমার কাজ আর
করবার যিনি করবেন তিনি
তুমি মূর্ত ক'রে তোল তাঁর বলাকে।
----প্রবি।
( রচনা ২৭শে নভেম্বর' ২০১৯)

Friday, November 25, 2022

কবিতাঃ জপ নাম অবিরাম।

হাত ধ'রে যার তুমি শিখলে সাঁতার 
তারেই মারতে চাও ডুবিয়ে!?
আসবে সেদিন যেদিন ঘোর আঁধারে 
তুমি নিশ্চিত যাবে হারিয়ে!
ভাঙার জাল শুধু বুনলে তুমি 
গড়লে না কিছুই জীবনে!
ভাঙার কারিগর হ'লে শেষে বন্ধু 
প্রভুর চোখে চোখ রাখো কেমনে!?
ছেনী হাতুড়ি গাঁইতি সম্বল তোমার এই বৈশিষ্ট্য
যখনি ভিড়েছো গড়ার দলে 
ভেঙ্গে করেছো চুরমার হ'য়ে ইষ্টনিষ্ঠ। 
তবুও তোমার মেটেনি সাধ স্বভাবসিদ্ধ কারণে
গড়ার দলে ভিড়ে তলে তলে আঁটছ ফন্দি 
আর কানে কানে দিয়ে কুমন্ত্রণা ফেলছো সোরগোল 
আর কুমন্ত্রণার বিষে সম্পর্ক করছো ফালাফাল 
বাঁধিয়ে বিবাদ প্রাণে প্রাণে।
স্বভাব তোমার ভাঙছে সম্পর্ক, ভাঙছে ঘর-বাড়ি,
সমাজ, সভ্যতা, দেশ আর করছো সবারে পর;
দিন শেষে ঘরে ফিরে এসে 
ছেনী হাতুড়ি নিয়ে কাঁধের 'পরে
দেখছো অবশেষে মাথার ওপরে 
নেইকো ছাদ ফাঁকা চারপাশ
শ্মশান হয়েছে তব বাসভূমি; 
নেইকো সেথায় কেহ, নেই তোমার ঘর।
আজ তুমি নিঃস্ব, রিক্ত, সহায়সম্বলহীন; 
যৌবন আজ গত তোমার
সময়ের আগে পাপের ভারে ধ্বস্ত বিধ্বস্ত তুমি, 
আয়ু তব ক্ষীণ।
অশক্ত হাতে আজ নেই ছেনী হাতুড়ি, 
নেই কাঁধে গাঁইতি শাবল
এসো বন্ধু যাবার আগে পর জন্মের তরে 
গড়ার মন্ত্রে নাও দীক্ষা
প্রায়শ্চিত্ত করো কৃত কর্মের তরে 
পাবে শান্তি যদি জপ নাম
অবিরাম কেবল। ----প্রবি।

Thursday, November 24, 2022

অভিজ্ঞতাঃ সাজা সৎসঙ্গী।



সৎসঙ্গী সেজো না, সৎসঙ্গী হওয়ার চেষ্টা করো।

জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। সেই যে ছোটোবেলা থেকে দেখে আসছি আর আজও দেখছি জীবনের এই বয়স পর্যন্ত পোশাক সত্যি সত্যিই ম্যাটার করে। নিজের মনের ওপর ও পারিপার্শ্বিকের ওপর পোশাকের একটা বিরাট ভুমিকা আছে; ভূমিকা আছে মানসিক শান্তি প্রাপ্তির ওপর। ঠিক একইভাবে পুরুষের মতো নারী যখন আসে সৎসঙ্গে তখনও একইরকমভাবে নারীর সুন্দর পোশাক পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়ে, মাতৃভাবের সৃষ্টি করে।
এ প্রসঙ্গে শ্রদ্ধেয়া বড়বৌদির কথা মনে পড়ে গেল। সময়টা ২০১৬-১৭ হবে। তাঁর সামনে বসে আছি। কথা হচ্ছে মায়েদের পোশাক নিয়ে। তখন দু'টো কেন্দ্রে ( কেন্দ্রের নাম উহ্য রাখলাম) মাতৃসম্মেলনে পড়ার জন্য মায়েদের শাড়ির আলাদা আলাদা ব্যবস্থা হয়েছিল। একইরকম শাড়ি সব মায়েরা পড়ে আসবে মাতৃসম্মেলনে। একটা কেন্দ্রে একরকম, আর একটা কেন্দ্রে আর একরকমের শাড়ি। একটা ব্যবসা শুরু ক'রে দিয়েছিল কিছু সাজা সৎসঙ্গী। সেটা বলাতে আমি সাজা সৎসঙ্গীদের চক্ষুশূল হয়েছিলাম।
যাই হ'ক, বড়বৌদিকে আমি ও আমার স্ত্রী জিজ্ঞেস করেছিলাম মাতৃসম্মেলনে এক এক কেন্দ্রে এক একরকম শাড়ি আর সেই একইরকমের শাড়ি সবাই মাতৃসম্মেলনে পড়ে আসবে এমন কোনও নির্দেশ ঠাকুরবাড়ি থেকে আছে কিনা। একথা শুনে বড়বৌদির আকাশ থেকে পড়ার অবস্থা। তিনি প্রথমে কথাটা বুঝতে না পারায় আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান ইত্যাদি ক্লাবের জার্সির মত মাতৃসম্মেলনের জন্য কেন্দ্র অনুযায়ী কোনও আলাদা আলাদা একইরকম শাড়ি পড়ার নির্দেশ অর্থাৎ কোনও ড্রেস কোড আছে আছে কিনা। তখন তিনি বলেছিলেন, এ আবার কি অদ্ভুত কথা! তাহ'লে কে ক'টা শাড়ি কিনবে? এমন কোনও অদ্ভুত নির্দেশ ঠাকুরবাড়ি থেকে নেই। কোন কেন্দ্রে এমন ব্যবস্থা? তখন সেই সেই কেন্দ্রের নাম বলেছিলাম আর তা শুনে অবাক বিস্ময়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছিল বড়বৌদি। তখন আমার স্ত্রী বলল, তাহ'লে কি সাদা লাল পাড়ের শাড়ি পড়ে আসবে? তার উত্তরে তিনি বলেছিলেন, কার কত পয়সা আছে যে শুধু মাতৃসম্মেলনের জন্য আলাদা ক'রে একটা লাল পাড়ের শাড়ি কিনে আলমারিতে তুলে রাখবে? ঘরে যে শাড়ি থাকবে তাই-ই পড়বে। যে শাড়ি পড়লে মায়েদের মাতৃভাব ফুটে ওঠে, মিষ্টি লাগে, সুন্দর লাগে, স্নিগ্ধ লাগে সেই শাড়ি পড়বে। তা সে যতই কম দামের হ'ক আর যাই হ'ক পরিস্কার আর সুন্দর হ'লেই হ'লো। আর মাতৃভাব পোশাকের সঙ্গে আচরণেও যেন ফুটে ওঠে খেয়াল রাখতে হবে।" পরবর্তীতে একইরকম শাড়ি পড়ার আঞ্চলিক সিদ্ধান্ত দুই কেন্দ্রেই বন্ধ হ'য়ে গেছিল। ফলে ব্যবসা হয়েছিল বন্ধ।
তাই সৎসঙ্গে একসঙ্গে অনেকে সাদা ধুতি আর ফতুয়া পড়লে একটা শান্ত সৌম্য ভাব আসে, সুন্দর লাগে। পরিবেশের ওপর তার প্রভাব পড়ে। সৎসঙ্গীদের আলাদা একটা পরিচিতি হয়।
কিন্তু আমাদের মাথায় রাখতে হবে সাদা পোশাকের মর্যাদা রক্ষা না হ'লে সাদা পোশাক তার গৌরব হারায়। এখন সাদা পোশাক প্রায় সব রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ধ'রে ফেলেছে। যেখানেই যে দলের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান হয় সবাই সাদা পোশাকে সুসজ্জিত হ'য়েই মারণ যজ্ঞের ছক কষে। ফলে গেরুয়া পোশাকের মতো সাদা পোশাকও এখন প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। গেরুয়া পোশাকের আর আগের মতো জৌলুশ নেই। যে গেরুয়া পোশাক ছিল ত্যাগের প্রতীক সেই পোশাক আজ ত্যাগের ওপর প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। আর এঁকে দেওয়ার কাজটা একশ্রেণীর গেরুয়াধারীরা নিজেরাই করেছে। ঠিক তেমনি যেখানে যত রাজনৈতিক নোংরামো সেখানে তত সাদা পোশাকের ঝলকানি।
তাই আমরাও যারা সৎসঙ্গী তারা যেন সাদা পোশাকের মর্যাদা রক্ষা করি। ইদানিং দেখি সবাই সাদা পোশাকের সঙ্গে কাঁধে একটা একই রকমের কালো ব্যাগ ঝুলিয়ে তাকে সাদা পোশাকের সঙ্গী ক'রে নিয়েছি। সেই কবে বর্তমান শ্রীশ্রীআচার্যদেব কাঁধে একটা কালো ব্যাগ ঝুলিয়ে এয়ারপোর্টে বসেছিল তারপর থেকে সেই একই ডিজাইনের কালো ব্যাগ হ'য়ে গেল সৎসঙ্গীদের চলার সঙ্গী। হু হু ক'রে বিক্রি হ'তে লাগলো। ব্যবসা বুদ্ধি চাগাড় দিয়ে উঠলো।
ভালো অনুসরণ ভালো। কিন্তু তা যেমন পোশাকে পরিচ্ছদে ঠিক তেমনি যেন চরিত্র গঠনেও হয়। আমরা যেন প্রত্যেকেই শ্রীশ্রীবাবাইদাদার ব্যাগ অনুসরণের মতো তাঁর মনের মতো হ'য়ে উঠতে পারি। নতুবা সাজা সাধুর মতো সাজা সৎসঙ্গী হ'য়ে যাবো। আর এই সাজা সাধুর মতো সাজা সৎসঙ্গীর পোশাক প্রবণতা সুদুর প্রসারী হ'য়ে ভন্ডামীর পোশাকে গিয়ে দাঁড়াবে। মানুষের ওপর তার উল্টো প্রভাব পড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করবে। সাদা পোশাকের প্রতি মানুষ বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে। ভবিষ্যতে সাদা রঙ তার পবিত্রতা হারিয়ে সৎসঙ্গীদের বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে। আমরা যেন সতর্ক থাকি। নিজের ভেতরে যেন ঝাঁক মেরে দেখি আমি সত্যি সত্যিই সৎসঙ্গী তো; সাজা সৎসঙ্গী নই তো?
শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণী তখন সত্য হ'য়ে "সাধু সেজো না, সাধু হওয়ার চেষ্টা করো"-র বাণীর মতো 'সৎসঙ্গী সেজো না, সৎসঙ্গী হওয়ার চেষ্টা করো' বাণী বুমেরাং হ'য়ে ফিরে আসবে।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আরো বললেন,
"বকলমা যদি না-ই দিস নকল সাধু সাজিস না,
সাধু সেজে গুরু হ'য়ে মানুষ নিকেশ করিস না।"
সাধু ধাঁচের কায়দা-কথা মতলববাজী অন্তরে,
ইষ্টস্বার্থে মিথ্যা উদার নাশক জানিস সেই নরে।
ইষ্টস্বার্থী ঝোঁক নাই প্রেষ্ঠকথায় হামবড়াই
নিশ্চয় জানিস ভন্ড তা'রা উদ্দেশ্য ঠক সাধু সাজাই।"
প্রবি।

Wednesday, November 23, 2022

আচার্য প্রথাঃ সৎসঙ্গে বর্তমানের অতীশ দীপংকর।

আচার্য' সম্পর্কে শ্রীশ্রীঠাকুরের অনেক রকমভাবে অনেক বলা আছে।

ইদানীং ফেসবুকে ও ইউটিউবে 'আচার্য' নিয়ে কথার ঝড় তুলে চলেছে কিছু অতি ইষ্টপ্রাণ মানুষ। কথায় আছে অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ। সেই লক্ষণই আজ প্রকট ইদানিং ফেসবুকে ও ইউটিউবে।

যাই হ'ক যারা এই নিয়ে কনস্ট্যান্ট জল ঘোলা ক'রে চলেছে নানারকম কথার মারপ্যাঁচে ঠাকুরের কতিপয় বাণীকে হাতিয়ার ক'রে ফেসবুক, ইউটিউবকে প্ল্যাটফর্ম বানিয়ে তারা সারাজীবন কেন কয়েকশো বার জন্মালেও তাঁর এবারের হাজার হাজার বলাগুলি পড়ে শেষ করতে পারবেন না। আর যদি কয়েকশো বার জন্মাবার ফলে পড়ে উঠতে পারলেও বুঝে উঠতে পারবেন না। কারণ এরা সব আত্মপ্রতিষ্ঠায় মগ্ন। বুক ভর্তি হিংসা ও অশ্রদ্ধা নিয়ে কথার স্রোতে ভাসা কর্মহীন প্রচার পাগল জীবকোটি মানুষ এরা। এর জন্য দরকার জন্মগত সংস্কার। জীবন ব'লে দেয় কার সংস্কার কেমন। মানুষের চোখমুখ, কথাবার্তা, চালচলন, আচার আচরণ ইত্যাদি ব'লে দেয় কে কি সংস্কার নিয়ে জন্মেছে। আর ইশ্বরকোটি পুরুষ ছাড়া তাঁর বলাগুলি পড়ে শেষ করা এবং সেই বলাগুলি অনুধাবন করা সম্ভব নয়। যারা আচার্য ও আচার্য পরম্পরার বিরুদ্ধে ফেসবুকে ও ইউটিউবে সবজান্তা হ'য়ে ব'সে হরিদাস পালের মত আমিত্ব ফলাতে ব্যস্ত ও আমিত্ববোধে বেহুঁশ হ'য়ে আচার্য নিন্দা ও কুৎসা ক'রে চলেছে এবং ভিত্তিহীন কথার ফানুশ উড়িয়ে চলেছে সৎসঙ্গীদের বিভ্রান্ত করতে কর্মহীন কথার অম্ল ঢেঁকুর তুলে তাদের এখনও ঠাকুরের দর্শন, ঠাকুরের হাজার হাজার বাণী, লক্ষ লক্ষ করা কথা ও করার কথা বোঝার ও মানুষকে বোঝাবার মত জ্ঞান, বয়স এখনও হয়নি এবং সেই জীবন তারা এখনও লাভ করেনি। বটগাছের হাজার ঝুরি নামা প্রাচীন বটবৃক্ষের মতো বয়স হ'তে হবে তাদের এবারে ভয়ংকর রূপে আসা জীবন্ত ঈশ্বরের কথা বুঝতে একথা বিস্মৃত না হয় যেন তারা। তাদের এসব বালখিল্য প্রয়াস মাত্র। এখনও নাক টিপলে সদ্য মায়ের ঝিনুক দিয়ে খাওয়ানো দুধ বেরোবে আর কাল কা যোগী ভাতকে বলে অন্ন এমন সব বাচ্চা ছেলে যেখানে হাতি ঘোড়া তল পায় না সেখানে ঠাকুরের বিশাল সাহিত্যের মহাসমুদ্রে সাঁতার কাটতে এসে এরা মশার মতো বলে, কোথায় জল!? কি এমন জল!? ক্যামেরার সামনে এদের বসার ভঙ্গি, বলার ধরণ, চোখমুখের অভিব্যক্তি, হাত পা নাড়াবার কৌশল দেখলে বোঝা যায় এরা সব গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়লের দল স্বয়ং এক একজন শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের প্রতিবিম্ব! এদের কথা শুনে মনে হয়, এরা সব জানে, এদের কথায় শেষ কথা, এদের কথা শুনলেই হবে কাউকে ঠাকুরের বই আর পড়তে হবে না, এরা সব ঠাকুরের মুখ!

এরা নিজেদের প্রচারের জন্য ভিডিও বানিয়েছে। যাঁর কথা এখানে এরা তুলে ধ'রে আচার্য প্রথার বিরুদ্ধে বলতে এসেছে সেই তিনি অর্থাৎ ঠাকুর স্বয়ং এবং ঠাকুর আত্মজ আচার্যদেব শ্রীশ্রীবড়দা, শ্রীশ্রীদাদা প্রচার বিমুখ ছিলেন। আর সৎসঙ্গের বর্তমান শ্রীশ্রীআচার্যদেব বাবাইদাদা প্রতিমুহূর্তে তাঁর জীবন দিয়ে, তাঁর আচরণ দিয়ে, ব্যবহার দিয়ে, কথাবার্তা দিয়ে বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি সৎসঙ্গীদের বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে তিনি অত্যন্ত সাধারণ প্রচার বিমুখ একজন মানুষ, ঠাকুরের সামান্য একজন সেবক মাত্র। আর ইউটিউবে আত্মপ্রচারকারী কাল কা যোগী ভাতকে বলে অন্ন-এর দল শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের জীবন, জীবন দর্শন, আগমনের উদ্দেশ্য, কাকে দিয়ে কি করাবেন, সৎসঙ্গ কোনদিকে যাচ্ছে, আগামী পৃথিবী কোনদিকে যাবে ইত্যাদি ইত্যাদি সব সব বুঝে গেছেন এই বয়সে!!!! এরা যদি মনে করে এরা ঠাকুরের আচার্য কথার প্রকৃত ও নানাবিধ অর্থ ও আচার্য পরম্পরার অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝে গেছেন আর প্রবচন দেওয়ার মতন এই বয়সেই জ্ঞান অর্জন ক'রে ফেলেছেন কোটি কোটি সৎসঙ্গীদের আর বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি সৎসঙ্গীদের কেউই কিচ্ছু জানে না তাহ'লে জেনে রাখা ভালো এদের মতন পাগল, আত্মপ্রতিষ্ঠায় আচ্ছন্ন মহামূর্খ দ্বিতীয় নেই। এদের উদ্দেশ্যে শুধু এটুকুই বলতে পারি সৎসঙ্গ প্ল্যাটফর্মে কিছু বলার আগে কয়েক জন্ম ঠাকুরের সাহিত্যে গভীর নিদ্রায় নিদ্রিত হ'ন তারপর যখন আবার আসবেন আর ঠাকুর যদি আপনাকে কিছু বলার জন্য নির্বাচন করেন তখন বলবেন তার আগে নয়।

এছাড়া এটা যেন ফেসবুকে ঝড় তোলা ও ইউটিউবে প্রবচন দেওয়া বালখিল্য ঋষিরা মনে রাখে, বিস্মৃত যেন না হয় এবার তাঁর আসা ট্রানজিশনাল পিরিয়ডে আসা আর এই ইঙ্গিতটুকুই বোঝার জন্য যথেষ্ট। যেহেতু তারা বিরাট জ্ঞানী পুরুষ তাই আশা করি এই কথার মানে তারা বুঝতে পারবে কারণ তারা সব এক একজন সমঝদার। আর সমঝদারকে লিয়ে ইসারা হি কাফি হোতা হ্যায়। আর যদি ইশারা না বুঝে থাকেন তাহ'লে বলবো আপনাদের কিচ্ছু ভাবতে হবে না। কিচ্ছু বলতে হবে না। বিচারের ভার আপনাদের হাতে নিতে হবে না। বিচারের ভার ঠাকুরের ওপর ছেড়ে দিন। ঠাকুরকে বুঝতে দিন ঠাকুর তাঁর চলার পথে, তাঁর মিশন প্রতিষ্ঠার পথে বাধাদানকারীদের, ভন্ডদের, কপটদের নিয়ে কি করবেন। তিনি তাঁদের শূলে চড়াবেন কি গরম তেলের কড়াইয়ে ফেলে ভাজবেন সেটা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার, তাঁর এক্তিয়ার। সেখানে অনধিকারচর্চা ক'রে নিজেদের নিজেরাই শূলে চড়ানো বা গরম তেলের কড়াইয়ে ফেলে ভাজার ব্যবস্থা করবেন না। আমি আপনাদের পরম বান্ধবের মত একথা শুধু বলতে পারি আপনারা শুধু তাঁর কথা ভাবুন, তিনি যা বলেছেন আগে শুধু তাই করুন নীরবে, হ'য়ে উঠুন নীরবে গোপনে তারপর দেখুন এই ট্রাঞ্জিশানাল পিরিয়ডে তাঁর মিশন প্রতিষ্ঠার পথে আপনাকে দিয়ে কিছু করাবার জন্য তিনি আপনার প্রতি আদৌ দয়া করেন কিনা। যদি দয়া ক'রে থাকেন, যদি আপনাকে নির্বাচন ক'রে থাকেন তাহ'লে আর কারও কোনও চিন্তা নেই। তাঁর দয়ায় আপনারা এক একজন হ'য়ে উঠবেন তাঁর মিশন প্রতিষ্ঠায় সৎসঙ্গে বর্তমানের এক একজন অতীশ দীপংকর। -------প্রবি।

( ২৭শে অক্টোবর'২০২২)