Powered By Blogger

Saturday, April 30, 2022

প্রবন্ধঃ কে বা কারা দায়ী?

ইদানীং ফেসবুকে মাঝেমাঝেই কিছু পোষ্ট দেখি। দেখি কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে বা ঠাকুরের সামনে ব'সে আছেন বিশেষ পরিচয় বহন ক'রে। তারা মূল কেন্দ্র বহির্ভূত মন্দির বা কেন্দ্রের পরিচালনায় যুক্ত পরিচালক বর্গ। মনে প্রশ্ন জাগে শ্রীশ্রীঠাকুরের দরবারে ঠাকুর ছাড়া আর কারও গুরুত্ব নেই ব'লে ৫০ বছর ধ'রে এত ঢাক পেটাবার পর সেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাউকে কাউকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়াটা কি সেই চালুনি বলে সূচ তোর পিছনে ফুটো কেন প্রবাদের মত হ'য়ে গেল নাকি? যারা ঠাকুরের সহধর্মিণী শ্রীশ্রীবড়মাকে, ঠাকুর আত্মজ পরম ভক্ত এ যুগের হনুমান পরম পূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দাকে মানতে পারলেন না, পারলেন না মান্যতা দিতে তার পরিবারের পূজনীয় সদস্যদের তারা প্রায় সময়ই দেখি তাদের সংঠনের পদাধিকারী কর্তাব্যক্তিদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে ফেসবুকের প্ল্যাটফর্মে ফলাও ক'রে তুলে ধরেন! কেন? কেন তাদের এত বড় ক'রে দেখাবার প্রয়োজন হ'য়ে পড়লো? সৎসঙ্গ জগতকে এরা পথ দেখাবে!?!?!? তারা The greatest phenomenon of the world অবতারী শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের সৎসঙ্গ জগতের মতো বিশ্বব্যাপী being & becoming with environment--এর বিশাল প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্ব দেবেন? যারা আগামীদিনে এক একটা মন্দির এক একজনের মুঠোয় রাখবার কারীগর তারা দেবেন নেতৃত্ব!? যারা মাতাল হাতীর মত ভাঙার নেশায় এমন মত্ত ছিল যে পরমপিতার পরম আদরের বড় খোকা পরমপিতার পরম ভক্ত এ যুগের হনুমান সৎসঙ্গ জগতের সবার চোখের মণি পরম ভালোবাসার ধন সবার প্রাণের বড়দাকে হেয় করতে, বুকের ওপর অপমান অশ্রদ্ধার রোলার চালাতে দু'বার ভাবেনি তারা হবেন সৎসঙ্গ জগতের নেতা, পূজনীয় ব্যক্তিত্ব!? এই তারাই দেবে আগামী ভয়ংকর পৃথিবীর অত্যাশ্চর্য প্রজন্মকে নেতৃত্ব, দেখাবে বাচা বাড়ার নিখুঁত পথ!!!!!! এরা কি সেই খ্রিস্টান, মুসলমান ও বৌদ্ধদের ক্যাথলিক, প্রোটেস্টেন্ট, আহমদিয়া, শিয়া, সুন্নী, হীনযান, মহাযান ইত্যাদিদের মত শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের সৎসঙ্গেও আগামী সঙ্ঘাতের বীজ বপন করলো না!? তুলে দিল না সর্বনাশের চাবিকাঠি আগামী ভক্তরূপী শয়তান কিলবিসদের হাতে!? শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের কপালে ছিল এই ভাঙনের লিখন!? তার কপালেও এই নানা গ্রুপের উত্থান ছিল!?!? আগামী পৃথিবীতে কি শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের জগতেও ক্যাথলিক-প্রোটেষ্ট্যান্ট, শিয়া-সুন্নী ইত্যাদির মতো সংঘাত অনিবার্য!? এই শ্রীশ্রীবড়দাকে 'না মানা' ও আচার্য প্রথা ও পরম্পরা তও্বকে অস্বীকার করার মানসিকতাকে হাতিয়ার ক'রে মূল কেন্দ্রকে অস্বীকার করা, সাধারণ সৎসঙ্গীদের বিভ্রান্ত ক'রে যার তার হাতে এক একটা কেন্দ্র গড়ে তুলে ক্ষমতা তুলে দেওয়া বা নেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? কতটা ঠিক বা ন্যায্য আগামী ভয়ংকর বিপর্যয়কে আহবান করা? এর জন্য দায়ী কে বা কারা?

কবিতাঃ এসো ধরো হাত!

বন্ধু! যাবে নাকি আমার সঙ্গে
মন ভালো হ'য়ে যাওয়ার দেশে?
যাবে নাকি অশান্ত হৃদয়
শান্ত হয় যেখানে সেই স্বপ্নপূরীতে?
বন্ধু! পথ হারিয়ে ক্লান্ত শরীর
হতাশা অবসাদে ডুবে যেতে যেতে
যেখানে আবার ভেসে ওঠে
জীবন পায় স্নিগ্ধ শীতল ভোরের ঘ্রাণ
সেই ঘরে যাবে নাকি বন্ধু?
যাবে নাকি বুক ভরা পবিত্র বাতাস নিতে?
সেই পথের ঠিকানা আমি জানি,
জানি আমি সেই ঘরের সন্ধান
যে ঘরে আছেন বসে
পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মিষ্টি মানুষটি
এক গাল মধুর হাসি ছড়িয়ে
আলোময় রূপময় মায়াময়
দেশের গন্ধ গায়ে মেখে
তোমায় দেখবে বলে
আর মনকে দিতে ত্রাণ!
যাবে নাকি বন্ধু সেথায়? পেতে পরিত্রাণ?
বন্ধু! তুমি আমার সাথে একবার চলো
সেই ভালোবাসার নীড়ে!
দেখবে সেথায় ভালো বাসা কারে বলে
আসতে চাইবে না আর ফিরে।
বন্ধু! যদি চাও যেতে সেথায়
নাহয় আমি দেবো পারের কড়ি
নিয়ে যাবো পরম যতনে
তোমার দুটি হাত ধরি।
আর যদি না চাও আসতে ফিরে
সেথা হ'তে আর জাহান্নামের তীরে,
থেকে যেতে চাও সেথা স্বপ্ননীড়ে
দিও পারের কড়ি ফিরায়ে আমায়
ভালোবাসা রূপে দ্বিগুণ করি।-------প্রবি।

Tuesday, April 26, 2022

দাও গো আমায়............

"দাও গো প্রভু আমায় রাজা করি! আর কাঙাল হ'য়ে থাকতে নারি দাও গো আমায় রাজা করি।" মূর্তি পূজায় জীবন গেল জীবননাথে চিনতে নারি জীবন নাথই যে জগন্নাথ বারেবারে আসেন ফিরি! দাও গো প্রভু এবার রাজা করি চরণতলে মরতে পারি দাও গো দয়াল তোমার চলন দয়া করি। "জীবননাথকে হেলায় ফেলে জগন্নাথকে ধরতে গেলি জীবননাথই যে জগন্নাথ অহংকারে দেখতে না পেলি!" দাও গো প্রভু এবার রাজা করি জনম জনম চিনতে পারি দাও গো দয়াল মেধা নাড়ি! শিকড় বাকল তাবিজ মাদুলী লালনীল সুতোর বাঁধন দিলি! আংটি পাথর আর তুকতাক ঝাড়ফুঁকে জীবনটারে বরবাদ দিলি! দাও গো আমায় দয়াল রাজা করি। তোমার পথে চলতে পারি দাও গো আমায় রাজা করি। মায়ের পূজায় পূজার নামে সন্তানেরে মার দিলি বলি ধর্মের নামে অধর্ম ক'রে অনেক বড় ধার্মিক হ'লি! দাও গো আমায় প্রভু রাজা করি। ধর্ম কি তাই বুঝতে পারি দাও গো আমায় রাজা করি। পূজার নামে পূজারী তুমি ধর্ম-ঈশ্বর করেছো বাজারী! ফুল-বেলপাতা আর সিঁদুর-ধূপ-চন্দনে লেগেছে যে মহামারী! দাও গো দয়াল আমায় রাজা করি! পূজার অর্থ বুঝতে পারি দাও গো আমায় তুমি রাজা করি। চলনহারা চরণ পূজা ক'রে গেলাম জীবন ভরি! এবার চরণ পূজা ছেড়ে দিয়ে চলবো আমি তোমার চলন ধরি। দাও গো আমায় প্রভু রাজা করি! চলন পূজায় হবো মাতাল আমি দাও গো আমায় রাজা করি! ...............প্রবি। .

Monday, April 11, 2022

ঢলে পড়ছে সূর্য! (১২ এপ্রিল ২০২০)

তুমি কি বেঁচে আছো? 
সত্যি বেঁচে আছো? 
 বাঁচার মত বেঁচে আছো? 
বাঁচার জন্য বেঁচে আছো? 
জ্যান্ত মরা হ'য়ে বেঁচে আছো? 
এক তাল মাংস হ'য়ে বেঁচে আছো? 
পোল্ট্রির মুরগীর মত! ঘেও কুকুরের মত? 
সম্মানের সঙ্গে বেঁচে আছো? 
ইজ্জৎ নিয়ে বেঁচে আছো? 
মাথা উঁচু ক'রে বেঁচে আছো! 
বুক টান টান ক'রে বেঁচে আছো? 
কেন্নর মত বেঁচে নেই তো? 
চোরের মত মাথা নিচু ক'রে বেঁচে নেই তো? 
চোরের মায়ের মত বড় গলা নিয়ে বেঁচে নেই তো? 
ভিজে বেড়ালের মত বেঁচে নেই তো? 
 তুমি কি সত্যি সত্যিই বেঁচে আছো? 
অহংকার নিয়ে বেঁচে আছো? 
অভিমান নিয়ে বেঁচে আছো? 
গুয়ের ডাব্বার মত বুক ভরা হিংসার ডাব্বা নিয়ে বেঁচে আছো? 
মাথায় হাবিজাবি নিয়ে বেঁচে আছো? 
ভয় ও দুর্বলতা নিয়ে বেঁচে নেই তো? 
কলঙ্ক নিয়ে বেঁচে নেই তো? 
অন্যকে কষ্ট দিয়ে বেঁচে নেই তো? 
 তুমি কি আধমরা হ'য়ে বেঁচে আছো? 
লজ্জায় মুখ লুকিয়ে ঘুরে মরছো না তো? 
অপমানে চুপসে গিয়ে মরছো না তো? 
নিজের কাছে নিজে ছোটো হ'য়ে যাচ্ছ না তো দিন দিন? 
জীবন ছোটো, আল্টিমেট শূন্যতা, গভীর শূন্যতা ছাড়া পাওয়ার কিছু নেই! 
তাই এখনও সময় আছে 
মনের পিছনে ছোটা ছেড়ে বিবেকের ডাকে ঘুরে দাঁড়াও! 
যদি অবশ্য বিবেক ব'লে কিছু থাকে! 
হ্যাঁ দাঁড়াও! জীবন সূর্য যে ঢলে পড়ছে পশ্চিমাকাশে বন্ধু! -----------প্রবি।

Saturday, April 2, 2022

উপলব্ধি ৩৩ :ঠাকুর ভালো রেখো।

আজ (২রা এপ্রিল ২০১৮) আমি একটা অনুষ্ঠান বাড়ি গিয়েছিলাম। গিয়েছিলাম শরীরে জ্বর নিয়েও। গিয়েছিলাম শালীর ছেলের পৈতের অনুষ্ঠানে। গিয়েছিলাম ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রীর বারবার অনুরোধে। সকালে চলে গিয়েছিল সবাই। ছেলে গাড়ি নিয়ে চ'লে এলো বিকেল ৪টের সময় আমাকে নিয়ে যাবে ব'লে। সেখানে নাকি সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আমি বাড়ীর বড় জামাই। নিজের এবং খুড়তুতো, জ্যাঠতুতো, মামাতো, মাসতুতো, পিসতুতো মিলে আমার অনেক শালী। প্রায় সবাই বলতে গেলে আমার মেয়ের বয়সী। কিন্তু তারা সবাই আমাকে বড় জামাইবাবু ব'লে খুব ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে। তারা সবাই এসেছিল অনুষ্ঠানে। অনেকদিন পর সবার সংগে দেখা হবে। সকলেরই বিয়ে হ'য়ে গ্যাছে। তাদের স্বামীরা আমাকে সবাই বড়দা বা বড় জামাইবাবু ব'লে খুব ভালোবাসে, সম্মান করে। আমি যখন পৌছোলাম তখন আমার জ্বর নেই, পেটের অসোয়াস্তিও কেটে গ্যাছে। কাল রাতে আমার স্ত্রীর সাথে তার বোনের অর্থাৎ আমার শালীর কথা হচ্ছিল অনুষ্ঠানে আসা নিয়ে। তখন স্ত্রীর মুখে জানতে পারে আমার শরীর খারাপের কথা, সর্দি-জর-কাশীর কথা। তখন শালী তার দিদিকে ওষুধের কথা বলে। দুটো ওষুধের নাম ব'লে দেয় খাওয়ার জন্য। কালকে এবং আজ সকালে ওষুধ খাওয়ার পর থেকে ভালো লাগার জন্য ছেলের সংগে বেরিয়ে পড়েছিলাম আরো একটা ট্যাবলেট চাপিয়ে দিয়ে। শরীরটা ভালো লাগছে তখন। আকাশ মেঘলা ভাব অথচ মেঘ নেই। একটা সুন্দর মিষ্টি হাওয়া ব'য়ে যাচ্ছে। শরীরটা ঝরঝরে লাগছে। পৌছোবার সংগে সংগে গাড়ি থেকে নাবতেই দেখা হ'য়ে গেল যার ছেলের অনুষ্ঠান তার সাথে অর্থাৎ ভায়রা ভাইয়ের সাথে। বললো, সবাই আপনার জন্য উপরে অপেক্ষা করছে কিন্তু উপরে গেলে খেতে আরও দেরী হ'য়ে যাবে--এই কথা ব'লে আমাকে জোর ক'রে নীচে খাওয়ার জায়গায় নিয়ে গিয়ে খেতে বসিয়ে দিল আর পরিবেষণকারীদের ব'লে দিয়ে গেল আমি যে ভেজ ক্যান্ডিডেট সেই কথা আর তারপর চ'লে গেল। আমি আর ছেলে বসেছি খেতে তখন আর কোনও নিমন্ত্রিত অতিথি নেই শুধু পরিবেষণের ছেলেরা খেতে বসেছে, আর থাকবেই বা কি ক'রে তখন ঘড়িতে যে বিকেল সাড়ে ৪টে বেজে গ্যাছে। যাই হ'ক, একটু পড়েই দেখলাম হৈ, হৈ ক'রে নেবে এসে ঘিরে ধরেছে টেবিলের চারপাশে শালীরা। বুঝতে পারলাম বিনু অর্থাৎ আমার ভায়রাভাই উপরে গিয়ে আমার আসার সংবাদ দিয়ে এসেছে। ইতিমধ্যে যারা অনেক দূর থেকে এসেছিল সেই সকালবেলায় তারা অনেকেই আমার আসতে দেরী হচ্ছে দেখে নিরুপায় বশতঃ চ'লে গ্যাছে প্রায় সন্ধ্যেবেলায় এখন ঝড় উঠছে ব'লে। যাই হ'ক এই শেষবেলায় ভাঙা হাটেও যে ভালোবাসার ছোঁয়া পেলাম মনটা ভ'রে গেল। আমি দেরী ক'রে এসেছি তাই অনেকের সংগে দেখা হ'লো না, কথা হ'লো না, কি খেলাম আর না খেলাম, ফাঁকা ঘরে একা একা খাচ্ছি ইত্যাদি ব'লে দুঃখ প্রকাশ ক'রলো আমার শালী সোনালী অর্থাৎ যার ছেলের অনুষ্ঠানে গেছি সে। বলার মধ্যে সত্যি সত্যিই আন্তরিকতার ছোঁয়া লেগেছিল। কি ভালোবেসে যে কথাগুলি বলছিল মনে হচ্ছিল আরও অনেক অনেকদিন বাঁচি!!!! এমনিভাবেই ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হ'য়ে বাঁচি। এক ঝলক দখিনা বাতাসের মত কথাগুলি যেন আলতো হাতে চোখমুখে বুলিয়ে দিয়ে গেল! মন্ত্রমুগ্ধের মত খেতে খেতে শুনছিলাম কথাগুলি আর ভাবছিলাম নারী জাতির আন্তরিকতা কত মিষ্টি হ'তে পারে। ইচ্ছে করলেই এরা জগৎ জিতে নিতে পারে। তাই বোধহয় মেয়েদের বলে জগন্মাতা। কিন্তু তা হয় না। মনে মনে ভাবলাম, ঠাকুর তুমি আমার সোনালিকে ভালো রেখো। যাই হ'ক, তারপর তারা সবাই খাওয়ার জায়গার একপাশে গোল ক'রে ব'সে গল্প করতে লাগলো আমাকে খেতে দিয়ে আর অপেক্ষা করতে লাগলো আমার খাওয়া শেষ হওয়ার। খাওয়া শেষ ক'রে মুখ ধুয়ে এসে বসলাম আমার স্ত্রীর এক মামাতো বোনের পাশে। চারপাশে অনেক শালী ব'সে আছে। যার পাশে বসলাম তার নাম স্বপ্না। সঙ্গীতশিল্পী স্বপ্না। আমাকে তার পাশে বসতে দেখে সে বললো, জামাইবাবু আমার পাশে বসলেন যে? অর্থাৎ আরও অনেক শালীই সেখানে বসে আছে। আমি বললাম, "স্বপ্না মেরা টুট গয়া/তু না রহা কুছ না রহা/রোতি হুয়ি ইয়াদে মিলি/বস আউর মুঝে কুছ না মিলা।" খিলখিল ক'রে হেসে উঠলো স্বপ্না; বললো, সত্যি আপনি পারেন জামাইবাবু! এইজন্য আপনাকে এত ভালোবাসি। একেবারে নির্মল নিখাদ হাসি। বললাম, পাশে বসবো না? সেই যে বসেছিলাম প্রথম আজ থেকে ৩৩বছর আগে। সেদিন এই ছোট্ট মেয়েটি ছিলে; আমার আর দিদির মাঝে বসে তুলেছিলে ফটো, আজও আছে সেই ফটো। মনে হচ্ছিল যেন আমাদের মাঝে আমাদের ছোট্ট মেয়ে বসে আছে। আর আজ এতদিন পরে। এখন তুমি সেলিব্রেটি; সঙ্গীতশিল্পী স্বপ্না। ফেসবুকে ফটোতে দেখি সঙ্গীতের মঞ্চে কতরকম হট, আকর্ষণীয় ভঙ্গীতে। স্বপ্না হাসতে হাসতে বললো, কখনো মমতাজ, কখনো ......। আমি থামিয়ে দিয়ে বললাম, কখনো বা উর্বশী, কখনো রম্ভা!!!!! এখন তো আর কমেন্ট করেন না জামাইবাবু, কথাটা বললো স্বপ্না। মনে হ'ল একটা অভিমান যেন ঝরে পড়ল গলায়। আমার সঙ্গীসাথীরা বলে, ইনি কে? এত মজার মজার কমেন্ট করে তোমার ফটোর উপর। অন্য শালিরা একযোগে ব'লে উঠলো, হ্যাঁ। জামাইবাবু, আর কমেন্ট করেন না কেন? আমি বললাম, তোমরা পড়? সবাই একযোগে বললো, খুব ভালো লাগে কমেন্টগুলি। এখন অনেকদিন কমেন্ট দেখি না। বললাম, স্বপ্না যদি রাগ করে। স্বপ্না বললো, ওমা! রাগ করবো কেন!? আমি বললাম, কি জানি, এখন কি আর সেই ছোট্ট স্বপ্না আছে! এখন কতজনের স্বপ্নে আসে স্বপ্না! স্বপ্না বললো, যার স্বপ্নেই স্বপ্না আসুক না কেন, স্বপ্নার স্বপ্নে আসে জামাইবাবু! স্ত্রী হেসে বললো, জানো চুমকিরা (অন্যান্য শালীরা) তোমার আসার দেরী হচ্ছে দেখে চলে গেল, ব'লে গেল, দিদিকে (স্বপ্না) রেখে যাচ্ছি জামাইবাবুর জন্যে। মনে মনে ভাবলাম, ওরাও সবাই জানে স্বপ্না আর আমার সম্পর্কের কথা। একদিন দু'দিন নয়, দেখতে দেখতে ৩৩টা বছর পার হ'য়ে গ্যাছে! কত ছোট ছিল সবাই! আজ সবাই কত বড় হ'য়ে গ্যাছে শুধু নয় সবাই আজ ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মা! এতগুলি দিন চলে গ্যাছে! মনে হ'লো এই তো সেদিনের কথা! আমার বিয়ের পর প্রথম যেদিন গিয়েছিলাম শ্বশুরবাড়ি সেদিনও এমনি সব ভিড় ছিল! ভিড় ছিল ছোটো ছোটো শালীদের ভিড়! আজ আজ! চোখের কোণাটা খচখচ করতে লাগলো। সেদিনে যুবক আজ আমি প্রৌঢ়, অনেকে আজ যেমন আমার চারপাশে আছে ঠিক তেমনি আজ অনেকেই বয়সের কারণেই নিয়মমত নেই। চোখের সামনে ভেসে উঠছিল এমনি কত অনুষ্ঠানে কতজনের উপস্থিতির ছবি যারা আজ এখানে নেই; অন্য এক জগতে তাঁরা আজ বিচরণ করছে। মনে পড়ে গেল আমার শাশুড়ি মায়ের কথা যিনি এই কয়দিন আগেও ছিলেন। মনে পড়ে গেল মামার কথা অর্থাৎ সোনালীর বাবার কথা, মায়ের কথা তাঁরাও একদিন ছিলেন এমনি কোনও অনুষ্ঠানে কিন্তু আজ আর নেই। একদিন আমিও থাকবো না কিন্তু এরকম আমার নিকটজনদের অনুষ্ঠান থাকবে। আজকে যারা নেই একদিন তাঁরাও ছিল এরকম সম্মিলিতভাবে অনুষ্ঠানে। মনে মনে ভাবলাম, ঠাকুর আমার শালীদের, শালাদের সবাইকে ভালো রেখো, খুব ভালো রেখো। যাই হ'ক, মুহূর্তের জন্য মনটা ভারাক্রান্ত হ'য়ে পড়লেও আবার ফিরে এলাম স্বাভাবিক অবস্থায়। স্বপ্না এগিয়ে এসে বললো, জামাইবাবু আমি আসছি। আমি তাকে বিদায় দিলাম। ওর স্বামী, মেয়ে চলে গেলেও ও আমার জন্য থেকে গেছিল; তাই ওকে একা যেতে হবে বাড়ি। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে হ'য়ে আসছে। তাই ওকে হাসি মুখে বিদায় দিলাম। যাওয়ার আগে গলার যত্ন নিতে আর টুয়িন গলায় না গাইতে বললাম। বললাম, লম্বা রেসের ঘোড়া হও। সে হতাশ গলায় বললো, কথাটা মনে রাখবো। আপনি ঠাকুরের কাছে আমার জন্য প্রার্থনা করবেন জামাইবাবু আমার গলা যেন ভালো হ'য়ে যায়। আমার গলায় একটু কষ্ট আছে। আমি বললাম, নিশ্চয়ই করবো। তুমি ভালো হ'য়ে যাবে। ইষ্টভৃতি ক'রো আর ঠাকুরকে গান শুনিও। স্বপ্না ম্লান হেসে আমাকে 'আসছি জামাইবাবু' ব'লে চলে গেল। আমি তার যাওয়ার দিকে চেয়ে রইলাম। মনে মনে ভাবলাম, ঠাকুর তুমি স্বপ্নাকে ভালো রেখো, দয়া ক'রো; ওর গলা যেন একেবারে ভালো হ'য়ে যায়। যার ছেলের উপনয়নের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম সেই শালীর নাম সোনালী, সে সোনার মত হাসি ছড়িয়ে বললো, জামাইবাবু পান খাবেন না? আপনি তো আইস্ক্রিম খেলেন না, বলেই নিজেই আইস্ক্রিম আনতে চ'লে গেল। আমি হেসে বললাম, তোমার দিদি অর্থাৎ ডঃ দোলার ওষুধ খেয়ে তোমার এখানে এসেছি। আইস্ক্রিম খাওয়ার লোভ দেখিয়ো না, লোভ বেড়ে যাবে, লোভ অন্যদিকে ঘুরে যাবে। সোনালী মিষ্টি হেসে তির্যকভাবে তাকালো আমার দিকে। তারপরে দু'জনে হাসতে হাসতে বাইরে বেরিয়ে এলাম বাড়ি ফিরে যাবো ব'লে। সোনালী বললো, জামাইবাবু আমার বাড়ি যাবেন না? স্ত্রীকে বললো, দিদি চলো না বাড়ি। স্ত্রী বললো, না আজ আর যাবো না। অন্য একদিন আসবো। সোনালী বললো, দিদি, জামাইবাবু আসুন না একদিন বাড়ি। আমি বললাম, হ্যাঁ, আসবো একদিন। ছেলে পাশে দাঁড়িয়েছিল। বললো, মাসিমণি, তোমরা একদিন এসো না। আসলে রবিবার দিন দেখে আসবে। আমি আর দিদিও থাকবো। ইতিমধ্যে সোনালীর ছেলে যার পৈতে হয়েছে সে সামনে এসে দাঁড়ালো। সোনালী বললো, প্রণাম করো। আমি হেসে বললাম, পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে নেই। কেন করতে নেই একদিন এসো বলবো। গালে হাত বুলিয়ে আদর ক'রে বললাম, বড় হ'তে হবে, অনেক বড়। ছেলে-মেয়ের দিকে দেখিয়ে বললাম, দাদা-দিদিদের মত বড় হ'তে হবে তো, তাই না? অনেক বড় হও, প্রতিষ্ঠিত হও কিন্তু মানুষ হ'তে হবে, ঠাকুরের মানুষ। সোনালী বললো, হ্যাঁ জামাইবাবু, ওকে নিয়ে যাবো, দীক্ষা দিয়ে দেবো ঠাকুরের। আমি বললাম, প্রতিমাসের শেষের রবিবার ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সৎসঙ্গে এসো। সেখানে দু'ঘন্টার স্কুলিং হয় আর, হাসতে হাসতে বললাম, সংগে ভজন, ভোজন হয়। এসো ভালো লাগবে। ১০০তে ২০০ভাগ গ্যারান্টি। ভালো না লাগলে দ্বিতীয়বার আর যাবে না, এটাও ব'লে দিলাম। তারপর কথা শেষ ক'রে গাড়িতে উঠে বসলাম। ছেলেমেয়ে বউ গাড়িতে উঠে বসলো। ওরা মা ছেলে হাত নাড়ালো, আমরাও নাড়ালাম। সোনালী শেষবারের মত খুব আন্তরিকভাবে ধরা গলায় বললো, জামাইবাবু আমার বাড়িতে আসবেন। আমি মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললাম কিন্তু জানি না আর কবে আসা হবে, আদৌ হবে কিনা। বয়স একটা বোধহয় ফ্যাক্টার আর সময়ের অভাব। গাড়ি রওনা দিল। আমি ওদের দিকে চেয়ে মনে মনে বললাম, ঠাকুর ওদের ভালো রেখো।

Wednesday, March 30, 2022

উপলব্ধি ৩১ঃ আনন্দের ফেরিওয়ালা!

সকালবেলায় বেরিয়েছিলাম সাংসারিক কয়েকটি কাজে। গত কয়েকদিন রামনবমী উপলক্ষ্যে আয়োজিত 'বিশেষ সৎসঙ্গ' এর জন্য মানসিক ও শারীরিক ব্যস্ততার চাপ জীবনকে অন্তর্মুখী ক'রে রেখেছিল। প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট নানারকম অবাঞ্ছিত বাধাবিঘ্ন কাটিয়ে যখন অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে শেষ হ'ল ও অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য সফল হ'ল তখন অনাবিল এক আনন্দে ভেসে যেতে চাইলো মন। ভাবলাম, যাক সারা রাজ্য তথা দেশ জুড়ে পরমপ্রেমময় পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীরামচন্দ্রের জন্মদিন নিয়ে শুভ রামনবমীতে অবাঞ্ছিত উন্মাদনার মাঝে প্রকৃতির রোষ নিয়ে যে পবিত্র দিনটা শেষ হ'লো সেই দিনটার সাক্ষী হ'য়ে রইলাম আমি ও আমার গুরুভাইবোনেরা মর্যাদা পুরুষ পরমপ্রেমময় পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীরামচন্দ্রের নতুন রূপ পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের 'মাতৃসম্মেলনসহ বিশেষ সৎসঙ্গ' আয়োজনের মধ্যে দিয়ে। হঠাৎ ওঠা কালবৈশাখীর দমকা হাওয়ার সাথে প্রবল ঝড়বৃষ্টিকে মোকাবিলা ক'রে তুমুল "রঘুপতি রাঘব রাজা রাম আর অনুকূল নামের জোয়ার এলো ভাসিয়ে দে না তরী" গানে ভেসে গেল চারপাশ। ভরপুর হ'য়ে গেল শরীর-মন-আত্মা!!!!! কিন্তু এত আনন্দ ফেরির মাঝেও যেন মনে হচ্ছে একটা ছন্দপতনের সুক্ষ্ম আওয়াজ ভেসে আসছে কানে! মনে হচ্ছে কোথায় যেন কেটে গেছে সুর, তাল, লয়!! কোথায় যেন একটা বড় ফাঁক সৃষ্টি হ'য়ে গেছে!!! কারা যেন বিষাদের কালো ছায়ায় ঢেকে দিতে চাইছে আনন্দের আকাশ!!!! কেন এমন হ'লো!? এ কিসের লক্ষণ!! কিসের ইঙ্গিত!!! যাই হ'ক, তবুও মনটাকে চাপমুক্ত রাখতে একটু রিল্যাক্স মুডে বেরিয়েছিলাম বাইরে, সংগে অনেকগুলি সাংসারিক কাজ নিয়ে। কয়েকটা কাজ শেষ ক'রে যখন অন্য একটা কাজে অগ্রসর হয়েছি সেইসময় একজন পাড়ার পরিচিত ডেকে দাঁড় করালো আমায়। কুশল বিনিময়ের পর সে রামনবমীতে অনুষ্ঠিত সৎসঙ্গ সম্পর্কে কথা তুললো। কথাপ্রসঙ্গে সে জানালো তার দুঃখের কথা। কয়েক বছর হয়েছে অবসর নিয়েছে। অবসরের কয়েক বছর পর কিছুদিন আগেও হেঁটেচলে বেড়ানো মানুষটা হঠাৎ শয়তানের ছোবলে এখন স্বাভাবিক হাঁটাচলা হারিয়েছে। আগের মত আর দৌড়ঝাঁপ করতে পারে না, হাতে লাঠি নিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটাচলা করতে হয়। আমার সাথে দেখা হ'লে একটু দাঁড়িয়ে কথা বলে। বুকের মধ্যে জমে থাকা কথা বেরিয়ে আসে অনর্গল। বুঝতে পারি চারপাশে প্রত্যেকেই বুকের মধ্যে একা একা বাস করে অনেক দুঃখ যন্ত্রণা নিয়ে; উপরে প্রকাশ পায় না, একান্তে বেরিয়ে আসে সেসব। যাক সেসব কথা, আমাকে সে যা জানালো তা'তে বুঝতে পারলাম আমাদের কোন সৎসঙ্গী গুরুভাই তার সংগে কোনও অন্যায্য আচরণ করেছে যার জন্য তার মনে হয়েছে আমাকে তা জানানো দরকার আর তাই সে জানিয়েছে। নানাকথায় বুঝতে পারলাম তার নিকট জনদের মধ্যে কেউ ঠাকুরের দীক্ষিত; সে এ কাজ করেছে অর্থাৎ তাকে খোঁড়া, ল্যাংড়া ইত্যাদি ব'লে খোঁটা দেয়, ব্যঙ্গ করে। ঈশ্বরের অভিশাপ ব'লে গায়ের ঝাল মেটায়। বলতে বলতে তার চোখে জল এলো। আমি চুপ ক'রে শুনছিলাম আর ভাবছিলাম এই মানুষটার আমার গুরুভাইয়ের ব্যবহারে ঠাকুরের কাছে আসার রাস্তা বোধহয় বন্ধ হ'য়ে গেল। এটাই স্বাভাবিক ও বাস্তব যে আমার মন্দ কাজের দায় আমার পিতার না হ'লেও আমার পিতাকে আমার জন্য অপমানিত হ'তে হয়, লাঞ্ছিত হ'তে হয়। শুনতে হয় অমুক বাবুর ছেলে বলে। আমি তাকে বললাম, একজন তোমাকে খারাপ কথা বললো, খারাপ ব্যবহার করলো সেটা তোমার মনে দাগ কেটে যায় আর আমি যে তোমায় ভালোবাসি সেটা তোমার মনে দাগ কাটে না কেন? দশজনের মধ্যে নয়জন তোমায় আঘাত দেবে একজন তোমায় এত ভালোবাসা দেবে যে ঘটি উপচে জল পড়ার মত ভালোবাসা উপচে পড়বে সেটা তোমার ক্লান্ত শরীর মনকে একেবারে ভিজিয়ে দেবে। সেটা ভেবে দ্যাখো না কেন? আর তোমায় কেউ আঘাত করুক সেই সুযোগও তুমি কাউকে দাও কেন? তোমার কোন ত্রুটির জন্য এমনটা হয় সেটা কখনো ভেবে দেখেছো কি? এছাড়া সৎসঙ্গী, গুরুভাই, ঠাকুরের দীক্ষিত বলেই কি সে মহান মানব হ'য়ে গেছে? দেবতা হ'য়ে গেছে? ঠাকুর বলেছেন, "স্কুলে গেলেই তা'কে ছাত্র বলে না আর, মন্ত্র নিলেই তা'কে শিষ্য বলে না, হৃদয়টি শিক্ষক বা গুরুর আদেশ পালনের জন্য সর্ব্বদা উন্মুক্ত রাখতে হয়। অন্তরে স্থির বিশ্বাস চাই। তিনি যা'ই ব'লে দেবেন তা'ই ক'রতে হবে, বিনা আপত্তিতে, বিনা ওজরে বরং পরম আনন্দে।" আমরা কি ঠাকুরের কথা কেউ মেনে চলি না চলার চেষ্টা করি? তাই, এদের কথা ভেবে সময় নষ্ট ক'রে, শরীর মনকে কষ্ট দিয়ে লাভ নেই। Be practical. Be calm & quite. যে আমাকে ভাবে না তাকে নিয়ে দিনরাত ভেবে ভেবে কষ্ট পাওয়ার কোনও লাভ নাই। যে আমাকে নিয়ে ভাবে, আমার নিয়ে চিন্তা করে তাকে নিয়ে ভাবো, তার জন্য করো। এমন কেউ বান্ধব তোমার আছে কি, এমন কোনও বান্ধব সমাজে তুমি তৈরী করে রেখেছো কি যে তোমাকে নিয়ে ভাবার মত তার অমূল্য সময় নষ্ট করবে? যদি না থেকে তাহ'লে এসো ঈশ্বর আছেন একমাত্র যিনি আমি তাঁকে নিয়ে না ভাবলেও তিনি আমাকে নিয়ে প্রতিনিয়ত ভাবেন, এসো তাঁর স্মরণাপন্ন হ'ই, তাঁকে ভাবি, তাঁকে ভালোবাসি; তাহ'লে তুমি ভালো থাকবে বাকি জীবন। এতসব কথা বলার পর তার মনটা একটু যেন শান্ত হ'ল। আমার দিকে তাকিয়ে হেসে দিল। একগাল হাসি দেখে আমারও মনটা আনন্দে ভরে গেল। গায়ে হাত রেখে বললো, দ্যাখো, তোমার কাছে কথা ব'লে মনটা হালকা হলাম। এখন আর মনের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব নেই, নেই কোনও কষ্ট। এখন আমার আনন্দ হচ্ছে। কত কিছু জানা গেল তোমার সংগে কথা বলে। এরকম যখন কথা বলছি তখন দেখলাম আমার থেকে কিছু দূরে দাঁড়িয়ে একজন আমাকে ডাকছে আর বলছে, দাদা, একটু ধরুন, একটু ধরুন। তাকিয়ে দেখলাম, দুজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। তার মধ্যে একজন অন্যজনকে দু'হাতে জড়িয়ে ধ'রে আছে আর লোকটা সমস্ত শরীর ছেড়ে দিয়েছে তার উপর। আশেপাশের সকলকে ডাকাডাকিতে অনেকে জড়ো হ'য়ে গেল। একজন মা জল নিয়ে এলেন; লোকটার চোখেমুখে ছিটিয়ে দেওয়া হ'লো। পাশের বাড়ি থেকে এক মা একটা পাখা নিয়ে এলেন, আমার হাতে দিয়ে বললেন একটু হাওয়া করতে। আমি হাওয়া করতে লাগলাম আর যে জল ছিটিয়ে দিচ্ছিল তাঁকে বললাম চোখমুখের সংগে ঘাড়ে ও কানে জল দিতে। ইতিমধ্যে যেখানে ঘটনাটা ঘটেছে সেখানে পাশেই একজন ডাক্তারের বাড়ি সেইসময় তিনি বাইরে এসেছিলেন তিনি এগিয়ে এসে বললেন অসুস্থ মানুষটার জামাটা খুলে দিয়ে শুইয়ে দেবার জন্য। একজন অ্যাম্বুলেন্স আনার জন্য বললেন। এর মধ্যে লোকটা চোখ খুলে তাকালো, আমি হাওয়া করতে করতে বললাম কেমন লাগছে এখন? লোকটা ধীরে ধীরে বলল, এখন ভালো লাগছে। আমি ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলাম, কি হয়েছে? লোকটা চোখ খুলে তাকাতেই ডাক্তারবাবু ফিরে গেলেন। ফিরে যেতে যেতে বললেন, কি ক'রে বলবো কি হয়েছে? কি অসুখ আছে ভিতরে তাতো জানি না। এই কথা ব'লে ডাক্তারবাবু ঘরে ঢুকে গেলেন। আমি তার ঘরে ঢুকে যাওয়ার পথের দিকে চেয়ে রইলাম ভাবলাম...............!!! দূরে একটা রিক্সা দাঁড়িয়েছিল। বউয়ার রিক্সা। অদভুত নাম! অদভুত চেহারা! যেমন রোগা তেমন লম্বা। আর সবসময় খেয়ে থাকে। তবে, রিক্সা ঠিকঠাক চালায়। একটায় অসুবিধা শুধু, তা হ'লো ৫মিনিটের রাস্তা ২০মিনিট লাগিয়ে দেয়। এই অসুস্থ লোককে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই লোকই শ্রেয়। রিক্সা আসার পর অসুস্থ মানুষটিকে রিক্সায় তুলে দিয়ে হাসতে হাসতে বললাম, কি হ'লো হঠাৎ? কিচ্ছু চিন্তা করবেন না, এরকম হ'তেই পারে। খালি পেট কিম্বা গ্যাসের জন্য হ'তে পারে। এ এমন কিছু না। আপনি ভালো হ'য়ে গ্যাছেন। হয়তো রোদে মাথা ঘুরে গ্যাছে। বাড়ি গিয়ে একটু খেয়ে শুয়ে থাকবেন। সঙ্গের লোকটিকে বললাম, ডাক্তার দেখিয়ে একটু প্রেসারটা চেক করিয়ে নেবেন। অসুস্থ লোকটি হেসে মাথা নাড়ালো। রিক্সা ধীরে ধীরে এগিয়ে চললো। লোকটির দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলাম। যাক বিপদ মোটামুটি কেটে গেছে। মনে আনন্দ হ'লো যাক হাসি মুখে ফিরে যাচ্ছে লোকটি বাড়ি। পরে জানা গেল লোকটি বাড়ি থেকে সকালবেলা খালি পেটে বাইরে এই রোদের মধ্যে বেরিয়ে পড়েছিল আর তাইতে মাথা ঘুরে যায়। ফলে বিপদজনক ঘটনা ঘটে যায়। কিন্তু বেশী কিছু বাড়াবাড়ি হয়নি। যাই হ'ক বড় কিছু হওয়ার আগেই ঈশ্বরের কৃপায় লোকটি স্বাভাবিক চেতনায় ফিরে আসে ও বাড়ি ফিরে যায়। যাওয়ার আগে আমার দিকে চেয়ে একটা হালকা মিষ্টি হাসি ছড়িয়ে দিয়ে গেল। মনে বেশ আনন্দ হ'লো। নিজেকে হালকা বোধ হ'লো আমার। লোকটি চলে যাবার পর সবাই যে যার মত চলে গেলে আমিও আমার গন্তব্যের দিকে রওয়ানা দিলাম। মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগলো, কখন যে কার কি হয় কেউ জানে না!!!!!!!!
(৩১শে (মার্চ ২০১৮ লেখা) 

Monday, March 21, 2022

কেউ কি নেই?

কেউ কি ভালোবাসার কথা বলবে না!? 

কেউ কি প্রেমের বাতাস ছড়াবে না!?

কেউ কি নেই প্রেম ভালোবাসার জন্য জীবন বলি দেবে?

সবাই রেগে আছে! ঘরে বাইরে সবাই তপ্ত, উত্তপ্ত! 

সবাই ছড়াচ্ছে ক্ষোভের আগুন! 

সত্যি হ'ক আর মিথ্যা হ'ক, বানিয়ে বানিয়ে হ'ক আর ইতিহাস ঘেটে হ'ক 

সবাই আজ হিতাহিতজ্ঞানশূন্য!

ধর্ম, শিক্ষা, রাজনীতি 

সব নীতির আঙিনায় ধুন্ধুমার।

মিছিলে মিটিংয়ে মাইকে হুংকার, 

আলোচনার টেবিলে হুংকার, 

মিডিয়ায় হুংকার, কবিতায়, সাহিত্যে হুংকার! 

কলমের ডগায় আগুন, 

রঙ তুলিতে, সিনেমায় নাটকে গানে আগুন! 

শুধু বাদ প্রতিবাদে মার কাটারি আগুনে হুংকার! 

সত্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা, মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্য, 

সৎ-এর বিরুদ্ধে অসৎ আর অসৎ-এর বিরুদ্ধে সৎ, 

হিংসার বিরুদ্ধে অহিংসা, অহিংসার বিরুদ্ধে হিংসা 

সবাই আজ খড়্গহস্ত! 

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি! 

এলিট সমাজ হয় মুখে কুলুপ আটা ভীষ্ম 

নতুবা নিজ নিজ এজেণ্ডায় মুখর! 

বিদ্রোহ বিপ্লবের তুলছে তুফান। 

হে মানব! শান্ত হও। 

চিত্ত শান্ত স্নিগ্ধ রাখো উত্তাপের মাঝে। 

মিথ্যার বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অসৎ-এর বিরুদ্ধে মুখর হও, 

জ্বালাও আগুন কিন্তু মনে রেখো 

সেই মুখরতায় যেন বিষাক্ত নিশ্বাস না ছড়িয়ে পড়ে,

নিয়ন্ত্রণহীন আগুনের ভয়াবহতায়

জ্বলে খাক না হ'য়ে যায় মনুষত্বের মূল বুনিয়াদ।

এসো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হও,

কঠোর কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তোলো,

কড়া হাতে দমন করো অন্যায়কে কিন্তু ন্যায়ের ওপর দাঁড়িয়ে,

হিংসাকে রুখে দাও পাথুরে মনোভাবে কিন্তু হিংসা দিয়ে নয়,

হিংসাকে হিংসা করো দয়ালের আহবানে

আর নিজের ওপরে হওয়া অন্যায়কে সহ্য করো।

কিন্তু রুখে দাও, দমন করো, নিকেশ ক'রে দাও

অন্যের ওপর হওয়া অন্যায়কে, নির্মম নিষ্ঠুরতাকে।

আর প্রেম ভালোবাসায় ভরিয়ে দাও বিশ্ব চরাচর।

শয়নে স্বপনে জাগরণে ধ্বনিত হ'ক

আর চরিত্রে গড়ে উঠুক 

প্রেমময় জীবন্ত ঈশ্বরের বাণীঃ

প্রেমকে প্রার্থনা করো আর হিংসাকে দূরে রাখো।--------প্রবি