Powered By Blogger

Wednesday, December 29, 2021

কবিতাঃ মুশকিল আসান!

 বিবেক বলে, মন! আমার কথা শোন,

ওরে আমার কথা শোন!

জীবন সূর্য যাচ্ছে 'লে পাটে অস্তাচলে

এখনও আছে সময় যদিও শেষবেলা

তাই 'লে করিসনে হেলাফেলা অবহেলা।

তোর তন-মন-ধন শোনরে আমার মন

যা কিছু আছে তোর জীবন মাঝে ধন

কর রে তাঁর চরণতলে চলনপুজার তরে

ভক্তি বিনম্র চিত্তে অর্পণ।

বিবেক বলে, মন! কেন করো উচাটন?

পিংপং বল যেমন করে তেমন করছো যখন তখন!

আদর্শ হীন জীবন জেনো বকলেশ হীন যৌবন

আন্দাগুন্দা মারছে ঢুঁ বকনা বাছুর যেমন।

প্রাণপনে আঁকড়ে ধরো তাঁরে

আদর্শ করেছো যারে; পাবে পরিত্রাণ

আস্বাদন করো এই ঘ্রাণ।

মন! আর সর্বশ্রেষ্ঠ জীবন্ত আদর্শ যদি থাকে জীবনে

যারে বলি জীবন্ত ঈশ্বর

গ্রহণ করো তাঁরে আর মেনে চলো তাঁর বিধান

অধৈর্য আর বিরক্তিকে সরিয়ে রেখে দূরে।

জীবনের যত মুশকিল হবে নিশ্চিত আসান!

কবিতা/গান অনুকূল প্রেমময়!

জীবনটা যখন ওঠে হাঁপিয়ে
সংসার কোলাহল মাঝে;
শত জ্বালা-যন্ত্রণা, বাধা বন্ধন ডিঙ্গিয়ে
মনে হয় মিশে যাই প্রকৃতি মাঝারে।
ছুটে যাই-------
ছুটি কাটাই।

বনে-বনান্তরে, শহরে-নগরে,
গ্রামে-গঞ্জে, পাহাড়ে-সমুদ্রে,
কতশত তীর্থক্ষেত্রে;
ছুটি কাটাই----
স্থলে-জলে-অন্তরীক্ষে।।

তবুও------
বুক জুড়ে হাহাকার;
হিংসা, ঘৃণা, নীচতা আর
কপটতা, নিন্দা, অবিশ্বাস
বেইমানী, হানাহানি, কানাকানি
ভরা বিষাক্ত নিশ্বাস।
শোক, তাপ, জ্বালা, ব্যথা, অপমান,
দুঃখ, গ্লানি, মান-অভিমান;
ঘরে-বাইরে নেই সুখ-শান্তি
মধুরতা হারিয়ে পৃথিবী আজ ক্ষেত্র অশান্তির।
ছুটে যাই-----
স্থলে-জলে-অন্তরিক্ষে;
ছুটি কাটাই-----
অশান্তি, অসংহতি, অমৈত্রী নিয়ে মনোভাব বক্ষে।

আকাশে-বাতাসে ভয় বিভীষিকা
কে জ্বালাবে বলো জীবনের দীপশিখা!?
মানুষে মানুষে শুধু মারামারি
সে পুরুষ হ'ক আর নারী
জীবনের চলার পথে-----
অর্থ, মান আর যশের কাড়াকাড়ি!
সে পুরুষ হ'ক আর নারী!
ছুটি কাটাই------
দিশেহারা মোরা উদভ্রান্ত বক্ষে।
ছুটে যাই-----
স্থলে-জলে-অন্তরিক্ষে।।

তাই তো বলি-----

এসো হিন্দু, এসো মুসলমান,
শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান;
এসো ব্রাহ্মণ, এসো চন্ডাল,
পাপীতাপী এসো যত মূর্ত শয়তান।
এসো সাম্যবাদী, যত ধর্ম বিরুদ্ধবাদী,
যুক্তি, বিজ্ঞান আর যত মতবাদী।
এসো ধার্মিক, অহঙ্কারী, অজ্ঞানী পন্ডিত;
এসো দেশপ্রেমিক আর জনপ্রতিনিধি
এসো বিশ্বের যত সাম্রাজ্য আর জীবনবাদী।
এসো-------- এ-----সো,
ছুটে এসো, চলে এসো
এসো বিশ্বের কোটি কোটি।

এসো কামুক, এসো ক্রোধী
মোহাচ্ছন্ন, পরশ্রীকাতর, হিংস্র, লোভী।
এসো শাক্ত, এসো শৈব,
এসো ব্রাহ্ম, এসো যত বৈষ্ণব,
এসো বিশ্বের কোটি কোটি।

বুক ফাটো ফাটো ক'রে এসো
ভালোবাসার তীরে এসো
প্রেম নগরে এসো
ভালোবাসার সমুদ্রে স্নান করি এসো।
ছুটে এসো- চলে এসো
ভালোবাসার সমুদ্র ঐ ডাকছে শোনো।
শোনো-------- শো-------নো----।

আলোময়! রূপময়! মধুময়!
ভালোবাসার সুধা হাতে সুধাময়!
ওই-যে চেয়ে আছে রসরাজ রসময়!
জীবনের প্রতিকূলে অনুকূল প্রেমময়!!
প্রেমময়----------! প্রেম-------ময়------!!

.

.

Tuesday, December 28, 2021

কবিতাঃ রিপুর পাঁচালী।

কেন এত কাম!? উগ্র বন্য অসংস্কৃত!?
কেন কাম দোষে করো সমাজ সভ্যতা কলঙ্কিত!?
আনন্দ সুখকে ক'রে সাথী কাম করে সৃষ্টি
কেন কাম গুণে করো না রোধ অনাসৃষ্টি!
করো শীতল শরীর-মন পরমের স্মরণে
কাম করবে না অকাম মরবে না মরমে!

কেন এত ক্রোধ? করো এত রাগ!?
নেই কেন কোনও রাগ-অনুরাগ!?
কেন করো অকারণ মাথা এত গরম!?
অন্তর চিত্ত তব দয়ালের নাম স্মরণে
করো বন্ধু পাখির পালক সম নরম!
দেখবে জীবন কত মিষ্টি, সুন্দর পরম!
দয়ালের পরশে মন হবে শান্ত প্রেমময়
জীবন হবে রসময়, রূপময়, আলোময়!

কেন করো এত লোভ!? কেন এত লালসা?
পেট মোটা হ'তে হ'তে ফুলে ঢোল, যেন ঢাক!
মেটে না তবু ক্ষিধে, মেটে না কভু পিপাসা!
জীবন জুড়ে শুধু চিৎকার চেঁচামেচি আর হাঁকডাক।
কেন!? কেন বন্ধু দিন শেষে অবশেষে
লোভের ফসল ফলে জীবন জুড়ে একরাশ হতাশা?
ক'রো না লোভ করো ভোগ মন ভরে
যত ইচ্ছা চায় প্রাণ বিধানকে আঁকড়ে ধ'রে।
পরমকে রাখো যদি হৃদমাঝারে 
জড়ায়ে পরম যতনে
ভোগ হবে সিদ্ধ হবে না তা ভয়ংকর 
তোমার শেষ জীবনে।

কেন বন্ধু মায়া মোহতে জড়াও জীবন?
দু'দিনের বৈ তো নও তবে কেন এত
আমার আমার আমি আমি বোধ অকারণ!?
দু'দিনের তো নিশ্বাস; নেই নিশ্বাসের প্রতি বিশ্বাস
আজ আছো কাল নেই, কাল ব'লে নিশ্চিত কিছু নেই
তুমি আমি সকলেই তবে কেন এত দিনরাত
মিথ্যে মোহজাল ঘেরে তোমায় আমায় সকাল বিকাল!?
এসো ছিন্ন ক'রে সব মিথ্যে মায়াজাল মোহঘর
ভেঙ্গেচুড়ে খোলা আকাশের নীচে প্রকৃতির বুকে
প্রিয় পরমের ঘরে মানুষকে ভালোবাসবে ব'লে
সবাইকে প্রেমডোরে বেঁধে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাও চলে
যেখানে যে আছে যত আছে তোমার আপন-পর।

এত কেন মদমত্ত!? কিসের মদাসক্তি!?
বৃথা অহংকারে কেন করো এত ক্ষয় আত্মশক্তি!?
অহংকার পতনের কারন জীবন করে দুর্বিষহ
জানা সত্ত্বেও কেন ক'রে তোল স্বভাব দুর্বিনীত,
ক'রে তোল দু'দিনের জন্য আসা জীবনকে দুঃসহ!?
যদি হ'তেই হয় মদে মত্ত তবে করো না কেন নিজেকে
'পরমপিতার সন্তান তুমি, তুমি শক্তির তনয়'
এই বোধে রপ্ত!? হও না কেন তৃপ্ত!?
এই বোধে করো অহঙ্কার, হও মদে মত্ত
জীবন হবে তোমার রসে টইটম্বুর পরিতৃপ্ত।

কেন করো এত হিংসা!? নেই অহিংসা!
কেন? কেমন এই জীবন!?
কেন করো এত পরের দোষ দর্শন!?
করো মন পবিত্র ক'রে নিজ দোষ স্খালন!
হিংসা করো যারে হয়তো ক্ষতিও করো তারে
কিন্তু দেখেছো কি কখনো ভেবে অন্যভাবে?
হিংসার আগুনে জ্বলছে কিন্তু বুকটা তোমার
দিনশেষে পুড়ে হচ্ছে ছাই আর অসহায় তুমি
ছলছল চোখে চেয়ে চেয়ে দেখছো তা হায়!!!!!!
পরশ্রীকাতর রসে পরাণ চায় যদি সিক্ত হ'তে,
যদি করতেই হয় কাউকে হিংসা তবে এসো বন্ধু
করো হাতিয়ার মাৎসর্যে জীবাত্মার স্তর পেরিয়ে
মহাত্মায় হ'তে উত্তরণ আর পরমাত্মায় যাই
বিলীন হ'য়ে হিংসাকে হিংসা করতে করতে।
প্রবি।

লহ প্রণাম!

 


হে দয়াল! হে আমার প্রভু যীশু!

তুমিই তো আমার নবরূপী অনুকূল!

তোমার প্রেমে, তোমার ভালোবাসায়

আমি শিখেছি জীবনের শেষপ্রান্তে এসে

তোমারই পূর্বরূপ প্রভু যীশুকে ভালবাসতে!

আর তোমারই স্পর্শে জেনেছি তুমিই আমার যীশু

তুমি বিনা, যীশু বিনা জীবনে যদি চাই বাঁচতে

প্রতি দিন প্রতিমুহূর্ত কি ভয়ংকর প্রতিকূল।

তুমিই শেখালে প্রভু বুকে 'রে সবারে

প্রেম ভালোবাসার ঘনীভুত মূর্ত রূপ যীশু!

তুমিই শেখালে নেই যীশু যার জীবনে

প্রেম ভালোবাসাহীন মানবতাবিহীন সে জীবন

ব্যর্থ জীবন; মনো কষ্টে, দেহ কষ্টে দিনেদিনে

বাড়ে সে অভাগা দুর্ভাগা সে শিশু।

তাই আজকের দিনে হে আমার প্রভু যীশু,

হে আমার তমসার পার অচ্ছেদ্যবর্ণ মহান পুরুষ

ইষ্টপ্রতীকে আবির্ভূত পরম প্রেমময় দয়াল

প্রভু অনুকূলের পূর্বরূপ যীশু!

লও তুমি মোর প্রণাম। শতকোটি প্রণাম।

অন্তরের অন্তরস্থিত লক্ষ কোটি প্রণাম।---প্রবি।

কবিতাঃ জ্যান্ত তিনি নিরন্তর!

২৬/১২/২১ শুক্রবার পূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবাবাইদাদা আচার্য পদে অভিষিক্ত হওয়ার পর রচিত। হে আচার্যদেব! তব রাঙা শ্রীচরণে জানাই শত কোটি প্রণাম।

জ্যান্ত তিনি নিরন্তর!
রেত শরীরে সুপ্ত থেকে জ্যান্ত দয়াল নিরন্তর!
চমৎকার লীলা করে প্রভু আচার্য নির্ভর!!
আজও লীলা করে দয়াল আমার
কোনও কোনও ভক্তপ্রাণ দেখিবারে পায়!
তাই তো আমি সব ভুলে জীবনস্বামী
আচার্যদেবের নয়নপানে চেয়ে থাকি সদাই।
চেয়ে দেখো দয়াল প্রভু বাবাইদাদার 'পরে;
সহস্র দিবাকর যেন আঁখি তারায় ঝলমল করে।
নয়ন তো নয় যেন আগুনের গোলা!
ভস্ম করিবার তরে জীবন বিধ্বংসী জীবানুরে
আবির্ভুত হ'লেন আবার আমার দয়াল ভোলা!
আচার্য পরম্পরায় চলে পিতাপুত্রের খেলা!
দয়াল প্রভু আমার দেখো রহস্যময়তায় ঘেরা!!
বর্তমান সৎসঙ্গ আচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদার
শ্রীচরণে প্রণতি জানাই ; প্রণতি জানাই
তোমারি চরণে হে আচার্যদেব পাই যেন ঠাঁই।
তোমারি পরশে শুরু হ'ক শুধু অন্তহীন পথ চলা
বন্ধ হ'ক আমার অকারণ অর্থহীন কথা বলা।---প্রবি।

Thursday, October 14, 2021

বুঝে নাও।

 

কেউ কারো নয়! এই দুনিয়ায় কেউ কারো নয়!! 

সময় থাকতে বুঝে নাও!!!'

প্রায় সময় এই ধরণের পোষ্ট দেখতে পাই। বিভিন্ন জনে কবিতায়, গানে, ছড়ায় এই ধরণের মতামত প্রকাশ করে। সময় থাকতে বুঝে নেবার কথা বলে।

তখন মনে প্রশ্ন জাগে, কেন কেউ কারো নয়!?

এই প্রশ্ন কি ভুল? শুধু কতগুলি কথা লিখে দিয়ে পোষ্ট 'রে দিলেই 'লো না; তার ব্যাখ্যা চায়।

কেন কাউকে নিজের 'লে ভাবা ভুল?

আমার ছেলে আমার নয়?

আমার মা আমার নয়?

আমার ভাই, আমার বোন, আমার দাদা-দিদি আমার নয়?

আমার বাবা, আমার মা আমার নয়?

মায়ের ১০ মাস ১০দিনের নাড়ী ছেঁড়া সন্তান মায়ের আপন নয়?

তাহ'লে প্রশ্ন,

আপন কে?

কেন কেউ কারো নিজের নয়?

তাহ'লে দুনিয়ায় কে আপন?

এই দুনিয়া কি মিথ্যে?

আর সময় থাকতেই বা কি বুঝে নেব?

এসবের উত্তর কে দেবে?

যার উত্তর আমার জানা নেই সেই কথা কাউকে 'লে বিভ্রান্ত করার আমার কোনও অধিকার আছে?

কারণ আমার জ্ঞানের অন্ধকারে কেন কেউ ডুবে মরবে?

তার দায় কে নেবে?

তাহ'লে কি করণীয়?

কেউ কি জানে?

অন্তত যারা এই ধরণের পোষ্ট করছে কবিতা, গান, ছড়া ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে আশা করবো তারা এই বিষয়ে জানে। যদি জানে ভালো নইলে সাবধান। আর যারা জানবে তারা অবশ্যই বক্তব্যে সংযত, নিয়ন্ত্রিত।

তাই সাধু সাবধান!

 

উপলব্ধিঃ স্মৃতি ও আমরা।

আমরা স্মৃতি নিয়েই বাঁচি, স্মৃতি নিয়েই মরি। কিন্তু ভাবি বেঁচে থাকতেই কেন স্মৃতি নিয়েই আমরা বাঁচি? কেন আমরা বেঁচে থাকাকালীন স্মৃতি নিয়ে বাঁচবো? যেদিন আমরা বা আমি বেঁচে থাকবো না সেদিন আমার যদি কেউ প্রিয়জন থাকে তাহ'লে সে বা তারা আমার সঙ্গে তাদের আমার বেঁচে থাকাকালীন কাটানো দিনের বিভিন্ন মুহুর্তগুলি স্মরণ 'রে বেঁচে থাকতে পারে, সেই আনন্দের দিনগুলি স্মৃতি 'য়ে ফিরে আসতে পারে আর তখন ভারাক্রান্ত মন বলতে পারে স্মৃতি নিয়ে বাঁচি আর স্মৃতি নিয়ে মরি। তাই না?

কিন্তু বেঁচে থাকাকালীন কেন তা হবে? আমরা যেন আমাদের একসঙ্গে কাটানো দিনগুলি, কাটানো সুন্দর দিনগুলির মুহূর্তগুলি যেন বেঁচে থাকাকালীন ভুলে না যায়, ভুলে গিয়ে পারস্পরিক সম্পর্কগুলি ছিন্ন না করি। মৃত্যুর পর যখন আর এই শরীরে থাকি না তখন না হয় বেঁচে না থাকার কারণে সম্পর্ক ছিন্ন হয় তখন নাহয় স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকবো বা থাকার কথা উঠবে।

তাই আসুন বেঁচে থাকাকালীন যেন আমরা কেউ স্মৃতি নিয়ে বেঁচে না থাকি। আর্থিক কারণে ' বা সামাজিক পরিস্থিতির কারণে কিম্বা যে কোনও শারীরিক দূরত্বের কারণেই ' আমরা যেন বেঁচে থাকাকালীন মানসিক দূরত্বের অবস্থার মধ্যে দিয়ে নিজেদের নিয়ে না যায়। অন্তত এইটুকুও অর্থাৎ মানসিকভাবে যদি কাছাকাছি থাকা যদি থাকে তাহ'লে ফোনের মাধ্যমে আমরা পরস্পর বিগত সুখের দিনগুলি, আনন্দের দিনগুলি শেয়ার করতে পারি এবং আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক 'লে আবার সবাই একসঙ্গে এক 'য়ে স্মৃতিকে জীবিত 'রে তুলতে পারি অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে।

তাই বলি, আবার ফিরে আসুক সবার সব পুরোনো আনন্দের দিনগুলি।