Powered By Blogger

Thursday, August 8, 2024

প্রবন্ধঃ ইউ টিউব, ঠাকুর ও আমরা সৎসঙ্গীরা!

কিচ্ছু কি করার নেই? ঠাকুর অসহায়!? তাহ'লে এই কঠিন সময়ে কে হবে আমাদের সহায়!? যত দিন যাচ্ছে তত কঠিন ও জটিল হ'য়ে উঠছে আমাদের চারপাশ! যারা যৌবন পেরিয়ে প্রৌঢ়ত্বের মধ্যগগনে কিংবা বার্ধ্যকের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে আর মাথার ঘিলু এখনও তরল, শুকিয়ে চৈত্রের দুপুরের খটখটে ফাটা মাঠের মত হ'য়ে যায়নি ও চিন্তাশক্তি বর্তমান এবং সক্রিয় তারা প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত বুঝতে পারছে কি হচ্ছে, কি চলছে চারপাশে। যুবশক্তি যৌবনের পাগলা ঘোড়ায় চেপে ছুটে চলেছে! সামনে কোনও লক্ষ্য নেই, নেই কোনও গন্তব্যস্থল! লক্ষ্যহীন, গন্তব্যহীন জীবন চরকির মতো ঘুরছে রিপুতাড়িত হ'য়ে বৃত্তি-প্রবৃত্তির বৃত্তে! অস্থিরতার তুঙ্গে যৌবন! কি করা উচিত আর কি করা উচিত নয় তা বোঝার ক্ষমতার ঘর ফাঁকা, শূন্য। এমন প্রজন্মের পর প্রজন্ম হ'য়ে চলে এই বয়সে কিন্তু বর্তমান সময় এতটা ভয়াবহ মাত্রাহীন যে তা একেবারে ধ্বংসের কিনারায়! চারিদিকে থরে থরে সাজানো রয়েছে বিপথগামী হওয়ার রসালো রসদ! হাত বাড়ালেই রসালো রসদের রসে চটচটে হ'য়ে যাচ্ছে সর্বাঙ্গ! কেউ নেই হাত বাড়িয়ে কামকামনার রসালো রসের নয়নজুলি থেকে উদ্ধার করার, কেউ নেই বিপাক পথের আলেয়ার আলো থেকে হাত ধ'রে চলার কায়দা শিখিয়ে দেওয়ার! এই অবস্থায় আমরা যখন বাঁচতে চাইছি, বেরিয়ে আসতে চাইছি বৃত্তি-প্রবৃত্তির বৃত্তের ভুলভুলাইয়ার ঘুলঘুলি থেকে আগে সম্মুখপানে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শ্রীশ্রীঠাকুরকে সারথি বানিয়ে ঠিক তখন আমরা সৎসঙ্গীরা এলাকায় এলাকায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে মন্দিরে মন্দিরে ঠাকুর প্রেম আর ঠাকুর প্রতিষ্ঠার ধ্বজা উড়িয়ে লাফিয়ে উঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছি চক্ষু লজ্জার মাথা খেয়ে কমিউনিস্ট জমানার কামিয়েনিসদের মতো ঠাকুরকে যন্ত্র বানিয়ে নিজে যন্ত্রী হ'য়ে! মূর্তি পূজার মত ঠাকুরের ফটো রেখে ফটো পূজার মাধ্যমে ঠাকুরকে প্রাণহীন রোবট বানিয়ে ফেলেছি নিজেদের বিভিন্ন স্বার্থে! এখন প্রায় সৎসঙ্গীদের ব্যবসার উপকরণ হ'য়ে উঠেছে ঠাকুর! এর সঙ্গে মায়েদের নামও জড়িয়ে গেল।

বিভিন্নভাবে কিছু মানুষ সৎসঙ্গী গুরুভাই হ'য়ে নিজেদের বিভিন্ন ইচ্ছাপূরণ ক'রে চলেছে! "অর্থ-মান-যশ ইত্যাদি পাওয়ার আশায় আমাকে ঠাকুর সাজিয়ে ভক্ত হ'য়ো না"---এই বাণীকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, পাশে সরিয়ে রেখে দাদারা ও মায়েরা সমানভাবে অর্থ-মান-যশ কামাবার লোভে ঠাকুরকে আয়ের উপকরণ বানিয়ে পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য প্রতিযোগীতায় নেবে পড়েছে! আর এই প্রতিযোগিতা বিল্ডিং মেটেরিয়ালস, এময়, ভেস্টিজ, ক্যাটারিং, এল. আই. সি, ডেকোরেটিং, ফটোগ্রাফি, মাতৃসম্মেলনের জন্য কাপড়, মায়েদের গহনা, ফুল-মালা ইত্যাদি ইত্যাদি নানাবিধ ব্যবসার পশরা সাজিয়ে ইষ্টপ্রতিষ্ঠার নামে হ'য়ে চলেছে! এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন নেট ব্যবসা!

এখন নেটের মাধ্যমে ফেসবুক, ইউ টিউব ইত্যাদি শক্তিশালী গণমাধ্যম ঠাকুরকে পণ্য ক'রে গুছিয়ে নেবার মোক্ষম অস্ত্র হ'য়ে উঠেছে! আধুনিক উন্নত ব্যবস্থার নিশ্চয়ই সুযোগ নেবো ঠাকুরের আদর্শ, ঠাকুরের মিশন বিশ্ব ব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যে। কিন্তু ঠাকুর যে যুগ পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে আবির্ভুত চরম পরম এক বিস্ময়, হাজার হাজার বছর ধ'রে চলে আসা সমস্ত ভুল, কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধর্ম, ঈশ্বর, ভগবান, শাস্ত্র, পুজোপাঠ, রাজনীতি, বিবাহনীতি, জননবিজ্ঞান ইত্যাদি ইত্যাদি নানা বোধ থেকে বের ক'রে এনে বলিষ্ঠ, দৃঢ়, মজবুত, শক্তিশালী, স্বচ্ছ, ঝলমলে, সবুজ সম্পূর্ণ নতুন এক সভ্যতার সূর্য উদয়ের জন্যে এসেছিলেন সেই বোধ, সেই ধারণা, সেই জ্ঞান, সেই সচেতনতা দীক্ষিত সৎসঙ্গীদের বোধের বাইরে! এই নতুন অত্যাশ্চর্য সভ্যতার সূর্যের কিরণকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য নেবো, নিশ্চয়ই নেবো, প্রচন্ডভাবে নেবো! কিন্তু কায়েমিস্বার্থ সিদ্ধি ও রক্ষার জন্য বিজ্ঞান যেন আমাদের হাতিয়ার না হয়। অল্প বিদ্যা যে ভয়ঙ্কর সে কথা যেন স্মরণ রাখি আমরা সৎসঙ্গীরা। কারণ তিনি এবার এসেছেন যেমন দয়াল হ'য়ে ঠিক তেমনি তিনি কিন্তু ভয়াল! আর তাঁর মিশন রথকে যে বা যারা থামাতে চাইবে সে যেই হ'ক সৎসঙ্গী হ'ক বা না হ'ক ভয়ঙ্কর ভয়াল হ'য়ে আবির্ভুত হবে দয়াল! আমার কথা অনেকের ভালো নাই লাগতে পারে কিন্তু তাঁর ব'লে যাওয়া কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই! তিনি বললেন, "তুমি যা করছো বা ক'রে রেখেছো ভগবান তাই-ই গ্রাহ্য করবেন আর সেগুলির ফলও পাবে ঠিক তেমনি। যা ইচ্ছা তাই করবে তুমি তা করলে রে চলবে না, ভালো ছাড়া মন্দ করলে পরিস্থিতি ছাড়বে না।"

যাই হ'ক এই নতুন নেট ব্যবসায় জড়িয়ে আছেন এক মা! বলতে চাই না, বলার ইচ্ছাও ক'রে না তবুও ঠাকুরের কথা স্মরণ রেখে সাবধান করার তাগিদেই এই লেখা। ইউ টিউব চ্যানেলে বহুদিন ধ'রে ঠাকুরকে নিয়ে, ঠাকুরের কথা, বাণী, ঘটনা নিয়ে বিকৃত ব্যাখ্যা, কুসংস্কারাচ্ছন্ন প্রচার হ'য়ে চলেছে! কখনো কখনো ঠাকুরের বিশেষ সময়ের বিশেষ ব্যক্তির উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে বলাকে বিকৃত পরিবেশনের মাধ্যমে সার্বজনিক ক'রে তোলা হচ্ছে! এই যে পরিবেশন হচ্ছে এই পরিবেশনের সামনের মুখ কোনও এক মায়ের হ'লেও এই মায়ের পিছনে অন্য কেউ আছে! একা কোনও মায়ের পক্ষে তাও গ্রাম্য উচ্চারণে ঠাকুরের বাণী নিয়ে ওপেন মিডিয়ায় কথা বলতে আসার মধ্যে সাহস লাগে। আসলে ইনি ভক্তিরসে ডুবে গিয়ে হিতাহিতজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন তাই বুঝতে পারছেন না ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বটতলার ঠাকুর নন বা কোনও বাবাজি নন। আর নয়তো ভক্তির মুখোশ ঝুলিয়ে ঠাকুরকে অর্থ, মান, যশ-এর উপকরণ বানিয়ে পারদর্শী হ'য়ে উঠেছেন! নতুবা এই মায়ের অতি সরলতাকে মূলধন বানিয়ে এই নেট দুনিয়ায় এর পরিবারের কেউ ঠাকুরকে বাজারী বানিয়ে শহর থেকে গ্রাম, গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরল সিধাসাদা মানুষের অজ্ঞতা আর কুসংস্কারাচ্ছন্ন মনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রথ দেখা আর কলা বেচা দুটো কাজই ক'রে চলেছে!

পরিকল্পিতভাবেই এই কাজ চলছে বহুদিন ধ'রে। মানুষের কথা বলার স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে যে যেদিকে যা পারছে হুক্কা হুয়ার মত ডেকে চলেছে। তাতে ঠাকুরের কোথায় ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, কোথায় ঘা লাগছে, ঠাকুরের মিশন কোথায় বাধা পাচ্ছে তা দেখার দরকার নেই কারও! টাকা রোজগারের মেশিন ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র! 'টাকা আপন মানুষ পর, যত পারিস টাকা ধর'--এখন সৎসঙ্গীদের মন্ত্র! ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। হ্যাঁ! আছে! আর ব্যতিক্রম আছে বলেই আজ সারা পৃথিবীতে ঠাকুরের মিশন ছড়িয়ে পড়েছে। আবার একশ্রেণীর সৎসঙ্গী ঠাকুরের "মানুষ আপন টাকা পর, যত পারিস মানুষ ধর"---বাণীর উল্টো রূপ এই 'টাকা আপন মানুষ পর, যত পারিস টাকা ধর'--কে ইষ্টভৃতির মন্ত্রের মত কিংবা বীজ মন্ত্রের মত দিনরাত জপে চলেছে!!!! গ্রামে গঞ্জে, শহরতলিতে এই জিনিস রমরমিয়ে চলেছে!
প্রশ্ন হচ্ছে, যেখান থেকে এই পোস্ট হচ্ছে সেখানে সেই অঞ্চলে কোনও সৎসঙ্গের কেন্দ্র নেই? কোনও সৎসঙ্গী নেই? নেই কোনও ঋত্বিক? যাজক? তারা কি করছে? এতটাই তারা দুর্বল? আর এতটাই এই মা সবল? নাকি তারাও যুক্ত? স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে। যেখানে তাবড় তাবড় এলিট পর্যায়ের মানুষ ঠাকুর সম্পর্কে বলতে গিয়ে ১০বার ভাবেন, হিমশিম খান, ঘেমেনেয়ে ওঠেন, গলা শুকিয়ে যায় সেখানে এই মা মুখস্ত বিদ্যা চালিয়ে গ্রাম্য স্বরে ঠাকুরের বিরাট নেট ভক্ত হ'য়ে সাধ্বী মায়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হ'য়ে প্রবচন দিয়ে চলেছেন অবলীলায় অবহেলায় ঠাকুর বিষয়কে মূলধন ক'রে এতবড় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড শক্তিশালী সৎসঙ্গ কেন্দ্র থাকা সত্বেও! হয়তো বা আর কিছুদিনের মধ্যেই এই মা অনুকূলচন্দ্রের ভর পাওয়া মায়েতে পরিণত হবে কিছুদিনের মধ্যে ঐ গ্রাম্য অঞ্চলের সহজ সরল সাদাসিধে অজ্ঞ বোকা মূর্খ কুসংস্কারাচ্ছন্ন মায়েদের মধ্যে! কিচ্ছু করার থাকবে না সেদিন; যতদিন না সৎসঙ্গীরা বুঝবে ঠাকুর কেন এসেছিলেন, কি তাঁর বুকের ব্যথা ছিল, কি তাঁর মিশন, তিনি আমাদের কেমন দেখতে চেয়েছিলেন, তিনি আমাদের কাছে কি চান ইত্যাদি ইত্যাদি; আর ততদিন ঠাকুর "পঞ্চ ভুতের ফাঁদে ব্রহ্মা পড়ে করে কাঁদে"-প্রবাদের মত 'ধান্দাবাজ সৎসঙ্গী ভক্তকুল মাঝে ঠাকুর বাঁধা পড়ে কাঁদে"-- এমনটা হবে!!!!!

হয় যারা ব্যতিক্রমী সৎসঙ্গী যারা সেই সৎসঙ্গীরা সচেতন হ'ক, এলাকার সৎসঙ্গীরা সক্রিয় হ'ক, সৎসঙ্গে, কলমে উঠে আসুক প্রতিবাদ! নতুবা ঠাকুর যেমন বলতেন, আপনাদের রসূলকে, ইসলামকে যেখানে যখনই ভুল বিকৃত ব্যাখ্যা করবে তখনই আইনের আশ্রয় নিন, শয়ে শয়ে কেস ঠুকে দিন! ঠিক তেমনি ঠাকুরকে ভুল ব্যাখ্যা, ভুল উপস্থাপন করলে এলাকার সৎসঙ্গীরা সেই পদক্ষেপ নিতেই পারেন!!!!! জয়গুরু।
( লেখা ৮ই আগস্ট'২০২০)

Wednesday, August 7, 2024

প্রবন্ধঃ আচার্যদেবের প্রয়োজনীয়তা।

আবার প্রমাণ হ'লো আচার্যদেবের প্রয়োজনীয়তা।

চন্দন ভট্টাচার্যের লেখা পড়ে অনেকদিন ধ'রে অপেক্ষার অবসান হ'লো। খুব ভালো লাগলো এই খবর পড়ে। চন্দন ভট্টাচার্যদাদাকে এই খবর পরিবেশন করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

প্রত্যেকবছর আপনাদের স্নান উৎসবের সঙ্গে আমাদের এখানে সম্ভবত মতুয়াদের বারুণী মহামেলার মিল আছে। আপনারা যেমন গঙ্গা স্নান উৎসব কমিটির পরিচালনায় পাবনা জলাধারে স্নান করেন ঠিক তেমনি মতুয়াদের ঠাকুরনগরে অনুষ্ঠিত বারুণী মেলার সময় নির্দিষ্ট জলাশয়ে স্নান করার ব্যবস্থা আছে। এই দুই জায়গায় ভক্তরা স্নান ক'রে পূণ্য অর্জন করেন।

আবার, বাংলাদেশে গোপালগঞ্জ জেলার ওড়াকান্দিতেও মতুয়াদের এই উৎসব হয়। মতুয়াদের এই নির্দিষ্ট স্নানের জলাশয়কে কামনা সাগর ও বাসনা সাগর বলা হয়।

এইসময় প্রচুর মানুষের একই সঙ্গে ঐ কামনা পুকুরে স্নান করার ফলে জল ঘোলা ও নোংরা হয়ে যায়। ঠিক তেমনি পাবনার জলাধারের একই দৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

এই যে পাবনার জলাধারে স্নান উৎসবের আয়োজন ও জলাধারে স্নান এই উৎসব ও স্নানের ব্যবস্থা কে চালু করেছিলেন? শ্রীশ্রীঠাকুর? শ্রীশ্রীবড়দা? শ্রীশ্রীদাদা? কে? নাকি নিজেরা উৎসাহী ভক্তরা?
শ্রীশ্রীঠাকুরের স্বাস্থ্য ও সদাচার সম্পর্কিত বাণী ও নানা গ্রন্থে লিপিবদ্ধ কথামৃত কি এই অস্বাস্থ্যকর নোংরা দূষিত জলে স্নান করাকে সমর্থন করে? আমরা The greatest phenomenon of the world SriSriThakur AnukulChanra-এর বিজ্ঞানসম্মত বাণী ও কথামৃতের পরও ভক্তির নামে এই কাজ ক'রে চলেছি বছরের পর বছর ঠাকুরবাড়ির সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ ছাড়াই। এর থেকে প্রমাণ হয় ঈশ্বরের প্রতি ভক্তির নামে কোনও কিছু একবার চারিয়ে দিলেই তা ভক্তির আবেগে মানুষ ভেসে যায় কোনও কিছু আগুপিছু ভালোমন্দ না ভেবেই। এইজন্যই প্রয়োজন যুগাবতারের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অবর্তমানে তঁনিষ্ঠ, তঁত্তপা আচার্য্য শরণীয় ও আচার্য ও আচার্যের সঙ্গ এবং পরামর্শ, আদেশ, নির্দেশ, নিদেশ পালন প্রয়োজন। নইলে চলনায় আসে বিকৃতি। ঠাকুরের বাণী "খেয়াল মাফিক ভজলি গুরু, হ'তে মানুষ হ'লি গরু" একদিন প্রমাণ হয়। আর আমরা তা দেখলাম শ্রদ্ধেয় পূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবিংকিদাদার হস্তক্ষেপে এই অস্বাস্থ্যকর নোংরা দূষিত জলে স্নান করা সম্পর্কিত বিজ্ঞানভিত্তিক সঠিক মূল্যায়ন।

এই বিষয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম বহুপূর্বে। অপেক্ষায় ছিলাম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত মূল প্রতিষ্ঠান দেওঘরের 'সৎসঙ্গ'-এর হস্তক্ষেপে একদিন বাংলাদেশের সৎসঙ্গীদের জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন হবে।
আজ এই খবরে যারপরনাই আনন্দিত যে আবার প্রমাণ হ'লো শ্রীশ্রীঠাকুর প্রতিষ্ঠিত দেওঘরের মূল প্রতিষ্ঠান 'সৎসঙ্গ' বিশ্বজুড়ে ঠাকুরের কোটি কোটি সৎসঙ্গীকে সঠিক দিশায় পরিচালনা করে চলেছে দূরদর্শী শ্রীশ্রীআচার্যদেবের যোগ্য নেতৃত্বে। ভারতের রাজ্য ঝাড়খন্ডের দেওঘরের 'সৎসঙ্গ' প্রতিষ্ঠানের শ্রীশ্রীআচার্যদেবের বাঁচা-বাড়ার নিখুঁত নির্দেশ পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের সর্বত্র সৎসঙ্গ কেন্দ্র, মন্দির ও ঘরে ঘরে শ্রীশ্রীঠাকুরের সোনার সৎসঙ্গী ঈশ্বরকোটি পুরুষদের হাত ধ'রে।
আবার প্রমাণ হ'লো কেন পুরুষোত্তমের অবর্তমানে তঁনিষ্ঠ, তঁত্তপা, তদনুবর্ত্তী আচার্য্যই শরণীয়, আচার্যের প্রয়োজন।
( লেখা ৭ই আগষ্ট'২০২৩)

Tuesday, August 6, 2024

উপলব্ধিঃ ভুল প্রচার

আমি একজন হিন্দু। আমি যেটা জানি তা হ'লো,
"আস-সালামু ʿআলাইকুম" মানে যতদূর জানি "আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।"
আর প্রতি উত্তরে বলা হয়
"ওয়া ʿআলাইকুমু স-সালাম" অর্থাৎ "আপনাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হ'ক।"
প্রতিউত্তরে পুরো কথাটা হ'লো,
"ওয়া-আলাইকুমুস সালাম ওয়া-রহমাতুল্লাহি।
"ওয়া-আলাইকুমুস সালাম "---কথাটার মানে বলা হয়েছে আগে।
এখন শুধু "ওয়া-রহমাতুল্লাহি" মানে দাঁড়ালো "আল্লাহর দয়া বর্ষিত হোক।"
তাহ'লে পুরো কথাটা "ওয়া-আলাইকুমুস সালাম ওয়া-রহমাতুল্লাহি"-র মানে দাঁড়ালো "আপনাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হ'ক এবং আল্লাহর দয়া বর্ষিত হোক।"
আমি একজন হিন্দু হ'য়ে এটা জানি। এটা কি ভুল জানি। তাহ'লে "তোমার উপর গজব বর্ষিত হ'ক" মানে কি দাঁড়ালো? গজব মানে তো যতদূর জানি শাস্তি।
"আপনাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হ'ক" কথার উত্তরে আপনার ওপর আল্লাহর গজব (শাস্তি) বর্ষিত হ'ক!?
এ কি শিক্ষা? এ কথা কোথায় আছে? কোরাণে বা হাদিসে কোথায় আছে? একজন মুসলিম মহিলা একজন মুসলিম মহিলার প্রশ্নের উত্তরে এরকম ভুল শিক্ষা দিচ্ছে? আবার নিজেই বলছেন, "ওয়া-আলাইকুমু"-এর পরে আর একটা শব্দ আছে ওটা আমি নিজেও পারি না, ওটা কঠিন, ওটার অর্থ হ'লো আপনার ওপর গজব বর্ষিত হ'ক।"
যাই হ'ক আমি জানি না আমি ঠিক না ভুল।
তাহ'লে কি ভুল প্রচার হচ্ছে? না জেনে? নাকি ইচ্ছে ক'রে?
এইভাবেই সৃষ্টি হয় পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি ও ধর্মীয় বিদ্ধেষ, উন্মাদনা।
আমার মুসলিম ভাইয়েরা এর উত্তর দিলে খুশী হবো। 
( লেখা ৭ই আগষ্ট' ২০২৩)

বিচিত্রা ২১

কথা অমৃত, কথা-ই বিষ।
বলার ধরণ গড়ে দেয় তফাৎ
হ'লেই উনিশ-বিশ!
ব্যবহার জীবনের পানীয়
সুধামৃত করে দান
জীবন হ'লে অসহনীয়। ২০২১

"মানুষ আপন টাকা পর 
যত পারিস মানুষ ধর" 
কিন্তু বাস্তব সত্য হ'লো,
টাকা আপন মানুষ পর,
যত পারিস টাকা ধর!! ২০১৭

শ্রীশ্রীঠাকুরের এই বাণী
""মানুষ আপন টাকা পর 
যত পারিস মানুষ ধর" 
সৎসঙ্গীরা ক'জনাতে মানি?
ঠিক তেমনি,
শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের বাণী,
"টাকা মাটি, মাটি টাকা"
বুঝেছে কোন শিষ্য ব্যাটা?
বুঝেছে রাজনৈতিক নেতারা
আর ডেভোলপার, প্রমোটাররা।  
তাই বাস্তব সত্য হ'লো,
টাকা আপন মানুষ পর,
যত পারিস টাকা ধর!! ২০২৪

যেমন সঙ্গ তেমন ভাব
যেমন ভাব তেমন লাভ।
সঙ্গ কেমন বোঝা যায়
দেখে হাবভাব।
একচক্ষু হরিণ হ'য়ে ভাবছো বসে
আমার ধর্ম, তোমার ধর্ম ক'রে
কাটিয়ে দেবে চিরটাকাল?
হিংস্র বাঘের মত অতর্কিতে
পড়বে ঝাঁপিয়ে নির্মম মহাকাল!
আমার ধর্ম তোমার ধর্ম
কত ধর্ম পৃথিবীতে!
ধর্ম কথার মর্ম কি তা'
জানে বন্ধু কোন জনেতে!?
প্রতিদিনই নতুন নতুন '
ধর্ম' জাগে এই দুনিয়ায়!
'ধর্ম' জালের বেড়াজালে
বেকুব মানুষ ছটফটায়!!
স্রষ্টা যখন আসেন নেবে স্বয়ং
সৃষ্টি মাঝে সৃষ্ট হ'য়ে
তাঁরই সাথে আসে নেবে
'ধর্ম' জেনো বৃষ্টি হ'য়ে। ২০১৭

ধর্ম্ম বেওসায়ী তুমি ব্যাওসা ক'রে খাও
আর ঈশ্বর পরমেশ্বরকে নিলামে চড়াও;
ক্যা বাত শালা! ক্যা বাত!!
মার হাতোড়া, মার লাথ!!!
কলি! বন্ধু, ঘোর কলি!!
বৃত্তি সেবায় মত্ত তুমি।
উৎস ভুলে মনের আনন্দে
খাচ্ছো তুমি কাঁঠাল পাতা;
যে কোনও মুহুর্তে ছাগল
তুমি হবে বলি, মনে রেখো এই কলি;
সাধু সাবধান!
বন্ধ হবে জীবন খাতা। ২০১৮
( লেখা ৭ই আগষ্ট, ২০১৭, ২০১৮, ২০২১, ২০২৪)

বিচিত্রা ২০

ঈশ্বর ছাড়া এ দুনিয়ায় বন্ধু আবার কে!?
ভাই বলো, বন্ধু বলো,
প্রিয় আর প্রিয়া বলো
সুখের দিনের বন্ধু;
সুখ ফুরোলেই থাকবে না আর সাথে!!
আদর্শ নেই জীবনে যার
সে আবার বন্ধু কার!?
বন্ধু দিবসে তাই জানাই ধিক্কার।
বন্ধু! আদর্শ আছে অনুসরণ নাই;
আদর্শ থাকা আর না থাকা
সমান তাই।
আদর্শ বন্ধু হওয়া সহজ নয় ভাই।
বন্ধু হওয়া নয়কো সহজ কথা ভাই;
দু'দিন মিশলেই কিন্তু জেনো
বন্ধু হওয়া যায় না তাই।
( লেখা ৭ই আগষ্ট, ২০২৪)

Friday, August 2, 2024

সত্যঃ প্রাইভেট ২

জায়গাটা অন্ধকার আর নির্জন হ'লেও রাস্তার হৈ হুল্লোড় থেকে দূরে নয়। যদিও এই নিকট দূরত্বের মধ্যেই তড়িৎ গতিতে অনেক কাজ সেরে নেওয়া যায়। এমন একটা অন্ধকার নির্জন পরিবেশে দাঁড়িয়ে একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল। আমি কি একটু ভয় পেলাম? যদিও সে ভয় নেই আমার। আগেও করিনি এখনো করি না। ভাবি দয়াল তো আছে সাথে! শুধু এখন প্রিয়জনদের ছবি ভেসে ওঠে, যদি কারও কিছু হ'য়ে যায় এই আশংকায় মনের কোণে ভয় বাসা বাঁধে কারণে অকারণে। এছাড়া আর কোনও ভয় নেই জীবনে।


এই নির্জন অন্ধকারে কথাটা মনে আসার পিছনে যদিও যৌবনের দিনগুলিতে অনেক অকারণ শত্রুতার মুখোমুখি হওয়ার স্মৃতি আছে। তাই--------। সেগুলি এখন আর মনে রাখার কোনও প্রয়োজন নেই। তথাপি স্থান কাল পাত্র ব'লে একটা কথা আছে। ভালো মন্দের মাহাত্ম্য আছে।


যাই হ'ক দু'জনে যখন এসে দাঁড়ালাম ওই নির্জন জায়গায় তখন হঠাৎ বন্ধু আমার হাত দু'টো ধ'রে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো। আমি হতভম্ব হয়ে পড়লাম। এরকম একটা পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। কি করবো কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। বন্ধুকে শান্ত করতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু সে আমার হাত ধ'রে কাঁদতে কাঁদতে বললো, তুই আমায় ক্ষমা ক'রে দিস। আমার জীবনে তোর উপকার কোনওদিনই ভুলবো না। এখন এই জীবনের পড়ন্ত বিকেলে প্রতিদিনই তোর আমার পাশে থাকার সব কথা মনে পড়ে, ভেসে ওঠে চোখের সামনে। আমার জীবনের উত্থানের পিছনে তোর অকপট প্রত্যাশা বিহীন বাড়িয়ে দেওয়া হাত আমি জীবনে ভুলবো না। তোর সাহায্যে জীবনের অনেক কঠিন বিপদের বাঁকের মুখ থেকে, এমনকি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি এ কথা সত্য; কিন্তু যৌবনের সেই উদ্দাম দিনগুলিতে তোর মতো বন্ধুর মূল্য বুঝিনি। তোকে আমার ভীষণ প্রয়োজন ছিল বাপী। যৌবনের দিনগুলিতে বলা তোর কথা গুলি যদি একটু শুনতাম তাহ'লে আজ আমার এই অবস্থা হ'তো না। সেদিন তোর কথা যদি হেসে উড়িয়ে না দিতাম, ব্যঙ্গ-মস্করা না করতাম, বন্ধুদের মাঝে ঠাট্টা ইয়ার্কি না করতাম, তোকে উপেক্ষা না করতাম, তোকে ছোটো না করতাম, বন্ধুত্ব ছিন্ন না করতাম তোর সঙ্গে তাহ'লে আজ------- কথা অসম্পূর্ণ রেখেই আমার বুকে মাথা দিয়ে বাচ্চা ছেলের মতো কাঁদতে লাগলো।
আমি তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলাম। শান্ত ক'রে বললাম, কাঁদিস না। কি হয়েছে বল। বন্ধু নিজেকে একটু সামলে নিল। তারপর ব'লে চললো তার দুঃখের কথা।


জীবনের এক কঠিন সময়ে ওর সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব। উদ্দাম উচশৃঙ্খলতা পূর্ণ জীবন ছিল তার। বাড়ির পরিবেশ ভালো নয়, নরকতুল্য। সবসময় একটা ঝগড়া মারামারির পরিবেশ লেগেই আছে ভাইয়ে ভাইয়ে। বাবা থেকেও না থাকার মতো। সংসার সম্পর্কে উদাসীন। নেশারু। মা উদয়াস্ত খেটে চলেছে সংসারের পিছনে মুখ বুজে। মাঝে মাঝে স্বামীর মদ খেয়ে চীৎকার আর ছেলেদের পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া মারামারিতে মা প্রায় আধপাগল অবস্থা। এইরকম এক সময়ে আমার সঙ্গে তার পরিচয়, পরে তা বন্ধত্বে পরিণত হয়। তারপর বন্ধুত্ব ঘনিষ্ঠ হ'য়ে ওঠে। প্রায় সময়টাই আমার সঙ্গে কাটায়। ধীরে ধীরে আমার বন্ধুদের সঙ্গে গড়ে ওঠে সম্পর্ক। ওঠা বসা, খেলা, আড্ডা এখানে সেখানে যাওয়া চলতে থাকে। চলতে থাকে সঙ্গে তাকে নিয়ে পড়াশুনা। এই পড়াশুনার জন্য অনেকটা সময় ও পরিশ্রম ব্যয় করতে হয়েছিল।


আর, যেখানে যেখানে আমার পরিচিতি সেখানে সেও তাদের পরিচিত হ'য়ে উঠতে লাগলো ধীরে ধীরে। আমার বন্ধু হওয়ার সুবাদে সম্পর্ক হ'য়ে ওঠে ঘনিষ্ঠ। আমি যেহেতু সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, ছিলাম বামপন্থী গণনাট্যের সঙ্গে জড়িত সেই সুবাদে তারও পরিচয় ঘটে এলাকার নাট্যব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক দাদার সঙ্গে। আজও মনে পড়ে যেদিন পরিচয় ক'রে দিয়েছিলাম এলাকার দোর্দন্ডপ্রতাপ দাদার সঙ্গে বন্ধুর, সুপারিশ করেছিলাম তার অবস্থার কথা বর্ণনা ক'রে একটা চাকরীর ব্যবস্থা করার কথা সেদিনের কথা আজও মনে পড়ে, সেই দাদা বলেছিল, "বাপী তুই কিন্তু পরে পস্তাবি।" সেদিন বুঝিনি সেই কথার অর্থ। পরে বুঝেছিলাম। বুঝেছিলাম কতটা দূরদর্শী ছিল এলাকার সেই দোর্দন্ডপ্রতাপ দাদা।-----প্রবি।
ক্রমশঃ
( লেখা ২রা আগষ্ট'২০২৩)

সত্যঃ প্রাইভেট ১

আজ একটা আমার দুঃখ ও ব্যর্থতার কাহিনী বলবো তোমাদের। বলার ইচ্ছে ছিল না, আর আজকাল তেমন লেখার বা বলার ইচ্ছে হয় না। কারণ কেউ শোনে না, কেউ পড়ে না। তাদের কাছে এসব বকোয়াস। এরকম এক বকোয়াস কথা না শোনার কাহানী বলবো তোমাদের। একটু কষ্ট ক'রে পড়ার অনুরোধ রইলো। হয়তো কাজে লাগলেও লাগতে পারে।


সেদিনটা ছিল রবিবার। যাচ্ছিলাম এক গুরুভাইয়ের বাড়িতে সান্ধ্য সৎসঙ্গে। স্ত্রী ও বউমা আগে চলে গেছে। মেয়ে জামাই এসেছিল। মেয়েও চলে গেছিল মায়ের সঙ্গে। কারণ আগে মাতৃসম্মেলন হবে; পরে হবে সৎসঙ্গ। তাই তারা আগে চলে গেছিল। আমার একটা কাজ থাকায় ছেলে আর জামাইকে বলেছিলাম সৎসঙ্গে আগে চলে যেতে। সেইমতো তারা চলে গেছিল। আমি পরে কাজ সেরে যখন যাচ্ছিলাম তখন পথে দেখা হ'লো এক পুরোনো বন্ধুর সাথে। পাড়ার চায়ের দোকানে বসে গল্প করছে কয়েকজনের সাথে। আমাকে দেখেই 'কি রে বাপি, কোথায় যাচ্ছিস? ব'লে ডেকে উঠলো। অনেকদিন পর দেখা। অগত্যা দাঁড়াতেই হ'লো। কোথায় যাচ্ছি, কেমন আছি, কি করছি, ছেলেমেয়ে কে কি করছে এরকম পরস্পর নানা কথা বিনিময় হ'লো। এরকম নানা কথার মাঝে হঠাৎ দেখলাম ধরা গলায় সে বলছে, তুই খুব ভালো আছিস! তোকে দেখে খুব ভালো লাগছে। মাঝে মাঝে দূর থেকে দেখি তোকে যেতে। তুই খুব ভালো জিনিস নিয়ে আছিস। এখন কোথায় যাচ্ছিস? সৎসঙ্গে? কথাগুলি বলার সঙ্গে দেখলাম তার চোখ ছলছল করছে। আমার দেরি হ'য়ে যাচ্ছিল সৎসঙ্গে যেতে। তবুও এরকম এক সংবেদনশীল মুহূর্তে পুরনো বন্ধুকে ছেড়ে যেতে মন চাইছিলো না। আমি তাকে কোথায় যাচ্ছি না বলা সত্ত্বেও সে বুঝে গেল আমি সৎসঙ্গে যাচ্ছি। আমি সৎসঙ্গে যাচ্ছি সেটা এড়িয়ে যেতে চাইছিলাম। তাই বললাম, না এই একটু এদিকে কাজে যাচ্ছি। ও বললো, না বললে কি হবে, তোকে দেখেই বুঝেছি তুই সৎসঙ্গে যাচ্ছিস। সাদা পায়জামা পাঞ্জাবি পোশাক দেখলেই সবাই ভাবে ও বোঝে যে, সৎসঙ্গে যাচ্ছি। এটা হামেশাই হয়। পোশাক দেখেই প্রশ্ন ছুটে আসে, কোথায়? সৎসঙ্গে? যেন সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি মানেই সৎসঙ্গ। আসলে সৎসঙ্গে যাই কিংবা অন্য কোথাও যাই সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি এলাকায় এটা দীর্ঘদিনের পোশাক পরিচিতি। আর সৎসঙ্গে যাওয়ার কথা এড়িয়ে যাওয়ার পিছনে পুরোনো স্মৃতি ছিল।


যাই হ'ক, কথায় কথায় বন্ধু বললো, তোরা গোটা পরিবার এসব নিয়ে বেশ ভালো আছিস। আমি এই কথায় একটু হাসি দিয়ে চুপ ক'রে রইলাম। সে হেসে পুনরায় আবার একই কথা বললো। বুঝতে পারলাম তার এই কথায় হাসির সঙ্গে একটা দুঃখ ঝ'রে পড়লো। ওর এ কথায় আমি বললাম, দ্যাখ, আজ ভালো আছি, জানি না কাল ভালো থাকবো কিনা। বন্ধু বললো, না না তুই ভালো থাকবি। আমি বললাম, তুই কেমন আছিস। সে বললো, এই একরকম আছি। চলে যাচ্ছে। কেটে যাচ্ছে কোনওরকমে। একটা বিষন্নতা ঝ'রে পড়লো কথায়। আমি বললাম, তুই এখানে কতক্ষণ আছিস? আমি সাড়ে ন'টার মধ্যে ফিরে আসবো। বন্ধু বললো, আমি সাড়ে আটটার মধ্যে বাড়ি চলে যাবো। আটটা খুব বেশি হ'লে সাড়ে আটটার বেশি থাকি না। তাড়াতাড়ি খেয়ে নিই। সকালে, দুপুরে ও রাতে একদম একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই টিফিন ও খাওয়া সেরে নিই। বরাবর একটা নিয়ম মেইন্টেন করতে হয়; কারণ ওষূধ খেতে হয়। তা নইলে শরীরটা খারাপ করে। আমি বললাম, কেন কি হয়েছে? কি ওষুধ খাস? ও বললো, আর বলিস না। ওই প্রেসার, সুগার, হার্ট আর কি। একটা নিয়ম ক'রে ওষূধ খেতে হয়।


আমি চুপ ক'রে দাঁড়িয়ে কথাগুলি শুনলাম। মনে মনে ভাবলাম অনেক কিছু। পরবর্তীতে সেগুলি বলবো। আমি বললাম, আসলে আমরা কেউ ভালো নেই। আমাদের তো বয়স হ'য়ে গেল কিন্তু ঘরে ঘরে বাচ্চা বুড়ো কেউ ভালো নেই। আর ছোটোদের তো কোনও দোষ নেই। তারা ভালো নেই আমাদের দোষে। তাদের কি দোষ ভালো না থাকার। আমরা তো তাদের ভালো থাকার পথ দেখিয়ে দিইনি, শেখায়নি ভালো থাকার তুক। নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম যৌবনে। দাপিয়ে বেড়িয়েছি এখানে সেখানে। এখন তারা যৌবনে, আমরা ঘরের কোণে। তাই ছোটোদের কোনও দোষ নেই। আমরা আমাদের নিজের ও আমাদের ছেলেমেয়েদের ভালো না থাকার জন্য আমরাই দায়ী। আমরা নারীপুরুষ আমাদের যৌবনের দিনগুলি দেখি আমাদের ছেমেয়েদের মধ্যে। ওরা আমাদের আয়না।


এইকথা শুনে বন্ধু আমার দিকে ম্লান হাসি হেসে ফ্যাল ফ্যাল ক'রে চেয়ে রইলো। সঙ্গের অন্যরা আমার কথার কোনও প্রতিবাদ করলো না। নীরবে মাথা নেড়ে শুধু সমর্থন করলো। তারপর বন্ধু বললো, তোর একটু সময় হবে? আমি বললাম, কেন? বন্ধু বললো, একটু তোর সঙ্গে প্রাইভেট ছিল। আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম ৭টা বাজে। সৎসঙ্গ আরম্ভ হওয়ার সময় হয়েছে। মনে মনে ভাবলাম অনেকদিন পর দেখা হয়েছে, কি জানি কি কথা বলবে। এমনিতেই প্রথম থেকেই একটা বিমর্ষতা চোখেমুখে ফুটে উঠছিল। পরে কথা বলতে গিয়ে চোখ ছলছল করছিল ও গলা ধ'রে গেছিল। ভাবলাম, নিশ্চয়ই কিছু একটা বলতে চাইছে। ব'লে হালকা হ'তে চাইছে বুকের বোঝাটা নাবিয়ে নিয়ে। আমি বললাম, ঠিক আছে, বল। ও চায়ের দোকানের বেঞ্চি থেকে উঠে পড়লো। বললো, চল। আমরা দু'জনে একটু দূরে এগিয়ে গিয়ে নির্জনে দাঁড়ালাম।---প্রবি।
ক্রমশঃ
( লেখা ২রা আগষ্ট'২০২৩)