Powered By Blogger

Friday, June 9, 2023

প্রবন্ধঃ জ্ঞান ও সংগীত চর্চা।

জ্ঞানের ও সঙ্গীতচর্চার শেষ হচ্ছে ঈশ্বরের অস্তিত্বের অনুসন্ধান ও ঈশ্বর লাভ। জ্ঞানের উচ্চমার্গে পৌঁছে মানুষের মনে একটা অহঙ্কার জন্মায়। সে অহঙ্কার স্থুল হ;ক আর সুক্ষ্মই হ'ক। পৃথিবী জুড়ে ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব জ্ঞানী পুরুষই এই অহঙ্কারের শিকার। আর সঙ্গীত ঈশ্বরের কাছে পৌঁছনোর সবচেয়ে সহজ উপায় ও মাধ্যম। কথিত আছে তানসেন সংগীত মূর্চ্ছনায় ঈশ্বরকে বাধ্য করেছিলেন বৃষ্টি নাবিয়ে আনতে। ঈশ্বরের ক্ষিধে সবার থাকে না, ইচ্ছে করলেই ঈশ্বরের চর্চা করা যায় না, ঈশ্বরকোটি পুরুষ ছাড়া ঈশ্বরের ক্ষিধে, ঈশ্বরের চর্চা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। আর এ এক জন্মের ব্যাপার নয়। জন্মজন্মান্তরের চর্চার ব্যাপার। যা বায়োলজিক্যাল মেক আপের মধ্যে থাকে। তবে চেষ্টা করলে অনেক কিছুই হয়, হাঙরেরও দাঁত দেখতে পাওয়া যায়। তবে জন্মবিজ্ঞান আলাদা বিষয়। যারা সংগীতচর্চার মধ্যে দিয়েও ঈশ্বরের সন্ধান পায় না, ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব করতে না পারে তাদের সংগীত চর্চা বৃথা। তাদের সংগীত কেউ মনে রাখে না।
আর, প্রবাদ আছে, Knowledge rules the world. কোন নলেজ? যে জ্ঞান অহঙ্কারের জন্ম দেয়, ইগোকে স্ট্রং করে, বিনয়ের সঙ্গে শ্রেষ্ঠের পায়ে মাথা নত করতে দেয় না, শিশুর সারল্য নিয়ে মানুষের মাঝে মিশে যেতে দেয় না, ছোটোকে বড় আর বড়কে আরও বড় করতে শিক্ষা দেয় না ইত্যাদি সেই জ্ঞান জ্ঞান নয়, বাচক জ্ঞান মাত্র। বাচক জ্ঞান বিশ্বকে রুল করে না। রুল করা মানে বাহুবলে দুর্বল মানুষকে, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা দেশকে দাবিয়ে রাখা নয়। যা অর্থবলে বলীয়ান হ'য়ে, বিশেষ জ্ঞানকে ধ্বংসের কাজে প্রয়োগ ক'রে শক্তি অর্জনের মাধ্যমে আমেরিকা সহ অন্যান্য শক্তিশালী দেশগুলি দুর্বল দেশের অসহায় মানুষগুলোর ওপর ক'রে থাকে। কিন্তু তাদের কেউ মনে রাখে না। মুছে যায় মানুষের ইতিহাস থেকে। কিন্তু হাজার হাজার বছর ধ'রে মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে ঈশ্বর সন্ধানী প্রেমী মানুষ।
( লেখা ১০ই মে, ২০২৩ )

কবিতাঃ সৎসঙ্গী বন্ধু! রাখো মান দয়ালের!

চলে যাবার আগে ব'লে যেতে চাই একটা কথা।
যদি থাকে তোমার ক্ষমতা 
তবে তোমার ও তোমার আশেপাশের 
অসহায় গরীব ছোট্ট শিশুর প্রতি রেখো মমতা। 
শিশুরা লিটল অনুকূল! বাড়িয়ে তোমার হাত দিও সাথ, 
দিও তাদের কুল।
শিশুর শৈশব চলে গেলে তা আর ফিরে পাবে না। 
শিশুরা ঈশ্বরের দূত। তাদের মধ্যে ঈশ্বর বর্তমান। 
তাদের ভালোবাসলে ঈশ্বরকে ভালোবাসা হয়।
নইলে ঈশ্বর হবে ম্লান, ঈশ্বরকে পাওয়া আর হবে না। 
তোমার বাড়ির ও আশেপাশের শিশুদের ভালোবেসো। 
তাদের ভালোবাসলে ঈশ্বর তোমায় ভালবাসবে। 
শিশুর শৈশব চলে গেলে তুমি এ জীবনে
ঈশ্বরকে ভালোবাসার সুযোগ হারাবে।
প্রতিটি শিশুর মধ্যে তোমার দয়াল ঠাকুর বর্তমান। 
তাদের নিষ্পাপ সরল মুখের দিকে চেয়ে দেখো 
দেখতে পাবে সেথায় তোমার দয়ালকে
আর সেখানেই খুঁজে পাবে প্রাণ। 
এসো বাকী জীবন তাদের নিয়ে আনন্দ করি।
সহায় অসহায় গরীব ধনী শিশুদের মধ্যে কোনও বিভাজন হয় না। শিশু শিশুই। তাদের ভালোবেসে, খাইয়ে, তাদের দিয়ে যে মজা, 
যে তৃপ্তি, যে আনন্দ সে ভালোবাসা, সে মজা, সে তৃপ্তি, সে আনন্দ
বৃথা ও সময় অন্য কোথাও খোঁজা।
শিশুদের বাদ দিয়ে স্বয়ং জীবন্ত ঈশ্বরকে ভালোবেসে, 
খাইয়েও নেই সে মজা।
শিশুরা সব লিটল ঈশ্বর! লিটল অনুকূল! 
যে শিশুদের ভালোবাসে সে জীবন্ত ঈশ্বর অনুকূলকে ভালোবাসে।
সে থাকে বিন্দাস যতই আসুক জীবনে সময় প্রতিকূল। 
যে শিশুদের ভালোবাসে না সে জীবন্ত ঈশ্বর রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ, যীশু, মহম্মদ, মহাপ্রভু, রামকৃষ্ণ ও ঠাকুর অনুকূলকে ভালোবাসে না। 
আর যে জীবন্ত ঈশ্বরকে ভালোবাসে না সে শিশুদের ভালোবাসে না, ভালবাসতে পারে না। 
তা সে যতই বহিঃরঙ্গে জীবন্ত ঈশ্বর প্রেমিক বা শিশু প্রেমিক হ'ক। 
সে ঈশ্বর বা শিশু প্রেম ভন্ডামি, লোকদেখানো স্বার্থসিদ্ধির চালাকি। যে জীবন্ত ঈশ্বরকে ভালোবাসে, জীবন্ত ঈশ্বরে সমর্পিত যার প্রাণ 
সে শিশুদের ভালোবাসবেই বাসবে; ভালো না বেসে পারে না। 
শিশু অন্ত তাদের প্রাণ। 
শিশুদের মধ্যেই তারা তাঁদের আরাধ্য জীবন্ত ঈশ্বরকে অনুভব করে। জীবন্ত ঈশ্বরের প্রতি শর্তহীন তীব্র অটুট, অচ্যুত, অস্খলিত ভালোবাসা তাদের এমন শিশু প্রেমিক ক'রে তোলে। 
প্রকৃত জীবন্ত ঈশ্বর প্রেমিক প্রকৃত শিশু প্রেমিক 
তথা মানব প্রেমিক হ'য়ে ওঠে। 
তখন তাদের প্রাণ প্রেমময়ের স্পর্শে প্রেমময় প্রাণময় হ'য়ে ওঠে। অনেকে আছে মানুষে অরুচি পশু পাখি প্রেমে মাহির! 
অন্তরে নেই প্রেম ভালোবাসা ঝলমলে বাহির! 
সৎসঙ্গী বন্ধু! তুমি তেমন হয়ো না। 
তুমি যে ঠাকুরের সোনার সৎসঙ্গী! 
হে সৎসঙ্গী! ঠাকুর সৎসঙ্গীদের সোনার সৎসঙ্গী বলতেন। 
তুমি রেখো তাঁর মান।
( লেখা ২৫শে এপ্রিল'২৩ )

কবিতাঃ তুমি আমার-------

তুমি আমার প্রাণে তবে কেন শান্তি নেই মনে!?
তুমি আমার ঘরে তবে আমায় ভয় কেন ঘেরে!?
তুমি আমার সখা তবে আনন্দ কেন দেয় ধোঁকা!?
তুমি আমার সব তবে কেন মনে হয় আমি শব!?
তুমি আমার প্রাণ তবে করে কেন প্রাণ আনচান!?
তুমি আমার সব জানো তবে আমার ভরসা নেই কেন!?
তুমি আমার থাকো মাথায় তবে কেন বলি তুমি কোথায়!?
তুমি আমার আছো শরীরে তবে কেন খুঁজে মরি মন্দিরে!?
তুমি আমার চিন্তায় তবে মরি কেন আমি দুশ্চিন্তায়!?
তুমি আমার সদাই অধরে তবে কেন মন যেতে চায় কন্দরে!?
তুমি আমার বিশ্বাস তবে কেন হানা দেয় মনে অবিশ্বাস!?
তুমি আমার নিঃশ্বাসে-প্রশ্বাসে তবে কেন একাকী অবশেষে!?
কেন দয়াল!? কেন!?!? কেন!?!?!?
( লেখা ২৪শে এপ্রিল'২৩ )

প্রবন্ধঃ বাধাকে বাধ্য কর।

"বাধার জন্যই তো জীবন সুস্বাদু হয় !
আর, বাধাকে বাধ্য যে করতে পারে, সে-ই কৃতকর্মা।" শ্রীশ্রীআচার্য্যদেব।।

আচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদার এই অমৃত কথা জীবন সায়াহ্নে এসে নোতুন ক'রে ভাবতে শেখালো ও প্রেরণা দিল। অফুরন্ত জীবনী শক্তির সন্ধান দিয়ে গেলেন শ্রীশ্রীআচার্যদেব। বাধা পেতে পেতে যখন মানুষ বিপর্যস্ত, বিধ্বস্ত, ক্ষতবিক্ষত ঠিক তখনি এক ঝলক দখিনা বাতাসের মতো জীবনকে জুড়িয়ে দিয়ে গেল এই অমৃত বাণী। আবার উত্তপ্ত হৃদয়ের কারও কারও মনে হ'তে পারে এ যেন কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে।
আজ সময়ের কষাঘাতে মানুষ ক্লান্ত, বিধ্বস্ত। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণেই হ'ক কিম্বা সামাজিক-রাষ্ট্রিক ব্যবস্থার কারণেই হ'ক মানুষ আজ ভালো নেই। ভালো থাকার অভিনয় ক'রে বেড়াচ্ছে ঘরে-বাইরে। যদিও মানুষ প্রকৃত ভালো থাকতে চায় না। শুধু মদের নেশার মত সাময়িক হৈ হুল্লোরবাজির মধ্যে দিয়ে ভালো থাকতে চায়, আনন্দে থাকতে চায়। নেশা কেটে গিয়ে নকল আনন্দ শেষ হওয়ার মত হুল্লোরবাজি শেষ, ভালো থাকাও শেষ। আবার সেই হ্যাঙ ওভার।
জীবনে প্রাপ্য বস্তু তা সে যুক্তিযুক্ত হ'ক বা না হ'ক তা না পেতে পেতে মানুষ ভিতরে ভিতরে আজ ক্ষিপ্ত। অসহিষ্ণুতা, না ক'রে পাওয়ার বুদ্ধি, চটজলদি ও সীমাহীন অতিরিক্ত প্রত্যাশা, অব্যবস্থা, হিংসা ইত্যাদি নানাভাবে নানারূপে বাধা তা সে নিজের কারণে হ'ক বা অন্যের কারণেই হ'ক মানুষের জীবনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলার পথে এসে দাঁড়িয়ে মানুষকে অতিষ্ঠ ক'রে তুলছে। আর সেখান থেকে সৃষ্টি হচ্ছে জমাট বাঁধা চাপা ক্ষোভ, জন্ম নিচ্ছে মানসিক ও শারীরিক বিকৃতি। তৈরি হচ্ছে পারিবারিক ও সামাজিক অশান্তি। মানুষ কাজে সফল হ'তে পারছে না নানা কারণে। তার মধ্যে সবচেয়ে প্রকট যে মুখ্য কারণ তা হ'লো সরকারী প্রশাসনিক চূড়ান্ত সীমাহীন লাগামছাড়া উচ্ছৃঙ্খল বিশৃঙ্খল অব্যবস্থা। সফল হ'তে পারছে না মানুষ নিজের চারিত্রিক ত্রুটির কারণে। জৈবি সংস্থিতিতে এত অব্যবস্থা যে মানুষ কিছুতেই সফলতার স্বাদ পাচ্ছে না। ফলে মানুষ আজ যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। সুক্ষ্ম বোধ, তীক্ষ্ণ অনুভূতি হারিয়ে গেছে মানুষের জীবন থেকে। আর যাদের আছে তারা এই ক্ষমতাকে মূলধন ক'রে মানুষের মাঝে ক'রে চলেছে চরম ভন্ডামি নিজের স্বার্থ পরিপূরণের জন্য। ফলে জীবনীয় অক্সিজেনের অভাবে মানুষ আজ হ'য়ে আছে জ্যান্তমরা।
ঠিক এইসময় আচার্যদেবের " বাধার জন্যই তো জীবন সুস্বাদু হয় !
আর, বাধাকে বাধ্য যে করতে পারে, সে-ই কৃতকর্মা।"--- এমন বাণী নানারকম প্রশ্ন তুলে দেয় মানুষের মনে। সত্যিই কি বাধার জন্য্ জীবন সুস্বাদু হয়!? এ এক আজব কথা! বাধা যেখানে জীবনকে অস্থির ক'রে তুলছে, পুড়িয়ে খাক ক'রে দিচ্ছে, ক'রে তুলছে বিস্বাদ সেখানে কেমন ক'রে বাধা জীবনকে সুস্বাদু ক'রে তোলে!? এ তো পাগলের প্রলাপ!?
আমরা যারা সৎসঙ্গী তাদের প্রত্যেকের ভিতর ঠাকুরের কাছে একটা ভীষণ তীব্র প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আর এ প্রত্যাশা উচ্ছৃঙ্খল, বিশৃঙ্খল প্রত্যাশা, নিজের মনের মতো পাওয়ার প্রত্যাশা, ফোকটে, না ক'রে পাওয়ার প্রত্যাশা, সস্তায় পাওয়ার প্রত্যাশা, পরিশ্রম বিহীন প্রত্যাশা, চটজলদি পাওয়ার প্রত্যাশা, অবাস্তব প্রত্যাশা।
প্রথমে বুঝতে হবে, মাথায় রাখতে হবে আমরা কেউই পারফেক্ট নই। আর পারফেক্ট শুধু না; জন্মজন্মান্তরের ভুল, অনভ্যাস, বদভ্যাস, কুসংস্কার, অনিয়ন্ত্রিত জীবনের ধারা, বিভিন্ন প্রজাতির রক্তের মিশ্রণ, নিজের ত্রুটি, নিজের দোষ, নিজের ভুল ইত্যাদিকে লুকিয়ে রাখার প্রবণতা, স্বীকার না করার মতো ব্যভিচারী চরিত্র আমাদের পারফেক্ট হওয়ার পথে ভয়ঙ্কর বাধা।
আমাদের যে প্রত্যাশা পূরণ হয় না তার পিছনে তো নিশ্চয়ই কিছু কারণ আছে, নাকি? তা, আমরা প্রত্যাশা পূরণের আগে কিম্বা পূরণ না হওয়ার জন্য নিজের স্বভাব, চরিত্র, বদভ্যাস ইত্যাদিকে চিহ্নিত করতে পেরেছি কিনা, প্রত্যাশা যুক্তিযুক্ত কিনা, প্রত্যাশা পূরণের জন্য যা যা করণীয় তা আমি গভীর নিষ্ঠায় সঠিকভাবে করছি কিনা, প্রত্যাশা পূরণের জন্য নিজেকে তৈরি করছি কিনা, প্রত্যাশা পূরণের জন্য সামাজিক, রাষ্ট্রিক, প্রশাসনিক, পারিবারিক পরিবেশ সহায়ক কিনা, প্রত্যাশা পূরণের পথে যে যে বাধা আসতে পারে, কার দিক থেকে, কোন দিক থেকে তা আসতে পারে সে সম্পর্কে আমার ধারণা আছে কিনা, বাধা আমি নির্ধারণ করতে পারছি কিনা, তার মোকাবিলায় আমি শারীরিক, মানসিকভাবে প্রস্তুত কিনা, আমি ঠাকুরের দীক্ষিত আমার ঠাকুরের প্রতি গভীর বিশ্বাস ও নির্ভরতা আছে কিনা, ঠাকুরের জন্য, ঠাকুর ও ঠাকুরের স্বার্থ প্রতিষ্ঠার জন্য আমি নিজেকে নিজের বৃত্তি-প্রবৃত্তির উর্ধ্বে তুলে ধরতে পেরেছি কিনা বা পারছি কিনা, বৃত্তি ভেদী টানে ঠাকুরকে ভালবাসতে পেরেছি কিনা বা পারছি কিনা ইত্যাদি নানা অপ্রিয় প্রশ্নকে যদি অস্বীকার করি, আমার মনের মতো নয়, আমার বৃত্তি-প্রবৃত্তিকে পোষণ না দিয়ে বৃত্তি-প্রবৃত্তির ল্যাজে পা পড়ছে এমন বিরক্তিকর প্রশ্নের থেকে যদি চোখকে সরিয়ে রাখি, নিজের ঝুলে ভরা ত্রুটিকে যদি প্রশ্রয় দিই তাহ'লে এ জীবনে কেন হাজারবার জন্মালেও, ঠাকুর অনুকুলচন্দ্রের কোলে বসে থাকলেও আমার প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার যে যন্ত্রণা সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি ঘটবে না। জীবনের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিদিনের এ সমস্ত বাধাকে আমার নিজের চরিত্র সংশোধনের মধ্যে দিয়ে, প্রায়শ্চিত্তের মধ্যে দিয়ে, কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে মোকাবিলা ক'রে বাধাকে অতিক্রম ক'রে ইপ্সিত বস্তুকে লাভ করতে হবে। শারীরিক, মানসিক, আত্মিক সব দিক দিয়েই প্রস্তুত হ'তে হবে বা থাকতে হবে। অন্যথায় প্রাপ্তির ঘর শুধু শূন্যতায় ভরে থাকবে জনম জনম।
বাধার জন্য জীবন সুস্বাদু হয় না এমন কথা যে ভুল তা গভীর উপলব্ধির ব্যাপার আর সেই উপলব্ধি হয় কর্মযোগের মাধ্যমে, আর ইষ্টকে বাদ দিয়ে, ইষ্টের উপস্থিতিকে অস্বীকার ক'রে, ইষ্ট প্রতিষ্ঠাকে উপেক্ষা, অবহেলা ক'রে উদারতার ভঙ্গীতে, মানবতার নামে বা অছিলায় জেনে হ'ক বা না-জেনেই হ'ক যে কর্মযজ্ঞ বা কর্মযোগ তা আত্মপ্রতিষ্ঠার যজ্ঞ বা যোগ, শয়তানী বৃত্তি-প্রবৃত্তিকে প্রশ্রয় দিয়ে যত্নে লালন পালন করার যজ্ঞ বা যোগ। আর যজ্ঞের বা যোগের পরিণতি দক্ষযজ্ঞ।
বাধা জীবনকে সুস্বাদু করার একটা মোক্ষম উপায়। তাই এই মোক্ষম উপায় বাধাকে বাধ্য করার মধ্যে দিয়ে জীবন সুস্বাদু হয়। আচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদার এই যে কথা,
"বাধার জন্যই তো জীবন সুস্বাদু হয়। আর, বাধাকে বাধ্য যে করতে পারে, সে-ই কৃতকর্মা।"
এ যে কতবড় উপলব্ধি তা মুখে ব'লে, লিখে, ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এ ঈশ্বরকোটি পুরুষের উপলব্ধি। এ বোঝে সে, প্রাণ বোঝে যার। ইষ্টকে মাথায় নিয়ে প্রচন্ড কষ্টের মধ্যে দিয়ে, অমানুষিক পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে যে যায় সে তার কর্মে সফল হয়, হয়, হয়। ব্যর্থ সে কখনোই হয়নি, হয়না। এই যে দীর্ঘ কষ্টের রাস্তা, পরিশ্রমের রাস্তা সে যে হেঁটে এসেছে, সফল হয়েছে সেই দীর্ঘ, কষ্ট যন্ত্রণাময় রাস্তায় যে পায়ের ছাপ রয়েছে সেই পায়ের ছাপ তো তার নয়, সে ছাপ তো ঈশ্বরের, কর্মযোগী পুরুষের নয়, তার ইস্টের, দিন দুনিয়ার মালিক পরমপিতার। ঐ যে কথা আছে ভক্তের বোঝা ভগবানে বয়।
কিন্তু কোন ভক্তের বোঝা ভগবানে বয়? প্রহ্লাদরূপী ভক্তের বোঝা ভগবানে বয়। যাকে কোনও বাধা টলাতে পারে না, যাকে গভীর জলে, আগুনে, হাতির পায়ের নীচে, পাহাড় থেকে ফেলে দিলেও পরমপিতার ধ্যান ভঙ্গ হয় না। সেই প্রহ্লাদরূপী ভক্ত হ'লেন বিশ্বজুড়ে বিশাল সৎসঙ্গের কর্ণধার আচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদা। যার কাছে বাধা জীবনকে সুস্বাদু করার মুল মন্ত্র, মহৌষধ। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সৎসঙ্গীর পরম সৌভাগ্য আমরা আমাদের সামনে আচার্যদেবকে পেয়েছি নিখুঁত লক্ষ্যে ঠাকুরের কাছে পৌঁছে যাওয়ার জন্যে।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকুলচন্দ্র হ'লেন নিরাকার ঈশ্বরের জীবন্ত রূপায়ন, মূর্তকরণ, প্রতিরূপ; সাকার ঈশ্বর।
আর, শ্রীশ্রীআচার্যদেব হ'লেন জীবন্ত ঈশ্বরেরর অবর্তমানে জীবন্ত ঈশ্বরের জীবন্ত অভিব্যক্তি, জীবন্ত উদ্ভাস। শ্রীশ্রীঠাকুরকে যারা সরাসরি পায়নি, পাচ্ছে না শ্রীশ্রীআচার্যদেব বাবাইদাদা হ'লেন তাদের কাছে এবং সকল সৎসঙ্গীর কাছেই ঠাকুরের অবর্তমানে ঠাকুরের জীবন্ত প্রকাশ, জীবন্ত প্রতিভাস, জীবন্ত আবির্ভাব, পূর্ণবিকাশ।
SriSriTHakur Anukulchandra is the Living manifestation of GOD. HE is Living Supreme Being, Living Supreme cause, Living Supreme Father. SriSriTHakur Anukulchandra is the Living embodiment of Unseen GOD, i.e SEEN GOD. He is the form, embodied of formless, shapeless, incorporeal; bodiless; un-body GOD.
SriSriAcaryadeb Babaidada is the living manifestation in the absence of the living God, Living Supreme Father, Living Supreme Cause, Living Supreme Being SriSriThakur Anukulchandra.


( লেখা ২৮শে এপ্রিল'২০১৩ )

Monday, June 5, 2023

প্রবি সমাচার ২০

পিতা ও তাঁর সন্তান।

পিতা তাঁর সব সন্তানকেই ভালোবাসেন। তাঁর ভালোবাসার মধ্যে বাছবিচার নেই। হয়তো আব্বা আব্বা, ফাদার ফাদার, ড্যাডি ড্যাডি, পিতাজী পিতাজী, বাবা বাবা ব'লে জপমালা জপতে থাকা পুত্রকন্যাকে নিয়ে একটু বেশী চিন্তা করেন, বেশী ভাবেন আর ঐটাকে আমরা ভাবি বেশী ভালোবাসেন; হয়তো বাসেন। কারণ পিতার দুশ্চিন্তা সবচেয়ে বেশী ঐ বেকুব পুত্রকন্যার জন্য, বেকুব পুত্রের, বেকুব কন্যার শেষের সেদিন ভয়ঙ্করের জন্য পিতার কান্না, কষ্ট বেশী। কারণ পিতা তাত্ত্বিক আমেজে ডুবে থাকা ভাবের ঘুঘু কর্ম্মহীন পুত্রকন্যার মধ্যে জীবিত নেই এটাই পিতার অন্তহীন যন্ত্রণা। পিতা তাঁর সব পুত্রকন্যাকেই ভালোবাসেন। সমান ভালোবাসেন। তাঁর ভালোবাসায় কখনও কোনও খামতি থাকে না। থাকে না পক্ষপাতিত্য। কিন্তু পিতা পুত্রকে কন্যাকে ভালোবাসলে কি হবে? কি লাভ? পুত্রকন্যা কি পিতাকে ভালোবাসে? ভালোবাসে তাঁর চলনকে। তাঁর ইচ্ছাকে? পুত্রকন্যা কি পিতার মনের বাসনা কি, পিতা কি চায় তাদের কাছে তা জানে? পুত্রকন্যা তো নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত, ব্যস্ত নিজের কর্মহীন স্বপ্নের জগতের মধ্যে, অলীক মায়ার মাঝে! পিতার দিকে তাদের তাকাবার সময় নেই, সময় নেই পিতার কথা শোনার। এমনিভাবেই দিনে দিনে এক জড় পদার্থে পরিণত হ'য়ে দুঃখকষ্টের জগতের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে পুত্রকন্যা। আর সেই অন্তহীন মৃত্যুর পথে অন্ধের মত ছুটে চলা পুত্রকন্যার দিকে তাকিয়ে চোখের জল ফেলে চলেছেন পিতা! সেই পুত্রকন্যা ভাবছে পিতা আমাদের মধ্যে আছে, জীবিত আছে।
পিতা জীবিত আছে তাঁর কর্ম্ম পাগল পুত্রকন্যার মধ্যে, জীবিত থাকে সেই পুত্রকন্যার মধ্যে যে পিতার চরণ পুজোর পরিবর্তে পিতার চলন পুজোর কথা বলে চলেছে নিরন্তর বুক ফাটো ফাটো ক'রে, নিজে পিতার চরণ পুজো ক'রে এসেছে অকপটভাবে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত এবং পিতার ইচ্ছা অনুযায়ী সবাইকে সেই শিক্ষায় শিক্ষিত ক'রে তুলেছে ও তুলছে জীবনভর। পিতা জীবিত থাকেন সেই পুত্রকন্যার মধ্যে নিরন্তর।
মনে পড়ে গেল বিশ্বের বিস্ময় সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ছড়াঃ
"কর্ম্ম নাই চিন্তা সৎ
পাথর পেছল নরক পথ।"
"চলনহারা চরণ পূজা
বন্ধ্যা পূজা সে জানিস।"
তাই আসুন অকপটভাবে পরমপিতার কর্ম্ম করার মধ্যে দিয়ে ,তাঁর ইচ্ছা পূরণ করার মধ্যে দিয়ে তাঁকে আমাদের জীবনে, আমাদের পরিবারে জীবিত রাখি। আর ঘরকে ক'রে তুলি স্বর্গ! আর নিজের জীবনকে করি তাঁর পূজার বেদী। তখন আর নেই কোনও ভয়, মহাভয়, নেই কোনও দুঃখ কষ্ট নারকীয় জীবন যন্ত্রণা।
( লেখা ৫ই জুন' ২০২১)

Saturday, June 3, 2023

প্রবি সমাচার ১৯

ঈশ্বর ও মানবতা।

গল্পটা চোখে পড়লো। ভালো লাগলো, সঙ্গে একটা খটকা লাগলো মনের মাঝে। তাই লেখাটা পড়ে মনের মধ্যে লাগা খটকা একবার খোলা মনে বিশ্লেষণ ক'রে লেখার মধ্যে দিয়ে মেলে ধরলাম নিজের কাছে। 
"গল্পটা হচ্ছে বাবা তার ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে মন্দিরে গেছে। মন্দিরে প্রবেশ পথের দু'দিকে দু'টো পাথরের সিংহ দেখে ভয় পেয়ে যায়। সে কিছুতেই সেই মন্দিরে প্রবেশ ক্রতে চায় না। তাই তার বাবা তাকে বলে যে, ঐ দু'টো পাথরের তৈরী সিংহ, ওরা কোনও ক্ষতি করতে পারে না। তখন সেই কথা শুনে মেয়েটি তার বাবাকে বলে যে, পাথরের তৈরী সিংহ যদি কোনও ক্ষতি করতে না পারে, তাহ'লে পাথরের তৈরী ঈশ্বর কিভাবে আশীর্ব্বাদ দেবে? উত্তর শুনে বাবা আর কিছু বলতে পারলো না। পরে সেই ঘটনা সে ডায়রিতে লিখে তার নীচে লিহে রাখলো, আমার মেয়ের উত্তরে আজও আমি বাক্রুদ্ধ। সেদিন থেকেই আমি মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরকে খুঁজেছি, পাথরের মূর্তিতে নয়। কিন্তু আজও আমি ঈশ্বর খুঁজে পাইনি, পেয়েছি মানবতা।" 

বাঃ!!!!! অপূর্ব!!!!!! শেখার আছে। "সেদিন থেকে আমি মানুষের মধ্যেই ঈশ্বর খুঁজেছি, পাথরের মূর্তিতে নয়।"------ এই পর্যন্ত শেখার আছে। কিন্তু তারপরে আছে অসম্পূর্ণতা।

তারপরে কি আছে? তারপরে আছে, "আমি ঈশ্বর খুঁজে পাইনি, পেয়েছি মানবতা।"
এইখানেই অসম্পূর্ণতা! এইখানেই উদারতার ভঙ্গি! এইখানেই তাত্ত্বিক আমেজে ডুবে থাকা! এইখানেই লোকদেখানো ভাবালুতা! এইখানেই ভালো মানুষ সাজার প্রবণতা! এইখানেই অজ্ঞানতা! এইখানেই মিথ্যের বেসাতি! এইখানেই বেঈমানি! এইখানেই অস্বীকার! এইখানেই ভন্ডামি! এইখানেই কপটতা! এইখানেই নেমকহারামি! এইখানেই নরক!!!!!!
ঈশ্বর আর তথাকথিত মানবতা এক নয়। ঈশ্বর আর মানবতা সমার্থক! ঈশ্বরকে খুঁজে পাওয়া হাতের মোয়া নয় ঠিক তেমনি মানবতাও সস্তা বাজারি শব্দ মাত্র নয়! ঈশ্বর ঈশ্বর ক'রে চিৎকার করলেই ঈশ্বর এসে ধরা দেবেন আর মানবতা মানবতা ক'রে বাজার গরম করলেই মানবতা প্রকট হ'য়ে উঠবে তা নয় কিন্তু। এটা যেন আমরা ভুলে না যাই, জনম জনম সাধনা ক'রেও ঈশ্বরকে খুঁজে পায়নি কত তথাকথিত সাধক, মুনি, ঋষি, সন্ন্যাসী!!!! আর অনেক অনেক অ-নে-ক পূর্ব জন্মের সুকৃতি না থাকলে তথাকথিত মানবতা নয় মানবতার প্রকৃত আসল রূপ ঈশ্বরকে মানুষের মধ্যে মানুষ রূপে খুঁজে পাওয়া যায় না। ঈশ্বর আমার বাপের চাকর বা পৈত্রিক সম্পত্তি নয় যে চাওয়া মাত্র, ডাকা মাত্র, তুড়ি দেওয়া মাত্র এসে হাজির হবে আমার সামনে। কঠিন ভয়ংকর পরীক্ষায় ফেলে নিরখ পরখ ক'রে দেখে নেবে, চিনে নেবে, বাজিয়ে নেবে ঈশ্বর নিজের মালকে নিজে! এখানে ভায়ার কোনও ব্যাপার নেই। এর জন্যে প্রস্তুত থাকতে হবে ভক্তকেই।
প্রকৃত মানব প্রেমিক যে সে ঈশ্বরকে খুঁজে পাবেই পাবে মানুষের মাঝে। ঈশ্বর অনেকবার মানুষ রূপে মানুষের মাঝে এসেছেন, লীলা করেছেন আবার চলে গেছেন চোখের জলে তাঁর সন্তানদের 'আমার কাছে আয়, আমার কাছে আয়' ব'লে ডাকতে ডাকতে কিন্তু বৃত্তি-প্রবৃত্তিতে আপাদমস্তক ডুবে থাকা মানুষ তথাকথিত মানবতার পূজারী তাঁর ডাকে সাড়া দেয়নি, মুখ ঘুরিয়ে থেকেছে, চলে গেছে তাঁকে অবজ্ঞা ক'রে রিপু তাড়িত হৃদয়ে বৃত্তি-প্রবৃত্তির তীব্র টানে অহঙ্কার পূর্ণ আমিত্ব নিয়ে আর পাথরের বা মাটির মূর্তি বা কাগজের ছবির মধ্যে ঈশ্বরকে পুজো করেছে নিজের, শুধুমাত্র নিজের কামনা বাসনাকে, চাহিদাকে পূরণ করবার জন্যে কিছু না ক'রে পাওয়ার তাগিদে।
আর কেউ কেউ উদারতার ভঙ্গিতে তথাকথিত মানবতার ঢাক পিটিয়ে মানবতা মানবতা ব'লে তাত্ত্বিক আমেজে ডুবে থেকে ভন্ডামির ঢেঁকুর তুলে নিজেকে ঈশ্বরের প্রকৃত পূজারী ব'লে ঘুরিয়ে সেই আকাশের অমূর্ত ভগবানকেই প্রতিষ্ঠা দিতে সচেষ্ট থেকেছে। সেজেছে রঙচঙে সাধু!
তাই মানুষ রূপে মানুষের মাঝে ঈশ্বর জীবন্ত রক্তমাংস শরীরে থাকা সত্ত্বেও মেয়েটির বাবা ঈশ্বরকে খুঁজে পায়নি কারণ বাবা মেয়ের কাছে জ্ঞানী মহান সাজতে চেয়েছিল! কারণ মেয়ের মহামূল্যবান প্রশ্নের প্রকৃত, সঠিক, নির্ভুল, নিখুঁত উত্তর দেওয়া বাবার পক্ষে সম্ভব ছিল না। কারণ বাবার সেই আধার ছিল না মেয়ের সেই গূঢ় প্রশ্নের জবাব দেয়। আর জীবন্ত ঈশ্বরের কাছে আছে চরিত্র গঠনের মরকোচ! ফুল বেলপাতা চন্দন ইত্যাদি দিয়ে জীবন্ত ঈশ্বরের পুজো হয় না অমূর্ত ঈশ্বরের মত। জীবন্ত ঈশ্বরের পূজোর উপকরণ ভক্তের জীবন, ভক্তের চরিত্র! অমূর্ত ঈশ্বর অর্থাৎ পাথরের ঈশ্বর, মাটির ঈশ্বর বা ছবির ঈশ্বরের সামনে ওসব সুন্দর পবিত্র জীবন, চরিত্র ফরিত্র উপকরণের দরকার পড়ে না, ওসব বকোয়াস! ফুল, বেলপাতা, ধূপ, ধূনো, প্রদীপ, কাঁসর, ঘন্টা, ঢাক ঢোল, ভুল উচ্চারণে উৎকট কন্ঠে মন্ত্র পাঠ, পাঁঠাবলি, মোষবলি, আলোর ঝলকানি, মাইকের চিৎকার ইত্যাদিই অমূর্ত ঈশ্বর বা পাথর, মাটি দিয়ে তৈরী বা কাগজে আঁকা ঈশ্বর পূজোর উপকরণ! তাই মেয়েটির বাবা নিজের কাছে 'ঈশ্বর খুঁজে পাইনি' ব'লে পাশ কাটিয়ে মানবতার দোহাই দিয়ে মহান সাজতে চেয়েছে।
এরকম ধর্ম্মের ধ্বজা ওড়াবার বা ঈশ্বর আরাধনার আনাড়ি ভন্ড পুজারী যারা তাঁরা কোনোদিনই ঈশ্বরকে খোঁজেনি। উপরন্ত তারা ঈশ্বরকে আয়ের আর সমাজে আত্মপ্রতিষ্ঠার মজবুত উপকরণ বানিয়ে মৌরসি পাট্টা সাজিয়ে বসেছে। আর ঈশ্বর নেই, ঈশ্বর নেই ব'লে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে মানবতার ধ্বজা উড়িয়ে রক্তমাংসের মানুষ রূপে মানুষের বাঁচা ও বাড়ার প্রকৃত পথ, সত্য পথ, সঠিক নিখুঁত ও নির্ভুল পথ দেখাবার জন্য নেবে আসা ঈশ্বরের পথকে করেছে অবরুদ্ধ। আর সাধারণ মানুষ, ভাঙাচোরা মানুষ, বেকুব মানুষ, সরল সাদাসিধা মানুষ, মূর্খ মানুষ এদের কথায় বিশ্বাস ক'রে জীবন্ত ঈশ্বরকে করেছে, করছে অস্বীকার আর নিজেদের জীবনকে ক'রে তুলেছে ও তুলছে তীব্র সংকটময়।

আর তথাকথিত মানবতার ধ্বজাধারীদের জন্য শেষের সেদিন ভয়ংকর!








টেবিল টক।

আমার বিভিন্ন লেখা বিভিন্ন প্রোফাইল ও পেজে শেয়ার ও কপি পেষ্ট হ'য়ে চলেছে। যারা যারা আমার লেখা শেয়ার ও কপি পেষ্ট করেছেন তাদের সকলকেই আমার আন্তরিক ধন্যবাদ। লেখক হিসেবে নিজেকে ধন্য মনে করছি। এই শেয়ার ও কপি পেষ্ট করার মধ্যে অনেকে আছেন যারা আমার বন্ধু তালিকায় নেই অথচ তারাও আমার লেখা শেয়ার বা কপি পেষ্ট করেছেন! আমি সত্যিই মুগ্ধ ও আনন্দিত! এর মধ্যে দিয়ে এটাই প্রমাণিত যে ভালো লাগার কোনও সীমানা নেই! এমনিভাবেই আসুন হাতে হাত রেখে প্রকৃত বন্ধু হ'য়ে উঠি, হ'য়ে উঠি মানুষ অর্থে মানুষ, প্রমাণ করি আমরা সত্যি সত্যিই সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি! আর যারা আমার বন্ধুর মধ্যে সৎসঙ্গী গুরুভাইবোন আছেন আসুন আমরা প্রকৃত সৎসঙ্গী হ'য়ে উঠি, হ'য়ে উঠি ঠাকুরের মনের মতন। ঠাকুর যা চেয়েছিলেন তা বোঝার, জানার ও বাস্তবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি। আমরা কেউ চিরদিন থাকবো না, জীবন ছোট, একদিন হুট ক'রে চলে যাবো! আসুন ঠাকুরের কথা মত একবার ভেবে দেখি, 'কেন তুমি জন্মেছো!?' আজ সময় এসেছে-----যদিও অনেক দেরী হ'য়ে গেছে ও যাচ্ছে-----সত্যকে তুলে ধরার। মানুষ হিসেবে এবং সৎসঙ্গী ও একজন গুরুভাই হিসেবে লাইক আর জয়গুরু স্টেজ পার হ'য়ে আমাদের সময় এসেছে প্রাত্যহিক জীবন থেকে একটু সময় বের ক'রে নিয়ে একটু আলোচনার টেবিলে বসার, আলোচনা করার, পারস্পরিক মত বিনিময় করার, সত্যকে জানার জন্য আন্তরিক সচেষ্ট হওয়ার! আসুন আলোচনার টেবিলে বসি, যে যে মতের বিশ্বাসী ও অনুসারী হ'ই না কেন পারস্পরিক আলোচনা করি, মত বিনিময় ক'রে নিজেকে সমৃদ্ধ করি। সবার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল প্রার্থনা করি।--------প্রবি।
( লেখা ৩রা জুন'২০২০ )