Powered By Blogger

Saturday, July 5, 2025

বিচিত্রা ১৬৪

ঠাকুর আছে তাই তুমি আছো, আমি আছি!
ঠাকুর নেই তুমিও নেই, আমিও নেই, কেউ নেই কোথাও;
চারিদিকে শুধু অন্ধকার, অন্ধকার, ঘোর অন্ধকার!

সৎসঙ্গে কেন আসি? কার জন্য বা কিসের জন্য আসি? 
প্রসাদের জন্য আসি নাকি ঠাকুরের জন্য আসি!?
( লেখা ৫ই জুলাই'২০১৯)


আনন্দ ধারা দেখো বহিছে ভুবনে
যত পারো লুটে নাও ক্ষণিকের এই জীবনে।
আনন্দ আছে জেনো লুকিয়ে ভালোবাসার ভিতরে
ভালোবাসাহীন আনন্দ জেনো মৃত্যু শিয়রে।

জীবনের চলার পথের সমস্ত সত্য, সমস্ত সমস্যার সমাধান যেখানে লিপিবদ্ধ সেই ছোট্ট পকেট বুক; শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের শ্রীহস্ত লিখিত গ্রন্থের নাম "সত্যানুসরণ" অর্থাৎ সত্যকে অনুসরণ। এই সত্যকে অনুসরণ করার কথা যে ছোট্ট গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা আছে সেই পুস্তককে আমি বলি 'টেনশন ফ্রী ট্যাবলেট' পুস্তক। যে ট্যাবলেট খেলে অর্থাৎ পড়লে মলিন মুখে ফুটে ওঠে নির্মল হাসি, মনে জাগে আশার আলো, শরীরে জাগে ফুর্তি ও হাতির বল, কেটে যায় সমস্ত টেনশন। সেই পুস্তক ও পুস্তক রচয়িতাকে আমার সশ্রদ্ধ কোটি কোটি প্রণাম। আর এই সত্য হলেন,শ্রীশ্রীঠাকুর স্বয়ং।
( লেখা ৫ই জুলাই'২০২২)






কবিতা; গু'য়ে দা।

গু'য়েদাকে মনে পড়ে, মনে পড়ে সেদিনটা।
ছোটোবেলার দিনগুলি, ঘুড়ি লাটাই ডাংগুলি,
কাদাজলে হুড়োহুড়ি; ভাগারেতে দৌড়াদৌড়ি,
গুয়ে পড়ে দৌড় লাগায় গু লাগা ল্যাংটা!!

কৈশোরের সেই দিন পার হ'য়ে অবশেষে
যৌবনেতে এসে শুনি হ'য়ে গেল গু'য়ে দা,
হাসিখুশি খোলামন দিলদার অনুক্ষণ
ছুঁয়ে ছুঁয়ে চলে যেত সে সবার হৃদয়টা।

দিন শেষে আছে পড়ে মনের মণি কন্দরে
কাটা ঘুড়ি, কাড়াকাড়ি, কিল, চড় সেই
ঘুড়ি নিয়ে দাপাদাপি, গুয়ে হ'লো মাখামাখি
আমার 'গুয়ে দা' আজ আর নেই!

( লেখা ৫ই জুলাই' ২০১৭)

উপলব্ধিঃ বুদ্ধিমানের কাজ।

এই থাপ্পড়টা খাওয়ার ভয়ে আমি রথের দড়ি টানা তো দূরের কথা রথের আশেপাশেই যাই না, যাইওনি কোনওদিন। হাজার হাত দূরে থাকি। এটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আমার গাঁয়ে আঁচ না লাগে ফুরিয়ে যাবে মামলা। কে বলতে পারে কখন রথ থেকে জগন্নাথ নেবে আসবে? হঠাৎ যদি খাড়েমারে ঐ গোল গোল ভয়ংকর চখা আঁখি নিয়ে রথ থেকে নেবে এসে কষে একটা থাপ্পড় মারে গালে সবার সামনে, তখন? লজ্জায় অপমানে "দাদা কলসি দড়ি দে, ডুবে মরি রে" ব'লেও কোনও লাভ হবে না; এ লজ্জা, এ জ্বালা তাড়া ক'রে বেড়াবে মৃত্যুর পড়েও জনম জনম তা যতবড়ই আমি দাদা হ'ই না কেন, তাঁর সঙ্গে তো দাদাগিরি চলবে না, থাপ্পড় খেয়ে মুখ নীচু ক'রে লজ্জায় চ'লে আসতে হবে মানে মানে আরও অসম্মান হওয়ার থেকে বাঁচতে। ঐ বিরাশী সিক্কার থাপ্পড়ের জ্বালা আর দাগ মুছতে লেগে যাবে বাকী জীবনটা ঘরের মধ্যে মুখ লুকিয়ে ব'সে থেকে, যদি কেউ গালের দাগটা, থ্যাবড়ানো গালটা কেউ দেখে ফেলে এই লজ্জায়, এই ভয়ে। আর ঐ ভয়ংকর চখা আঁখি আর তাঁর বিরাশী সিক্কার থাপ্পড় ঐ ডাবল অ্যাকশান টুথ ব্রাশ দিয়ে ঘষা খাওয়ার পর শালা ছাল চামড়া আর কিছু থাকবে না শুধু কঙ্কালটা ছাড়া। আর কঙ্কালটায় গালের অংশটা দুমড়ে মুচড়ে আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না। এখন পাঠক বলতেই পারে, আরে বাবা, আপনাকে মারতে যাবে কেন? আপনি কি করেছেন? কথাটার উত্তরে বলতে পারি, অতশত জানি না বাবা, দিনকাল খারাপ, কখন শালা উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চেপে যাবে তার ঠিক কি? আর যদি চেপে যায় নাও শালা এবার ঠালা সামলাও। তখন তো পাঠক আপনি দূরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বাদাম ভাজা খাবেন যেন কিছুই দেখতে পাননি এমন ভাব নিয়ে আর হুলো বিড়ালের মতন ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানেন না হাবভাব নিয়ে। আর বাদাম ভাজা খেতে খেতে মুচকি মুচকি শয়তানী হাসি হাসবেন। তার থেকে দূরে থাকায় ভালো।

তাই, রথের মেলার পোড়া তেলের পাপড় ভাজা আর রসহীন শুকনো জিলিপি খাওয়ার ইচ্ছা ও লোভ থাকলেও মুখ গুঁজে পড়ে থাকি ঘরের কোণে; বের হ'ই না। ঐ চখা আঁখিকে আমার বড় ভয়। ভাগ্যিস শালা নিম কাঠে আবদ্ধ হ'য়ে রইলো ঐ হাত কাটা জগন্নাথ তাঁর চখা আঁখি নিয়ে। নইলে ঐ একনম্বরী চখা আঁখি দাদার সামনে দেশজুড়ে দু'নম্বরী থেকে দশনম্বরী দাদাদের দাদাগিরি ছুটিয়ে দিত ---- লাথি মেরে ফাটিয়ে দিয়ে। ভালোই হয়েছে জগন্নাথদা নেবে আসে না রথ থেকে নীচে। ঐ রথের ওপর থেকে চোখ ফাঁড় ফাঁড় ক'রে বিস্ফারিত চোখে চেয়ে থাকে নীচে রাস্তার দিকে লোকেদের বালখিল্য ভক্তির ধ্যাস্টামো। আর, চোখ ফেটে বেরিয়ে আসতে চায় চোখের মণি। ঐ চোখ দেখলেই বোঝা যায়, এটা বুঝতে অসুবিধা হয় না। এটা অনুভবের ব্যাপার। আমি জানি, হাত নেই পা নেই জগন্নাথ না পারবে হাত দিয়ে রথকে থামাতে, না পারবে পা দিয়ে লাথি মেরে রথের ওপর থেকে তাঁর রথে চড়ে বসা অনাহূতদের ফেলে দিয়ে নেবে আসতে। তবুও আমি রিস্ক নিতে পারবো না। মাথায় থাক আমার জগন্নাথ দর্শন, মাথায় থাক আমার রথযাত্রা, মাথায় থাক আমার রথের দড়ি ধরা। শালা কখন ঐ মোটা দড়ি সাপের মত গলায় পেঁচিয়ে যাবে তার ঠিক কি? মাথায় থাক আমার পাপড় ভাজা আর জিলিপি খাওয়ার লোভ। চাচা আপন প্রাণ বাঁচা। আমার গাঁয়ে আঁচ না লাগে ফুরিয়ে যাবে মামলা। সাবধানের মার নেই। সাধু সাবধান!
( লেখা ৫ই জুলাই'২০২৪)


 


বিচিত্রা ১৬৩

বিয়োগ অংকে দক্ষ তুমি
যোগে করো ফেল!
বিয়োগে আছে একাকীত্ব, নিঃসঙ্গতা বন্ধু!
যোগে দেখায় খেল!!

জগন্নাথ-ই জীবননাথ,
জীবননাথ-ই শ্রীরাম!
শ্রীরাম আসেন বারেবারে বন্ধু!
জীবননাথ বিনা জগন্নাথে নেই আরাম!!

সারাটা জীবন একসঙ্গে কাটাতে হবে
এটা নাকি ভীষণ চাপ!!
দাম্পত্য জীবনের শুরুতেই জনপ্রতিনিধি
নুসরতের একি মনোভাব!!!

হে বীর! উন্নত তব শির!
উদ্যত তব কৃপাণ!
যদি ইয়েস ম্যান আর
না'হয় তোমার মতের ফ্যান,
করো তারে ভ্যানিস চিরতরে
জাতের নামে ক'রে বজ্জাতির সুরা পান!!
( লেখা ৪ই জুলাই, ২০১৭)

রাত পোহালেই দিন আর
দিন শেষ হলেই রাত।
পায়ে পায়ে ভাই চলছে জগৎ!

জগত ফুটবল! ফুটবল জগত!
মার লাথ! মার লাথ!!
কেয়াবাত! কেয়াবাত!!
( লেখা ৪ই জুলাই, ২০১৯)

Friday, July 4, 2025

উপলব্ধিঃ ভোগ ও মহাভোগ! প্রসাদ ও মহাপ্রসাদ!

কোনটা কি? কোনটার জন্য সৎসঙ্গে আসি?
ভোগ বা প্রসাদ অর্থাৎ বাতাসা, মিষ্টি ইত্যাদি ঠাকুরকে যা নিবেদন করা হয় তাই আর মহাভোগ বা মহাপ্রসাদ ঠাকুরের কথা! ভোগ বা প্রসাদের লোভে যেন আমরা সৎসঙ্গীরা সৎসঙ্গে না আসি বা যাই। মহাভোগ বা মহাপ্রসাদের জন্য বা লোভে যেন আমরা সৎসঙ্গে যাই বা আসি। ভোগ বা প্রসাদ রসনা তৃপ্ত করে আর মহাভোগ বা মহাপ্রসাদ অপূর্ণ জীবন পূর্ণ করে, জীবনের তৃষ্ণা মেটায়, জীবনকে পথ দেখায়, জীবনের ভুল দেয় শুধরে, জীবনের অন্ধকার দূর ক'রে জীবনকে ঝলমলে ক'রে তোলে। সৎসঙ্গ একটা সান্ধ্য স্কুল, আর সেই স্কুলে ক্লাস হয় দু'ঘন্টার। সেখানে গান বাজনার সাথে সাথে জীবন নিয়ে ঠাকুরের দর্শন নিয়ে আলোচনা হয়। গানে, কীর্তনে বাজনায় মানুষের অন্তর নেচে ওঠে, উল্লসিত হয়, সমস্ত শিরা উপশিরা তেতে ওঠে, স্নায়ু টানটান হয় আর ঠাকুরের কথায় মানুষের মনপ্রাণ পুলকিত হ'য়ে ওঠে, হতাশা ভরা জীবনে আশার আলো দেখতে পায়, শারীরিক-মানসিক যাতনার অবসান হয়, পথ খুঁজে পায়, ঘোর অন্ধকার মাঝে আলোর সন্ধান পায়, অবসাদ দূর হয়, আশা জাগে, বিশ্বাস জন্মায়, নির্ভরতা আসে, নতুন ক'রে বাঁচার ইচ্ছা হয়, নতুন উদ্যমে আবার ঘুরে দাঁড়াবার শক্তি পায়, বুকের মাঝে যে মহাশক্তি ঘুমিয়ে আছে সৎসঙ্গে আসার ফলে ঠাকুরের মহাপ্রসাদ লাভের মধ্যে দিয়ে সেই শক্তির কথা জানতে পারে, সন্ধান পায়! তাই সৎসঙ্গে এলে মানুষের মঙ্গল হয়, সৎসঙ্গীদের সংস্পর্শে নতুন দিগন্ত খুলে যায়।

সৎসঙ্গ ও তাঁর মহাভোগ বা মহাপ্রসাদ জীবনের অন্ধকারের বুক ভেদ ক'রে আলোর জগতে জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাবার দিশারী। তাই সৎসঙ্গ যেন প্রাণবন্ত হ'য়ে ওঠে, প্রতিটি সৎসঙ্গ-ই যেন বিশেষ সৎসঙ্গ হ'য়ে ওঠে।
সৎসঙ্গে আমরা যারা গান বাজনা ও আলোচনায় অংশগ্রহণ করি তাদের খেয়াল রাখতে হবে গান বাজনা ও আলোচনা যেন প্রাণবন্ত হয়। একঘেঁয়ে ও বিরক্তিকর যেন না হয়। গান আমরা ঠাকুরকে শোনায়। জীবন নিয়ে বলে যাওয়া ঠাকুরের কথা আমরা আলোচনা করি। জীবন কেমন করে সুন্দর হবে, পরিপূর্ণতা লাভ করবে সেই সম্পর্কে তাঁর বলে যাওয়া পথ নির্দেশ আমরা সৎসঙ্গে যারা আলোচনা করি আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা যেন বলবার সময় বক্তা না হ'ই, ভক্ত হ'ই। গানে, কীর্ত্তনে, আলোচনায় মানুষের অন্তর স্পর্শ করে তখনই আমরা যারা গান, কীর্ত্তন, আলোচনা করি আমাদের অন্তরে যখন তিনি বিরাজ করেন। এটা যেন আমরা মনে রাখি ঠাকুর স্বয়ং উপস্থিত থাকেন সৎসঙ্গে। উপস্থিত থাকেন শ্রীশ্রীবড়মা, শ্রীশ্রীবড়দা, আচার্যদেব শ্রীশ্রীদাদা, শ্রীশ্রীবাবাইদাদা এবং শ্রীশ্রীঅবিনদাদা স্বয়ং আর তাই সৎসঙ্গ হ'য়ে ওঠে প্রাণবন্ত! যখনই দেখবেন গানে, কীর্ত্তনে, আলোচনায় সৎসঙ্গ প্রাণবন্ত হ'য়ে উঠেছে নিশ্চিত জানবেন সেখানে ঠাকুর স্বয়ং তাঁর পরিবার নিয়ে উপস্থিত আছেন! তিনি স্বয়ং লীলা করছেন সেখানে, লীলা করছেন রেত: শরীরে সুপ্ত থেকে! তাঁরা সৎসঙ্গ আলো ক'রে বসে আছেন আর শুনছেন আপনার গান, কীর্ত্তন আর আলোচনা! এ আমার গভীর বিশ্বাস আর উপলব্ধির কথা! মানতেও পারেন, নাও মানতে পারেন। শ্রীশ্রীবাবাইদাদা প্রায় সময় বলেন, "গ্রহণ ও বর্জন আপনার ব্যক্তিগত"! আমিও তাঁর শ্রীমুখের অমৃত কথা মানি ও মেনে চলি। তাই তাঁর সুরে সুরে মিলিয়ে আমিও বলি, গ্রহণ ও বর্জন আপনার, আপনাদের ব্যক্তিগত। কথায় আছে, "বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর" আর বোঝে সে প্রাণ বোঝে যার!

তাই পিছনের সমস্ত টান ছিন্ন ক'রে, অজুহাতের হাত দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে দিয়ে সৎসঙ্গে আসুন, নিজের অনিয়ন্ত্রিত, নীচ বৃত্তি-প্রবৃত্তির ছটফটানিকে কঠোর ভাবে শাসন ক'রে ধৈর্য ধ'রে বসুন, মন দিয়ে শুনুন, অন্তরের অন্তরস্থল থেকে উপভোগ করুন ঘন্টা দুয়েকের সৎসঙ্গ তথা বাঁচা বাড়ার অনুষ্ঠান তারপর উপলব্ধিতে ভরপুর হ'য়ে শ্রদ্ধায় অবনত হ'য়ে ঠাকুরের ভোগ আর মহাভোগ বা প্রসাদ আর মহাপ্রসাদ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান নতুন দিনের স্বপ্ন মাথায় নিয়ে!!!
( লেখা ৫ই জুলাই' ২০১৯)

কবিতাঃ ভেবো বন্ধু একবার!

কেমন আছো? বললে বলি, ভালো আছি!
কিন্তু মুখের হাসি!?
যেন মস্ত এক মাটির শুকনো হাঁড়ি কাঁধের পরে নিয়ে বাঁচি!
চোখের তারায় জ্বলে হলুদ আলো! তবুও বলি, হ্যাঁ! বিন্দাস ভালো!
নিজের সঙ্গে নিজের লুকোচুরি!? 
নাকি জীবন আত্মম্ভরি বিষম কালো!?
চলার গতি মন্থর! শরীর কাঁপে থরথর! 
তবুও হাত নেড়ে করি হাঁকডাক!
কোথায় চললেন? 
বললে বলি, আর বলেন কেন দাদা! 
কাজের চাপে হ'য়ে কাদা
মনে মনে ভাবি তাই, মুক্ত এ জীবন! যেখানে ইচ্ছা যায় যাক!
মুষ্টিবদ্ধ হাত, কিন্তু ঢিলেঢালা! 
ইট মারলে পাটকেল তুলে নিই হাতে
কিন্তু মন বলে, পালা! পালা!
বিবেক বলে, বৃথা এ নকল জীবন 
ব'য়ে বেড়াও কেন অনুক্ষণ!?
ভেবো বন্ধু কিন্তু একবার দিন শেষে অবশেষে 
নিভৃতে একাকী গভীর রাতে!
( লেখা ৫ই জুলাই'২০১৯)





Thursday, July 3, 2025

বিচিত্রা ১৬২

প্রশ্ন করবা না!
প্রশ্ন যতই করো তুমি;
উত্তর দিমু না!!

প্রশ্ন করলেই বলে,
কে তুমি? এজেন্ট তুমি কার??
সমালোচনা আলোচনার ধারী না আমি কোনও ধার।
ভায়া কিছু বুঝলে।।

কথায় আছে ফাঁকা কলসির আওয়াজ বেশী;
আওয়াজে তোলপাড়।
আমি সংস্কারক;
আমি সমাজকে এসেছি করতে উদ্ধার।

হারে রে রে রে রে তোরা
দেখ না আকাশ পানে চেয়ে!
ফড়িং কেমন হ'য়ে পাখি
উড়ছে সেথায় দিন বদলের গান গেয়ে!!
( লেখা ৩রা জুলাই'২০১৭)

ভুল বলা বা ভুল করা দোষের নয়; 
নয় দোষ অন্যকে অকারণ দোষারোপ করা।
দোষ, মহাদোষ সেই ভুল বা দোষ ধরা।

যে যা করছে বা বলছে তাকে তাই 
করতে বা বলতে দাও, বাধা দিও না।
তুমি তোমার কাজ ক'রে যাও, 
কারও দয়া বা করুণা নিও না।

আজ আর কাউকে বোঝাতে ইচ্ছে করে না; 
ইচ্ছে করে না কাউকে কিছু বলতে।
যার যা ইচ্ছা তাই করুক,
চলুক, যেমন ইচ্ছা চায় চলতে।।

তুমি যা করছো বা বলছো ভেবো না 
তোমার দৃষ্টিভঙ্গিটাই সঠিক; 
অন্যের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে শেয়ার ক'রে দেখে নাও
কতটা ঠিক, কতটা বেঠিক।

তুমি যদি ভাবতে না পারো অন্যকে ভাবতে দাও;
আর তুমি যদি করতে না পারো অন্যকে করতে দিয়ে 
ঈশ্বরের আশীর্বাদ নাও।

কাউকে সম্মান দিলে নিজের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয় না 
বরং তা আরো বাড়ে; কাউকে শ্রদ্ধা জানালে, 
ভালোবাসা দিলে তা নিজের দিকেই আসে ফিরে।

তোমার যা ঘাটতি তা অন্যের সাহায্যে পুষিয়ে নাও 
আর তোমার যা বাড়তি তা অন্যকে দিয়ে 
তার শূন্যতা পূরণ ক'রে দাও। দেখবে অপার শান্তি!

ঈশ্বর, জীবন্ত ঈশ্বর ছাড়া তোমার জীবনে যেন 
কেউ বা কোনও কিছু প্রধান না হয়; 
যদি তাই হয় তাহ'লে জীবনে থাকবে না 
কোনও রোগ, শোক, ভয়।

ঠাকুর তোমার আগে, ঠাকুর তোমার পিছে,
ঠাকুর তোমার ডাঁয়ে, ঠাকুর তোমার বাঁয়ে,
ঠাকুর থাকুক তোমার মাথায়
যেখানেই যাও দেখতে পাবে
ঠাকুর সঙ্গে আছেন সেথায়।

টাকা ছাড়া কিছুই হয় না জীবনে একথা সত্যি।
তবুও জেনো টাকাই সব নয়; 
জীবন্ত ঈশ্বর থাকলে জীবনে প্রধান 
তাহ'লে টাকার সদ্ব্যবহার হয়।

টাকার এত অহংকার! টাকা ছাড়া জীবনে 
তোমার অহংকার করার মত আর আছেটা কি?
টাকা তো সবাই কামাই!
হ'য়ো না টাকার ঘর জামাই।

ভাত ছেটালে কাকের অভাব হয় না, একথা ঠিক।
কিন্তু কাকের স্বভাব জেনো ভাত খাওয়া শেষ হলেই
উড়ে যায় আর উড়ে যায় কর্কষ 'কা, কা' রবে,
এটা কিন্তু আরও সঠিক।

সংযত হও, কথা বলো ভেবে
আর পা ফেলো দেখে।
সময়ে ফিরে পাবে সব;
সময়ের অপেক্ষায় আছেন বিধাতা
ফিরিয়ে দেবেন সব মেপে মেপে।
(লেখা ৩রা জুলাই'২০১৮)

যে শস্য দিয়ে ভুত তাড়িয়ে ঘরে ফেরাবে প্রিয়জনকে 
সেই শস্যকেই ভুতে ধরেছে সে সম্পর্কে 
কিছু দিশা দেখাবেন কি কেউ?
( লেখা ৩রা জুলাই'২০২৪)

































































































































































.