Powered By Blogger

Sunday, August 11, 2024

প্রবন্ধঃ শান্তির জন্য প্রার্থনা ও করণীয়।

বাংলাদেশে আমার সৎসঙ্গী ভাইবোনেরা শান্তি স্বস্তি ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা জানাচ্ছে।


আমিও আমার দয়াল ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা জানাই সবাই ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক, সুরক্ষিত থাকুক, শান্তিতে থাকুক। আর এই প্রার্থনা শুধু সৎসঙ্গী ভাইবোনেদের জন্য নয়, এই প্রার্থনা বাংলাদেশের সমস্ত সম্প্রদায়ের ভাইবোনেদের জন্যই প্রার্থনা।


কিন্তু আমিও জানি আমার দয়ালের উদ্দেশ্যে এই প্রার্থনা শুকনো প্রার্থনা। শুকনো প্রার্থনাতে শান্তি ফিরে আসে না। শান্তি ফিরে আসার জন্য যা যা করণীয় তাই তাই করতে হয়। আর তা সময়ে করতে হয়। তাত্ত্বিক আমেজে ডুবে থেকে, আর সুখের সময় তাঁকে ভুলে গিয়ে বৃত্তি-প্রবৃত্তিতে আকন্ঠ ডুবে থেকে বিপদের সময় ঠেলার নাম বাবাজী হ'য়ে প্রার্থনা করলে সেই প্রার্থনাতে আর যেই সাড়া দিক বিধাতা সাড়া দেয় না। কারণ বিধাতা স্বয়ং বিধির বিধানে বাঁধা। আর, বিধাতা আমার বাপের চাকর না যে ডাকলেই চাকরের মত সাড়া দেবে। অনেক সময় চাকরও সাড়া দেয় না অনেক ডাকলেও।
আজ দেশ ভাগ হয়েছে ৭৮বছর আর বাংলাদেশ হয়েছে ৫৩বছর। কিন্তু যাঁর কাছে প্রার্থনা করছি তাঁর সঙ্গে আমরা সবাই সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ বেঈমানি করেছি। আমরা সবাই নিজের নিজের সম্প্রদায়ের মানুষেরা দয়ালকে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি ব'লে ভাগ ক'রে নিয়েছি। আমরা হিন্দুরা নানাভাগে বিভক্ত। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি আজ নোতুন না। বর্তমানের নেড়ারা জেনেবুঝেই বেলতলায় বারবার যায়। ফল যা হবার হয়। বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনায় আমরা দেখতে পাই বাংলাদেশে হিন্দুরা জীবন্ত ঈশ্বর দয়াল শ্রীশ্রীরামচন্দ্রকে, শ্রীশ্রীকৃষ্ণকে, শ্রীশ্রীমহাপ্রভুকে, শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকে যার যার নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি ব'লে মনে করে। ঠিক তেমনি বাংলাদেশের সৎসঙ্গীরা করেছে জীবন্ত ঈশ্বর দয়াল ঠাকুর শ্রীশ্রীঅনুকূলচন্দ্রের সঙ্গে বেঈমানি। অর্থ, মান, যশের লোভে, ক্ষমতা দখল ও আধিপত্য বিস্তারের লোভে ঠাকুর থাকতেই শ্রীশ্রীঠাকুরের নিজের হাতে তৈরী মূল কেন্দ্রের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন ক'রে ঠাকুরের জন্মস্থানে ঠাকুরের সাথে করেছে বেঈমানি, করেছে নেমকহারামী। তাঁর জন্মস্থান নিয়ে কুকুরের মত করেছে কামড়াকামড়ি। সম্প্রতি সেই সমস্ত সৎসঙ্গীদের মিটিঙে কমিটি গঠন নিয়ে একটা কামড়াকামড়ির ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছিল কিছুদিন আগে তা সবাই দেখেছে। জানা যায় সেই মিটিং-এ উৎসব কমিটি গঠন হয়েছে কোনও এক মাননীয় এম, পি-র সুপারিশ অনুযায়ী। সেই মাননীয় এম, পি সৎসঙ্গী কিনা তা উল্লেখ ছিল না। বাংলাদেশে মুসলিমরা জীবন্ত ঈশ্বর দয়াল প্রভু মহম্মদকে শুধু মুসলমানদের সম্পত্তি মনে করে। যেমন সংখ্যালঘু খ্রীষ্টান, বৌদ্ধরা জীবন্ত ঈশ্বর দয়াল প্রভু যীশু ও বুদ্ধকে তাদের নিজেদের সম্পত্তি মনে করে। দয়াল প্রভু ভাগ হ'য়ে গেছে সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে। দয়াল প্রভু যে বারবার আসেন তাঁর সন্তানদের রক্ষা করার জন্য, তিনি যে একজনই, আসেন বারবার যখনি যেখানে নেমে আসার দরকার হয়, সময় ও জায়গা অনুযায়ী তিনি নেমে আসেন। বিশ্বের ৮০০ কোটি মানুষের তিনি পরমপিতা, কারও বা কোনও সম্প্রদায়ের একক সম্পত্তি নন এই কথা নানাভাবে বলা সত্ত্বেও তাঁর বিভিন্ন রূপের অনুগামীরা বুঝতে চায়নি, চায় না। আর, এবার যখন তিনি শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র রূপে এলেন আর হাজার হাজার বাণী, ছড়ার মধ্যে দিয়ে, কথোপকথনের মাধ্যমে হাজার হাজার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তিনি যখন ধর্ম, ঈশ্বর, অবতার, সম্প্রদায় ইত্যাদি সম্পর্কিত সমস্ত বিষয়ে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়ে গেলেন তখন তা সত্ত্বেও শ্রীশ্রীঠাকুরের শিষ্য অনুগামীরা শ্রীশ্রীঠাকুরের সঙ্গে অসহযোগিতা করেছে, করেছে চূড়ান্ত নোংরামি।
বাংলাদেশে পট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত প্রধান উপাদেষ্টা ও উপদেষ্টামন্ডলী্র নাম প্রকাশ করা হয়। সেই নামগুলি পোষ্ট ক'রে বাংলাদেশে শান্তি, স্বস্তি ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা চোখে পড়লো। সৎসঙ্গীরা সবাই দয়ালের কাছে কাতর প্রার্থনা করছে এবং সমস্ত গুরুভাইবোনেদের কাছে অনুরোধ করছে তাঁদের জন্য, বাংলাদেশের জন্য প্রার্থনা করতে।
বাংলাদেশে পট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত প্রধান উপাদেষ্টা ও উপদেষ্টামন্ডলী্র নাম ফেসবুকে প্রকাশ ক'রে কার কাছে প্রার্থনা করলেন সৎসঙ্গীরা সেটা পরিষ্কার হ'লো না। মনে হ'লো এই কমিটির কাছে প্রার্থনা করেছেন। যদি কমিটির কাছে প্রার্থনা ক'রে থাকে সৎসঙ্গীরা তাহ'লে তাদের মতো আমিও অন্তর্বর্তীকালীন অস্থায়ী সরকারের কাছ্রে প্রার্থনা করি বাংলাদেশের অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি দ্রুত হাতে মোকাবিলা করার জন্য এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও সংখ্যালঘু জনগণের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য। প্রার্থনা করি বাংলাদেশের আগুনে পরিস্থিতির লাগাম টেনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ক'রে তোলার জন্য।


প্রার্থনা প্রসঙ্গে বাংলাদেশের হিন্দুদের অবস্থা একটু আলোচনা করা যাক। বাংলাদেশের মোট হিন্দুর সংখ্যা কত?
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারি অনুসারে, সেখানে এখন মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন। বাংলাদেশে ক্রমশ কমছে হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠিত হওয়ার পর সেখানে প্রথম জনগণনা হয়েছিল ১৯৭৪ সালে। সেই সময়ে বাংলাদেশে হিন্দুদের হার ছিল ১৩.৫০ শতাংশ। এখন তা কমে হয়েছে ৭.৯৫ শতাংশ।

এই হিন্দুদের মধ্যে ঐক্য নেই। তার মধ্যে সৎসঙ্গীদের অবস্থা আরও শোচনীয়। ভাগাভাগিতে নিজেদের অস্তিত্বকে বিপন্ন আগেই ক'রে রেখেছে ঠাকুরের সঙ্গে বেঈমানি ক'রে। কিছুদিন আগে শ্রীশ্রীঠাকুরের মূল কেন্দ্র 'সৎসঙ্গ' বিরোধীদের মিটিং-এর একটা ছবি ফেসবুকে তুলে ধরেছিলাম। কিন্তু তার কোনও প্রতিক্রিয়া পাইনি কোনও পক্ষ থেকে। সময় বড় নির্ম্মম, বড় নিষ্ঠুর। আমরা কেউই ঠাকুরের কথাকে গুরুত্ব দিইনি। সব সাজা সৎসঙ্গী আমরা। আত্মপ্রতিষ্ঠা, অর্থ, মান, নাম, যশ আর ক্ষমতা লাভ সবারই লক্ষ্য ছিল। কেউই শ্রীশ্রীঠাকুরের লক্ষ্য, ইচ্ছা, স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করিনি। শ্রীশ্রীঠাকুরকে সবাই টেকেন ফর গ্রান্টেড ক'রে নিয়েছি। দয়াল যে প্রয়োজনে ভয়াল রূপ ধরতে পারে তাঁর সৃষ্টিকে রক্ষা করতে, পথের কাঁটাকে উপড়ে ফেলে তাঁর কাজ করিয়ে নিতে সেটা সম্ভবত বই পড়ে বই হ'য়ে যাওয়া, তাত্ত্বিক আমেজে ডুবে থাকা, কপট ভন্ডরা জানে না। তারা ভুলে গেছে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।

তবে ব্যতিক্রম অবশ্যই অবশ্যই আছে। আর আছে বলেই তাঁদের জন্যই আজও 'সৎসঙ্গ' বিশ্বের বুকে মাইলস্টোন হ'য়ে দাঁড়িয়ে আছে।


কিন্তু শ্রীশ্রীঠাকুরকে পাওয়া সত্ত্বেও আমরা আমাদের দুর্ভাগ্যকে সৌভাগ্যে পরিবর্তন করতে পারিনি। তাই শ্রীশ্রীঠাকুরের কথামত, "তুমি যদি অসৎ হও, তোমার দুর্দশার জন্য সমবেদনা প্রকাশের কেউই থাকবে না; কারণ, তুমি অসৎ হ'য়্রে তোমার চারদিকই অসৎ ক'রে ফেলেছো।" এই বাণী আজ আমাদের জীবনে স্পষ্ট হ'য়ে উঠেছে। এ কথা শ্রীশ্রীঠাকুরের, আমার নয়।


এ ছাড়া আবার শ্রীশ্রীঠাকুর বহু বছর আগেই নাংলা ভাষায় সতর্ক ক'রে দিয়ে বলেছিলেন,
"তুমি যা করছো বা ক'রে রেখেছো, ভগবান তাই-ই গ্রাহ্য করবেন তার ফলও পাবে ঠিক তেমনি। যা ইচ্ছা তাই করবে তুমি তা করলে রে চলবে না, ভালো ছাড়া মন্দ করলে পরিস্থিতি ছাড়বে না।"
এছাড়াও ঠাকুর সত্যানুসরণ গ্রন্থে স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন,
"সাধু সেজো না, সাধু হ'তে চেষ্টা কর। তোমার মনের সন্ন্যাস হ'ক; সন্ন্যাসী সেজে মিছামিছি বহুরূপী হ'য়ে ব'সো না। তোমার মন সৎ-এ বা ব্রহ্মে বিচরণ করুক, কিন্তু শরীরকে গেরুয়া বা রংচং-এ সাজাতে ব্যস্ত হ'য়ো না, তা' হ'লে মন শরীরমুখি হ'য়ে পড়বে।"


"তুমি ঠিক ঠিক যেন যে, তুমি তোমার নিজের, তোমার নিজ পরিবারের, দশের ও দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য দায়ী।"


সত্যদ্রষ্টা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণী বিশ্লেষণ করলে দেখতে পাবো, আমার দুর্দশার সময় সমবেদনা প্রকাশের কেউই নেই। আমার করা অনুযায়ীই আজ আমি ফল ভোগ করছি। পরিস্থিতি আজ আমার অনুকূলে নেই। আমি সাদা কাপড়ে সাজা সৎসঙ্গী আজ। অসৎ আর সংকীর্ণতায় আমার মনকে ডুবিয়ে রেখে শরীরকে সাদা কাপড়ে ঢেকে ফেলেছি। ফলে মনকে সাদা করতে পারিনি। তাই আজ বর্তমান সময়ে আমি আমার নিজের, আমার নিজের পরিবারের, দশের ও দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য আমিই দায়ী।"


এ সমস্তই আজ ভাবার সময় এসে গেছে। বর্তমান বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতির আগে সম্প্রতি আমরা ভয়াবহ পরিস্থিতি 'করোনা'র মুখোমুখি হয়েছিলাম। সেইসময়ও আমরা ঠাকুরের কাছে রক্ষা পাওয়ার জন্য করুণ প্রার্থনা করেছিলাম। খুব দ্রুত আমরা তা ভুলে গেছি।


আরও বড়, আরও ভয়ংকর ভবিষ্যৎ ক্ষতি হওয়ার আগে আসুন আমরা সৎসঙ্গীরা নিজেদের পরিবর্তন করি। শ্রীশ্রীঠাকুর ভবিষ্যৎ ভয়ংকর ক্ষতি সম্পর্কে কিন্তু সাবধান ক'রে গেছেন বারবার এ কথা যেন আমরা ভুলে না যায় সৎসঙ্গীরা। যদি নিজেকে, নিজের পরিবারকে সত্যি সত্যিই এখন ও আগামি দিনে রক্ষা করতে চাই এখনও শ্রীশ্রীঠাকুর রেত শরীরে লীলা করছেন দেওঘরে শ্রীশ্রীআচার্যদেব রূপে চলুন তাঁর কাছে সবাই একসঙ্গে মিলিত হ'য়ে যাই আর ভবিষ্যৎ ভয়ংকর নানা রোগ, শোক, গ্রহদোষ, বুদ্ধি বিপর্যয় ও দারিদ্রতা ইত্যাদি নানা বিষাক্ত মহা বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ও পরিবার, পরিজন, সমাজ, দেশকে রক্ষা করতে এখন আমাদের কি করণীয় তা শ্রীশ্রীআচার্যদেবের কাছ থেকে জেনে নিই।


আমি আবারও আমার দয়াল ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা জানাই সবাই ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক, সুরক্ষিত থাকুক, শান্তিতে থাকুক। আর এই প্রার্থনা শুধু সৎসঙ্গী ভাইবোনেদের জন্য নয়, এই প্রার্থনা বাংলাদেশের সমস্ত সম্প্রদায়ের ভাইবোনেদের জন্যই প্রার্থনা।


জয়গুরু।




Thursday, August 8, 2024

বিচিত্রাঃ ২২

অপেক্ষায় আছি ব'সে যদি কেউ ডাক শোনে
পাগল মন আশায় মরে চাষার মত খালি স্বপ্ন বোনে
আর গড়ে স্বপ্ন সৌধ এ আশায় যদি একদিন আসে কেউ
দেয় বাড়িয়ে হাত ডাক শুনে মোর, নইলে জীবনভর
যাবো চলে ছুটে একাকী ভেঙে ভেঙে বাধার যত ঢেউ!...।
সূর্য্য ডুবলেই একটা দিন বয়স বেড়ে গেল।
মানে আমি যা আয়ু নিয়ে এসেছিতার
তার থেকে একটা দিন কমে গেল।
তাই নিজের দিকে ও পরিবারের দিকে নজর ও সময় দাও।

( লেখা ৮ই আগষত' ২০২৩)

প্রবন্ধঃ ইউ টিউব, ঠাকুর ও আমরা সৎসঙ্গীরা!

কিচ্ছু কি করার নেই? ঠাকুর অসহায়!? তাহ'লে এই কঠিন সময়ে কে হবে আমাদের সহায়!? যত দিন যাচ্ছে তত কঠিন ও জটিল হ'য়ে উঠছে আমাদের চারপাশ! যারা যৌবন পেরিয়ে প্রৌঢ়ত্বের মধ্যগগনে কিংবা বার্ধ্যকের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে আর মাথার ঘিলু এখনও তরল, শুকিয়ে চৈত্রের দুপুরের খটখটে ফাটা মাঠের মত হ'য়ে যায়নি ও চিন্তাশক্তি বর্তমান এবং সক্রিয় তারা প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত বুঝতে পারছে কি হচ্ছে, কি চলছে চারপাশে। যুবশক্তি যৌবনের পাগলা ঘোড়ায় চেপে ছুটে চলেছে! সামনে কোনও লক্ষ্য নেই, নেই কোনও গন্তব্যস্থল! লক্ষ্যহীন, গন্তব্যহীন জীবন চরকির মতো ঘুরছে রিপুতাড়িত হ'য়ে বৃত্তি-প্রবৃত্তির বৃত্তে! অস্থিরতার তুঙ্গে যৌবন! কি করা উচিত আর কি করা উচিত নয় তা বোঝার ক্ষমতার ঘর ফাঁকা, শূন্য। এমন প্রজন্মের পর প্রজন্ম হ'য়ে চলে এই বয়সে কিন্তু বর্তমান সময় এতটা ভয়াবহ মাত্রাহীন যে তা একেবারে ধ্বংসের কিনারায়! চারিদিকে থরে থরে সাজানো রয়েছে বিপথগামী হওয়ার রসালো রসদ! হাত বাড়ালেই রসালো রসদের রসে চটচটে হ'য়ে যাচ্ছে সর্বাঙ্গ! কেউ নেই হাত বাড়িয়ে কামকামনার রসালো রসের নয়নজুলি থেকে উদ্ধার করার, কেউ নেই বিপাক পথের আলেয়ার আলো থেকে হাত ধ'রে চলার কায়দা শিখিয়ে দেওয়ার! এই অবস্থায় আমরা যখন বাঁচতে চাইছি, বেরিয়ে আসতে চাইছি বৃত্তি-প্রবৃত্তির বৃত্তের ভুলভুলাইয়ার ঘুলঘুলি থেকে আগে সম্মুখপানে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শ্রীশ্রীঠাকুরকে সারথি বানিয়ে ঠিক তখন আমরা সৎসঙ্গীরা এলাকায় এলাকায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে মন্দিরে মন্দিরে ঠাকুর প্রেম আর ঠাকুর প্রতিষ্ঠার ধ্বজা উড়িয়ে লাফিয়ে উঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছি চক্ষু লজ্জার মাথা খেয়ে কমিউনিস্ট জমানার কামিয়েনিসদের মতো ঠাকুরকে যন্ত্র বানিয়ে নিজে যন্ত্রী হ'য়ে! মূর্তি পূজার মত ঠাকুরের ফটো রেখে ফটো পূজার মাধ্যমে ঠাকুরকে প্রাণহীন রোবট বানিয়ে ফেলেছি নিজেদের বিভিন্ন স্বার্থে! এখন প্রায় সৎসঙ্গীদের ব্যবসার উপকরণ হ'য়ে উঠেছে ঠাকুর! এর সঙ্গে মায়েদের নামও জড়িয়ে গেল।

বিভিন্নভাবে কিছু মানুষ সৎসঙ্গী গুরুভাই হ'য়ে নিজেদের বিভিন্ন ইচ্ছাপূরণ ক'রে চলেছে! "অর্থ-মান-যশ ইত্যাদি পাওয়ার আশায় আমাকে ঠাকুর সাজিয়ে ভক্ত হ'য়ো না"---এই বাণীকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, পাশে সরিয়ে রেখে দাদারা ও মায়েরা সমানভাবে অর্থ-মান-যশ কামাবার লোভে ঠাকুরকে আয়ের উপকরণ বানিয়ে পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য প্রতিযোগীতায় নেবে পড়েছে! আর এই প্রতিযোগিতা বিল্ডিং মেটেরিয়ালস, এময়, ভেস্টিজ, ক্যাটারিং, এল. আই. সি, ডেকোরেটিং, ফটোগ্রাফি, মাতৃসম্মেলনের জন্য কাপড়, মায়েদের গহনা, ফুল-মালা ইত্যাদি ইত্যাদি নানাবিধ ব্যবসার পশরা সাজিয়ে ইষ্টপ্রতিষ্ঠার নামে হ'য়ে চলেছে! এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন নেট ব্যবসা!

এখন নেটের মাধ্যমে ফেসবুক, ইউ টিউব ইত্যাদি শক্তিশালী গণমাধ্যম ঠাকুরকে পণ্য ক'রে গুছিয়ে নেবার মোক্ষম অস্ত্র হ'য়ে উঠেছে! আধুনিক উন্নত ব্যবস্থার নিশ্চয়ই সুযোগ নেবো ঠাকুরের আদর্শ, ঠাকুরের মিশন বিশ্ব ব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যে। কিন্তু ঠাকুর যে যুগ পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে আবির্ভুত চরম পরম এক বিস্ময়, হাজার হাজার বছর ধ'রে চলে আসা সমস্ত ভুল, কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধর্ম, ঈশ্বর, ভগবান, শাস্ত্র, পুজোপাঠ, রাজনীতি, বিবাহনীতি, জননবিজ্ঞান ইত্যাদি ইত্যাদি নানা বোধ থেকে বের ক'রে এনে বলিষ্ঠ, দৃঢ়, মজবুত, শক্তিশালী, স্বচ্ছ, ঝলমলে, সবুজ সম্পূর্ণ নতুন এক সভ্যতার সূর্য উদয়ের জন্যে এসেছিলেন সেই বোধ, সেই ধারণা, সেই জ্ঞান, সেই সচেতনতা দীক্ষিত সৎসঙ্গীদের বোধের বাইরে! এই নতুন অত্যাশ্চর্য সভ্যতার সূর্যের কিরণকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য নেবো, নিশ্চয়ই নেবো, প্রচন্ডভাবে নেবো! কিন্তু কায়েমিস্বার্থ সিদ্ধি ও রক্ষার জন্য বিজ্ঞান যেন আমাদের হাতিয়ার না হয়। অল্প বিদ্যা যে ভয়ঙ্কর সে কথা যেন স্মরণ রাখি আমরা সৎসঙ্গীরা। কারণ তিনি এবার এসেছেন যেমন দয়াল হ'য়ে ঠিক তেমনি তিনি কিন্তু ভয়াল! আর তাঁর মিশন রথকে যে বা যারা থামাতে চাইবে সে যেই হ'ক সৎসঙ্গী হ'ক বা না হ'ক ভয়ঙ্কর ভয়াল হ'য়ে আবির্ভুত হবে দয়াল! আমার কথা অনেকের ভালো নাই লাগতে পারে কিন্তু তাঁর ব'লে যাওয়া কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই! তিনি বললেন, "তুমি যা করছো বা ক'রে রেখেছো ভগবান তাই-ই গ্রাহ্য করবেন আর সেগুলির ফলও পাবে ঠিক তেমনি। যা ইচ্ছা তাই করবে তুমি তা করলে রে চলবে না, ভালো ছাড়া মন্দ করলে পরিস্থিতি ছাড়বে না।"

যাই হ'ক এই নতুন নেট ব্যবসায় জড়িয়ে আছেন এক মা! বলতে চাই না, বলার ইচ্ছাও ক'রে না তবুও ঠাকুরের কথা স্মরণ রেখে সাবধান করার তাগিদেই এই লেখা। ইউ টিউব চ্যানেলে বহুদিন ধ'রে ঠাকুরকে নিয়ে, ঠাকুরের কথা, বাণী, ঘটনা নিয়ে বিকৃত ব্যাখ্যা, কুসংস্কারাচ্ছন্ন প্রচার হ'য়ে চলেছে! কখনো কখনো ঠাকুরের বিশেষ সময়ের বিশেষ ব্যক্তির উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে বলাকে বিকৃত পরিবেশনের মাধ্যমে সার্বজনিক ক'রে তোলা হচ্ছে! এই যে পরিবেশন হচ্ছে এই পরিবেশনের সামনের মুখ কোনও এক মায়ের হ'লেও এই মায়ের পিছনে অন্য কেউ আছে! একা কোনও মায়ের পক্ষে তাও গ্রাম্য উচ্চারণে ঠাকুরের বাণী নিয়ে ওপেন মিডিয়ায় কথা বলতে আসার মধ্যে সাহস লাগে। আসলে ইনি ভক্তিরসে ডুবে গিয়ে হিতাহিতজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন তাই বুঝতে পারছেন না ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বটতলার ঠাকুর নন বা কোনও বাবাজি নন। আর নয়তো ভক্তির মুখোশ ঝুলিয়ে ঠাকুরকে অর্থ, মান, যশ-এর উপকরণ বানিয়ে পারদর্শী হ'য়ে উঠেছেন! নতুবা এই মায়ের অতি সরলতাকে মূলধন বানিয়ে এই নেট দুনিয়ায় এর পরিবারের কেউ ঠাকুরকে বাজারী বানিয়ে শহর থেকে গ্রাম, গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরল সিধাসাদা মানুষের অজ্ঞতা আর কুসংস্কারাচ্ছন্ন মনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রথ দেখা আর কলা বেচা দুটো কাজই ক'রে চলেছে!

পরিকল্পিতভাবেই এই কাজ চলছে বহুদিন ধ'রে। মানুষের কথা বলার স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে যে যেদিকে যা পারছে হুক্কা হুয়ার মত ডেকে চলেছে। তাতে ঠাকুরের কোথায় ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, কোথায় ঘা লাগছে, ঠাকুরের মিশন কোথায় বাধা পাচ্ছে তা দেখার দরকার নেই কারও! টাকা রোজগারের মেশিন ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র! 'টাকা আপন মানুষ পর, যত পারিস টাকা ধর'--এখন সৎসঙ্গীদের মন্ত্র! ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। হ্যাঁ! আছে! আর ব্যতিক্রম আছে বলেই আজ সারা পৃথিবীতে ঠাকুরের মিশন ছড়িয়ে পড়েছে। আবার একশ্রেণীর সৎসঙ্গী ঠাকুরের "মানুষ আপন টাকা পর, যত পারিস মানুষ ধর"---বাণীর উল্টো রূপ এই 'টাকা আপন মানুষ পর, যত পারিস টাকা ধর'--কে ইষ্টভৃতির মন্ত্রের মত কিংবা বীজ মন্ত্রের মত দিনরাত জপে চলেছে!!!! গ্রামে গঞ্জে, শহরতলিতে এই জিনিস রমরমিয়ে চলেছে!
প্রশ্ন হচ্ছে, যেখান থেকে এই পোস্ট হচ্ছে সেখানে সেই অঞ্চলে কোনও সৎসঙ্গের কেন্দ্র নেই? কোনও সৎসঙ্গী নেই? নেই কোনও ঋত্বিক? যাজক? তারা কি করছে? এতটাই তারা দুর্বল? আর এতটাই এই মা সবল? নাকি তারাও যুক্ত? স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে। যেখানে তাবড় তাবড় এলিট পর্যায়ের মানুষ ঠাকুর সম্পর্কে বলতে গিয়ে ১০বার ভাবেন, হিমশিম খান, ঘেমেনেয়ে ওঠেন, গলা শুকিয়ে যায় সেখানে এই মা মুখস্ত বিদ্যা চালিয়ে গ্রাম্য স্বরে ঠাকুরের বিরাট নেট ভক্ত হ'য়ে সাধ্বী মায়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হ'য়ে প্রবচন দিয়ে চলেছেন অবলীলায় অবহেলায় ঠাকুর বিষয়কে মূলধন ক'রে এতবড় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড শক্তিশালী সৎসঙ্গ কেন্দ্র থাকা সত্বেও! হয়তো বা আর কিছুদিনের মধ্যেই এই মা অনুকূলচন্দ্রের ভর পাওয়া মায়েতে পরিণত হবে কিছুদিনের মধ্যে ঐ গ্রাম্য অঞ্চলের সহজ সরল সাদাসিধে অজ্ঞ বোকা মূর্খ কুসংস্কারাচ্ছন্ন মায়েদের মধ্যে! কিচ্ছু করার থাকবে না সেদিন; যতদিন না সৎসঙ্গীরা বুঝবে ঠাকুর কেন এসেছিলেন, কি তাঁর বুকের ব্যথা ছিল, কি তাঁর মিশন, তিনি আমাদের কেমন দেখতে চেয়েছিলেন, তিনি আমাদের কাছে কি চান ইত্যাদি ইত্যাদি; আর ততদিন ঠাকুর "পঞ্চ ভুতের ফাঁদে ব্রহ্মা পড়ে করে কাঁদে"-প্রবাদের মত 'ধান্দাবাজ সৎসঙ্গী ভক্তকুল মাঝে ঠাকুর বাঁধা পড়ে কাঁদে"-- এমনটা হবে!!!!!

হয় যারা ব্যতিক্রমী সৎসঙ্গী যারা সেই সৎসঙ্গীরা সচেতন হ'ক, এলাকার সৎসঙ্গীরা সক্রিয় হ'ক, সৎসঙ্গে, কলমে উঠে আসুক প্রতিবাদ! নতুবা ঠাকুর যেমন বলতেন, আপনাদের রসূলকে, ইসলামকে যেখানে যখনই ভুল বিকৃত ব্যাখ্যা করবে তখনই আইনের আশ্রয় নিন, শয়ে শয়ে কেস ঠুকে দিন! ঠিক তেমনি ঠাকুরকে ভুল ব্যাখ্যা, ভুল উপস্থাপন করলে এলাকার সৎসঙ্গীরা সেই পদক্ষেপ নিতেই পারেন!!!!! জয়গুরু।
( লেখা ৮ই আগস্ট'২০২০)

Wednesday, August 7, 2024

প্রবন্ধঃ আচার্যদেবের প্রয়োজনীয়তা।

আবার প্রমাণ হ'লো আচার্যদেবের প্রয়োজনীয়তা।

চন্দন ভট্টাচার্যের লেখা পড়ে অনেকদিন ধ'রে অপেক্ষার অবসান হ'লো। খুব ভালো লাগলো এই খবর পড়ে। চন্দন ভট্টাচার্যদাদাকে এই খবর পরিবেশন করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

প্রত্যেকবছর আপনাদের স্নান উৎসবের সঙ্গে আমাদের এখানে সম্ভবত মতুয়াদের বারুণী মহামেলার মিল আছে। আপনারা যেমন গঙ্গা স্নান উৎসব কমিটির পরিচালনায় পাবনা জলাধারে স্নান করেন ঠিক তেমনি মতুয়াদের ঠাকুরনগরে অনুষ্ঠিত বারুণী মেলার সময় নির্দিষ্ট জলাশয়ে স্নান করার ব্যবস্থা আছে। এই দুই জায়গায় ভক্তরা স্নান ক'রে পূণ্য অর্জন করেন।

আবার, বাংলাদেশে গোপালগঞ্জ জেলার ওড়াকান্দিতেও মতুয়াদের এই উৎসব হয়। মতুয়াদের এই নির্দিষ্ট স্নানের জলাশয়কে কামনা সাগর ও বাসনা সাগর বলা হয়।

এইসময় প্রচুর মানুষের একই সঙ্গে ঐ কামনা পুকুরে স্নান করার ফলে জল ঘোলা ও নোংরা হয়ে যায়। ঠিক তেমনি পাবনার জলাধারের একই দৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

এই যে পাবনার জলাধারে স্নান উৎসবের আয়োজন ও জলাধারে স্নান এই উৎসব ও স্নানের ব্যবস্থা কে চালু করেছিলেন? শ্রীশ্রীঠাকুর? শ্রীশ্রীবড়দা? শ্রীশ্রীদাদা? কে? নাকি নিজেরা উৎসাহী ভক্তরা?
শ্রীশ্রীঠাকুরের স্বাস্থ্য ও সদাচার সম্পর্কিত বাণী ও নানা গ্রন্থে লিপিবদ্ধ কথামৃত কি এই অস্বাস্থ্যকর নোংরা দূষিত জলে স্নান করাকে সমর্থন করে? আমরা The greatest phenomenon of the world SriSriThakur AnukulChanra-এর বিজ্ঞানসম্মত বাণী ও কথামৃতের পরও ভক্তির নামে এই কাজ ক'রে চলেছি বছরের পর বছর ঠাকুরবাড়ির সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ ছাড়াই। এর থেকে প্রমাণ হয় ঈশ্বরের প্রতি ভক্তির নামে কোনও কিছু একবার চারিয়ে দিলেই তা ভক্তির আবেগে মানুষ ভেসে যায় কোনও কিছু আগুপিছু ভালোমন্দ না ভেবেই। এইজন্যই প্রয়োজন যুগাবতারের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অবর্তমানে তঁনিষ্ঠ, তঁত্তপা আচার্য্য শরণীয় ও আচার্য ও আচার্যের সঙ্গ এবং পরামর্শ, আদেশ, নির্দেশ, নিদেশ পালন প্রয়োজন। নইলে চলনায় আসে বিকৃতি। ঠাকুরের বাণী "খেয়াল মাফিক ভজলি গুরু, হ'তে মানুষ হ'লি গরু" একদিন প্রমাণ হয়। আর আমরা তা দেখলাম শ্রদ্ধেয় পূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবিংকিদাদার হস্তক্ষেপে এই অস্বাস্থ্যকর নোংরা দূষিত জলে স্নান করা সম্পর্কিত বিজ্ঞানভিত্তিক সঠিক মূল্যায়ন।

এই বিষয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম বহুপূর্বে। অপেক্ষায় ছিলাম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত মূল প্রতিষ্ঠান দেওঘরের 'সৎসঙ্গ'-এর হস্তক্ষেপে একদিন বাংলাদেশের সৎসঙ্গীদের জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন হবে।
আজ এই খবরে যারপরনাই আনন্দিত যে আবার প্রমাণ হ'লো শ্রীশ্রীঠাকুর প্রতিষ্ঠিত দেওঘরের মূল প্রতিষ্ঠান 'সৎসঙ্গ' বিশ্বজুড়ে ঠাকুরের কোটি কোটি সৎসঙ্গীকে সঠিক দিশায় পরিচালনা করে চলেছে দূরদর্শী শ্রীশ্রীআচার্যদেবের যোগ্য নেতৃত্বে। ভারতের রাজ্য ঝাড়খন্ডের দেওঘরের 'সৎসঙ্গ' প্রতিষ্ঠানের শ্রীশ্রীআচার্যদেবের বাঁচা-বাড়ার নিখুঁত নির্দেশ পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের সর্বত্র সৎসঙ্গ কেন্দ্র, মন্দির ও ঘরে ঘরে শ্রীশ্রীঠাকুরের সোনার সৎসঙ্গী ঈশ্বরকোটি পুরুষদের হাত ধ'রে।
আবার প্রমাণ হ'লো কেন পুরুষোত্তমের অবর্তমানে তঁনিষ্ঠ, তঁত্তপা, তদনুবর্ত্তী আচার্য্যই শরণীয়, আচার্যের প্রয়োজন।
( লেখা ৭ই আগষ্ট'২০২৩)

Tuesday, August 6, 2024

উপলব্ধিঃ ভুল প্রচার

আমি একজন হিন্দু। আমি যেটা জানি তা হ'লো,
"আস-সালামু ʿআলাইকুম" মানে যতদূর জানি "আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।"
আর প্রতি উত্তরে বলা হয়
"ওয়া ʿআলাইকুমু স-সালাম" অর্থাৎ "আপনাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হ'ক।"
প্রতিউত্তরে পুরো কথাটা হ'লো,
"ওয়া-আলাইকুমুস সালাম ওয়া-রহমাতুল্লাহি।
"ওয়া-আলাইকুমুস সালাম "---কথাটার মানে বলা হয়েছে আগে।
এখন শুধু "ওয়া-রহমাতুল্লাহি" মানে দাঁড়ালো "আল্লাহর দয়া বর্ষিত হোক।"
তাহ'লে পুরো কথাটা "ওয়া-আলাইকুমুস সালাম ওয়া-রহমাতুল্লাহি"-র মানে দাঁড়ালো "আপনাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হ'ক এবং আল্লাহর দয়া বর্ষিত হোক।"
আমি একজন হিন্দু হ'য়ে এটা জানি। এটা কি ভুল জানি। তাহ'লে "তোমার উপর গজব বর্ষিত হ'ক" মানে কি দাঁড়ালো? গজব মানে তো যতদূর জানি শাস্তি।
"আপনাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হ'ক" কথার উত্তরে আপনার ওপর আল্লাহর গজব (শাস্তি) বর্ষিত হ'ক!?
এ কি শিক্ষা? এ কথা কোথায় আছে? কোরাণে বা হাদিসে কোথায় আছে? একজন মুসলিম মহিলা একজন মুসলিম মহিলার প্রশ্নের উত্তরে এরকম ভুল শিক্ষা দিচ্ছে? আবার নিজেই বলছেন, "ওয়া-আলাইকুমু"-এর পরে আর একটা শব্দ আছে ওটা আমি নিজেও পারি না, ওটা কঠিন, ওটার অর্থ হ'লো আপনার ওপর গজব বর্ষিত হ'ক।"
যাই হ'ক আমি জানি না আমি ঠিক না ভুল।
তাহ'লে কি ভুল প্রচার হচ্ছে? না জেনে? নাকি ইচ্ছে ক'রে?
এইভাবেই সৃষ্টি হয় পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি ও ধর্মীয় বিদ্ধেষ, উন্মাদনা।
আমার মুসলিম ভাইয়েরা এর উত্তর দিলে খুশী হবো। 
( লেখা ৭ই আগষ্ট' ২০২৩)

বিচিত্রা ২১

কথা অমৃত, কথা-ই বিষ।
বলার ধরণ গড়ে দেয় তফাৎ
হ'লেই উনিশ-বিশ!
ব্যবহার জীবনের পানীয়
সুধামৃত করে দান
জীবন হ'লে অসহনীয়। ২০২১

"মানুষ আপন টাকা পর 
যত পারিস মানুষ ধর" 
কিন্তু বাস্তব সত্য হ'লো,
টাকা আপন মানুষ পর,
যত পারিস টাকা ধর!! ২০১৭

শ্রীশ্রীঠাকুরের এই বাণী
""মানুষ আপন টাকা পর 
যত পারিস মানুষ ধর" 
সৎসঙ্গীরা ক'জনাতে মানি?
ঠিক তেমনি,
শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের বাণী,
"টাকা মাটি, মাটি টাকা"
বুঝেছে কোন শিষ্য ব্যাটা?
বুঝেছে রাজনৈতিক নেতারা
আর ডেভোলপার, প্রমোটাররা।  
তাই বাস্তব সত্য হ'লো,
টাকা আপন মানুষ পর,
যত পারিস টাকা ধর!! ২০২৪

যেমন সঙ্গ তেমন ভাব
যেমন ভাব তেমন লাভ।
সঙ্গ কেমন বোঝা যায়
দেখে হাবভাব।
একচক্ষু হরিণ হ'য়ে ভাবছো বসে
আমার ধর্ম, তোমার ধর্ম ক'রে
কাটিয়ে দেবে চিরটাকাল?
হিংস্র বাঘের মত অতর্কিতে
পড়বে ঝাঁপিয়ে নির্মম মহাকাল!
আমার ধর্ম তোমার ধর্ম
কত ধর্ম পৃথিবীতে!
ধর্ম কথার মর্ম কি তা'
জানে বন্ধু কোন জনেতে!?
প্রতিদিনই নতুন নতুন '
ধর্ম' জাগে এই দুনিয়ায়!
'ধর্ম' জালের বেড়াজালে
বেকুব মানুষ ছটফটায়!!
স্রষ্টা যখন আসেন নেবে স্বয়ং
সৃষ্টি মাঝে সৃষ্ট হ'য়ে
তাঁরই সাথে আসে নেবে
'ধর্ম' জেনো বৃষ্টি হ'য়ে। ২০১৭

ধর্ম্ম বেওসায়ী তুমি ব্যাওসা ক'রে খাও
আর ঈশ্বর পরমেশ্বরকে নিলামে চড়াও;
ক্যা বাত শালা! ক্যা বাত!!
মার হাতোড়া, মার লাথ!!!
কলি! বন্ধু, ঘোর কলি!!
বৃত্তি সেবায় মত্ত তুমি।
উৎস ভুলে মনের আনন্দে
খাচ্ছো তুমি কাঁঠাল পাতা;
যে কোনও মুহুর্তে ছাগল
তুমি হবে বলি, মনে রেখো এই কলি;
সাধু সাবধান!
বন্ধ হবে জীবন খাতা। ২০১৮
( লেখা ৭ই আগষ্ট, ২০১৭, ২০১৮, ২০২১, ২০২৪)

বিচিত্রা ২০

ঈশ্বর ছাড়া এ দুনিয়ায় বন্ধু আবার কে!?
ভাই বলো, বন্ধু বলো,
প্রিয় আর প্রিয়া বলো
সুখের দিনের বন্ধু;
সুখ ফুরোলেই থাকবে না আর সাথে!!
আদর্শ নেই জীবনে যার
সে আবার বন্ধু কার!?
বন্ধু দিবসে তাই জানাই ধিক্কার।
বন্ধু! আদর্শ আছে অনুসরণ নাই;
আদর্শ থাকা আর না থাকা
সমান তাই।
আদর্শ বন্ধু হওয়া সহজ নয় ভাই।
বন্ধু হওয়া নয়কো সহজ কথা ভাই;
দু'দিন মিশলেই কিন্তু জেনো
বন্ধু হওয়া যায় না তাই।
( লেখা ৭ই আগষ্ট, ২০২৪)