Powered By Blogger

Sunday, July 14, 2024

প্রবন্ধঃ শ্রীশ্রীআচার্যদেবের জন্মদিন ও বিরোধীরা।

কয়েকদিন আগে (৭ই জুন'২৪) শ্রীশ্রীআচার্যদেবের ৫৭তম জন্মদিন গেল। আর, ১৯শে জুন ছিল তাঁর জন্মতিথি। ৭ই জুন শ্রীশ্রীআচার্যদেবের জন্মদিন পালনের মুহূর্তগুলি ছিল আনন্দময়, আলোময়, রূপময়, রসময় ও মধুময়। লক্ষ লক্ষ মানুষের জোয়ারে ভেসে গেছিল দেওঘর ঠাকুরবাড়ি। জুন মাসের ঐ প্রচন্ড গরম মানুষদের দেওঘরে আসার পথ আটকাতে পারেনি। আচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদার প্রতি স্বতস্ফুর্ত তীব্র ভালোবাসা কোন পর্যায়ে পৌছে যেতে পারে তা' আজকের সময়ে অকল্পনীয়। এখানে মানুষের ঢল নাবে প্রাণের টানে। স্বতস্ফুর্ত ভালোবাসায় ছুটে ছুটে আসে দেওঘরে নিজের নিজের তাগিদে একা একা, পরিবার সহ বা ছোটো-ছোটো দল বেঁধে ভারত তথা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। আসে একটি মানুষের টানে। তিনি হলেন সৎসঙ্গের বর্তমান শ্রীশ্রীআচার্যদেব। কেন আসে লক্ষ লক্ষ মানুষ? এখন তো শ্রীশ্রীঠাকুর নেই। তবে দিন দিন কেন, কার টানে, কিসের জন্য মানুষের আগমন হাজার ছাড়িয়ে লক্ষ, লক্ষ ছাড়িয়ে কোটিতে পৌঁছে যাচ্ছে?
আর, দেওঘরের বুকে আচার্যদেবের জন্মদিনে এই জনপ্লাবন দেখে বিরোধীরা সোচ্চার। দেওঘর ঠাকুরবাড়ি থেকে বারণ করা সত্বেও এই বিশাল স্বতস্ফুর্ত লোক সমাগম দেখে, ঝাঁ চকচকে জন্মানুষ্ঠান দেখে বিরোধী কুৎসাকারী সমালোচকদের কি একটা তলপেট ছাড়িয়ে মাথায় উঠে গিয়ে প্রায় যায় যায় অবস্থা, মাথার সব শিরা ছিঁড়ে গিয়ে পাগলের মত প্রলাপ বকে চলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেসবুকে, যত্রতত্র পরমযত্নে। আর তীব্র টক ঢেঁকুর তুলে প্রশ্নের বমি ক'রে চলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই অনেক প্রশ্নের একটা প্রশ্ন হ'লো, যার জন্মদিন তার বাড়ির লোক পালন করুক না, বাইরের এত লোকজন, এত খরচখরচা কেন? আরো অনেক প্রশ্ন আছে। সেগুলি নিয়ে পরে একদিন আলোচনা করবো।



প্রশ্নটা ভালো লাগলো। যার জন্মদিন তার বাড়ির লোক পালন করুক বিরোধীদের এই কথার সঙ্গে আমি একমত। বিরোধীরা ঠিকই বলেছেন, যথার্থই বলেছেন। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি দেখি? আমাদের ছোটোবেলার সময়ে সব বাড়িতে না হ'লেও প্রায় বাড়িতেই জন্মদিন বা অন্যান্য অনুষ্ঠান পালন হ'তো। কিন্তু আজকালকার ছেলেমেয়েদের মত এইদিন, ওইদিন ইত্যাদি নানা দিন উপলক্ষে আধুনিক নানা অনুষ্ঠান পালনের চল ছিল না। জন্মদিন পালন কোনও কোনও বাড়িতে হ'তো। তবে তখনও যৌথ পরিবারের চল ছিল তাই যখনি কোনও বাড়িতে জন্মদিন বা কোনও অনুষ্ঠান পালন হ'তো পরিবারের ও আশেপাশের সবার উপস্থিতিতেই পালন হ'তো। অনুষ্ঠান পালনের একটাই উদেশ্য ছিল তা' হ'লো প্রতিদিনের একঘেয়েমি জীবন থেকে বেরিয়ে এসে নির্ভেজাল আনন্দ উপভোগ করা। তা'তে একটা বড় উচ্চ মনের পরিচয় পাওয়া যেত। পাওয়া যেত মিলেমিশে থাকার পরিচয়। বর্তমানে এখনও বহু বাড়িতে এই চল বজায় আছে। আর্থিক শক্তি একটা মূল কারণ হ'লেও সবচেয়ে বড় কারণ হ'লো উন্নত মানসিকতা। এই মিলেমিশে জন্মদিন পালন করার উন্নত মানসিকতার প্রতিফলন গরীব পরিবারেও দেখা যেত। যা এখনো একদিনের জন্য হলেও দেখা যায়। এই হ'লো আমাদের পূর্বজদের কৃষ্টি সংস্কৃতি। যে ট্রাডিশন ব'য়ে চলেছে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান সৎসঙ্গ পরিবারে।


আবার অনেকের আর্থিক ক্ষমতা থাকলেও নিম্ন মানসিকতা ও নিম্ন রুচির কারণে এই সমস্ত যৌথভাবে আনন্দ উপভোগ করা থেকে তারা বঞ্চিত হয়। আর যারা অর্থে, শিক্ষায়, চরিত্রে, মানসিকতায় সবেতেই দরিদ্র তাদের জ্বালা আরো বেশি ও ভয়ংকর। তারা সবকিছুতেই বঞ্চিত। কিছুই তারা উপভোগ করতে পারেনি জীবনে ও আজও পারে না। বিরোধীরা সেই পর্যায়ের, যারা শ্রীশ্রীআচার্যদেবের জন্মদিন পালন করা নিয়ে বিষোদ্গার করছেন, হচ্ছে গাত্রদাহ।



কিন্ত আজকালকার ঐ বিখ্যাত গানের মত ' না বিবি না বাচ্চা, না বাপ বড়া, না মাইয়া The whole thing is that কে ভাইয়া, সবসে বড়া রুপাইয়া' এই গানের মত আধুনিক ছেলেমেয়েদের মন যতই সংকীর্ণ হ'ক না কেন তারা ঘরে ও বাইরে পাশ্চাত্যের অনুকরণে মিলেমিশে নানা দিবস পালন করে। আর তা করে নিছক আনন্দ লাভের জন্য। তারা এই সংকীর্ণ মানসিকতার মধ্যে থেকেও নির্মল আনন্দ লাভের ও হাঁপ ছেড়ে বাঁচবার জন্য এইসব অনুষ্ঠান পালন ক'রে থাকে বা করতে চায় জানতে ও অজান্তে। এমন অনেক আছে যারা হয়তো বা অনেক সময় বাবা-মায়ের বা নিজেদের আর্থিক অক্ষমতার জন্য ক'রে উঠতে পারে না ইচ্ছে থাকলেও। কিন্তু তাদের ইচ্ছেটাই, তাঁদের মানসিকতাটায় মহৎ।


এই যে নানা দিবস ( ফাদার্স ডে, মাদার্স ডে, চিল্ড্রেনস ডে, হাজবেন্ড ডে, ওয়াইফ ডে ইত্যাদি) পালনের ঢেউ এসেছে এর মধ্যেও আছে সুন্দর একটা মন। অন্তত এই অনুষ্ঠান পালন করতে করতে নিজের অজান্তে একটা সুন্দর মন গড়ে ওঠে। একদিনের জন্য হলেও নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে চায় তারা। একদিন হয়তো বা পুরোনো দিনের সব মিলনান্তক সুন্দর দিনগুলো এমনিভাবেই আবার ফিরে আসবে। সবটাই মনের ব্যাপার। আগে তো মন, মনের গঠন।


কিন্তু যে মানসিকতা নিয়ে বিরোধীরা শ্রীশ্রীআচার্যদেবের জন্মদিন পালন নিয়ে সোচ্চার হয়েছে তা'তে এটা তাদের বক্তব্যে পরিস্কার যে হিংসায় তাদের বুকের ভেতরটা জ্বলে যাচ্ছে। তারা তাদের ছোটো নীচ মানসিকতা ও রুচির কারণে পরিবার থেকে বঞ্চিত ও একাকিত্বে ভোগে। তারা ঘরে-বাইরে, পরিবারে, সমাজে উপেক্ষিত। তাদের জন্মদিন কেউ কোনোদিন পালন করেনি, পালন করে না, পালনের চল নেই। তারা পরিবার কি তাই-ই জানে না, তাই পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে হ'য়ে থাকে একঘরে। নিজের পরিবারে এদের ঠাঁই নেই। এইসব মানুষ ছোটো নীচ মানসিকতার কারণে পরিবারে, সমাজে না ঘরকা, না ঘাটকা হ'য়ে থাকে। আর, একাকি থাকার দরুন এদের কোনও জনসংযোগ থাকে না। ফলে এরা কাউকে ভালোবাসতে পারে না। এদের কাছে আপন সবসময় পর হ'য়ে থেকেছে। আর, পরকে করেছে জীবন থেকে দূর।


তাই, 'সৎসঙ্গ' যে একটা বিরাট পরিবার আর সৎসঙ্গীরা সেই পরিবারের সদস্য এবং সেই পরিবারের গৃহকর্তা যে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আর শ্রীশ্রীআচার্যদেব যে আপনার জন পরিবারের বড়ভাই, পথ প্রদর্শক এবং সৎসঙ্গীরা যে বিপদে আপদে, শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক ও নিজের নিজের নানা সমস্যায় ছুটে ছুটে চলে যায় নিজের বাড়িতেই নিজের বড়ভাই পরম আশ্রয় শ্রীশ্রীআচার্যদেবের কাছে সেকথা কুয়োর মধ্যে থাকা ব্যাঙের মানসিকতার অধিকারী শরীরে মনে আত্মায় বিধস্ত মানুষেরা বুঝতে পারবে না। বুঝতে পারবে না তারা এই স্বতস্ফুর্ত পারিবারিক মহামিলনের আনন্দ। ঠাকুরবাড়ি আমাদের নিজের বাড়ি আর যেটা নিজের বাড়ি ব'লে আমরা জানতাম, ঠাকুরবাড়ি থেকে ফিরে যেখানে গিয়ে থাকি তা আমাদের কর্মস্থল, এই বোধ তাদের কল্পনার বাইরে। আমরা যে পরিবারের আনন্দ অনুষ্ঠানে ছুটে ছুটে যাই পরিবারের মানুষদের সাথে মিলিত হ'তে আমাদের যৎসামান্য শক্তি নিয়ে নিজের বাড়ি ঠাকুরবাড়িতে আমাদের কর্মস্থল থেকে সেই জ্ঞানের আলো থেকে তারা বঞ্চিত তাই তারা অজ্ঞতার কারণে, নীচ মানসিকতার কারণে কুৎসা করে, জ্বালায় জ্বলে অশ্লীল কথায় আক্রমণ করে। এই গভীর মূল্যবোধ ও ভালোবাসা বুঝতে পারবে না এই কৃপণ স্বভাবের পরশ্রীকাতরতায় ভোগা রিপু তাড়িত বৃত্তি-প্রবৃত্তিতে অক্টোপাসের মত জড়িয়ে থাকা ছোটো নীচ চিন্তার মানুষেরা। সারাজীবন বুকের আগুন বুকের মধ্যে নিয়ে অশান্তিতে একাকিত্বের জ্বালায় জ্বলে পুড়ে খাক হ'য়ে অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে করতে আর মৃত্যুর দিন গুনতে গুনতে চলে যাবে একদিন ব্যর্থতায় ভরা জীবন নিয়ে। এর থেকে মুক্তি নেই যতদিন না অন্ধকার থেকে মুখ ফিরিয়ে আলোর দিকে তাকাচ্ছে।বর্তমান শ্রীশ্রীআচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদা সম্পর্কে আমার অভিমত।

কিছু কিছু ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শে শ্রীশ্রীঠাকুরকে বেশী অনুভব করতে পারি কিনা জানি না, তবে বর্তমান শ্রীশ্রীআচার্যদেবের মধ্যে শ্রীশ্রীঠাকুরকে আমি স্পষ্ট জীবন্ত দেখতে পাই। SriSriAcharyadeb is the living Manifestation of SriSriTHakur . Sri Sri Acharyadeva is the living embodiment of Sri Sri Thakur.

ঐ যে আছে, "আজও লীলা করে গৌরচাঁদ রায়, কোনও কোনও ভাগ্যবানে দেখিবারে পায়।" আর ঠাকুর বলে গেলেন, "ইষ্টগুরু- পুরুষোত্তম প্রতীক গুরু বংশধর, রেত- শরীরে সুপ্ত থেকে জ্যান্ত তিনি নিরন্তর।"

শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, "পুরুষোত্তমকে direct (সরাসরি) যারা না পায়, তারা তদনুবর্ত্তী আচার্য্য-পরম্পরার ভিতর দিয়ে তার ভাবটাই কিছু-না-কিছু পায়।"

শ্রীশ্রীঠাকুর যে আচার্যদেবের মধ্যে জীবন্ত আছেন এটা শ্রীশ্রীঠাকুরের কথা। কে মানলো আর না-মানলো তা দেখা আমার কাজ নয়। আমার কাজ যুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে তা ভেবে দেখা।
আবার শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, "ঐ ভাব যখন মলিন বা ম্লান হয়ে যায়, উবে যাবার মত হয়, বিকৃতিতে আচ্ছন্ন হয়ে ওঠে, মানুষকে ঈশীস্পর্শে সঞ্জীবিত করে তোলবার জন্য তখন তিনি আবার মানুষ হয়ে আসেন"।

অতএব আচার্য পরম্পরার মধ্যে ঐ ভাব এখনও মলিন হয়নি, বিকৃতিতে উবে যাওয়ার মত হয়নি। যেদিন হবে সেদিন শ্রীশ্রীঠাকুর আবার স্বয়ং আসবেন। আর কিছু বলার ইচ্ছা নেই।
কিন্তু এখন বর্তমানে আমি, আমরা শ্রীশ্রীআচার্যদেবের মধ্যে শ্রীশ্রীঠাকুরকে দেখতে পাই। শ্রীশ্রীঠাকুরকে অনুভব করতে পারি শ্রীশ্রীআচার্যদেবের সৌম্যকান্তি অপরূপ নয়নভোলানো চেহারা, তাঁর চেহারার শান্ত, সুন্দর শোভা, লাবণ্য, কমনীয়তা, দীপ্তি, সৌন্দর্য ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত মানুষকে শান্ত করে, শক্তি দেয়। তাঁর মধুর কথা, চোখের দৃষ্টি, মানুষকে তৃপ্তি দেয়, আনন্দ দেয়। তাঁর ভরসাদীপ্ত কথায়, পরামর্শে ফিরে পায় মানুষ হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস। তিনি বাকসিদ্ধ পুরুষ। হতাশা, অবসাদগ্রস্ত, ধ্বস্ত-বিধ্বস্ত মানুষ তাঁর কথায় আবার জেগে ওঠে, খুঁজে পায়, অনুভব করতে পারে বুকের ভেতরের মহাশক্তিকে, জীবন্ত ঠাকুরকে। তাই প্রতিদিন হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁর কাছে ছুটে যায়, তাঁর জন্মদিনে যোগদান করে শ্রীশ্রীঠাকুরকে অনুভব করার জন্য, শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রতি বিশ্বাস ও নির্ভরতাকে মজবুত ক'রে রাখার জন্য।


এ দৈব অনুভূতি ওঁচাটে মানুষের জন্য নয়। এ স্বর্গীয় উপলব্ধি নয় ছ্যাবলা, জঘণ্য, অতি নিকৃষ্ট, খেলো, স্বার্থপর, ধান্দাবাজ, কপট বাজে চরিত্রের মানুষের জন্য। আজ এই পর্যন্ত।
জয়গুরু।

প্রবন্ধঃ নারীপুরুষের মেলামেশা ও ছবি পোষ্ট।

প্রায় সময়ই দেখি আমরা সৎসঙ্গীরা এমন কিছু কিছু ছবি সমর্থনসূচক বক্তব্যে পোষ্ট করি বা অন্যের পোষ্ট শেয়ার করি যার সঙ্গে 'সৎসঙ্গ'-এর মত ও আদর্শের বিরাট ফাঁক। তখন মনেই হয়না এইসব ছবি সৎসঙ্গীরা পোষ্ট করেছে, ফটো শুট করেছে বা ফটো ও লেখা শেয়ার করেছে। যখন কোনও কিছু পোষ্ট করবো, বলবো বা ফটো শুট করবো তখন তার সম্পর্কে, সেই পোষ্টের মেরিটস-ডিমেরিটস, অ্যাডভান্টেজেস-ডিসআডভান্টেজেস ইত্যাদি সম্পর্কে অন্তত সৎসঙ্গীদের সতর্ক থাকার দরকার। সতর্ক থাকার দরকার আমরা যারা সৎসঙ্গীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেসবুক, ইউ টিউব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করি, তাদের। আমরা যেন ভুলে না যাই আমরা সৎসঙ্গী। আমাদের সৎসঙ্গীদের শ্রীশ্রীঠাকুরের মুখ, শ্রীশ্রীঠাকুরের কথা মনে রেখে কাজ করা উচিত। এইকথা আমরা যেন বারবার নিজেকে নিজে বলি যে, আমি সৎসঙ্গী, আমি সৎসঙ্গী, আমি সৎসঙ্গী। আমার সঙ্গে মিশে, আমার সঙ্গ ক'রে যেন বুঝতে পারে আমার ঠাকুর কেমন। সৎসঙ্গীর একটা বৈশিষ্ট্য আছে, যে বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন প্রমাণ করে যে সে সৎসঙ্গী। মুখে বলতে হয় না কাউকে আমি সৎসঙ্গী। আর যদি বলতেই হয়, গর্ব ক'রে যেন বলতে পারি আমি সৎসঙ্গী। গর্ব ক'রে বলার মত যেন আমার সৎসঙ্গীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থাকে, নতুবা নয়। আমরা সৎসঙ্গীরা যারা ফেসবুকে শ্রীশ্রীঠাকুর নিয়ে চর্চা করি, শ্রীশ্রীঠাকুরের নানারকম বাণী পোষ্ট করি, নিজের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি শেয়ার করি, বিভিন্ন সৎসঙ্গ অনুষ্ঠানের ছবি পোষ্ট করি, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ও ঠাকুরবাড়িতে বা বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে সেলফি তুলে পোষ্ট করি তাঁরা যেন ভুলে না যায় আমার একটা সামাজিক পরিচিতি আছে, আমি যেহেতু ঠাকুরকে নিয়ে চর্চা করি, সৎসঙ্গ মঞ্চে ঠাকুরের গান করি, ঠাকুরের কথা বলি, যেহেতু লোকে আমাকে জানে আমি একজন সৎসঙ্গী তখন আমার প্রথম ও প্রধান ডিউটি আমার আদর্শকে, আমার গুরুকে, আমার ঠাকুরকে রক্ষা করা, সমালোচনা, নিন্দা, কটুক্তি, অশ্রদ্ধা, অপমানের হাত থেকে তাঁকে রক্ষা করা, আমার চলা, আমার বলা, আমার আচার, আমার আচরণ, আমার পোষাক, আমার পরিচ্ছদ ইত্যাদি দিয়ে আমার ঠাকুরের ভাবমূর্তিকে রক্ষা করা। আমরা যারা ঠাকুরকে রিপ্রেজেন্ট করি তাদের কথাবার্তা, চিন্তাচলন, পোশাক পরিচ্ছদ সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা বার্তা ছড়িয়ে দেয়। কথায় আছে, পহেলে দরশন ধারী, পিছাড়ি গুণ বিচারি, আপনি আচরি ধর্ম পরেরে শেখায়, আগে ঘর তবে পর ইত্যাদি আরও এমন অনেক প্রবাদ আছে যা আগে নিজেকে ঠিক করার কথা বলে। আমাদের দীক্ষিত-অদীক্ষিত সবারই ত্রুটি আছে, আছে ভুল। কিন্তু সেই ত্রুটি ও ভুল সম্পর্কে আমরা উদাসীন। আমরা আমাদের চলা, বলা ও করা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নই, নই সতর্ক, সচেতন। আমরা সৎসঙ্গীরা আজ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি কোয়ান্টিটিতে উদ্ভিন্ন হয়েছি কিন্তু কোয়ালিটিতে নিজেকে উদ্ভিন্ন করতে পারিনি। আমরা আজ ঠাকুরের কথার বাস্তব প্রতিফলনের উলটো হয়েছি। ঠাকুর বললেন, "সাধু সেজো না, সাধু হওয়ার চেষ্টা করো।" আজ আমরা সৎসঙ্গীরা সাদা পোশাকে ও কাঁধে একটা কালো ব্যাগ ঝুলিয়ে সাদা-কালোর সাধু সেজেছি আর, সৎসঙ্গে, মন্দিরে, উৎসবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছি আর একে অপরের পিছনে কাঁকড়ার মত লেগে থেকে নীচে টেনে নামাচ্ছি। আমাদের প্রায় সবার কাছে আজ ঠাকুর আয়ের এবং সম্মান অর্জনের ও সামাজিক, রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের উপকরণ হ'য়ে দাঁড়িয়েছে। আর যারা ইষ্টপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠায় প্রাণপাত ক'রে চলেছে তাঁরা আজ ফিকে হ'য়ে পড়ে রয়েছে পিছনে, যদিও তাঁরা কখনই কোনওদিনই অর্থ, মান, যশের আকাঙ্খায় প্রাণপাত করেনি, নীরবে ইষ্টের সেবায়, ইষ্টের চলন পূজায় নিজেকে বলি দিয়েছে মুখ বুঁজে। এরা আছে বলেই আজও সৎসঙ্গের সূর্য মধ্যগগণে জ্বলজ্বল করছে। এই যে বিশ্বজুড়ে সৎসঙ্গের অপূর্ব অপূর্ব মন্দির ও নানাবিধ কার্যালয় গড়ে উঠেছে সেইসবের পিছনে আছে বিশাল সংখ্যক নীরব কর্মীর দল।

যাই হ'ক এবার সমাজ কো বদল ডালোর, স্বপারিপার্শ্বিক বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠার সর্ব্বশ্রেষ্ঠ নিখুঁত পথ ও মতবাদ জীবনবাদ, অস্তিত্ববাদের স্রষ্টা, সর্ব্বজ্ঞ, সর্ব্বদর্শী, সর্ব্বশক্তিমান পুরুষ, দিনদুনিয়ার মালিক শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র এসেছিলেন তাঁর রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আর, তা তিনি ক'রে ছাড়বেনই। যদিও তিনি তাঁর সময়ের বহু বহু আগেই এসেছেন, তাই তাঁর বলাগুলি সাধারণ মানুষ যারা সৎসঙ্গী ও যারা সৎসঙ্গী নয় তাঁরা হজম করতে পারেনি, পারছে না। তাই তাঁর কষ্টও কম না। তিনি জানতেন, তাঁর বলে যাওয়া বলাগুলি এত অ্যাডভান্সড স্টেজের যে মানুষের কাছে তা হজম করা কষ্টকর হবে। তবুও তাঁকে আসতে হয়েছে; আসতে হয়েছে জমি তৈরী করতে। এ জমিতে বহুত গাদ্দা! এ গাদ্দা কয়েকশো, কয়েক হাজার, কয়েক লক্ষ কোটি বছর লেগে যাবে পরিস্কার করতে। কারণ জমিই নষ্ট হ'য়ে গেছে। এর আগে তিনি যতবার এসেছেন ততবার তাঁর অনুগামীরা তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। নাস্তিক গাদ্দার সঙ্গে সঙ্গে আস্তিক গাদ্দার মিলন তাঁর মিশনকে করেছে ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বস্ত-বিধ্বস্ত।


১৯৪৫ সালের অক্টোবর মাসে শ্রীশ্রীঠাকুরকে একবার হার্ট স্পেশালিস্ট ডাঃ জে সি গুপ্ত ঠাকুরের কুষ্ঠির ছকটি বিচার ক'রে বলেছিলেন, আপনার পরিবেশ আপনার মর্যাদা বুঝতে পারবে না। You are much in advance of your time. অর্থাৎ আপনি আপনার সময়ের বহু পূর্বে এসেছেন। রূপক হিসেবে বলা যায়, রাজেশ্বরী হ'য়ে জন্মগ্রহণ করা সত্ত্বেও আপনার দাসীর ভুমিকায় জীবনযাপন করতে হচ্ছে। জগত আপনার অসামান্য অবদান সম্বন্ধে জানতে বুঝতে পারবে আপনার দেহাবসানের বহু বৎসর পর। একদিকে আপনি মহা ভাগ্যবান, অন্যদিকে আপনি মহাদুঃখী। আমরা চিকিৎসা ক'রে কি করবো? পরিবেশ যদি আপনার mission fulfil না করে, তার জন্য বাকী জীবন আপনাকে বেশীর ভাগ সময় অল্পবিস্তর অসুস্থ থাকতে হবে। আপনার ভাগ্য কতকটা রামচন্দ্রের মত-----সহস্র বান্ধবমাঝে রহিবে একাকি, তোমার মনের দুঃখ কেহ বুঝিবে না---এই হ'লো আপনার বিধিলিপি। আপনি বড় বেশী আগে জন্মেছেন। পরিবেশের পক্ষে আপনাকে বোঝা কঠিন। তাদের কোন দোষ নয়। আপনার ভাগ্যই প্রতিকূল।" ডাক্তারবাবুর কথা শুনে শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছিলেন, আমার সম্বন্ধে আপনি যা' বললেন---তা' মর্মান্তিক সত্য।

পথের পাঁচালির স্রষ্টা সাহিত্যিক বিভূতি বন্দ্যোপাধ্যায়, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন, পি সি সরকার, কবি হেমচন্দ্র মুকঘোপাধ্যায় ইত্যাদির মতন কয়েকজন মানুষ ঠাকুরকে বোঝা, তাঁকে জীবনে গুরুরূপে গ্রহণ করা ছাড়া বাকী অসাধারণ মস্তিষ্কের অধিকারী পন্ডিত মহাপন্ডিতেরা শ্রীশ্রীঠাকুরকে বুঝতে চাননি, বুঝেও বুঝতে চাননি, এড়িয়ে গেছেন, স্বীকার করেননি, স্বীকার করলেও একজন জ্ঞানী মানুষ এই পর্যন্ত স্বীকারোক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং তাঁকে জীবনে গ্রহণ করার প্রয়োজন মনে করেননি। তাই সাধারণ মানুষের কথা নিয়ে আলোচনা করছি না, যারা অসাধারণ জ্ঞানী, পন্ডিত, মহাপুরুষ, ক্ষমতাশালী তারাই যখন ঠাকুরকে বুঝতে চায়নি, বুঝতে পারেনি, বুঝেও অস্বীকার করেছে, গুরুত্ব দেয়নি কিংবা গদাই লস্করি চালে চলে যখন যেটা করার দরকার সেটা করেনি তখন সাধারণ ভাঙ্গাচোরা, দূর্বল, মূর্খ, ভীরু, কুসংস্কারাছন্ন মানুষের পক্ষে তাঁকে বোঝা আর উটের চিৎ হ'য়ে শোওয়া একই ব্য়াপার।



মানুষ তাঁকে বুঝুক আর না-বুঝুক, তাঁকে গ্রহণ করুক আর না-করুক, মানুষ তাঁর এবারের রামরাজ্য সৃষ্টির পথে যতই বাধা সৃষ্টি করুক না কেন সে পথে কোনও বাধা, কোনও প্রতিকূলতাকেই তিনি রেয়াত করবেন না, তা সে যেই হ'ক। তাঁর দীক্ষিত, তাঁর শিষ্য, তাঁর মত ও পথের অনুগামী, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর বিরোধী, তাঁর পথের কাঁটা যে বা যাই-ই হ'ক না কেন তিনি তাঁর সুন্দর স্বপ্নময়, আলোময়, রূপময়, রসময় সাম্রাজ্য গড়ে তোলার পথে, সত্যযুগ প্রতিষ্ঠার পথে যে বা যারাই বা যাকিছু তাঁর চলার পথে প্রতিবন্ধক হ'য়ে দাঁড়াবেন তা তিনি দয়া মায়াহীন নির্ম্মমভাবে উপড়ে ফেলবেন, উপড়ে ফেলবেন মুখোশ পড়া ধর্মকে, ধর্ম্ম রাজ্যকে প্রতিষ্ঠার পথে অধর্মকে খতম করবেন। তিনি কাল, মহাকাল অর্থাৎ তিনিই সময়, সময়ের স্রোত। সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না। সময় তাঁর নিয়মেই ঘুরে যাবে, তাঁকে কোনও মহাপরাক্রমশালী থামাতে পারবে না। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই, তাঁর তালে তাল মিলিয়ে, তাঁর সুরে সুর সুর মিলিয়ে, তাঁর ছন্দে ছন্দায়িত হয়েই সময়ের পিছনে মানুষকেই ছুটতে হবে যদি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের অস্তিত্বকে রক্ষা করতে ও শ্রীবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। নতুবা সময়ের স্রোতে ভেসে যাবে একই সঙ্গে তথাকথিত সৎ-অসৎ। মানুষকেই ঠিক করতে হবে ভেসে যেতে যেতে কোনটা ধরবে। খড়কুটো নাকি মজবুত কোনও ভেলা? অসৎ খড়কুটোর ন্যায় দ্রুতবেগে ব'য়ে যায় আর সৎ মজবুত শক্তসমর্থ ভেলার মত ধীরে ধীরে ব'য়ে যায়। মানুষকেই ঠিক করতে হবে সোনা ফেলে চাঁদি নেবে কিনা, পরশ পাথর ফেলে এমনি পাথর নেবে কিনা।


জীবনবাদ, অস্তিত্ববাদের কথা, বাঁচা-বাড়ার কথা, ঐ নোতুন সমাজ ও সমাজ ব্যবস্থা গঠন ইত্যাদি সম্পর্কে সর্ব্বশ্রেষ্ঠ মানুষোটি সব, সব, সব ব'লে দিয়ে গেছেন; আর, কাউকেও, কোনও মহাপুরুষকেই লাগবে না কিছু বলার জন্য। কারণ মহাপুরুষরা যা বলবেন তা কোনও একটা দিকের পরিপূরণের কথা বলবেন, সমস্ত দিকের পরিপূরণের কথা বলা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। মহাপুরুষেরা সর্ব্বজ্ঞ নন যে সব জানবেন। তাঁরা Fullfiller the great. অর্থাৎ মহাপরিপূরণকারী অর্থাৎ মহাপুরুষেরা কোনও একটা বিশেষ দিকের মহাপুরণ করেন কিন্তু সবদিকের নয়। তাই, যিনি সব দিকটা জানেন, সব দিকটা দেখতে পান, সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী সেই মানুষটা হলেন Fullfiller the best. তিনি হলেন সর্বজ্ঞ, সর্ব্বদর্শী, সর্ব্বশক্তিমান; আর তাই তিনি সমস্ত দিকের সর্ব্বোত্তম পরিপূরণকারী।

তাই সেই মানুষটাকে পুরুষোত্তম বলা হয়; আর, পুরুষোত্তমই একমাত্র সব দিকটা জানেন। তিনিই প্রকৃত নেতা, পথপ্রদর্শক, আদর্শ, তিনিই Fulfiller trhe best. তাঁকে মাথায় নিয়েই চলতে হবে জীবনে যদি সৃষ্টিকে রক্ষা করতে হয়। তাঁর সামনে একজন Fulfiller the great-এর দরকার হবে। যিনি তাঁকে লক্ষ্য ক'রে তাঁতে অচ্যুত, অস্খলিত, অটুট নিষ্ঠায়, একাগ্রতায় ধ্যানমগ্ন হ'য়ে সমস্ত মানুষকে তাঁর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সবাইকে এক ক'রে।

এটা অহংকারী মানুষ, অজ্ঞ মানুষ মানতেও পারে আবার না মানতেও পারে। কিচ্ছু যায় আসে না। কিন্তু সৎসঙ্গীদের কাছে 'সমাজ কো বদল ডালো ও নোতুন এক সমাজ সৃষ্টি'র রূপকার, রামরাজ্য' পুনরায় গড়ে তোলার এক ও একমাত্র যোগ্য ও দক্ষ, ক্ষমতা সম্পন্ন, ইন্দ্রিয় ও অতীন্দ্রিয় জ্ঞানের অধিকারী, সমস্ত সমস্যার সমাধানকারী, সমস্ত মত ও পথের পরিপূরণকারী, ভূত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ এই তিন কালের ঘটনা জানে এমন; ত্রিকাল-দ্রষ্টা, ত্রিকালজ্ঞ পুরুষ, স্রষ্টার সমস্ত কিছুর প্রতি সমান ভালোবাসা, প্রেম, এককথায় ভালোবাসার মহাসমুদ্র পরমপ্রেমময় মানুষ যাকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র নামে অভিহিত করা হয়, তাঁর কোটি কোটি দীক্ষিত শিষ্যরা যাকে এই নামে সম্বোধন করেন সেই অত্যাশ্চর্য, জাঁকযমকপূর্ণ অথচ সহজ সরল, অসাধারণভাবে সাধারণ, বিজ্ঞতার সঙ্গে মূর্খ, বুদ্ধিমান বোকা মানুষটি, শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র তাঁর দীক্ষিত, তাঁর মত ও পথের অনুগামী মানুষদের কাছে অর্থাৎ সৎসঙ্গীদের কাছে অন্তত অনেক কিছু আশা করেন। তাই আবার বলি, আমরা যেন ভুলে না যাই, আমরা সৎসঙ্গী। আমরা নিজেরা নিজেদের বিবেকের আয়নায় দাঁড় করিয়ে যেন বলি সবসময়, আমি সৎসঙ্গী, আমি সৎসঙ্গী, আমি সৎসঙ্গী।

তাই, বিভিন্ন ধরণের ছবি, লেখা বিশেষ ক'রে কোনও নারীপুরুষের ছবি পোষ্ট করা বা শেয়ার করা সম্পর্কে বলা যেতে পারে সিনেমা, নাটকে অভিনয় জগতের বিশেষ শুভ মুহুর্তের ছবি ছাড়া অকারণ পরিচিত-অপরিচিত নারীপুরুষের ঘনিষ্ট সম্পর্কের ফটো শুট করা ও তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করার বালখিল্য তাগিদ সুদূরপ্রসারী ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনে। জনসমাজে তার প্রভাব পড়ে। এই ধরণের পরস্পর পরিচিত ও অপরিচিত নারীপুরুষের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি, ঘনিষ্ট সম্পর্কের ছবি তোলা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা বা তা' শেয়ার ক'রে ছড়িয়ে দেওয়া সুস্থ সমাজের পক্ষে কখনই কাম্য নয়। এই ছবি প্রকাশের মধ্যে দিয়ে কোনো পজিটিভ মেসেজ তো যায় না সমাজে উপরন্তু সরলমতি সম্পন্ন ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তারা এই ধরণের খোলামেলা সম্পর্কে উৎসাহী হ'য়ে ওঠে। ফলে সমাজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এসব ফটো শুট ও পোষ্টের মধ্যে দিয়ে একটা চাপা অতৃপ্ত মনোভাব ও তার পরোক্ষ তৃপ্তি পূরণের মনোভাবের ছবি ফুটে ওঠে। যার ফলে অপরিণামদর্শী, অদূরদর্শী, অবিবেচক সরলমতি ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত জীবন ধ্বংস হ'য়ে যাচ্ছে। শ্রীশ্রীঠাকুর নাটক, চলচিত্র ইত্যাদি অভিনয় জগতের একসঙ্গে নারীপুরুষের ঘনিষ্ট অভিনয়ও সমর্থন করেননি। এতে যা হবার তা হয়ই এবং আমরা এ সম্পর্কিত বিষয়ে চলচিত্র জগতের পরিণামমূলক প্রায় সব খবরই সবাই জানি। শুধু চলচিত্র জগত নয় যেখানেই অবাধ মেলামেশার সুযোগ আছে নারীপুরুষের একত্রে, ধর্ম, রাজনীতি, খেল্ধুলা, সিনেমা, নাটক, প্রমোদানুষ্টান ইত্যাদি সবক্ষেত্রেই, সেখানে সেখানেই আমরা এর ভয়ঙ্কর পরিণামের শিকার হ'ই। অথচ এর কোনও সামাজিক সুরক্ষা বলয় নেই। থাকলেও সব সামাজিক আইন দিয়ে সুরক্ষা বলয় তৈরী করা যায় না। কারণ আমরা স্বাধীন। আমাদের ইচ্ছেটাও একান্তই আমাদের। তাই আমাদের ইচ্ছের ডানা মেলে আমরা উড়বোই। তা'তে রাবণের মতো কেউ এসে ডানা কেটে দিয়ে গেলেও কোনও আপত্তি নেই, আপত্তি নেই জটায়ুর মত ডানা কেটে পথে, পথের নর্দমার ধারে পরে থাকতে। তবুও আমরা উড়বোই। মানবো না কোনও বিধিনিষেধ, মানবো না কোনও সীমাবদ্ধ গন্ডি, থাকবো নাকো আর চার দেওয়ালের বদ্ধ ঘরে কিংবা মায়ের আঁচলে বন্দী হয়ে, ডানা মেলে খোলা আকাশের নীচে গান গেয়ে গেয়ে উড়ে বেড়াবোঃ থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে, দেখবো এবার জগতটাকে। এটাই ঘটছে, এটাই বাস্তব।
সৎসঙ্গীরাও নারীপুরুষ নির্বিশেষে যদি তাই করতে চায়, উড়তে চায় শ্রীশ্রীঠাকুরের হাজার নিষেধ সত্ত্বেও, হাজার হাজার ছড়া, বাণী ও কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে সাবধান ক'রে দিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও, বিশেষ ক'রে নারীর নীতি গ্রন্থে ১৮২টি বাণীর মধ্যে দিয়ে নারীদের নারী হ'য়ে ওঠার ক্ষেত্রে, সমাজের বুকে চরিত্রহীন কামুক কপট ও মুখোশধারী লম্পট পুরুষের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার ক্ষেত্রে সাবধান ক'রে যাওয়া সত্ত্বেও তাহ'লে শ্রীশ্রীঠাকুরের কিছু করার নেই, শ্রীশ্রীঠাকুর অসহায়। আমি একটা কথায় বলতে পারিঃ তথাস্তু। কারণ এক্ষেত্রে দয়াল নিজেও অসহায়। সৎসঙ্গী নারীপুরুষের রোগে, দুর্ঘটনায়, আত্মহত্যার মধ্যে দিয়ে অকাল মৃত্যুর বহু ঘটনা আমাদের চোখ খুলে দিচ্ছে না এখনও। অসহায় শ্রীশ্রীঠাকুরের দু'চোখ দিয়ে ভেসে যাচ্ছে জলের ধারা নীরবে, নিভৃতে।

আসুন ভেবে দেখি সবাই নিজেদের ও নিজেদের প্রিয়জনেদের স্বার্থে।

বিচিত্রা ১৪

আজি এ মধুর প্রভাতে
কেন এত দুঃখ, কষ্ট, 
কেন এত যন্ত্রণা?
হৃদমাঝারে কূট কাটে 
সযতনে মন্থরার মন্ত্রণা।
আকাশে মেঘের খেলা,
লুকোচুরি রোদের খেলা,
শাখে শাখে পাখির কলতান
তারি শোভা দেখে, কলতান শুনে
প্রাণপাখি গেয়ে ওঠে,
রাধা রাধা রাধা গান।
ইষ্টকে তোমার ক'রো না 
আয়ের উপকরণ,
ইষ্টের মংগলযজ্ঞে হয়ে ওঠো
তুমি আহূতির উপকরণ।

বিচিত্রা ১৩

এত টাকার গরম গুরুভাই,
করছো গুরুকে লাঞ্ছনা আর অপমান?
মনে রেখো আজকে যে রাজাধিরাজ
কেল সে ভিক্ষা চায়;
হাতে হাতে পাবে তার প্রমাণ,
একটু অপেক্ষা করো তাই।
রাতদিন মনে মনে গাইছো
নিজের অজান্তে নিজে বিষমন্ত্র জপছো,
"ছেড়ো না মন, কপট চাতুরী,
বদনে বলো হরি হরি।
হরির নাম পরম ব্রহ্ম
ধান্দার মূল মন্ত্র, ধান্দায় মূল ধর্ম,
অধর্ম-কুকর্ম ছেড়ো না রে।
Vulture-এর culture নিয়ে বন্ধু
ক'রো না তুমি nurture
দিনশেষে অবশেষে
ব্যর্থতা আর হতাশায় ভরে যাবে জীবন,
ভরে যাবে সংসার।
ছেদক আর শয়তান জেনো সমার্থক,
রাবড়ি খচ্চর সে যে!
পিতা তোমায় ডাক দিয়েছে
ব'সে থেকো না আর বেকুব সেজে।
ছেদল যে সেই শয়তা্ন।
খুঁজে নাও কেন তারে? থেকো না বেকুব,
হ'য়ো না শয়তানের সাথী, থাকো তুমি সাবধান,
মরো না, মেরো না প্রিয়জনেরে।
(১৪ই জুলাই, ২০১৭)

বিচিত্রা ১২

মিথ্যাকে হাতিয়ার ক'রে
সত্যের বুকে মারছো লাথি,
হ'য়ে কুয়োর ব্যাঙ মনে করছো
নিজেকে আজ মস্ত হাতি।
দেখা যাক ঠাকুর কা'কে দেন সাথ
আর কার হন সাথী।
সত্যের না মিথ্যার।
কুম্ভকর্ণেরা ঘুমিয়েছিল বেশ
হঠাৎ উঠলো জেগে
লম্ফ দিয়ে ঝম্প মেরে
আর ঢাক ঢোল বাজিয়ে
রাজ্য জয় করতে পড়েছে বেড়িয়ে
রেগে মেগে ইষ্টপ্রেমী সেজে।
ইষ্টকাজে দিয়ে বাধা ইষ্টপ্রেমী সাজে।
ইষ্টপ্রাণতার কানাড়া বাজিয়ে
রাজ্য জয়ে মাতে।
শেষের সেদিন কিন্তু মরবে কিন্তু হেগে।
কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙ্গেছে?
চলেছো যুদ্ধ করতে জয়?
মনে রেখো গুরুভাই কুম্ভকর্ণের পরিণতি,
মনেতে রেখো ভয়।
ইষ্টকাজ করার নামে ঘেঁটে দিতে চাইছো সব?
'দাও ঠাকুর লন্ডভন্ড ক'রে লুটেপুটে খায়'
করছো রাতদিন জপ।
শেষের সেদিন উত্তর পাবে সব।
(১৪ই জুলাই, ২০১৮)





Saturday, July 13, 2024

বিচিত্রা ১১

প্রচারের ফানুশ উড়িয়ে কি
মানুষের কিছু মঙ্গল করা যায়?
তুমি বলবে, নিজের ঢাক নিজ
পেটাবার যুগ বন্ধু
বাকী সব ভাঁড় ম যায়!
সমাজ ব্যবস্থার দোহই দিয়ে
নিজের ফাঁকি নিইজে ঢেকে রেখেছো।
নিজ চরিত্রের ফাঁক আর ফাঁকির কবলে
পড়ে নিজেই নিজেকে মারছো।
তুমি খব প্রচার করছো, ছোটোবড় সবেতেই
প্রচারের ঢাক পেটাচ্ছো অর্থাৎ
তুমি কিচ্ছু করছো না আর কছো না বলেই
প্রচারের ঢাক পেটাচ্ছ
কেউ রাখেনি কথা যে বসেছে সিংহাসনে।
প্রচারে শুধুই ঢাক বেকেছে, ফোটেনি আচরণে।
ঢাক না বাজিয়ে, প্রচার না ক'রে
প্রেম করো, করো প্রেম, শুধু প্রেম
চুটিয়ে প্রেম, ঈশ্বর প্রেম।
নেবে যাবে রক্তচাপ, শান্ত হবে ব্রেন।
( লেখা ১৪ই জুলাই, ২০১৯)

বিচিত্রা ১০

যার যা লাগছে ভালো 
তা' সাদা হ'ক আর কালো,
তা' সে করুক। 
তুমি দাঁড়িয়ো না তার সম্মুখে
হ'য়ে বাধা স্বরূপ। 
তুমি জ্বলো আর জ্বালো
হ'য়ে প্রভুর আলো।
জীবনটা যন্ত্রণাময়, 
যদি না থাকে জীবনে দয়াময় জেনো।
যদি থাকে শয়নে-স্বপনে-জাগরণে দয়াময়
জীবনটা হবে নিশ্চিত আনন্দময়।
জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া 
কে যেন ভুতের মতো বয়।-
মানুষকে নিয়ে খিল্লি করা যাদের স্বভাব
নিশ্চিত জেনো রক্তে আছে 
তাদের শুদ্ধতার অভাব!
মনে পড়ে কত শত কথা, 
মনে পড়ে যৌবন গাথা!
মনে পড়ে তোমার ছবি, 
মনে পড়ে ভুলতে না পারা ব্যথা!!
এই নিয়ে আছি বেঁচে বেশ,
দুঃখ, যন্ত্রণা না আনন্দ বন্ধু,
জানি না কোনটা অশেষ।
দুখ-কষ্ট-লাঞ্ছনা-অপমান-অপবাদ
দিল যে বন্ধু তাদেরও দিলাম দাওয়াদ
এসো বন্ধু, যাওয়ার সময় হয়েছে শুরু
বুকের মাঝে এসো, ডাকছে দয়াল গুরু
মিটে যাক সব মিথ্যে অকারণ সব বিবাদ।