Powered By Blogger

Saturday, March 4, 2023

কবিতাঃ সাত রঙা রঙ ঝরে।

এই হাসি এই কান্না!!!!!!!!!!
কি ব্যাপার বুঝতে পারি না।
তবে একটা জিনিস বুঝেছি
জীবন নিয়ে বিব্রত বহুদিন তুমি!!
অস্থিরতাকে জীবনে করেছো বন্ধু
চাওয়া না পাওয়ার মাঝে
করেছো অভিমানকে সাথী!
তাই দ্বন্দ্ব সংঘাত অনিবার্য
অনিবার্য জীবনের নীলাকাশে
ভয়ংকর কাল রাতি।
রঙেরা সব রঙিন আছে
মনের বন্ধ দরজার 'পারে
হাট ক'রে দাও খুলে সব
রাঙিয়ে নেবার তরে।
চোখ মেলে দেখো চেয়ে
বাহিরে ঐ ঝিরঝিরিয়ে
রামধনুর সাত রঙ্গা রঙ ঝরে!!!!!

( লেখা ৫ই মার্চ'২০১৫)

কবিতাঃ যেও না বিরাট শিশু হ'তে।

বিপ্লব, বিদ্রোহ, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ
কবিতায়, গল্পে, উপন্যাসে।
কাল্পনিক অত্যাচারে সাজছো ক্ষতবিক্ষত সাজে
কবিতায় বিপ্লবী হাসি হেসে!
বৃথা হ'ল এ জন্ম তোমার, ব্যর্থ হ'ল এই সফর।
বিধির বিধান বুজলি না তুই রাখলি না তার খবর;
বিধাতার সাথে করছো বেইমানি তুমি জবর!!
খেলিছো এ বিশ্ব লয়ে
ক্ষুদ্র মানব শিশু হীনমনে।
প্রলয় ধ্বংস তব পুতুল খেলা
গরজনে বিশু গরজনে।
শীর্ণ দেহ আবাসে
তুমি মগ্ন বৃত্তি বিলাসে!
ভাঙ্গিছ গড়িছ নীতি ক্ষণে ক্ষণে
গরজনে বিশু গরজনে।
দীক্ষা শিক্ষা শাদি খেলনা তব হে উদাসী
পড়িয়া আছে ফাটা পায়ের কাছে জ্ঞান রাশি।
অনিত্য তুমি হে অনুদার
সুখে-দুখে ব্যভিচার।
হাসিছ খেলিছ তুমি রিপু সনে
গরজনে বিশু গরজনে।
যা ইচ্ছা তাই করতে পারো,
খেলতে পারো এ বিশ্ব লয়ে,
তুমি ক্ষুদ্র বিশু আনমনে!
কিন্তু খবরদার, মানুষ তুমি
যেও না বিরাট শিশু হ'তে ।

(লেখা ৪ই মার্চ'২০১৮)

Friday, March 3, 2023

কবিতাঃ জীবন্ত এক মমি।

বেরিয়ে এসে বিশ্ব জুড়ে ঘরে ফিরেই ফাটা বাঁশের সুরে
যত্ন ক'রে খোঁচা মেরে জোর ক'রে দোষ ধ'রে ধ'রে
দাও উগলে থালার পরে বুকের মাঝে জমিয়ে রাখা 
যত উচ্ছের পায়েস!
ইচ্ছের ডানা মেলে যেথাসেথা পরাণ খুলে 
উড়ে এসেই জুড়ে দিলে 
জীবনে কিছুই না পাওয়ার কান্না আর দুঃখ, 
সংসার মাঝে করতে না পারার আয়েশ!! 
বাঃ! বেশ! বেশ!
আয়েশ ক'রে পায়েস খাও আর যত্রতত্র 
পাখনা লাগিয়ে উড়ান লাগাও
তবুও বলো রাত্রিদিন বিঁধিয়ে তপ্ত সূঁচের মত কথার পিন, 
নিকম্মার ঢেঁকি!?
সকাল-সন্ধ্যে ফাঁদ পেতেছো, ভালোবাসায় ফাঁক রেখেছো
আর খালি উসুল ক'রে নেবার তালে নিজেকে দিয়েছো ফাঁকি!
এমনিভাবেই মরণ মাঝে জীবন খুঁজেছো 
আর জীবন নিয়ে জুয়া খেলেছো
হাওয়ায় হাওয়ায় জীবন উড়িয়ে 
রামধনুর রঙ ছড়িয়ে কথার জাল বুনেছো
আর অহংকারের ফণা তুলে 
গতর দুলিয়ে হেলেদুলে ভেবেছো, সব বুঝেছো তুমি!
মনে রেখো আসছে শেষের সেদিন হ'য়ে ভয়ঙ্কর 
সন্ধ্যা ছায়ায় ভরতে তোমার ঘর;
পায়ের তলায় দেখবে সেদিন নেই এক বিন্দু ভূমি!
হা হুতাশের যন্ত্রনায় ভরবে জীবন 
যেন জীবন্ত এক মমি!!
( লেখা ৪ই মার্চ'২০১৯)

প্রবন্ধঃ এসো ভেবে দেখি।

বন্ধু! কখনো ভেবে দেখেছো কি?

জীবনটা কেন ঘুরছে ঘুরে ঘুরে কাদের ঘিরে?
এসো ভাবি। অন্তত একবার।

কি করছো? কেন করছো? কার জন্য করছো?
কি দেখছো? কেন দেখছো? কাকে দেখছো? কার জন্য দেখছো?
কি শুনছো? কেন শুনছো? কাকে শুনছো? কার জন্য শুনছো?
কি ভাবছো? কেন ভাবছো? কাকে ভাবছো? কার জন্য ভাবছো?
কি পড়ছো? কেন পড়ছো? কার জন্য পড়ছো?
কি বলছো? কেন বলছো? কাকে বলছো?
কি হয়েছো? কেন হয়েছো? কার জন্য হয়েছো? কার সাহায্যে হয়েছো?

বন্ধু! আজ পর্যন্ত ক'রে, দেখে, শুনে, ভেবে, পড়ে, ব'লে যা হয়েছো তা কি ঠিক করেছো? ঠিক দেখেছো? ঠিক শুনেছো? ঠিক ভেবেছো? ঠিক পড়েছো? ঠিক বলেছো? ঠিক ঠিক হয়েছো? নাকি সবটাই ভুল! ভুল!! ভুল!!! ভুলের ঝুলে ভরা?
আর ফিরিয়েই বা দিয়েছো কি তাঁকে যার থেকে পেয়েছো যা কিছু? ভেবে দেখছো কি? কুৎসা, নিন্দা, অপবাদ, অপমান, সমালোচনা ইত্যাদি যা কিছু নিন্দনীয়, যা কিছু তোমার জীবনকে, দশ ও দেশকে ধ্বংস করে তা ছাড়া কি ফিরিয়ে দিয়েছো তাঁকে? ছোট্ট এ সফর! চলে যে যেতে হবে কাল সকাল হ'লেই ভেবে দেখেছো কি? ভেবে দেখেছো কি একবারও চলে গেলে আর এ জীবনে সুযোগ পাবে না তাঁর জন্য কিছু করার, তাঁকে ফিরিয়ে দেবার? আবার যে আসতে হবে তা জানো তো? কি হ'য়ে আসবে? এই অমূল্য মনুষ্য জীবন পাবে তো? ভেবে দেখো একবার! অন্তত একবার!
নিজেকে নিজের দেখা সম্পূর্ণ হয় একান্তে নিভৃতে নির্জনে দয়াল প্রভুর সাথে একাত্মা হ'য়ে যখন এই কথা ভাবি।
( লেখা ৪ই মার্চ'২০২১)

প্রবন্ধঃ নেতাজী ও বাঙালি!

ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান নেতাজীকে নিয়ে একটা লেখায় মন্তব্য করেছিলাম। মন্তব্য করেছিলাম নেতাজীর বেডরুমে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ফটো রাখা নিয়ে ছবি সহ একটা পোষ্টকে কেন্দ্র করে। সেই মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হ'য়ে যায় অশ্লীল গালাগালি। 

মন্তব্য ছিল নিম্নরূপ:

নেতাজী সব বুঝেও শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে গুরুপদে বরণ ক'রে নিতে পারেননি। পারেননি নিজের পিতামাতার গুরুকে চিনতে। শ্রদ্ধা ভক্তি অবশ্যই তিনি করতেন ঠাকুরকে কিন্তু জীবনের দাঁড়া হিসেবে তাঁকে জীবনে গ্রহণ ক'রে উঠতে পারেননি, স্থান দিতে পারেননি জীবনের কেন্দ্রে। ঠাকুরের ফটো অবশ্যই রেখেছিলেন ঘরে কিন্তু হৃদ মাঝারে রেখে উঠতে পারেননি। নেতাজীর মত মানুষ যাঁর পিতামাতা ঠাকুরের দীক্ষিত ছিলেন তাঁর ঠাকুরকে প্রশ্নশূন্য ও দ্বিধাহীন চিত্তে জীবনের কেন্দ্রে বসাতে সময় হ'লো না এর থেকে দুর্ভাগ্য আর কি হ'তে পারে!? নেতাজী বিবেকানন্দের অনুগামী ছিলেন কিন্তু আমরা কোথাও পাই না তিনি রামকৃষ্ণের অনুগামী ছিলেন! তিনি তিন তিনবার ঠাকুর দর্শনে এসেছিলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাঁকে চিনতে পারেননি। স্বাধীনতার উত্তাল হাওয়া তাঁকে মাতাল ক'রে ছুটিয়ে নিয়ে বেরিয়েছিলেন! তামাম দেশবাসীর দুর্ভাগ্য তিনি যদি ঠাকুরকে তাঁর পিতামাতার মত দ্বিধাহীন চিত্তে জীবনের কেন্দ্রে বসাতেন তাহ'লে দেশ আজ ল্যাংড়া হ'য়ে পঙ্গু হ'তো না! তিনি ঠাকুরের কাছে এলেন, ঠাকুরকে দেখলেন কিন্তু জানলেন, বুঝলেন কিনা জানি না কিন্তু একথা সত্য তিনি নিজের জীবনে ধরলেন না ঠাকুরকে, ঠাকুরের জীবন দর্শনকে! এই ফাঁক তাঁকে ফাঁকির ফাঁকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিয়ে আমাদের থেকে, ভারতবাসীর থেকে কোথায় কোন অন্ধকারে যে নিয়ে গিয়ে এক বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি ক'রে দিয়ে গেল যা আজও আমাদের ব'য়ে নিয়ে বেড়াতে হচ্ছে!!!!!!!! ঠাকুরকে যদি তিনি গ্রহণ করতেন, জীবনের কেন্দ্রে বসাতেন, তাঁর নির্দেশ মত চলতেন, নিজেকে পরিচালিত করতেন তাহ'লে দেশ তথা বিশ্ব এক দেশ তথা বিশ্বনেতাকে পেত আর গোটা পৃথিবীতে নতুন যুগের সূচনা হ'তো যা আজ বি-রা-ট ক্ষতিতে পরিণত হ'লো!!!!! নেতাজীর মত মানুষেরা যদি ঠাকুরকে চিনতে না পারেন তাহলে তার ক্ষয়ক্ষতি তো পরবর্তী প্রজন্মকে বইতে হবে যা ব'য়ে চলেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম!!!!!!
উপরের এই মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হ'য়ে যায় জ্ঞানে, গরিমায়, বংশ মর্যাদায় অসামান্য গুণের অধিকারী এক শ্রেণীর বালখিল্য নেতাজী প্রেমীদের নেতাজীর প্রতি, নেতাজীর দেশপ্রেম ও দেশভক্তির প্রতি প্রেম-ভালোবাসার উজ্জ্বল নিদর্শন!!!!!!
সত্য বন্ধু! কি বিচিত্র এই বাঙালি জাত!! পৃথিবীতে একটা জাত আছে যারা একই সঙ্গে বিশ্বের দরবারে প্রশংসিত ও কলঙ্কিত!!! এই জাতের মানুষের মুখ দিয়ে, কলম দিয়ে বেরোয় "আমার সোনার বাংলা! আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়ি নদীটির তীরে এই বাংলায়, বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে চাই না" ইত্যাদি হীরে জহরত দিয়ে মোড়া সুগন্ধিতে ভরপুর মন মাতানো, প্রাণ জুড়ানো শব্দের মালা আবার এই বিচিত্র জাতের এক শ্রেণীর মানুষের মুখ দিয়ে, কলম দিয়ে বেরোয় বাংলা, ভারত তথা বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময় বাঙালী শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের উদ্দেশ্যে উচ্চারিত "ল্যাওড়া, বাড়া, পোঁদে পুরুষোত্তম, বাচ্চা পয়দা, মাল, গাঁজাখোর ইত্যাদি ইত্যাদি দিয়ে মোড়ানো বাছা বাছা দুর্গন্ধযুক্ত বাংলা শব্দের সম্ভার এবং কটূক্তিতে ভরা নানা নোংরা কথার ফুলঝুরি!!!!!!!! এরা সবাই বাঙালী!!!!!!! আবার এদের মত শরীরে মনে আত্মায় নোংরা ভাষার অধিকারী এবং সবজান্তা বাংলা ও বাঙালির কলঙ্কিত বিচিত্র বাঙালি জীবেরা নেতাজীর মত বাংলা তথা ভারত রত্নের মূল্যায়ণ করে!!!!!!! এই অদ্ভুত বাঙালি জাতটার মানুষেরাই আজকের গিরগিটি বাঙালির মত সেদিনও বাংলার তথা ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান নেতাজীকে বলাৎকার ক'রে ক'রে দেশের ভিতরে ও বাইরে জেরবার করেছিল আর সুযোগ ক'রে দিয়েছিল তাঁর শত্রুদের!!!!! এই বাংলার বুকে ভারত তথা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, দেশবন্ধু, রামমোহন, মধুসূদন, বঙ্কিমচন্দ্র, বিবেকানন্দ ইত্যাদি ইত্যাদিদের মত মহান মহান বাঙালি আত্মাদের কম হেনস্থা হ'তে হয়নি এই অদ্ভুত বাঙালি জাতটার হাতে, এঁদের বলাৎকার ক'রে ক'রে পেছন মেরে শেষ ক'রে দিয়েছিল এই বালখিল্য অদ্ভুত বাঙালি জাতটা, এদের হাতে কম অপমানিত ও লাঞ্ছিত হ'তে হয়নি ইনাদের! গালাগালি, অশ্লীল-কুশ্লীল কাঁচা কাঁচা মুখরোচক ভাষায় ক্ষতবিক্ষত হ'তে হয়েছে এই বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান ঈশ্বরের জীবন্ত রূপ মহাপ্রভু ও রামকৃষ্ণকে!!!!! তাই বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময় পুরুষ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে নিয়ে বলাৎকার করবে এ আর এমন কি বিস্ময়ের ব্যাপার! এই বলাৎকারের রক্ত তো বংশপরম্পরায় ব'য়ে চলেছে এদের রক্তে! সেই মহান বাঙালির মহান ট্র্যাডিশন সমানে ব'য়ে চলছে আজও আর যাবেও আগামীতে ধ্বংসের শেষ দিন পর্যন্ত। এদের ধারণা এরা সব বোঝে, সব জানে অন্যেরা সব চার অক্ষর। এদের মুখ দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত গালাগালি বের হ'তে বিন্দুমাত্র সময় লাগে না, দ্বিধাবোধ হয় না। এরা ভাবে এরা অশ্লীল ভাষা প্রয়োগের একচেটিয়া এজেন্সি নিয়ে নিয়েছে আর কেউ গালাগালি দিতে পারে না বা জানে না। ওই পোস্টে অনেক মন্তব্যকারী ছিল যারা ইচ্ছে করলেই প্রত্যুত্তরে অশ্লীল-কুশ্লীল ভাষার বন্যা ছুটিয়ে দিতে পারে কিন্তু দেয় না! দেয়নি বা দেয়না এটা তাদের গুরু শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দেওয়া পবিত্র সুসংস্কার। আর এই পবিত্র সুসংস্কারকে এরা দুর্বলতা ভাবে। এরা এইসমস্ত সুসংস্কারে সংস্কৃত পবিত্র আত্মাদের মুখোমুখি হয়নি তাই জানে না এদের আসল রূপ! আর এদের মত নিকৃষ্টতম ঘৃণ্য আত্মারাই আবার নেতাজীর মত মহান আত্মাদের হ'য়ে ওকালতি করে!!!!!!!!! সত্য বাঙালি! কি বিচিত্র এই জাত!! গোটা ভারত তথা বিশ্বের মানুষরা এই অদ্ভুত জাতটাকে এই সমস্ত মানুষদের জন্য ঘৃণা করে, কটূক্তি করে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে।
(লেখা ৪ই মার্চ'২০২০)

কবিতাঃ তোর পানে সবাই ধায়!

দক্ষিণেশ্বরে শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের ঘরটি দেখে মনে হয় তিনি নিঃসঙ্গ একেলা কেঁদে কেঁদে মাকে গান গেয়ে বলছেন,

মা! মাগো তোর পায়ে পড়ি, 
আমায় ছেড়ে দে মা, কেঁদে মরি। 
সবাই আসে, সবাই যায় 
তোর পানে সবাই ধায়! 
কেউ আসে না আমার ঘরে
একলা ঘরে আমি কেঁদে মরি;
আমায় ছেড়ে দে মা,
পালিয়ে আমি বাঁচি।
আমি একাকি পথ চেয়ে রই;
কেউ আসে না আমার কাছে, 
একলা ঘরে আমি একাকি, 
নেই কেউ আমার সই। 
তোর পানে সবাই ছোটে! 
আমার পাশে নেই কেউ। 
তুই বোবা হ'য়েও রাণী হ'লি 
আমি শালা কথা বলা ফেউ? 
তোর জন্য মন্ডা মেঠাই 
আনে সবাই গন্ডা গন্ডা! 
যদিও ঐসব সব পচা মেঠাই 
আমার বেলায় লবডঙ্কা। 
আমার চেয়ে তুই মুখ্য হ'লি 
আর, আমি হ'লাম আজ গৌণ! 
তোর বেলায় বাজে কাঁসর ঘন্টা 
আমার বেলায় সব শালা মৌন! 
রোদে জলে ভিজে ভিজে 
লাইনে দাঁড়িয়ে শুয়ে ব'সে 
থাকে সবাই, সবাই তোরে পুজে! 
আমি থাকি পিছনে পড়ে 
কেউ আসে না আমার তরে
একলা ঘরে আমি মরি
মানুষ খুঁজে খুঁজে।
ছেড়ে দে মা আমায় তুই
পালায় আমি লুকিয়ে মুখ বুজে।
ভক্তের যত সব মনস্কামনা, 
আছে যত মনোবাসনা 
তুই তো জানিস তোর আড়ালে 
কিন্তু আমিই পূরণ করি! 
কিন্তু মন্দ কপাল আমার ওরে 
কেউ না আমায় খোঁজে। 
আমি থাকি এক কোনাতে 
অবহেলায় থাকি পড়ে, 
থাকি মাথা গুঁজে।। 

এ আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধি।

Thursday, March 2, 2023

কবিতাঃ বসতে দিও প্রভু।

বৃত্তি সুখে মাতাল হ'য়ে আছো তুমি বিন্দাস।
রিপুর তালে তাল মিলিয়ে ছুটছো বন্ধু জিন্দা যেন লাশ!
এর পরেও করছো তুমি তাঁর আশীর্বাদের আশ!?
তাঁর কাজের তরে আমি বাড়িয়েছিলাম হাত,
চেয়েছিলাম সাহায্য। সাহায্য তো দূরের কথা,
পাইনি সহানুভূতিটুকুও; পেয়েছি শুধু আচরণ অন্যায্য।
তাঁর ইচ্ছায় আমার ইচ্ছা, নিজের ইচ্ছা কিছু ছিল না।
তাঁর ইচ্ছার মাঝে তোমার ইচ্ছার চালালে কোদাল
শাবাশ বন্ধু নেই তার কোনও তুলনা!
হাত বাড়ালেই ভেবেছিলাম নাড়ু পাবো
তাই বাড়িয়েছিলাম হাত;
বিশ্বাস ক'রে গেলাম ঠ'কে বন্ধু মারলে পাছায় লাথ,
আর, করলে মাথায় অকারণ পদাঘাত!
আমি ধর্ম বুঝি তাই,
ঈশ্বর আর আমার মাঝে কিছুই আর নাই
জীবন জুড়ে শুধুই তুমি যেদিকে তাকাই।
জীবন একটাই কিন্তু মরার আগে মরছো কেন বারবার?
বৃত্তি সুখের উল্লাসে মন কেন ছুটছে দুর্নিবার!?
আমি ধর্ম পালন করি,
মানে, রক্তমাংস সংকুল আমান ঈশ্বর
তোমার চলন বুকে ধরি।
ধর্ম কাকে বলে তা' আমি জানি না,
জানি শুধু এটুকুই
ঈশ্বর তোমার জীবন্ত উপস্থিতি ছাড়া
আর কিছুই মানি না।
তুমি আসো, আসো বারবার,
এবার লীলা তোমার অতীব চমৎকার!
আচার্য পরম্পরা মাঝে খেলছো তুমি প্রভু,
খেলছো অনিবার!
তোমার মাথার সামনে যারা আছে ব'সে
তারা থাকুক ব'সে সেথায়;
বসতে দিও আমায় প্রভু তোমার পায়ে
জীবন আছে যেথায়।
( লেখা ২রা মার্চ'২০১৮)