Powered By Blogger

Monday, July 31, 2017

হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্রের নব আনন্দে পথ চলা ও ইষ্টপ্রাণতা, ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থরক্ষা??? (৫)

হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্রের ১৪-০৫-২০১৭ রবিবার ভদ্রকালী মহিলা ক্যাম্প থেকে নব আনন্দে (!?) পথ চলা শুরু হওয়ার মধ্যে দিয়ে এলাকায় যে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে দীক্ষিত-অদীক্ষিত মানুষের মনে সেই প্রতিক্রিয়া স্বরূপ হিন্দমোটরের গুরুভাইবোনেদের কাছে আমার জিজ্ঞাস্য, মনে পড়ে আপনাদের ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ঘটনাটা? একটু মনে করিয়ে দিই। আমরা ভদ্রকালী অঞ্চলের গুরুভাইবোনেরা মিলে একটা সমবেত সৎসঙ্গের আয়োজন করেছিলাম স্থানীয় বড় ক্লাব শিবাজি স্পোর্টিং’-এর হলঘরে এবং অর্চনা দত্ত মা হিন্দমোটর মন্দিরে গিয়ে তা জানিয়ে অনুষ্ঠানের তারিখ লিপিবদ্ধ করে এসেছিল। তখনও পর্যন্ত ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্রের জন্ম হয়নি। যথারীতি ঋত্বিক রতন সরকারদা কয়েকজন গুরুভাইকে নিয়ে এসেছিলেন সেইদিনের অনুষ্ঠানে। সেদিনের অনুষ্ঠানে হিন্দমোটর থেকে আগত গুরুভাইবোনেরাই গান, কীর্তন, বক্তৃতা করেছিলেন, ভদ্রকালীর কেউ একজনও কোনও কিছু করেনি। আর ছিল শ্রদ্ধেয় ঋত্বিক মণীলাল চক্রবর্তীদা ও ঋত্বিক সুজিত দাস দা। সেদিন ভদ্রকালীতে বহুদিনপর আয়োজিত সমবেত ঐ বিশেষ সৎসঙ্গ অনুষ্ঠানে রতন সরকারদার নেতৃত্বে সৎসঙ্গ দেড়ঘন্টা ছাড়িয়ে দুঘন্টা হয়ে গেছে এই অজুহাতে হৈ হৈ করে হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে হিন্দমোটর থেকে আগত সবাই তাদের স্ত্রীদের উঠিয়ে নিয়ে অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে গেছিল অনুষ্ঠান শেষ হবার আগেই। মুহূর্তের মধ্যে সৎসঙ্গ বন্ধ হয়ে গেল। তখন বাইরের একজন আমন্ত্রিত শিল্পী গান গাইছিলেন। এরকম বিশৃঙ্খল অবস্থা দেখে তিনি গান থামিয়ে চুপ করে বসে রইলেন। অপমানে আর গাইলেন না। অনুষ্ঠান পরিচালনা করছিলেন ঋত্বিক মণিদা। ঋত্বিক মণিদা আর ঋত্বিক সুজিতদা হতভম্ব হয়ে চুপ করে রইলেন। রতন সরকারদারা দোতলা থেকে নেবে নীচে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কি করেছিলেন সেই ঘটনা বা দৃশ্য মনে আছে কিনা আপনারা গুরুভাইরা যারা সেদিনের অনুষ্ঠানের সাক্ষী ছিলেন তারা জিজ্ঞেস করুন রতনদাকে। যাবার সময় ব'লে গেলেন অর্চনা মাকে যে অর্চনা মা নাকি তাদের ডেকে এনে অপমান করেছেন। আগে জানলে তারা আসতেন না। তবে মন্দিরে গেলে অর্চনা মাকে তারা মজা দেখাবেন। আমরা বুঝলাম না রতনদাদের আগে কি জানানো হয়নি আর অর্চনা মাকে তারা কি মজা দেখাবেন!!!!!!!! আমাদের অনুষ্ঠানের আয়োজক গুরুভাইয়েরা রতনদারা সবাই চলে যাচ্ছে দেখে তাদের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই অজ্ঞতাবশতঃ প্রসাদ দিয়েছিলেন। সেদিন রতনদারা সবাই ভুলে গেছিলেন যে রাস্তার দুপাশের পথ চলতি লোক, দোকানদার ও ক্রেতা সবাই মিলে হাঁ করে দেখছে সাদা জামা কাপড়ে সুসজ্জিত ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ভক্তদের। রাস্তার আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা এই অদীক্ষিতরা জড়ো হয়ে দেখছে, ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের সাদা জামা কাপড় পরিহিত ভক্তেরা চীৎকার চেঁচামেচি করছেন আর প্রসাদের প্যাকেট নিয়ে নর্দমায় ফেলছেন, রাস্তায় পা দিয়ে মাড়াচ্ছেন, নীচে গায়ক স্বরূপ ঘোষ ও খোল বাদক তড়িৎ দাশগুপ্তের (দুজনেই) স্কুটারের সীটে আলুরদম মাখিয়ে দিচ্ছেন, যেহেতু তারা তাদের অনুসরণ করে অনুষ্ঠান থেকে উঠে আসেনি। তার কিছুক্ষণ পর রতনদারা সবাই চলে গেলেন কিন্তু তারা জানতে পারলেন না ঐ সময় রাস্তার দর্শকবৃন্দ আপনাদের সম্পর্কে কি কি কটূক্তি করেছিল। এই কটূক্তি ও সমালোচনা চলেছিল কয়েকদিন। লজ্জায় বেরোতে পারিনি, যেতে পারিনি ঐ রাস্তায় কয়েকদিন। দেখা হলেই শুনতে হতো ব্যঙ্গ বিদ্রুপ। এখন আর অত মনে নেই; তবুও যা মনে আছে তালো, “ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের হিন্দমোটর শাখা আর ভদ্রকালী শাখার মধ্যে লড়াই বেধেছে। রাজনৈতিক দলের গোষ্ঠী দ্বন্ধের মত সৎসঙ্গে সৎসঙ্গীর গোষ্ঠীদ্বন্ধ। এরা আবার বাঁচার কথা আর বাড়ার কথা বলে।আর বাড়ার কথাবলার সময় অতি উৎসাহী কিছু যুবক কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করতো। আপনি ঋত্বিক হয়ে সেদিন এটা কি করে করেছিলেন আর আজই বা কি করে নব আনন্দে পথ চলার এমন কাজ করলেন যা আগামী আচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদাকে আঘাত দিল, অপমান করলো? বাবাইদাদার আশীর্বাদপূত ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্রকে উপেক্ষা করার, ভাঙার মত ঘৃণ্য কাজে নিজেকে জড়ালেন কেন রতনদা? কি অপরাধে আপনারা এমন করলেন? গত ১৯ মাস ধরে ভদ্রকালীর গুরুভাইবোনেরা বাবাইদাদার আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে এই বিরাট অঞ্চলে প্রাণপাত করে বেড়াচ্ছে ঠাকুরকে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবার জন্য আর তার ফলে দীক্ষার জন্য যে জমি তৈরি হচ্ছে তাতে তো অনুষ্ঠান পরবর্তী সময়ে আপনাদের দীক্ষা দিতে সুবিধা হচ্ছে। অনেক মানুষ দীক্ষা নেবার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠছে আর আপনারা আপনাদের পাঞ্জার অধিকারে তাদের ঠাকুরের সৎনামে দীক্ষিত করার সুযোগ পাচ্ছেন; তাই নয় কি? আমরা দীক্ষা দেবার অধিকারী নই। আমরা সাধারণ দীক্ষিতরা দীক্ষার জন্য জমি তৈরি করে দিতে পারি মাত্র। এর কি কোনও মূল্য নেই? যত মূল্য, গুরুত্ব আপনাদের পাঞ্জাধারীদের? ভুল বলে থাকলে বলবেন ভুল সংশোধন করে নেবো। তিনতলা হিন্দমোটর মন্দির নিয়ে, এতবড় হিন্দমোটর অঞ্চল নিয়ে মন ভরছে না? রতনদারা হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্র থেকে হিন্দমোটর অঞ্চলে ঠাকুরের যে কাজ করছেন হিন্দমোটর অঞ্চলের সেই কাজে এসে কোনোদিন অন্য কোনও কেন্দ্র কি নাক গলায় বা গলিয়েছে না-কি কোদাল চালায় বা চালিয়েছে? এমন কোনও ঘটনা দেখাতে পারবেন রতনদারা? একটা কেন্দ্রের অঞ্চলে গিয়ে কেন্দ্রকে অন্ধকারে রেখে আর একটা কেন্দ্র প্রকাশ্যে মাইক লাগিয়ে সেই কেন্দ্রের নাম ঘোষণা করে সৎসঙ্গের আয়োজন করতে পারে? কেন, কি বুদ্ধিতে এমন করলেন রতনদারা? এতদিন কেন করেননি? ১৯ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন? কেনওহিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্র’-এর বয়স অর্ধশতাব্দী পার হয়ে যাবার পর মনে হল মন্দির দূরবর্তী অঞ্চলে গিয়ে যাজনের মাধ্যমে মানুষকে মন্দিরমুখী করতে হবে? কেন মানুষকে ইষ্টমুখী করার কথা মাথায় আসেনি বা আসেনা? ভদ্রকালীতে বাবাইদাদার আশীর্বাদ প্রাপ্ত হওয়ার অনেক আগে থেকেই ভদ্রকালীতে বড় বড় সৎসঙ্গের আয়োজন হয়ে এসেছে তখন আপনারা বা হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্র কোথায় ছিল রতনদা? হঠাৎ এমন পদক্ষেপ কেন? একে কি বলা হবে? এটা কি সংহতিতে ভাঙন ধরানো নয়? সংহতিতে ভাঙন ধরানোর ব্যাপারে ঠাকুর কি বলেছেন রতনদারা জানেন তো না-কি জানেন না? তাহলে জেনে রাখুক রতনদারা ঠাকুর কি বলেছেন। ঠাকুর বললেন, “সংহতিতে যে বা যারা ভাঙন ধরায় তারা ছেদক।তা’ ‘হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্রঠাকুরের কথা অনুযায়ী ছেদকআখ্যা পেল না? তাহলে কি ধরে নিতে হবে হিন্দমোটর অঞ্চলের সমস্ত গুরুভাইবোন ছেদকআখ্যা পেয়ে গেল? শ্রীশ্রীবাবাইদাদার নাম ভাঙিয়ে ভদ্রকালী অঞ্চলে এসে হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্রের ইষ্টপ্রাণতা, ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা, ইষ্টস্বার্থরক্ষার নামে সংহতিতে ভাঙন ধরাবার জন্য কোদাল চালাবার সিদ্ধান্ত কার? এই সিদ্ধান্ত কি দেওঘরের? এই সিদ্ধান্ত কি জেলার? এই সিদ্ধান্ত কি মন্দিরের? মন্দির কি কারও একার পৈতৃক সম্পত্তি যে যা ইচ্ছা তাই করবে আর তার দায় বইবে সমস্ত গুরুভাইবোনেরা? যাই হক ঋত্বিক রতনদার নেতৃত্বে মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত কিছু গুরুভাই ভদ্রকালীতে ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্রকে ভাঙার জন্য, সংহতিতে ভাঙন ধরানোর কাজে যে নেতৃত্ব দিলেন ইতিহাস তার সাক্ষী হয়ে রইলো। একটু ভেবে দেখবেন ঠাকুর কি ভাবে নেবেন এই সমস্ত কীর্তিকলাপ?
ক্রমশঃ


হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্রের নব আনন্দে পথ চলা ও ইষ্টপ্রাণতা, ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থরক্ষা??? (৪)

(পূর্ব প্রকাশের পর)

হিন্দমোটরের গুরুভাইদের কাছে আমার আবেদন ও অনুরোধ আপনারা জিজ্ঞেস করুন হিন্দমোটরের ঋত্বিক রতন সরকারদাকে, তিনি কেন, কিসের জন্য এমন দিগ্বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে হিন্দমোটর থেকে ভদ্রকালীতে লম্ফ দিয়ে ঝম্প মারলেন? উনি তো ঋত্বিক? উনি এমন করলেন কেন? আপনারা জিজ্ঞেস করুন উনাকে, উনার মনে পড়ে কিনা, আজ থেকে ৭ বছর আগে ২০১১ সালে ভদ্রকালী শিমুলতলায় দুর্গা মঞ্চে আমরা ভদ্রকালীর কয়েকজন গুরুভাইয়েরা সৎসঙ্গের আয়োজন করেছিলাম। তখন ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্র’-এর জন্ম হয়নি। ২০১১-এর অনেক আগে থেকেই ভদ্রকালী এমনকি হিন্দমোটরের বিভিন্ন জায়গায়ও এই আজকের ১৯ মাসের মত বিশেষ সৎসঙ্গ-এর আয়োজন করেছিলাম; সেখানে কয়েকটাতে উনিও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ২০১১-এর ২৫শে ডিসেম্বর শিমুলতলার অনুষ্ঠান আয়োজনের সময় উনি স্বর্গীয় জয়নাথদাকে ধমকে বলেছিলেন, ভদ্রকালী শিমুলতলায় সৎসঙ্গ আয়োজন করার জন্য হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্র থেকে permission নিয়েছিলেন? অথচ ভুলে গেছিলেন তিনি যেদিন জয়নাথদা, সুকুমারদা, দেবনাথদারা হিন্দমোটর মন্দিরে গিয়েছিলেন সৎসঙ্গ আয়োজনের তারিখের কথা জানাতে তখন উনি তাদের বলেছিলেন আপনাদের ইচ্ছামত তারিখ ঠিক করলে হবে না, সৎসঙ্গ আয়োজন করলে হবে না; উনারা যেদিন ডেট দেবেন সেদিন সৎসঙ্গ করতে হবে। উনাদের সেদিনের উদ্ধত ব্যবহারে জয়নাথদারা চলে আসেন আর ঐ নির্দিষ্ট দিনেই সৎসঙ্গ হয়। তারপরে কে বা কারা হিন্দমোটর থেকে ঋত্বিক শ্রদ্ধেয় মণিলাল চক্রবর্তীদাকে ফোনে বারণ করেন বারবার, উনি যেন ভদ্রকালী শিমুলতলার ঐ অনুষ্ঠানে না আসেন, পৌরোহিত্য না করেন। ফোন করে বলা হয়েছিল, কয়েকজন মোদো, মাতাল, লম্পট মিশনারি ঐ সৎসঙ্গের আয়োজক যাদের আমরা মন্দির থেকে তাড়িয়ে দিয়েছি। সেদিন এই কথাগুলি যাজক রথীন্দ্রনাথ দাস মহাশয় যিনি শিমুলতলার ঐ সৎসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি বলেছিলেন আমাদের। আর এখন সেই যাজক রথীন্দ্রনাথ দাস যিনি ঐ সেদিনের মোদো, মাতাল, লম্পট, মিশনারি আখ্যা পাওয়া, মন্দির থেকে তাড়িয়ে দেওয়া একজন যাকে ডেকে দেওঘর থেকে বাবাইদাদার আশীর্বাদ নিয়ে ফিরে এসে প্রথম ভদ্রকালীর আশীর্বাদের বিষয় জানিয়ে বলেছিলাম, আপনি এই ভদ্রকালী অঞ্চলের একজন মাত্র পাঞ্জাধারী যাজক আপনি এই বাবাইদাদার আশীর্বাদপূত ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্র’-এর সামনে থেকে কেন্দ্রকে এগিয়ে নিয়ে যান। কিন্তু তিনি সৎসঙ্গ গুলিতে আসতেন, সামনে বসতেন, কীর্তনে নাচতেন, ঠাকুরের কথা বলতেন পরমুহূর্তেই সৎসঙ্গ শেষে কখনও কখনও সৎসঙ্গ চলাকালীন বাইরে বেরিয়ে এসে যারা বাইরে দাঁড়িয়ে গোয়েন্দাগিরি করতো কি হচ্ছে ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্রের সৎসঙ্গ অনুষ্ঠানে তাদের কাছে বলতেন এটা কি সৎসঙ্গ হচ্ছে না যাত্রা হচ্ছে? নিজে যখন অনেক সময় নিয়ে ঠাকুরের কথা বলে নেবে এলেন মঞ্চ থেকে তখন সৎসঙ্গের দেড় ঘন্টা অনেক আগেই পার হয়ে গেছে আর তিনি বলছেন, ‘দেড় ঘন্টার বেশী সৎসঙ্গ করছে এটা কি জলসা হচ্ছে? কখনো বলছেন, ‘বিশেষ সৎসঙ্গআবার কি? কোথায় কেন্দ্র? কে দেখেছে প্রকাশদাকে বাবাইদাদা আশীর্বাদ করেছে? একা একা গিয়ে প্রকাশদা আশীর্বাদ নিয়ে এলো? আশীর্বাদ নিতে হলে সবাইকে নিয়ে যেত দেওঘরে? কিন্তু কে বোঝাবে কাকে? দেওঘর থেকে ফিরে এসে যাকে প্রথম ডেকে বলেছিলাম এই আশীর্বাদের কাহিনী সে যদি রাত জেগে রামায়ণ পড়ার পর বলে, ‘সীতা কার বাপ?’ তাহলে কার কি করার আছে? যাকে বলেছিলাম আশীর্বাদ ঘটনাচক্রে হয়েছে, আশীর্বাদ আনবার জন্য কেউ যায়নি।
যাই হ, এখন যদি রতনদাকে কেউ বলে ভদ্রকালীতে ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্র’-এর জন্ম হওয়া সত্ত্বেও উনার নেতৃত্বে হিন্দমটোর সৎসঙ্গ কেন্দ্র কি করে সেখানে সৎসঙ্গ আয়োজন করে? উনি ভদ্রকালীতে হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্রের পরিচালনায় সৎসঙ্গ আয়োজনের জন্য ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্র থেকে permission নিয়েছিলেন? কথাটা কি খুবই ভুল এবং অযৌক্তিক হবে? এতে কি উনি রেগে যাবেন? আচ্ছা ঋত্বিক রতনদা হঠাৎ ১৯ মাস পর ভদ্রকালীতে সৎসঙ্গ করার জন্য ক্ষেপে উঠলেন কেন? হিন্দমোটর মন্দিরের বয়স তো অর্ধ শতাব্দীরও বেশী তা এতবছর কেন মনে হয়নি ভদ্রকালীর মানুষদের জাগাতে হবে, মন্দিরমুখী করতে হবে? সেখানে তো বাবাইদাদার আশীর্বাদে ১৯ মাস ধরে প্রতি মাসের শেষ রবিবার এবং মাঝে অন্য আরও বিশেষ কোন দিনে পরিকল্পিতভাবে বড় বড় সৎসঙ্গের আয়োজন হয়ে আসছে। শ্রদ্ধেয় ঋত্বিক রতনদা তো এসব খবর সব জানেন তাসত্ত্বেও ভদ্রকালীতে কি উদ্দেশ্যে, কেন ও কোন যুক্তিতে সৎসঙ্গ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন? উনি একজন ঋত্বিক হয়ে এবং অন্য একটা কেন্দ্রের (হিন্দমোটর কেন্দ্র) দায়িত্বে থাকা কর্মী হয়ে অন্য আর একটা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী বা কর্মীদের না জানিয়ে, আলোচনা না করে, অনুমতি না নিয়ে সেই কেন্দ্রে গিয়ে হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্রের নামে পাবলিকলি সৎসঙ্গ করে আসলেন? হিন্দমোটর ও জেলার আধিকারিকরা সবাই মিলে ভদ্রকালীতে ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্রকে অন্ধকারে রেখে কি ক'রে ইষ্টপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা করে আসলেন? এটাকে কি বলে? এইভাবে কি ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থরক্ষা হ'লো? যে নিয়ম রতনদা চালু করেছিলেন সেই নিয়ম ভেঙে দিলেন রতনদা নিজে? কেন? কিসের জন্য? রতনদা তো জানেন আপনি আচরি ধর্ম, পরেরে শেখায়’? ঠাকুর কি বলছেন, “মুখেতে আছে, ব্যবহারে নাই, সেই শিক্ষার মুখে ছাইতাই তো? ভুল বললাম? অন্যায় করলাম বলে? ভদ্রকালীতে সৎসঙ্গ করার মধ্যে দিয়ে বাবাইদাদার আশীর্বাদকে পদাঘাত করে একজন ঋত্বিক হয়ে বাবাইদাদাকে চরম অপমান করলেন না? রতনদার বিবেক কি বলে? আমার কথায় রাগ না করে একটু বিবেকের বুকে কান দিয়ে শুনুক রতনদা, বিবেক কি বলছে। সত্যি কি ইষ্টপ্রতিষ্ঠা, ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থরক্ষা হলো ভদ্রকালীতে বাবাইদাদার আশীর্বাদকে পা দিয়ে মাড়িয়ে বাবাইদাদার আশীর্বাদপূত কেন্দ্রকে উপেক্ষা করে, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে সৎসঙ্গ করে? আচ্ছা রতনদা বা অন্যান্য যারা যারা ওখানে ঐ অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তারা ভদ্রকালীতে সৎসঙ্গ করে প্রমাণ করলেন না যে তারা ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্রমানেন না? ভদ্রকালীতে সৎসঙ্গ করে আসার পর ঐ অঞ্চলের প্রতিক্রিয়া নিয়েছিলেন কি আয়োজকরা? উনার ভদ্রকালীর অনুগামীরা উনাকে জানায়নি সৎসঙ্গ করে আসার পর কি প্রভাব পড়েছে ভদ্রকালীর ঐ অঞ্চলে? সত্যি কথা রতনদাকে কে বলবে? সুব্রতবাবুরা তো নব আনন্দে পথ চলাতে মাতোয়ারা। পিছনে কে কি বলছে তার ধার ধারে কে? আমি বলবো শুনবেন? গ্রহণ করা আর না করা আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। 
আপনারা সৎসঙ্গ করে আসার পর সত্যিই ব্যপক সাড়া পড়েছে ভদ্রকালীর ক্যাম্প সংলগ্ন অঞ্চলে। সেটা কিসের সাড়াচায়ের দোকানে বসে চা খেতে খেতেমাঠের মধ্যে বসেক্লাবে ক্যারাম বা তাস খেলতে খেলতেঘরে টিভিতে খেলাসিরিয়াল দেখতে দেখতেরাস্তার উপরে দোকানে জিনিস কিনতে কিনতেপথ চলতে চলতে পথ চলতি মানুষ বলছে, “হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্র আর ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্রের মধ্যে লড়াই লেগেছে। হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্র ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্রের...............মেরে দিয়ে গেছে। এই সেই দল যারা কয়েক বছর আগে ভদ্রকালী শিবাজি স্পোর্টিং ক্লাবে ভদ্রকালীর গুরুভাইবোনেদের দ্বারা আয়োজিত সৎসঙ্গ অনুষ্ঠানে ক্যাচাল করে গেছিল। নিজেদের মধ্যে মিলমিশ নেইখালি গুরুপ বাজি, ............ আবার বড় বড় জ্ঞান ঝাড়েদুটো লবীর লড়াই। একটা বাবাইদাদা আর একটা অশোক দাদার লবীযেমন মুলায়ম সিং আর অখিলেশ সিং বাপবেটার লড়াই তেমনি লবী!!!! ইত্যাদি নানারকম কমেন্ট।“ গালাগালিগুলি লিখতে পারলাম না। তাই ডট ডট দিলাম। শুনতে শুনতে চোখমুখকান লাল হ'য়ে যাচ্ছিলমাথা গরম হ'য়ে যাচ্ছিল। সেইসময় মাথা ঠান্ডা রাখা খুব কঠিন ব্যাপার। ঠাকুরের দয়ায় বাবাইদাদার আশীর্বাদে বাবাইদাদার আমাকে বলা কথাগুলি এই কঠিন মুহূর্তে মনে মনে আউড়ে আউড়ে নিজেকে শান্ত রেখেছিলাম। এই ঘটনা আমাকে শিখিয়েছে আচার্য্য পরম্পরা কেন প্রয়োজন আমাদের জীবনে!!! এই ঘটনা আমাকে শেখালো প্রতীক গুরু পরম পূজনীয় শ্রীশ্রীবাবাইদাদার মধ্যে রেতঃ শরীরে কিভাবে সুপ্ত থেকে তিনি কঠিন সময়ের কঠিন মুহূর্তে হাত ধ'রে পার ক'রে দেন!!!! জয়গুরু।



Wednesday, July 5, 2017

হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্র ও নব আনন্দে পথ চলা ও


হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্রের নব আনন্দে পথ চলা

ইষ্টপ্রাণতা, ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থরক্ষা???” .......৩)

আগের “হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্রের নব আনন্দে পথ চলা ও ইষ্টপ্রাণতা, ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থরক্ষা???” ............(২) লেখায় লিখেছিলাম সুব্রতদার কথা অনুযায়ী বাবাইদাদা সুব্রতদাদের কি বলেছিলেন।
এবার সুব্রতদাকে একটু মনে ক’রে দেখতে বলি যে, দেখুন তো বাবাইদাদা আর কি বলেছিলেন সুব্রতদাদের যা ’সুব্রতদা তার ১৫।০৫।২০১৭ তারিখের পোষ্ট করা লেখায় লেখেননি। আসলে মনগড়া কথা যখন কেউ লেখে কারও নাম দিয়ে নিজের সুবিধা মত, যখন কেউ কারও মুখে নিজের পছন্দমত কথা বসিয়ে দেয় তখন মনে থাকে না কখন কোথায় কি কথা লিখেছিলাম। শুধু একটু ধরিয়ে দিই। আমার যতদূর মনে পড়ে, সুব্রতদা ‘ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্র’-এর পেজে লিখেছিলেন, “বাবাইদাদা বলেছিলেন ইষ্টপ্রসঙ্গে আলোচনা, প্রার্থনা, নাম ধ্যান ইত্যাদির জন্য মন্দির থেকে কিছু দূরে দূরে কয়েক কিলোমিটারের আশেপাশে ‘উপাসনা কেন্দ্র’ গড়ে তুলতে যা মূল মন্দির হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্র দ্বারা পরিচালিত হবে। যতদূর মনে পড়ে সম্ভবত সুব্রতদার সেই পোষ্টে কত কিলোমিটার দূরে সেটা উল্লেখ করেছিলেন, এবং তা’ করেছিলেন অত্যন্ত সচেতন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ‘ভদ্রকালী’ অঞ্চলের নাম না উল্লেখ করেই ‘ভদ্রকালী’ অঞ্চলকে বোঝাতে যে ভদ্রকালী অঞ্চল ঐ উল্লেখিত কিলোমিটারের মধ্যেই পড়ে এবং সেটা আবার ‘ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্র’-এর পেজেই পোষ্ট করেছিলেন আমাকে ও ভদ্রকালীর গুরুভাইবোনেদের কাছে আগাম বার্তা দিতে যে ভদ্রকালীরই কতিপয় ইষ্টপ্রাণ (?) গুরুভাই হিন্দমোটর মন্দির ও জেলার কার্যনির্বাহী সদস্যদের সহযোগীতায় পরিকল্পিতভাবেই আলেকজান্ডারের মত বাবাইদাদার নাম ভাঙিয়ে বাবাইদাদার নাম নিয়ে বাবাইদাদার আশীর্বাদপূত ‘ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্র’কে ধ্বংস ক’রে ভদ্রকালী অঞ্চলকে দখল করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভদ্রকালীকে হিন্দমোটরের সঙ্গে জোরজবরদস্তি অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে। সুব্রতদা ও তার নতুন সাথীরা এবং মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্তমান ইষ্টপ্রাণ গুরুভাইরা জানেন না তিল তিল ক’রে গড়ে ওঠা হিন্দমোটর মন্দিরের জন্য এই ভদ্রকালীর অবদানের কথা। এর জন্য সুব্রতদাদেরও যারা ভদ্রকালীর গুরুভাইবোনরা এই নব আনন্দের সাথে ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্রের সংহতি ভাঙার সঙ্গে যুক্ত তাদেরও গর্ব অনুভব করার কথা যে এই ভদ্রকালী আজকের হিন্দমোটর মন্দিরের অনেক সাক্ষ্য, স্মৃতি বহন করছে। কিন্তু কেউই তা’ আজ আর স্বীকার করে না আর নতুনরা তার ইতিবৃত্তও জানেন না। উল্টে সেই হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্র বাবাইদাদার আশীর্বাদে গড়ে ওঠা ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্রকে গুরুভাইবোনেদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে ধ্বংস করতে ও সংহতিতে ভাঙন ধরাতে সরাসরি ভদ্রকালীর বুকে প্রকাশ্যে সৎসঙ্গ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে নেবে পড়েছে। একে কি বলবো? ইষ্টপ্রাণতা? ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা? ইষ্টস্বার্থরক্ষা? না-কি অকৃতজ্ঞতা ও বেইমানী? গুরুভাইবোনেদের কাছে জিজ্ঞাস্য সৎসঙ্গ তাই চায়? বাবাইদাদা কি তাই চেয়েছিলেন? সুব্রতদারা ভদ্রকালীর লোক হ’য়েও সংহতিতে ভাঙন ধরানোর ছেদক হ’য়ে গেলেন? এতো ইতিহাস সৃষ্টি করলেন? আর এই ইতিহাস তো মৃত্যুর দিন পর্যন্ত সুব্রতদা ও তার ভদ্রকালীর সাথীদের তাড়া ক’রে বেড়াবে!!!!!

যাই হ’ক মনে পড়ে সুব্রতদার সেই পোষ্টের কথা? সেই পোষ্টে উল্লিখিত বাবাইদাদার কথা আর এখন বাবাইদাদার কথার সাথে কোনও মিল নেই? সম্পূর্ণ ঘুরে গেল? এখন সুব্রতদা বলছেন, বাবাইদাদা বলেছেন যজন, যাজন, সৎসঙ্গের মধ্যে দিয়ে দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষকে মন্দিরমুখী করতে। বাবাইদাদার নাম নিয়ে বাবাইদাদার মুখে সুব্রতদারা ইচ্ছেমত কথা বসিয়ে দিচ্ছেন? একটুও ভয় লাগছে না? একটুও বিবেক দংশন করছে না? আচার্যদেব শ্রীশ্রীদাদার কথাটা উনারা জানেন তো?------“তোর খেয়াতে মাঝিই যে নেই, শেষের সেদিন ভয়ঙ্কর”।

আচ্ছা না হয় আলোচনার খাতিরেই মানলাম বাবাইদাদা বলেছেন এই কথা। তা’ বাবাইদাদা কি বলেছিলেন ভদ্রকালী অঞ্চলে এসে ইষ্টপ্রাণতার কোদাল চালাতে? বাবাইদাদা কি বলেছিলেন তাঁরই আশীর্বাদপূত কেন্দ্রে গিয়ে সংহতিতে ভাঙন ধরিয়ে সবে গড়ে ওঠা কেন্দ্রকে লন্ডভন্ড ক’রে দিতে? ‘সৎসঙ্গ’ দেওঘরের ইতিহাসে এমন নজির আছে নাকি কোথাও যে একটা কেন্দ্র আর একটা কেন্দ্রকে ধ্বংস করার চক্রান্তে নেবেছে? এই নজির সৃষ্টি ক’রে সুব্রতদারা তো ‘সৎসঙ্গ’ জগতে ইতিহাস সৃষ্টি ক’রে ফেলে ‘ছেদক’-এর পথিকৃৎ হ’য়ে গেলেন? কেন এমন করলেন সুব্রতদারা? কি প্রমাণ দিলেন তারা? তাদের মত লোক আজ সৎসঙ্গ মন্দিরগুলিতে ঢুকে পড়েছে ও ঢুকে পড়ছে দ্রুতগতিতে মন্দিরগুলি ও এলাকাগুলি দখল করবে বলে? সেইজন্যই ঠাকুর আগাম বলেছিলেন, “মন্দিরের আশেপাশে কুৎসিত লোকের আনাগোনা বেশী সাবধান থেকো তা থেকে।“
ক্রমশঃ

হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্র ও নব আনন্দে পথ চলা-২

"হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্রের নব আনন্দে পথ চলা

ইষ্টপ্রাণতা, ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থরক্ষা"???-----------( ২ )

সুব্রত সরকারদার ১৫।০৫।২০১৭ পোষ্টের লেখা অনুযায়ী মন্দিরের তিন তলার নির্মাণ কাজ শেষে আনন্দের রেশকে continue রাখতে বাবাইদাদা নাকি বলেছিলেন মন্দিরের দূরবর্তী অঞ্চলে গিয়ে যাজন কাজে লিপ্ত থেকে সবাইকে মন্দিরমুখী ক’রে তুলতে। তাই সুব্রতদারা বাবাইদাদার নির্দেশকে শিরোধার্য ক’রে মন্দিরের দূরবর্তী অঞ্চল ভদ্রকালী মহিলা ক্যাম্প থেকে শুরু করলেন তাদের যাত্রা যে অঞ্চলে বাবাইদাদার আশীর্বাদে গত ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে জন্ম হয়েছে ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্রের। আমার প্রশ্ন হিন্দমোটরের গুরুভাইবোনেদের কাছে, বাবাইদাদা কি হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্রকে বলেছিলেন আপনারা ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্র অঞ্চলে গিয়ে নব আনন্দে ইষ্টপ্রতিষ্ঠার কোদাল চালান? ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্রকে ভ্রূণ অবস্থায় ধ্বংস করার পরামর্শ দিয়েছিলেন বাবাইদাদা? ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্রের সংহতিতে ভাঙন ধরানোর কথা বলেছিলেন বাবাইদাদা? আচ্ছা মন্দিরের দূরবর্তী অঞ্চলের গুরুভাই, গুরুবোন ও সাধারণ মানুষদের মন্দিরমুখী ক’রে তুলবার জন্য সুব্রতদাদের এই চিন্তা তিন তলার মন্দির উদ্বোধনের আগে ছিল না? না-কি মাথায় আসেনি? আগে কেন আসেনি? সুব্রতদা ও সুব্রতদার নব আনন্দে পথ চলার যে কয়েকজন নতুন সাথী যারা মন্দিরের সঙ্গে নতুন যুক্ত হয়েছে তারা সবাই তো যেখান থেকে শুরু করেছে নব আনন্দের যাত্রা সেই ভদ্রকালীর লোক তা’ এতদিন ১৯মাস ধ'রে বাবাইদাদার আশীর্বাদে ভদ্রকালী অঞ্চলে ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্র দ্বারা ভদ্রকালীর বিশাল অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে পাবলিক প্লেসে বিভিন্ন ক্লাব, প্রতিষ্ঠানের বিল্ডিং-এ বিল্ডিং-এ যে বড় বড় সৎসঙ্গ অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১৯মাস ধ'রে যা প্রতিমাসে মিনি উৎসবে পরিণত হয়েছিল এমন আর কোথাও কখনো পাবলিক প্লেসে হয়েছে? এমন নজির আছে কোথাও? এই ১৯ মাসের আগে কোথায় ছিলেন সুব্রতবাবু আর তার দলবল অর্থাৎ এককথায় ঋত্বিক রতন সরকারদার নেতৃত্বে হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্র? এমনকি ৫০ বছরেরও অধিক সময় ধ’রে কেন সুব্রতাদের বা হিন্দমোটর মন্দিরের কর্তা ব্যক্তিদের মাথায় আসেনি যে মন্দির দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষকে অর্থাৎ ভদ্রকালীর গুরুভাইবোনেদের মন্দির মুখী ক’রে তুলতে হবে? আর দুরবর্তী অঞ্চল বলতে কি বাবাইদাদা ভদ্রকালীর নাম মুখে এনেছিলেন? তিনি বলেছিলেন যে, ভদ্রকালীতে সৎসঙ্গ কেন্দ্র থাকা সত্বেও ভদ্রকালী থেকেই শুরু হ'ক নব আনন্দের যাত্রা? যদি না ব'লে থাকেন তাহ’লে বাবাইদাদার নামে কেন এই মিথ্যা প্রচার সুব্রতবাবুর? ভদ্রকালীতে সৎসঙ্গ কেন্দ্র হওয়া সত্বেও ভদ্রকালী কেন্দ্র থেকে কেন অন্য আর একটা কেন্দ্রের নব আনন্দে জয়যাত্রা? কেন এই সংহতি ভাঙার পদক্ষেপ? কেন এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র? একটা কেন্দ্র আর একটা কেন্দ্রে গিয়ে ইষ্টপ্রতিষ্ঠার নামে দাদাগিরি ক'রে নাকি? হুগলী জেলার কোথাও কিম্বা ভারতবর্ষ তথা পৃথিবীর সৎসঙ্গ জগতের কোথাও একটা কেন্দ্র আর একটা কেন্দ্রের জমিতে যাজনের নামে গাজনের কোদাল চালিয়েছে বা চালাচ্ছে? এবং তাও বিনা আলোচনা, বিনা অনুমতিতে? রহস্যটা কি এবং কোথায়? হঠাৎ অন্য কেন্দ্রের প্ল্যান-পোগ্রাম বা পরিকল্পনাকে নকল করা বা চুরি করা কেন? ভালো জিনিস নেওয়া যেতেই পারে কিন্তু স্বীকার করতে লজ্জা কোথায়? এ তো চৌর্য মনোবৃত্তি!! যার বা যাদের দেখানো পথে চলবো তার বা তাদের বুকেই লাথি মারবো !? এ তো অকৃতজ্ঞ আর বেইমানদের কাজ। ঠাকুর এদের সম্পর্কে কি বলেছেন? ঠাকুর বলেছেন, "অকৃতজ্ঞ আর বেইমানকে, ঝেটিয়ে তাড়াও এক ধমকে"।
আচ্ছা সুব্রতদাদের সবাইকে জিজ্ঞেস করছি মন্দির নিকটবর্তী সব গুরুভাই-গুরুবোনেরা সবাই কি মন্দিরমুখী? কেন মন্দিরমুখী নয়? কেন হিন্দমোটরের ঋত্বিক রতন সরকারদা কে দুঃখ ক’রে বলতে হয় এতবড় মন্দিরে সকালে ও বিকালে প্রার্থনায় তিন চার জনের বেশী আসে না? কেন বলতে হয় পুরানো সৎসঙ্গীরা কেউ আজ আর মন্দিরে আসে না? কেন বলতে হয় সাপ্তাহিক মন্দিরের সৎসঙ্গে লোক হয় না? কেন পুরোনো সৎসঙ্গীরা আজ আর আসে না? বাবাইদাদা কি জানেন সে সব কথা? বাবাইদাদা কি জানেন মন্দিরের আভ্যন্তরীণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কথা? সুব্রতবাবুরা কি বলেন? মন্দিরের নিকটবর্তী গুরুভাই-বোনেরা যেখানে আসে না মন্দিরে সেখানে দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষকে আনার কথা বাবাইদাদা আপনাদের বললেন? ঘরকে রক্ষা না ক’রে, ঘরকে সবদিক দিয়ে সুরক্ষিত না রেখে, ঘরকে আদর্শ হিসাবে মানুষের কাছে তুলে না ধ’রে বাবাইদাদা বলেছিলেন বিশ্ববিজয়ে বেরিয়ে পড়তে? বাবাইদাদা বলেছিলেন মানুষকে ইষ্টমুখী না ক’রে মন্দিরমুখী ক’রে তুলতে? হিন্দমোটর এলাকায় ইষ্টপ্রতিষ্ঠা হ’য়ে গেছে? হিন্দমোটরের প্রতিটি ঘরে ঘরে ঠাকুর, ঠাকুরের কথা পৌছে গেছে? মন্দির নির্মাণের কাজ শেষ হ’য়ে গেছে মানেই ইষ্টপ্রতিষ্ঠার কাজ হিন্দমোটরের বুকে শেষ হ’য়ে গেছে , এই কথা বাবাইদাদা বলেছেন? যেহেতু মন্দিরের নির্মাণ কাজ শেষ হ'য়ে গেছে তাই বাবাইদাদা বলেছেন এবার বেরিয়ে পড়ুন মন্দির দূরবর্তী স্থানে আনন্দের রেশকে continue রাখতে? বিশাল হিন্দমোটর অঞ্চলে আনন্দের রেশকে আর continue রাখা যাচ্ছে না? কেনও রাখা যাচ্ছে না? তাহ’লে এটা তো হিন্দমোটর অঞ্চলের গুরুভাইবোনেদের পক্ষে দুর্ভাগ্য!!!!!!! দুর্ভাগ্য হিন্দমোটর অঞ্চলের তামাম অধিবাসীদের পক্ষে!!!!! তাহ’লে কি সত্যি সত্যিই অন্যান্য অনেক মন্দিরের মত হিন্দমোটরের মন্দিরেও দুর্দিন ঘনিয়ে এলো? কেন এলো? কার জন্য এলো? কে এর জন্য দায়ী? তাহ’লে এটা প্রমাণ হ’তে চলেছে যে “ধর্মের কল বাতাসে নড়ে“?
এ্টাই কি ইষ্টপ্রাণতা, ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থরক্ষার নমুনা!?



হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্র ও নব আনন্দে পথ চলা-১

"হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্রের নব আনন্দে পথ চলা

ইষ্টপ্রাণতা, ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থরক্ষা"???-----------( ১ )

সমস্ত গুরুভাইবোনেদের জানাই জয়গুরু। সুব্রত সরকারদার ১৫-০৫-২০১৭ তারিখের পোষ্ট চোখে পড়েছিল। পোষ্টের সেই বিষয় পড়েছিলাম ও বোঝার চেষ্টা করেছিলাম। তারপর সুব্রতদাকে কিছু প্রশ্ন করেছিলাম উনার পোষ্ট করা বিষয়ে পোষ্টের কমেন্ট বক্সে। সেখানে তিনি একটাও প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে নানা অপমানকর মন্ত্যব্যের খোঁচা মেরে মেরে আমাকে ইষ্টপ্রাণতা, ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থরক্ষার যাজন করলেন এবং আমি যখন সেগুলিরও উত্তর দিলাম তখন তিনি রাগে উনার এবং আমার সব কথোপকথন ডিলিট ক'রে দিলেন। এইভাবে পাঁচ পাঁচবার তিনি আমাকে অপমানজনক মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে তৃপ্তি পেয়ে অবশেষে বললেন, "এইসব প্রশ্ন যাকে বা যাদের বলার তাকে বা তাদের বলুন, আমাকে ব'লে কোনও লাভ হবে না।" এখন প্রশ্ন হচ্ছে, লেখা লিখলেন ও পোষ্ট করলেন যিনি তাকে না ব'লে কাকে বা কাদের বলবো বা কাদের কাছে জানতে চাইবো? যাই হ'ক সুব্রত সরকারদার ঐ পোষ্ট পড়ে কিছু কথা, কিছু প্রশ্ন আর কিছু স্মৃতি মনের মাঝে ইষ্টপ্রাণতা, ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থরক্ষার প্রশ্নে জেগে উঠলো আর তাই একজন গুরুভাই হিসাবে এই "হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্রের নব আনন্দে পথ চলা ও ইষ্টপ্রাণতা, ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থরক্ষা???" নামে লেখার মাধ্যমে সমস্ত গুরুভাইবোনের কাছে প্রশ্নগুলির উত্তর ও সমাধান জানার আগ্রহে সুব্রতদার লেখা অনুযায়ী এই লেখা পোষ্ট করলাম।
সুব্রতদা লিখেছেন, “১৪-০৫-২০১৭ থেকে শুরু হ’লো পূজনীয় বাবাইদাদার অনুপ্রেরণায় হিন্দমোটর সৎসঙ্গ মন্দিরের পরিচালনায় ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠার্থে নব আনন্দে পথ চলা”। সুব্রতদাকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছে হিন্দমোটর মন্দিরের বয়স কত বছর হ’লো এবং হিন্দমোটর মন্দিরের ইতিহাস জানেন কিনা। কারা তাঁরা যারা রুখোশুখো মাটিতে কোদাল চালিয়ে মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন? কারা তাঁরা যারা তিল তিল ক’রে গড়ে তুলেছিলেন হিন্দমোটর সৎসঙ্গের জমি বড় বড় সৎসঙ্গ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে? তাঁদের একজনকেও সুব্রতদা চেনেন? ১৪-০৫-২০১৭ রবিবার থেকে কেন শুরু হ’লো নব আনন্দে পথ চলা? এতদিন এতবছর তাহ’লে কি নিরানন্দে পথ চলেছিল হিন্দমোটরের পূর্বসূরিরা? অর্ধ শতাব্দীরও বেশী শেষে আজকের যে ফসল তিন তলা মন্দির তা’ কোন আনন্দে বা কোন হতাশার মধ্যে দিয়ে গড়ে উঠেছিল? কেন আজ এত নব আনন্দ? নব আনন্দের ভিত্তিটা কি? যদি বলেন বাবাইদাদার অনুপ্রেরণা তাহ’লে কি প্রশ্ন উঠবে না প্রধান আচার্যদেব শ্রীশ্রীবড়দা, বর্তমান আচার্যদেব র্শ্রীশ্রীঅশোকদাদার অনুপ্রেরণা কি সেদিন ছিল না? না-কি অনুপ্রেরণার জোর কম ছিল? সুব্রতদা কি জানেন সেদিনের হিন্দমোটর মন্দিরের ভক্তদের হ্যারিকেন হাতে নিয়ে রাতে গুরুভাইদের বাড়ি বাড়ি যাবার ইতিহাস? তিনি কি জানেন সেদিন তাঁদের মানুষেরা কি বলতো? জানা অবশ্য সম্ভব না কারণ তিনি তখনও জন্মান নি এবং উত্তরপাড়াতে এসেছেন বছর দশেক হবে আর মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ২০১২ তে সম্ভবত। যাই হ'ক হ্যারিকেন হাতে নিয়ে যারা বেরোতেন তাদের সম্পর্কে মানুষ বলতো, 'ব্যাঙ ধরা পার্টি'। তখনকার দিনে সন্ধ্যের আলো ঘনিয়ে আসার সাথে কিছু মানুষ বেরিয়ে পড়তো হ্যারিকেন হাতে ব্যাঙ ধরতে। কারণ রাস্তায় তখন এত আলো ছিল না। ব্যাঙ ধরা ছিল সেই সময়ের গরীব মানুষের জীবিকা। অনেক ঘটনার মধ্যে একটা ঘটনার আভাস দিলাম মাত্র। কারণ আমাকে যেতে হবে অন্য বিষয়ে।
যাই হ’ক তা’ সেদিন তাঁরা কিসের আনন্দে হ্যারিকেন হাতে রাতের আঁধারে ব্যাঙ (মানুষ) ধরতে বেরোতেন? সুব্রতদা ক’বছর হয়েছে মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন? যেদিন থেকে যুক্ত হয়েছেন মন্দিরে (সম্ভবত ২০১২) সেদিন থেকে কিম্বা মন্দিরের জন্ম সময় থেকে গত রবিবারের (১৪-০৫-২০১৭) আগের দিন পর্যন্ত সুব্রতদারা বা পূর্বসূরিরা কি আনন্দে পথ চলেননি? না-কি হিন্দমোটর মন্দিরের কেউ চলেননি? আর আনন্দে পথ চললেও সেই আনন্দ পুরোনো হ’য়ে গেল কেন হঠাৎ? ঐ পুরোনো আনন্দ একঘেয়ে হ’য়ে গেছে? কেন একঘেয়ে হ’লো? প্রশ্নগুলো করলাম এইজন্য যে সুব্রতদা আমার গুরুভাই আর ফেসবুকে আমাকে ১৪-০৫-১৭ অনুষ্ঠানের দু’দিন আগে বন্ধু হবার জন্য ‘Friend Request’ পাঠিয়েছিলেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট পাঠিয়েছিলেন। পাঠিয়েছিলেন কি এই জন্যই যে, ১৪-০৫-২০১৭ রবিবারের অনুষ্ঠানের বিবরণ আর তার ছবি ফেসবুকে পোষ্ট ক’রে সেই পোষ্ট আমাকে Tag করবেন আর আমি সেই পোষ্ট দেখবো আর আমার অবস্থা হবে “দেখবি আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি”। এইজন্যই বন্ধুত্ব পাতিয়েছিলেন সুব্রতদা? পক্ষান্তরে কি ঘটলো? সুব্রতদার পোষ্ট করা বিষয়ে আমি যখন তাকে তার পোষ্ট করা বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম তখন তিনি উলটে রাগে উত্তেজনায় লুচির মত ফুলতে ফুলতে গরম তেলের মতো প্রশ্নের গরমে জ্বলতে লাগলেন আর আমাকে অপমানজনক মন্তব্য করতে লাগলেন অবশেষে উনার আমার সব কমেন্টই ডিলিট ক'রে দিলেন। কেন? কেন তিনি ডিলিট ক'রে দিলেন? কেন তিনি সৎসঙ্গী তথা পাঠক সমাজকে পড়তে দিতে চান না, জানতে দিতে চান না আমাদের কথোপকথনের বিষয়? জানুক না মানুষ, পড়ুক না উভয়ের কমেন্ট। চিনে নিক, জেনে নিক, বুঝে নিক মানুষ কমেন্ট পড়ার মধ্যে দিয়ে উভয়ের চরিত্র আর সত্য প্রকাশিত হ'ক। সুব্রতদা কি জানেন বন্ধুর মানে? ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট পাঠিয়ে কপট চাতুরী করলেন তিনি? বন্ধুর মানে অনেক গভীর আর "ইষ্টপ্রাণতা, ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থরক্ষা" কথাটার অন্তর্নিহিত অর্থও ব্যাপক ও দিগন্ত বিস্তৃত!
যাক এইসব কথা। তাহ’লে ১৪-০৫-২০১৭ রবিবার থেকে হঠাৎ নব আনন্দে পথ চলার রহস্যটা কোথায় !? আমরা যখন গুরুভাই আসুন ইষ্টপ্রাণতা, ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থরক্ষার স্বার্থেই একটু খোলামেলা আলোচনা করি আর দেখা যাক লেখা চলতে চলতে সুব্রতদাদের হিন্দমোটর সৎসঙ্গ কেন্দ্রের হঠাৎ নব আনন্দে পথ চলার রহস্যটা ক্রমশঃ প্রকাশ পায় কিনা!
ক্রমশঃ


Sonjoy Kantidey কে খোলা চিঠি.........

Sonjoy Kantidey দাদা আপনি আমার ফেসবুক বন্ধু!!!!!!!!!!!!!!!!!
আপনি নিজেকে খুব জ্ঞানী পন্ডিত ইষ্টপ্রাণ ঠাকুরপ্রেমিক ভাবেন? আপনি শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের অন্যতম যোগ্য শিষ্য আর কৃষ্টিজাত সন্তান আর আমরা কোটি কোটি দেওঘর 'সৎসঙ্গ'-এর সৎসঙ্গীরা সব চারঅক্ষর? আপনার বোধের নাড়ি, জ্ঞানের নাড়ি এত টনটনে যে আপনি ঠাকুরের একমাত্র বার্তাবাহী ও এত উন্নত আত্মা যে স্বয়ং পরমাত্মা আপনার মধ্যে দিব্যচক্ষু উন্মোচিত ক'রে দিয়েছেন আর আপনার মধ্যে তাঁর নির্দেশ বা নিদেশ দৈববাণী হ'য়ে ঝরে পড়ছে আর আপনি সেই দৈববানী তপস্বীর মত আমাদের মত চার অক্ষরদের ফেসবুকের মধ্যে দিয়ে বিতরণ করছেন!!!!! বাহ বন্ধু বাঃ!!! চমৎকার আপনার সাধনা আর সাধনা লব্ধ জ্ঞান!!!!!!! আপনার জ্ঞান, আপনার তপস্যা, আপনার সাধনা, আপনার ঠাকুরের প্রতি প্রেম, ভক্তি, ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে!!!!! সত্যি আপনার বা আপনাদের মত মিষ্টি মানুষেরা থাকতে কোটি কোটি সৎসঙ্গীদের কিসের ভয়, কিসের চিন্তা? কি মিষ্টি মানুষ আপনারা! কি মিষ্টি কথা আপনাদের! কি মধুর ভাষা আপনাদের লেখায় ঝরে পড়ছে আপনাদের কলম দিয়ে ঝর ঝর ঝরণা হ'য়ে!!!!!! আপনার বা আপনাদের মত ইষ্টপ্রাণ, ঠাকুরঅন্তপ্রাণ ঠাকুরপ্রেমী মহাত্মারা থাকতে আমাদের ঠাকুরের আত্মজ বড়দা, অশোকদা, বাবাইদার মত নিকৃষ্ট জীবাত্মাদের উপর নির্ভর করতে হবে!!!!!!!!!??????? ঠাকুরের বলা সোনার সৎসঙ্গী তো আপনারাই আর ঠাকুরের অধম সন্তান বড়দা, বড়দার অধমতর সন্তান অশোকদা, অশোকদার অধমতম সন্তান বাবাইদা আর বাবাইদার অধমের থেকেও যদি নিকৃষ্ট কিছু থাকে সেই সন্তান অবিনবাবু; এরা সবাই তো সোনার পিতলে ঘুঘু সৎসঙ্গী তাই না আমার বন্ধুবর সঞ্জয় কান্তি দে দাদা আর এদের উপর আমাদের ভরসা করতে হবে????
তাই সঞ্জয়দা আনন্দে মন গেয়ে উঠলো, "নাই নাই ভয় হবে হবে জয়, খুলে যাবে এই দ্বার............!!!!!!!"
হে ঈশ্বর তুমি কত দয়াময়! হে পরমপিতা! হে দয়াল! তুমি কত করুনাময় যে তুমি আমাদের মাঝে আজ নেই কিন্তু তুমি এই ঘোর ধান্দাবাজের অন্ধকার যুগে সঞ্জয় কান্তি দে বা তাদের মত আরও কত তোমার একান্ত প্রিয় সোনার সন্তানদের রেখে গেছো আমাদের মত দুই অক্ষর, তিন অক্ষর, চারঅক্ষর, পাঁচ অক্ষরদের বাঁচাবার জন্য, অন্ধকার নরক থেকে বড়দা, অশোকাদা, বাবাইদা রূপী ইত্যাদি সোনার পিতলে ঘুঘুদের হাত থেকে রক্ষা করবার জন্য!!!!!!!! তুমি মহান হে পিতা! হে পরমাত্মা! আমরা চার অক্ষর জীবাত্মারা যদি তোমার অজচ্ছল করুণা ও দয়ায় আজ এই পরম প্রিয় বন্ধু মহাত্মা, ভক্তপ্রবর সঞ্জয় কান্তি দে দাদাদের না পেতাম তাহ'লে এই অমূল্য জীবন যে মহাকালের গভীর গর্ভে হারিয়ে যেত তা ভাবলেও ঘুমের মধ্যে শিউড়ে উঠি বারবার!!!!
হে করুণাময়! তুমি তোমার অধম ঔরসজাত আত্মজ বড়দা, অশোকদা, বাবাইদা, অবিনদা ও ঠাকুরবাড়ির অন্যান্য ঠাকুর পরিবারের দাদাদের হাত থেকে উদ্ধার ক'রে সঁপে দিয়েছো নিরাপদ স্বর্গীয় আশ্রয় তোমার কৃষ্টিজাত সন্তান মহাকাশের সপ্ত ঋষির এক ঋষি সঞ্জয় কান্তি দে ও আরও ছয় ঋষির কোলে; এই জন্য তোমায় জানাই অন্তরের অন্তস্থল থেকে কোটি কোটি প্রণাম!!!!!!!!
হে প্রভু! হে দয়াল! তুমি যে কত দয়াময় এখন বুঝতে পারছি!!!! তোমার এই সোনার সপ্ত ঋষিদের ছেড়ে দিয়ে তোমার অধম আত্মজদের আশ্রয়ে এতদিন যে অন্ধের মত, মূর্খের মত আমরা কোটি কোটি দুই অক্ষর, চার অক্ষর ভক্তরা ছিলাম সেই অপরাধে যে তুমি আমাদের কোটি কোটি এই তিন অক্ষর, চার অক্ষর ভক্তদের উপরে দয়াল থেকে ভয়াল হ'য়ে ওঠোনি সেই জন্য কান ধ'রে নাক মুলে নাক খত দিয়ে তোমার কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। তুমি আমাদের ক্ষমা ক'রে দিও হে দয়াল! তুমি আমাদের দয়া ক'রো হে ভয়াল! আর তোমার এই সোনার সপ্ত ঋষিদের জন্য তোমার সমস্ত অন্তর নিংড়ানো দয়া, ভালোবাসা, করুণা সব সব ঝ'রে পড়ুক, ঝ'রে পড়ুক সঞ্জয় দা ও সঞ্জয়দার মত বাকী ঋষিদের উপর অশেষ আশীর্বাদ এই আকুল প্রার্থনা জানাই তোমার রাতুল চরণে।
চোখ খুলে দেবার জন্য অশেষ ধন্যবাদ সঞ্জয়দা আর এই জন্য জানাই পরমপিতার রাতুল চরণে নিষ্কাম প্রার্থনা। পরাজয়গুরু।






কবিতায় ববিতা!!!



প্রকাশ বিশ্বাস।

কবিতা! তোমায় নিয়ে যতবার ভেবেছি
লিখব নির্মল এক কবিতা,
আঁকবো নির্দোষ এক শব্দের ছবি, তা
অছিলার ছিলায় তুলে ঢেউ, তুলে টঙ্কার
ঘুরে ফিরে আসে বারংবার
মন মাঝার উদীয়মানের ধ’রে হাত
কবিতায় ছড়িয়ে আগুন উড়িয়ে ফাগুন
হাওয়ায় হাওয়ায় যৌবন বহ্নি ববিতা!
তোমায় নিয়ে কতবার ভেবেছিনু লিখবো
নিষ্পাপ এক নিটোল কবিতা!
যতবার ভাবি আলোময় এক নির্দোষ ছবি
ততবার দেখি কবিতার নামে
দার্শনিকতার ঢেউ তুলে গভীর
প্রেমরসে পূর্ণ তুমি উদীয়মান কবি
রিপু প্রথমার নাও ঘ্রাণ ববিতার ঘামে!
শরীরী উপত্যকার ভাঁজে
রত্ন খোঁজো খাঁজে খাঁজে
শিল্পকে ক’রে বিশ্বস্ত সাথী
তুলির টানে, মসীর বানে
প্রেম ভালোবাসার ভাসায়ে দিয়ে নাউ
উপত্যকা থেকে উপত্যকায় ভেসে ভেসে যাও
উদীয়মান তুমি ববিতার রাঙা সুডৌল চুমি!
দুই হাতে, ধ’রে কষে অজুহাতে শিল্পের ছোঁয়ায়
টিলায় চড়িয়ে দিয়ে নাউ; শরীর থেকে শরীরে
চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ..............ছুঁয়ে ছুঁয়ে চলে যাও!!
আমি একাকি চেয়ে চেয়ে শুধু দেখি আর অনুভবি,
কবিতার বুকে ববিতার দিগম্বরী তাও!