Powered By Blogger

Friday, January 3, 2025

প্রবন্ধঃ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন ও সময়। (পর্ব ২)

বাংলাদেশে জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন করার আওয়াজ উঠেছে। শুরু হয়েছে আন্দোলন। প্রথম আন্দোলনে আওয়াজ উঠেছিল সরকারি চাকরীতে কোটা সংস্কার করতে হবে। তারপর সেটা ঘুরে গিয়ে আন্দোলন হ'য়ে গেল সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনে। সরকার পরিবর্তনের পর মূর্তি ভাঙ্গা, ভাঙচুর, লুটপাটের আন্দোলন। সেই মূর্তি ভাঙ্গা আন্দোলনে আঘাত আসলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ওপর। ঐ ভাংচুরের আন্দোলনে হাসিনার মূর্তি, ছবি, শেখ মুজিবরের মূর্তি, হাসিনার গণভবন, শেখ মুজিবরের বাসভবন, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ভাংচুরের সঙ্গে সঙ্গে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তি ভাঙ্গার আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এখন শুরু হয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের পরিকল্পনা আর তাই নিয়ে চলছে বাদবিতন্ডা। চলছে পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি অযুক্তির বন্যা।

এখন প্রশ্ন হঠাৎ জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের আওয়াজ উঠলো কেন? এই নিয়ে নানাজনে নানা কথা বলছে। একটা ভয়ংকর অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। যে যার বুঝ মত মন্তব্য করছে। গানটির প্রেক্ষাপট, গানটির মর্মার্থ, গানটির রচয়িতা ইত্যাদিকে নিয়ে চলছে কাটাছেঁড়া, চলছে অস্ত্রোপচার।
যাই হ'ক, প্রশ্ন জাগে মনে, কাকে নিয়ে গানটা লেখা হয়েছিল? অখন্ড বাংলার পক্ষে বঙ্গভঙ্গ রোধের জন্য যদি এই গান লেখা হয়ে থাকে তাহ'লে লেখা হয়েছিল ব'লে এই গান অখন্ড বাংলার পরিবর্তে খন্ডিত বাংলার এক অংশ বর্তমানে একটি দেশ, সেই দেশ বাংলাদেশের জন্য গানটি জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গাওয়া যেতে পারে না? বঙ্গভঙ্গের পরিপ্রেক্ষিতে এই গান রচনা হয়েছিল বলেই এই গান অচ্ছুৎ হ'য়ে গেল? আর যদি সেদিন বাংলা ভাগ না হ'তো? যদি সেদিন বাংলায় হিন্দু মুসলমানের সংখ্যা সমান সমান থাকতো তাহ'লে আজকের বাংলাদেশে যে ভারত বিরোধীতা, বাঙালী হওয়া সত্ত্বেও শুধু হিন্দু হওয়ার জন্য যে হিন্দু বিরোধীতা তা' পারতো? এই অন্যায় বিরোধীতা কি পশ্চিমবঙ্গে প্রকট? দুই বাংলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৪৭ সালের পর ও ৭১ সালের পর জনসংখ্যার হার কি প্রমাণ করে? তর্ক, ঝগড়া চাই না। দুই বাংলার % দেখা যাক।

২০২১ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের তিন কোটি ১১ লাখ ৪৪ হাজার মুসলমানের মধ্যে ২.৪ কোটিই বাঙালি মুসলমান।
বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর 1974 সালে মোট জনসংখ্যার 13.50% হিন্দু ছিল। মোট জনসংখ্যা ৯,৬,৭৩,০৪৮ তার মধ্যে 7,14,78,543 মুসলমান।
২০২২ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমান হিন্দুর জনসংখ্যা ১,৩১,৩১,১০৬ ( ৭.৯৫%)।

বাংলাদেশ মুসলমান অধ্যুষিত সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল ব'লে অখন্ড ভারতের পূর্ব বাংলা পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান বর্তমানে বাংলাদেশ সেই অখন্ড ভারতের অখন্ড বাংলার খণ্ডিত এক অংশের জন্য 'আমার সোনার বাংলা' গানটি জাতীয় সঙ্গীত নির্বাচিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে মানুষের মনে অন্তত এটা জেগে থাকে নাকি আমরা একদিন অখন্ড বাংলা হিসেবে কিংবা ভারতের অংশ হিসেবে এক দেশ ও হিন্দু মুসলমান এক ছিলাম? আমরা যে একদিন বাঙালী পরিচয়ে এক ছিলাম, হিন্দু মুসলমানের পরিচয়ের থেকে অনেক অনেক বড় ও প্রধান ছিল উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বাঙালী সত্ত্বার পরিচয় এইটা যাতে মনে না পড়ে পরবর্তী প্রজন্মের মনে তার জন্যই একেবারে চিরতরে ভুলিয়ে দেওয়ার, মুছে দেওয়ার নোংরা প্রয়াস? সেইজন্যই বাংলাদেশের বাঙালী ভাষাকেও ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য, মুছে দেওয়ার জন্য বিদেশী ভাষার সংমিশ্রণ হয়েছে? একদিকে হিন্দু বাঙ্গালীর অস্তিত্বে সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে ১৯৪৭-এ দেশভাগের সময় থেকে ১৯৭১ সালে ও বর্তমানে ২০২৪-এ আর দ্বিতীয়ত সুপরিকল্পিতভাবে মুসলমানদেরও বাংলা ভাষা ভুলিয়ে দেওয়ার গোপন প্রয়াস কার্যকর রয়েছে বাংলাভাষাকে বিদেশী ভাষার আবরণে ঢেকে দিয়ে। যার জন্য বাংলাদেশের মুসলমান বাঙালীদের বাংলা ভাষা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বোঝা যায় না।

আর, 'আমার সোনার বাংলা' এইগানের শব্দ নিপাট সহজবোধ্য বাংলা শব্দ দিয়ে গঠিত। এইগানের মর্মকথা কি? এই গানের মর্মকথা কি ভারতের সঙ্গে কিংবা অখন্ড বাংলার সঙ্গে একাত্ম ছিলাম এই বোধকে শুধু প্রকট ক'রে তোলে? নাকি সঙ্গে অখন্ড গ্রাম বাংলার সার্বিক যে সুন্দর মনোরম অপূর্ব রূপ, সেই রূপকে এই গানের কথাগুলি রিফ্লেকট ক'রে? কোনটা? আর শিল্পীর রংতুলি হাতে বাংলার প্রাকৃতিক ছবি আঁকার মত কবির হাতে শব্দ দিয়ে তৈরী কবিতার মধ্যে দিয়ে কি অখন্ড বাংলার ছবি আঁকা যেতে পারে না? বাংলাদেশের বাংলার রূপ নিখুঁতভাবে এই গানের মধ্যে কি তুলে ধরা হয়নি? হাজারো কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, ছবি, নাটক, সিনেমা ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের বাংলার রূপ কি তুলে ধরা হয়নি বুদ্ধিজীবীদের হাত দিয়ে? তার জন্য 'আমার সোনার বাংলা---' গানের প্রেক্ষাপটের বিষয়টাকে তুলে ধ'রে, কবির জাত, কবির ভারতীয় পরিচিতি, কবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধীতার বিষয়কে তুলে ধ'রে বিতর্ককে উস্কে দেওয়ার ঘৃণ্য মনোভাব কি একটা দেশের জনগণের আধুনিক সুস্থ, রুচিশীল, শিক্ষিত মনোভাবের পরিচয়? এই পরিবর্তনের মানসিকতা ছিল বাংলাদেশের আধুনিক ছাত্র সমাজের আন্দোলনের নেতা, কর্মী ও সমর্থক ছাত্রদের? কবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধীতার মানসিকতা কি শুধু বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য ছিল, হিন্দুদের জন্য ছিল না? এইভাবে বিভাজন করার কি কোনও লজিক আছে? এইগুলি ভাঙনের ভয়ংকর নোংরা মানসিকতাকে মজবুত করার পক্ষে কি অজুহাত নয়? এইগুলি কি ব্রিটিশদের নোংরা মানসিকতার ডিভাইড এন্ড রুলের ট্র্যাডিশান নয়? এই গান পরিবর্তন করার আসল উদ্দেশ্য কি? আড়ালে কি আছে?
যা বলার সরাসরি বলুক বাংলাদেশী যারা চান এই গানের পরিবর্তন। ঐ কোটা আন্দোলনের ছদ্মবেশে সরকার পতনের মত নোংরা খেলার ছক না কষে সোজাসুকি সরাসরি বলে দিক ভাই কোনও হিন্দু কবির লেখা গান বাংলার জাতীয় সঙ্গীত হবে না। বাংলাদেশ মুসলমানদের বাংলা, বাঙ্গালীর বাংলা নয়। এই জন্যেই তো রবীন্দ্রনাথের মূর্তি ভাঙ্গা হয়েছিল। এই জন্যেই তো কবি নজরুল ইসলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্ম হওয়া একজন ঘটি বাঙালী হওয়া সত্ত্বেও, একজন ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও, একজন হিন্দু নারীকে বিয়ে করা সত্ত্বেও, সন্তানের নাম কৃষ্ণ মহম্মদ দেওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ তাঁকে জাতীয় কবি করেছে শুধুমাত্র মুসলমান হওয়ার জন্য। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের শুধুমাত্র শোভা বর্দ্ধনের জন্য কবি নজরুল ইসলামকে জন্ম থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত বাস করা নিজের জন্মভূমি, নিজের বাসভূমি থেকে ছিনিয়ে এনে শেষ বয়সে বাংলাদেশের নাগরীকত্ব দিয়ে তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিল। কবি নজরুল ইসলাম কি বাংলাদেশে যেতে চেয়েছিলেন? তখন কি তিনি সেইসময় শারীরিক মানসিক সুস্থ অবস্থায় ছিলেন? তিনি কি স্বইচ্ছায় নিজের দেশভূমি, নিজের জন্মভূমি, নিজের মাতৃভূমি ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন? তিনি কি নিজেকে সস্তা মুসলিম গন্ডীর মধ্যে কোনোদিন বেঁধে রেখেছিলেন? এইসব প্রশ্ন এখন উঠবে না? কবি রবীন্দ্রনাথের প্রতি এত অপমান, এত লাঞ্ছনা বাংলাদেশীদের কিসের জন্য? হিন্দু ব'লে? ভারতীয় ব'লে? বাংলাদেশী নয় ব'লে? আর, বাংলাদেশে না জন্মেও, বাংলাদেশী না হয়েও, ভারতীয় হওয়া সত্ত্বেও, হিন্দু নারী বিয়ে করা ও ছেলের নাম কৃষ্ণ মহম্মদ নাম রাখা সত্ত্বেও এত প্রেম, এত ভালোবাসা কবি নজরুল ইসলামের প্রতি কিসের জন্য? শুধুমাত্র একজন প্রথিতযশা মুসলমান কবি হওয়ার জন্য? তাঁর আকাশজোড়া খ্যাতির জন্য? আজ যদি তিনি অখ্যাত হতেন?

যাই হ'ক, আমরা দিন দিন ক্রমশঃ দেখতে পাচ্ছি নির্ম্মম অপ্রিয় সত্য ও দুঃখের, অত্যন্ত বেদনার কথা যে বাংলাদেশ বাঙালীদের জন্য নয়, বাংলাদেশ বাঙালী মুসলমানদের দেশ নয় শুধুমাত্র পুরোপুরি মুসলমানদের বাংলাদেশ হ'য়ে উঠছে। এরপরও স্বপ্ন দেখে মূর্খের মত অখন্ড বাংলাদেশের!!!!!!!!!!!!!!!!
ক্রমশঃ পরবর্তী ৩য় পর্বে।
( লেখা ৭ই সেপ্টেম্বর'২৪)
May be an image of text

প্রবন্ধঃ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন ও সময়। (পর্ব ৩)

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের দাবী আজ প্রমাণ করলো দেশ আজ কাদের হাতে। কারা হাসিনা সরকার উচ্ছেদের পর এই বর্তমান ঘৃণ্য, নীচ, সংকীর্ণ মানসিকতায় পরিপূর্ণ বাংলাদেশের দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছে? আজ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথকে বাংলাদেশে লাঞ্ছিত, অপমানিত হ'তে দেখেও, তাঁর ভাঙ্গা মূর্তি নিয়ে জলকেলি করতে দেখেও শান্তির পুরস্কার পাওয়া ব্যক্তিত্ব ও দেশগঠনের উদ্যোক্তদের মনে বিন্দুমাত্র কোনও দাগ কাটেনি।

আজ জাতীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলছে এই 'আমার সোনার বাংলা' সঙ্গীত হিন্দুর দ্বারা লিখিত সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশী নয়, ভারতীয় কবি, গানের মধ্যে 'বাংলাদেশ' শব্দটাই নেই, এই গান অখন্ড বাংলার জন্য রচনা হয়েছিল, এই গান পূর্ব বাংলার স্বার্থের বিপরীতে রচনা হয়েছিল, এই গানে বাংলাদেশের বাংলার কথা লেখা নেই, লেখা আছে ভারতের বাংলা অঞ্চলের কথা, এই গানে মানুষের ঘুম আসে, রক্ত গরম হয় না, কাউকে জাগানো যায় না, এই গান স্বৈরতন্ত্রকে রক্ষা করে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই বাংলা ভাগ হ'ক চাননি। তিনি বাংলাভাগের বিরুদ্ধে ছিলেন, তিনি বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন না, এই গানে পশ্চিমবাংলার কথা আছে ইত্যাদি নানারকম ভিত্তিহীন মূর্খের স্বর্গে বাস করা উত্তেজিত মস্তিষ্কের বৃথা আড়ম্বর যুক্ত বালখিল্য চিন্তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে আজ বাংলাদেশের নোতুন স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর স্বাধীন জনগণের মধ্যে। ভাঙনের কী তীব্র নেশা বর্তমান প্রজন্মের যে, রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাগ চাননি, তিনি বাংলাদেশের শ্ত্রু অতএব তাঁর গান বয়কট করো, করো নিষিদ্ধ। আর ফেসবুক জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে তা' বাংলাদেশের ঘরে ঘরে, দেশে দেশে।

একেই বলে ভয়ংকর জন্ডিস আক্রান্ত অসুখী মানুষের কলমের হলুদ মূত্রপাত। এতদিন নীল মূত্র হ'তো এখন হলুদ মূত্রপাত হচ্ছে কলম থেকে। আর, এই জন্ডিস আক্রান্ত কলমের দুর্গন্ধযুক্ত গাঢ় হলুদ মূত্র গোয়েবলসীয় কায়দায় ছড়িয়ে দিতে চাইছে বাংলার সবুজ মনের সবুজ প্রাণেদের মধ্যে। ব্রিটিশের বহু গুণের কারণে একদিন তারা উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, এশিয়া এবং আফ্রিকার পাশাপাশি মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার ছোট অংশগুলির ওপর সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিল। এইজন্য বলা হ'তো ব্রিটিশের সূর্য কখনো অস্ত যায় না। কিন্তু ইতিহাস কি বলে? সারা বিশ্বে ভাঙ্গার খেলায় ওস্তাদ ছিল একদিন ব্রিটিশ। তাদের শাসন ব্যবস্থায় ভয়ংকর খেলাগুলির মধ্যে ভয়ংকর বিষাক্ত খেলা ছিল হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে ধর্মের বিষাক্ত বিষ ঢুকিয়ে দিয়ে দুই সম্প্রদায়ের ঐক্যের, মিলনের যে শরীর সেই সমস্ত শরীরে ঘৃণার বিষ প্রবেশ করিয়ে কেটে ফালা ফালা ক'রে দেওয়া। এই ভয়ংকর খেলার বিষ ঢুকিয়ে দিয়ে ভারতকে ভাগ ক'রে দিয়ে চলে গেছিল পিছনে একটা সুতো লাগিয়ে পিছন থেকে নাচাবে বলে। কিন্তু আজ তাদের পরিণতি দেখুন। আজ তাদের আমেরিকার দাসত্ব করতে হচ্ছে, যে আমেরিকাকে একদিন শাসন করেছিল। আজ ধনগর্বে মত্ত আমেরিকাও ব্রিটিশদের সেই একই পথের পথিক। কিন্তু গানে আছে, "চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়।"
আর, এই ভাঙ্গার 'খেলা হবে, খেলা হবে' আজ বাংলাদেশের পরিবর্তনকারীদের জাতীয় শ্লোগানে পরিণত হয়েছে। 

তাই আজ পরিবর্তনকারীরা সব কিছুর মধ্যে ভাঙনের গন্ধ পান, ভাঙ্গনের বীজ বপন করেন। যে গান রচনা হয়েছিল সমগ্র বাংলাকে নিয়ে সেই গান খণ্ডিত বাংলার জাতীয় সঙ্গীত হওয়া সত্ত্বেও পরিবর্তনকারীরা আজ ভাঙনের বিষে আক্রান্ত হ'য়ে বিষ ছড়াচ্ছেন, হলুদ মূত্রপাত করছেন এই গান পশ্চিমবাংলার গান, এই গান হিন্দু কবির গান ব'লে। অথচ এই গান নিয়ে পশ্চিমবাংলার হিন্দুরা নীচ সংকীর্ণ মনে কখনও দাবী করেনি, ভাঙনের গন্ধ পায়নি যে, এই গান হিন্দুর রচনা, এই গান পশ্চিমবাংলার গান, এই গান বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হ'তে পারবে না। আবার বাংলাদেশীরা স্বপ্ন দেখে অখন্ড বাংলা গঠনের। এর পরেও সুখী মানুষ ব'লে অসুখের বিষ ছড়ানো হয় হিন্দু মুসলমানের মধ্যে। তার থেকে বরং এই শ্ত্রুতার বিষ যে শ্ত্রুতার বিষ ছড়িয়ে গেছিল বৃটিশ আর তার দোসর দেশভাগের সময়ে দুই দেশের নেতৃবৃন্দ সেই ভাঙনের বিষাক্ত বিষ আর না ছড়িয়ে একেবারে পার্মানেন্টলি হিন্দু-মুসলমানের আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হ'ক, সময়ের দাবী তোলা হ'ক, ছাত্র আন্দোলনের কোটা সংস্কারের মুখোশের আড়ালে সরকার উৎখাতের মত গোপন খেলা না খেলে বর্তমান ১০টি শান্তির পুরস্কার প্রাপ্ত শান্তির প্রতীক বর্তমান কেয়ার টেকার সরকারের উপদেষ্টা প্রধান ডাঃ মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে ও উপদেষ্টা মন্ডলীদের আনুগত্যে চিরকালীন শান্তির দাবীতে খোলাখুলি আন্দোলন করা হ'ক, একতরফা না ক'রে যাতে সবাই স্বল্প জীবনে আধপেটা খেয়েও মিলেমিশে আনন্দে একটু মানসিক শান্তিতে থাকতে পারে। কেন অকারণ ভিত্তিহীন বিশ্বকবিকে নিয়ে নোংরা খেলা? কেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙ্গালীর মনে প্রকৃত শান্তির প্রতীক বাঙালী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে হিন্দু বাঙ্গালীর তকমা দিয়ে ব্রিটিশদের বপন ক'রে যাওয়া হিন্দু মুসলমানের নোংরা ঘৃণ্য বিষাক্ত বীজ পুনরায় চাষ ক'রে বোধের ঘরকে ধ্বংস ক'রে বাঙালী জাতটাকে টুকরো টুকরো ক'রে কিমা ক'রে দেওয়া হচ্ছে? এই খেলা কাদের খেলা?

তাই অকারণ ঘৃণা, হিংসা, কুসংস্কার, অজ্ঞানতা ইত্যাদি অন্ধকারের চাষ ক'রে ভবিষ্যৎ ধ্বংসের খেলায় না মেতে নীরবে বাংলাদেশীদের মনের মত জাতীয় সঙ্গীত নির্বাচন ক'রে সবাই অল্প ক'দিনের জন্য আসা পৃথিবীতে শান্তিতে মিলেমিশে শেষ দিন পর্যন্ত বিদেশীদের ডিভাইড এন্ড রুল-এর সংক্রামক ব্যাধির প্রভাব মুক্ত হ'য়ে বাঁচুক, এই-ই একমাত্র আন্তরিক প্রার্থনা। নমস্কার।
ক্রমশঃ পরবর্তী ৪র্থ পর্বে।
May be an image of text

প্রবন্ধঃ শ্রীশ্রীঠাকুরের ছবি আঁকা প্রসঙ্গে।

ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রতিকৃতিকে বিষয় করা যায় কি?
এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হ'লে এই প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীআচার্যদেব বাবাইদাদা বললেন,
"কাঁচা হাতে ঠাকুরের ছবি আঁকবে? এটা কি কোনও সূর্য্য, চন্দ্র, গ্রহ, গাছপালা, পশু-পাখির ছবি, যে, আঁকলাম, ঠিক হ'লো না, ফেলে দিলাম? কাঁচা হাতে যে ছবি আঁকবে, ঠিক হবে না, কাটবে, তারপর সেই কাগজগুলো কি করবে? আর কোনও বিষয় পেল না? হিমালয়ের চূড়া থেকে অতলান্তিক সমুদ্রের গহ্বর পর্যন্ত এত বিস্তৃত পরিধিতে কত বিষয় তো আছে। ভগবানকে নিয়ে এভাবে হেলাফেলা কেন? এই বিষয়টাকে বাদ দিতে বলবেন।"
 
এই জন্যেই শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, "গুরুর তিরােধান যদি হয় তখন তিনি মূৰ্ত্তি গ্রহণ করেন আচার্য্যের ভিতর। আচাৰ্য্যদেবাে ভব’ না কী কয়! আচাৰ্য—যাঁর আচরণকে অনুসরণ করে আমরা সমৃদ্ধ হয়ে উঠি। (দীপরক্ষী ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ২২)।

আচাৰ্য্যদেবাে ভব’ মানে হ'লো আচার্যদেবই সত্তা, স্থিতি; উৎপত্তি; জন্ম; ইহলোকম সংসার; ঈশ্বর; শিব; মঙ্গল।

ঠাকুরের ছবি আঁকার কি আছে? এতই যদি ঠাকুরের প্রতি প্রেম ভালোবাসা ভক্তি জেগে ওঠে তবে তা 'চ্যারিটি বিগিন্স অ্যাট হোম হ'ক' না। অসুবিধা কোথায়? হাতে খড়িটা বাবা-মাকে দিয়েই প্রথম হ'ক না। এক লাফে পরমাত্মার ছবিতে হাত পাকাবার জন্য প্র্যাকটিস না ক'রে প্রথমে প্রাকৃতিক দৃশ্য ছেড়ে যদি মানুষের ছবির ওপর হাত পাকাতেই হয় তবে তা' প্রথমে নিজের বাবা-মার ওপরেই হ'ক না। তা'তে দেখা যাক বাবা-মায়েরা সন্তানের হাতে কতটা নিজের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা পেত্নি-শাকচুন্নি, ডাকিনি যোগীনি, নন্দীভৃঙ্গী ইত্যাদিদের রূপ দেখতে পারে। এটাও তো মহাভাগ্য নিজের সন্তানের হাতে নিজের আসল রূপ দেখতে পাওয়া। সন্তানেরাও দেখুক তাদের বাবা-মায়ের আসল রূপ। একটা আবিস্কারের মতন ব্যাপার। মহা ইটারেস্টিং ব্যাপার। আর এরে সঙ্গে 'চলো নিজেকে পাল্টাই'-এর অনুশীলনের সুযোগও থাকে তা'তে। তারপর হাত পাকা হ'লে নাহয় অন্য কিছু ভাবা যেতে পারে। তাই বাবা-মায়েদের উচিৎ সন্তানকে রাইট ডিরেকশানে ছবি আঁকার হাত পাকানো। আর তার থেকেও বড় কথা, প্রথম ও প্রধান বড় দায়িত্ব হওয়া উচিৎ সর্বপ্রথম সন্তানের মনকে তৈরী করার জন্য, পারফেক্ট করার জন্য অনুশীলনের শিক্ষা দেওয়া।

এই প্রফেট যারা তাঁদের যাতে অমর্যাদা না হয়, তাঁদের প্রতি অমর্যাদায় দারিদ্যব্যাধিগ্রস্ত না হ'য়ে ওঠে তাই মহানবী হজরত মহম্মদ তথাগতদের ছবি বা ফটো রাখা বারণ করেছেন। কারণ ভাঙাচোরা মানুষ, রিপুতাড়িত মানুষ, বৃত্তিপ্রবৃত্তিতে আকন্ঠ ডুবে থাকা মানুষ, কুসংস্কারাছন্ন মানুষ যাতে তাঁদের অমর্যাদাকর ছবিগুলি দেখে দেখে আপাদমস্তক নিজের জীবনে চরিত্রে অমর্যাদার বিষে বিষাক্ত হ'তে হ'তে, বিষাক্ত বিষে নীল হ'য়ে রাঙিয়ে উঠে প্রফেটদের প্রতি তাচ্ছিল্য বুদ্ধিযুক্ত হ'য়ে প্রফেটদের বলাগুলিকে আর জীবনে মেনে চলবে না। তাই পুরুষোত্তম পরমপিতা পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীহজরত মহম্মদ কঠোরভাবে ছবি বা মূর্তির বিরুদ্ধে ব'লে গেছেন। তিনি প্রফেটদের ছবি বা মূর্তির বিরুদ্ধে ব'লে গেছেন তা' নয়। এটা ভুল প্রচার। বোঝার ভুল। প্রভু মহম্মদের ব'লে যাওয়া বাণীগুলিকে বোঝার ভুল ও ভুল interpretation বা ব্যাখ্যা। এ ব্যাপারে পরবর্তী সময়ে কোনোদিন আমি ব্যাখ্যায় আসবো।

এ জন্যেই বলে জীবনে শ্রীশ্রীআচার্য্যের প্রয়োজন। আগে তো নিজেকে রাইট ডিরেকশানে পরিচালিত করি তারপর তো সন্তানকে তার জীবনের যে কোনও ক্ষেত্রে রাইট ডিরেকশান দিতে পারবো। নতুবা সব দীক্ষা শিক্ষা ইত্যাদি বকোয়াস। যে বকোয়াস শিক্ষা আমরা শ্রীশ্রীঠাকুরের দীক্ষিতরা আমাদের শ্রীশ্রীআচার্য্যদেব থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন জীবনে গ্রহণ করে চলেছি এবং ঘরে বাইরে অন্যকেও ইঞ্জেক্ট ক'রে চলেছি।

আর, যারা আচার্য প্রথা ও শ্রীশ্রীআচার্যদেবকে মানে না, প্রতিদিন বিরুদ্ধতার রোলার চালিয়ে পোঙ্গাপন্ডিত সেজে বালখিল্য বস্তাপচা দুর্গন্ধযুক্ত ইষ্টপ্রাণতা, ইষ্টস্বার্থ, ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠার কথা ব'লে বিভ্রান্তির কূট বিষ ছড়িয়ে চলেছে সজ্ঞানে ইচ্ছাকৃতভাবেই তাদের কথা আর কি বলবো, সেটা সৎসঙ্গীদের সচেতনতার অভাব। সৎসঙ্গীদের নিজেদের চিনে নিতে প্রকৃত ইষ্টপ্রাণ ভক্তপ্রাণকে। পরম দয়ালের দরবারে বেকুবির কোনও জায়গা নেই। তা সে যতই সরলতা কপচাও।
আর যারা না জেনে, না বুঝে, না প'ড়ে, ঠাকুরের বিধি কিছু মাত্র পালন না ক'রে, নিজ চরিত্রে ফুটিয়ে না তুলে কেবলমাত্র মুখে মারিতং জগত ভন্ডামির ওপর দাঁড়িয়ে কথার স্রোতে ভেসে হাতে কলমে বিন্দুমাত্র কিছু না ক'রে শুধুমাত্র প্রশ্ন করার সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হ'য়ে লাফিয়ে লাফিয়ে প্রশ্ন থেকে প্রশ্নে দৌড়ে দৌড়ে বেড়ায় বকনা বাছুরের মত, কান নিয়ে গেছে শুনে কানে হাত না দিয়ে চিলের পিছনে ছুটে যাওয়ার মত শুধু আচার্যপ্রথা ও আচার্যদেবের বিরুদ্ধে ব'লে চলেছেন তাদের শুধু বলবো যদি সত্যি সত্যিই আপনারা ঠাকুরকে ভালোবাসেন তাহ'লে আগে ঠাকুরের বলা মতো নিখুঁত চলায় চলার চেষ্টা করুন, তারপর শ্রদ্ধাকে জীবনের মূল কেন্দ্রে বসিয়ে শ্রীশ্রীআচার্যদেবের কাছে আসুন, তাঁর সঙ্গে খোলামেলা প্রেম-ভালোবাসা, শ্রদ্ধা-সম্মান পূর্ণ অন্তরে কথা বলুন, আলোচনা করুন। তারপর আপনাদের যার যেটা ভালো লাগে করুন যে যেমন বুঝেছেন ঠাকুরকে সেই বোধ নিয়ে। কারণ কথায় আছে, শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানম্।
আর আমরা? আমরা নিজেরাই ঠিক না। আমরা নিজেরাই এক একজন পোঙ্গাপন্ডিত।

প্রবন্ধঃ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন ও সময়। (পর্ব ৪)

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন নিয়ে বাংলাদেশীদের অদ্ভুত যুক্তি!!! একটা অদ্ভুত সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আমরা। অদ্ভুত যুক্তিটা পরে বলছি। এখন আমার ভারতের দর্শক ও শ্রোতা বন্ধুরা ও সৎসঙ্গীরা বলতেই পারেন, একটা অন্য দেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে আমাদের কি মাথাব্যথা? কি সমস্যা? আপনারা বলতে পারেন ওদের জাতীয় সঙ্গীতের পরিবর্তনের ব্যাপারে আমরা কি ক'রে অদ্ভুত সময়ে মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি?

প্রশ্নটা হচ্ছে, আমার পাশের ঘরে আগুন লাগলে আমি কি নিশ্চিন্তে থাকতে পারি? বাংলাদেশ তো আমার পড়শী। পড়শীদের যদি কিছু বিপদ হয় তখন আমাদের তো তার আঁচ লাগবেই, কম হ'ক আর বেশী হ'ক। আর, The greatest phenomenon, the greatest wonder of the world SriSriThakur Anukulchandra বলেছিলেন,

"পড়শীরা তোর নিপাত যাবে তুই বসে সুখ খাবি বুঝি,
যা ছুটে যা তাদের বাঁচা, তারাই যে তোর বাঁচার পুঁজি।"

একটা দেশের মাথারা যখন পায়ে অবস্থান করে বা পায়ের কাজ করে আর পায়েরা যখন মাথায় অবস্থান করে, মাথার কাজ করে তখন যা হবার তাই হয়। ঐ বিশ্বস্ত বাঁদরকে পাহারাদার হিসেবে নিযুক্ত ক'রে রাজার গভীর নিদ্রায় চলে যাবার ম্রত। আপনারা সকলে গল্পটা জানেন। তবুও আর একবার বলছি।

রাজার বিশ্বস্ত অনুচর ছিল একটা বাঁদর। ঐ বাদরকে ছাড়া রাজা আর কাউকেই বিশ্বাস করতো না। তাই রাজা ঘুমোনোর সময় তাঁর পাহারায় রাখতেন ঐ বাঁদরকে, যাতে শান্তিতে ঘুমোতে পারেন।

একদিন রাজা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। পাশে মাথার সামনে বসে পাহারা দিচ্ছে ঐ বিশ্বস্ত বাঁদর। বাঁদর দেখতে পেল একট মাছি রাজার নাকে উপরে বসে আছে। বাঁদর তাঁকে তাড়িয়ে দিল। কিন্তু মাছিটি আবার এসে রাজার নাকের ওপর এসে বসলো। এইভাবে বাঁদর মাছিটিকে দিয়ে হাত দিয়ে যতবার তাড়াতে যায় ততবার মাছিটি ঘুরে ঘুরে উড়ে এসে সেই রাজার নাকের ওপরে এসে বসতে লাগলো। তখন বাঁদর বিরক্ত হ'য়ে এদিক ওদিক দেখতে লাগল। চারিদিকে দেখতে দেখতে বাদরটি দেওয়ালে টাঙ্গানো একটি তরবারি দেখতে পেল। বাদরটি দেওয়াল থেকে তরবারিটি নামিয়ে এনে দুই হাতে ধরে রাজার মাথার সামনে এসে বসলো আর প্রেক্ষা করতে লাগলো কখন মাছিটি এসে রাজার নাকের ওপর বসে।, অবশেষে মাছিটি উড়ে এসে রাজার নাকে এসে যেই না বসলো সঙ্গে সঙ্গে কালবিলম্ব না ক'রে সোজা তরবারি দিয়ে এক কোপ বসিয়ে দিল রাজার নাকের ওপরে আর মাছিটি এবারও ফুড়ুৎ ক'রে উড়ে চলে গেল। কিন্তু --------।

পাঠক নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন বাকীটা।
তাই, দেশের মূর্খ রাজার দ্বারা নিয়োজিত মূর্খ বাঁদরের হাত থেকে দেশকে ও জনগণকে বাঁচানো প্রতিটি সচেতন ভদ্র জ্ঞানী দরদী দেশপ্রেমিক, বিশ্বপ্রেমিক, ঈশ্বরবিশ্বাসী, জীবন্ত ঈশ্বর অনুগামী ইষ্টপ্রাণ মানুষের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য যে যেমনভাবে পারে তেমনভাবে জীবন্ত ইষ্টের কথা বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়া। তাই, আমি ঐ কথা বলেছিলাম যে, একটা অস্থির সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি। অস্থির সময় দেশ ছাড়িয়ে সারা বিশ্বকে গ্রাস করতে সময় লাগে না। কারণ শয়তান কিল্বিস ওঁত পেতে বসে আছে কখন বিষাক্ত ছোবলটা মারবে। আর, মারবে মারবে একেবারে ব্রহ্মতালুতে মারবে। তখন আর উপায় থাকবে না। তাই, আমার রাজ্যের তথা দেশের অন্যান্য রাজ্যের সমস্যার সঙ্গে বাংলাদেশের সমস্যা আমার সমস্যা বলেই মনে হয়। একাত্মতা অনুভব করি। তাই, আপনাদের সঙ্গে আমার বক্তব্য শেয়ার করি মাত্র।

যাই হ'ক, জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের পক্ষে বাংলাদেশী পরিবর্তনকামীদের জোরালো অদ্ভুত যুক্তি হ'লো, আমার সোনার বাংলা গান পশ্চিমবঙ্গের গান, গানে পশ্চিমবঙ্গ আছে।

এবার যখনি তাদের বলা হ'লো গানের কোথায় পশ্চিমবঙ্গ শব্দ আছে? অমনি সেই 'তুই জল ঘোলা করিসনি, তোর ঠাকুর্দা জল ঘোলা করেছিল' সেই যে প্রবাদ, সেই প্রবাদের নোতুন মোড়কে নোতুন রূপ 'আমার সোনার বাংলা গানের শব্দে পশ্চিমবঙ্গ নেই, আছে আকারে ইংগিতে।' একেবারে ১৮০ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে অদ্ভুত, আশ্চর্য যুক্তি!
বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল, দলের সমর্থক, বর্তমান দেশের কেয়ার টেকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন করতেই পারেন। সেটা বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রকৃত স্বাধীন হওয়ার পর 'পূর্ব পাকিস্তান' নাম বদলে 'বাংলাদেশ' রাখা হয়েছিল। ফলে জাতীয় সঙ্গীতের প্রয়োজন হয়েছিল। ফলে 'আমার সোনার বাংলা' হয়েছিল জাতীয় সঙ্গীত।
এখন বাংলাদেশের বর্তমান পট পরিবর্তনের নায়কেরা আভ্যন্তরীণ কলহে অবৈধ উপায়ে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তাদের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত স্বৈরাচারী শাসককে উৎখাত করেছে। আর, এখন জাতীয় সংগীতকে উৎখাত করতে চাইছে। সেটা বাংলাদেশের সংখ্যাগুরু জনগণ যেটা চাইবেন সেটা হ'তেই পারে। আবার বলছি, সেটা তাদের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার।

কিন্তু, জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের পক্ষে যে কথাগুলি উঠে আসছে, তার মধ্যে অন্যতম আর একটা বিষয় হ'লো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হিন্দু। পরমুহুর্তে এই কথা নিয়ে বিবাদ হতেই প্রসঙ্গ পাল্টে বলা হচ্ছে, "জাতীয় সংগীতের রচিয়তা হিন্দু না মুসলিম এটা দেখার বিষয় না। বিষয় হল এই সংগীত দ্বারা আমার দেশকে সুন্দর ভাবে অন্যের কাছে উপস্থাপন করা এবং জাতির আশা আকাঙ্ক্ষা এবং গৌরবের প্রতিফলন ঘটানো যায়নি।"

এই বিষয়ে পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থানকারীদের কাছে আমার জিজ্ঞাস্যঃ
১) এই গানের কোথায় কোথায় বাংলাদেশকে সুন্দর ভাবে অন্যের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি?

২) এই গানের কোন অংশে জাতির আশা আকাঙ্ক্ষা এবং গৌরবের প্রতিফলন না ঘটিয়ে অন্য কিছুর প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে?
বরং এই গানের মাধ্যমে সারা বিশ্ব বাংলাদেশকে চেনে, জানে ও সহজ সরল গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর অপরূপ সুন্দর একটি মিষ্টি দেশ ব'লে জানে। যা, পশ্চিমবঙ্গকে চেনে যা, জানে না। অথচ এই পশ্চিমবঙ্গেও সেই একইরকম সহজ সরল গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর অপরূপ সুন্দর একটি মিষ্টি প্রতিফলন আছে, কিন্তু বিশ্ববাসী তা' জানে না, কারণ ভারতের অন্তর্ভুক্ত একটি রাজ্য বলে। বাংলাদেশ একটা দেশ আর সেই দেশের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা' বিশ্বের কাছে পরিচিত হ'য়ে উঠতে কোনও অসুবিধা হয় না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ দেশ নয় আর এই গান পশ্চিমবঙ্গকে রিপ্রেজেন্ট করে না। দেশ আর রাজ্যে মূলত একটা ফারাক থাকে সেটা সম্ভবত যারা উত্তেজিত মস্তিষ্ক ও বৃথা আড়ম্বর যুক্ত চিন্তার অধিকারী বাংলাদেশী তাদের জানা জানা নেই।
যাই হ'ক বাংলাদেশী যারা এই ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকার পতনের ষড়যন্ত্রকে সমর্থন করেন ও উপদেষ্টামন্ডলীদের দ্বারা পরিচালিত বর্তমান অস্থায়ী কেয়ার টেকার সরকারের পক্ষে তারা 'গানের কোথায় পশ্চিমবঙ্গ শব্দ আছে, এই গানের কোথায় কোথায় বাংলাদেশকে সুন্দর ভাবে অন্যের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি? এই গানের কোন অংশে জাতির আশা আকাঙ্ক্ষা এবং গৌরবের প্রতিফলন না ঘটিয়ে অন্য কিছুর প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে' ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তরে আপনি একটা জোরালো যুক্তি, তথ্য ও তত্ত্ব সমৃদ্ধ প্রবন্ধ লিখে উপহার বিশ্ববাসীকে দিন। যাতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনে জোরালো যুক্তি, তথ্য ও তত্ত্ব বিশ্ববাসী জানতে পারে। অপেক্ষায় থাকবো।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মুহিব খানের "ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি---" এই গান জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে বাংলাদেশীরা বিবেচনা করছেন। এই বিবেচনা প্রসঙ্গে মনে হ'লো এই গানে দুটো লাইন আছে,

"অনেক দামের দেশ রক্ত ঘামের দেশ মায়ার বাঁধন বড় বেশি
হিন্দু মুসলমান, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান, বাঙালি পাহাড়ি এক দেশি।।"

------ এই লাইনের কথাগুলির মধ্যে হিন্দুদের সাথে মুসলমানদের বা অন্যান্য সম্প্রদায়ের সাথে বাস্তবে এক দেশী মনোভাব নিয়ে আছে? বাস্তবে হিন্দু-মুসলমানের সম্প্রীতি আছে?
এই গানের দ্বিতীয় যে লাইন
"শান্ত মাটির নিচে এখনো ঘুমিয়ে আছে তিনশত ষাট আউলিয়া
সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা, ভাসানী, আছে মুজিব, ওসমানী ও জিয়া।।"
তা' মুজিবের মূর্তি ভাঙ্গা, মাথার ওপর দাঁড়িয়ে পেচ্ছাপ করা, মুখে পেচ্ছাপ, জুতো দিয়ে মারা, মাথা ভেঙে নিয়ে খেলা করা, তাঁর বাসভবন তছনছ ক'রে দেওয়া ইত্যাদি লজ্জাজনক ঘৃণ্য নোংরা ক্ষমাহীন ঘটনা এবং মুজিবর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার শায়া, অন্তর্বাস নিয়ে প্রকাশ্যে যে অশ্লীল আচরণ এবং শেখ হাসিনার নামে যে নোংরা অশ্লীল যৌন শ্লোগান তুললো বাংলাদেশের প্রকাশ্য মিছিলে ছাত্রীরা, নারী হ'য়ে নারীর বিরুদ্ধে যে কানে গরম সীসা ঢেলে দেবার মত শ্লোগান শুনলো বিশ্ববাসী তারপরও বাংলাদেশ গঠনের নেতা ও জাতির পিতা শেখ মুজিবর রহমান কি শান্ত মাটির নীচে ঘুমিয়ে থাকতে পারে? এই গানের লাইনগুলি এবং শেখ মুজিবরের বিরুদ্ধেই যেখানে বিদ্রোহ সেখানে তো বাংলাদেশের বর্তমান যে চরিত্র বিশ্ববাসী দেখলো, সেই চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত কথা সমৃদ্ধ গান। কি ক'রে এই গান জাতীয় সঙ্গীত হবে? মেনে নেবে বর্তমান বাংলাদেশের সদ্য স্বাধীন হওয়া ছাত্র আন্দোলনকারীরা, সমন্বয়কারী ৬ ছাত্র ও ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনকারী নাগরিক সমাজ এবং সরকারের উপদেষ্টামন্ডলীরা ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া উপদেষ্টা মন্ডলীর প্রধান?

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "আমার সোনার বাংলা গান"-এর পরিবর্তে কবি মুহিব খানের লেখা কবিতা 'ইঞ্চি ইঞ্চি খাঁটি' কবিতার এই লাইন "হিন্দু মুসলমান, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান, বাঙালি পাহাড়ি এক দেশি" এই লাইনের সত্যতা কি সত্যি সত্যি বাংলাদেশে আছে, আগে ছিল? যদি দেখতে হয় তাহ'লে ভারত ভাগের সময় থেকে শুরু ক'রে ভারত ভাগের কারণ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ৭১-এ পাকিস্তান ভাগ, তারপরে ২০২৪ বর্তমান বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ ঘটনাবলী বিশ্লেষণ ক'রে দেখুক আর তার সঙ্গে দেখুক বাংলাদেশে ভারত ভাগের আগে ও পরে এবং ৭১-এর আগে ও পরে হিন্দু জনসংখ্যার শতকরা হার কত ছিল ও কত আছে। আর, এর ঠিক উল্টোটাও দেখে নিক পশ্চিমবঙ্গে ও ভারতে মুসলমান সম্প্রদায়ের জনসংখ্যার শতকরা হার ভারত ভাগের আগে ও পরে এবং ৭১ এর সময়ে ও পরে অর্থাৎ বর্তমানে কত ছিল ও কত আছে।

আর, হামলা বা দাঙ্গা যারা করে তাদের কোনও জাত বা ধর্ম নেই তা সে জাতের বা ধর্মের হ'ক। কিন্তু দাঙ্গা ও দাংগাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কঠোর মোকাবিলা বা তাদের প্রশ্রয়, ধর্ম বা সম্প্রদায়কে নিয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য ব্যবহার করা বা ধর্ম ও সম্প্রদায়কে রক্ষা করার আন্তরিক মানসিকতা, ধর্মীয় নেতাদের প্রকৃত ধর্ম ব্যাখ্যা বা উস্কানিমূলক প্রচার, সমস্ত সম্প্রদায় ও সম্প্রদায়ের লোকেদের সমদৃষ্টি ও পক্ষপাতশূন্য মনোভাব বা অসমদৃষ্টি ও পক্ষপাতিত্ব মনোভাব ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বা সংঘাত। যদি ভালো ক'রে গবেষণা করে বাংলাদেশী তাহ'লে দুধ কা দুধ, পানি কা পানি সত্য দেখতে পাবেন।
যাই হ'ক আজ এই পর্যন্ত। পরবর্তী ভিডিওতে আবার আসবো শুধুমাত্র কিছু সংখ্যক নোংরা মানসিকতার মানুষ ও তাদের প্রশ্রয়দাতার জন্য মিথ্যে, সাম্প্রদায়িক প্রচার ও কবির বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ, মিথ্যে অভিযোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মকে নষ্ট ক'রে দিচ্ছে, গুলিয়ে দিচ্ছে, বিষাক্ত ক'রে দিচ্ছে মাথা আর তাই দেখে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মা আজ গুমরে গুমরে কাঁদছে। আর ভেসে আসছে কানে তাঁর ক্রন্দন ধ্বনি তাঁর লেখা গানের মধ্যে দিয়ে,
"আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি
তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী!
ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে!
তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে॥" 
( লেখা ১৪ই সেওপ্টেম্বর'২৪)

প্রবন্ধঃ জন্মদিবস উৎযাপন ও কেক কাটা প্রসঙ্গ।

পরম প্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৭ তম জন্মদিবস উৎযাপন ও কেক কাটা প্রসঙ্গ।

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৭তম জন্মদিন পালনে সম্প্রতি কোচবিহার সৎসঙ্গ মন্দিরে কেক কাটা নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন বেশ কিছু ইষ্টপ্রাণ সৎসঙ্গী। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইষ্টপ্রাণ সৎসঙ্গীদের অকারণ এই কেক কাটা নিয়ে বিতর্ক সৎসঙ্গীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কেক কাটা বিষয়টাকে কিছু ইষ্টপ্রাণ সৎসঙ্গী ঠাকুর পরিবারের রীতি বিরুদ্ধ অনুষ্ঠান ব'লে চিহ্নিত করেছেন। ঠাকুর পরিবারের অভ্যন্তরে এইসব কেক কাটার রীতি নেই। অথচ কোন রীতিটা ঠাকুর পরিবারে আছে আর কোন রীতিটা নেই আর, ঠাকুর পরিবারের অভ্যন্তরে কোন রীতি পালন হচ্ছে আর কোন রীতি পালন হচ্ছে না সেটা তুলে ধরছেন না ইষ্টপ্রাণ সৎসঙ্গী সমালোচকরা।।
কেউ কেউ বলছেন, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই কেক কাটা অনুষ্ঠান পালন করা হয়েছে। এই পাশ্চাত্য সংস্কৃতি শ্রীশ্রীঠাকুর যে আর্য্য কৃষ্টি ও সংস্কৃতির ধারক বাহক তার একেবারে বিপরীত সংস্কৃতি। এই সব পাশ্চাত্য সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য শ্রীশ্রীঠাকুর বিধান দিয়ে যান নি তাই এই সংস্কৃতি বর্জনীয়। এভাবেই বিকৃতি জন্ম নেয়। ভাবের ঘোরে সৎসঙ্গে আমরা এমন কিছু কাজ করি যা অনেক সময়ই বিতর্কিত বিষয় হয়ে দাঁড়ায়!!! তাই ইষ্টপ্রাণ সৎসঙ্গীদের আবেদন, সৎসঙ্গে সৎসঙ্গী প্রজ্ঞাবান মানুষ নিশ্চয়ই আছে যারা এই কাজকে কোনোভাবেই ঠাকুরের ভাবধারার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মনে করবেন না।
এই নিয়ে বিতর্ক এমন জায়গায় চলে যায় যে সৎসঙ্গীরা একে অপরকে জ্ঞান দেবেন না, আমরা সপরিবারে সৎসঙ্গী, কেউ বা নিজেকে স্বস্ত্যয়নী ব্রতধারী সৎসঙ্গী উল্লেখ করে বিতর্ককে আরো উসকে দিচ্ছেন। কেউ বা অতি উৎসাহে এই কেক কাটার তীব্র বিরোধীতা ক'রে নিজেকে আচার্যদেবের খুবই ঘনিষ্ঠ উল্লেখ করে বলছেন, যান আমার নাম নিয়ে আচার্যদেবকে বলুন। আবার পরমুহুর্তে বলছেন, আচার্যদেব এই কেক কাটা সংস্কৃতি অনুমোদন করলে আমি মানবো এই কেক কাটা অনুষ্ঠান।
কেক কাটা বিষয়ে দীর্ঘ কমেন্টে বিরোধীতার ঝড় তুলে পরমূহুর্তে আবার আমি স্বল্প জ্ঞানী, আমি ঋত্ত্বিক নই বলে কমেন্ট করছে অনেকেই। আচ্ছা, ঋত্বিক হলেই সব জানবেন? কেউ কেউ শ্রীশ্রীঠাকুরের নির্দেশিকা সম্পর্কে বলছেন কিন্তু সেই নির্দেশিকা কি তা তুলে ধরছেন না। নির্দেশিকাটা তুলে ধ'রে এই কেক কাটার সঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুরের নির্দেশিকাটা কি তুলনামূলক আলোচনা করলে সমস্ত পাঠকের কাছে বিষয়টা ক্লিয়ার হয়। বিতর্কের সুষ্ঠ অবসান ঘটে। নতুবা শুধুই বকোয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু সেই রাস্তায় কেউ হাঁটছেন না, হাঁটবেন না, হাঁটতে চান না। শুধু নোতুন কিছু দেখলেই তার পিছনে আপাদমস্তক যতই লজিক থাকুক তা' না ভেবেই, বিশ্লেষণ না করেই, বিষয়ের গভীরতা অনুধাবন না করেই উপলব্ধিহীন ভিত্তিহীন অর্থহীন মন্তব্যের ঝড় তুলে, কখনও ঠাকুরের বলা কথাকে প্রয়োগ ক'রে জোর ক'রে যৌক্তিক ক'রে তুলে ধ'রে সোশ্যাল মিডিয়ায় নোতুন বিষয়কে ঘেঁটে দেওয়ার একটা অসুস্থ প্রবণতা তীব্র হ'য়ে দেখা দিয়েছে আমাদের সৎসঙ্গীদের। প্রচলিত যে কোনও বিষয় থেকে একটু সরে এসে সময়োচিত আধুনিক নোতুন কিছু দেখলেই শুরু হ'য়ে যাচ্ছে তীব্র বিরোধী মানসিকতা সম্পন্ন ইষ্টপ্রাণতার বহির্প্রকাশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেসবুকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আর্য্য কৃষ্টি ও সংস্কৃতির ধারক বাহক তাই এইসমস্ত স্রোতের বিপরীত নোতুন কিছু চলবে না, গ্রহণ যোগ্য নয়।


এই প্রবণতা দেখা দিয়েছিল শ্রীশ্রীঠাকুরের দেহ রাখার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রীশ্রীবড়দা বিরোধীদের, যা আজও বহমান। সেই নোতুন কিছুর বিরোধীতার ট্রাডিশান এখন দেখা দিয়েছে মূল সৎসঙ্গীদের মধ্যে।


শ্রীশ্রীঠাকুরের আর্য্যকৃষ্টি, আর্য সংস্কৃতি এইসব কথা শুধু মুখে নামমাত্র ব'লে ফেসবুকে অকারণ বিতর্কের ঝড় তুলে বিরোধীতা সৃষ্টি না করে আর্য কৃষ্টি ও আর্য্য সংস্কৃতির কি পরিচয় তা' তুলে ধরা যেতে পারে। আর্য কৃষ্টি ও সংস্কৃতির রূপ কি তা' বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে তুলনামূলক আলোচনা করা যেতে পারে, তা'তে সৎসঙ্গীরা উপকৃত হবে। পাশ্চ্যত্য সংস্কৃতি মানেই তা খারাপ ও পরিত্যাজ্য? জন্মদিনে কেক কাটার রীতিটা কেন সমর্থন যোগ্য নয় তার একটা যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ ক'রে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করলে মানুষের বুঝতে সুবিধা হয়। কেক কাটার রীতি পাশ্চাত্য রীতি তাই সেটা খারাপ এটাই একমাত্র স্ট্রং লজিক? তাই তা' পালন করা যাসবে না? এছাড়া পালন না করার স্বপক্ষে কোনও লজিক থাকবে না? আর বহু পাশ্চাত্য রীতি তো আমাদের কালচারে মিশে গেছে তার সবটাই খারাপ? আমাদের বহু রীতিও তো পাশাত্য সংস্কৃতির অন্তভুক্ত হয়েছে তাহ'লে সেগুলিও তারা বলবে প্রাচ্য সংস্কৃতি তাই তা' গ্রহণ করা যাবে না, খারাপ। এতটাই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গী? তাও আবার সৎসঙ্গীদের? দেওঘরে কোনও দিনই হয়নি তাই আর কোথাও হ'তে পারবে না? ভালো জিনিস প্রথমে দেওঘরে যদি না হয় তাহ'লে কোথাও করা যাবে না? ভালো জিনিস কেউ কোথাও করলে তা দেওঘরে যদি প্রথমে না হয় তাহ'লে তা দেওঘর অনুমোদন করবে না? এমন কোনও বিধি নিষেধ আছে ঠাকুরবাড়ি থেকে? তাহ'লে কেন শুধু শুধু কথায় কথায় 'ঠাকুরবাড়িতে হয়েছে?' আচার্যদেব অনুমোদন করেছে? এই কথাগুলি আসে? এর মধ্যেও কেন জোর ক'রে অকারণ আচার্য বিরোধীতার গন্ধ খুঁজে বের করা হয়?
বিতর্কিত বিষয় ঠাকুরকে নিয়ে সৎসঙ্গীরাই শুরু করেছে ঠাকুরের দেহ রূপে থাকার সময় থেকে। এখন মূল ধারার সৎসঙ্গীদের মধ্যে যে কোনও নোতুন বিষয় নিয়ে সৎসঙ্গীরা বিতর্ক তুলে দেয়, বিতর্ক তুলে দিয়ে জল ঘোলা ক'রে দিয়ে পরে আচার্যদেবের নির্দেশ মেনে নেবার কথা তোলে। তা' এতটাই যখন আমরা আচার্যপ্রাণ তখন আচার্যদেবের নির্দেশ মেনে আমরা মন্দিরে কেন্দ্রে ঠিক ঠিক চলি তো? আচার্যদেবের নির্দেশ মেনে আমরা ঠাকুরকে মুখ্য ক'রে জীবন গড়ে তুলেছি ও তুলছি তো? শ্রীশ্রীআচার্যদেব আর কোনটা কোনটা অনুমোদন করবেন? আজ পর্যন্ত যতগুলি অনুমোদন করেছেন সেগুলি ঠিক ঠিক পালন হয়েছে ও হচ্ছে সমস্ত মন্দির আর কেন্দ্রগুলিতে কিংবা নিজ নিজ ব্যক্তিগত জীবনে?
এই কেক কাটা নিয়ে কেউ কেউ বলছেন, এটা ঠিক, কেক দিয়ে কিন্ত ভোগ দেওয়া হয়নি। কেক কেটে ভক্তদের বিতরণ করা হয়েছে মাত্র।


কেক ভোগ হিসেবে দিলে কি ক্ষতি হ'তো আর ভোগ হিসেবে দিয়েই বা কি লাভ হয়েছে? মানুষ ভালোবেসে তার ভালো লাগার জিনিস ঠাকুরকে দেয়। কেকের মধ্যে এমন কি আছে যা ঠাকুরকে ভোগ হিসেবে দেওয়া যাবে না? যারা এই কেক কাটা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন ফেসবুকে, তারা কেক অমৃত নাকি কেক বিষ, এগুলি নিয়ে বিস্তৃত যুক্তিসংগত আলোচনা থাকলে সৎসঙ্গীদের উপকার হ'তো। ঠাকুর কি সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে কুলুঙ্গিতে ফুলচন্দন ধূপধুনো দিয়ে নানা দেবদেবীর ভিড়ে শুধু ফটো ক'রে তুলে রাখার জন্য? ঠাকুরকে কি নিজের জীবন থেকে দূরে দূরে সরিয়ে রেখে ভয়ে ভয়ে নিরাপদে শুধু নিজের স্বার্থে, সন্তান, পরিবার, পরিজনের স্বার্থে পূজা করার জন্য? ঠাকুর কি অমূর্ত ভগবান, আকাশের ভগবান, বোবা মাটির ভগবান ছিলেন? তাঁর কেক খেতে নেই? নাকি শাস্ত্রে নিষেধ আছে? তা' কেন ঠাকুরের কেক খেতে নেই, কেন কেক খাওয়া নিষেধ, কেন অশাস্ত্রীয়, কেন পাপ তা লজিকের ওপর দাঁড়িয়ে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে না? কেন ফেসবুক জুড়ে শুধু ভিত্তিহীন, অর্থহীন, ফালতু সস্তা অজ্ঞানতায় ভরা বালখিল্য ভক্তি ও কথার স্রোতে ভাসা? তাহলে ঠাকুর কি খাবে? শুধু জল আর ভাঙ্গা গুড়ো পিঁপড়ে খাওয়া বাতাসা, নকুলদানা? সেই অমূর্ত ভগবানদের প্রসাদ দেওয়ার মতো?
ঠাকুর যদি কেক খেতে না পারেন রক্তমাংসের শরীরের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও তাহ'লে তো আমাদেরও খাওয়া উচিৎ নয়। তাই নয় কি? আর ঠাকুরকে কি আমিষ কেক দেওয়া হয়েছে? যা ঠাকুর খেতেন না তা' আমার খাওয়া উচিৎ নয়? বহু সৎসঙ্গী তো মাছ, মাংস, ডিম, রসুন, পেঁয়াজ, আরও কত কত কত কি যেমন জর্দা, সিগারেট, মদ ইত্যাদি ইত্যাদি খান যা ঠাকুর খেতেন না। শুধু নিজে খেতেন না তা' নয় খেতে পছন্দ করেন না এবং তাঁর এসব খাওয়ায় নিষেধ আছে, তাঁর বিধানে আছে। তা' আমরা সৎসঙ্গীরা খাই কেন? কেন আমি স্বস্ত্যয়নীব্রতধারী সৎসঙ্গী এই ঢাকঢোল পিটিয়ে নিজেকে সাধারণ সৎসঙ্গীদের সামনে বড় ক'রে তুলে ধরে রাজসিক এবং তামসিক নিরামিষ খায়? শ্রীশ্রীঠাকুর কি রাজসিক ও তামসিক নিরামিষ খেতেন? কেউ কেউ আমরা স্বস্ত্যয়নীধারীরা লুকিয়ে চুরিয়ে মাছ, মাংস, অ্যালকোহল গ্রহণ করি। কেউ কেউ ইষ্টপ্রাণতার ঝড় তুলে ইষ্টপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠার জন্য ছুটে বেড়ায় আর, বৃত্তি প্রবৃত্তিতে ডুবে থেকে এমন এমন কাজ আমরা বহু সৎসঙ্গীরা করি যা ঠাকুর পছন্দ করেন না, এবং তা তিনি কঠোরভাবে নিষেধ ক'রে গেছেন। আমরা সৎসঙ্গীরা কেন তা' করি?
ঠাকুরের জন্মোৎসব এ ঋত্বিক দের কেক কাটা অনেকের ভালো লাগেনি, কারণ তাদের বক্তব্য ঋত্বিকরা ভগবান নন।
এই বক্তব্যের পিছনে লজিকটা কি একটু বুঝিয়ে বললে চোখটা খোলে। কারণ, শ্রীশ্রীঠাকুরের কেক কাটা, কেক কেটে জন্মদিন পালন করা ও সেই কেক শিষ্য অনুগামীদের, উপস্থিত ভক্তমন্ডলীর মধ্যে প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করার মধ্যে ঋত্ত্বিকদের দোষ বা অন্যায়টা কোথায়? আর, ঋত্ত্বিকরা ভগবান নয় এটা ঠিক। কিন্তু কে বলতে পারে সমগ্র ঋত্ত্বিকদের মধ্যে একজনও ভগবান নয়? ভগবান অর্থ কি?


অনেকে বলছেন, ঠাকুরবাড়ির পরিবারের কারও জন্মদিনে কেক কাটা হয়নি। আমার জিজ্ঞাস্য কেক কাটা অনুষ্ঠান কি পাপ? ঠাকুরবাড়ির পরিবারে কোনওদিনও কেক কাটা হয়নি এ ব্যাপারে সমালোচকরা স্থির নিশ্চিত? ঠাকুরবাড়ির পরিবারের লোকেরা কি সাধারণ মানুষ নয়? সাধারণ মানুষের মত তাদের কোনও ইচ্ছা থাকতে পারে না যা অস্তিত্ববিরোধী নয়? সাধারণ জনজীবন থেকে ঠাকুর পরিবার ও পরিবারের সদস্যদের জীবন বিচ্ছিন্ন? নাকি আমরা নিজেরা ঠাকুরের বলা কথা পালন না করা, ঠাকুরের নিয়ম না মানা, দীক্ষা, স্বস্ত্যয়নী অর্থ কি না জানা, না মানা, অজ্ঞানতার অন্ধকারে ডুবে থাকা অতিবোদ্ধা তথাকথিত সৎসঙ্গীরা ঠাকুরবাড়ির সদস্যদের একটা কড়া নিয়মের শেকলের গেড়োয় বেঁধে রেখে তাদের স্বাভাবিক সাধারণ সহজ সরল জীবন থেকে দূর ক'রে রেখে দেবো? এ তো মানসিক অত্যাচার ।
তাই বলি, নোতুন নোতুন সংযোজন তো সময়ের দাবী। এই সময়ের দাবী মেনে আগামীদিনে অনেক কিছুই হবে। তবে তা' যেন কখনই বিকৃত না হয়, বাঁচা ও বাড়ার বিরুদ্ধ না হয়। সেই নোতুনত্ব থেকে যেন জীবনবাদের, অস্তিত্ববাদের, আদর্শবাদের ও জীবন্ত আদর্শের স্মেল উবে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, জ্ঞান রাখতে হবে।

তবে বর্তমান ঘোর কলি যুগে কোনটা বিকৃত আর কোনটা বিকৃত নয় সেই বোধটাই হারিয়ে গেছে। তাই সুন্দরের মধ্যে মানুষ অসুন্দর দেখে আবার অসুন্দরের মধ্যে সুন্দর দেখে। তাই দেখার চোখ চাই। দেখতে গেলে চাই জ্ঞান, চাই বোধ, চাই বুদ্ধি, চাই আগ্রহ, চাই একাগ্রতা, চাই তীব্র ভালোবাসা। চাই নিরবচ্ছিন্ন নামধ্যান, নামধ্যানের প্রতি অনুরাগ। চাই শয়নে, স্বপনে, জাগরণে, চলতে, ফিরতে, কাজ করতে করতে, অফিসে, ব্যবসায়, হাটেবাজারে, বাথরুমে মুখ ধুতে, পায়খানা করতে, স্নান করতে, বেডরুমে, ভোজনে দিন শুরু থেকে রাতে ঘুমতো যাওয়া পর্যন্ত এবং ঘুমের মধ্যেও সর্ব্বক্ষণ, সবসময় তার সঙ্গে যুক্ত থাকা। আর এই যুক্ত থাকা তাঁর নামের মধ্যে দিয়ে, তাঁর নাম করার মধ্যে দিয়ে।
আর, দয়ালের ধ্বনি দিয়ে আবার কেক কাটা হচ্ছে এটাও একটা অভিযোগ। দয়ালের ধ্বনি দিয়ে কেক কাটায় অন্যায় বা দোষ কোথায়, জানি না?
"বর্তমান সময়ে সাধারণ মানুষের জন্মদিন পালন করার পর সেই কেক নাকে মুখে মেখে একাকার করার মত যেন ঠাকুরের জন্মদিনে কেক কাটার পর সেই কেক নিয়ে যেন পরস্পরের মধ্যে তা' না করা হয় এটা খেতাল রাখতে হবে উদ্যোক্তাদের। কারণ সেই কেক শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রসাদ, কেক শ্রীশ্রীঠাকুরে নিবেদিত প্রসাদ, মহাপ্রসাদ। এটা যেন সৎসঙ্গীরা মনে রাখে।

যাই হ'ক, আজ ফেসবুকের মত স্ট্রং মিডিয়ার দৌলতে আমরা অনেক কিছু ভালো মন্দ জানতে পারছি। তবে ভালো গঠনমূলক সিরিয়াস কিছু থাকলেও তা কম ও অনালোচিত ও অনালোকিত অবস্থায় পড়ে থাকে। তার কোনও পাঠক থাকে না। লাইক, লাভ ইত্যাদি সাইন আর কমেন্টের সংখ্যা তার প্রমাণ। এছাড়া একে অপরের বিরুদ্ধে সমালোচনা, গালাগালি, কুৎসা, নিন্দা, অপপ্রচার, অপমান, অসম্মান, অশ্রদ্ধা, অপবাদ ইত্যাদির বান ডাকে ফেসবুক। আর চটজলদি হালকা বিষয়, সুড়সুড়ি দেওয়া বিষয়, উস্কানিমূলক লেখা, ছবি, ভিডিওর মজবুত প্ল্যাটফর্ম বর্তমানে ফেসবুক।

এই ফেসবুকের মধ্যে দিয়েও ঠাকুরের বিরুদ্ধে আমরা অশ্লীল বাক্যবাণের প্রমাণ পেয়েছি। আর, আমরা সৎসঙ্গীরা এরকম কেক কাটার মত নোতুন কিছু বিষয় সামনে দেখতে পেলেই রে রে ক'রে ছুটে এসেছি সৎসঙ্গীর বিরুদ্ধে আর ঝাঁপিয়ে পড়েছি দলবদ্ধভাবে। আজ কোচবিহারের মন্দিরে বিশাল সৎসঙ্গী সমাবেশে কেক কাঁটাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে আসার ফলে এটা চোখে পড়েছে। এরকম শ্রীশ্রীঠাকুরের জন্মদিনে, শ্রীশ্রীআচার্যদেবের জন্মদিনে এবং আমার গুরুভাইদের জন্মদিন উপলক্ষে সৎসঙ্গ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে কেক কাটা অনুষ্ঠান করার জন্য তীব্র সমালোচিত, অপমানিত হয়েছি আমার ইষ্টপ্রাণ গুরুভাইবোনেদের কাছে। যেন বিরাট অন্যায় ও পাপ কাজ হ'য়ে গেছে জন্মদিনে কেক কাটা ও শ্রীশ্রীঠাকুরকে নিয়ে সমবেতভাবে গুরুভাইদের জন্মদিন পালন করার জন্য। গুরুভাইবোনেদের কাছে কেক কাটা বিষয় নিয়ে বিতর্কের মতো এরকম কয়েকটা বিতর্কিত বিষয় নিয়ে আমি পরবর্তী ভিডিওতে আপনাদের সামনে আসবো আমার বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে। জয়গুরু।
( লেখা ২১শে সেপ্টেম্বর'২৪)

বিচিত্রাঃ ৭৩

প্রভু! প্রভু! ব'লে দিচ্ছো হাঁক,
বন্ধু দিচ্ছো তুমি দৌড়!
অন্তরেতে মারো ঝাঁক দেখবে সেথায়
আঁধারেতে আছে বসে এক ছুপারুস্তম চোর!

 
‘না মানার' চাষ দিয়ে দিন শুরু তোমার 
তবুও চাও তুমি মান্যতা!
অশ্রদ্ধার লাঙ্গল দিয়ে চষেছো জীবন 
ফসল কি ফলবে অন্যথা!?

ঈশ্বর যখন স্বয়ং আসেন নেবে 
তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানায় কে?
ঈশ্বর বিশ্বাসী অজ্ঞানী ভক্ত
আর অহংকারী জ্ঞানী পন্ডিত যে!!

ঠাকুর এবার এলেন তোমার 
কাউকে করতে নয়কো বধ,
এলেন সবাইকে প্রেমে করতে বশ;
তা' দুর্বলতা ভেবে তুমি ভাই গুরু
তাঁকে করতে চাও অবশ!!!

রাজনীতিতে ধর্ম নেই,
ধর্মে আছে রাজনীতি!
বাঁচা বাড়ার উল্টো চলে;
সবখানেতেই মরণনীতি!!

অনেক বড় বোদ্ধা তুমি,
অনেক বড় পন্ডিত!
আলোচনা সভায় গোড়া কেটে 
দাও আগায় জল,
দাও সমস্যার সমাধান খন্ডিত!!

বন্ধু! তোমার কাজ তুমি করো 
দেখতে যেও না অন্যে করছে কি;
অন্যের দোষ দেখতে গিয়ে তোমার 
নিজের কাজে হচ্ছে কিন্তু ফাঁকি!!
( লেখা ৩রা জানুয়ারী'২০১৮)





প্রবন্ধঃ বাবা মায়েদের উদ্দেশ্যে। (১)

যে মায়েরা ছেলেমেয়েদের দীক্ষার কথা শুনে আঁতকে উঠে অবাক হ'য়ে বলেন, ছোটো বয়সে কিসের দীক্ষা!? যেন কথাটা শুনে মায়েরা আকাশ থেকে পড়লেন! একটা ভয়ের কথা, আশংকার কথা, চিন্তার কথা এই বুঝি সন্তান আমার কীর্তন পার্টির সদস্য হ'য়ে গেল। এখন মনের আনন্দে পড়াশুনা, খেলাধুলা, ঘোরাফেরা করার সময়, এখন ওসব ভগবান টগবান, দীক্ষা টিক্ষার সময় নয়। এখন ধর্ম স্থান গয়া ছেড়ে গোয়ায় ফুর্তি করতে যাওয়ার সময়। ওসব বুড়ো বয়সের ব্যাপার। বৃত্তি প্রবৃত্তি যখন ঠান্ডা হ'য়ে যাবে, রিপুগুলি ব্যষ্টি জীবন, সমষ্টি জীবন ধ্বংস ক'রে উচশৃংখল অনিয়ন্ত্রিত চলন ছেড়ে শান্ত হ'য়ে যাবে তখন ভগবান টগবান, ঈশ্বর টিশ্বর নিয়ে সাধন ভজন করার সময়। আর মেয়েদের বিয়ের পরে যেখানে যাবে তাদের ব্যাপার। তারা ল্যাজে কাটবে কি মাথায় কাটবে সেটা মেয়েদের শ্বশুরবাড়ির বোদ্ধা শ্বশুরশাশুড়ির ব্যাপার। যেন মেয়ে একটা বোঝা, বিয়ে হ'য়ে গেলেই ল্যাটা চুকে গেল। এই হ'লো বাবামায়েদের শিক্ষা সচেতনতা। তাদের ধারণা এই শৈশবে, কৈশোরে এবং যৌবনে তো হৈচৈ করার সময়, বৃত্তি সুখের উল্লাসে মেতে ওঠার সময়। বাচ্চাদের সৎসঙ্গে নিয়ে যেতে চায় না অনেক মায়েরা। তাদের ধারণা ওসব কীর্তন টির্তন, খোল করতাল, খঞ্জনী ইত্যাদি বাচ্চাদের সেকেলে বুড়োটে স্বভাবের ক'রে তোলে। পড়াশুনা থেকে মন সরে যায়। তারা সংসারী হয় না। সংসার থেকে দূরে থাকে তাদের মন। আবার আর একদল আছে তারা তাদের সন্তান সম্পর্কে ওভার কনসাস। তাদের সন্তান ঠিকমতো পড়াশুনা করছে কিনা, তাদের দেখভাল, পালন পোষণ ঠিকমতো হচ্ছে কিনা, তারা জীবনে বড় হ'য়ে ওঠার ঠিকমতো রসদ পাচ্ছে কিনা তা নিয়ে ভীষণ চিন্তিত।
কিন্তু এই উভয় ধরণের মাবাবারা একবারও ভাবে না তাদের সন্তান ঠিকমতো মানুষ হচ্ছে কিনা। তাদের প্রত্যেকের কথা শুনে মনে হয় তারা প্রত্যেকেই এক একজন দারুণ সুশিক্ষায় শিক্ষিত রত্নগর্ভা আদর্শ মাবাবা, আদর্শ দম্পতি, সুন্দর মনের মানুষ আর তাদের ঘরে্র প্রতিটি ছেলেমেয়েই এক একজন রত্ন, আদর্শবান ছেলেমেয়ে, সমাজ তথা দেশের রত্ন! তাদের জন্য কোনও জীবন্ত ঈশ্বর টিশ্বর, আদর্শ টাদর্শ, ধর্ম টম্মের দরকার নেই। চারিদিকে অনেক মূর্তি টুর্তি, আংটি, তাবিজ, মাদুলি টাদুলি আছে দরকার হ'লে তাদের শরণ নেওয়া যেতে পারে আর নেইও। তাদের ছেলেমেয়েরা মোবাইল ল্যাপটপ হাতে বাংলা ভুলে ইংরেজি বলা আধুনিক বেশভূষায় আবৃত এক একজন আধুনিক আধুনিকা। মাবাবারা চান তাদের ছেলেমেয়ে মধু আহরণ ক'রে মৌ মানুষ হ'য়ে ফিরবে ঘরে। কিন্তু দিনের শেষে দেখা যায় তাদের ভালোবাসার সন্তান গু'য়ে মানুষ হ'য়ে ঘরে ফিরেছে মুখে গু নিয়ে। দুনিয়ার যত নোংরা দুর্গন্ধ যুক্ত আচার আচরণ, অভ্যাস ব্যবহার, শিক্ষা রপ্ত ক'রে ঘরে নিয়ে এসেছে।

যখন বেলা শেষে সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ে তখন ছলছল চোখে দেখে তারা তাদের ছেলেমেয়েদের নিজেদের অহংকারী শিক্ষার সবজান্তা মনোভাবের উপর দাঁড়িয়ে যে শিক্ষায় শিক্ষিত ক'রে তুলতে চেয়েছিল তা আজ মিথ্যে হ'য়ে গেছে, ব্যর্থ হ'য়ে গেছে, হাহাকারের ঘোর অন্ধকারে ঢেকে গেছে সংসার ও ছেলেমেয়েদের জীবন। রাতের পর রাত এক যন্ত্রণাময় নিদ্রাহীন হাতপা কাঁপা হতাশাগ্রস্থ জীবনের দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ফেলতে কাটিয়ে চলেছে মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন। গরীব বড়লোক, শিক্ষিত অশিক্ষিত, মূর্খ পন্ডিত সবাইকে জিজ্ঞেস করলে সবারই দুঃখ ভারাক্রান্ত ম্লান মুখে ক্লান্ত বিধ্বস্ত শরীরে হতাশাগ্রস্থ হাসিতে এক কথা, 'দিনগত পাপক্ষয়'!

আর এখানে দেখা যাচ্ছে এক তেইশ বছরের যুবকের ছবি। যার এক্কেবারে ছোটোবেলা কেটেছে শ্রীশ্রীঠাকুরের সামনে বসে থেকে ঠাকুরের প্রার্থনা, কীর্তন, গান, খোল করতাল ইত্যাদির সমাবেশে। যার ছোটোবেলা কেটেছে দাদুর হাত ধ'রে হাঁটি হাঁটি পায়ে ঠাকুরের সামনে নেচে নেচে। যার ছোটোবেলা কেটেছে কখনো বাবার ধুতি, কখনো মায়ের আঁচল ধ'রে শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীবড়মা, শ্রীশ্রীবড়দাকে ঘুরে ঘুরে প্রণাম ক'রে ক'রে। যার ছোটোবেলা কেটেছে ঠাকুর পরিবারের দাদু, দিদা, কাকু, কাকি ইত্যাদি বিশাল সদস্যদের সকলের মাঝে কোলে ক'রে, পিছন ঘুরে ঘুরে নাচতে নাচতে, হাসতে হাসতে।

এইখানে সেই ধর্মের আঙ্গিনায় ঈশ্বরের কোলে বসে থেকে বড় হওয়া সুদর্শন লক্ষ কোটি ইয়ং জেনারেশনের আইকং শ্রীশ্রীঅবিনদাদার ছবি দেখা যাচ্ছে মানুষের মাঝে মানুষের ভিড়ে!

আধুনিক মায়েরা বাবারা আচ্ছা বলুন তো। এইখানে যার ছবি দেখা যাচ্ছে, সেই সুদর্শন সদাহাস্যময় লক্ষ কোটি মানুষের প্রাণ মিষ্টি মানুষটি কি সেকেলে গেঁয়ো স্বভাবের, বুড়োটে দেখতে? সংসার ত্যাগী গেরুয়া বসন ধারী সাজা সাধু? ধর্ম ও ঈশ্বর সাধনা কি এই ছেলেটির জীবন নষ্ট করেছে? আপনারা বাবা মায়েরা কি চান না এই ছেলেটির মতো সমস্ত দিকে চালচলন, কথাবার্তা, পড়াশুনা, আচারব্যবহার, চিন্তাভাবনা, দীক্ষাশিক্ষা, বোধবুদ্ধি, সহ্যধৈর্য, চলনচাউনি, ইত্যাদি সব বিষয়ে পরিপূর্ণ হ'য়ে আধুনিক ও আধুনিকা হ'য়ে উঠুক আপনাদের ছেলেমেয়ে? প্রকৃত মানুষ হ'য়ে প্রতিষ্ঠিত হ'ক সমাজের বুকে। পাড়াপ্রতিবেশী সবাই ভালোবাসুক আপনার ছেলেকে। আপনি চান না এরকম একটা সুন্দর মিষ্টি ছেলে??
( লেখা ৩রা জানুয়ারী'২৩)