Powered By Blogger

Friday, April 5, 2024

গানঃ বসন্ত এলো আজ----

বসন্ত এলো আজ তোমরা লক্ষ্মী মা,
ঘরে ঘরে প্রভুর আসন সাজাও মা।
বসন্ত এলো আজ কৃষ্ণ-রাধামা
রঙে রঙে হ'লো লালীমা!
জগতজননী তুমি লক্ষ্মী মা।
রামের ঘরণী তুমি সীতা মা।
কৃষ্ণের ঘরণী তুমি রুক্মিণী মা,
জগতজননী তুমি লক্ষ্মী মা।
বসন্ত এলো আজ তুমি যশোধরা মা!
রঙে রঙে হ'লো লালীমা!
জগতজননী তুমি খাদিজা মা
মহম্মদের ঘরণী তুমি লক্ষ্মী মা।
বসন্ত এলো আজ তুমি লক্ষ্মীপ্রিয়া মা।
মহাপ্রভুর ঘরণী তুমি লক্ষ্মী মা।
জগতজননী তুমি সারদা মা।
রামকৃষ্ণের ঘরণী তুমি লক্ষ্মী মা।
বসন্ত এলো আজ শ্রীশ্রীঠাকুর-বড়মা,
রঙে রঙে হ'লো লালীমা!
জগতজননী তুমি লক্ষ্মী বড়মা ,
তোমায় ছাড়া আর কিছুই চাই না।
জগতজননী তোমরা লক্ষ্মী মা,
ঘরে ঘরে তোমরাই লক্ষ্মী মা।।
জগতজননী তোমরা লক্ষ্মী মা
রঙে রঙে আজ হ'লে লালীমা।
( লেখা ২৫শে মার্চ,২০২৪)

কবিতাঃ সদা হাস্যময়।

দাঁড়াও পথিক! থমকে একটু দাঁড়াও!!
কান পেতে শোনো একবার তুমি তাঁর বাণীঃ
"মরো না, মেরো না, পারতো মৃত্যুকে অবলুপ্ত করো"
বরাভয় হাতে দাঁড়িয়ে আছেন দিনেরাতে
পিছন পানে ফিরে পথিক একটিবার তাকাও।
কথা বলা ঈশ্বরে রাখো বিশ্বাস,
রাখো মূর্ত ভগবানে নির্ভরতা।
চলনহারা চরণপূজা আর বোবা ভগবানে স্তুতি
আনে নাকো জীবনে কভু সার্থকতা আর উন্নতি।
বিশ্বাস-বিশ্বাস আর বিশ্বাস
রাখো বিশ্বাস জীবন্ত ঈশ্বরে, ক'রো না অবিশ্বাস তাঁরে।
প্রাণ ভরে ডাকো তাঁরে, চলো তাঁর চলন ধ'রে
দিন শেষে মিলাবে বিশ্বাসে সব যা চাও তুমি।
তর্কে অযথা আয়ু হবে ক্ষয়, ঘিরবে দুশ্চিন্তা-ভয়
হারালে বিশ্বাস হবে ভরাডুবি যাবে অকালে নিঃশ্বাস,
করো আত্মত্যাগ, রাখো নির্ভরতা আর বিশ্বাস-বিশ্বাস।
রোগ, শোক, গ্রহদোষ আর বুদ্ধি বিপর্যয়, দরিদ্রতা
ঘেরে যদি সংসার জীবন আনে পদে পদে ব্যর্থতা
জীবনকে করে বিধ্বস্ত ঘরকে ক'রে তোলে নরক
জীবন মাঝে যদি থাকে জীবনেশ্বর, শত জ্বালাযন্ত্রণা
দুঃখকষ্ট যা আসে আসুক বরাভয় হাতে তিনি ঠেকান মরক।
'দের হ্যাঁয় লেকিন অন্ধের নেহি' যদি নাম চলে অবিরাম
অজ্ঞতার বন্ধ দরজা নিমেষে যাবে খুলে আসবে আরাম।।
যখন আসবে জীবনে আরাম তখন আরাম ভুলে
অশ্রুসজল চোখে ব'লো আ-রাম!!!!!!
জীবন হবে রূপময়, আলোময়, মধুময় আর রসময়
নামমদে থাকো ডুবে জীবনসুধা পান করো মিলে সবে
আনন্দময় জীবন শেষে হাসিতে খুশিতে অবশেষে
যাবার বেলা পাবে নাকো ভয় স্বর্গদ্বার যাবে খুলে, দিয়ে অভয়
মরণকালে আসবে নিতে নিশ্চিত শিয়রে প্রভু দয়াময়।
সন্তান-সন্ততি, পরিবার-পরিজন সব তাঁর চরণতলে দিয়ে
হাসিতে হাসিতে খেলিতে খেলিতে যাবে চলে তুমি
পরমপিতার ধামে হ'য়ে সদা হাস্যময়।
( লেখা ২৯শে মার্চ,২০২৪)

উপলব্ধিঃ একটু বিবেকবান হ'লেই চলবে!

করোনার মত এমন মাঝে মাঝে হ'লে ভালো হয়! তাই নয় কি? গরীব প্রান্তিক মানুষগুলোর তো কোনও ভয় নেই! তারা তো মরার অনেক আগেই মরে গেছে! সত্যিই ভয় আছে কি!? আনুষ্ঠানিক মরা শুধু বাকি! তাহ'লে আজকের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রকৃত কারা ভীত!! জানি না, সত্যিই কি একেবারে প্রান্তিক মানুষগুলো মৃত্যুকে ভয় পায়!? মৃত্যু ভয় তো তোমার-আমার! মৃত্যু ভয় পেট মোটার! পেট-পিঠ যাদের আলাদা ক'রে আর চেনা যায় না তাদের কাছে কাছে সাহায্য পৌঁছে যাচ্ছে!? যাওয়া সম্ভব!? হঠাৎ ক'রে সাহায্য করতে গেলেও তার একটা পরিকাঠামো থাকে। সেই পরিকাঠামো সত্যি সত্যিই আছে দেশের কোনায় কোনায়!? আর হঠাৎ ক'রে করোনা নামক হায়েনারা আক্রমণ চালাবে তা কি মানব আগে জানতো? একটু খবর দিয়ে আসতে হয় নাকি! চোরের মত আসার কি দরকার!? আগে যেমন ডাকাতরা জানান দিয়ে ডাকাতি করতে আসতো! ডাকাত হ'লেও একটা ইজ্জৎ ছিল তাদের। যাই হ'ক, যুগটাই তো কলি আর তাই জানান দেওয়াটা নিরর্থক ও বোকামি! তবে এইসময় কি আর করা যাবে, মন্দের ভালো! নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো আর কি! আর এই ফাঁকে একটু নাহয় স্বজন পোষণ হ'লোই, কি আছে তাতে, সঙ্গে একটু ছবিটবি উঠলো! এ আর এমন কি দোষের!? দোষ মনে করলেই দোষ খুঁজে বের করা যায়! কথায় আছে ঠগ বাঁচতে গাঁ উজাড় হ'য়ে যাবে! তবে একটু, বেশী না, কটু বিবেকবান হ'লেই চলবে! শুধু চলবে না দৌঁড়বে!!!!! কারণ এটা যে ঘোর কলি!

( লেখা ৫ই এপ্রিল,২০২০)

প্রবন্ধঃ নেতা, জনতা, ব্যক্তি, দল ও নীতি!!!!!! পর্ব---২/৩ (জনতা/নবীন ভোটার)

ভোটের কথা অমৃত সমান!!!!!!!! 

নবীন ভোটাররা ভোটযুদ্ধের ময়দানে কি দেখলেন? কি দেখছেন? কি বুঝলেন? কি অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ হ’য়ে তারা জীবনের প্রথম ভোট ময়দানে পা রাখছেন?
ভারতের আকাশে অনেক স্বপ্ন, অনেক আশা নিয়ে ‘মার ঝাড়ু মার ঝাড়ু মেরে ঝেটিয়ে বিদেয় কর’ আওয়াজ তুলে অশুভ শক্তির প্রতীক ঝাড়ু হাতে উদিত হওয়া নতুন রাজনৈতিক তারকার নাম অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ২০১১ সালে কেজরিওয়াল আন্না হাজারের দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন এবং লোকপাল আইন পাশের দাবিতে প্রচারাভিযানের মধ্যে দিয়ে দেশব্যাপী পরিচিতি পান। এই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ২০১২ সালের ১৫ই নভেম্বর আম আদমি পার্টি চালু করেন। আর গতবছর দিল্লী বিধানসভা নির্বাচনে ২৮টি আসন জিতে ১৮০ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে নির্বাচন পূর্ব ভোট ময়দানের প্রচারে প্রধান শত্রু দুর্নীতি গ্রস্ত কংগ্রেসের জেতা মাত্র ৮টি আসনের সহযোগীতায় বিজেপি-কে নিশ্চিত সরকার গঠনের সুযোগ থেকে বহুপূর্ব পরিকল্পিত কৌশলী পদক্ষেপে বঞ্চিত ক’রে জনগণকে স্তম্ভিত ক’রে ২৮শে ডিসেম্বর’১৩ দিল্লিতে সরকার গঠন করে কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি(এপিপি)। আর সরকার গঠন করার ৪৯দিনের মাথায় জন লোকপাল বিল বিধানসভায় পাশ করাতে ব্যর্থ হ’য়ে পদত্যাগ করেন আম আদমি প্রধান তথা দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। আর তারপরেই কোমর ক'ষে নেবে পড়েন আবার নির্বাচনী ময়দানে।
এবারের নির্বাচন লোকসভা নির্বাচন। বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টির প্রধান কেজরিওয়ালের প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল কংগ্রেস। আর নির্বাচন পরবর্তী সরকার গঠনের সময় সর্বাধিক জনাদেশ নিয়ে আসা বিজেপি হয়ে গেল কেজরিওয়ালের প্রধান বিরোধীপক্ষ! কেজরিওয়ালের অন্যতম সাথী কিরণ বেদীর প্রস্তাব ছিল বিজেপিকে সমর্থন দিয়ে সরকার গঠনে সাহায্য করার। কেজরিওয়াল সে প্রস্তাব উড়িয়ে দিয়ে নির্বাচনে্র প্রচারে প্রধান শত্রু দুর্নীতিগ্রস্ত কংগ্রেস দলের সমর্থনে সরকার গঠন করলেন। নির্বাচনপূর্ব প্রধান প্রতিপক্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত কংগ্রেস নির্বাচন পরবর্তী হ’য়ে গেল কেজরিওয়ালের পরম বন্ধু! আর বিজেপি হ’য়ে গেল প্রধান শত্রু! সেই সময় দিল্লীর আকাশে আর একবার শোনা গিয়েছিল আলেকজান্ডারের সেই আশ্চর্য্য গলার স্বর! বাতাসে ভর ক’রে ভেসে এলো সেলুকসের উদ্দেশ্যে বলা সেই বিস্ময়াভূত কন্ঠস্বর, সঙ্গে নতুন সংযোজন! ‘সত্য সেলুকস! কি বিচিত্র এই দেশ আর এই দেশের শিক্ষিত মানুষ!!' দিল্লীর সীমানা ছাড়িয়ে সেই কন্ঠস্বর ছড়িয়ে পড়ল দেশের গন্ডী ছাড়িয়ে বিদেশে! ৪৯দিনের মাথায় সরকার থেকে বেরিয়ে এসে দিল্লীর শাসনভার কেজরিওয়াল তুলে দিলেন স্বাভাবিক ভাবেই রাষ্ট্রপতির হাতে। দিল্লী দখল বিজেপি-র অধরাই থেকে গেল। আর কংগ্রেস হাঁফ ছেড়ে বাঁচল! ভারতবর্ষের রাজধানী দিল্লীর বুকে শতাব্দীর সেরা ম্যাজিক দেখল পৃথিবী বিখ্যাত যাদুকর পি সি সরকারের দেশের মানুষ তথা পৃথিবীর মানুষ আম আদমি পার্টি তথা কেজরিওয়াল কি অসাধারণ দক্ষতায় দিল্লীর উচ্চশিক্ষিত মানুষদের রাজনীতির যাদুতে যাদু করলেন!
ব্রাভো কেজরিওয়াল, ব্রাভো!!!!
এর পরবর্তী অধ্যায়ে কেজরিওয়াল কি করলেন?
( লেখা ৫ই এপ্রিল, ২০১৪)
All reac


প্রুবন্ধঃ নেতা, জনতা, ব্যক্তি, দল ও নীতি!!!!!!

ভোটের কথা অমৃত সমান!!!!!!!! 
পর্ব---৩/১ (জনতা/নবীন ভোটার)।
নবীন ভোটাররা কাকে ভোট দেবে? জীবনের প্রথম ভোট কি নবীনদের কাছে প্রবীণ সময়ের দিনগুলিতে স্মৃতি হ’য়ে ধরা দেবে? আজকের মতদান আগামীদিনে কি নবীনদের ১৬তম সাধারণ লোকসভা নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজেদের কাছে নিজেদের সম্পর্কে গর্বের কিম্বা লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়াবে? এ ব্যাপারে কি নবীনরা সচেতন? নবীনরা কি কোনো উত্তেজনা অনুভব করে দেশ গড়ার কাজে জীবনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ মতদান প্রয়োগের ক্ষেত্রে? নবীনরা কি প্রস্তুত এতবড় দেশে চতুর্মুখী কিম্বা পঞ্চমুখী নির্বাচনী লড়াইয়ে কারও দ্বারা প্রভাবিত না হ’য়ে, নানা পরিস্থিতি, নানা পরিবেশের চাপে পড়ে নিত্য নতুন নতুন অভিভুতির দ্বারা আক্রান্ত না হ’য়ে ও নানারকম ব্যক্তিত্বের দ্বারা রাঙ্গিয়ে না গিয়ে, মনের জগতে দিশেহারা না হ’য়ে, পথভ্রষ্ট না হ’য়ে জীবনের প্রথম ভোট অটুট ব্যক্তিত্বে দেশের স্বার্থে, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে সঠিক জায়গায় ভোট দেবার জন্য? নবীনরা কি জীবনের প্রথম ভোটের জন্য সত্যিই সিরিয়াস? সত্যিই কি মানসিক ভাবে প্রস্তুত?
রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, দলমত-এর উপরে উঠেই তাঁর ভাষণে দেশের ১২৫কোটি মানুষের উদ্দেশ্যে দেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে, নিরাপত্তার স্বার্থে, উন্নয়নের স্বার্থে এক শক্তিশালী সরকার গঠনের কথা বলেছিলেন! স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল কেন তিনি আগাম এমন কথা বলেছিলেন? কারণ দেশের সার্বিক টলোমলো পরিস্থিতিতে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা, জ্ঞান, চেতনা ভয়ংকর উত্তাল সমুদ্রের দক্ষ নাবিকের মত তাঁকে আগাম জানান দিয়েছিল দেশের আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষকেই তাদের নিজেদের স্বার্থেই এবার দক্ষ জহুরীর মত খুঁজে নিতে হবে দেশের কাণ্ডারিকে! দেশের মানুষের সচেতনতার ওপরই নির্ভর করছে ভয়ংকর টলোমলো দেশের ভবিষ্যত?
এবারের লোকসভা ভোটে ৮১.৪৬ কোটি ভোটদাতার মধ্যে প্রথম ভোট দেবেন অর্থাৎ নবীন ভোটারই হল ৯.৭৬ কোটি। এই নবীন ভোটাররা ভোটযুদ্ধে নেতাদের বক্তব্য ও দলের ইস্তেহার নিয়ে কি ভাবছেন? কি বলছেন? কি করবেন? কাকে দেশ গড়ার, দেশকে সঠিক পথে চালিত করার, দেশকে শক্তিশালী স্বয়ংসম্পূর্ণ বিশ্বের কাছে সমীহ আদায়কারী এক উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার দায়িত্ব দেবে?
( লেখা ৫ই এপ্রল,২০১৪)

কবিতাঃ আমার আমি........

বাঁচতে চাই, পারি না!
মরতে চাই, তাও পারি না!
বাঁচা যার হাতে তাকে চাই, পাই না!
মরা যার হাতে তাকে ডাকি, সাড়া দেয় না!
বিষ্ণু দূত কে বলি, এসো খেলা করি!
সন্দেহের চোখে তাকায়, কাছে আসে না!
যম দূতকে ডাকি, বলি, এসো করো আলিঙ্গন আমায়!
দাপট দেখিয়ে চলে যায় বলে, সময় হলেই আসবো চলে
ডাকলেই আসবো এমন জেনো হয় না!
তবে কি ব্রাত্য এ জীবন এই জনমে!?
মরি লাজে হায়! মরি শরমে মরমে মরমে!
কোথায় গেলে পাবো তারে প্রায়শ্চিত্তের তরে!?
কোথায় গেলে পারের মিলবে কড়ি? ভেড়াবো তরী
হলাহল কোলাহল থেকে দূরে, অনেক দূরে!
কেউ কি বলতে পারো আমায়, দিতে পারো সেই ঠিকানা!
যেথায় আমার আমির মাঝে হ'য়ে যাবো আমিহারা!!
( লেখা ৫ই এপ্রিল, ২০২০)

Thursday, April 4, 2024

প্রবন্ধঃ ধর্ম্ম, ঈশ্বর ও বিজ্ঞান!

করোনা ভাইরাসে যখন গোটা পৃথিবী প্রায় অচল হ'য়ে যেতে বসেছে তখন করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে প্রতিটি দেশ, প্রতিটি দেশের সরকার প্রাণপণ চেষ্টা করছে এই রোগকে প্রতিহত করতে, আপ্রাণ চেষ্টা করছে এই রোগকে যত কম মানুষের থেকে দূরে রাখা যায়, নির্মূল করা যায়। করোনা ভাইরাসকে নির্মূল করার জন্য বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণাগারে গবেষণা ক'রে চলেছে যত তাড়াতাড়ি এই রোগের প্রতিষেধক বের করা যায়। ডাক্তার, বিজ্ঞানী চিকিৎসাশাস্ত্র ও বিজ্ঞানকে হাতিয়ার ক'রে এই মহামারীকে খতম করার জন্য যুদ্ধে নেবে পড়েছে। প্রকৃতপক্ষে এ এক ভয়ংকর যুদ্ধ যে যুদ্ধে মানবশত্রু করোনা ভাইরাসকে খতম করতে পারে হাতের কাছে এখনও পর্যন্ত কোনও অস্ত্র নেই! অসহায় একতরফা যুদ্ধ, যে যুদ্ধে মানুষের শত্রুপক্ষের সবচাইতে বড় বন্ধু মানুষ! মানুষ এক অদ্ভুত চরিত্রের জীব! মানুষে মানুষে যখন যুদ্ধ হয় তখনও এই মানুষই মানুষের সর্বনাশের জন্য শয়তানের সঙ্গে হাত মেলায়, আবার যখন শত্রুপক্ষ কোনও মানুষ নয়, শত্রুপক্ষ এক ভাইরাস তখনও এই শত্রুপক্ষের সবচেয়ে বড় বন্ধু সেই অদ্ভুত জীব মানুষ! করোনা ভাইরাস যখন দ্রুতগতিতে তার মারণ যজ্ঞ শুরু ক'রে দিয়েছে তখন আমরা অবাক বিস্ময়ে দেখলাম এই মানুষই ঐ মারণ ভাইরাসকে সাদরে আহ্বান করছে! মানুষ যে কতটা উদাসীন ও ড্যাম কেয়ার, অহংকারী, উদ্ধত মনোভাবের হ'তে পারে, কায়েমী স্বার্থ রক্ষা ও ক্ষমতা দখলের জন্য কতটা নীচে নাবতে পারে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে সেই দৃশ্য আমরা দেখেছি সমগ্র বিশ্বজুড়ে! মানুষ সরকারী চেতাবনীকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রীতিমত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপকে উপেক্ষা করেছে ও করছে তাও আমরা দেখতে পেয়েছি ও প্রতিদিন পাচ্ছি! আমার দেশের দিকে তাকালেও আমরা একই দৃশ্য প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে দেখতে পেয়েছি ও পেয়ে চলেছি! আমরা দেখেছি সরকারী নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে লক ডাউন পিরিয়ডে জনতা-পুলিশে খণ্ডযুদ্ধ! দেখেছি এই ভয়ঙ্কর মৃত্যুভয়ের সময়েও রাজাবাজার পার্ক সার্কাসে ও শাহীনবাগে আন্দোলনের নামে মানবতাবিরোধী সার্কাস! আর সম্প্রতি সমস্ত কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে দিল্লির নিজামউদ্দিন তবলীগ জামাতের ঘটনা! এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে দিয়েছে রাজ্যে ও দেশে প্রকৃতপক্ষে কঠোর আপোষহীন সরকার নেই, নেই কোনও রাজ্যে ও দেশে বলিষ্ঠ জনদরদী, দেশপ্রেমী নেতানেত্রী, বিধায়ক ও সাংসদ, দেশে বা রাজ্যে নেই কোনও বিধানসভা বা সংসদ ভবন, নেই কোনও সুপ্রিমকোর্ট! আমরা এইসময় করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে যেমন বিজ্ঞান নির্ভর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি দেখতে পাচ্ছি সমস্ত কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এবং নানা মানুষের নানারকম মতামতও শুনতে পাচ্ছি! ঠিক তেমনি ধর্মীয় অঙ্গন থেকেও নানারকম বিজ্ঞান বিরোধী ঈশ্বর ও ধর্ম্ম নির্ভর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রচার দেখতে ও শুনতে পাচ্ছি!
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই কঠিন সময়ে ধর্ম্ম ও বিজ্ঞানে কোথায় বা কেন অকারণ বিরোধ?
উত্তর একটাই, ধর্ম্ম ও বিজ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞানতা! ধর্ম্ম ও বিজ্ঞানের প্রকৃত অর্থ জানা না থাকার কারণে এবং ধর্ম্ম ও বিজ্ঞানের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না থাকার কারণে এই অকারণ বিরোধ! এ ছাড়া ধান্দাবাজ ধর্ম্ম ব্যবসায়ীর সীমাহীন লোভ-লালসা ও বিজ্ঞান সাধনায় যুক্ত অহংকারী ব্যক্তির তীব্র অহংকার এই অকারণ বিরোধের মূল রসদ ও দাহ্য পদার্থ! আর সাধারণ মানুষ, সরল-সাদাসিধা মানুষ, মূর্খ, বেকুব মানুষ, লোভী মানুষ, বৃত্তি-প্রবৃত্তিতে ডুবে থাকা মানুষ, রিপু তাড়িত মানুষ, না ক'রে পাওয়ার মানসিকতাসম্পন্ন মানুষ এই বিরোধকে জিইয়ে রাখার প্রধান সোর্স!
যাই হ'ক কিছু মানুষ এইসময় যেমন বলছে করোনা মোকাবিলায় ঈশ্বর, আল্লা বা গডের ওপর শুধু নির্ভর থাকার কথা আবার এর বিরোধিতায় আবার শোনা যাচ্ছে আল্লা, যীশু, ভগবান দিয়ে করোনা মোকাবিলা সম্ভব নয়, এসময় ডাক্তার, বিজ্ঞানীরাই প্রকৃত ভগবান!
এখন আসুন একটু বিশ্লেষণ ক'রে দেখা যাক এর উত্তর কি ও কোথায়!
কোথায় আল্লা, কোথায় যীশু, কোথায় ভগবান!------এই কথাটায় আল্লা, ভগবান নাহয় abstract form-এ বিরাজ করে, তা'তে নাহয় বিশ্বাস নাই থাকতে পারে কোনও কোনও মানুষের কিন্তু যীশু তো রক্তমাংসের মানুষ ছিলেন সেখানে তাঁকে অস্বীকার ক'রে কোনও ডাক্তারের ওপর, কোনও বিজ্ঞানীর উপর ভরসা করা অহংকার ছাড়া আর কিছুই নয়! ডাক্তার, বিজ্ঞানী কি দিতে পারেন? মরা মানুষের দেহে প্রাণ ফিরিয়ে দিতে পারেন না কিন্তু চিকিৎসায় ভুল বশতঃ জীবন্ত মানুষের প্রাণ নিয়ে নিতে পারেন। তিনি চিকিৎসা দিতে পারেন, দিতে পারেন সেবা; সুস্থ ক'রে তোলার জন্য প্রাণপাত ক'রে পরিশ্রম করতে পারেন আর বিজ্ঞানী দিনরাত এক ক'রে, না খেয়ে, না ঘুমিয়ে আবিষ্কার করতে পারেন সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট সৃষ্টিকে কিন্তু কোনও কিছু সৃষ্টি করতে পারেন না তাই আল্লা, ঈশ্বর, গড, ভগবান যাই-ই বলুন না কেন তিনি দয়া পরবশ ডাক্তার, বিজ্ঞানীর অন্তরে অবস্থান করেন বলেই ডাক্তার রোগীকে সুস্থ ক'রে তুলতে পারেন, মৃতপ্রায় মানুষকে বাঁচিয়ে তুলতে পারেন, বিজ্ঞানী ঔষুধ আবিষ্কার করতে পারেন আর যাদের ভিতরে অবস্থান করেন না তারা রোগীকে আয়ের, ব্যবসার উপকরণ বানিয়ে নেয়, ল্যাবরেটরিতে জৈবি মারণাস্ত্র তৈরি করার নেশায় নেশাগ্রস্থ হ'য়ে বুঁদ হ'য়ে পড়ে থাকেন সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকে ধ্বংস করার জন্য!!! আর যীশু বারবার রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ, মোহাম্মদ, মহাপ্রভু, রামকৃষ্ণ ও শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র রূপে এসে সারাজীবন যে মানব সেবা ক'রে গেছেন, দুরারোগ্য ব্যাধিমুক্ত ক'রে নুতন জীবন দান করে গেছেন, অন্ধচোখে দৃষ্টি দান করেছেন, পঙ্গুকে পঙ্গুত্ব থেকে মুক্তি দিয়েছেন, মৃত মানুষের দেহে প্রাণ সঞ্চার ক'রে গেছেন আর সেই সেবা, সেই অলৌকিক চিকিৎসার ছিটেফোঁটাও কোনও ডাক্তার, বিজ্ঞানী দিতে পারেনি ও পারবে না! ডাক্তার, বিজ্ঞানী এই অলৌকিক কর্মকান্ডের হদিস কোনও দিনও পায়নি ও পাবে না! অথচ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বললেন, তুমি যতক্ষণ পর্যন্ত না কারণ জানতে পারছো ততক্ষণ পর্যন্ত তা তোমার কাছে অলৌকিক, যে মুহূর্তে তুমি এর রহস্য ভেদ করতে পারবে, কারণকে জানতে পারবে সেই মুহূর্তে তা অলৌকিকত্বের খোলস ছেড়ে লৌকিক হ'য়ে তোমার কাছে ধরা দেবে! তাই প্রকৃত ডাক্তার, প্রকৃত বিজ্ঞানী আল্লা, ঈশ্বর, গড, ভগবানপ্রেমী ও তাঁদের মূর্ত রূপের পূজারী!!!!
আর, বিপদগ্রস্থ মানুষের সমবেত আকুল প্রার্থনার ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে বিজ্ঞানের বিজ্ঞান যে সূক্ষ্ম বিজ্ঞান তার হদিস অহংকারী বিজ্ঞানীদের উপলব্ধির বাইরে। মনে রাখতে হবে বিজ্ঞানীরা কিছুই সৃষ্টি করে না ঈশ্বরের সৃষ্ট সৃষ্টিকে খুঁজে বের করে মাত্র। এই খুঁজে বের করার জন্য তাঁদের অন্তরে একটা অহংকার থাকতে পারে কিন্তু প্রকৃত বিজ্ঞানী মাত্রই এক একজন ঈশ্বর সাধক আর তাঁরা প্রতিমুহূর্তে ঈশ্বরের উপস্থিতিকে অনুভব করে আর অনুভব করে অস্তিত্ব ধ্বংসের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা ভীত সন্ত্রস্ত মানুষের বাঁচার জন্য ঈশ্বরের কাছে সম্মিলিত আকুল প্রার্থনার কারণে! আর ঐ প্রার্থনা আশীর্বাদ হ'য়ে ঝ'রে পড়ে ঐ বিশেষ জ্ঞানের ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষগুলোর ওপর যাদের আমরা বিজ্ঞানী বলি! এর জন্য সমস্ত কৃতিত্ব, প্রশংসা, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা পাওয়ার অধিকার ঐ বিপদগ্রস্থ সাধারণ মূর্খ মানুষগুলোর! বিজ্ঞানী ঈশ্বরের উপলক্ষ বা মাধ্যম মাত্র, এর বেশি কিছু নয়! হাজারো লাখো বিজ্ঞানীর মধ্যে যে বিজ্ঞানী ঈশ্বরের সৃষ্টিকে খুঁজে পান তিনি তাঁর দয়ায় পান এইটা মূল বিচার্য বিষয়। ঈশ্বর ওই বিজ্ঞানীর মধ্যে জাগ্রত হন, মহাশক্তি হ'য়ে আবির্ভুত হন! তাই সেই ডাক্তার, সেই বিজ্ঞানী সেই মহাশক্তির স্পর্শে মহাপুরুষ অর্থাৎ মহান পুরণকারী পুরুষে রূপান্তরিত হন! আর তার প্রসাদ ভোগ করে বিশ্ব জুড়ে ঈশ্বরের সমস্ত সন্তান অর্থাৎ আম আদমী!
সেই অপেক্ষায় আমরা আছি! খুব শীঘ্রই একদিন সুন্দর সকালে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের দয়ায় আবিষ্কৃত হবে করোনার ওষুধ আর মানুষ মুক্তি পাবে সেই নরক যন্ত্রণা থেকে! আসুন আমরা সরকার, প্রশাসন, ডাক্তার ও বিজ্ঞানীদের কথা মেনে চলি এবং ঈশ্বরের আছে আরাধনা করি, হে ঈশ্বর! হে আল্লা! হে ভগবান! হে দয়াল! হে প্রভু! হে ঠাকুর! তুমি আমাদের এই ভয়ঙ্কর দমবন্ধ করা নরক কুন্ড থেকে রক্ষা করো ও উদ্ধার করো!
(লেখা ৪ই এপ্রিল,২০২০)