Powered By Blogger

Friday, February 2, 2024

কবিতাঃ জীবনের ট্র্যাজেডি!

হে জীবন!
তুমি গড়তে পারলে না কিছুই
শুধু ভাঙার নায়ক হ'য়েই র'ইলে!
আর, গড়ার নামে দেশ, বিদেশ, মহাদেশ
নানা বাদ-মতবাদে করলে ধ্বস্ত-বিধ্বস্ত, 
ক্ষতবিক্ষত করলে জনজীবন শেষমেশ।

হে জীবন!
তুমি নিজেও হাসলে না, হাসাতেও পারলে না কাউকে!
শুধুই কাঁদিয়ে গেলে সবাইকে!
রিপু তাড়িত জীবনের হ'য়ে অধীশ্বর
বৃত্তি-প্রবৃত্তির বেড়াজালে হারিয়ে।

হে জীবন!
জীবনে দিলে না কিছুই কাউকে
হাত বাড়িয়ে নিয়ে গেলে শুধুই
একাই বাঁচবে আর খাবে ব'লে
নানা ছলনায় ভুলিয়ে আর অলীক মায়ায় ভরিয়ে।
প্রতিদানে দিলে শুধুই আঘাত আর আঘাত!
জীবন থেকে দিলে সবাইকে দূরে তাড়িয়ে।

হে জীবন!
নিজেকে নিয়েই সদা ব্যস্ত? মত্ত উল্লাসে 
অন্যের জীবনে ঢেলে সর্বনাশের আগুন
তোমার জীবনে বইছে হাওয়া ফাগুন!!

হে জীবন!
উগ্রতাকে করলে সাথী ভদ্রতাকে পা দিয়ে মাড়িয়ে!
আর মৃত্যুকে করলে বন্ধু জীবনকে তাড়িয়ে!!

হে জীবন!
ভুলের হুলে নিজের জীবনকে করলে ক্ষতবিক্ষত
আর অন্যের ঘাড়ে ব'সলে চেপে!
অর্থ-মান-যশের মোহে হ'য়ে অন্ধ
নিজের ভুল দেখলে না একবার মেপে!

হে জীবন!
নিজে থাকতে চাও হাসিখুশি অন্যকে কাঁদিয়ে!?
থাকতে চাও কূলের শক্ত জমিতে
অন্যকে অকূলে ভাসিয়ে!?

হে জীবন!
জীবন একটা অংক।
অন্যের জীবন অংক ক'রে জটিল
নিজের জীবন অংককে করতে চাও সরল!?
দিন শেষে কিন্তু অপেক্ষায় সময় কুটিল
সরলতা ভালো যদি না থাকে বুকে গরল!

হে জীবন!
যার ব্যথা বুঝলে না, তাকে করবে তুমি সাহায্য!?
অসহায় দুর্বল মানুষ
কি এতই মূর্খ? বোঝে না সে
ব্যস্ত তুমি বুঝে নিতে নিজের ন্যায্য-অন্যায্য!?

হে জীবন!
ভুল জীবন করে, মহাজীবন ঈশ্বর নয়!
তুমি তো ঈশ্বরপুত্র, শয়তানের হাতছানিতে
ভুলে ঈশ্বর করো অন্যের অসামান্য ক্ষয়!?

হে জীবন!
তোমাকে বিশ্বাস ক'রে একদিন 
ধরেছিল 
দুর্বল যে জীবন শক্ত তোমার হাত,
সেই দুর্বল দু'হাত কেটে নিয়ে তুমি 
ক'রে দিলে তার জীবন বরবাদ!?

হে জীবন!
যে তোমায় বাসলো ভালো
দিলো তোমায় বুকে স্থান
সেই বুকেতেই তুমি মারলে লাথি
জীবন করলে তার খানখান!?

হে জীবন, জীবনের এই ট্রাজেডি 
থাকবে আঁকা দয়ালের বুকে;
দুঃখের সাগরে সব যাবে ভেসে
আর তুমি থাকবে একা সুখে?
তথাস্তু।
(লেখা ১৮ই জানুয়ারী' ২০২০)





কবিতাঃ জীবন সুধা।

হত্যা করো, হত্যা করো নির্ম্মম নিষ্ঠুর
আপোষহীন মনোভাবে নির্দয় হৃদয়ে;
উপেক্ষা করো, তাচ্ছিল্যে ভরিয়ে, দাও
দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিঃসঙ্কোচে ফিরিয়ে।
ঘৃণা করো, করো অবহেলা অপমান
যা হয় হবে, যায় যাক রসাতলে যতসব
ঠুনকো পাতি শালা মান-সম্মান।
কঠোর হও, হও কঠিন প্রশ্নশূন্য হৃদয়
দূর ক'রে দাও ক্ষমাহীন দয়ামায়াহীন
প্রাণে ত্যাগ ক'রে মনোভাব সদয়।
বাৎসল্য রসের উৎকর্ষ জেনো তাচ্ছিল্য
জেনেছি দয়ালের কাছে, শয়তানের লীলা
চলে তার প্রাণে আছে যার প্রাণে সারল্য।
নির্ম্মম আঘাতে করো চুরমার, করো ধ্বংস
সমূলে হ'য়ে কালাপাহাড় অবসাদের দেওয়াল,
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দাও খাক ক'রে হতাশাগ্রস্থ
জীবনের যা কিছু জঞ্জাল। করো পদাঘাত
নীচতার বুকে সবলে, হিংস্রতার সাথে
ঘৃণা উগড়ে ফেল উপড়ে মনের ডাস্টবিনে
যত দুর্গন্ধময় ময়লা জমে আছে তোমার।
ছলে-বলে-কৌশলে দাও খতম ক'রে
ঐ রক্তচোষা বাদুর দুর্বলতাটাকে যেটা
লুকিয়ে আছে তোমার বুকে সংগোপনে।
শয়তানের বুকে ভীমবিক্রমে মার লাথি,
দে ঝাঁপ দ-য়া-ল ব'লে দয়ালের কোলে
আমি বলছি নিশ্চিত তোমায় ওই কোল-ই
একমাত্র স্বর্গ, ওই কোলেই আছে জীবন সুধা,
মৃতসঞ্জীবনী সুরা পানে ঐখানেতেই তুই
জীবন খুঁজে পাবি।

কবিতাঃ দিনের শেষে অবশেষে......

জীবন! দিচ্ছ ছলাং, শব্দ ঝপাং!
হাওয়া হাওয়াই তুলছো তুফান!!
যৌবন ঘোড়ায় চ'ড়ে জীবন
মারছো চাবুক সপাং সপাং!!!
জীবন ‘জীবন’ খুঁজে পেয়েছো কি?
ভাবতে গিয়েই তোমার গেলো সময়
অন্তরেতে জাগছে যে ভয়
ওপারের ডাক এই এলো বুঝি!
বেহাগ কেন তোমার বাজছে বুকে!?
খাসা তুমি আছো তো সুখে
তবু ছড়ায় যেন তুলছে তান!
মনের মাঝে প্রশ্ন মারছে উঁকি
'জীবন' খালি কেন নিচ্ছে ঝুঁকি?
হাজার তাফাল ব’য়ে জীবন
তোমার 'জীবন' হচ্ছে কেন খানখান?
এই কি তবে 'জীবন'!?
কোনটা তবে মরণ!?
জীবন! মনের কোণে দিনের শেষে
হচ্ছে চিন্তা যেন অবশেষে
আজ তুমি হয়রাণ!!!!!!
তাই, জীবন বলছি শোনো
আমার কথা যদি মানো
পাবেই পাবে ‘জীবন’ খুঁজে সেথায়
পরমাত্মা বিরাজে যেথায়
যদি তাঁকে বক্ষ মাঝে রাখো।
(৩রা ফেব্রুয়ারী' ২০১৮)

কবিতাঃ কভি নেহি!!!

ঠাকুরকে ভালোবাসে, ঠাকুরের কথা বলে,
ঠাকুর ফেলে ঠাকুরের ফটো মাথায় নিয়ে ছুটে যারা চলে,
ঠাকুর ধ্যান, ঠাকুর জ্ঞান, ঠাকুর যাদের প্রাণ,
ঠাকুরের স্বপ্ন, ঠাকুরের জীবন নিয়ে গায় যারা গান,
ঠাকুরের মিশন, ঠাকুরের ভিশন নিয়ে গলা ফাটায় যারা,
ঠাকুরের ইচ্ছা আর ভালবাসা নিয়ে যাদের বয় অশ্রুধারা!
তারা কি জানে কোথায় ঠাকুরের কষ্ট আর কোথায় বুকের ব্যথা!?
কোথায় ঠাকুরের দুঃখ? কোথায় আছে চাপা পড়ে তাঁর মনের কথা!?
ঠাকুর আত্মজকে পায়ে দ'লে ঠাকুর প্রেমের বাদাম তুলে
লোক ঠকাবার দোকান খুলে ঠাকুরকে ক'রে আয়ের উপকরণ
ব্যবসা ফেঁদে বসে আছে যেসব মাথা, দেখেছো কি তোমরা
দু'চোখ মেলে মনের বন্ধ দরজা খুলে তাদের ঠাকুর প্রেমের ধরণ?
তোমরা কি তাদের চেনো? ভালোবাসার মুখোশ প'রে
ঠাকুর আত্মজদের বুকে লাথি মেরে লোক ঠকাচ্ছে যারা,
তারা কারা? ঠাকুর আত্মজদের থেকেও এ জগতে হায়!
বড় সাধক, বড় প্রেমী, বড় ভক্ত তারা!? বড় পন্ডিত, বড় জ্ঞানী,
জীবাত্মার স্তর পেরিয়ে মহান আত্মা তারা!?
কারা তারা!? কি নাম তাদের!?
একবারও কি তোমরা দেখবে না ভেবে
ঠাকুরকে যারা ভালবেসেছো এই ভবে!? কি তাদের পরিচয়?
'জয়গুরু' ব'লে গুরুর নামে যারা সামনে দিচ্ছে ধ্বনি
আর পিছনে 'মারি তো গণ্ডার আর লুটি তো ভান্ডার'
ব'লে মারছে ছক্কা আর করছে নয়ছয়!?
শালা! অধর্মের জয় আর হবে ধর্মের পরাজয়!?
কভি নেহি! দো দিন আগে আউর দো দিন পিছে!
আজ নেহি তো কাল আ রহা হ্যায় মহাকাল! সাধু! সাওধান!
(লেখা ২রা ফেব্রুয়ারী'২০১৯)

উপলব্ধিঃ বর্তমান সময়ের ভীষ্মদের প্রতি!

দেশের বর্তমান অস্থির সময়ে বর্তমান সমাজের ভীষ্মরা মহাভারতের যুগে ফিরে গেছে!

মন বলে, এটাই আমাদের সমস্যা! তবুও বলি কাউকে কটাক্ষ না ক'রেও সত্য তুলে ধরা যায়। সত্য তুলে ধরার জন্য তিক্তভাষী হ'তে হয় না, মিষ্টি ক'রেও সত্য তুলে ধরা যায়। এই তুলে ধরার জন্য কোনও রাজনৈতিক কথা বলার দরকার পড়ে না বা কোনও দল সম্পর্কে কটাক্ষ না ক'রেও তুলে ধরা যায় সত্য। দেশের পক্ষে, মানুষের জন্য যেটা মঙ্গল, যেটা ভালো সেটা তুলে ধরা প্রত্যেক দেশবাসীর দায়িত্ব ও কর্তব্য। নিজের চোখ খোলো ও অন্যের চোখ খুলতে সাহায্য কর। আর তা করো বলিষ্ঠতার সঙ্গে প্রেমকে আবাহন ক'রে। ঠাকুর বললেন, "স্পষ্টভাষী হও কিন্তু মিষ্টভাষী হও। সত্য বলো কিন্তু সংহার এনো না।" সবাই ভালো থাকো। (লেখা ২রা ফেব্রুয়ারী'২০২১)

কবিতাঃ স্বীকৃতি!

তোমার প্রতি এত রাগ,
এত ঘৃণা কেন তোমার বিরোধীদের?
ভেবে দেখেছো কি?
তোমার চিন্তা, তোমার ভাবনা,
তোমার চলা, তোমার বলা
এর জন্যে দায়ী কি?
যদি মনে করো, যদি থাকে আত্মবিশ্বাস
যা তুমি করেছো ও করছো তা ভুল নয়কো,
নয়কো কপটতার প্রতীক
তাহ'লে যাও এগিয়ে গভীর বিশ্বাসে
দৃঢ়তাকে ক'রে সাথী;
মৌরসি পাট্টার অচলায়তন সরাতে শ্বাসে-প্রশ্বাসে
হবে সংক্রমিত, মেনে নিতে হবে ক্ষয়ক্ষতি।
যদি বিবেক বলে তোমায়ঃ
তুমি স্বচ্ছ! তুমি সুন্দর! তুমি ঠিক!
দেরি হ'লেও আসবে একদিন নতুন সকাল
পাবে স্বীকৃতি নিশ্চিত!!
(লেখা ২রা ফেব্রুয়ারী'২০২১)

কবিতাঃ ঝুল! দেউলিয়ার ঝুল!!

হে কবি! হে বুদ্ধিজীবী!!
ব্যক্তিগত আক্রোশকে ক'রে সাথী
গড়তে চাও নতুন সমাজ!?
আনতে চাও কুয়াশাহীন স্বচ্ছ সকাল!?
প্রেম নেই যে হৃদয়ে, নেই বুক ভরা ভালোবাসা
সেই হৃদয়ে, সেই বুক দিয়ে সরাবে জঞ্জাল,
গড়বে অক্সিজেনে ভরা ভালো বাসা!?
যেই বুকে নেই বল, নেই বিশ্বাস-আত্মত্যাগ-নির্ভরতা
সেই জীবন বাসবে ভালো গরীবেরে,
দরিদ্ররে দেবে বার্তা সুখ-শান্তির, দেবে ভরসা!?
সব কথার ফানুস! নির্লজ্জ কপটতা!!
একচক্ষু হরিণের মত নিজেকে মনে করো চালাক
আর অন্যের সব কিছুর মধ্যে দেখতে পাও ভুল
সেই ভুল্ভুলাইয়ার ঘুলঘুলিতে পথ হারিয়ে
তোমার জীবনের আষ্টেপৃষ্টে গেছে জড়িয়ে ঝুল!
দেউলিয়ার ঝুল!!
( লেখা ২রা ফেব্রুয়ারি'২০২১)