Powered By Blogger

Tuesday, February 15, 2022

উপলব্ধি ২০

 

The greatest phenomenon of the world / বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ট বিস্ময়ঃ 

SriSri Thakur Anukulchandra.


আমরা যারা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে নিয়ে ফেসবুকে লেখালিখি করি তখন সেই লেখা সমগ্র মানব সমাজ সে ঠাকুরের দীক্ষিত হ'ক বা না হক, গুণগ্রাহী বা সমালোচক হ'ক কিম্বা ঠাকুর প্রেমিক বা নিন্দুক যাই হ'ক না কেন সবার কাছে ফেসবুকের মধ্যে দিয়ে ঠাকুর সম্পর্কে একটা মেসেজ যায়। আর সেই মেসেজের মধ্যে দিয়ে একটা ভালো বা মন্দ, কিম্বা ভালোমন্দ একটা মিশ্রিত ধারণার সৃষ্টি হয়। ঠাকুর সম্পর্কে, ঠাকুরের ব'লে যাওয়া বাণী বা বিভিন্ন বিষয়ের উপর ঠাকুরের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গী সম্পর্কে অনেককেই ফেসবুকে লিখতে দেখি। ঠাকুরের ব'লে যাওয়া বাণীও অনেকে ফেসবুকে তুলে ধরেন। এই সমস্ত বিষয় দেখতে দেখতে মনে হ'লো ঠাকুরকে নিয়ে ফেসবুকে আমরা যারা লেখালিখি করি তারা কি চাই? ইষ্টপ্রতিষ্ঠা নাকি আত্মপ্রতিষ্ঠা? ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা নাকি আত্মস্বার্থপ্রতিষ্ঠা? সবচেয়ে অবাক লাগে ঠাকুরকে নিয়ে প্রায় সবাই কমবেশি লেখালিখি করি। তুলে ধরি তাঁর দর্শন, তাঁর চিন্তা, তাঁর বাণী। তুলে ধরি গ্রন্থের নাম দিয়ে গ্রন্থের মধ্যে থাকা ও আদৌ না থাকা বাণী। তুলে ধরি তাঁর বাণী, তাঁর কথা তাঁর নাম ছাড়া ও ইনভার্টেড কমা ছাড়া।

ফেসবুকে ঠাকুরের বাণী লেখার সময় কেন ঠাকুরের নাম লেখেন না বা ইনভার্টেড কমা দেন না আমি বুঝতে পারি না। এটা কি অজ্ঞতার জন্যে নাকি ইচ্ছে করেই?? ঠাকুরকে ভালোবাসার অর্থ বেকুবি বা মুর্খামি করা নয়। এটা আমরা যেন ভুলে না যায় এই সমস্ত বাণীর মধ্যে দিয়ে সমগ্র মানব জাতির কাছে একটা পারিপার্শ্বিকসহ নিজের বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠার বার্তা পৌঁছে যায়, তা মানুষ গ্রহণ করুক আর নাই করুক। 


এছাড়া আবার দেখা যায় তাঁর ভাবকে নিজের ভাব ক'রে নিয়ে, তাঁর ভাষা, তাঁর লেখার ভঙ্গি বা ধরণকে নিজের ভাষা ও নিজের ভঙ্গি বা ধরণ ক'রে নিয়ে সেই লেখার মধ্যে তাঁর ব্যবহৃত শব্দ সম্ভার, টার্ম ইত্যাদি বিপুলভাবে নিজের লেখার মধ্যে ব্যবহার ক'রে নিজের বাহাদুরি তুলে ধরি। এছাড়া দেখতে পায় এমনভাবে ঠাকুরের লেখা পোষ্ট হচ্ছে যেন মনে হচ্ছে যে পোষ্ট করছে লেখাটা তার লেখা। আর সবচেয়ে যেটা ভয়ঙ্কর তা হ'ল অ-জ-স্র বানান ভুল!!! 


ঠাকুর বলেছিলেন দোয়াড়ে দীক্ষার কথা অর্থাৎ প্রচুর দীক্ষার কথা, ব্যাপক দীক্ষার কথা। দোয়াড়ে দীক্ষার সঙ্গে সঙ্গে চলছে দোয়াড়ে সৎসঙ্গ, দোয়াড়ে যাজন, দোয়াড়ে লেখালেখি। যে পারছে সেই দোয়াড়ে ঠাকুরের যাজন করছে, তা বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রেই হ'ক আর লেখালেখির ক্ষেত্রেই হ'ক! চলছে দোয়াড়ে সৎসঙ্গ। সৎসঙ্গ পরিণত হয়েছে আখড়া বাজিতে। প্রশ্ন উঠতেই পারে তাই ব'লে কি যাজন অর্থাৎ ঠাকুরের কথা বলবে না, লিখবে না? সৎসঙ্গ করবে না? 


লেখালেখি বা বক্তব্য রাখা চলতেই পারে কিন্তু মাথায় রাখতে হবে আমি যার লেখা লিখছি বা যার সম্বন্ধে বলছি তিনি কে? তিনি কি আমার লেবেলের? যদি বলা হ'য়ে থাকে রবীন্দ্রনাথ বা বিদ্যাসাগর, মধুসূদন বা নজরুল ইত্যাদি মনিষীদের নিয়ে বা এঁদের সম্পর্কে কি সবাই বক্তব্য রাখে বা এঁদের নিয়ে বা এঁদের লেখালেখি নিয়ে কি যে কেউ লেখা লেখে? লেখে না বা বলে না; তাই না? কেন? কারণ তাঁরা সাধারণের নাগালের বাইরে। তাঁদের নিয়ে বলতে বা লিখতে গেলে গবেষণা করার দরকার। তাহ'লে ঠাকুরর বেলায় অন্যথা হয় কেন? ঠাকুরের মন্ত্রশিষ্য ব'লে? মন্ত্রশিষ্য বলেই তাঁকে নিয়ে যে কেউ লেখালেখি বা বক্তব্য পেশ করতেই  পারে? ঠাকুর তার মানে Taken for granted! 


তবে এটা মনে রাখতে ঠাকুরের সৎসঙ্গের একটা মাহাত্ম্য আছে তা হ'ল ঠাকুরের দীক্ষায় দীক্ষিত, ঠাকুরের মন্ত্রশিষ্য এক অকপট ইষ্টপ্রাণ রিক্সাচালকের মুখেও জন্ম বিজ্ঞান বা বংশধারার বিজ্ঞান সম্পর্কিত অবাক করা বক্তব্য শোনা যায় যা এক উচ্চশিক্ষিতের কাছে শোনা যায় না বা জানা যায় না বা সে সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান তাঁর নেই। এটাই হ'ল সৎসঙ্গের বৈশিষ্ট্য! এটা কেন হয়? এটাকে বলে সেই ভক্তের ইষ্টের প্রতি dedication, অকপট ভালোবাসা। এখানে ইষ্টের চরণে সারেন্ডার হ'লো প্রথম ও শেষ কথা। এখানে তথাকথিত লেখাপড়ার কোনও মূল্য নেই। আর এটা ব্যতিক্রম। এই ব্যতিক্রম যত দ্রুত যত বেশী হয় ততই ভালো।


আর, সৎসঙ্গ করা সম্পর্কে সৎসঙ্গীদের ভাবতে হবে, মনে রাখতে হবে সৎসঙ্গ কোনও বাবাজীর আখড়া নয় বা তথাকথিত ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা গাঁজাখোর, মাতাল, মূর্খ ও শুধু বুড়োবুড়িদের সমাবেশ নয় বা কোনও মোড়ের মাথার বা বটগাছের তলার শনিপুজো বা মনসা বা শীতলা পূজার আড্ডাখানা নয় যে যেমন ইচ্ছে হেঁড়ে গলায় বেসুরে অসুরের মত চীৎকার ক'রে পরিবেশ দূষিত ক'রে গান, কীর্তন করলাম আর পেটে বোমা মারলে 'ক' অক্ষর বেরোয় না সেই আমি তাঁর কথা বললাম!  


আমাদের জানতে হবে ও মনে রাখতে হবে সৎসঙ্গ একটা স্কুল আর সেখানে দেড় ঘন্টা থেকে দু'ঘন্টার হয় পারিপার্শ্বিক সহ নিজের বাঁচা ও বাড়ার (Being & Becoming with environment ) স্কুলিং বা ক্লাস।   


তাই ফেসবুকে কিছু লেখার আগে বা সৎসঙ্গে বকতৃতা দেওয়ার আগে সৎসঙ্গীদের মাথায় রাখতে হবে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র হ'লেন The greatest phenomenon of the world অর্থাৎ বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ট বিস্ময়!!!!! এই যে তিনি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ট বিস্ময় এটা নিজের গুরুর প্রতি ভাবের চুল্কুনি থেকে বলা নয় বা আবেগে ভেসে গিয়ে নিজের ভালোলাগা জনের প্রতি দুর্বলতাবশতঃ সুড়সুড়ি খাওয়া নয়। এই বর্তমান কঠিন সময়ের পৃথিবীতে, জটিল জীবনে দুর্বলতা, আবেগ, ভাবালুতা, বেকুবি, ভক্তির আধিখ্যেতা, তাত্ত্বিক আমেজে ডুবে থাকা ইত্যাদির কোনও স্থান নেই। 


তাই সেই সর্বশ্রেষ্ট বিস্ময়ের মান-সম্মান-ইজ্জৎ নিজের চলনবলন দিয়ে রক্ষা করা সৎসঙ্গীদের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য।

কিছু প্রশ্নঃ হিন্দু ধর্ম ও হিন্দু সমাজ।

Anirban Sarkar, আপনি হিন্দুধর্মের করুণ অবস্থার জন্য সমগ্র হিন্দু সমাজকে দোষ দিয়েছেন; সঙ্গে সমস্ত ধর্মীয় পুরুষ, দেবদেবীদের।

 আমার আপনার কাছে জিজ্ঞাস্যঃ 

১) হিন্দু ধর্মের করুণ অবস্থাটা কি সেটা যদি একটু বিশ্লেষণ করেন ভালো হয়। 

২) হিন্দু সমাজ বা হিন্দু সমাজের দোষ বলতে কি বুঝিয়েছেন?

৩) আপনি কি হিন্দুসমাজের বাইরে?

৪) যদি বাইরে না হন তাহ’লে আপনিও কি একজন দোষী, অপরাধী?

৫) আপনার বা আপনাদের চোখ শুধুই দোষই দেখে? অন্য কিছু চোখে পড়ে না?

৬) ‘ঠগ বাছতে গাঁ উজার’ আর ‘কম্বলের লোমা বাছলে আর কি থাকে’ এই দুই প্রবাদ জানা আছে কি? 

৭) সবাই দোষী আর আপনি নির্ভেজাল নিখুঁত নিটোল গুণী পুরুষ?

৮) জানেন কি, যে ব্যাক্তি গাঁয়ের ঠগ বা কম্বলের লোমা বাছতে বসে তাকে কি বলে?

৯) বাংলাদেশের অগুন্তি হিন্দুদের বাঁচাবার দায়িত্ব যখন কেউ নেয়নি তখন শুধু উদারতার ভঙ্গি নিয়ে তাত্ত্বিক আমেজে ডুবে থেকে পূর্বজদের সমালোচনা ক’রে, তাঁদের দোষ দেখে সময় নষ্ট না ক’রে বর্তমান অবশিষ্ট বাংলাদেশি হিন্দুদের বাঁচাবার দায়িত্ব আপনি নেবেন কি?

১০) আপনি বা আপনারা (উৎপল বিশ্বাসের মত শ্রদ্ধেয় জ্ঞানীগুণী সর্বজ্ঞ শক্তিশালীরা) সময় নষ্ট না ক’রে একটা কমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি ক’রে হিন্দুদের শক্তিশালী বলশালী জাতিতে পরিণত করছেন না কেন?

১১) ‘এটা এতদিনে হয়নি আর কবে হবে?’ এটাতো হতাশার কথা। এই কথাটা কাকে বলছেন? 

১২) কেউ এসে ক’রে দিয়ে যাবে আর আপনি কিছু করবেন না? শুধু ভাসা ভাসা সমস্যা তুলে ধ’রে, সমালোচনা ক’রে, দোষ দেখে যাবেন আর বসে বসে শুধু ডুডু তামাক খাবেন নাকি?

১৩) বাংলাদেশে হিন্দুদের বাঁচাবার জন্য কেউ কিছু করেননি মানলাম বর্তমানে অবশিষ্টদের বাঁচাবার জন্য আপনি কিছু করছেন কি?

১৪) সমস্যা তুলে ধরার আগে সমস্যার গভীরে যেতে হয়, সমস্যার প্রকৃত স্বরুপকে চিনতে হয়, জানতে হয়, বুঝতে হয় তা জানেন কি?

১৫) সমস্যা তুলে ধরা সহজ (যদিও সহজ নয়) কিন্তু তার সমাধান জানা আছে কি?

১৬) প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত না হ’লে প্রকৃত সমাধানও সহজ নয়। এটা জানা আছে কি?

১৭) ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র পাবনা থেকে পালিয়ে এসেছিলেন এই জ্ঞানগর্ব তথ্য আপনি কোথায় পেলেন? কোন হিতাকাঙ্ক্ষী এই তথ্য আপনাকে দিল?

১৮) কারও সম্পর্কে বা কোন কিছু সম্পর্কে শেষ এবং সম্পূর্ণ না দেখে, না জেনে, না বুঝে কোনও মত প্রকাশ করা বা মন্তব্য করা বুদ্ধিমানের কাজ কি?

১৯) ‘ Empty vessels sound much’ Or ‘Too much talk ends in nothing’ অর্থাৎ বাংলা করলে যা দাঁড়ায় তাহ’ল ‘ফাঁকা কলসীর আওয়াজ বেশী’ বা ‘অসারের তর্জন গর্জনই সার’-এর প্রকৃষ্ট জলন্ত উদাহরণ নয় কি এই মন্তব্যগুলি? 

২০) আচ্ছা বলুন তো ‘অমৃতের পুত্রকন্যা’ না-কি ‘বিষের পুত্রকন্যা’!!!!!! কোনটা?

Sunday, February 13, 2022

উপলব্ধিঃ ১৯ঃ আস্তিক ও নাস্তিক।

কথা হচ্ছিল 'আসছে একটা নতুন যুগ, নতুন সময়! মহাপ্রলয়ে ভেসে যাবে সব, হবে সমূহ ক্ষতি, হবে মহাক্ষয়!! আস্তিক পাবে না ছাড়, নাস্তিকের নেই ভয়!!!'------কথাটা নিয়ে।

এখন প্রশ্ন এলো ভেসে, ''আস্তিক পাবে না ছাড়, তাহ'লে কি সব নাস্তিকের জয় হবে?"

উত্তর কি এখন? উত্তর মনে হয় আস্তিকরাই ভালো দিতে পারবে। তাই, আস্তিক নিজেকে প্রশ্ন করুক সে আস্তিক কিনা। নাস্তিকের ভয় কিসের? সে জানে সে নাস্তিক। ঈশ্বর জানে ঈশ্বরের সঙ্গে বেইমানী করেছে ও করছে কে বা কারা।

প্রশ্ন আসে ভেসে আবারঃ "নাস্তিক সাময়িক শক্তিধর হতে পারে, কিন্তুু আস্তিক মহাশক্তির অধিকারী"

উত্তরে বলতে হয়,  খুবই সত্যি কথা। একশোভাগ সহমত। কিন্তু কোন আস্তিক? 

কথায় আছে, "দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো।" যে গরু দুধ দেয় অথচ গোয়ালঘর অশান্ত ক'রে রাখে সে গরু যতই দুধ দিক না কেন সে থাকার চেয়ে না থাকায় ভালো। কারণ একজন ব্যাটসম্যান যতই রাণ তুলুক না কেন তার হাত দিয়ে যদি ফিল্ডিং-এর সময় বলের পর বল গলায় আর দল তার খেসারথ স্বরূপ হেরে যায় তখন সেই ব্যাটসম্যানকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে যায়। আর যে ব্যাটসম্যান রাণে ব্যর্থ হয় কিন্তু দলীয় ঐক্য বজায় রাখতে, মাথা ঠান্ডা রেখে পরিস্থিতি সামাল দিতে, সকলকে আগলে রাখতে পারদর্শী, সহযোগী এককথায় ভালো ফিল্ডসম্যান, স্বাভাবিকভাবেই দলে তার গ্রহণযোগ্যতার গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে; খেলায় চান্স না পেলেও টীম মেম্বার হিসাবে সে মধ্যমণি হ'য়ে ওঠে। ঠিক তেমনি যে গরু দুধ দেয় না অথচ খুবই শান্ত, মায়াবী তাকে তার প্রভু বুক দিয়ে আগলে রাখে, তাকে ভালোবাসে, আদর ক'রে। আর যে গরু দুধ দেয় না অথচ দুষ্ট, বদমাশ, মালিকের ক্ষতি করে, খায় আর জাবর কাটে তার ক্ষেত্রে কি করণীয় তা' সহজেই অনুমেয়। যে গরু দুধ দেয় অথচ বদমাশ তার ক্ষেত্রে কি করণীয় ব'লে মনে হয়? তাকে শাসনের বেড়াজালে রাখে তার মালিক। তাকে ভালোবাসা দিয়ে দিয়ে সংশোধনের চেষ্টা করে, শান্ত রাখার জন্য সচেষ্ট হয়, তার প্রতি মানবিক হ'য়ে ওঠে। তার সুবিধা অসুবিধার দিকে নজর রেখে চলে, বোঝার চেষ্টা করে কেন, কি জন্যে এমন করছে সে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে মালিকের চার চোখো দৃষ্টি ও সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের মুন্সীয়ানাই মুখ্য হ'য়ে ওঠে কাউকে সংশোধনের ক্ষেত্রে।  কিন্তু দুধ দেয় অথচ যখন বদমাইশি, দুষ্টমি সীমা লঙ্ঘন করে, হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হ'য়ে পড়ে তখন স্বাভাবিকভাবেই মালিককে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধ্য করে। 

তাই বলি, সব দুষ্টমি, বদমাইশি কিন্তু দুষ্টমি, বদমাইশি নয় ঠিক তেমনি সব ভালো প্রকৃতপক্ষে ভালো বা মঙ্গল নয়, মুখোশ মাত্র; যা আল্টিমেট স্থায়ী আসন লাভ করে না এবং তা' চিহ্নিত করার প্রয়োজন আছে।

ঠিক তেমনি, বর্তমান চলতি উপরি অর্থানুযায়ী সব আস্তিক আস্তিক যেমন নয় তেমনি সব নাস্তিক নাস্তিক নয়। উপরে মনে হচ্ছে আস্তিক কিন্তু সে আস্তিক নয়, উপরে মনে হচ্ছে সে নাস্তিক কিন্তু সে নাস্তক নয়। তাই আস্তিক হ'লেই সে মহাশক্তিধর নয় বন্ধু আর নাস্তিক হ'লেই সে শক্তিহীন নয় !!!! 

এছাড়া, আস্তিক আর নাস্তিক শব্দের গভীর অর্থ ভিন্নরুপ। সে বিষয়ে পরে আলোচনা করা যেতেই পারে।

Saturday, February 5, 2022

কবিতাঃ একাই একশো।

ভাঙাতে আনন্দ বেশী।
কারণ নিজেকে গড়তে হয়নি কিছুই
গড়ার কষ্ট কি তা ভাঙার কারিগর কি বুঝবে?
গড়াতে আছে কষ্ট যন্ত্রণা লাঞ্ছনা পরিশ্রম
আর আছে সীমাহীন অপমান কারাদন্ড সশ্রম।
ভাঙার শেষে আছে হতাশা অবসাদ
আর গড়ার হাড়ভাঙা পরিশ্রম শেষে
পাবে অফুরন্ত ভালোবাসার প্রসাদ
আর উঠবে গড়ে আনন্দ আশ্রম।
ভাঙাতে আনন্দ বেশী কারণ তাতে আছে
লাগামহীন উচ্ছৃঙ্খল বেলেল্লাপনার স্বাধীনতা।
গড়াতে আছে কষ্ট যন্ত্রণাযুক্ত পরিশ্রম
আর সেই পরিশ্রমের গর্ভে আছে
অনাবিল অন্তহীন সৃষ্টির আনন্দ উল্লাস
আর আছে ভালোবাসাময় নির্মল সরলতা।
তাই ভাঙার শাতন হাজার হ'লেও
গড়ার কারিগর পাগল সত্য
কিন্তু একাই একশো, অদম্য হাজার হাতির বল

মূলধন তার সরলতা আর মন নির্মল।

কবিতা; ত্রাণকর্তা!

একটা ভয়ংকর অস্থির সময়ের খাঁচায় বন্দী আমি।
কেউ কি আছো যে এই খাঁচা থেকে
আমায় বের ক'রে নিয়ে যেতে পারো?
যাকেই ভেবেছি এ বুঝি saviour of the mankind (মানুষের ত্রাণকর্তা)!
সেই দিয়েছে ধোঁকা!
আমি কি বোকা? বিশ্বাস করা বা রাখা কি পাপ?
সেই যে কোন ছোটোবেলা থেকে
বিশ্বাসের চৌকাঠে হোঁচট খেয়ে মরছি
আজও তার হয়নি যাত্রা শেষ!
কত স্বপ্নের রঙ্গীন বেলুন ফুলিয়ে
রাজনীতির ফেরীওয়ালারা আসে দুয়ারে বারবার!
ভুলিয়ে নিয়ে যায় আমায়
বিশ্বাসের আতর মাখিয়ে দিয়ে গায়!
সম্মোহন! একটা তীব্র সম্মোহনের গ্যাস
আচ্ছন্ন ক'রে দিয়ে মনপ্রাণ
লুট ক'রে নিয়ে যায় আস্থা
পাঠিয়ে দিয়ে নরকের দ্বোরগোড়ায়!
কিন্তু তবুও ব'লে উঠি সেই নরক থেকে
কোমর ভাঙ্গা বিশ্বাসের কাঁধে ভর ক'রে
টলমল পায়ে দাঁড়িয়ে আবার
নূতনকে বন্ধু ভেবে সবার
হে বন্ধু! তুমি কি হবে আমার
future saviour of mankind (মানুষের ভবিষ্যৎ ত্রাণকর্তা)!?

কবিতাঃ হারিয়ো না সময়।

ধর্ম্ম মানে গঞ্জিকা সেবন আর সুরাপান?
খোল করতালে কীর্তনের নামে আসুরিক হৈচৈ গান !?
পুজা মানে ফুল-ফল-পাতা ধূপ ধুনো চন্দন!?
প্রভুর জন্যে খিচুড়ি ভোগ আর মায়ের মন্দিরে
উৎকৃষ্ট নধর কচি পাঁঠার মাংস রন্ধন!?
কবে কোথায় কে বলেছে তোমায়!?
মায়ের পূজার নামে জীব বলি আর
প্রধান প্রসাদের নামে মাছ-মাংসের হাড়!?
মায়ের পূজার নামে যত্তসব নচ্ছারগিরি
আর ভক্তির উগ্র বীভৎস হিংস্র বাড়াবাড়ি
কোন মা তারা, মা কালি আর যত অমূর্ত
মায়ের দল বলেছে!? কোথায় কোনখানে!?
কোন ধর্মগ্রন্থে তা' দেখাতে পারবে আমায়!?
ধর্ম্ম মানে হুল্লোর হুড়োহুড়ি আর বজ্জাতি
যত্তসব বৃত্তি-প্রবৃত্তির লাগামছাড়া নষ্টামি
কোথায় কোন দেবতা, কোন ধর্মগুরু
কাম-ক্রোধ-লোভ-মোহ-মদ-মাৎসর্য
রিপুতাড়নায় অস্থির জীবনের পথ দেখিয়েছে তোমায়!?
হে ধর্ম্মের নামে অধর্মের চরণ পূজারী
আর ধর্ম্মের বেদিমূলে ব'সে থাকা যত ভন্ড আনাড়ি
বৃত্তি-প্রবৃত্তির ল্যাজে তৈল মর্দনে আছে কে বেঁচে
বলতে ও দেখাতে পারো আমায়!?
যদি না পারো তবে ছাড়ো ঐ জীবন বিধ্বংসী
মিথ্যের রথে চড়ে এগিয়ে চলা নিরন্তর মৃত্যুর পথ!
চলে এসো, ছুটে এসো ঐ 'রাধাস্বামী' নামের পতাকার তলায়
যেখানে আছে জীবন, নেই মরণ, আছে বাঁচা আর বাড়া
আছে সুখ শান্তি ঐশ্বর্য অস্তি-বৃদ্ধি-যাজন জৈত্রের নাড়া
যেখানে এলে রোগ-শোক-গ্রহদোষ-বুদ্ধি বিপর্যয়
আর পালায় দারিদ্রতায় ভরা মৃত্যু ভয়!
এসো বন্ধু! এসো প্রিয়ে! সূর্য পাটে বসেছে যেতে
হারিয়ো না হেলায় কিছুদিনের জন্যে আসা সময়!
মানো আর না-মানো আমার কথা
শেষের সেদিন কিন্ত ভয়ংকর
যদি অকাল আর ভয়ংকর মৃত্যু না চাও
তবে 'মর' ব'লো না; বলো তুমি, অজর, অমর!


3 Comments


Friday, February 4, 2022

কবিতাঃ এসো বন্ধু! এসো--------

এসো বন্ধু! এসো প্রিয়ে!!
তুমি একা হ'লেও এ ভবে
জেনো তুমি অর্জুন;
আছো সখা দয়াল সাথে নিয়ে!
ভয় কি তোমার; যা নেই আমার
তা আছে তোমার; তুমি অমর,
তুমি অজেয় এ অনন্ত বিশ্বে!
তুমি অজর, অমর নিশ্বাসে-প্রশ্বাসে!
এসো বন্ধু! এসো প্রিয়ে!!
তুমি ভাগ্যাধীশ!
আছো দয়াল সখা সাথে নিয়ে!!
হে বন্ধু! হে আমার প্রিয়ে!!
তুমি হ'য়ো না দুর্যোধন
হ'য়ো না ভাই দুঃশাসন
হাজার লাখ সাথী যতই থাক না তোমার
যতই হাজার ঝাড়বাতি জ্বালিয়ে করো না উল্লাস
দিন শেষে অবশেষে যাবে তুমি নিভে।----প্রবি।