Powered By Blogger

Monday, January 6, 2025

Poem: Listen my friends.

Don't waste your life guys,
My brothers and sisters, my younger sons.
Do not make wrong decisions along 
With harmful things in your life.
Community-verified icon
Don't throw yourself into a thorn bush;
Which will destroy your future life
And great pain will be friends.
Then no one will be your well wisher
And no one will guide you
Laying hands on your weak hands to gain 
Life's way of being and becoming.
Virtually my friends, my brothers and sisters
And my little boys,
There is no one around you,
Whose hand is strong and reliable,
And there is no one in your dream world
Who can freely guide you to succeed in life
And help to reach the goal.
My friends of the younger generation, 
Don't waste life.
Don't be overwhelmed by someone's
Baseless, illogical words.
Don't lose your faith in Almighty Father.
And don't damage your confidence by depending
On stones, rings, colored threads.
Do not allow Satan to overwhelm you 
With the power of magical moments, lights, 
fountains of words and deeds, 
And fountains of money, name, fame.
Try to understand everything with justification
Through your inner eye and meaningful thoughts.
Don't be stupid and act childish.
Don't make friends with the words 'no' and 'impossible'.
Remember everything is possible, 'yes, possible'.
All my favorite! Hear my request
And send the call of your heart 
To the feet of the Supreme Father.
( Written on 6th January'2022)

বিচিত্রাঃ ৭৬

যার জীবনে যত ভুল কম,
তার জীবনে তত সুখ বেশী। 
যার জীবনে ঠাকুর প্রধান
বাকি সব গৌণ, 
তার জীবনে নেই কোনও ভুল,
তত তার নির্মল হাসি জেনো ।

জীবনে ঠাকুর প্রধান, বাকী সব গৌণ-
এ কথার মানে কি?
ঠাকুর প্রধান মানে তাঁর চলন প্রধান।
আর, তাঁর চলন যদি আমার চলন না-হয়
বাকী সব হয় জীবনে প্রধান,
তাহ'লে জীবনে সবটাই জেনো ফাঁকি।
( লেখা ৬ই জানুয়রী'১৮)













Saturday, January 4, 2025

বিচিত্রা ৭৫

ধর্ম প্রতিষ্ঠার নামে বন্ধু করছো তুমি কিন্তু অধর্ম!
জেনে বুঝে যদি ক'রে থাকো তা' 
তাহ'লে থাক সেকথা; 
অন্যথায় বোঝো ধর্মের মর্ম।

আমার হৃদ মাঝারে আছো তুমি, 
বলছি হেঁকে জোর গলায়!
বিবেক বলে,
হৃদ মাঝারে রেখেছো কবে?
আর হাসে 
'তোমায় ছেড়ে দেবো না' বলায়!!

‘তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো ছেড়ে দেবো না’=-
ব’লে কবে থেকে গলা ফাটিয়ে চেঁচিয়ে নেচে কুঁদে
চ্যাঁচাচ্ছো। দিন যায় চলে, জীবন সূর্য যায় ঢলে
পলে পলে। কবে আর রাখবে? খেয়াল রাখছো?
আরে আগে তো হৃদয়ে রাখো, 
তবে না ছেড়ে দেওয়া
আর না-দেওয়ার প্রশ্ন উঠবে!!
( ৪ই জানুয়ারী'১৮)

সাবধান!
শয়তানের হাসি ভগবানের চেয়েও মিষ্টি!
ভগবানের হাসি ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি!!

তোমার অন্তরে সত্য-মিথ্যা কি লুকিয়ে আছে
তা তুমি জানো আর কে জানে?
কেউ জানুক না জানুক ঈশ্বর জানে! সাবধান!!

পাপ ঢেকে রেখে অজ্ঞ লোককে, নতুনকে
উল্টোপাল্টা ভুল বোঝানো যায়
কিন্তু পাপ সময়মত পচে গলে বেরিয়ে আসে!
সাবধান! সময় কারও বান্দা নয়!
( লেখা ৪ই জানুয়ারী'২০)

পাহাড় দয়ালের কাছে যদি না আসে
তবে দয়াল পাহাড়ের কাছে যায়।
তবুও পাহাড় চিনতে পারে না দয়ালকে।
কারণ সে পাহাড়, এই সূক্ষ্ম অহংকারে।

Immerse yourself in the NAME R.S
Stay away from negative waves.
May God bless you.
( ৪ই জানুয়ারী'২৪)





প্রবন্ধঃ বাবামায়েদের উদ্দেশ্যে (২)

এই ছোট্ট মিষ্টি শিশুটিকে দেখছেন? আপনার ছোট্ট শিশুর মতন না? তবে তফাৎ কোথায়?
এমন দেবতুল্য সন্তান কোন বাবামা চায় না? সবার ঘরে ঘরে সব বাবামায়ের কোল এমন দেবতার মতো সুসন্তানে ভরিয়ে দাও দয়াল! বাবামায়েদের কাছে অনুরোধ সন্তান শিশু অবস্থায় থাকতে থাকতেই সময় থাকতে নিজেদের চিন্তাভাবনা, জীবনযাপন পরিবর্তন ক'রে ফেলুন। আপনার শিশু সন্তানকে এমন দেবসন্তান হওয়ার সুযোগ ও পরিবেশ দিন। নয়তো শেষের সেদিন ভয়ংকর! আপনাদের দেখে শিখবে শিশু মন যা কিছু ভাল মন্দ। আপনাদের অবচেতন মনের মধ্যে চলতে থাকা বৃত্তি-প্রবৃত্তির, রিপু তাড়িত চলনের, ভুল আচার আচরণের ছাপ পড়ে যাবে শিশুর নরম কচি মন মস্তিষ্কের ওপর।
তাই বাবামায়েরা সাবধান! উদাসীনভাবে হেলায়ফেলায় জীবন কাটাবার আর সময় ও পরিস্থিতি নেই এই জ্বলন্ত সত্য বাবামায়েরা যত তাড়াতাড়া পারবেন বুঝে নিন। নতুবা আপনার আজকের শিশুর ভবিষ্যৎ জীবন যদি প্রতিষ্ঠিত না হয়, যদি মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় তখন বাবামা হিসেবে আপনাদের আফশোসের আর কিছু থাকবে না। ছেলের ব্যর্থ, অপ্রতিষ্ঠিত, বিপদগ্রস্থ, রোগগ্রস্থ অস্থির যন্ত্রণাময় অন্ধকারময় ভয়াবহ জীবন দেখে ব্যথায় জর্জরিত জীবনে চোখের জল ফেলা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না। আর সেদিন আপনার আজকের শিশু সন্তান হতাশা আর ব্যররথতার জ্বালায় জর্জরিত হ'য়ে হয় অবসাদগ্রস্থ জীবন কাটাবে, নির্মম সত্য আত্মহত্যার দিকে ছুটে যাবে নতুবা অন্ধকারাচ্ছন্ন যন্ত্রণাময় এক জীবনের অধিকারী হবে। আর সেদিন কিন্তু তার ক্ষতবিক্ষত জীবনের জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে আপনাদের আজকের ফুলের মতো সুন্দর প্রচুর সম্ভাবনাময় শিশু ভবিষ্যতের সেদিনের অসুন্দর ব্যবহারের অধিকারী ব্যার্থতার প্রতীক 'র' বিশু হ'য়ে।

তাই একবার খোঁজ নিয়ে দেখুন এই ছোট্ট শিশুর আজকের ২৪বছরের জীবন কি রকম! আর ভেবে দেখুন আর আদর্শবান ইষ্টপ্রাণ জীবনের অধিকারী ক'রে তুলুন আপনার সন্তানকে পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে। কথায় আছে কাঁচায় না নুইলে বাঁশ, পাকায় ক'রে ঠাসঠাস। আমার অপ্রিয় সত্য কথাগুলি ভালো লাগলে গ্রহণ করবেন আর ভালো না লাগলে বর্জন করুন কিন্তু রাগ করবেন না আমার ব্যক্তিগত স্বার্থহীন কথায়। স্বার্থ আমার, শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণী। শ্রীশ্রীঠাকুরে কথায়,
"পড়শিরা তোর নিপাত যাবে
তুই বেঁচে সুখ খাবি বুঝি?
যা ছুটে যা তাদের বাঁচা
তারাই যে তোর বাঁচার পুজি।"-----এই-ই আমার এক ও একমাত্র স্বার্থ যাতে আমার দয়াল ঠাকুর খুশী হন। 
( লেখা ৪ই জানুয়ারী'২৩)।



Friday, January 3, 2025

বিচিত্রা ৭৪ নাম

নামঃ

সমস্ত সমস্যার সমাধান একমাত্র এ যুগের যুগাবতারের দেওয়া বীজনাম।
নামময় হ'য়ে থাকো আর নামের নামিকে কাজ করতে দাও। তাঁকে অবিশ্বাস ক'রো না।
ভয় পেও না। নাম করো। অনুরাগের সঙ্গে নাম করো আর বিন্দাস থাকো। সব তাঁর ওপর ছেড়ে দাও। দ্যাখো ম্যাজিক।
নাম থেকেই সব সৃষ্টি। নামের ভয়ংকর তীব্রতায় পৃথিবী ভেঙে টুকরো টুকরো হ'য়ে যেতে পারে! এসো নাম করি। শয়তান ছিন্নভিন্ন হ'য়ে যাবে।
যে নামময় থাকে তাকে লক্ষণ রেখা ঘিরে রাখে। রাবণের বাপ তাকে ছুঁতে পারে না।
তোমার সামনে পিছনে, উপরে নীচে, ডাইনে বাঁয়ে সর্বত্র শয়তান বিরাজমান। নাম রসে ডুবে যাও আর শয়তানের পরিণতি ঠাকুরের ওপর ছেড়ে দাও।
নাম করো। আরাম ক'রে মনে মনে নাম করো। মুহূর্তে বিপদের কালো মেঘ কেটে যাবে। তুমি বিপদমুক্ত হবেই হবে, নিশ্চয়ই হবে।
আর এই নিয়ে, কারও সঙ্গে তর্ক করতে যেও না, সবাইকে সবার বুঝ নিয়ে থাকতে দাও। তুমি নামময় হ'য়ে থাকো।

তিনি আছেন আর আপনি আছেন ব্যস আর কি চাই? সবসময় বিন্দাস থাকুন। ফুর্তিতে থাকুন। আনন্দে থাকুন।
আপনি ঠাকুর ধরেছেন মানে আপনার একজন আছে যাকে আপনার মনের সব কথা বলতে পারবেন, তাঁর সঙ্গে কথা বলুন।
আপনার বিপদের দিনে, সমস্যার দিনে কেউ নেই মানে আপনি কোনোদিন কারও জন্য ছিলেন না। ঠিক আছে। কিন্তু ঠাকুর আছে আপনার, ভয় কি?
আপনার বিপদের দিনে, সমস্যার দিনে কেউ নেই মানে আপনি কোনোদিন কারও জন্য ছিলেন না। ঠিক আছে। কিন্তু ঠাকুর আছে আপনার, ভয় কি?
আপনি ঠাকুরকে গ্রহণ করেছেন জীবনে, তারপর তাঁকে ছেড়ে দিয়েছেন, তাঁর জন্য কিছু করেননি, করেননা। কিন্তু ঠাকুর আপনাকে ছাড়েননি।

প্রবন্ধঃ শিক্ষকের সম্মান ও ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা।

শিক্ষক দিবসে শিক্ষকের মান সম্মান ও ছাত্রছাত্রীদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পট পরিবর্তনের পর শিক্ষকশিক্ষিকা নিগ্রহ ও অপসারণ আলোচ্য বিষয় হ'য়ে উঠলো।

'জুতো মেরে গরু দান' এ প্রাচীন প্রচলিত প্রবাদ এখন সংস্কারে পরিণত হয়েছে। যদি শিক্ষক অপরাধীই হ;য়ে থাকে তাকে পুনর্বহালই বা কেন আর কেনই বা তাকে অপমান লাঞ্ছনা ক'রে অপসারণ করা হয়েছিল? ছাত্রছাত্রীদের ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন আসছে কেন? জুতোর মালা পড়িয়ে যে শিক্ষককে অপসারণ করা হয়েছিল, ফুল দিয়ে তাকেই আবার গ্রহণ করা হ'লো? কেন? তাহ'লে ছাত্ররা কিছু ভুল করেছিল? তাহ'লে ছাত্ররা ভুল করে? এটা তাহ'লে সচেতন মানুষ মেনে নিয়েছেন? এটা কি ধরণের ভুল? এটা কি ধরণের ফুল দিয়ে ভুল ঢাকা? এই ফুল দিয়ে ক্ষমা চেয়ে বরণ ক'রে নেবার সময় ছাত্রছাত্রীদের কারও কারও চোখেমুখে অপরাধের চিহ্ন দেখা যায়নি, উল্টে মুখে হাসি দেখা গেছে। একটা মনে হ'লো যেন সাজানো নাটক। সন্তানসম ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে পিতার সমান শিক্ষকদের জুতোও মারা হ'লো আবার নাম কা ওয়াস্তে ভুল স্বীকার ক'রে নিয়ে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ ফুল তুলে দেওয়ার নাটক রচনাও হ'লো অপমানিত অসম্মানিত শিক্ষকদের। দুনিয়ার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক দেখালো বাংলাদেশ ও দেখলো গোটা বিশ্ব। এই জঘন্য ভুলের বীজ কে পুঁতে দিয়েছিল বাংলাদেশের সুকুমারমতি ছাত্রছাত্রীদের মাথায়? কাদের দ্বারা ভুল পথে পরিচালিত হয়েছিল অল্পবয়সী ছাত্রসমাজ। আজকের এই ছাত্রছাত্রীরা একদিন অভিভাবক হবে, হবে স্কুল কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকা। তখন তারা কি স্মৃতি রোমন্থন ক'রে আজকের দিনের এই অপরাধকে আন্তরিকভাবে মেনে নিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নিজেদের অপরাধী ব'লে কুশিক্ষার জনক ব'লে চিহ্নিত করবে নাকি আজকের এই অন্তসারহীন উচ্ছৃঙ্খল আন্দোলনের মহিমা কীর্তন ক'রে নিজেদের কুকীর্তির বীর গাঁথা গাইবে? কথাটা বললাম কেন? খারাপ জিনিস ছোঁয়াচে রোগের মত। সংক্রামক ব্যাধি দ্রুত ছড়ায়। সংক্রামিত ব্যাধি যদি সংক্রামক রোগ মুক্ত না হয় তাহ'লে এর সংক্রামক জীবাণু ব'য়ে চলে বংশ পরম্পরায় জন্ম জন্মান্তর প্রজন্মের পর প্রজন্মকে শরীরে-মনে ঘায়েল করতে করতে। আর, এ হ'লো বিষাক্ত সংক্রামক ব্যাধির মত বিষাক্ত সংক্রামক কৃষ্টি-সংস্কৃতি। যা কিনা বায়োলজিক্যালি এফেক্টেড হ'য়ে পড়ে।


অল্পবয়সী ছাত্রছাত্রীদের মিছিলে যে ধরণের উত্তেজনা, যে ধরণের শ্লোগান, যে ধরণের শরীরী ভাষা আমরা দেখেছি তা কি সচেতন শিক্ষিত সমাজ অনুমোদন করেন? বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও ছাত্রছাত্রীদের ওপর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত প্রাজ্ঞ পন্ডিত বিদগ্ধ প্রথিতযশা সভ্য শিক্ষিত উচ্চশিক্ষিত সম্মানীয় ব্যক্তিদের শিক্ষার আলোর কোনও প্রভাব নেই? ছাত্রছাত্রী তাঁদের দ্বারা প্রভাবিত হয় না? কেন? কেন হয় না? কেন তাঁদের কি সে চরিত্র নেই? নাকি তাঁদের হাতে সমাজের রাশ নেই? আগামী ভয়ংকর পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে কি একবার পিছন ফিরে ক্ষতবিক্ষত পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে ভাবার সময় আসেনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য? কি পৃথিবী রেখে যাচ্ছি আমরা? এর জন্যে কে দায়ী? সব কিছুর শেষ কথা কি রাজনীতি? Pseudo politics, pseudo education, pseudo civilization, pseudo religion অর্থাৎ আপাত সত্য মনে হলেও মিথ্যা, ছদ্ম রাজনীতি, ছদ্ম শিক্ষা, ছদ্ম সভ্যতা, ছদ্ম ধর্মের শিকার ছাত্রছাত্রী সমাজ? বহুদিন বহুবছর ধ'রে চলে আসছে এই pseudo Cultivation of culture অর্থাৎ ছদ্ম কৃষ্টি সংস্কৃতির চাষ। এর পৃষ্টপোষক কারা? So called elite society তথাকথিত এলিট সমাজ? ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকেরা? শিক্ষকেরা? এলিট সমাজ, শিক্ষক সমাজ জেনেশুনে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে জেনেশুনে 'মরো, মারো ও ধ্বংস করো'র বিষ পান করিয়েছে? নাকি নিজেদের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়েছে? যা ইচ্ছা হ'ক। "আমার গাঁয়ে আঁচ না লাগে ফুরিয়ে যাবে মামলা।" এ মানসিকতা শিক্ষিতের মানসিকতা নয়, এ নিম্ন মানসিকতা লেখাপড়া জানাওয়ালা মানুষের।
এলিট সমাজ তাত্ত্বিক আমেজে ডুবে থেকে শুধু কবিতায়, গানে, গল্পে, সাহিত্যে, চলচিত্রে, চিত্রশিল্পে ইত্যাদি সমস্ত ক্ষেত্রে শুধু জীবনের জয়গানের নামে মরণের গান গেয়ে গেছে। তাঁরা কখনোই "ম'রো না, মেরো না, পারো তো মৃত্যুকে অবলুপ্ত করো" এই জীবনবাদের ওপরে কবিতা, গান, প্রবন্ধ, সাহিত্য ইত্যাদি রচনা করেনি, শিল্প সৃষ্টি করেনি। তথাকথিত রাজনীতি ও ধর্মজগতের লোকেরাও একই পথ অবলম্বন করেছে। সমস্ত রচানাতেই এক গভীর হতাশা অবসাদ থেকে উঠে আসা একটা জমাট রাগ, ক্রোধ, ঘৃণা, হিংসার বহির্প্রকাশ হয়েছে। আর, তা সঞ্চারিত হয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের প্রতিটি জীবনের মধ্যে শৈশব থেকেই এবং তা' ধীরে ধীরে জৈবী সংস্থিতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। আর, তার প্রকাশ আমরা দেখতে পায় সব দেশের সব আন্দোলনে, ছাত্র আন্দোলনে। প্রায় প্রতিটি আন্দোলনের পিছনে আছে অসফল হতাশাগ্রসস্ত, অবসাদগ্রস্ত অনিয়ন্ত্রিত জীবনের নিঃশ্বাস। ফলে প্রতিটি আন্দোলনই মাতালের টালমাটাল পায়ের মত ভারসাম্যহীন আন্দোলন। আর, তা একসময় ডিরেইল্ড হ'য়ে যায় এবং নিজে মরে ও অন্যকেও মারে।


এই যে বাংলাদেশের হঠাৎ দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের নামে যে Pseudo student movement অর্থাৎ ছদ্ম ছাত্র আন্দোলন দেখলাম এবং তার জেরে পট পরিবর্তন পরবর্তী দেশজুড়ে যে উচ্ছৃঙ্খলতা ও বিশৃঙ্খলার দৃশ্য দেখলাম এবং তারপর স্বাধীন দেশের ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা শিক্ষকদের ওপর চরম অপমান, লাঞ্ছনা ও জোর ক'রে পদত্যাগ করাবার যে দৃশ্য দেখা গেল এবং পুনরায় সসম্মানে শিক্ষকদের বহাল করাবার যে খবর ও দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম এটাকে কি ছাত্রছাত্রীদের ভুল ব'লে অপরাধকে, অন্যায়কে হালকা ক'রে দেওয়ার সুচতুর শিক্ষা নয়? শিক্ষকদের ওপর যে অশোভন আচরণ করা হ'লো সংগঠিতভাবে তার জন্য ছাত্রছাত্রী সমাজ কি অনুতপ্ত? আর, যদি স্বৈরাচারী সরকার হ'য়ে থাকে সরাসরি সেই স্বৈরাচারী সরকারের পতন চেয়ে ছাত্র আন্দোলনের পরিবর্তে সরকারী চাকরীতে কোটা আন্দোলনের নামে দেশের শাসন ক্ষমতার পরিবর্তনে যে Pseudo student movement অর্থাৎ ছদ্ম ছাত্র আন্দোলন দেখা গেল এবং মিথ্যে কপট পথ অবলম্বনের জন্য আপাত দোষী তামাম ছাত্রসমাজ কি লজ্জিত, অনুতপ্ত হ'লো বা কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করলো? কিছু উপলব্ধি হ'লো? বর্তমান ও পরবর্তী ছাত্র প্রজন্ম কি শিখলো? তাহ'লে শিক্ষক যদি ভুল ক'রে থাকে তাকে কেন উত্তম মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হ'লো না? কে শেখাবে? দেশ কি অভিভাবকহীন?


ভুল করেনি এমন মানুষ পৃথিবীতে একটাও দেখাতে পারবেন কেউ একমাত্র জীবন্ত ঈশ্বর ছাড়া? আর, কতটা ভুলের জন্য কতটা শাস্তি? আর, সেই শাস্তি নিজের সন্তানসম ছাত্রছাত্রীদের হাতে? শিক্ষক ভুল করেছে তার শাস্তি স্কুল কমিটি দেবে। দেশে সরকার আছে, শাসন ব্যবস্থা আছে, আইন আদালত, দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আছে তারা শাস্তি দেবে। শিক্ষক যদি কোনও ঘৃণ্য অপরাধ ক'রে থাকে শিক্ষক সমাজ তাঁর অপরাধ অনুযায়ী কঠোর বিচার করবে। শিক্ষক নিজ কৃতকর্মে অনুতপ্ত হবে। নিজেকে নিজে শাস্তি দেবে। ছাত্র সমাজের কাছে নিজের ভয়ংকর ভুলের জন্য লজ্জিত হবে, ক্ষমাপ্রার্থী হবে। শিক্ষককে বুঝতে হবে তাঁর ছাত্রছাত্রীদের প্রতি নিজের নৈতিক দায়িত্ব কি ছিল। ব্যবহারের কোন ভুলে, চরিত্রের কোন দোষে তাঁকে আজ ছাত্রছাত্রীদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। শিক্ষক শিক্ষিকার অন্যায় ও নোংরা কাজে ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ আইনত সিদ্ধ।
কিন্তু তাই ব'লে কোনও সভ্য দেশে সভ্য ছাত্রছাত্রী বিচারের ভার হাতে তুলে নেবে? প্রকাশ্যে মধ্যযুগীয় ব্যবস্থায় বিচার হাতে তুলে নেবে? বিচার করার অধিকার ছাত্রছাত্রীদের আছে? সেই অধিকার কোনও সভ্য দেশের সংবিধান, সভ্য দেশের মানবিক সরকার দেয়? যদি সরকার উদাসীন থাকে, প্রশ্রয় দেয় তার জন্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ আন্দোলন হবে। সরকার পরিবর্তন হ'তে পারে। বিচার করার বোধশক্তি ছাত্রছাত্রীদের এই বয়সে আছে না হয়েছে? এক বিঘৎ দূরের জিনিস দেখবার ক্ষমতা যাদের নেই, যাদের নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই, যারা নিজেরাই নিজেদের উচ্ছৃঙ্খল বিশৃঙ্খল রিপু দ্বারা পরিচালিত তারা করবে বিচার? শিক্ষকদের শাসন করবে ছাত্রছাত্রী? তারা কি নিজের নিজের ঘরের পিতামাতা, অভিভাবক, গুরুজনদের শাসন করে, বিচার করে?


পাহাড় প্রমাণ ভুলের উদাহরণ ছাত্র সমাজের সাম্প্রতিক আন্দোলন। উচ্ছৃঙ্খল জনতা আর ছাত্রছাত্রীদের আচরণে যে কোনও তফাৎ ছিল না তা' সমগ্র বিশ্ব দেখেছে। ভুলের সাজা হ'ক, নিশ্চয়ই হ'ক। অপরাধ অনুযায়ী কঠোর সাজা হ'ক। তা' শিক্ষক বা রাজনীতিকের ক্ষেত্রে শুধু নয় অপরাধী মাত্রেই সাজা হ'ক। কিন্তু তাই ব'লে কোনও সভ্য আধুনিক দেশে বিচারের ভার মবের হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না, মব তুলে নিতে পারে না। এটা মধ্যযুগীয় সময়কাল বা অন্ধকারের যুগ নয়। তাই অপমানিত লাঞ্ছিত শিক্ষকদের যখন ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ফুলের মালা গলায় চড়িয়ে তখন এটা প্রমাণ ইনারা সম্মানীয়, সম্মানের যোগ্য ছিলেন ও আছেন। ইনারা বিশেষ ব্যক্তি আক্রোশের শিকার যা সমষ্টিতে চাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ভুল বুঝিয়ে। এর পিছনে কারা আছে তাঁদের খুঁজে বের করা হ'ক। ছাত্রছাত্রীরা চিনুক ও দেখুক তাদের আর জানুক, শিখুক, বুঝুক সত্যকে। আগামী ছাত্র সমাজের কাছে উদাহরণ হ'য়ে থাকুক এরা ও এই ঘটনা।


উত্তেজিত মস্তিষ্ক বৃথা আড়ম্বর যুক্ত চিন্তা দিয়ে আর যা কিছুই হ'ক কৃষ্টি ও সংস্কৃতির চাষ হয় না। ধ্বংসের চাষ হয়, সৃষ্টিমূলক কিছু চাষ হয় না, গড়া যায় না। The greatest phenomenon of the world, greatest wonder of the world, world teacher SriSriThakur AnukulChandra বললেন, "উত্তেজিত মস্তিষ্ক ও বৃথা আড়ম্বরযুক্ত চিন্তা-----দুইটিই অসিদ্ধির লক্ষ্মণ।"
এই যে অসিদ্ধি বা অসফলতার কথা বলা হ'লো তার উৎস হচ্ছে উত্তেজিত মস্তিষ্ক ও বৃথা আড়ম্বর যুক্ত চিন্তা। এই উত্তেজিত মস্তিষ্ক ও বৃথা আড়ম্বর যুক্ত চিন্তার অধিকারী কখন মানুষ হয়? যখন মানুষের জীবনে কোনও জীবন্ত আদর্শ থাকে না। এ খানে শিক্ষক ও ছাত্র উ ভয়ের ক্ষেত্রেই শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বললেন,
"শিক্ষকের নাই ইষ্টে টান
কে জাগাবে ছাত্র প্রাণ।"
"থাকলে ছাত্রের ইষ্টে টান
তবেই জাগে করার প্রাণ।"
তাই, শিক্ষক শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রী উভয়ের জীবনে জীবন্ত ইষ্টের প্রয়োজন, প্রয়োজন তাঁর চলনপূজার।
যাই হ'ক, যেখানে সন্তানসম ছাত্রছাত্রীদের হাতে একবার সম্মান ভুলুন্ঠিত হয়েছে সেখানে আর এই পেশায় ফিরে না যাওয়ায় ভালো। ইনাদের জন্য সম্মানজনক আর্থিক প্যাকেজের ব্যবস্থা করা হ'ক। বাকী জীবন দৃষ্টান্ত হ'য়ে থাকুক আগামীদিনের ছাত্রছাত্রী শিক্ষকশিক্ষিকাদের জন্য। ( লেখা ৬ই সেওপ্টেম্বর'২৪)

প্রবন্ধঃ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন ও সময়। (পর্ব ১)

বর্তমানে বাংলাদেশের পট পরিবর্তনে বাংলাদেশের জাতীত সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা' পরিবর্তনের দাবী উঠেছে।

জাতীয় সঙ্গীতের বিষয়টা একটু আলোচনা ক'রে দেখা যাক। বর্তমান বাংলাদেশ পূর্বে ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পরে ভারতের পশ্চিমে অবস্থিত পাকিস্তানের রাষ্ট্রের একটা অংশ ভারতের পূর্বে অবস্থিত পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে চিহ্নিত ছিল।

তখন পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীত ছিল ‘তারানা এ পাকিস্তান'।
১) বিশিষ্ট উর্দু কবি জগন্নাথ আজাদ পাকিস্তানের প্রথম জাতীয় সঙ্গীত ‘তারানা এ পাকিস্তান' লিখেছিলেন। আসুন গানটি একটু দেখে নিই।
"অ্যায় সারজামিনে পাক

জারে তেরে হেন আজ সিতারোঁ সে তাবনাক
রোশন হ্যায় কেহকাশান সে কাহিন আজ তেরি খাক
অ্যায় সরজামিনে পাক।"
( হে পাকিস্তানের ভূমি, নক্ষত্ররা নিজেরাই আলোকিত করে তোমার প্রতিটি কণা, রংধনু তোমার ধূলিকে উজ্জ্বল করে )।

২) ১৪ অগস্ট ১৯৪৭ সালে ভারত ভেঙে পাকিস্তান তৈরি হল৷ লর্ড মাউন্ট ব্যাটন ও লেডি ব্যাটন ও পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মহম্মদ আলি জিন্নার উপস্থিতিতে নবগঠিত রাষ্ট্রের প্রথম জাতীয় সঙ্গীত ‘তরানা এ পাকিস্তান’ গাওয়া হয়৷

৩) জগন্নাথ আজাদ ছিলেন হিন্দু ও ভারতীয় এক উর্দু কবি, লেখক এবং শিক্ষাবিদ। জগন্নাথ আজাদ 1918 সালে পাঞ্জাবের মিয়ানওয়ালিতে (বর্তমান পাকিস্তান) জন্মগ্রহণ করেন।

৪) পরে ১৯৫০ সালে খোদ জাতির পিতা মহম্মদ আলি জিন্নার ইচ্ছেকে শিকেয় তুলে পরিবর্তন করা হয় জাতীয় সঙ্গীতের৷

৫) 1952 সালে পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করা হ'লো।
পাকিস্তানি কবি হাফিজ জুলুন্ধ্রি দ্বারা লিখিত
"পাক সরজ়মীন শাদ বাদ
কিশ্‌‌ৱরে হসীন শাদ বাদ।" গাওয়া হ'তো।

৬) ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বর্তমান বাংলাদেশ পূর্বে পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে পাকিস্তানের অংশ থাকা অবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানে "পাক সরজ়মীন শাদ বাদ কিশ্‌‌ৱরে হসীন শাদ বাদ" এই গানটি গাওয়া হত।

৭) পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে জাতীয় সংগীত "পাক সার জামিন সাদ বাদ"-এর পাশাপাশি "পাকিস্তান জিন্দাবাদ, পাকিস্তান জিন্দাবাদ, পাকিস্তান জিন্দাবাদ" এই গানটিও গাওয়া হত। এই গানটির লেখক ছিলেন বাঙালি কবি গোলাম মোস্তফা। গানটি হ'ল,
"পাকিস্তান জিন্দাবাদ, পাকিস্তান জিন্দাবাদ, পাকিস্তান জিন্দাবাদ
পূর্ব বাংলার শ্যামলিমায়, পঞ্চনদীর তীরে অরুণিমায়
ধূসর সিন্ধুর মরু সাহারায়, ঝাণ্ডা জাগে যে আজাদ।"

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হ'লে নিজস্ব জাতীয় সঙ্গীতের প্রয়োজন হ'য়ে পড়ে। তখন বাঙালী ভারতীয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে নির্বাচিত হয়।

১৯৭১ সাল থেকে আজও নিম্নলিখিত এই গানটি গাওয়া হয়।

"আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি॥
ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে,
মরি হায়, হায় রে—
ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি॥"

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে স্বাধীন বাংদেশের সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে এই গান প্রথম জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গাওয়া হয়। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে এ গানটির প্রথম দশ চরণ সদ্যগঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে নির্বাচিত হয়।[

এখন আবার বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের দাবী উঠছে। এখন এই পরিবর্তন কেন? কি দরকার পড়লো হঠাৎ এই পরিবর্তনের? এই পরিবর্তনের ব্যাপারটা আজকে নোতুন নয়। এই পরিবর্তন আগেও হয়েছে।
বিঃ দ্রঃ
বিশিষ্ট উর্দু কবি জগন্নাথ আজাদ হিন্দু ও ভারতীয় ছিলেন তাই তাঁর লেখা গান পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীত থেকে বাদ পড়ে। কিন্তু তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন পাকিস্তানে।

বাঙালি কবি গোলাম মোস্তফার লেখা "পাকিস্তান জিন্দাবাদ, পাকিস্তান জিন্দাবাদ, পাকিস্তান জিন্দাবাদ" গানটি বাংলাদেশে বাদ পড়ে কারণ গানটি প্রথমত পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীতের বিকল্প হিসেবে গানটি বাংলাদেশে গাওয়া হ'তো এবং গানটিতে 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' ছিল তাই।

আর, "আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি" গানটির রচয়িতা কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথমত বাঙালী হ'লেও হিন্দু বাঙালী, দ্বিতীয়ত ভারতীয়। তাই বাংলাদেশের পট পরিবর্তনে বর্তমান শাসক দলের মনে হ'তে পারে আমার দেশের কবি, আমার দেশের নাগরিক, আমার ধর্মের লোক দিয়ে আমরা আমাদের দেশ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রচনা করাবো। ইতিমধ্যে এই ধরণের দাবীও উঠেছে।

এই সংকীর্ণ মনোভাব যদি দেশের শীর্ষস্তরের নেতৃবৃন্দের ইডিওলজি হয় আর তা' বাস্তবায়িত হয় বাংলাদেশে তাহ'লে "স্বদেশে পুজাতে রাজা বিদ্ধান সর্বত্র পূজ্যতে" চাণক্যের এই শ্লোক আজ মিথ্যা ব'লে প্রমাণ হ'য়ে আরও একবার ইতিহাস সৃষ্টি হবে। হবে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালীদের থুড়ি মুসলমানদের হাত ধ'রে। কারণ বাংলাদেশ এখন বাঙালীদের না।

চাণক্যের "স্বদেশে পুজাতে রাজা বিদ্ধান সর্বত্র পূজ্যতে" এই শ্লোকটির অর্থ হলোঃ 'রাজা কেবলমাত্র নিজ রাজ্যেই সম্মান পান, বিদ্ধান সর্বত্র সম্মান পান। কিন্তু বর্তমান সভ্যতা এই শ্লোকের অন্তর্নিহিত অর্থকে এখন আর মূল্য দেয় না। এখন রাজাও বিদেশ তো দূরের কথা নিজের দেশেই সম্মান পান না এবং বিদ্ধানের স্থান এখন সর্বত্র এই কথা ভুল। মাথা উঁচু ক'রে চলা বিদ্ধানের স্থান এখন দেশে বিদেশে ক্ষমতাশালীদের পায়ে আর পায়েদের স্থান এখন মাথায়।
যাই হ'ক, পরিবর্তন হ'তেই পারে। তবে পরিবর্তন যেন বর্তমানকে ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে 'আমার সোনার বাংলা' গানের মধ্যে যে বাংলার মাটি, জল, বায়ু, ফল, ঘর, হাট, বন, মাঠ এবং বাঙ্গালীর পণ, আশা, কাজ, ভাষা, প্রাণ, মন, ভাইবোন ইত্যাদির গন্ধ পাওয়া যায় সেই গন্ধকে যেন ছাড়িয়ে যায় নোতুন গানের কস্তূরী সুবাস। আমরা অপেক্ষায় রইলাম সেই সুবাসের জন্য।

তাই, যা হওয়ার তা' সময় নির্দ্ধারণ ক'রে দেয়। সময় সবসে বড়া বলবান।
প্রকাশ বিশ্বাস
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া।
ক্রমশঃ। পরবর্তী পর্ব ২-এ।
May be an image of textAll