Powered By Blogger

Sunday, November 5, 2023

Vivekananda.

Purity, patience, and perseverance are the three essentials to success, and above all, love.-----Vivekananda.

I OBEY, IT’S TRUE. I'M AGREEING WITH THE FACT. BUT FRIENDS I'M SHARING A LITTLE BIT INQUISITIVENESS! TO ACHIEVE SUCCESS THREE ESSENTIALS ARE REQUIRED NAMELY PURITY, PATIENCE AND PERSEVERANCE AND ABOVE ALL LOVE. BUT LOVE TO WHOM? HOW TO LOVE? HOW PURITY AND PATIENCE WILL EVOLVE & DEVELOP WITHIN THE HEART? HOW SOMEONE WILL BE INTERESTED TO PERSEVERE? IT IS BEYOND EXPECTATION TO ACHIEVE THE SUCCESS BY CONCENTRATING WITHIN HIMSELF THROUGH PURITY, PATIENCE AND PERSEVERANCE IN THIS CRUCIAL PERIOD. A DREADFUL RESTLESSNESS IS EXISTING THROUGHOUT THE SOCIETY. SO, HOW I WIN THE RACE?

SO FAR I UNDERSTAND, I THINK, I KNOW THAT NO ONE CAN CONCENTRATE TO ACHIEVE THE SUCCESS THROUGH THREE ESSENTIALS AND ABOVE ALL LOVE PROVIDED HE TAKES INITIATION TO THE FULL FILLER THE BEST FROM WHERE THREE ESSENTIALS EVOLVE AND OCEAN OF LOVE IS ENGROSSED WITHIN THE HEART OF THE LIVING SUPREME BEING WHO CAN ONLY GUIDE US TO ATTAIN PERFECTION. SUCCESS MEANS NOT TO BE AN ACHIEVER OF EARTHLY WEALTH, NOT TO BE A POSSESSOR OF NAME, FAME AND RICHES, NOT TO BE A RENOWNED PERSON OF
THE SOCIETY. SUCCESS MEANS LIVE AND HELP OTHERS TO LIVE, GROW AND HELP OTHERS TO GROW. SO IF WE WANT TO ACHIEVE SUCCESS, WANT TO LIVE AND GROW WITH ENVIRONMENT, WANT TO MAKE A HEAVENLY ENVIRONMENT THEN FIRST & FOREMOST I HAVE TO BE INITIATED AND SURRENDERED TO THE CRIMSON FEET OF THE LIVING SUPREME BEING, THE DIVINE MAN OF THE PRESENT. BY KNOWING THE TRUTH THAT HE COMES AGAIN & AGAIN AND ALL THE PAST PROPHETS ARE CONSUMMATED IN THE DIVINE MAN OF THE PRESENT.
THE PAST PROPHETS ARE LORD RAM, KRISHNA,
BUDDHA, JESUS, MOHAMMAD, MOHAPROVU AND
RAMAKRISHNA. AND THE DIVINE MAN OF THE PRESENT
IS THE GREATEST PHENOMENON OF THE WORLD
LIVING SUPREME BEING SRI SRI THAKUR ANUKUL
CHANDRA._______PRAKASH.
(লেখা ৫ই নভেম্বর'২০১৪)

উপলব্ধিঃ ইঙ্গিত দান আর নির্ভুল কাজ!

কারও কোনও কথা, লেখা, মন্তব্য বা বক্তব্য নিয়ে বৃহত্তর স্বার্থে খোলাখুলি আলোচনা করলেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তাই বাধ্য হ'য়ে এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ ব'লে তখন মনে হয়।
কিন্তু মন বলে, পারস্পরিক মত বিনিময় বোধের ঘরকে উন্নত ও বিসতৃত করে। যে যার মত ক'রে বোধের ঘরের পরিমাপ অনুযায়ী মন্তব্য করে বা কাজ করে। অহং, বোধের ঘরকে খোলা নীল আকাশের মত বিসতৃত করতে বাধা দান করে। চোরের মত লুকিয়ে থাকা অহং-এর কারণে আমরা অনেক সময় গঠনমূলক আলোচনা, পরামর্শ সহ্য করতে পারি না। আবার কখনো কখনো এইমুহূর্তে সমর্থন তো পরমুহূর্তে ঘুরিয়ে বিরোধিতা ক'রে ফেলি; আর করি সচেতন ভাবেই। অথচ আবার ঠাকুর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা পথে পা রাখি। কিন্তু মনে রাখতে হবে আমাদের ঠাকুর প্রতিষ্ঠা তখনই সম্ভব যখন আমার ভিতরে ঠাকুরের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার জন্ম হবে। ঠাকুরের প্রতি ভালোবাসার লক্ষ্মণ আমার নিজের কোনও ইচ্ছা নেই, ঠাকুরের ইচ্ছাই আমার ইচ্ছা। আর তাই তাঁর ইচ্ছাটা বা ইচ্ছাগুলি আমাকে জানতে হবে; সেটা সম্ভব হবে যখন আমি নিজেকে তাঁর প্রতি সারেন্ডার করবো আর আচার্যমুখী হবো। আর প্রকৃত ভালোবাসা হ'লে ঠাকুর স্বয়ং তাঁর কাজ কিভাবে করবো তার নির্দেশ বা ইঙ্গিত দেবেন আমাকে। তখন আর ঠাকুরের কাজে আমার কোনও ভুল হবে না। (লেখা ৫ই নভেম্বর'২০১৭)

বড় গল্পঃ ধর্মঘট ৩

বেশ কয়েকদিন কেটে গেছে। অবিনাশবাবুও ব্যস্ত ছিলেন একটু লেখালেখির কাজে। ইদানিং একটা নোতুন নেশায় মেতে উঠেছেন অবিনাশবাবু। জনপ্রিয় গানের সুরে নিজের কথা বসিয়ে একটু পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছেন। নিজের ছেলেমেয়েকে দিয়ে গাওয়াচ্ছেন গানগুলি বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। তাই অন্য কোনওদিকে মন ছিল না। সম্পূর্ণ ভুলে গেছিলেন ঋতমের কথা। তখন অবিনাশবাবুর মনপ্রাণ জুড়ে রয়েছে শুধু গান, গান আর গান।

প্রতিদিনের মতো সেদিনও রাতে লেখালেখির কাজে ব্যস্ত ছিলেন অবিনাশবাবু। এমনিতেই রাত ক'রে ঘুমান তিনি। বৌ, ছেলেমেয়ে অনেকবার বলেছে রাত না জাগতে। আজও তাঁকে সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিল বউ। ছেলেমেয়ে একসঙ্গে ব'লে উঠলো, বাবা! বয়স হয়েছে, এখন একটু বয়সের সঙ্গে মানানসই ক'রে চলা উচিত। অবিনাশবাবু হাসতে হাসতে বৌ, ছেলেমেয়েকে বললেন, এই শরীর দয়ালের শরীর। দয়াল হলেন আমার বিষ্ণু। আর বিষ্ণুদূতেরা ঘিরে রেখেছে এই শরীর। যতদিন না আমার দয়ালের কাজ শেষ হচ্ছে ততদিন এই শরীর নিরাপদ। যমদূতেরা এ শরীর ছুঁতে পারবে না। আর তারপরেই মেয়েকে ডেকে বললেন, শোন একটা নোতুন গান লিখেছি তুই গাইবি। যদিও এখনো লেখা ফাইনাল হয়নি; তবুও শোন। ছেলেমেয়ে, বৌমা এসে বসলো পাশে। রবীন্দ্রনাথের জনপ্রিয় গানের সুরে তিনি গান লিখেছেন। অবিনাশবাবু গাইছেন,

প্রাণে প্রাণে ভরে আছে প্রাণ সখা প্রেমময়
(তাঁর) প্রেমের দোলায় চড়ে এই জীবন বয়
প্রাণপাখি প্রাণে প্রাণে রাধা রাধা রাধা গায়
কে জানে প্রাণপাখি রাধাস্বামী কেন গায়?
প্রাণে প্রাণে ভরে আছে প্রাণ সখা প্রেমময়
(তাঁর) প্রেমের দোলায় চড়ে এই জীবন বয়
প্রাণপাখি প্রাণে প্রাণে রাধা রাধা রাধা গায়
সে জানে প্রাণপাখি রাধাস্বামী কেন গায়!

মেয়ে কয়েকবার রবীন্দ্রনাথের গানটা মোবাইলে শুনে তুলে ফেললো। তারপর সেখানে অবিনাশবাবুর লেখা কথাগুলি বসিয়ে কয়েকবার প্র্যাকটিস ক'রে ফাইনালি বাবাকে শুনিয়ে দিয়ে বললো, ঠিক আছে? অবিনাশবাবু খুশীতে একেবারে ডগমগ হ'য়ে উঠে বললো, আয়, শেষ একবার সবাই মিলে গায়। এই ব'লে তিনি ছেলেমেয়ে, বৌমা, বৌ সবার হাতে একটা ক'রে কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বললো, এবার সবাই একসঙ্গে গাও। সবাই মিলে একসঙ্গে দু'বার গানটা গাইলো। তারপর অবিনাশবাবু বললেন, যাও এবার সবার ছুট্টি। আর সেই মুহুর্তেই অবিনাশবাবুর ফোনটা বেজে উঠলো। টেবিল থেকে ফোনটা নিয়ে দেখলো ফোনে নাম লেখা রয়েছে ঋতম। একটুখানি ভাবলো অবিনাশবাবু। তারপর ঘড়ির দিকে চেয়ে দেখলো রাত সাড়ে এগারোটা। ফোনটা তখনো বেজে চলেছে। তারপর ফোনটা কানে নিয়ে বললো, হ্যালো। ও প্রান্ত থেকে আওয়াজ ভেসে এলো, অবিনাশদা আমি ঋতম বলছি। এত রাতে ফোন করার জন্য দুঃখিত; কিছু মনে করবেন না। আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আপনি কেমন আছেন?
(লেখা ৫ই নভেম্বর'২০২২)

Saturday, November 4, 2023

বড় গল্পঃ ধর্মঘট ২

দুপুরবেলা খেয়ে এসে নিজের ঘরে একটু শুয়েছিল অবিনাশবাবু। স্ত্রী এখনও রান্নাঘরে ব্যস্ত। সম্ভবত রাতের খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অবিনাশবাবু জানেন যে একটু পরিশ্রম হ'লেও কাজটা এগিয়ে রাখছে স্ত্রী যাতে রাতে একটু হালকা থাকে। কেই বা দু'বেলা আর রান্না ঘরে যেতে চায়। পাশের ঘরে ছেলে আর বৌমা অফিসের কাজে ব্যস্ত। ওয়ার্ক ফ্রম হোম। করোনার সময় থেকে এখনও পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বহাল আছে। যদিও অফিসের থেকে ঘরে কাজের সময় অনেক বেশী এবং ব্যস্তও থাকতে হয় সারাক্ষণ দু'জনকেই। ঘরে থাকে তবুও গল্প করার সময় পায় না। তবুও চোখের সামনে দু'জনেই থাকার জন্য অবিনাশবাবু মনে মনে খুব তৃপ্তি অনুভব করেন। তবুও তো ঘরে থাকে। ঘরটা সবসময় ভর্তি ভর্তি মনে হয়। এতেই শান্তি, এতেই আনন্দ।
বিছানায় শুয়ে থাকতে থাকতে সকালের কথা ভাবতে ভাবতে ভাতঘুমে ডুবে গেছিলেন অবিনাশবাবু। আর তখনি চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল ঋতমের সঙ্গে প্রথম দেখা দৃশ্যটা।

একটা গভীর চিন্তায় আচ্ছন্ন অবিনাশবাবু রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় সামান্য ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তার ফলে ধাক্কা গিয়ে লাগে এক যুবকের সঙ্গে। এরকম হঠাৎ ধাক্কায় হতচকিত হ'য়ে যায় যুবকটি। বিরক্ত বোধ করে। অবিনাশবাবু হঠাৎ ঘটে যাওয়া এমন একটা শারীরিক পরিস্থিতির কারণে লজ্জা পেয়ে যান। যুবকটির কাছে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে নেন অবিনাশবাবু। কিন্তু যুবকটি এরকম একটা আচমকা ধাক্কা খাবার জন্য একেবারে প্রস্তুত না থাকায় খুব একটা রাগ প্রকাশ না করলেও বিরক্তি চেপে রাখতে না পেরে একটু গম্ভীর গলায় বললো, শরীর খারাপ নিয়ে রাস্তায় বেরোন কেন? এই যদি কোনও একটা গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগতো, তখন? বাড়ির লোকও যে কেন শরীর খারাপ অবস্থায় রাস্তায় একলা ছাড়ে!? বলেই বাড়ির লোকের উদ্দেশ্যে বিড়বিড় ক'রে কি যেন বললো। তারপর অবিনাশবাবুকে মোটা গলায় বললো, কি শরীর ঠিক আছে? শরীর ভালো লাগছে? একা যেতে পারবেন তো বাড়ি? নাকি------
অবিনাশবাবু একটু ধাতস্থ হ'য়ে নিয়ে বললো, না, কিচ্ছু করতে হবে না। আমি বাড়ি যেতে পারবো। আপনি কিছু মনে করবেন না। আপনি নিশ্চিন্তে আপনার কাজে যেতে পারেন। আমি এখন ঠিক আছি।
যুবকটি অবিনাশবাবুকে বিদায় জানিয়ে যেই ঘুরে রাস্তা পার হ'তে যাবে ঠিক তখনি ঘটলো ঘটনাটা। একটা উল্কাগতিতে ছুটে আসা বাইক পিছন থেকে এসে রাস্তা পার হ'তে যাওয়া যুবকটিকে প্রায় ধাক্কা মারার মুহুর্তে অবিনাশবাবুর বলিষ্ঠ হাতের পাঞ্জা যুবকটির কব্জিতে চেপে ব'সে তাকে এক হ্যাঁচকায় টেনে এনে নিজের বুকের ওপর এনে ফেললো। একসঙ্গে অনেক মানুষ হৈ হৈ ক'রে উঠলো। কেউ কেউ বাইক আরোহীর উদ্দেশ্যে কাঁচা গালাগালি দিয়ে উঠলো। লোকজন জড়ো হওয়ার আগেই দমকা হাওয়ার বেগে বাইক ততোক্ষণে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এদিকে অবিনাশবাবু এবং যুবকটি দু'জনেই তখন নীরব। পরপর দু'টো ঘটনা দু'জন মানুষকেই হতবাক ক'রে দিয়েছে। কথা বলার অবস্থার মধ্যে নেই কেউ। অবিনাশবাবু বয়সে অনেক বড়, যুবকটির পিতার সমান। তিনি বুঝতে পারলেন এই মুহূর্তে স্থান ত্যাগ না করলে ক্রমশ ভিড় বাড়বে আর অনেককে অনেকের কৌতুহলের জবাব দিতে হবে। তাই তিনি সামনে একটা রিক্সা ডেকে নিয়ে তাতে উঠে পড়লেন আর যুবকটিকে ইশারা করলেন উঠে পড়তে। যুবকটি ঘটনার আকস্মিকতায় এবং অবিনাশবাবুর প্রতি কৃতজ্ঞতায় প্রভাবিত হ'য়ে বাকরূদ্ধ হ'য়েছিল। তাই কোনও কথা না ব'লে সে রিক্সায় মন্ত্রমুগ্ধের মতো উঠে পড়লো। তারপর রিক্সা চলতে লাগলে যুবকটি তার হাতের কব্জিতে হাত বুলাতে বুলাতে ভাবতে লাগলো অজানা অচেনা লোকটির বজ্রমুষ্ঠির কথা। হাতে এতো জোর!? এই প্রশ্নটা ঘুরে ফিরে তার মাথার মধ্যে খেলতে লাগলো আর কব্জিতে হাত বুলাতে লাগলো। তাই দেখে অবিনাশবাবু জিজ্ঞেস করলেন, হাতে লাগেনি তো? যুবকটি বললো, না। এমনিতে যুবকটিও ব্যায়াম করা পেটানো চেহারার অধিকারী। তাই লাগেনি। কিন্তু কোনও বয়স্ক মানুষের কব্জিতে এতো জোর থাকতে পারে সেটা সম্ভবত তার অজানা ছিল। তাই সে বারবার তার কব্জির ওপর পড়া জোরটার ওজন সে অনুভব করছিল।
একটু দূরে রাস্তাটা বাঁক নেওয়ার মুখেই রিক্সা থামাতে ব'লে নেবে এলেন অবিনাশবাবু, সঙ্গে যুবকটিকে নাবতে ব'লে রিক্সাওয়ালার হাতে দশটা টাকা ধরিয়ে দিলেন। যুবকটি বুঝে উঠতে পারলো না এটুকু রাস্তা রিক্সা ক'রে আসার কি অর্থ থাকতে পারে! এবং তা সে সরাসরি জিজ্ঞেস ক'রেও ফেললো অবিনাশবাবুকে। অবিনাশবাবু মৃদু হেসে বললেন, কৌতূহলী মানুষের অহেতুক কৌতুহল ও কথার স্রোতের হাত থেকে বাঁচতে তাড়াতাড়ি সরে পড়া।

এ কথা শুনে যুবকটি অবাক হ'য়ে গেল অচেনা মানুষটির অদ্ভুত বাস্তব মানসিক তৎপরতা দেখে! এবার যুবকটি অবিনাশবাবুকে তার খারাপ ব্যবহারের জন্য ও আজ নিশ্চিত দূর্ঘটনার হাত থেকে তাকে বাঁচাবার জন্য যুগপৎ ক্ষমা প্রার্থনা করলো ও ধন্যবাদ জানালো। তারপর অবিনাশবাবুর হাতে হাত মিলিয়ে শক্ত হাতে হাত ধ'রে এই বয়সেও হাতের জোরের প্রশংসা করলো। তারপর তারা হাঁটতে হাঁটতে চায়ের দোকানে গেল এবং সেখানে বসে একসঙ্গে চা পান করলো। গল্প করলো দু'জনে অনেকক্ষণ। দু'জনেই ভুলে গেল দু'জনের কাজের কথা। পথচলতি দু'জনের মধ্যে গড়ে উঠলো অন্তরঙ্গতা। দু'জনে জানতে পারলো দু'জনের নাম। একসময় কথা অসমাপ্ত রেখে উঠে পড়লো অবিনাশবাবু। সেদিনও অবিনাশবাবু টের পেয়েছিলেন ছেলেটির সঙ্গে কথা ব'লে আনন্দ আছে। অল্প সময়ের মধ্যে বুঝতে পেরেছিলেন ছেলেটির জানার ইচ্ছা প্রবল। তারপর দু'জনে দু'জনকে বিদায় জানিয়ে নিজের নিজের গন্তব্যে চলে গিয়েছিল। কিন্তু খেয়াল ছিল না পরবর্তী যোগাযোগের সেতু রচনার। আজ অনেকদিনপর সেই কাজ সম্পন্ন হ'লো।

কথাটা মনে হ'তেই ঘুমটা ভেঙে গেল অবিনাশবাবুর। দেওয়ালের ঘড়ির দিকে চোখ পড়তেই দেখতে পেল সময় হয়েছে সান্ধ্য প্রার্থনার। ক'দিন ধ'রে বুকে ঠান্ডা লেগে কফ জমেছে অবিনাশবাবুর। উঠে চোখেমুখে একটু জল দিয়ে নিল। ঠাকুরঘর থেকে স্ত্রীর শঙ্খের আওয়াজ ভেসে এলো। ধীরে ধীরে ঠাকুরঘরে গিয়ে ঢুকলেন তিনি তারপর বসে রইলেন চোখ বন্ধ ক'রে স্থির হ'য়ে। প্রার্থনা চলতে লাগলো। "বার বার করু বিনতি রাধাস্বামী আগে, দয়া করো দাতা মেরে চিত চরণন লাগে-----------"।
(;লেখা ৪ই নভেম্বর'২০২২)

বড় গল্পঃ ধর্মঘট ১

আরে অবিনাশদা! আপনি এখানে? এখানে বসে আছেন?
কাগজ থেকে মুখটা তুলে প্রশ্নকর্তার দিকে তাকালো অবিনাশবাবু। দেখতে পেলো দশবারোজন ইয়ং ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে লাঠি আর লাঠির মাথায় বাঁধা এক্টুকরো ছোটো ছোটো কাপড়; যেটাকে ওরা বলে ফ্ল্যাগ। দলের নিশান।

ওই ভিড়ের মাঝে একজনের দিকে চোখ আটকে গেল অবিনাশবাবুর। লম্বা। ব্যায়াম করা পেটানো চেহারা। মুখে চাপ দাড়ি আর মাথায় লম্বা চুল যা ঘাড় পর্যন্ত নেবে এসেছে। আর টিপটপ পোশাক। এক্কেবারে হ্যান্ডসাম চেহারা। অবিনাশবাবু দেখলো ছেলেটি তাঁর দিকে হাসি মুখে তাকিয়ে আছে। তারপরেই শুনতে পেলেন ছেলেটি বলছে, অবিনাশদা আমায় চিনতে পারছেন না?

একটু অপ্রস্তুত হ'য়ে অবিনাশবাবু ব'লে উঠলেন, না, মানে----। কথা শেষ করার আগেই ছেলেটি টুক ক'রে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম ক'রে বললো, আমি ঋতম। সেই যে জি টি রোডের সামনে সখেরবাজারের আগে চার রাস্তার মোড়ে............ কথা শেষ করতে দিলেন না অবিনাশবাবু আর। তার আগেই তাকে বুকে টেনে নিয়ে বললেন, থাক থাক বাবা, আর বলতে হবে না। আমার মনে পড়েছে। তুমি ঋতম না!? তোমায় কি ভোলা যায়!? তুমি কি ভোলার মতো মানুষ!? ব'লে একেবারে বুকে ঝাপটে জড়িয়ে ধ'রে রইলেন। তারপর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আশীর্বাদ ক'রে বললেন, তা এখানে?

ঋতম ব'লে উঠলো, আজ আমাদের শ্রমিক সংগঠনের একটা মিটিং আছে। তাই এসেছি সকাল সকাল সব কাজ গুছিয়ে রাখতে।
ক'টায় মিটিং? জিজ্ঞেস করলেন অবিনাশবাবু।

দুপুর ২টো।
ও ব'লে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন অবিনাশবাবু।
ঋতম ব'লে উঠলো, তা আপনি এখানে রোজ আসেন নাকি?
না, তেমন একটা আসা হয় না। মাঝে মাঝে আসি। বাচ্চাদের পার্ক; তাদের হৈ হুল্লোড় দেখতে বড় ভালো লাগে। তাই সময় পেলে আসি। তা তোমরা বাচ্চাদের পার্কে মিটিং করছো কেন? বাচ্চারা এখানে খেলতে আসে, মায়েরা সারাদিনের খাটাখাটনির পর একটু বাচ্চাদের নিয়ে একটু রিলাক্স ক'রে যায়। আর বয়স্করা আসে অক্সিজেন নিতে। এটাকেও তোমারা দূষিত ক'রে দিচ্ছ?

কথাগুলি বলেই অবিনাশবাবু বুঝতে পারলেন আলটপকা একটা অপ্রিয় সত্য কথা ব'লে ফেলেছেন। এতদিনপর ছেলেটার সঙ্গে দেখা হ'লো কোথায় তার সঙ্গে একটু হাসি মজাক করবে, কুশল টুশল জিজ্ঞেস করবে তা না একটা বিতর্কের আবহাওয়া তৈরী ক'রে দিলেন মুহূর্তে। এই স্বভাবটা আর পাল্টাতে পারলেন না অবিনাশবাবু। ছেলেটির দিকে চেয়ে দেখলেন ছেলেটি মাথা নীচু ক'রে দাঁড়িয়ে আছে। তার দিকে হাত বাড়িয়ে লজ্জায় অবিনাশবাবু আমতা আমতা ক'রে বললেন, কিছু মনে ক'রো না ঋতম। কথাগুলি বেরিয়ে গেল। বাধ মানলো না। তুমি আমাকে------

কথা শেষ করার আগেই গুমোট পরিস্থিতিকে এক ঝটকায় স্বাভাবিক ক'রে দিয়ে ঋতম সাথীদের দিকে তাকিয়ে ব'লে উঠলো, এই শোন তোরা, ইনি অবিনাশদা। যদিও ইনি আমার রাজনৈতিক গুরু নন তবুও আমার জীবনের অনেকটা জায়গা জুড়ে তিনি। সবাই প্রণাম কর।
অবিনাশবাবু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলেন ছেলেটার কথাবার্তা ও শরীরী ভাষার মধ্যে একটা সহজ স্বাভাবিক কমান্ডিং ফ্যাক্টর আছে। সবাই নির্দ্বিধায় তার কথা মেনে নিয়ে তাঁকে প্রণাম করতে এগিয়ে আসতেই অবিনাশবাবু হাসি মুখে সবাইকে দু'হাত দিয়ে বাঁধা দেওয়ার ভঙ্গিতে ব'লে উঠলেন, আরে না না প্রণাম করতে হবে না। আমি আশীর্বাদ করি তোমরা সবাই ভালো থাকো, আনন্দে থাকো।

ঋতম অবিনাশবাবুকে থামিয়ে দিয়ে ব'লে উঠলো, আরে অবিনাশদা, এমনিতেই তো আজকাল ছেলেছোকরাদের মনে ভক্তি শ্রদ্ধার লেশ মাত্র নেই। তার ওপর আপনারা যদি এই অভ্যাসটা বজায় থাকার জন্য প্রণাম করতে না দেন তাহ'লে তো আর কোনোদিন কেউ প্রণামই করবে না।
অবিনাশবাবু হেসে বললেন, না, ঋতম। ব্যাপারটা তা নয়। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলে আয়ু ক্ষয় হয়।

মানে!? একটু চমকে গিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচু গলায় ব'লে উঠলো ঋতম। তারপর অবাক অথচ সামান্য ঝাঁঝালো স্বরে ব'লে উঠলো, আপনি কি সব প্রচলিত প্রথার বিরোধী!?

অবিনাশবাবু নিজেকে সামলে নিলেন। এখন এ প্রশ্নের উত্তর দিলে ব্যাপারটা অন্যদিকে ঘুরে যাবে। তার উপর স্থান, কাল, পাত্র ব'লে একটা কথা আছে। যদিও স্থান আর পাত্র মোটামুটি ফেভারে থাকলেও সময়টা একেবারে আলোচনার অনুপযুক্ত। তাই আর কথা না বাড়িয়ে তিনি ঋতমকে উদ্দেশ্য ক'রে বললেন, তোমরা এখন যে কাজে এসেছো সে কাজে মনোনিবেশ করো নতুবা সময় পেরিয়ে যাবে। দুপুরে তোমাদের মিটিং; বরং পরে একদিন না হয় আলোচনা করা যাবে এই বিষয়ে। এখন আমি চলি। তোমরা তোমাদের কাজে মন দাও।
এইকথা ব'লে অবিনাশবাবু যাবার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। তারপর ঋতমের দিকে তাকিয়ে হাসলেন পরে সবাইকে বিদায় জানিয়ে হাঁটা দিলেন বাড়ির উদ্দেশ্যে।
অবিনাশদার চলার পথের দিকে নির্নিমেষ একদৃষ্টিতে চেয়ে রইলো ঋতম। তারপর হঠাৎ ধরা গলায় ডেকে উঠলেন, অবিনাশদা।
ঋতমের ডাক শুনে অবিনাশদা দাঁড়ালেন এবং পিছন ফিরে দেখলেন।
ঋতম কিছু না ব'লে ধীর পায়ে এগিয়ে এসে আবার প্রণাম করতে গিয়েও থমকে গিয়ে পিছিয়ে এলো। তারপর বললো, আপনি কিছু মনে করবেন না। আমার ওইভাবে কথা বলা উচিত হয়নি। আপনি আমাকে ক্ষমা ক'রে দেবেন।
অবিনাশবাবু তাকে ছেলের মতো বুকে জড়িয়ে নিয়ে বললেন, না,না, আমি কিচ্ছু মনে করিনি। তবে প্রণাম করলে না যে?
ঋতম শান্ত গলায় সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল। সেদিনও প্রথম যেদিন দেখা হয়েছিল সেদিনও কথা অসম্পূর্ণ ছিল, আজও কথা শেষ না ক'রে আপনি চলে যাচ্ছেন। আজও কথা অসম্পূর্ণ র'য়ে গেল।

অবিনাশবাবু ঋতমের মধ্যে একটা জানার ক্ষিধে লক্ষ্য করলো। ভালো লাগলো তাঁর। আজকের প্রজন্মের মধ্যে কারও জানার ক্ষিধে নেই। ধর তক্তা মার পেরেক স্বভাব। তার উপর রাজনীতির ময়দান শয়তানের আখড়া। মাঝে মাঝে একটা দু'টো ভগবান হয়তো পথ ভুল ক'রে আখড়ায় ঢুকে পড়ে। ঋতমদের মতো ছেলেদের জন্য রাজনীতি নয়। এরা হয় শেষ দেখে ছাড়ে নতুবা স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যায় রাজনীতির দমবন্ধ করা আখড়া থেকে।

অবিনাশবাবু ঋতমের কথার উত্তরে বললেন, এমনিভাবেই আবার কোনও একদিন কোথাও দেখা হ'য়ে যাবে।
সঙ্গে সঙ্গে ঋতম ব'লে উঠলো, আবার একটা নোতুন বিষয় উত্থাপন হবে, আবার অসম্পূর্ণতা।

হেসে দিলেন ঋতমের এইকথায় অবিনাশবাবু। বললেন, তাহ'লে উপায়টা তুমিই বলো।
ঋতম বললো, আপনি কোথায় থাকেন?
এই-ই সামনে। সামনে এগিয়ে যে বড় খেলার মাঠটা আছে সেখানে রাস্তার পাশে একটা জলের ট্যাঙ্ক আছে। তার পাশ দিয়ে এগিয়ে গেলেই একটা ছোট্ট বাচ্চাদের পার্ক আছে। সেই পার্কের শেষ মাথায় যে বাড়ীটা সেটা আমার বাড়ি।
যদি আপত্তি না থাকে আপনার ফোন নাম্বারটা দেবেন? তাহ'লে যখন আসবো ফোন ক'রে আসবো।
অবিনাশবাবু ফোন নাম্বারটা ঋতমকে বলল। ঋতম তা ফোনে তুলে নিয়ে একটা মিস কল দিলে অবিনাশবাবু ফোন বের ক'রে ঋতমের নাম্বারটা সেভ ক'রে নিলেন। তারপর বিদায় জানিয়ে এগিয়ে গেলেন পার্কের গেটের দিকে। সেদিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ঋতম। মনে মনে ভাবলো, কেন লোকটার ওপর এমন একটা টান অনুভব করে? কিসের সম্পর্ক?
তারপরে ফিরে যায় নিজের দলের ছেলেদের কাছে কাজে হাত দেবে ব'লে।
(লেখা ৪ই নভেম্বর'২০২২)

ছোটো গল্পঃ ভালোবাসা স্বর্ণসিন্দুর!

একটা খট শব্দে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল তারাপদবাবুর। ইদানীং রাতে আর ডিপ ঘুম আসে না তাঁর। এমনিতেই এপাশওপাশ করতে করতেই কেটে যায় সারা রাত। বালিশে মাথা ছোঁয়াতে না ছোঁয়াতেই হাজারো চিন্তা ভিড় ক'রে আসে মনে। তিতিবিরক্ত তারাপদবাবু বিছানা থেকে উঠে ঠাকুরঘরে গিয়ে তাঁর দয়াল ঠাকুরের কাছে নালিশ জানিয়ে আসে চিন্তাদের বিরুদ্ধে। তারপর এসে ঘরের আলো নিভিয়ে নীল আলো জ্বালিয়ে চারপাশে স্বপ্নের পরিবেশে আবার শুয়ে পড়ে বিছানায়।
আজও বিছানায় শোওয়ার পর হাজার চিন্তা তাদের পাখনা মেলে উড়ে এসে বসে তারাপদবাবুর মাথার চারপাশে আর তারপর অক্টোপাশের মতো পেঁচিয়ে ধরে মাথার স্নায়ুগুলিকে। যন্ত্রনায় কাতর তারাপদবাবু পাশের পাশবালিশটাকে দু'হাতে জাপটে ধ'রে জড়িয়ে ধরে বুকের মধ্যে। তারপর তাঁর গুরুর কাছ থেকে পাওয়া বীজনাম জপে ডুবে যায়। পাশবালিশটাকে তীব্রভাবে দু'হাতে জড়িয়ে ধ'রে বুকে ধরার মধ্যে তাঁর গভীর ভালোবাসাময় এক বিশ্বাস কাজ করে। তাঁর মনে হয় দয়ালের চরণ বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধ'রে সে শুয়ে আছে। তাঁর পাপবিদ্ধ বুকে দয়ালের চরণ স্পর্শ সে টের পায়! কে যেন তাঁর বুকে পা রেখে দাঁড়িয়ে আছে, হাঁটছে! আর বুকের মধ্যে জমাট বাঁধা ভার হালকা হ'য়ে যাচ্ছে ক্রমশঃ! স্পষ্ট টের পায় তারাপদবাবু।এটা অন্যদের কাছে পাগলাটে ভাব ব'লে বোধ হয় কিন্তু তারাপদবাবুর নির্ঘুম চোখে কিছুক্ষণের মধ্যে নেবে আসে নেশাচ্ছন্ন এক ঘুমের রেশ আর এক অনাবিল প্রশান্তি। তারপর গভীর ঘুমে ডুবে যায় ক্লান্ত বিধ্বস্ত তারপদবাবু।
কিন্তু ভোরের দিকে খট শব্দে ঘুমটা ভেঙ্গে যায় তারাপদবাবুর। ঘুমচোখে চেয়ে দেখে বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে আছে স্ত্রী। গায়ে আলতো হাত বুলিয়ে স্ত্রী তাঁকে ডাকছে। বিস্ময়ে বিছানায় উঠে বসে তারাপদবাবু। চেয়ে থাকে স্ত্রীর দিকে। কি যেন ইশারায় স্ত্রী তাঁকে বোঝাতে চাইছে। কিছুই বুঝতে পারলো না তারাপদবাবু। স্ত্রী জানালা খুলে পাশের বাড়ির দিকে আঙ্গুল দিয়ে দেখতে বলায় তারাপদবাবু সেদিকে চেয়ে দেখলো, পাশের বাড়িতে ঘরে লাইট জ্বলছে, বাইরে দু'একজন দাঁড়িয়ে আছে আর ভেসে আসছে বুকভাঙ্গা কান্নার আওয়াজ। তারাপদবাবু হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে এসব দেখে বোকার মতো ফ্যাল ফ্যাল ক'রে চেয়ে রইলো স্ত্রীর মুখের দিকে। স্ত্রী ফিসফিস ক'রে বললো, মনে হচ্ছে তাপসবাবুর কিছু হয়েছে। কথাটা শুনে সম্বিত ফিরে পেয়ে পুনরায় তারাপদবাবু জানালা দিয়ে চেয়ে রইলো আর কান পেতে শোনার চেষ্টা করলো কিছু একটা। এবার তারাপদবাবু স্পষ্ট শুনতে পেলেন কান্নার শব্দ। একটা বুকফাটা তীব্র করুণ কান্নার শব্দ তারাপদবাবুকে এলোমেলো ক'রে দিলো। তিনি স্পষ্ট বুঝতে পারলেন কান্নার আওয়াজটা তাপসবাবুর স্ত্রীর। তবে কি তাপসবাবু আর নেই!?
এমনি ভাবতে ভাবতেই ভোরের আবছা আলো কেটে ঝলমলে সকাল হ'য়ে গেল কিন্তু পাশের তাপসবাবুর বাড়ি সেই ঝলমলে আলো থেকে হ'য়ে রইলো বঞ্চিত। আস্তে আস্তে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়স্বজন পাড়াপ্রতিবেশী বন্ধুবান্ধবদের ভিড় বাড়তে লাগলো। তারই মধ্যে একফাঁকে তারাপদবাবু গিয়ে ঘুরে এলেন ঐ বাড়ি থেকে, দেখে এলেন, শেষ দেখা দেখে এলেন প্রতিবেশী তাপসবাবুকে। প্রায় একই বয়সী দু'জনে। দু'জনেই ষাটোর্দ্ধ। তবে এত তাড়াতাড়ি চ'লে যাওয়াটা তারাপদবাবু মেনে নিতে পারেন না মন থেকে। এখন মানুষের আয়ু অনেক বেড়ে গেছে। এখন আশি নব্বই বছর বাঁচাটা কোনও ব্যাপার না। একটু খাওয়া দাওয়ায় কন্ট্রোল, পরিমিতি বোধ, শারীরিক মানসিক যত্ন সদাচার, একটু পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক আনন্দময় পরিবেশ হ'লেই মানুষ দীর্ঘ জীবন লাভ করতে পারে। তার সঙ্গে তো আছেই উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা। মনে পড়ে গেল এমন কথা অনেকবার বলেছেন তারাপদবাবু তাপসবাবুর বাড়িতে আড্ডায় বসেও।
এইমুহুর্তে তাপসবাবুর স্ত্রীর করুণ কান্না শুনে মনে পড়ে গেল অনেক কথা তারাপদবাবুর। এইতো সেদিনও তুমুল ঝগড়ার আওয়াজ ভেসে এসেছিল তাপসবাবুর বাড়ি থেকে। প্রায় সময়ই কারণে অকারণে তাপসবাবুর স্ত্রীর কর্কষ গলার আওয়াজ ভেসে আসতো ঘর থেকে। সেই সময় তাপসবাবুকে বড় বিমর্ষ ও লজ্জিত লাগতো দেখলে। আবার মাঝে মাঝে দু'জনকেই দেখতো হাসতে হাসতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ঘুরতে যেতে।
তাপসবাবুর বাড়ি থেকে বেরিয়ে ঘরে এসে বসলেন তারাপদবাবু। দেখে মনেই হচ্ছে মনে একটা জোর ধাক্কা খেয়েছেন তিনি। তারপর ফ্রেস হ'য়ে ঠাকুর প্রণাম ক'রে ঘরে এসে বিছানার উপরে বসলেন। এখনও অনেক দেরী আছে তাপসবাবুকে শ্মশানে নিয়ে যাবার। অনেক কাজ বাকী। বসে বসে ভাবছিলেন পুরোনো দিনের অনেক কথা তিনি। তাপসবাবুর সঙ্গে বাড়ির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে কথা, সামনের পার্কে একটু একসঙ্গে হাঁটা, বাচ্চাদের হৈ হুল্লোড় উপভোগ করা, গলির মধ্যে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের নির্লজ্জ প্রেম দেখা ও তা নিয়ে দু'এক কথা বলা ইত্যাদি ইত্যাদি নানা পুরোনো দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগলো। আর ঠিক এরই মাঝে সকালের জলখাবার নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ালো স্ত্রী। খাবার সামনের টেবিলের উপর রেখে একটা হোমিওপ্যাথির শিশি থেকে কয়েক ফোঁটা ওষুধ গ্লাসে নিয়ে তাতে জল মিশিয়ে এগিয়ে দিয়ে একটু গম্ভীর গলায় বললো, এটা আগে খেয়ে নাও। তারপর টিফিন করবে। তারাপদবাবুও কোনও কথা না ব'লে চুপচাপ ওষুধের গ্লাস হাতে নিয়ে ওষুধ খেয়ে নিল। তারপর স্ত্রী চলে গেল প্রতিদিনের রান্নাঘরের কাজে। তারাপদবাবু জানেন, এটা অর্জুন, হার্টের বল বৃদ্ধির ওষুধ। একটা ম্লান হাসি মিলিয়ে গেল তারাপদবাবুর ঠোঁটে।
তারাপদবাবু ঘরে একা; সামনে সকালের নাস্তা। আজ আর খেতে মন চাইছে না তারাপদবাবুর। মনটা বিষন্ন ভুতের মতো ঝিমিয়ে গেছে। বসে বসে ভাবতে লাগলো, তাপসবাবু কি আরো কিছুদিন বাঁচতো না? বাঁচানো যেত না? মনে পড়লো তারাপদবাবুর, একদিন রবিবার সকালে তাপসবাবুর বাড়িতে কি একটা কাজে গিয়েছিল। তাপসবাবুর স্ত্রী যত্ন ক'রে বসিয়ে তারাপদবাবু এবং তাপসবাবু দু'জনকেই চা-জলখাবার দিয়েছিলেন। তারাপদবাবু সেদিন গল্প করতে করতে হাসতে হাসতে বলেছিলেন, বৌদি দাদাকে একটূ চায়ের সঙ্গে চিনি কম দেবেন আর বেশী ক'রে বড় চামচের কয়েক চামচ মিশিয়ে দেবেন ভালোবাসা। দেখবেন এর থেকে হার্টের বলবান টনিক আর কিছুই নেই। এই ওষুধের কাছে পৃথিবীর সব ওষুধ, সব চিকিৎসা ফেল। ব'লেই হো হো ক'রে হেসে উঠেছিলেন তারাপদবাবু। তাপসবাবুর বৌ তা শুনে বলেছিলেন, যত্তসব, বুড়ো বয়সের ভীমরতি। তারাপদবাবুও ছাড়ার পাত্র নন। তিনিও মাথা নেড়ে ব'লে উঠলেন, না না না না। একদম ইয়ার্কি ফাজলামি করছি না। তারপর বেশ দৃড়তার সঙ্গে বললেন, আমার দয়াল ঠাকুর কি বলেন জানেন? দয়াল বলেন, ভালোবাসা হ'লো স্বর্ণসিন্দুরের মতন। স্বর্ণসিন্দুর যেমন একটু খাঁটি মুধুর সঙ্গে ঘষে নিয়ে খেলে গায়ে বল আসে ঠিক তেমনি ভালোবাসাও হ'লো তাই। একটু আন্তরিক নিখাদ ভালোবাসার পরশ পেলে মানুষ বাঁচার রসদ পায়, মনে জোর পায়, বল পায়। উৎসাহ জাগে নতুনভাবে কিছু করার। স্ত্রীর ভালোবাসা স্বামীর শরীরে তেমনি শক্তি ফিরিয়ে আনে পাহাড় ভেঙ্গে নিয়ে আসার। স্ত্রীই পারে স্বামীকে দীর্ঘায়ু করতে। মায়ের নিখাদ আন্তরিক ভালোবাসা যেমন সন্তানকে সবকিছু থেকে আগলে রেখে বাঁচতে বাড়তে সাহায্য করে ঠিক তেমনি স্ত্রীর ভালোবাসাও তাই। এই শক্তি ঈশ্বর একমাত্র নারীর মধ্যেই দিয়েছে। একটু মিষ্টি ক'রে কথা, একটু মিষ্টি হাসি, একটু মিষ্টি চাউনি পুরুষের শরীরের মনের সমস্ত ব্যথা মুহূর্তে নিশ্চিহ্ন ক'রে তুফান এনে দিতে পারে বুকে। তাই আমার দয়াল বললেন, চাউনি তোমার মিষ্টি করো, মিষ্টি করো কথা, চলন তোমার মিষ্টি ক'রে ঘুচাও সবার ব্যথা। এই ব্যথা ইচ্ছে করলেই এক লহমায় মুচ্ছে দিতে পারে, এমনি শক্তিমতি নারী।
একনাগাড়ে এইকথাগুলি ব'লে থেমেছিল তারাপদবাবু সেদিন। আর আজ তা মনে পড়ে গেল। মনে মনে ভাবলো, ইচ্ছে করলেই স্বামীস্ত্রী দীর্ঘায়ু হ'তে পারে, সুখী হ'তে পারে সংসার। কিন্তু কথাগুলি কথায় থেকে গেল।
কথাগুলি ভাবতে ভাবতে কয়েক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো তারাপদবাবুর চোখ দিয়ে খাবারের ওপর।-----প্রবি। (লেখা ৪ই নভেম্বর'২০২২)

Thursday, November 2, 2023

উপলব্ধিঃ ভুল! ভুল!! ভুল!!!

Mahrubaji, আপনি লিখেছেন ব্লক না ক'রে আনফ্রেন্ড ক'রে রাখতে যাতে আমার সমাজ নিয়ে লেখা তারা দেখতে পারে। ব্লক ক'রে দিলে আমার চিন্তা ভাবনাগুলি তারা আর দেখতে পারবে না।

আপনার মূল্যবান পরামর্শকে যথাযথ সম্মান দিয়েই বলছি, মাঝে মাঝে আপনার মত ভাবনা মনের মধ্যে এসে উঁকি মারে, জড়ো হয় এবং সেই কারণেই অনেকদিন আলোচনার টেবিলকেই মর্যাদা দিয়ে আলোচনাকে জিইয়ে রাখার চেষ্টা করি ও অনেক ধৈর্য ধ'রে সহ্য শক্তি নিয়ে পারস্পরিক মতের আদানপ্রদানকে সম্মান দিয়ে আলোচনাকে দীর্ঘ সময় জিইয়ে রাখি। কিন্তু দীর্ঘ অভিজ্ঞতা পাশাপাশি বলে, চোরা না শোনে ধর্মের কাহানী, কুত্তার লেজ কখনো সোজা হয় না। এরা সমাজ, সভ্যতা, শিক্ষা, রুচি ইত্যাদির ধার ধারে না। এরা আলোচনা করে না, এরা আলোচনাকে তর্ক ব'লে মনে করে, আলোচনা টেবিলের শর্তই জানে না এরা। আলোচনার মধ্যে চনা ঢেলে দিয়ে আলোচনাকে বিষাক্ত ক'রে তোলে ও অবশেষে ব্যাক্তিগত আক্রমণে চলে যায়। আর তারপর সমাজ সভ্যতাকে তুড়ি দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে অশ্লীল শব্দের অভিধান খুলে বসে।

তাই মন বললো, মেথরের সঙ্গে ঝগড়া করলে মেথর যদি গায়ে গু ঢেলে দেয় তাহ'লে সেটা মেথরের দোষ নয়। দোষ যার গায়ে গু ঢালা হয়েছে তার, যে ঢেলেছে তার নয়। আর পাবলিকও মেথরকে কিছু বলবে না, পারলে তাকেই সাপোর্ট করবে, চোখ টিপে উসকে দেবে আরও গু ঢেলে দেবার জন্য; আর যার গায়ে গু লেগেছে তার দিকে তাকিয়ে হো হো ক'রে পেটে তালি দিয়ে হাসবে। অবশেষে এই মহান পাবলিক তাকে নাম দিয়ে দেবে 'গুয়ে দা'। পাবলিকের ভোটে বিখ্যাত হ'য়ে যাবে রাতারাতি 'গুয়ে দা'। যেদিন পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে সেদিন এই পাবলিক যখন বলবে, কে মারা গেছে? এই পাবলিকই বলবে, গুয়ে দা মারা গেছে। পাবলিকের বদান্যতায় পিতৃদত্ত নাম মুছে যাবে চিরতরে গু রুপী চন্দনের দৌলতে আর হ'য়ে যাবে গুয়েদা।
তাই বলি, বন্ধু, যার মুখ দেখলে, যার সঙ্গ করলে, যার সঙ্গে কথা বললে মন নিম্নগামী হয়, মন বিষাক্ত হ'য়ে ওঠে, মন তার ভারসাম্য হারায়, মন অকারণ উত্তেজিত হ'য়ে ওঠে, মন তার শান্ত ও সৌম্য ভাব হারায়, মিষ্টতা হারিয়ে তিক্ত হ'য়ে ওঠে মন, আর তখন মন আলোচনার মেইন লাইন ছেড়ে কর্ড লাইনে গমন করে তার থেকে বরং তাকে শুধরাবার মানসিকতা ত্যাগ ক'রে সম্মানজনক দূরত্বে সরে যাওয়াই ভালো। এতে শরীর মন আত্মা সবই ভালো থাকে, সুস্থ থাকে। শান্তি বিরাজ করে মনে।

তাই বলি, ঐ যে একটা ল্যাটিন প্রবাদ আছে, "Vox populi, Vox dei" যার ইংরাজি করলে দাঁড়ায়, The voice of the people is the voice of God. বাংলা করলে দাঁড়াবে, "জনগণের বাণীই ঈশ্বরের বাণী" কথাটা ভুল, ভুল, ভুল।
(লেখা ৩রা নভেম্বর'২০১৭)