Powered By Blogger

Thursday, April 14, 2016

কবিতাঃ বাংলা ও বাঙালি!



আঃ! আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।
আমি বাঙালি, তুমি বাঙালি, দুজনে কত কাছাকাছি।
তুমি কে? আমি কে? বাঙালি বাঙালি!
বাংলা আমার প্রাণ, বাংলা আমার গান,
হে বন্ধু! বাংলা গানে পরাণ আমার জাগালি।
এখানে নেই হিন্দু, নেই মুসলমান, নেই বৌদ্ধ, খ্রিস্টান
আছে শুধু বাঙালি তুমি আমি এক মন এক প্রাণ।
জাগো জাগো বাঙালি জাগো, জাগো অখন্ড বাংলা
তোমার বন্ধু আমারও বন্ধু, এ-কথা বন্ধু রেখো মনে
বঙ্গবন্ধু নয়তো সে কারও একেলা।-----প্রবি।

কবিতাঃ নববর্ষের অঙ্গীকার!(বাংলা ১৪২৩)।




নির্বাচন না-কি নির্বাসন? নির্বাচন নির্বাপন!
ভোট শেষ, ভেট শেষ; নেই কিছু অবশেষ।
কি সাথী, কি জনগণ আর নয় কেউ আপন!
কোথা তুমি সেদিনের সাথী? আজ হেঁজিপেঁজি!
যে ছিল আপন যখন ছিল নির্বাচন হল পর।
সেদিন দূরে বসে রাজাদাদা দেখছিল মজা
নির্বাচনে কি হয়, কি হয়! ভোট যুদ্ধ শেষে
দাদা অবশেষে সাথে নিয়ে চ্যালা গজা’,
হাতে ধরে জয়ী ধ্বজা আর নাই নাই ভয়,
হবেই হবে জয়গান গেয়ে দোঁহে হল তৎপর!
নির্বাচন শেষে জয়মাল্য হাতে গুদগুদি হেসে
রাজাসাথে নেতা ভীষণ ব্যস্ত হেথাসেথা----
'
আয়রে আয়, জলদি আয়, আয় আয়
জলদি আয়, মন্ডা মিঠাই আয় আয়'
স্বপ্নিল চোখে তারা করে আচমন।
কোথায় সেদিনের জন আর হায় কোথায় জনগণ!
নির্বাচন শেষে আকাশে বাতাসে
শুধু দুটি শব্দ ভাসে-----
নির্বাসন নির্বাপণ, নির্বাপণ আর নির্বাসন!
এর থেকে নয় বেশী কিছু আর
এ জেনো নববর্ষের অঙ্গীকার!
ভোটের কথা অমৃত সমান
প্রকাশক বলে শুন, দিয়া মনঃপ্রাণ!

কবিতাঃ ক্ষমতার চেয়ার !



বাম, ডান আজ আর আলাদা কোনো অস্তিত্ব নয়, ‘ক্ষমতানামক শরীরের দুই অঙ্গ, দুই হাত। এতদিন পর দেরীতে হলেও সত্য প্রকাশ হল। সত্য স্বীকারোক্তি সময়ের অপেক্ষা মাত্র। বাম ডান তত্ত্ব ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে মানুষকে বিভ্রান্ত করার দলীয় প্রক্রিয়া মাত্র। যুগ যুগ ধরে তত্ত্বের অজুহাতে ক্ষমতা দখলের গিলোটিনে মানুষকে হতে হয়েছে বলি। জনতার দরবারে উদারতার ভঙ্গি নিয়ে বাম ডান একে অপরকে হেয় করে দেখাতে চেয়েছে ছোটো বড়র নির্লজ্জ বাহাদুরি। উন্নত সমাজ গঠনের জন্য ফর্মুলা অর্থাৎ সমাজ ব্যবস্থার সর্বোচ্চ উন্নত তত্ত্বের একমাত্র তারাই অধিকারী বাম ও ডান উভয়ে এই দাবী করে থাকে। আবার এদের মধ্যেই অনেক ভাগ। ছোটখাটো ভাগ গুলি ক্ষমতা নামক ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মত ক্ষমতা নিঃসারক বাটের দুদিকে ঘুরে মরে। আর চার অক্ষর জনগণ ডান-বামের ঘোড়েল তত্ত্বের কচকচানি বোঝে না। হাওয়া মোরগের মত এদের পিছনে ঘুরতে থাকে অনবরত। যেখানে ক্ষমতা লাভের গন্ধের লেশমাত্র নেই, সম্ভাবনা শূন্য সেখানেই এরা অর্থাৎ সুযোগ সন্ধানীরা, ক্ষমতা লোভীরা সমাজের বৃহত্তর স্বার্থ দেখিয়ে চরম উদারপন্থী হয়ে যায়, ডান-বাম, উচু-নীচু, ধনী-গরীব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সমস্ত স্তরের মানুষের জোটের প্রয়োজনীয়তা চোখের সামনে তখন ভেসে ওঠে; শরীরে, মনে, আত্মায় আপাদমস্তক তত্ত্ব কথার কঠিন বর্মকে দূরে সরিয়ে, রীতিনীতিকে জলাঞ্জলি দিয়ে, লাজলজ্জাকে শিকেয় তুলে রেখে ডান, বাম হাতের সঙ্গে রাজ্য বাঁচাবার, বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করবার নামে সবচেয়ে শক্তিশালী হাত অজুহাতকে মূলধন করে মিঠে তামাকের সুগন্ধের মত তাত্ত্বিক আমেজে ভরপুর হয়ে বাচ্চা ভুলাবার মত কথার ফুলঝুরি ছুটিয়ে মানুষকে আবার বারবার মুর্গা বানিয়ে ক্ষমতার দখল নিতে চায়। আর আম আদমি ‘Don’t estimate the power of common man’ –এর সুড়সুড়িতে নিজের কুড়ি ইঞ্চি বুককে ৪০ ইঞ্চি বুক মনে করে উট পাখির মত মাথা উঁচিয়ে হাঁটতে থাকে রাজ্য জয়ের ভঙ্গিতে নিজেকে আলেকজান্ডার মনে করে। আর ক্ষমতা যার ঝোলাতে ঢোকার চুপিসারে গিয়ে ঢূকে পড়ে। পুনঃ মূষিক ভব’-র শিকার হয়ে আবার রুপকথার রাজকন্যার মত রুপোর কাঠির ছোঁয়ায় গভীর নিদ্রায় ঢলে পড়ে আমার মত চার অক্ষর আম আদমি আগামী কোনো এক সমাজ কো বদল ডালোতত্ত্বের ফেরিওয়ালারুপী রাজপুত্রের হাতের সোনার কাঠির ছোঁয়ায় জেগে উঠবে বলে! সমাজ কো বদল ডালো তত্ত্বের ফেরিওয়ালারা গুনগুন করে গান গেয়ে বেড়ায়-------

ক্ষমতাআমার ধ্যান, ‘ক্ষমতাআমার জ্ঞান
ক্ষমতালাভই আমার জীবনের যাকিছু;
সেথা নেই জেনো বিবেক, নেই কোনো আবেগ
নেই কোনো ভালো-মন্দ, চিন্তা-ভাবনার আগুপিছু।
ক্ষমতাদখলে জেনো আমার নেই কোনো মায়া-মমতা
নেই নীতি, নেই রীতি, সেথা নেই কোনো ভব্যতা-সভ্যতা।
পেতে ক্ষমতার চেয়ার আমি করি না কেয়ার আম জনতার;
মোল্লার দৌড় যেমন মসজিদ তেমনি জানা আছে দৌড়
লড়াই-এর ময়দানের চার অক্ষর আম জনতার ক্ষমতার।
জনতার প্রতি নেই মমতা, নেই পিরিতের কোনো বাড়াবাড়ি
হে জনতা তোমার ক্ষমতা শুধু আমার ক্ষমতালাভের সিঁড়ি।
ক্ষমতাআমার হয়ে রম্ভা, হয়ে উর্ব্বশী ত্রি-নয়ন মাঝে
নাচে দুলিয়ে সুডৌল, কাঁপিয়ে গোল গোল অনাবৃত সাজে!
তাদেখে মগ্ন, হয়ে নগ্ন, নেশাগ্রস্থ আমি
নাচি তিড়িং-ভিড়িং, নাচি তা-ধিনা-ধিনধিন
আমি ক্ষমতালোভী লাজলজ্জাহীন।

Wednesday, December 16, 2015

'তাতা থৈ থৈ, তাতা থৈ থৈ, তাতা.........'






প্রায় ১০-১১ মাস পর গত ৯/১২/১৫ (বুধবার) সংসদের সেন্ট্রাল হলে মুকুল রায়ের সঙ্গে দেখা হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করলেন। শুধু সেন্ট্রাল হল নয়, এদিন রাতে ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে আয়োজন করা মমতার নৈশভোজেও আমন্ত্রণ গিয়েছিল মুকুল রায়ের কাছে। দিদির আমন্ত্রণ পেয়ে সেখানে যান মুকুল রায়। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর ডেরেক ও অভিষেককে সঙ্গে নিয়ে মুকুলের সঙ্গে খোশ মেজাজে গল্পও করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই নিয়ে শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক চাপান উতোর। দলের মধ্যে এই ঘটনাকে সাধারণ ও স্বাভাবিক ঘটনা বলে মান্যতা দিলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মুকুল অনুগামীদের মধ্যে শুরু হয়েছে অস্বস্তি। মুকুল অনুগামীরা চিন্তায় পড়ে গেছেন তাদের ভবিষ্যৎ কি হবে, এই প্রশ্নে। আর মমতার রাজনৈতিক মোক্ষম চাল নিয়ে আগামী ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে রাজা মাত হওয়ার সম্ভাবনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কপালে দেখা দিয়েছে ভয়ঙ্কর চিন্তার ভাঁজ। বিরোধীপক্ষের কেউ বুঝে উঠতে পারেনি এতদিন আর পারছেও না এখনও '' ''-দের রাজনীতির ইতিকথা! মমতার পরিকল্পনা নিয়ে রাজনীতির আকাশে অশনি সংকেত দেখতে পাচ্ছে বিরোধী দলগুলি। দলের মধ্যে, দলের বাইরে সবজায়গায় উঠেছে হুদহুদঝড়। এই ঝড়ে কে থাকবে আর কে থাকবে না তাই নিয়ে ’ ‘’-দের নিশ্বাসপ্রশ্বাসে ম ম করছে আকাশবাতাস। আর রাজনীতির সমুদ্রে মমতার আচমকা তোলা কূটনীতির তরঙ্গে ভেসে চলেছে বিপক্ষ শিবিরের সবাই মিলে একসঙ্গে এই বঙ্গে।

মমতা ম্যাজিকে ভারতের রাজনীতির রঙ্গমঞ্চ তোলপাড়। ভারতের আকাশে নোতুন নারী চাণক্যের উত্থান!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
 
পশ্চিমবঙ্গের আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে একটাই শ্লোক,           

'তাতা থৈ থৈ, তাতা থৈ থৈ, তাতা.........'     
                    
চিত্তে ’ ‘নাচে কে যে বাঁচে
তাতা থৈথৈ, তাতা থৈথৈ, তাতা থৈথৈ।
’ ‘কুসঙ্গে কী মৃদঙ্গে সদা বাজে
তাতা থৈথৈ তাতা থৈথৈ তাতা থৈথৈ॥
মদন কান্না, কুণাল আর নাদোলে ভালে
কাঁপে ধন্দে ভালোমন্দ তালে তালে,
নাচে মুকুল নাচে মিঠুন পাছে পাছে,
তাতা থৈথৈ, তাতা থৈথৈ, তাতা থৈথৈ।
কী আনন্দ, নিরানন্দ, কীসের ধন্দ
দিবারাত্রি নাচে মুক্তি নাচে বন্ধ
সে তরঙ্গে সবাই বঙ্গে ছোটে পাছে পাছে
তাতা থৈথৈ, তাতা থৈথৈ, তাতা থৈথৈ॥

Saturday, December 5, 2015

কবিতাঃ লঙ্কায় রাবণ।

যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ’।
কথাটা নয় দুর্বোধ্য, অতি সাধারণ
দেশ থেকে দেশে কথা এলোমেলো বেশে
ঝরে পড়ে অঝোর ধারায় হয়ে ধারা শ্রাবণ!
যুগ থেকে যুগে চলে বয়ে অন্তহীন এই ধারা,
যে যত সৎ সে সত্তা তত এই পাপের বাড়া!
অযোগ্য আর অদক্ষ দোঁহে মিলি করে সুরাপান,
মূর্খ মুখ্য হয়ে বসে মাথায়, করে সালিশি
দেশের দশের; ওষ্ঠাগত সালিশির নামে
আম জনতার পরাণ পান্ডিত্যের তকমা__
সে যে সুন্দরী পরমা, ___লাগিয়ে মাথায়
জগৎ মাতায় পোঙ্গা পন্ডিতের দল;            
হাঁটু জ্ঞানে বাজিয়ে প্রাণপণে  
প্রজ্ঞার ঢোলক ঝুলিয়ে নাকে নোলক বলে সবে,
এসো ত্বরা করি হাত ধরাধরি, দেখো,
বারো হাত কাঁকুড়ের তেরো হাত বিচির
কি বিচিত্র এই ফল!  
বিচি দেখে খেয়ে ভির্মি, বলে প্রজা,
উঃ কি ভীষণ গর্মি; পরাণ যায় জ্বলিয়া রে!
পড়েছি মোগলের হাতে, খানা খেতে হবে একসাথে;
নইলে ঘচাং ফু হবে
আজ ভেবে কি হবে বল, যাবে যাক রসাতল;
কে রাখে তারে? হরিকে যে বা যারা মারে!
আজ ভুলে গেছো সবে? সিংহাসনে যবে
না বুঝে করেছিলে স্থাপনা কাহারে?