Thursday, May 2, 2024
প্রবন্ধঃ কোন্নগড়ে শকুন্তলা কালী মায়ের পুজো ও সৎসঙ্গীবৃন্দ (৪)
যাই হ'ক, এখানে ভক্তি শ্রদ্ধার প্রশ্ন অবান্তর। আমার লেখাকে ফলো ক'রে উত্তর দিলে ভালো লাগে। ভালো ক'রে বিষয়বস্তু না পড়েই নিজের মনের মধ্যে সযত্নে লালিত পালিত হওয়া সংস্কার হ'ক আর কুসংস্কার হ'ক তা উগলে দিলে আলোচনা অবান্তর হ'য়ে পড়ে। ঈশ্বরের উপর আমি অবস্থান করি একথা আমার লেখার কোথাও নেই। অবান্তর কথার অবতাড়না ক'রে আলোচনার মূল স্রোত থেকে সরে গেলে আখেরে নিজেরই ক্ষতি হয়। জানার রাজ্যে এগোনো যায় না। আলোচনা করতে হ'লে ওপেন মাইন্ডেড হ'তে হয়, খোলামেলা আলোচনা লক্ষ্যে পৌছে দেয়। আর আদি অনন্তকাল ধ'রে কোনো প্রথা চলে আসছে ব'লেই যে তা চলবে তার কি মানে আছে? তাহ'লে অনন্তকাল ধ'রে তো এই চলে আসা বীভৎস ভয়ংকর বলি প্রথা অনেক জায়গায় আজ বন্ধ হ'য়ে গেছে তা কেন বন্ধ হয়েছে? কেন স্বয়ং জীবন্ত ঈশ্বর ঠাকুর রামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে পুজো বন্ধ করেছিলেন? মা কালি কোন সন্তানের রক্ত খেতে পারে সেটা বিস্তারিত জানাবেন কি? আপনারা যারা বলি প্রথা মানেন তাদের বলি, মা কালি আপনার সন্তানের রক্ত খেতে পারে আর যদি খায় আপনি তা মানবেন? নাকি মায়ের নামে এই অপবাদ বদনাম কুতসা বন্ধ ক'রে মায়ের চোখের জল মোছাবেন? মাকে ভক্তি শ্রদ্ধার নামে রক্তখেকো রাক্ষসী বানাচ্ছেন কেন? আপনাকে রক্ত দিলে আপনি পান করবেন? আপনি জাগতিক মা হ'য়ে যদি রক্ত পান করতে না পারেন, আপনার সন্তান বলি দিতে না পারেন তাহ'লে কোন সাহসে জগতের বিশ্বব্রহ্মান্ডের যিনি মা, যিনি জীব জগত জীবন কারণ সমস্ত কিছুর মা তাকে বাধ্য করেন আপনার বৃত্তি প্রবৃত্তির সুখ ভোগের নামে এই কলঙ্ক বহন করতে? আর এখানে মানা না মানার প্রশ্ন অবান্তর। আপনি আপনারা আমার লেখার বিষয়বস্তুর বাইরে গিয়ে জন্ডিস চোখে শুধু মায়ের প্রতি ভক্তি দেখিয়েছেন নিজের সুখ ভোগের স্বার্থে! মায়ের কষ্ট, মায়ের যন্ত্রণা, কিসে মায়ের সুখ, কিসে মায়ের আনন্দ তা বোঝার ধার ধারেননি আর তাই তাত্ত্বিক আমেজে ডুবে থেকে মিথ্যেকে সত্য ব'লে ভেবেছেন আর মনে যা এসেছে তাই বলছেন। বিশেষ ক'রে সৎসঙ্গীদের অবস্থান দেখে তা সে এক বা দুইজন-ই হ'ক দুঃখ হয়; তাই আবার বলি, এই বিষয়ে আমার প্রতিটি লেখা দয়া ক'রে জন্ডিস চোখ থেকে বেরিয়ে এসে বায়াসড মুক্ত হৃদয়ে পড়ুন। আমার মনের কথা বুঝতে পারবেন।
ক্রমশঃ ( ২রা মে, ২০২২ )
প্রবন্ধঃ কোন্নগড়ে শকুন্তলা কালী মায়ের পুজো ও সৎসঙ্গীবৃন্দ (৫)
আমি বলি, যিসকি য্যায়সি সোচ উসকি ঐসি করম, আউড় যিসকি য্যায়সি করনি উসকি ঐসি ভরনি।
এটা ঠিক, নিজের নিজের ভাবনাই ঠিক। যেমন একটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা পরিস্কার হবে। একটা দেওয়ালে লেখা আছে " এখানে প্রস্রাব করিবেন না"। তো একজন এসে সেই লেখাটার 'না'- এর জায়গাটা মুছে দিল নিজের মত ক'রে। আর তারপর যেটা দাঁড়ালো তা হ'লো "এখানে প্রস্রাব করিবেন।" তারপর সে নিজে ওখানে প্রস্রাব তো করলোই তারপর থেকে সবাই পেচ্ছাপ করতে করতে সেই নিষিদ্ধ জায়গা অবশেষে প্রসিদ্ধ পেচ্ছাপখানায় পরিণত হ'য়ে গেল।
এছাড়া আমরা অফিস ও ফ্ল্যাট বাড়িতে সিড়ির ধাপে ধাপে দেওয়ালের কোনায় এবং রাস্তার ধারে বাড়ির বাউন্ডারি দেওয়ালের নীচে লাইন দিয়ে দূর্গা, কালী, শিব, বিষ্ণু, গণেশ, হনুমান ইত্যাদি যত হিন্দু দেবদেবীর ফটো আছে তা সিমেন্ট দিয়ে লাগিয়ে দেওয়া হয় যাতে কেউ সিড়ির দেওয়ালে কিম্বা বাউন্ডারি দেওয়ালে পেচ্ছাপ করতে না পারে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে যখন কেউ বা কোনও মাতাল সেখান দিয়ে যায় আর যাওয়ার সময় সুযোগ বুঝে ফাকা সিড়িতে বা রাস্তার ধারের দেওয়ালের জায়গায় পানের পিক ফেলে দিয়ে যায় কিম্বা পেচ্ছাপ করে তখন ব্যাপারটা কতটা ঈশ্বরের কাছে দুঃখজনক তা বোধের ঘরে ধরা পড়ে না। বোধের ঘর যদি মানুষের স্ট্রং হ'তো তাহ'লে ঠাকুর দেবতা নিয়ে তথাকথিত ভক্তরা ভক্তির বালখিল্য ফাজলামো করতো না। আর যদি রাতের অন্ধকারে বেহুশ হ'য়ে কোনো মাতাল পেচ্ছাপ করে সেই দেওয়ালে, সেই দেওয়ালে সিমেন্ট দিয়ে আটকে দেওয়া দেবদেবীর মূর্তির মুখের ওপর পেচ্ছাপ করে দেয় তাহ'লে এটা কার দোষ? যে পানের ফিক ফেললো বা পেচ্ছাপ করলো দেওয়ালে সাটানো দেবদেবীর মুখের ওপর তার বা তাদের নাকি যারা ওখানে ভক্তির বালখিল্য আতিশয্যে ছবিগুলো লাগিয়েছে তাদের? এক্ষেত্রে তাহ'লে কি বলবো? বলবো যার যার নিজের ভাবনা? ঠিক আছে আর ভাবনা অনুযায়ী কর্ম।
আবার কেউ কেউ (এর মধ্যে মায়েরাও আছে) যুক্তি সাজাতে গাছ সবজি ফল ইত্যাদির প্রসঙ্গ টেনে এনে নিজের বৃত্তি প্রবৃত্তির স্বার্থে রিপুর ফেভারে কথা বলে, টেনে আনে নানা বেলাইনি যুক্তি। বলে, তাহ'লে রক্তের বেলায় দোষ কি!? তাই রক্তের কথা নিয়ে বলা কথাতে বলতে পারি গাছেরও প্রাণ আছে এই সস্তা যুক্তিতে মায়ের পূজার নামে একটা নিরীহ প্রাণীকে হত্যা করতে যখন একজন মায়ের কোনও কষ্ট হয়না তখন কিছু বলার নেই। মাংস যদি খেতেই হয় এমনিই খাও না, মায়ের পুজোর অজুহাত দেওয়ার কি আছে? সারা মাস, সারা বছর মাছ, মাংস খাওয়ার যখন সুযোগ আছে তখন মায়ের পুজোর নামে পবিত্র দিনে প্রাণী হত্যা করার কোনো যুক্তি আছে কিনা সেটা ভেবে দেখার বিষয় ছিল। ভোগের বিলাসিতার জন্য পুজোর অজুহাতে আমার মাকে কলঙ্কিত করছো কেন? কেন জগজ্জননী মাকে রক্তপিপাসু রাক্ষসী বানাচ্ছো!? হাড়, মাংস, রক্তের বীভৎসতা আর গাছপালার দৃশ্য একই রকম ব্যাপার? সব্জী ফল মানুষের ভোগের জন্য ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন আর তা গাছের থেকে আপনা আপনিই তার অন্তরস্থ বৈধানিক অবস্থান অনুযায়ী ঝ'রে পড়ে। গাছ কাটলে গাছের বৃদ্ধি আছে। আর তা বৃদ্ধির জন্যই কাটার বিধান। কিন্তু জীবের বেলায় আলাদা বিধান। জীবকে কেটে ফেললে জীবের বৃদ্ধি আছে? জীবের মৃত্যু ঘটে। গাছ কাটা আর রক্তমাংসের জীবন্ত প্রাণীকে কাটা একইরকম মনের ওপরে প্রভাব পড়ে? বিশেষত শিশু মনে? মাংস খাও কেউ বারণ করেনি তোমার মনের মত ক'রে খাও, যত খুশি তত খাও, শরীর বিধান মেনে খাওয়া আর না খাওয়া তা তোমার ব্যক্তিগত ব্যাপার কিন্তু তা অর্থাৎ জিভের এই উদগ্র লোভকে সৃষ্টিকর্তার পুজোর অজুহাতে বলী প্রথার নামে খাওয়া নয়। আর, মাংস কাটা হ'ক কিন্তু তা কাটা হ'ক লোকচক্ষুর আড়ালে ঘেরা জায়গায়, উন্মুক্ত স্থানে নয়।
তাই ভাবি কি সহজেই একজন মা ব'লে দিতে পারে " গাছপালা কাটলে রক্তে ক্ষতি কি"? ক্ষতি কিছুই নেই। এটাও সেই যার যার নিজের ভাবনা। বাঃ! কি সহজ সরলীকরণ!!!!!
বারবার প্রশ্ন উঠছে এক আর উত্তর আসছে বেলাইনে বিকৃত। ঐ দেওয়ালের "এখানে প্রস্রাব করিবেন না" লেখার "না" মুছে দেবার মত অবস্থা আর দেওয়ালে দেবদেবীর ফটো লাগিয়ে নিজের বাড়িকে নোংরা হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা। দেবদেবীকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার মত নিম্ন মানসিকতা যদি ঈশ্বর আরাধনা হয় তাহ'লে সেই আরাধনাকারীদের বিচার স্বয়ং ঈশ্বরের উপরেই তুলে দিলাম।
ক্রমশঃ
( ২রা মে ২০২২)
প্রবন্ধঃ কোন্নগড়ে শকুন্তলা কালী মায়ের পুজো ও সৎসঙ্গীবৃন্দ(৬)
আমি এর উত্তরে বলি, ঠিকই বলেছেন আপনাকে বা আপনাদের ব'লে কোনও লাভ নেই, আপনার বা আপনাদের বুঝেও লাভ নেই। কারণ কথায় আছে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি। চোরের কাজ চুরি করা আর চুরির স্বার্থে চুরির উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা। আর ধার্মিকের কাজ ধর্ম পালন করা আর তার প্রচার। ওই যে কথা আছে না, হাতি চলে বাজার মে কুত্তা ভোকে হাজার, সাধুও কো দূর্ভাবন নেহী যব ঘেরে সংসার। আমি ঘেউ ঘেউ করতে বেরোয়নি। আমি বেরিয়েছি সত্য প্রচারে ঐ হাতির মত বিশাল দেহ হেলিয়ে দুলিয়ে রাজার মত আর আপনারা আমার পিছনে ঘেউ ঘেউ করতে ছুটে বেরিয়ে এসেছেন কানা অন্ধগলি থেকে। এছাড়া আপনারা ঐ চিলের কান নিয়ে যাওয়ার মত অবস্থার দাস। চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে ছুটে বেরিয়ে পড়েছেন চিলের পিছনে পিছনে নিজের কানে হাত না দিয়েই। আরে বাবা অন্যের মুখে ঝাল না খেয়ে নিজের মুখে ঝাল খান না। দেখুন না সত্যি সত্যিই খাবার ঝাল না মিষ্টি, টক না নোনতা! আমার লেখা মন দিয়ে ভালো ক'রে পড়ুন, বুঝুন, দেখুন তারপর মন্তব্য করুন না।
আর একটা কথা আছে, মোষের পেছনে বিন বাজিয়ে লাভ নেই কারণ মোষ ঐসব বিন বাজানোর ধার ধারে না। সে একগুঁয়ে হ'য়ে নিজের পথে হেটে যায়। তা আপনারা যদি তা-ই করেন করুন, আমার বলার কিছু নেই। এতসব কথা বলতাম না যদি না আপনি আপনারা আমার আলোচনায় আপনার আপনাদের নাক গলাতেন, অযৌক্তিক কটু কথা না বলতেন। আমি আপনাদের কিছু বলতে যায়নি আপনি আপনারা নিজে এসে মন্তব্য করেছেন করছেন ফোনে, মেসেঞ্জারে আমার "শকুন্তলা কালি মায়ের পুজো ও সৎসঙ্গীবৃন্দ" লেখাগুলি পড়ে। মন্তব্য করছেন আর উত্তর দিলে বলছেন এত দীর্ঘ আলোচনা করার মতো আপনার আপনাদের ক্ষমতা নেই। তাহ'লে মন্তব্য করতে এসেছিলেন কেন যদি না উত্তর শোনার ধৈর্য, সহ্য ও অভ্যাস না থাকে? আর শুনুন আপনি আপনারা যে বড়ো বড়ো মায়ের পীঠস্থানের কথা বলেছেন আপনি আপনারা কটা পীঠস্থানের খবর রাখেন? সেইসমস্ত অনেক বহু আপনাদের কথামতো তথাকথিত বড় বড় পীঠস্থানে আজ মায়ের পুজার বলির মত অধর্মীয় প্রথা বন্ধ হ'য়ে গেছে। একদিন কোন্নগড়েও বন্ধ হ'য়ে যাবে। আজ না হয় কাল। শুধু সময়ের অপেক্ষা। সময় সবসে বড়া বলবান। সেই সময় তৈরির প্রস্তুতি নিয়ে চলেছি মাত্র নিজের শক্তি সামর্থ্য মত।
আচ্ছা পাঠক বলুন তো জীবন্ত ঈশ্বর শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ তো মা কালীর পুজো করতেন তিনি কোনোদিন মায়ের সামনে তার সন্তানের বলী দিয়ে পুজো করেছেন? সাধক রামপ্রসাদ, সাধক বামাক্ষ্যাপা ইত্যাদি আরও অনেক মহাত্মা মায়ের পুজারীরা কি মায়ের সামনে জীব বলি দিয়ে মায়ের আরাধনা করেছেন? আর আমার কথাগুলি আপনাদের কাব্য ব'লে মনে হ'লো? যাক, ঐ যে একজন বলেছেন তার মন্তব্যে, যার যার যা ভাবনা। ঠিক তাই। আপনার ভাবনা আপনার একান্ত নিজস্ব আর আমারটা আমার। ভালো থাকবেন।
( লেখা ২রা মে, ২০২২)
প্রবন্ধঃ কোন্নগড়ে শকুন্তলা কালী মায়ের পুজো ও সৎসঙ্গীবৃন্দ (৭)
আর আপনাদের মানা, না মানা আপনার আপনাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার ; সেখানে আমার নাক গলাবার ইচ্ছা নেই। ভগবানকে আমি আপনি দেখিনি এটা যেমন ঠিক তেমনি অনেক সাধক মহাত্মা আছেন যারা দেখেছেন, উপলব্ধি করেছেন। আর ভগবান তো মূর্ত রূপে আবির্ভূত হয়েছেন অনেকবার। সৎসঙ্গীরা জানেন না ঈশ্বর কতবার মানুষের রূপকথা ধ'রে এসেছেন? যে দেখার দেখেছেন স্বয়ং তাকে আর যে না দেখার দূর্ভাগ্য নিয়ে এসেছেন সে দেখেছেন অমূর্ত ভগবান মা কালিকে। যাক গিয়ে আমার 'কোন্নগড়ে শকুন্তলা কালী মায়ের পুজা ও সৎসঙ্গীবৃন্দ' সিরিজগুলি ভালো ক'রে পড়ার অনুরোধ রইলো।
ক্রমশঃ। ( লেখা ২রা মে, ২০২২)
Wednesday, May 1, 2024
উপলব্ধিঃ সবসে বড়া ক্ষমতা---------
জাগে এর জন্যে কি ভোট দায়ী? তাহ'লে আগাম কেন ব্যবস্থা নেওয়া হ'লো না? কেন আগের থেকে কেন্দ্রীয় প্রশাসন, রাজ্য প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, দেশের বা রাজ্যের চিকিৎসক মহল, বিচার ব্যবস্থা কেউ না কেউ বা সবাই মিলে দূরদৃষ্টি দিয়ে গম্ভীর মারণ বিষয়কে গম্ভীরভাবে পর্যালোচনা করলো না!? আর এরকম কঠিন জটিল অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আপদ্ধর্ম হিসেবে যদি ভোট না ক'রে রাষ্টপতি শাসন জারি করা হ'তো তাহ'লে কি ভুল হ'তো? পরিস্থিতি স্বাভাবিক হ'য়ে এলে পরে রাষ্টপতি বা তদারকি সরকারের মাধ্যমে ভোট করা যেত। অবশ্য হাওয়া ব'লেও একটা কথা আছে। দেশের জনগণের প্রানের চেয়ে কি ভোট বেশী গুরুত্বপূর্ণ? হাওয়ার মূল্য বেশী? তবুও মনে হয় রাষ্টপতি বা তদারকি সরকারের মাধ্যমে করোনা মুক্ত পরবর্তী নিরাপদ সময়ে নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সরকারের বিগত বছরগুলির সাফল্য ও ব্যর্থতার উপর দাঁড়িয়ে পুংখানুপুংখ বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভোট যজ্ঞ সম্পন্ন করা যেত এবং জনগণকেও যুগোপযোগী পরিণত মানসিকতা অর্জন ও প্রকাশ করার সময় ও সুযোগ দেওয়া যেত। আজ দেশের হাইকোর্ট ও সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দিচ্ছে সেই রায় কি তারা ভোটের পূর্বে আগাম সতর্কতা হিসেবে দিতে পারতো না? আজ তাদের চোখ খুললো? আজ যে কথা বলছে আদালত সেই কথা বা সেই পরামর্শ কি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর প্রধানমন্ত্রীকে দিতে পারতো না? তাহ'লে কি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে হাইকোর্ট বা সুপ্রীম কোর্টের মত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পরামর্শ দাতার অভাব!? তাহ'লে সরকার চালানোর ক্ষেত্রে দেশের কঠিন পরিস্থিতিতে পরামর্শ দাতা হিসেবে সুপ্রীমকোর্টের অংশগ্রহণ সংবিধানে সংযুক্ত করা হ'ক। যে ভারত ২০২০ সালে গোটা বিশ্বকে পথ দেখিয়েছিল, করোনা মুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলার জন্য অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছিল, বিভিন্ন দেশকে করোনার ভ্যাক্সিন সরবরাহ করেছিল সেই দেশ ভারতকে আজ এই অল্প সময়ের ব্যবধানে বিশ্বের অন্যান্য দেশ এমনকি ছোট দেশ বাংলাদেশও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। গোটা বিশ্বের কাছে আজ ভারতের মাথা হেট করে দিল! বাচ্চা ছেলের মত আজ আচরণ করলো ভারত! ভারতের নেতৃবৃন্দ আজ প্রমাণ ক'রে দিল তারা আজ কতটা ক্ষমতালোভী, মানুষের জীবনের চেয়ে ক্ষমতা অনেকবেশি দামী! সমস্ত দলের নেতৃবৃন্দ আজ প্রমাণ করলো তাদের দূরদৃষ্টি কতটা ঠুনকো, কতটা অগভীর, কতটা দূর্বল, কতটা ভাঙাচোরা জীবনের অধিকারী তারা। তারা সবাই মিলে প্রমান দিলো, দি হোল থিং ইজ দ্যাটস আ মায়া সবসে বড়া রুপাইয়া নেহী, সবসে বড়া ক্ষমতা!!!!!!!( রচনা ১লা মা, ২০২১ )
প্রবি সমাচার ১
আগেও বলেছি, আবারও বলছি, বারবার বলছি সৎসঙ্গী গুরুভাইবোনেদের দয়াল ছাড়া আপনার সামনে আর কেউ নেই, কিছু নেই। শুধু দয়াল, দয়াল আর দয়াল। মনে রাখবেন দয়াল ছাড়া অন্য কোনও দেবদেবী নির্ভরতা দয়ালের প্রতি বিশ্বাস ভঙ্গের ও বেইমানীর অন্যতম প্রধান কারণ। কোনও দেবদেবীর মধ্যে দয়ালকে দেখতে যাবেন না; যদি দেখতে ইচ্ছে হয় দয়ালের মধ্যে তেত্রিশ কোটি হ'ক আর তেত্রিশহাজার কোটিই হ'ক যত ইচ্ছা হ'ক আর যত বার হ'ক দেশ বিদেশের সব দেবদেবীকে দেখবেন, দেখতে পারেন। যারা দূর্বল, যারা অবিশ্বাসী, যারা কিছুই করে না ফোকটে পেতে চায়, যারা ধান্দাবাজ, যারা কপট, যারা মুখে মারিতং জগতের প্রতিনিধি, যারা লোভী, যারা ভন্ড, যারা ষোলো আনি বৃত্তি-প্রবৃত্তির পূজারি, যারা ঠাকুরকে ভাঙ্গিয়ে খায়, যারা মুখে ঠাকুর ঠাকুর আর কাজে করে চুরি পুকুর, যারা ঠাকুরের জন্য অর্থ প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও ব্যয় করে না আর করলেও নামের মোহে আত্মপ্রতিষ্ঠার কারণে করে, যারা কেন্দ্র, আচার্য মানে না ও আশীর্বাদের ধার ধারে না অথচ ঠাকুর নিয়ে মেতে থাকার নাটক অভিনয় করে এমনতর সৎসঙ্গী কিন্তু সৎসঙ্গী নয়। দুনিয়ার অমূর্ত ভগবান আর যত বাবাজীদের মাঝে আসনে দিনদুনিয়ার মালিক পরমপিতা পুরুষোত্তম সৃষ্টিকর্তা জীব জগতের জীবনের কারণ পরম কারুণিক রক্ত মাংস সংকুল জীবন্ত ইশ্বর শ্রীশ্রীঠাকুর অনূকূল চন্দ্রকে রাখবেন না।
করোনা মহামারীর এই ভয়ংকর বিপদের দিনে উপরিউক্ত অনুভব ও উপলব্ধি সকলের সুবিধার জন্য শেয়ার করলাম। মানতেও পারেন, নাও মানতে পারেন। সকলের সুবিধার জন্য এবং সবসময়ের জন্য যদি নিশ্চিন্তে নির্বিঘ্নে আনন্দময় পরিবেশে বাচতে ও বাচাতে চান প্রিয়জনকে তাহ'লে উপরিউক্ত অনুভব ও উপলব্ধি মাথায় নিয়ে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
১) ইষ্টভৃতি করুন, আগ্রহের সঙ্গে আকুল হ'য়ে করুন আর নাম, নাম, নাম অনবরত নাম করুন।
২) আচার্যদেবের নির্দেশ মানুন।
৩) কপটতা ত্যাগ করুন।
৪) ঠাকুরকে আয়ের উপকরণ করবেন না।
৫) ইষ্ট ও ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠার কাজ কিছু করুন আর না-ই করুন ঠাকুর যা পছন্দ করেন না,
যে কাজে ব্যথা পান সে কাজ করবেন না, বলবেন না।
৬) নেগেটিভ সঙ্গ ত্যাগ করুন তা সে সৎসঙ্গী হ'ক আর যেই-ই হ'ক। বরং একলা থাকুন।
৭) প্রতিমুহুর্ত নিজে ঠাকুর মুখী থাকার অভ্যাস করুন ও পরিবারকে অভ্যাস করান।
৮) টিভিতে অনবরত প্রচারিত করোনা খবর দেখা বন্ধ করুন।
৯) ইউ টিউবে বাবাইদাদার স্পিচ শুনুন।
১০) সদাচার পালন করুন, সহজপাচ্য বাড়ির খাবার খান।
( লেখা ১লা মে, ২০২১ )
উপলব্ধিঃ দ্রষ্টাপুরুষ!
এই যে আজ আবার করোনা ভাইরাস তীব্র ভয়ংকর হ'য়ে ঝাপিয়ে পড়লো দেশবাসীর ওপর এর জন্যে দায়ী কি বা কে?
ঠাকুর বললেন,
"দুর্দ্দশাতে কাবু যখন বৃত্তিও কাবু তা'য়,
বাচার টানে মানুষ তখন বিধির পথে ধায়,
বিধির পথে পুষ্টি পেয়ে চিত্ত সবল হ'লে
বৃত্তি-ধন্দার স্বার্থ নিয়ে আবার ছুটে চলে,
এমনি ক'রে ওঠা-পড়ায় মরণমুখে ধায়,
ইষ্ট-উৎসর্জ্জনে কিন্তু সবই পাল্টে যায়।" (৫৯ অনুশ্রুতি ১ খন্ড)
আমরা ২০২০তে দেখেছি চিন থেকে আগত করোনা ভাইরাসের ভয়ঙ্কর আক্রমণে দেশ তথা গোটা বিশ্বকে বিপর্যস্ত বিধ্বস্ত হ'তে। আমরা দেখেছি কি ভয়াবহ ভয় ও নিদারুণ অবস্থার মধ্যে দিয়ে মানুষ পরিবার পরিজনকে হারিয়ে না খেয়ে না ঘুমিয়ে ঘর ছাড়া বাড়ি ছাড়া হ'য়ে দিন কাটিয়েছে। আমরা দেখেছি অর্থনৈতিক কি দুঃসহ যাতনার মধ্যে দিন কেটেছে সাধারণ ফেরিওয়ালা, বাড়ি বাড়ি কাজ করা, দোকানে দোকানে হাটে-বাজারে, মাঠে-ঘাটে কাজ ক'রে দিন আনে দিন খাওয়া থেকে শুরু ক'রে অফিসে কাছারিতে, কলে-কারখানায় কাজ করা এবং ছোটো-বড় ও অতি বড় ব্যবসায়ী ইত্যাদি সমস্ত স্তরের মানুষদের। দেখেছি রাষ্ট্রনেতা থেকে শুরু ক'রে পথের ভিখিরি, দারিদ্র্য সীমার নিচে থেকে শুরু ক'রে বড়লোক অতি বড়লোক পর্যন্ত কি শারীরিক মানসিক আত্মিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন কাটিয়েছে, দুর্দ্দশাতে কাবু হয়েছে, হয়েছিল কাহিল ও ঘায়েল। সেই চরম দুর্দ্দশার সময়ে বাচার জন্য, দেশবাসীকে বাচাবার জন্য দেশনেতারা বিভ্রান্ত, উদভ্রান্ত! তারা জানে না এই অবস্থায় কি করণীয় ও কিভাবে নিজে বাঁচবে ও বাচাবে। তখন যা উপযুক্ত যুক্তিযুক্ত বিজ্ঞান ও ধর্ম্ম সম্মত মনে হয়েছে তাই করেছে। প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আবার সেই পদক্ষেপের বিরদ্ধাচরণ হয়েছে তীব্রভাবে কিন্তু নিজেরা বিরুদ্ধবাদীরা কোনও সলিউশন দিতে পারেনি সেই কঠিন সময়ে। তবু্ও বিশ্বের মধ্যে ভারত দেরীতে হ'লেও চরম গরম বিরুদ্ধতার মধ্যেও নিজের সীমিত ক্ষমতার মধ্যে দ্রুত সামলে নেবার চেষ্টা করেছে। করোনার বিষাক্ত ছোবলের হাত থেকে বাচার জন্য দ্রুত সবরকম প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণ ক'রে নিজে বেচে থেকে অন্যকে বাচাবার ধর্ম্ম পালন করেছে। ঠাকুরের বলা অনুযায়ী বাচার তাগিদে মোটামুটি বৃত্তি-প্রবৃত্তির লাগাম টেনে বিধির পথে চ'লে করোনার মারণ থাবাকে রুখে দিয়েছিল। ঠাকুর আরও বলেছিলেন, "অন্যে বাচায় নিজে থাকে ধর্ম্ম ব'লে জানিস তাকে"---ধর্ম্মের এই মূল অর্থকে রক্ষা করেছিল।
কিন্তু আমরা পরক্ষণেই কি দেখলাম?
ভারত যখন তৎপরতার সঙ্গে করোনাকে মোকাবিলা করার জন্য বিধির পথে চলা শুরু করলো এবং বিধির পথে চ'লে পুষ্টি পেয়ে সফলতা হাসিল ক'রে চিত্তকে সবল করলো তখন সেই সফলতার আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলে আবার বৃত্তি ধন্দার স্বার্থ নিয়ে আবার ছুটে চললো, ছুটে চললো লাগামহীন বেলেল্লাপনা ভাবে। আর সেই ছুটে চলা শুরু হ'লো ক্ষমতা দখলের লোভে নির্বাচনের নামে! নির্বাচনে আমরা কি দেখেছি? নির্বাচনের প্রচার কর্মকান্ডে যা যা হয়েছে সবই আমরা আমাদের নিজস্ব এলাকায় এলাকায় দেখেছি ও শুনেছি এবং টিভির চ্যানেলে চ্যানেলে বিভিন্ন জায়গার প্রচার অভিযানের মিছিল মিটিংয়ের ছবি দেখেছি ও ভাষণ শুনেছি। আর সেই লাগামছাড়া অবস্থার সুযোগ নিতে দ্বিধা করেনি করোনা নামক বিষাক্ত সাপ! এক ছোবলে ছবি ক'রে দিতে দেরি করেনি করোনা। বিষাক্ত কালনাগিনীর গলা শক্ত হাতে মুঠোয় চেপে ধরার পর সামান্য আলগা হ'তেই ভয়ংকর ফোস শব্দে ফণা তুলে মাথা ঘুরিয়েই বসিয়ে দিল বিষাক্ত ছোবল করোনা নাম্নী কালনাগিনী। আর তারপরে যা হবার তা-ই হ'লো। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই।
আশ্চর্যের যেটা তা হ'লো এই পরিণতির আন্দাজ করতে না পারা। আর আন্দাজ করতে পেরেও যদি আগাম সাবধানতা অবলম্বন ক'রে না থাকে তাহ'লে ধ'রে নিতেই হবে পহেলে ক্ষমতা বাদ মে জনতা! তো ভাড় মে যায় জনতা। ভোট শেষ এখন করোনা মোকাবিলায় দেশ!
তাই আমরা দেখতে পেলাম ঠাকুরের বাণীর কি অদ্ভুত মিল পরিস্থিতির সঙ্গে!!!! ঠাকুরের কথা অনুযায়ী এমনিভাবেই ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে আমাদের মৃত্যুর দিকে জেনে-বুঝেই এগিয়ে যেতে হবে।
কিন্তু আজ যদি নেতানেত্রীদের জীবনে একজন দ্রষ্টাপুরুষ থাকতো যাকে আমরা ইষ্ট বলি অর্থাৎ মঙ্গলের মূর্ত রুপ বলি যিনি বহু বহু দূরের জিনিস দেখতে পান বা সবটা দেখতে পান এমন একজন যদি থাকতো তাহ'লে আজ ভারতের বর্তমান এই কঠিন অবস্থা হ'তো না। শিবাজীর জীবনে যেমন রামদাস ছিল আর অর্জুনের ছিল স্বয়ং জীবন্ত ইশ্বর শ্রীকৃষ্ণ। এরকম অনেক উদাহরণ দেওয়া যায়। চন্দ্রগুপ্তের পিছনে যেমন চাণক্য ছিল কিন্তু দেশপ্রেমিক বীর রানাপ্রতাপের পিছনে কেউ ছিল না, ছিল না প্রবল প্রতাপান্বিত রাবণের পিছনে কেউ। বিরাট সাম্রাজ্যের অধীশ্বর, বিশাল শক্তিশালী, অর্থবল, লোকবল, অস্ত্রশস্ত্র-এ বলীয়ান দুর্যোধনের পিছনে কেউ ছিল না। এদের সবার ইতিহাস সবারই জানা। তাই ঠাকুরের বলা অনুযায়ী যদি দেশনেতাদের পিছনে কোনও দ্রষ্টাপুরুষ থাকতো তাহলে আজ আমার দেশের এই করুণ অবস্থা হ'তো না। ঠাকুরের বলা অনুযায়ী ইষ্ট উৎসর্জনায় সব বদলে যেত অর্থাৎ উন্নতি বা বিস্তার অভিমুখী সৃষ্টিতে দেশের সব কিছু বদলে যেত। কিন্তু তা হ'ল না। কলিযুগ ব'লেই বোধহয় হ'তে নেই। এই যুগ 'অন্যে মারে নিজে বাচে অধর্ম ব'লে জানিস তাকে' যুগ। ( রচনা ১লা মে, ২০২১ )
