হে দয়াল! অশান্ত মন হ'ক শান্ত তোমার পরশে
তোমার ছোঁয়ায় যাক জুড়িয়ে শরীর আমার তপ্ত ক্লান্ত।
মন তুমি একবার থমকে দাঁড়াও,
বিবেকের ডাকে দাও সাড়া দাও।
সময় যায় যে চ'লে পরপারের ডাক এলো ব'লে!
পাততাড়ি গুটিয়ে যেতে হবে যে চ'লে
ওপারে এপারের সবকিছু ফেলে!
মন! তমসার পার অচ্ছেদ্যবর্ণ মহান পুরুষ
ইষ্টপ্রতীকে আবির্ভূত হ'য়ে ডাকছে তোমায়
আকুল স্বরে তোমায় বাঁচাবে ব'লে !
সকাল থেকে সন্ধ্যে আবার সন্ধ্যে থেকে সকাল
জীবন মাঝে উঠলো শুধু ভাঙ্গার ঝড়,
গড়ে তুললাম ভালোবেসে অসীম আগ্রহে হিংসার গড়,
জীবন মাঝে সূর্যস্নাত উজ্জ্বল ভোরে দেখি বিষন্ন আলোর বিকাল!
হে দয়াল! মন কৃমির জ্বালায় অস্থির আমি বেসামাল
শুধু ভাঙছি, ভাঙছি, গড়া জিনিস ভাঙছি আর ভাঙছি
মত্ত পাগল আমি ভাঙ্গার খেলায় হ'য়ে মাতাল।
মন! তুমি একবারও কি ভেবেছো দেখে?
তুমি যা করছো আর ক'রে রেখেছো
তাই তুমি পাবে ফিরে শেষের ভয়ংকর সেদিনে
সুদ আর আসল সহ মেপে মেপে।
কি দিয়েছো তুমি সমাজকে আর কি করেছো
তুমি মানবজাতির তরে? হিংসার উস্কানি আর
ভাঙ্গার ফর্মুলায় বেঁধেছ গান, লিখেছো কবিতা
জীবন দুর্বিষহ করার খেলায় 'খেলা হবে, খেলা হবে'
ব'লে কষেছো খেলার ছক আর এঁকেছ যত ছবি তা
সে যতই উজ্জ্বল আর বর্ণময় হ'ক না কেন
শেষের সেদিনে ব্যর্থ মূল্যহীন হবে সব জেনো।
(লেখা ৭ই সেপ্টেম্বর'২০২১)
Thursday, September 7, 2023
Tuesday, September 5, 2023
ত্রিফলার ত্রিবর্ণ!!!!!!!!! (২)
প্রথম ফলার খোঁচায় বিব্রত মন ফিরে আসে নিজ নিকেতনে। নিজের সঙ্গে নিজের হ'য়ে চলে বাদানুবাদ। মন বলে, বাঁশ কেন ঝাড়ে, আয় মোর ......; বিবেক বলে, তা কেন? কাঁচায় না নুইলে বাঁশ, পাকায় করে ঠাস ঠাস। মন বলে, বাড়ির খেয়ে মোষ তাড়ানো ছাড়া আর কি? বিবেক বলে, 'পড়শিরা তোর নিপাত যাবে, তুই বেঁচে সুখ খাবি বুঝি? যা ছুটে যা তাদের বাঁচা, তারাই যে তোর বাঁচার পুঁজি'। এমনিভাবে হ'য়ে চলে দু'পক্ষের মহারণ। বেলা গড়িয়ে আসে দুপুর। কঠিন বাস্তব, রুখোসুখো সত্য পাল্লা ভারী ক'রে ঢলে পড়তে চায় মন আঙিনায় আর হাবুডুবু খেতে খেতে বারেবারে বিবেক ভেসে ওঠে, ভেসে থাকতে চায়, বুক ভরে নিতে চায় শ্বাস কিন্তু সিদ্ধান্তহীনতা জীবনকে ক'রে তোলে ব্যতিব্যস্ত। অবশেষে পথে পা রাখে জীবন। গন্তব্য পিয়ারলেস হসপিটাল।
স্ত্রীকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। ট্রেনে হাওড়া এসে ট্যাক্সিতে ধর্মতলা চাঁদনি চকে এসে মেট্রো রেলে চড়ে বসলাম। দ্রুতগতির ট্রেন একের পর এক ষ্টেশন ছাড়িয়ে শেষ ষ্টেশন কবি সুভাষ স্টেশনে এসে থামলো। সেখান থেকে অটোয় চেপে সোজা পিয়ারলেস হসপিটাল। সেখানে ভাইপো বাবাই অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য। নির্ধারিত সময় পার হ'য়ে গেছিল। যেহেতু সিরিয়াস পেশেন্ট এবং বেশ কিছুদিন হয়ে গেছে এই হাসপাতালেই তাই একটু ছাড় ছিল বিশেষ ক্ষেত্রে। আমরা এগিয়ে গেলাম দোতলার নির্দিষ্ট কেবিনের দিকে। ভিজিটিং আওয়ার্স শেষে নার্সিং চলছিল পেশেন্টের। ভাইপো বাবাই বন্ধ দরজায় টোকা দিতে নার্স বেরিয়ে একটু অপেক্ষা করতে বলল; তারপর একটু পরে এসে দরজা খুলে দিয়ে ভেতরে আসতে বলল। আমরা ভেতরে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়ালাম। পেশেন্ট ভাইপো বাবাই-এর মা। সেরিব্রাল অ্যাটাকে আক্রান্ত হ'য়ে ভর্তি হয়েছে। অপারেশন হয়েছে মাথায়। এইদিকটা নিউরো পেশেন্টদের জন্য, যতগুলি ঘর আছে প্রতিটিতে দুটি ক'রে বেড। পেশেন্টকে খুব ফ্রেশ লাগলো কিন্তু আচ্ছন্ন অবস্থা। ডাকলে চোখ খুলছে আবার বন্ধ ক'রে দিচ্ছে। নার্স হাসি মুখে বললো, কি হ'ল চোখ খোলো। দেখো, তোমার বাড়ির লোক এসেছে। ওদিকে মুখ ঘোরাও। কথাটা বলেই হাত দিয়ে যেদিকে আমার স্ত্রী মাথার সামনে দাঁড়িয়েছিল সেদিকে মুখটা ঘুরিয়ে দিল। নার্সের এ-হেন আচরণে মনটা তৃপ্ত হয়ে গেল।
তারপর অনেকক্ষণ কথা বলার পর মনে একটা খুশির ভাব নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলাম। বাইরে বেরিয়ে এসে আরও অনেকে যারা নীচে অপেক্ষা করছিল সবাই মিলে একটা চায়ের দোকানে গিয়ে দাঁড়ালাম। সবার মনে একটু নিশ্চিন্ত ভাব লক্ষ্য করলাম। সবাই একই কথা বলছে, 'আজকে সবচেয়ে এতদিনের মধ্যে বেশী ফ্রেশ লাগছিল পেশেন্টকে'। বাবাই-এর মাসীর মেয়ে টিংকু আমাকে দেখে হাসতে হাসতে বলল, 'বাপু আজ তুমি এসেছো তাই আজ মাসী সবচেয়ে বেশী ফ্রেশ। মনে জোর পেয়ে গেছে তুমি আসাতে'। আমি মনে মনে ঠাকুরের উদেশ্যে প্রণাম জানালাম আর বললাম ঠাকুর তুমি বৌদিকে তাড়াতাড়ি একেবারে সুস্থ ক'রে দাও, বেশীদিন যেন এখানে থাকতে না হয়'। আলোচনায় যা শুনলাম তার মর্মার্থ হচ্ছে, ডাক্তারদের বক্তব্য, এইরকম সেরিব্রাল অ্যাটাকের পেশেন্ট কখনোই এত তাড়াতাড়ি রেসপন্স দেয় না। কোথায় জানি কি একটা ঘটছে।
তারপর অনেকক্ষণ কথা বলার পর মনে একটা খুশির ভাব নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলাম। বাইরে বেরিয়ে এসে আরও অনেকে যারা নীচে অপেক্ষা করছিল সবাই মিলে একটা চায়ের দোকানে গিয়ে দাঁড়ালাম। সবার মনে একটু নিশ্চিন্ত ভাব লক্ষ্য করলাম। সবাই একই কথা বলছে, 'আজকে সবচেয়ে এতদিনের মধ্যে বেশী ফ্রেশ লাগছিল পেশেন্টকে'। বাবাই-এর মাসীর মেয়ে টিংকু আমাকে দেখে হাসতে হাসতে বলল, 'বাপু আজ তুমি এসেছো তাই আজ মাসী সবচেয়ে বেশী ফ্রেশ। মনে জোর পেয়ে গেছে তুমি আসাতে'। আমি মনে মনে ঠাকুরের উদেশ্যে প্রণাম জানালাম আর বললাম ঠাকুর তুমি বৌদিকে তাড়াতাড়ি একেবারে সুস্থ ক'রে দাও, বেশীদিন যেন এখানে থাকতে না হয়'। আলোচনায় যা শুনলাম তার মর্মার্থ হচ্ছে, ডাক্তারদের বক্তব্য, এইরকম সেরিব্রাল অ্যাটাকের পেশেন্ট কখনোই এত তাড়াতাড়ি রেসপন্স দেয় না। কোথায় জানি কি একটা ঘটছে।
যাই হ'ক এবার বাড়ি ফেরার পালা। বাবাই থেকে গেল, থেকে গেল আমার আর এক ভাইপো জয় সঙ্গে বাবাই-এর ছোটো মামা। ওরা পরে যাবে ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করে। আমরা রিক্সায় রওনা দিলাম স্টেশনের দিকে। স্টেশনে এসে সবাই ট্রেনে উঠে বসলাম। বাবাই-এর মামাবাড়ির লোকেরা মহানায়ক উত্তমকুমার স্টেশনে নেবে গেল। বাবাই-এর মামা যাবার সময় বলে গেল, আপনি এখন 'সৎসঙ্গ' নিয়ে খুব ব্যস্ত, তাই না? আমি বললাম, আসলে 'ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্র'-এর দায়িত্ব কেন্দ্র থেকে দেওয়ায় একটু ব্যস্ত, এ ছাড়া আর কিছুই না। বাবাই-এর মামার কথাটার মধ্যে আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধামিশ্রিত ভাব ছিল। মনটা খুশিতে ভরে গেল। সকালের ঘটনার পর নার্স, টিংকু ও মামার ব্যবহার বিব্রত মনের ওপর খুশির একটা প্রলেপ এঁকে দিল। একসময় ট্রেন এসে আমাদের নির্দিষ্ট ষ্টেশন পার্ক স্ট্রিটে এসে থামলো। আমি আর স্ত্রী ট্রেন থেকে নেবে পড়লাম। তারপর ট্যাক্সি না পেয়ে অগত্যা হাওড়া গামী বাসে উঠে পড়লাম। বাস ছুটে চলল হাওড়ার দিকে। ভিড়ে ঠাসা বাসের গুমোট হাওয়ায় এক ঝলক দখিনা বাতাস বয়ে গেল। মন বলে উঠলো, পৃথিবী এখনো সুন্দর!!!!!!!!!!! দখিনা বাতাসটা কি?
ক্রমশঃ (লেখা ৬ই সেপ্টেম্বর-২০১৬)
প্রবন্ধঃ ভুলের সাথী আমি।
ভুলভ্রান্তি মানুষের হয়
শুধরে যদি চলিস সোজা
দীপ্ত হবি তৃপ্তি পাবি
হালকা হবে ভুলের বোঝা।------ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র।
ভুল, ভুল, ভুল! সবই ভুল! এ জীবনের পাতায় পাতায় যা লেখা সে ভুল! ভুল! সবই ভুল! ভুলের ভুলভুলাইয়ার চোরাবালিতে আজ আমরা সবাই হারিয়ে যাচ্ছি। হারিয়ে যাচ্ছি জান্তে-অজান্তে! অজান্তে ভুলের চোরাবালিতে হারিয়ে যাওয়ার মধ্যে একটা এক্সকিউজ থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু জান্তে ভুলের ভুলভুলাইয়ার ঘুলঘুলিতে হারিয়ে যাওয়াকে কিভাবে দেখবো? কিভাবে এই জেনে শুনে ভুলের বিষ করেছি পান'' মানসিকতাকে বিচার করবো? আমরা সবাই আজ সেই যে কবে থেকে রবীন্দ্রনাথের পরমভক্ত হ'য়ে গেছি সেই ভুলের ট্র্যাডিশন "আমি জেনে শুনে বিষ করেছি পান" সমানে ব'য়ে চলেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম! কবে মুক্তি পাবে মানুষ এই বিষম ভুলের ভুলভুলাইয়ার যাঁতাকল থেকে!? এই ভুলের ভুলভুলাইয়াই প'ড়ে প্রতিনিয়ত কত শত লক্ষ মানুষ যে তার ভবিষ্যৎ জীবনকে অনিশ্চিত ক'রে তুলছে, ঘোর অন্ধকারে নিক্ষেপ করেছে এবং হতাশায় জর্জরিত হ'য়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে তার ইয়ত্তা নেই! কিন্তু কতদিন মানুষ ভুল করবে? জীবন তো একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য! সফর শেষে তাকে তো সব ছেড়ে চলে যেতে হবে তবে কেন জীবন নিয়ে এত উদাসীনতা!? ভুলের পর ভুল আর ভুল আর ভুল! ভুলের জালে জড়িয়ে যাওয়ার এত ইচ্ছা কেন মানুষের!? প্রথম প্রথম ভুলের ক্ষেত্রে মানুষের দূর দৃষ্টির অভাব, গাইডেন্সের অভাব থাকতে পারে কিন্তু পরবর্তীতে সেই ভুল থেকে যদি শিক্ষা লাভ না করে, ভুল ধরিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও সতর্ক না হয়, নিজেকে শুধরে না নেয়, নিজেকে সংযত ও সংশোধন করার চেষ্টা না করে, সিরিয়াস না হয়, জীবনের বা কাজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকার চেষ্টা না করে এবং উত্তরসূরি যাতে ভুল না করে তার জন্য পূর্বসূরিদের যে সতর্ক ও সজাগ থাকার প্রয়োজন সেই প্রয়োজনকে যদি প্রয়োজন ব'লে মনে না করে, গুরুত্ব না দেয়, থাকে উদাসীন তাহলে সেই ভুল তার শাখা প্রশাখা ছড়িয়ে ক্রমশঃ অক্টোপাশের মত জড়িয়ে ধরে জীবনকে! আজ জীবন যা বা যেটাকে ঠিক মনে করে কাল হ'য়ে যায় তা বেঠিক, আবার কাল যা ঠিক ব'লে মনে হবে পরশু হ'য়ে যাবে তা বেঠিক! আর তার ভিত্তি হ'লো ভুল! ভুল!! ভুল!!! ভুলের সাথী আমি!
মনে প্রশ্ন জাগে এই ভুল থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি?
এই ভুল থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় সম্পর্কে শ্রীশ্রীঠাকুর উপরে উল্লেখিত বাণীটি দিয়েছিলেন। ভুলভ্রান্তি মানুষের হয়। কথায় আছে, To err is human. কিন্তু ঠাকুরের কথামত সেই ভুল শুধরে যদি নেয় মানুষ আর সোজা পথে চলে তাহলে মানুষ দীপ্ত হয় অর্থাৎ আলোকিত হ'য়ে ওঠে, উজ্জ্বল হ'য়ে ওঠে, তেজোময় হয় মানুষ! নিজেকে প্রকাশ করতে পারে সবদিক দিয়ে সঠিকভাবে! তখন আনন্দে ভরে ওঠে মনপ্রাণ! একটা অনির্বচনীয় ফুর্তি, শক্তিতে ভ'রে ওঠে বুক! তৃপ্ত হয় শরীর-মন-আত্মা! আর এর ফলে মানুষ ঐ ভুলের মারাত্মক বোঝা থেকে উদ্ধার পায়, হালকা হয় ভুলের বোঝা।
এখন পরবর্তী প্রশ্ন: এই শুধরে নেওয়া ব্যাপারটা কিসের ওপর নির্ভর করে? ভুল ক'রে যদি ভুল করেছি তা বুঝতে না পারি, ধরতে না পারি তাহলে ভুল শুধরাবোর প্রশ্নটাই হ'য়ে যায় অবান্তর! আর শুধরাবো-ই বা কি ক'রে? এর জন্যে গাইডেন্সের প্রয়োজন। গাইড বা পথ প্রদর্শক বা চলতি কথায় গুরু বা আদর্শের প্রয়োজন। যে বা যিনি আমায় আমার ভুল ধরিয়ে দেবে এবং ভুল শুধরানোর পথও ব'লে দিয়ে চলার কায়দা শিখিয়ে দেবে। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র এই প্রসঙ্গে বলেন, "বিপাক পথে হাত ধ'রে যে চলার কায়দা জানিয়ে দেয়, তাঁকেই জানিস গুরু ব'লে অভয় পথে সেই তো নেয়।"
এর থেকে আমরা বুঝতে পারি আমার মাথার ওপর এমন একজনের প্রয়োজন যে আমার সামনে ভুলের ভুলভুলাইয়ার ঘোর অন্ধকারে আলোর বিন্দু হ'য়ে দেখা দেবে!
মন বলে, কে হবে সেই আলোর বিন্দু?
সেই আলোর বিন্দু যে কেউ হ'তে পারে। মা-বাবা, ভাইবোন, বন্ধু ইত্যাদি যে কেউ শিক্ষক রূপে, গুরু রূপে, আদর্শ রূপে আলোর বিন্দু হ'য়ে আমায় ঘোর অন্ধকারে পথ দেখাতে পারে। তবে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, "সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ যার, উন্নতি হয় অবাধ তার।"
এই সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ কে বা কি?
আমার মা-বাবা, ভাইবোন, দাদাদিদি, বন্ধুবান্ধব, মুনি-ঋষি-সাধক আমার শিক্ষক, গুরু বা আদর্শ হ'তে পারেন কিন্তু তাঁদের যতদূর দেখার ক্ষমতা থাকুক না কেন, অভিজ্ঞতা যতই হ'ক না কেন তাদের দেখানো পথের মধ্যে, অভিজ্ঞতার মধ্যে লিমিটেশন আছে। সীমাবদ্ধ জ্ঞানের সমাধান আছে। তারা এমনকি অন্তর্যামী হ'তে পারেন কিন্তু তাঁরা কেউই সর্বজ্ঞ নন! তাই তাঁদের দেখানো পথ বা সমাধানের মধ্যে চুলের মত সূক্ষ্ম ফাঁক থেকে যাবে। আর সেই ফাঁক দিয়ে সমস্যার বেনো জল ঢুকে পড়তে পারে যে কোনও মুহূর্তে, যে কোনও সময়ে! তাঁরা যতবড় মহাত্মা হ'ন না কেন শেষ কথা তাঁরা বলতে পারেন না! এই সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ হ'লেন ঈশ্বর স্বয়ং! এই সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ হ'লেন ঈশ্বরের তাঁর সৃষ্টির বুকে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষের মাঝে, মানুষ মায়ের গর্ভে মানুষের পৃথিবীতে মানুষ হ'য়ে নেবে আসা মানুষটি! ঈশ্বর স্বয়ং তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষের মাঝে তাঁর সৃষ্টিকে রক্ষা করার জন্য মানুষের রূপ ধ'রে নেবে আসেন আর সেই মানুষ রূপী ঈশ্বরই হ'লেন সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ! তিনিই হ'লেন প্রকৃত গুরু অর্থে গুরু! এ ছাড়া কোনও মুনি-ঋষি-সাধক বা আধ্যাত্মিক জগতের কোনও মহাপুরুষ-ই গুরু নন! তাঁরা সবাই গুরুমুখ! গুরুরূপী জীবন্ত ঈশ্বরের কাছে পৌঁছনোর মুখ! একমাত্র গুরু হ'লেন, সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ হ'লেন সেই এক ও অদ্বিতীয় জীবন্ত ঈশ্বর পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীরামচন্দ্র, শ্রীশ্রীকৃষ্ণ, শ্রীশ্রীবুদ্ধ, শ্রীশ্রীযীশু, শ্রীশ্রীমোহাম্মদ, শ্রীশ্রীমহাপ্রভু, শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ও সর্বশেষ ঘোর কলির যুগপুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র! এছাড়া কেউই গুরু নন! নন সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শও!! পৃথিবীর ৭০০কোটি মানুষকে যদি ভুলের ভয়ঙ্কর বিষাক্ত মারণ ছোবল থেকে রক্ষা পেতে হয়, পৃথিবী নামক গ্রহকে মানুষের ভয়াবহ ভুলের কারণে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হয় তাহলে তাঁর শ্রীচরণ তলে আসতেই হবে নতুবা বিশ্বজুড়ে দাদাদের ভয়ঙ্কর ভুলের পারমানবিক বোমায় ধ্বংস হ'য়ে যাবে ঈশ্বরের সৃষ্টি এই পৃথিবী!!!!!! পৃথিবীর কোনও ক্ষমতাধর মানুষ নেই তা রাজনীতি, ধর্ম, বিজ্ঞান ইত্যাদি যে ক্ষেত্রেই হ'ক না কেন এই পৃথিবীকে, এই পৃথিবীর মানবজাতিকে আগামী ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে!!!
এখন মনে মনে মন ভাবে এই সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শকে গ্রহণ করার পরও সৎসঙ্গী হিসেবে আমাদের কেন কষ্ট পেতে হয়!? দুর্দশায় কাবু হ'তে হয়!? তাহলে কি শ্রীশ্রীঠাকুর মিথ্যা!?
এককথায় এর উত্তর: কপটতা! সীমাহীন কপটতা! ভয়ঙ্কর ভয়াবহ কপটতা!! মন-মুখ এক না হওয়া!!! মুখ আর মুখোশের নীচ ঘৃণ্য লড়াই!!!! ঠাকুরের দীক্ষিতরা ঠাকুরকে টেকেন ফর গ্রান্টেড ক'রে নিয়েছে, বানিয়ে নিয়েছে আয়ের উপকরণ! আর তার ফলে ভুলের ভুলভুলাইয়ার অন্ধকার ঘুলঘুলির অভ্যন্তরে অবস্থিত ভুলের বিষাক্ত ছোবলে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে জীবন-যৌবন! এর হাত থেকে বাঁচার কোনও উপায় নেই যদি মানুষ, সৎসঙ্গী গুরুভাইবোনেরা সতর্ক হয়, সংশোধিত, পরিবর্তিত, শুদ্ধ, পবিত্র না হয়!!!!!!
তাই আবার বলি, বারবার বলি,
"ভুলভ্রান্তি মানুষের হয়
শুধরে যদি চলিস সোজা
দীপ্ত হবি তৃপ্তি পাবি
হালকা হবে ভুলের বোঝা।"
তাই আসুন, নিজের ভুল শুধরে নিয়ে শান্ত-পবিত্র-শুদ্ধ হ'য়ে নিজেকে সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের পূজার উপাচার ক'রে তুলি!!!!
(লেখা ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২০)
শুধরে যদি চলিস সোজা
দীপ্ত হবি তৃপ্তি পাবি
হালকা হবে ভুলের বোঝা।------ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র।
ভুল, ভুল, ভুল! সবই ভুল! এ জীবনের পাতায় পাতায় যা লেখা সে ভুল! ভুল! সবই ভুল! ভুলের ভুলভুলাইয়ার চোরাবালিতে আজ আমরা সবাই হারিয়ে যাচ্ছি। হারিয়ে যাচ্ছি জান্তে-অজান্তে! অজান্তে ভুলের চোরাবালিতে হারিয়ে যাওয়ার মধ্যে একটা এক্সকিউজ থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু জান্তে ভুলের ভুলভুলাইয়ার ঘুলঘুলিতে হারিয়ে যাওয়াকে কিভাবে দেখবো? কিভাবে এই জেনে শুনে ভুলের বিষ করেছি পান'' মানসিকতাকে বিচার করবো? আমরা সবাই আজ সেই যে কবে থেকে রবীন্দ্রনাথের পরমভক্ত হ'য়ে গেছি সেই ভুলের ট্র্যাডিশন "আমি জেনে শুনে বিষ করেছি পান" সমানে ব'য়ে চলেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম! কবে মুক্তি পাবে মানুষ এই বিষম ভুলের ভুলভুলাইয়ার যাঁতাকল থেকে!? এই ভুলের ভুলভুলাইয়াই প'ড়ে প্রতিনিয়ত কত শত লক্ষ মানুষ যে তার ভবিষ্যৎ জীবনকে অনিশ্চিত ক'রে তুলছে, ঘোর অন্ধকারে নিক্ষেপ করেছে এবং হতাশায় জর্জরিত হ'য়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে তার ইয়ত্তা নেই! কিন্তু কতদিন মানুষ ভুল করবে? জীবন তো একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য! সফর শেষে তাকে তো সব ছেড়ে চলে যেতে হবে তবে কেন জীবন নিয়ে এত উদাসীনতা!? ভুলের পর ভুল আর ভুল আর ভুল! ভুলের জালে জড়িয়ে যাওয়ার এত ইচ্ছা কেন মানুষের!? প্রথম প্রথম ভুলের ক্ষেত্রে মানুষের দূর দৃষ্টির অভাব, গাইডেন্সের অভাব থাকতে পারে কিন্তু পরবর্তীতে সেই ভুল থেকে যদি শিক্ষা লাভ না করে, ভুল ধরিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও সতর্ক না হয়, নিজেকে শুধরে না নেয়, নিজেকে সংযত ও সংশোধন করার চেষ্টা না করে, সিরিয়াস না হয়, জীবনের বা কাজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকার চেষ্টা না করে এবং উত্তরসূরি যাতে ভুল না করে তার জন্য পূর্বসূরিদের যে সতর্ক ও সজাগ থাকার প্রয়োজন সেই প্রয়োজনকে যদি প্রয়োজন ব'লে মনে না করে, গুরুত্ব না দেয়, থাকে উদাসীন তাহলে সেই ভুল তার শাখা প্রশাখা ছড়িয়ে ক্রমশঃ অক্টোপাশের মত জড়িয়ে ধরে জীবনকে! আজ জীবন যা বা যেটাকে ঠিক মনে করে কাল হ'য়ে যায় তা বেঠিক, আবার কাল যা ঠিক ব'লে মনে হবে পরশু হ'য়ে যাবে তা বেঠিক! আর তার ভিত্তি হ'লো ভুল! ভুল!! ভুল!!! ভুলের সাথী আমি!
মনে প্রশ্ন জাগে এই ভুল থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি?
এই ভুল থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় সম্পর্কে শ্রীশ্রীঠাকুর উপরে উল্লেখিত বাণীটি দিয়েছিলেন। ভুলভ্রান্তি মানুষের হয়। কথায় আছে, To err is human. কিন্তু ঠাকুরের কথামত সেই ভুল শুধরে যদি নেয় মানুষ আর সোজা পথে চলে তাহলে মানুষ দীপ্ত হয় অর্থাৎ আলোকিত হ'য়ে ওঠে, উজ্জ্বল হ'য়ে ওঠে, তেজোময় হয় মানুষ! নিজেকে প্রকাশ করতে পারে সবদিক দিয়ে সঠিকভাবে! তখন আনন্দে ভরে ওঠে মনপ্রাণ! একটা অনির্বচনীয় ফুর্তি, শক্তিতে ভ'রে ওঠে বুক! তৃপ্ত হয় শরীর-মন-আত্মা! আর এর ফলে মানুষ ঐ ভুলের মারাত্মক বোঝা থেকে উদ্ধার পায়, হালকা হয় ভুলের বোঝা।
এখন পরবর্তী প্রশ্ন: এই শুধরে নেওয়া ব্যাপারটা কিসের ওপর নির্ভর করে? ভুল ক'রে যদি ভুল করেছি তা বুঝতে না পারি, ধরতে না পারি তাহলে ভুল শুধরাবোর প্রশ্নটাই হ'য়ে যায় অবান্তর! আর শুধরাবো-ই বা কি ক'রে? এর জন্যে গাইডেন্সের প্রয়োজন। গাইড বা পথ প্রদর্শক বা চলতি কথায় গুরু বা আদর্শের প্রয়োজন। যে বা যিনি আমায় আমার ভুল ধরিয়ে দেবে এবং ভুল শুধরানোর পথও ব'লে দিয়ে চলার কায়দা শিখিয়ে দেবে। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র এই প্রসঙ্গে বলেন, "বিপাক পথে হাত ধ'রে যে চলার কায়দা জানিয়ে দেয়, তাঁকেই জানিস গুরু ব'লে অভয় পথে সেই তো নেয়।"
এর থেকে আমরা বুঝতে পারি আমার মাথার ওপর এমন একজনের প্রয়োজন যে আমার সামনে ভুলের ভুলভুলাইয়ার ঘোর অন্ধকারে আলোর বিন্দু হ'য়ে দেখা দেবে!
মন বলে, কে হবে সেই আলোর বিন্দু?
সেই আলোর বিন্দু যে কেউ হ'তে পারে। মা-বাবা, ভাইবোন, বন্ধু ইত্যাদি যে কেউ শিক্ষক রূপে, গুরু রূপে, আদর্শ রূপে আলোর বিন্দু হ'য়ে আমায় ঘোর অন্ধকারে পথ দেখাতে পারে। তবে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, "সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ যার, উন্নতি হয় অবাধ তার।"
এই সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ কে বা কি?
আমার মা-বাবা, ভাইবোন, দাদাদিদি, বন্ধুবান্ধব, মুনি-ঋষি-সাধক আমার শিক্ষক, গুরু বা আদর্শ হ'তে পারেন কিন্তু তাঁদের যতদূর দেখার ক্ষমতা থাকুক না কেন, অভিজ্ঞতা যতই হ'ক না কেন তাদের দেখানো পথের মধ্যে, অভিজ্ঞতার মধ্যে লিমিটেশন আছে। সীমাবদ্ধ জ্ঞানের সমাধান আছে। তারা এমনকি অন্তর্যামী হ'তে পারেন কিন্তু তাঁরা কেউই সর্বজ্ঞ নন! তাই তাঁদের দেখানো পথ বা সমাধানের মধ্যে চুলের মত সূক্ষ্ম ফাঁক থেকে যাবে। আর সেই ফাঁক দিয়ে সমস্যার বেনো জল ঢুকে পড়তে পারে যে কোনও মুহূর্তে, যে কোনও সময়ে! তাঁরা যতবড় মহাত্মা হ'ন না কেন শেষ কথা তাঁরা বলতে পারেন না! এই সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ হ'লেন ঈশ্বর স্বয়ং! এই সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ হ'লেন ঈশ্বরের তাঁর সৃষ্টির বুকে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষের মাঝে, মানুষ মায়ের গর্ভে মানুষের পৃথিবীতে মানুষ হ'য়ে নেবে আসা মানুষটি! ঈশ্বর স্বয়ং তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষের মাঝে তাঁর সৃষ্টিকে রক্ষা করার জন্য মানুষের রূপ ধ'রে নেবে আসেন আর সেই মানুষ রূপী ঈশ্বরই হ'লেন সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ! তিনিই হ'লেন প্রকৃত গুরু অর্থে গুরু! এ ছাড়া কোনও মুনি-ঋষি-সাধক বা আধ্যাত্মিক জগতের কোনও মহাপুরুষ-ই গুরু নন! তাঁরা সবাই গুরুমুখ! গুরুরূপী জীবন্ত ঈশ্বরের কাছে পৌঁছনোর মুখ! একমাত্র গুরু হ'লেন, সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ হ'লেন সেই এক ও অদ্বিতীয় জীবন্ত ঈশ্বর পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীরামচন্দ্র, শ্রীশ্রীকৃষ্ণ, শ্রীশ্রীবুদ্ধ, শ্রীশ্রীযীশু, শ্রীশ্রীমোহাম্মদ, শ্রীশ্রীমহাপ্রভু, শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ও সর্বশেষ ঘোর কলির যুগপুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র! এছাড়া কেউই গুরু নন! নন সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শও!! পৃথিবীর ৭০০কোটি মানুষকে যদি ভুলের ভয়ঙ্কর বিষাক্ত মারণ ছোবল থেকে রক্ষা পেতে হয়, পৃথিবী নামক গ্রহকে মানুষের ভয়াবহ ভুলের কারণে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হয় তাহলে তাঁর শ্রীচরণ তলে আসতেই হবে নতুবা বিশ্বজুড়ে দাদাদের ভয়ঙ্কর ভুলের পারমানবিক বোমায় ধ্বংস হ'য়ে যাবে ঈশ্বরের সৃষ্টি এই পৃথিবী!!!!!! পৃথিবীর কোনও ক্ষমতাধর মানুষ নেই তা রাজনীতি, ধর্ম, বিজ্ঞান ইত্যাদি যে ক্ষেত্রেই হ'ক না কেন এই পৃথিবীকে, এই পৃথিবীর মানবজাতিকে আগামী ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে!!!
এখন মনে মনে মন ভাবে এই সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শকে গ্রহণ করার পরও সৎসঙ্গী হিসেবে আমাদের কেন কষ্ট পেতে হয়!? দুর্দশায় কাবু হ'তে হয়!? তাহলে কি শ্রীশ্রীঠাকুর মিথ্যা!?
এককথায় এর উত্তর: কপটতা! সীমাহীন কপটতা! ভয়ঙ্কর ভয়াবহ কপটতা!! মন-মুখ এক না হওয়া!!! মুখ আর মুখোশের নীচ ঘৃণ্য লড়াই!!!! ঠাকুরের দীক্ষিতরা ঠাকুরকে টেকেন ফর গ্রান্টেড ক'রে নিয়েছে, বানিয়ে নিয়েছে আয়ের উপকরণ! আর তার ফলে ভুলের ভুলভুলাইয়ার অন্ধকার ঘুলঘুলির অভ্যন্তরে অবস্থিত ভুলের বিষাক্ত ছোবলে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে জীবন-যৌবন! এর হাত থেকে বাঁচার কোনও উপায় নেই যদি মানুষ, সৎসঙ্গী গুরুভাইবোনেরা সতর্ক হয়, সংশোধিত, পরিবর্তিত, শুদ্ধ, পবিত্র না হয়!!!!!!
তাই আবার বলি, বারবার বলি,
"ভুলভ্রান্তি মানুষের হয়
শুধরে যদি চলিস সোজা
দীপ্ত হবি তৃপ্তি পাবি
হালকা হবে ভুলের বোঝা।"
তাই আসুন, নিজের ভুল শুধরে নিয়ে শান্ত-পবিত্র-শুদ্ধ হ'য়ে নিজেকে সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের পূজার উপাচার ক'রে তুলি!!!!
(লেখা ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২০)
প্রবন্ধঃ সেই দিন ও আজকের দিন।
সেই ট্রাডিশন আজও সমানে চলেছে।
সে আজ অনেক বছর আগের কথা। ১৯৬৯ পরবর্তী। বর্তমান সঙ্গীত ধারার বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখা লেখকের আর্টিকেলের বিরুদ্ধে সেই আর্টিকেলের প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা নিয়ে বিশ্লেষণ মূলক প্রশ্ন তোলার জন্য যে বা যারা আমাকে গালাগালি করেছে তাদের কমেন্টে তখন সম্ভবত তারা জন্মায়নি। তার মধ্যে একজন বাচ্চা গুরুভাই সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তাই যে বা যারা আমাকে কটুক্তি করেছে তারা জানে না সেই সময় কত সামান্য সামান্য ছোটো ছোটো ইস্যুকে বড় ক'রে বিরোধীরা শ্রীশ্রীবড়দার বিরুদ্ধে ছক সাজিয়েছিল। আর সেই ছক ১৯৬৯ এর আগে থেকেই সাজানো শুরু হ'য়ে গেছিল। শুধু সময়ের অপেক্ষা। আর সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছিল ঠাকুর দেহ রাখার সঙ্গে সঙ্গেই। সেই ঠাকুর পরবর্তী শ্রীশ্রীবড়দার আচার্য পদে অভিষিক্ত হওয়ার পর থেকে। এক গুরু ভাইয়ের আমার এর আগের লেখায় আমাকে কটাক্ষ ক'রে বলা "নেই কাজ তো খৈ ভাজ"-র মত সেদিনও শ্রীশ্রীবড়দাকে নিয়ে খৈ ভাজা হয়েছিল বড়দা বিরোধীদের দ্বারা যা আজও হ'য়ে চলেছে। আমাকে কটাক্ষ করা সেই মন্তব্যের উত্তরে আমি বলতে চাই যে আমি কিন্তু খৈ ভাজিনি প্রকাশ্যে ফেসবুকের মত স্ট্রং মিডিয়ায় বর্তমান সৎসঙ্গ সঙ্গীত ধারার বিরুদ্ধে। খৈ ভেজেছিল একজন সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ গুরুভাই। বর্তমান সৎসঙ্গ সঙ্গীত সংক্রান্ত বিরুদ্ধ মনোভাবের যে খই ভাজা হয়েছিল এক গুরুভাইয়ের দ্বারা ফেসবুকে সেই ভাজা খৈয়ের বিরুদ্ধে অকারণ অহেতুক খৈ ভাজার প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতার প্রশ্নে খৈ রূপ শব্দ ভাজার লেখকের কাছে তার লেখার প্রতিটি লাইনের বিশ্লেষণ তুলে ধ'রেছিলাম মাত্র। আর তার পরিপ্রেক্ষিতে লেখকের দিক থেকে এবং তার অনুগামীদের দিক থেকে ছুটে এসেছিল কটুক্তির অগ্নিবাণ। সবার সব সঙ্গীত ভালো না লাগতেই পারে। ভালো লাগা আর না লাগা ব্যক্তি নির্ভর। কিন্তু তা নিয়ে অর্থাৎ সেই ব্যক্তি বিশেষের ভালো না লাগার ছোট্ট ইস্যুকে বিরাট ইস্যু বানিয়ে হাওয়া গরম করার জন্য ফেসবুকের মত স্ট্রং মিডিয়ার ময়দানে নেবে পড়া অপরাধ, অযৌক্তিক, সঙ্ঘ বিরুদ্ধ ব'লে মনে হয়নি সেই আমাকে ' কাজ নেই তো খই ভাজ' ব'লে কটাক্ষ করা গুরুভাইয়ের। আমাকে কটাক্ষ ক'রে কমেন্ট করা সেই গুরুভাই আরও লিখেছিলেন "ছোটো ছোটো ইস্যুকে বিরাট ক'রে দেখানো হচ্ছে।" বর্তমান সঙ্গীত ধারার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলা সেই সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ গুরুভাইয়ের ভূমিকা তার কাছে বিরাট ইস্যু ব'লে মনে হয়নি। সেটা তার কাছে ছোটো ইস্যু মনে হয়েছে আর সেই লেখকের ফেসবুকে লেখা আর্টিকেলে বর্তমান সৎসঙ্গ সঙ্গীত ধারার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলার অকারণ প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা নিয়ে বিশ্লেষণ ক'রে আমার লেখাকে মনে হয়েছে তার বিরাট ইস্যু। তাই আমাকে কটাক্ষ ক'রে আমার লেখায় মন্তব্য করা "কাজ নেই তো খই ভাজ" বলা তার কাছে ঠিক মনে হয়েছে। সেদিনও সেই ১৯৬৯ পরবর্তী সময়ে শ্রীশ্রীবড়দা গৃহীত ছোটো ছোটো নন ইস্যুগুলিকে নিয়ে বেছে বেছে ঠাকুরের বাণীর সাহায্য নিয়ে বিরাট ইস্যু ক'রে তোলা হয়েছিল। সেদিনও শ্রীশ্রীবড়দা বিরোধীদের এবং বিরোধীদের অনুগামীদের বড়দার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অকারণ বিরাট ক'রে তোলা ছোট্ট ইস্যুগুলিকে ছোটো ব'লে মনে হয়নি বরং শ্রীশ্রীবড়দার গৃহীত পদক্ষেপকে সেদিন ছোট্ট ইস্যুর পরিবর্তে বিরাট ইস্যু ক'রে তোলা হয়েছিল। যা আজও শ্রীশ্রীবড়দা পরবর্তী শ্রীশ্রীদাদার সময়ে ভয়ংকরভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং দেশ বিদেশে যা আজ ব্যাধির মত ছড়িয়ে পড়েছে। সেদিনও যারা শ্রীশ্রীবড়দা গৃহীত ছোটো ছোটো নন ইস্যুগুলিকে বিরাট ইস্যু ক'রে তুলেছিল তারা সবাই ছিল পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুরের সোনার সৎসঙ্গী। 'সোনার সৎসঙ্গী' কথা শ্রীশ্রীঠাকুর মুখনিঃসৃত। সেই সোনার সৎসঙ্গীরাই সেদিন ছোটো ছোটো নন ইস্যুগুলিকে বিরাট ক'রে তুলে ধ'রে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে শ্রীশ্রীবড়দাকে অস্থির ক'রে তুলে কোণঠাসা করার খেলায় মেতে উঠেছিল শ্রীশ্রীঠাকুর থাকতেই এবং শ্রীশ্রীঠাকুরকে তার শেষ দিনগুলিতে কঠিন যন্ত্রণা আঘাত দিয়েছিল। পরবর্তী দীর্ঘ সময় শ্রীশ্রীবড়দাকে তার শেষ দিন পর্যন্ত কি অসহনীয় কষ্ট যন্ত্রণা দিয়েছিল এই সোনার সৎসঙ্গীরা তা পুরনো সৎসঙ্গী মাত্রেই জানে। আজকের অতি উৎসাহী ইয়ং সৎসঙ্গীরা তা জানে না। আজকের মত সেদিনও সেই সময়ের বিরোধী সৎসঙ্গীদের কাছে শ্রীশ্রীবড়দা গৃহীত সেই সমস্ত ছোটো ছোটো নন ইস্যুগুলি সলিড যুক্তিপূর্ণ বিরাট ইস্যু ছিল যা তাদের মতে কখনোই অগ্রাহ্য করা যায় না। এবং এর প্রতিবাদ করা উচিত। এবং তীব্র প্রতিবাদ ক'রে ছিল এবং আজও করে চলেছে। সবাই স্বাধীন। সবার বাক স্বাধীনতা আছে। প্রতিবাদ করতেই পারে যেমন আজও সৎসঙ্গের সঙ্গীত ধারার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে ও হ'য়ে চলেছে। কিন্তু সেই অকারণ অহেতুক ছোট্টো ইস্যুকে নিয়ে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বিরাট ইস্যু ক'রে তুলে ধ'রে যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে সেই প্রতিবাদের বিষ পরিণতি ধীরে ধীরে সঞ্চারিত হ'য়ে সৎসঙ্গ মিশনের কি ভয়ংকর ক্ষতি করতে পারে আগামীতে তার তিল সমান ধারণা করার শক্তি আজকের প্রতিবাদীদের ও প্রতিবাদীদের অনুগামীদের নেই। সম্ভবত সাধারণ সৎসঙ্গীদেরও এই বিরুদ্ধ প্রচারের ভবিষ্যৎ কত খারাপ হ'তে পারে তা ধারণা করার শক্তিও নেই। সেদিন শ্রীশ্রীবড়দা মুখ বন্ধ রেখে সব সহ্য করেছিলেন। যে সহ্য করার ট্রাডিশন শ্রীশ্রীদাদা থেকে শুরু ক'রে আজ বর্তমান আচার্যদেবের মধ্যে প্রতিফলিত হ'য়ে শ্রীশ্রীঅবিনদাদার মধ্যে সঞ্চারিত হ'য়ে চলেছে। সঞ্চারিত হ'য়ে চলেছে চুপ থেকে সক্রিয় কর্ম করার রীতি। সঞ্চারিত হ'য়ে চলেছে শ্রীশ্রীঠাকুরের সত্যানুসরণ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ ক'রে যাওয়া বাণী "যে করে বেশী বলে কম সেই প্রথম শ্রেণীর কর্মী"-র নীতি। আর সবশেষে শুধু এটুকুই বলতে পারি শ্রীশ্রীঠাকুর স্পষ্ট ক'রে ব'লে দিয়েছেন, " তুমি যা করছো বা ক'রে রেখেছো ভগবান তাই-ই গ্রাহ্য করবেন আর সেগুলির ফলও পাবে ঠিক তেমনি।"-----------প্রবি।(লেখা ৬ই সেপ্টেম্বর'২০২২)
Sunday, September 3, 2023
প্রবন্ধঃ রক্তের খেলা ও পশু হত্যার আনন্দ।
সুকৃতি সুন্দর দা একটা পোষ্ট করেছেন আর সেই পোষ্টের বিষয় নিয়ে শুরু হ'য়ে গেছে নানা মন্তব্য। কেউ বলছেন, ভুল লিখেছে, কেউ এই মন্তব্যকে ঢিল মারার সঙ্গে তুলনা করেছেন, বলছেন পশুরা অভিশাপগ্রস্থ, কোরবানির মধ্যে দিয়ে মুক্তি ঘটে, পূর্বপুরুষের রীতি রেওয়াজ, কেউ বা বলছেন, হত্যা আর জবাই এক নয়, পশু জবাই করায় নাকি স্রষ্টার কিছু যায় আসে না; এটা নাকি একটা আনন্দের মাধ্যম!!!!! কেউ আবার সুকৃতিকে অজ্ঞ ব'লে ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন, অন্যের বিশ্বাসকে কটুক্তি করা হয়েছে ব'লে মনে করছেন। কেউ বা মনে করছেন কুরবানি নিয়ে সুকৃতি সুন্দরের কোনও মন্তব্য করার অধিকার নেই বরং মন্তব্য পরিহার করার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং বলেছেন ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করার আগে আরও বেশী সচেতন হ'তে হবে সুকৃতি সুন্দরকে। অনেকে আবার সুকৃতি সুন্দরের এই কুরবানি নিয়ে মন্তব্য করাকে বাড়াবাড়ি ব'লে মত প্রকাশ করেছেন। আবার অনেকে সুকৃতিকে সমর্থন ক'রে বক্তব্য রেখেছেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে সুকৃতি কি এমন মন্তব্য করেছিল যার জন্য এমন শোরগোল পড়ে গেল!? তার বক্তব্যের বিষয় ছিল 'রক্তের খেলা ও পশু হত্যার আনন্দ বন্ধ হ'ক'। তাই এই বিষয় যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী মনে হওয়ায় সুকৃতি সুন্দরদার পোষ্ট শেয়ার করলাম ও নিজের মত জানালাম।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে সুকৃতি সুন্দর কিসের বিরোধিতা করেছেন? কুরবানির নাকি কুরবানির নামে পশু হত্যার? সুকৃতির বক্তব্য বিষয় পড়ে এটা পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে যে সুকৃতি সমস্ত রকম রক্তের খেলা বন্ধ করার কথা বলেছেন এবং বলেছেন এই খেলার মাধ্যমে আনন্দ লাভ বন্ধ হ'ক সমস্ত দেশেই মায় পৃথিবীতে। এটা থেকে পরিস্কার বোঝা যায় যে সুকৃতি শুধু মুসলিম ধর্মের এই প্রথার বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন তাই নয় তিনি সমস্ত পৃথিবীতে যত ধর্ম আছে আর সেই ধর্মের নামে পশু হত্যার বিরুদ্ধে বলেছেন; আর এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই তার হিন্দু ধর্মও এসে পড়েছে এবং তাকে তিনি এড়িয়ে যাননি।। কুরবানির পশু হত্যার মধ্যে দিয়ে যদি নৃশংসতা, ভয়ংকরতা, অমানবিকতা ফুটে ওঠে তাহ'লে একথা কোনওভাবেই অস্বীকার করা যায় না যে সুকৃতির হিন্দু ধর্মে এই পশু হত্যার ভয়াবহতা, নির্মমতা, নৃশংসতা, বর্বরতা, অসভ্য জংলী সভ্যতা কোনও অংশে তো কম নয়ই বরং আরও বহুল পরিমাণে উৎকট ও বীভৎসভাবে প্রতীয়মান যা কিনা মানব সভ্যতার পক্ষে চরম পাপ এবং বিধাতার বিধানে ঘোরতর ক্ষমাহীন অপরাধ। আর এই বিধাতার বিধান শুধু হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ বা আর যেই ধর্মের হ'ক না কেন আলাদা আলাদা নয়। তিনি এক ও অদ্বিতীয় এবং তাঁর বিধানও এক ও অদ্বিতীয়; একথা যেন আমরা ভুলে না যাই কিম্বা বৃত্তি-প্রবৃত্তির স্বার্থে, চুলকানিতে, সুড়সুড়িতে নানারকম কথার মারপ্যাঁচে ধর্মীয় আইন-কানুন কিম্বা বিধান দেখিয়ে এবং বিধাতাকে সাক্ষী রেখে যেন কোনও শক্তিশালী অজুহাতের সৃষ্টি ক'রে অজুহাতের সৃষ্টিকর্তা হ'য়ে না বসি। এরকম নতুন নতুন নিজের নিজের বিশৃঙ্খল, উচ্ছৃঙ্খল, অদূরদর্শী, অল্প ও আধাজ্ঞানী ধান্দাবাজি জন্ম বিকৃত বৃত্তি-প্রবৃত্তির স্বার্থে উন্মাদ স্বঘোষিত সৃষ্টিকর্তারা নিজের নিজের সম্প্রদায়, নিজের নিজের জাত ও নিজের নিজের ধর্ম ইত্যাদির মধ্যে সাম্প্রদায়িক, বজ্জাতি ও অধর্মীয় আচরণের সৃষ্টি ক'রে নিজেরাই স্বঘোষিত সৃষ্টিকর্তা হ'য়ে বসে গেছে। স্বয়ং ঈশ্বর মানুষের রূপ ধ'রে মানুষের মাঝে বারবার নেবে আসা সত্তেও এইসমস্ত ভন্ড ও কপট ইশ্বরপ্রেমী মানুষেরা ঈশ্বরের সঙ্গে বেইমানি ক'রে চলেছেন চার অক্ষর মানুষদের সাহায্যে। এছাড়া স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে, স্বার্থ পোষণ পায় তেমনি বৃত্তি-প্রবৃত্তিতে আপাদমস্তক ডুবে থাকা সীমাহীন ভাঙাচোরা তথাকথিত শিক্ষিত মানুষের দ্বারা ঈশ্বর প্রেরিত অবতারের ধর্ম্মগ্রন্থের ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ ও মূল গ্রন্থের অনুবাদ সমস্যাকে আরও জটিল ও রহস্যঘন ক'রে তুলে ধর্মকে, সম্প্রদায়কে, জাতকে ঘেঁটে ঘ ক'রে দিয়েছে। প্রায় সময় অনেককে বলতে শুনি, 'ধর্ম যার যার দেশ সবার'। এটা যে কত বড় ভুল আজও আমরা তা ভেবে দেখিনি। আমরা আজও দেখি ধর্ম নিয়ে মারামারি, কাটাকাটি, খুনোখুনি। এইখানে এই কমেন্টের মধ্যেও অনেককে বলতে দেখলাম----সে হিন্দু, মুসলমান যে সম্প্রদায়ের হ'ক না কেন----অন্য ধর্মের ব্যাপারে নাক না গলাতে। যেন ধর্ম এবং ঐ ধর্মের প্রবক্তা ঐ ধর্মের লোকেদের একচেটিয়া পৈতৃক সম্পত্তি আর ঐ একই কথারই পুনরাবৃত্তি, 'ধর্ম যার যার দেশ সবার'। মনে হয় যেন রামায়ণ, মহাভারত, কোরান, বাইবেল, ত্রিপিটক, চৈতন্য চরিতামৃত, কথামৃত, সত্যানুসরণ এই সমস্ত গ্রন্থ সেই সেই ধর্মের অনুগামীদের পৈতৃক সম্পত্তি!
আর, The greatest phenomenon of the world SriSriThakur Anukulchandra-এর কাছে এসে জানলাম, "ধর্ম কখনও বহু হয় না, ধর্ম্ম একই আর তার কোন প্রকার নেই। মত বহু হ'তে পারে, এমনকি যত মানুষ তত মত হ'তে পারে, কিন্তু তাই ব'লে ধর্ম্ম বহু হ'তে
পারে না। হিন্দুধর্ম, মুসলমানধর্ম্ম, খৃস্টানধর্ম্ম, বৌদ্ধধর্ম্ম ইত্যাদি কথা আমার মতে ভুল, বরং ও-সবগুলি মত। কোনও মতের সঙ্গে কোনও মতের প্রকৃতপক্ষে বিরোধ নেই, ভাবের বিভিন্নতা, রকমফের-----একটাকেই নানাপ্রকারে একরকম অনুভব। সব মতই সাধনা বিস্তারের জন্য, তবে তা' নানাপ্রকারে হ'তে পারে। আর, যতটুকু বিস্তারে যা' হয় তাই অনুভতি, জ্ঞান। তাই ধর্ম্ম অনুভুতির উপর।"
এবার আমরা যদি এই অনুভূতির উপর দাঁড়ায় তাহ'লে কি দেখতে পাবো? দেখতে পাবো এই ধর্মের নামে পশু হত্যা সম্পর্কে সুকৃতি সুন্দর যা বলেছেন এবং তার উত্তরে যে বা যারা যারা পক্ষে ও বিপক্ষে যে মত প্রকাশ করেছেন তাতে এই 'অনুভূতির' ব্যাপারটাই তীব্রভাবে স্পষ্ট হ'য়ে উঠেছে। সুকৃতি সুন্দর তাঁর মন্তব্যে এই 'অনুভুতি'কেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং আরো কয়েকজন এই একইভাবে তাদের মন্তব্যে 'অনুভূতি'র পক্ষেই জোরালো সওয়াল করেছেন। কিন্তু যারা এর বিরোধিতা করেছে তারা প্রকৃত পক্ষে ঐ অন্ধকার বস্তাপচা হাজার হাজার বছরের পুরোনো ট্রাডিশান 'বলি বা কুরবানি'র ভুল অর্থের পূজারী। মিথ্যাকেই তারা সত্য ব'লেই জেনেছে। 'কি 'বলি', কেন 'বলি' বা কুরবানি কি?' এই সমস্ত অর্থের গভীরে যাওয়ার ক্ষমতাই নেই। এই ধর্ম্মের নামে পশু হত্যা সম্পর্কে ও পশু হত্যার বিরুদ্ধে সমস্ত মনিষীরাই জোরালো প্রতিবাদ ক'রে গেছেন; কিন্তু ধর্মীয় কুসংস্কার ও কপট মানুষেরা দুর্বল মানুষকে, ভীরু মানুষকে, অজ্ঞ ও মূর্খ মানুষকে, লোভী মানুষকে আচ্ছন্ন ও ভীত, সন্ত্রস্ত ক'রে রেখেছে। সমস্ত সম্প্রদায়ের এই আছন্ন ও ভীত সন্ত্রস্ত মানুষেরা মনে ক'রে তাদের ধর্ম্মের (?) ঈশ্বর প্রেরিত পুরুষ ও তাঁদের মুখ নিঃসৃত বাণী উভয়ই তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি; তাঁদের ধর্ম্মের (?) মানুষেরা ছাড়া আর কারও কোনও অধিকার নেই এই সম্পত্তিতে। আর এদের জন্যই ঈশ্বর প্রেরিত পুরুষ স্বদেশে কলঙ্কিত, লাঞ্ছিত ও অপমানিত হন এবং শয়তান পুজা পান ও মানুষ সীমাহীন দুঃখকষ্ট ভোগ করে।
অন্যকে হত্যা করে কি করে আনন্দ করা যায়?
একটা দীর্ঘ নীঃশ্বাস ছাড়া আর কিছুই বলার নাই!
বন্ধ হোক সব রক্তের খেলা, তা মায়ানমার, বাংলাদেশ, আফগানিস্থান, সিরিয়া, ভারত, ইরাক সব খানে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে সুকৃতি কি এমন মন্তব্য করেছিল যার জন্য এমন শোরগোল পড়ে গেল!? তার বক্তব্যের বিষয় ছিল 'রক্তের খেলা ও পশু হত্যার আনন্দ বন্ধ হ'ক'। তাই এই বিষয় যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী মনে হওয়ায় সুকৃতি সুন্দরদার পোষ্ট শেয়ার করলাম ও নিজের মত জানালাম।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে সুকৃতি সুন্দর কিসের বিরোধিতা করেছেন? কুরবানির নাকি কুরবানির নামে পশু হত্যার? সুকৃতির বক্তব্য বিষয় পড়ে এটা পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে যে সুকৃতি সমস্ত রকম রক্তের খেলা বন্ধ করার কথা বলেছেন এবং বলেছেন এই খেলার মাধ্যমে আনন্দ লাভ বন্ধ হ'ক সমস্ত দেশেই মায় পৃথিবীতে। এটা থেকে পরিস্কার বোঝা যায় যে সুকৃতি শুধু মুসলিম ধর্মের এই প্রথার বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন তাই নয় তিনি সমস্ত পৃথিবীতে যত ধর্ম আছে আর সেই ধর্মের নামে পশু হত্যার বিরুদ্ধে বলেছেন; আর এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই তার হিন্দু ধর্মও এসে পড়েছে এবং তাকে তিনি এড়িয়ে যাননি।। কুরবানির পশু হত্যার মধ্যে দিয়ে যদি নৃশংসতা, ভয়ংকরতা, অমানবিকতা ফুটে ওঠে তাহ'লে একথা কোনওভাবেই অস্বীকার করা যায় না যে সুকৃতির হিন্দু ধর্মে এই পশু হত্যার ভয়াবহতা, নির্মমতা, নৃশংসতা, বর্বরতা, অসভ্য জংলী সভ্যতা কোনও অংশে তো কম নয়ই বরং আরও বহুল পরিমাণে উৎকট ও বীভৎসভাবে প্রতীয়মান যা কিনা মানব সভ্যতার পক্ষে চরম পাপ এবং বিধাতার বিধানে ঘোরতর ক্ষমাহীন অপরাধ। আর এই বিধাতার বিধান শুধু হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ বা আর যেই ধর্মের হ'ক না কেন আলাদা আলাদা নয়। তিনি এক ও অদ্বিতীয় এবং তাঁর বিধানও এক ও অদ্বিতীয়; একথা যেন আমরা ভুলে না যাই কিম্বা বৃত্তি-প্রবৃত্তির স্বার্থে, চুলকানিতে, সুড়সুড়িতে নানারকম কথার মারপ্যাঁচে ধর্মীয় আইন-কানুন কিম্বা বিধান দেখিয়ে এবং বিধাতাকে সাক্ষী রেখে যেন কোনও শক্তিশালী অজুহাতের সৃষ্টি ক'রে অজুহাতের সৃষ্টিকর্তা হ'য়ে না বসি। এরকম নতুন নতুন নিজের নিজের বিশৃঙ্খল, উচ্ছৃঙ্খল, অদূরদর্শী, অল্প ও আধাজ্ঞানী ধান্দাবাজি জন্ম বিকৃত বৃত্তি-প্রবৃত্তির স্বার্থে উন্মাদ স্বঘোষিত সৃষ্টিকর্তারা নিজের নিজের সম্প্রদায়, নিজের নিজের জাত ও নিজের নিজের ধর্ম ইত্যাদির মধ্যে সাম্প্রদায়িক, বজ্জাতি ও অধর্মীয় আচরণের সৃষ্টি ক'রে নিজেরাই স্বঘোষিত সৃষ্টিকর্তা হ'য়ে বসে গেছে। স্বয়ং ঈশ্বর মানুষের রূপ ধ'রে মানুষের মাঝে বারবার নেবে আসা সত্তেও এইসমস্ত ভন্ড ও কপট ইশ্বরপ্রেমী মানুষেরা ঈশ্বরের সঙ্গে বেইমানি ক'রে চলেছেন চার অক্ষর মানুষদের সাহায্যে। এছাড়া স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে, স্বার্থ পোষণ পায় তেমনি বৃত্তি-প্রবৃত্তিতে আপাদমস্তক ডুবে থাকা সীমাহীন ভাঙাচোরা তথাকথিত শিক্ষিত মানুষের দ্বারা ঈশ্বর প্রেরিত অবতারের ধর্ম্মগ্রন্থের ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ ও মূল গ্রন্থের অনুবাদ সমস্যাকে আরও জটিল ও রহস্যঘন ক'রে তুলে ধর্মকে, সম্প্রদায়কে, জাতকে ঘেঁটে ঘ ক'রে দিয়েছে। প্রায় সময় অনেককে বলতে শুনি, 'ধর্ম যার যার দেশ সবার'। এটা যে কত বড় ভুল আজও আমরা তা ভেবে দেখিনি। আমরা আজও দেখি ধর্ম নিয়ে মারামারি, কাটাকাটি, খুনোখুনি। এইখানে এই কমেন্টের মধ্যেও অনেককে বলতে দেখলাম----সে হিন্দু, মুসলমান যে সম্প্রদায়ের হ'ক না কেন----অন্য ধর্মের ব্যাপারে নাক না গলাতে। যেন ধর্ম এবং ঐ ধর্মের প্রবক্তা ঐ ধর্মের লোকেদের একচেটিয়া পৈতৃক সম্পত্তি আর ঐ একই কথারই পুনরাবৃত্তি, 'ধর্ম যার যার দেশ সবার'। মনে হয় যেন রামায়ণ, মহাভারত, কোরান, বাইবেল, ত্রিপিটক, চৈতন্য চরিতামৃত, কথামৃত, সত্যানুসরণ এই সমস্ত গ্রন্থ সেই সেই ধর্মের অনুগামীদের পৈতৃক সম্পত্তি!
আর, The greatest phenomenon of the world SriSriThakur Anukulchandra-এর কাছে এসে জানলাম, "ধর্ম কখনও বহু হয় না, ধর্ম্ম একই আর তার কোন প্রকার নেই। মত বহু হ'তে পারে, এমনকি যত মানুষ তত মত হ'তে পারে, কিন্তু তাই ব'লে ধর্ম্ম বহু হ'তে
পারে না। হিন্দুধর্ম, মুসলমানধর্ম্ম, খৃস্টানধর্ম্ম, বৌদ্ধধর্ম্ম ইত্যাদি কথা আমার মতে ভুল, বরং ও-সবগুলি মত। কোনও মতের সঙ্গে কোনও মতের প্রকৃতপক্ষে বিরোধ নেই, ভাবের বিভিন্নতা, রকমফের-----একটাকেই নানাপ্রকারে একরকম অনুভব। সব মতই সাধনা বিস্তারের জন্য, তবে তা' নানাপ্রকারে হ'তে পারে। আর, যতটুকু বিস্তারে যা' হয় তাই অনুভতি, জ্ঞান। তাই ধর্ম্ম অনুভুতির উপর।"
এবার আমরা যদি এই অনুভূতির উপর দাঁড়ায় তাহ'লে কি দেখতে পাবো? দেখতে পাবো এই ধর্মের নামে পশু হত্যা সম্পর্কে সুকৃতি সুন্দর যা বলেছেন এবং তার উত্তরে যে বা যারা যারা পক্ষে ও বিপক্ষে যে মত প্রকাশ করেছেন তাতে এই 'অনুভূতির' ব্যাপারটাই তীব্রভাবে স্পষ্ট হ'য়ে উঠেছে। সুকৃতি সুন্দর তাঁর মন্তব্যে এই 'অনুভুতি'কেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং আরো কয়েকজন এই একইভাবে তাদের মন্তব্যে 'অনুভূতি'র পক্ষেই জোরালো সওয়াল করেছেন। কিন্তু যারা এর বিরোধিতা করেছে তারা প্রকৃত পক্ষে ঐ অন্ধকার বস্তাপচা হাজার হাজার বছরের পুরোনো ট্রাডিশান 'বলি বা কুরবানি'র ভুল অর্থের পূজারী। মিথ্যাকেই তারা সত্য ব'লেই জেনেছে। 'কি 'বলি', কেন 'বলি' বা কুরবানি কি?' এই সমস্ত অর্থের গভীরে যাওয়ার ক্ষমতাই নেই। এই ধর্ম্মের নামে পশু হত্যা সম্পর্কে ও পশু হত্যার বিরুদ্ধে সমস্ত মনিষীরাই জোরালো প্রতিবাদ ক'রে গেছেন; কিন্তু ধর্মীয় কুসংস্কার ও কপট মানুষেরা দুর্বল মানুষকে, ভীরু মানুষকে, অজ্ঞ ও মূর্খ মানুষকে, লোভী মানুষকে আচ্ছন্ন ও ভীত, সন্ত্রস্ত ক'রে রেখেছে। সমস্ত সম্প্রদায়ের এই আছন্ন ও ভীত সন্ত্রস্ত মানুষেরা মনে ক'রে তাদের ধর্ম্মের (?) ঈশ্বর প্রেরিত পুরুষ ও তাঁদের মুখ নিঃসৃত বাণী উভয়ই তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি; তাঁদের ধর্ম্মের (?) মানুষেরা ছাড়া আর কারও কোনও অধিকার নেই এই সম্পত্তিতে। আর এদের জন্যই ঈশ্বর প্রেরিত পুরুষ স্বদেশে কলঙ্কিত, লাঞ্ছিত ও অপমানিত হন এবং শয়তান পুজা পান ও মানুষ সীমাহীন দুঃখকষ্ট ভোগ করে।
(লেখা ৪ই সেপ্টেম্বর'২০১৭)
Adv, Sukriti Sundar Mandal
September 3, 2017
চলছে রক্তের খেলা। সারা দেশ জুড়ে পশু হত্যার আনন্দ। আর, এ পশু হত্যা হচ্ছে, হত্যাকারীদের সৃষ্টকারীর সন্তুষ্ট লাভের জন্য। অন্যকে হত্যা করে কি করে আনন্দ করা যায়?
একটা দীর্ঘ নীঃশ্বাস ছাড়া আর কিছুই বলার নাই!
বন্ধ হোক সব রক্তের খেলা, তা মায়ানমার, বাংলাদেশ, আফগানিস্থান, সিরিয়া, ভারত, ইরাক সব খানে।
Saturday, September 2, 2023
প্রবন্ধঃ ইষ্টভৃতির মোক্ষম উদাহরণ।
শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের 'তোদের চৈতন্য হ'ক' এই বাণীর মর্মার্থ আমাদের বোধগম্য হয়নি আর হ'লেও সযত্নে সচেতনভাবেই এড়িয়ে গেছি।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র যখন শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ রূপে এসেছিলেন তখন ইষ্টভৃতির আগাম ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর ভক্তদের। কিন্তু জীবকোটি ভক্তেরা তা ধরতে পারেনি তাদের চৈতন্য জাগ্রত না হওয়ার কারণে। আর তাঁর কারণও যে আমরা জীবকোটি মানুষ সেই কথাও শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আমাদের ব'লে গেছেন। আমাদের চৈতন্য জাগ্রত না হওয়ার কারণ আমাদের জীবকোটি মানুষের ছোট্ট হৃদয়খানি বৃত্তি-প্রবৃত্তির গঁদের আঠায় আষ্ঠেপৃষ্ঠে লেপটে থেকে আটকে যাওয়ায়। ফলে রোগ, শোক, গ্রহদোষ, বুদ্ধি বিপর্যয় ও দারিদ্রতার হাত থেকে বাঁচার ও রক্ষা পাওয়ার উপায় পাওয়া সত্ত্বেও সেই উপায় ধরাই পড়লো না বোধে আর তাই অজানার অন্ধকারেই থেকে গেল আমাদের জীবন।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র তাই বললেন,
"বৃত্তি-আঠায় লেপটে থাকে
ছোট্ট হৃদয়খান,
জীবকোটি তুই তা'রেই জানিস
অজানেই স্থান।"
এইরকম ধরতে না পারা বা জ্ঞানত উপেক্ষা করার অনেক বিষয় ছিল। যেমন "পূর্ণজ্ঞান দিলাম না খুব শিগগিরি আসছি" এইটা ছিল তাঁর ব'লে যাওয়া 'তোদের চৈতন্য হ'ক'-এর মূল ইঙ্গিত। অনেক কিছু ইঙ্গিতের ও না বলা বিষয়ের মধ্যে ইষ্টভৃতি ছিল জীবন্মুক্তির অন্যতম মোক্ষম বিষয় ফলে তাঁকে আবার আসতে হবে ব'লে তিনি কথা দিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর আসার পিছনে কারণ ছিল পূর্ণজ্ঞান না দেওয়া। কারণ তখন ক্ষেত্র প্রস্তুত ও উপযুক্ত সময় ছিল না। এই পূর্ণজ্ঞানের মধ্যে ছিল সংসার ত্যাগী সন্ন্যাসীর পরিবর্তে গৃহীসন্ন্যাসীর বিষয় যা আমরা দেখতে পাই শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের প্রয়াণের পরে বিবেকানন্দের পথ অনুসরণের মধ্যে দিয়ে তথাকথিত সংসার ধর্ম ত্যাগের আধিক্যের মধ্যে; তেমনি ছিল মৃন্ময়ী মায়ের পূজোর পরিবর্তে চিন্ময়ী মায়ের পূজো প্রচলন ইত্যাদি।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ রূপে এসে 'তোদের চৈতন্য হ'ক' বলতে তাঁর পুনরায় আগমনের ইঙ্গিত ছাড়া অন্যতম মূল যে কথা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন তাঁর অনুগামী শিষ্যদের কাছে সাধুর সঙ্গে কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে সেই কথা, সেই ইঙ্গিত, সেই অনুশাসন এবার এসে উপযুক্ত সময় ও ক্ষেত্র প্রস্তুত হওয়ায় সরাসরি ইষ্টভৃতি চালু করার মধ্যে দিয়ে সেই ইঙ্গিতের পূর্ণতা দিলেন। পূর্ণতা দিলেন দিনের শুরুতেই ইষ্টের ভরণ পোষণের দায়িত্ব পালনের জন্য ইষ্টভৃতি প্রথা চালু করার মধ্যে দিয়েই। পূর্ণতা দিলেন আমাদের মানবজাতির জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রোগ, শোক, গ্রহদোষ, বুদ্ধি বিপর্যয় ও দারিদ্রতার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য, বাঁচাবার জন্য।
কিন্তু আমরা বাঁচার, রক্ষা পাওয়ার মোক্ষম তুক বা মেডিসিন লাভ করার পরও কি বাঁচতে পারছি বা রক্ষা করতে পারছি নিজেকে ও পরিবারের প্রিয়জনদের????????????
ইষ্টভৃতির মোক্ষম উদাহরণ হ'লো শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের সাধুবাবার সঙ্গে সেই কথোপকথনের গল্প।
সেই সাধুবাবার সঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের কথোপকথনের গল্পটা কি?
একবার এক সাধু ঠাকুর রামকৃষ্ণের কাছে এসে বললেন, কী করলেন আপনি সারা জীবন সাধনা করে? আমি ৩০ বছর সাধনা ক’রে এখন হেঁটে নদী পার হ’ই! আপনি?
ঠাকুর রামকৃষ্ণ হেসে বললেন, যেখানে ১ পয়সা দিলেই আমাকে পার ক’রে দেয় মাঝি সেখানে ৩০ বছর নষ্ট ক’রে কি লাভ!
এই গল্পের মধ্যে দিয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ এই ভবসাগরের যিনি মাঝি তাঁকে বাস্তবভাবে পালনপোষণের দায়িত্ব গ্রহণের যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ১ পয়সা উল্লেখের মধ্যে দিয়ে সেই ইঙ্গিতই আজকের ইষ্টভৃতি। জীবনের শুরুতেই অতি প্রত্যূষে এই ইষ্টভৃতি পালনের কথা তিনি বলেছিলেন যাতে অকারণ অর্থহীন ও ইষ্টের সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্রহীন কষ্টকর দীর্ঘ সাধনার মধ্যে অল্প সময়ের জন্য আসা এই ভবসাগরে অর্থাৎ সংসার সমুদ্রে সময় নষ্ট করা না হয়। এবার এসে সেই ইঙ্গিতকেই সরাসরি 'ইষ্টভৃতি' রূপে বেঁধে দিয়ে গেলেন যাতে সহজেই আমরা এই স্বতঃস্বেচ্ছ, অনুরাগ উদ্দীপী, আগ্রহ-উচ্ছল ও অপ্রত্যাশী অর্ঘ্যাঞ্জলী তাঁকে অর্পণ করতে পারি।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের পূর্ব রূপ শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের ইষ্টভৃতির স্বপক্ষে এই কথোপকথনের গল্পটাই ছিল 'তোদের চৈতন্য হোক!' এই কথার মোক্ষম উদাহরণ।
আর তাই শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ এবার নবরূপে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র হ'য়ে এসে এই ধর্ম্ম জগতের সঙ্গে যুক্ত ঈশ্বর উপাসনা ও সাধন জগতে অবস্থানকারী সমস্ত সাধক-সাধিকাদের উদ্দেশ্যে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বললেন,
"হ'স্ না যোগী, হ'স্ না ধ্যানী,
গোঁসাই-গোবিন্দ যা'ই না হ'স,
যজন-যাজন-ইষ্টভৃতি
না করলে তুই কিছুই ন'স্।"
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র যখন শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ রূপে এসেছিলেন তখন ইষ্টভৃতির আগাম ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর ভক্তদের। কিন্তু জীবকোটি ভক্তেরা তা ধরতে পারেনি তাদের চৈতন্য জাগ্রত না হওয়ার কারণে। আর তাঁর কারণও যে আমরা জীবকোটি মানুষ সেই কথাও শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আমাদের ব'লে গেছেন। আমাদের চৈতন্য জাগ্রত না হওয়ার কারণ আমাদের জীবকোটি মানুষের ছোট্ট হৃদয়খানি বৃত্তি-প্রবৃত্তির গঁদের আঠায় আষ্ঠেপৃষ্ঠে লেপটে থেকে আটকে যাওয়ায়। ফলে রোগ, শোক, গ্রহদোষ, বুদ্ধি বিপর্যয় ও দারিদ্রতার হাত থেকে বাঁচার ও রক্ষা পাওয়ার উপায় পাওয়া সত্ত্বেও সেই উপায় ধরাই পড়লো না বোধে আর তাই অজানার অন্ধকারেই থেকে গেল আমাদের জীবন।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র তাই বললেন,
"বৃত্তি-আঠায় লেপটে থাকে
ছোট্ট হৃদয়খান,
জীবকোটি তুই তা'রেই জানিস
অজানেই স্থান।"
এইরকম ধরতে না পারা বা জ্ঞানত উপেক্ষা করার অনেক বিষয় ছিল। যেমন "পূর্ণজ্ঞান দিলাম না খুব শিগগিরি আসছি" এইটা ছিল তাঁর ব'লে যাওয়া 'তোদের চৈতন্য হ'ক'-এর মূল ইঙ্গিত। অনেক কিছু ইঙ্গিতের ও না বলা বিষয়ের মধ্যে ইষ্টভৃতি ছিল জীবন্মুক্তির অন্যতম মোক্ষম বিষয় ফলে তাঁকে আবার আসতে হবে ব'লে তিনি কথা দিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর আসার পিছনে কারণ ছিল পূর্ণজ্ঞান না দেওয়া। কারণ তখন ক্ষেত্র প্রস্তুত ও উপযুক্ত সময় ছিল না। এই পূর্ণজ্ঞানের মধ্যে ছিল সংসার ত্যাগী সন্ন্যাসীর পরিবর্তে গৃহীসন্ন্যাসীর বিষয় যা আমরা দেখতে পাই শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের প্রয়াণের পরে বিবেকানন্দের পথ অনুসরণের মধ্যে দিয়ে তথাকথিত সংসার ধর্ম ত্যাগের আধিক্যের মধ্যে; তেমনি ছিল মৃন্ময়ী মায়ের পূজোর পরিবর্তে চিন্ময়ী মায়ের পূজো প্রচলন ইত্যাদি।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ রূপে এসে 'তোদের চৈতন্য হ'ক' বলতে তাঁর পুনরায় আগমনের ইঙ্গিত ছাড়া অন্যতম মূল যে কথা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন তাঁর অনুগামী শিষ্যদের কাছে সাধুর সঙ্গে কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে সেই কথা, সেই ইঙ্গিত, সেই অনুশাসন এবার এসে উপযুক্ত সময় ও ক্ষেত্র প্রস্তুত হওয়ায় সরাসরি ইষ্টভৃতি চালু করার মধ্যে দিয়ে সেই ইঙ্গিতের পূর্ণতা দিলেন। পূর্ণতা দিলেন দিনের শুরুতেই ইষ্টের ভরণ পোষণের দায়িত্ব পালনের জন্য ইষ্টভৃতি প্রথা চালু করার মধ্যে দিয়েই। পূর্ণতা দিলেন আমাদের মানবজাতির জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রোগ, শোক, গ্রহদোষ, বুদ্ধি বিপর্যয় ও দারিদ্রতার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য, বাঁচাবার জন্য।
কিন্তু আমরা বাঁচার, রক্ষা পাওয়ার মোক্ষম তুক বা মেডিসিন লাভ করার পরও কি বাঁচতে পারছি বা রক্ষা করতে পারছি নিজেকে ও পরিবারের প্রিয়জনদের????????????
ইষ্টভৃতির মোক্ষম উদাহরণ হ'লো শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের সাধুবাবার সঙ্গে সেই কথোপকথনের গল্প।
সেই সাধুবাবার সঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের কথোপকথনের গল্পটা কি?
একবার এক সাধু ঠাকুর রামকৃষ্ণের কাছে এসে বললেন, কী করলেন আপনি সারা জীবন সাধনা করে? আমি ৩০ বছর সাধনা ক’রে এখন হেঁটে নদী পার হ’ই! আপনি?
ঠাকুর রামকৃষ্ণ হেসে বললেন, যেখানে ১ পয়সা দিলেই আমাকে পার ক’রে দেয় মাঝি সেখানে ৩০ বছর নষ্ট ক’রে কি লাভ!
এই গল্পের মধ্যে দিয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ এই ভবসাগরের যিনি মাঝি তাঁকে বাস্তবভাবে পালনপোষণের দায়িত্ব গ্রহণের যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ১ পয়সা উল্লেখের মধ্যে দিয়ে সেই ইঙ্গিতই আজকের ইষ্টভৃতি। জীবনের শুরুতেই অতি প্রত্যূষে এই ইষ্টভৃতি পালনের কথা তিনি বলেছিলেন যাতে অকারণ অর্থহীন ও ইষ্টের সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্রহীন কষ্টকর দীর্ঘ সাধনার মধ্যে অল্প সময়ের জন্য আসা এই ভবসাগরে অর্থাৎ সংসার সমুদ্রে সময় নষ্ট করা না হয়। এবার এসে সেই ইঙ্গিতকেই সরাসরি 'ইষ্টভৃতি' রূপে বেঁধে দিয়ে গেলেন যাতে সহজেই আমরা এই স্বতঃস্বেচ্ছ, অনুরাগ উদ্দীপী, আগ্রহ-উচ্ছল ও অপ্রত্যাশী অর্ঘ্যাঞ্জলী তাঁকে অর্পণ করতে পারি।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের পূর্ব রূপ শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের ইষ্টভৃতির স্বপক্ষে এই কথোপকথনের গল্পটাই ছিল 'তোদের চৈতন্য হোক!' এই কথার মোক্ষম উদাহরণ।
আর তাই শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ এবার নবরূপে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র হ'য়ে এসে এই ধর্ম্ম জগতের সঙ্গে যুক্ত ঈশ্বর উপাসনা ও সাধন জগতে অবস্থানকারী সমস্ত সাধক-সাধিকাদের উদ্দেশ্যে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বললেন,
"হ'স্ না যোগী, হ'স্ না ধ্যানী,
গোঁসাই-গোবিন্দ যা'ই না হ'স,
যজন-যাজন-ইষ্টভৃতি
না করলে তুই কিছুই ন'স্।"
প্রবন্ধঃ 'সত্যানুসরণ' ও কিছু কথা।
চিন্তা হরণ শ্যামলদা একটা লেখা পোষ্ট করেছিলেন। লেখাটার নীচে লেখা ছিল 'সত্যানুসরণ'। লেখাটা হ'লো, " কৃতঘ্ন ও বিশ্বাসঘাতক অনেকটা অনেক সময়েই নিজেই সর্বনাশে সাবাড় হয়।" লেখাটা চোখে পড়তেই মনে হ'লো এই লেখাটা তো সত্যানুসরণে নেই। তাহ'লে কোথায় পেলেন চিন্তা হরণ দা? কৌতুহলবশতঃ আমি চিন্তা হরণদাকে প্রশ্ন করলাম সেই পোষ্টে। দীক্ষিত-অদীক্ষিত তামাম পাঠককুলের জানার ও সুবিধার জন্য আমার প্রশ্নটা এবং তার পরবর্তী চিন্তা হরণ শ্যামল দা ও নির্মল সেন দার মন্তব্য এবং আমার তাদের সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষণমূলক কথন এখানে তুলে দিলাম।
প্রকাশ বিশ্বাসঃ "এই কথাগুলি সত্যানুসরণ গ্রন্থের? কোথায় পেলেন? কত পাতায় যদি বলেন তাহ'লে একবার দেখে নিতে পারি। আপনি শিওর যে এই কথাগুলি সত্যানুসরণ গ্রন্থের? কোথাও ভুল হচ্ছে না-তো? কোথাও গন্ডগোল হচ্ছে না-তো? দেখুন সত্যানুসরণ গ্রন্থ সম্পর্কে যেন কোনও ভুল ধারণার জন্ম না হয় দীক্ষিত-অদীক্ষিত পাঠক মহলে। একটু দেখে নিন।"
চিন্তা হরণ শ্যামলঃ জয়গুরু দাদাভাই ---"সত্যানুসরণ"৭৭ পৃষ্টার -'এই কৃতঘ্নতা ও বিশ্বাসঘাতকতাকে যে বা যারা প্রশ্রয় ও পোষণপুষ্ট করে---------"আপনি এ লাইনের পর থেকে পড়ালে পরবর্তী লাইনে পেয়ে যাবেন ---'জয়গুরু আশা করি পড়বেন, পাবেন -------"
নির্মল সেনঃ জ্ঞাতার্থে "অকৃতজ্ঞতা" ....কৃতঘ্ন ও বিশ্বাসঘাতকতা অনেকটা অনেক সময়েই নিজেই সর্বনাশে সাবাড় হয় ---- আর এই প্রশ্রয়ী ও পুষ্টিপ্রদাতারা ব্যষ্টিসমষ্টির ধর্ম ও জাতির চিরদিনই সর্বনাশ করে থাকে। (পৃঃ ৭৭) জয়গুরু।
নির্মল সেনঃ যে হেতু বড় পন্ডিত তোমাকে প্রশ্ন করেছে? সেহেতু আমি উত্তর দিলাম! জয়গুরু
চিন্তা হরণ শ্যামলঃ ঠিক দিয়েছেন, দাদা, আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি, জয়গুরু।
এই পর্যন্ত শেষে আমি ভেবেছিলাম এর কোনও উত্তর দেবো না।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে মনে হ'ল প্রায় সময় এই ধরণের ঠাকুরের নাম দিয়ে বাণী চোখে পড়ে। সবার মধ্যে না হ'লেও কিছু মানুষের মধ্যে যারা ঠাকুরের বই টই পড়ে, ঠাকুরের গ্রন্থ Study করে তাদের মধ্যে এই নিয়ে সংশয় তৈরী হয়। এই বাণীটা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে, সংশয় তৈরী হবে আর এদের উত্তরে চুপ ক'রে থাকলে পাঠকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হবে ও মানুষ বিভ্রান্ত হবে। তাই ভাবলাম এই নিয়ে একটু চর্চা করা যেতেই পারে। যাই হ'ক আমি তখন চিন্তা হরণ শ্যামল-দাকে যা লিখেছিলাম সেই লেখা নতুন-পুরাতন দীক্ষিত-অদীক্ষিত মানুষের সুবিধার্থে এইখানে তুলে দিলাম।
প্রকাশ বিশ্বাসঃ চিন্তা হরণ শ্যামলদা আপনার পোষ্টটা দেখে আপনাকে কয়েকটা প্রশ্ন করেছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই একজন ঠাকুরের অনুগামী হিসাবে ঠাকুরের একজন অনুগামীর কাছে এই প্রশ্নটা রেখেছিলাম। প্রশ্নটা রেখেছিলাম এই কারণেই যে আপনার পোষ্টটা আমায় চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল আর ভেবেছিলাম যেহেতু আপনি নামে চিন্তা হরণ তাহ'লে নিশ্চয়ই আমার এই চিন্তা হরণ ক'রে আমাকে সংশয় থেকে মুক্তি দেবেন, আমাকে সবুজ ক'রে দেবেন। কিন্তু দেখলাম আপনি নির্মল সেনকে বাধাই দিয়েছেন, জানিয়েছেন বাহবা তার পোষ্টের জন্য এবং আপনি লিখেছেন আপনি খুব আনন্দিত হয়েছেন। অতএব ধ'রেই নিতে পারি আমার সম্পর্কে করা তার উক্তিতেও আপনি আনন্দ পেয়েছেন এবং তার ভাষা, ব্যবহার, কথা সবকিছুর গুণগ্রাহী। আর মানুষের কথা, ভাষা, ব্যবহার মানুষের চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলে। নির্মল সেনের ক্ষেত্রেও তাই। যাই হ'ক এটা আপনার ব্যক্তিগত বোধ ও রুচির ব্যাপার। সেখানে আমার কিছু বলার থাকতে পারে না।
আপনার কথামত আমি আমার উদ্দেশ্যে করা আপনার কমেন্ট পড়লাম। ভেবে দেখলাম আপনি কোন 'সত্যানুসরণ'-এর কথা বলছেন? ঠাকুরের 'সত্যানুসরণ' নামে কি অনেক গ্রন্থ আছে? অনেক প্রকাশক আছে? এখন দেখা যাক রহস্যটা কোথায়। তাহ'লে কি বাঁদরের তৈলাক্ত বাঁশে ওঠা নামার অঙ্কের (২ফুট উঠলে ৩ফুট নেবে যায়) মত 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা ঠাকুর প্রদত্ত/অপ্রদত্ত বা ঠাকুর অনুমোদিত/অননুমোদিত বাণীর ভারের তারতম্যে মাঝে মাঝে ওঠা নামা করে!?
যাই হ'ক, যে 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ আমার কাছে আছে সেই গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা তো ৭১। ৭৭ নম্বর পৃষ্ঠা কোথায় পেলেন!? এর অর্থ আপনার কাছে যে 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ আছে তার পৃষ্ঠা সংখ্যা আপনার কথানুযায়ী ৭৭পৃষ্ঠা তো আছেই তারও অধিক আছে। আচ্ছা আপনার কাছে যে 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ আছে তার পৃষ্ঠা সংখ্যা কত? আপনার জ্ঞাতার্থে ও আলোচনার সুবিধার্থে এবং দীক্ষিত-অদীক্ষিত পাঠককুলদের সুবিধার্থে আরও একটা তথ্য এর সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছি আমার কাছে আরও একটা 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ আছে যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ১১০। তাহ'লে দেখা যচ্ছে তথ্যানুযায়ী আপাতত 'সত্যানুসরণের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩। এর থেকে স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে তাহ'লে আরও 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ থাকতেই পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থগুলির প্রকাশক কে বা কারা? যে কোনও ব্যাক্তি বা যে কোনও স্বঘোষিত প্রতিষ্ঠান কি নিজের বা নিজেদের ইচ্ছামত ঠাকুরের নাম দিয়ে ঠাকুরের গ্রন্থ ছাপাতে পারে বা ছাপাবার অধিকার বা স্বত্বাধিকার আছে? এই সমস্ত গ্রন্থের Authenticity কোথায়? কোন গ্রন্থের মধ্যে ঠাকুরের বাণীর যথার্থতা অর্থাৎ Genuineness খুঁজে পাওয়া যাবে? সাধারণ আম ভক্তের কথা বাদ দিলাম; গবেষকরা কাকে প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসাবে গুরুত্ব বা স্বীকৃতি দেবে ব'লে আপনার মনে হয়? গবেষকদের কাছে কোন প্রকাশকের গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্ব পাবে?
ক্রমশঃ।
প্রকাশ বিশ্বাসঃ চিন্তা হরণ শ্যামলদা, এবার আসি প্রকাশকের কথায়। আমার কাছে ৭১ পৃষ্ঠার যে 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ আছে তার প্রকাশক ঠাকুরের মূল কেন্দ্র 'সৎসঙ্গ দেওঘর-এর 'সৎসঙ্গ পাবলিশিং হাউস' সৎসঙ্গ, দেওঘর, ঝাড়খন্ড আর আমার কাছে আরও যে বহু পুরানো একটা সত্যানুসরণ' গ্রন্থ আছে সেটার প্রকাশক অন্য। একজন ব্যাক্তি তার প্রকাশক। সেই ব্যাক্তি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল-এর শুভ্রা প্রেস থেকে বইটি মুদ্রণ করেন ও ১৯৭৮ সালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১১০ পাতার বইটি তিনি প্রকাশ করেন। এখন আমার খুব জানার ইচ্ছা, দাদা আপনার কাছে যে বইটি আছে সেই বইটির প্রকাশক ও মুদ্রক কে? কি তার প্রামাণিকতা ও যথার্থতা? কে সেই ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান যিনি বা যার ঠাকুরের গ্রন্থের ওপর এই বিধি সঙ্গত অধিকার আছে, কর্তৃত্ব করবার অনুমতি আছে, প্রামাণিক গ্রন্থ বা মতের ওপর প্রভুত্ব করার অধিকার আছে? কে এই বিধিসঙ্গত ক্ষমতাদান বা প্রাধিকার অর্পণ করলো সেই ব্যাক্তিকে বা সেই প্রতিষ্ঠানকে যে সে বা সেই প্রতিষ্ঠান ঠাকুরের গ্রন্থের ওপর ইচ্ছামত তার বা তাদের ব্যক্তিগত প্রভাব প্রয়োগ ক'রে ঠাকুরের গ্রন্থ প্রকাশ করবে? মূল কেন্দ্র বহির্ভূত ক্ষমতার উৎস এই সমস্ত প্রকাশকগণ কার থেকে সেই অধিকার বা অনুমতি লাভ করেছিল? Authentication বা প্রমাণীকরণ ছাড়া কোনও গ্রন্থের মূল্য গবেষকদের কাছে নেই এবং তাঁরা তাদের গবেষণার ক্ষেত্রে গ্রহণ করেন না বা আদৌ মূল্য দেন না। যাই হ'ক আমি আমার তথ্য ও তত্ত্বের উপর ভিত্তি ক'রে আপনার সঙ্গে এই বিষয় শেয়ার করলাম। আপনি গ্রহণ ও বর্জন দুই-ই করতে পারেন আপনার ইচ্ছানুযায়ী; এই বিষয়ে আমার কোনও বক্তব্য বা আপত্তি নেই।
ক্রমশঃ।
প্রকাশ বিশ্বাসঃ চিন্তা হরণ শ্যামলদা, আপনি বা আপনারা যা ইচ্ছা তাই ভাবতে পারেন, বলতে পারেন, করতে পারেন এই স্বাধীনতা সকলের আছে এবং ঈশ্বর এই স্বাধীনতা সকলকেই দিয়েছেন। আর এই স্বাধীনতার প্রয়োগও দেখতে পাই আপনাদের করা পোষ্টে। আপনারা ঠাকুরের আত্মজদের বিরুদ্ধে কতটা নোংরা ভাষা প্রয়োগ করতে পারেন, নোংরা আচরণ করতে পারেন এবং পরস্পর পরস্পরকে সমর্থন ক'রে এই নোংরা কাজে ঝড় তুলবার আহ্বান দিতে পারেন তাও দেখছি। আর তাই ভাবি ঠাকুরের পরমপ্রিয় আত্মজদের যারা ছাড় দেয় না তো বাকীরা কোন ক্ষেত কা মূলী!? কিন্তু এটা জেনে রাখুন ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের কাছে 'কোন ক্ষেত কা মূলী' এই তকমা চলবে না। তাঁরা চাইবেন তাদের গবেষণার জন্য Authentication, চাইবেন Genuineness-এর ভিত, চাইবেন Authorized version of the 'Sathyanusaran' which is called 'The pursuit of Truth. সেখানে নির্মল সেনদের গালাগালি খাটবে না, খাটবে না মূল কেন্দ্র বহির্ভূত ক্ষমতার উৎস কপট চাতুরিদের প্রকাশনার!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
প্রকাশ বিশ্বাসঃ আর, Nirmal Senদের মত অসহিষ্ণু, অসভ্য, রুচিহীন মানুষদের উদ্দেশ্যে শুধু এই কথায় বলতে পারি উনার সঙ্গে আমার কোনও কথা বলার রুচি নেই। কারণ আমি Chinta Haran Shyamolদার পোষ্টের উপরে কিছু আগ্রহ প্রকাশ করেছিলাম, উনাকে (নির্মল সেন) বা উনার কোনও পোষ্ট বা বক্তব্য বিষয়ে কোনও মন্তব্য করিনি। অথচ উনি আমাকে (আমি উনার না পরিচিত, না ফেসবুক বন্ধু) অপমানজনক মন্তব্য ক'রে উনার শিক্ষা, রুচি ও জীবনের মান ও শৈলীর পরিচয় দিয়েছেন। তাই, আমি না উনি কে বড় পন্ডিত আর কে বড় লেন্ডিত সে আলোচনা বা তর্কে যেতে রুচিতে বাধলো। জানি না উনি বৈধ সৎসঙ্গী কিনা!!!!!!!!! তবে এটা বুঝেছি ঠাকুরের জীবন, ব্যবহার, বলা, কথা ও ঠাকুরের সৎসঙ্গের শিক্ষা, রুচি ইত্যাদির কোনও কিছুর সঙ্গেই উনার (আমাকে ও অন্যান্য জায়গায় করা মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে উনার যে জীবন দর্শনের বহির্প্রকাশ হয় তার সঙ্গে) সঙ্গে মেলে না শুধু নয়, ঠাকুরের মানুষের একেবারে বিপরীত।
শেষ।
প্রকাশ বিশ্বাসঃ "এই কথাগুলি সত্যানুসরণ গ্রন্থের? কোথায় পেলেন? কত পাতায় যদি বলেন তাহ'লে একবার দেখে নিতে পারি। আপনি শিওর যে এই কথাগুলি সত্যানুসরণ গ্রন্থের? কোথাও ভুল হচ্ছে না-তো? কোথাও গন্ডগোল হচ্ছে না-তো? দেখুন সত্যানুসরণ গ্রন্থ সম্পর্কে যেন কোনও ভুল ধারণার জন্ম না হয় দীক্ষিত-অদীক্ষিত পাঠক মহলে। একটু দেখে নিন।"
চিন্তা হরণ শ্যামলঃ জয়গুরু দাদাভাই ---"সত্যানুসরণ"৭৭ পৃষ্টার -'এই কৃতঘ্নতা ও বিশ্বাসঘাতকতাকে যে বা যারা প্রশ্রয় ও পোষণপুষ্ট করে---------"আপনি এ লাইনের পর থেকে পড়ালে পরবর্তী লাইনে পেয়ে যাবেন ---'জয়গুরু আশা করি পড়বেন, পাবেন -------"
নির্মল সেনঃ জ্ঞাতার্থে "অকৃতজ্ঞতা" ....কৃতঘ্ন ও বিশ্বাসঘাতকতা অনেকটা অনেক সময়েই নিজেই সর্বনাশে সাবাড় হয় ---- আর এই প্রশ্রয়ী ও পুষ্টিপ্রদাতারা ব্যষ্টিসমষ্টির ধর্ম ও জাতির চিরদিনই সর্বনাশ করে থাকে। (পৃঃ ৭৭) জয়গুরু।
নির্মল সেনঃ যে হেতু বড় পন্ডিত তোমাকে প্রশ্ন করেছে? সেহেতু আমি উত্তর দিলাম! জয়গুরু
চিন্তা হরণ শ্যামলঃ ঠিক দিয়েছেন, দাদা, আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি, জয়গুরু।
এই পর্যন্ত শেষে আমি ভেবেছিলাম এর কোনও উত্তর দেবো না।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে মনে হ'ল প্রায় সময় এই ধরণের ঠাকুরের নাম দিয়ে বাণী চোখে পড়ে। সবার মধ্যে না হ'লেও কিছু মানুষের মধ্যে যারা ঠাকুরের বই টই পড়ে, ঠাকুরের গ্রন্থ Study করে তাদের মধ্যে এই নিয়ে সংশয় তৈরী হয়। এই বাণীটা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে, সংশয় তৈরী হবে আর এদের উত্তরে চুপ ক'রে থাকলে পাঠকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হবে ও মানুষ বিভ্রান্ত হবে। তাই ভাবলাম এই নিয়ে একটু চর্চা করা যেতেই পারে। যাই হ'ক আমি তখন চিন্তা হরণ শ্যামল-দাকে যা লিখেছিলাম সেই লেখা নতুন-পুরাতন দীক্ষিত-অদীক্ষিত মানুষের সুবিধার্থে এইখানে তুলে দিলাম।
প্রকাশ বিশ্বাসঃ চিন্তা হরণ শ্যামলদা আপনার পোষ্টটা দেখে আপনাকে কয়েকটা প্রশ্ন করেছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই একজন ঠাকুরের অনুগামী হিসাবে ঠাকুরের একজন অনুগামীর কাছে এই প্রশ্নটা রেখেছিলাম। প্রশ্নটা রেখেছিলাম এই কারণেই যে আপনার পোষ্টটা আমায় চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল আর ভেবেছিলাম যেহেতু আপনি নামে চিন্তা হরণ তাহ'লে নিশ্চয়ই আমার এই চিন্তা হরণ ক'রে আমাকে সংশয় থেকে মুক্তি দেবেন, আমাকে সবুজ ক'রে দেবেন। কিন্তু দেখলাম আপনি নির্মল সেনকে বাধাই দিয়েছেন, জানিয়েছেন বাহবা তার পোষ্টের জন্য এবং আপনি লিখেছেন আপনি খুব আনন্দিত হয়েছেন। অতএব ধ'রেই নিতে পারি আমার সম্পর্কে করা তার উক্তিতেও আপনি আনন্দ পেয়েছেন এবং তার ভাষা, ব্যবহার, কথা সবকিছুর গুণগ্রাহী। আর মানুষের কথা, ভাষা, ব্যবহার মানুষের চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলে। নির্মল সেনের ক্ষেত্রেও তাই। যাই হ'ক এটা আপনার ব্যক্তিগত বোধ ও রুচির ব্যাপার। সেখানে আমার কিছু বলার থাকতে পারে না।
আপনার কথামত আমি আমার উদ্দেশ্যে করা আপনার কমেন্ট পড়লাম। ভেবে দেখলাম আপনি কোন 'সত্যানুসরণ'-এর কথা বলছেন? ঠাকুরের 'সত্যানুসরণ' নামে কি অনেক গ্রন্থ আছে? অনেক প্রকাশক আছে? এখন দেখা যাক রহস্যটা কোথায়। তাহ'লে কি বাঁদরের তৈলাক্ত বাঁশে ওঠা নামার অঙ্কের (২ফুট উঠলে ৩ফুট নেবে যায়) মত 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা ঠাকুর প্রদত্ত/অপ্রদত্ত বা ঠাকুর অনুমোদিত/অননুমোদিত বাণীর ভারের তারতম্যে মাঝে মাঝে ওঠা নামা করে!?
ক্রমশঃ।
প্রকাশ বিশ্বাসঃ চিন্তা হরণ শ্যামলদা, এবার আসি ঠাকুরের 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ প্রসঙ্গে আলোচনায়। আপনার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভেবেছিলাম রহস্যের সমাধান হ'তে পারে কিন্তু যখন দেখলাম আপনি নির্মল সেনের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের সমর্থক তখন ইচ্ছেটা মরে গেছিল। ভেবেছিলাম সবার সঙ্গে সব আলোচনা নয়। যাই হ'ক পড়ে ভাবলাম আমার আগের করা বক্তব্যের একটা মধুরেন পরিসমাপ্তির প্রয়োজন আর সেই প্রয়োজন বৃহত্তর স্বার্থে। তাই আবার লিখতে বসলাম বৃহত্তর পাঠককুলের জন্য।
যাই হ'ক, যে 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ আমার কাছে আছে সেই গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা তো ৭১। ৭৭ নম্বর পৃষ্ঠা কোথায় পেলেন!? এর অর্থ আপনার কাছে যে 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ আছে তার পৃষ্ঠা সংখ্যা আপনার কথানুযায়ী ৭৭পৃষ্ঠা তো আছেই তারও অধিক আছে। আচ্ছা আপনার কাছে যে 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ আছে তার পৃষ্ঠা সংখ্যা কত? আপনার জ্ঞাতার্থে ও আলোচনার সুবিধার্থে এবং দীক্ষিত-অদীক্ষিত পাঠককুলদের সুবিধার্থে আরও একটা তথ্য এর সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছি আমার কাছে আরও একটা 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ আছে যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ১১০। তাহ'লে দেখা যচ্ছে তথ্যানুযায়ী আপাতত 'সত্যানুসরণের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩। এর থেকে স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে তাহ'লে আরও 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ থাকতেই পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থগুলির প্রকাশক কে বা কারা? যে কোনও ব্যাক্তি বা যে কোনও স্বঘোষিত প্রতিষ্ঠান কি নিজের বা নিজেদের ইচ্ছামত ঠাকুরের নাম দিয়ে ঠাকুরের গ্রন্থ ছাপাতে পারে বা ছাপাবার অধিকার বা স্বত্বাধিকার আছে? এই সমস্ত গ্রন্থের Authenticity কোথায়? কোন গ্রন্থের মধ্যে ঠাকুরের বাণীর যথার্থতা অর্থাৎ Genuineness খুঁজে পাওয়া যাবে? সাধারণ আম ভক্তের কথা বাদ দিলাম; গবেষকরা কাকে প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসাবে গুরুত্ব বা স্বীকৃতি দেবে ব'লে আপনার মনে হয়? গবেষকদের কাছে কোন প্রকাশকের গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্ব পাবে?
ক্রমশঃ।
প্রকাশ বিশ্বাসঃ চিন্তা হরণ শ্যামলদা, এবার আসি প্রকাশকের কথায়। আমার কাছে ৭১ পৃষ্ঠার যে 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ আছে তার প্রকাশক ঠাকুরের মূল কেন্দ্র 'সৎসঙ্গ দেওঘর-এর 'সৎসঙ্গ পাবলিশিং হাউস' সৎসঙ্গ, দেওঘর, ঝাড়খন্ড আর আমার কাছে আরও যে বহু পুরানো একটা সত্যানুসরণ' গ্রন্থ আছে সেটার প্রকাশক অন্য। একজন ব্যাক্তি তার প্রকাশক। সেই ব্যাক্তি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল-এর শুভ্রা প্রেস থেকে বইটি মুদ্রণ করেন ও ১৯৭৮ সালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১১০ পাতার বইটি তিনি প্রকাশ করেন। এখন আমার খুব জানার ইচ্ছা, দাদা আপনার কাছে যে বইটি আছে সেই বইটির প্রকাশক ও মুদ্রক কে? কি তার প্রামাণিকতা ও যথার্থতা? কে সেই ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান যিনি বা যার ঠাকুরের গ্রন্থের ওপর এই বিধি সঙ্গত অধিকার আছে, কর্তৃত্ব করবার অনুমতি আছে, প্রামাণিক গ্রন্থ বা মতের ওপর প্রভুত্ব করার অধিকার আছে? কে এই বিধিসঙ্গত ক্ষমতাদান বা প্রাধিকার অর্পণ করলো সেই ব্যাক্তিকে বা সেই প্রতিষ্ঠানকে যে সে বা সেই প্রতিষ্ঠান ঠাকুরের গ্রন্থের ওপর ইচ্ছামত তার বা তাদের ব্যক্তিগত প্রভাব প্রয়োগ ক'রে ঠাকুরের গ্রন্থ প্রকাশ করবে? মূল কেন্দ্র বহির্ভূত ক্ষমতার উৎস এই সমস্ত প্রকাশকগণ কার থেকে সেই অধিকার বা অনুমতি লাভ করেছিল? Authentication বা প্রমাণীকরণ ছাড়া কোনও গ্রন্থের মূল্য গবেষকদের কাছে নেই এবং তাঁরা তাদের গবেষণার ক্ষেত্রে গ্রহণ করেন না বা আদৌ মূল্য দেন না। যাই হ'ক আমি আমার তথ্য ও তত্ত্বের উপর ভিত্তি ক'রে আপনার সঙ্গে এই বিষয় শেয়ার করলাম। আপনি গ্রহণ ও বর্জন দুই-ই করতে পারেন আপনার ইচ্ছানুযায়ী; এই বিষয়ে আমার কোনও বক্তব্য বা আপত্তি নেই।
ক্রমশঃ।
প্রকাশ বিশ্বাসঃ চিন্তা হরণ শ্যামলদা, আপনি বা আপনারা যা ইচ্ছা তাই ভাবতে পারেন, বলতে পারেন, করতে পারেন এই স্বাধীনতা সকলের আছে এবং ঈশ্বর এই স্বাধীনতা সকলকেই দিয়েছেন। আর এই স্বাধীনতার প্রয়োগও দেখতে পাই আপনাদের করা পোষ্টে। আপনারা ঠাকুরের আত্মজদের বিরুদ্ধে কতটা নোংরা ভাষা প্রয়োগ করতে পারেন, নোংরা আচরণ করতে পারেন এবং পরস্পর পরস্পরকে সমর্থন ক'রে এই নোংরা কাজে ঝড় তুলবার আহ্বান দিতে পারেন তাও দেখছি। আর তাই ভাবি ঠাকুরের পরমপ্রিয় আত্মজদের যারা ছাড় দেয় না তো বাকীরা কোন ক্ষেত কা মূলী!? কিন্তু এটা জেনে রাখুন ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের কাছে 'কোন ক্ষেত কা মূলী' এই তকমা চলবে না। তাঁরা চাইবেন তাদের গবেষণার জন্য Authentication, চাইবেন Genuineness-এর ভিত, চাইবেন Authorized version of the 'Sathyanusaran' which is called 'The pursuit of Truth. সেখানে নির্মল সেনদের গালাগালি খাটবে না, খাটবে না মূল কেন্দ্র বহির্ভূত ক্ষমতার উৎস কপট চাতুরিদের প্রকাশনার!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
প্রকাশ বিশ্বাসঃ আর, Nirmal Senদের মত অসহিষ্ণু, অসভ্য, রুচিহীন মানুষদের উদ্দেশ্যে শুধু এই কথায় বলতে পারি উনার সঙ্গে আমার কোনও কথা বলার রুচি নেই। কারণ আমি Chinta Haran Shyamolদার পোষ্টের উপরে কিছু আগ্রহ প্রকাশ করেছিলাম, উনাকে (নির্মল সেন) বা উনার কোনও পোষ্ট বা বক্তব্য বিষয়ে কোনও মন্তব্য করিনি। অথচ উনি আমাকে (আমি উনার না পরিচিত, না ফেসবুক বন্ধু) অপমানজনক মন্তব্য ক'রে উনার শিক্ষা, রুচি ও জীবনের মান ও শৈলীর পরিচয় দিয়েছেন। তাই, আমি না উনি কে বড় পন্ডিত আর কে বড় লেন্ডিত সে আলোচনা বা তর্কে যেতে রুচিতে বাধলো। জানি না উনি বৈধ সৎসঙ্গী কিনা!!!!!!!!! তবে এটা বুঝেছি ঠাকুরের জীবন, ব্যবহার, বলা, কথা ও ঠাকুরের সৎসঙ্গের শিক্ষা, রুচি ইত্যাদির কোনও কিছুর সঙ্গেই উনার (আমাকে ও অন্যান্য জায়গায় করা মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে উনার যে জীবন দর্শনের বহির্প্রকাশ হয় তার সঙ্গে) সঙ্গে মেলে না শুধু নয়, ঠাকুরের মানুষের একেবারে বিপরীত।
শেষ।
(লেখা ২রা সেপ্তেম্বর'২০১৭)
Subscribe to:
Posts (Atom)
