Powered By Blogger

Friday, October 8, 2021

কবিতাঃ রাফ এন্ড টাফ!

হে দয়াল! কিছুই করতে পারি না আমি!
জীবনে কিছুই করতে পারিনি!
জীবন যুদ্ধে ভালো মানুষীর পথে লাথিঝাঁটা
আর সহস্র বাধা শুধু সম্বল ক'রে আজ
অস্তাচলের পথে তবুও সত্যের পথে লড়াইয়ে
হারিয়ে অনেক কিছু তোমার দয়ায় হারিনি।
কিন্তু জীবনে কিছুই করতে পারিনি!
তুমিই জানো দয়াল কি পেরেছি আর কি পারিনি!
সেই যে কবে কোন ছোটোবেলায় পড়েছিলাম
তুমি বলেছিলে,
অর্থ মান আর যশের আশায় তোমায় না ধরতে!
ঠাকুরত্ব না জাগলে হবে কেন্দ্রহীন জীবন আর
ফাঁকি দিলে জীবনে ফাঁকি পেতে হবে!
সেই যে কবে কোন ছোটোবেলায় ফটো বাঁধিয়ে
পড়ার টেবিলের সামনের দেওয়ালে
রেখেছিলাম মাথার ওপর ঠাঙ্গিয়ে!
আজও আছে তা সযতনে হয়েছে পুরাতন
কিন্তু মিটিমিটি হাসে আমার দিকে চেয়ে
কথাগুলি রতন! মনে হয় যেন বলে,
কি পেলে? পেয়েছো কিছু?
মেনে জীবনভর আমায় চেহারায় ছাড়া পরিবর্তন?
নীরব আমি, স্থির চোখের তারা আমার বলে,
সময় গিয়েছে ব'য়ে দিনগত পাপ ক্ষয়ে ক্ষয়ে
যদি ক'রে থাকি কিছু এ জীবনে অজান্তে! কিন্তু
কপটতা আর ভন্ডামির হাতে করিনি সমর্পণ
নিজেরে কখনও কোনওদিন কোনও কিছুর তরে।
জীবনে পাইনি কিছু, হ'ইনি ও হয়নি কিছু, দুঃখ নেই তাতে
তোমার দয়ায় হারিনি আমি, কম্প্রোমাইস করিনি কারও সাথে।
না পারি নাম করতে তোমার,
না পারি তোমার ধ্যান!
না পারি কাউকে ভালবাসতে
দয়াল এমনই আমি নাকি অজ্ঞান!
পারি শুধু নাকি করতে তাফাল হ'য়ে মহাকাল
হিংসা, নিন্দা, কুৎসা আর বদনাম
করে যারা তোমার আর তোমার পরিবারের বিরুদ্ধে
আর ভন্ডামি কপটতাকে ক'রে সাথী
যারা মারে ঘোড়া হাতি রাতারাতি
তোমাকে ক'রে আয়ের উপকরণ
তাদের বিরুদ্ধে নাকি আমি করি বাওয়াল!
এমনই তোমার ভক্ত আমি নাকি অজ্ঞান!
তবে তাই হ'ক, অজ্ঞান আমি মহা ভাগ্যবান।
দয়াল! দয়া করো! দয়া ক'রে দাও শক্তি
তোমাকে করতে ভক্তি, করতে তোমার নাম!
দয়া করো অধমেরে পারি যেন করতে তোমার ধ্যান।
কে তুমি!? এখনও তাই-ই জানলাম না আমি!
জীবন যাচ্ছে চ'লে, অস্তাচলে;
দয়াল! এমনই বাচ্চা শুয়োর আমি!
গলায় ঝুলিয়ে রকমারি ডিগ্রী যারা ওয়াষ্ট পেডিগ্রী
মারছে শালা হাঁকডাক!
গল্পে, কবিতায়, গানে আরও রকমারি নানা স্থানে
হাওয়াই উড়িয়ে কথার ফোয়ারা দিচ্ছে লম্ফ দিয়ে ঝাঁপ!
তাদের বিরুদ্ধে বললে বলে,
হে দয়াল! আমি নাকি শালা রাফ এন্ড টাফ!

কবিতাঃ নিজেকে বাঁচাও! বন্ধু! নিজেকে বাঁচাও!!

দয়াল না চাইলে 
কিছুই করতে পারবে না কিন্তু তুমি বন্ধু!
বৃথা হবে সব! হবে পণ্ডশ্রম!
তা সে যতই করোনা তুমি কসরত!
না পারবে তুমি তার রথ টানতে
না পারবে তুমি থামাতে তার রথ
যতই তুমি হও না কেন ধনে, জনে, মানে বলবান!
যতই তুমি হওনা কেন ভীমের মত শক্তিমান, সৎ!
বন্ধু! ভুলে যাও! যাও ভুলে, 'আমি! আমি প্রধান!'
এখনও সময় আছে নিজেকে শুধরে নেবার!
ভুলে গিয়ে যতসব বৃথা ফালতু মিথ্যে ইগোর টান।
ফিরে এসো! নাও শুধরে নিজের যত ভুল
আর তাঁর চরণে দাও সঁপে নিজেকে,
সাজিয়ে হৃদয় ফুল!
বন্ধু! আর ক'রো না দেরি, ক'রো না আর ভুল!
দয়াল না চাইলে বন্ধু তুমি পারবে না কিছুই করতে!
পারবে না ফুল কিম্বা হুল কিছুই ফোটাতে!
তা যাই-ই করো আর যতই করো না কেন রুল!
মনে মনে নিজেকে ভেবে '৯৯% আমার দিকে!
আমি প্রধান! আমি প্রধান!' এই ভুল!
দয়াল না চাইলে যে গাছের পাতাটুকুও নড়ে না বন্ধু
এ বোধও তোমার নাই!? হায়! বন্ধু হায়!
কেমন ক'রে জীবন যুদ্ধে বন্ধু ভাসাবে তোমার নাউ?
জীবন জুড়ে শুধু আছে ভরে শব্দ হাঁউ মাউ কাঁউ!
মনে রেখো, সঙ্কটকালে এসে কেউ ধরবে না তোমার হাত
ভুখা পেটে যখন কাটবে জীবন দেবে না একমুঠো কেউ ভাত!
এসো, এসো ফিরে বন্ধু জীবন নদীর তীরে
যেথা আছে দয়াল প্রভু বসে তোমার তরে
তাঁর চরণতলে এসে তাঁর চলনধুলা মাথায় তুলে নাও!
বন্ধু! নিজেকে বাঁচাও!
বন্ধু! নিজেকে বাঁচাও!!

যাচাই-বাছাই।

যাচাই 'রে বাছাই নাকি বাছাই 'রে যাচাই!?

কোনটা রাখবে কোনটা ফেলবে

কোনটা নেবে না আর কোনটা নেবে

জীবন মাঝে যাই- করো না যাচাই-বাছাই

আর যতই করো চলার পথে ঝাড়াই মাড়াই

নও গো তুমি মানুষ দ্রষ্টা, নও গো তুমি স্রষ্টা

যে আগাম তুমি পারবে বুঝতে, পারবে ধরতে

হাত দিলে কোনটা হবে আর কোনটা হবে না ছাই।

যতই করো না কেন ঝাড়াই-বাছাই আর যতই করো যাচাই!

চলার পথে জীবন মাঝে সকাল থেকে রাত্রি

হে আমার সহযাত্রী নয়তো কিছুই নিখুঁত

শৈশব কৈশোর যৌবন পেরিয়ে আজ

মাথায় প্রৌঢ়তার তাজ চলতে গিয়ে দেখি সবতেই খুঁত!

জীবনভর চেয়েছি অনেক কিছুই করেছি ঝাড়াই বাছাই

মঙ্গল-অমঙ্গল কি হবে না হবে তা করিনি যাচাই!

মনের মাঝে নানা ইচ্ছে উঠেছিল যা আলটপকা জেগে

সেই ইচ্ছের ডানায় চেপে নিজেকে দিয়েছি উড়িয়ে

উড়তে উড়তে কোথায় যাবে জটায়ু হবো কিনা শেষে

বৃত্তি বেহুঁশ মাতাল জীবন দেখেনি তা ভেবে!

তাই তো বলি, হে আমার বন্ধু! হে আমার সহযাত্রী!

পরমপিতাকে রাখলে 'রে চলনপুজো করলে পরে

তাঁর দয়াতে সব পাওয়া যায় জীবন জুড়ে যা আমি চাই!

গহীন রাত্রি শেষে যেমন ফোটে ভোরের আলো

ঠিক তেমনি দেখতে পাবে তাঁর দয়াতে জীবন জুড়ে তোমার

সব গিয়েছে মুছে যা ছিল তোমার আলকাতরা কালো!

বুক ভরা কফ! ঘন জমাট হলুদ কফ দুর্গন্ধ খাসা!

ফেঁপড়া গিয়েছে ঢেকে বিপদ আসছে ঝেঁপে

নেই তাতে একরত্তি ভালো বাসার আশা! আর ভালোবাসা দুরাশা!!

তাঁর স্পর্শে খারাপ বাসা যায় 'য়ে যে ভালো

ভালোবাসায় ঘর ভরে যায় দখিনা বাতাস যায় 'য়ে যায়

আঁধার ঘিরে আছে যে জীবন জ্বলে সেই জীবনে আলো!

 

 

কবিতাঃ দয়ালের হাঁক!

মহাসিন্ধুর ওপার থেকে ভেসে আসছে দয়ালের হাঁক!

তফাৎ যাও! তফাৎ যাও! যাও তফাৎ!

ভন্ড আর কপট যত আমার ভক্তকুল

'য়ে যাও, যাও 'য়ে সাবধান!

নয়তো যাক নিপাত! নিপাত যাক!

আমাকে নিয়ে, আমাকে ভাঙিয়ে

চিরদিন পার পাবে ভেবেছো?

যতই মনে করো না কেন তুমি

দানধ্যান হোমযজ্ঞ পুজোপাঠে

করবে তুমি নিজেকে শুদ্ধ, পবিত্র

কর্মফল ভুগতে হবেই তোমায়!

শেষের সেদিন করবে তোমায় জব্দ।

যদি মনে করো যা তুমি করছো আর 'রে রেখেছো

তা থেকে পাবে তুমি মুক্তি,

যাকে দিয়েছো কষ্ট যন্ত্রণা অবিরাম

তার দীর্ঘশ্বাস থেকে পাবে তুমি পরিত্রাণ!?

মনে রেখো সে গুড়ে বালি।

আর 'ওং গণেশায় নমঃ, নমঃ শিবায় নমঃ,

ব্রহ্মন্যদেবায় নমঃ ইত্যাদি মন্ত্রোচ্চারণে

উড়িয়ে খই চড়ে মই পাবে তুমি বিন্দাস আরাম!?

বৃথা সে স্বপ্ন! বৃথা হবে তা! হবে হারাম!

সাধারণ দুর্বল ভাঙাচোরা ভক্তকুল

হারিয়েছে বিশ্বাস, হয়েছে হতাশ তোমাদেরই

ভন্ডামি কপটতার প্রকোপে!

তাদের ভেঙেছে আশা ভরসার কুল,

হয়েছে মন প্রতিকুল

তোমাদেরই চোরুয়া ভক্তির তাপে!

আর আজ 'জয়গুরু' হিক্কারে বিন্দাস মুক্তি পাবে!?

জপতপ পুজোর নামে অনুষ্ঠানের মহরায় সুখ খুঁজে খাবে?

মহাভারত কি তাই বলে?

এখনো সময় আছে স্বভাব পাল্টাও, চরিত্র পাল্টাও

বিবেকের আয়নায় দেখো তব মুখের কদর্যরূপ!

অনুশোচনার আগুনে জ্বলেপুড়ে খাক হও,

জীবন্ত ঈশ্বরের চরণতলে দাও, দাও, নিজেকে সঁপে দাও।

ভেঙে চূড়মার 'রে দাও যত বৃত্তি-প্রবৃত্তির আগল

আর নেয়ে ওঠো তাঁর চলনামৃতের বারিধায়ায়

শুদ্ধ হও, পবিত্র হও, হও নব জীবনের আধার

জীবনের যত পাপতাপ, ভুলভ্রান্তি ধুয়ে যাক, মুছে যাক

জমে থাকা মনের ঘরের যত ময়লা তাঁর স্পর্শে ' সাবাড়।

কবিতাঃ এসো! দাও ঝাঁপ!

 এসো! এসো বন্ধু! রাখো বিশ্বাস তাঁর চরণে!

দাও সঁপে নিজেকে একবার সম্পূর্ণভাবে

দু:, কষ্ট, জ্বালাযন্ত্রণা সব উবে যাবে

নিশ্চিত তাঁর দয়ায়; তাঁরে ভালোবাসলে পরে।

সব বাধা যাবে সরে, যাবে সব বন্ধ দরজা খুলে

জীবনভর যা করেছো অজস্র ভুলের ঝুল যাবে 'রে

নিলে তাঁকে জড়িয়ে হৃদমাঝারে অবিশ্বাস ভুলে।

এসো! এসো বন্ধু! তিনি ডাকছেন তোমায়

নাও তাঁকে জড়িয়ে বুকে, নাও তুলে মাথার 'পরে

এসো ইগো আর অবিশ্বাসের বাঁধন ছিড়েখুঁড়ে

দাও তাঁরে সুযোগ করতে তাঁর দয়া উপভোগ

তাবিজ মাদুলি তুকতাক ঝাড়ফুঁক পায়ে 'লে।

নিশ্চিত তাঁর দয়ায় যাবে বন্ধু তুমি তরে

'দের হ্যায় লেকিন অন্ধেরা নেহি হ্যায়' বিশ্বাস 'রে।

বিশ্বাস! বিশ্বাস! বিশ্বাস! বিশ্বাসে শক্তি আর

বিশ্বাসেই আছে অফুরন্ত বুকভরা সাহস,

বাঁচার নিশ্বাস আর আশ্বাস!

দাঁড়াও! উঠে দাঁড়াও! ঘুড়ে দাঁড়াও!

রাধাস্বামী 'লে দাও ঝাঁপ!

নয় বিষাক্ত রাজনীতির মিথ্যে কথার ঢাক!

নয় বৃত্তি-প্রবৃত্তিতে আপাদমস্তক ডুবে থাকা

লেখাপড়াজানাওয়ালা অশিক্ষিত মানুষের

কথার ফুলঝুরি ওড়ানো হাঁকডাক!

দয়াল প্রভু পরমপিতার ডাক!

ডাক সৃষ্টিকর্তা পুরুষোত্তমের ডাক!

ঘোর অন্ধকারে আলোর ঝাঁক!

তমসার পার অচ্ছেদ্যবর্ণ মহান পুরুষ

ইষ্টপ্রতীকে আবির্ভূত জীবন্ত ঈশ্বরের

আর্যকৃষ্টি সম্ভূত জীবনবাদের ডাক!!

এসো। এসো বন্ধু।

এসো, অবিশ্বাসের বাঁধন ছিঁড়ে দাও ঝাঁপ।