Powered By Blogger

Saturday, January 11, 2020

শব্দদানব ডি জে!

শিব ঠাকুরের আপন দেশে-------

সরকার কি কোমায় আচ্ছন্ন!? নববর্ষের ডি. জে. শব্দ দানবের তান্ডব কি কানে পৌঁছোয় না!? চোখে দেখে না!?!?!? সরকার, প্রশাসন, প্রশাসক কি কালা!? অন্ধ!?!?

ঠিক এমনি বরাবরের অন্যান্য অনুষ্ঠান, উৎসব ও পুজোর মত ছট পূজার সময়ও পানিহাটি স্বদেশী মোড়ে জনবহুল বি. টি. রোডে প্রকাশ্যে দেখেছিলাম সারাদিনব্যাপী শব্দদানবের দাপাদাপি, শুনেছিলাম জনবহুল ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ির ভিড়ে ডি. জে. শব্দদানবের হুঙ্কার! কেউ কারও কথা শুনতে পাচ্ছে না, কারও সঙ্গে কথা বলতে পারছে না! গাড়ির হর্ন চাপা পড়ে যাচ্ছে ডি. জে-র ভয়ঙ্কর গর্জনের নীচে!!!!! একটা অদ্ভুত দানবীয় উল্লাসের খুল্লমখুল্লা স্বাধীনতা! কোনও প্রশাসন নেই, নেই কোনও শাসন ও নেই কোনও প্রশাসক! অনুরোধ করলে সামান্য একটু কমিয়ে দেয় একজন আর পরমুহূর্তেই আর একজন ছট পূজার উদ্যোক্তা এসে দ্বিগুন বাড়িয়ে দেয় শব্দের ভলিউম!! শব্দের প্রচন্ডতায় সৃষ্টি হয়েছে একটা উচ্শৃঙ্খল বিশৃঙ্খল পরিবেশ আর সেই পরিবেশে নীরবে মানুষ মুখ বুজে সহ্য ক'রে চলেছে ঈশ্বর পূজার অত্যাচার!!!!! কয়েকটি মাত্র মানুষ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে স্বদেশী মোড়ের মত জনবহুল রাস্তার পাশে সরকার, প্রশাসন, প্রশাসক আর তামাম নাগরিকের সুবিধা-অসুবিধাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বলাৎকার করতে করতে!!!!!! যেন মনে হচ্ছে দেশে কোনও সরকার, পুলিশ, প্রশাসন, প্রশাসক নেই! চালাও পানসি! শালা যা চলছে, চলুক! যা হচ্ছে, হ'ক! চলেছে! চলছে!! চলবে!!! হয়েছে! হচ্ছে!! হবে!!! শিব ঠাকুরের আপন দেশে আইনকানুন সর্বনেশে!! হ্যাটস অফ পুজোপার্বন! হ্যাটস অফ নববর্ষ!! হ্যাটস অফ অনুষ্ঠান-উৎসব!!! হ্যাটস অফ সরকার, প্রশাসন, প্রশাসক!!!! হ্যাটস অফ তামাম সাধারণ-অসাধারণ, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, লেখাপড়া জানা ও না-জানাওয়ালা আম নাগরিক!!!!! হ্যাটস অফ!!!!!!! -------প্রবি।

চ্যালেঞ্জ!

নতুন বছরে আসুন ঠাকুরকে ঠাকুর যা চেয়েছিলেন, যেভাবে চেয়েছিলেন ঠিক সেইভাবে প্রতিষ্ঠা করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করি। চ্যালেঞ্জ মানে চলনকে সঠিক পথে চালিত করার ও ক'রে চলার জন্য নিজেকে আরেঞ্জ করা। ঠাকুরকে মাথায় নিয়ে চলা অর্থাৎ তাঁর চলন পুজো করা, চরণ পুজো নয়, নয় ফুল বেলপাতা, ধূপধুনো দিয়ে পুজো, পুজো মানে স্বাগতম অর্থাৎ তাঁর চলা, বলা, কথা, আচার, ব্যবহার ইত্যাদিকে নিজের চরিত্রে আপন ক'রে নেওয়া, মিশিয়ে নেওয়া! দেখব সব সমস্যা কেটে যাবে ধীরে ধীরে! কাটবেই!! আসুন বিশ্বাস রাখি নিজের ও ঠাকুরের ওপর আর সেইভাবে চলি যেন ঠাকুর খুশী হন!!!!!
---প্রবি।

কর্ম-ধর্ম!

কর্মযোগী পুরুষ তুমি কর্ম নিয়েই থাকো;
কর্ম তোমার ধ্যান জ্ঞান কর্ম নিয়েই বাঁচো!
কর্ম মাঝে তুফান ওঠে কথার তুফান বটে!
ধর্মহীন কর্ম জেনো পুতুল কিন্তু বিকিকিনির হাটে।

ধর্মযোগী পুরুষ তুমি ধর্ম নিয়েই থাকো;
ধর্ম তোমার ধ্যান জ্ঞান ধর্ম নিয়েই বাঁচো!
ধর্ম মাঝে তুফান ওঠে ভক্তির তুফান বটে!
কর্মহীন ধর্ম জেনো প্রসব করে কিন্তু অশ্বডিম্ব ঘটে!

কর্মযোগী মারছে ঝাঁপ কর্ম নিয়ে ফাটিয়ে ঢাক
কর্মমাঝে মারছে ঘাই কর্ম কর্ম মারছে হাঁক!
ধর্ম ধর্ম জিগির তুলে ধর্মযোগী ছুটিয়ে ঘোড়া
দেশটাকে ক'রে টুকরো টুকরো করছে শেষে কানা খোঁড়া!
কর্ম-ধর্মের মনভুলানী বাদাম তুলে করতে চাইছো বাজিমাৎ!?
ভুলভুলাইয়ার ঘুলঘুলিতে হবেই হবে নিশ্চিত কুপোকাত।

এমনিভাবেই কর্মযোগী কর্ম করে, ধর্মযোগী ধর্ম;
কর্মধর্ম বিভেদ মাঝে যায় হারিয়ে আসল কথা মর্ম!
কর্মই ধর্ম ব'লে হাঁক পারে যে কর্মযোগী
কর্ম করার অহংকার তার মজ্জাগত, সে রোগী!
ধর্ম ধর্ম ব'লে যারা কর্মের নামে করছো খালি হট্টগোল
অনুষ্ঠানের নামে তোরা ধর্মটাকে চিতায় তোল!

কর্ম মাঝেই ধর্ম আছে আর ধর্ম মাঝে কর্ম
জেনো এ পরম সত্য!
বাঁচা-বাড়া আছে যেথায় তাহাই কর্ম, তাহাই ধর্ম!
এ নেই যেখানে তাহাই অসৎ, তাহাই অসত্য।

( লেখা ১১ই জানুয়ারী'২০১৯ )

Friday, January 10, 2020

প্রবন্ধঃ মানুষ ও মানুষের মানসিকতা।


অনেক লেখার মত শুভ নববর্ষে একটা লেখা লিখেছিলাম। নববর্ষের সকাল থেকে উদ্দাম ডি জে-র হুঙ্কারকে মাথায় রেখে 'শিব ঠাকুরের আপন দেশে--------' নামে লেখায় শব্দদূষণের বিষয়টাকে নিয়ে লিখতে গিয়ে ভয়ঙ্কর অস্বাস্থ্যকর প্রতিবাদী মন্তব্যের মুখোমুখি হ'লাম! যা এখনও হ'য়ে চলছে!! নিমেষের মধ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে মন্তব্য আসতে লাগলো! যেন মনে হচ্ছে যেন সবাই ওত পেতে বসেছিল! গরম গরম পাতে পড়তে না পড়তেই ঝাঁপিয়ে পড়লো ঠুকরে ঠুকরে ক্ষতবিক্ষত করবে বলে! মনে হচ্ছিল ফেসবুক থেকে ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে যাবে! কথার ছোবল কি ভয়ঙ্কর নোংরা বিষাক্ত হ'তে পারে তা পোষ্টের মন্তব্যগুলি ছিল সাক্ষী! কিন্তু আমি বাধ্য হ'য়ে বেশীর ভাগ অশ্লীল কুৎসিত মন্তব্য ডিলিট ক'রে দিয়েছি। প্রথমে ভেবেছিলাম সব রেখে দেবো, দিয়েছিলামও পরে গা ঘিনঘিন করতে লাগলো, দুর্গন্ধ ছড়াতে লাগলো আমার টাইমলাইন থেকে! তাই ডিলিট করতে লাগলাম একে একে বিষাক্ত মন্তব্যগুলি। কিছু মন্তব্য এখনও রেখে দিয়েছি। মানুষ পড়ুক, জানুক।

পোষ্টের বিষয় ছিল একনাগাড়ে বেজে চলা ডি জে-র ভয়ঙ্কর বুক কাঁপানো গুরুম গুরুম শব্দদূষণ! সেই বিষয়কে সামনে রেখে ভেবেছিলাম একটি পরিবেশ সচেতন গঠনমূলক আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে। তার জন্য সবরকম পক্ষে-বিপক্ষের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য মানুষ হিসাবে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম। যদিও এতদিনের অভিজ্ঞতায় জেনেছি কেউই আলোচনার মুখোমুখি হয় না। শুধু কিছু লাইক আর গুরুভাইদের বিরক্তিকর 'জয়গুরু' ছাড়া আর কিছুই হয় না। এইযে জয়গুরু নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যটা করলাম এর জন্যেও সমালোচিত হ'তে হবে। কথাটা বাধ্য হয়েই লিখেছি। কারণ গুরুভাইবোনেদের মোল্লার দৌড় মসজিদের মতন দৌড় জয়গুরু পর্যন্ত। এতে রাগ হ'তে পারে আমার গুরুভাইবোনেদের (যদিও অবশ্যই ব্যতিক্রম আছে তবে তা খুবই নগণ্য) কিন্তু সত্য চিরকালই অপ্রিয়। আমরা গুরুভাইবোনরা যদি এই ফেসবুকের মত স্ট্রং মিডিয়াকে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের জীবন দর্শন কে তুলে ধরার কাজে ব্যবহার করতে না পারি তাহ'লে কোটি কোটি ঠাকুরের ঘুমিয়ে থাকা অনুগামী দিয়ে কি হবে!? কি হবে আজ শুধু কোয়ালিটি বিহীন কোয়ান্টিটি দিয়ে!? যদিও দোয়ারে নাম দেওয়ার কথা স্বয়ং ঠাকুর ব'লে গ্যাছেন। কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ ও আগামী ভয়াবহ ভয়ংকর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনুগামীদের কি কি করণীয় তাও ব'লে গ্যাছেন তিনি! অথচ আমরা কতটা তৈরি হয়েছি দূরের কথা কতটা তৈরি হওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছি বা চালাচ্ছি তা আমরা নিজেরাই জানি আর সামান্য হ'লেও তার ঝলক পায় ফেসবুকে! আর এলাকায় এলাকায় আমরা জানি আমাদের অবস্থান!

যখন ভাবছিলাম একটা পজিটিভ মানসিকতার প্রতিফলন দেখতে পাবো আমার লেখা ঐ 'শিব ঠাকুরের আপন দেশে-----' পোষ্টের ওপরে কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত নেগেটিভ, অতি নেগেটিভ হাওয়ার তোড়ে ভেসে যেতে লাগলো সব! মনে হ'লো দিগন্তব্যাপী ঘর অন্ধকারে ডুবে যাওয়া কালবৈশাখীর ঝড় আছড়ে পড়েছে পোষ্ট করা আমার লেখাটার উপর! অকথ্য কুকথ্য ভাষায় গালাগালি! সে কি ভাষা এখনও কানের কাছে গু'য়ে মাছির মত ভনভন ক'রে বেজে চলেছে! চোখ বন্ধ করলেও নোংরা ছবিগুলি ভেসে উঠছে বন্ধ চোখের সামনে! চোখ বন্ধ করলেই বিপদ! ঝাঁকে ঝাঁকে নোংরা লেখাগুলি, ছবিগুলি আছড়ে পড়ছে চোখের পাতার উপর, মণির উপর! আর সমস্ত গালাগালি, কুৎসা, নোংরা বাজারী শব্দের ডালি আর ছবির পশরা নিয়ে ফেসবুকে প্রতিবাদী যুবক-যুবতী সমাজ, অল্পবয়সী ছেলেমেয়ে হৈহৈ, রেরে ক'রে নেবে পড়েছে আমার লেখার বিরুদ্ধে বিপ্লব ঘটাবে ব'লে!!!!!! অবাক হ'য়ে শুধু ভাবতে লাগলাম এই আমার বাংলা ও বাঙালির বর্তমান প্রজন্ম!!!!!

বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়ে, যুবকযুবতী আমার পোস্ট করা লেখার বিষয়কে অজুহাত হিসেবে সামনে রেখে নেবে পড়েছে বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের বিরুদ্ধে পরিকলিপ্ত ও সংগঠিত কুৎসা, নিন্দা, গালাগালি করবে বলে! একের পর এক পোষ্ট ক'রে চলেছে ঠাকুর ও ঠাকুর পরিবার নিয়ে ঘৃণ্য ছবি! চোখ অন্ধ হ'য়ে যায় ঐ সব অশ্লীল ছবি দেখলে ও পড়লে!!!!! তাদের লক্ষ্য শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ও ঠাকুর পরিবার। অবাক হ'য়ে যাই, স্তম্ভিত হ'য়ে যাই অল্পবয়সী ছেলেমেয়ে, যুবকযুবতীদের মুখের ভাষা শুনে! আরো বেশি হতভম্ব হ'য়ে যায়, মুখের থেকে কথা হারিয়ে যায় যখন দেখি অল্পবয়সী মেয়েরা, যুবতীরা এমনকি কিছু মধ্য বয়সী নারীরা অনায়াসে অবলীলায়, অবহেলায় ঠাকুরকে, ঠাকুর পরিবারের সদস্যদের খিস্তিখেউর করছে!!!!! এরা নারী জাতি!? এরা আগামী প্রজন্মের জন্মদাত্রী!? এরা কোনও সন্তানের মা!?

এই যুবকযুবতী, ছেলেমেয়েরা যখন নিঃসংকোচে  নির্দ্বিধায় মূহুর্তে মুহূর্তে নোংরা পোষ্ট ক'রে চলেছে তখন ভাবলাম এরা কোন পরিবারের সন্তান! এদের পিতামাতারা কি এই অপসংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক!? এদের পিতামাতারা এদের এইরকম ভাষা, ব্যবহার, কথাবার্তা, আচার-আচরণ সমর্থন করেন!? এরা কি জানেন এদের আদরের সন্তানরা এমন ঘৃণ্য বিপ্লবী কাজের সঙ্গে যুক্ত!? বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ সমান জ্ঞান নিয়ে এরা ঠাকুরের বাণীর ব্যাখ্যা করে!!!!!! খিস্তি দিয়ে, নোংরা ছবি দিয়ে ঠাকুরের বাণীর ব্যাখ্যা করে, ব্যাখ্যা চায়!!!!! আবার একে অপরকে উৎসাহ দেয়, প্রভোক করে, নাম লিখে আহবান করে কাঁচা কাঁচা গালি নিয়ে আসরে জমায়েত হ'য়ে আসরকে গরম করতে!!!! আহ্বান শুনে পিলপিল ক'রে নেবে পড়ে আসরে সব লাইন দিয়ে মজা লুটবে বলে!!!!!

আমি নোংরা ছবি, নোংরা লেখা ১টা ডিলিট করতে না করতেই ১০টা ছবি, ১০টা লেখা কমেন্ট বক্সে ভেসে ওঠে!!!! সমস্ত অশ্লীল কমেন্ট ডিলিট করতে করতে আমি আপাদমস্তক যেন মেথর হ'য়ে গেছি!!!! যেন মনে হচ্ছে গা দিয়ে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে!!!!

ঐ সমস্ত প্রতিবাদীদের শব্দদূষণ অভিযোগ একটা অজুহাত মাত্র! তাদের মূল লক্ষ্য শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ও তাঁর পরিবার-পরিজন! ওই সমস্ত মানুষগুলির শিক্ষা, রুচি, বাড়ির পরিবেশ, বন্ধুবান্ধব, সঙ্গ কিরকম অস্বাস্থ্যকর ও সংক্রামক তা ওই সমস্ত পোষ্ট করা কমেন্ট, ছবি দেখলেই, ভাবলেই মাথা ভারী হ'য়ে আসে!! আমার লেখা ঐ পোস্টের প্রসঙ্গ বহির্ভুত শ্রীশ্রীঠাকুরকে নিয়ে কুৎসার চর্চা হ'য়ে গেল মুখ্য আর পোষ্টের বিষয় ডি জে-এর ভয়াবহ শব্দদানব বিষয় হ'য়ে গেল গৌণ!!!!!! হা ঈশ্বর! কি বিচিত্র এই বাংলা আর কি বিচিত্র এই বাংলার বাঙালি!!!!!! ফেসবুক জুড়ে শুধু বাংলার বুকে বাঙালির গালাগালি বাংলা ও ভারত তথা বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে নিয়ে!!!!! ভারতের আর কোন রাজ্যে এই সীমাহীন অসভ্যতা নেই! বাঙালি ছাড়া শ্রীশ্রীঠাকুরকে কেউ নেই কানে গরম সীসা ঢেলে দেওয়ার মত তীব্র জ্বালাময় গা ঘিনঘিন করা গালাগালি করার?

যাই হ'ক এই সমস্ত ছেলেমেয়েরা, যুবকযুবতী-রা শব্দদূষণ নিয়ে আমাকে পাল্টা চার্জ করে অসম্মান, অপমানজনক গালাগালি ক'রে। তারা সৎসঙ্গের নানা অনুষ্ঠানে, উৎসবের সময়, বাড়িতে সৎসঙ্গের সময় মাইক বাজানো নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তোলে। প্রশ্ন তোলে বাঁকুড়ার দারকেশ্বরে উৎসব করা নিয়ে। উত্তর দিতে ইচ্ছে করলেও উত্তর দিতে মন সায় দেয় না। কাকে বা কাদের উত্তর দেবো? ওরা তো উত্তর চায় না! চাইলে আলোচনার টেবিলে বসতো, স্বাস্থ্যকরভাবে মতের আদান-প্রদান করতো। শব্দদানবের ন্যায্য প্রশ্ন তুলতো। কিন্তু তা হয়নি, হওয়ার কথা নয়। যতই এদের উত্তর দাও না কেন সেই ঘুরে ফিরে একই ঘৃণ্য কথার জাগলারি! তারা পায়খানার সেফটি ট্যাঙ্কের পোকার চেয়ে জঘন্য জীবনের অধিকারী আর তাই মুখে টাট্টি কা মাফিক বাত!!!!!!! এরা আলোচনার যোগ্য ও উপযুক্ত নয়।

যাই হ'ক, তবুও এখনও ঐ পোষ্টে অনেক কমেন্ট রয়ে গ্যাছে আর এসেও চলেছে! তাই যে উত্তর ওদের দিতে পারতাম কিন্তু দিইনি সেই উত্তর আমি এখানে দিচ্ছি। এখানে দিচ্ছি আমার গুরুভাইবোনদের উদ্দেশ্যে।

হ্যাঁ! শব্দদূষণ সব ক্ষেত্রেই শব্দদূষণ! তা যেখানেই সে রীতি লঙ্ঘন করুক না কেন! আমাদের সৎসঙ্গের অনুষ্ঠানে বাড়িতে, উৎসবে, মাইক লাগানো হয় আর সেই মাইক যখন সকাল থেকে অকারণে কেউ বাজায়, বাড়ির ছেলেমেয়েরা মিলে চেঁচামেচি করে, কেউ খ্যান খ্যানে গলায় গান গায়, কীর্তন করে, এলোমেলো ভিত্তিহীন সাপব্যাঙের গল্প শোনায় হেঁড়ে গলায় তখন নিঃসন্দেহে তা অসহ্য ও বিরক্তিকরভাবে সমাজে প্রভাব ফেলে। যে কোনদিন নিজের ঘরে গান গায়নি, গান শেখেনি, ঠাকুরের কথা বলেনি, শোনেনি, পড়েনি সেই ব্যক্তি যদি গান গায়, বক্তব্য রাখে তাও আবার মাইকে তাহলে যা হবার তাই হয়! বিরোধীরা সুযোগ পায় তেড়েফুঁড়ে উঠে তাদের বুকের ভিতর জমিয়ে রাখা বিষ উগলে দিতে। আর মাইক বা চোঙ লাইটপোষ্টে লাগালে তা কানের মধ্যে প্রবল ধাক্কা মারে। কারণ সেই আওয়াজ বেরিয়ে যেতে পারে না, বাঁধা পরে যায় চারপাশের গজিয়ে ওঠা ফ্ল্যাটে। এখন আর কোথাও ফাঁকা জায়গা নেই। চতুর্দিকে ফ্ল্যাট আর ফ্ল্যাট, ফ্ল্যাট আর ফ্ল্যাট!!!!! তাই মাইক লাগাবার সময় পরিস্থিতি, পরিবেশের কথা মাথায় রেখে উঁচু জায়গায়, ফ্ল্যাটের মাথায় মাইক লাগাতে হবে, বাজাতে হবে, নিচে অনুষ্ঠানের জায়গায় বক্স লাগাতে হবে, পরিমিত সাউন্ড দিতে হবে, রাস্তায় লাইট পোষ্টে মাইক না বাঁধায় ভালো, নির্দিষ্ট একটা সময়ে, একটা সময় পর্যন্ত বাজাতে হবে। ভালো ভালো গান, ভালো শিল্পীদের দিয়ে গাওয়াতে হবে, যথেষ্ট ঠাকুর সম্পর্কে জ্ঞানের অধিকারী ভক্ত মানুষকে দিয়ে বক্তব্য রাখাতে হবে আর নতুবা মাইক বিহীন সৎসঙ্গ করতে হবে। পরিবেশ-পরিস্থিতিকে অবজ্ঞা করার কথা ঠাকুর নিষেধ করেছেন। সবসময় বলেছেন পরিবেশের দিকে, পরিস্থিতির দিকে কঠোর তীক্ষ্ণ নজর দিতে, নজর রাখতে।

এইসমস্ত মানুষ যারা প্রতিবাদে সামিল হয়েছে তারা ভোটের সময় বা অন্য কোনও  রাজনৈতিক বক্তৃতার সময় প্রতিবাদের মুখ খোলে না। খুলতে সাহস পায় না। অথচ এরাই শব্দদূষণ-এর প্রতিবাদের নামে অজুহাত কে হাতিয়ার ক'রে ঠাকুর অনুকূলের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে। এদের মধ্যে তীব্র ধর্ম, ঈশ্বর, ঠাকুর বিরোধী ছাড়াও অনেক অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অনুগামীও আছে। তারা সৎসঙ্গের ব্যাপক বিস্তারে কাতর, হিংসায় জর্জরিত! অনেক আছে অন্যের কথায় প্রভাবিত। কোনও খবর না রেখেই, তথ্য ও প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ ছাড়াই চিল কান নিয়ে গ্যাছে শুনে কানে হাত না দিয়ে চিলের পিছনে ছোটার মত ঠাকুর ও ঠাকুর পরিবারের বিরুদ্ধে, সৎসঙ্গের বিরুদ্ধে, উৎসবের বিরুদ্ধে কথা বলে, ঈর্ষাকাতর হ'য়ে মিথ্যে প্রোপাগান্ডা করে রাজনৈতিক দলের প্রোপাগান্ডার মত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই!!!

তাই আসুন আমরা এমনভাবে চলি যাতে এরা সুযোগ না পায় আর এদের কথার উত্তর না দিয়ে আমার ঠাকুরের চাহিদা মত আমার জীবনটাকেই এদের প্রশ্নের উত্তর ক'রে তুলি। ভেবে পা ফেলি, চারপাশের পরিবেশের কথা ভেবে সময় নির্বাচন করি। একটা উদাহরণ দিই, গত লোকসভা ভোটের সময় আমরা ভদ্রকালী সৎসঙ্গ কেন্দ্র ও খড়দহ সৎসঙ্গ কেন্দ্রের মাসিক অনুষ্ঠান বন্ধ রেখেছিলাম। কারণ টানা ভোট প্রচারের মাইকের আওয়াজে আর বাজির আওয়াজে মানুষ তিতিবিরক্ত হ'য়ে গিয়েছিল কিন্তু ভয়ে মুখ ফুটে কেউ কিছু বলতে পারে নি, পারে না। সেই কথা বিবেচনা ক'রে আমরা দুটো কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ভোটের সময়ের মাসিক 'বিশেষ সৎসঙ্গ' বন্ধ রেখেছিলাম কিন্তু আমাদেরই পাশের একটি কেন্দ্র লোকসভা ভোটের যেদিন ডেট ছিল এই অঞ্চলে তার পরদিনই বড় ক'রে সৎসঙ্গের আয়োজন করেছিল। কিন্তু আয়োজকরা অনুষ্ঠান শেষে আর ফিডব্যাক নেয়নি যে অনুষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া কি!? এরা ফিডব্যাক নেওয়া তো দূরের কথা ফিডব্যাক নেওয়ার কথায় মাথায় আসে না। ফলস্বরূপ এইসমস্ত অতি উৎসাহী গুরুভাইরা জানতেই পারেনি যে কি অকথ্য কুকথ্য ভাষায় প্রতিকূল ঠাকুর ব'লে গালাগালি করেছে উৎসব স্থলের বাইরে রাস্তায় অবস্থানরত লোকজন, দোকানদার, আশপাশের বাড়ির মানুষজন!!!!!! উৎসব বা অনুষ্ঠান শেষে ড্যাং ড্যাং ক'রে নিজেরাই আনন্দে মনে মনে মনকলা খেতে খেতে চলে গিয়েছিল উৎসবের আয়োজনকারীরা।

 যাই হ'ক, এইসমস্ত ফেসবুকে কুৎসকারীদের সঙ্গে আলোচনায় যেন আমরা না যায়, উত্তর দিলেও উত্তরকে সংযত ও যুক্তিনির্ভর যেন ক'রে তুলি। বাবাইদাদার কথামত নিন্দা, কুৎসা-কে তাচ্ছিল্যে ভরিয়ে দিন। জয়গুরু।
--------------প্রবি।

কবিতাঃ ষড়যন্ত্র!!!!!!!

দিকে দিকে শুনি ওই, শুনি উচ্ছৃঙ্খলতার জয়ধ্বনি!
বুক করে দুরুদুরু দেখে আকাশে-বাতাসে, জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে,
পাহাড়ে-পর্বতে, শহরে-নগরে, বনে বনান্তরে
বিশৃঙ্খলতার উৎসাহ-উদ্দীপনার খনি!!
ষড়যন্ত্রের হাপড় টেনে সকাল থেকে রাত
চক্রান্তের আগুন বমি দেয় উগরে পোড়ায় বরাত!
দুরাত্মা আজ মহাত্মা সেজে বসে রাজসভায়!
মহাত্মার স্থান আজ পায়ে, আস্তাকুঁড়ে পথের কিনারায়!
কে দুরাত্মা, কে মহাত্মা বোঝা বড় দায়!!
দুরাত্মার নামে রাস্তা মহাত্মা গালি খায়!
দানবের জন্য মানব অধিকার কোন মানব (?) চায়!?
দানব-মানব আজ একাকার হায়!!
কাল যে জেলের ভিতর আজ সে রাজসভায়!
আলো ক'রে বসে আসর ছড়িয়ে কালো রোশনাই!!
আর আজ যে মগ্ন বাঁচা-বাড়ার মহান যজ্ঞে!
কাল সে নিশ্চিত ষড়যন্ত্রের খোঁড়া অন্ধকার গভীর গর্তে!!
চরিত্র যার পিচ তুল্য কালো সে চরিত্রের কথা কয়!?
চরিত্রের ধ্বজা তুলে হাঁক পারে যে সেই চরিত্রবানে ভয়!!
কার কাছে যাবে আজ কে দেবে বিপদে সাহারা!?
সাহারা আজ মরুভূমি তৃষ্ণায় বুক ফেটে যাবে নিশ্চিত মারা!
আজ বিশ্বাস হয়েছে রেপড ধূলিসাৎ প্রত্যয়!
কেউ নেই পাশে, নেই কেউ দিতে বিপদে বরাভয়।
ঈশ্বর আজ শক্তিহীন নেই তাঁর কোনও ক্ষমতা
বাঁচাতে-বাড়াতে সংকট মোছাতে নেই কোনও মমতা!
কলির শেষে আসছে ওই হাঁকছে ঘোর কলি!
মুন্ডমালার পাহাড় জাগে জাগে রক্ত নদী খালি!!
হে জীবন্ত! হে রক্তমাংসের জীবন্ত ঈশ্বর!
তুমি আমার রক্ত রাঙা পথের নেশা গো!
তোমার চলন পূজার ভস্ম মাখি চরণ পূজা ভুলে গো!!
-----------প্রবি।

Friday, November 8, 2019

কবিতাঃ আমি আর তুমি।

কোথায় দুঃখ, কোথায় কষ্ট, কোথায় আমার যন্ত্রণা?          
জীবন মাঝে কোথায় কঠিন, কোথায় জটিল? আর
মায়া মমতার উন্মাদনা? জীবন আমার উদাস বাউল
উদার আমার জীবন আকাশ, জীবন আমার রামধনু
জীবন আমার মলয় বাতাস। জীবন মাঝে রপোলি চমক
মেঘমল্লারের বন্দনা! ঝরঝর সেই বরষণ বয়ে চলে
খরশান অবিরত প্রাণে প্রাণে নেই তার কোনও সীমানা!
পরম সত্তার তরে জীবন আমার উদার আকুল উন্মনা
জীবন জুড়ে আছে ভরে শুধু পরমেশ প্রভুর মন্ত্রণা!
জীবন জুড়ে শুধুই আলো, শুধুই জ্যোতির বিচ্ছুরণ!
জ্যোতির মাঝে হারায় ‘আমি’, সত্তা খোঁজে জীবনস্বামী!
জীবন জুড়ে শুধুই সাড়া পরম সত্তায় উত্তরণ!

আর তুমি,
জীবন খুঁজে মরছো কোথায়? কোথায় ফেলেছো নোঙ্গর তুমি?
দুঃখ, কষ্ট, জ্বালা, যন্ত্রণা, শোক, তাপ, ব্যথা-বেদনা
শব্দেরা সব মিলেমিশে মারে তোমায় সেথায় পিষে;
‘কঠিন’ ‘জটিল’ সব শব্দ ঘিরে নরক করেছে ধীরেধীরে
তোমার জীবন ভুমি। আবাদ তাই হ’ল না বন্ধু
বহু ফসলী তোমার জমি!

এখন তুমি......
জীবন যদি চাও পেতে রাখো হাত আমার হাতে
ঐখানেতে যাবো নিয়ে আলোয় ভুবন ভাসিয়ে দিয়ে
তমসার ওপার হ'তে যেথায় হাসিমুখে দাঁড়ায় এসে
জীবনস্বামী, বরাভয় দিয়ে দু’হাত তুলে বলছে হেসেঃ
আয়, বুকে আয়, আয়রে তোরা, করি ত্বরা  
কোমর বেঁধে ছুট্টে সবাই, হেত্থায় জীবন খুঁজে পাবি।।
----------------------প্রবি।

সেই Tradition

সেই Tradition আজও সামনে চলেছে!!!!!!!!! সেই অসৎ নারী, অসৎ ভাই, অসৎ পুলিশ অফিসার মিলে আজও ছেলেদের ফাঁসিয়ে অর্থ লুটের কারবার খুলে বসেছে!!!!!! কার কাছে যাবে অসহায় মানুষ!? মায়ের জাত নারী আজ রাক্ষসীতে পরিণত হয়েছে! ভাই বোনের পবিত্র সম্পর্ক আজ অর্থ লালসার শিকার হ'য়ে বোনকে হাতিয়ার ক'রে ভাই অর্থ রোজগারের ব্যবসা খুলে বসেছে! যে রক্ষক সেই আজ ভক্ষরের ভূমিকায় অবতীর্ণ!!!!!! আম আদমির রক্ষাকর্তা মাইবাপ পুলিশ আজ আম আদমির কাছে শয়তান কিলবিস রূপে আবির্ভুত!!!!!!! কে বাঁচাবে এই অসৎ নারী পুরুষের হাত থেকে!? এখন প্রশ্ন এই ঘোর অন্ধকার মাঝে আলো ধরে পথ দেখাবে কে!? কে আলো ধ'রে ঘরে পৌঁছে দেবে অসহায় বিপদগ্রস্থ মানুষকে এই ঘোর কলিযুগের ঘোর অন্ধকার থেকে!? কেউ নেই বন্ধু তোমার চারপাশে! তুমি একা! তুমি একা!! তোমার চারপাশে ঘোর অন্ধকার! ভাই নেই, বন্ধু নেই, আত্মীয় নেই, পরিজন নেই, স্বজন নেই, সুজন নেই, থানা-পুলিশ-প্রশাসন, ডাক্তার-উকিল ইত্যাদি ইত্যাদি কেউ কেউ নেই এই কিলবিসের তৈরি সমাজে!!!!!! কেউ কোথাও নেই! চারিদিকে এক ঘন কালো ভয়ঙ্কর অন্ধকার! যে অন্ধকার বিকট বিরাট হাঁ ক'রে গিলতে আসছে তোমায় অসৎ নারী, অসৎ পুরুষ, অসৎ ভাই, অসৎ বন্ধু, অসৎ পুলিশ, অসৎ উকিল, অসৎ ডাক্তার, অসৎ শিক্ষক, অসৎ নেতা, অসৎ ধর্মগুরু, অসৎ ব্যবসায়ী, অসৎ------------ইত্যাদি ইত্যাদি বেশে!!!!!!!!!!!

ঠিক এই সময়, এই অসৎ দমবন্ধ করা পরিবেশে কে আছেন এই তামাম বিশ্বে যিনি আমায়  বিপাক পথে হাত ধ'রে পথ পার ক'রে দেবেন!? কে!? কে!? কে!? কেউ আছে যে গ্যারান্টি দিতে পারে শান্তি স্বস্তিতে বাঁচা ও বাড়ার পথ দেখাতে পারে, সামনে দাঁড়িয়ে দুহাত বাড়িয়ে রক্ষা করতে ঘোর বিপদ থেকে!?

তমসার পার অচ্ছেদ্য বর্ণ মহান পুরুষ  শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র এই ঘোর অন্ধকারের ঘোর কলির শেষে ইষ্টপ্রতীকে আবির্ভুত হ'য়ে বললেন, মাভৈ! "যখন কেউ নিজের ভুলে ঘোর অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলে তখন তাকে আমার আলো ধ'রে ঘরে পৌঁছে দিয়ে আসতে হয়!"
তাই ভয় নেই বন্ধু! আসুন ভয় দুর্বলতাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে পা দিয়ে দ'লে দিয়ে গেয়ে উঠি, "দয়াল আছে আর আমি আছি ভয় কি আর আছে আমার!!!!!!!!!."
জয়গুরু।--------------প্রবি।