Powered By Blogger

Thursday, July 31, 2025

বিচিত্রা ১৭৪

কালিতে তুলিতে বাদ প্রতিবাদ নিরাপদ এক ফ্যাশন!
এসো ফাগুন, জ্বালো আগুন, জ্বালাও অন্তরে প্যাশন!!
( লেখা ৩১শে জুলাই'২০১৭)

অবতার ও অবতারি: ১
প্রশ্ন: অবতার ও অবতারি মানে কি?
উত্তর: যে এই মর্তভূমিতে অবতরণ করে সে অবতার আর যিনি অবতরণ করান তিনি অবতারি।

প্রশ্ন: অবতার কে? আর অবতারিই বা কে? 
উত্তর: আমি আপনি ও আমরা আপনারা যারাই এই মর্তভূমে অবতরণ করেছি তারাই অবতার। আর যিনি আমাদের এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন অর্থাৎ অবতরণ করিয়েছেন তিনি অবতারি। অবতারি হলেন শ্রীশ্রীরাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণ, শ্রীশ্রীবুদ্ধ, শ্রীশ্রীযীশু, শ্রীশ্রীহজরত মহম্মদ, শ্রীশ্রীমহাপ্রভু, শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ ও বর্তমান সর্বশেষ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র।

অবতার ও অবতারি: ২
প্রশ্ন: শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র কে? অবতার না অবতারি?

উত্তর: তিনি অবতার হ'য়েও অবতারি। তিনি আমাদের যেমন অবতরণ করিয়েছেন ঠিক তেমনি নিজেকে নিজে অবতরণ করিয়েছেন আমাদের বাঁচাবার ও বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য। 

প্রশ্ন: তাহ'লে রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ, যীশু, মহম্মদ, মহাপ্রভু, রামকৃষ্ণ ইনারা কি? ইনাদেরও তো অবতার বলা হয়। 

উত্তর: ইনারাও অবতার হ'য়েও অবতারি। ইনারাও যুগে যুগে অবতরণ করেছেন তাঁর সৃষ্টিকে বাঁচাতে ও বৃদ্ধি পাওয়াতে। ইনাদের শুধু অবতার বলা হয় তা ভুল। 

প্রশ্ন: তাহ'লে ইনারা বাদে জীবকোটি ও ঈশ্বরকোটি যারাই অবতরণ করেছে সবাই অবতার? 
উত্তর: হ্যাঁ।
( লেখা ৩১শে জুলাই'২০২৩)

Wednesday, July 30, 2025

উপলব্ধিঃ শ্রাবণ মাস ও মহাশিব!

শ্রাবণ মাস। এই মাস নাকি মহেশ্বর শিবের জন্মমাস। তাই শিবের ভক্তরা সবাই এই মাসে বাবার মাথায় জল ঢালতে যায়। আবার সমুদ্র মন্থনে উঠে আসা বিষে নাকি সারা শরীর নীল হ'য়ে গেছিল তাই শরীরের সেই ভয়ঙ্কর জ্বালা জুড়োনোর জন্য নাকি জল ঢালা হয়! আবার দেখা যায় জল ঢালা হয় শিবলিঙ্গের মাথায়! কেন!? তারও ব্যাখ্যা আছে।

যাই হ'ক, এই যে বলা হ'য়ে থাকে শিবের সারা শরীর নীল হ'য়ে গেছিল! তা কে বললো!? যদি সারা শরীর নীল হ'য়ে গিয়ে থাকে তা হ'লে তাকে নীলকন্ঠ বলবে কেন!? বলা উচিত নীলশরীর! তাই না!? নীলকন্ঠ নামের পিছনে তো কারণ আছে! সারা শরীর নীল অথচ বলা হচ্ছে নাকি কন্ঠ নীল! তা' কেমন ক'রে হয়!? এমনি এমনি তো নাম হয় না, তাও আবার ঈশ্বরের!!!

আর বিজ্ঞান কি বলে? সারা শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গে, শরীরের প্রতিটি পার্টসে বিষ ছড়িয়ে গেলে কেউ বেঁচে থাকতে পারে!? তাও আবার সমুদ্র মন্থনের মত ভয়ংকর বিষ! যে বিষের ছিটেফোঁটা মন্থনের সময় ছড়িয়ে পড়েছিল সৃষ্টির বুকে আর ছড়িয়ে পড়েছিল ব'লে এই সৃষ্টির বুকে যে সমস্ত জীব ঐ ছিটেফোঁটা বিষ পান করেছিল তারাই এত 
ভয়ঙ্কর বিষধর তাহ'লে সারা শরীরে ওই মহাবিষের ভয়ঙ্কর তীব্রতা নিয়ে কেউ বেঁচে থাকতে পারে!? তাহ'লে আসল রহস্য কোথায়!?
সময় এসেছে আবেগে ভেসে না গিয়ে আর বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই রূপকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা হাজারো মহাসত্য অনুসন্ধানের!!!!!!!!!

( লেখা ৩০শে জুলাই' ২০১০)

উপলব্ধিঃ ময়লা জমেছে মনে।

কাল একটা লেখা চোখে পড়লো। লেখাটা কার মনে নেই। যাই হ'ক লেখাটা ভালো লাগলো। লেখা রয়েছে; "উন্নতি আর শত্রুর সংখ্যা একসাথে বাড়ে।"

লেখাটা পড়ে মনে হ'লো, বাস্তব। একেবারে বাস্তব। বাস্তবের মধ্যে আরও বাস্তব হ'লো কারও উন্নতি হ'লে পাশাপাশি বাড়ে অপরের হিংসা আর নিজের অহঙ্কার। উন্নতি তা সে শিক্ষা, ক্ষমতা, সামাজিক অবস্থান ইত্যাদি যে উন্নতিই হ'ক না কেন সংগে সংগে বাড়ে আত্ম অহংকার আর আর্থিক উন্নতি হ'লে তো কথাই নেই। তখন তার ব্যবহারে, তার আচার আচরণে, কথাবার্তায়, হাবেভাবে, তার চলাফেরায়, তার চাউনি, মুখ ভঙ্গী, শরীরী ভাষায় যে অহংকার ঝলকে ঝলকে ফুটে ওঠা, ছিটকে পড়া দেখে কেউ যদি বলে তা' সে স্বাভাবিকভাবেই হ'ক আর হিংসা, পরশ্রীকাতরতা থেকেই হ'ক, 'তোর অহঙ্কার হয়েছে।' 
তখন অহঙ্কারী মন আরও উদ্ধত হ'য়ে ব'লে ওঠে, 
'হ, হ, হইছেই তো; প্রয়োজন হইলে বুকের ওপর দিয়া হাইট্টা যামু।'

আর তার ফলে উন্নতির সাথে পাল্লা দিয়ে দ্বিগুণ হাড়ে বাড়ে শত্রুতা। তাই বলি, ময়লা জমেছে মনে! কোণে কোণে!!

এই ময়লা থেকে মুক্তি পাওয়ার একটাই উপায় তা হ'লো জীবনে জীবন্ত আদর্শ গ্রহণ আর আদর্শের প্রতি অটুট অস্খলিত অচ্যুত আদর্শপ্রাণতা। অবশ্য যদি আমি ময়লা মনের ডাষ্টবিন থেকে মুক্তি পেতে চাই।
( লেখা ৩০শে জুলাই' ২০২১)


বিচিত্রাঃ ১৭৩

বর্তমান সময়ঃ 

যে আগে ঝাঁপ দেয়নি, আগে পথ দেখায়নি, সেই নেতা; 
শুধু লেকচার আর তেল দিলেই নেতা ও নেতার 
কাছের লোক হওয়া যায়।

আগে নিজের জন্য যথাসর্ব্বস্ব ঢেলে নাও 
আর দশের মাথায় পা রাখো,
আর, সবার দোষ দেখা শুরু ক্রে দাও,
সেবা নিতে আত্মহারা হও,
তবে নেতা, তবে দেশের হৃদয়, 
তবে দেশের রাজা।

যে চোখ খুলে দেয় তার চোখ আগে খুবলে নাও,
যে সাহায্যের হাত বাড়ায় তার হাত কেটে নাও; 
পথের কাঁটা সাফ হবে।
( লেখা ৩০শে জুলাই'২০১৮)





















প্রশ্ন ও উত্তর। মুক্তির উপায়, বাঁচার উপায়।

হে দয়াল! 
শেষমেশ তোমায় ধ'রে ভাঙ্গার কারিগর হ'লাম!? গড়ার কারিগর হ'তে পারলাম না? ঘরে-বাইরে অর্থাৎ পরিবারে, হাটে-মাঠে-বাটে সব জায়গায় হ'লাম সংহতিতে ভাঙ্গন ধরানোর ছেদক!? 
আমি কি ভুলে গেলাম পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীদাদার সাবধান বাণীঃ 
"তোর খেয়াতে মাঝিই যে নেই, শেষের সেদিন ভয়ঙ্কর!"
দয়াল প্রভু আমার, মুক্তির উপায়, বাঁচার উপায় ব'লে দাও।

এর উত্তর পাওয়ার একমাত্র উপায় নাম আর ধ্যান। 

জীবন্ত ঈশ্বর পুরুষোত্তম, পরমপিতা শ্রীশ্রীঠাকুরের দেওয়া বীজ নাম যা সৃষ্টির মরকোচ অর্থাৎ কৌশল, তুক সেই বীজ নাম উষানিশায় সাধনা করলে আর চলাফেরা সবসময় তাঁর দেওয়া সেই বীজ নাম জপ করলে মানুষ তীক্ষ্ণ হয়। শয়নে, স্বপনে, জাগরণে, ভোজনে, স্নানে সবসময়, ঘরে-বাইরে উঠতে, বসতে, ঘুমোতে, চলতে, ফিরতে, সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার রাতে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত এবং শুয়ে শুয়ে তাঁর দেওয়া বীজ নাম স্মরণ করতে হয়, ভাবতে হয়, করতে হয়। এই অভ্যাসের ফলে নাম করতে করতে ঘুমের মধ্যে চলতে থাকে সেই নাম। আর এইভাবে ধীরে ধীরে নাম সাগরে অবগাহন করতে হয়। ফলে ঘরে-বাইরে অর্থাৎ পরিবারে, হাটে-মাঠে-বাটে সব জায়গায় কৃত কর্মের ঠিক ভুল সমস্ত কিছু নিজের কাছে নিখুঁত ভাবে ধরা পড়ে। এটা বিজ্ঞান। এই বিজ্ঞান বিজ্ঞানীদের কাছে ধরা পড়ে না, ধরা পড়বে না। 

আর যে কোনও একটা নির্দিষ্ট সময় একান্তে বসে তাঁর মুর্তি ধ্যান করতে হয়, তাঁকে ভাবতে হয়, তাঁর দীর্ঘ জীবনের প্রতিমূহুর্তের দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা, আনন্দময় ঘটনাগুলি ভাবতে হয়, তাঁর বলা কথাগুলি, তাঁর বাণীগুলি যে কোনও একটা ধ'রে নিয়ে ভাবতে হয়। একাকী নিভৃতে চুপ ক'রে ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ ক'রে ভাবতে হয় তিনি আমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। ভাবতে হয় তিনি আমাকে কি করতে বলছেন, তিনি আমাকে কেমন দেখতে চাইছেন।
 
আর, কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছোবার আগে তাঁকে মাথায় নিয়ে শ্রীশ্রীঠাকুরের মুখ স্মরণ ক'রে অনবরত ভাবতে হয় ঘরে-বাইরে অর্থাৎ পরিবারে, হাটে-মাঠে-বাটে সব জায়গায় চলার পথে আমি যেটা দেখলাম, যেটা জানলাম, যেটা শুনলাম, যেটা পড়লাম, যেটা ভাবলাম, যেটা বললাম, যেটা করলাম, সেটা ঠিক না বেঠিক। যদি ঠিক হয় তাহ'লে ঠিকের আরও নিখুঁতে পৌঁছে যাওয়া যায় কিনা, আর যদি বেঠিক হয় তাহ'লে তাকে কি ক'রে, কত তাড়াতাড়ি ঠিক করা যায় এই উভয় দিক ভাবা। এইভাবে অনবরত ধারাবাহিকভাবে ভাবাকে ধ্যান বলে। এই ধ্যানে ধীরে ধীরে ঠিক বেঠিক, সত্যি-মিথ্যা, সত্য-অসত্য সবকিছু চোখের সামনে উদ্ভাসিত হয়, ফলে বিবেক জেগে ওঠে এবং সমস্ত অনুকূল ও প্রতিকূল পরিবেশ-পরিস্থিতি, ঘটনা, কথা, ব্যবহার ইত্যাদি গ্রহণ করার ক্ষমতা বাড়ে। এটা বিজ্ঞান, ফলিত বিজ্ঞান। এই বিজ্ঞান অর্থাৎ বিশেষ ফলিত জ্ঞান তথাকথিত অহংকারী জ্ঞানী-বিজ্ঞানীদের কাছে ধরা পড়ে না। ধরা পড়ে জীবন্ত ইষ্টের প্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠাকারী অটুট অচ্যুত অস্খলিত ইষ্টপ্রাণ ভক্তের অকপট, সহজ সরল বোকা ভালোবাসাময় প্রাণে।
( লেখা ৩০শে জুলাই' ২০২১) 

Tuesday, July 29, 2025

প্রশ্ন ও উত্তরঃ কোনটা মাথায় রাখবো।

কোনটা মাথায় রাখবো।
প্রথম সূত্রটা মনে রেখো বাকি দু'টো ভুলে যাবার চেষ্টা করো। ভুলে যাবার চেষ্টা করা মানে ওই মানুষগুলোকে ভুলে যাওয়া নয়, মানুষগুলোকে জড়িয়ে ঘটনাগুলোকে বারবার মনে না করা, বরং ওই মানুষগুলো থেকে সাবধান থাকা। তা নাহ'লে সামনে এগিয়ে চলার পথে বাধা হয় দাঁড়াবে ওই ভয়ঙ্কর স্মৃতিগুলো। মনে প্রতিশোধ আসতে পারে যা কিনা সত্যিকারের প্রতিশোধ নেবার ও সফলতা লাভের পথে বাধা হয় দাঁড়াবে। ওই দ্বিতীয় ও শেষ সূত্র অর্থাৎ স্মৃতিগুলি তোমার মূলধন হক সাফল্যের চুড়ায় পৌঁছোবার, ব্যর্থতার পদতলে আশ্রয় পাওয়ার জন্যে নয়। আর প্রথম সূত্রটাকে মাথায় তুলে রেখো ঈশ্বরের মতো মৃত্যুর দিন পর্যন্ত। প্রথম সূত্রটা-ই ভগবানের নীতিনিধি।
( লেখা ৩০শে জুলাই'২০২৩)


উপলব্ধিঃ দ্বিতীয় কোনও পথ নেই।

জীবন্ত ঈশ্বরের স্পর্শে বুকের ভেতরের ঈশ্বরকে জাগিয়ে নিজেকে দুঃখ কষ্ট জ্বালা যন্ত্রণা অকালমৃত্যু ও পতন থেকে রক্ষা করো। এছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই। প্রবি।