Powered By Blogger

Sunday, March 9, 2025

বিচিত্রা ১০৭

অকারণ কেন করো উচ্চারণ ''মারো! আমায় যত পারো মারো!?মুষ্ঠিবদ্ধ তোমার ঐ হাত খোলো আর সরাও জঞ্জাল যত তুমি পারো।

ছুটছে গরু ঝনঝনিয়ে
গলায় বেঁধে ঘন্টা।
যাচ্ছো কোথায় হনহনিয়ে কোথায় বাঁধা মনটা!?

ভিকি! করছিস টা কি তুই, বল দেখি?
ঠাকুর ছাড়া জানবি বাকী সব ফাঁকি!!

হাজার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হ'লে হ'ক না ক্ষতি কি!?
তোমার আমার স্বপ্ন কোথা
হারিয়ে গেছে জানো কি?

ঐ দূর দিগন্তে, ঐ দূর দিগন্ত পারে
তোমার আমার স্বাপ্ন যেথা মাথা খুঁড়ে মরে!
দেখো কিছু ক্ষত উল্লাসে নৃত্য করে
তোমার আমার স্বপ্নের টুঁটি টিপে ধ'র

তুমি জানো নাকি সে কি ভয়ঙ্কর! 
কবে আবার উঠবে সে ঝড়?
ঝড় উঠুক, উঠুক তুফান;
হানরে আঘাত, আঘাত হানা!!

ঝড় উঠুক, উঠুক তুফান
আর্য আঘাত হানরে হান;
আর্য কৃষ্টির যা ব্যাঘাত
খড়্গে তোরা কর খান খান।

ঝড় উঠুক, উঠুক তুফান
আর্য আঘাত হানরে হান;
আর্য কৃষ্টির যা ব্যাঘাত
খড়্গে তোরা কর খান খান।
( ৯ই মার্চ'২০১৮)

ফাঁকা মন, ভাঙা হৃদয়;
কি করি? কারে সুদয়!

কেউ কি আছো? পারো দিতে সাড়া?
কেমনে বাঁচি? কারে নিয়ে বাঁচি?
দয়াল কোথা তুমি? বাঁচা কি যায় তুমি ছাড়া!?
( ৯ই মার্চ'২০১৯)
























































উপলব্ধিঃ মেয়েরাই তো মা।

যদি নারী না থাকলে সৃষ্টিটাই সম্ভব না হ'তো তাহ'লে একদিনের জন্য নাটক কেন!?

আর, ছেলেরা না থাকলে মেয়েরা কাকে রাখী পড়াতো!? ভাইয়েরা না থাকলে ভাইফোঁটা কাকে দিতো!?
পুরুষ না থাকলে সৌন্দর্য উপভোগ করতো কে!?
পুরুষ না থাকলে এককভাবে মেয়েরা কি নারী-পুরুষ উভয়কে জন্ম দিতে পারতো নাকি সৃষ্টি সম্ভব হ'তো!?

পৃথিবীর সমস্ত মেয়ে শুধু মেয়ে নয়, তারা মা, মায়েদের জানাই শুধু একদিন না প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্তে আন্তরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, প্রণাম, শুভেচ্ছা; কারণ 'মেয়েরাই তো মা'!!!!!!!!!
( লেখা ৯ই মার্চ' ২০১৯)

Friday, March 7, 2025

বিচিত্রা ১০৬

কবিতা লিখে হবেটা কি 
সত্যি আমার চিন্তা!
শব্দ মজুত হ'লেও
বোধের ঘরটা ল্যাংটা!!

এই তো সেদিন আসরে
লোক দাঁড়িয়ে কাতারে
প্রকাশবাবু বক্তা হলেন
বিবেক হ'লেন যন্ত্রী 
কাছা টেনে পিছন থেকে 
কাঁপিয়ে দিল হৃদতন্ত্রী।

হচ্ছিলো কথা হাতি আর নিয়ে গাধা।
হাতি শুকিয়ে গাধা হ'লেও-
বললাম,
গাধা শুকোলে কি হবে দাদা? 

অকারণ কেন হতাশার ছবি শুধু আঁকো!?
পারো যদি হতাশার বুকে
জীবনের সাঁকো আঁকো।


হতাশা মানে মৃত্যুকে আলিঙ্গন 
আর দুঃখ দুঃখ ভাব মানে 
এক ধরণের বড়লোকি বিলাসিতা 
যা অবশেষে মৃত্যুকে করে আমন্ত্রণ।

এত হিংসা, মারামারি, এত ক্রোধ! 
এর শেষ কোথায়!?
পথিক মুক্তির পথ খুঁজে মরে; 
বলে, মুক্তি কোথায়?
( লেখা ৮ই মার্চ'২০১৮)

সঞ্চালক ও অভিনেত্রী দেবী সাহা 
অভিনেত্রী সায়নীর শিবলিঙ্গে কন্ডোম 
পরানো ছবি পোষ্ট করাকে দোষের 
ব'লে মনে করেন না!!
কি উন্নত বলিষ্ঠ মানসিকতা আহা!!

শিবলিঙ্গে কন্ডোম পরানো
বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি!?
নাকি বাংলা ও বাঙালি
মানসিকতার বিকৃতি?

জয় শ্রীরাম স্লোগান!?
জয় শ্রীরাম রাজনৈতিক সম্পত্তি!?
জয় শ্রীরাম বলা অপরাধ!? 
ঈশ্বরপ্রেমীদের কাছে অনিরাপদ!?
এই মানসিকতা বাংলার সংস্কৃতি?

রাজনীতির বক্তৃতা মঞ্চে 
অন্তহীন অশ্লীল শব্দবাণ!
বাংলার সংস্কৃতি? ওষ্ঠাগত প্রাণ।
( লেখা ৮ই মার্চ' ২০২১)


















প্রবন্ধঃ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র কি সত্যিই ভগবান?

প্রায় সময়ই ফেসবুকে দেখতে পাই, ভিডিওতে বা উৎসব মঞ্চে শুনতে পাই শাস্ত্রে কোথায় কি লেখা আছে, মহাজ্ঞানী ভীষ্ম মহাভারতে কোথায় কি বলেছেন শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সম্পর্কে তার রেফারেন্স তুলে দিয়ে মহাপ্রাণ সৎসঙ্গীরা, জ্ঞানী প্রাজ্ঞ ভক্ত বক্তারা ফেসবুকে, ভিডিওতে ও উৎসব মঞ্চে প্রমাণ করতে চান শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ভগবান।

The greatest phenomenon of the world, The greatest wonder in the world, The most knowledgeable and omniscient person in all matters of life and the universe, both mundane and cosmic. (পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা, সর্বশ্রেষ্ঠ আশ্চর্য, জীবনের ও বিশ্বব্রহ্মান্ডের জাগতিক ও মহাজাগতিক সমস্ত বিষয়ের সর্ব্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ও সর্ব্বজ্ঞ মানুষ) শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে বেদ, পুরাণ, মহাভারত ইত্যাদি শাস্ত্র গ্রন্থ ঘেঁটে রেফারেন্স দিয়ে প্রমাণ করতে হবে তিনি কে?

যে বালখিল্য মহাজ্ঞানী ভীষ্ম শ্রীকৃষ্ণকে চিনতে পেরেও তাঁকে, তাঁর কথাকে অমান্য করেন, অন্যায়ের স্বপক্ষে নানা বালখিল্য যুক্তির অবতারণা ক'রে তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করেন এবং মহাভারতের মতন মহাপ্রলয় ঘটান তাঁর কথায় বিশ্বাস করতে হবে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ভগবান? যিনি ধ্বংস যজ্ঞের পৈরোহিত্য করেন তাঁর বালখিল্য কথা শুনে ও পড়ে আমাকে জানতে হবে, বিশ্বাস করতে হবে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র কে?

বইয়ের মূল এসেন্সকে মজ্জাগত না ক'রে বই পড়ে বই হ'য়ে যাওয়ার মতন কে কোথায় শ্রীশ্রীঅনুকূলচন্দ্রকে স্বীকৃত দিল আর দিল না তার ওপর আমাকে নির্ভর করতে হবে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ভগবান কিনা? আমার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি কি বলে যে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ভগবান? নিজের জীবন দিয়ে কিছু করা নেই, কোনও উপলব্ধি নেই, নেই কোনও অভিজ্ঞতা, নেই কোনও দর্শন শুধু কিছু বই পড়ে তোতা পাখির মুখস্ত করা বুলি আউড়াবার মতন নীরস কতকগুলি শাস্ত্রের কথা রেফারেন্স সহ মুখস্ত ক'রে জনসমক্ষে ছুঁড়ে দিলাম ভিডিওতে বা সৎসঙ্গ ও উৎসব মঞ্চে আর শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র হয়ে গেল ভগবান!?!?

আমাদের অবস্থা সেই দু'পায়ে শেকল বাঁধা দাঁড়ে বসানো টিয়াপাখির মতন। এক পায়ের শেকল ধ'রে টানলে পোষা টিয়া বলে, 'রাম, রাম' অন্য পায়ের শিকল ধ'রে টানলে বলে, 'কৃষ্ণ, কৃষ্ণ'। আর, গৃহে আসা অতিথি সেই অপূর্ব ঘটনা দেখে ও বচন শুনে ভেবেছিল একসঙ্গে দু'পা ধ'রে টানলে বলবে, 'রামরাম, কৃষ্ণকৃষ্ণ'। কিন্তু দু'পা ধ'রে টানার পর শোনা গেল পোষা টিয়া রেগে গিয়ে বলছে, 'অ্যাই চার অক্ষর, দু' পা ধ'রে টানছিস, পড়ে যাবো না।'
আমাদের ভক্তদের হয়েছে সেই অবস্থা।

শাস্ত্রে লেখা থাকলেই তিনি ভগবান নতুবা নয়? তাঁর শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত দীর্ঘ ৮১বছরের বৈচিত্রময় রহস্যময় জীবনটা কিছু প্রমাণ করে না? শাস্ত্রে তো অনেক ভুলভাল লেখাও আছে তাহ'লে সেগুলিও কি ঠিক? কতজনে তো কতরকম অভিধানের কঠিন কঠিন ঝাঁ চকচকে কথার চকমকিতে, রঙচঙে পোশাকের ঝলকানিতে, নানা ঘটনার ঘনঘটায় প্রমাণ ক'রে চলেছে তারা ভগবান। তাহ'লে তাঁরাও কি ভগবান? আর, স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা অসীম, সেই অসীম যখন সসীম হ'য়ে সীমায় বাস করে, অসীম যখন সহজ জ্ঞানে সীমার বুকে আবির্ভূত হন তখন তিনি তো ভগবান ঠিকই কিন্তু তাঁকে ভগবান বললে ছোটো করা হয়। সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং মানুষের রূপ ধ'রে নেমে আসেন। জড় অজড়, চেতন-অচেতন বা স্থাবর জঙ্ঘম সমস্ত কিছুর উপর তিনি আধিপত্য বিস্তার করেন। আর তাই তিনি ঈশ্বর আর ঈশ্বর যিনি তিনি সর্ব্বজ্ঞ। তাই শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সর্ব্বজ্ঞ, ঈশ্বর।

আর, তিনি ঈশ্বর কিনা তাঁর সমগ্র জীবনটাই তার প্রমাণ। তাঁর সমগ্র জীবনটাই প্রমাণ করে তিনি বিশ্বব্রহ্মান্ডের মূর্ত প্রতীক। তিনি জীবন্ত মূর্ত আদর্শ। তিনি ধর্মের মূর্ত প্রতীক। তিনিই বিজ্ঞান, ফলিত বিজ্ঞান। তিনিই Science শব্দের মূল অর্থ, প্রকৃত অর্থ See-ence অর্থাৎ Action through seeing ( দেখার মধ্যে দিয়ে কাজ) তার জ্বলন্ত প্রমাণ। তিনি সারাজীবন শৈশোব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত সব কিছুর মধ্যে Action through seeing (দেখার মধ্যে দিয়ে কাজ) এই মেথডকে অনুসরণ ক'রে চলেছেন। এই See-ence তাঁর নিজস্ব Coined word অর্থাৎ তাঁর নিজস্ব তৈরী করা শব্দ। তাই তিনি তাঁর ভক্তদের বলতেন, "Keep the see-ence correct অর্থাৎ তোমার Action through seeing ( দেখার মধ্যে দিয়ে কাজটা)-কে ঠিক রাখো। তাঁর সামগ্রিক জীবনের লৌকিক অলৌকিক কার্যাবলী বিজ্ঞান, ফলিত বিজ্ঞানের প্রমাণ।

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সর্ব্বজ্ঞ কিনা তার প্রমাণ তাঁর জাগতিক ও মহাজাগতিক সমস্ত বিষয়ের ওপর ব'লে যাওয়া ২৪ হাজার বাণী, তাঁর সত্যানুসরন ও হাজার হাজার কথোপকথন ও প্রশ্নত্তোর পর্বে সমৃদ্ধ বহু খন্ডে প্রকাশিত আলোচনা প্রসঙ্গে (২২ খন্ড), দীপরক্ষী (৬ খন্ড), কথাপ্রসঙ্গে (৩ খন্ড), নানাপ্রসংগে (৩ খন্ড), ইসলাম প্রসঙ্গে, নারীর পথে, অমীয় বাণী ইত্যাদি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে ও আরও বহু গ্রন্থ অপ্রকাশিত অবস্থায় আছে।

শ্রীশ্রীঠাকুরের শৈশব অবস্থা থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত নানা ঘটনা শেক্সপিয়ারের হ্যামলেট নাটকের সংলাপ যা' কিনা শ্রীশ্রীঠাকুর প্রায় সময়ই আউড়াতেন, "There are more things in heaven and earth, Horatio, than are dreamt of in your philosophy." যার অর্থ, "হোরাশিও, স্বর্গ ও পৃথিবীর মাঝে বহু জিনিস আছে, হোরাশিও, যা' তোমার দর্শনের পাল্লার বাইরে ও স্বপ্নের অতীত"----এই সংলাপকে পরিপূরণ করে।

তাই শ্রীশ্রীঠাকুর ঈশ্বর কিনা, ভগবান কিনা প্রমাণ করার কারও দরকার নেই। সেই অধিকারও তিনি যাকে তাকে দেননি। প্রমাণ করলেই বা কি আর না-প্রমাণ করলেই বা কি তিনি নিজেই প্রমাণিত সত্য। ছেলে স্বীকার করলেই বাপ বাপ প্রমাণিত হয় না বা তার দরকার পড়ে না; ছেলে স্বীকার করলেই বা কি আর না-করলেই বা কি, বাপ বাপই। আর, DNA তার প্রমাণ।

তাই মঞ্চে বক্তৃতায়, ভিডিওতে, লেখায় শাস্ত্র থেকে রেফারেন্স সহ শ্লোক তুলে জীবন্ত ঈশ্বরকে প্রমাণ করতে যেও না তিনি ঈশ্বর। তাঁতে তাঁরও লাভ নাই, আমাদেরও লাভ নেই। যদি আমি বুঝে থাকি তিনি ঈশ্বর, তিনি ভগবান, তিনি পরমপিতা, তিনি সদগুরু, তিনি পরম কারণ, তিনি পরম অস্তিত্ব, তিনি পরম উৎস, তিনি পরম সত্য তিনি সৃষ্টিকর্তা, তিনি পরম জ্ঞানী, তিনি সর্বজ্ঞ, তিনি ধর্মের মূর্ত প্রতীক, তিনি ধর্ম ও অধ্যাত্ম জগতের X, Y, Z আসুন তা'' নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করি, নিজের জীবনে, নিজের চরিত্রে তিনি মূর্ত হ'য়ে উঠুক। ঘরে ঘরে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলের চাষ হ'ক। ঘরে ঘরে ছোট্ট ছোট্ট অনুকূলের জন্ম হ'ক। প্রতিটি পরিবার দেবালয় হ'য়ে উঠুক। গোটা বিশ্ব স্বর্গ হ'য়ে উঠুক। কলিযুগের দ্রুত অবসান হ'ক, সত্য যুগের আবির্ভাব ঘটুক।

আর, তাই দেখে শ্রীশ্রীঠাকুরের ম্লান, ব্যথাতুর মুখে হাসি ফুটূক, শ্রীশ্রীঠাকুর আনন্দে শিশুর সারল্যে হেসে উঠুক খিলখিল ক'রে আর সেই হাসি ধ্বনিত হ'ক ঘন্টাধ্বনির মত সমগ্র বিশ্বে।

এই যে বললাম, শ্রীশ্রীঠাকুর ভগবান কিনা, ঈশ্বর কিনা, তিনি বিশ্বব্রহ্মান্ডের মালিক সৃষ্টিকর্তা কিনা সেটা প্রমাণ হয় ভক্তের জীবনের মধ্যে দিয়ে, চরিত্রের মধ্যে। ভক্তের চেহা্রা, চালচলন, কথাবার্তা, আচার আচরণ, তার ভালোবাসা, তার প্রেম, তার জ্ঞান, তার প্রজ্ঞা, তার দূরদর্শিতা, সমস্ত কিছুর মধ্যে তার চাউনি, তার চলন, তার ভাবভঙ্গী হাবভাব সমস্ত কিছুর মধ্যে তিনি ফুটে ওঠেন, জলের মধ্যে, জলের ফোঁটার মধ্যে যেমন প্রকাশিত হয়, বর্ষাকালে গাছের পাতার জমে থাকা ছোট্ট জলকণার মধ্যে যখন বৃষ্টি শেষে প্রকান্ড সূর্য আকাশে প্রকাশিত হয় তখন সেই সূর্যের প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত হয় ছোট্ট জল কণার মধ্যে, ঠিক তেমনি ভক্তের জীবনে, ভক্তের চরিত্রে জীবন্ত ঈশ্বর, জীবন্ত ভগবান, রক্তমাংসের সৃষ্টিকর্তা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র প্রকাশিত হন। তখন সেই জীবন প্রমাণ করে, সেই চরিত্র প্রমাণ করে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ঈশ্বর কিনা, ভগবান কিনা। ভক্ত যদি এমন অসাধারণ সমস্ত গুণের অধিকারী হন তখন প্রশ্ন ওঠে তাহ'লে স্বয়ং জীবন্ত ঈশ্বর, জীবন্ত ভগবান, জীবন্ত সৃষ্টিকর্তা না-জানি কেমন!!!!!! শ্রীশ্রীঠাকুর স্বয়ং বলেছেন, "মুখে প্রকাশ করতে হবে না, তোমাকে দেখে চিনবে তোমার ঠাকুর কেমন!" সেই ভক্তপ্রাণ হলেন আমাদের বিশ্বজুড়ে ১০কোটির অধিক সৎসঙ্গীদের আচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদা। বোঝে সে, প্রাণ বোঝে যার। এর থেকে বড় প্রমাণ আর কিছু নেই। তাঁর মধ্যেই আমরা প্রত্যক্ষভাবে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে অনুভব করতে পারি, উপলব্ধি করতে পারি।

তাই আসুন আমাদের জীবনে, আমাদের চরিত্রে, আমাদের ব্যবহারে শ্রীশ্রীঠাকুর জীবন্ত হ'য়ে উঠুক। আমাদের যেন বলতে না হয়, আমরা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দীক্ষিত, আমাদের কথায় কথায় 'জয়গুরু, জয়গুরু' ব'লে প্রমাণ করতে না হয় আমরা সৎসঙ্গী। সাদা পোশাক পড়ে আমাদের প্রমাণ করতে না হয় আমরা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের অনুসারী, মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুধু বক্তৃতায় প্রমাণ করতে না হয় আমরা দীক্ষিত। কোনওভাবে কোথাও যদি প্রমাণ করতে হয় তা' হ'লো আমার জীবন দিয়ে, আমার চরিত্র দিয়ে। সৎসঙ্গের বর্তমান শ্রীশ্রীআচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদা যার জ্বলন্ত জীবন্ত উদাহরণ।

জয়গুরু।

Thursday, March 6, 2025

বিচিত্রা ১০৫

হে বিপ্লবী! হে বিজ্ঞানী! 
সমাজ সংস্কারক, মানব দরদী, হে পূজারী! 
মানবজাতি ধ্বংসের তুমিই ঈশ্বর অবিশ্বাসী 
ভয়ঙ্কর আনাড়ি কান্ডারি!
( লেখা ৬ই মার্চ'২০১৮)

টাকা আসবে টাকা যাবে
ধ'রে রাখতে পারবে না
চলন চরিত্র ঠিক না হ'লে
ভোগ করতে পারবে না!

ঠাকুরের বাণী, কথার অনুবাদ, 
ব্যাখ্যা করতে যেও না 
যদি সিদ্ধ না হও।
সিদ্ধ হ'লে কথা যাবে কমে 
সিদ্ধপুরুষ আচার্যদেবের যদি শরণ নাও!

নিজের জীবনটাই ঠাকুরের বাণী, 
কথার মূর্ত রূপ হ'য়ে উঠুক!
আচার্যদেবের সান্নিধ্যে জীবন মাঝে 
সেই বাণী-কথার মর্মার্থের আলো ফুটুক!!

ঠাকুরের বাণী-কথার ব্যাখ্যা করো 
এতবড় পন্ডিত তুমি!?
মনের আয়নায় নিজের জীবন দেখো 
দেখতে পাবে ফাঁকির খনি!!

The greatest phenomenon of the world:
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র।
বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ লজ্জা: 
বাংলা ও বাঙালি! ভাগ্য মন্দ!!

কোনও মন্তব্য করার আগে 
একবার থমকে দাঁড়াও আর 
দেখে নাও, বুঝে নাও
কি বলছো, কাকে বলছো!
( লেখা ৬ই মার্চ'২০১৯)

কবিতাঃ সাহারা!

বিশ্বাস চলে যাচ্ছিলো ধীরে ধীরে
বাসা বাঁধছিল সন্দেহ সমস্ত মন জুড়ে
কোনও কথায় লাগছিলো না আর ভালো
ব'য়ে চলেছি এ জীবন আমি একাকী
জীবনভর দিয়েছি খালি ফাঁকি শুধু মনে হচ্ছিলো।
চারপাশে সবাই ঠিক আমি শুধু বেঠিক
সন্দেহের ঘুণ পোকা খাচ্ছিলো কুরে কুরে।
বিশ্বাস যাচ্ছিলো চলে ধীরে ধীরে।

ঠাকুরের মতো সুন্দর নেই কেউ আর ভুবন জুড়ে!
চেয়ে থাকি শুধু তাঁর নয়নপানে
তৃষ্ণা জুড়ায় আমার শুখা প্রাণে।
তথাপি বিশ্বাস যাচ্ছিলো চ'লে ধীরে ধীরে।

ঠাকুরের কথা, ঠাকুরের বাণী
শুনেছি অনেক, জেনেছি অনেকখানি
পড়েছি রাত্রিদিন, এমন সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ব্যাখ্যা
দেখিনি আর কোথাও তবুও বিশ্বাস হচ্ছিল
ক্ষীণ থেকে ক্ষীণ; আমি অধম, অতি দীন।

চারপাশে যেদিকে যাই, যার পানে চাই
যাকেই করি বিশ্বাস রাজনীতি, শিক্ষা, আইন,
ধর্ম্ম সহ যত অঙ্গনে; মিথ্যা আর ভণ্ডামির
শুনি কোলাহল দিন শেষে প্রাঙ্গনে প্রাঙ্গনে।
সৎ, সততা, সত্য আর সাধুতার মুখোশের আড়ালে
আবডালে অসৎ, অসততা, অসত্য আর অসাধুতা
নটরাজ ভঙ্গিতে সবাই একসাথে নাচে তালে তালে।

এমনি সময়ে যখন চেয়েছি প্রলয়, হ'ক ধ্বংস,
ছারখার হ'য়ে যাক স্বর্গ, মর্ত, পাতাল;
তব সৃষ্টি মাঝে অনাসৃষ্টির কারিগর শয়তান
শিশুপালেদের আর নয় ক্ষমা শতবার
হে দয়াল! হ'ক বিস্ফোরণ, ফেটে চৌচির
হ'য়ে যাক ধরণী, বিলুপ্ত হ'ক তব সৃষ্টি
ঠিক তখনি দয়াল দেখা দিলে মোরে
ভাবী আচার্য মাঝারে আর করিলে শান্ত
মোর অশান্ত দেহ মন আত্মারে!
মধুর হাসিতে জুড়ালে প্রাণ, দিলে ত্রাণ
অবিশ্বাস আর সন্দেহে ক্ষতবিক্ষত আমারে!
মনে হয় যেন ডেকে আমারে বলিলে সযতনে
ছড়িয়ে হাসির ফোয়ারা, আয় মোর কাছে
অবিশ্বাস আর সন্দেহ কেন করিস মিছে
আমি তো রয়েছি তোর অন্ধকার মাঝে সাহারা।
হে দয়াল! সত্য আজ তোমা কথন
রেত শরীরে সুপ্ত থেকে জ্যান্ত তুমি হে পুরুষোত্তম!!
( লেখা ৬ই মার্চ'২০২৩)

Tuesday, March 4, 2025

বিচিত্রা ১০৪

বিপ্লব, বিদ্রোহ, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ 
কবিতায়, গল্পে, উপন্যাসে। 
কাল্পনিক অত্যাচারে সাজছো 
ক্ষতবিক্ষত সাজে বিপ্লবী হাসি হেসে!

বৃথা হ'ল এ জন্ম তোমার, ব্যর্থ হ'ল এই সফর।
বিধির বিধান বুজলি না তুই রাখলি না তার খবর;
বিধাতার সাথে করছো বেইমানী তুমি জবর!!

মানুষ তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারো,
খেলতে পারো এ বিশ্ব লয়ে,
তুমি ক্ষুদ্র শিশু আনমনে!
কিন্তু খবরদার, বিরাট শিশু হ'তে যেও না।

খেলিছো এ বিশ্ব লয়ে 
ক্ষুদ্র মানব শিশু হীনমনে।
প্রলয় ধ্বংস তব পুতুল খেলা
গরজনে বিশু গরজনে।

শীর্ণ দেহ আবাসে 
তুমি মগ্ন বৃত্তি বিলাসে!
ভাঙ্গিছ গড়িছ নীতি ক্ষণে ক্ষণে
গরজনে বিশু গরজনে।

দীক্ষা শিক্ষা শাদি খেলনা তব হে উদাসী
পড়িয়া আছে ফাটা পায়ের কাছে জ্ঞান রাশি।

অনিত্য তুমি হে অনুদার 
সুখে-দুখে ব্যভিচার।
হাসিছ খেলিছ তুমি রিপু সনে
গরজনে বিশু গরজনে।
(লেখা ৪ই মার্চ'২০১৮)