Powered By Blogger

Wednesday, February 22, 2017

প্রেমময় নবী!

বন্ধু! বৃথা কেন ভাবো, ভবে অনাথ হ’ল সময়!
থাকে যদি সাথে প্রাণনাথ তবে কিসের আমার ভয়?
সময়ের আরেক নাম যদি হয় বহতা নদী
জীবন তরী চলে ভেসে সেথায়, ভেসে চলে বিন্দাস
খেয়াতে যদি থাকে মাঝি তোমার প্রেমময় নবী!
নবীময় তোর ভাসান তরী যায় যদি বন্ধু ডুবে
বিশ্বাস, নির্ভরতা, আত্মত্যাগ এ তিন শব্দের
জেনো বন্ধু নিশ্চিত সলিল সমাধি হবে।
প্রাণনাথে ধরি ভবসাগর দাও পাড়ি,
পার হও তমসাচ্ছন্ন ঘোর আঁধার
নাথ হ’য়ে সময় দেবে অভয়

কেটে যাবে জীবনের যত ভয় অসার!!!!!!

Sunday, February 12, 2017

. কবিতাঃ হাসি মিষ্টি!

বন্ধ হ’ক কলমের নীল মূত্রপাত, 
বন্ধ হ’ক যত কটু মুখের বিষ বর্ষণ;
বন্ধ হ’ক ‘না’-এর ধারাপাত,
বন্ধ হ’ক যত অশ্রদ্ধার ভুমি কর্ষণ।
বন্ধ হ’ক যত ব্যক্তি স্বার্থে
বিভাজনের ইতর দৃষ্টি;
বন্ধ হ’ক গরিবির নামে
উদারতার ভঙ্গী নিয়ে
নেবে আসা দয়ার অম্ল বৃষ্টি।
কেন এই অনাসৃষ্টি?
কেন এই কৃষ্টি?
কারণ শয়তানের হাসি ভগবানের চেয়েও মিষ্টি!

স্মৃতি তর্পণ! ১




আজ টিভিতে হঠাৎ চোখ পড়ল। দেখলাম সিরিয়ালের সেরা ভিলেনের রোলের বিজ্ঞাপন চলছে। এক একটা সিরিয়ালের এক একজন তাদের সেরা ডায়লগ বলে যাচ্ছে। একটা সিরিয়ালের একজন ভিলেনের একটা ডায়লগ শুনলাম; বলছে, ‘ভাত ছেটালে কাকের অভাব হয় না।‘ কথাটা মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ৩০-৩৫ বছর পিছনে নিয়ে গেল। একটু নস্টালজিক হ’য়ে পড়লাম। 

তখন ভরা যৌবন। মাথা ভর্তি লম্বা চুল, মুখে চাপ দাঁড়ি, হাতে মোটা ষ্টীলের বালা, লোহা পেটানো চেহারা। ব্যায়াম, ক্যারাটে-কুম্ফু, ক্রিকেট, নাটক, গান, লেখালেখি, রাজনীতি, বক্তৃতা ইত্যাদি সবেতেই ফুলে ফুলে প্রজাপতির উড়ে উড়ে মধু খাওয়ার মতন যৌবনের পাগলা ঘোড়ায় চেপে ছুটে বেড়াচ্ছি এ মাথা থেকে ও মাথা, এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত, এ মেরু থেকে ও মেরু, এ কূল থেকে ও কূল, এ ঘাট থেকে ও ঘাট, এ জীবন থেকে ও জীবন। সর্বঘটে কাঁটালি কলা হ’য়ে বহাল তবিয়তে বিরাজ করছি। এর সঙ্গে রয়েছে চাকরী জীবন। হু হু ক’রে কেটে যাচ্ছে সময়। এত ব্যস্ত যে শয়তান তার কারখানা বানাতে সুযোগই পায়নি এই মস্তকে। তাই একটাই কি দুঃখ রয়ে গেল?

প্রেমহীন যৌবন উদ্দাম গতিতে ছুটে গেল বিনা বাধায়, বিনা দ্বিধায়! কিন্তু কিসের টানে? কেন এই উপেক্ষা? প্রেম কি আসেনি কখনও জীবনে? প্রেমে অনীহা? অর্থ, মান, যশ ও ক্ষমতার লোভ? সেখানেও উপেক্ষা! ক্ষমতাধর প্রভাবশালীর সঙ্গ লাভে খুব বেশী কোনও আগ্রহ ছিল না।  সবেতেই ছিল উপেক্ষা, অনিচ্ছা ও অরুচি।   

এমনটা কেন? জানি না। প্রেম, ক্ষমতা, অর্থ ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে কেন উপেক্ষার জবাবে উপেক্ষা না হ’য়ে গালির গালিচা? উত্তর কি এখন? জানি না, জানার চেষ্টাও করিনি কোনোদিন। তবে ঐ ৩০-৩৫ বছর পিছনের অনেক বিচিত্র ঘটনার মধ্যে একটা ঘটনা আজ বলতে পারি। 
একদিন অফিস ছুটির দিন শীতকালের সকাল। সময় সকাল ১০টা সাড়ে দশটা হবে। বন্ধু-বান্ধব অনেকে মিলে বসে আছি। সামনে সম্ভবত ক্লাবের কোনো অনুষ্ঠান আছে। তারই প্রস্তুতি চলছে। এলাকার দণ্ডমুণ্ডের কর্তা ও রাজনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব ক্লাবের প্রধান শক্তি এলেন। ছোটবড় সবাই তাঁকে ঘিরে বসে আছে। তিনি বলছেন আমরা সবাই শুনছি। সবাই হ্যাঁ হ্যাঁ ক’রে যাচ্ছে। এদের মুশকিল হ’ল এরা দাদা যা বলেন সবেতেই হ্যাঁ হ্যাঁ ক’রে যান। সূর্য পশ্চিমে উঠে পূবে অস্ত যায় বললেও সবাই হ্যাঁ হ্যাঁ ক’রে ওঠে। এতে যে তিনি সবসময় খুশী হন তা' কিন্তু নয়। মাঝে মাঝেই বুকের ভেতরে থাকা একটা চাপা রাগ এদের ওপর বেড়িয়ে আসে।

যাই হ’ক, কথার পর কথা এগিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ তিনি রেগে গিয়ে বিরক্তির সুরে বললেন, ‘ ভাত ছেটালে কাকের অভাব হয় না, বুঝলি।‘ আসরে যেন বজ্রপাত হ’ল। সবাই চুপ ক’রে আছে। আমি ঘুরে ঘুরে সবার মুখের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি। দেখছি সবার মুখে যেন মুহুর্মুহু রঙ পাল্টাচ্ছে। কেউ মাথা নিচু ক’রে বসে আছে তো কেউ কেউ অন্যের মাথার পিছনে নিজের মুখ লুকাতে ব্যস্ত হ’য়ে পড়েছে। ‘কি হ’ল চুপ ক’রে আছিস কেন? কি, ভুল বললাম? ভাত ছেটালে কাকের অভাব হয়?’ সামনে বসে থাকা কয়েকজনের দিকে তাকিয়ে আবার কথাটা ছুঁড়ে দিলেন তিনি। আমি আমার মত চুপ ক’রে বসে আছি। তিনি জানেন আমি বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে থাকি আর সময় পেলেই আসি। রোজ আমার আসা হয় না। তাই আমাকে একটু প্রশ্রয়ের চোখেই দেখতেন তিনি। তবে সবার সামনে আমাকে যতটা না মান্যতা দিতেন তার থেকে হাজার গুণ বেশী মান্যতা দিতেন যখন দুইজনে একা থাকতাম। অনেকক্ষণ কথা বলতেন। তখন নানা ব্যক্তিগত কথা হ'তো, কখনও কখনও কোনও কোনও বিষয়ে আমার মতামত জানতে চাইতেন। কিন্তু সবার সামনে একেবারে ১৮০ডিগ্রি উল্টে যেত। আমি বুঝতাম, এইটা স্বাভাবিক, তাই মনে কোনও প্রতিক্রিয়া হ'তো না। শুধু ভাবতাম, কি অদ্ভুত অসহায় নকল জীবন, অভিনয় পূর্ণ জীবন তাঁর। 

যাই হ’ক, হঠাৎ তিনি আমাকে উদ্দেশ্য ক’রে বললেন, ‘কিরে তুই চুপ ক’রে আছিস কেন? তুই তো কিছু বল?’ আমি আমতা আমতা ক’রে বললাম, ‘ন-ন-না, আমি কি বলবো?’ তিনি বললেন, ‘কেন? তুই তো পড়াশুনা করা ভালো ছেলে! তুই তো কিছু বল!’ আমি তখন কিছুটা ভয়ে, কিছুটা প্রশ্রয়ে বললাম, ‘না, মানে আপনি কথাটা ঠিক বলেছেন। ভাত ছেটালে কাকের অভাব হয় না। তু নেহি তো আউড় সহি! আউড় নেহী তো আউড় সহি!! তবে কি জানেন, কাকেদের চরিত্রটা অদ্ভুত! ভাত ছেটাবার সঙ্গে সঙ্গে তারা একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে একথা যেমন ঠিক, সত্য তার চেয়েও ভয়ঙ্কর ঠিক ও সত্যি হ’ল ভাত খাওয়া শেষ হ’লেই কাকেরা দলবেঁধে উড়ে যায়। আর, দাদা, উড়ে যায় যায়, যাবার বেলায় আরও কর্কষ স্বরে ‘কা কা’ রবে উড়ে যায়।‘ 
আমার বলা শেষ হ’তেই কিছুক্ষণের জন্য ‘পিন অফ সাইলেন্ট’ হ’য়ে গেল পরিবেশ। তারপরই হঠাৎ দুম ক’রে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। পা দিয়ে সজোরে লাথি মেরে পিছন দিকে ঠেলে ফেলে দিলেন চেয়ারটা। টেবিলটাকে সামনের দিকে ঠেলে দিয়ে গটগট ক’রে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন এলাকার দণ্ডমুণ্ডের কর্তা আমাদের এলাকার সবার প্রিয় দাদা। আমরা সবাই তখনও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হ’য়ে চুপ ক’রে বসে আছি। সবাই সবার মুখের দিকে তাকাচ্ছে। তারপর দেখলাম সবাই যেন আমার দিকে তাকিয়ে আছে একবুক রাগ আর বিরক্তি নিয়ে। যদিও কেউ কিছু বলতে সাহস করেনি, তবুও আমার মনে হ’ল আমি এই অবস্থার জন্য দায়ী। আমিও আর কালবিলম্ব না ক’রে একা ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। বেরিয়ে সোজা চলে এলাম বাড়িতে। সেদিন সারাদিন ভেবেছিলাম কথাটা। হঠাৎ কি যে বললাম! কেন যে বললাম!

যাই হ’ক, আজ অনেক বছর পর টিভির পর্দায় ভেসে ওঠা দৃশ্যটা আমাকে নিয়ে গেল সেই ফেলে আসা দিনগুলিতে। দাদার ‘ভাত ছেটালে কাকের অভাব হয় না’ কথাটা সিরিয়ালের দাদার ডায়লগ হ’য়ে ফিরে এল এতবছর পরে। মনে হ’ল পৃথিবীটা সত্যিই গোল!
তবে অনেকদিন পর রাস্তায় দাদার সঙ্গে একদিন দেখা হয়েছিল নিভৃতে। 

আজও মনে পড়ে সেদিনটার কথা। রাস্তায় আসতে আসতে কাঁধে হাত রেখে খুব বিষন্ন স্বরে বলেছিল, ‘কে জানে ক’ ঘন্টা, রবে রে জীবনটা’; তোর সেদিনের কথাগুলি অপ্রিয় হ’লেও বড় সত্যি। বাস্তব বড় নির্মম, রুঢ়, কঠিন! জীবনকে চেনাতে সাহায্য করার জন্য ধন্যবাদ।‘আজ তাঁর কথাগুলি মনে পড়ে গেল। আজ আর তিনি নেই আমাদের মাঝে। কিন্তু কথা গুলি ফিরে ফিরে আসে বারে বারে!!!!!!

এই ছবিটা সেই সময়ের।

Tuesday, January 24, 2017

কয়েকটি কথাঃ কোনটা ঠিক? কোনটা বেঠিক?

স্বাধীনোত্তর ৭০বছরে দেশে কটা এমন ঘটনা ঘটেছে যাতে আম জনতার স্বার্থে প্রায় সমস্ত বিরোধী দল সরকার বিরোধী সিদ্ধান্তে জোট বেঁধে প্রতিবাদে সংসদ ভবনের দুই কক্ষে, রাষ্ট্রপতি ভবনে খোলা আকশের নীচে সরব হয়েছিল বা হয়েছে? মনে পড়ে কারও? কারও কাছে তথ্য থাকলে দয়া রে জানাবেন। আমার কাছে মাত্র দুটি তথ্য আছে। একঃ ভারতবর্ষের প্রাক্তন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর শাসনকালে ১৯৭৫ সালের ২৫শে জুন মধ্য রাত্রে নেওয়া সিদ্ধান্ত জরুরী অবস্থাঘোষণা। যাকে তৎকালীন বিরোধীরা গণতন্ত্র হত্যা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার ভয়ংকর পদক্ষেপ লে ঘোষণা করেছিলেন। দুইঃ ভারতবর্ষের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শ্রীনরেন্দ্র মোদীর কালো টাকার বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। যাকে বিরোধীরা আম জনতার উপর নেবে আসা একনায়কতন্ত্রের স্বৈরাচারী অত্যাচার একই সঙ্গে অঘোষিত জরুরী অবস্থা জারী করার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সেদিন শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করার খেসারত দিতে হয়েছিল। আর আজ বিরোধীদের অভিযোগ অনুযায়ী নরেন্দ্র মোদীর কালো টাকার বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করার নামে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যে অঘোষিত জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছেন তার জন্য কি খেসারত দিতে হয় তার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। স্বাধীনোত্তর ভারতবর্ষের সংসদে যে দলই দেশ শাসনের দায়িত্বে থাকুক না কেন ক্ষমতাসীন দল ৭০ বছর রে যেভাবে দেশ চালিয়েছে, যে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সব সিদ্ধান্তই কি আম জনতার স্বার্থে নেওয়া হয়েছিল? ৭০ বছর রে গৃহীত আর কোনও সিদ্ধান্তই কি আম জনতার স্বার্থ বিরোধী ছিল না? শুধুমাত্র আমার জানা এই দুটি গৃহীত সিদ্ধান্তই ছিল আম জনতার স্বার্থ বিরোধী? সত্যি সত্যিই কি এই দুই সিদ্ধান্ত আম জনতার স্বার্থ বিরোধী আম জনতার স্বার্থকে আঘাত করেছিল বা করেছে? ৭০ বছর রে দেশের নেতৃত্বে যারা ছিলেন তাঁরা সবাই দক্ষতা যোগ্যতার সাথে সততাকে অবলম্বন রে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন? টিভিতে চ্যানেলে চ্যানেলে শুনি ঘটনা সম্পর্কে সর্বঘটে কাঁঠালি কলার মত সর্ববিষয়ে পন্ডিত বিশ্লেষকদের বিশ্লেষণ। শুনি যুক্তি-অযুক্তির তর্ক-বিতর্ক! শুনি আম জনতার ওপর জোর রে চাপিয়ে দেওয়া নানাজনের নানা বিশ্লেষণের রঙিন মোড়কে মোড়া দৃষ্টিভঙ্গি। শুনি মিছিল-মিটিং- জনপ্রতিনিধিদের স্বার্থপূরণের স্লোগান আর ভাষণ। কোনটা ঠিক? কোনটা বেঠিক? লোকতন্ত্রের বোরখার আড়ালে একনায়কতন্ত্র না-কি প্রকৃত এক নায়ক তন্ত্র?

শুভ নববর্ষ ও কিছু উপলব্ধি (২০১৭)!!!!



দুঃখিত বন্ধু! এবার শুভ নববর্ষ (২০১৭) জানাতে পারলাম না তোমাকে আমার প্রিয়জন সবাইকে। Surgical strike on Black Money & Fake Currency-এর কারণে জনজীবন বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত ক্ষতবিক্ষত। নোটবন্দী মানুষের জীবন পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে। তাই এবার বন্ধু তোমায় নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাতে পারলাম না। মন ভারাক্রান্ত। মন ভারাক্রান্ত বন্ধু শুধু নোটবন্দীর কারণে নয় মন ভারাক্রান্ত বিপর্যস্ত এই কারণে যে গতকাল নতুন বছরের আগমনে সারাদেশ জুড়ে যে আনন্দের বন্যা বয়ে যেতে দেখলাম, আলোর রোশনাই, আতস বাজির ঝিলিক, শব্দ বাজির ধামাকায় দেশকে আন্দোলিত 'তে দেখলাম, নাচে-গানে, হাত-পা-মাথা-কোমর দোলানোর যে কসরৎ দেখলাম---- সারা দেশ না হয় ছেড়ে দিলাম সেগুলি নাহয় টিভিতে দেখেছি কিন্তু আমার বাড়ীর আশেপাশে, উত্তরপাড়া শহর জুড়ে পাড়ায় পাড়ায়, ক্লাবে ক্লাবে, অলিতে গলিতে, মাঠে ঘাটে রঙ্গীন আলো, নানা রঙ বেরঙের বেলুন, আতস বাজির ঝলকানি, শব্দ বাজির ধামাকা সহযোগে যে আনন্দের উন্মাদনা দেখলাম--- তাতে মন আনন্দে ভরে যাওয়ার পরিবর্তে বিহ্বল হয়ে গেলাম, গুলিয়ে গেলাম তাহ'লে কোনটা সত্যি, কোনটা ঠিক!!?? হাতে কারও টাকা নেই, ব্যাঙ্কে টাকা নেই, এটিএমে কোনও টাকা নেই, নিজের টাকা ব্যাঙ্কে থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট এমাউন্ট ছাড়া বেশী টাকা তোলার উপায় নেই, টাকার অভাবে বাজার, দোকান, ব্যবসা সব অচল, টাকার অভাবে মেয়ের বিয়ে দিতে পারছে না, টাকার অভাবে ডাক্তারের ফিস দিতে পারছে না রোগীর বাড়ির লোকজন, হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যাহত, কলে কারখানায় বিভিন্ন কর্মস্থলে টাকার যোগানের অভাবে কাজ হারাচ্ছে শ্রমিক, টাকার যোগানের অভাবে বিয়ে বন্ধ, পড়াশোনা বন্ধ, চিকিৎসা বন্ধ, চাষ আবাদ বন্ধ, শিল্প বন্ধ, ব্যবসা বন্ধ, ট্রেনে, বাসে, ট্যাক্সি, অটো ইত্যাদি ইত্যাদিতে সফর বন্ধ, চতুর্দিকে সব সব বন্ধ; যেন গোটা দেশ জুড়ে এক অলিখিত বন্ধ। বর, কনে, ছাত্র ছাত্রী, যুবক যুবতী, প্রৌঢ় প্রৌঢ়া, বৃদ্ধ বৃদ্ধা, শ্রমিক, কৃষক সমস্ত স্তরের মানুষ নোটবন্দীর কারণে মানসিক অবসাদে, যন্ত্রণায় হয় মারা যাচ্ছে নাহয় আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে একমাত্র মুক্তির উপায় হিসাবে। এসব দেখে শুনে আমি কনফিউজড!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!! কোনটা ঠিক!? কোনটা বেঠিক!? কোনটা সত্যি!? কোনটা মিথ্যে!? এত টাকার যোগানের অভাবে, নোটবন্দীর মত অনর্থক, অসংগত চার অক্ষরি পদক্ষেপের কারণে যখন গোটা দেশ, দেশের জনজীবন পঙ্গু 'য়ে পড়েছে, ল্যাংড়াচ্ছে, খোঁড়াচ্ছে; অন্ধত্বের কারণে হাতড়ে বেড়াচ্ছে যখন দেশের লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি অসহায় মানুষ ঠিক সেই সময় নতুন বছরের আগমনে গোটা দেশ, দেশের জনজীবন রাজ্যে-রাজ্যে গোটা দেশ জুড়ে হাটে-মাঠে-বাটে, ক্লাবে-প্রতিষ্ঠানে, রেষ্টুরেন্টে-হোটেলে-মোটেলে, পাড়ায়-পাড়ায়, ফ্ল্যাটে-ফ্ল্যাটে, বাড়িতে-বাড়িতে এখানে সেখানে যত্রতত্র রংবেরং-এর বেলুন, আলোর রোশনাই, আতসবাজির ঝিলিক, শব্দবাজির ধামাকার মাঝে কেক, প্যাষ্টির বাহার, রঙ্গিন পানীয়ের ছররা, পোলাও বিরিয়ানি বা পরোটা সাথে কালারফুল মুর্গমুসল্লমের এলাহি পরিবেশনার মাঝে কোথায় যে হারিয়ে গেল নোটবন্দীর মৃত্যু যন্ত্রণা, কোথায় যে ভ্যানিস 'য়ে গেল টাকার অভাব-অভিযোগ----- টিভির পর্দায়, আমার শহর, পাড়া, বাড়ির আশেপাশে এসব দেখতে দেখতে হতভম্ব আমি তাই ভুলে গেলাম, কনফিউজড 'য়ে গেলাম সবাইকে শুভ নববর্ষ বা হ্যাপি নিউ ইয়ার জানাতে!!!!!!!!!! টাকার তীব্র অভাবের মাঝে শুভ নববর্ষের নামে এতসব চরম সীমাহীন বিলাসিতা কি 'রে সম্ভব!!!!!!!!!!!!!! নব বর্ষের হাত 'রে কি রূপকথার আলাদিন নেবে এলো দেশের গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-নগরের বুকে মুক্তির দিশারী 'য়ে?????? বাস্তবতা বোঝার ক্ষমতা হারিয়ে তাই বিহ্বল আমি আজ দুঃখিত বন্ধু! আমি দুঃখিত শুভ নববর্ষ জানাতে!!!!!!!!