Powered By Blogger

Sunday, November 16, 2025

বিচিত্রা ২০২

শয়তানের হাসি ভগবানের চেয়েও মিষ্টি!
দুঃখ কষ্ট জেনো অনিবার্য, জেনো নিশ্চিত;
যদি না থাকে ধরার ক্ষমতা, স্বচ্ছ দৃষ্টি।

সত্য ধরার ক্ষমতা ও দেখার স্বচ্ছ দৃষ্টি
লাভ করা নয় সহজ কথা, নয় বটতলার
সংস্কৃতি আর কৃষ্টি!!
( লেখা ১৬ই নভেম্বর'২০১৭)

Digestive power is at the bottom today for any altered state rather Everyone is an instant responder. But Today everyone is silent on the question of destroying the basic foundation of humanity.
( লেখা ১৬ই নভেম্বর'২০২৩)
































অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধিঃ দুরন্ত এক্সপ্রেস ও আমার দয়াল ঠাকুর।

১১/১১/২২ শুক্রবার থেকে ১৩/১১/২২ রবিবার যাওয়া আসা নিয়ে তিনদিনের জন্য দেওঘর গিয়েছিলাম আচার্যদেবের কাছে বিশেষ নিবেদনের উদ্দেশ্যে। আমাদের পরিবারের সঙ্গে গিয়েছিল কলকাতা থেকে গুরুবোন সোনাই ঢালি। কিন্তু খবর নিয়ে জানলাম আচার্যদেব ব্যাঙ্গালোরের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছেন সেখান থেকে যাবেন উড়িষ্যা। সম্ভবত ফিরবেন ২০তারিখ রবিবার। ইতিমধ্যে আমাদের টিকিট কাটা হ'য়ে গেছে! তাই ঠাকুরবাড়ি যাবার জন্য যখন মন স্থির করেছি তখন যাওয়াটাকেই প্রাধান্য দিলাম। তাই আর টিকিট ক্যান্সেল করলাম না। শনিবার ১২/১১/২২ সকালবেলা পূজনীয় বিঙ্কিদার দর্শন, প্রণাম ও দীর্ঘ সময় আলোচনা এবং রাতে পূজনীয় অবিনদাদার দর্শন, প্রণাম ও আলোচনায় মনপ্রাণ ভরে গেল। এবার রবিবারে ফেরার পালা। ভোর ৫টা ৫মিঃ-এ ট্রেন। উঠেছিলাম চৌধুরী ভিলায়। এবার আসি ফেরার অভিজ্ঞতায়।

শ্রীশ্রীঠাকুরের কয়েকটি প্রিয় কোটেশানের মধ্যে একটি ছিল শেক্সপিয়ারের 'হ্যামলেট' নাটকের একটি সংলাপ। সেটি হ'লো,
"There are more things in heaven and earth, Horatio, than are dreamt of in your philosophy." এর ভাবার্থ হ'লো, "স্বর্গ ও পৃথিবীর মাঝখানে আরও বহু জিনিস আছে, হোরেশিও, যা তোমার দর্শনের পাল্লার বাইরে ও অতীত।"

ফেরার সময় সত্যি অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা হ'লো!!!!!! যা আমার দর্শনের পাল্লার বাইরে ও অতীত! সত্যি সত্যি দয়াল সব অ্যারেঞ্জ ক'রে রেখেছেন!!!!

বাড়ি ফেরার সময় দূরন্ত লেট করার পিছনে কি কারণ ছিল আমার জানা নেই কিন্তু আমার বিশ্বাস এটা দয়ালের দয়ায় সম্ভব হয়েছে। আর আমি জানি, গভীর বিশ্বাস আর আকুল প্রার্থনায় অনেক অসম্ভব সম্ভব হয়।

আমার মনে আছে দূরন্তর জসিডি থেকে সম্ভবত ৫টা ৫মিঃ ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রেন লেট ছিল প্রায় ৩ঘন্টা। সেটা কভার ক'রে শেষ টাইম নেটে যা দেখিয়েছিল তা ছিল ৭টা ৫মিঃ-এ জসিডিতে আসবে। কিন্তু হঠাৎ নেট জানায় ট্রেন ৬টা ৩০মিঃ ঢুকবে মানে আরও ৩০মিঃ কভার ক'রে ফেলেছে দূরন্ত। সারা রাত কেউ ঘুমাতে পারিনি বারবার ট্রেনের টাইম দেখবার জন্য।

যাই হ'ক সময় হিসেব ক'রে সবাই চৌধুরী ভিলা থেকে বেরোয়। আমার একটু দেরী হয়েছিল বেরোতে। আমার জন্য লেট হওয়াতে মনে একটা অপরাধ বোধ জন্মেছিল। পথে শেষ আশ্রয় নাম করতে করতে যাচ্ছিলাম। অটো ছুটে চলেছে সঙ্গে ছুটে চলেছে ট্রেন মিস করার একটা আশঙ্কা। প্রাণপণে নাম করছিলাম সবাই। মাঝে মাঝে অটো ধীরগতিতে ছুটছে তখন টেনশন বেড়ে দশগুণ। অটো চালককে বলছিলাম জোড়ে চালাবার কথা কিন্তু ব্যাটারি সমস্যার কারণে মাঝে মাঝে স্লো হ'য়ে যাচ্ছে। ফলে ঐ সকালে সকলেই ঠান্ডায় উত্তেজনায় ভয়ে টেনশানে প্রায় ঘেমে যাচ্ছি।

যখন আমরা প্ল্যাটফর্মে পৌঁছলাম তখন দুরন্তর সময় অনুযায়ী ট্রেন না পাওয়ার কথা। প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা। সময় প্রায় ৬টা ৫০মিঃ। অটো থেকে নেবে তাড়াহুড়োয় ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে আসতে যেয়ে মেয়ে আর বৌমার শরীর খারাপ হ'লো। প্রত্যেকেই যার যার ব্যাগ নিয়ে হন্তদন্ত হ'য়ে ঠাকুরের নাম করতে করতে দৌড়ে প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে শুনলাম ট্রেন এখনও স্টেশনে আসেনি। দেখলাম প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে রয়েছে অন্য একটি ট্রেন। হঠাৎ অনুভব করলাম বি-রা-ট একটা বোঝা ঝপ ক'রে মাথা থেকে কাঁধ বেয়ে নীচে নেবে গেল। শরীরটা হালকা বোধ হ'লো। মেয়ে বৌমার শরীর ভালো বোধ হ'তে লাগলো। বৌ, ছেলে, জামাই সবাই টেনশন মুক্ত হ'লো। নিজের অজান্তে উর্ধ্বে মাথা তুলে শুধু বিস্ময়ে হতবাক আমি ছলছল চোখে শুধু বললাম, 'হে দয়াল!!!!!

প্ল্যাটফর্মের গেট দিয়ে ঢুকতেই সামনেই যে বসার জায়গা ছিল সেখানে সোনাই বসেছিল মায়েদের রক্সালে তুলে দিয়ে আমাদের অপেক্ষায়। সোনাইয়ের মা আর মায়েদের একটা দল এসেছিল ঠাকুরবাড়ি। তাঁরা ফিরে যাচ্ছে রক্সালে। অদ্ভুত তাদের কারোও ফেরার টিকিট কাটা ছিল না। সোনাই ভেবেছিল, জসিডি-কলকাতা ট্রেনে তাঁরা ফিরে যাবে। সোনাইয়ের কথামতো তাঁরা এসেছিল। কিন্তু আগেরদিন রাতে যখন শুনলো সকালে জসিডি-কলকাতা ট্রেন যাবে না তখন নিজেদের মধ্যে একটু গন্ডগোল হয়েছিল। সমস্ত দোষ এসে পড়েছিল সোনাইয়ের উপর। আগের দিন রাতে জামতলা ঘরে ঠাকুরের সামনে বসে অনেকক্ষণ কেঁদেছিল সোনাই। কারণ তার কনফার্ম টিকিট আছে দুরন্ততে, সে যাবে আরামে কিন্তু অতগুলো বয়স্ক মানুষ তাদের কারোও টিকিট নেই, কি ক'রে ফিরে যাবে, সে জানতো না যে জসিডি-কলকাতা রবিবার যাবে না এই চিন্তায় চিন্তায় সে কেঁদে ভাসিয়েছিল ঠাকুরের সামনে। কিন্তু কি আশ্চর্য আজ যখন সকালে মায়েদের তুলে দিতে স্টেশনে এসেছিল তখন দেখলো কুম্ভ রক্সালের জেনারেল একদম ফাঁকা!!!! জেনারেলে মায়েদের তুলে দিয়ে নিশ্চিন্তে আমাদের অপেক্ষায় বসেছিল স্টেশনের গেট দিয়ে ঢুকতেই সামনের বসার জায়গায়।

সোনাই ঢালি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটাকে দেখিয়ে বলেছিলে, 'এই ট্রেনটা ছাড়তে লেট করছে তাই দূরন্ত প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে পারছে না।' আমি বিস্ময়ে আবার বললাম, দয়াল! তুমি এত দয়াময়!? তখন সোনাই বলেছিলে, 'দয়ালের উপর অনেক চাপ দিচ্ছি আমরা।'

আর তখনি আমরা স্টেশনে পৌছনোর সঙ্গে সঙ্গেই স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটি ছেড়ে দিল। ট্রেন স্টেশন ছেড়ে চলে যাবার পরেই মাইকে দূরন্তর প্ল্যাটফর্মে ঢোকার ঘোষণা দিল। 'ট্রেনটা কেন ছাড়তে দেরী করলো'-কথাটা ভাবতে ভাবতে আমরা আমাদের কামরার নির্দিষ্ট জায়গার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে চললাম। যখন নির্দিষ্ট জায়গায় এসে দাঁড়ালাম দেখলাম ট্রেন প্ল্যাটফর্মে ঢুকছে। ট্রেন আসার পর আমরা ট্রেনে উঠে আমাদের নির্দিষ্ট সিটে বসলাম। তারপর ট্রেন ছেড়ে দিল; জসিডিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে থাকলো। দু'হাত তুলে দয়ালকে প্রণাম জানালাম। কিন্তু সারাক্ষণ ঘটে যাওয়া বিষয়টাকে ঘিরে একটা বিস্ময় আমাকে আচ্ছন্ন ক'রে রাখলো আর মনটা খচখচ করতে লাগলো সোনাই-এর বলা 'ঠাকুরের ওপর অনেক চাপ দিচ্ছি আমরা' কথাটায়। সারা রাস্তা ভুলতে চেষ্টা করলাম অনেক কিন্তু পারছিলাম না।

মনে পড়লো আবার দয়াল ঠাকুরের প্রিয় উপরের কোটেশানটাঃ
"There are more things in heaven and earth, Horatio, than are dreamt of in your philosophy." এর ভাবার্থ হ'লো, "স্বর্গ ও পৃথিবীর মাঝখানে আরও বহু জিনিস আছে, হোরেশিও, যা তোমার দর্শনের পাল্লার বাইরে ও অতীত।"

আর মনে পড়লো দয়ালের বলা কথা, "প্রতিমুহূর্তে কত ছোটো ছোটো দয়া তোমাদের যে রক্ষা করছে তা তোমরা জানো না।"

একটা অপরাধবোধ চোখকে ভিজিয়ে দিতে লাগলো বারেবারে। রুমাল দিয়ে চোখটাকে আড়াল করলাম আমি।-

Friday, November 14, 2025

বিচিত্রা ২০১

অনুভবশক্তি হীন ভালোবাসা জেনো ফাঁকি!
শুক্রাণু ডিম্বানু ছাড়া ভ্রূণ হয় নাকি!?
( লেখা ১৫ই নভেম্বর'২০১৭)

জে. এন. ইউ-মে ক্যা হো রহা হ্যায়?
ছাত্র আন্দোলন ইয়া ভাঁড় মে যায় দেশ, 
ভাঁড় মে যায় সভ্যতা আন্দোলন!?

জে. এন. ইউ ক্যা হ্যায়?
শিক্ষসা প্রতিষ্ঠান ইয়া নারা প্রতিষ্ঠান?
জে. এন. ইউ = জহর (বিষ) নারা (আন্দোলন) ইউনিভার্সিটি!
( লেখা ১৫ই নভেম্বর'২০১৯)

যদি বাঁচতে চাও গ্রহণ করো তাঁরে আর চালাও নাম অবিরাম মনের গভীরে আর যদি মনে হয় এসব বকোয়াস তবে বালখিল্য রসে হ'য়ে টইটম্বুর করো আয়াস বিন্দাস। কিন্তু মনে রেখো ভয়ানক শেষ নিঃস্বাস!
( লেখা ১৫ই নভেম্বর'২০২১)



Thursday, November 13, 2025

বিচিত্রা ২০০

জিজ্ঞাস্যঃ ১
সৎসঙ্গীদের দীক্ষা কে দেন?
শ্রীশ্রীঠা
কুর স্বয়ং নাকি ঋত্বিক?

জিজ্ঞাস্যঃ ২
সৎসঙ্গের দীক্ষা গ্রহণের সময় যে সংকল্প করেছিলাম,
কার কাছে করেছিলাম? শ্রীশ্রীঠাকুর নাকি ঋত্ত্বিক?

জিজ্ঞাস্যঃ ৩
সৎসঙ্গের দীক্ষা গ্রহণের সময় বলেছিলাম, 
"আপনি আমার প্রতি প্রীত হউন।" 
এই আপনিটা কে?
শ্রীশ্রীঠাকুর নাকি ঋত্বিক?


জিজ্ঞাস্যঃ ৪
সৎসঙ্গের দীক্ষা গ্রহণের সময় ঋত্বিক প্রণামী দিয়েছিলাম।
সেই ঋত্বিক প্রণামী কার? শ্রীশ্রীঠাকুর নাকি ঋত্বিকের?

জিজ্ঞাস্যঃ ৫
শ্রীশ্রীঠাকুরের দীক্ষা নেওয়ার সময় কেন প্রথম ঋত্বিক প্রণামী দিয়েছিলাম?

জিজ্ঞাস্যঃ ৬
শ্রীশ্রীঠাকুরের দীক্ষা নেওয়ার সময় শ্রীশ্রীঠাকুর প্রণামী দেওয়ার আগে ঋত্বিক প্রণামী দিয়েছিলাম কেন?

জিজ্ঞাস্যঃ ৭
শ্রীশ্রীঠাকুরের দীক্ষা নেওয়ার সময় শ্রীশ্রীঠাকুর প্রণামীর পর কেন শ্রীশ্রীআচার্য প্রণামী দিই?

জিজ্ঞাস্যঃ ৮
"সিদ্ধ নয় মন্ত্র দেয়, মরে মারে করেই ক্ষয়"
এটা কার বাণী? এই বাণী কি ঋত্ত্বিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?

জিজ্ঞাস্যঃ ৯
"নিজে সিদ্ধ না হ'য়ে যে লোকে মন্ত্র কয়, নিজের করে সর্বনাশ যজমানেরও ক্ষয়"--এই বাণী ঋত্ত্বিকদের জন্য প্রযোজ্য?

জিজ্ঞাস্যঃ ১০
ঋত্বিক আর প্রতীক গুরু শ্রীশ্রীআচার্যদেব সমগোত্রীয়?

জিজ্ঞাস্যঃ ১১
ঋত্বিক স্বয়ং শ্রীশ্রীঠাকুর, দীক্ষা দেন তিনি। দীক্ষাদাতা ঋত্বিক তাঁর মাধ্যম, দীক্ষার সময় ঋত্বিক প্রণামী কার?

জিজ্ঞাস্যঃ ১২
শ্রীশ্রীঠাকুর রেত শরীরে সুপ্ত থেকে জ্যান্ত থাকেন শ্রীশ্রীআচার্যদেবের মধ্যে। তিনি আর ঋত্ত্বিক সমতুল্য?

জিজ্ঞাস্যঃ ১৩
শ্রীশ্রীঠাকুর রেত শরীরে সুপ্ত থেকে জ্যান্ত শরীরে প্রতীক গুরু রূপে শ্রীশ্রীআচার্যদেবের মধ্যে। শ্রীশ্রীআচার্যদেবের আশীর্বাদ আর ঋত্ত্বিকের আশীর্বাদ সমান?

জিজ্ঞাস্যঃ ১৪
শ্রীশ্রীআচার্যদেবের কাছে যে নির্দেশ ও নিদেশ এবং সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় তাই ঋত্ত্বিকের কাছে পাওয়া যায়?

জিজ্ঞাস্যঃ ১৫
"এক আদেশে চলে যারা তাদের নিয়ে সমাজ গড়া"---এই আদেশ সৎসঙ্গীদের কে দেবে? শ্রীশ্রীআচার্যদেব নাকি ঋত্বি

জিজ্ঞাস্যঃ ১৬
শ্রীশ্রীঠাকুর পুরুষোত্তম, শ্রীশ্রীঠাকুর পরমপিতা, শ্রীশ্রীঠাকুর জীবন্ত ঈশ্বর, আবার শ্রীশ্রীঠাকুর ঋত্বিক। বাকীরা যারা দীক্ষা দেন, তাঁরা শ্রীশ্রীঠাকুরের বার্তাবাহক, Messenger of the Lord, SriSriThakur, কেউ রফৃত্ত্বিক নয়, সবাই প্রতিঋত্ত্বিক, সহ প্রতিঋত্ত্বিক; তাহ'লে দীক্ষার সময় প্রদেয় ঋত্বিক প্রণামী কার প্রাপ্য?

জিজ্ঞাস্যঃ ১৭
ঋত্ত্বিককে আমরা ঋত্বিক নামে সম্বোধন করি, কারণ ঠাকুর তাদের ঋত্বিক নামে সম্বোধন করতেন, যদিও তাঁরা প্রতিঋত্ত্বিক বা সহপ্রতিঋত্ত্বিক। প্রকৃতপক্ষে তাঁরা শ্রীশ্রীঠাকুরের বার্তা বাহক মাত্র, Messenger of the Lord, SriSriThakur, তাহ'লে দীক্ষার সময় ঠাকুরের কথামত শ্রীশ্রীঠাকুর যখন স্বয়ং দীক্কা দেন তাহ'লে ঠাকুরই আমার ঋত্বিক, তাই না? সেই অর্থে দীক্ষার সময় ঋত্বিক প্রণামীও ঠাকুরের, তাই তো? ঠাকুরের কথা যদি মেনে চলি তাহ'লে যুক্তি বলে? এর উত্তর নিশ্চয়ই আচার্যকেন্দ্রিক ইষ্টপ্রাণ ঋত্ত্বিকেরা জানেন? দীক্ষার শেষে ঋত্ত্বিক নামে সম্বোধিত ঠাকুরের বার্তাবাহককে শ্রদ্ধার্ঘ্য স্বরূপ অর্থ দেওয়া হয়, ঠিক কি? আমার জানা অনুযায়ী বললাম।    



Wednesday, November 12, 2025

বিচিত্রা ১৯৯

চোখ দ্যাখে দোষ, মন খোঁজে দোষ, 
মুখ বলে খালি দোষের কথা!বিবেক বলে, 
জীবন মাঝে আমি কোমাছন্ন; আমি মৃত সেথা!!

এমন চোখ, এমন মন, মুখ যেমন তেমন!
দ্যাখে বুড়া, সোচ বুড়া, বাত বদতমিজ এমন
দুর্গন্ধে আকাশ-বাতাস গরম!!

আত্মপ্রতিষ্ঠার অন্ধ মোহে আজ ক্ষতবিক্ষত সবাই; 
সময় থাকতে নিজেকে শুধরে নিই 
দয়ালের চলন চুমি এসো বন্ধু, এসো ভাই।

দয়াল আছে যার জীবনে জীবন আছে
সেই জীবনেরই হৃদয়ে প্রেম আসে
মনের আড়ালে বুকের গভীরে ওই
বিবেক চিরদিনই নীরবে ডেকে যাবে!
( লেখা ১৩ই নভেম্বর'২০১৯)।

একদিন অভাব ছিল টাকার;
টাকার অভাব মিটে গেল কিন্তু
স্বভাব জীবন করলো সাবাড়।

একদিন অভাব ছিল টাকার;
টাকার অভাব মিটে গেল কিন্তু
স্বভাব জীবন করলো সাবাড়।
( লেখা ১৩ই নভেম্বর'২০১৭)।





























মিডিয়ার সকাল ও সাদা দিন! রিফর্মেশনের যুগ!!

মিডিয়া কি নতুনভাবে জেগে উঠলো নতুন সকাল নিয়ে ভারতের মাটিতে জার্নালিস্ট অর্ণব গোস্বামীর দেখানো পথে?

জার্নালিস্ট অর্ণব গোস্বামীর গ্রেপ্তারের দিন ৪/১১/২০ বুধবার নাকি সুপ্রিমকোর্ট দ্বারা মুক্তির দিন ১১/১১/২০ বুধবার মিডিয়ার সাদা দিন হিসেবে চিহ্নিত হবে?
ভারতের মিডিয়ার আকাশে বুধবার মহত্বপূর্ণ বার?
শুভ-অশুভ একই সঙ্গে চিহ্নিত হ'য়ে রইলো 'বুধবার' ভারতের সাংবাদিকতার জগতে?
ভারতের মিডিয়া কি রিপাবলিক ভারতের চিফ এডিটর জার্নালিস্ট অর্ণব গোস্বামীর হাত ধ'রে সাবালক হওয়ার পথে পা বাড়ালো?
ভারতের মিডিয়া কি অর্ণব গোস্বামীর নেতৃত্বে সাংবাদিকতায় সীমাবদ্ধতার গন্ডি ভেঙে সাংবাদিকতার অসীম মহাকাশে পাড়ি দিল?
ভারতের মিডিয়া কি মিডিয়া স্বাধীনতার নতুন যুগের সূচনা করল অর্ণব গোস্বামীর স্পর্শে?
ভারতের মিডিয়ার নব জাগরণের শঙ্খ বাজালো অর্ণব গোস্বামী?
যে পথ দেখায় তাকে কণ্টকাকীর্ণ পথের উপর দিয়ে হেঁটে ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত জখম হ'য়েই পথ দেখাতে হয়। অর্ণব গোস্বামী তাই-ই দেখালো ভারতের মিডিয়ায়। নতুন সূর্য উঠলো ভারতের সাংবাদিকতার আকাশে!
মিডিয়ার কি নবজাগরণ হ'লো!? হ'লো সত্যের পথে চলা!? তবে কি হলুদ সাংবাদিকতা, চাটুকারিতা, পদলেহন, ক্ষমতার অলিন্দে ঘুরে বেড়ানো আয়েশি যুগের অবসান হ'লো ভারতের সাংবাদিকতার জগতে!?
কি জানি! তবে শুরু হ'লো সবে পথ চলা। দিল্লি এখনো বহু দূর! তবে ভারতের সাংবাদিকতার আকাশে ধ্রুবতারার মত চিহ্নিত ও উজ্জ্বল নক্ষত্র হ'য়ে রইলো বিতর্কিত, বহু চর্চিত ও একশ্রেণীর জার্ণালিস্টের কাছে নিন্দিত অর্ণব গোস্বামী!
( লেখা ১৩ই নভেম্বর'২০২০)।



প্রবন্ধঃ শ্রীশ্রীঠাকুরের বিবাহ নীতি বা বিবাহ বিজ্ঞান সম্পর্কে দু' এক কথা।

বিবাহ বিজ্ঞান সম্পর্কে খুঁটিনাটি ডিটেইলসে না জেনে শ্রীশ্রীঠাকুরেরবিবাহ বিজ্ঞান নিয়ে পোষ্ট করা ও আলোচনা করা বিপদজনক।
শ্রীশ্রীঠাকুর বিবাহ সম্পর্কে যে বাণী দিয়েছেন সেই বাণী যেটা আমি পোষ্ট করছি সেই বাণী সম্পর্কে ঠিক কি বলতে চেয়েছেন সেটা কি আমি বুঝেছি?

সবর্ণ বিবাহ ও অনুলোম বিবাহ এবং প্রতিলোম বিবাহ সংক্রান্ত নিয়মকানুন খুবই জটিল একটা বিষয়। আর, অনুলোম বিবাহ কে করবে, কখন করবে, শ্রীশ্রীঠাকুরের অনুলোম বিবাহ নীতি পালন করার উপযুক্ত সময় এসেছে কিনা সেটা যে বিবাহ করবে বা যে পোষ্ট করবে সেটাও নিজের কাছে ক্লিয়ার হওয়া দরকার। যদিও আমরা অনেকেই অনুলোম বিবাহ করেছি ও করছি শ্রীশ্রীঠাকুরের এই অনুলোম বিবাহে সম্মতি আছে দেখে। কিন্তু এই বিবাহ করা সম্পর্কেও শ্রীশ্রীঠাকুরের কিছু বিধিনিষেধ আছে। তা' না জেনেই আমরা বিবাহ করছি এবং অনেক জায়গায় গোত্র সংক্রান্ত কিছু ব্যতিক্রমী নিয়ম আছে সেটা না জেনেই সগোত্রে বিবাহ নিষেধ জেনে বিবাহ রিজেক্ট করেছি ও করছি। সবর্ণ বিবাহ, অসবর্ণ বিবাহ, সবর্ণ অনুলোম ও প্রতিলোম বিবাহ, অনুলোম বিবাহ, প্রতিলোম বিবাহ, সবর্ণ ও সগোত্রে বিবাহ, সবর্ণ ও ভিন্ন গোত্রে বিবাহ, অসবর্ণ ও সগোত্রে বিবাহ ইত্যাদি বিবাহ সংক্রান্ত জটিল বিজ্ঞানের ওপর আলোকপাত ক'রে গেছেন বিশ্বের বিস্ময়ের বিস্ময় সর্ব্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র।

তাই একজন পুরুষ ক্ষমতার জোরে, অর্থের শক্তিতে, ভয় দেখিয়ে, দরিদ্রতার সুযোগে এবং ধর্মের ও প্রফেটদের বলে যাওয়া বিবাহ সংক্রান্ত বাণীর ইচ্ছাকৃত ভুল বিকৃত ব্যাখ্যা ক'রে একের অধিক বিবাহ করা ও পুরুষ কেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থায় বহু বিবাহের স্বপক্ষে আইন পাস করিয়ে বহু বিবাহের আইনত অধিকার আদায় ক'রে বহু বিবাহ তো দূরের কথা তৎসহ অনুলোম বিবাহ কিংবা সবর্ণ বিবাহ পরের কথা আগে পুরুষ একটা বিবাহের জন্য বিবাহ যোগ্য, বিবাহ উপযুক্ত কিনা, যে নারীকে বিবাহ করবে তার যোগ্য কিনা, উপযুক্ত কিনা সেটা আগে দেখুন। তারপর পুরুষের বিবাহ। তা' সে বিশ্বের যে দেশের যে ধর্মের, যে সম্প্রদায়ের, যে জাতের পুরুষ হ'ক না কেন। সৃষ্টিকর্তার বিধান তাঁর সৃষ্ট সমস্ত পুরুষ জাতের জন্য সমান।

এইখানে এইভাবে যদি দেখতে যাই তখন পুরুষের বহু বিবাহ তো দূরের কথা একটা বিবাহও পুরুষের সম্ভব না। নারীর বিবাহ হবে সবসময় বিবাহে উপযুক্ত পুরুষের সঙ্গে। কিন্তু বিবাহে অনুপযুক্ত পুরুষের একটা বিবাহও বিবাহ বিজ্ঞানের দিক থেকে নিষিদ্ধ। তা'তে নারীদের বিবাহ না হ'লেও কাম্য, অবিবাহিত থাকলেও তা' নারীদের কাছে মহা সম্মানের। তথাপি একজন নিকৃষ্ট পুরুষকে বিবাহ করা নারীদের ক্ষেত্রে অপমান ও সমাজ বিধ্বংসী পদক্ষেপ, যা নারীদের ক্ষেত্রে আত্মহত্যার সমতুল্য। নারী নিজে তার থেকে উৎকৃষ্ট পুরুষ ছাড়া কিছুতেই নিকৃষ্ট পুরুষকে বিবাহ করবে না, নিকৃষ্ট পুরুষের নিকৃষ্ট বীজ সে গর্ভে ধারণ ক'রে গর্ভাধানের মত পবিত্র অনুষ্ঠানকে অপমান করবে না। তাহ'লে দেখুন ঈশ্বরের বিধানে জন্ম বিজ্ঞানে বিবাহ বিজ্ঞান কতটা মুখ্য ও সূক্ষ্ম।

আমরা শ্রীশ্রীঠাকুরের বিবাহ নীতি অনুযায়ী বিবাহ করার উপযুক্ত না হয়েও বিবাহ করেছি। অতএব শ্রীশ্রীঠাকুরের বিবাহ সংক্রান্ত বিষয় পোষ্ট করার আগে নিজেদের সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। পোষ্ট করার পর সেই বাণীর ওপর ভিত্তি ক'রে যে কমেন্ট আসবে তার যথাযথ উত্তর দিতে হবে নতুবা ঠাকুরের বাণীর ভুল ব্যাখ্যা হবে। আর, ভুল মতামত শেয়ার হ'লে মানুষের কাছে বিবাহ সম্পর্কে ভুল মেসেজ যাবে। তা'তে উল্টো এফেক্ট হবে। এ বিষয়ে অনেকবার আমি আমার ভাবনা শেয়ার করেছি, এবারও করলাম। জয়গুরু।
( ১৩ই নভেম্বর'২০২৪)