Powered By Blogger

Saturday, September 10, 2022

প্রবন্ধঃ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর: প্রশ্ন: ১) জয়গুরু ও পরাজয়গুরু!

অনেকে  আমাকে জয়গুরু জানান উত্তরে তাকে বা তাদের পরাজয়গুরু যদি বলি তাহ'লে তারা আমাকে নানা প্রশ্ন করেন। কেন, কি জন্য এরকম বললাম? এরকম বলা উচিত কি? আবার অনেকে কটু কথাও বলে। 

যাই হ'ক, 'জয়গুরু' উত্তরে 'পরাজয়গুরু' বলা কি আমার  ভুল হবে, অন্যায় হবে? আসুন একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখি।

গুরুভাইরা পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে দেখা হ'লে জয়গুরু বলে। কেন বলে? আশা করি নিশ্চয়ই এই সহজ কথাটা সকলেই জানে। না জানলে পরে ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। কিন্তু যেহেতু আমি পরাজয়গুরু কথাটা লিখেছি তার স্বপক্ষে আমার মতামত জানাচ্ছি। তারপরে অন্য আরো প্রশ্নের উত্তরে যাবো।

গুরুকে সামনে রেখে যারা মুখে শুধু জয়গুরু বলে, কাজে কিছু করে না, শারীরিক, মানসিক, আর্থিক কোনোভাবেই গুরুর কাজে যোগান দেয় না, নিজেকে যুক্ত রাখে না কোনোভাবেই কিম্বা যোগান দিলেও একটা হামবড়াই ভাব নিয়ে যোগান দেয়, পরস্পর পরস্পরকে সইতে- বইতে পারে না, ঝগড়া-কোন্দলে পরিবেশ-পরিস্থিতি বিষিয়ে তোলে, পরম প্রেমময়ের পতাকার তলায় চরম হিংসার বাতাবরণ তৈরি করে, প্রতিমুহূর্তে নিজে কিছু না ক'রে সাজানো বাগানে ফুল তোলার অভ্যাসে ঠাকুরের লেকচার ঝাড়ে, যারা ঠাকুরের কাজে গ্রাউন্ড লেবেলে প্রাণপাত করে তাদের কাজের খুঁত ধরে এবং আর এক শ্রেণী যারা নিজেদের গুরুভাই, সৎসঙ্গী ব'লে দাবী করে অথচ গুরুর পরম ভক্ত, পরমপ্রিয় আত্মজ, আদরের বড়খোকা, বিশ্বজুড়ে সৎসঙ্গীদের চোখের মণি বড়ভাই ও এ যুগের হনুমান, এ যুগের নিত্যানন্দ, এ যুগের বিবেকানন্দ পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা এবং সৎসঙ্গের বর্তমান আচার্য পরম পূজ্যপাদ শ্রীশ্রীদাদা, কোটি কোটি সৎসঙ্গীর আশা- ভরসা- প্রেরণার মূর্তরূপ পূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবাবাইদাদা ও সৎসঙ্গ জগতের সৎসঙ্গী পরিবারের ইয়ং জেনারেশনের আইডল শ্রীশ্রীঅবিনদাদা এবং ঠাকুর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে, তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ও মিডিয়ায় কুৎসা, নিন্দা, সমালোচনা, গালাগালি, বদনাম, অপবাদ, অপমান ইত্যাদি করা হয়, উগরে দেওয়া হয় তীব্র ঘৃণা, কানের মধ্যে গরম সীসা ঢেলে দেওয়ার মত ঢেলে দেয় সমাজ দেহের অভ্যন্তরে অশ্লীল শব্দের উগ্র সূরা, বমন করে হলুদ শব্দের পিত্তবমি আর তাতে উৎসাহিত হ'য়ে ঠাকুর বিরোধী জনসমাজ নেবে পড়ে ময়দানে হৈ হৈ ক'রে ঠাকুর আর ঠাকুর পরিবারের পিন্ডি চটকাবে ব'লে শয়তান কিলবিসের রূপে আর তখন যদি এইসমস্ত গুরুভাই নামধারী তথাকথিত ঠাকুর ভক্তরা 'জয়গুরু' বলে পরস্পর গুরুভাইয়ের মধ্যে তাহ'লে কি জয়গুরু বলা তাদের বা আমাদের শোভা পায়!? 'জয়গুরু' শব্দ বা কথার অন্তর্নিহিত অর্থ, গভীরতা, গুরুত্ব সেখানে বজায় থাকে কি? গুরুর কি সেখানে জয় হয় না পরাজয় হয়? তাহ'লে 'জয়গুরু'-র উত্তরে গুরুর যে জয় হচ্ছে না, গুরুর যে পরাজয় হচ্ছে সেটা প্রতিপক্ষকে অল্পকথায় ছোট্ট ক'রে বিশদে না গিয়ে, তর্ক-ঝগড়া না ক'রে জানান দেওয়ার জন্য হাসিমুখে 'পরাজয়গুরু' বলা যেতেই পারে আর যারা 'জয়গুরু' ব'লে গুরুর মুখ পোড়ায় তাদের থেকে এই পরাজয়গুরু বলাটা খুব একটা বেশী অন্যায় বা ভুল হবে না! তাই না? কি বলেন আপনারা!? কারণ এখন তো সেলিব্রিটিরা টিভিতে, সিনেমায়, স্টেজে হ্যা হ্যা ক'রে দাঁত কেলিয়ে হাসতে হাসতে 'জয়গুরু' ব'লে টান দিয়ে সুর ক'রে একটা বিকৃত স্বরে ডাক দেয় আর তার প্রত্যুত্তরে আরও জোরে ঠাপ দিয়ে 'এনজয়গুরু' ব'লে উল্লাস করে। এখন 'জয়গুরু' খিল্লিতে পরিণত হয়েছে!!!!! যাক, এর জন্যে আমরাই দায়ী। 


ক্রমশ: পরবর্তী প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় থাকুন।

(লেখা ১০ই সেপ্টেম্বর'২০১৯)।


Wednesday, August 31, 2022

কবিতাঃ স্বর্গ বরণ!

জীবন খুঁজে পেয়েছো নাকি বন্ধু!?
চলছো ঠাটেবাটে হাঁকডাক দিয়ে এঁকেবেঁকে!
কোথায় চলেছো বন্ধু!? দেশকে করতে উদ্ধার?
নিজেকে নিয়ে এত ব্যস্ত!?
সময় পাও না পিছন ফিরে তাকাবার?
কিসের পানে চলেছো ছুটে, কিসের টানে হ'য়ে মুটে?
মুটের জীবন কি খুবই সুখের? মোট ব'য়ে বেড়াও ঘুরে?
জীবনকে দিচ্ছ বেজায় ফাঁকি, রাখছো না কিছু আর বাকি!
রিপুর হাড়মজ্জা খাচ্ছো চুষে জীবন থালায় ঠুকে ঠুকে
জোয়ান বুড়ো তামাম ছুঁড়ো আর জীবন যাচ্ছে বেঁকে ঝুঁকে!
একেই কি বলে জীবন!? সকাল সন্ধ্যে দুপুর বিকেল
হাতে নিয়ে বৃত্তি-প্রবৃত্তির রাইফেল লম্প দিয়ে ঝম্প মেরে
ছোটাও গুলি, মুখে মারিতং জগৎ বুলি! 
দেশ ও মানুষের কি হ'লো উদ্ধার!?
আয়নায় নিজেকে দেখো আর শোনো 
বিবেকের বাণী সারাৎসার!
বিশৃঙ্খল জীবনের অধিকারী তুমি! বৃত্তি দ্বারা চালিত!
রিপুর টানে দিশেহারা তুমি 
দেশকে দেখাও দিশা, হ'য়ে রিপু তাড়িত!?
জীবন জুড়ে তোমার ভুলভুলাইয়ার ভুলের জালে 
ঝুল, ঝুল ভুলের কালো ঝুল!
জীবন তোমার ক্ষতবিক্ষত তবুও 
ঝুল ঝেড়ে শুধরে নিচ্ছো না ভুল।
তাই বন্ধু তোমায় বলছি শোনো! 
জীবন নিয়ে ক'রো না হেলাফেলা।
দু'দিনের জন্য জীবন তোমার 
জীবন নিয়ে ক'রো না বন্ধু খেলা।
চলার পথে হাত ধ'রে কেউ 
বলবে না তোমায় কোথায় তোমার ভুল
ভুলের রাজা স্বয়ং তোমায় শেখাবে বাঁচা-বাড়ার রুল!?
আবার বলি বন্ধু তোমায়, 
যদি জীবন পেতে চাও-----
জীবননাথকে স্মরণ করো, 
বন্ধু জীবননাথকে করো গ্রহণ
জীবন খুঁজে পাবে সেথায়, 
আমি নিশ্চিত বলছি তোমায়
জীবননাথকে মাথায় নিয়ে 
জীবন ও সংসার মাঝে স্বর্গকে ক'রে নাও বরণ।

-----------প্রবি। ( লেখা ৩১আগষ্ট'২০১৯)

প্রবন্ধঃ নিউটনের গতিসূত্র -৩ ও আমরা সৎসঙ্গীরা।

নিউটনের তৃতীয় সূত্র সম্পর্কে আমরা সবাই জানি।

তৃতীয় সুত্রঃ প্রত্যেক ক্রিয়ার একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে ।

ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়া কি ?

"ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়া বলতে এখানে প্রয়োগ কৃত দুইটি বলের কথা বলা হয়েছে। বল দুইটি অবশ্যই সমান কিন্তু বিপরীতমুখী । যতক্ষণ ক্রিয়া বল থাকবে ততক্ষণ প্রতিক্রিয়া বল থাকবে । ক্রিয়া বল থেমে গেলে প্রতিক্রিয়া বল ও থেমে যাবে । যেখানেই বল প্রয়োগ করা হবে সেখানেই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে । আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়ার প্রয়োগ অসংখ্য । রাস্তা দিয়ে হেঁটে যায় এখানে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া । নৌকা থেকে লাফ দিয়ে পাড়ে নামা,  মাটির ওপর দাড়িয়ে থাকা ইত্যাদি আরো অসংখ্য উদাহরণ আমাদের চোখের সামনে বিদ্যমান। 

ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার উদাহরণ

রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময়, পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করি ক্রিয়া বল। আবার মাটি পা কে বল প্রয়োগ করে প্রতিক্রিয়া বল। ফলে এভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

ভূমির উপর দাঁড়িয়ে থাকার সময় শরীরের সমস্ত ওজন মাটিতে ক্রিয়া বল প্রয়োগ করে। অপর দিকে মাটি শরীরকে প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করে । ফলে আমরা মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকি।"

এবার প্রশ্ন হচ্ছে কেন আমি নিউটনের সূত্র নিয়ে এলাম?

প্রায় সময়ে দেখছি আমাদের কিছু সৎসঙ্গী গুরুভাই বেছে বেছে ঠাকুরের বাণী পোস্ট করছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে। তাদের মানসিকতা ঠাকুরকে কতটা আঘাত করছে তা তারা ধর্তব্যের মধ্যে আনে না। তারা একটা অদ্ভুত মানসিক তৃপ্তি খুঁজে পায় এই পরস্পরকে ঠাকুরের বাণী প্রয়োগ করার মধ্যে দিয়ে আক্রমণ করতে! ধরিয়ে দিলেও, বুঝিয়ে দিলেও, ব'লে ও মনে করিয়ে দিলেও তারা সেইসবের ধার ধারে না। ঠাকুরের বাণীকে হাতিয়ার ক'রে নিচ্ছে একে অপরকে আক্রমণ চালাবার জন্য! এমনভাবে তারা বাণীগুলো পোস্ট করছে এমনকি হোয়াটস আপ করছে নিজেদের পরিচিত সরল সাদাসিধে গুরুভাইবোনদের মধ্যে ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে ঘৃণার বাতাবরণ তৈরীর ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে তখন মনে হয় ঠাকুরের বলা, "ছাড়ো রে মন কপট চাতুরী........" গানের কথা! চোখের সামনে স্পষ্ট দেখতে পাই ব্যাথায় নীল হ'য়ে যাওয়া ঠাকুরের করুণ মুখখানি! তাঁর আদরের সোনার সৎসঙ্গীদের তাঁর বাণী নিয়ে এমন আচরণ তাঁকে আশংকিত ক'রে তোলে তাদের ভবিষ্যৎ  জীবনের জন্য! বারবার ঠাকুরের সাবধান বাণী স্মরণ করিয়ে দিলেও তাদের মনোজগতে কোনও দাগ কাটে না, তোলে না মৃদু সামান্যতম ঢেউ! তাহলে তারা কি জন্মভ্রষ্ট!?!?

ঠাকুরের বাণী কার বা কাদের জন্য?

ঠাকুর একবার প্রথিতযশা সৎসঙ্গীদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, "আমি যে এত কথা কই, এত বাণী দিয়েছি এই সমস্ত কার জন্য?"

তার উত্তরে তাঁর পার্ষদ, তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভক্তমণ্ডলী বলেছিলেন, "এই সমস্ত বাণী মানুষের জন্য, বিশ্ববাসীর জন্য, জগতের জন্য, মানবজাতির জন্য!"

তা শুনে শ্রীশ্রীঠাকুরের মন আনন্দে উৎফুল্ল হ'য়ে ওঠেনি। বরং তিনি তখন শ্রীশ্রীবড়দাকে ডেকে বলেছিলেন, "হ্যাঁ রে বড়খোকা এরা কি কয়?

শ্রীশ্রীবড়দা তখন বলেছিলেন, কি বাবা?

ঠাকুর তখন বড়দাকে বলেছিলেন, হ্যাঁ রে আমি নাকি, এরা কয়, হাজার হাজার ছড়া, বাণী দিয়েছি? তা এই ছড়া, বাণী ইত্যাদি এগুলো কার জন্যে?

শ্রীশ্রীবড়দা তখন হাঁটু গেড়ে হাত জোড় ক'রে ঠাকুরকে প্রণাম ক'রে বলেছিলেন, বাবা! এই সব বাণী, এই সব ছড়া, এইসব যা যা কিছু আপনি বলেছেন সব আমার জন্যে! 

এই কথা শুনে ঠাকুর আনন্দে উৎফুল্ল হ'য়ে ব'লে উঠেছিলেন, "ওই দ্যাখেন, শোনেন, শোনেন, বড়খোকা কি কয়!? এই সব বাণী ওর জন্য!

প্রায় সময়ে ঠাকুর বলতেন, বড়খোকা একমাত্র আমার মনের কথা কইতে পারে, বুঝতে পারে! আমি ওর মধ্যে আমারে দেখতে পাই!

তাই, আমরা যখন কথায় কথায় ঠাকুরের বাণী অন্যের উদ্দেশ্যে অন্যকে আঘাত দিতে ব্যবহার করি তখন সেই আঘাত ঠাকুরের বুককে বিদীর্ণ ক'রে আবার আমার কাছেই ফিরে আসে বুমেরাং হ'য়ে আমার জীবনকে বিদীর্ণ করবে ব'লে! আর তখন ঠাকুরের দু'চোখ দিয়ে বেরিয়ে আসে ব্যথার অশ্রুধারা! বেরিয়ে আসে এইজন্য যে আমার জীবন, আমার বাঁচা-বাড়া বিদীর্ণ হ'লো ব'লে, ক্ষতবিক্ষত হ'লো ব'লে!

ঠাকুরের হাজার হাজার ছড়া, বাণী, কথোপকথন ইত্যাদি সব যদি আমার না হ'লো, আমার জীবনকে বৃদ্ধির পথে চালিত না করলো, আমার চরিত্রকে গঠন না করলো, পারিপার্শ্বিকের কাছে উদাহরণ হ'য়ে না দাঁড়ালো তাহ'লে কিসের আমার তাঁকে গ্রহণ!? কিসের আমার তাঁকে আমার জীবনের জীবন দেবতা ব'লে ঢাক পেটানো!? কিসের জন্য তাঁকে নিয়ে, তাঁর জন্মদিন নিয়ে এত লোকদেখানো ভক্তি ভালোবাসার উদ্গীরণ!? শ্রীশ্রীঠাকুরের জন্মদিন পালন কি আর বারো মাসের তের পার্বণের মত আর একটা পার্বন পালন!? মূর্তিপূজার মত আর একটা ফটোপুজার প্রচলন!?

শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীকে হাতিয়ার ক'রে আমরা যারা অন্যকে আক্রমণ করার জন্য বুকের মধ্যে, মনের অভ্যন্তরে নোংরা ঘৃণ্য অভিসন্ধি লুকিয়ে রাখি; লুকিয়ে রেখে সবার মাঝে তাকে অপদস্ত করি, করার চেষ্টা করি, নিজেকে পরিচ্ছন্ন, নির্দোষ, ইষ্টপ্রাণ সৎসঙ্গী হিসেবে তুলে ধরার কায়দাকানুন দেখায় তারা যেন ভুলে না যায় বিশ্ববিখ্যাত জাদুকর পি সি সরকারের সেই বাক্সের মধ্যে একজন মানুষকে ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে চারপাশ থেকে তরবারি দিয়ে এফোঁড় ওফোঁড় ক'রে দেওয়ার পরও মানুষটির নিশ্চিন্তে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসার ম্যাজিকটার কথা! আমরা যেন ভুলে না যায়, এই বিশ্ববিখ্যাত মানুষটা জাদুকর পি সি সরকার ঠাকুরের কাছে এসে তাঁর চরণপ্রান্তে বসতেন, ঠাকুরের সঙ্গ করতেন, কত গল্প করতেন! মনোবিজ্ঞানের গভীর থেকে গভীরতম আলোচনায় নিভৃতে নিমগ্ন হ'তেন দু'জনে! আমাদের চক্রফটো তৈরি করেছিলেন এই বিখ্যাত মানুষটি ঠাকুরের পরামর্শে ঠাকুরের নির্দেশে আমাদের মতন সীমাহীন ভাঙাচোরা মানুষদের নামধ্যান করার সুবিধার জন্য! তা সেই বিশ্ববিখ্যাত জাদুকর যে ঠাকুরের কাছে আসতেন, ঠাকুরের সঙ্গে জাদুর নানা রহস্যময় জগত নিয়ে আলোচনা করতেন, তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন মানুষকে আনন্দের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে বিশ্বকে জয় করার জন্য তা কতজন ভারতীয় জানেন, জানেন কতজন বাঙালি!? সেই বিশ্ববিখ্যাত জাদুকর পি সি সরকার (সিনিয়র)-এর পরবর্তী প্রজন্মই জানেন না তো অন্য কে জানবে!!!!!!!! এমনই প্রচার বিমুখ মানুষ ছিলেন ঠাকুর! ঠাকুর জাদুকর পি সি সরকারকে ভুতের রাজা ব'লে ডাকতেন!

ঠাকুরের সেই অতি প্রিয় ভুতের রাজার সেই বাক্সের ম্যাজিক যদি আনন্দ, বিস্ময়ের এমন চরম অদ্ভুত রহস্যময় হয় তাহ'লে ঠাকুরের ম্যাজিক তাঁর হাজার হাজার ছড়া, বাণীর একটা দুটো বাণী নিয়ে যারা আমরা অন্যকে আক্রমণ করি তারা যেন মনে রাখি সেই বাণীর প্রতিউত্তরে আরও হাজার বাণী আছে যা ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়ার মত প্রয়োগ করা যেতে পারে! ঠাকুরের সেই ছড়া, বাণীর ম্যাজিক কত গভীর কত রহস্যময় তা আমাদের মতন অধম মানুষের পক্ষে বোধগম্য নয়। যতই ঠাকুরের বাণীকে হাতিয়ার ক'রে অন্যকে আক্রমণ ক'রে আনন্দ পাই না কেন শেষমেশ জয়ের মালা পড়ে নিশ্চিন্তে বেরিয়ে আসবে সেই আক্রান্ত গুরুভাইবোন বিশ্ববিখ্যাত জাদুকর পি সি সরকারের বিখ্যাত ম্যাজিক তরবারির আক্রমণের পর আক্রমণে অক্ষত মানুষের মতন!

তাই আসুন, স্মরণ করি শ্রীশ্রীঠাকুরের পরম আত্মজ ঠাকুরের পরমপ্রিয় বড়খোকা সৎসঙ্গ জগতের চোখের মণি সবার বড়ভাই এ যুগের পরমভক্ত হনুমান শ্রীশ্রীবড়দার ঠাকুরকে বলা, "বাবা! এই সব বাণী, এই সব ছড়া, এইসব যা যা কিছু আপনি বলেছেন সব আমার জন্যে!" আমরা যেন কোনও বাণী পোস্ট করার সময় ঐ বাণীর বক্তব্য বিষয়ের মধ্যে নিজের চরিত্রের প্রতিফলন লক্ষ্য করি আর নিজেকে সংশোধনের মাধ্যমে ঠাকুরের মনের মত ক'রে গড়ে তুলি! নয়তো আচার্যদেব শ্রীশ্রীদাদার কথামত ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ আমারও 'শেষের সেদিন ভয়ঙ্কর'!!!!!---------প্রবি। 

(লেখা ৩১শে আগষ্ট '২০২০)। 

Wednesday, July 27, 2022

গানঃ আমি বার্তা দিলাম।

আমি আগন্তুক আমি বার্তা দিলাম
জীবন অংক আমি বলতে এলাম
আমি আগন্তুক, আমি বার্তা দিলাম
To you to you and you and you and to everyone here
জীবন অঙ্ক আমি বলতে এলাম।
Triumphant in infusing life and growth equal to কি?
Supreme Father.
এখনো রিপুদাস রিপুগুলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে খাচ্ছে
কামনায় বাসনায় জীবন যে আগুনে জ্বলছে
ফিকশান টেনশান মাথে নিয়ে ইনশান কি ভাবছে?
দয়ালধাম?
এখনো রিপুদাস রিপুগুলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে খাচ্ছে
কামনায় বাসনায় জীবন যে তার আগুনে জ্বলছে
এদিকে মিথ্যের গ্যাসে ভরে গেলো জীবন দালান
Mistry ব্যাপার বেশ Mistry!
আমি আগন্তুক
আমি বার্তা দিলাম
জীবন অঙ্ক আমি বলতে এলাম।
মাঝখানে গোটা দুই জীবনে জীবন নেই
কৈশোর যৌবনে কেন জীবনে গতি নেই?
বৃত্তির বৃত্তে জীবন যে ঘুরছে
উদ্দাম রিপুতলে জীবন যে পুড়ছে
কালকূট বিষ দেহে নিলাম।
মুখের মিষ্টি হাসি রাশি রাশি ঝরে ঝরে পড়ছে
দু জোড়া ঐ মিষ্টি চোখ আকুল হ'য়ে তোমায় যে ডাকছে!
No dear don't get tension.
এতদিনে মানবতা ভুলে গেছে ভালবাসার নিদান।
Hear I am.
আমি আগন্তুক আমি বার্তা দিলাম
জীবন অংক আমি বলতে এলাম
আমি আগন্তুক, আমি বার্তা দিলাম
Infusing life and growth-------No! না না না না
Triumphant in infusing life and growth equal to কি?
Supreme Father.

গানঃ প্রেমময়! প্রেমময়! প্রেমময় কারে কয়?

বন্ধু, কামনা কাহারে বলে? বন্ধু, বাসনা কাহারে বলে?
তোমরা যে বলো দিবস রজনী 'প্রেমময়, প্রেমময়'--
বন্ধু, প্রেমময় কারে কয়? সে কি কেবলই ছলনাময়?
সে কি কেবলই কথার ঢল? সে কি কেবলই কথার চাষ?
লোকে তবে করে কি সুখেরই তরে এমন কথার চাষ?।

আমার চোখে তো সকলই দয়াল শান্ত স্নিগ্ধ নরম সকাল,
সুমিষ্ট সুবাস মধুময় বাতাস আলোময় রুপময় রসময় বিকাল
সকলই দয়াময় দয়াল মত।

দয়া আকাশের গায় বাতাসে বায় শাখে শাখে হাসে পাতায় পাতায়
নাইরে দুঃখ নাইরে কষ্ট নাইরে জ্বালা যন্ত্রণা ক্ষত।
হাসিতে মুক্তো রাশি রাশি ঝরে নয়নে আলোক ঝর্ণা বায়
বাঁচিতে বাড়িতে পরতে পরতে দয়ালের ছোঁয়া লাগে যে গায়।
আমার মত নসিবি কে আছে আয় ছুটে আয় আমার কাছে
আমার মত নসিবি কে আছে আয় ছুটে আয় দয়ালের কাছে
আমার হৃদয়ে দয়ালের গান দয়ালের সুর দয়ালের তান।
প্রতিদিন যদি জিতিবি কেবল একদিন নয় হারিবি তোরা
একদিন নয় মিলিয়া মিশিয়া দয়ালের গান গাহিবো মোরা।

লেখা ২৭শে জুলাই'২০২১

সম্পর্ক!

ঘরে ঘরে সব সম্পর্ক আজ ভেঙ্গে চুড়মার!
দাদুনাতি, পিতামাতা, স্বামীস্ত্রী, পিতাপুত্র, মাতাকন্যা,
ভাইভাই, বোনবোন, ভাইবোন, বন্ধুবন্ধু, প্রতিবেশীপ্রতিবেশী!
ওরে মন পাগল! তুই কেন এমন করিস!? কেন রেষারেষি?
কেন হ'স তুই এই পাপ কাজের হাতিয়ার?
গোঁজামিলে ভরিয়েছো নিজের জীবন
আর এখন মেলাচ্ছো অঙ্ক গোঁজামিলে সন্তানের জীবন?
মন তুমি ধন্য! তুমি অনন্যা!
তুমি বন্য! বাধ ভাঙ্গা বন্যা!
কে তোমায় রুখবে? কে তোমায় জিজ্ঞেস করবে,
মন! কেন সমস্ত সম্পর্ক ভেঙ্গে করো চুরমার?
কেন এত সঙ্ঘাত? কেন দু'দিনের জন্যে আসা জীবন
করছো বরবাদ!? সন্তানের নিষ্পাপ মুখের দিকে চেয়ে
একবারও কি করে না ইচ্ছা বলতে, চলো নিজেকে পাল্টাই,
করি সব পরিত্যাগ জীবন মাঝে যা কিছু আছে ভুল অন্যায়।
নোংরা কালো ঝুলে ভরা জীবন নিয়ে নিজের
যাও ঝাড়তে ঝুল অন্যের জীবনের!?
নিজের জীবনের ভুলে ভরা প্রতি পদক্ষেপ নিয়ে
হাঁটিহাঁটি পা চাও শেখাতে সন্তানের?
ছয় রিপু রসে টইটম্বুর জীবন
নীচতা কুটিলতার কালকূট বিষে ভরা মন
তবে কিসের আশায় কার ভরসায় চাও গড়তে
প্রাণাধিক প্রিয় শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ জীবন?
পারস্পরিক সব পবিত্র সম্পর্ক আজ ভেঙ্গে চুরমার
অহং পাথরের নির্ম্মম কঠিন আঘাতে।
মন! একবার ভেবে দেখো তুমি
তোমার ছায়া ক্রমশ তোমার চেয়ে দীর্ঘ হ'য়ে ফেলছে
তোমায় ঢেকে আর ভয়ে যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত মন
অন্ধকার অন্ধকার ব'লে অতর্কিতে ক'রে উঠছো
হিতাহিত জ্ঞানশূন্য চীৎকার নিজের ছায়া নিজে দেখে!
এখনও সময় আছে, মন! ফিরে চলো নিজ নিকেতন!
ছোট্ট দেবশিশুর জন্য খুঁজে নাও বাঁচাবাড়ার অমৃত ধন।
কোথায় সেই নিকেতন? কি সেই অমৃত ধন?
মন! ইষ্টের চরণতল সেই নিকেতন
জীবন খুঁজে পাবে যেথায়।
আর মন! ইষ্টের চলন----- নাও তারে আপন ক'রে
------স্বপারিপার্শ্বিক বাঁচাবাড়ার সেই-ই অমৃত ধন!
(লেখা ২৭শে জুলাই'২০২১

Saturday, July 2, 2022

প্রবন্ধঃ আনন্দ লাভের উপায়।

আসুন ঈশ্বরের সৃষ্টির সবকিছুকে ভালোবাসি, ভালোবেসে ধন্য হ'ই। ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে খাটি আনন্দ লাভ করি। মানুষকে ভালোবাসার মধ্যে যে আনন্দ সেই আনন্দ পৃথিবীকে মুঠোয় পাওয়ার মধ্যেও নেই। একমাত্র সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকে ভালোবাসার মধ্যে প্রকৃত আনন্দ লুকিয়ে রয়েছে। আপনি আমি যতই বলি ভালো আছি প্রকৃতপক্ষে কেউই ভালো নেই,  আনন্দে নেই। সবটাই নেশাখোরের নেশার বস্তু গলাদ্ধকরণ করার সাময়িক ভালো থাকা ও আনন্দে থাকার মত। মিথ্যের মুখোশ পড়ে আমরা সমাজে বাস করছি সবাই। যে আনন্দে সুখ নেই, শান্তি নেই, ভালোবাসা নেই, প্রেম, দয়া, মায়া, শ্রদ্ধা, সম্মান ইত্যাদি জীবনীয় কিছুই নেই ; আছে শুধু অশ্রদ্ধা, অপমান লাঞ্চনা গঞ্জনা ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে ধ্বংস হওয়া আর নিভে যাওয়া সেই মিথ্যে আনন্দের মধ্যে বেকুব অপদার্থ নেশাখোরের মত ডুবে থেকে আমরা ভেজাল আনন্দের ঢেকুর তুলছি আর পথকুক্কুরের মত ল্যাজ নাড়াচ্ছি। আপাদমস্তক আমরা একজন নেগেটিভ মানসিকতা সর্বস্ব অমানুষ। 


সবসময় নেগেটিভ মানসিকতা মানুষকে নিরানন্দময় জীবনের অধিকারী ক'রে তোলে। কামনা বাসনা থাকবে না কেন? জীবন যখন আছে তখন তাকে ভোগ করার অধিকারও আমার আছে। ভোগ আমরা করি কই, করি তো ভোগকে উপ-র সঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে। জীবনে ত্যাগ করার কিছুই নেই। জীবন থেকে ত্যাগ করার যদি কিছু থাকে তাহ'লে তাহ'ল শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের কথামতো মল, মূত্র আর বায়ু ছাড়া আর কিছুই নয়। এছাড়া ত্যাগ ব'লে কিছু নেই। সবটাই ভোগের ব্যাপার। ভোগ করারও আর্ট আছে। ভারসাম্যহীন ভোগ ভোগ নয়। আর ত্যাগ মানে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, "ভোগের বস্তু নিকটে রাখিয়া ত্যাগের নামই ত্যাগ।" ভোগের বস্তু রোজগার করার ক্ষমতাই নেই, ত্যাগ তো দূর কি বাত। কামনা বাসনা আমার আছে। আর সে কামনা সে বাসনা ঈশ্বরকে ভালোবাসার কামনা, ইশ্বরকে পাওয়ার বাসনা। আর সে কামনা সে বাসনা পূরণ হয় তখনি যখন মানুষ মানুষকে ভালোবাসে, তার সৃষ্টির চারপাশের সবকিছুকে প্রেম করে। আর তখনি প্রকৃত আনন্দ লাভ করে মানুষ। বৃথা অলীক কোনও আনন্দের পিছনে ছুটে জীবনকে জটিল ও দুর্বিষহ ক'রে তোলার কোনও মানে হয় না। যেমন খেয়ে আনন্দ তার চেয়ে বেশী আনন্দ খাইয়ে, নিজে বড়ো হ'য়ে যেমন আনন্দ তার চেয়ে বড় ও বেশি আনন্দ কাউকে জীবনে বড় হ'তে সাহায্য করে। নিজে সুখী হওয়ার আনন্দের চেয়ে অন্যকে সুখী দেখতে পাওয়া, অন্যের মুখে হাসি দেখতে পাওয়া, অন্যকে হাসিখুশি দেখতে পাওয়া ইত্যাদির মধ্যে যে আনন্দ সেই আনন্দ আর কোথায় আছে? বাচ্চাদের ভালোবাসার মধ্যে যে আনন্দ সেই আনন্দ লুকিয়ে আছে ঈশ্বরকে ভালোবাসার মধ্যে। যা ভাবলে, যা চিন্তা করলে, যে কর্ম করলে মন আনন্দ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় সেই ভাবা, সেই চিন্তা, সেই কর্ম যতই লাভজনক হ'ক না করাই মঙ্গলের। কারণ এইধরনের আনন্দ নেশা করার আনন্দের মত সাময়িক ও জীবন বিধ্বংসী। তাই আনন্দ করবো তো পরমানন্দ করবো। আর পরমানন্দ আছে ভালোবাসার মধ্যে। আর ভালোবাসার সমুদ্র হচ্ছে পরমপিতা জীবন্ত ঈশ্বর। তাকে গ্রহণ করতে হয় জীবনে আর সেই ভালোবাসার সমুদ্রে দিতে হয় ডুব, ডুব দিয়ে স্নান ক'রে পবিত্র, স্নিগ্ধ, পরিচ্ছন্ন হ'তে হয়। আর ভালোবাসার জলে আপাদমস্তক অর্থাৎ শরীর-মন-আত্মা সিক্ত হ'য়ে উঠলে তবেই ভালোবাসা যায় সৃষ্টিকর্তার সমস্ত সৃষ্টিকে। আর সেইখানেই লুকিয়ে আছে প্রকৃত আনন্দ লাভের তুক, চাবিকাঠি। নতুবা সবটাই মিথ্যা, ফাঁকিবাজি। --------প্রবি।