Powered By Blogger

Wednesday, August 28, 2024

প্রবন্ধঃ বাংলাদেশের ও কলকাতার বর্তমান আন্দোলন।

বাংলাদেশের বৈষম্যহীন ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে বেশ কিছু পেজ কলকাতার আন্দোলনে উৎসাহিত ও আন্দোলিত। তারা তাদের পেজে এই আন্দোলনের ছবি দিয়ে ক্যাপশান দিচ্ছেঃ

"ইন্ডিয়ার কলকাতাতেই উত্তাল। বাংলাদেশকে দেখে সবাই অনুসরণ করছে! ইন্ডিয়াতেও বাংলা ঝড়। 'বৈষম্যহীন ছাত্র আন্দোলন' পাকিস্তান শাখার পর ইন্ডিয়া শাখা তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। যেখানে অধিকারের লড়াই আছে, সেখানে আমরা আছি।"

বাংলাদেশের 'বৈষম্যহীন ছাত্র আন্দোলন' সমর্থিত কিছু পেজ কলকাতার আন্দোলনের পাশে থাকার, 'অধিকারের লড়াই যেখানে আছে, সেখানে তারা আছে' এই ঘোষণা ক'রে তারা আন্দোলনকে উৎসাহিত করছে। এই ধরণের মানসিকতা খুবই প্রশংসনীয় ও আনন্দের বিষয়।

কিন্তু তাদের আন্দোলনের ধরণ বিশ্ববাসী দেখলো, বিশ্বের ছাত্র সমাজ দেখলো। এখন বিশ্বের ছাত্র সমাজের দৃষ্টিভঙ্গীর কথা এখন সরিয়ে রাখলাম এবং পাকিস্তান ছাত্র সমাজ কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে আন্দোলনকে সংগঠিত করেছে তাও এখানে বর্তমানে আলোচনা করতে চাই না। আলোচনা করতে চাই,

১) বৈষম্য কি ও বৈষম্যহীন আন্দোলন কি?
২) এই মুহুর্তে বর্তমানে কলকাতার বুকে আর জি কর কান্ডে যে আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে সেই আন্দোলন কি বর্তমান বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত? এবং সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ধরণকে, আন্দোলনের সংস্কৃতিকে কলকাতা আন্দোলন স্বীকার করে? মেনে নেয়? ও অনুসরণ করে?
এখন আলোচনা ক'রে দেখা যাক কি পাওয়া যায়।

১নং প্রশ্ন ছিল বৈষম্য কি?
উত্তরঃ বৈষম্য হ'লো শ্রেণী, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ ইত্যাদির ভিত্তিতে অন্যদের সাথে দুর্ব্যবহার করা।

আর, বৈষম্যহীন আন্দোলন কি?
বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ বৈষম্যহীন আন্দোলনের কথা বলছে। এই বৈষম্যহীন আন্দোলন মানে এই আন্দোলনে শ্রেণী, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার। তা' এই বৈষম্যহীন আন্দোলন কি মুসলমান ছাত্র বা নাগরিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ? নাকি বৈষম্যহীন আন্দোলন সমগ্র সম্প্রদায়ের আন্দোলন? সাম্প্রতিক বাংলাদেশে পট পরিবর্তনের ঘটনাবলী কি প্রমাণ করে? বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন বৈষম্যহীন আন্দোলন ছিল?
এক্ষেত্রে আমরা কি দেখলাম? বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধিত্বকারী ছাত্র ও নাগরিক সমাজ তাদের চোখে বৈষম্য সৃষ্টিকারী স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর পরই হিন্দুদের ওপর আক্রমণ ক'রে বৈষম্যহীন সমাজ উপহার দেওয়ার দৃষ্টান্ত বিশ্বজুড়ে স্থাপন করলেন।

২) আর, কলকাতার বুকে আর, জি, কর হাসপাতালের ঘটনাকে কেন্দ্র ক'রে যে আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে সেই আন্দোলন বর্তমান বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত কিনা, আন্দোলনের ধরণকে, আন্দোলনের সংস্কৃতিকে স্বীকার করে কিনা, মেনে নেয় কিনা, অনুসরণ ক'রে কিনা এই ২নং বিষয় নিয়ে বলতে পারি, অনুসরণ করার বিষয়টা কলকাতার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত, আন্দোলন সংগঠিত নেতাদের বিষয়। তারা আন্দোলন বিষয়টাকে কোন দিক থেকে দেখছে, কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে, গতিপ্রকৃতি কি হবে, কি ধরণের আন্দোলন হবে, আন্দোলনের সংস্কৃতি কি হবে, বাংলাদেশের আন্দোলনের মত হবে কিনা, সেই সংস্কৃতিকে ফলো করবে কিনা এই সমস্ত কলকাতার আন্দোলনের আয়োজকদের বিষয়।


আমরা সাধারণ মানুষ এই আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান জানিয়ে, আন্দোলনের সফলতা কামনা করি।

আর, আসুন একবার পিছন ফিরে দেখে নিই সম্প্রতি বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ছবিটা, যেটাকে বলা হচ্ছে পাকিস্তান শাখার পর এখন ইন্ডিয়া শাখা নাকি তাদের কার্যক্রম অনুসরণ শুরু করেছে।

আমার জানতে ইচ্ছে করে যারা ফেসবুকে কলকাতার এই আন্দোলন নিয়ে সরব তাদের কাছে এবং বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে যারা কলকাতার এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে "যেখানে অধিকারের লড়াই আছে, সেখানে আমরা আছি"--এই কথা ব'লে ফেসবুকে সমর্থন জানিয়ে পোষ্ট করছে তাদের কাছেও জানতে চাইঃ
১) ইন্ডিয়া শাখা বলতে তারা কি মিন করছে?

২) এই শাখা কথার আড়ালে কি আছে? বাংলাদেশের গোপন ষড়যন্ত্র মূলক আন্দোলনের সঙ্গে কলকাতার আন্দোলনের সঙ্গে কি সম্পর্ক? দু'টো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। একটা কোটা সংস্কারের আড়ালে সরকার পতনের ছক আর কলকাতার আন্দোলন নারীর ওপর পৈশাচিক অত্যাচার ক'রে ধর্ষণ ও নির্ম্মম হত্যার বিরুদ্ধে দোষীদের বিচারের দাবীতে গণরোষ। দু'টো কি এক হ'লো? এখানে শাখা শব্দ ব্যবহারের পিছনে কোন অভিসন্ধি, কোন ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে? এটা যেন ষড়যন্ত্রকারীরা ভুলে না যায় ভারতের মত বিশাল দেশের পেট থেকে জন্ম নেওয়া দেশ যে, হাতি শুকাতে শুকাতে গাধা হয় না, কিন্তু গাধা শুকাতে শুকাতে তার আর ট্রেস পাওয়া যায় না।


আসুন এবার দেখে নিই বাংলাদেশের আন্দোলনে অনুসরণ করার মত ছিলটা কি যা ইন্ডিয়া শাখা অনুসরণ করবে?
বাংলাদেশের আন্দোলন কি ছিল?
১) বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন ছিল মিথ্যে কোটা সংস্কারের আন্দোলন।


২) পরবর্তীতে ছাত্র আন্দোলন ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গিয়ে হ'য়ে গেল সরকার পতনের আন্দোলন।


৩) আন্দোলনের নানা ইস্যু মুহুর্তে মুহুর্তে টুইষ্ট করলেও একটা মেইন ইস্যু ছিল সেটা হ'লো ভারত বিরোধীতা।

এবার দেখে নিই আন্দোলনের ধরণ কি রকম ছিল।

১) কোটা আন্দোলনের আড়ালে গিরগিটির রঙ বদলের চেয়েও মারাত্মক ভয়ংকর রঙ বদলের মাধ্যমে সরকার পতনের ছিল গোপন এজেন্ডা।
২) ১৯৭১-এর স্বাধীনতা আন্দোলনের লড়াইয়ের মধ্যমণি শেখ মুজিবরের মূর্তির মাথায় চড়ে পেচ্ছাপ করা, বাচ্চা বাচ্চা ছেলেদের দিয়ে শেখ মুজিবরের ছবিতে পেচ্ছাপ করানো, গলায় জুতোর মালা পড়ানো, মূর্তিকে লাথি মারা, জুতো দিয়ে মারা, মূর্তি ভেঙে পৈশাচিক উল্লাস করা, ভাঙ্গা মূর্তির মাথা নিয়ে জলকেলি করা।

৩) রবীন্দ্রনাথের মূর্তি ভেঙে অপমান ক'রে বৈষম্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা, ছিল বই পোড়ানো।

৪) দেশজুড়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা ছিল ছাত্র আন্দোলনের ধরণ।

৫) মায়ের বয়সী প্রৌঢ়া মহিলার অন্তর্বাস, শায়া, ব্লাউজ নিয়ে প্রকাশ্যে পৈশাচিক সংস্কৃতির আমদানি করা ছিল আন্দোলনের ধরণ।

৬) আধুনিকা নারীদের মুখে, ছাত্রীসমাজের মুখে নারী হ'য়ে প্রৌঢ়া নারীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে পৈশাচিক উল্লাসে কানে গরম সীসা ঢেলে দেওয়ার মত অশ্লীল যৌন নোংরা শ্লোগান ছিল ছাত্র আন্দোলনের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি।

৭) ভারতের বিরুদ্ধে লাগাতার গালাগালির বন্যায় ভাসিয়ে দেওয়া অশ্লীল ও মিথ্যে শ্লোগান ইত্যাদি ধংসাত্মক বিষাক্ত অপসংস্কৃতি ছিল ছাত্র আন্দোলনের মূলধন।

এখন কতিপয় প্রশ্নঃ
১) এইরকম কৃষ্টি-সংস্কৃতির অনুসরণ করবে কলকাতার আন্দোলন?
কেননা আমরা এর আগে কলকাতার বুকে ব্রা আর জাঙ্গিয়া পড়া, প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন দেখেছি। এবারও কি তাই দেখবো? নিশ্চয়ই না।

২) বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনকারীদের এত উৎসাহ কেন পাকিস্তানের পরে ভারতের কলকাতার এই আন্দোলনে? কি উদ্দেশ্য? কি গোপন এজেন্ডা?

৩) কলকাতার আন্দোলন কি তাদের কাছে পরামর্শ চেয়েছে? 'গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল'-এর মানসিকতা বাংলাদেশের বাঙালীদের বৈশিষ্ট্য?
একথা কখনোই ভাবার অবকাশ নেই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন দুনিয়ার বুকে দৃষ্টান্ত স্থাপনের মত উচ্চমার্গের উন্নত কৃষ্টি-সংস্কৃতিতে ভরপুর আন্দোলন ছিল যা কলকাতার ছাত্র ও নাগরিক সমাজ গ্রহণ করবে।

যাই হ'ক বাংলাদেশের বর্তমান গণ অভ্যুত্থানের সৈনিকদের, বাংলাদেশের বর্তমান উপদেষ্টামন্ডলী্দের ও প্রধানের নানারকম স্টেট্মেন্ট দেখে একটা কথায় মনে পড়ে সেই ব্যাঙ মায়ের গল্প।
( লেখা ২৬শে আগষ্ট'২৪)

বিচিত্রা ২৮

ফাঁকিবাজি ভক্তিঃ

আমার প্রাণের ঠাকুর তুমি আমায় তোমার মনের মতো ক'রে গড়ে নাও।
দয়াল, ঠাকুর তুমি আমার হাতটি ধরো, তোমার চরণে আমায় দাও ঠাঁই।
দয়াল, তুমি ছাড়া আমি কিছু জানি না, দয়াল তুমি ছাড়া আমি কিছু বুঝি না।
দয়াল, তুমি ছাড়া আর কিছু নেই, নেই কেউ।
দয়াল তুমি সত্য, বাকী সব মিথ্যা, ফেউ।

দয়াল, আজ যা কিছু আছে আমার সব তোমার দয়ায়,
বাঁধা পড়ে আছি আমি তাদের মায়ায়।

দয়াল, সংসার ভুলে যত তোমার কাছে ছুটে যেতে চাই
সংসার যেন অক্টোপাশ আমায় আষ্টেপৃষ্টে জড়ায়।

দয়াল ঠাকুর, তুমি আমায় রক্ষা করো, রক্ষা করো আমায়, তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নাই।

অজুহাতকে আশ্রয় ক'রে কথার স্রোতে ভেসে ফাঁকিবাজি ভক্তিকে আড়াল করা যেতে পারে কিন্তু সত্যকে নয়।

ঠাকুরের কথার ভুল ব্যাখ্যা ক'রে নিজের ফাঁকিবাজি ভক্তিকে আড়াল করা যেতে পারে কিন্তু সত্যকে নয়।

ঠাকুর আমি কিছুই চাই না, শুধুই তোমাকে চাই, কারণ তুমি আমার আয়ের উপকরণ তাই।

দয়াল, অর্থ-মান-যশ-আত্মপ্রতিষ্ঠা কিছুই চাই না, শুধু তোমার প্রচারের জন্য চাই সমাজসেবার প্রচার।

নিজের অন্যায়, নিজের দোষ, ত্রুটিকে লালনপালন করি, যত্ন করি, অক্সিজেন যোগাই আর বলি, দয়াল! মুক্ত করো।

মনেতে কপটতা, চাতুরী লুকিয়ে রাখি আর সযত্নে চাষ করি আর মুখে রাতদিন বলি, দয়াল! দয়াল!! আমাকে দয়া করো।

আমি অন্ধকারের যাত্রী, আমায় আলোর দৃষ্টি দাও। আমি তোমার মন্দিরে বসি, আমায় একটু জায়গা দাও।

কবিতা/ গানঃ আমি আলোর পথের যাত্রী।

আমি আলোর পথের যাত্রী
প্রভু আলোর বৃষ্টি দাও.
আমার দু'চোখে আলো
তুমি আলোর ঝর্ণা ঝরাও।
প্রভু আলোর বৃষ্টি দাও।
আমি আলোর পথের যাত্রী
প্রভু আলোর বৃষ্টি দাও।

তোমার অভয় বাণী
জাগালো হৃদয়খানি
জানি যে পথের দিশা
তুমি দেখা দাও
প্রভু আলোর বৃষ্টি দাও।
আমি আলোর পথের যাত্রী
প্রভু আলোর বৃষ্টি দাও।

আমি যে ধন্য অনন্য
তোমারই প্রেমে আমি বন্য।
প্রেমময় তুমি
প্রেম ভালোবাসা ঝরাও
প্রভু আলোর বৃষ্টি দাও।
আমি আলোর পথের যাত্রী
প্রভু আলোর বৃষ্টি দাও।

Sunday, August 25, 2024

কবিতা / সাতরঙা রঙ ঝড়ে!

ভাগ্যিস কেউ কখনো বলেনি 'এসো'
ভাগ্যিস তাই যাওয়া হয়নি কোথাও
আর তাই নিশ্চিত 'ভুল' নিয়ে যায়নি
আমায় ভুলিয়ে ভুলভুলাইয়ার আঙিনায়!!
জানালায় চোখ রেখে বসে থাকা যায়
আদি অনন্তকাল সৃষ্টির পানে চেয়ে,
অমল' হ'য়ে যদি না বসো?
'বিশের' যৌবন ভরা থাকে বিষে।
অমৃত হ'য়ে যায় বিষ তাঁর পরশে!
কার সে ডাক বন্ধু? যে ডাকে সুদীর্ঘ
পথ হ'য়ে যায় নাতিদীর্ঘ!?
কয়েকটা পদক্ষেপ পৌঁছে দেয়
দূর-প্রসারিত দুর্গম পথ শেষে??
কার সে ডাক? যে ডাকে এত আকর্ষণ!!!
পলক গতিতে চলে যাও আসমুদ্র হিমাচল
মাড়িয়ে নির্দ্বিধায়! পার হ'য়ে যাও
ঝোড়ো হাওয়াকে সাথী ক'রে
অবহেলায় অবলীলায়! জল ও স্থল!!!!
ভাগ্যিস কেউ কখনো বলেনি 'চলো'
এমন ক'রে আমায়!
অস্থির চঞ্চল আমি ঐ নিশিডাকে
ভাগ্যিস তাই যায়নি ভেসে
নিশ্চিত নরকের আঙ্গিনায়।
আর যদি আসে তাঁর ডাক !?
প্রশ্নহীন, যুক্তিহীন ঝাঁপ
দেবো মরণ স্তব্দ ক'রে!!!!!!!!!!
জীবন খুঁজে পাবো সেথায়
যেথায় রামধনুর সাতরঙা রঙ ঝড়ে!!
( লেখা ২৫শে আগষ্ট'২০১৪)




উপলব্ধিঃ বাঙালী ও তার বাঙালীত্ব।

প্রশ্নঃ বাঙালি চিনবে কি দিয়ে?
উত্তরঃ তার খিল্লি চরিত্র দিয়ে।
প্রশ্নঃ বাঙ্গালী কাকে বলে?
উত্তরঃ যে আংলিতে এক্সপার্ট।
প্রশ্নঃ বাঙ্গালীর রকম কি?
উত্তরঃ বেশরম।
প্রশ্নঃ বাঙ্গালীর স্বভাব কেমন?
উত্তরঃ চুলকুনি স্বভাব।
প্রশ্নঃ বাঙালীর কিসে সুখ?
উত্তরঃ বিকৃত করিয়া মুখ মানুষের পিছনে চুলকাইতে বড় সুখ।
প্রশ্নঃ বাঙ্গালীর কিসে আরাম?
উত্তরঃ হারাম বিষয়ে আরাম।
প্রশ্নঃ বাঙালীর মান কিসে রক্ষা হয়?
উত্তরঃ অন্যকে নীচা দেখিয়ে আর অপমান করে।
প্রশ্নঃ বাঙালি বাঁচে কিসে?
উত্তরঃ পরনিন্দা ও পরচর্চায়।
প্রশ্নঃ বাঙালীর বেড়ে ওঠার ভিত্তি কি?
উত্তরঃ অকৃতজ্ঞতা আর বেইমানী।
প্রশ্নঃ বাঙালিকে কেন কাঙালি বলে?
উত্তরঃ তার হ্যাংলামির কারণে।
প্রশ্নঃ বাঙালীর বাঙালীত্ব কিসে?
উত্তরঃ উপরিউক্ত বিষয়ে।
কাউকে নিয়ে মজা করার, কাউকে নীচা দেখাবার, পিছন দিয়ে লাল, নীল, সাদা সুতো বের করার একটা সীমা আছে। খিল্লিকে হাতিয়ার ক'রে কি ক'রে খিল্লির বিরোধিতার নামে চরম উদোম খিল্লি করতে হয় আর সেগুলিকে দক্ষতার সঙ্গে বাজারি ক'রে তুলতে হয় সে সম্পর্কে বাঙালীরাই পৃথিবীর মধ্যে যে এক্সপার্ট এবং এ বিষয়ে সেরা জাত সেটা বাঙ্গালী চিরকাল প্রমাণ দিয়ে এসেছে। এটাই বাঙ্গালিদের প্রধান চরিত্র। শ্রীশ্রীঠাকুরকে নিয়ে নানারকম অশ্লীল পোষ্টও তার প্রমাণ দিয়ে বাঙালীর মান রক্ষা করেছে। আবার ব্যতিক্রমী বাঙালীও আছে বলে আজও সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে আর পশ্চিমদিকে অস্ত যায়। তবে সেদিন সমাগত যেদিন বাঙালীর সুর্য চিরতরে অস্ত যাবে আর তার রুপরেখাও তৈরী ক'রে চলেছে নীরবে নিভৃতে বিধাতা। তবে কোনওকিছু শেষ না হ'লে নতুন ক'রে শুরু হয় না, হয় না নতুনের উত্থান। তবে হ'ক শালা শেষ। বাঁদরের দাঁত খিঁচানি খেয়ে মরার চেয়ে পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীরামের বাণে মরাই ভালো।------প্রবি। ( লেখা ২৫শে আগষ্ট'২০১৮)

Saturday, August 24, 2024

বিচিত্রা ২৭

শাবাশ! প্রাক্তন আইনমন্ত্রী কাপিল শিবাল, শাবাশ!! তিন তালাকের পক্ষের আইনজীবী কি পেশার গোলাম? মানবতার চেয়েও পেশার স্থান ঊর্ধ্বে?


মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর সময় থেকে তিন তালাক বিধান ইসলাম ধর্মের অংশ হয়ে আছে। মহানবী কি পুরুষদের পক্ষে একতরফা বিধান দিয়েছিলেন?

"মহানবী হজরত মহম্মদ (সা)-এর সময় থেকে এই বিধান ইসলাম ধর্মের অঙ্গ হ'য়ে আছে।"---আদালতে ল' বোর্ড। মহানবী কি পুরুষদের পক্ষেই এই বিধান দিয়েছিলেন?

তিন তালাক কি হজরত মহম্মদের বিধান? পুরুষদের পক্ষে তিনি এই বিধান দিয়েছিলেন? কোরাণে কি এই কথা লেখা আছে?

"বিবাহ কর কিন্তু তালাক দিও না, কারণ উহাতে আরশ কম্পিত হয়।" ছগির।
"বৈধ হওয়া সত্ত্বেও যাহা আল্লার নিকট অত্যন্ত অপ্রিয়, তাহা তালাক।"
আঃ দায়ুদ।
"In a saying of the Holy Prophet, divorce is called the most hateful to Allah of all things allowed." Moulvi Mahammad.
"তালাকের চেয়ে বড় পাপ আর কিছু নেই।" হজরত মহম্মদ।

'তিন তালাক ভারতে নিষিদ্ধ' সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে সুপ্রিম ফাদারের আনন্দাশ্রুতে সিক্ত আশীর্বাদ বর্ষিত হচ্ছে বিচারকদের মাথায়।
রাত গভীর ঘুম আসে না চোখে। মন বলে, এসো প্রভু থাকো মোর বুকে আর সবাইকে রাখো তুমি সুখে। প্রার্থনা এই যেন কেউ না রয় দুঃখে।
আফগানিস্তানের অমানবিক ঘটনা প্রমাণ করবে ভারত বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম মানবিক দেশ! আর্য ভারত আবার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং গোটা বিশ্বকে একদিন পথ দেখাবে যে বন্দুকের নল নয় প্রেম ভালোবাসায় ভরা হৃদয়-ই বেঁচে থাকার ও বেড়ে ওঠার উৎস। শুধু সময়ের অপেক্ষা বন্ধু।
আফগানিস্তানের ঘটনার জেরে ভারত আজ একা? কেউ পাশে নেই?

বিশ্বের বিগ ব্রাদাররা আজ 'আমার গায়ে আচ না লাগে ফুরিয়ে যাবে মামলা' দর্শনে চুপ!?
আফগানিস্তানে কে মরলো, কে বাঁচলো ভার মে যায় তত্ত্বে বিশ্বাসী!?

একবিংশ শতাব্দীর সভ্যতা সংস্কৃতি এত নিষ্ঠুর, এত অমানবিক!?

মধ্যযুগীয় বর্বরতা অসভ্যতা অপসংস্কৃতি কি এর থেকেও ভয়াবহ অমানবিক ছিল!?
গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্বাধীন মত প্রকাশের মাধ্যমে ক্ষমতা লাভ কি অসভ্যতা অপসংস্কৃতির নিদর্শন!

কোন পৃথিবীতে বাস করছি!? সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ সৃষ্টিকর্তার কাছেই আফগানিস্তানের অন্যায় অমানবিক কাজের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করছে!!!

ঈশ্বর, আল্লা, গড ব'লে কি সত্যিই কিছু আছে!? যদি থেকে থাকে তবে সত্যের জয় হবেই। ভারত দাঁড়িয়ে আছে সেই সত্যের ওপর! আজ নয়তো কাল গোটা বিশ্বকে গ্রাস ক'রে নেবে এই সত্য! হে ভারত! ওয়েট এন্ড সি!!

সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত নিজেকে যেন মানিয়ে নিয়ে চলতে পারি সেই চলার শক্তি দাও দয়াল। পরিবর্তিত সময়ের সময় তুমি আমার সঙ্গে থেকো দয়াল।

মহাসিন্ধুর ওপার থেকে কি সঙ্গীত ভেসে আসে? তা কি শুনতে পাও?
মিলনের সঙ্গীত। এসো সৎসঙ্গী কান পেতে শোনো ঐ সঙ্গীত আর মিলিত হও। প্রবি।
( লেখা ২৪শে আগষ্ট'২০২৪)





কবিতা / গানঃ নবরূপে তুমি।

 


( লেখা ২৪শে আগষ্ট' ২০১৩ ) ( কোরা কাগজ থা  ইয়ে মন মেরা---- গানের সুরে।)