Powered By Blogger

Monday, September 11, 2023

কবিতাঃ গুপ্তধন!

আমাকে কেউ গুপ্তধনের সন্ধান দিতে পারো? পারো?? পারো???
যদি বোকা ও বোবা হতাম ভালো হত!
ভালো হ'তো যদি হ'তাম অন্ধাকালা!!
আরও ভালো হ'তো যদি না পেতাম গন্ধও শালা!!!
গুপ্তধন যদি পেতাম দেখাতাম তোমায়!
কথা দিলাম তোমায়, 
যদি পাই আর পেয়েও যদি না দেখায় 
কেড়ে নিও তায় পুনরায়!!
ধনদৌলত বিষয় সম্পদ কিছুই চাই না!
শুধু তোমাকেই চাই!!
চল ঘোড়া! অন্ধা দৌড়া!! মার হাতোড়া শালা!!! 
এইতো সময়! আর কথা নয়!! 
লাগা কানে তালা!!! মার হাতোড়া! 
মার হাতোড়া!! মার হাতোড়া শালা!!!
অন্যকে নিয়ে আলোচনা ক'রে 
সময় করছো কেন নষ্ট!? কেন?
নিজের লক্ষ্যে থাকো অবিচল, 
যে যা করছে করুক বিকল; 
মাথার উপর আছেন তিনি জেনো।
এ কথাটা জেনো স্পষ্ট।
সবাইকে সুযোগ দেন তিনি 
মানুষের জন্যে কিছু করার! 
শেষের সেদিন আফসোস যেন না হয় 
বন্ধু তোমার; সুযোগ পেয়েও কিছু না করার!!
আজ তুমি অন্যের জীবনে ঢালছো কঙ্কর!
মনে রেখো শেষের সেদিন তোমার ভয়ঙ্কর!!
অন্যের ক্ষতি ক'রে ভাবছো
তুমি থাকবে ভালো!? 
অপেক্ষা করো বন্ধু,
সেই ক্ষতি হাজার গুন আসবে ফিরে জীবনে
হ'য়ে ঘোর আঁধার কালো!!
তোমার ক্ষতি করছে যে জন 
ভাবছো তিনি তা দেখছেন না!? 
শুনছেন না তার কটু কথা!? 
ভাবছো পুজো রুপী ঘুষ দিয়ে 
পেয়ে যাবে পার? ভ্রম তা!
বিজ্ঞান বলে, 
সব ক্রিয়ার বিপরীত ও সমান প্রতিক্রিয়া আছে।
ঈশ্বর বলেন, 
কাউকে ব্যথা দিলে, আঘাত দিলে 
ফিরে আসে তা হাজার গুন হ'য়ে।
(লেখা ১২ই সেপ্টেম্বর'২০১৮)









প্রবন্ধঃ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর: প্রশ্ন ৩) শিক্ষা ও সংস্কৃতি!

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের উপর আমার বিভিন্ন লেখা সম্পর্কে শ্রীশ্রীঠাকুরের শিষ্য নামধারী তথাকথিত মূলকেন্দ্র বিরোধী স্বঘোষিত কিছু সৎসঙ্গী আমার বিভিন্ন লেখায় আমার ও আমার পিতামাতার শিক্ষা, সংস্কৃতির পরিচয়কে টেনে এনেছেন। প্রশ্ন রেখেছেন, আমার লেখায় সৎসঙ্গীদের (ঠাকুর ও ঠাকুর আত্মজদের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী স্বঘোষিত তথাকথিত সৎসঙ্গী) বিরুদ্ধে কেন এত কঠিন কথার প্রহার করছি? কেন তাদের বিরুদ্ধে কড়া শব্দ, কঠিন ভাষা ব্যবহার করছি? এই কড়া শব্দ ও কঠিন ভাষা প্রয়োগের মধ্যে দিয়ে নাকি আমার শিক্ষা-সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়! কথাটা একদিক দিয়ে ঠিকই বলেছেন আমার প্রতি বিক্ষুব্ধ সমালোচক প্রশ্নকর্তা। শিক্ষা-সংস্কৃতির পরিচয় যথার্থই পাচ্ছেন ও পেয়ে যাবেন পাঠককুল সুতরাং আমার প্রতি বিক্ষুব্ধ সমালোচক প্রশ্নকর্তা আপনি/আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন। কিন্তু আশ্চর্য লাগে আমার কড়া শব্দ, কঠিন ভাষা প'ড়ে, শুনে বা দেখে যার বা যাদের গাত্রদাহ হয় তাদের কাছে যারা অশ্লীল, অশ্রাব্য-কুশ্রাব্য শব্দপ্রয়োগে ঠাকুর আত্মজদের গালিগালাজ করে, যাদের বিষাক্ত কথার তাপে-ভাপে ঠাকুর আত্মজদের শরীর নীল হ'য়ে ওঠে, ঠাকুর বিরোধী কুৎসাকারী আদিম জংলীদের জ্বলন্ত আগুন চোখ নেচে ওঠে পিশাচ ভঙ্গিমায় আর মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে সাপ, ব্যাঙ, ইঁদুর, ছুঁচো কথা হ'য়ে, বেরিয়ে আসে পায়খানার খোলা ডাব্বার দুর্গন্ধ তখন তাদের কথা, তাদের ভাষা, তাদের আচরণের মধ্যে কোন শিক্ষা-সংস্কৃতির ছবি ভেসে ওঠে আপনাদের মল চোখে!? কিছু কি ভেসে ওঠে!? কোনও কিছুর কি সন্ধান পান ঐ বিষাক্ত শিক্ষা-সংস্কৃতির আঙিনায়!? পান না। কারণ শারীরিক-মানসিক অন্ধ চোখে কিছুই দেখার উপায় নেই তবু যদি একটা লাঠি থাকতো! এদের বিরুদ্ধে আপনাদের কোনও প্রতিবাদ প্রতিরোধ নেই, নেই কোনও ঠাকুরের জন্য, ঠাকুরের সম্মান রক্ষার জন্য কঠোর, কঠিন, অটল, অবিচল ও অনমনীয় মনোভাব, দৃঢ় মজবুত পদক্ষেপ!!!! এদের বেলায় নামর্দ চরিত্র! নামর্দ বললে নামর্দরাও লজ্জা পাবে, অপমানিত হবে আর কোনও জন্তু জানোয়ারের সঙ্গে তুলনা টানলে বা উপমা প্রয়োগ করলে তাদের প্রতিও অবিচার, অন্যায় হবে! শুধু এটুকুই বলতে পারি আমার শিক্ষা-সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার মধ্যে দিয়ে কি আপনার/আপনাদের ও আপনার/আপনাদের পিতামাতার শিক্ষা, সংস্কৃতির পরিচয় কোন স্তরের তা বুমেরাং হ'য়ে আপনার ও আপনাদের পিতামাতার দিকে ফিরে গেল না!? আপনার পিতামাতা কি দোষ করেছিল!? কোনও দোষ করেছিল কি!? তাই সাধু সাবধান! উপর দিকে থুথু ছেটালে নিজের গায়েই তা পড়ে বন্ধু! তা নিজের গায়েই পড়ে!!!!
আসুন নিজের চরকায় তেল দিই! (লেখা ১২ই সেপ্টেম্বর'২০১৯)

প্রবন্ধঃ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর: প্রশ্ন ৪) মতের অমিল ও অসহিষ্ণুতা।

লেখালেখিকে কেন্দ্র ক'রে মতের আদান প্রদান একটা স্বভাবিক প্রক্রিয়া। মতের মিল হ'তেও পারে আবার নাও হ'তে পারে। এটাও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মাত্র। গ্রহণ-বর্জন দাতা-গ্রহীতা উভয়ের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকা বা না থাকা সেটা ব্যক্তি নির্ভর। এই মতের আদান প্রদানের মধ্যে সুস্থ-অসুস্থ মানসিকতার প্রতিফলন ঘটে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতও হয় বটে। এই গ্রহণ-বর্জন, মিল-অমিল, মানা-না মানা ইত্যাদি সব ব্যাপারটাই প্রতিটি ব্যক্তির মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি, জীবন ধারণ, শিক্ষা, রুচি, পরিবেশ, সঙ্গ, অসহিষ্ণুতা এবং সর্বোপরি ইগো নামক একটা ভয়ঙ্কর সংক্রামক ব্যাধি যা প্রায়শঃই অনিরাময়যোগ্য (নিরাময়ের এক ও অদ্বিতীয় উপায়, পথ বা পথ্য হ'লো পাহাড়কে মহম্মদের কাছে আসা) ইত্যাদিকে ঘিরে আবর্তিত হয়।
যাই হ'ক আমার বিভিন্ন লেখাকে কেন্দ্র ক'রে প্রশংসা-নিন্দার বলয় তৈরি হয়েছে! প্রশংসা যেমন আনন্দ দেয়, শরীর-মনকে প্রফুল্ল ক'রে তোলে ঠিক তেমনি নিন্দা, কুৎসা, গালাগালি আঘাত হ'য়ে বুকে বাজে।
একজন প্রশ্ন করলেন, অন্যের মতের সঙ্গে আপনার মতের মিল না হ'লেই কথার প্রহার করবেন? আমি জিজ্ঞেস করলাম, কার মতের সঙ্গে আমার মতের মিল হয়নি? কে সে? কার কথা বলছেন? তখন কথা ঘুরিয়ে দিয়ে বললেন, সে যেই হ'ক, আপনি কথার প্রহার করতে পারেন কিনা বলুন? আমি বললাম, আরে বাবা! এ তো অদ্ভুত ব্যাপার! ধর নেই, লেজ নেই, পেটি দেখে বলো দেখি এটা কি জীব! ব্যাপারটা তাই হ'লো নাকি!? ওপার থেকে অনেকক্ষন কোনও কমেন্ট নেই! অনেকক্ষন পর ভেসে উঠলো কমেন্ট বক্সে, আপনি একটা বিষাক্ত সাপ!
আমি লিখলাম, আপনি ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুন আপনি উত্তেজিত হ'য়ে কিসের প্রহার করলেন! আপনি কি অন্যের হ'য়ে জোয়াল টানছেন? নাকি আপনি নিজেই সেই ব্যক্তি যার মতের সঙ্গে আমার মতের মিল না হওয়ায় এই আক্রমণ? কারণ যাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমার কথার চাবুক সেটা ঘুরে দিক পরিবর্তন ক'রে আপনার দিকে ঘুরে গিয়ে আপনাকে অসহিষ্ণু ক'রে তুললো! কেন? তাহ'লে কি ধ'রে নিতে হবে এই আপনিও তাদের একজন!? ছুপা রুস্তম! এটা কি "চোরের মন বোঝকার দিকে" হ'লো না? হ'লো নাকি, "ঠাকুর ঘরে কে? আমি কলা খাইনি!" আপনার প্রশ্নগুলি কি প্রবাদের মত হ'য়ে গেল না!?
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কোনটা মত? কুৎসা, নিন্দা, গালাগালি, উগ্র কুৎসিত সমালোচনা কি মতের মধ্যে পড়ে? অসহিষ্ণু মানুষের সঙ্গে কি মতের আদান প্রদান চলতে পারে? মতের আদান প্রদানের মধ্যে কি তর্ক চলে? মত বিনিময়ে কি হারজিতের কোনও স্থান আছে? মত বিনিময় কি জ্ঞানের পরিধি বিস্তারের অন্তরায় নাকি সম্পর্কে ফাটলের কারণ? মত বিনিময় কি লক্ষ্যহীন ও লক্ষীছাড়া অসভ্য বর্বরোচিত হয়? কারও প্রতি কারও অশ্লীল মন্তব্যের (?) পরিপ্রেক্ষিতে যদি কেউ সেই অশ্লীল মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া কথার চাবুক চালায় তাহ'লে কি সেই কড়া কথার প্রহারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবার জন্যে মতের দোহাই দিয়ে মিল-অমিলের প্রশ্ন তুলে ধরতে হবে!?
যাক, যার পাঁঠা সে লেজে কাটবে কি মাথায় কাটবে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার!
তবে সে দিনও বেশিদূর নেই একদিন আসবে যেদিন নিজের পাঁঠা ব'লে যেমন ইচ্ছা কাটবো তাও নিষিদ্ধ হবে। কারণ সভ্যতার অগ্রগতি অন্তহীন!!! (লেখা ১২ই সেপ্টেম্বর'২০১৯)

কবিতাঃ নিরালা নিকেতন!!

হামিমদা,
যত দূরে গেছি তত মন বলেছে, 'ফিরে চল মন নিজ নিকেতন!'
কবিতায় যত ডুব দিই তত পঙক্তি বলে,
'যেথা আছে আমার বড় প্রিয়, বড় আপনজন!!'
পারি না ফিরিতে, পারি না বলিতে, পারি না সহিতে আর.........
স্মৃতি নিয়ে আছি বেঁচে, স্মৃতি নিয়ে চাই চলে যেতে বন্ধু তোমার!!
থাক চাপা যত পুরাতন........., ঝাঁপি খুলে যাক আর চাই না এখন!
স্মৃতির যাতনা ভুলে যেতে চাই স্মৃতিভ্রংশ শেষ জীবন;
হামিমদা! চাই এক শান্ত শান্তিময় নিরালা নিকেতন!!
(লেখা ১১ই সেপ্টেম্বর'২০১৮)

কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর: প্রশ্ন ২) লেখায় উপমা প্রয়োগ!

কোন বিষয়কে কেন্দ্র ক'রে লেখালেখির সময় স্বাভাবিকভাবেই কিছু প্রবাদ বা উপমা প্রয়োগ করেন লেখক-লেখিকারা। যদিও আমি কোনও লেখক নই, ওই মাঝে মাঝে সামাজিক প্রেক্ষাপটে চোখের সামনে কিছু যখন ভেসে ওঠে তখন শব্দ দিয়ে দু'একটা মালা গেঁথে ফেলি আর সেগুলি আমার টাইম লাইনে পোষ্ট ক'রে দিই; এই যা মাত্র। ফেসবুককে মনে করেছিলাম সামাজিক আন্দোলনের একটা স্ট্রং মাধ্যম! ভেবেছিলাম ফেসবুকের মধ্যে দিয়ে সমাজকে সচেতন করার জন্য একটা সুসংবদ্ধ উচ্চমার্গীয় গণ আন্দোলন গড়ে তোলা যাবে! যদিও সেই আশায় এখনো পুরোপুরি ভাটা পড়েনি, কারণ আশায় মরে চাষা! কিন্তু ফেসবুক যদিও সেই আশা এখনো জাগিয়ে তুলতে পারেনি। উল্টে বিপরীত প্রতিক্রিয়া প্রবল! মিথ্যাচার, ব্যক্তিগত কুৎসিত আক্রমণ, দলীয় ক্ষুদ্রতর স্বার্থে প্রচার ইত্যাদি ইত্যাদির রমরমা প্রদর্শনে ফেসবুক অলংকৃত ক'রে রেখেছে! তবুও আমার বিশ্বাস ফেসবুককে জন সমাজের সর্বদিকের সুশিক্ষার শক্তিশালী মাধ্যম করা যেতে পারে তা সে যতই নেগেটিভ আবহাওয়া প্রবল হ'ক না কেন।
যাই হ'ক, এই আশাকে জাগিয়ে রাখার প্রয়াসে মাঝে মাঝে চেষ্টা করি মনের কিছু ভাবকে ছড়িয়ে দিতে। এমনই কোনও কোনও লেখাকে কেন্দ্র ক'রে কেউ কেউ আমায় প্রশ্ন করেন, আমি যে উপমা সহযোগে আমার লেখা পোস্ট করি তা কাউকে বলা উচিত কিনা। আমি তাদের সবিনয়ে জিজ্ঞেস করতে চাই, কোন ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য ক'রে আমি কি কথা বলেছি? কাউকে নাম ধ'রে কি পোষ্টে উল্লেখিত বক্তব্য পোষ্ট করেছি? ফেসবুক পাঠক বা প্রশ্নকর্তা কি বলতে পারবেন কাকে উদ্দেশ্য ক'রে আমি আমার লেখার মধ্যে উপমা বা প্রবাদ প্রয়োগ করেছি?! সমষ্টিকে জড়িয়ে সামাজিক প্রেক্ষাপটের উপর দাঁড়িয়ে, সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা ও ধর্মীয় অবস্থানের উপর ভিত্তি ক'রে কবি, লেখক, শিল্পী ইত্যাদি সমাজ সচেতন ব্যক্তিত্বরা ভুত, বর্তমান, ভবিষ্যতের উপর কবিতা লেখে, গল্প-উপন্যাস-নাটক রচনা করে, ছবি আঁকে, ছবি তৈরি করে। সেখানে কি তাঁরা সামগ্রিক পরিবর্তনের দিশা দেখানোর লক্ষ্যে কোনও একক ব্যক্তি বা বস্তুকে আক্রমণ করে? নাকি পচে যাওয়া, গোদ হ'য়ে ফুলে যাওয়া বা হঠাৎ খতরনাক টিউমারে পরিণত হওয়া ব্যবস্থাটাকে আক্রমণ করে? সমষ্টিকে হাতিয়ার করে নাকি শুধুই ব্যষ্টি নির্ভর মানসিকতা পোষণ করে?! আচ্ছা, সমাজে আতঙ্ক ছড়ানো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আতংকবাদী বললে কি সমাজের সমস্ত মানুষকেই আতংকবাদী ঘোষণা করা হয়?
আর একটা কথা না ব'লে পারছি না; যে বা যারা সমাজে দুর্গন্ধযুক্ত বাতকর্ম ক'রে সমাজজীবনকে দূষিত ক'রে তোলে তাদের উদ্দেশ্যে যদি উপমা বা প্রবাদ প্রয়োগ করা হয় তাতে দোষ বা অপরাধ কোথায়!?
তাই যারা আমাকে উপমা প্রয়োগ যুক্তিযুক্ত কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন তাদের একটা কথায় বলতে পারি আর পারি সেই উপমা প্রয়োগেই!!!!!!
সেই কথায় আছে অর্থাৎ প্রবাদ বলে, "অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ"!!!!!!!!! তাই নাকি!?
(১১ই সেপ্টেম্বর'২০১৯)

Saturday, September 9, 2023

প্রবন্ধঃ ইষ্টভৃতির মোক্ষম উদাহরণ।

শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের 'তোদের চৈতন্য হ'ক' এই বাণীর মর্মার্থ আমাদের বোধগম্য হয়নি আর হ'লেও সযত্নে সচেতনভাবেই এড়িয়ে গেছি।

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র যখন শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ রূপে এসেছিলেন তখন ইষ্টভৃতির আগাম ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর ভক্তদের। কিন্তু জীবকোটি ভক্তেরা তা ধরতে পারেনি তাদের চৈতন্য জাগ্রত না হওয়ার কারণে। আর তাঁর কারণও যে আমরা জীবকোটি মানুষ সেই কথাও শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আমাদের ব'লে গেছেন। আমাদের চৈতন্য জাগ্রত না হওয়ার কারণ আমাদের জীবকোটি মানুষের ছোট্ট হৃদয়খানি বৃত্তি-প্রবৃত্তির গঁদের আঠায় আষ্ঠেপৃষ্ঠে লেপটে থেকে আটকে যাওয়ায়। ফলে রোগ, শোক, গ্রহদোষ, বুদ্ধি বিপর্যয় ও দারিদ্রতার হাত থেকে বাঁচার ও রক্ষা পাওয়ার উপায় পাওয়া সত্ত্বেও সেই উপায় ধরাই পড়লো না বোধে আর তাই অজানার অন্ধকারেই থেকে গেল আমাদের জীবন।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র তাই বললেন,
"বৃত্তি-আঠায় লেপটে থাকে
ছোট্ট হৃদয়খান,
জীবকোটি তুই তা'রেই জানিস
অজানেই স্থান।"
এইরকম ধরতে না পারা বা জ্ঞানত উপেক্ষা করার অনেক বিষয় ছিল। যেমন "পূর্ণজ্ঞান দিলাম না খুব শিগগিরি আসছি" এইটা ছিল তাঁর ব'লে যাওয়া 'তোদের চৈতন্য হ'ক'-এর মূল ইঙ্গিত। অনেক কিছু ইঙ্গিতের ও না বলা বিষয়ের মধ্যে ইষ্টভৃতি ছিল জীবন্মুক্তির অন্যতম মোক্ষম বিষয় ফলে তাঁকে আবার আসতে হবে ব'লে তিনি কথা দিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর আসার পিছনে কারণ ছিল পূর্ণজ্ঞান না দেওয়া। কারণ তখন ক্ষেত্র প্রস্তুত ও উপযুক্ত সময় ছিল না। এই পূর্ণজ্ঞানের মধ্যে ছিল সংসার ত্যাগী সন্ন্যাসীর পরিবর্তে গৃহীসন্ন্যাসীর বিষয় যা আমরা দেখতে পাই শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের প্রয়াণের পরে বিবেকানন্দের পথ অনুসরণের মধ্যে দিয়ে তথাকথিত সংসার ধর্ম ত্যাগের আধিক্যের মধ্যে; তেমনি ছিল মৃন্ময়ী মায়ের পূজোর পরিবর্তে চিন্ময়ী মায়ের পূজো প্রচলন ইত্যাদি।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ রূপে এসে 'তোদের চৈতন্য হ'ক' বলতে তাঁর পুনরায় আগমনের ইঙ্গিত ছাড়া অন্যতম মূল যে কথা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন তাঁর অনুগামী শিষ্যদের কাছে সাধুর সঙ্গে কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে সেই কথা, সেই ইঙ্গিত, সেই অনুশাসন এবার এসে উপযুক্ত সময় ও ক্ষেত্র প্রস্তুত হওয়ায় সরাসরি ইষ্টভৃতি চালু করার মধ্যে দিয়ে সেই ইঙ্গিতের পূর্ণতা দিলেন। পূর্ণতা দিলেন দিনের শুরুতেই ইষ্টের ভরণ পোষণের দায়িত্ব পালনের জন্য ইষ্টভৃতি প্রথা চালু করার মধ্যে দিয়েই। পূর্ণতা দিলেন আমাদের মানবজাতির জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রোগ, শোক, গ্রহদোষ, বুদ্ধি বিপর্যয় ও দারিদ্রতার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য, বাঁচাবার জন্য।
কিন্তু আমরা বাঁচার, রক্ষা পাওয়ার মোক্ষম তুক বা মেডিসিন লাভ করার পরও কি বাঁচতে পারছি বা রক্ষা করতে পারছি নিজেকে ও পরিবারের প্রিয়জনদের????????????
ইষ্টভৃতির মোক্ষম উদাহরণ হ'লো শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের সাধুবাবার সঙ্গে সেই কথোপকথনের গল্প।
সেই সাধুবাবার সঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের কথোপকথনের গল্পটা কি?
একবার এক সাধু ঠাকুর রামকৃষ্ণের কাছে এসে বললেন, কী করলেন আপনি সারা জীবন সাধনা করে? আমি ৩০ বছর সাধনা ক’রে এখন হেঁটে নদী পার হ’ই! আপনি?
ঠাকুর রামকৃষ্ণ হেসে বললেন, যেখানে ১ পয়সা দিলেই আমাকে পার ক’রে দেয় মাঝি সেখানে ৩০ বছর নষ্ট ক’রে কি লাভ!
এই গল্পের মধ্যে দিয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ এই ভবসাগরের যিনি মাঝি তাঁকে বাস্তবভাবে পালনপোষণের দায়িত্ব গ্রহণের যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ১ পয়সা উল্লেখের মধ্যে দিয়ে সেই ইঙ্গিতই আজকের ইষ্টভৃতি। জীবনের শুরুতেই অতি প্রত্যূষে এই ইষ্টভৃতি পালনের কথা তিনি বলেছিলেন যাতে অকারণ অর্থহীন ও ইষ্টের সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্রহীন কষ্টকর দীর্ঘ সাধনার মধ্যে অল্প সময়ের জন্য আসা এই ভবসাগরে অর্থাৎ সংসার সমুদ্রে সময় নষ্ট করা না হয়। এবার এসে সেই ইঙ্গিতকেই সরাসরি 'ইষ্টভৃতি' রূপে বেঁধে দিয়ে গেলেন যাতে সহজেই আমরা এই স্বতঃস্বেচ্ছ, অনুরাগ উদ্দীপী, আগ্রহ-উচ্ছল ও অপ্রত্যাশী অর্ঘ্যাঞ্জলী তাঁকে অর্পণ করতে পারি।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের পূর্ব রূপ শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণের ইষ্টভৃতির স্বপক্ষে এই কথোপকথনের গল্পটাই ছিল 'তোদের চৈতন্য হোক!' এই কথার মোক্ষম উদাহরণ।
আর তাই শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ এবার নবরূপে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র হ'য়ে এসে এই ধর্ম্ম জগতের সঙ্গে যুক্ত ঈশ্বর উপাসনা ও সাধন জগতে অবস্থানকারী সমস্ত সাধক-সাধিকাদের উদ্দেশ্যে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বললেন,
"হ'স্ না যোগী, হ'স্ না ধ্যানী,
গোঁসাই-গোবিন্দ যা'ই না হ'স,
যজন-যাজন-ইষ্টভৃতি
না করলে তুই কিছুই ন'স্।"---------প্রবি।
(লেখা ২রা সেপ্টেম্বর' ২০২৩)



প্রবন্ধঃ সব একঘেয়ে, ইউটোপিয়া।

দূর্দান্ত, অসাধারণ অভিনয়!!!!!!

কিন্তু এগুলি এখন সব বস্তাপচা আদর্শহীন সাবজেক্ট লাগে। সব একঘেয়ে, ইউটোপিয়া। জীবনের সেই যে যৌবনের শুরুর দিনগুলি সত্তর দশক,(নাটকের সুবর্ণ যুগ) তখন থেকে এরকম অজস্র নাটক দেখে এসেছি, দেখে এসেছি সমাজ ব্যবস্থার জ্বলন্ত নগ্ন সত্য নিয়ে লেখা বাম জমানার নাটক! নাটকের দলে থেকে মাঠে ময়দানে বিভিন্ন নাট্য প্রতিযোগীতায় বিখ্যাত বিখ্যাত নাট্যকার, পরিচালক ও অভিনেতাদের সাথে অভিনয় ও সঙ্গ করেছি। ৭০দশক ছিল বাংলার বুকে নাট্য আন্দোলনের অভূতপূর্ব যুগ! অনন্যসাধারণ সব বলিষ্ঠ নাট্যকার ও শক্তিশালী পরিচালকের অপূর্ব পরিচালনায় অসাধারণ অভূতপূর্ব সব নাটক ও নাটকের সংলাপ যা আজও মনে আছে। মনে আছে সেইসব শক্তিমান অসামান্য প্রতিভাশালী অভিনেতাদের দ্বারা নাটকের বলিষ্ঠ অভিনয় সেই বাম জমানার শুরুর আগে থেকে গণনাট্যের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে ও নাটক নিয়ে পড়াশোনার সুবাদে। তারপর ক্ষমতা দখলের কিছুদিন পর সব দেখলাম আস্তে আস্তে বেরিয়ে পড়ছে সুন্দর সুন্দর মুখের ভেতর থেকে রক্তাক্ত সূচলো দাঁত আর হাতের বাঘনখ পথেঘাটে, পাড়ায়পাড়ায়, অফিসে-কাছারিতে, কলে-কারখানায় সরকারি-বেসরকারী সমস্ত ক্ষেত্রে!


তারপর ৩৪বছরের অচলায়তনকে সরাতে আবার দিনবদলের নাটক দেখেছিলাম ও শুনেছিলাম অসাধারণ বলিষ্ঠ সংলাপে ভরা নাটক ও ভাষণ। সংবাদপত্রে পড়তাম কুণাল ঘোষের বলিষ্ঠ কলমের অসাধারণ সাংবাদিক প্রতিবেদন যা সংগ্রহ ক'রে রাখতাম। দিন বদলের অনেক পড়ে বুঝেছি ওসব ছিল সব কলমের নীল মূত্রপাত। নাট্যকার ব্রাত্য বসুর সাড়া জাগানো নাটক, তার নাটক বন্ধের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদ ও প্রতিবাদের ভাষা ও এভিপি আনন্দের টিভি-র পর্দায় সেই সন্ধ্যার অসাধারণ ইন্টারভিউর অসাধারণ কথাগুলি যা টিভির সামনে বসে বসে গ্রোগ্রাসে গিলতাম এবং নোটবুকে লিখে রাখতাম উৎসাহের আতিশয্যে কিন্তু তখন বুঝিনি এ সবই যাদুকরের হাত সাফাইয়ের মতো, মাদারি কা খেলের মতো মুখ আর মুখোশের খেলা। পরে নিজের উৎসাহের আতিশয্য ও বেকুবির জন্য নিজের কাছে নিজের লজ্জা লাগতো। প্রায় দীর্ঘ ৭০বছরের সফর শেষে শূন্য হাতে জীবন সায়াহ্নে এসে বুঝেছি লেখক-পাঠক, বক্তা-শ্রোতা, অভিনেতা-দর্শক, নেতা-জনগণ, মালিক-কর্মচারী ইত্যাদি ইত্যাদি সব সব দু'টাকার চরিত্র। সব ইউটোপিয়া!!!

আর, ব্যতিক্রম? ব্যতিক্রম আছে। ব্যতিক্রম আছে বলেই এখনও সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে আর পশ্চিমদিকে অস্ত যায়। ব্যতিক্রম আছে বলেই মহাশূন্যে এখন বাতাস বয়। ব্যতিক্রম আছে বলেই এখনও সূর্য নিভে যায়নি। ব্যতিক্রম আছে বলেই এখন নদী দিয়ে জল ব'য়ে যায় অবশেষে সাগরে মেশে। ব্যতিক্রম আছে বলেই এখন মহাশূন্যের অন্য গ্রহের মত এই গ্রহের জলের ধারা এখনও শুকিয়ে যায়নি। ব্যতিক্রম আছে বলেই এখনও ঋতু পরিবর্তন হয়। ব্যতিক্রম আছে বলেই এখনও সৃষ্টিকর্তা মাটিতে ল্যান্ড করার মত উপযুক্ত জমি পান। আর, ব্যতিক্রম আছে বলেই এখনও আমরা জীবন্ত সৃষ্টিকর্তার স্পর্শে তাঁর মুখের দিকে চেয়ে এখনও বেঁচে আছি, শ্বাস নিই, বাঁচার প্রেরণা ও শক্তি পাই। নতুবা------। একদিন আসছে 
সেইদিন

(লেখা ৪ই সেপ্টেম্বর'২০২৩)

https://www.facebook.com/abhijit.kundu.5454/videos/1700002880516330