Powered By Blogger

Wednesday, March 30, 2022

উপলব্ধি ৩১ঃ আনন্দের ফেরিওয়ালা!

সকালবেলায় বেরিয়েছিলাম সাংসারিক কয়েকটি কাজে। গত কয়েকদিন রামনবমী উপলক্ষ্যে আয়োজিত 'বিশেষ সৎসঙ্গ' এর জন্য মানসিক ও শারীরিক ব্যস্ততার চাপ জীবনকে অন্তর্মুখী ক'রে রেখেছিল। প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট নানারকম অবাঞ্ছিত বাধাবিঘ্ন কাটিয়ে যখন অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে শেষ হ'ল ও অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য সফল হ'ল তখন অনাবিল এক আনন্দে ভেসে যেতে চাইলো মন। ভাবলাম, যাক সারা রাজ্য তথা দেশ জুড়ে পরমপ্রেমময় পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীরামচন্দ্রের জন্মদিন নিয়ে শুভ রামনবমীতে অবাঞ্ছিত উন্মাদনার মাঝে প্রকৃতির রোষ নিয়ে যে পবিত্র দিনটা শেষ হ'লো সেই দিনটার সাক্ষী হ'য়ে রইলাম আমি ও আমার গুরুভাইবোনেরা মর্যাদা পুরুষ পরমপ্রেমময় পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীরামচন্দ্রের নতুন রূপ পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের 'মাতৃসম্মেলনসহ বিশেষ সৎসঙ্গ' আয়োজনের মধ্যে দিয়ে। হঠাৎ ওঠা কালবৈশাখীর দমকা হাওয়ার সাথে প্রবল ঝড়বৃষ্টিকে মোকাবিলা ক'রে তুমুল "রঘুপতি রাঘব রাজা রাম আর অনুকূল নামের জোয়ার এলো ভাসিয়ে দে না তরী" গানে ভেসে গেল চারপাশ। ভরপুর হ'য়ে গেল শরীর-মন-আত্মা!!!!! কিন্তু এত আনন্দ ফেরির মাঝেও যেন মনে হচ্ছে একটা ছন্দপতনের সুক্ষ্ম আওয়াজ ভেসে আসছে কানে! মনে হচ্ছে কোথায় যেন কেটে গেছে সুর, তাল, লয়!! কোথায় যেন একটা বড় ফাঁক সৃষ্টি হ'য়ে গেছে!!! কারা যেন বিষাদের কালো ছায়ায় ঢেকে দিতে চাইছে আনন্দের আকাশ!!!! কেন এমন হ'লো!? এ কিসের লক্ষণ!! কিসের ইঙ্গিত!!! যাই হ'ক, তবুও মনটাকে চাপমুক্ত রাখতে একটু রিল্যাক্স মুডে বেরিয়েছিলাম বাইরে, সংগে অনেকগুলি সাংসারিক কাজ নিয়ে। কয়েকটা কাজ শেষ ক'রে যখন অন্য একটা কাজে অগ্রসর হয়েছি সেইসময় একজন পাড়ার পরিচিত ডেকে দাঁড় করালো আমায়। কুশল বিনিময়ের পর সে রামনবমীতে অনুষ্ঠিত সৎসঙ্গ সম্পর্কে কথা তুললো। কথাপ্রসঙ্গে সে জানালো তার দুঃখের কথা। কয়েক বছর হয়েছে অবসর নিয়েছে। অবসরের কয়েক বছর পর কিছুদিন আগেও হেঁটেচলে বেড়ানো মানুষটা হঠাৎ শয়তানের ছোবলে এখন স্বাভাবিক হাঁটাচলা হারিয়েছে। আগের মত আর দৌড়ঝাঁপ করতে পারে না, হাতে লাঠি নিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটাচলা করতে হয়। আমার সাথে দেখা হ'লে একটু দাঁড়িয়ে কথা বলে। বুকের মধ্যে জমে থাকা কথা বেরিয়ে আসে অনর্গল। বুঝতে পারি চারপাশে প্রত্যেকেই বুকের মধ্যে একা একা বাস করে অনেক দুঃখ যন্ত্রণা নিয়ে; উপরে প্রকাশ পায় না, একান্তে বেরিয়ে আসে সেসব। যাক সেসব কথা, আমাকে সে যা জানালো তা'তে বুঝতে পারলাম আমাদের কোন সৎসঙ্গী গুরুভাই তার সংগে কোনও অন্যায্য আচরণ করেছে যার জন্য তার মনে হয়েছে আমাকে তা জানানো দরকার আর তাই সে জানিয়েছে। নানাকথায় বুঝতে পারলাম তার নিকট জনদের মধ্যে কেউ ঠাকুরের দীক্ষিত; সে এ কাজ করেছে অর্থাৎ তাকে খোঁড়া, ল্যাংড়া ইত্যাদি ব'লে খোঁটা দেয়, ব্যঙ্গ করে। ঈশ্বরের অভিশাপ ব'লে গায়ের ঝাল মেটায়। বলতে বলতে তার চোখে জল এলো। আমি চুপ ক'রে শুনছিলাম আর ভাবছিলাম এই মানুষটার আমার গুরুভাইয়ের ব্যবহারে ঠাকুরের কাছে আসার রাস্তা বোধহয় বন্ধ হ'য়ে গেল। এটাই স্বাভাবিক ও বাস্তব যে আমার মন্দ কাজের দায় আমার পিতার না হ'লেও আমার পিতাকে আমার জন্য অপমানিত হ'তে হয়, লাঞ্ছিত হ'তে হয়। শুনতে হয় অমুক বাবুর ছেলে বলে। আমি তাকে বললাম, একজন তোমাকে খারাপ কথা বললো, খারাপ ব্যবহার করলো সেটা তোমার মনে দাগ কেটে যায় আর আমি যে তোমায় ভালোবাসি সেটা তোমার মনে দাগ কাটে না কেন? দশজনের মধ্যে নয়জন তোমায় আঘাত দেবে একজন তোমায় এত ভালোবাসা দেবে যে ঘটি উপচে জল পড়ার মত ভালোবাসা উপচে পড়বে সেটা তোমার ক্লান্ত শরীর মনকে একেবারে ভিজিয়ে দেবে। সেটা ভেবে দ্যাখো না কেন? আর তোমায় কেউ আঘাত করুক সেই সুযোগও তুমি কাউকে দাও কেন? তোমার কোন ত্রুটির জন্য এমনটা হয় সেটা কখনো ভেবে দেখেছো কি? এছাড়া সৎসঙ্গী, গুরুভাই, ঠাকুরের দীক্ষিত বলেই কি সে মহান মানব হ'য়ে গেছে? দেবতা হ'য়ে গেছে? ঠাকুর বলেছেন, "স্কুলে গেলেই তা'কে ছাত্র বলে না আর, মন্ত্র নিলেই তা'কে শিষ্য বলে না, হৃদয়টি শিক্ষক বা গুরুর আদেশ পালনের জন্য সর্ব্বদা উন্মুক্ত রাখতে হয়। অন্তরে স্থির বিশ্বাস চাই। তিনি যা'ই ব'লে দেবেন তা'ই ক'রতে হবে, বিনা আপত্তিতে, বিনা ওজরে বরং পরম আনন্দে।" আমরা কি ঠাকুরের কথা কেউ মেনে চলি না চলার চেষ্টা করি? তাই, এদের কথা ভেবে সময় নষ্ট ক'রে, শরীর মনকে কষ্ট দিয়ে লাভ নেই। Be practical. Be calm & quite. যে আমাকে ভাবে না তাকে নিয়ে দিনরাত ভেবে ভেবে কষ্ট পাওয়ার কোনও লাভ নাই। যে আমাকে নিয়ে ভাবে, আমার নিয়ে চিন্তা করে তাকে নিয়ে ভাবো, তার জন্য করো। এমন কেউ বান্ধব তোমার আছে কি, এমন কোনও বান্ধব সমাজে তুমি তৈরী করে রেখেছো কি যে তোমাকে নিয়ে ভাবার মত তার অমূল্য সময় নষ্ট করবে? যদি না থেকে তাহ'লে এসো ঈশ্বর আছেন একমাত্র যিনি আমি তাঁকে নিয়ে না ভাবলেও তিনি আমাকে নিয়ে প্রতিনিয়ত ভাবেন, এসো তাঁর স্মরণাপন্ন হ'ই, তাঁকে ভাবি, তাঁকে ভালোবাসি; তাহ'লে তুমি ভালো থাকবে বাকি জীবন। এতসব কথা বলার পর তার মনটা একটু যেন শান্ত হ'ল। আমার দিকে তাকিয়ে হেসে দিল। একগাল হাসি দেখে আমারও মনটা আনন্দে ভরে গেল। গায়ে হাত রেখে বললো, দ্যাখো, তোমার কাছে কথা ব'লে মনটা হালকা হলাম। এখন আর মনের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব নেই, নেই কোনও কষ্ট। এখন আমার আনন্দ হচ্ছে। কত কিছু জানা গেল তোমার সংগে কথা বলে। এরকম যখন কথা বলছি তখন দেখলাম আমার থেকে কিছু দূরে দাঁড়িয়ে একজন আমাকে ডাকছে আর বলছে, দাদা, একটু ধরুন, একটু ধরুন। তাকিয়ে দেখলাম, দুজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। তার মধ্যে একজন অন্যজনকে দু'হাতে জড়িয়ে ধ'রে আছে আর লোকটা সমস্ত শরীর ছেড়ে দিয়েছে তার উপর। আশেপাশের সকলকে ডাকাডাকিতে অনেকে জড়ো হ'য়ে গেল। একজন মা জল নিয়ে এলেন; লোকটার চোখেমুখে ছিটিয়ে দেওয়া হ'লো। পাশের বাড়ি থেকে এক মা একটা পাখা নিয়ে এলেন, আমার হাতে দিয়ে বললেন একটু হাওয়া করতে। আমি হাওয়া করতে লাগলাম আর যে জল ছিটিয়ে দিচ্ছিল তাঁকে বললাম চোখমুখের সংগে ঘাড়ে ও কানে জল দিতে। ইতিমধ্যে যেখানে ঘটনাটা ঘটেছে সেখানে পাশেই একজন ডাক্তারের বাড়ি সেইসময় তিনি বাইরে এসেছিলেন তিনি এগিয়ে এসে বললেন অসুস্থ মানুষটার জামাটা খুলে দিয়ে শুইয়ে দেবার জন্য। একজন অ্যাম্বুলেন্স আনার জন্য বললেন। এর মধ্যে লোকটা চোখ খুলে তাকালো, আমি হাওয়া করতে করতে বললাম কেমন লাগছে এখন? লোকটা ধীরে ধীরে বলল, এখন ভালো লাগছে। আমি ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলাম, কি হয়েছে? লোকটা চোখ খুলে তাকাতেই ডাক্তারবাবু ফিরে গেলেন। ফিরে যেতে যেতে বললেন, কি ক'রে বলবো কি হয়েছে? কি অসুখ আছে ভিতরে তাতো জানি না। এই কথা ব'লে ডাক্তারবাবু ঘরে ঢুকে গেলেন। আমি তার ঘরে ঢুকে যাওয়ার পথের দিকে চেয়ে রইলাম ভাবলাম...............!!! দূরে একটা রিক্সা দাঁড়িয়েছিল। বউয়ার রিক্সা। অদভুত নাম! অদভুত চেহারা! যেমন রোগা তেমন লম্বা। আর সবসময় খেয়ে থাকে। তবে, রিক্সা ঠিকঠাক চালায়। একটায় অসুবিধা শুধু, তা হ'লো ৫মিনিটের রাস্তা ২০মিনিট লাগিয়ে দেয়। এই অসুস্থ লোককে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই লোকই শ্রেয়। রিক্সা আসার পর অসুস্থ মানুষটিকে রিক্সায় তুলে দিয়ে হাসতে হাসতে বললাম, কি হ'লো হঠাৎ? কিচ্ছু চিন্তা করবেন না, এরকম হ'তেই পারে। খালি পেট কিম্বা গ্যাসের জন্য হ'তে পারে। এ এমন কিছু না। আপনি ভালো হ'য়ে গ্যাছেন। হয়তো রোদে মাথা ঘুরে গ্যাছে। বাড়ি গিয়ে একটু খেয়ে শুয়ে থাকবেন। সঙ্গের লোকটিকে বললাম, ডাক্তার দেখিয়ে একটু প্রেসারটা চেক করিয়ে নেবেন। অসুস্থ লোকটি হেসে মাথা নাড়ালো। রিক্সা ধীরে ধীরে এগিয়ে চললো। লোকটির দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলাম। যাক বিপদ মোটামুটি কেটে গেছে। মনে আনন্দ হ'লো যাক হাসি মুখে ফিরে যাচ্ছে লোকটি বাড়ি। পরে জানা গেল লোকটি বাড়ি থেকে সকালবেলা খালি পেটে বাইরে এই রোদের মধ্যে বেরিয়ে পড়েছিল আর তাইতে মাথা ঘুরে যায়। ফলে বিপদজনক ঘটনা ঘটে যায়। কিন্তু বেশী কিছু বাড়াবাড়ি হয়নি। যাই হ'ক বড় কিছু হওয়ার আগেই ঈশ্বরের কৃপায় লোকটি স্বাভাবিক চেতনায় ফিরে আসে ও বাড়ি ফিরে যায়। যাওয়ার আগে আমার দিকে চেয়ে একটা হালকা মিষ্টি হাসি ছড়িয়ে দিয়ে গেল। মনে বেশ আনন্দ হ'লো। নিজেকে হালকা বোধ হ'লো আমার। লোকটি চলে যাবার পর সবাই যে যার মত চলে গেলে আমিও আমার গন্তব্যের দিকে রওয়ানা দিলাম। মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগলো, কখন যে কার কি হয় কেউ জানে না!!!!!!!!
(৩১শে (মার্চ ২০১৮ লেখা) 

Monday, March 21, 2022

কেউ কি নেই?

কেউ কি ভালোবাসার কথা বলবে না!? 

কেউ কি প্রেমের বাতাস ছড়াবে না!?

কেউ কি নেই প্রেম ভালোবাসার জন্য জীবন বলি দেবে?

সবাই রেগে আছে! ঘরে বাইরে সবাই তপ্ত, উত্তপ্ত! 

সবাই ছড়াচ্ছে ক্ষোভের আগুন! 

সত্যি হ'ক আর মিথ্যা হ'ক, বানিয়ে বানিয়ে হ'ক আর ইতিহাস ঘেটে হ'ক 

সবাই আজ হিতাহিতজ্ঞানশূন্য!

ধর্ম, শিক্ষা, রাজনীতি 

সব নীতির আঙিনায় ধুন্ধুমার।

মিছিলে মিটিংয়ে মাইকে হুংকার, 

আলোচনার টেবিলে হুংকার, 

মিডিয়ায় হুংকার, কবিতায়, সাহিত্যে হুংকার! 

কলমের ডগায় আগুন, 

রঙ তুলিতে, সিনেমায় নাটকে গানে আগুন! 

শুধু বাদ প্রতিবাদে মার কাটারি আগুনে হুংকার! 

সত্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা, মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্য, 

সৎ-এর বিরুদ্ধে অসৎ আর অসৎ-এর বিরুদ্ধে সৎ, 

হিংসার বিরুদ্ধে অহিংসা, অহিংসার বিরুদ্ধে হিংসা 

সবাই আজ খড়্গহস্ত! 

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি! 

এলিট সমাজ হয় মুখে কুলুপ আটা ভীষ্ম 

নতুবা নিজ নিজ এজেণ্ডায় মুখর! 

বিদ্রোহ বিপ্লবের তুলছে তুফান। 

হে মানব! শান্ত হও। 

চিত্ত শান্ত স্নিগ্ধ রাখো উত্তাপের মাঝে। 

মিথ্যার বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অসৎ-এর বিরুদ্ধে মুখর হও, 

জ্বালাও আগুন কিন্তু মনে রেখো 

সেই মুখরতায় যেন বিষাক্ত নিশ্বাস না ছড়িয়ে পড়ে,

নিয়ন্ত্রণহীন আগুনের ভয়াবহতায়

জ্বলে খাক না হ'য়ে যায় মনুষত্বের মূল বুনিয়াদ।

এসো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হও,

কঠোর কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তোলো,

কড়া হাতে দমন করো অন্যায়কে কিন্তু ন্যায়ের ওপর দাঁড়িয়ে,

হিংসাকে রুখে দাও পাথুরে মনোভাবে কিন্তু হিংসা দিয়ে নয়,

হিংসাকে হিংসা করো দয়ালের আহবানে

আর নিজের ওপরে হওয়া অন্যায়কে সহ্য করো।

কিন্তু রুখে দাও, দমন করো, নিকেশ ক'রে দাও

অন্যের ওপর হওয়া অন্যায়কে, নির্মম নিষ্ঠুরতাকে।

আর প্রেম ভালোবাসায় ভরিয়ে দাও বিশ্ব চরাচর।

শয়নে স্বপনে জাগরণে ধ্বনিত হ'ক

আর চরিত্রে গড়ে উঠুক 

প্রেমময় জীবন্ত ঈশ্বরের বাণীঃ

প্রেমকে প্রার্থনা করো আর হিংসাকে দূরে রাখো।--------প্রবি

Thursday, March 17, 2022

শয়তান আর ভগবান।

ঈশ্বর বিশ্বাসী ধার্মিকদের রাজনীতির লোকেরা দুর্বল ভাবে। ভাবে এরা ভাবপ্রবণ, আবেগ সর্বস্ব। ভাব আর আবেগকে এরা দুর্বলতা মনে করে। মনে করে এরা কোনো কাজের না। সমাজ বা রাষ্ট্র গঠনের কাজ রাজনীতি বা রাজনৈতিক নেতার। কিন্তু ভারতের প্রাচীন ইতিহাস তা বলে না। ধর্মের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতির উত্থান আর ঈশ্বর বিশ্বাসী ধার্মিক প্রকৃত রাজনৈতিক নেতা। রাজনীতির রাজনীতি ধর্মনীতি আর নেতার নেতা ধর্মনেতা। ধর্ম মানে স্বপারিপার্শ্বিক বাঁচা বাড়া। আর স্বপারিপার্শ্বিক বাঁচাবাড়ার নীতিই ধর্মনীতি। তাই ঈশ্বর বিশ্বাসী ধর্মীয় নেতাদের ভাবুক আবেগ সর্বস্ব দুর্বল ভাবা মূর্খতা। ভাব নেই, আবেগ নেই সেই নেতা সাক্ষাৎ শয়তান। ভাবুক আবেগ সর্বস্ব সক্রিয় মানুষ ভগবান। প্রবি।

Wednesday, March 16, 2022

উপলব্ধি ৩০ঃ সভ্যতা ও শোষিত মানুষের সংকট!

চতুর্দিকে শুনি শুধু সভ্যতার সংকট আর সভ্যতার সংকট আর শোষিত মানুষের মুক্তির শ্লোগান! সেই কবে থেকে শুনে আসছি যখন ছিলাম ছোট্ট তখন থেকে আজও এই জীবন সায়াহ্নে! প্রজন্মের পর প্রজন্ম এইভাবেই সেই যাবতীয় সংকট থেকে মুক্তির লড়াইয়ের "সেই ট্রাডিশান সমানে ব'য়ে চলেছে" আর চলেছে কলমের নীল মূত্রপাত! সভ্যতার সঙ্কট আর শোষিত মানুষের মুক্তি কে, কোন মহাত্মা চাননি? গোড়া কেটে আগায় জল দেবার মত যত মতবাদের আস্ফালন আর দিন শেষে মুখ থুবড়ে জটায়ুর মত ডানা কেটে পড়ে থাকা! এই তো আল্টিমেট প্রাপ্তি! তাই নয় কি? কেন এমন হয়? কেন রাবণেরা বারবার জটায়ুর ডানা কাটায় সফল হ’য়ে দিগ্বিজয়ের হুঙ্কার ছাড়ে!?

 সভ্যতার আর শোষিত মানুষের যে সংকট সেই সঙ্কটের কথা নানাভাবে নানা মতবাদে ব্যক্ত হয়েছে, হয়েছে বিশ্লেষণ দেশে বিদেশে নানা মুনির নানা মতে। কিন্তু গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না-র মত দেশী মুনির মতবাদ বা বিশ্লেষণের চেয়ে বিদেশী পণ্যের কদরের মত বিদেশী মতবাদে বা বিশ্লেষণে আকৃষ্ট হয়েছি, হ’য়ে চলেছি আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম। আর দেশী মতবাদকে নিজের মত ক’রে সাজিয়ে নিয়ে সেজেছি 'যেমন খুশী সাজো' প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মত আর মুক্তির মঞ্চে সংকট মোচনে ‘মুশকিল আসান করে ওগো......’ ব’লে গেয়েছি মুক্তির গান। সমাজ জীবনে দেখা গেছে ‘আপন বা ঘর চেয়ে পর ভালো’ তত্ত্বে ভরসা রাখতে অতি বিজ্ঞ মানুষজনকে। কিন্তু দিন শেষে সূর্য যখন ঢ’লে পড়ে পশ্চিমাকাশে তখন তাদের আবার মনে হয়েছে ‘পর চেয়ে ঘর ভালো’! মন বলে, ফিরে চলো মন সেই নিকেতন, যেথায় আছে বাঁধা শৈশব আর কৈশোরের হৃদস্পন্দন! ততদিনে সব শেষ! মাথার ওপর সংকট সূর্যের প্রখর তেজ জ্বালিয়ে দিচ্ছে পশ্চিমাকাশে ঢ’লে পড়া বার্ধক্য। 

সে যাই হ’ক, যার যা লাগে ভালো। প্রত্যেকেই স্বাধীন, আমাদের ইচ্ছেটা আমাদেরই; গ্রহণ ও বর্জন একান্তই ব্যক্তিগত। কিন্তু প্রশ্ন জাগে মনে, সভ্যতার আর শোষিত মানুষের যে সংকট সেই সংকটের মুক্তির বাদ, বিশ্লেষণ আউড়ে যাই আমরা গরুর জাবড় কাটার মত যুগ যুগ ধ’রে কিন্তু একবার কেন ভেবে দেখি না এই রাবণদের হাত থেকে জটায়ুদের রক্ষা করার বা বাঁচাবার চিরন্তন উপায়টা কি? কেন রাবণরা বারবার ডানা ছাঁটার কাজে সফল হয়? কেন রাবণদের এত বাড়বাড়ন্ত? কেন রাবণরা আসমুদ্রহিমাচলব্যাপী সাম্রাজ্য বিস্তারে সিদ্ধহস্ত? কেন, কি জন্য, কি দোষে, কিসের ভুলে জটায়ুদের ডানা কাটা যায়, পড়ে থাকে মুখ থুবড়ে বনে-বাদাড়ে, পথেঘাটে বারবার? এর বিশ্লেষণ কি মহাত্মারা করেছেন? এই সংকট থেকে মুক্তির উপায়ের বাদ বা কোনও বিশ্লেষণ কি তাঁরা বলেছেন বা করেছেন নাকি পথ দেখিয়েছেন? 

উত্তর কি এখন!?

( লেখা ১৬ই মার্চ' ২০১৮ )

Sunday, March 13, 2022

এলিট সমাজের বৈশিষ্ট্য।

 ভাসা ভাসা ভাবে কোনোকিছু দেখা আমাদের তথাকথিত এলিট সমাজের বৈশিষ্ট্য। দিদি নং ওয়ানের সঞ্চালিকাও তাই করেছেন। এই ব্যাপারটাকে Superficial thoughts দিয়েই ব্যাখ্যা করেছেন। যা এলিট সমাজের কাছে স্বাভাবিক। চেতনার গভীরে যাবার সামাজিক প্রেক্ষাপট এতটাই ক্ষীণ হ'য়ে পড়েছে চতুর্দিকের চটজলদি পাওয়ার তাগিদে ভিড় করা তথাকথিত শিক্ষিত মানুষের ভিড়ে যে এই প্রেমের সম্পর্কের মধ্যে অসাম্য বা অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পাননি সঞ্চালক, প্রেমিক-প্রেমিকা তথা উপস্থিত দর্শকবৃন্দ। সঞ্চালিকা এর মধ্যে খাঁটি প্রেম দেখতে পেয়েছেন। দেখতে পাননি পুরুষটির মধ্যে খাঁটি প্রেমের অজুহাতে কাজ বাগাবার জন্য নিজের ধর্ম বা নিজের পিতৃদত্ত নাম পরিবর্তন করার মত ঘৃণ্য মানসিকতা, দেখতে পাননি কাজ বাগাবার পরে নিজের ভালোবাসার মানুষের সামনে প্রতারণার মুখোশ খুলে ফেলে নিজের ধর্মে বা নিজের পিতৃদত্ত নামে পুনরায় ফিরে আসার মত ব্যাক্তিত্বহীন, না মরদের পাতলা চরিত্র। দেখতে পাননি ভালোবাসার মানুষটাকে নিজের ধর্মে, নিজের পিতৃদত্ত নামে থেকে যাবার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবার মত প্রেমিক পুরুষের মধ্যে উদারতার মানসিকতা। দেখতে পাননি বিয়ের পরেই বা বিয়ের আগেই বা প্রেম জমে যাবার পরেই বা সম্পর্ক স্থিত হবার পরেই নিজের ধর্মে বা নিজের সম্প্রদায়ে ভালোবাসার মানুষটিকে কনভার্ট করার মৌলবাদী মানসিকতা। দেখতে পাননি নাম পরিবর্তনের এফিডেবিটের পিছনে মূল কারণের ছবি।  

আর মেয়েটির মানসিকতার মধ্যে কি দেখলাম? পতিব্রতা হিন্দু নারীর মত স্বামীর সব চাহিদা মেনে নিয়ে, নিজেকে স্বামীর কাছে অর্পণ ক'রে প্রমাণ করলেন স্ত্রী হিসাবে তিনি তার পিতৃদত্ত 'অর্পিতা' নাম সার্থক করেছেন। প্রমাণ করলেন স্বামীর দোষত্রুটি, প্রতারণা, কপটতা দেখেও না দেখা আদর্শ স্ত্রীর পরিচয়। কিন্তু স্ত্রী হিসাবে প্রমাণ করতে পারেননি আদর্শ স্ত্রীর পরিচয় হ'ল স্বামীর মঙ্গলহেতু স্বামীর দোষ, ত্রুটি, ভুল, অন্যায় স্বামীর কাছে তুলে ধ'রে স্বামীকে মঙ্গলের পথে চালিত করা।  আর আদর্শ নারী হিসাবে সেই দৃঢ়তা দেখাতে পারেননি স্বামীর কাছে, সেই শিক্ষা তুলে ধরতে পারেননি সমাজের কাছে যে ভালোবেসে বিয়ে করতে গিয়ে বা কারও স্ত্রী হওয়ার জন্য নিজের ধর্ম, নিজের সম্প্রদায়, নিজের সংস্কৃতি, নিজের পিতৃ পরিচয় ত্যাগ করার প্রয়োজন পড়ে না। আদর্শ স্ত্রী হওয়ার জন্য অন্য ধর্মে কনভার্টেড হ'য়ে নিজের বিশ্বস্ততা প্রমাণ করতে হয় না। এই মেকী, মিথ্যে, কপট ভালোবাসা আর যাই হ'ক ভবিষ্যৎ সুস্থ মজবুত সম্পর্কের ভিত হ'তে পারে না। এতে মানুষ হিসাবে জীব জগতের মাঝে নিজের অস্তিত্বকেই টেনে নীচে নাবানো হয় যা কিনা নিজের কাছে নিজের অর্থাৎ মনুষত্বের চরম অপমান। দিদি নং ওয়ানের ঘটনাটির বিবরণ যদি সত্য হ'য়ে থাকে তাহ'লে উভয়ের প্রেম মানুষের কাছে, সমাজের কাছে দিশাহীন প্রেম হ'য়ে রইলো। উভয়ের প্রেম অমর হ'য়ে থাকতো যদি দুজনেই দুজনের ধর্ম, দুজনের সম্প্রদায়ের Identity বজায় রেখেই স্বামী-স্ত্রীর জীবনযাপন করার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতেন আর সেটাই হ'তো আদর্শ স্বামীস্ত্রীর, আদর্শ সম্প্রদায় নিরপেক্ষ সমাজ গঠনের জ্বলন্ত উদাহরণ। যাই হ'ক পরবর্তী সময়ে কেউ এই লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে আশা করি যদি কেউ ভিন্ন ধর্মে অর্থাৎ ভিন্ন সম্প্রদায়ে সংসার বাঁধে।

Friday, March 11, 2022

উপলব্ধিঃ ঈশ্বর মানে?

ঈশ্বর মানে ভালোবাসা। শত্রুমিত্র, ধনী গরীব, শিক্ষিত অশিক্ষিত এককথায় তাঁর সৃষ্ট মানুষ সহ সৃষ্টির সমস্ত কিছুকে ভালোবাসা।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বলেন, ভালোবাসা মানে ভালোতে বাস করা অর্থাৎ ভালো মানে ঈশ্বর, ইশ্বরে বাস করা।
ভালোবাসা মানে ভালো বাসা। ঈশ্বরের শ্রীচরণ এক ও একমাত্র ভালো বাসা। সেই ভালো বাসাতে বাস করা। সেই বাসা অর্থাৎ তাঁর শ্রীচরণে বাস ক'রে তাঁর চলন আয়ত্ত করা, তাঁর চলন নিজের চলন ক'রে তোলা।--প্রবি।

Thursday, March 10, 2022

মার্কিন মহিলাকে ধর্ষণ।


২০১৫ ৯ই মার্চ এই লেখাটা লিখেছিলাম আর আজ ২০১৮ ৯ই মার্চ। এই তিন বছরে ছবিটা একটুও বদলায়নি। একই ঘটনা ঘটে চলেছে বছরের পর বছর শুধু তফাৎ সংখ্যার।  সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রতি ২২ মিনিটে একটি ক'রে রেপ হয় ভারতে। তাই এস ওয়াজেদ আলির বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করি আরও একবার, " সেই Tradition সমানে চলেছে।" হে ঈশ্বর! হে দেবাদিদেব মহাদেব! আরো একবার হ'ক দক্ষযজ্ঞ! আরও একবার হ'ক মহাপ্রলয়!

বৃন্দাবনের ধর্মীয় সংস্কৃতিতে মার্কিন মুলুক থেকে আসা বিদেশিনীর বয়ান  ও হাসপাতালের শারীরিক পরিক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী এটা জানা গেল যে মহিলাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু মথুরা পুলিশ এই ধর্ষণের ব্যাপারে নিশ্চিত নয়। পুলিশের কাজ পুলিশ করেছে, পুলিশের মত দিয়েছে রায়। তাই বলে কি পুলিশকে দোষ দেওয়া বিদেশিনীর বা আমাদের শোভা পায়? কে কোথায় ধর্ষণ হ’ল, কোন নারী কোথায় তিনদিন বা আরো বেশিদিন নিখোঁজ হয়ে গেল, কার কোথায় শ্লীলতাহানি হ’ল, কোন নারীকে কোন রাবন তুকে নিয়ে গেল এইসব খবরে এখন আর চমক নেই ভারতে। বরং এগুলি না হওয়াটাই চমক! প্রশ্ন অন্য জায়গায়। এই যে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ধর্ম্মের বা ঈশ্বরের আঙিনায় প্রতিনিয়ত ঈশ্বর প্রেমে মগ্ন ও ধর্ম্মীয় ভাবাবেগে আপ্লুত নারী ভক্তদের ওপর ধর্ম্মীয় বা ঈশ্বরে বিশ্বাসী(!?) ব্যক্তিদের দ্বারা যে যৌন হেনস্থা হচ্ছে তার সমাধান কোথায়? মার্কিন মুলুক থেকে হরি নামরসে মাতোয়ারা হয়ে বৃন্দাবনের আঙিনায় ছুটে আসা বিদেশিনী কিম্বা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্ম্মীয় প্রতিষ্ঠানে শারীরিক মানসিক নানাবিধ জটিল সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে পাওয়ার জন্য ছুটে যাওয়া দেশিবিদেনীদের ওপর যে যৌন অত্যাচার হয়ে চলেছে তার জন্য কে বা কারা দায়ী? এর প্রতিকার-ই বা কোথায়? প্রতিদিন টিভির দৌলতে আজ আমরা দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে চলা ঘটনা, ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে জেনে যাই। কোনও ঘটনা-ই আজ আর আমাদের অজানা নয়। ভারতের বিভিন্ন ধর্ম্মীয় গুরু ও গুরুমাদের বা স্বঘোষিত ঈশ্বরদের দ্বারা ঘটিত নানা অধর্ম ও কুকর্মের সঙ্গে সঙ্গে নারী কেলেঙ্কারির বহু ঘটনাই টিভি, রেডিও, কাগজ ইত্যাদির মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। এইসব ঘটনা আমরা পুরুষরা যেমন জানি তেমনি নারীরাও জানে। তারপরেও নারীর ওপর বিরামহীন যৌন হেনস্থা হয়েই চলেছে! 


যাইহোক ধর্ম্ম প্রতিষ্ঠানে বা ধর্মীয় গুরুদের দ্বারা সাধারণ ভক্ত বিশেষত নারীদের ওপর যে ধরণের লজ্জা ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটে চলেছে তাতে একটা কথা স্বভাবতই মনে আসে এই সমস্ত ভুক্তভোগী ভাঙাচোরা মানুষগুলির অতিরিক্ত সরলতা, আবেগ, বিশ্বাস, নির্ভরতা ইত্যাদি চারিত্রিক বিশেষত্ব এদের সর্ব্বনাশের মূল কারণ। এ প্রসঙ্গে The greatest phenomenon of the world Sri Sri Thakur Anukul Chandra-এর তাঁর ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলা কথাগুলি স্মরণীয়। 


একবার এক ভক্ত ঠাকুরকে দর্শন ও প্রণাম করতে এসেছিলেন। সেই ভক্ত সঙ্গে নিয়ে আসা ব্যাগ সুটকেস ইত্যাদি বাইরে রেখে এসে যখন ঠাকুরকে প্রণাম করছিলেন তখন ঠাকুর সেই ভক্ত কখন এসেছেন, কোথায় উঠেছেন, কিছু খেয়েছেন কিনা, বিশ্রাম করেছেন কিনা ইত্যাদি খোঁজ নিলেন। এর উত্তরে সেই ভক্ত মানুষটি জানালেন যে তিনি এইমাত্র এসেছেন এবং এসেই প্রথমে তিনি ঠাকুর দর্শন ও প্রণাম করতে এসেছেন। যখনই কেউ বাইরে থেকে ঠাকুর দর্শন ও প্রণাম করতে আসতেন তখনি ঠাকুর প্রথমেই তাকে তার থাকা, খাওয়া, বিশ্রাম করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন তারপর যখন তরতাজা হয়ে সামনে আসতেন তখন তার কোনও কথা বা সমস্যা থাকলে শুনতেন। ঠিক তেমনি ঐ আগুন্তুক ভক্তের ঐ কথা শুনে ঠাকুর তাকে প্রথমে ঘর ঠিক করে, স্নান করে, খাওয়া দাওয়া সেরে, বিশ্রাম করে তারপর তাঁর কাছে আসতে বললেন এবং সঙ্গে কোনও ব্যাগ সুটকেশ ইত্যাদি কিছু দেখতে না পেয়ে তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। এর উত্তরে সেই ভক্ত মানুষটি জানালেন যে গেটের বাইরে ব্যাগ সুটকেশ রেখে তবেই তিনি দর্শন ও প্রণাম করতে এসেছেন। একথা শুনে ঠাকুর অত্যন্ত বিচলিত হ’য়ে পড়লেন এবং তাকে শিগিগিরি সেইস্থানে ফিরে যেতে বললেন এবং তার সামগ্রী যথাস্থানে রেখে তারপর স্নান, খাওয়া ও বিশ্রাম শেষে আসতে বললেন। এই কথা শুনে সেই ভক্ত ঠাকুরকে বলেছিলেন যে তিনি তো ঠাকুরবাড়িতে এসেছেন, তার প্রিয়পরমের কাছে এসেছেন তাহলে তার ভয় কোথায়? এর উত্তরে ঠাকুর যা বলেছিলেন তা’ বাণী আকারে পৃথিবী জুড়ে সমস্ত ধর্ম্ম ও ঈশ্বর বিশ্বাসী সাধারণ সরল সিধেসাধা ভাঙাচোরা মানুষের কাছে চিরস্মরণীয়। পরমপ্রেমময় ঠাকুর চকিতে সোজা হ’য়ে বসে সেই ভক্ত মানুষটিকে সাবধান করে দিয়ে বললেন, 


“মন্দিরের আশেপাশে কুৎসিত লোকের আনাগোনা বেশী, সাবধান থেকো তা’ থেকে”।


আজ শুধু মনে হয় এই কথা যদি ঐ বিদেশিনী বা অন্যান্য লাঞ্ছিত, অপমানিত, উৎপীড়িত, প্রতারিত, ধর্ষিত মানুষগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া যেত তাহ’লে হয়তো বা তারা মানুষ, ধর্ন্ম, ঈশ্বর ও বাস্তব পরিস্থিতি-পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হ’ত এবং তথাকথিত ধর্ম্মীয় ও ঈশ্বরপ্রেমী ভন্ড কুৎসিত মানুষগুলোর হাত থেকে রক্ষা পেত।