Powered By Blogger

Sunday, November 22, 2015

শবরীর আলো শ্রীময়ি!!!!!!

এ যুগের শবরী শ্রীময়ি, তুমি নও গো মতঙ্গ শিষ্যা
শবরীর ছায়ায় রাঙিয়েছ কায়া জাগিয়ে প্রবল তৃষা!
বসে আছো তুমি কার তরে সকাল থেকে রাত?
ঘুমহীন চোখে আশা নিয়ে বুকে বাড়াবে কেউ হাত!!
ঘুমিয়ে যখন পড়বে তুমি গভীর চাঁদনি রাতে          
চুপি চুপি এসে বরাভয় হেসে আমি রাখবো হাত হাতে!
কোমল হাতের স্পর্শে আমার হৃদ স্পন্দন জাগে!
শবরী সেজে বসে থাকা আর কি তোমায় সাজে?
সকাল থেকে রাত অবধি শুধুই বসে থাকা,
পথের পানে চেয়ে চেয়ে সময় কাটাও একা!
তোমার তরে নাও ভাসাইলাম, এই এলাম বলে আমি
দুঃখ জ্বালা সব মুছিয়ে দেবো, বলছে জীবন স্বামী।



Friday, November 20, 2015

এমনি ভাবেই.........



এমনি ভাবেই বেঁচে থাকতে থাকতেই
একদিন চলে যাবো ওপারে,
ঘুচিয়ে সব যত ভেদাভেদ;
সেদিন থাকবে না কোনো দুঃখ,
কোনো যন্ত্রণা, থাকবে না ব্যর্থতা
আর না পাওয়ার কোনো খেদ।
ঘুম ভাঙলেই পড়বে না মনে     
ছন্নছাড়া জীবনের ব্যথা,           
শুনবে না এ কান আর প্রতিনিয়ত
কিছু না হতে পারার জন্য
এ জীবনে আপনজনের কথা;
ভেসে উঠবে না আর কখনো
যৌবনের ফেলে আসা দিনগুলির
ব্যর্থতার নিদারুণ যন্ত্রণাময় ছবি।

অসংখ্য মানুষের অহেতুক কৌতুহল
জীবনকে করবে না আর ব্যতিব্যস্ত,
শুনবে না হুংকার আর এই জীবন
বেইমানি আর নেমকহারামীর;
প্রতিদিন ঘুম ভেঙ্গে মাঝরাতে
বিছানায় উঠে বসবে না আর এই জীবন
চরম বেইমানির সাবলীল রূপ দেখে!

আঃ কি শান্তি! কি সুখ! এই ভেবে_______
ভেসে আসবে না আর মীরজাফরের কান্না.........
‘তোমার ভাগ্য নিয়ে যারা হ’ল ভাগ্যবান,
সিঁড়ি হয়ে জীবনে যাদের বসালে সিংহাসনে
ব্যর্থ হয়ে নিজে যাদের করেছো সফলতা দান
বাঁচাতে প্রাণ অন্যের পড়েছো বিপদে বারেবারে জীবনে
সেই ভালোমানুষরা যদি করে নির্লজ্জ শয়তানি
কি এমন তবে করেছি আমি বেইমানি?
যে এই নাম আর রাখে না কেহ সন্তানের’!

বেঁচে যাবো সেদিন, মির্জাফরের প্রশ্নের
নিরুত্তর থাকার অসহ্য যন্ত্রণা থেকে,
যেদিন যাবো চলে।
বড় ভালো হবে সে দিনটা!
অনেক মানুষের ভালোবাসা
অকৃত্রিমভাবে ঝরে পড়বে
নিথর শরীরের ওপর! গুঞ্জনে গুঞ্জনে
ভরে যাবে চারপাশ! ভালোবাসার 
আলিঙ্গনে বন্দী হয়ে ঘুরে বেড়াবো
সকলের মন থেকে মনে স্মৃতিচারণের
অবসরে! সেদিন ঐ হিম হয়ে যাওয়া
শরীরের প্রতি থাকবে না কোনও কারও
অকারণ রাগ, ঘৃণা, কোনও প্রতিশোধ
শুধু ভালোবাসা শিউলি ফুলের মত অনবরত
ঝরে পড়বে উদার ও অকৃত্রিমভাবে!!

বন্ধু হয়েও অকারণ শ্ত্রু
যারা ছিল আমার, তারাও.........
ফুলের মালায় জানাবে অশেষ ভালোবাসা,
মনে করে সেই দিনের_______
প্রয়োজনে বা দুর্দিনে তাদের প্রতি
অকৃত্রিম আর নিঃস্বার্থ আমার
________বাড়ানো হাতের কথা!

এমন কেন হয় না এখন??
যা বেঁচে থাকতে চাই!!
             
আর যেদিন যাবো চলে সেদিন
আকাশের কোণে কোণে, শিউলির ডালে ডালে,
বাতাসে বাতসে ঘুরে ঘুরে দেখে যাবো সব
আর ভেজা চোখে মাতাল করা ভালোবাসায়
সবার শরীরে শরীর ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাবো চলে
অকৃত্রিম, নির্মল হাসিতে অশরীরী হয়ে!
নরম অশরীরী হাতের স্পর্শে
শরীরী হাতের মত তখনও
শুষে নেবো সকলের দুঃখকষ্ট
আর সেদিনও বলে যাবো সবার কানে কানে
ভালো থেকো আর সবাইকে রেখো ভালো,
ভালোবেসো আর দেখিও সবাইকে আলো;
ঐ শোনো, ডাক এসেছে, বন্ধু আমার যত
তমসার পার হতে মহান পুরুষের!
দিও তাঁরে কূল, হৃদয় ফুল
যাবার বেলায় কোরো নাকো ভুল
আর আগের মত।

এমন যেন থাকি এখন
বাকি সময় জুড়ে।



                
 
 




Monday, November 16, 2015

অনুকূল




বহু দিন মাস বছর পিছনে ফেলে ছুটেছি ক্রমাগত,
যৌবনের পাগলা ঘোড়ায় চেপে প্রৌঢ়ত্বের আঙিনায়
ছুটেছি অলিম্পিয়াস তনয় রূপে; রাজনীতির  যত
ঘোর অন্ধকার গোলকধাঁধায় ঘুরেছি আমি, আরো গভীর
অন্ধকার ঘিঞ্জি ধর্মের পাংশুল প্রাঙ্গণে হায়! আমি হতভম্ব
জড়ভরত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র প্রতিকূল,
আমারে অজড় অমর প্রাণ দিয়েছিল নব বৃন্দাবনের অনুকূল।

আঁখি তাঁর কবেকার হারিয়ে যাওয়া সেই আলোর পর্বত,
হাসি তাঁর সৌদামিনীর রুপোলী ঝলক, নির্মল
সমুদ্র সফেন, যেন মৃতসঞ্জীবনী শীতল সরবৎ;
মাঝিহীন যে জীবনখেয়া হারিয়ে দিশা
খাদের কিনারায় ফেলে নোঙর,
ভেসে ওঠে শেষের সেদিনের ভয়ংকর ছবি;
বেঁচে ফেরার পথ আর অন্ধকার কেটে গিয়ে ভোর
যখন সে চোখে দেখে বিধাতার-বিধির ভিতর,
তেমনি দেখেছি আমি তাঁরে জীবনের ঘোর অন্ধকারে;
বলেছে সে, ‘জীবন খুঁজে পাবে হেথায়,
ছুটে এসো, চলে এসো, পিছনে ফেলে যত প্রতিকূল’
বরাভয় হাতে হাসির ফোয়ারা তুলে দেবঘরের অনুকূল।

সমস্ত দিনের শেষে বিকেলের ফুলের মতন
বিষন্নতা আসে; মধ্যাহ্নের সূর্যের মত রক্তের উষ্ণতা
শেষ বেলার ম্লান আলোয় ঝিম মেরে হতে চায় ছন্দপতন।
তখন আবার তাঁর ডাকে_________  
বাধভাঙ্গা জলের স্রোতের তীব্রতার মত জাগে বাঁচার মত্ততা;
সব আলো ফিরে আসে, ফিরে আসে স্নিগ্ধ মলয়ানিল
পেলব স্পর্শে কেটে যায় শেষ বিকেলের ক্লান্তি ঘুম
জেগে ওঠে সুপ্তোত্থিত হৃদয়ের উষ্ণতা   
আর ফিরে যায়, সরে যায় সব যত প্রতিকূল;
থাকে শুধু তাঁর নাম পেয়ালা, আর নাম মদ অনুকূল।
 

Saturday, November 14, 2015

নীতিশকুমারের মুখ্যমন্ত্রীত্ব লাভ জোটের ঘোঁট না ঘোঁটের জোটের ফল!?





বিহারের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের শতকরা বিভাজনে দেখা যায়
বিজেপি বিহারে ২৫ শতাংশ মানুষের রায় পেয়েছে।
আরজেডি পেয়েছে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ
জেডি (ইউ) পেয়েছে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ।  
কংগ্রেস সাড়ে ৬ শতাংশ  
লোক জনশক্তি পার্টি ৫ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

২০১০ সালেঃ
লালু (আর জে ডি) ১৯টি।
নীতিশ ১১৫টি।
বিজেপি ৯১টি।
সোনিয়া গান্ধী ৪টি।
                      
২০১০ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে নীতিশ কুমার কিন্তু বিজেপির হাত ধরেছিলেন তাঁর দল সংযুক্ত জনতা একক গরিষ্ঠতা পায়নি ১১৫টি আসন পেয়ে থমকাতে হয়েছিল বিজেপি ৯৮টি আসন পেয়ে তাদের পাশে দাঁড়ায় নীতিশ কুমার বিজেপির সহযোগিতায় মুখ্যমন্ত্রী হলেন

সেদিন লালুকে মনে পড়েনি নীতিশকুমারের।
  
২০১৫ সালেঃ                    
বিহার ভোটে লালু পেলেন ৮০
নীতিশ ৭১ টি
সোনিয়া গান্ধী ২৭টি
বিজেপি ৫৩টি
এনডিএ জোট ৫৮টি।

নীতিশকুমারের দল এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসন পায়নি জয়ের হিরো তিনি নন, জয়ের হিরো লালু লালুকে ঘিরেই জয়জয়কার নিয়ে বারবার তিনবার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে হ্যাটট্রিক করলেন নীতিশ কুমার তবু প্রাণ খুলে হাসতে পারছেন না বুকে কাঁটা বিঁধছে লালুর বদান্যতায় ফের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া

আর আজ পরিবর্তনের জমানায় নরেন্দ্র মোদী তথা বিজেপিকে মনে পড়েনি।

বিহারের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দেশের সমস্ত  দলের নেতৃবৃন্দ নীতিশজি লালুজিকে ঐতিহাসিক এই জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে।
 
এখানে দ্বিধাবিভক্ত জনগণের রায়ের প্রকৃত প্রতিফলন কোথায়? ক্ষমতা দখলের রাজনীতি না-কি স্বচ্ছ রাজনীতির প্রতিফলন এই নির্বাচন?????? চাবিকাঠি কার হাতে? দ্বিধাবিভক্ত জনগণের হাতে না-কি সর্ব্বশক্তিমান রাজনীতিবিদদের হাতে? ক্ষমতার গন্ধে সময় অনুযায়ী এরা জোট গড়ে আবার জোট ভাঙ্গে। কিন্তু জনগণ  কি কখনও  জোটবদ্ধ হতে পারে? এসবের উত্তর কোথায়?????

উত্তর একটাইঃ  ইয়াদ রাখুঙ্গা! তুঝে ইয়াদ রাখুঙ্গা!!!!! সময় সবসে বড়া বলবান!!