Powered By Blogger

Monday, November 16, 2015

অনুকূল




বহু দিন মাস বছর পিছনে ফেলে ছুটেছি ক্রমাগত,
যৌবনের পাগলা ঘোড়ায় চেপে প্রৌঢ়ত্বের আঙিনায়
ছুটেছি অলিম্পিয়াস তনয় রূপে; রাজনীতির  যত
ঘোর অন্ধকার গোলকধাঁধায় ঘুরেছি আমি, আরো গভীর
অন্ধকার ঘিঞ্জি ধর্মের পাংশুল প্রাঙ্গণে হায়! আমি হতভম্ব
জড়ভরত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র প্রতিকূল,
আমারে অজড় অমর প্রাণ দিয়েছিল নব বৃন্দাবনের অনুকূল।

আঁখি তাঁর কবেকার হারিয়ে যাওয়া সেই আলোর পর্বত,
হাসি তাঁর সৌদামিনীর রুপোলী ঝলক, নির্মল
সমুদ্র সফেন, যেন মৃতসঞ্জীবনী শীতল সরবৎ;
মাঝিহীন যে জীবনখেয়া হারিয়ে দিশা
খাদের কিনারায় ফেলে নোঙর,
ভেসে ওঠে শেষের সেদিনের ভয়ংকর ছবি;
বেঁচে ফেরার পথ আর অন্ধকার কেটে গিয়ে ভোর
যখন সে চোখে দেখে বিধাতার-বিধির ভিতর,
তেমনি দেখেছি আমি তাঁরে জীবনের ঘোর অন্ধকারে;
বলেছে সে, ‘জীবন খুঁজে পাবে হেথায়,
ছুটে এসো, চলে এসো, পিছনে ফেলে যত প্রতিকূল’
বরাভয় হাতে হাসির ফোয়ারা তুলে দেবঘরের অনুকূল।

সমস্ত দিনের শেষে বিকেলের ফুলের মতন
বিষন্নতা আসে; মধ্যাহ্নের সূর্যের মত রক্তের উষ্ণতা
শেষ বেলার ম্লান আলোয় ঝিম মেরে হতে চায় ছন্দপতন।
তখন আবার তাঁর ডাকে_________  
বাধভাঙ্গা জলের স্রোতের তীব্রতার মত জাগে বাঁচার মত্ততা;
সব আলো ফিরে আসে, ফিরে আসে স্নিগ্ধ মলয়ানিল
পেলব স্পর্শে কেটে যায় শেষ বিকেলের ক্লান্তি ঘুম
জেগে ওঠে সুপ্তোত্থিত হৃদয়ের উষ্ণতা   
আর ফিরে যায়, সরে যায় সব যত প্রতিকূল;
থাকে শুধু তাঁর নাম পেয়ালা, আর নাম মদ অনুকূল।
 

Saturday, November 14, 2015

নীতিশকুমারের মুখ্যমন্ত্রীত্ব লাভ জোটের ঘোঁট না ঘোঁটের জোটের ফল!?





বিহারের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের শতকরা বিভাজনে দেখা যায়
বিজেপি বিহারে ২৫ শতাংশ মানুষের রায় পেয়েছে।
আরজেডি পেয়েছে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ
জেডি (ইউ) পেয়েছে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ।  
কংগ্রেস সাড়ে ৬ শতাংশ  
লোক জনশক্তি পার্টি ৫ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

২০১০ সালেঃ
লালু (আর জে ডি) ১৯টি।
নীতিশ ১১৫টি।
বিজেপি ৯১টি।
সোনিয়া গান্ধী ৪টি।
                      
২০১০ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে নীতিশ কুমার কিন্তু বিজেপির হাত ধরেছিলেন তাঁর দল সংযুক্ত জনতা একক গরিষ্ঠতা পায়নি ১১৫টি আসন পেয়ে থমকাতে হয়েছিল বিজেপি ৯৮টি আসন পেয়ে তাদের পাশে দাঁড়ায় নীতিশ কুমার বিজেপির সহযোগিতায় মুখ্যমন্ত্রী হলেন

সেদিন লালুকে মনে পড়েনি নীতিশকুমারের।
  
২০১৫ সালেঃ                    
বিহার ভোটে লালু পেলেন ৮০
নীতিশ ৭১ টি
সোনিয়া গান্ধী ২৭টি
বিজেপি ৫৩টি
এনডিএ জোট ৫৮টি।

নীতিশকুমারের দল এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসন পায়নি জয়ের হিরো তিনি নন, জয়ের হিরো লালু লালুকে ঘিরেই জয়জয়কার নিয়ে বারবার তিনবার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে হ্যাটট্রিক করলেন নীতিশ কুমার তবু প্রাণ খুলে হাসতে পারছেন না বুকে কাঁটা বিঁধছে লালুর বদান্যতায় ফের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া

আর আজ পরিবর্তনের জমানায় নরেন্দ্র মোদী তথা বিজেপিকে মনে পড়েনি।

বিহারের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দেশের সমস্ত  দলের নেতৃবৃন্দ নীতিশজি লালুজিকে ঐতিহাসিক এই জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে।
 
এখানে দ্বিধাবিভক্ত জনগণের রায়ের প্রকৃত প্রতিফলন কোথায়? ক্ষমতা দখলের রাজনীতি না-কি স্বচ্ছ রাজনীতির প্রতিফলন এই নির্বাচন?????? চাবিকাঠি কার হাতে? দ্বিধাবিভক্ত জনগণের হাতে না-কি সর্ব্বশক্তিমান রাজনীতিবিদদের হাতে? ক্ষমতার গন্ধে সময় অনুযায়ী এরা জোট গড়ে আবার জোট ভাঙ্গে। কিন্তু জনগণ  কি কখনও  জোটবদ্ধ হতে পারে? এসবের উত্তর কোথায়?????

উত্তর একটাইঃ  ইয়াদ রাখুঙ্গা! তুঝে ইয়াদ রাখুঙ্গা!!!!! সময় সবসে বড়া বলবান!!     



Thursday, November 12, 2015

খবর!!!!!!!!!!!!! সত্যিই খবর!!!!!!! সম্প্রীতিই বটে!!!!!




মুসলমান ছেলের সঙ্গে হিন্দু মেয়ের বিয়ে আগে তো কখনও হয়নি, এটাই প্রথম; তাই না? দিল্লির শাহি ইমামের ছেলে বলে কথা! খবর তো হতেই হয় তাই না সাংবাদিক বন্ধু? দেশে যখন অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল তখন দুই ধর্মের বৈবাহিক সম্পর্ককে অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে বড় প্রতিবাদ বলে তুলে ধরতে চাইছে সংবাদ মাধ্যম কিন্তু কিছু প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক অসহিষ্ণুতার ঘটনা আর দুই ধর্মের ছেলেমেয়ের মধ্যে সম্পর্ক----এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান কতদিনের? দেশের মধ্যে ঘটে চলা অসহিষ্ণুতার ঘটনার প্রতিবাদ করার জন্যই কি এই দুই ধর্মের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন দুই পক্ষের অভিভাবকরা? দুই ধর্মের ছেলেমেয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তো খবরের সূত্র অনুযায়ী দু'বছরের; আর অসহিষ্ণুতার ঘটনা সাম্প্রতিক এই অসহিষ্ণুতার ঘটনার সঙ্গে এই বিবাহের সম্পর্ক কোথায়? তাছাড়া খবরের সূত্র অনুযায়ী ইমাম সঈদ আহমেদ বুখারির ছেলে শাবান বুখারির সঙ্গে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ নিবাসী হিন্দু মেয়ের বিয়েতে কখনোই ইমামের অনুমতি ছিল না এটা কি সাম্প্রদায়িক সহিষ্ণুতার বলিষ্ট উদাহরণ? নিজের ধর্মকে ত্যাগ করে ভালোবাসার মানুষের ধর্মকে গ্রহণ করে মুসলিম হয়ে তবেই হিন্দু মেয়েকে মুসলিম পুরুষকে বিয়ে করতে হয়েছে এটাকে কি অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে বড় প্রতিবাদ বলা চলে? সংবাদ মাধ্যমের প্রচার করা এই খবরকে দেশের জ্ঞানী পন্ডিত মহল কি বলেন? শ্রদ্ধেয় ইমামের মত জ্ঞানী পন্ডিত মানুষ যখন ধর্ম সম্প্রদায় কে আলাদা করতে পারেন না, সহিষ্ণুতা প্রশ্নে উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে ব্যর্থ হন, যখন প্রেমিক শিক্ষিত পুরুষ প্রেমের মুখোশ পড়ে সম্প্রদায় নিরপেক্ষ হতে পারেন না, পারেন না প্রকৃত ধর্মের অর্থ অনুধাবন করতে, পারেন না হিন্দু ধর্ম ত্যাগ না করিয়েই বহুদিনের জীবন সঙ্গিনীকে পবিত্র বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ করে জীবন সঙ্গিনী করে নিতে তখন সংবাদ মাধ্যমের এই ধরনের কলমের জোরে কপট প্রচার আর যাই হোক কখনোই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আনতে সাহায্য করতে পারে না; বরং ধর্মভেদ সাম্প্রদায়িক পক্ষপাতিত্বের উস্কানি দেয় আর প্রেমিকার এই ধর্ম ত্যাগ আর যাই হোক উদারতা, অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ইত্যাদি বড় বড় কথা অবশ্যই নয় কেননা নারী হয়ে যদি সে তার পিতৃপুরুষের ঐতিহ্য, শিক্ষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ত্যাগ করতে পারে তাহলে সে নারীকে কি কখনোই আদর্শ নারী বলা চলে না-কি নারী হয়ে সে হয়ে গেল আনাড়ি? আর প্রেমিকার মত পুরুষ প্রেমিক তার প্রেমিকার জন্য কেন একই দৃষ্টান্ত স্থাপনে এগিয়ে আসার মত বড় মন, উদার হৃদয়ের পরিচয় দিতে পারলো না? নারী বলেই তাকে সব ত্যাগ করে পুরুষের হাত ধরতে এগিয়ে আসতে হবে এটাই ভারতীয় কৃষ্টি, সংস্কৃতি, শিক্ষা আর সভ্যতা? যে সভ্যতার বলাৎকার হয়ে চলেছে যুগ যুগ ধরে নারী পুরুষ উভয়ের হাত ধরেই প্রশ্ন জাগে মনে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ধর্ম ত্যাগ করতে হবে কেন? যে যার ধর্মকে বজায় রেখেই, পালন করে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা যায় না? কোথায়, কোন শাস্ত্রে এর বিরোধিতা আছে? বিবাহ শব্দের একটা অন্তর্নিহিত মানে আছে বিবাহ বিজ্ঞানভিত্তিক জৈবীসংস্থিতির আধার সেখানে আলোকপাত নেই আলোকপাত যত ধর্মের নামে অধর্মকে কেন্দ্র করেই ধর্ম কি এতটাই ফালতু, ঠুনকো বিষয় যে যার জন্য আমাকে ধর্ম ত্যাগ করতে হবে? ধর্ম কি কোনও বস্তু নাকি যা যখন ইচ্ছা গ্রহণ ত্যাগ করা যায়? ধর্ম এতটাই সস্তা ফুটপাতের সামগ্রী যা কিনা কোনো নারী বা পুরুষকে লাভের জন্য পা দিয়ে ঠুকরে দেওয়া যায়? শাবাশ প্রেমিক! শাবাশ প্রেমিকা! শাবাশ অভিভাবক! শাবাশ সাংবাদিক সংবাদ মাধ্যম! তোমাদের সবাইকে দীপাবলির শুভেচ্ছা শাবাশী জানাই!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

http://zeenews.india.com/bengali/nation/imams-son-married-with-a-hindu-girl-in-delhi_133249.html