Powered By Blogger

Thursday, September 5, 2019

কোনও প্রলোভনে যেন তোমায় না ভুলে যায় প্রভু তা সে স্বর্গলাভ হ'ক না কেন! তোমার কাজে কোনও ঐশ্বর্য কখনও বাধা হ'য়ে না দাঁড়ায় যেন! প্রবি।

আমি আর তুমি!


কোথায় দুঃখ, কোথায় কষ্ট, কোথায় আমার যন্ত্রণা?        
জীবন মাঝে কোথায় কঠিন, কোথায় জটিল? আর
মায়া মমতার উন্মাদনা? জীবন আমার উদাস বাউল
উদার আমার জীবন আকাশ, জীবন আমার রামধনু
জীবন আমার মলয় বাতাস। জীবন মাঝে রপোলি চমক
মেঘমল্লারের বন্দনা! ঝরঝর সেই বরষণ বয়ে চলে
খরশান অবিরত প্রাণে প্রাণে নেই তার কোনও সীমানা!
পরম সত্তার তরে জীবন আমার উদার আকুল উন্মনা
জীবন জুড়ে আছে ভরে শুধু পরমেশ প্রভুর মন্ত্রণা!
জীবন জুড়ে শুধুই আলো, শুধুই জ্যোতির বিচ্ছুরণ!
জ্যোতির মাঝে হারায় ‘আমি’, সত্তা খোঁজে জীবনস্বামী!
জীবন জুড়ে শুধুই সাড়া পরম সত্তায় উত্তরণ!

আর তুমি,
জীবন খুঁজে মরছো কোথায়? কোথায় ফেলেছো নোঙ্গর তুমি?
দুঃখ, কষ্ট, জ্বালা, যন্ত্রণা, শোক, তাপ, ব্যথা-বেদনা
শব্দেরা সব মিলেমিশে মারে তোমায় সেথায় পিষে;
‘কঠিন’ ‘জটিল’ সব শব্দ ঘিরে নরক করেছে ধীরেধীরে
তোমার জীবন ভুমি। আবাদ তাই হ’ল না বন্ধু
বহু ফসলী তোমার জমি!

এখন তুমি......
জীবন যদি চাও পেতে রাখো হাত আমার হাতে
ঐখানেতে যাবো নিয়ে আলোয় ভুবন ভাসিয়ে দিয়ে
তমসার ওপার হ'তে যেথায় হাসিমুখে দাঁড়ায় এসে
জীবনস্বামী, বরাভয় দিয়ে দু’হাত তুলে বলছে হেসেঃ
আয়, বুকে আয়, আয়রে তোরা, করি ত্বরা
কোমর বেঁধে ছুট্টে সবাই, হেত্থায় জীবন খুঁজে পাবি।।
----------------------প্রবি।

প্রবন্ধঃ কালো যুগ! কালো অধ্যায়।

কি করবো, কি বলবো আমি জানি না!
শুধু এটুকু জানি পরিবেশ ও পরিস্থিতিকে আগ্নেয়গিরিতে পরিণত করার জন্য সমাজপতিরা সবাই সচেষ্ট! আর তাতে হাওয়া দিচ্ছে তাত্ত্বিক আমেজে ডুবে থাকা বুদ্ধিজীবীরা! ইস্টবিহীন নেতৃত্ব জ্বালছে আগুন আর সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দিচ্ছে অহং সর্বস্ব অল্পজ্ঞানী ইষ্টহারা ছন্নছাড়া বুদ্ধিবেচে খাওয়া সমাজের তথাকথিত সবজান্তা অহংকারী কিছু মনুষ্যকৃতি অদ্ভুত জীব! সব বিষয়েই তাদের অগাধ জ্ঞান, পান্ডিত্য! দ্বীপপাল থেকে পঙ্গপাল সবাই আজ দ্রষ্টাপুরুষ! সাধারণ মানুষকে এরা মানুষ ব'লে -------- দিয়ে পোঁছে না! এরা কোনোদিনই সাধারণ মানুষকে নিয়ে ভাবেনি, ভেবেছে নিজেদের আখের গোছাবার লড়াইয়ের ময়দানে বোড়ে হিসেবে। সাধারণ মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে, অভাব-দারিদ্রতাকে পুঁজি ক'রে, ভয়-দুর্বলতাকে হাতিয়ার ক'রে, অশিক্ষা-কুশিক্ষাকে মূলধন ক'রে এরা কি শিক্ষা, কি রাজনীতি, কি ধর্ম সমাজের সর্বস্তরে রক্তবীজ-এর ঝাড়ের মত ছড়িয়ে পড়েছে, বেড়ে উঠেছে গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-নগরে, পাহাড়ে-পর্বতে, বনে-বনান্তরে! এদের বিষাক্ত নিঃশ্বাসে আকাশ-বাতাস কলুষিত। অনুন্নয়ন এদের সম্পদ! শারীরিক, মানসিক, আত্মিক, আধ্যাত্মিক কোনও উন্নয়নই যেন এইসমস্ত সীমাহীন ভাঙাচোরা আত্মমর্যাদাহীন ভীরু দূর্বল কুসংস্কারাচ্ছন্ন অশিক্ষিত লেখাপড়া না জানাওয়ালা মানুষগুলোর না হয় তার জন্যে এইসমস্ত সমাজ কো বদল ডালোর পুরোহিতরা সচেষ্ট! এর জন্যে এরা হাতিয়ার করে শিক্ষাকে, রাজনীতিকে, ধর্মকে, বিজ্ঞানকে, খেলাধুলা ইত্যাদিকে! হাতিয়ার করে বেকার সমস্যার মত ভয়াবহ ব্যাধিকে! এরা চায় দেশে বেকার সমস্যা থাকুক! এরা চায় দেশের যুব সমাজ মূর্খ থাকুক! এরা চায় এই শিশু, কিশোর, যুবক যুবতীরা যেন চিরজীবন মানসিকভাবে অন্ধ থাকে! আত্মিকভাবে পঙ্গু থাকে! শারীরিকভাবে তাহা'লে কোনোদিনই মাথা উঁচু ক'রে দাঁড়াতে পারবে না! যৌবনেই বিকেলের ফুল হ'য়ে ঝরে পড়ে তার সব রকম ব্যবস্থা ক'রে দাও! কোনোদিনই যেন এরা জীবনে প্রকৃত বাঁচা ও বাড়ার পথের সন্ধান না পায়! এদের সমাজ কো বদল ডালোর মিথ্যে নেশায় বুঁদ ক'রে দিয়ে জীবন ধ্বংসের পথে ঠেলে দাও! দেশের মহাত্মাদের বিরুদ্ধে এদের মনে ঘৃণার বীজ পুঁতে দাও! যাতে এরা বুঝতে না পারে মহাত্মা আর দুরাত্মার মধ্যে ফারাক! দুরাত্মাদের জয়ঢাক বাজাও সে যে দলেরই সম্পদ হ'ক না কেন যাতে তাদের নামে রাস্তার নাম, ইস্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ইত্যাদি যাই হ'ক না কেন সেই দুরাত্মাদের স্মৃতি এদের ও পরবর্তী প্রজন্মের মনে এমনভাবে গেঁথে যায় যে এরা সৎ-অসৎ আলাদা করার ক্ষমতায় হারিয়ে ফেলবে বংশপরম্পরায় জন্মগতভাবে! ডালচাল-এর খিচুড়ির মতন মহাত্মা আর দুরাত্মার খিচুড়ি পাকিয়ে দাও এদের ও আগামী প্রজন্মের কাছে! এরা মহাত্মাকে করবে কানে গরম তরল সীসা ঢেলে দেবার মত অশ্লীল গালাগালি দুরাত্মাকে মাথায় নিয়ে করবে নাচানাচি! আর পরমাত্মার জীবন্ত রূপকে নিয়ে করবে খিল্লি, খিস্তি খেউর!

তাই হে ইষ্টটান বিহীন শিক্ষক! তুমি ছাত্রকে শিক্ষা দাও! হে ইষ্টহীন নেতা! সমাজকে পথ দেখাও, দেশ গড়ার কাজে নেতৃত্ব দাও! হে অধর্মের পূজারী! ধর্মগুরু সেজে ভুল ধর্মকথা শোনাও, বিজ্ঞানকে হাতিয়ার ক'রে ধর্মের নামে ঈশ্বরের ভেলকি দেখাও! রাম, কৃষ্ণ, যুদ্ধ, যীশু, মোহাম্মদ, মহাপ্রভু, রামকৃষ্ণ ও সর্বশেষ বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময় নররূপী ঈশ্বর পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্ররূপী জীবন্ত ঈশ্বরকে ঈশ্বরের সিংহাসন থেকে ফেলে দিয়ে ঈশ্বর বিশ্বাসী, ধর্ম বিশ্বাসী কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভীরু, দূর্বল, অজ্ঞানী, আর্ত মানুষের কাছে নিজেকে ঈশ্বর সাজিয়ে ঈশ্বরের সিংহাসনে বসে যাও যে যেখানে আছো যত ধর্মগুরু! হে ক্রীড়াবিদ! খিলাডি সেজে খেলাধুলার নামে হিংস্রতা, নির্মমতা, নিষ্ঠুরতাকে মানুষের মধ্যে জাগিয়ে দিয়ে আদিম অসভ্য যুগকে ফিরিয়ে আনো! তবেই না মানব তুমি সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি!!

হে ভারত! তোমার জ্ঞান, তোমার প্রজ্ঞা, তোমার সভ্যতা, তোমার ইতিহাস, তোমার গরিমা সব সব উজাড় ক'রে দাও সৃষ্টিকে ধ্বংস করার মহান যজ্ঞে! তাড়াতাড়ি শেষ হ'ক এই কালো যুগ, কালো অধ্যায়!!!!!

কবিতাঃ মহাজীবন!

হে যৌবন! পাগলা ঘোড়ায় বসেছো চেপে ছুটে চলেছো দিগন্ত পার!
দিগন্ত শেষে পৌঁছে দেখ দিগন্ত গিয়েছে সরে বহুদূরে আবার!
এমনিভাবেই বেলা গেল দিগন্ত দিল না ধরা!
জীবন মাঝে শুধুই আঁধার, শুধুই ধু ধু খরা!!
হে যৌবন! পাগলা ঘোড়ায় বসো চেপে কিন্তু
নিজেই জানো না যৌবন ঘোড়া তোর পাগলা!
বেলা শেষে জীবন সুরজি যখন গেল পাটে
ঘনায় চোখে ঘোর অন্ধকার শুরু হাহাকারের পালা!
যৌবন কারো চিরদিন নয় অল্প কদিনের জন্যে জেনো
বার্ধ্যক ঘাড়ে ফেলছে নিঃশ্বাস ছায়া হবে কিন্তু দীর্ঘতর!
সেদিন কিন্ত ঘোড়া ছুটবে না আর ক্লান্ত বিধ্বস্ত হবে শরীর
হামাগুড়ি দেবে তুমি যৌবন হেকমতি দেখিয়েছিল যে হিমালয় বীর!
জীবন মাঝে জীবন খুঁজে চেয়েছিলে পেতে যৌবনের হাত ধরে
জীবন রূপে মরণ এসে দিল ধরা জীবন সেথায় মাথা খুঁড়ে মরে।
মাতাল জীবন, মাতাল যৌবন, মাতাল তোমার রিপু ছয়!
ছয়ের ফাঁদে বেহাল তুমি বৃত্তি নেশায় জীবন ক্ষয়।
বৃত্তির টানে ছিন্ন তুমি ভিন্ন তোমার সত্তা!
বৃত্তি টানে ক্ষতবিক্ষত তুমি বৃত্তি নেশায় ভর্তা।
জীবন মাঝে যৌবন সত্যি তুমি জীবন খুঁজে পেয়েছো কি!?
হতাশার দীর্ঘশ্বাসে ভারী হ'য়ে আসে তোমার জীবন আকাশ
কি নিয়ে কাটাবে বাকি জীবনের শেষের দিনগুলি!?
এখনও তোমায় বলছি যৌবন আমার কথা শোনো
জীবন মাঝে পাবে খুঁজে সাত রঙা রঙ আমার কথা যদি মানো!
জীবন খুঁজে পাবে তুমি যৌবন আমার সাথে যদি আসো
মহাজীবন ডাকছে তোমায় তোমার জীবন মাঝে তাঁকে রাখো।
জীবন খুঁজে পাবে তুমি নিশ্চয় ক'রে বলছি আমি ঐ জীবন মাঝে!
বেসামাল জীবন তোমার সামলে যাবে, সামলে যাবে জীবন সাঁঝে!
--------------------প্রবি।

কবিতাঃ ঠাকুর আর তুমি!

ঠাকুর তুমি ভালোবাসো!?
তো ভালোতে কেন করো না বাস!?
তা ভালোতে বাস করার আগে ভালো কি তা জানার দরকার!
ঠাকুর তুমি ভালোবাসো!?
তা ঠাকুর কি কি নিয়ে ঠাকুর তা তুমি কি জানো?
তা জানতে হ'লে ঠাকুরের ঠাকুরত্বকে আগে
তোমার বোধের মধ্যে আনো!
ঠাকুরকে তুমি ভালোবাসো!?
তা ঠাকুর কি ভালোবাসেন তা আছে কি তোমার জানা!?
জানা থাকলে আর তা পালন করলে পরে
অন্ধকারে নেই যেতে আর কারো মানা!
ঠাকুরকে তুমি বাসো ভালো!?
তা ঠাকুর কি ভালোবাসেন না তা কি তুমি জানো!?
থাকলে তোমার জানা তা চরিত্রে তুলে আনো!
ঠাকুর তোমার প্রাণ!?
তা ঠাকুরের কষ্টে তোমার প্রাণ করে কি আনচান!?
যদি করে আনচান তবে কবুল করো ঠাকুর তোমার জান!
ঠাকুর তোমার আদর্শ!?
তা ঠাকুরের মিশন আছে কি তোমার জানা!?
যদি থাকে জানা তবে হ'য়ে আদর্শে সমর্পিত প্রাণ
লক্ষ্যে অবিচল থাকো!
ঠাকুর তোমার চলার সাথী!?
তা সাথীকে তুমি চেনো?
চিনতে গেলে জানতে হবে, জানতে গেলে মানতে হবে!
জানা-মানার পথ ধ'রে হাঁটলে পরে সাথীকে তুমি কাছে পাবে!
ঠাকুর তোমার বন্ধু!?
তা তুমি ঠাকুরের বন্ধু কি!
বন্ধুকে না ভালো বাসলে পরে বন্ধু তোমার জন্যে করবে কি?
ঠাকুর তোমার বন্ধু!
তা ঠাকুর তোমার কাছে কি চান?
যারা দিবারাত্র ঠাকুরকে করছে গালি, করছে কুৎসা,
খেলছে ঘৃণ্য খেলা ঠাকুর, ঠাকুর পরিবারের  নিয়ে মান-সম্মান!
তাদের উপর বন্দুক হ'য়ে গর্জে ওঠো, নিন্দুকের কেড়ে নাও প্রাণ!?
ঠাকুর কি তাই চান?
ঠাকুর তোমার স্বপ্ন!?
তা ঠাকুরের স্বপ্ন কি?
ঠাকুরের স্বপ্ন না থাকলে জানা তোমার ঠাকুর স্বপ্ন ভস্মে ঢালা ঘি!
তোমার স্বপ্ন পূরণ হবে কি? ভেবে দেখো দেখি!
ঠাকুর তোমার নেশা!?
নেশার ঝোঁকে লম্প দিয়ে ঝম্প মেরে মানুষকে দেখাও দিশা!
তা ঠাকুরের নেশা কি ছিল তা তুমি জানো কি!?
তা না জানলে পরে ঠাকুর ধরায় ফাঁকি!

এমনিভাবেই বেলা গেল ঠাকুর ধরা হ'লো বৃথা!
জীবন খুঁজে পেলে না বন্ধু কোথাও, বুঝলে না ব্যথাহারির ব্যাথা!
ব্যাথা নিয়ে ঠাকুর ধরো পেতে পরিত্রাণ!
ঠাকুর ব্যথার ধার ধারও না নিতে লেলিহান!
নিজের ধান্ধায় ব্যস্ত থাকো ঠাকুরকে করো হাতিয়ার!
ঠাকুর তোমার বাপের চাকর কিছু না ক'রে হাতাও বারবার!
সৎসঙ্গে মারছো ঢুঁশ সৎসঙ্গী সেজে!
মাথা জুড়ে ধান্ধাবাজির ছক রেখেছো কষে!
তিন 'প'-এর ব্যবসা ফেঁদে বসেছো দারুণ কিন্তু ভাই!
শেষের সেদিন কিন্তু ভয়াল ভয়ঙ্কর মনে রেখো তাই!
জীবন খুঁজে যদি চাও গো পেতে বিবেকের কথা শোনো!
ধান্দাবাজিতে ভরা পিংপং মন পাশে সরিয়ে বিবেককে বন্ধু মানো।
নিজের ধান্দা সরিয়ে রেখে ঠাকুরকে সামনে রাখো
'জীবন' খুঁজে পাবেই তুমি, বলছি আমি-----
বৃত্তিভেদী টান নিয়ে ভাই ঠাকুর সাথে থাকো!
------------------প্রবি।

সত্যানুসরণ ও কিছু কথা


চিন্তা হরণ শ্যামলদা একটা লেখা পোষ্ট করেছিলেন। লেখাটার নীচে লেখা ছিল 'সত্যানুসরণ'। লেখাটা হ'লো, " কৃতঘ্ন ও বিশ্বাসঘাতক অনেকটা অনেক সময়েই নিজেই সর্বনাশে সাবাড় হয়।" লেখাটা চোখে পড়তেই মনে হ'লো এই লেখাটা তো সত্যানুসরণে নেই। তাহ'লে কোথায় পেলেন চিন্তা হরণ দা? কৌতুহলবশতঃ আমি চিন্তা হরণদাকে প্রশ্ন করলাম সেই পোষ্টে। দীক্ষিত-অদীক্ষিত তামাম পাঠককুলের জানার ও সুবিধার জন্য
আমার প্রশ্নটা এবং তার পরবর্তী চিন্তা হরণ শ্যামল দা ও নির্মল সেন দার মন্তব্য এবং আমার তাদের সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষণমূলক কথন এখানে তুলে দিলাম।

প্রকাশ বিশ্বাসঃ "এই কথাগুলি সত্যানুসরণ গ্রন্থের? কোথায় পেলেন? কত পাতায় যদি বলেন তাহ'লে একবার দেখে নিতে পারি। আপনি শিওর যে এই কথাগুলি সত্যানুসরণ গ্রন্থের? কোথাও ভুল হচ্ছে না-তো? কোথাও গন্ডগোল হচ্ছে না-তো? দেখুন সত্যানুসরণ গ্রন্থ সম্পর্কে যেন কোনও ভুল ধারণার জন্ম না হয় দীক্ষিত-অদীক্ষিত পাঠক মহলে। একটু দেখে নিন।"

চিন্তা হরণ শ্যামলঃ জয়গুরু দাদাভাই ---"সত্যানুসরণ"৭৭ পৃষ্টার -'এই কৃতঘ্নতা ও বিশ্বাসঘাতকতাকে যে বা যারা প্রশ্রয় ও পোষণপুষ্ট করে---------"আপনি এ লাইনের পর থেকে পড়ালে পরবর্তী লাইনে পেয়ে যাবেন ---'জয়গুরু আশা করি পড়বেন, পাবেন ---

নির্মল সেনঃ জ্ঞাতার্থে "অকৃতজ্ঞতা" ....কৃতঘ্ন ও বিশ্বাসঘাতকতা অনেকটা অনেক সময়েই নিজেই সর্বনাশে সাবাড় হয় ---- আর এই প্রশ্রয়ী ও পুষ্টিপ্রদাতারা ব্যষ্টিসমষ্টির ধর্ম ও জাতির চিরদিনই সর্বনাশ করে থাকে। (পৃঃ ৭৭) জয়গুরু।

নির্মল সেনঃ  যে হেতু বড় পন্ডিত তোমাকে প্রশ্ন করেছে? সেহেতু আমি উত্তর দিলাম! জয়গুরু

 চিন্তা হরণ শ্যামলঃ ঠিক দিয়েছেন, দাদা, আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি, জয়গুরু।

এই পর্যন্ত শেষে আমি ভেবেছিলাম এর কোনও উত্তর দেবো না।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে মনে হ'ল প্রায় সময় এই ধরণের ঠাকুরের নাম দিয়ে বাণী চোখে পড়ে। সবার মধ্যে না হ'লেও কিছু মানুষের মধ্যে যারা ঠাকুরের বই টই পড়ে, ঠাকুরের গ্রন্থ Study করে তাদের মধ্যে এই নিয়ে সংশয় তৈরী হয়। এই বাণীটা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে, সংশয় তৈরী হবে আর এদের উত্তরে চুপ ক'রে থাকলে পাঠকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হবে ও মানুষ বিভ্রান্ত হবে। তাই ভাবলাম এই নিয়ে একটু চর্চা করা যেতেই পারে। যাই হ'ক আমি তখন চিন্তা হরণ শ্যামল-দাকে যা লিখেছিলাম সেই লেখা নতুন-পুরাতন দীক্ষিত-অদীক্ষিত মানুষের সুবিধার্থে এইখানে তুলে দিলাম।

প্রকাশ বিশ্বাসঃ চিন্তা হরণ শ্যামলদা আপনার পোষ্টটা দেখে আপনাকে কয়েকটা প্রশ্ন করেছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই একজন ঠাকুরের অনুগামী হিসাবে ঠাকুরের একজন অনুগামীর কাছে এই প্রশ্নটা রেখেছিলাম। প্রশ্নটা রেখেছিলাম এই কারণেই যে আপনার পোষ্টটা আমায় চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল আর ভেবেছিলাম যেহেতু আপনি নামে চিন্তা হরণ তাহ'লে নিশ্চয়ই আমার এই চিন্তা হরণ ক'রে আমাকে সংশয় থেকে মুক্তি দেবেন, আমাকে সবুজ ক'রে দেবেন। কিন্তু দেখলাম আপনি নির্মল সেনকে বাধাই দিয়েছেন, জানিয়েছেন বাহবা তার পোষ্টের জন্য এবং আপনি লিখেছেন আপনি খুব আনন্দিত হয়েছেন। অতএব ধ'রেই নিতে পারি আমার সম্পর্কে করা তার উক্তিতেও আপনি আনন্দ পেয়েছেন এবং তার ভাষা, ব্যবহার, কথা সবকিছুর গুণগ্রাহী। আর মানুষের কথা, ভাষা, ব্যবহার মানুষের চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলে। নির্মল সেনের ক্ষেত্রেও তাই। যাই হ'ক এটা আপনার ব্যক্তিগত বোধ ও রুচির ব্যাপার। সেখানে আমার কিছু বলার থাকতে পারে না।
আপনার কথামত আমি আমার উদ্দেশ্যে করা আপনার কমেন্ট পড়লাম। ভেবে দেখলাম আপনি কোন 'সত্যানুসরণ'-এর কথা বলছেন? ঠাকুরের 'সত্যানুসরণ' নামে কি অনেক গ্রন্থ আছে? অনেক প্রকাশক আছে? এখন দেখা যাক রহস্যটা কোথায়। তাহ'লে কি বাঁদরের তৈলাক্ত বাঁশে ওঠা নামার অঙ্কের (২ফুট উঠলে ৩ফুট নেবে যায়) মত 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা ঠাকুর প্রদত্ত/অপ্রদত্ত বা ঠাকুর অনুমোদিত/অননুমোদিত বাণীর ভারের তারতম্যে মাঝে মাঝে ওঠা নামা করে!?
ক্রমশঃ।

প্রকাশ বিশ্বাসঃ  চিন্তা হরণ শ্যামলদা, এবার আসি ঠাকুরের 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ প্রসঙ্গে আলোচনায়। আপনার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভেবেছিলাম রহস্যের সমাধান হ'তে পারে কিন্তু যখন দেখলাম আপনি নির্মল সেনের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের সমর্থক তখন ইচ্ছেটা মরে গেছিল। ভেবেছিলাম সবার সঙ্গে সব আলোচনা নয়। যাই হ'ক পড়ে ভাবলাম আমার আগের করা বক্তব্যের একটা মধুরেন পরিসমাপ্তির প্রয়োজন আর সেই প্রয়োজন বৃহত্তর স্বার্থে। তাই আবার লিখতে বসলাম বৃহত্তর পাঠককুলের জন্য।
যাই হ'ক, যে 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ আমার কাছে আছে সেই গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা তো ৭১। ৭৭ নম্বর পৃষ্ঠা কোথায় পেলেন!? এর অর্থ আপনার কাছে যে 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ আছে তার পৃষ্ঠা সংখ্যা আপনার কথানুযায়ী ৭৭পৃষ্ঠা তো আছেই তারও অধিক আছে। আচ্ছা আপনার কাছে যে 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ আছে তার পৃষ্ঠা সংখ্যা কত? আপনার জ্ঞাতার্থে ও আলোচনার সুবিধার্থে এবং দীক্ষিত-অদীক্ষিত পাঠককুলদের সুবিধার্থে আরও একটা তথ্য এর সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছি আমার কাছে আরও একটা 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ আছে যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ১১০। তাহ'লে দেখা যচ্ছে তথ্যানুযায়ী আপাতত 'সত্যানুসরণের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩। এর থেকে স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে তাহ'লে আরও 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ থাকতেই পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থগুলির প্রকাশক কে বা কারা? যে কোনও ব্যাক্তি বা যে কোনও স্বঘোষিত প্রতিষ্ঠান কি নিজের বা নিজেদের ইচ্ছামত ঠাকুরের নাম দিয়ে ঠাকুরের গ্রন্থ ছাপাতে পারে বা ছাপাবার অধিকার বা স্বত্বাধিকার আছে? এই সমস্ত গ্রন্থের Authenticity কোথায়? কোন গ্রন্থের মধ্যে ঠাকুরের বাণীর যথার্থতা অর্থাৎ Genuineness খুঁজে পাওয়া যাবে? সাধারণ আম ভক্তের কথা বাদ দিলাম; গবেষকরা কাকে প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসাবে গুরুত্ব বা স্বীকৃতি দেবে ব'লে আপনার মনে হয়? গবেষকদের কাছে কোন প্রকাশকের গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্ব পাবে?
ক্রমশঃ।

প্রকাশ বিশ্বাসঃ চিন্তা হরণ শ্যামলদা, এবার আসি প্রকাশকের কথায়। আমার কাছে ৭১ পৃষ্ঠার যে 'সত্যানুসরণ' গ্রন্থ আছে তার প্রকাশক ঠাকুরের মূল কেন্দ্র 'সৎসঙ্গ দেওঘর-এর 'সৎসঙ্গ পাবলিশিং হাউস' সৎসঙ্গ, দেওঘর, ঝাড়খন্ড আর আমার কাছে আরও যে বহু পুরানো একটা সত্যানুসরণ' গ্রন্থ আছে সেটার প্রকাশক অন্য। একজন ব্যাক্তি তার প্রকাশক। সেই ব্যাক্তি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল-এর শুভ্রা প্রেস থেকে বইটি মুদ্রণ করেন ও ১৯৭৮ সালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১১০ পাতার বইটি তিনি প্রকাশ করেন। এখন আমার খুব জানার ইচ্ছা, দাদা আপনার কাছে যে বইটি আছে সেই বইটির প্রকাশক ও মুদ্রক কে? কি তার প্রামাণিকতা ও যথার্থতা? কে সেই ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান যিনি বা যার ঠাকুরের গ্রন্থের ওপর এই বিধি সঙ্গত অধিকার আছে, কর্তৃত্ব করবার অনুমতি আছে, প্রামাণিক গ্রন্থ বা মতের ওপর প্রভুত্ব করার অধিকার আছে? কে এই বিধিসঙ্গত ক্ষমতাদান বা প্রাধিকার অর্পণ করলো সেই ব্যাক্তিকে বা সেই প্রতিষ্ঠানকে যে সে বা সেই প্রতিষ্ঠান ঠাকুরের গ্রন্থের ওপর ইচ্ছামত তার বা তাদের ব্যক্তিগত প্রভাব প্রয়োগ ক'রে ঠাকুরের গ্রন্থ প্রকাশ করবে? মূল কেন্দ্র বহির্ভূত ক্ষমতার উৎস এই সমস্ত প্রকাশকগণ কার থেকে সেই অধিকার বা অনুমতি লাভ করেছিল? Authentication বা প্রমাণীকরণ ছাড়া কোনও গ্রন্থের মূল্য গবেষকদের কাছে নেই এবং তাঁরা তাদের গবেষণার ক্ষেত্রে গ্রহণ করেন না বা আদৌ মূল্য দেন না। যাই হ'ক আমি আমার তথ্য ও তত্ত্বের উপর ভিত্তি ক'রে আপনার সঙ্গে এই বিষয় শেয়ার করলাম। আপনি গ্রহণ ও বর্জন দুই-ই করতে পারেন আপনার ইচ্ছানুযায়ী; এই বিষয়ে আমার কোনও বক্তব্য বা আপত্তি নেই।
ক্রমশঃ।

প্রকাশ বিশ্বাসঃ চিন্তা হরণ শ্যামলদা, আপনি বা আপনারা যা ইচ্ছা তাই ভাবতে পারেন, বলতে পারেন, করতে পারেন এই স্বাধীনতা সকলের আছে এবং ঈশ্বর এই স্বাধীনতা সকলকেই দিয়েছেন। আর এই স্বাধীনতার প্রয়োগও দেখতে পাই আপনাদের করা পোষ্টে। আপনারা ঠাকুরের আত্মজদের বিরুদ্ধে কতটা নোংরা ভাষা প্রয়োগ করতে পারেন, নোংরা আচরণ করতে পারেন এবং পরস্পর পরস্পরকে সমর্থন ক'রে এই নোংরা কাজে ঝড় তুলবার আহ্বান দিতে পারেন তাও দেখছি। আর তাই ভাবি ঠাকুরের পরমপ্রিয় আত্মজদের যারা ছাড় দেয় না তো বাকীরা কোন ক্ষেত কা মূলী!? কিন্তু এটা জেনে রাখুন ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের কাছে 'কোন ক্ষেত কা মূলী' এই তকমা চলবে না। তাঁরা চাইবেন তাদের গবেষণার জন্য Authentication, চাইবেন Genuineness-এর ভিত, চাইবেন Authorized version of the 'Sathyanusaran' which is called 'The pursuit of Truth. সেখানে নির্মল সেনদের গালাগালি খাটবে না, খাটবে না মূল কেন্দ্র বহির্ভূত ক্ষমতার উৎস কপট চাতুরিদের প্রকাশনার!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

প্রকাশ বিশ্বাসঃ আর, Nirmal Senদের মত অসহিষ্ণু, অসভ্য, রুচিহীন মানুষদের উদ্দেশ্যে শুধু এই কথায় বলতে পারি উনার সঙ্গে আমার কোনও কথা বলার রুচি নেই। কারণ আমি Chinta Haran Shyamolদার পোষ্টের উপরে কিছু আগ্রহ প্রকাশ করেছিলাম, উনাকে (নির্মল সেন) বা উনার কোনও পোষ্ট বা বক্তব্য বিষয়ে কোনও মন্তব্য করিনি। অথচ উনি আমাকে (আমি উনার না পরিচিত, না ফেসবুক বন্ধু) অপমানজনক মন্তব্য ক'রে উনার শিক্ষা, রুচি ও জীবনের মান ও শৈলীর পরিচয় দিয়েছেন। তাই, আমি না উনি কে বড় পন্ডিত আর কে বড় লেন্ডিত সে আলোচনা বা তর্কে যেতে রুচিতে বাধলো। জানি না উনি বৈধ সৎসঙ্গী কিনা!!!!!!!!! তবে এটা বুঝেছি ঠাকুরের জীবন, ব্যবহার, বলা, কথা ও ঠাকুরের সৎসঙ্গের শিক্ষা, রুচি ইত্যাদির কোনও কিছুর সঙ্গেই উনার (আমাকে ও অন্যান্য জায়গায় করা মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে উনার যে জীবন দর্শনের বহির্প্রকাশ হয় তার সঙ্গে) সঙ্গে মেলে না শুধু নয়, ঠাকুরের মানুষের একেবারে বিপরীত।
শেষ।
শিক্ষক দিবস সম্পর্কে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দায়িত্ব-ভরা কয়েকটা বাণী মনে এলো তাই লিখলাম।

* শিক্ষকের নাই ইষ্টে টান
  কে জাগাবে ছাত্র প্রাণ!?

*  দায়িত্ব ভরা যা'কিছু তা'র সবার সেরা শিক্ষকতা,
   ইষ্টনিষ্ঠ স্বভাব ছাড়া অধ্যাপনা বর্বরতা।

* সেবা-সম্পদ সহানুভূতি আপন-করে বুকের টান,
   শিক্ষক ব'লে তাকেই জানিস তিনিই বাস্তব বিদ্যাবান।

 * দীক্ষা নিয়ে শিক্ষা ধরিস আচার্যকে ক'রে সার,
   আচরণই বোধ চয়ণে জ্ঞানের সাগর হও না পার।

* শেখাবার মত দায়িত্ব-ভরা ভর দুনিয়ায় কী কাজ আছে,
   শিক্ষক-স্বভাব বিচ্ছুরণে উপচে ওঠে ছাত্র মাঝে।

বাস্তবে আমরা কি দেখি!? বাস্তব কি তাই বলে?

   জয়গুরু