Powered By Blogger

Friday, August 22, 2014

ছিন্ন হইল বন্ধন কার!!



অসাধারণ ছবি!!!!!!!!!!!!!!!! বাংলাদেশের ছবিটা মনটাকে সবুজ 'রে দিল একেবারে ছবিটা আমাকে হারানো দিন ফিরে পাবার আকাঙ্ক্ষায় আকুল 'রে তুলল! ঘরের জন্য মনটা কেমন করছে! মন বলছে বারবার, ফিরে চল মন নিজ নিকেতনে!!! স্মৃতিবেদনাতুর আমি কোনোদিনই দেখিনি আমার মায়ের, পিতৃদেবের দেশ, গ্রাম! শুনেছি অনেক কথা তাদের আমার গুরুজনদের কাছে আমার মায়ের, পিতৃদেবের জন্মভুমি, দেশবাড়ি সম্পর্কে! কিন্তু দেখা হয়নি কোনোদিনই সেই স্বাধীনতার সময়ে চলে এসেছিল -বাংলায় আমার জন্মদাতা-দাত্রী! তাই মন বলে, '-বাংলায় জন্ম আমার, বাংলায় জন্ম মা-, দু-বাংলায় দুজনার জন্ম,
ছিন্ন হইল বন্ধন কার'! মনে হচ্ছে নৌকো 'রে চলে যায় ওপারে গাছগাছালিতে ঘেরা নিরালা নিবেশে যেখানে বাঁধা আছে আমার প্রাণভোমরা! কি সুন্দর ছবি!!!!!চারপাশে সবুজায়নের মাঝখান দিয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে তাকিয়ে থাকতে থাকতে অতীত আর্তি আমায় আলটপকা বুকের ভেতরটা খামচে ধরে, মাথার মধ্যে ঢুকে যায় গভীর শুন্যতা, নীল আকাশ!!!!!!!!!!!!!!

এই ছবি আমায় মনে পড়িয়ে দিল জীবনানন্দ দাশ-কে! এমনিতে দিনগত পাপক্ষয়ের মাঝে মনে পড়ে না বাংলার 'জীবন' জীবনানন্দকে! তাই সবার জন্য কবির কবিতাটার কয়েক লাইন তুলে দিলাম


"বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে চেয়ে দেখি ছাতার মতন বড়ো পাতাটির নিচে বসে আছে ভোরের দোয়েলপাখিচারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ জামবটকাঠালেরহিজলেরঅশখের করে আছে চুপ; ফণীমনসার ঝোপে শটিবনে তাহাদের ছায়া পড়িয়াছে; মধুকর ডিঙা থেকে না জানি সে কবে চাঁদ চম্পার কাছে এমনই হিজলবটতমালের নীল ছায়া বাংলার অপরূপ রূপ"

বন্যেরা বনেই সুন্দর!!!!!




উফফফফফফফ! কত্তোওওওওওওওওওও টিয়াপাখি!

আমাদের বাড়িতে একটা ছিল! কি সুন্দর মিষ্টি ক'রে মেয়ের নাম ধ'রে ডাকতো, 'গুড়িয়া, গুড়িয়া, গুড়ি য়াআআআআ!!!!!!!!!!!!!!!!!' ছোলা খেতো, বাদাম খেতো, খেতো কাঁচালংকা। একদিন খাঁচার ভিতর দিয়ে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়ে গলায় বুলিয়ে দিচ্ছিলাম। হঠাৎ ঘাড় ঘুড়িয়ে কামড়ে দিল। মনে হয় হয়তো ও ব্যথা পেয়েছিল। আমি দেখলাম আমার আঙ্গুলে রক্ত। আঙ্গুলটা ঠোঁটের কামড়ে কেটে গিয়েছিল। আমি ব্যথায় চিৎকার ক'রে আঙ্গুলটা বের ক'রে এনেছিলাম। দেখলাম পাখিটা খাঁচার ভিতর ছটফট করছে আরঘুরপাক খাচ্ছে। মাঝে মাঝে খাঁচার ফাঁক দিয়ে ঠোঁট বের করে মুখটা ঘষছে। বুঝলাম ও বুঝতে পেরেছে ও আমায় ব্যথা দিয়েছে আর আমি ব্যথা পেয়েছি!!!!!! তারপর কিছুক্ষণ পর আবার ওর গলায় খুব আস্তে আস্তে আঙ্গুল বুলিয়ে দিলাম। ও চোখ বুঝে চুপ ক'রে রইলো!!!!!! কি অদ্ভুত sense!!!!!!! মাঝে একদিন কি করে জানি খাঁচার দরজা খোলা পেয়ে উড়ে গেল। কিন্তু প্রতিদিনই কোথা থেকে জানি উড়ে এসে বসতো ছাদের ধারে পেয়ারা গাছটায় আর ডাকতো, 'গুড়িয়া, গুড়িয়া, গুড়ি য়াআআআ!!!!!!!!!!!! আমরা ডাকতাম, 'আয় আয় আয়'! টিয়াপাখিটা কিছুক্ষণ এ ডাল থেকে ও ডাল উড়াউড়ি করতো, গাছের পাকা পেয়ারা খেতো আর মাঝে মাঝেই ব্যস্তসমস্ত ভাবে ডেকে উঠতো 'গুড়িয়া, গুড়িয়া'! তারপর আবার যেমন আসতো তেমনি হঠাৎ কোথায় জানি উড়ে চলে যেত! এভাবে বেশ কয়েকদিন এসেছিল আর মিষ্টি সুরে 'গুড়িয়া' বলে ডাকতো। তারপর একদিন আসা বন্ধ ক'রে দিল! একেবারে বন্ধ ক'রে দিল! মনটা খারাপ হ'য়ে গেল! মনে হ'ল জীবন থেকে কি যেন হারিয়ে গেল! যেদিকে উড়ে চলে যেত সেদিকে দূরের নীল সাদা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতাম রোজ, এই বুঝি এলো, এই বুঝি ডেকে উঠলো মিষ্টি স্বরে 'গু-ড়ি-য়া'!!!!! কিন্তু না আর আসেনি, কোনোদিনই আসেনি। তবে আমার খাঁচায় বাঁধা থেকে আমায় আনন্দ দেবার বদলে ও ওর নীলাকাশের নিজস্ব জগতে ফিরে গেছে ভেবে চোখের কোণে জল এলেও সেই জল ছিল আনন্দের অশ্রু!!!!!!!! কারণ শিশুরা যেমন সুন্দর মাতৃক্রোড়ে, ঠিক তেমনি বন্যেরা বনেই সুন্দর!!!!!

কোথায় সেই নিকেতন???



রাত কেটে সকাল হলেই টিভি, রেডিও, কাগজ ও আমার চারপাশের ঘরে-বাইরের নানা অমানবিক বিকৃত ঘটনায় ভোরেই বিকেলের ফুলের মত অবস্থা হয় মনের! তখন ভাষা হারিয়ে যায়, 'য়ে পড়ি বড় অসহায়। আবার সেই রাত্রি শেষে যখন ভোরের প্রথম আলো ফোটে, সেই আবছা আলো আঁধারের মাঝে যখন আকাশে নীল সাদা পেঁজা তুলোর মেঘ দূরে অনেক দূরে ভেসে ভেসে চলে যায় আর সেই নিভৃত নীরব আলো আঁধারের মহাশুন্যতার নীচে চারপাশের শশ্মান নিস্তব্ধতার মাঝে যখন আমি দাঁড়িয়ে থাকি একাকি, চোখে মুখে এসে ঠান্ডা নির্মল দখিনা বাতাস যখন তার কোমল হাত বুলিয়ে দেয় তখন এক গভীর প্রশান্তি অনুভব করি, আবেশে বুঝে আসে চোখ! চারপাশের গভীর রহস্যময় নিস্তব্ধতার মাঝে অপরুপ প্রকৃতি আমার সত্তাকে জানান দেয় ঈশ্বরের উপস্থিতি!!!!!!!!!! তখন ভাষা হারিয়ে সেইমূহুর্তে আমি হ'য়ে যায় মূক ও বধির!
মাঝে মাঝে যখন হারিয়ে যায় ভাষা তখন বড় কষ্ট হয়। তবে প্রকৃতির কাছে মুগ্ধ হ'য়ে ভাষা হারিয়ে গিয়ে কষ্ট হ'লেও একটা অবর্ণনীয় নির্মল সাতরঙা আনন্দ আছে। আছে তৃপ্তি, হয় তৃষ্ণার নিবৃত্তি!
কিন্তু মানুষের অমানবিক ঘটনায় যখন ভাষা হারিয়ে যায় তখন বুকের মধ্যে আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ হয়, অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। কষ্ট, জ্বালা, যন্ত্রণা, রাগ, ক্ষোভ-এর লাভা গলে গলে পড়ে, বয়ে যায় বুকের ভিতরে অন্তসলিলার মত। তখন বড় কষ্ট হয়, মনে হয় জীবন থেকে মুক্তি পেলে বড় ভালো হয়!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
মন বলে, কোথায় পাবে খুঁজে জীবন? দৈববাণীর মত কে যেন বলে ওঠে, ফিরে চল মন নিজ নিকেতন! কোথায় সেই নিকেতন????????????? —

যুবক শ্রীকৃষ্ণ



আজ রবিবার শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিন। দেশজুড়ে পালন হচ্ছে তাঁর জন্মদিন। তাঁর গীতায় বলা বাণী স্মরণ করছে শ্রদ্ধার সঙ্গে কৃষ্ণভক্ত, ঈশ্বরবিশ্বাসী মানুষ!
যদা যদাহি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মনং সৃজাম্যহম্। পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্ ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।'
অর্থাৎ যখন যখন ধর্মের গ্লানি হয়, অধর্মের উত্থান ঘটে, তখন তখন সজ্জনদের পরিত্রাণ, দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য, অন্যায়ের প্রতিবিধান করে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার জন্য ভগবান জীবদেহ ধারণ করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন।


কিন্তু আমরা কি এই বাণীর মর্মার্থ কি তাবুঝি, মানি বা বিশ্বাস করি? যদি এর মানে বুঝবোই, এই কথা মানবোই এবং বিশ্বাস করবোই তাহলে আজ ধর্মের এই অবস্থা কেন? কেন ঈশ্বর বিশ্বাসী মানুষের আজ করুণ অবস্থা? প্রশ্ন জাগে মনে আমরা ঈশ্বর বিশ্বাসী মানুষেরা, কৃষ্ণপ্রেমীরা কি এই বাণীর মর্মাথ সত্যি সত্যিই বুঝেছি??????? তাহ'লে তাঁর বারবার ফিরে আসা সত্ত্বেও ধর্মের, ধর্ম বিশ্বাসী মানুষের আজ এই করূণ অবস্থা কেন? না-কি সবটাই অজ্ঞানতার অন্ধকারে ডুব দিয়ে, তাত্ত্বিক আমেজে মজে গিয়ে নিছক ভালোবাসা কিম্বা ভন্ডামি??????????

কেন শ্রীকৃষ্ণকে পরমপুরুষ, জীবনস্বামী, পুরুষোত্তম ও মানবজাতির মুক্তির প্রাণপুরুষ বলা হয়?

শ্রীকৃষ্ণ শৈশবেই দুর্ধর্ষ আর অপ্রতিরোধ্য প্রকৃতির ছিলেন। পুতনা রাক্ষসী সহ অন্যান্য রাক্ষসদের এবং কালীয় নাগকে হত্যা করে তিনি নিজের ও বৃন্দাবনবাসীর জীবনরক্ষা করে শৈশবেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি নিছকই একজন সাধারণ মানুষ নন! রহস্যময় তাঁর জীবনের প্রতি অধ্যায়ে অধ্যায়ে লুকিয়ে আছে ঘটনার ঘনঘটা! যৌবনে কৃষ্ণ তাঁর মামা কংসের অনুগামীদের দ্বারা সংঘটিত বহু হত্যার ষড়যন্ত্র থেকে আত্মরক্ষা করে কংসকে বধ করেন এবং সেখানে কংসের পিতা উগ্রসেনকে পুনরায় যাদবকুলের রাজা হিসেবে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেন এবং নিজে সেখানে অন্যতম যুবরাজ হিসেবে অবস্থান করেন। এই ধরণের ভয়ঙ্কর শত্রুদের বিরুদ্ধে কৃষ্ণের একক কৌশলী লড়াই ও তাদের পরাস্ত করা প্রমাণ করে কৃষ্ণ অসাধারণ চৌকশ মেধাবী শক্তিশালী প্রখর কূটবুদ্ধিসম্পন্ন পুরুষ ছিলেন যা বর্তমান উন্নত সামরিক শক্তিসম্পন্ন যে কোন দেশের যে কোন মিলিটারি জেনারেলের দুর্ধর্ষতাকে হার মানায়। এইখানে একটা লক্ষ্যনীয় বিষয় হল ইচ্ছে করলে তিনি নিজেই স্বাভাবিক নিয়মেই মথুরার সিংহাসনে বসতে পারতেন কিন্তু তাতিনি করেননি। চেদি দেশের রাজা শিশুপালের একশত ঘৃণ্য অপরাধ সহ্য করা এবং তাকে ক্ষমা করে শুধরে যাবার সু্যোগ দেওয়ার মধ্যে দিয়ে কৃষ্ণের চূড়ান্ত সহনশীলতা ও সংশোধনের মাধ্যমে বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠা’-র মানসিকতার প্রমাণ পাওয়া যায় এবং এর সাথে এও প্রমাণ পাওয়া যায় একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর সমাজের স্বার্থে, মানবজাতির স্বার্থে সঠিক সময়ে প্রয়োজনে তিনি কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন। শিশুপালের একশো একটা অপরাধের পর কৃষ্ণের ভয়ংকর হয়ে ওঠা এবং পরিশেষে নির্মম হত্যা প্রমান করে যে তার সীমাহীন চরম সহনশিলতা এবং নিজেকে সংশোধনের মাধ্যমে বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠার জন্য সুযোগ দেওয়াকে যেন কেউ তার চরিত্রের দুর্বলতা বলে মনে না করে। এখানেই তিনি প্রমাণ করেছিলেন কেন তাঁকে পরমপুরুষ বলা হয়ে থাকে।

পরবর্তী সময়ে প্রাচীন গুজরাটে শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকা নামে রাজ্য প্রতিষ্টিত করেন। ঠিক ঐ সময় কামরুপের রাজা ছিলেন অত্যাচারী, ধর্মদ্রোহী, নারী হরণকারী নরকাসুর। তিনি তার রাজত্বকালে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মানবতা বিরোধী চরম অত্যাচার চালিয়ে মানব সমাজের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তোলেন। তিনি এতটাই নারকীয় আসুরিক ক্রিয়াকলাপে যুক্ত থাকতেন যে তাকে শুধু অসুরনা একেবারে সরাসরি নরকের অসুর নরকাসুরআখ্যা দেওয়া হয়েছিল। তিনি ভৌতিক শক্তি বলে বিভিন্ন রাজ্য থেকে নারী অপহরণ করে ভোগের উদ্দেশ্যে নিজের কারাগারে বন্দী করে রাখতেন। সেই সময় প্রবল পরাক্রান্ত এমন কেউ ছিল না যে এমন ভয়ংকর নরপিশাচের হাত থেকে নারীদের তথা সমাজকে রক্ষা করে। আজকের এই বিজ্ঞানের চরম উন্নতির সময়ে, নানা 'বাদ'-এর উপস্থিতিতে বিশ্বে কোন দেশে এমনকেউ প্রবল পরাক্রান্ত ব্যক্তিত্ব আছেন না-কি যে নরপিশাচের হাত থেকে নারীদের তথা সমাজকে রক্ষা করবে?

যাই হ', এরপরই ঐ ভয়ংকর নরপিশাচের মানবতা বিরোধী নারকীয় ক্রিয়াকলাপে কৃষ্ণ ভয়ংকর ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন ও তাকে হত্যা করে সমাজে সুখ শান্তি ফিরিয়ে আনেন এবং নরকাসুরের কারাগারে বন্দী ১৬১০০ নারীকে উদ্ধার করেন। নরকাসুরকে হত্যা করার পর কৃষ্ণ কামরূপের যুবরাজ ভগদত্তকে ঐ সিংহাসনে প্রতিষ্টিত করেন। কিন্তু সেই সময়ে বন্দী নারীদের সমাজে কোন সম্মান ছিল না এবং তাঁদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে এনে তাদের পুনরায় বিবাহের মাধ্যমে গার্হস্থ্য জীবনে প্রবেশের কোন উপায় ছিল না। তাই কৃষ্ণ সেই অসুরের কারাগার থেকে উদ্ধার করা অসহায় নারীদের সম্মান রক্ষার্থে এবং সমাজের কুটিল আবর্তে আবার হারিয়ে যাবার আগেই সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে এনে তাঁদের সম্মানের সঙ্গে মাথা উচু করে বাঁচা ও বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেবার মহৎ উদ্দেশ্যে তাদের বিবাহ করেন। সেই সময় কৃষ্ণের সমস্ত মহিষীগণই দেবী লক্ষ্মীর অবতার হিসাবে সমাজে পুজিত হতেন। এইখানেই, যুবরাজ ভগদত্তকে কামরুপ রাজ্যের রাজা হিসাবে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করা এবং ১৬১০০ নারীর সম্ভ্রম রক্ষা করে তাঁদের লক্ষীর অবতার হিসাবে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার মধ্যে দিয়ে আবার তিনি প্রমান করেন কেন তাঁকে জীবনস্বামী বলা হয়।

মহাভারতের যুদ্ধ এবং তার পরিণতিতে কৃষ্ণের প্রভাব ছিল গভীর, তীব্র। মহাভারতের যুদ্ধকে থামাবার জন্য দুপক্ষের মধ্যে শান্তি স্থাপনের আপ্রাণ চেষ্টা যখন তাঁর ব্যর্থ হল তখন কৃষ্ণের প্রখর কূটবুদ্ধির পরিচয় পেল সমগ্র মানবকূল! তাঁর ক্রূর কূটনীতিকের ভুমিকা মহাভারতের ভয়ংকর মহাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সমস্ত রাজ্যের তাবড় তাবড় মহাবীর যোদ্ধাদের স্তম্ভিত করে দিল! অথচ সেই ভয়ংকর নির্ম্মম কুটিল ঘোর মহাযুদ্ধে কৃষ্ণ যুদ্ধ করা তো দূরের কথা কোন অস্ত্রই হাতে নেননি! উপরন্তু সেই যুদ্ধে তিনি অর্জুনের রথের সারথীর ভুমিকা পালন করেছিলেন মাত্র! যুদ্ধ শুরুর সময় থেকে হতবল অর্জুনের মনোবলকে চাঙ্গা করার জন্য জীবন সম্পর্কে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে একে একে ভীষ্ম, দ্রোণাচার্য, কর্ণ, জয়দ্রত এবং কৌরব প্রধান দূর্যোধন সহ সকল সেনাপ্রধানকে বধ করার অতুলনীয় ও অপ্রতিরোধ্য ক্রূর কৌশল পৃথিবীর ইতিহাসে আজও বিস্ময়ের সঙ্গে স্মরণ করা হয়ে থাকে! আঠেরো দিন ধরে চলা এই সংহারক যুদ্ধে ভারতবর্ষের বহু রাজার প্রাণ যায়। যুদ্ধ শেষে আবার রাজত্ব ফিরে পান জ্যেষ্ঠ পাণ্ডুপুত্র যুধিষ্ঠির।

মূলতঃ কৌরব ও পাণ্ডবদের গৃহবিবাদ থেকেই এই মহাভারতের যুদ্ধ শুরু। এই গৃহযুদ্ধকে ঠেকাতে গিয়েই কৃষ্ণ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়েন এবং মহান মানবতা রক্ষার স্বার্থেই তিনি এই যুদ্ধকে পরিচালনা করেন। কিন্তু যুদ্ধে তিনি কখনোই অস্ত্র ধারণ করেননি। একবার মাত্র তিনি একটি রথের চাকাকে চক্রে পরিণত করে ভীষ্মকে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছিলেন। এর পিছনেও ছিল তাঁর ক্রূর কূটিল চাল। পিতামহ ভীষ্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দ্বিধাগ্রস্থ অর্জুন ভীষ্মের ভয়ঙ্কর আক্রমণে যখন পর্যুদস্ত ঠিক সেই সময় অর্জুনকে রক্ষা করতে কৃষ্ণ ঢাল হয়ে অর্জুনকে ভীষ্মের হাত থেকে বাঁচান। এর ফলে আঘাতপ্রাপ্ত কৃষ্ণ ভীষ্মকে ক্রোধে আক্রমণ করতে উদ্যত হন। এতে অর্জুন লজ্জিত হন এবং নিজের কৃতকর্মের জন্য কৃষ্ণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং পূর্ণ উদ্যম নিয়ে যুদ্ধ করার প্রতিজ্ঞা করেন। এখানে একসঙ্গে কৃষ্ণ দুটি নিদর্শন স্থাপন করলেন। এক, নিজে অস্ত্র ধারণ করার মধ্যে দিয়ে তিনি অর্জুনের অর্জুনত্বকে আঘাত করে তাঁর চেতনাকে জাগ্রত করলেন অন্যদিকে তিনি সামান্য রথের চাকারুপী অস্ত্র ধারণ করলে কি মহাপ্রলয় হতে পারে তারও ঈঙ্গিত দিয়েছিলেন! কিন্তু তিনি অস্ত্র ধরেননি কারণ তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন মানবজাতীকে আঠেরোদিনের যুদ্ধের প্রতিদিনের ধর্মের জয় আর অধর্মের পরাজয়ের জীবন্ত ছবি! এর মধ্যে দিয়ে তিনি বারেবারে প্রমান করেছিলেন কেন তাঁকে পুরুষোত্তম বলা হয়!

বৃষ্ণি বংশীয় সত্রাজিত ছিলেন দ্বারকার বিশিষ্ট নাগরিক। সূর্যদেব সত্রাজিতের ভ্রাতা প্রসেনকে স্যমন্তক মণি উপহার দেন। শ্রীকৃষ্ণ সত্রাজিতের কাছে স্যমন্তক মণি দেখতে চাইলে সত্রাজিত তাঁকে মণিটি দেখান এবং শ্রী কৃষ্ণ চলে গেলে সত্রাজিত ভাই প্রসেনকে স্যমন্তক মণিটি দিয়ে তাকে আত্মগোপন করে থাকতে বললেন এবং পরে প্রচার করে দেন যে শ্রী কৃষ্ণ মণিটি দেখে চলে যাবার পর মণিটি আর পাওয়া যাচ্ছে না। এই বদনাম কৃষ্ণকে অনুপ্রাণিত করে মণিটি খুঁজে বার করার জন্য। পরে তিনি অনেক অনুসন্ধানের পর ভল্লুকরাজ জাম্ববানের কাছে স্যমন্তক মণির সন্ধান পেলেন। সেখান থেকে মণিটি উদ্ধার করে এনে তিনি দ্বারকার সকল বিশিষ্ট নাগরিকের সামনে ঘটনাটি তুলে ধরেন এবং দ্বারকার সকল বিশিষ্ট নাগরিকের দেওয়া রায় সত্ত্বেও শ্রীকৃষ্ণ স্যমন্তক মণি গ্রহণ করেননি, ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সত্রাজিতকে। এখানেও প্রমাণ হয় বৃত্তি-প্রবৃত্তির কতটা উর্ধ্বে তিনি বিচরণ করেন এবং কেন তাঁকে মানবজাতির মুক্তির প্রাণপুরুষ বলা হয়!

কিন্তু ধর্ম ও ঈশ্বর বিশ্বাসী সাধারণ অজ্ঞ মানুষ, চূড়ান্ত বৃত্তি-প্রবৃত্তিতে ডুবে থাকা রিপু তাড়িত ভাঙ্গাচোরা মানুষ আজ কৃষ্ণকে নিয়ে শুধু 'বালগোপাল, বালগোপাল' খেলা-ই করে আর লাড্ডু, মালপোয়ার মধ্যে তাঁর জীবন দর্শন খুঁজে পায়!!!!!!!!! তাঁর বাণী "যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত........................সম্ভবামি যুগে যুগে" প্রয়োগ করে যত্রতত্র এবং যেকোনও ব্যক্তির মধ্যে তাঁর প্রতিফলন দেখতে পান!!!!!!!!!!!

আজ শুধু ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই টুকুই বলতে ইচ্ছে করে, "পঞ্চ ভুতের ফাঁদে, বহ্মা পড়ে কাঁদে"! হে ঈশ্বর তুমি আমাদের অজ্ঞানতাকে, অহংকারকে ক্ষমা ক'রো!



Friday, April 4, 2014

নবীন ভোটার!!!!!!!!!




ভোটের কথা অমৃত সমান!!!!!!!! নেতা, জনতা, ব্যক্তি, দল নীতি!!!!!!
পর্ব---/ (জনতা/নবীন ভোটার)

নবীন ভোটাররা কাকে ভোট দেবে? জীবনের প্রথম ভোট কি নবীনদের কাছে প্রবীণ সময়ের দিনগুলিতে স্মৃতি হ’য়ে ধরা দেবে? আজকের মতদান আগামীদিনে কি নবীনদের ১৬তম সাধারণ লোকসভা নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজেদের কাছে নিজেদের সম্পর্কে গর্বের কিম্বা লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়াবে? এ ব্যাপারে কি নবীনরা সচেতন? নবীনরা কি কোনো উত্তেজনা অনুভব করে দেশ গড়ার কাজে জীবনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ মতদান প্রয়োগের ক্ষেত্রে? নবীনরা কি প্রস্তুত এতবড় দেশে চতুর্মুখী কিম্বা পঞ্চমুখী নির্বাচনী লড়াইয়ে কারও দ্বারা প্রভাবিত না হ’য়ে, নানা পরিস্থিতি, নানা পরিবেশের চাপে পড়ে নিত্য নতুন নতুন অভিভুতির দ্বারা আক্রান্ত না হ’য়ে ও নানারকম ব্যক্তিত্বের দ্বারা রাঙ্গিয়ে না গিয়ে, মনের জগতে দিশেহারা না হ’য়ে, পথভ্রষ্ট না হ’য়ে জীবনের প্রথম ভোট অটুট ব্যক্তিত্বে দেশের স্বার্থে, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে সঠিক জায়গায় ভোট দেবার জন্য? নবীনরা কি জীবনের প্রথম ভোটের জন্য সত্যিই সিরিয়াস? সত্যিই কি মানসিক ভাবে প্রস্তুত? রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, দলমত-এর উপরে উঠেই তাঁর ভাষণে দেশের ১২৫কোটি মানুষের উদ্দেশ্যে দেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে, নিরাপত্তার স্বার্থে, উন্নয়নের স্বার্থে এক শক্তিশালী সরকার গঠনের কথা বলেছিলেন! স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল কেন তিনি আগাম এমন কথা বলেছিলেন? কারণ দেশের সার্বিক টলোমলো পরিস্থিতিতে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা, জ্ঞান, চেতনা ভয়ংকর উত্তাল সমুদ্রের দক্ষ নাবিকের মত তাঁকে আগাম জানান দিয়েছিল দেশের আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষকেই তাদের নিজেদের স্বার্থেই এবার দক্ষ জহুরীর মত খুঁজে নিতে হবে দেশের কাণ্ডারিকে! দেশের মানুষের সচেতনতার ওপরই নির্ভর করছে ভয়ংকর টলোমলো দেশের ভবিষ্যত?

এবারের লোকসভা ভোটে ৮১.৪৬ কোটি ভোটদাতার মধ্যে প্রথম ভোট দেবেন অর্থাৎ নবীন ভোটারই হল .৭৬ কোটি এই নবীন ভোটাররা ভোটযুদ্ধে নেতাদের বক্তব্য ও দলের ইস্তেহার নিয়ে কি ভাবছেন? কি বলছেন? কি করবেন? কাকে দেশ গড়ার, দেশকে সঠিক পথে চালিত করার, দেশকে শক্তিশালী স্বয়ংসম্পূর্ণ বিশ্বের কাছে সমীহ আদায়কারী এক উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার দায়িত্ব দেবে?